সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আস সিজদাহ্‌ (السجدة) | সিজদা

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৩০

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

الٓـمّٓ ۚ ١

আলিফ লাম মীম।

আলিফ-লাম-মীম।

تَنۡزِیۡلُ الۡکِتٰبِ لَا رَیۡبَ فِیۡہِ مِنۡ رَّبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ؕ ٢

তানঝীলুল কিতা-বি লা-রাইবা ফীহি মির রাব্বিল ‘আ-লামীন।

এটি রাব্বুল আলামীনের পক্ষ হতে অবতীর্ণ কিতাব, যাতে কোন সন্দেহ নেই।

اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ افۡتَرٰىہُ ۚ بَلۡ ہُوَ الۡحَقُّ مِنۡ رَّبِّکَ لِتُنۡذِرَ قَوۡمًا مَّاۤ اَتٰہُمۡ مِّنۡ نَّذِیۡرٍ مِّنۡ قَبۡلِکَ لَعَلَّہُمۡ یَہۡتَدُوۡنَ ٣

আম ইয়াকূলূনাফতারা-হু বাল হুওয়াল হাক্কুমির রাব্বিকা লিতুনযিরা কাওমাম মাআতা-হুম মিন্নাযীরিম মিন কাবলিকা লা‘আল্লাহুম ইয়াহতাদূ ন।

লোকে কি বলে নবী নিজে এটা রচনা করে নিয়েছে? না, (হে নবী!) এটা তো সত্য, যা তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এসেছে, যাতে তুমি এর মাধ্যমে সতর্ক কর এমন এক সম্প্রদায়কে, যাদের কাছে তোমার আগে কোন সতর্ককারী আসেনি, যাতে তারা সঠিক পথে এসে যায়।

তাফসীরঃ

১. মক্কা মুকাররমায় মূর্তিপূজার সূচনা কাল থেকে কোন নবী-রাসূলের আগমন ঘটেনি। ব্যক্তিগতভাবে কেউ কেউ তালীম ও তাবলীগের কাজ করছিলেন বটে, কিন্তু তারা কেউ নবী ছিলেন না। এ সময়ের ভেতর এখানে কোন নবী প্রেরিত হননি।

اَللّٰہُ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَیۡنَہُمَا فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسۡتَوٰی عَلَی الۡعَرۡشِ ؕ مَا لَکُمۡ مِّنۡ دُوۡنِہٖ مِنۡ وَّلِیٍّ وَّلَا شَفِیۡعٍ ؕ اَفَلَا تَتَذَکَّرُوۡنَ ٤

আল্লা-হুল্লাযী খালাকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ওয়ামা-বাইনাহুমা-ফী ছিত্তাতি আইয়ামিন ছু ম্মাছ তাওয়া-‘আলাল ‘আরশি মা-লাকুম মিন দূ নিহী মিওঁ ওয়ালিইয়িওঁ ওয়ালাশাফী‘ইন আফালা-তাতাযাক্কারূন।

আল্লাহ সেই সত্তা, যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও এর মধ্যবর্তী যাবতীয় বস্তু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি আরশে ‘ইসতিওয়া’ গ্রহণ করেন। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন অভিভাবক নেই এবং নেই কোন সুপারিশকারী। তারপরও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?

তাফসীরঃ

২. ‘ইসতিওয়া’-এর আভিধানিক অর্থ সোজা হওয়া, আসন গ্রহণ করা। কিন্তু আল্লাহ তাআলা কিভাবে আরশে ইসতিওয়া গ্রহণ করেন, আমাদের পক্ষে তা উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। বিষয়টা আমাদের বুঝ-সমঝের অতীত। কাজেই এর তত্ত্ব-তালাশের পেছনে পড়ার কোন প্রয়োজন নেই। পড়লেও অকাট্য কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব হবে না। এ বিষয়ে এতটুকু ঈমান রাখাই যথেষ্ট যে, কুরআন মাজীদ যা-কিছু বলেছে তা সত্য।

یُدَبِّرُ الۡاَمۡرَ مِنَ السَّمَآءِ اِلَی الۡاَرۡضِ ثُمَّ یَعۡرُجُ اِلَیۡہِ فِیۡ یَوۡمٍ کَانَ مِقۡدَارُہٗۤ اَلۡفَ سَنَۃٍ مِّمَّا تَعُدُّوۡنَ ٥

ইউদাব্বিরুল আমরা মিনাছছামাইইলালআরদিছু ম্মা ইয়া‘রুজুইলাইহি ফী ইয়াওমিন কানা মিকদা-রুহূআলফা ছানাতিম মিম্মা-তা‘উদ্দূন।

আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত প্রতিটি কাজের ব্যবস্থাপনা তিনি নিজেই করেন। তারপর সে কাজ এমন এক দিনে তার কাছে উপরে পৌঁছে, তোমাদের গণনা অনুযায়ী যার পরিমাণ হাজার বছর।

তাফসীরঃ

৪. আল্লাহ তাআলার কাছে এক দিন মানুষের গণনা অনুযায়ী হাজার বছর হয় এ কথার অর্থ কী? এর প্রকৃত ব্যাখ্যা তো আল্লাহ তাআলাই জানেন এবং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি.) একে মুতাশাবিহাত (অর্থাৎ এমন সব দ্ব্যর্থবোধক বিষয়, যার প্রকৃত অর্থ আল্লাহ তাআলা ছাড়া কেউ জানে না)-এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন; কিন্তু মুফাসসিরগণ এর বিভিন্ন ব্যাখ্যাও প্রদান করেছেন। যেমন এর এক ব্যাখ্যা হল, এ দিন দ্বারা কিয়ামত দিবসকে বোঝানো হয়েছে, যা এক হাজার বছরের সমপরিমাণ হবে। এ হিসেবে আয়াতের মর্ম হল, বর্তমানে আল্লাহ তাআলা যত সৃষ্টির ব্যবস্থাপনা করছেন, শেষ পর্যন্ত কিয়ামতের দিন তাদের সকলকে আল্লাহ তাআলারই কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এর আরেক ব্যাখ্যা হল, আল্লাহ তাআলা যেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং তা কার্যকর করার জন্য যে সময় স্থির করেন, সেই স্থিরীকৃত সময়েই তা কার্যকর করা হয়ে থাকে। সুতরাং কোন কোন বিষয় কার্যকর করতে মানুষের গণনা অনুযায়ী এক হাজার বছরও লেগে যায়, কিন্তু আল্লাহ তাআলার কাছে সেই এক হাজার বছরও দীর্ঘ কিছু সময় নয়; বরং এক দিনের সমতুল্য। সূরা হাজ্জে (২৩ : ৪৭) বলা হয়েছে, কাফেরদেরকে যখন বলা হত, কুফরের কারণে আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে তাদের উপর দুনিয়া বা আখেরাতে অবশ্যই কোন আযাব আসবে, তখন তারা একথা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করত এবং বলত এত দিন চলে গেল, কই কোন আযাব তো আসল না। সত্যিই যদি কোন আযাব আসার হয়, তবে এখনই কেন তা আসছে না? তার উত্তরে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা যে ওয়াদা করেছেন তা অবশ্যই পূরণ হবে। বাকি সেটা কখন পূরণ হবে, তা নির্ধারিত হবে আল্লাহ তাআলার নিজ হেকমত অনুযায়ী। তোমরা যে মনে করছ তার আগমন অনেক বিলম্বিত হয়ে গেছে, আসলে বিষয়টা তা নয়। তোমরা যাকে এক হাজার বছর গণ্য কর, আল্লাহ তাআলার কাছে তা এক দিনের সমান। এ আয়াত সম্পর্কে কিছুটা বিশদ আলোচনা সূরা মাআরিজ (৭০ : ৩)-এ আসবে।

ذٰلِکَ عٰلِمُ الۡغَیۡبِ وَالشَّہَادَۃِ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ۙ ٦

যা-লিকা ‘আ-লিমুল গাইবি ওয়াশশাহা-দাতিল ‘আঝীঝুর রাহীম।

তিনি গুপ্ত ও প্রকাশ্য বস্তুর জ্ঞাতা। তিনি পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

الَّذِیۡۤ اَحۡسَنَ کُلَّ شَیۡءٍ خَلَقَہٗ وَبَدَاَ خَلۡقَ الۡاِنۡسَانِ مِنۡ طِیۡنٍ ۚ ٧

আল্লাযী-আহছানা কুল্লা শাইয়িন খালাকাহূওয়া বাদাআ খালকাল ইনছা-নি মিন তীন।

তিনি যেসব বস্তু সৃষ্টি করেছেন, তার প্রত্যেকটিকে করেছেন সুন্দর। আর মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন কাদা হতে।

ثُمَّ جَعَلَ نَسۡلَہٗ مِنۡ سُلٰلَۃٍ مِّنۡ مَّآءٍ مَّہِیۡنٍ ۚ ٨

ছু ম্মা জা‘আলা নাছলাহূমিন ছুলা-লাতিম মিম মাইম মাহীন।

অতঃপর তার বংশধারা চালু করেছেন নিঃসারিত তুচ্ছ পানি থেকে।

ثُمَّ سَوّٰىہُ وَنَفَخَ فِیۡہِ مِنۡ رُّوۡحِہٖ وَجَعَلَ لَکُمُ السَّمۡعَ وَالۡاَبۡصَارَ وَالۡاَفۡـِٕدَۃَ ؕ قَلِیۡلًا مَّا تَشۡکُرُوۡنَ ٩

ছু ম্ম ছাওওয়া-হু ওয়া নাফাখা ফীহি মিররূহিহী ওয়া জা‘আলা লাকুমুছ ছাম‘আ ওয়াল আবসারা ওয়াল আফইদাতা কালীলাম মা-তাশকুরূন।

তারপর তাকে ঠিকঠাক করত তার ভেতর নিজ রূহ ফুঁকে দিয়েছেন এবং (হে মানুষ!) তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন কান, চোখ ও অন্তর। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

তাফসীরঃ

৫. আল্লাহ তাআলা মানবাত্মাকে নিজের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন একথার প্রতি ইঙ্গিত করার জন্য যে, মানুষের আত্মা (রূহ) অত্যন্ত মর্যাদাবান, তা এক বিস্ময়কর সৃষ্টি এবং আল্লাহ তাআলার কাছে অপরাপর প্রাণীর আত্মা অপেক্ষা তার এক বিশেষ মহিমা ও গুরুত্ব আছে। -অনুবাদক
১০

وَقَالُوۡۤا ءَاِذَا ضَلَلۡنَا فِی الۡاَرۡضِ ءَاِنَّا لَفِیۡ خَلۡقٍ جَدِیۡدٍ ۬ؕ بَلۡ ہُمۡ بِلِقَآیِٔ رَبِّہِمۡ کٰفِرُوۡنَ ١۰

ওয়া কা-লূ ইযা-দালালনা-ফিল আরদিআইন্না-লাফী খালকিন জাদীম বাল হুম বিলিকাই রাব্বিহিম কা-ফিরূন।

তারা বলে, আমরা যখন মাটিতে মিশে হারিয়ে যাব, তখনও কি আমরা এক নতুন জন্ম লাভ করব? প্রকৃতপক্ষে তারা তাদের প্রতিপালকের সঙ্গে মিলিত হওয়াকে অস্বীকার করে।
১১

قُلۡ یَتَوَفّٰىکُمۡ مَّلَکُ الۡمَوۡتِ الَّذِیۡ وُکِّلَ بِکُمۡ ثُمَّ اِلٰی رَبِّکُمۡ تُرۡجَعُوۡنَ ٪ ١١

কুল ইয়াতাওয়াফফা-কুম মালাকুল মাওতিল্লাযী উক্কিলা বিকুমছু ম্মা ইলা-রাব্বিকুম তুরজা‘ঊন।

বলে দাও, মৃত্যুর যে ফেরেশতাকে তোমাদের জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে, সে তোমাদেরকে পুরোপুরি উসুল করে নেবে। তারপর তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
১২

وَلَوۡ تَرٰۤی اِذِ الۡمُجۡرِمُوۡنَ نَاکِسُوۡا رُءُوۡسِہِمۡ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ ؕ رَبَّنَاۤ اَبۡصَرۡنَا وَسَمِعۡنَا فَارۡجِعۡنَا نَعۡمَلۡ صَالِحًا اِنَّا مُوۡقِنُوۡنَ ١٢

ওয়া লাও তারাইযিল মুজরিমূনা না-কিছূরুঊছিহিম ‘ইনদা রাব্বিহিম রাব্বানাআবসারনা-ওয়া ছামি‘না-ফারজি‘না-না‘মাল সা-লিহান ইন্না-মূকিনূন।

এবং হায়! তুমি যদি সেই দৃশ্য দেখতে, যখন অপরাধীরা নিজ প্রতিপালকের সামনে মাথা নুইয়ে (দাঁড়িয়ে) থাকবে (এবং বলবে!) হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা (এবার প্রকৃত বিষয়) দেখলাম ও শুনলাম। সুতরাং আমাদের পুনরায় (দুনিয়ায়) পাঠিয়ে দিন। তাহলে আমরা সৎকাজ করব। আমরা যথার্থ বিশ্বাসী হয়ে গিয়েছি।
১৩

وَلَوۡ شِئۡنَا لَاٰتَیۡنَا کُلَّ نَفۡسٍ ہُدٰىہَا وَلٰکِنۡ حَقَّ الۡقَوۡلُ مِنِّیۡ لَاَمۡلَـَٔنَّ جَہَنَّمَ مِنَ الۡجِنَّۃِ وَالنَّاسِ اَجۡمَعِیۡنَ ١٣

ওয়া লাও শি‘না-লাআ-তাইনা-কুল্লা নাফছিন হুদা-হা-ওয়া লা-কিন হাক্কাল কাওলুমিন্নী লাআমলাআন্না জাহান্নামা মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-ছি আজমা‘ঈন।

আমি চাইলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে (প্রথমেই) তার হেদায়াত দিয়ে দিতাম। কিন্তু আমার পক্ষ হতে কথা স্থিরীকৃত হয়ে গেছে যে, আমি জাহান্নামকে জিন ও মানব দ্বারা অবশ্যই ভরে ফেলব।

তাফসীরঃ

৬. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা মানুষকে জোরপূর্বক হেদায়াত দিতে চাইলে তা অবশ্যই দিতে পারতেন, কিন্তু সেক্ষেত্রে পরীক্ষা করার যে উদ্দেশ্যে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, সে উদ্দেশ্য সফল হত না। মানুষের পরীক্ষা তো এরই মধ্যে যে, তারা নিজেদের বুদ্ধি-বিবেক খাটিয়ে নবী-রাসূলগণের কথায় ঈমান আনবে। কিন্তু তারা যখন জান্নাত ও জাহান্নাম স্বচক্ষে দেখে নেবে তখনকার সেই জবরদস্তিমূলক ঈমানের ভেতর কোন পরীক্ষা থাকে না। তাই আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, আমি এই পরীক্ষা নেওয়ার জন্য মানুষকে সৃষ্টি করার পর সেই প্রথম দিনেই স্থির করে রেখেছিলাম যে, যারা নিজেদের বিবেক-বুদ্ধি খাটিয়ে নবীদের প্রতি ঈমান আনবে না ও তাদের কথা বিশ্বাস করবে না, বরং তাদেরকে মিথ্যুক ঠাওরাবে, তাদের দ্বারা জাহান্নাম ভরে ফেলব।
১৪

فَذُوۡقُوۡا بِمَا نَسِیۡتُمۡ لِقَآءَ یَوۡمِکُمۡ ہٰذَا ۚ اِنَّا نَسِیۡنٰکُمۡ وَذُوۡقُوۡا عَذَابَ الۡخُلۡدِ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ١٤

ফাযূকূবিমা-নাছীতুম লিকাআ ইয়াওমিকুম হা-যা- ইন্না-নাছীনা-কুম ওয়া যূকু ‘আযা-বাল খুলদি বিমা-কনতুম তা‘মালূন।

এবার (জাহান্নামের) স্বাদ ভোগ কর, যেহেতু তোমরা তোমাদের এ দিনটি ভুলে গিয়েছিলে, আমিও তোমাদেরকে ভুলে গিয়েছি। তোমরা যা-কিছু করছিলে তার বিনিময়ে এখন স্থায়ী আযাবের স্বাদ ভোগ করতে থাক।
১৫

اِنَّمَا یُؤۡمِنُ بِاٰیٰتِنَا الَّذِیۡنَ اِذَا ذُکِّرُوۡا بِہَا خَرُّوۡا سُجَّدًا وَّسَبَّحُوۡا بِحَمۡدِ رَبِّہِمۡ وَہُمۡ لَا یَسۡتَکۡبِرُوۡنَ ٛ ١٥

ইন্নামা-ইউ’মিনুবিআ-য়া-তিনাল্লাযীনা ইযা-যুক্কিরূ বিহা-খাররূছুজ্জাদাওঁ ওয়াছাব্বাহূ বিহামদি রাব্বিহিম ওয়া হুম লা-ইয়াছতাকবিরূন (ছিজদাহ-৯)।

আমার আয়াতসমূহে তো ঈমান আনে কেবল তারা, যারা এর দ্বারা যখন উপদেশ প্রাপ্ত হয়, তখন সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং নিজ প্রতিপালকের সপ্রশংস তাসবীহ পাঠ করে। আর তারা অহংকার করে না।

তাফসীরঃ

৭. এটা সিজদার আয়াত। এটা তিলাওয়াত করলে বা শুনলে সিজদা করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
১৬

تَتَجَافٰی جُنُوۡبُہُمۡ عَنِ الۡمَضَاجِعِ یَدۡعُوۡنَ رَبَّہُمۡ خَوۡفًا وَّطَمَعًا ۫ وَّمِمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ یُنۡفِقُوۡنَ ١٦

তাতাজা-ফা-জুনূবুহুম ‘আনিল মাদা-জি‘ই ইয়াদ‘ঊনা রাব্বাহুম খাওফাওঁ ওয়া তামা‘আওঁ ওয়ামিম্মা-রাঝাকনা-হুম ইউনফিকূন।

(রাতের বেলা) তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং তারা নিজ প্রতিপালককে ভয় ও আশার (মিশ্রিত অনুভূতির) সাথে ডাকে। আর আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে (সৎকাজে) ব্যয় করে।

তাফসীরঃ

৮. অর্থাৎ তারা রাতের বেলা নামায পড়ে। এর দ্বারা যেমন ইশার নামায বোঝানো হয়েছে, যা কি না ফরয, তেমনি তাহাজ্জুদের নামাযও, যা একটি সুন্নত বিধান।
১৭

فَلَا تَعۡلَمُ نَفۡسٌ مَّاۤ اُخۡفِیَ لَہُمۡ مِّنۡ قُرَّۃِ اَعۡیُنٍ ۚ جَزَآءًۢ بِمَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ١٧

ফালা-তা‘লামুনাফছুম মাউখফিয়া লাহুম মিন কুররাতি আ‘ইউনিন জাঝাআম বিমা-কানূইয়া‘মালূন।

সুতরাং কোন ব্যক্তি জানে না এরূপ লোকদের জন্য তাদের কর্মফল স্বরূপ চোখ জুড়ানোর কত কি উপকরণ লুকিয়ে রাখা হয়েছে। ১০

তাফসীরঃ

১০. অর্থাৎ এরূপ সৎকর্মশীলদের জন্য আল্লাহ তাআলার অদৃশ্য ভাণ্ডারে যেসব নি‘আমত লুকানো আছে তা মানুষের কল্পনারও অতীত।
১৮

اَفَمَنۡ کَانَ مُؤۡمِنًا کَمَنۡ کَانَ فَاسِقًا ؕؔ  لَا یَسۡتَوٗنَ ؃ ١٨

আফামান কা-না মু’মিনান কামান কা-না ফা-ছিকাল লা-ইয়াছতাউন।

আচ্ছা বল তো, যে ব্যক্তি মুমিন, সে কি ওই ব্যক্তির মত হতে পারে, যে ফাসেক? (বলাবাহুল্য) তারা সমান হতে পারে না।
১৯

اَمَّا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فَلَہُمۡ جَنّٰتُ الۡمَاۡوٰی ۫ نُزُلًۢا بِمَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ١٩

আম্মাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ফালাহুম জান্না-তুল মা’ওয়া- নুঝুলাম বিমা-কা-নূইয়া‘মালূন।

যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী বসবাসের উদ্যান, যা তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারে প্রাথমিক আতিথেয়তাস্বরূপ দেওয়া হবে।
২০

وَاَمَّا الَّذِیۡنَ فَسَقُوۡا فَمَاۡوٰىہُمُ النَّارُ ؕ کُلَّمَاۤ اَرَادُوۡۤا اَنۡ یَّخۡرُجُوۡا مِنۡہَاۤ اُعِیۡدُوۡا فِیۡہَا وَقِیۡلَ لَہُمۡ ذُوۡقُوۡا عَذَابَ النَّارِ الَّذِیۡ کُنۡتُمۡ بِہٖ تُکَذِّبُوۡنَ ٢۰

ওয়া আম্মাল্লাযীনা ফাছাকূফামা’ওয়া-হুমুন্না-রু কুল্লামাআরা-দূ আইঁ ইয়াখরুজূ মিনহা-উ‘ঈদূফীহা-ওয়াকীলা লাহুম যূকূ‘আযা-বান্না-রিল্লাযী কুনতুম বিহী তুকাযযিবূন।

আর যারা অবাধ্যতা করেছে তাদের স্থায়ী আবাসন হল জাহান্নাম। যখনই তারা তা থেকে বের হতে চাবে, তাদেরকে তাতেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, তোমরা আগুনের যে শাস্তিকে অস্বীকার করতে তার মজা ভোগ কর।
২১

وَلَنُذِیۡقَنَّہُمۡ مِّنَ الۡعَذَابِ الۡاَدۡنٰی دُوۡنَ الۡعَذَابِ الۡاَکۡبَرِ لَعَلَّہُمۡ یَرۡجِعُوۡنَ ٢١

ওয়ালানুযীকান্নাহুম মিনাল ‘আযা-বিল আদনা-দূনাল ‘আযা-বিল আকবারি লা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘ঊন।

এবং সেই বড় শাস্তির আগে আমি তাদেরকে অবশ্যই লঘু শাস্তির স্বাদও গ্রহণ করাব। ১১ হয়ত তারা ফিরে আসবে।

তাফসীরঃ

১১. আখেরাতের বড় শাস্তির আগে দুনিয়ায় মানুষের যে ছোট-ছোট বিপদ-আপদ আসে তার প্রতি ইশারা করা হয়েছে। এসব মুসিবত আসে মানুষকে সতর্ক করার জন্য। যাতে তারা নিজেদের আমল ও অবস্থা বিচার করে দেখে এবং গুনাহ হতে নিবৃত্ত হয়। এ আয়াতের শিক্ষা হল, দুনিয়ার জীবনে কখনও কোন মুসিবত দেখা দিলে আল্লাহ তাআলার দিকে রুজু হয়ে নিজ গুনাহ হতে তাওবা করা এবং নিজ আমল ও অবস্থা সংশোধন করে ফেলা উচিত। তাহলে সেটা যেমন মুসিবত থেকে মুক্তির কারণ হবে, তেমনি আখেরাতেও নাজাতের উসিলা হবে।
২২

وَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنۡ ذُکِّرَ بِاٰیٰتِ رَبِّہٖ ثُمَّ اَعۡرَضَ عَنۡہَا ؕ  اِنَّا مِنَ الۡمُجۡرِمِیۡنَ مُنۡتَقِمُوۡنَ ٪ ٢٢

ওয়া মান আজলামুমিম মান যুক্কিরা বিআ-য়া-তি রাব্বিহী ছুম্মা আ‘রাদা ‘আনহা- ইন্না-মিনাল মুজরিমীনা মুনতাকিমূন।

সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় জালেম আর কে হতে পারে, যাকে তার প্রতিপালকের আয়াতসমূহ দ্বারা নসীহত করা হয়েছে আর সে তা হতে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আমি অবশ্যই এরূপ জালেমদের থেকে বদলা নিয়ে ছাড়ব।
২৩

وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡکِتٰبَ فَلَا تَکُنۡ فِیۡ مِرۡیَۃٍ مِّنۡ لِّقَآئِہٖ وَجَعَلۡنٰہُ ہُدًی لِّبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ۚ ٢٣

ওয়া লাকাদ আ-তাইনা-মূছাল কিতা-বা ফালা-তাকুন ফী মিরইয়াতিম মিললিকাইহী ওয়া জা‘আলনা-হু হুদাল লিবানীইসরাঈল।

নিশ্চয়ই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম। সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি তার সাক্ষাত সম্পর্কে কোন সন্দেহে থেকো না। ১২ আমি সে কিতাবকে বনী ইসরাঈলের জন্য বানিয়েছিলাম পথ-নির্দেশ।

তাফসীরঃ

১২. ‘তুমি তার সাক্ষাত সম্বন্ধে কোন সন্দেহে থেকো না’ এ কথাটির বিভিন্ন ব্যাখ্যা হতে পারে, যথা (ক) হযরত মুসা আলাইহিস সালাম যে তাওরাতের সাক্ষাত পেয়েছিলেন অর্থাৎ তাওরাত প্রাপ্ত হয়েছিলেন সে বিষয়ে সন্দেহ করো না। (খ) হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে যেমন কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তেমনি তোমাকেও কিতাব দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এ কিতাব যে তুমি আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে লাভ করেছ সে বিষয়ে কোন সন্দেহ করো না। আর তুমি যখন কিতাবপ্রাপ্ত রাসূল তখন কাফেরগণ কী বলে না বলে তা নিয়ে পেরেশান হয়ো না, তাতে ব্যথিত হয়ো না। (গ) কাফেরগণ যে অবশ্যই শাস্তিপ্রাপ্ত হবে সে বিষয়ে সন্দেহ করো না। [(ঘ) মিরাজের রাতে তুমি যে মুসার সাক্ষাত লাভ করেছিলে, তা বাস্তব সত্য। সে বিষয়ে সন্দেহ করো না। -অনুবাদক]
২৪

وَجَعَلۡنَا مِنۡہُمۡ اَئِمَّۃً یَّہۡدُوۡنَ بِاَمۡرِنَا لَمَّا صَبَرُوۡا ۟ؕ وَکَانُوۡا بِاٰیٰتِنَا یُوۡقِنُوۡنَ ٢٤

ওয়া জা‘আলনা-মিনহুম আইম্মাতাইঁ ইয়াহদূ না বিআমরিনা-লাম্মা-সাবারূ ওয়া কা-নূ বিআ-য়া-তিনা-ইঊকিনূন।

আর আমি তাদের মধ্যে কিছু লোককে, যখন তারা সবর করল, এমন নেতা বানিয়ে দিলাম, যারা আমার নির্দেশ অনুসারে মানুষকে পথ প্রদর্শন করত এবং তারা আমার আয়াতসমূহে গভীর বিশ্বাস রাখত। ১৩

তাফসীরঃ

১৩. অর্থাৎ সবর অবলম্বন এবং আমার আয়াতসমূহে গভীর বিশ্বাসের বদৌলতে বনী ইসরাঈলকে যেমন নেতৃত্ব দান করেছিলাম, তেমনি তোমরাও যদি সর্বতোভাবে সবর অবলম্বন কর ও সত্যিকারের বিশ্বাসী হয়ে যাও, তবে তোমাদের সঙ্গেও একই রকম আচরণ করা হবে। আল্লাহ তাআলা সাহাবীদের যুগে তার এ প্রতিশ্রুতি পূরণ করে দেখিয়ে দিয়েছিলেন -অনুবাদক। (তাফসীরে উসমানীর ভাবাবলম্বনে)
২৫

اِنَّ رَبَّکَ ہُوَ یَفۡصِلُ بَیۡنَہُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ فِیۡمَا کَانُوۡا فِیۡہِ یَخۡتَلِفُوۡنَ ٢٥

ইন্না রাব্বাকা হুওয়া ইয়াফসিলু বাইনাহুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ফীমা-কা-নূ ফীহি ইয়াখতালিফূন।

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে সেই সব বিষয়ে মীমাংসা করে দেবেন, যা নিয়ে তারা মতবিরোধ করছিল।
২৬

اَوَلَمۡ یَہۡدِ لَہُمۡ کَمۡ اَہۡلَکۡنَا مِنۡ قَبۡلِہِمۡ مِّنَ الۡقُرُوۡنِ یَمۡشُوۡنَ فِیۡ مَسٰکِنِہِمۡ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ ؕ اَفَلَا یَسۡمَعُوۡنَ ٢٦

আওয়া লাম ইয়াহদিলাহুম কাম আহলাকনা-মিন কাবলিহিম মিনাল কুরূনি ইয়ামশূনা ফী মাছাকিনিহিম ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিন আফালা-ইয়াছমা‘ঊন।

তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ) কি কোন পথ-নির্দেশ লাভ করেনি এ বিষয় দ্বারা যে, তাদের পূর্বে আমি কত মানব গোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছি, যাদের বাসভূমি দিয়ে তারা চলাফেরা করে থাকে? ১৪ নিশ্চয়ই এর মধ্যে তাদের জন্য আছে বহু নিদর্শন। তবে কি তারা শোনে না?

তাফসীরঃ

১৪. যেমন ছামুদ জাতি। আরববাসী তাদের বাসভূমির উপর দিয়ে প্রচুর যাতায়াত করত ও তাদের ঘর-বাড়ির ধ্বংসাবশেষ প্রত্যক্ষ করত।
২৭

اَوَلَمۡ یَرَوۡا اَنَّا نَسُوۡقُ الۡمَآءَ اِلَی الۡاَرۡضِ الۡجُرُزِ فَنُخۡرِجُ بِہٖ زَرۡعًا تَاۡکُلُ مِنۡہُ اَنۡعَامُہُمۡ وَاَنۡفُسُہُمۡ ؕ  اَفَلَا یُبۡصِرُوۡنَ ؓ ٢٧

আওয়া লাম ইয়ারাও আন্না-নাছূকুল মাআ ইলাল আরদিল জুরুঝি ফানুখরিজুবিহী ঝার‘আন তা’কুলুমিনহু আন‘আ-মুহুম ওয়া আনফুছুহুম আফালা-ইউবসিরূন।

তারা কি দেখে না আমি উষর ভূমির দিকে পানি টেনে নিয়ে যাই তারপর তা দ্বারা উদগত করি শস্য, যা থেকে খায় তাদের গবাদি পশু এবং তারা নিজেরাও? তবে কি তারা কিছু উপলব্ধি করতে পারে না?
২৮

وَیَقُوۡلُوۡنَ مَتٰی ہٰذَا الۡفَتۡحُ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ٢٨

ওয়া ইয়াকূলূনা মাতা-হা-যাল ফাতহুইন কনতুম সা-দিকীন।

তারা বলে, তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে (বল,) এ মীমাংসা কবে হবে?
২৯

قُلۡ یَوۡمَ الۡفَتۡحِ لَا یَنۡفَعُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِیۡمَانُہُمۡ وَلَا ہُمۡ یُنۡظَرُوۡنَ ٢٩

কুল ইয়াওমাল ফাতহিলা-ইয়ানফা‘উল্লাযীনা কাফারূঈমা-নুহুম ওয়ালা-হুম ইউনজারূন।

বলে দাও, যে দিন মীমাংসা হবে, সে দিন অস্বীকারকারীর জন্য তাদের ঈমান আনয়ন কোন উপকারে আসবে না এবং তাদেরকে কোন অবকাশও দেওয়া হবে না। ১৫

তাফসীরঃ

১৫. অর্থাৎ এখনও সময় আছে। আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান আন এবং সেই দিন যাতে মুক্তি লাভ করতে পার তার চেষ্টা কর। অন্যথায় সেই দিনটি এসে গেলে তখন ঈমান আনার দ্বারা কোন কাজ হবে না। তখন শাস্তি দেরি করা হবে না এবং ভবিষ্যতে সংশোধন হয়ে আসার সুযোগও দেওয়া হবে না। কাজেই এখনকার সুযোগকে কাজে লাগাও। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করে সময় নষ্ট করো না। মীমাংসার সে সময় স্থির হয়ে আছে। একদিন তা অবশ্যই আসবে। কেউ তা টলাতে পারবে না। কাজেই তা কখন আসবে, মীমাংসা কখন হবে এটা একটা ফযুল প্রশ্ন (-অনুবাদক, তাফসীরে উসমানী থেকে)।
৩০

فَاَعۡرِضۡ عَنۡہُمۡ وَانۡتَظِرۡ اِنَّہُمۡ مُّنۡتَظِرُوۡنَ ٪ ٣۰

ফাআ‘রিদ‘আনহুম ওয়ানতাজির ইন্নাহুম মুনতাজিরূন।

সুতরাং (হে নবী!) তুমি তাদেরকে অগ্রাহ্য কর এবং অপেক্ষা কর। তারাও অপেক্ষমান রয়েছে।
সূরা আস সিজদাহ্‌ | মুসলিম বাংলা