সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা ছ্ব---দ (ص) | আরবি বর্ণ

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৮৮

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

صٓ وَالۡقُرۡاٰنِ ذِی الذِّکۡرِ ؕ ١

সাদ ওয়াল কুরআ-নি যিযযিকরি।

সোয়াদ, কসম উপদেশপূর্ণ কুরআনের।

তাফসীরঃ

১. এটা সেই আল-হুরূফুল মুকাত্তাআত (বিভিন্ন হরফসমূহ)-এর একটি, যার অর্থ আল্লাহ তাআলা ছাড়া কেউ জানে না। সূরা বাকারার প্রথম আয়াতের টীকা দেখুন। কুরআন মাজীদে যেসব বস্তু দ্বারা শপথ করা হয়েছে, তার তাৎপর্য সম্পর্কে দেখুন সূরা আস-সাফফাত-এর ১নং টীকা।

بَلِ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فِیۡ عِزَّۃٍ وَّشِقَاقٍ ٢

বালিল্লাযীনা কাফারূফী ‘ইঝঝাতিওঁ ওয়াশিকা-ক।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা কেবল (এ কারণেই তা অবলম্বন করেছে যে, তারা) আত্মম্ভরিতা ও হঠকারিতায় লিপ্ত রয়েছে।

তাফসীরঃ

২. আল্লামা আলূসী (রহ.) اظهر (বেশি স্পষ্ট) বলে আয়াতের যে তারকীব (বিন্যাস প্রণালী) বর্ণনা করেছেন (রূহুল মাআনী, ২৩ খণ্ড ২১৭ পৃষ্ঠা) সে হিসেবেই এ তরজমা করা হয়েছে।

کَمۡ اَہۡلَکۡنَا مِنۡ قَبۡلِہِمۡ مِّنۡ قَرۡنٍ فَنَادَوۡا وَّلَاتَ حِیۡنَ مَنَاصٍ ٣

কাম আহলাকনা-মিন কাবলিহিম মিন কারনিন ফানা-দাওঁ ওয়ালা-তাহীনা মানা-স।

আমি তাদের পূর্বে কত মানব গোষ্ঠীকেই ধ্বংস করেছি! তখন তারা আর্তচিৎকার করেছিল, কিন্তু তখন তো মুক্তি পাওয়ার সময়ই ছিল না।

وَعَجِبُوۡۤا اَنۡ جَآءَہُمۡ مُّنۡذِرٌ مِّنۡہُمۡ ۫  وَقَالَ الۡکٰفِرُوۡنَ ہٰذَا سٰحِرٌ کَذَّابٌ ۖۚ ٤

ওয়া ‘আজিবূআন জাআহুম মুনযিরুম মিনহুম ওয়াকা-লাল কাফিরূনা হা-যা-ছাহিরূন কাযযা-ব।

তারা (কুরাইশ কাফেরগণ) এ কারণে বিস্ময়বোধ করছে যে, তাদের কাছে একজন সতর্ককারী এসেছে তাদেরই মধ্য হতে! এবং কাফেরগণ বলে, সে মিথ্যাচারী যাদুকর।

اَجَعَلَ الۡاٰلِہَۃَ اِلٰـہًا وَّاحِدًا ۚۖ اِنَّ ہٰذَا لَشَیۡءٌ عُجَابٌ ٥

আ জা‘আলাল আ-লিহাতা ইলা-হাও ওয়া-হিদান ইন্না হা-যা-লাশাইউন ‘উজা-ব।

সে কি সমস্ত মাবুদকে এক মাবুদে পরিণত করেছে? এটা তো বড় আজব কথা!

وَانۡطَلَقَ الۡمَلَاُ مِنۡہُمۡ اَنِ امۡشُوۡا وَاصۡبِرُوۡا عَلٰۤی اٰلِہَتِکُمۡ ۚۖ  اِنَّ ہٰذَا لَشَیۡءٌ یُّرَادُ ۖۚ ٦

ওয়ান তালাকাল মালাউ মিনহুম আনিমশূওয়াসবিরূ‘আলাআ-লিহাতিকুম ইন্না হা-যালাশাইয়ুইঁ ইউরা-দ।

তাদের মধ্যকার নেতৃবর্গ এই বলে সরে পড়ল যে, চল এবং তোমাদের উপাস্যদের পূজায় অবিচলিত থাক। নিশ্চয়ই এটা এক উদ্দেশ্যমূলক বিষয়।

তাফসীরঃ

৩. উদ্দেশ্যমূলক বলে তারা ইশারা করছিল, অর্থাৎ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসবের মাধ্যমে নিজ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে চান (নাউযুবিল্লাহ)।

مَا سَمِعۡنَا بِہٰذَا فِی الۡمِلَّۃِ الۡاٰخِرَۃِ ۚۖ  اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّا اخۡتِلَاقٌ ۖۚ ٧

মা-ছামি‘না-বিহা-যা-ফিল মিল্লাতিল আ-খিরাতি ইন হা-যাইল্লাখ তিলা-ক।

আমরা তো অন্য ধর্মে এরূপ কথা শুনিনি। আসলে এটা এক মনগড়া কথা।

ءَاُنۡزِلَ عَلَیۡہِ الذِّکۡرُ مِنۡۢ بَیۡنِنَا ؕ  بَلۡ ہُمۡ فِیۡ شَکٍّ مِّنۡ ذِکۡرِیۡ ۚ  بَلۡ لَّمَّا یَذُوۡقُوۡا عَذَابِ ؕ ٨

আউনঝিলা ‘আলাইহিযযিকরু মিম বাইনিনা- বালহুম ফী শাক্কিম মিন যিকরী বাল লাম্মা-ইয়াযূকূ‘আযা-ব।

এই উপদেশ-বাণী আমাদের পরিবর্তে তার উপর নাযিল করা হল? বস্তুত তারা আমার উপদেশ সম্পর্কে সন্দেহে পতিত; বরং তারা এখনও পর্যন্ত আমার শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করেনি।

اَمۡ عِنۡدَہُمۡ خَزَآئِنُ رَحۡمَۃِ رَبِّکَ الۡعَزِیۡزِ الۡوَہَّابِ ۚ ٩

আম ‘ইনদাহুম খাঝাইনুরাহমাতি রাব্বিকাল ‘আঝীঝিল ওয়াহহা-ব।

তবে কি তাদের কাছে তোমার সেই রব্বের রহমতের ভাণ্ডারসমূহ রয়েছে যিনি ক্ষমতাময়, মহাদাতা?
১০

اَمۡ لَہُمۡ مُّلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا ۟ فَلۡیَرۡتَقُوۡا فِی الۡاَسۡبَابِ ١۰

আম লাহুম মুলকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়ামা-বাইনাহুমা- ফালইয়ারতাকূ ফিল আছবা-ব।

নাকি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এর মধ্যবর্তী সবকিছুর রাজত্ব তাদের হাতে? তা থাকলে তারা যেন রশি টানিয়ে উপরে আরোহণ করে।

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত সম্পর্কে এভাবে প্রশ্ন তুলছে, যেন নবুওয়াত, যা কিনা আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ রহমত, তাদের মুঠোয় ও তাদের এখতিয়ারে। তারা যাকে চাবে নবী বানানো হবে আর যাকে অপছন্দ করবে, তাকে নবুওয়াত দেওয়া হবে না।
১১

جُنۡدٌ مَّا ہُنَالِکَ مَہۡزُوۡمٌ مِّنَ الۡاَحۡزَابِ ١١

জুনদুম মা-হুনা-লিকা মাহঝূমুম মিনাল আহঝা-ব।

(তাদের অবস্থা তো এই যে,) তারা যেন বিরোধী দলসমূহের একটি বাহিনী, যারা ওখানেই পরাস্ত হবে।

তাফসীরঃ

৬. বোঝানো উদ্দেশ্য যে, পূর্বে যে বড়-বড় সম্প্রদায় গত হয়েছে, তাদের তুলনায় এরা তো ক্ষুদ্র এক বাহিনী তুল্য, যারা নিজ দেশেই পরাভূত হবে। এটা মক্কা বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী। ঘটনা সে রকমই ঘটেছিল। এতসব বড়াইকারী এ সম্প্রদায়টি মক্কা মুকাররমায়, নিজ বাসভূমিতে এমনভাবে পর্যুদস্ত হল যে, এখানে তাদের কোন ক্ষমতাই অবশিষ্ট থাকল না।
১২

کَذَّبَتۡ قَبۡلَہُمۡ قَوۡمُ نُوۡحٍ وَّعَادٌ وَّفِرۡعَوۡنُ ذُو الۡاَوۡتَادِ ۙ ١٢

কাযযাবাত কাবলাহুম কাওমুনূহিওঁ ওয়া ‘আ-দুওঁ ওয়া ফির‘আওনুযুল আওতা-দ।

তাদের আগে নূহের সম্প্রদায়, আদ জাতি এবং কীলকবিশিষ্ট ফির‘আউনও নবীগণকে মিথ্যাবাদী বলেছিল।

তাফসীরঃ

৭. কীলক বিশিষ্ট দ্বারা বোঝানো হয়েছে, সে ছিল মহাক্ষমতাবান। তার ছিল বিশাল বাহিনী। কেউ বলেন, ফির‘আউনকে এ নামে অভিহিত করার কারণ হল, সে যাকে শাস্তি দিতে চাইত, তাকে গ্রেপ্তার করে তার হাত-পায়ে চারটি কীলক গেঁথে ঝুলিয়ে রাখত আর এ অবস্থায়ই তার মৃত্যু ঘটত। কারও মতে الاوتاد অর্থ জমকালো অট্টালিকা। ফির‘আউন মিসরে বড় বড় স্থাপনা বিশেষত ‘পিরামিড’ তৈরি করে রেখেছিল বলেই তাকে ذوالاوتاد বা ‘বিশাল স্থাপনার স্থপতি’ বলা হয়েছে। আবার এর দ্বারা তার রাজত্বের দীর্ঘস্থায়িত্বের প্রতিও ইঙ্গিত হতে পারে। -অনুবাদক
১৩

وَثَمُوۡدُ وَقَوۡمُ لُوۡطٍ وَّاَصۡحٰبُ لۡـَٔیۡکَۃِ ؕ اُولٰٓئِکَ الۡاَحۡزَابُ ١٣

ওয়াছামূদুওয়া কাওমুলুতিওঁ ওয়া আসহা-বুল আইকাতি উলাইকাল আহঝা-ব।

এবং ছামূদ জাতি, লূতের সম্প্রদায় এবং আয়কাবাসীগণও। তারা ছিল বিরোধী দলসমূহের লোক।

তাফসীরঃ

৮. ‘আয়কা’ অর্থ বন-বনানী, এর দ্বারা হযরত শুআয়ব (আ.)-এর এলাকাকে বোঝানো হয়েছে। -অনুবাদক
১৪

اِنۡ کُلٌّ اِلَّا کَذَّبَ الرُّسُلَ فَحَقَّ عِقَابِ ٪ ١٤

ইন কুল্লুন ইল্লা-কাযযাবার রুছুলা ফাহাক্কা ‘ইকা-ব।

তাদের মধ্যে এমন কেউ ছিল না, যে রাসূলগণকে মিথ্যাবাদী বলেনি। ফলে তাদের উপর আমার শাস্তি অবতীর্ণ হয়েছে যথাযথভাবে।
১৫

وَمَا یَنۡظُرُ ہٰۤؤُلَآءِ اِلَّا صَیۡحَۃً وَّاحِدَۃً مَّا لَہَا مِنۡ فَوَاقٍ ١٥

ওয়ামা-ইয়ানজুরু হাউলাই ইল্লা-সাইহাতাওঁ ওয়া-হিদাতাম মা-লাহা-মিন ফাওয়া-ক।

এবং তারাও (অর্থাৎ মক্কাবাসীগণ) এমন এক মহা নাদ-এর অপেক্ষা করছে, যাতে কোন বিরতি থাকবে না। ১০

তাফসীরঃ

১০. এর দ্বারা শিঙ্গার ফুঁৎকার ধ্বনি বোঝানো উদ্দেশ্য, যার সাথে-সাথে কিয়ামত হয়ে যাবে।
১৬

وَقَالُوۡا رَبَّنَا عَجِّلۡ لَّنَا قِطَّنَا قَبۡلَ یَوۡمِ الۡحِسَابِ ١٦

ওয়া কা-লূরাব্বানা-‘আজ্জিল্লানা-কিত্তানা-কাবলা ইয়াওমিল হিছা-ব।

এবং তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! বিচার দিবসের আগেই আমাদের প্রাপ্য আমাদেরকে নগদ দিয়ে দিন। ১১

তাফসীরঃ

১১. ‘আমাদের প্রাপ্য আমাদেরকে নগদ দিয়ে দিন’এটা কাফেরদের সেই দাবি, যার কথা পূর্বে বহুবার উল্লেখ করা হয়েছে। তারা বলত, আমাদেরকে যে শাস্তি দেওয়া হবে বলে শোনানো হচ্ছে তা এখনই কেন দেওয়া হচ্ছে না?
১৭

اِصۡبِرۡ عَلٰی مَا یَقُوۡلُوۡنَ وَاذۡکُرۡ عَبۡدَنَا دَاوٗدَ ذَا الۡاَیۡدِ ۚ اِنَّہٗۤ اَوَّابٌ ١٧

ইসবির ‘আলা-মা-ইয়াকূলূনা ওয়াযকুর ‘আবদানা-দা-ঊদা যাল আইদি ইন্নাহূআওওয়া-ব।

(হে রাসূল!) তারা যা-কিছু বলে তাতে সবর কর এবং স্মরণ কর আমার বান্দা দাঊদ (আলাইহিস সালাম)কে, যে ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। ১২ নিশ্চয়ই সে ছিল অত্যন্ত আল্লাহ-অভিমুখী।

তাফসীরঃ

১২. কাফেরদের যেসব কথায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যথিত হতেন, সূরার শুরুতে তা খণ্ডন করা হয়েছিল। এবার মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হচ্ছে, তাদের এসব বেহুদা কথা অগ্রাহ্য করুন, সবর অবলম্বন করুন এবং নিজ কাজে লেগে থাকুন। এ প্রসঙ্গে কয়েকজন নবীর ঘটনা বর্ণনা করা হচ্ছে, যা দ্বারা তিনি সান্তনা লাভ করতে পারেন। সর্বপ্রথম বর্ণিত হচ্ছে হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের ঘটনা।
১৮

اِنَّا سَخَّرۡنَا الۡجِبَالَ مَعَہٗ یُسَبِّحۡنَ بِالۡعَشِیِّ وَالۡاِشۡرَاقِ ۙ ١٨

ইন্না-ছাখখারনাল জিবা-লা মা‘আহূইউছাব্বিহনা বিল‘আশিইয়ি ওয়াল ইশরা-ক।

আমি পর্বতমালাকে নিয়োজিত করেছিলাম, যাতে তারা তার সঙ্গে সন্ধ্যাবেলা ও সূর্যোদয়কালে তাসবীহ পাঠ করে।
১৯

وَالطَّیۡرَ مَحۡشُوۡرَۃً ؕ کُلٌّ لَّہٗۤ اَوَّابٌ ١٩

ওয়াত্তাইরা মাহশূরাতান কুল্লুল্লাহূআওওয়া-ব।

এবং পাখিদেরকেও, যাদেরকে একত্র করে নেওয়া হত। তারা তার সঙ্গে মিলে আল্লাহর যিকিরে লিপ্ত থাকত। ১৩

তাফসীরঃ

১৩. সূরা আম্বিয়ায় (২১ : ৭৯) বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামকে সুমধুর কণ্ঠ দিয়েছিলেন। তাঁর বিশেষ মুজিযা ছিল, তিনি যখন আল্লাহ তাআলার যিকির করতেন, তখন পাহাড়ও তাঁর সাথে যিকির ও তাসবীহ পাঠে রত হত। এমনকি উড়ন্ত পাখিরাও থেমে গিয়ে তাঁর সঙ্গে যিকিরে মশগুল হয়ে যেত।
২০

وَشَدَدۡنَا مُلۡکَہٗ وَاٰتَیۡنٰہُ الۡحِکۡمَۃَ وَفَصۡلَ الۡخِطَابِ ٢۰

ওয়া শাদাদ না-মুলকাহূওয়া আ-তাইনা-হুল হিকমাতা ওয়া ফাসলাল খিতা-ব।

আমি তার রাজত্বকে করেছিলাম সুদৃঢ় এবং তাকে দান করেছিলাম জ্ঞানবত্তা ও মীমাংসাকর বাগ্মিতা।
২১

وَہَلۡ اَتٰىکَ نَبَؤُا الۡخَصۡمِ ۘ  اِذۡ تَسَوَّرُوا الۡمِحۡرَابَ ۙ ٢١

ওয়া হাল আতা-কা নাবাউল খাসম । ইযতাসাওওয়ারুল মিহরা-ব।

তোমার কাছে কি সেই মোকদ্দমাকারীদের সংবাদ পৌঁছেছে, যখন তারা প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে ইবাদতখানায় প্রবেশ করেছিল? ১৪

তাফসীরঃ

১৪. এখান থেকে ২৪ নং আয়াত পর্যন্ত যে ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, তার সারমর্ম এরূপ, হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের দ্বারা কোনও একটা ভুল হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহ তাআলা সে ব্যাপারে তাকে সতর্ক করতে চাইলেন। তাই তাঁর কাছে দু’জন লোককে অস্বাভাবিকভাবে পাঠিয়ে দিলেন। তিনি তখন নিজ ইবাদতখানায় ছিলেন। আগন্তুকদ্বয় তাদের একটা বিবাদের ব্যাপারে তাঁর কাছে বিচার চাইল। তিনি বিচার করে দিলেন, কিন্তু সাথে সাথে তিনি বুঝে ফেললেন, আল্লাহ তাআলা-এর মাধ্যমে সূক্ষ্মভাবে তাঁকে সতর্ক করে দিয়েছেন। সুতরাং তিনি তখনই সিজদায় পড়ে গেলেন এবং তাওবা ও ইস্তিগফারে লিপ্ত হলেন। তাঁর দ্বারা কি ভুল হয়ে গিয়েছিল, কুরআন মাজীদ তা বয়ান করেনি এবং মোকদ্দমা দ্বারা তিনি সে বিষয়ে সচকিতই-বা হলেন কিভাবে তারও ব্যাখ্যা দেয়নি। কুরআন মাজীদ কেবল এই সবক দিতে চেয়েছে যে, ভুলচুক তো মানুষের স্বভাবেই আছে। বড়-বড় বুযুর্গ এমনকি নবীগণের দ্বারা মাঝে-মধ্যে মামুলি ধরনের ভুল-বিচ্যুতি ঘটে গেছে, কিন্তু তারা কখনও আপন ভুলের উপর গোঁ ধরে বসে থাকেন না, একই ভুল বারবার করেন না; বরং তাদের কাছে নিজের ভুল স্পষ্ট হয়ে যাওয়া মাত্রই আল্লাহ তাআলার দিকে রুজু হন এবং তাওবা- ইস্তিগফারে লিপ্ত হন। এ শিক্ষা গ্রহণের বিষয়টা হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের ঘটনা বিশদভাবে জানার উপর নির্ভরশীল নয়, যদিও অনেকে এর বিশদ অনুসন্ধানের পেছনে পড়েছেন। মুফাসসিরগণ এ সম্পর্কে নানা কথা বলেছেন। এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন কিসসা-কাহিনীও রচিত হয়েছে। একটা বেহুদা কিসসা তো বাইবেলেও বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে যে, হযরত দাঊদ আলাইহিসসালাম ‘উরিয়া’ নামক তার এক সেনাপতির স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিলেন (নাউযুবিল্লাহ)। এসব কিসসা বর্ণনার উপযুক্ত নয়। একজন মহান নবী, কুরআন মাজীদের বর্ণনা মোতাবেক যিনি আল্লাহ তাআলার বিশেষ প্রিয়পাত্র ছিলেন এবং যিনি অত্যধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকতেন, তাঁর সম্পর্কে এ জাতীয় গল্প যে বিলকুল মনগড়া তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। কোন কোন মুফাসসির বর্ণনা করেছেন সেকালে কারও বিবাহিতা স্ত্রীকে বিবাহ করার আগ্রহ প্রকাশ করে স্বামীকে যদি অনুরোধ করা হত সে যেন তাকে তালাক দিয়ে দেয়, সেটাকে দূষনীয় মনে করা হত না। সেকালে এর ব্যাপক রেওয়াজ ছিল। তাই এরূপ করলে তাকে কেউ খারাপ মনে করত না। উরিয়ার স্ত্রী ছিল অত্যন্ত বুদ্ধিমতী। তাই হযরত দাঊদ আলাইহিস সালাম সেকালের রেওয়াজ অনুযায়ী উরিয়াকে অনুরোধ করলেন যেন স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয়, যাতে তিনি নিজে তাকে বিবাহ করতে পারেন। এরূপ অনুরোধ তাঁর পক্ষে কোন গুনাহের কাজ ছিল না, যেহেতু তা রক্ষা করা না করার সম্পূর্ণ এখতিয়ার উরিয়ার ছিল। তাছাড়া সমাজের প্রচলন অনুযায়ী সেটা দোষেরও ছিল না। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেটা যেহেতু একজন মহান নবীর শান মোতাবেক ছিল না, তাই আল্লাহ তাআলা আয়াতে বর্ণিত সূক্ষ্ম পন্থায় তাকে সতর্ক করে দিলেন। সুতরাং তিনি এজন্য তাওবা-ইস্তিগফার করলেন। তিনি আর সে বিবাহ করলেন না। এ ব্যাখ্যা বাইবেলের কিসসার মত অবান্তর নয় বটে, কিন্তু কোন নির্ভরযোগ্য বর্ণনা দ্বারা এটা প্রমাণিত নয়। আসল কথা হচ্ছে, তাঁর ভুল যাই হোক না কেন আল্লাহ তাআলা তাঁর সে মহান নবীকে যে কেবল ক্ষমা করেছেন তাই নয়; বরং সে ভুলটিকে সম্পূর্ণরূপে পর্দার আড়াল করে রেখেছেন। কুরআন মাজীদে কোথাও সেটি উল্লেখ করেননি। সুতরাং আল্লাহ তাআলা নিজে যে ঘটনা গোপন রেখেছেন, তার অনুসন্ধানে লেগে পড়া কিছুতেই একজন মহান নবীর মর্যাদার অনুকূল নয়। তাছাড়া এর কোন প্রয়োজনও নেই। কুরআন যেমন বিষয়টাকে অস্পষ্ট রেখে দিয়েছে, আমাদেরও তেমনি অস্পষ্ট রেখে দেওয়া উচিত। কেননা কুরআন মাজীদ যে শিক্ষা দিতে চায় তা ঘটনা জানা ছাড়াও পুরোপুরি হাসিল হয়ে যায়।
২২

اِذۡ دَخَلُوۡا عَلٰی دَاوٗدَ فَفَزِعَ مِنۡہُمۡ قَالُوۡا لَا تَخَفۡ ۚ خَصۡمٰنِ بَغٰی بَعۡضُنَا عَلٰی بَعۡضٍ فَاحۡکُمۡ بَیۡنَنَا بِالۡحَقِّ وَلَا تُشۡطِطۡ وَاہۡدِنَاۤ اِلٰی سَوَآءِ الصِّرَاطِ ٢٢

ইযদাখালূ‘আলা-দা-ঊদা ফাফাঝি‘আ মিনহুম কা-লূলা-তাখাফ খাছমা-নি বাগাবা‘দুনা-‘আলা-বা‘দিন ফাহকুম বাইনানা-বিলহাক্কিওয়ালা-তুশতিত ওয়াহদিনাইলা-ছাওয়াইসসিরা-ত।

যখন তারা দাঊদের কাছে পৌঁছল, সে তাদের দেখে ঘাবড়ে গেল। তারা বলল, ভয় পাবেন না। আমরা বিবাদমান দু’টি পক্ষ। আমাদের একে অন্যের প্রতি জুলুম করেছে। সুতরাং আপনি আমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করে দিন এবং অবিচার করবেন না এবং আমাদেরকে সঠিক পথ-নির্দেশ করুন।
২৩

اِنَّ ہٰذَاۤ اَخِیۡ ۟ لَہٗ تِسۡعٌ وَّتِسۡعُوۡنَ نَعۡجَۃً وَّلِیَ نَعۡجَۃٌ وَّاحِدَۃٌ ۟ فَقَالَ اَکۡفِلۡنِیۡہَا وَعَزَّنِیۡ فِی الۡخِطَابِ ٢٣

ইন্না হা-যাআখী লাহূতিছউওঁ ওয়া তিছ‘ঊনা না‘জাতাওঁ ওয়ালিয়া না‘জাতুওঁ ওয়াহিদাতুন ফাকা-লা আকফিলনীহা-ওয়া ‘আঝঝানী ফিল খিতা-ব।

এ আমার ভাই। তার নিরানব্বইটি দুম্বা আছে। আর আমার আছে একটি মাত্র দুম্বা। সে বলছে, এটিও আমার যিম্মায় দিয়ে দাও এবং সে কথার জোরে আমাকে দুর্বল করে দিয়েছে।
২৪

قَالَ لَقَدۡ ظَلَمَکَ بِسُؤَالِ نَعۡجَتِکَ اِلٰی نِعَاجِہٖ ؕ  وَاِنَّ کَثِیۡرًا مِّنَ الۡخُلَطَآءِ لَیَبۡغِیۡ بَعۡضُہُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ اِلَّا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَقَلِیۡلٌ مَّا ہُمۡ ؕ  وَظَنَّ دَاوٗدُ اَنَّمَا فَتَنّٰہُ فَاسۡتَغۡفَرَ رَبَّہٗ وَخَرَّ رَاکِعًا وَّاَنَابَ ٛ ٢٤

কা-লা লাকাদ জালামাকা বিছুআ-লি না‘জাতিকা ইলা-নি‘আ-জিহী ওয়া ইন্না কাছীরাম মিনাল খুলাতাই লাইয়াবগী বা‘দুহুম ‘আলা-বা‘দিন ইল্লাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ওয়া কালীলুম মা-হুম ওয়া জান্না দা-ঊদা আন্নামা-ফাতান্না-হু ফাছতাগফারা রাব্বাহূওয়া খাররা রা -কি‘আওঁ ওয়া আনা-ব (ছিজদাহ-১০)।

দাঊদ বলল, সে তার দুম্বাদের সাথে মেলানোর জন্য তোমার দুম্বাটিকে দাবি করে নিশ্চয়ই তোমার উপর জুলুম করেছে। যাদের মধ্যে অংশীদারিত্ব থাকে, তাদের অনেকেই একে অন্যের প্রতি জুলুম করে থাকে। ব্যতিক্রম কেবল তারা, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে। কিন্তু তারা বড় কম। তখন দাঊদ উপলব্ধি করল যে, মূলত আমি তাকে পরীক্ষা করেছি। কাজেই সে তার প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল এবং সিজদায় লুটিয়ে পড়ল আর আল্লাহর অভিমুখী হল। ১৫

তাফসীরঃ

১৫. এটি সিজদার আয়াত। যে ব্যক্তি আরবীতে এটি পড়বে বা শুনবে তার উপর সিজদা ওয়াজিব হয়ে যাবে।
২৫

فَغَفَرۡنَا لَہٗ ذٰلِکَ ؕ وَاِنَّ لَہٗ عِنۡدَنَا لَزُلۡفٰی وَحُسۡنَ مَاٰبٍ ٢٥

ফাগাফারনা-লাহূযা-লিকা ওয়া ইন্না লাহু ‘ইনদানা-লাঝুলফা-ওয়া হুছনা মাআ-ব।

অনন্তর আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম। প্রকৃতপক্ষে আমার কাছে রয়েছে তার বিশেষ নৈকট্য ও উত্তম ঠিকানা।
২৬

یٰدَاوٗدُ اِنَّا جَعَلۡنٰکَ خَلِیۡفَۃً فِی الۡاَرۡضِ فَاحۡکُمۡ بَیۡنَ النَّاسِ بِالۡحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الۡہَوٰی فَیُضِلَّکَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ؕ  اِنَّ الَّذِیۡنَ یَضِلُّوۡنَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ لَہُمۡ عَذَابٌ شَدِیۡدٌۢ بِمَا نَسُوۡا یَوۡمَ الۡحِسَابِ ٪ ٢٦

ইয়া-দা-ঊদুইন্না-জা‘আলনা-কা খালীফাতান ফিল আরদিফাহকুম বাইনান্না-ছি বিলহাক্কি ওয়ালা-তাত্তাবি‘ইল হাওয়া-ফাইউদিল্লাকা ‘আন ছাবীলিল্লা-হি ইন্নাল্লাযীনা ইয়াদিল্লুনা ‘আন ছাবীলিল্লা-হি লাহুম ‘আযা-বুন শাদীদুম বিমা-নাছূইয়াওমাল হিছা-ব।

হে দাঊদ! আমি পৃথিবীতে তোমাকে খলীফা বানিয়েছি। সুতরাং তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার করো এবং খেয়াল-খুশীর অনুগামী হয়ো না। অন্যথায় তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয় তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি, যেহেতু তারা হিসাব দিবসকে বিস্মৃত হয়েছিল।
২৭

وَمَا خَلَقۡنَا السَّمَآءَ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَیۡنَہُمَا بَاطِلًا ؕ  ذٰلِکَ ظَنُّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ۚ  فَوَیۡلٌ لِّلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنَ النَّارِ ؕ ٢٧

ওয়ামা-খালাকনাছ ছামাআ ওয়াল আরদা ওয়ামা-বাইনাহুমা-বা-তিলান যা-লিকা জান্নুল্লাযীনা কাফারূ ফাওয়াইলুলিলল্লাযীনা কাফারূমিনান্না-র।

আমি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এর মাঝখানে যা-কিছু আছে, তা নিরর্থক সৃষ্টি করিনি। এটা যারা কুফর অবলম্বন করেছে তাদের ধারণা মাত্র। সুতরাং কাফেরদের জন্য রয়েছে ধ্বংস জাহান্নামরূপে।
২৮

اَمۡ نَجۡعَلُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ کَالۡمُفۡسِدِیۡنَ فِی الۡاَرۡضِ ۫ اَمۡ نَجۡعَلُ الۡمُتَّقِیۡنَ کَالۡفُجَّارِ ٢٨

আম নাজ‘আলুল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি কালমুফছিদীনা ফিল আরদি আম নাজ‘আলুল মুত্তাকীনা কালফুজ্জা-র ।

যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আমি কি তাদেরকে সেই সব লোকের সমান গণ্য করব, যারা পৃথিবীতে অশান্তি বিস্তার করে? না কি আমি মুত্তাকীদেরকে পাপাচারীদের সমান গণ্য করব? ১৬

তাফসীরঃ

১৬. আখেরাত যে অপরিহার্য এটা তার দলীল। পূর্বের আয়াতসমূহের সাথে এর যোগসূত্র এই যে, আল্লাহ তাআলা হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামকে আদেশ করেছিলেন, তাকে যখন তাঁর খলীফা বানানো হয়েছে, তখন তিনি যেন মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার করেন। আল্লাহ তাআলা যেন বলছেন, আমি আমার খলীফাকে যখন ন্যায়বিচারের আদেশ করেছি, তখন আমি নিজে কি করে অবিচার করতে পারি? এই ন্যায়বিচারের জন্যই আখেরাত হবে এবং সেখানে ভালো-মন্দের হিসাব-নিকাশ হবে। তা না হলে অর্থ দাঁড়াবে, আমি ভালো লোক ও মন্দ লোকের মধ্যে কোন পার্থক্য রাখিনি এবং দুনিয়ায় কোন ব্যক্তি যতই ভালো কাজ করুক কিংবা যতই মন্দ কাজ করুক, সেজন্য কোন জিজ্ঞাসাবাদ হবে না এবং সৎকর্মশীলদেরকেও দেওয়া হবে না কোন পুরস্কার। এরূপ বেইনসাফী আমি কী করে করতে পারি?
২৯

کِتٰبٌ اَنۡزَلۡنٰہُ اِلَیۡکَ مُبٰرَکٌ لِّیَدَّبَّرُوۡۤا اٰیٰتِہٖ وَلِیَتَذَکَّرَ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ ٢٩

কিতা-বুন আনঝালনা-হুইলাইকামুবা-রাকুল লিইয়াদ্দাব্বারূআ-য়া-তিহী ওয়া লিইয়াতাযাক্কারা উলুল আলবা-ব।

(হে রাসূল!) এটি এক বরকতময় কিতাব, যা আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতের মধ্যে চিন্তা করে এবং যাতে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ উপদেশ গ্রহণ করে। ১৭

তাফসীরঃ

১৭. অর্থাৎ আখেরাত ও হিসাব-নিকাশের আবশ্যিকতা যখন বুঝে আসল, তখন এটাও বুঝে নাও যে, মানুষকে আগেভাগে সতর্ক করার জন্য তাদেরকে হেদায়াতের বাণী দান করা তাঁর ইনসাফেরই দাবি, যাতে মানুষ সেই হেদায়াত অনুযায়ী কাজ করে নিজ আখেরাতকে নির্মাণ করতে পারে। তাই আল্লাহ তাআলা এই বরকতময় গ্রন্থ আল-কুরআন নাযিল করেছেন।
৩০

وَوَہَبۡنَا لِدَاوٗدَ سُلَیۡمٰنَ ؕ  نِعۡمَ الۡعَبۡدُ ؕ  اِنَّہٗۤ اَوَّابٌ ؕ ٣۰

ওয়া ওয়াহাবনা-লিদা-ঊদা ছুলাইমা-না নি‘মাল ‘আবদু; ইন্নাহূআওওয়া-ব।

আমি দাঊদকে দান করলাম সুলাইমান (-এর মত পুত্র)। সে ছিল উত্তম বান্দা। নিশ্চয়ই সে ছিল অতিশয় আল্লাহ অভিমুখী।
৩১

اِذۡ عُرِضَ عَلَیۡہِ بِالۡعَشِیِّ الصّٰفِنٰتُ الۡجِیَادُ ۙ ٣١

ইয‘উরিদা ‘আলাইহি বিল ‘আশিইয়িসসা-ফিনা-তুল জিয়া-দ।

(সেই সময়টি স্মরণীয়) যখন সন্ধ্যাবেলা তার সামনে উৎকৃষ্ট প্রজাতির ভালো-ভালো ঘোড়া পেশ করা হল।
৩২

فَقَالَ اِنِّیۡۤ اَحۡبَبۡتُ حُبَّ الۡخَیۡرِ عَنۡ ذِکۡرِ رَبِّیۡ ۚ  حَتّٰی تَوَارَتۡ بِالۡحِجَابِ ٝ ٣٢

ফাকা-লা ইন্নীআহবাবতুহুব্বাল খাইরি ‘আন যিকরি রাববী হাত্তা-তাওয়া-রাত বিলহিজা-ব।

তখন সে বলল, আমি আমার প্রতিপালকের স্মরণার্থেই এই সম্পদকে ভালোবেসেছি। অবশেষে তা পর্দার আড়াল হয়ে গেল।
৩৩

رُدُّوۡہَا عَلَیَّ ؕ فَطَفِقَ مَسۡحًۢا بِالسُّوۡقِ وَالۡاَعۡنَاقِ ٣٣

রুদ্দূহা-‘আলাইইয়া ফাতাফিকা মাছহাম বিছছূকিওয়াল আ‘না-ক।

(অনন্তর সে বলল,) ওগুলোকে আমার কাছে ফিরিয়ে আন। অতঃপর সে (তাদের) পায়ের গোছা ও ঘাড়ে হাত বুলাতে লাগল। ১৮

তাফসীরঃ

১৮. জিহাদের জন্য যে উৎকৃষ্ট প্রজাতির ঘোড়া সংগ্রহ করা হয়েছিল, যেগুলো দ্বারা তাঁর রাজ-ক্ষমতার জৌলুসও প্রকাশ পাচ্ছিল, একদিন সেগুলো তাঁর সামনে পেশ করা হল। কিন্তু সেই জমকালো দৃশ্য দেখে যে তিনি আল্লাহ তাআলাকে ভুলে গেলেন এমন নয়; বরং তিনি বললেন, আমি তো এগুলোকে ভালোবাসি আল্লাহরই জন্য। এজন্য নয় যে, এর দ্বারা আমার ক্ষমতার গৌরব প্রকাশ পাচ্ছে। এগুলো তো সংগ্রহই করা হয়েছে জিহাদের জন্য আর জিহাদ করা হয় আল্লাহ তাআলার ভালোবাসায়। অতঃপর ঘোড়াগুলো এগুতে এগুতে তাঁর চোখের আড়ালে চলে গেল। তিনি সেগুলোকে আবারও তার সামনে আনতে বললেন। এবার তিনি সেগুলোর পায়ের গোছা ও গর্দানে আদর বুলিয়ে দিলেন। কুরআন মাজীদ এ ঘটনাটি উল্লেখ করে মানুষকে শিক্ষা দিচ্ছে যে, দুনিয়ার ধন-দৌলত অর্জিত হলে সেজন্য আল্লাহর শোকর আদায় করা উচিত। এমন যেন না হয় যে, তার মোহ ব্যক্তিকে গর্বিত করে তুলল এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে দিল; বরং বিনয়ের সাথে তাকে এমন কাজেই ব্যবহার করা চাই, যা হবে আল্লাহ তাআলার আদেশ মোতাবেক। আয়াতের উপরিউক্ত তাফসীর হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত আছে এবং এটা আয়াতের শব্দাবলীরও বেশি কাছাকাছি। ইবনে জারির (রহ.) ইমাম রাযী (রহ.) প্রমুখ এ তাফসীরকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। মুফাসসিরদের একটি বড় দল আয়াতের আরও একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং সে ব্যাখ্যাই বেশি প্রসিদ্ধ। তার সারমর্ম নিম্নরূপ ঘোড়াগুলি দেখতে দেখতে তাঁর নামায কাযা হয়ে গিয়েছিল, যে কারণে তাঁর খুব আফসোস হল। তিনি বলে উঠলেন, দেখা যাচ্ছে, এই অর্থ-সম্পদের মহব্বত আমাকে আল্লাহ তাআলার মহব্বত থেকে গাফেল করে দিয়েছে। কাজেই তিনি ঘোড়াগুলিকে আবার তাঁর সামনে আনতে বললেন। এবার তিনি সেগুলো কুরবানী করে দিতে মনস্থ করলেন এবং সে উদ্দেশ্যে তরবারি দ্বারা তাদের পায়ের গোছা ও গর্দান কাটা রে দিলেন। এ তাফসীর অনুযায়ী আয়াতের তরজমা করতে হবে এ রকম, ‘যখন তার সামনে উৎকৃষ্ট প্রজাতির ভালো-ভালো ঘোড়া পেশ করা হল, তখন তিনি বললেন, এই ধন-দৌলতের ভালোবাসা আমাকে আল্লাহর মহব্বত থেকে গাফেল করে দিয়েছে। পরিশেষে ঘোড়াগুলি যখন তার চোখের আড়ালে চলে গেল, তখন তিনি বললেন, সেগুলো ফিরিয়ে আন। তারপর তিনি সেগুলোর পায়ের গোছা ও গর্দানে (তরবারি দ্বারা) হাত চালাতে লাগলেন’।
৩৪

وَلَقَدۡ فَتَنَّا سُلَیۡمٰنَ وَاَلۡقَیۡنَا عَلٰی کُرۡسِیِّہٖ جَسَدًا ثُمَّ اَنَابَ ٣٤

ওয়া লাকাদ ফাতান্না-ছুলাইমা-না ওয়া আলকাইনা-‘আলা-কুরছিইয়িহী জাছাদান ছু ম্মা আনা-ব।

অবশ্যই আমি সুলাইমানকে পরীক্ষা করেছিলাম এবং তার সিংহাসনে একটি ধড় এনে ফেলে দিয়েছিলাম। ১৯ অনন্তর সে (আল্লাহর) অভিমুখী হল।

তাফসীরঃ

১৯. এটি আরেকটি ঘটনা। কুরআন মাজীদে এ ঘটনারও বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি এবং নির্ভরযোগ্য হাদীসেও এমন কোন ঘটনা পাওয়া যায় না, যাকে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় পেশ করা যায়। এর তাফসীরে যেসব বর্ণনা পাওয়া যায়, তা নেহাত দুর্বল অথবা সম্পূর্ণ অবান্তর। কিংবা তা এ আয়াতের তাফসীর হিসেবে প্রমাণিত নয়। সুতরাং নিরাপদ পথ হল যে বিষয়টাকে খোদ কুরআন মাজীদ আড়াল রেখে দিয়েছে, তাকে আড়ালেই রেখে দেওয়া। যে উদ্দেশ্যে ঘটনার বরাত দেওয়া হয়েছে, ঘটনার বিশদ জানা ছাড়াও তা হাসিল হয়ে যায়। বোঝানো উদ্দেশ্য এই যে, আল্লাহ তাআলা হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামকে কোন একটা পরীক্ষা করেছিলেন, যার পর তিনি আল্লাহরই দিকে রুজু হন।
৩৫

قَالَ رَبِّ اغۡفِرۡ لِیۡ وَہَبۡ لِیۡ مُلۡکًا لَّا یَنۡۢبَغِیۡ لِاَحَدٍ مِّنۡۢ بَعۡدِیۡ ۚ اِنَّکَ اَنۡتَ الۡوَہَّابُ ٣٥

কা-লা রাব্বিগ ফিরলী ওয়া হাবলী মুলকাল লা-ইয়ামবাগী লিআহাদিম মিম বা‘দী ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহা-ব।

সে বলতে লাগল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর এবং আমাকে এমন রাজত্ব দান কর, যা আমার পর অন্য কারও জন্য বাঞ্ছনীয় হবে না। ২০ নিশ্চয়ই তুমি মহাদাতা।

তাফসীরঃ

২০. হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম যে রাজত্ব লাভ করেছিলেন, তা বাতাস, জিন্ন জাতি ও পাখীদের উপরও ব্যাপ্ত ছিল। এরূপ রাজত্ব তাঁর পরে কেউ কখনও লাভ করেনি।
৩৬

فَسَخَّرۡنَا لَہُ الرِّیۡحَ تَجۡرِیۡ بِاَمۡرِہٖ رُخَآءً حَیۡثُ اَصَابَ ۙ ٣٦

ফাছাখখারনা-লাহুররীহা তাজরী বিআমরিহী রুখাআন হাইছুআসা-ব।

সুতরাং আমি বাতাসকে তার অধীন করে দিলাম, যা তার আদেশে সে যেথায় চাইত মন্থর গতিতে বয়ে যেত। ২১

তাফসীরঃ

২১. এর ব্যাখ্যা সূরা আম্বিয়ায় (২১ : ৮১) চলে গেছে।
৩৭

وَالشَّیٰطِیۡنَ کُلَّ بَنَّآءٍ وَّغَوَّاصٍ ۙ ٣٧

ওয়াশশায়া-তীনা কুল্লা বান্নাইওঁ ওয়া গাওওয়াছ।

এবং দুষ্ট জিনদেরকেও তাঁর আজ্ঞাধীন করে দিয়েছিলাম, যার মধ্যে ছিল সব রকমের নির্মাতা ও ডুবুরি।
৩৮

وَّاٰخَرِیۡنَ مُقَرَّنِیۡنَ فِی الۡاَصۡفَادِ ٣٨

ওয়া আ-খারীনা মুকাররানীনা ফিল আসফা-দ।

এবং এমন কিছু জিন্নকেও, যারা শিকলে বাঁধা ছিল। ২২

তাফসীরঃ

২২. এসব জিন হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের কী কী কাজ করত তা বিস্তারিতভাবে সূরা সাবায় (৩৪ : ১৩, ১৪) গত হয়েছে। এখানে অতিরিক্ত জানানো হয়েছে যে, তারা সাগরে ডুব দিয়ে তাঁর জন্য মণি-মুক্তা সংগ্রহ করত। কিছু জিন ছিল অতি দুষ্ট। মানুষকে তাদের ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্য তাদেরকে শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছিল।
৩৯

ہٰذَا عَطَآؤُنَا فَامۡنُنۡ اَوۡ اَمۡسِکۡ بِغَیۡرِ حِسَابٍ ٣٩

হা-যা-‘আতাউনা-ফামনুন আও আমছিক বিগাইরি হিছা-ব।

(তাকে বলেছিলাম) এসব আমার দান। চাইলে তুমি অনুগ্রহ করে কাউকে (এর থেকে) কিছু দান করতে পার অথবা নিজের কাছে রেখেও দিতে পার, কোন হিসাবের দায় ছাড়া। ২৩

তাফসীরঃ

২৩. হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামকে এ রাজত্ব দান করা হয়েছিল মালিকানা হিসেবে। তাঁকে এই এখতিয়ার দেওয়া হয়েছিল যে, যা ইচ্ছা তিনি নিজে রাখতে পারেন এবং যা ইচ্ছা অন্যকে দানও করতে পারেন।
৪০

وَاِنَّ لَہٗ عِنۡدَنَا لَزُلۡفٰی وَحُسۡنَ مَاٰبٍ ٪ ٤۰

ওয়া ইন্না লাহূ‘ইনদানা-লাঝুলফা-ওয়াহুছনা মাআ-ব।

বস্তুত আমার কাছে তার রয়েছে বিশেষ নৈকট্য ও উত্তম ঠিকানা।
৪১

وَاذۡکُرۡ عَبۡدَنَاۤ اَیُّوۡبَ ۘ  اِذۡ نَادٰی رَبَّہٗۤ اَنِّیۡ مَسَّنِیَ الشَّیۡطٰنُ بِنُصۡبٍ وَّعَذَابٍ ؕ ٤١

ওয়াযকুর ‘আবদানাআইইঊব । ইযনা-দা-রাব্বাহূআন্নী মাছছানিয়াশ শায়তা-নু বিনুসবিওঁ ওয়া ‘আযা-ব।

আমার বান্দা আয়্যূবকে স্মরণ কর, যখন সে নিজ প্রতিপালককে ডেকে বলেছিল, শয়তান আমাকে দুঃখ ও কষ্টে জড়িয়েছে। ২৪

তাফসীরঃ

২৪. সূরা আম্বিয়ায় বলা হয়েছে (২১ : ৮৪) হযরত আয়্যূব আলাইহিস সালাম দীর্ঘকালীন এক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি সবরের সাথে আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তাকে শেফা দান করেন। ৪২ নং আয়াতে তাঁর শেফা লাভের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা তাকে পা দ্বারা মাটিতে আঘাত করতে বললেন। তিনি মাটিতে আঘাত করলেন। অমনি সেখান থেকে একটি প্রস্রবণ উৎসারিত হল। আল্লাহ তাআলা তাকে সেই পানি দ্বারা গোসল করতে ও তা পান করতে হুকুম করলেন। তিনি তাই করলেন। ফলে তিনি আরোগ্য লাভ করলেন।
৪২

اُرۡکُضۡ بِرِجۡلِکَ ۚ ہٰذَا مُغۡتَسَلٌۢ بَارِدٌ وَّشَرَابٌ ٤٢

উরকুদবিরিজলিকা হা-যা-মুগতাছালুম বা-রিদুওঁ ওয়া শারা-ব।

(আমি তাকে বললাম) তুমি তোমার পা দ্বারা মাটিতে আঘাত কর। নাও, এই তো গোসলের ঠাণ্ডা পানি, এবং পানীয়।
৪৩

وَوَہَبۡنَا لَہٗۤ اَہۡلَہٗ وَمِثۡلَہُمۡ مَّعَہُمۡ رَحۡمَۃً مِّنَّا وَذِکۡرٰی لِاُولِی الۡاَلۡبَابِ ٤٣

ওয়া ওয়াহাবনা- লাহূআহলাহূওয়া মিছলাহুম মা‘আহুম রাহমাতাম মিন্না- ওয়াযিকরালিঊলিল আলবা-ব।

এবং (এভাবে) আমি তাকে দান করলাম তার পরিবারবর্গ এবং তাদের সাথে অনুরূপ আরও ২৫ তার প্রতি আমার রহমত এবং বোধসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য উপদেশস্বরূপ।

তাফসীরঃ

২৫. রোগাক্রান্ত অবস্থায় তাঁর বিশ্বস্ত স্ত্রী ছাড়া সকলেই তাঁকে ত্যাগ করেছিল। কিন্তু সুস্থ হয়ে যাওয়ার পর তারা সকলে তো ফিরে এসেছিলই, সেই সঙ্গে আল্লাহ তাআলা তাঁকে আরও বহু নাতি-নাতনী দান করেছিলেন। আর এভাবে তার খান্দানের লোক সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গেল।
৪৪

وَخُذۡ بِیَدِکَ ضِغۡثًا فَاضۡرِبۡ بِّہٖ وَلَا تَحۡنَثۡ ؕ اِنَّا وَجَدۡنٰہُ صَابِرًا ؕ نِعۡمَ الۡعَبۡدُ ؕ اِنَّہٗۤ اَوَّابٌ ٤٤

ওয়া খুযবিয়াদিকা দিগছান ফাদরিব্বিহী ওয়ালা-তাহনাছ ইন্না-ওয়াজাদনা-হু সাবিরান নি‘মাল ‘আবদু ইন্নাহূআওওয়া-ব।

(আমি তাকে আরও বললাম) তোমার হাতে এক মুঠো তৃণ নাও এবং তা দ্বারা আঘাত কর আর শপথ ভঙ্গ করো না। ২৬ বস্তুত আমি তাকে পেয়েছি একজন সবরকারী। সে ছিল অতি উত্তম বান্দা। প্রকৃতপক্ষে সে ছিল অত্যন্ত আল্লাহ-অভিমুখী।

তাফসীরঃ

২৬. একবার শয়তান হযরত আয়্যূব আলাইহিস সালামের স্ত্রীকে এভাবে প্ররোচনা দিল যে, সে এক চিকিৎসকের বেশে তার কাছে আসল। স্বামীর রুগ্নাবস্থার কারণে তিনি খুবই পেরেশান ছিলেন। কাজেই শয়তানকে সত্যিকারের চিকিৎসক মনে করে বললেন, আমার স্বামীর চিকিৎসা করুন। আসলে তো সে ছিল শয়তান। কাজেই এখানেও সে শয়তানী চাল চালল। বলল, চিকিৎসা করতে রাজি আছি। তবে শর্ত হল, আরোগ্য লাভের পর তোমাকে বলতে হবে, এই চিকিৎসকই তাকে ভালো করে দিয়েছে। তিনি যেহেতু স্বামীর অসুস্থতার কারণে পেরেশান ছিলেন, তাই তার কথা মানার প্রতি তার মনে ঝোঁক সৃষ্টি হচ্ছিল। তিনি বিষয়টা হযরত আয়্যূব আলাইহিস সালামকে জানালে তিনি খুবই মর্মাহত হলেন। তাঁর মনে আক্ষেপ জাগল যে, শয়তান তার স্ত্রীর কাছেও পৌঁছে গেল এবং এমনকি স্ত্রীর মনে তার কথা মানার প্রতি ঝোঁকও সৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে! এই বেদনাহত অবস্থায় তিনি কসম খেয়ে ফেললেন, আরোগ্য লাভের পর আমি স্ত্রীকে একশত বেত্রাঘাত করব। কিন্তু যখন তিনি আরোগ্য লাভ করলেন, তখন এ কসমের জন্য তাঁর খুব অনুশোচনা হল। তিনি চিন্তা করতে লাগলেন, এ রকম অসাধারণ বিশ্বস্ত স্ত্রীকে তিনি কিভাবে শাস্তি দেবেন? আর যদি শাস্তি না দেন তবে তো কসম ভেঙ্গে যাবে! তাঁর এ রকম কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় আল্লাহ তাআলা মেহেরবানী করলেন। ওহীর মাধ্যমে তাকে হুকুম দেওয়া হল, তিনি যেন একশ তৃণের একটি মুঠো নিয়ে তা দ্বারা স্ত্রীকে মাত্র একবার আঘাত করেন। এ পন্থায় তার কসমও রক্ষা করা হবে আবার স্ত্রীও তাতে বিশেষ কষ্ট পাবে না।
৪৫

وَاذۡکُرۡ عِبٰدَنَاۤ اِبۡرٰہِیۡمَ وَاِسۡحٰقَ وَیَعۡقُوۡبَ اُولِی الۡاَیۡدِیۡ وَالۡاَبۡصَارِ ٤٥

ওয়াযকুর ‘ইবা-দানাইবরা-হীমা ওয়া ইছহা-কাওয়াইয়া‘কূ বা ঊলিল আইদী ওয়াল আবসা-র।

আমার বান্দা ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়াকুবের কথা স্মরণ কর, যারা (সৎকর্মশীল) হাত ও (দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন) চোখের অধিকারী ছিল।
৪৬

اِنَّاۤ اَخۡلَصۡنٰہُمۡ بِخَالِصَۃٍ ذِکۡرَی الدَّارِ ۚ ٤٦

ইন্নাআখলাসনা-হুম বিখা-লিসাতিন যিকরাদ্দা-র।

আমি একটি বিশেষ গুণের জন্য তাদেরকে বেছে নিয়েছিলাম। তা ছিল (আখেরাতের) প্রকৃত নিবাসের স্মরণ।
৪৭

وَاِنَّہُمۡ عِنۡدَنَا لَمِنَ الۡمُصۡطَفَیۡنَ الۡاَخۡیَارِ ؕ ٤٧

ওয়া ইন্নাহুম ‘ইনদানা-লামিনাল মুছতাফাইনাল আখইয়া-র।

প্রকৃতপক্ষে তারা ছিল আমার কাছে মনোনীত, উত্তম লোকদের অন্তর্ভুক্ত।
৪৮

وَاذۡکُرۡ اِسۡمٰعِیۡلَ وَالۡیَسَعَ وَذَا الۡکِفۡلِ ؕ  وَکُلٌّ مِّنَ الۡاَخۡیَارِ ؕ ٤٨

ওয়াযকুর ইছমা-‘ঈলা ওয়াল ইয়াছা‘আ ওয়াযাল কিফলি ওয়া কুল্লুম মিনাল আখইয়া-র।

এবং স্মরণ কর ইসমাঈল, আল- ইয়াসা ও যুল-কিফলকে। ২৭ তারা সকলে ছিল উত্তম ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত।

তাফসীরঃ

২৭. আল-ইয়াসা আলাইহিস সালাম একজন নবী। কুরআন মাজীদে মাত্র দু’ জায়গায় তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক তো এই স্থানে এবং আরেক সূরা আনআমে (৬ : ৮৬)। উভয় স্থানে তার শুধু নামই বলা হয়েছে। বিস্তারিত কোন তথ্য দেওয়া হয়নি। ঐতিহাসিক বর্ণনাসমূহ দ্বারা জানা যায় তিনি ছিলেন বনী ইসরাঈলের একজন নবী এবং হযরত ইলিয়াস আলাইহিস সালামের চাচাত ভাই। বাইবেলের ‘রাজাবলী’ পুস্তকের ১৯ নং পরিচ্ছেদে তাঁর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এমনিভাবে হযরত যুলকিফল আলাইহিস সালামের নামও কেবল দু’ জায়গায়ই পাওয়া যায়। এখানে এবং সূরা আম্বিয়ায় (২১ : ৮৫)। কোন কোন মুফাসসির তাঁকে হযরত আল-ইয়াসা আলাইহিস সালামের খলীফা বলেছেন। কারও মতে তিনি নবী নন, বরং একজন ওলী ছিলেন।
৪৯

ہٰذَا ذِکۡرٌ ؕ  وَاِنَّ لِلۡمُتَّقِیۡنَ لَحُسۡنَ مَاٰبٍ ۙ ٤٩

হা-যা-যিকরুওঁ ওয়া ইন্না লিলমুত্তাকীনা লাহুছনা মাআ-ব।

এসব হল উপদেশ-বাণী। নিশ্চয়ই যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, তাদের জন্য রয়েছে উৎকৃষ্ট ঠিকানা
৫০

جَنّٰتِ عَدۡنٍ مُّفَتَّحَۃً لَّہُمُ الۡاَبۡوَابُ ۚ ٥۰

জান্না-তি ‘আদনিম মুফাত্তাহাল লাহুমুল আবওয়া-ব।

অর্থাৎ স্থায়ী বসবাসের জান্নাত, যার দরজাসমূহ তাদের জন্য সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত থাকবে।
৫১

مُتَّکِـِٕیۡنَ فِیۡہَا یَدۡعُوۡنَ فِیۡہَا بِفَاکِہَۃٍ کَثِیۡرَۃٍ وَّشَرَابٍ ٥١

মুত্তাকিঈনা ফীহা-ইয়াদ‘ঊনা ফীহা-বিফা-কিহাতিন কাছীরাতিওঁ ওয়া শারা-ব।

সেখানে তারা হেলান দিয়ে বসে বহু ফলমূল ও পানীয়ের ফরমায়েশ করবে।
৫২

وَعِنۡدَہُمۡ قٰصِرٰتُ الطَّرۡفِ اَتۡرَابٌ ٥٢

ওয়া ‘ইনদাহুম কা-সিরা-তুত্তারফি আতরা-ব।

আর তাদের কাছে থাকবে এমন সমবয়স্কা নারী, যাদের দৃষ্টি (আপন-আপন স্বামীতে) নিবদ্ধ থাকবে।
৫৩

ہٰذَا مَا تُوۡعَدُوۡنَ لِیَوۡمِ الۡحِسَابِ ؓ ٥٣

হা-যা-মা-তূ‘আদূনা লিইয়াওমিল হিছা-ব।

এটাই তাই (অর্থাৎ নি‘আমতপূর্ণ জীবন), হিসাব দিবসের জন্য তোমাদেরকে যার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
৫৪

اِنَّ ہٰذَا لَرِزۡقُنَا مَا لَہٗ مِنۡ نَّفَادٍ ۚۖ ٥٤

ইন্না হা-যা-লারিঝকূনা-মা লাহূমিন নাফা-দ।

নিশ্চয়ই এটা আমার এমন দান, যা কখনও নিঃশেষ হবে না।
৫৫

ہٰذَا ؕ  وَاِنَّ لِلطّٰغِیۡنَ لَشَرَّ مَاٰبٍ ۙ ٥٥

হা-যা- ওয়া ইন্না লিত্তা-গীনা লাশাররা মাআ-ব।

একদিকে তো এই। (অন্যদিকে) যারা অবাধ্য নিশ্চয়ই তাদের জন্য আছে নিকৃষ্ট ঠিকানা।
৫৬

جَہَنَّمَ ۚ یَصۡلَوۡنَہَا ۚ فَبِئۡسَ الۡمِہَادُ ٥٦

জাহান্নামা ইয়াসলাওনাহা- ফাবি’ছাল মিহা-দ।

অর্থাৎ জাহান্নাম, যাতে তারা প্রবেশ করবে। অতঃপর তা হবে তাদের নিকৃষ্ট বিছানা।
৫৭

ہٰذَا ۙ  فَلۡیَذُوۡقُوۡہُ حَمِیۡمٌ وَّغَسَّاقٌ ۙ ٥٧

হা-যা- ফাল ইয়াযূকূহু হামীমুওঁগাছছা-ক।

এই হচ্ছে গরম পানি ও পুঁজ! সুতরাং তারা এর স্বাদ গ্রহণ করুক।
৫৮

وَّاٰخَرُ مِنۡ شَکۡلِہٖۤ اَزۡوَاجٌ ؕ ٥٨

ওয়া আ-খারু মিন শাকলিহী আঝওয়া-জ।

আরও আছে অনুরূপ বিভিন্ন রকমের শাস্তির ব্যবস্থা।
৫৯

ہٰذَا فَوۡجٌ مُّقۡتَحِمٌ مَّعَکُمۡ ۚ لَا مَرۡحَبًۢا بِہِمۡ ؕ اِنَّہُمۡ صَالُوا النَّارِ ٥٩

হা-যা-ফাওজুম মুকতাহিমুম মা‘আকুম লা-মারহাবাম বিহিম ইন্নাহুম সা-লুন্নার।

(যখন তারা তাদের অনুগামীদেরকে আসতে দেখবে, তখন তারা একে অপরকে বলবে,) এই আরেকটি দল, যারা তোমাদের সঙ্গে প্রবেশ করেছে। তাদের জন্য অভিনন্দন নেই। এরা সকলেই আগুনে জ্বলবে।
৬০

قَالُوۡا بَلۡ اَنۡتُمۡ ۟ لَا مَرۡحَبًۢا بِکُمۡ ؕ اَنۡتُمۡ قَدَّمۡتُمُوۡہُ لَنَا ۚ فَبِئۡسَ الۡقَرَارُ ٦۰

কা-লূবাল আনতুম লা-মার হাবম বিকুম আনতুম কাদ্দামতুমূহু লানা- ফাবি’ছাল কারা-র।

তারা (আগমনকারীরা) বলবে, না, বরং অভিনন্দন নেই তোমাদের জন্য। তোমরাই তো আমাদের সম্মুখে এ মুসিবত নিয়ে এসেছ। কত নিকৃষ্ট থাকার জায়গা এটি।
৬১

قَالُوۡا رَبَّنَا مَنۡ قَدَّمَ لَنَا ہٰذَا فَزِدۡہُ عَذَابًا ضِعۡفًا فِی النَّارِ ٦١

কা-লূরাব্বানা-মান কাদ্দামা লানা-হা-যা-ফাঝিদহু ‘আযা-বান দি‘ফান ফিন্না-র।

(তারপর তারা আল্লাহ তাআলাকে বলবে,) হে আমাদের প্রতিপালক! যে ব্যক্তিই আমাদের সামনে এ মুসিবত এনেছে তাকে জাহান্নামে দ্বিগুণ শাস্তি দিন।
৬২

وَقَالُوۡا مَا لَنَا لَا نَرٰی رِجَالًا کُنَّا نَعُدُّہُمۡ مِّنَ الۡاَشۡرَارِ ؕ ٦٢

ওয়া কা-লূমা-লানা-লা-নারা-রিজা-লান কুন্না-না‘উদ্দুহুম মিনাল আশরা-র।

এবং তারা (একে অপরকে) বলবে, কী ব্যাপার! আমরা যাদেরকে মন্দ লোকদের মধ্যে গণ্য করতাম, সেই লোকগুলোকে যে (জাহান্নামে) দেখতে পাচ্ছি না? ২৮

তাফসীরঃ

২৮. এর দ্বারা মুমিনদেরকে বোঝানো হয়েছে। কাফেরগণ দুনিয়ায় তাদেরকে নিকৃষ্ট মনে করত এবং তাদেরকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত। তারা তাদেরকে জাহান্নামে না দেখে এসব কথা বলবে।
৬৩

اَتَّخَذۡنٰہُمۡ سِخۡرِیًّا اَمۡ زَاغَتۡ عَنۡہُمُ الۡاَبۡصَارُ ٦٣

আত্তাখাযনা-হুম ছিখরিইয়ান আম ঝা-গাত ‘আনহুম আবসা-র।

আমরা কি তবে তাদেরকে (অন্যায়ভাবে) ঠাট্টা-বিদ্রূপের পাত্র বানিয়েছিলাম, নাকি তাদেরকে দেখার ব্যাপারে আমাদের চোখের বিচ্যুতি ঘটেছে?
৬৪

اِنَّ ذٰلِکَ لَحَقٌّ تَخَاصُمُ اَہۡلِ النَّارِ ٪ ٦٤

ইন্না যা-লিকা লাহাক্কুন তাখা-সুমুআহলিন্না-র।

জাহান্নামবাসীদের এই বাক-বিতণ্ডা। এটা নির্ঘাত সত্য।
৬৫

قُلۡ اِنَّمَاۤ اَنَا مُنۡذِرٌ ٭ۖ  وَّمَا مِنۡ اِلٰہٍ اِلَّا اللّٰہُ الۡوَاحِدُ الۡقَہَّارُ ۚ ٦٥

কুল ইন্নামাআনা-মুনযিরুওঁ ওয়া মা-মিন ইলা-হিন ইল্লাল্লা-হুল ওয়া-হিদুল কাহহার।

(হে রাসূল!) বলে দাও, আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র। আল্লাহ ছাড়া কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নয়, যিনি এক, সকলের উপর প্রবল।
৬৬

رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا الۡعَزِیۡزُ الۡغَفَّارُ ٦٦

রাব্বুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়ামা-বাইনাহুমাল ‘আঝীঝুল গাফফা-র।

যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর মালিক, যার ক্ষমতা সবকিছু জুড়ে ব্যাপ্ত, যিনি অতি ক্ষমাশীল।
৬৭

قُلۡ ہُوَ نَبَؤٌا عَظِیۡمٌ ۙ ٦٧

কুল হুওয়া নাবাউন ‘আজীম।

বলে দাও, এটা এক মহা (সত্যের) সংবাদ।
৬৮

اَنۡتُمۡ عَنۡہُ مُعۡرِضُوۡنَ ٦٨

আনতুম ‘আনহু মু‘রিদূন।

যা থেকে তোমরা মুখ ফিরিয়ে রেখেছ। ২৯

তাফসীরঃ

২৯. নবীদের ঘটনাবলী ও কিয়ামতের অবস্থাদি বর্ণনার পর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হচ্ছে, কাফেরদেরকে বলুন, তোমরা এসব ঘটনার মধ্যে চিন্তা করলে এর ভেতর আমার নবুওয়াতের প্রমাণ পাবে। কেননা আমার কাছে এসব বিষয়ে জ্ঞান লাভের আর কোন মাধ্যম নেই। আমি যা কিছু বলছি নিঃসন্দেহে তা ওহীর মাধ্যমেই জানতে পেরেছি। কিন্তু তোমরা তো ওহী দ্বারা প্রাপ্ত এ উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখছ।
৬৯

مَا کَانَ لِیَ مِنۡ عِلۡمٍۭ بِالۡمَلَاِ الۡاَعۡلٰۤی اِذۡ یَخۡتَصِمُوۡنَ ٦٩

মা-কা-না লিয়া মিন ‘ইলমিম বিল মালাইল আ‘লা ইযইয়াখতাসিমূন।

ঊর্ধ্বজগতে তারা (অর্থাৎ ফেরেশতাগণ) যখন সওয়াল-জওয়াব করছিল, সে সম্পর্কে আমার কোন জ্ঞান ছিল না, ৩০

তাফসীরঃ

৩০. এর দ্বারা ইশারা ফেরেশতাদের সেই কথাবার্তার প্রতি, যা হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টির সময় তারা বলেছিলেন। তা বিস্তারিত সূরা বাকারায় (২ : ৩১) বর্ণিত হয়েছে। সামনেও কিছুটা আসবে।
৭০

اِنۡ یُّوۡحٰۤی اِلَیَّ اِلَّاۤ اَنَّمَاۤ اَنَا نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ ٧۰

ইয়ঁইঊহাইলাইয়া ইল্লাআন্নামাআনা নাযীরুম মুবীন।

আমার কাছে ওহী আসে কেবল এজন্য যে, আমি একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
৭১

اِذۡ قَالَ رَبُّکَ لِلۡمَلٰٓئِکَۃِ اِنِّیۡ خَالِقٌۢ بَشَرًا مِّنۡ طِیۡنٍ ٧١

ইযকা-লা রাব্বুকা লিল মালাইকাতি ইন্নী খা-লিকুম বাশারাম মিন তীন।

স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদেরকে বললেন, আমি কাদা দ্বারা এক মানুষ সৃষ্টি করতে চাই।
৭২

فَاِذَا سَوَّیۡتُہٗ وَنَفَخۡتُ فِیۡہِ مِنۡ رُّوۡحِیۡ فَقَعُوۡا لَہٗ سٰجِدِیۡنَ ٧٢

ফাইযা-ছাওওয়াইতুহূওয়া নাফাখতুফীহি মিররূহী ফাকা‘ঊ লাহূছা-জিদীন।

আমি যখন তাকে সম্পূর্ণরূপে তৈরি করে ফেলব এবং তার ভেতর আমার রূহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার সামনে সিজদায় পড়ে যেও।
৭৩

فَسَجَدَ الۡمَلٰٓئِکَۃُ کُلُّہُمۡ اَجۡمَعُوۡنَ ۙ ٧٣

ফাছাজাদাল মালাইকাতুকুল্লুহুম আজমা‘ঊন।

অতঃপর সমস্ত ফেরেশতাই তো সিজদা করল
৭৪

اِلَّاۤ اِبۡلِیۡسَ ؕ اِسۡتَکۡبَرَ وَکَانَ مِنَ الۡکٰفِرِیۡنَ ٧٤

ইল্লাইবলীছ ইছতাকবারা ওয়া কা-না মিনাল কা-ফিরীন।

কিন্তু ইবলীস করল না। সে অহংকার করল এবং কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।
৭৫

قَالَ یٰۤاِبۡلِیۡسُ مَا مَنَعَکَ اَنۡ تَسۡجُدَ لِمَا خَلَقۡتُ بِیَدَیَّ ؕ اَسۡتَکۡبَرۡتَ اَمۡ کُنۡتَ مِنَ الۡعَالِیۡنَ ٧٥

কা-লা ইয়াইবলীছুমা-মানা‘আকা আন তাছজু দা লিমা-খালাকতুবিয়াদাইইয়া আছতাকবারতা আম কুনতা মিনাল ‘আ-লীন।

আল্লাহ বললেন, হে ইবলিস! আমি যাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছি, তাকে সিজদা করতে কোন জিনিস তোমাকে বাধা দিল? তুমি কি অহংকার করলে, নাকি তুমি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন কিছু?
৭৬

قَالَ اَنَا خَیۡرٌ مِّنۡہُ ؕ خَلَقۡتَنِیۡ مِنۡ نَّارٍ وَّخَلَقۡتَہٗ مِنۡ طِیۡنٍ ٧٦

কা-লা আনা খাইরুম মিনহু খালাকতানী মিন না-রিওঁ ওয়া খালাকতাহূমিন তীন।

সে বলল, আমি তার (অর্থাৎ আদম) চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন আর তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদা দ্বারা।
৭৭

قَالَ فَاخۡرُجۡ مِنۡہَا فَاِنَّکَ رَجِیۡمٌ ۚۖ ٧٧

কা-লা ফাখরুজ মিনহা-ফাইন্নাকা রাজীম।

আল্লাহ বললেন, তুই এখান থেকে বের হয়ে যা। কেননা তুই বিতাড়িত।
৭৮

وَّاِنَّ عَلَیۡکَ لَعۡنَتِیۡۤ اِلٰی یَوۡمِ الدِّیۡنِ ٧٨

ওয়া ইন্না ‘আলাইকা লা‘নাতী ইলা- ইয়াওমিদ্দীন।

নিশ্চিতভাবে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তোর প্রতি থাকল আমার লানত।
৭৯

قَالَ رَبِّ فَاَنۡظِرۡنِیۡۤ اِلٰی یَوۡمِ یُبۡعَثُوۡنَ ٧٩

কা-লা রাব্বি ফাআনজিরনীইলা-ইয়াওমি ইউব‘আছূন।

সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! তাহলে আপনি আমাকে সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দিন, যে দিন মানুষকে পুনর্জীবিত করা হবে।
৮০

قَالَ فَاِنَّکَ مِنَ الۡمُنۡظَرِیۡنَ ۙ ٨۰

কা-লা ফাইন্নাকা মিনাল মুনজারীন।

আল্লাহ বললেন, তথাস্তু, তোকে অবকাশ প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া হল।
৮১

اِلٰی یَوۡمِ الۡوَقۡتِ الۡمَعۡلُوۡمِ ٨١

ইলা-ইয়াওমিল ওয়াকতিল মা‘লূম।

(কিন্তু) নির্দিষ্ট একটা সময় পর্যন্ত। ৩১

তাফসীরঃ

৩১. এ ঘটনার পূর্ণ বিবরণ সূরা বাকারায় গত হয়েছে (দেখুন ২ : ৩১-৩৬)। শয়তান যে অবকাশ চেয়েছিল সেটা ছিল হাশর দিবস পর্যন্ত, কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাকে সে প্রতিশ্রুতি দেননি; বরং বলে দিয়েছেন ‘তোকে একটা নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত অবকাশ দেওয়া যাচ্ছে’। নির্দিষ্ট সে সময় হল শিঙ্গার প্রথম ফুঁৎকার পর্যন্ত। সে ফুঁৎকারে যখন সমস্ত সৃষ্টি মারা যাবে, তখন শয়তানেরও মৃত্যু ঘটবে, যেমন সূরা হিজর (১৫ : ৩৮)-এ বলা হয়েছে।
৮২

قَالَ فَبِعِزَّتِکَ لَاُغۡوِیَنَّہُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ۙ ٨٢

কা-লা ফাবি ‘ইঝঝাতিকা লাউগবিয়ান্নাহুম আজমা‘ঈন।

সে বলল, তবে আপনার ক্ষমতার শপথ! আমি তাদের সকলকে বিপথগামী করে ছাড়ব।
৮৩

اِلَّا عِبَادَکَ مِنۡہُمُ الۡمُخۡلَصِیۡنَ ٨٣

ইল্লা-‘ইবা-দাকা মিনহুমুল মুখলাসীন।

তবে তাদের মধ্যকার আপনার মনোনীত বান্দাদের ছাড়া।
৮৪

قَالَ فَالۡحَقُّ ۫  وَالۡحَقَّ اَقُوۡلُ ۚ ٨٤

কা-লা ফালহাক্কু ওয়াল হাক্কা আকূল।

আল্লাহ বললেন, তবে সত্য কথা হল আর আমি তো সত্যই বলে থাকি
৮৫

لَاَمۡلَـَٔنَّ جَہَنَّمَ مِنۡکَ وَمِمَّنۡ تَبِعَکَ مِنۡہُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ٨٥

লাআমলাআন্না জাহান্নামা মিনকা ওয়া মিম্মান তাবি‘আকা মিনহুম আজমা‘ঈন।

আমি তোকে দ্বারা আর তাদের মধ্যে যারা তোর অনুগামী হবে তাদের সকলের দ্বারা জাহান্নাম ভরে ফেলব।
৮৬

قُلۡ مَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡہِ مِنۡ اَجۡرٍ وَّمَاۤ اَنَا مِنَ الۡمُتَکَلِّفِیۡنَ ٨٦

কুল মাআছআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিওঁ ওয়ামাআনা মিনাল মুতাকালিলফীন।

(হে রাসূল! মানুষকে) বল, আমি এর (ইসলামের দাওয়াতের) কারণে তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না এবং আমি ভনিতাকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই।
৮৭

اِنۡ ہُوَ اِلَّا ذِکۡرٌ لِّلۡعٰلَمِیۡنَ ٨٧

ইন হুওয়া ইল্লা-যিকরুলিলল ‘আ-লামীন।

এটা তো জগদ্বাসীদের জন্য এক উপদেশ মাত্র।
৮৮

وَلَتَعۡلَمُنَّ نَبَاَہٗ بَعۡدَ حِیۡنٍ ٪ ٨٨

ওয়ালা তা‘লামুন্না নাবাআহূবা‘দা হীন।

এবং কিছুকাল পরেই তোমরা এর সংবাদ জানতে পারবে। ৩২

তাফসীরঃ

৩২. অর্থাৎ হে মানুষ! মৃত্যুর পর তোমরা চাক্ষুস দেখে জানতে পারবে নবী-রাসূলের মাধ্যমে তোমাদেরকে যে সংবাদ ও উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তা কতটা সত্য। এটা একটা ধমকি ও সতর্কবাণী। -অনুবাদক