সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা ইয়াসীন (يس) | ইয়াসীন

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৮৩

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

یٰسٓ ۚ ١

ইয়া-ছীন।

ইয়া-সীন।

وَالۡقُرۡاٰنِ الۡحَکِیۡمِ ۙ ٢

ওয়াল কুরআ-নিল হাকীম।

হেকমতপূর্ণ কুরআনের শপথ!

اِنَّکَ لَمِنَ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۙ ٣

ইন্নাকা লামিনাল মুরছালীন।

নিশ্চয়ই তুমি রাসূলগণের একজন।

عَلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ؕ ٤

‘আলা-সিরাতিম মুছতাকীম।

সরল পথে প্রতিষ্ঠিত।

تَنۡزِیۡلَ الۡعَزِیۡزِ الرَّحِیۡمِ ۙ ٥

তানঝীলাল ‘আঝীঝির রাহীম।

এ কুরআন অবতীর্ণ করা হচ্ছে সেই সত্তার পক্ষ হতে, যিনি পরাক্রমশালী, পরম দয়াময়

لِتُنۡذِرَ قَوۡمًا مَّاۤ اُنۡذِرَ اٰبَآؤُہُمۡ فَہُمۡ غٰفِلُوۡنَ ٦

লিতুনযিরা কাওমাম্মাউনযিরা আ-বাউহুম ফাহুম গা-ফিলূন।

যাতে তুমি সতর্ক কর এমন এক সম্প্রদায়কে, যাদের বাপ-দাদাদেরকে পূর্বে সতর্ক করা হয়নি। ফলে তারা উদাসীনতায় নিপতিত।

তাফসীরঃ

১. অর্থাৎ মক্কা মুকাররমা ও তার আশপাশে বহু কাল থেকে কোন নবী-রাসূলের আগমন হয়নি।

لَقَدۡ حَقَّ الۡقَوۡلُ عَلٰۤی اَکۡثَرِہِمۡ فَہُمۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ٧

লাকাদ হাক্কাল কাওলু‘আলাআকছারিহিম ফাহুম লা-ইউ’মিনূন।

বস্তুত তাদের অধিকাংশের ব্যাপারে কথা পূর্ণ হয়ে আছে। সুতরাং তারা ঈমান আনবে না।

তাফসীরঃ

২. অর্থাৎ তাদের সম্পর্কে তাকদীরে লেখা আছে, তারা ঈমান আনবে না। তাকদীরের সে কথাই পূর্ণ হচ্ছে যে, তারা ঈমান আনছে না। প্রকাশ থাকে যে, তাকদীরে লিপিবদ্ধ থাকার কারণে তারা কুফর করতে বাধ্য হয়ে গেছে একথা ঠিক না। কেননা তাকদীরে লেখা আছে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ঈমান আনার সুযোগ দেবেন এবং এখতিয়ারও দেবেন, কিন্তু তারা নিজেদের এখতিয়ারক্রমে ও আপন ইচ্ছায় জিদ ধরে বসে থাকবে। ফলে ঈমান আনবে না।

اِنَّا جَعَلۡنَا فِیۡۤ اَعۡنَاقِہِمۡ اَغۡلٰلًا فَہِیَ اِلَی الۡاَذۡقَانِ فَہُمۡ مُّقۡمَحُوۡنَ ٨

ইন্না- জা‘আলনা-ফী আ‘না-কিহিম আগলা-লান ফাহিয়া ইলাল আযকা-নি ফাহুম মুকমাহূন।

আমি তাদের গলায় চিবুক পর্যন্ত বেড়ি পরিয়েছি। ফলে তারা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে আছে।

তাফসীরঃ

৩. এ বক্তব্যটি প্রতীকী। এর দ্বারা তাদের জিদ ও হঠকারিতা যে কী পরিমাণ সেটাই বোঝানো হয়েছে। এর ব্যাখ্যা এই যে, সত্য সুস্পষ্ট হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও তারা এমন জিদ ধরে বসে আছে যে, নিজেদেরকে সত্য দেখা থেকে বঞ্চিত রাখার সকল ব্যবস্থা করে রেখেছে, যেন তাদের গলায় বেড়ি পরানো আছে, ফলে মাথা উপরমুখো হয়ে আছে আর তাদের চারদিক প্রাচীর বেষ্টিত, যদ্দরুণ তারা কোন কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। (তাদের সে বেড়ি ও অন্তরাল হল সামাজিক রসম-রেওয়াজ, প্রজন্ম-পরম্পরায় চলে আসা সংস্কার, অর্থ ও প্রতিপত্তির মোহ, বাপদাদার অন্ধ অনুকরণ, অজ্ঞতাপ্রসূত জাত্যাভিমান ও অহঙ্কার অহমিকা ইত্যাদি। এসব তাদেরকে এমনভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছিল যে, মুক্তমনে কোন কিছু চিন্তা-ভাবনা করা ও সত্যগ্রহণের তাগিদে কোন দিকে ফিরে তাকানোর অবকাশ তাদের ছিল না। -অনুবাদক)

وَجَعَلۡنَا مِنۡۢ بَیۡنِ اَیۡدِیۡہِمۡ سَدًّا وَّمِنۡ خَلۡفِہِمۡ سَدًّا فَاَغۡشَیۡنٰہُمۡ فَہُمۡ لَا یُبۡصِرُوۡنَ ٩

ওয়া জা‘আল না-মিম বাইনি আইদীহিম ছাদ্দাওঁ ওয়া মিন খালফিহিম ছাদ্দান ফাআগশাইনা-হুম ফাহুম লা-ইউবসিরূন।

এবং আমি তাদের সামনে এক অন্তরাল দাঁড় করিয়ে দিয়েছি এবং পিছনেও এক অন্তরাল দাঁড় করিয়ে দিয়েছি আর এভাবে তাদেরকে সব দিক থেকে ঢেকে দিয়েছি, ফলে তারা কোন কিছু দেখতে পায় না।
১০

وَسَوَآءٌ عَلَیۡہِمۡ ءَاَنۡذَرۡتَہُمۡ اَمۡ لَمۡ تُنۡذِرۡہُمۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ١۰

ওয়া ছাওয়াউন ‘আলাইহিম আ আনযারতাহুম আম লাম তুনযিরহুম লা-ইউ’মিনূন।

তুমি তাদেরকে সতর্ক কর অথবা সতর্ক নাই কর উভয়টাই তাদের জন্য সমান। তারা ঈমান আনবে না।
১১

اِنَّمَا تُنۡذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّکۡرَ وَخَشِیَ الرَّحۡمٰنَ بِالۡغَیۡبِ ۚ فَبَشِّرۡہُ بِمَغۡفِرَۃٍ وَّاَجۡرٍ کَرِیۡمٍ ١١

ইন্নামা-তুনযিরু মানিত্তাবা‘আযযিকরা ওয়া খাশিয়াররাহমা-না বিলগাইবি ফাবাশশিরহু বিমাগফিরাতিওঁ ওয়া আজরিন কারীম।

তুমি তো কেবল এমন ব্যক্তিকেই সতর্ক করতে পার, যে উপদেশ অনুযায়ী চলে এবং দয়াময় আল্লাহকে না দেখে ভয় করে। সুতরাং এরূপ ব্যক্তিকে সুসংবাদ শোনাও মাগফিরাত ও সম্মানজনক পুরস্কারের।
১২

اِنَّا نَحۡنُ نُحۡیِ الۡمَوۡتٰی وَنَکۡتُبُ مَا قَدَّمُوۡا وَاٰثَارَہُمۡ ؕؑ  وَکُلَّ شَیۡءٍ اَحۡصَیۡنٰہُ فِیۡۤ اِمَامٍ مُّبِیۡنٍ ٪ ١٢

ইন্না-নাহনুনুহয়িল মাওতা-ওয়া নাকতুবুমা-কাদ্দামূওয়া আ-ছা-রাহুম ওয়া কুল্লা শাইয়িন আহসাইনা-হু ফীইমা-মিম মুবীন।

নিশ্চয়ই আমিই মৃতদেরকে জীবিত করব এবং তারা যা কিছু সামনে পাঠায় তা লিখে রাখি আর তাদের কর্মের যে ফলাফল হয় তাও। এক সুস্পষ্ট কিতাবে প্রতিটি বিষয় সংরক্ষণ করে রেখেছি।

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ তাদের সমস্ত দুষ্কর্মও লিখে রাখা হচ্ছে এবং সেসব দুষ্কর্মের যে কুফল তাদের মৃত্যুর পর বাকি থেকে যায় তাও।
১৩

وَاضۡرِبۡ لَہُمۡ مَّثَلًا اَصۡحٰبَ الۡقَرۡیَۃِ ۘ  اِذۡ جَآءَہَا الۡمُرۡسَلُوۡنَ ۚ ١٣

ওয়াদরিব লাহুম মাছালান আসহা-বাল কারইয়াহ । ইযজাআহাল মুরছালূন।

এবং (হে রাসূল!) তুমি তাদের সামনে দৃষ্টান্ত পেশ কর এক জনপদবাসীর, যখন তাদের কাছে এসেছিল রাসূলগণ।

তাফসীরঃ

৫. কুরআন মাজীদে না এ জনপদটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে আর না সেই রাসূলগণের নাম, যারা এ জনপদে প্রেরিত হয়েছিলেন। কোন কোন বর্ণনায় বলা হয়েছে এ জনপদটি হল শামের প্রসিদ্ধ শহর ‘আনতাকিয়া’। কিন্তু সেসব বর্ণনা তেমন শক্তিশালী নয় এবং ঐতিহাসিকভাবেও তা সমর্থিত নয়। অন্যদিকে আরবী ভাষায় রাসূল (প্রেরিত) শব্দটি দ্বারা এমন যে-কোন লোককে বোঝানো হয়, যে কারও বার্তা নিয়ে অন্য কারও কাছে যায়। কিন্তু কুরআন মাজীদে এ শব্দটি সাধারণত আল্লাহ তাআলার প্রেরিত নবী-রাসূলগণের জন্যই ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং এটাই বেশি প্রকাশ যে, এস্থলে যে তিনজনের কথা বলা হয়েছে তারা নবী ছিলেন। কোন কোন রেওয়ায়াতে তাদের নাম বলা হয়েছে ‘সাদিক’, সাদূক ও শালূম বা শামউন। কিন্তু এসব রেওয়ায়াতও তেমন শক্তিশালী নয়। কোন কোন মুফাসসিরের ধারণা তাঁরা নবী ছিলেন না; বরং তাঁরা ছিলেন হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের শিষ্য। হযরত ঈসা আলাইহিস সালামই তাঁদেরকে ওই জনপদে তাবলীগের জন্য পাঠিয়েছিলেন। তাঁদের মতে اَلْمُرْسَلُوْنَ শব্দটি আভিধানিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু এখানে তাঁদেরকে প্রেরণের কাজটিকে যেহেতু আল্লাহ তাআলা নিজের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। তাই এটাই বেশি স্পষ্ট মনে হয় যে, তাঁরা নবীই ছিলেন। প্রথমে দু’জন নবী পাঠানো হয়েছিল, তারপর তৃতীয় আরেকজনকে। যাই হোক, এস্থলে কুরআন মাজীদ যে সবক দিতে চাচ্ছে তা সে জনপদটির নাম জানা এবং প্রেরিত ব্যক্তিবর্গের পরিচয় লাভের উপর নির্ভরশীল নয়। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তাদের নাম জানাননি। আমাদেরও এর অনুসন্ধানের পেছনে পড়ার কোন দরকার নেই।
১৪

اِذۡ اَرۡسَلۡنَاۤ اِلَیۡہِمُ اثۡنَیۡنِ فَکَذَّبُوۡہُمَا فَعَزَّزۡنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوۡۤا اِنَّاۤ اِلَیۡکُمۡ مُّرۡسَلُوۡنَ ١٤

ইয আরছালনা ইলাইলিমুছনাইনি ফাকাযযাবূহুমা-ফা‘আঝঝাঝনা-বিছা-লিছিন ফাকালূইন্নাইলাউকুম মুরছালূন।

যখন আমি তাদের কাছে (প্রথমে) পাঠিয়েছিলাম দু’জন রাসূল, তখন তারা তাদেরকে মিথ্যাবাদী বলল। তারপর তৃতীয়জনের মাধ্যমে আমি তাদেরকে শক্তিশালী করেছিলাম। তারপর তারা সকলে বলল, নিশ্চয়ই আমাদেরকে তোমাদের কাছে রাসূল বানিয়ে পাঠানো হয়েছে।
১৫

قَالُوۡا مَاۤ اَنۡتُمۡ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُنَا ۙ وَمَاۤ اَنۡزَلَ الرَّحۡمٰنُ مِنۡ شَیۡءٍ ۙ اِنۡ اَنۡتُمۡ اِلَّا تَکۡذِبُوۡنَ ١٥

কা-লূমাআনতুম ইল্লা-বাশারুম মিছলুনা- ওয়ামাআনঝালাররাহমা-নুমিনশাইয়িন ইন আনতুম ইল্লা-তাকযিবূন।

তারা বলল, তোমরা তো আমাদের মত মানুষই। দয়াময় আল্লাহ কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা সম্পূর্ণ মিথ্যাই বলছ।
১৬

قَالُوۡا رَبُّنَا یَعۡلَمُ اِنَّاۤ اِلَیۡکُمۡ لَمُرۡسَلُوۡنَ ١٦

কা-লূরাব্বুনা-ইয়া‘লামুইন্না-ইলাইকুম লামুরছালূন।

রাসূলগণ বলল, আমাদের প্রতিপালক ভালোভাবেই জানেন যে, আমাদেরকে বাস্তবিকই তোমাদের কাছে রাসূল বানিয়ে পাঠানো হয়েছে।
১৭

وَمَا عَلَیۡنَاۤ اِلَّا الۡبَلٰغُ الۡمُبِیۡنُ ١٧

ওয়ামা-‘আলাইনাইল্লাল বালা-গুল মুবীন।

আর আমাদের দায়িত্ব তো কেবল স্পষ্টভাবে বার্তা পৌঁছিয়ে দেওয়া।
১৮

قَالُوۡۤا اِنَّا تَطَیَّرۡنَا بِکُمۡ ۚ لَئِنۡ لَّمۡ تَنۡتَہُوۡا لَنَرۡجُمَنَّکُمۡ وَلَیَمَسَّنَّکُمۡ مِّنَّا عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ١٨

কা-লূইন্না-তাতাইয়ারনা বিকুম লাইল্লাম তানতাহূলানারজুমান্নাকুম ওয়ালাইয়ামাছছান্নাকুম মিন্না-‘আযা-বুন আলীম।

জনপদবাসী বলল, আমরা তোমাদের মধ্যে অশুভতা লক্ষ করছি। তোমরা নিবৃত্ত না হলে আমরা অবশ্যই তোমাদের উপর পাথর নিক্ষেপ করব এবং অবশ্যই আমাদের হাতে তোমাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তি ভোগ করতে হবে।

তাফসীরঃ

৬. কোন কোন বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, রাসূলগণ যখন সে জনপদে এসে সত্য দীনের দাওয়াত দিতে শুরু করলেন, তখন জনপদবাসী প্রচণ্ডভাবে তাদের বিরোধিতা করল। তাই সতর্ক করার জন্য আল্লাহ তাআলা তাদেরকে খরায় আক্রান্ত করলেন। কিন্তু তারা এটাকে শাস্তি গণ্য না করে উল্টো রাসূলগণকে দোষারোপ করল এবং বলল, তারা অশুভ বলেই খরা দেখা দিয়েছে। এমনও হতে পারে, তাদের দাওয়াতের ফলে যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছিল সেটাকেই তারা তাদের অশুভতা সাব্যস্ত করেছে।
১৯

قَالُوۡا طَآئِرُکُمۡ مَّعَکُمۡ ؕ اَئِنۡ ذُکِّرۡتُمۡ ؕ بَلۡ اَنۡتُمۡ قَوۡمٌ مُّسۡرِفُوۡنَ ١٩

কা-লূতাইরুকুম মা‘আকুম আইন যুক্কিরতুম বাল আনতুম কাওমুম মুছরিফূন।

রাসূলগণ বলল, তোমাদের অশুভতা খোদ তোমাদেরই সঙ্গে রয়েছে। তোমাদের কাছে উপদেশ-বাণী পৌঁছেছে বলেই কি (তোমরা একথা বলছ?) প্রকৃতপক্ষে তোমরা এক সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।

তাফসীরঃ

৭. অর্থাৎ তোমাদের অশুভতার মূল কারণ তো কুফর ও শিরক, যাতে তোমরা লিপ্ত রয়েছ।
২০

وَجَآءَ مِنۡ اَقۡصَا الۡمَدِیۡنَۃِ رَجُلٌ یَّسۡعٰی قَالَ یٰقَوۡمِ اتَّبِعُوا الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۙ ٢۰

ওয়াজাআ মিন আকসাল মাদীনাতি রাজুলুইঁ ইয়াছ‘আ- কা-লা ইয়াকাওমিত্তাবি‘উল মুরছালীন।

শহরের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এক ব্যক্তি ছুটে আসল। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা রাসূলগণের অনুসরণ কর।

তাফসীরঃ

৮. বিভিন্ন বর্ণনা দ্বারা জানা যায় এই ব্যক্তির নাম ‘হাবীব নাজ্জার’। তিনি পেশায় ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। রাসূলগণের দাওয়াতে প্রথমেই তিনি ঈমান এনেছিলেন। নগরের এক প্রান্তে নিভৃতচারী হয়ে তিনি ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকতেন। তিনি খবর পেলেন তাঁর সম্প্রদায়ের লোক রাসূলগণের ডাকে সাড়া না দিয়ে বরং তাঁদেরকে নানাভাবে কষ্ট দিচ্ছে। খবর পেয়েই তিনি দ্রুত সেখান থেকে ছুটে আসলেন এবং সম্প্রদায়ের লোকদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন। তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে যে হৃদয়স্পর্শী ভাষণ দিয়েছিলেন সেটাই কুরআন মাজীদে এস্থলে উদ্ধৃত হয়েছে।
২১

اتَّبِعُوۡا مَنۡ لَّا یَسۡـَٔلُکُمۡ اَجۡرًا وَّہُمۡ مُّہۡتَدُوۡنَ ٢١

ইত্তাবি‘ঊ মাল্লা-ইয়াছআলুকুম আজরাওঁ ওয়া হুম মুহতাদূন।

অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চায় না এবং যারা সঠিক পথে আছে।
২২

وَمَا لِیَ لَاۤ اَعۡبُدُ الَّذِیۡ فَطَرَنِیۡ وَاِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ ٢٢

ওয়া মা-লিয়া লাআ‘বুদুল্লাযী ফাতারানী ওয়া ইলাইহি তুর জা‘উন।

আমার কী যুক্তি আছে যে, আমি সেই সত্তার ইবাদত করব না, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন? এবং তারই দিকে তোমাদের সকলকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
২৩

ءَاَتَّخِذُ مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اٰلِہَۃً اِنۡ یُّرِدۡنِ الرَّحۡمٰنُ بِضُرٍّ لَّا تُغۡنِ عَنِّیۡ شَفَاعَتُہُمۡ شَیۡئًا وَّلَا یُنۡقِذُوۡنِ ۚ ٢٣

আআত্তাখিযুমিন দুনিহীআ-লিহাতান ইয়ঁইউরিদনির রাহমা-নুবিদু ররিল লা-তুগনি ‘আন্নী শাফা-‘আতুহুম শাইআওঁ ওয়ালা-ইউনকিযূন।

আমি কি তাকে ছেড়ে এমন সব মাবুদ গ্রহণ করব, দয়াময় আল্লাহ আমার কোন অনিষ্ট করতে চাইলে যাদের সুপারিশ আমার কোন কাজে আসবে না এবং যারা আমাকে উদ্ধারও করতে পারবে না?
২৪

اِنِّیۡۤ اِذًا لَّفِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ ٢٤

ইন্নী ইযাল্লাফী দালা-লিম্মুবীন।

তা করলে নিঃসন্দেহে আমি সুস্পষ্ট গোমরাহীতে পতিত হব।
২৫

اِنِّیۡۤ اٰمَنۡتُ بِرَبِّکُمۡ فَاسۡمَعُوۡنِ ؕ ٢٥

ইন্নীআ-মানতুবিরাব্বিকুম ফাছমা‘ঊন।

আমি তোমাদের প্রতিপালকের উপর ঈমান এনেছি। সুতরাং তোমরা আমার কথা শোন।
২৬

قِیۡلَ ادۡخُلِ الۡجَنَّۃَ ؕ  قَالَ یٰلَیۡتَ قَوۡمِیۡ یَعۡلَمُوۡنَ ۙ ٢٦

কীলাদ খুলিল জান্নাতা কা-লা ইয়া-লাইতা কাওমী ইয়া‘লামূন।

(শেষ পর্যন্ত জনপদবাাসী তাকে হত্যা করে ফেলল এবং আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে তাকে) বলা হল, জান্নাতে প্রবেশ কর। ১০ সে (জান্নাতের নি‘আমত রাজি দেখে) বলল, আহা! আমার সম্প্রদায় যদি জানতে পারত

তাফসীরঃ

৯. কোন কোন বর্ণনায় আছে, নিষ্ঠুর সম্প্রদায়টি তাঁর আন্তরিকতাপূর্ণ উপদেশের জবাবে তাঁকে লাথি-ঘুষি ও পাথর মেরে-মেরে শহীদ করে ফেলল।
২৭

بِمَا غَفَرَ لِیۡ رَبِّیۡ وَجَعَلَنِیۡ مِنَ الۡمُکۡرَمِیۡنَ ٢٧

বিমা-গাফারালী রাববী ওয়া জা‘আলানী মিনাল মুকরামীন।

আল্লাহ কিভাবে আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিত লোকদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন!
২৮

وَمَاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلٰی قَوۡمِہٖ مِنۡۢ بَعۡدِہٖ مِنۡ جُنۡدٍ مِّنَ السَّمَآءِ وَمَا کُنَّا مُنۡزِلِیۡنَ ٢٨

ওয়ামাআনঝালনা-‘আলা-কাওমিহী মিম বা‘দিহী মিন জুনদিম মিনাছ ছামাইওয়ামা-কুন্নামুনঝিলীন।

সেই ব্যক্তির পর আমি তার সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আসমান থেকে কোন বাহিনী পাঠাইনি এবং আমার তা পাঠানোর প্রয়োজনও ছিল না। ১১

তাফসীরঃ

১১. অর্থাৎ সেই জালেম ও নাফরমান সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার জন্য আমার আসমান থেকে ফেরেশতাদের কোন বাহিনী পাঠানোর দরকার ছিল না। ব্যস, মাত্র একজন ফেরেশতা একটি বিকট আওয়াজ করল এবং তাতেই সম্প্রদায়ের সমস্ত মানুষ কলজে ফেটে মারা গেল এবং সে জনপদটি এমন হয়ে গেল, যেন আগুন নিভে ছাইয়ের স্তূপ হয়ে গেছে। মহান আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।
২৯

اِنۡ کَانَتۡ اِلَّا صَیۡحَۃً وَّاحِدَۃً فَاِذَا ہُمۡ خٰمِدُوۡنَ ٢٩

ইন কা-নাত ইল্লা-সাইহাতাওঁ ওয়া-হিদাতান ফাইযা-হুম খা-মিদূন।

তা ছিল কেবল একটি মহানাদ, যাতে তারা সব নিভে নিথর হয়ে গেল।
৩০

یٰحَسۡرَۃً عَلَی الۡعِبَادِ ۚؑ مَا یَاۡتِیۡہِمۡ مِّنۡ رَّسُوۡلٍ اِلَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ٣۰

ইয়া-হাছরাতান ‘আলাল ‘ইবা-দি মা-ইয়া’তীহিম মির রাছূলিন ইল্লা-কা-নূবিহী ইয়াছতাহঝিউন।

আফসোস এসব বান্দার প্রতি! তাদের কাছে যে রাসূলই এসেছে তাকে নিয়ে তারা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করত।
৩১

اَلَمۡ یَرَوۡا کَمۡ اَہۡلَکۡنَا قَبۡلَہُمۡ مِّنَ الۡقُرُوۡنِ اَنَّہُمۡ اِلَیۡہِمۡ لَا یَرۡجِعُوۡنَ ؕ ٣١

আলাম ইয়ারাও কাম আহলাকনা- কাবলাহুম মিনাল কুরূনি আন্নাহুম ইলাইহিম লাইয়ারজি‘উন।

তারা কি দেখেনি তাদের পূর্বে আমি কত সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিয়েছি, যারা তাদের কাছে ফিরে আসছে না?
৩২

وَاِنۡ کُلٌّ لَّمَّا جَمِیۡعٌ لَّدَیۡنَا مُحۡضَرُوۡنَ ٪ ٣٢

ওয়া ইন কুল্লুল লাম্মা-জামী‘উল লাদাইনা-মুহদারূন।

এবং যত লোক আছে তাদের সকলকে অবশ্যই একত্র করে আমার সামনে হাজির করা হবে।
৩৩

وَاٰیَۃٌ لَّہُمُ الۡاَرۡضُ الۡمَیۡتَۃُ ۚۖ اَحۡیَیۡنٰہَا وَاَخۡرَجۡنَا مِنۡہَا حَبًّا فَمِنۡہُ یَاۡکُلُوۡنَ ٣٣

ওয়া আ-য়াতুল লাহুমুল আরদুল মাইতাতু আহইয়াইনা-হা-ওয়াআখরাজনা-মিনহাহাব্বান ফামিনহু ইয়া’কুলূন।

আর তাদের জন্য একটি নিদর্শন হল মৃত ভূমি, যাকে আমি জীবন দান করেছি এবং তাতে শস্য উৎপন্ন করেছি অতঃপর তারা তা থেকে খেয়ে থাকে।
৩৪

وَجَعَلۡنَا فِیۡہَا جَنّٰتٍ مِّنۡ نَّخِیۡلٍ وَّاَعۡنَابٍ وَّفَجَّرۡنَا فِیۡہَا مِنَ الۡعُیُوۡنِ ۙ ٣٤

ওয়া জা‘আল না-ফীহা-জান্না-তিম মিন নাখীলিওঁ ওয়া আ‘না-বিও ওয়া ফাজ্জারনা-ফীহামিনাল ‘উইঊন।

আমি সে ভূমিতে সৃষ্টি করেছি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান এবং তা থেকে উৎসারিত করেছি পানির প্রস্রবণ
৩৫

لِیَاۡکُلُوۡا مِنۡ ثَمَرِہٖ ۙ وَمَا عَمِلَتۡہُ اَیۡدِیۡہِمۡ ؕ اَفَلَا یَشۡکُرُوۡنَ ٣٥

লিইয়া’কুলূমিন ছামারিহী ওয়ামা-‘আমিলাতহু আইদীহিম আফালা-ইয়াশকুরূন।

যাতে তারা তার ফল খেতে পারে। তাতো তাদের হাত তৈরি করেনি। ১২ তবুও কি তারা শোকর আদায় করবে না?

তাফসীরঃ

১২. দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে এদিকে যে, মানুষ যখন ক্ষেত-খামার করে তখন তার সমস্ত দৌড়-ঝাপের সারাংশ তো কেবল এই যে, সে মাটি প্রস্তুত করে ও তাতে বীজ বপণ করে, কিন্তু সেই বীজকে পরিচর্যা করে তা থেকে মাটি ফাটিয়ে অঙ্কুর উদগত করা, তারপর তাকে পরিপুষ্ট করে বৃক্ষের রূপ দেওয়া, অবশেষে তাতে ফল-ফলাদি জন্মানো এসব তো মানুষের কাজ নয়। এটা কেবল আল্লাহ তাআলার রবূবিয়াত গুণেরই কারিশমা। গোটা উদ্ভিদ জগতে যা প্রতিনিয়ত ঘটে, সেই মহা গুণই তার প্রকৃত নিয়ামক।
৩৬

سُبۡحٰنَ الَّذِیۡ خَلَقَ الۡاَزۡوَاجَ کُلَّہَا مِمَّا تُنۡۢبِتُ الۡاَرۡضُ وَمِنۡ اَنۡفُسِہِمۡ وَمِمَّا لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٣٦

ছুবহা-নাল্লাযী খালাকাল আঝাওয়া-জা কুল্লাহা- মিম্মা-তুমবিতুলআরদুওয়া মিন আনফুছিহিম ওয়া মিম্মা-লা-ইয়া‘লামূন।

পবিত্র সেই সত্তা, যিনি প্রতিটি জিনিস জোড়া-জোড়া সৃষ্টি করেছেন ভূমি যা উৎপন্ন করে তাও এবং তাদের নিজেদেরকেও আর তারা (এখনও) যা জানে না তাও। ১৩

তাফসীরঃ

১৩. কুরআন মাজীদ বহু স্থানে এই সত্য প্রকাশ করেছে যে, আল্লাহ তাআলা প্রতিটি বস্তুকে জোড়ায়-জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। মানুষের জোড়া তো নর-নারী রূপে সেই শুরু থেকেই চলে আসছে, যা সকলেই বোঝে। কিন্তু কুরআন মাজীদ বলছে, স্ত্রী-পুরুষের ব্যাপারটা উদ্ভিদের মধ্যেও আছে। এ তত্ত্ব কিন্তু বিজ্ঞান জেনেছে বহু পরে। সামনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট ভাষায় জানাচ্ছেন যে, বহু জিনিস এমনও আছে, যার মধ্যে যুগল থাকার বিষয়টা এখনও পর্যন্ত তোমরা জানতে পারনি। সুতরাং আধুনিক বিজ্ঞান ক্রমান্বয়ে যেসব যুগল আবিষ্কার করে চলেছে, যেমন বিদ্যুতের ভেতর নেগেটিভ-পজেটিভ, এটমের ভেতর ইলেকট্রন-প্রোটন ইত্যাদি সবই কুরআন মাজীদের এই সাধারণ বয়ানের অন্তর্ভুক্ত।
৩৭

وَاٰیَۃٌ لَّہُمُ الَّیۡلُ ۚۖ  نَسۡلَخُ مِنۡہُ النَّہَارَ فَاِذَا ہُمۡ مُّظۡلِمُوۡنَ ۙ ٣٧

ওয়া আ-য়াতুল্লাহুমুল্লাইলু নাছলাখুমিনহুন্নাহা-রা ফাইযা-হুম মুজলিমূন।

তাদের জন্য আরেকটি নিদর্শন হল রাত, যা থেকে আমি দিনের আবরণ সরিয়ে নেই, অমনি তারা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ১৪

তাফসীরঃ

১৪. এখানে আল্লাহ তাআলা আরেকটি সত্য প্রকাশ করেছেন। তা এই যে, জগতে অন্ধকারই মূল অবস্থা। আল্লাহ তাআলা তা দূর করার জন্য সূর্যের আলো সৃষ্টি করেছেন। সূর্য যখন উদিত হয়, তখন সে জগতের অংশ-বিশেষের উপর আলোর একটি চাদর বিছিয়ে দেয়, ফলে জগতের সেই অংশ আলোকিত হয়ে ওঠে। অতঃপর যখন সূর্য অস্ত যায়, তখন আলোর সেই চাদর সরে যায়, অমনি আবার মূল অন্ধকার ফিরে আসে।
৩৮

وَالشَّمۡسُ تَجۡرِیۡ لِمُسۡتَقَرٍّ لَّہَا ؕ  ذٰلِکَ تَقۡدِیۡرُ الۡعَزِیۡزِ الۡعَلِیۡمِ ؕ ٣٨

ওয়াশশামছুতাজরী লিমুছতাকাররিল লাহা- যা-লিকা তাকদীরুল ‘আঝীঝিল ‘আলীম।

সূর্য আপন গন্তব্যের দিকে পরিভ্রমণ করছে। এসব পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ সত্তার স্থিরীকৃত (ব্যবস্থাপনা)।
৩৯

وَالۡقَمَرَ قَدَّرۡنٰہُ مَنَازِلَ حَتّٰی عَادَ کَالۡعُرۡجُوۡنِ الۡقَدِیۡمِ ٣٩

ওয়াল কামারা কাদ্দারনা-হু মানা-ঝিলা হাত্তা-‘আ-দাকাল ‘উরজুনিল কাদীম।

আর চাঁদের জন্য আমি নির্দিষ্ট করে দিয়েছি বিভিন্ন মনজিল। পরিশেষে তা (নিজ মনজিলসমূহ অতিক্রম করে) ফিরে আসে পুরানো খেজুর ডালার মত (সরু হয়ে)। ১৫

তাফসীরঃ

১৫. অর্থাৎ পূর্ণ মাসের পরিভ্রমণ শেষে এক-দু’ রাত তো চাঁদের দেখাই পাওয়া যায় না। তারপর যখন দ্বিতীয় ভ্রমণ শুরু করে তখন সেটা খেজুর ডালা পুরনো হলে যেমন সরু ও বাঁকা হয়ে যায় ঠিক সে রকমই সরু ও বাঁকা হয়ে যায়। [আয়াতের তরজমায় যদিও ‘উরজূন’ অর্থ করা হয়েছে ‘খেজুর ডালা’, কিন্তু এর প্রকৃত আভিধানিক অর্থ হল সেই ডাঁটা, যার সাথে খেজুরের কাঁদি ঝুলে থাকে। এ ডাঁটা শুকালে সরু হয়ে বাঁকিয়ে যায়। শেষ মনজিলের চাঁদকে তারই সাথে তুলনা করা হয়েছে। -অনুবাদক]
৪০

لَا الشَّمۡسُ یَنۡۢبَغِیۡ لَہَاۤ اَنۡ تُدۡرِکَ الۡقَمَرَ وَلَا الَّیۡلُ سَابِقُ النَّہَارِ ؕ وَکُلٌّ فِیۡ فَلَکٍ یَّسۡبَحُوۡنَ ٤۰

লাশশামছুইয়ামবাগী লাহাআন তুদরিকাল কামারা ওয়ালাল্লাইলুছা-বিকুন্নাহা-রি ওয়া কুল্লুন ফী ফালাকিইঁ ইয়াছবাহূন।

সূর্য পারে না ১৬ চাঁদকে গিয়ে ধরতে আর রাতও পারে না দিনকে অতিক্রম করতে। প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে সাঁতার কাটে।

তাফসীরঃ

১৬. এর এক অর্থ তো এই যে, চাঁদ ও সুরুজ উভয়টি আপন-আপন কক্ষপথে ছুটে চলছে। সূর্যের সাধ্য নেই যে, সে চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করবে। দ্বিতীয় অর্থ হল সূর্যের সাধ্য নেই রাতের বেলা যখন আকাশে চাঁদ জ্বলজ্বল করে তখন উদিত হয়ে রাতকে দিন বানিয়ে দেবে।
৪১

وَاٰیَۃٌ لَّہُمۡ اَنَّا حَمَلۡنَا ذُرِّیَّتَہُمۡ فِی الۡفُلۡکِ الۡمَشۡحُوۡنِ ۙ ٤١

ওয়া আ-য়াতুল লাহুম আন্না-হামালনা-যুররিইয়াতাহুম ফিল ফুলকিল মাশহূন।

তাদের জন্য আরেকটি নিদর্শন এই যে, আমি তাদের সন্তান-সন্ততিকে বোঝাই নৌযানে আরোহন করিয়েছিলাম। ১৭

তাফসীরঃ

১৭. সন্তানদের কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছে এ কারণে যে, সেকালে আরববাসী তাদের যুবক সন্তানদেরকে বাণিজ্য ব্যাপদেশে সামুদ্রিক ভ্রমণে পাঠাত।
৪২

وَخَلَقۡنَا لَہُمۡ مِّنۡ مِّثۡلِہٖ مَا یَرۡکَبُوۡنَ ٤٢

ওয়া খালাকনা-লাহুম মিম মিছলিহী মা ইয়ারকাবূন।

আমি তাদের জন্য অনুরূপ আরও জিনিস সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা সওয়ার হয়ে থাকে। ১৮

তাফসীরঃ

১৮. নৌযানের অনুরূপ সৃষ্টি বলতে কী বোঝানো হয়েছে? সাধারণত মুফাসসিরগণ এর ব্যাখ্যা করেছেন উটের দ্বারা। কেননা আরববাসী উটকে মরুভূমির জাহাজ বলে থাকে। কিন্তু কুরআন মাজীদের শব্দ সাধারণ। নৌকার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ যে-কোনও বস্তুই এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। বরং আরবী ব্যাকরণ অনুসারে আয়াতের তরজমা এভাবেও করা যেতে পারে, আমি তাদের জন্য এর মত অন্য জিনিসও সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা (ভবিষ্যতে) আরোহন করবে। এ হিসেবে কিয়ামত পর্যন্ত যত যানবাহন আবিষ্কৃত হবে সবই এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, যেমন বিভিন্ন রকমের আধুনিক জলযান। উড়োজাহাজও এক দিক থেকে পানির জাহাজ তুল্য। একটা সাতার কাটে পানিতে, অন্যটা বায়ুতে।
৪৩

وَاِنۡ نَّشَاۡ نُغۡرِقۡہُمۡ فَلَا صَرِیۡخَ لَہُمۡ وَلَا ہُمۡ یُنۡقَذُوۡنَ ۙ ٤٣

ওয়া ইন নাশা’ নুগরিকহুম ফালা-ছারীখা লাহুম ওয়ালা-হুম ইউনকাযূন।

আমি চাইলে তাদেরকে নিমজ্জিত করতে পারি, তখন তাদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না এবং তাদের প্রাণ রক্ষা সম্ভব হবে না
৪৪

اِلَّا رَحۡمَۃً مِّنَّا وَمَتَاعًا اِلٰی حِیۡنٍ ٤٤

ইল্লা-রাহমাতাম মিন্না -ওয়া মাতা-‘আন ইলা-হীন।

তবে আমার পক্ষ হতে এক রহমত এবং এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত (জীবনের) আনন্দ ভোগের সুযোগ হিসেবে (আমিই তাদেরকে রক্ষা করে থাকি)।
৪৫

وَاِذَا قِیۡلَ لَہُمُ اتَّقُوۡا مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡکُمۡ وَمَا خَلۡفَکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ ٤٥

ওয়া ইযা-কীলা লাহুমুত্তাকূ মা- বাইনা আইদীকুম ওয়ামা- খালফাকুম লা‘আল্লাকুম তুরহামূন।

যখন তাদেরকে বলা হয়, বাঁচ তা হতে (সেই শাস্তি হতে) যা তোমাদের সামনে আছে এবং যা আছে তোমাদের পেছনে, ১৯ যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয় (তখন তারা তা গ্রাহ্য করে না)।

তাফসীরঃ

১৯. এর বিভিন্ন ব্যাখ্যা হতে পারে (ক) ‘যা আছে তোমাদের সামনে’ অর্থাৎ মৃত্যুর আগে ইহজীবনে যে শাস্তি তোমাদেরকে দেওয়া হতে পারে। আর ‘যা আছে তোমাদের পেছনে’ অর্থাৎ যে শাস্তি তোমাদের পেছনে লেগে রয়েছে, মৃত্যুর পর তার সম্মুখীন তোমরা হবে। (খ) ‘যা আছে সামনে’ অর্থাৎ অতীত জাতিসমূহকে প্রদত্ত শাস্তি, যা তোমাদের সামনে ইতিহাস হয়ে আছে; (গ) ‘যা আছে সামনে’ অর্থাৎ আগামী দিনসমূহে গুনাহ হতে বেঁচে থেকে তার শাস্তি হতে আত্মরক্ষা কর আর ‘যা আছে পেছনে’ মানে বিগত দিনে কৃত গুনাহ হতে তওবা করে তার শাস্তি হতে বাঁচ; (ঘ) যা আছে সামনে মানে আখিরাতের শাস্তি আর যা আছে পেছনে মানে নিজেদের কৃতকর্ম। অর্থাৎ যখন বলা হয় আখিরাতের শাস্তি ও নিজেদের দুষ্কর্মের পরিণাম থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা কর, তা হলে তোমাদের প্রতি আল্লাহ তাআলা দয়াপরবশ হবেন, তখন তারা সে উপদেশে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করে না। -অনুবাদক
৪৬

وَمَا تَاۡتِیۡہِمۡ مِّنۡ اٰیَۃٍ مِّنۡ اٰیٰتِ رَبِّہِمۡ اِلَّا کَانُوۡا عَنۡہَا مُعۡرِضِیۡنَ ٤٦

ওয়ামা-তা’তীহিম মিন আ-য়াতিম মিন আ-য়া-তি রাব্বিহিম ইল্লা-কা-নূ‘আনহা-মু‘রিদীন।

এবং তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তাদের কাছে এমন কোন নিদর্শন আসে না, যা থেকে তারা মুখ ফেরায় না।
৪৭

وَاِذَا قِیۡلَ لَہُمۡ اَنۡفِقُوۡا مِمَّا رَزَقَکُمُ اللّٰہُ ۙ قَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَنُطۡعِمُ مَنۡ لَّوۡ یَشَآءُ اللّٰہُ اَطۡعَمَہٗۤ ٭ۖ اِنۡ اَنۡتُمۡ اِلَّا فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ ٤٧

ওয়া ইযা-কীলা লাহুম আনফিকূমিম্মা-রাঝাকাকুমুল্লা-হু কা-লাল্লাযীনা কাফারূ লিল্লাযীনা আমানূ আনুত‘ইমুমাল্লাও ইয়াশাউল্লা-হু আত‘আমাহূ ইন আনতুম ইল্লা-ফী দালা-লিম মুবীন।

যখন তাদেরকে বলা হয় আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছেন তা থেকে (গরীবদের জন্যও) ব্যয় কর, তখন কাফেরগণ মুসলিমদেরকে বলে, আমরা কি তাদেরকে খাবার খাওয়াব, যাদেরকে আল্লাহ ইচ্ছা করলে নিজেই খাওয়াতেন? (হে মুসলিমগণ!) তোমাদের অবস্থা এ ছাড়া কিছুই নয় যে, তোমরা সুস্পষ্ট গোমরাহীতে পড়ে রয়েছ। ২০

তাফসীরঃ

২০. অর্থাৎ কাফিরগণ বলে, হে মুমিনগণ! তোমরা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছ। একদিকে বলছ, আল্লাহ তাআলাই রিযক দান করেন। তিনি সকলকেই রিযক দিতে সক্ষম। আবার আমাদেরকে বলছ, আমরা যেন গরীবকে অন্নদান করি। তা জীবিকা যদি আল্লাহর হাতেই থাকে তবে তিনিই তো তাদেরকে খাওয়াতে পারেন। আমাদেরকে কেন অন্নদান করতে বলছ? আর যদি তিনি ইচ্ছাকৃতই তাদেরকে অভুক্ত রেখে থাকেন, তবে আমরা কেন তার ইচ্ছার বিপরীতে তাদেরকে খাওয়াতে যাব? প্রকৃতপক্ষে এটা তাদের মূঢ়তা। আল্লাহ তাআলা জীবিকাদাতা এর অর্থ এই নয় প্রত্যেককে তাঁর সরাসরি জীবিকা দিতে হবে। অন্যের মাধ্যমে দেওয়ালে সেটাও তাঁরই দেওয়া। মূলত মানুষকে পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যেই তিনি কাউকে ধনী ও কাউকে গরীব বানান। তিনি দেখতে চান ধনী কতটা শোকর আদায় করে আর গরীব কতটা সবর করে। সবরের দাবি হল গরীব সহজে কারও কাছে হাত পাতবে না আর শোকরের দাবি হল গরীবের প্রতি সহমর্মী হয়ে ধনী নিজ ধনের একটা অংশ তাদের পেছনে ব্যয় করবে। তা করলেই সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হল আর এরই জন্য তাকে আদেশ করা হচ্ছে ‘তোমাদের জীবিকা থেকে অর্থাৎ আল্লাহর দেওয়া ধন থেকে গরীবদের জন্য ব্যয় কর’। -অনুবাদক
৪৮

وَیَقُوۡلُوۡنَ مَتٰی ہٰذَا الۡوَعۡدُ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ٤٨

ওয়া ইয়াকূলূনা মাতা-হা-যাল ওয়া‘দুইন কনতুম সা-দিকীন।

এবং তারা বলে, (কিয়ামতের) এ প্রতিশ্রুতি কবে পূর্ণ হবে? (হে মুসলিমগণ!) তোমরা সত্যবাদী হলে এটা বলে দাও।
৪৯

مَا یَنۡظُرُوۡنَ اِلَّا صَیۡحَۃً وَّاحِدَۃً تَاۡخُذُہُمۡ وَہُمۡ یَخِصِّمُوۡنَ ٤٩

মা-ইয়ানজু রূনা ইল্লা সাইহাতাওঁ ওয়া-হিদাতান তা’খুযুহুম ইয়াখিসসিমূন।

(প্রকৃতপক্ষে) তারা একটি মহানাদেরই অপেক্ষায় আছে, যা তাদেরকে পাকড়াও করবে তাদের বিতর্কে লিপ্ত থাকা অবস্থায়। ২১

তাফসীরঃ

২১. অর্থাৎ তারা বেচাকেনা, লেনদেন ও পার্থিব কাজ-কারবার নিয়ে পরস্পরে আলাপ-আলোচনা ও তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত থাকবে আর এ অবস্থায় হযরত ইসরাফীল (আ.) শিঙ্গায় ফুক দেবেন। তার ভয়াল আওয়াজে সকলেই আপন-আপন স্থানে ধ্বংস হয়ে যাবে। কেউ সেখান থেকে ঘর-বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবে না এবং ওসিয়ত করার মতো অবকাশও কারও থাকবে না। -অনুবাদক
৫০

فَلَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ تَوۡصِیَۃً وَّلَاۤ اِلٰۤی اَہۡلِہِمۡ یَرۡجِعُوۡنَ ٪ ٥۰

ফালা-ইয়াছতাতী‘ঊনা তাওছিয়াতাওঁ ওয়ালাইলাআহলিহিম ইয়ারজি‘ঊন।

তখন আর তারা কোন অসিয়ত করতে পারবে না এবং পারবে না নিজ পরিবারবর্গের কাছে ফিরে যেতে।
৫১

وَنُفِخَ فِی الصُّوۡرِ فَاِذَا ہُمۡ مِّنَ الۡاَجۡدَاثِ اِلٰی رَبِّہِمۡ یَنۡسِلُوۡنَ ٥١

ওয়ানুফিখা ফিসসূরি ফাইযা-হুম মিনাল আজদা-ছিইলা-রাব্বিহিম ইয়ানছিলূন।

এবং শিঙ্গায় (দ্বিতীয়) ফুঁ দেওয়া হবে। অমনি তারা আপন-আপন কবর থেকে বের হয়ে তাদের প্রতিপালকের দিকে ছুটে চলবে।
৫২

قَالُوۡا یٰوَیۡلَنَا مَنۡۢ بَعَثَنَا مِنۡ مَّرۡقَدِنَا ٜۘؐ ہٰذَا مَا وَعَدَ الرَّحۡمٰنُ وَصَدَقَ الۡمُرۡسَلُوۡنَ ٥٢

কা-লূইয়া-ওয়াইলানা-মাম বা‘আছানা-মিম মারকাদিনা-হা-যা-মাওয়া‘আদার রাহমা-নুওয়া সাদাকাল মুরছালূন।

তারা বলতে থাকবে, হায় আমাদের দুর্ভোগ! কে আমাদেরকে আমাদের নিদ্রাস্থল থেকে উঠাল? (উত্তর দেওয়া হবে,) এটা সেই জিনিস, যার প্রতিশ্রুতি দয়াময় আল্লাহ দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্য কথা বলেছিল।
৫৩

اِنۡ کَانَتۡ اِلَّا صَیۡحَۃً وَّاحِدَۃً فَاِذَا ہُمۡ جَمِیۡعٌ لَّدَیۡنَا مُحۡضَرُوۡنَ ٥٣

ইন কা-নাত ইল্লা-সাইহাতাওঁ ওয়া-হিদাতান ফাইযা-হুম জামী‘উল লাদাইনা-মুহদারূন।

আর কিছুই নয়, কেবল একটি মহানাদ হবে, অমনি তাদের সকলকে আমার সামনে উপস্থিত করা হবে।
৫৪

فَالۡیَوۡمَ لَا تُظۡلَمُ نَفۡسٌ شَیۡئًا وَّلَا تُجۡزَوۡنَ اِلَّا مَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ٥٤

ফালইয়াওমা লা-তুজলামুনাফছুন শাইয়াওঁ ওয়ালা-তুজঝাওনা ইল্লা-মা-কুনতুম তা‘মালূন।

সুতরাং সে দিন কোন ব্যক্তির উপর জুলুম করা হবে না এবং তোমাদেরকে কেবল তোমাদের কৃতকর্মেরই প্রতিফল দেওয়া হবে।
৫৫

اِنَّ اَصۡحٰبَ الۡجَنَّۃِ الۡیَوۡمَ فِیۡ شُغُلٍ فٰکِہُوۡنَ ۚ ٥٥

ইন্না আসহা-বাল জান্নাতিল ইয়াওমা ফী শুগুলিন ফা-কিহূন।

নিশ্চয়ই সে দিন জান্নাতবাসীগণ আপন ব্যস্ততায় মগ্ন থাকবে।
৫৬

ہُمۡ وَاَزۡوَاجُہُمۡ فِیۡ ظِلٰلٍ عَلَی الۡاَرَآئِکِ مُتَّکِـُٔوۡنَ ٥٦

হুম ওয়া আঝওয়া-জুহুম ফী জিলা-লিন ‘আলাল আরাইকি মুত্তাকিঊন।

তারা ও তাদের স্ত্রীগণ নিবিড় ছায়ায় আরামদায়ক আসনে হেলান দিয়ে থাকবে।
৫৭

لَہُمۡ فِیۡہَا فَاکِہَۃٌ وَّلَہُمۡ مَّا یَدَّعُوۡنَ ۚۖ ٥٧

লাহুম ফীহা-ফা-কিহাতুওঁ ওয়া লাহুম মা-ইয়াদ্দা‘ঊন।

সেখানে তাদের জন্য থাকবে ফলমূল এবং তারা যা কিছুর ফরমায়েশ করবে তাই তারা পাবে।
৫৮

سَلٰمٌ ۟ قَوۡلًا مِّنۡ رَّبٍّ رَّحِیۡمٍ ٥٨

ছালা-মুন কাওলাম মিররাব্বির রাহীম।

দয়াময় প্রতিপালকের পক্ষ হতে তাদেরকে সালাম বলা হবে।
৫৯

وَامۡتَازُوا الۡیَوۡمَ اَیُّہَا الۡمُجۡرِمُوۡنَ ٥٩

ওয়াম তা-ঝুল ইয়াওমা আইয়ুহাল মুজরিমূন।

আর (কাফেরদেরকে বলা হবে) হে অপরাধীগণ! আজ তোমরা (মুমিনদের থেকে) পৃথক হয়ে যাও।
৬০

اَلَمۡ اَعۡہَدۡ اِلَیۡکُمۡ یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ اَنۡ لَّا تَعۡبُدُوا الشَّیۡطٰنَ ۚ  اِنَّہٗ لَکُمۡ عَدُوٌّ مُّبِیۡنٌ ۙ ٦۰

আলাম আ‘হাদ ইলাইকুম ইয়া-বানীআ-দামা আল্লা-তা‘বুদুশশাইতা-না ইন্নাহূলাকুম ‘আদুওউম মুবীন।

হে আদম সন্তানগণ! আমি কি তোমাদেরকে গুরুত্ব দিয়ে বলিনি যে, তোমরা শয়তানের ইবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?
৬১

وَّاَنِ اعۡبُدُوۡنِیۡ ؕؔ ہٰذَا صِرَاطٌ مُّسۡتَقِیۡمٌ ٦١

ওয়া আনি‘বুদূ নী হা-যা-সিরা-তুম মুছতাকীম।

এবং তোমরা আমার ইবাদত কর। এটাই সরল পথ?
৬২

وَلَقَدۡ اَضَلَّ مِنۡکُمۡ جِبِلًّا کَثِیۡرًا ؕ اَفَلَمۡ تَکُوۡنُوۡا تَعۡقِلُوۡنَ ٦٢

ওয়ালাকাদ আদাল্লা মিনকুম জিবিল্লান কাছীরা- আফালাম তাকূনূতা‘কিলূন।

বস্তুত শয়তান তোমাদের মধ্য হতে একটি বড় দলকে গোমরাহ করেছিল। তবুও কি তোমরা বোঝনি?
৬৩

ہٰذِہٖ جَہَنَّمُ الَّتِیۡ کُنۡتُمۡ تُوۡعَدُوۡنَ ٦٣

হা-যিহী জাহান্নামুল্লাতী কুনতুম তূ‘আদূন।

এটাই সেই জাহান্নাম, যার ভয় তোমাদেরকে দেখানো হত।
৬৪

اِصۡلَوۡہَا الۡیَوۡمَ بِمَا کُنۡتُمۡ تَکۡفُرُوۡنَ ٦٤

ইসলাওহাল ইয়াওমা বিমা-কুনতুম তাকফুরূন।

আজ এতে প্রবেশ কর। যেহেতু তোমরা কুফর করতে।
৬৫

اَلۡیَوۡمَ نَخۡتِمُ عَلٰۤی اَفۡوَاہِہِمۡ وَتُکَلِّمُنَاۤ اَیۡدِیۡہِمۡ وَتَشۡہَدُ اَرۡجُلُہُمۡ بِمَا کَانُوۡا یَکۡسِبُوۡنَ ٦٥

আলইয়াওমা নাখতিমু‘আলাআফওয়া-হিহিম ওয়াতুকালিলমুনা আইদীহিম ওয়া তাশহাদু আরজুলুহুম বিমা-কা-নূইয়াকছিবূন।

আজ আমি তাদের মুখে মোহর লাগিয়ে দেব। ফলে তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা সাক্ষ্য দেবে তাদের কৃতকর্মের। ২২

তাফসীরঃ

২২. কাফেরগণ যখন তাদের শিরক ও অন্যান্য অপরাধের কথা অস্বীকার করবে, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের হাত-পা’কে বাকশক্তি দান করবেন। তখন তারা সাক্ষ্য দেবে যে, তারা অমুক-অমুক গুনাহ করেছিল। বিষয়টা বিস্তারিতভাবে সূরা নূর (২৪ : ২৪) ও সূরা হা-মীম আস-সাজদায় (৪১ : ২০) বর্ণিত আছে।
৬৬

وَلَوۡ نَشَآءُ لَطَمَسۡنَا عَلٰۤی اَعۡیُنِہِمۡ فَاسۡتَبَقُوا الصِّرَاطَ فَاَنّٰی یُبۡصِرُوۡنَ ٦٦

ওয়ালাও নাশাউলাতামাছনা- আলা আ‘ইউনিহিম ফাছতাবাকুসসিরা-তা ফাআন্নাইউবসিরূন।

আমি চাইলে (ইহকালেই) তাদের চোখ লোপ করে দিতে পারতাম। তখন তারা পথের সন্ধানে ছোটাছুটি করত, কিন্তু তারা কোথায় কি দেখতে পেত?
৬৭

وَلَوۡ نَشَآءُ لَمَسَخۡنٰہُمۡ عَلٰی مَکَانَتِہِمۡ فَمَا اسۡتَطَاعُوۡا مُضِیًّا وَّلَا یَرۡجِعُوۡنَ ٪ ٦٧

ওয়ালাও নাশাউ লামাছাখনা-হুম ‘আলা মাকা-নাতিহিম ফামাছতাতা-‘ঊ মুদিইয়াওঁ ওয়ালাইয়ারজি‘ঊন।

আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকে স্ব-স্ব স্থানে বসিয়ে তাদেরকে বিকৃত (পঙ্গু) করে দিতে পারতাম ফলে তারা সামনে অগ্রসর হতে পারত না এবং পিছনেও ফিরে আসতে পারত না।
৬৮

وَمَنۡ نُّعَمِّرۡہُ نُنَکِّسۡہُ فِی الۡخَلۡقِ ؕ اَفَلَا یَعۡقِلُوۡنَ ٦٨

ওয়ামান নু‘আম্মির হু নুনাক্কিছহু ফিল খালকি আফালা-ইয়া‘কিলূন।

আমি যাকে দীর্ঘায়ু দান করি সৃষ্টিগতভাবে তাকে উল্টিয়ে দেই। ২৩ তথাপি কি তারা উপলব্ধি করবে না?

তাফসীরঃ

২৩. মানুষ যখন অত্যধিক বৃদ্ধ হয়ে যায় তখন তার শক্তিসমূহ নিঃশেষ হয়ে যায়। তার আর দেখার, শোনার, বলার ও বোঝার মত ক্ষমতা থাকে না, থাকলেও তা এতই সামান্য, যা বিশেষ কাজে আসে না। একদম শিশুর মত হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলছেন, মানুষ তো তাদের শারীরিক এসব পরিবর্তন হর-হামেশাই প্রত্যক্ষ করে। এর দ্বারা তাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত যে, আল্লাহ তাআলা তাদের মধ্যে যখন এ রকম শারীরিক পরিবর্তন ঘটানোর ক্ষমতা রাখেন, তখন গুনাহের কারণে তাদেরকে তো বিলকুল অন্ধও করে দিতে এবং তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে বিকৃত করেও ফেলতে পারেন।
৬৯

وَمَا عَلَّمۡنٰہُ الشِّعۡرَ وَمَا یَنۡۢبَغِیۡ لَہٗ ؕ  اِنۡ ہُوَ اِلَّا ذِکۡرٌ وَّقُرۡاٰنٌ مُّبِیۡنٌ ۙ ٦٩

ওয়ামা-‘আল্লামনা-হুশশি‘রা ওয়ামা-ইয়ামবাগী লাহূ ইন হুওয়া ইল্লা-যিকরুওঁ ওয়া কুরআ-নুম মুবীন।

আমি তাকে (অর্থাৎ রাসূলকে) কাব্য চর্চা করতে শিখাইনি এবং তা তার পক্ষে শোভনীয়ও নয়। ২৪ এটা তো এক উপদেশবাণী এবং এমন কুরআন যা (সত্যকে) সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করে।

তাফসীরঃ

২৪. মুশরিকদের মধ্যে অনেকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলত, তিনি একজন কবি এবং কুরআন মাজীদ তার রচিত কাব্যগ্রন্থ (নাউযুবিল্লাহ)। এ আয়াত তাদের সে দাবি রদ করছে।
৭০

لِّیُنۡذِرَ مَنۡ کَانَ حَیًّا وَّیَحِقَّ الۡقَوۡلُ عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ ٧۰

লিইউনযিরা মান কা-না হাইয়াওঁ ওয়া ইয়াহিক্কাল কাওলু‘আলাল কা-ফিরীন।

যাতে প্রত্যেক জীবিতজনকে সতর্ক করে ২৫ দেয় এবং যাতে কাফেরদের বিরুদ্ধে প্রমাণ চূড়ান্ত হয়ে যায়।

তাফসীরঃ

২৫. ‘জীবিতজনকে সতর্ক করে’ অর্থাৎ যার অন্তর জীবিত ও সচেতন এবং সত্যে উপনীত হতে আগ্রহী তাকে। এরূপ ব্যক্তিকে জীবিত বলার দ্বারা ইশারা করা হচ্ছে, যে ব্যক্তি সত্যের সন্ধানী নয় এবং গাফলতির ভেতর জীবন অতিবাহিত করছে, সে মৃততুল্য। সে জীবিত অভিধায় অভিহিত হওয়ার উপযুক্ত নয়।
৭১

اَوَلَمۡ یَرَوۡا اَنَّا خَلَقۡنَا لَہُمۡ مِّمَّا عَمِلَتۡ اَیۡدِیۡنَاۤ اَنۡعَامًا فَہُمۡ لَہَا مٰلِکُوۡنَ ٧١

আওয়ালাম ইয়ারাও আন্না-খালাকনা- লাহুম মিম্মা- ‘আমিলাত আইদীনাআন‘আ-মান ফাহুম লাহা-মা-লিকূন।

তারা কি দেখেনি যে, আমি নিজ হাতে সৃষ্ট বস্তু রাজির মধ্যে তাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তারাই তার মালিক হয়ে গেছে?
৭২

وَذَلَّلۡنٰہَا لَہُمۡ فَمِنۡہَا رَکُوۡبُہُمۡ وَمِنۡہَا یَاۡکُلُوۡنَ ٧٢

ওয়া যাল্লালনা-হা-লাহুম ফামিনহা-রাকূবুহুম ওয়া মিনহা-ইয়া’কুলূন।

আমি সে জন্তুগুলিকে তাদের বশীভূত করে দিয়েছি। সুতরাং সেগুলোর কতক তাদের বাহন এবং কতক তারা আহার করে।
৭৩

وَلَہُمۡ فِیۡہَا مَنَافِعُ وَمَشَارِبُ ؕ اَفَلَا یَشۡکُرُوۡنَ ٧٣

ওয়া লাহুম ফীহা-মানা-ফি‘উ ওয়া মাশা-রিবু আফালা-ইয়াশকুরূন।

এবং তাদের জন্যে এর মধ্যে আছে আরও বহু উপকারিতা এবং আছে পানীয় বস্তু। তথাপি কি তারা শোকর আদায় করবে না?
৭৪

وَاتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ اٰلِہَۃً لَّعَلَّہُمۡ یُنۡصَرُوۡنَ ؕ ٧٤

ওয়াত্তাখাযূমিন দূনিল্লা-হি আ-লিহাতাল লা‘আল্লাহুম ইউনসারূন।

তারা আল্লাহ ছাড়া বহু মাবুদ গ্রহণ করেছে এই আশায় যে, হয়ত তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।
৭৫

لَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ نَصۡرَہُمۡ ۙ وَہُمۡ لَہُمۡ جُنۡدٌ مُّحۡضَرُوۡنَ ٧٥

লা-ইয়াছতাতী‘ঊনা নাসরাহুম ওয়াহুম লাহুম জুনদুম মুহদারূন।

(অথচ) তারা তাদের সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে না; বরং তারা তাদের জন্য এমন এক বিরোধী সৈন্য হয়ে যাবে, যাদেরকে (কিয়ামতের দিন তাদের সামনে) উপস্থিত করা হবে। ২৬

তাফসীরঃ

২৬. অর্থাৎ যেসব মনগড়া উপাস্য সম্পর্কে তারা আশাবাদী ছিল যে, তারা তাদের সাহায্য করবে, তারা তাদের সাহায্য তো করতে পারবেই না, উল্টো কিয়ামতের দিন তাদের গোটা দল তাদের পূজারীদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, যেমন সূরা সাবা (২৪ : ৪০) ও সূরা কাসাস (২৮ : ৬৩)-এ বর্ণিত হয়েছে।
৭৬

فَلَا یَحۡزُنۡکَ قَوۡلُہُمۡ ۘ اِنَّا نَعۡلَمُ مَا یُسِرُّوۡنَ وَمَا یُعۡلِنُوۡنَ ٧٦

ফালা-ইয়াহঝুনকা কাওলুহুম । ইন্না-না‘লামুমা-ইউছিররূনা ওয়ামা-ইউ‘লিনূন।

সুতরাং (হে রাসূল!) তাদের কথা যেন তোমাকে দুঃখ না দেয়। আমি অবশ্যই জানি তারা কী গোপন রাখছে আর কী প্রকাশ করছে।
৭৭

اَوَلَمۡ یَرَ الۡاِنۡسَانُ اَنَّا خَلَقۡنٰہُ مِنۡ نُّطۡفَۃٍ فَاِذَا ہُوَ خَصِیۡمٌ مُّبِیۡنٌ ٧٧

আওয়ালাম ইয়ারাল ইনছা-নুআন্না-খালাকনা-হুমিননুতফাতিন ফাইযা-হুওয়া খাসীমুম মুবীন।

মানুষ কি লক্ষ করেনি আমি তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্রবিন্দু দ্বারা? অতঃপর সহসাই সে প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী হয়ে গেল।
৭৮

وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَّنَسِیَ خَلۡقَہٗ ؕ قَالَ مَنۡ یُّحۡیِ الۡعِظَامَ وَہِیَ رَمِیۡمٌ ٧٨

ওয়া দারাবা লানা-মাছালাওঁ ওয়া নাছিয়া খালকাহূ কা-লা মাইঁ ইউহয়িল ‘ইজা-মা ওয়া হিয়া রামীম।

আমার সম্পর্কে সে উপমা রচনা করে, অথচ সে নিজ সৃজনের কথা ভুলে বসে আছে। সে বলে, কে এই অস্থিগুলিকে জীবিত করবে এগুলো পচে-গলে যাওয়া সত্ত্বেও?
৭৯

قُلۡ یُحۡیِیۡہَا الَّذِیۡۤ اَنۡشَاَہَاۤ اَوَّلَ مَرَّۃٍ ؕ  وَہُوَ بِکُلِّ خَلۡقٍ عَلِیۡمُۨ ۙ ٧٩

কুল ইউহয়ী হাল্লাযী আনশাআহা আওওয়ালা মাররাতিওঁ ওয়া হুয়া বিকুল্লি খালকিন ‘আলীমু।

বলে দাও, সেগুলোকে জীবিত করবেন সেই সত্তা, যিনি তাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি প্রত্যেক সৃষ্টি সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞাত।
৮০

الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمۡ مِّنَ الشَّجَرِ الۡاَخۡضَرِ نَارًا فَاِذَاۤ اَنۡتُمۡ مِّنۡہُ تُوۡقِدُوۡنَ ٨۰

আল্লাযী জা‘আলা লাকুম মিনাশশাজারিল আখদারি না-রান ফাইযা-আনতুম মিনহু তূকিদূন।

তিনিই সবুজ-সতেজ বৃক্ষ হতে তোমাদের জন্য আগুন সৃষ্টি করেছেন। ২৭ অনন্তর তোমরা তা হতে প্রজ্বলনের কাজ নাও।

তাফসীরঃ

২৭. ‘সবুজ-সতেজ বৃক্ষ হতে আগুন সৃষ্টি করেছেন’ আরবে ‘র্মাখ’ ও ‘আফার’ নামে দু’রকম বৃক্ষ জন্মায়। আরববাসী তা দ্বারা চকমকির কাজ নেয়। তার একটিকে অন্যটির সাথে ঘষা দিলে আগুন জ্বলে ওঠে। বলা হচ্ছে যে, যেই মহান সত্তা এক তাজা গাছ থেকে আগুন সৃষ্টি করতে পারেন, তার পক্ষে অন্যান্য জড় পদার্থে জীবন দান করা কঠিন হবে কেন?
৮১

اَوَلَیۡسَ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِقٰدِرٍ عَلٰۤی اَنۡ یَّخۡلُقَ مِثۡلَہُمۡ ؕ؃ بَلٰی ٭ وَہُوَ الۡخَلّٰقُ الۡعَلِیۡمُ ٨١

আওয়া লাইছাল্লাযী খালাকাছছামা-ওয়াতি ওয়াল আরদা বিকা-দিরিন ‘আলা আইঁ ইয়াখলুকা মিছলাহুম বালা- ওয়া হুওয়াল খাল্লা-কুল ‘আলীম।

তবে কি যে সত্তা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তিনি কি তাদের অনুরূপ (পুনরায়) সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? কেন নয়? তিনি তো মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ!
৮২

اِنَّمَاۤ اَمۡرُہٗۤ اِذَاۤ اَرَادَ شَیۡئًا اَنۡ یَّقُوۡلَ لَہٗ کُنۡ فَیَکُوۡنُ ٨٢

ইন্নামাআমরুহূ ইযাআরা-দা শাইআন আইঁ ইয়াকূলা লাহূকুন ফাইয়াকূন।

তাঁর ব্যাপার তো এই যে, তিনি যখন কোন কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন কেবল বলেন, ‘হয়ে যা’। অমনি তা হয়ে যায়।
৮৩

فَسُبۡحٰنَ الَّذِیۡ بِیَدِہٖ مَلَکُوۡتُ کُلِّ شَیۡءٍ وَّاِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ ٪ ٨٣

ফাছুবহা-নাল্লাযী বিয়াদিহী মালাকূতুকুল্লি শাইয়িওঁ ওয়া ইলাইহি তুর জা‘ঊন।

অতএব পবিত্র সেই সত্তা, যার হাতে প্রতিটি জিনিসের শাসন-ক্ষমতা এবং তাঁরই কাছে তোমাদের সকলকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
সূরা ইয়াসীন | মুসলিম বাংলা