সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আশ্‌-শূরা (الشورى) | পরামর্শ

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৫৩

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

حٰمٓ ۚ ١

হা-মীম।

হা-মীম।

عٓسٓقٓ ٢

‘আইূন ছীন কাফ।

আইন-সীন-কাফ।

کَذٰلِکَ یُوۡحِیۡۤ اِلَیۡکَ وَاِلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکَ ۙ اللّٰہُ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ٣

কাযা-লিকা ইউহীইলাইকা ওয়া ইলাল্লাযীনা মিন কাবলিকাল্লা-হুল ‘আঝীঝুল হাকীম।

(হে রাসূল!) পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহ এভাবেই ওহী নাযিল করেন তোমার প্রতি এবং তোমার পূর্ববর্তী (রাসূলগণ)-এর প্রতি।

لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ وَہُوَ الۡعَلِیُّ الۡعَظِیۡمُ ٤

লাহূমা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদি ওয়াহুয়াল ‘আলিইয়ুল ‘আজীম।

যা-কিছু আছে আকাশমণ্ডলীতে এবং যা-কিছু আছে পৃথিবীতে তা তাঁরই। তিনিই সমুচ্চ, মর্যাদাবান।

تَکَادُ السَّمٰوٰتُ یَتَفَطَّرۡنَ مِنۡ فَوۡقِہِنَّ وَالۡمَلٰٓئِکَۃُ یُسَبِّحُوۡنَ بِحَمۡدِ رَبِّہِمۡ وَیَسۡتَغۡفِرُوۡنَ لِمَنۡ فِی الۡاَرۡضِ ؕ اَلَاۤ اِنَّ اللّٰہَ ہُوَ الۡغَفُوۡرُ الرَّحِیۡمُ ٥

তাকা-দুছছামা-ওয়া-তুইয়াতাফাত্তারনা মিন ফাওকিহিন্না ওয়াল মালাইকাতুইউছাব্বিহূনা বিহামদি রাব্বিহিম ওয়া ইয়াছতাগফিরূনা লিমান ফিল আরদি আলাইন্নাল্লা-হা হুওয়াল গাফূরুর রাহীম।

আকাশমণ্ডলী উপর থেকে ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়, ফেরেশতাগণ তাদের প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে তাসবীহ পাঠ করে এবং পৃথিবীবাসীর জন্য ইসতিগফার করে। মনে রেখ, আল্লাহই অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

১. অর্থাৎ আকাশমণ্ডলে এত বিপুল সংখ্যক ফেরেশতা আল্লাহ তাআলার ইবাদতে মশগুল আছে, যেন তাদের ভারে আকাশমণ্ডল ভেঙ্গে পড়বে।

وَالَّذِیۡنَ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اَوۡلِیَآءَ اللّٰہُ حَفِیۡظٌ عَلَیۡہِمۡ ۫ۖ وَمَاۤ اَنۡتَ عَلَیۡہِمۡ بِوَکِیۡلٍ ٦

ওয়াল্লাযীনাত্তাখাযূমিন দূ নিহীআওলিয়াআল্লা-হু হাফীজুন ‘আলাইহিম ওয়ামা আনতা ‘আলাইহিম বিওয়াকীল।

যারা তাকে ছাড়া অন্যকে অভিভাবক বানিয়ে নিয়েছে, আল্লাহ তাদের উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন। আর তুমি নও তাদের যিম্মাদার।

وَکَذٰلِکَ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡکَ قُرۡاٰنًا عَرَبِیًّا لِّتُنۡذِرَ اُمَّ الۡقُرٰی وَمَنۡ حَوۡلَہَا وَتُنۡذِرَ یَوۡمَ الۡجَمۡعِ لَا رَیۡبَ فِیۡہِ ؕ فَرِیۡقٌ فِی الۡجَنَّۃِ وَفَرِیۡقٌ فِی السَّعِیۡرِ ٧

ওয়া কাযা-লিকা আওহাইনাইলাইকা কুরআ-নান ‘আরাবিইইয়াল লিতুনযিরা উম্মাল কুরা-ওয়া মান হাওলাহা-ওয়া তুনযিরা ইয়াওমাল জাম‘ই লা-রাইবা ফীহি ফারীকুন ফিল জান্নাতি ওয়া ফারীকুন ফিছ ছা‘ঈর।

এভাবেই আমি তোমার উপর নাযিল করেছি আরবী কুরআন, যাতে তুমি সতর্ক কর কেন্দ্রীয় জনপদ (মক্কা) ও তার আশপাশের মানুষকে এবং সতর্ক কর সেই দিন সম্পর্কে, যে দিন সকলকে একত্র করা হবে, যে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। একদল যাবে জান্নাতে এবং একদল প্রজ্ব্লিত আগুনে।

وَلَوۡ شَآءَ اللّٰہُ لَجَعَلَہُمۡ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً وَّلٰکِنۡ یُّدۡخِلُ مَنۡ یَّشَآءُ فِیۡ رَحۡمَتِہٖ ؕ وَالظّٰلِمُوۡنَ مَا لَہُمۡ مِّنۡ وَّلِیٍّ وَّلَا نَصِیۡرٍ ٨

ওয়ালাও শাআল্লা-হু লাজা‘আলাহুম উম্মাতাওঁ ওয়া-হিদাতাওঁ ওয়ালা-কিইঁ ইউদ খিলুমাইঁ ইয়াশাউ ফী রাহমাতিহী ওয়াজ্জা-লিমূনা মা-লাহুম মিওঁ ওয়ালিইয়িওঁ ওয়ালা-নাসীর।

আল্লাহ চাইলে তাদের সকলকে একই দল বানাতে পারতেন। কিন্তু তিনি যাকে চান নিজ রহমতের ভেতর দাখিল করেন। আর যারা জালেম তাদের নেই কোন অভিভাবক, না কোন সাহায্যকারী।

তাফসীরঃ

২. অর্থাৎ জোরপূর্বক সকলকে মুসলিম বানাতে পারতেন, কিন্তু মানুষকে সৃষ্টি করার মূল উদ্দেশ্যই ছিল তাদেরকে পরীক্ষা করা যে, কে বিনা চাপে স্বেচ্ছায় বুঝে-শুনে সত্য গ্রহণ করে আর কে তা থেকে বিমুখ থাকে। এ পরীক্ষার উপরই আখেরাতের পুরস্কার ও শাস্তি নির্ভর করে। আর এ কারণেই আল্লাহ তাআলা কাউকে জোরপূর্বক মুসলিম বানান না।

اَمِ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اَوۡلِیَآءَ ۚ  فَاللّٰہُ ہُوَ الۡوَلِیُّ وَہُوَ یُحۡیِ الۡمَوۡتٰی ۫  وَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ٪ ٩

আমিত্তাখাযূমিন দূ নিহীআওলিয়াআ ফাল্লা-হু হুওয়াল ওয়ালিইয়ুওয়া হুওয়া ইউহয়িল মাওতা- ওয়া হুওয়া ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

তারা কি তাঁকে ছেড়ে অন্য অভিভাবক গ্রহণ করেছে? প্রকৃতপক্ষে আল্লাহই তো অভিভাবক। তিনিই মৃতদেরকে জীবিত করেন এবং তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।
১০

وَمَا اخۡتَلَفۡتُمۡ فِیۡہِ مِنۡ شَیۡءٍ فَحُکۡمُہٗۤ اِلَی اللّٰہِ ؕ ذٰلِکُمُ اللّٰہُ رَبِّیۡ عَلَیۡہِ تَوَکَّلۡتُ ٭ۖ وَاِلَیۡہِ اُنِیۡبُ ١۰

ওয়ামাখ তালাফতুম ফীহি মিন শাইয়িন ফাহুকমুহূইলাল্লা-হি যা-লিকুমুল্লা-হু রাববী ‘আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া ইলাইহি উনীব।

তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ কর তার মীমাংসা আল্লাহরই উপর ন্যস্ত। তিনিই আল্লাহ, যিনি আমার প্রতিপালক। আমি তাঁরই উপর ভরসা করেছি এবং আমি তাঁরই অভিমুখী হয়েছি।
১১

فَاطِرُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ جَعَلَ لَکُمۡ مِّنۡ اَنۡفُسِکُمۡ اَزۡوَاجًا وَّمِنَ الۡاَنۡعَامِ اَزۡوَاجًا ۚ یَذۡرَؤُکُمۡ فِیۡہِ ؕ لَیۡسَ کَمِثۡلِہٖ شَیۡءٌ ۚ وَہُوَ السَّمِیۡعُ الۡبَصِیۡرُ ١١

ফা-তিরুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি জা‘আলা লাকুম মিন আনফুছিকুম আঝওয়া-জাওঁ ওয়া মিনাল আন‘আ-মি আঝওয়া-জাইঁ ইয়াযরাঊকুম ফীহি লাইছা কামিছলিহী শাইউওঁ ওয়া হুওয়াছ ছামী‘উল বাসীর।

তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা। তিনি তোমাদেরই মধ্য হতে তোমাদের জন্য জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং চতুষ্পদ জন্তুদের মধ্যেও সৃষ্টি করেছেন জোড়া। এর মাধ্যমে তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন। কোনও জিনিস নয় তার অনুরূপ। তিনিই সব কথা শোনেন, সবকিছু দেখেন।
১২

لَہٗ مَقَالِیۡدُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ۚ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ وَیَقۡدِرُ ؕ اِنَّہٗ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ ١٢

লাহূমাকা-লীদুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ইয়াবছুতু র রিঝকা লিমাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইয়াকদিরু ইন্নাহূবিকুল্লি শাইয়িন ‘আলীম।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সমস্ত কুঞ্জি তাঁরই হাতে। তিনি যার জন্য ইচ্ছে করেন রিযক প্রশস্ত করে দেন এবং (যার জন্য চান) সংকীর্ণ করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর জ্ঞাতা।
১৩

شَرَعَ لَکُمۡ مِّنَ الدِّیۡنِ مَا وَصّٰی بِہٖ نُوۡحًا وَّالَّذِیۡۤ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡکَ وَمَا وَصَّیۡنَا بِہٖۤ اِبۡرٰہِیۡمَ وَمُوۡسٰی وَعِیۡسٰۤی اَنۡ اَقِیۡمُوا الدِّیۡنَ وَلَا تَتَفَرَّقُوۡا فِیۡہِ ؕ کَبُرَ عَلَی الۡمُشۡرِکِیۡنَ مَا تَدۡعُوۡہُمۡ اِلَیۡہِ ؕ اَللّٰہُ یَجۡتَبِیۡۤ اِلَیۡہِ مَنۡ یَّشَآءُ وَیَہۡدِیۡۤ اِلَیۡہِ مَنۡ یُّنِیۡبُ ١٣

শারা‘আ লাকুম মিনাদ্দীনি মা-ওয়াসসা-বিহী নূহাওঁ ওয়াল্লাযীআওহাইনাইলাইকা ওয়ামা-ওয়াসসাইনা-বিহীইবরা-হীমা ওয়া মূছা-ওয়া ‘ঈছাআন আকীমুদ্দীনা ওয়া লাতাতাফাররাকূফীহি কাবুরা ‘আলাল মুশরিকীনা মা-তাদ‘ঊহুম ইলাইহি আল্লা-হু ইয়াজতাবীইলাইহি মাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইয়াহদীইলাইহি মাইঁ ইউনীব।

তিনি তোমাদের জন্য দীনের সেই পন্থাই স্থির করেছেন, যার হুকুম দিয়েছিলেন তিনি নূহকে এবং (হে রাসূল!) যা আমি ওহীর মাধ্যমে তোমার কাছে পাঠিয়েছি এবং যার হুকুম দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে যে, তোমরা দীন কায়েম কর এবং তাতে বিভেদ সৃষ্টি করো না। (তা সত্ত্বেও) তুমি মুশরিকদেরকে যে দিকে ডাকছ তা তাদের কাছে অত্যন্ত কঠিন মনে হয়। আল্লাহ যাকে চান বেছে নিয়ে নিজের দিকে টানেন। আর যে-কেউ তার অভিমুখী হয় তাকে নিজের কাছে পৌঁছে দেন।

তাফসীরঃ

৩. নবুওয়াতের ধারা হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু হলেও সর্বপ্রথম রাসূল ছিলেন হযরত নূহ আলাইহিস সালাম। প্রকৃতপক্ষে শরয়ী বিধি-বিধানের সিলসিলা তাঁর থেকেই শুরু হয়। আর নবুওয়াত ও রিসালাতের ধারা শেষ হয়েছে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে। হযরত ইবরাহীম, হযরত মূসা ও হযরত ঈসা আলাইহিমুস সালাম মাঝখানের বিখ্যাত নবী। এ আয়াতে জানানো হচ্ছে, সমস্ত নবী-রাসূলের মূল দীন ছিল একই। আকীদা-বিশ্বাস, ইবাদত-আখলাক ইত্যাদিতে মৌলিকভাবে একই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে সকল দীনে। পার্থক্য কেবল শাখাগত বিষয়ে, যা কালভেদে বিভিন্ন রকম হয়েছে (-অনুবাদক, তাফসীরে উসমানী অবলম্বনে)।
১৪

وَمَا تَفَرَّقُوۡۤا اِلَّا مِنۡۢ بَعۡدِ مَا جَآءَہُمُ الۡعِلۡمُ بَغۡیًۢا بَیۡنَہُمۡ ؕ وَلَوۡلَا کَلِمَۃٌ سَبَقَتۡ مِنۡ رَّبِّکَ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی لَّقُضِیَ بَیۡنَہُمۡ ؕ وَاِنَّ الَّذِیۡنَ اُوۡرِثُوا الۡکِتٰبَ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ لَفِیۡ شَکٍّ مِّنۡہُ مُرِیۡبٍ ١٤

ওয়ামা-তাফাররাকূইল্লা-মিম বা‘দি মা-জাআহুমুল ‘ইলমুবাগইয়াম বাইনাহুম ওয়া লাওলা-কালিমাতুন ছাবাকাত মির রাব্বিকা ইলাআজালিম মুছাম্মাল লাকুদিয়া বাইনাহুম ওয়া ইন্নাল্লাযীনা ঊরিছুল কিতা-বা মিম বা‘দিহিম লাফী শাক্কিম মিনহু মুরীব।

এবং মানুষ তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরই কেবল পারস্পরিক শত্রুতার কারণে (দীনের ভেতর) বিভেদ সৃষ্টি করেছে। তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে যদি একটি কথা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পূর্বেই স্থিরীকৃত না থাকত, তবে তাদের বিষয়ে ফায়সালা হয়ে যেত। তাদের পর যাদেরকে কিতাবের ওয়ারিশ বানানো হয়েছে, তারা এ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর সন্দেহে পড়ে আছে।

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ পূর্ব থেকেই একথা স্থির রয়েছে যে, শাস্তি দিয়ে সকলকে এক সঙ্গে ধ্বংস করা হবে না; বরং অবকাশ দেওয়া হবে, যাতে কেউ চাইলে ঈমান আনতে পারে।
১৫

فَلِذٰلِکَ فَادۡعُ ۚ  وَاسۡتَقِمۡ کَمَاۤ اُمِرۡتَ ۚ  وَلَا تَتَّبِعۡ اَہۡوَآءَہُمۡ ۚ  وَقُلۡ اٰمَنۡتُ بِمَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ مِنۡ کِتٰبٍ ۚ  وَاُمِرۡتُ لِاَعۡدِلَ بَیۡنَکُمۡ ؕ  اَللّٰہُ رَبُّنَا وَرَبُّکُمۡ ؕ  لَنَاۤ اَعۡمَالُنَا وَلَکُمۡ اَعۡمَالُکُمۡ ؕ  لَا حُجَّۃَ بَیۡنَنَا وَبَیۡنَکُمۡ ؕ  اَللّٰہُ یَجۡمَعُ بَیۡنَنَا ۚ  وَاِلَیۡہِ الۡمَصِیۡرُ ؕ ١٥

ফালিযা-লিকা ফাদ‘উ ওয়াছতাকিম কামাউমিরতা ওয়ালা-তাত্তাবি‘ আহওয়াআহুম ওয়া কুল আ-মানতুবিমাআনঝালাল্লা-হু মিন কিতা-বিওঁ ওয়া উমিরতুলিআ‘দিলা বাইনাকুম আল্লা-হু রাব্বুনা-ওয়া রাব্বাকুম লানাআ‘মা-লুনাওয়ালাকুম আ‘মা-লুকুম লা-হুজ্জাতা বাইনানা-ওয়া বাইনাকুম আল্লা-হু ইয়াজমা‘উ বাইনানা- ওয়া ইলাইহিল মাসীর।

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি ওই বিষয়ের দিকেই মানুষকে ডাকতে থাক এবং তুমি অবিচলিত থাক (এ দীনের উপর), যেমন তোমাকে আদেশ করা হয়েছে। আর তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না। বলে দাও, আমি তো আল্লাহ যে কিতাব নাযিল করেছেন তার প্রতি ঈমান এনেছি আর আমাকে তোমাদের মধ্যে ইনসাফ করতে আদেশ করা হয়েছে। আল্লাহ আমাদের রব্ব এবং তোমাদেরও রব্ব। আমাদের কর্ম আমাদের এবং তোমাদের কর্ম তোমাদের। আমাদের ও তোমাদের মধ্যে (এখন) কোন বিতর্ক নেই। আল্লাহ আমাদের সকলকে একত্র করবেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁরই কাছে সকলকে ফিরে যেতে হবে।
১৬

وَالَّذِیۡنَ یُحَآجُّوۡنَ فِی اللّٰہِ مِنۡۢ بَعۡدِ مَا اسۡتُجِیۡبَ لَہٗ حُجَّتُہُمۡ دَاحِضَۃٌ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ وَعَلَیۡہِمۡ غَضَبٌ وَّلَہُمۡ عَذَابٌ شَدِیۡدٌ ١٦

ওয়াল্লাযীনা ইঊহাজ্জূনা ফিল্লা-হি মিম বা‘দি মাছতুজীবা লাহূহুজ্জাতুহুম দা-হিদাতুন ‘ইনদা রাব্বিহিম ওয়া ‘আলাইহিম গাদাবুওঁ ওয়া লাহুম ‘আযা-বুন শাদীদ।

যারা আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক সৃষ্টি করে, লোকে তাঁর কথা মেনে নেওয়ার পরও, তাদের বিতর্ক তাদের প্রতিপালকের কাছে বাতিল। তাদের উপর (আল্লাহর) গজব এবং তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি।
১৭

اَللّٰہُ الَّذِیۡۤ اَنۡزَلَ الۡکِتٰبَ بِالۡحَقِّ وَالۡمِیۡزَانَ ؕ وَمَا یُدۡرِیۡکَ لَعَلَّ السَّاعَۃَ قَرِیۡبٌ ١٧

আল্লা-হুল্লাযীআনঝালাল কিতা-বা বিলহাক্কিওয়াল মীযা-না ওয়ামা ইউদরীকা লা‘আল্লাছছা-‘আতা কারীব।

তিনিই আল্লাহ, যিনি সত্য সম্বলিত এ কিতাব ও ন্যায়ের তুলাদণ্ড অবতীর্ণ করেছেন। তুমি কী জান, কিয়ামত হয়ত নিকটেই।

তাফসীরঃ

৫. জড়বস্তু মাপার জন্যও আল্লাহ তাআলা তুলাদণ্ড দিয়েছেন এবং আকীদা-বিশ্বাস, চিন্তা-চেতনা, বিচার-বিবেচনা ও মতামত মাপারও তুলাদণ্ড দিয়েছেন, সে তুলাদণ্ড হল মানুষের বিবেক-বুদ্ধি এবং তারও উপরে দীন ও কিতাব। মানুষের বিবেক-বুদ্ধি যেখানে ন্যায্য মীমাংসা দান করতে ব্যর্থ হয়ে যায়, সেখানে আল্লাহর কিতাবই যথার্থ মীমাংসা দান করতে পারে। -অনুবাদক
১৮

یَسۡتَعۡجِلُ بِہَا الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِہَا ۚ وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مُشۡفِقُوۡنَ مِنۡہَا ۙ وَیَعۡلَمُوۡنَ اَنَّہَا الۡحَقُّ ؕ اَلَاۤ اِنَّ الَّذِیۡنَ یُمَارُوۡنَ فِی السَّاعَۃِ لَفِیۡ ضَلٰلٍۭ بَعِیۡدٍ ١٨

ইয়াছতা‘জিলূবিহাল্লাযীনা লা-ইউ’মিনূনা বিহা- ওয়াল্লাযীনা আ-মানূমুশফিকূনা মিনহা- ওয়া ইয়া‘লামূনা আন্নাহাল হাক্কু আলাইন্নাল্লাযীনা ইউমা-রূনা ফিছছা‘আতি লাফী দালা-লিম বা‘ঈদ।

যারা তাতে ঈমান রাখে না, তারাই তার জন্য তাড়াহুড়া করে। আর যারা ঈমান এনেছে তারা তার ব্যাপারে ভীত থাকে এবং তারা জানে তা সত্য। জেনে রেখ, যারা কিয়ামত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তারা ঘোর গোমরাহীতে পতিত।
১৯

اَللّٰہُ لَطِیۡفٌۢ بِعِبَادِہٖ یَرۡزُقُ مَنۡ یَّشَآءُ ۚ  وَہُوَ الۡقَوِیُّ الۡعَزِیۡزُ ٪ ١٩

আল্লা-হু লাতীফুম বি‘ইবা-দিহী ইয়ারঝুকুমাইঁ ইয়াশাউ ওয়া হুওয়াল কাবিইয়ুল ‘আঝীঝ।

আল্লাহ নিজ বান্দাদের প্রতি অতি দয়ালু। তিনি যাকে চান রিযক দান করেন এবং তিনিই শক্তিমান, পরাক্রমশালী।
২০

مَنۡ کَانَ یُرِیۡدُ حَرۡثَ الۡاٰخِرَۃِ نَزِدۡ لَہٗ فِیۡ حَرۡثِہٖ ۚ وَمَنۡ کَانَ یُرِیۡدُ حَرۡثَ الدُّنۡیَا نُؤۡتِہٖ مِنۡہَا وَمَا لَہٗ فِی الۡاٰخِرَۃِ مِنۡ نَّصِیۡبٍ ٢۰

মান কা-না ইউরীদুহারছাল আ-খিরাতি নাঝিদ লাহূফী হারছিহী ওয়ামান কা-না ইউরীদুহারছাদ্দুনইয়া-নু’তিহী মিনহা-ওয়ামা-লাহূফিল আ-খিরাতি মিন নাসীব।

যে ব্যক্তি আখেরাতের ফসল কামনা করে, তার জন্য আমি তার ফসল বাড়িয়ে দেই। আর যে ব্যক্তি (কেবল) দুনিয়ার ফসল কামনা করে, তাকে আমি তা থেকেই খানিকটা দান করি। আখেরাতে তার কোন অংশ নেই।

তাফসীরঃ

৬. এই একই কথা সূরা বনী ইসরাঈলেও (১৭ : ১৮) বলা হয়েছে। সেখানে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কেবল দুনিয়ার মঙ্গল চায়, তাকে কেবল দুনিয়ার নি‘আমত দেওয়া হয় এবং তাও তার বাঞ্ছিত সবকিছু নয়; বরং আল্লাহ যাকে যতটুকু দিতে চান ততটুকুই দিয়ে থাকেন।
২১

اَمۡ لَہُمۡ شُرَکٰٓؤُا شَرَعُوۡا لَہُمۡ مِّنَ الدِّیۡنِ مَا لَمۡ یَاۡذَنۡۢ بِہِ اللّٰہُ ؕ وَلَوۡلَا کَلِمَۃُ الۡفَصۡلِ لَقُضِیَ بَیۡنَہُمۡ ؕ وَاِنَّ الظّٰلِمِیۡنَ لَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ٢١

আম লাহুম শুরাকাউ শারা‘ঊ লাহুম মিনাদ্দীনি মা -লাম ইয়া’যাম বিহিল্লা-হু ওয়া লাওলা-কালিমাতুল ফাসলি লাকুদিয়া বাইনাহুম ওয়া ইন্নাজ্জা-লিমীনা লাহুম ‘আযা-বুন আলীম।

তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) কি এমন শরীক আছে, যারা তাদের জন্য এমন দীন স্থির করে দিয়েছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? (আল্লাহর পক্ষ হতে) যদি মীমাংসাকর বাণী স্থিরীকৃত না থাকত তবে তাদের ব্যাপারটা চুকিয়েই দেওয়া হত। অবশ্যই জালেমদের জন্য আছে যন্ত্রণাময় শাস্তি।
২২

تَرَی الظّٰلِمِیۡنَ مُشۡفِقِیۡنَ مِمَّا کَسَبُوۡا وَہُوَ وَاقِعٌۢ بِہِمۡ ؕ وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فِیۡ رَوۡضٰتِ الۡجَنّٰتِ ۚ لَہُمۡ مَّا یَشَآءُوۡنَ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ ؕ ذٰلِکَ ہُوَ الۡفَضۡلُ الۡکَبِیۡرُ ٢٢

তারাজ্জা-লিমীনা মুশফিকীনা মিম্মা-কাছাবূওয়া হুওয়া ওয়া-কি‘উম বিহিম ওয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ফী রাওদা-তিল জান্না-তি লাহুম মাইয়াশাঊনা ‘ইনদা রাব্বিহিম যা-লিকা হুওয়াল ফাদলুল কাবীর।

(তখন) জালেমদেরকে দেখবে, তারা যা অর্জন করেছে তার (পরিণামের) ব্যাপারে শঙ্কিত থাকবে। আর তা তো তাদের উপর আপতিত হবেই। যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারা থাকবে জান্নাতের কেয়ারিতে। তারা তাদের প্রতিপালকের কাছে যা চাবে তাই পাবে। এটাই বিরাট অনুগ্রহ।
২৩

ذٰلِکَ الَّذِیۡ یُبَشِّرُ اللّٰہُ عِبَادَہُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ؕ قُلۡ لَّاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡہِ اَجۡرًا اِلَّا الۡمَوَدَّۃَ فِی الۡقُرۡبٰی ؕ وَمَنۡ یَّقۡتَرِفۡ حَسَنَۃً نَّزِدۡ لَہٗ فِیۡہَا حُسۡنًا ؕ اِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ شَکُوۡرٌ ٢٣

যা-লিকাল্লাযী ইয়ুবাশশিরুল্লা-হু ‘ইবা-দাহুল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি কুল লাআছআলুকুম ‘আলাইহি আজরান ইল্লাল মাওয়াদ্দাতা ফিল কুরবা- ওয়া মাইঁ ইয়াকতারিফ হাছানাতান নাঝিদ লাহূফীহা-হুছনান ইন্নাল্লা-হা গাফূরুন শাকূর।

এরই সুসংবাদ আল্লাহ তার সেই সকল বান্দাকে দান করেন, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে। (হে রাসূল! কাফেরদেরকে) বলে দাও, আমি এর (অর্থাৎ তাবলীগের) বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না আত্মীয়ের সৌহার্দ্য ছাড়া। যে-কেউ সৎকর্ম করবে আমি তার জন্য সে সৎকর্মে অতিরিক্ত সৌন্দর্য বৃদ্ধি করব। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, অত্যন্ত গুণগ্রাহী।

তাফসীরঃ

৭. মক্কার কুরাইশদের সাথে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে আত্মীয়তা ছিল তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হচ্ছে, আমি তোমাদের কাছে তাবলীগের জন্য কোন পারিশ্রমিক চাই না, কিন্তু অন্ততপক্ষে তোমাদের সঙ্গে আমার আত্মীয়তার বিষয়টা তো লক্ষ রাখ এবং সেই খাতিরে আমাকে কষ্ট দেওয়া হতে বিরত থাক ও আমার কাজে বাধা সৃষ্টি হতে নিবৃত্ত থাক।
২৪

اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا ۚ فَاِنۡ یَّشَاِ اللّٰہُ یَخۡتِمۡ عَلٰی قَلۡبِکَ ؕ وَیَمۡحُ اللّٰہُ الۡبَاطِلَ وَیُحِقُّ الۡحَقَّ بِکَلِمٰتِہٖ ؕ اِنَّہٗ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ ٢٤

আম ইয়াকূলূনাফ তারা-‘আলাল্লা-হি কাযিবান ফাইয়ঁইয়াশাইল্লা-হু ইয়াখতিম ‘আলাকালবিকা ওয়া ইয়ামহুল্লা-হুল বা-তিলা ওয়া ইউহিক্কুল হাক্কা বিকালিমা-তিহী ইন্নাহূ‘আলীমুম বিযা-তিসসুদূ র।

তবে কি তারা বলে, সে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করেছে? অথচ আল্লাহ চাইলে তোমার অন্তরে মোহর করে দিতে পারেন। আল্লাহ তো মিথ্যাকে মিটিয়ে দেন ও সত্যকে নিজ বাণীর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি অন্তরে লুকায়িত বিষয়াবলীও জানেন।

তাফসীরঃ

৯. অর্থাৎ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি নিজের পক্ষ থেকে এ কুরআন রচনা করতেন (নাউযুবিল্লাহ) তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর অন্তরে মোহর করে দিতেন, ফলে তাঁর পক্ষে এরূপ বাণী পেশ করা সম্ভবই হত না। কেননা আল্লাহ তাআলার রীতিই হল মিথ্যা নবুওয়াতের দাবীদারকে সফল হতে না দেওয়া। যখনই কেউ মিথ্যা নবুওয়াতের দাবি করে, তিনি তার কথাবার্তাকে অকার্যকর করে দেন এবং তার মিথ্যাচারকে মিটিয়ে দেন। পক্ষান্তরে যার নবুওয়াত দাবি সত্য হয়, তাকে নিজ বাণীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করেন।
২৫

وَہُوَ الَّذِیۡ یَقۡبَلُ التَّوۡبَۃَ عَنۡ عِبَادِہٖ وَیَعۡفُوۡا عَنِ السَّیِّاٰتِ وَیَعۡلَمُ مَا تَفۡعَلُوۡنَ ۙ ٢٥

ওয়া হুওয়াল্লাযীইয়াকবালুত্তাওবাতা ‘আন ‘ইবা-দিহী ওয়া ইয়া‘ফূ‘আনিছ ছাইয়িআ-তি ওয়া ইয়া‘লামুমা-তাফ‘আলূন।

এবং তিনিই নিজ বান্দাদের তাওবা কবুল করেন ও গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। আর তোমরা যা-কিছু কর তা তিনি জানেন।
২৬

وَیَسۡتَجِیۡبُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَیَزِیۡدُہُمۡ مِّنۡ فَضۡلِہٖ ؕ وَالۡکٰفِرُوۡنَ لَہُمۡ عَذَابٌ شَدِیۡدٌ ٢٦

ওয়া ইয়াছতাজীবুল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ওয়া ইয়াঝীদুহুম মিন ফাদলিহী ওয়াল কা-ফিরূনা লাহুম ‘আযা-বুন শাদীদ।

যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তাদের দুআ তিনি শোনেন এবং নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে আরও বেশি দান করেন। আর কাফেরদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি।
২৭

وَلَوۡ بَسَطَ اللّٰہُ الرِّزۡقَ لِعِبَادِہٖ لَبَغَوۡا فِی الۡاَرۡضِ وَلٰکِنۡ یُّنَزِّلُ بِقَدَرٍ مَّا یَشَآءُ ؕ اِنَّہٗ بِعِبَادِہٖ خَبِیۡرٌۢ بَصِیۡرٌ ٢٧

ওয়ালাও বাছাতাল্লা-হুর রিঝকালি‘ইবা-দিহী লাবাগাও ফিল আরদিওয়ালা-কিইঁ ইউনাঝঝিলুবিকাদারিম মা-ইয়াশাউ ইন্নাহূবি‘ইবা-দিহী খাবীরুম বাসীর।

আল্লাহ যদি তার সমস্ত বান্দার জন্য রিযককে বিস্তার করে দিতেন, তবে পৃথিবীতে তারা তার অবাধ্যতায় লিপ্ত হত, কিন্তু তিনি যে পরিমাণে ইচ্ছা তা অবতীর্ণ করে থাকেন। নিশ্চয়ই তিনি নিজ বান্দাদের সম্পর্কে পরিপূর্ণরূপে জানেন, তাদের প্রতি দৃষ্টি রাখেন।
২৮

وَہُوَ الَّذِیۡ یُنَزِّلُ الۡغَیۡثَ مِنۡۢ بَعۡدِ مَا قَنَطُوۡا وَیَنۡشُرُ رَحۡمَتَہٗ ؕ وَہُوَ الۡوَلِیُّ الۡحَمِیۡدُ ٢٨

ওয়া হুওয়াল্লাযী ইউনাঝঝিলুল গাইছা মিম বা‘দি মা-কানাতূওয়া ইয়ানশুরু রাহমাতাহূ ওয়া হুওয়াল ওয়ালিইয়ুল হামীদ।

তিনিই মানুষ হতাশ হয়ে যাওয়ার পর বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং নিজ রহমত বিস্তার করেন। তিনিই (সকলের) প্রশংসাযোগ্য অভিভাবক।
২৯

وَمِنۡ اٰیٰتِہٖ خَلۡقُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَثَّ فِیۡہِمَا مِنۡ دَآبَّۃٍ ؕ  وَہُوَ عَلٰی جَمۡعِہِمۡ اِذَا یَشَآءُ قَدِیۡرٌ ٪ ٢٩

ওয়া মিন আ-য়া-তিহী খালকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদিওয়ামা-বাছছা ফীহিমা-মিন দাব্বাতিওঁ ওয়া হুওয়া ‘আলা-জাম‘ইহিম ইযা-ইয়াশাউ কাদীর।

তাঁর অন্যতম নিদর্শন হল আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃজন এবং সেই সকল জীবজন্তু যা তিনি এ দু’য়ের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি যখন ইচ্ছা তখনই এদেরকে সমবেত করতে সক্ষম।
৩০

وَمَاۤ اَصَابَکُمۡ مِّنۡ مُّصِیۡبَۃٍ فَبِمَا کَسَبَتۡ اَیۡدِیۡکُمۡ وَیَعۡفُوۡا عَنۡ کَثِیۡرٍ ؕ ٣۰

ওয়ামাআসা-বাকুম মিম মুসীবাতিন ফাবিমা-কাছাবাত আইদীকুম ওয়া ইয়া‘ফূ‘আন কাছীর।

তোমাদের যে বিপদ দেখা দেয়, তা তোমাদের নিজ হাতের কৃতকর্মেরই কারণে দেখা দেয়। আর তিনি তোমাদের অনেক কিছুই (অপরাধ) ক্ষমা করে দেন।
৩১

وَمَاۤ اَنۡتُمۡ بِمُعۡجِزِیۡنَ فِی الۡاَرۡضِ ۚۖ وَمَا لَکُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مِنۡ وَّلِیٍّ وَّلَا نَصِیۡرٍ ٣١

ওয়ামাআনতুম বিমু‘জিঝীনা ফিল আরদি ওয়ামা-লাকুম মিন দূ নিল্লা-হি মিওঁ ওয়ালিইয়িওঁ ওয়ালা-নাসীর।

পৃথিবীতে (আল্লাহকে) ব্যর্থ করে দেওয়ার ক্ষমতা তোমাদের নেই এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোন অভিভাবক নেই, নেই সাহায্যকারীও।
৩২

وَمِنۡ اٰیٰتِہِ الۡجَوَارِ فِی الۡبَحۡرِ کَالۡاَعۡلَامِ ؕ ٣٢

ওয়া মিন আ-য়া-তিহিল জাওয়া-রি ফিল বাহরি কালআ‘লা-ম।

তাঁর অন্যতম নিদর্শন হল সাগরে (বিচরণকারী) পর্বত প্রমাণ জাহাজ।
৩৩

اِنۡ یَّشَاۡ یُسۡکِنِ الرِّیۡحَ فَیَظۡلَلۡنَ رَوَاکِدَ عَلٰی ظَہۡرِہٖ ؕ  اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّکُلِّ صَبَّارٍ شَکُوۡرٍ ۙ ٣٣

ইয়ঁইয়াশা’ ইউছকিনিররীহা ফাইয়াজলালনা রাওয়া-কিদা ‘আলা-জাহরিহী ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকুল্লি সাব্বা-রিন শাকূর।

তিনি চাইলে বায়ুকে স্তব্ধ করে দিতে পারেন। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠে তা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকবে। নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিদর্শন আছে প্রত্যেক ধৈর্যশীল, কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য।
৩৪

اَوۡ یُوۡبِقۡہُنَّ بِمَا کَسَبُوۡا وَیَعۡفُ عَنۡ کَثِیۡرٍ ۫ ٣٤

আও ইঊবিকহুন্না বিমা-কাছাবূওয়া ইয়া‘ফু‘আন কাছীর।

কিংবা (আল্লাহ চাইলে) মানুষের কোন কোন কৃতকর্মের কারণে জাহাজগুলোকে বিধ্বস্ত করে দিতে পারেন এবং পারেন অনেককে ক্ষমাও করতে।
৩৫

وَّیَعۡلَمَ الَّذِیۡنَ یُجَادِلُوۡنَ فِیۡۤ اٰیٰتِنَا ؕ مَا لَہُمۡ مِّنۡ مَّحِیۡصٍ ٣٥

ওয়া ইয়া‘লামাল্লাযীনা ইউজা-দিলূনা ফীআ-য়া-তিনা- মা-লাহুম মিম মাহীস।

এবং যারা আমার আয়াতসমূহে বিতর্ক সৃষ্টি করে, তারা বুঝতে পারত, তাদের জন্য নিষ্কৃতির কোন স্থান নেই।
৩৬

فَمَاۤ اُوۡتِیۡتُمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ فَمَتَاعُ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۚ  وَمَا عِنۡدَ اللّٰہِ خَیۡرٌ وَّاَبۡقٰی لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَلٰی رَبِّہِمۡ یَتَوَکَّلُوۡنَ ۚ ٣٦

ফামাঊতীতুম মিন শাইয়িন ফমাতা-‘উল হায়া-তিদ্দুনইয়া- ওয়ামা-‘ইনদাল্লা-হি খাইরুওঁ ওয়া আব কা-লিল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আলা-রাব্বিহিম ইয়াতাওয়াক্কালূন।

তোমাদেরকে যা-কিছু দেওয়া হয়েছে, তা পার্থিব জীবনের ভোগ। আল্লাহর কাছে যা আছে, তা অনেক শ্রেয় ও স্থায়ী তাদের জন্য, যারা ঈমান এনেছে ও নিজ প্রতিপালকের উপর ভরসা রাখে।
৩৭

وَالَّذِیۡنَ یَجۡتَنِبُوۡنَ کَبٰٓئِرَ الۡاِثۡمِ وَالۡفَوَاحِشَ وَاِذَا مَا غَضِبُوۡا ہُمۡ یَغۡفِرُوۡنَ ۚ ٣٧

ওয়াল্লাযীনা ইয়াজতানিবূনা কাবাইরাল ইছমি ওয়াল ফাওয়া-হিশা ওয়া ইযা- মাগাদিবূহুম ইয়াগফিরূন।

এবং যারা বড় বড় গুনাহ ও অশ্লীল কর্ম পরিহার করে এবং যখন তাদের ক্রোধ দেখা দেয়, তখন ক্ষমা প্রদর্শন করে।
৩৮

وَالَّذِیۡنَ اسۡتَجَابُوۡا لِرَبِّہِمۡ وَاَقَامُوا الصَّلٰوۃَ ۪  وَاَمۡرُہُمۡ شُوۡرٰی بَیۡنَہُمۡ ۪  وَمِمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ یُنۡفِقُوۡنَ ۚ ٣٨

ওয়াল্লাযীনাছ তাজা-বূলিরাব্বিহিম ওয়া আকা-মুসসালা-তা ওয়া আমরুহুম শূরাবাইনাহুম ওয়া মিম্মা-রাঝাকনা-হুম ইউনফিকূন।

এবং যারা তাদের প্রতিপালকের ডাকে সাড়া দিয়েছে, নামায কায়েম করেছে এবং যাদের কাজকর্ম পারস্পরিক পরামর্শক্রমে সম্পন্ন হয় এবং আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে (সৎকর্মে) ব্যয় করে।
৩৯

وَالَّذِیۡنَ اِذَاۤ اَصَابَہُمُ الۡبَغۡیُ ہُمۡ یَنۡتَصِرُوۡنَ ٣٩

ওয়াল্লাযীনা ইযাআসা-বাহুমুল বাগইউহুম ইয়ানতাসিরূন।

এবং যখন তাদের প্রতি কোন জুলুম করা হয় তখন তারা তা প্রতিহত করে। ১০

তাফসীরঃ

১০. কারও প্রতি জুলুম করা হলে সামর্থ্য অনুযায়ী তা প্রতিহত করাও ঈমানের দাবি। কেননা জুলুম সয়ে যাওয়ার অর্থ নিজেকে অপমানিত করা। নিজেকে অপমানিত করা কোন মুমিনের জন্য শোভন নয়। তা ছাড়া জুলুমকে প্রতিহত করা না হলে জুলুমকারী স্পর্ধিত হয়ে ওঠে। ফলে তার জুলুমের মাত্রা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। এক সময় সে ব্যক্তি-বিশেষকেই নয়; বরং গোটা মুসলিম সমাজকেই নিজ অত্যাচারে জর্জরিত করে তোলে এমনকি আল্লাহ তাআলার দীনও তার সীমালংঘনের শিকার হয়। যাতে এই পর্যায়ে পৌঁছতে না পারে তাই প্রথম যাত্রাতেই তাকে থামিয়ে দেওয়া উচিত। তবে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে প্রতিশোধ গ্রহণ সীমালংঘনে পর্যবসিত না হয়, যেমন পরবর্তী আয়াতে বলা হয়েছে (-অনুবাদক, তাফসীরে উসমানী, কুরতুবী, রূহুল মাআনী প্রভৃতি তাফসীর গ্রন্থ অবলম্বনে)।
৪০

وَجَزٰٓؤُا سَیِّئَۃٍ سَیِّئَۃٌ مِّثۡلُہَا ۚ فَمَنۡ عَفَا وَاَصۡلَحَ فَاَجۡرُہٗ عَلَی اللّٰہِ ؕ اِنَّہٗ لَا یُحِبُّ الظّٰلِمِیۡنَ ٤۰

ওয়া জাঝাউ ছাইয়িআতিন ছাইয়িআতুম মিছলুহা- ফামান ‘আফা-ওয়া আসলাহা ফাআজরুহূ‘আলাল্লা-হি ইন্নাহূলা-ইউহিবজ জা-লিমীন।

মন্দের বদলা অনুরূপ মন্দ। ১১ তবে যে ক্ষমা করে দেয় ও সংশোধনের চেষ্টা করে, তার সওয়াব আল্লাহর যিম্মায়। নিশ্চয়ই তিনি জালেমদেরকে পছন্দ করেন না।

তাফসীরঃ

১১. অর্থাৎ কারও উপর কোন জুলুম করা হলে, সেই মজলুমের এ অধিকার আছে যে, জালেম তাকে যে পরিমাণ কষ্ট দিয়েছে, সেও তাকে সেই পরিমাণ কষ্ট দেবে। কিছুতেই তার বেশি কষ্ট দেওয়া যাবে না। আর এ প্রতিশোধ গ্রহণ তার অধিকার মাত্র। পরের বাক্যে জানানো হয়েছে যে, প্রতিশোধ না নিয়ে যদি সবর করে ও জালেমকে ক্ষমা করে দেয়, তবে সেটা খুবই ফযীলতের কাজ।
৪১

وَلَمَنِ انۡتَصَرَ بَعۡدَ ظُلۡمِہٖ فَاُولٰٓئِکَ مَا عَلَیۡہِمۡ مِّنۡ سَبِیۡلٍ ؕ ٤١

ওয়া লামানিন তাসারা বা‘দা জুলমিহী ফাউলাইকা মা-‘আলাইহিম মিন ছাবীল।

যারা নিজেদের উপর জুলুম হওয়ার পর (সমপরিমাণে) বদলা নেয়, তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই।
৪২

اِنَّمَا السَّبِیۡلُ عَلَی الَّذِیۡنَ یَظۡلِمُوۡنَ النَّاسَ وَیَبۡغُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ بِغَیۡرِ الۡحَقِّ ؕ اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ٤٢

ইন্নামাছ ছাবীলু‘আলাল্লাযীনা ইয়াজলিমূনান্না-ছা ওয়া ইয়াবগূনা ফিল আরদিবিগাইরিল হাক্কি উলাইকা লাহুম ‘আযা-বুন আলীম।

অভিযোগ তো তাদের বিরুদ্ধে, যারা মানুষের উপর জুলুম করে ও পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করে বেড়ায়। এরূপ লোকদের জন্য আছে যন্ত্রণাময় শাস্তি।
৪৩

وَلَمَنۡ صَبَرَ وَغَفَرَ اِنَّ ذٰلِکَ لَمِنۡ عَزۡمِ الۡاُمُوۡرِ ٪ ٤٣

ওয়ালামান সাবারা ওয়া গাফারা ইন্না যা-লিকা লামিন ‘আঝমিল উমূর।

প্রকৃতপক্ষে যে সবর অবলম্বন করে ও ক্ষমা প্রদর্শন করে, তো এটা অবশ্যই অত্যন্ত হিম্মতের কাজ।
৪৪

وَمَنۡ یُّضۡلِلِ اللّٰہُ فَمَا لَہٗ مِنۡ وَّلِیٍّ مِّنۡۢ بَعۡدِہٖ ؕ  وَتَرَی الظّٰلِمِیۡنَ لَمَّا رَاَوُا الۡعَذَابَ یَقُوۡلُوۡنَ ہَلۡ اِلٰی مَرَدٍّ مِّنۡ سَبِیۡلٍ ۚ ٤٤

ওয়া মাইঁ ইউদলিলিল্লা-হু ফামা-লাহূমিওঁ ওয়ালিইয়িম মিম বা‘দিহী ওয়াতারাজ্জালিমীনা লাম্মা-রায়াউল ‘আযা-বা ইয়াকূলূনা হাল ইলা-মারাদ্দিম মিন ছাবীল।

আল্লাহ যাকে বিপথগামী করেন, তারপর তার কোনো অভিভাবক নেই। জালেমগণ যখন শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, তখন তুমি তাদেরকে বলতে দেখবে, ফিরে যাওয়ার কি কোন পথ আছে?
৪৫

وَتَرٰىہُمۡ یُعۡرَضُوۡنَ عَلَیۡہَا خٰشِعِیۡنَ مِنَ الذُّلِّ یَنۡظُرُوۡنَ مِنۡ طَرۡفٍ خَفِیٍّ ؕ وَقَالَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنَّ الۡخٰسِرِیۡنَ الَّذِیۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ وَاَہۡلِیۡہِمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ اَلَاۤ اِنَّ الظّٰلِمِیۡنَ فِیۡ عَذَابٍ مُّقِیۡمٍ ٤٥

ওয়া তারা-হুম ইউ‘রাদূনা ‘আলাইহা-খা-শি‘ঈনা মিনাযযুলিল ইয়ানজু রূনা মিন তারফিন খাফীইয়িওঁ ওয়াকা-লাল্লাযীনা আমানূইন্নাল খা-ছিরীনাল্লাযীনা খাছিরূআনফুছাহুম ওয়া আহলীহিম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি আলাইন্নাজ্জা-লিমীনা ফী ‘আযা-বিম মুকীম।

তুমি তাদেরকে দেখবে, তাদেরকে জাহান্নামের সামনে এভাবে পেশ করা হবে যে, তারা অপমানে অবনত অবস্থায় অস্ফুট চোখে তাকাচ্ছে। আর মুমিনগণ বলবে, বাস্তবিকই সত্যিকারের ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা কিয়ামতের দিনে নিজেদেরকে এবং পরিবারবর্গকে ক্ষতির সম্মুখীন করেছে। মনে রেখ, জালেমগণ স্থায়ী আযাবের ভেতর থাকবে।
৪৬

وَمَا کَانَ لَہُمۡ مِّنۡ اَوۡلِیَآءَ یَنۡصُرُوۡنَہُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ؕ  وَمَنۡ یُّضۡلِلِ اللّٰہُ فَمَا لَہٗ مِنۡ سَبِیۡلٍ ؕ ٤٦

ওয়ামা-কা-না লাহুম মিন আওলিয়াআ ইয়ানসুরূনাহুম মিন দূ নিল্লা-হি ওয়া মাইঁ ইউদলিলিল্লা-হু; ফামা-লাহূমিন ছাবীল।

তারা এমন কোন অভিভাবক পাবে না, যারা আল্লাহর বিপরীতে তাদের কোন সাহায্য করতে পারবে। আর আল্লাহ যাকে বিপথগামী করেন, তার (নিষ্কৃতির) কোন পথ থাকে না।
৪৭

اِسۡتَجِیۡبُوۡا لِرَبِّکُمۡ مِّنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّاۡتِیَ یَوۡمٌ لَّا مَرَدَّ لَہٗ مِنَ اللّٰہِ ؕ مَا لَکُمۡ مِّنۡ مَّلۡجَاٍ یَّوۡمَئِذٍ وَّمَا لَکُمۡ مِّنۡ نَّکِیۡرٍ ٤٧

ইছতাজীবূলিরাব্বিকুম মিন কাবলি আইঁ ইয়া’তিয়া ইয়াওমুল্লা-মারাদ্দা লাহূমিনাল্লা-হি মালাকুম মিম মালজায়িইঁ ইয়াওমায়িযিওঁ ওয়ামা-লাকুম মিন নাকীর।

(হে মানুষ!) তোমাদের প্রতিপালকের ডাকে সাড়া দাও সেই দিন আসার আগেই, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে রদ করা যাবে না। ১২ সে দিন তোমাদের কোন আশ্রয়স্থল থাকবে না এবং তোমাদের কোন আপত্তিরও সুযোগ থাকবে না। ১৩

তাফসীরঃ

১২. অর্থাৎ একবার যখন আল্লাহ তাআলা সেদিনটি সংঘটিত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবেন, তারপর আর তাঁর পক্ষ হতে তা রদ করা হবে না, তা হয়ে যাবে তার অটল ফয়সালা। অথবা مِنَ اللّٰهِ এর সম্পর্ক يَأْتِىْ এর সাথে’, অর্থ হবে ‘আল্লাহর পক্ষ হতে সেই দিন আসার আগেই, যা রদ করা হবে না (-অনুবাদক, আল-কাশশাফ অবলম্বনে)।
৪৮

فَاِنۡ اَعۡرَضُوۡا فَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ عَلَیۡہِمۡ حَفِیۡظًا ؕ اِنۡ عَلَیۡکَ اِلَّا الۡبَلٰغُ ؕ وَاِنَّاۤ اِذَاۤ اَذَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ مِنَّا رَحۡمَۃً فَرِحَ بِہَا ۚ وَاِنۡ تُصِبۡہُمۡ سَیِّئَۃٌۢ بِمَا قَدَّمَتۡ اَیۡدِیۡہِمۡ فَاِنَّ الۡاِنۡسَانَ کَفُوۡرٌ ٤٨

ফাইন আ‘রাদূফামাআরছালনা-কা ‘আলাইহিম হাফীজান ইন ‘আলাইকা ইল্লাল বালা-গু ওয়া ইন্নাইযাআযাকনাল ইনছা-না মিন্না-রাহমাতান ফারিহা বিহা- ওয়া ইন তুসিবহুম ছাইয়িআতুম বিমা-কাদ্দামাত আইদীহিম ফাইন্নাল ইনছা-না কাফূর।

(হে রাসূল!) তথাপি যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আমি তোমাকে তো তাদের তত্ত্বাবধায়ক করে পাঠাইনি। (বাণী) পৌঁছানো ছাড়া তোমার কোন দায়িত্ব নেই এবং (মানুষের অবস্থা হল) আমি যখন মানুষকে আমার পক্ষ থেকে কোন অনুগ্রহের স্বাদ গ্রহণ করাই, তখন তারা তাতে উৎফুল্ল হয়ে ওঠে আবার যখন তাদের নিজেদের হাতের কামাইয়ের কারণে তাদের কোন বিপদ দেখা দেয়, তখন সেই মানুষই ঘোর অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়।
৪৯

لِلّٰہِ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ  یَخۡلُقُ مَا یَشَآءُ ؕ  یَہَبُ لِمَنۡ یَّشَآءُ اِنَاثًا وَّیَہَبُ لِمَنۡ یَّشَآءُ الذُّکُوۡرَ ۙ ٤٩

লিল্লা-হি মুলকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ইয়াখলুকুমা-ইয়াশাউ ইয়াহাবু লিমাইঁ ইয়াশাউ ইনা-ছাওঁ ওয়া ইয়াহাবুলিমাইঁ ইয়াশাউযযুকূর।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। যাকে চান কন্যা দেন এবং যাকে চান পুত্র দেন।
৫০

اَوۡ یُزَوِّجُہُمۡ ذُکۡرَانًا وَّاِنَاثًا ۚ وَیَجۡعَلُ مَنۡ یَّشَآءُ عَقِیۡمًا ؕ اِنَّہٗ عَلِیۡمٌ قَدِیۡرٌ ٥۰

আও ইউঝাওবিজুহুম যুকরা-নাওঁ ওয়া ইনা-ছাওঁ ওয়া ইয়াজ‘আলুমাইঁ ইয়াশাউ ‘আকীমান ইন্নাহূ‘আলীমুন কাদীর।

অথবা পুত্র ও কন্যা উভয় মিলিয়ে দেন। আবার যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।
৫১

وَمَا کَانَ لِبَشَرٍ اَنۡ یُّکَلِّمَہُ اللّٰہُ اِلَّا وَحۡیًا اَوۡ مِنۡ وَّرَآیِٔ حِجَابٍ اَوۡ یُرۡسِلَ رَسُوۡلًا فَیُوۡحِیَ بِاِذۡنِہٖ مَا یَشَآءُ ؕ اِنَّہٗ عَلِیٌّ حَکِیۡمٌ ٥١

ওয়ামা-কা-না লিবাশারিন আইঁ ইউকালিলমাহুল্লা-হু ইল্লা-ওয়াহইয়ান আও মিওঁ ওয়ারাই হিজা-বিন আও ইউরছিলা রাছূলান ফাইঊহিয়া বিইযনিহী মা ইয়াশাউ ইন্নাহূ ‘আলিইয়ুন হাকীম।

কোন মানুষের এ যোগ্যতা নেই যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ১৪ (সামনা সামনি), তবে ওহীর মাধ্যমে (বলতে পারেন) অথবা কোন পর্দার আড়াল থেকে কিংবা তিনি কোন বার্তাবাহী (ফেরেশতা) পাঠিয়ে দেবেন, যে তাঁর নির্দেশে তিনি যা চান সেই ওহীর বার্তা পৌঁছে দেবে। নিশ্চয়ই তিনি অতি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, প্রজ্ঞাময়।

তাফসীরঃ

১৪. এ দুনিয়ায় আল্লাহ তাআলা কোন মানুষের সাথে সামনা সামনি কথা বলেন না। কেননা মানুষের তা সহ্য করার ক্ষমতা নেই। মানুষের সাথে কথা বলার জন্য তিনি তিনটি পদ্ধতির কোনও একটি গ্রহণ করেন। (এক) একটি পদ্ধতিকে তিনি ‘ওহী’ নামে অভিহিত করেছেন। তার মানে তিনি যে কথা বলতে চান, তা কারও অন্তরে ঢেলে দেন। (দুই) দ্বিতীয় পদ্ধতি হল পর্দার আড়াল থেকে বলা। অর্থাৎ কে বলছে তা দেখা ছাড়াই তার কথা কানের মাধ্যমেই শুনতে পাওয়া। যেমন হযরত মূসা আলাইহিস সালামের সাথে এভাবে আল্লাহ তাআলা কথা বলেছিলেন। (তিন) নিজ বাণী কোন ফেরেশতার মাধ্যমে কোন নবীর কাছে পাঠানো।
৫২

وَکَذٰلِکَ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡکَ رُوۡحًا مِّنۡ اَمۡرِنَا ؕ  مَا کُنۡتَ تَدۡرِیۡ مَا الۡکِتٰبُ وَلَا الۡاِیۡمَانُ وَلٰکِنۡ جَعَلۡنٰہُ نُوۡرًا نَّہۡدِیۡ بِہٖ مَنۡ نَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِنَا ؕ  وَاِنَّکَ لَتَہۡدِیۡۤ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ۙ ٥٢

ওয়া কাযা-লিকা আওহাইনাইলাইকা রূহাম মিন আমরিনা- মা-কুনতা তাদরী মাল কিতা-বুওয়ালাল ঈমা-নুওয়ালা-কিন জা‘আলনা-হু নূরান নাহদী বিহী মান নাশাউ মিন ‘ইবা-দিনা- ওয়া ইন্নাকা লা তাহদীইলা সিরা-তিম মুছতাকীম।

এভাবেই আমি আমার নির্দেশে তোমার প্রতি ওহীরূপে নাযিল করেছি এক রূহ। ১৫ ইতঃপূর্বে তুমি জানতে না কিতাব কী এবং (জানতে) না ঈমান। কিন্তু আমি একে (অর্থাৎ কুরআনকে) বানিয়েছি এক নূর, যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্য হতে যাকে চাই হেদায়াত দান করি। নিশ্চয়ই তুমি মানুষকে দেখাচ্ছ হেদায়াতের সেই সরল পথ

তাফসীরঃ

১৫. ‘রূহ’ দ্বারা এ আয়াতে কুরআন মাজীদ ও তার বিধানাবলী বোঝানো হয়েছে। কেননা এর দ্বারা মানুষের মৃত আত্মায় প্রাণ সঞ্চার হয়, তার রূহানী জীবন সঞ্জীবিত হয়। এটাও সম্ভব যে, রূহ দ্বারা হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে বোঝানো উদ্দেশ্য। তাঁকে রূহুল কুদসও বলা হয়। কুরআন মাজীদ নাযিল করার জন্য আল্লাহ তাআলা তাঁকেই মাধ্যম বানিয়েছিলেন।
৫৩

صِرَاطِ اللّٰہِ الَّذِیۡ لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ  اَلَاۤ اِلَی اللّٰہِ تَصِیۡرُ الۡاُمُوۡرُ ٪ ٥٣

সিরাতিল্লা-হিল্লাযী লাহূমা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি আলাইলাল্লা-হি তাসীরুল উমূর।

যা আল্লাহর পথ, যার মালিকানায় রয়েছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে সবই। জেনে রেখ, যাবতীয় বিষয় শেষ পর্যন্ত আল্লাহরই কাছে ফিরবে।