সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আন নাম্‌ল (النمل) | পিপীলিকা

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৯৩

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

طٰسٓ ۟  تِلۡکَ اٰیٰتُ الۡقُرۡاٰنِ وَکِتَابٍ مُّبِیۡنٍ ۙ ١

তা-ছীন তিলকা আ-য়া-তুল কুরআ-নি ওয়া কিতা-বিম মুবীন।

তোয়া-সীন-। এগুলো কুরআন ও এমন এক কিতাবের আয়াত, যা সত্যকে সুস্পষ্ট করে।

ہُدًی وَّبُشۡرٰی لِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۙ ٢

হুদাওঁ ওয়া বুশরা-লিলমু’মিনীন।

এটা হেদায়াত ও সুসংবাদরূপে এসেছে মুমিনদের জন্য

الَّذِیۡنَ یُقِیۡمُوۡنَ الصَّلٰوۃَ وَیُؤۡتُوۡنَ الزَّکٰوۃَ وَہُمۡ بِالۡاٰخِرَۃِ ہُمۡ یُوۡقِنُوۡنَ ٣

আল্লাযীনা ইউকীমূনাসসালা-তা ওয়া ইউ’তূনাঝঝাকা-তা ওয়া হুম বিল আ-খিরাতি হুম ইউকিনূন।

যারা নামায কায়েম করে ও যাকাত দেয় আর তারাই আখেরাতে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।

اِنَّ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ زَیَّنَّا لَہُمۡ اَعۡمَالَہُمۡ فَہُمۡ یَعۡمَہُوۡنَ ؕ ٤

ইন্নাল্লাযীনা লা-ইউ’মিনূনা বিলআ-খিরাতি ঝাইইয়ান্না-লাহুম আ‘মা-লাহুম ফাহুম ইয়া‘মাহূন।

বস্তুত যারা আখেরাতে ঈমান রাখে না, আমি তাদের কার্যকলাপকে তাদের দৃষ্টিতে মনোরম বানিয়ে দিয়েছি। ফলে তারা উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তাফসীরঃ

১. অর্থাৎ, অবিশ্বাসীরা যেহেতু এই জিদ ধরে বসে আছে যে, তারা কোন অবস্থাতেই ঈমান আনবে না ও কুফর ত্যাগ করবে না, তাই আমি তাদেরকে তাদের অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছি। যার ফলশ্রুতিতে তারা তাদের যাবতীয় কাজকর্ম, তা বাস্তবে যতই নিকৃষ্ট হোক না কেন, উত্তম মনে করে। আর এ কারণেই তারা হেদায়াতের পথে আসছে না।

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ لَہُمۡ سُوۡٓءُ الۡعَذَابِ وَہُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ ہُمُ الۡاَخۡسَرُوۡنَ ٥

উলাইকাল্লাযীনা লাহুম ছূউল ‘আযা-বি ওয়াহুম ফিল আ-খিরাতি হুমুল আখছারূন।

তারাই এমন লোক, যাদের জন্য আছে নিকৃষ্ট শাস্তি এবং তারাই আখেরাতে সর্বাপেক্ষা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

وَاِنَّکَ لَتُلَقَّی الۡقُرۡاٰنَ مِنۡ لَّدُنۡ حَکِیۡمٍ عَلِیۡمٍ ٦

ওয়া ইন্নাকা লাতুলাক্কাল কুরআ-না মিল্লাদুন হাকীমিন ‘আলীম।

এবং (হে নবী!) নিশ্চয়ই এ কুরআন তোমাকে দেওয়া হয়েছে সেই সত্তার পক্ষ হতে যিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ

তাফসীরঃ

২. অর্থাৎ কাফেরদের অভিযোগ-আপত্তিতে কর্ণপাত করো না। তাদেরকে তাদের গোমরাহির মধ্যে পড়ে থাকতে দাও। যে যাই বলুক, এ কুরআন সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময় আল্লাহর তরফ থেকেই অবতীর্ণ, যিনি হেকমত ও প্রজ্ঞার সাথে মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও পরিচালনা করছেন এবং তিনি ভালোভাবেই জানেন কিসে মানুষের কল্যাণ ও সফলতা। আর তারই ভিত্তিতে তিনি কল্যাণের নির্দেশনা সম্বলিত এ মহাগ্রন্থ আপনার প্রতি নাযিল করেছেন। এ আয়াতটি সূরার পরবর্তী আলোচনার ভূমিকাস্বরূপ। এরপর অতীতের বিভিন্ন নবী ও জাতিসমূহের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যা একদিকে আল্লাহ তাআলার অপার হিকমত ও জ্ঞানের পরিচয় বহন করে এবং অন্যদিকে তাঁর ভেতর মুমিনদের জন্য রয়েছে ঈমানী শক্তি সঞ্চয়ের রসদ ও অবিশ্বাসীদের জন্য অশুভ পরিণতির সতর্কবাণী। -অনুবাদক

اِذۡ قَالَ مُوۡسٰی لِاَہۡلِہٖۤ اِنِّیۡۤ اٰنَسۡتُ نَارًا ؕ سَاٰتِیۡکُمۡ مِّنۡہَا بِخَبَرٍ اَوۡ اٰتِیۡکُمۡ بِشِہَابٍ قَبَسٍ لَّعَلَّکُمۡ تَصۡطَلُوۡنَ ٧

ইযকা-লা মূছা-লিআহলিহী ইন্নীআ-নাছতুনা-রান ছাআ-তীকুম মিনহাবিখাবারিন আও আ-তীকুম বিশিহা-বিন কাবাছিল লা‘আল্লাকুম তাসতালূন।

সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন মূসা তার পরিবারবর্গকে বলেছিল, আমি এক আগুন দেখতে পেয়েছি। আমি শীঘ্রই সেখান থেকে তোমাদের কাছে কোন সংবাদ নিয়ে আসছি কিংবা তোমাদের কাছে জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে আসব, যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।

তাফসীরঃ

৩. ঘটনাটি এখানে কেবল ইশারা হিসেবে এসেছে। বিস্তারিত এর পরবর্তী সূরা অর্থাৎ সূরা কাসাসে আসছে।

فَلَمَّا جَآءَہَا نُوۡدِیَ اَنۡۢ بُوۡرِکَ مَنۡ فِی النَّارِ وَمَنۡ حَوۡلَہَا ؕ وَسُبۡحٰنَ اللّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ٨

ফালাম্মা-জাআহা-নূদিইয়া আম বূরিকা মান ফিন্না-রি ওয়া মান হাওলাহা- ওয়া ছুবহা-নাল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন।

সুতরাং যখন সে সেই আগুনের কাছে পৌঁছল, তাকে ডাক দিয়ে বলা হল, বরকত হোক যে আগুনের ভেতর আছে তার প্রতি এবং যে তার আশপাশে আছে তার প্রতিও। আল্লাহ পবিত্র, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।

তাফসীরঃ

৪. প্রকৃতপক্ষে এটা আগুন ছিল না; বরং নূর ছিল এবং তার ভেতর ছিল ফিরিশতা। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বরকতের শুভেচ্ছা জানানো হল সেই ফিরিশতাকেও এবং হযরত মূসা আলাইহিস সালামকেও, যিনি তার আশপাশেই ছিলেন।

یٰمُوۡسٰۤی اِنَّہٗۤ اَنَا اللّٰہُ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ۙ ٩

ইয়া-মূছাইন্নাহূআনাল্লা-হুল ‘আঝীঝুল হাকীম।

হে মূসা! কথা হচ্ছে, আমিই আল্লাহ, অতি পরাক্রমশালী, অতি হেকমতওয়ালা।
১০

وَاَلۡقِ عَصَاکَ ؕ  فَلَمَّا رَاٰہَا تَہۡتَزُّ کَاَنَّہَا جَآنٌّ وَّلّٰی مُدۡبِرًا وَّلَمۡ یُعَقِّبۡ ؕ  یٰمُوۡسٰی لَا تَخَفۡ ۟  اِنِّیۡ لَا یَخَافُ لَدَیَّ الۡمُرۡسَلُوۡنَ ٭ۖ ١۰

ওয়া আলকি‘আসা-কা ফালাম্মা-রাআ-হা-তাহতাঝঝুকাআন্নাহা-জাননুওঁ ওয়াল্লামুদবিরাওঁ ওয়ালাম ইউ‘আক্কিব ইয়া-মূছা-লা-তাখাফ ইন্নী লা-ইয়াখা-ফূ লাদাইয়াল মুরছালূন।

তোমার লাঠি নিচে ফেলে দাও। অনন্তর সে যখন দেখল সেটি এমনভাবে নড়াচড়া করছে, যেন সেটি একটি সাপ, অমনি সে পেছন দিকে পালাতে লাগল, আর ফিরে তাকাল না। (বলা হল) হে মূসা ভয় পেও না। যাকে নবী বানানো হয়, আমার নিকটে তার কোন ভয় থাকে না।
১১

اِلَّا مَنۡ ظَلَمَ ثُمَّ بَدَّلَ حُسۡنًۢا بَعۡدَ سُوۡٓءٍ فَاِنِّیۡ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ١١

ইল্লা-মান জালামা ছুম্মা বাদ্দালা হুছনাম বা‘দা ছূইন ফাইন্নী গাফূরুর রাহীম।

তবে কেউ কোন সীমালঙ্ঘন করলে, তারপর মন্দ কাজের পর তার বদলে ভালো কাজ করলে, আমি তো অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

৫. অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলার সমীপে কোন নবীর কোন রকম ক্ষতি হতে পারে, এমন আশঙ্কা থাকে না। অবশ্য কারও দ্বারা যদি কোন ত্রুটি ঘটে যায়, তবে তার জন্য ভয় রয়েছে হয়ত আল্লাহ তাআলা নারাজ হয়ে যাবেন। কিন্তু সেই ব্যক্তিও যদি অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করে, ক্ষমা চায় ও নিজের ইসলাহ করে নেয়, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেন।
১২

وَاَدۡخِلۡ یَدَکَ فِیۡ جَیۡبِکَ تَخۡرُجۡ بَیۡضَآءَ مِنۡ غَیۡرِ سُوۡٓءٍ ۟ فِیۡ تِسۡعِ اٰیٰتٍ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ وَقَوۡمِہٖ ؕ اِنَّہُمۡ کَانُوۡا قَوۡمًا فٰسِقِیۡنَ ١٢

ওয়া আদখিল ইয়াদাকা ফী জাইবিকা তাখরুজ বাইদাআ মিন গাইরি ছূইন ফী তিছ‘ই আয়া-তিন ইলা-ফির‘আওনা ওয়া কাওমিহী ইন্নাহুম কা-নূকাওমান ফা-ছিকীন।

এবং তোমার হাত নিজ জায়ব (জামার সামনের ফোকর)-এর ভেতর ঢোকাও, তা শুভ্র হয়ে বের হবে কোন রোগ ছাড়া। এ দু’টি সেই নব-নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত, যা (তোমার মাধ্যমে) ফির‘আউন ও তার সম্প্রদায়ের কাছে পাঠানো হচ্ছে। বস্তুত তারা অবাধ্য সম্প্রদায়।

তাফসীরঃ

৬. ‘নব-নিদর্শন’ দ্বারা যে সকল নিদর্শনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, সূরা আরাফে (৭ : ১৩০-১৩৩) তার বিবরণ চলে গেছে।
১৩

فَلَمَّا جَآءَتۡہُمۡ اٰیٰتُنَا مُبۡصِرَۃً قَالُوۡا ہٰذَا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ ۚ ١٣

ফালাম্মা- জাআতহুম আ-য়া-তুনা-মুবসিরাতান কা-লূহা-যা-ছিহরুম মুবীন।

তারপর যখন তাদের নিকট আমার নিদর্শনসমূহ পৌঁছল, যা ছিল দৃষ্টি উন্মোচনকারী, তখন তারা বলল, এটা তো সুস্পষ্ট যাদু।

তাফসীরঃ

৭. অর্থাৎ এসব নিদর্শন তো এমন, যা দ্বারা তাদের দৃষ্টি খুলে যাওয়ার কথা ছিল, ফলে তারা হিদায়াতের পথ চিনতে পারত ও মিথ্যা হতে সত্যের পার্থক্য চাক্ষুষ দেখতে পেত। কিন্তু তারা এমনই অহংকারী ও হঠকারী সম্প্রদায় যে, সে নিদর্শন দ্বারা শিক্ষাগ্রহণ তো করলই না, উল্টো তাকে যাদু ঠাওরিয়ে প্রত্যাখ্যান করল। -অনুবাদক
১৪

وَجَحَدُوۡا بِہَا وَاسۡتَیۡقَنَتۡہَاۤ اَنۡفُسُہُمۡ ظُلۡمًا وَّعُلُوًّا ؕ  فَانۡظُرۡ کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُفۡسِدِیۡنَ ٪ ١٤

ওয়া জাহাদূবিহা-ওয়াছতাইকানাতহা আনফুছুহুম জুলমাওঁ ওয়া ‘উলুওওয়ান ফানজু র কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল মুফছিদীন।

তারা সীমালঙ্ঘন ও অহমিকাবশত তা সব অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর সেগুলো (সত্য বলে) বিশ্বাস করে নিয়েছিল। সুতরাং দেখে নাও ফাসাদকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল!

তাফসীরঃ

৮. তাদের সে পরিণামের বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য দেখুন সূরা ইউনুস (১০ : ৯০-৯২) ও সূরা শুআরা (২৬ : ৬০-৬৬)।
১৫

وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا دَاوٗدَ وَسُلَیۡمٰنَ عِلۡمًا ۚ وَقَالَا الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡ فَضَّلَنَا عَلٰی کَثِیۡرٍ مِّنۡ عِبَادِہِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ١٥

ওয়া লাকাদ আ-তাইনা-দা-ঊদা ওয়া ছুলাইমা-না ‘ইলমান ওয়া কা-লাল হামদুলিল্লাহিল্লাযী ফাদ্দালানা-‘আলা-কাছীরিম মিন ‘ইবা-দিহিল মু’মিনীন।

আমি দাঊদ ও সুলাইমানকে জ্ঞান দিয়েছিলাম। তারা বলেছিল, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে তার বহু মুমিন বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।
১৬

وَوَرِثَ سُلَیۡمٰنُ دَاوٗدَ وَقَالَ یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ عُلِّمۡنَا مَنۡطِقَ الطَّیۡرِ وَاُوۡتِیۡنَا مِنۡ کُلِّ شَیۡءٍ ؕ اِنَّ ہٰذَا لَہُوَ الۡفَضۡلُ الۡمُبِیۡنُ ١٦

ওয়া ওয়ারিছা ছুলাইমা-নুদা-ঊদা ওয়া কা-লা ইয়াআইয়ুহান্না-ছু‘উলিলমনামানতিকাততাইরি ওয়াঊতীনা-মিন কুল্লি শাইয়িন ইন্না হা-যা-লাহুওয়াল ফাদলুল মুবীন।

সুলাইমান দাঊদের উত্তরাধিকার লাভ করল এবং সে বলল, হে মানুষ! আমাদেরকে পাখিদের বুলি শেখানো হয়েছে ১০ এবং আমাদেরকে সমস্ত (প্রয়োজনীয়) জিনিস দেওয়া হয়েছে। নিশ্চয়ই এটা (আল্লাহ তাআলার) সুস্পষ্ট অনুগ্রহ।

তাফসীরঃ

৯. প্রকাশ থাকে যে, নবী-রাসূলগণের রেখে যাওয়া সম্পত্তি তার ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন হয় না। একটি সহীহ হাদীসে সুস্পষ্টভাবেই তা বলা আছে। কাজেই এ আয়াতে যে উত্তরাধিকার প্রাপ্তির কথা বলা হয়েছে, তার মানে সম্পত্তির উত্তরাধিকার নয়; বরং এর অর্থ হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম নবুওয়াত ও রাজত্বে তাঁর মহান পিতা হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের স্থলাভিষিক্ত হন।
১৭

وَحُشِرَ لِسُلَیۡمٰنَ جُنُوۡدُہٗ مِنَ الۡجِنِّ وَالۡاِنۡسِ وَالطَّیۡرِ فَہُمۡ یُوۡزَعُوۡنَ ١٧

ওয়া হুশিরা লিছুলাইমা-না জুনূদুহূমিনাল জিন্নি ওয়াল ইনছি ওয়াততাইরি ফাহুম ইউঝা‘উন।

সুলাইমানের জন্য তার সমস্ত সৈন্য সমবেত করা হয়েছিল যা ছিল জিন্ন, মানুষ ও পাখি-সম্বলিত। তাদেরকে রাখা হত নিয়ন্ত্রণে। ১১

তাফসীরঃ

১১. বোঝানো উদ্দেশ্য আল্লাহ তাআলা সুলাইমান আলাইহিস সালামকে যে রাজত্ব দিয়েছিলেন, তা কেবল মানুষের মধ্যেই সীমিত ছিল না; বরং জিন ও পশু-পাখির উপরও তা ব্যাপ্ত ছিল। তিনি যখন কোন দিকে বের হতেন, তখন তার সেনাদলে যেমন থাকত মানুষ, তেমনি থাকত জিন ও পাখির দল। এভাবে তার বাহিনীর সদস্য সংখ্যা এত বিপুল হয়ে যেত যে, তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হত। তাই বলে যে তাদের মধ্যে কখনও বিশৃঙ্খলা দেখা দিত এমন নয়; বরং তাদের মধ্যে সর্বদা শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকত।
১৮

حَتّٰۤی اِذَاۤ اَتَوۡا عَلٰی وَادِ النَّمۡلِ ۙ قَالَتۡ نَمۡلَۃٌ یّٰۤاَیُّہَا النَّمۡلُ ادۡخُلُوۡا مَسٰکِنَکُمۡ ۚ لَا یَحۡطِمَنَّکُمۡ سُلَیۡمٰنُ وَجُنُوۡدُہٗ ۙ وَہُمۡ لَا یَشۡعُرُوۡنَ ١٨

হাত্তাইযাআতাও ‘আলা-ওয়া-দিন্নামলি কা-লাত নামলাতুইঁ ইয়াআইয়ুহান্নামলুদ খুলূমাছা-কিনাকুম লা-ইয়াহতিমান্নাকুম ছুলাইমা-নুওয়া জুনূদুহূ ওয়াহুম লা-ইয়াশ‘উরূন।

একদিন যখন তারা পিঁপড়ের উপত্যকায় পৌঁছল, তখন এক পিঁপড়ে বলল, ওহে পিঁপড়েরা! নিজ ঘরে ঢুকে পড়, পাছে সুলাইমান ও তার সৈন্যরা তাদের অজ্ঞাতসারে তোমাদেরকে পিষে ফেলে।
১৯

فَتَبَسَّمَ ضَاحِکًا مِّنۡ قَوۡلِہَا وَقَالَ رَبِّ اَوۡزِعۡنِیۡۤ اَنۡ اَشۡکُرَ نِعۡمَتَکَ الَّتِیۡۤ اَنۡعَمۡتَ عَلَیَّ وَعَلٰی وَالِدَیَّ وَاَنۡ اَعۡمَلَ صَالِحًا تَرۡضٰىہُ وَاَدۡخِلۡنِیۡ بِرَحۡمَتِکَ فِیۡ عِبَادِکَ الصّٰلِحِیۡنَ ١٩

ফাতাবাছছামা দা-হিকাম মিন কাওলিহা-ওয়া কা-লা রাব্বি আওঝি‘নীআন আশকুরা নি‘মাতাকাল্লাতীআন‘আমতা ‘আলাইইয়া ওয়া ‘আলা-ওয়া-লিদাইইয়া ওয়াআন আ‘মালা সালিহান তারদা-হু ওয়া আদখিলনী বিরাহমাতিকা ফী ‘ইবাদিকাসসা-লিহীন।

তার কথায় সুলাইমান স্মিথ হেসে দিল এবং বলে উঠল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তাওফীক দাও, যেন শুকর আদায় করতে পারি সেই সকল নি‘আমতের, যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং করতে পারি এমন সৎকাজ, যা তুমি পছন্দ কর আর নিজ রহমতে তুমি আমাকে নেক বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর।
২০

وَتَفَقَّدَ الطَّیۡرَ فَقَالَ مَا لِیَ لَاۤ اَرَی الۡہُدۡہُدَ ۫ۖ اَمۡ کَانَ مِنَ الۡغَآئِبِیۡنَ ٢۰

ওয়া তাফাককাদাততাইরা ফাকা-লা মা-লিইয়া লাআরাল হুদহুদা আম কা-না মিনাল গাইবীন।

এবং সে (একবার) পাখিদের সন্ধান নিল। বলল, কী ব্যাপার! হুদহুদকে দেখছি না যে? সে কি অনুপস্থিত না কি?
২১

لَاُعَذِّبَنَّہٗ عَذَابًا شَدِیۡدًا اَوۡ لَاَاذۡبَحَنَّہٗۤ اَوۡ لَیَاۡتِیَنِّیۡ بِسُلۡطٰنٍ مُّبِیۡنٍ ٢١

লাউ‘আযযি বান্নাহূ ‘আযা-বান শাদীদান আও লাআযবাহান্নাহূআওলাইয়া’তিইয়ান্নী বিছুলতা-নিম মুবীন।

আমি তাকে কঠিন শাস্তি দিব অথবা তাকে যবাহ করে ফেলব যদি না সে আমার কাছে স্পষ্ট কোন কারণ দর্শায়। ১২

তাফসীরঃ

১২. হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম পাখিদের দ্বারা বিভিন্ন কাজ নিতেন, যেমন আকাশপথে সফরকালে উপরে এক ঝাঁক পাখি ডানা বিস্তার করে ছায়া দিত। কোন পাখি দ্বারা পানির সন্ধান নেওয়া হত এবং কোনওটি দ্বারা চিঠি পাঠানো হত। হুদহুদ পাখি সম্পর্কে প্রসিদ্ধ আছে যে, কোথাও মাটির নিচে পানি থাকলে সে তা বুঝতে পারে। এক-আধা হাত নিচে কেঁচো থাকলে সে তা টের পায় এবং মাটি খুঁড়ে তা বের করে ফেলে। আল্লাহ তাআলা সর্বশক্তিমান। তিনি বিশেষ-বিশেষ সৃষ্টিকে বিশেষ-বিশেষ ক্ষমতা ও অনুভব-শক্তি দান করতেই পারেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই (-অনুবাদক, তাফসীরে উসমানী অবলম্বনে)।
২২

فَمَکَثَ غَیۡرَ بَعِیۡدٍ فَقَالَ اَحَطۡتُّ بِمَا لَمۡ تُحِطۡ بِہٖ وَجِئۡتُکَ مِنۡ سَبَاٍۭ بِنَبَاٍ یَّقِیۡنٍ ٢٢

ফামাকাছা গাইরা বা‘ঈদিন ফাকা-লা আহাততুবিমা-লামতুহিত বিহী ওয়াজি’তুকা মিন ছাবাইম বিনাবাইঁ ইয়াকীন।

তারপর হুদহুদ বেশি দেরি করল না এবং (এসে) বলল, আমি এমন বিষয় জেনেছি, যা আপনার জানা নেই। আমি আপনার কাছে সাবা দেশ থেকে নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে এসেছি। ১৩

তাফসীরঃ

১৩. সাবা একটি জাতির নাম। ইয়ামানের একটি অঞ্চলে তারা বসবাস করত। সেই জাতির নাম অনুসারে অঞ্চলটিকেও সাবা বলা হত। হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের রাজত্বকালে এক রাণী সে দেশ শাসন করত। ঐতিহাসিক বর্ণনাসমূহে তার নাম বলা হয়েছে, ‘বিলকীস’।
২৩

اِنِّیۡ وَجَدۡتُّ امۡرَاَۃً تَمۡلِکُہُمۡ وَاُوۡتِیَتۡ مِنۡ کُلِّ شَیۡءٍ وَّلَہَا عَرۡشٌ عَظِیۡمٌ ٢٣

ইন্নী ওয়াজাততুম রাআতান তামলিকুহুম ওয়া ঊতিইয়াত মিন কুল্লি শাইয়িওঁ ওয়া লাহা-‘আরশুন ‘আজীম।

আমি সেখানে এক নারীকে সেখানকার লোকদের উপর রাজত্ব করতে দেখেছি। ১৪ তাকে সর্বপ্রকার আসবাব- উপকরণ দেওয়া হয়েছে। আর তার একটি বিরাট সিংহাসনও আছে।

তাফসীরঃ

১৪. হুদহুদের কাছে অবাক লেগেছে এ কারণে যে, একজন নারী গোটা একটা সম্প্রদায়কে শাসন করে এরূপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন সে আর কখনও হয়নি। তার কাছে এটা যেন স্বভাব-প্রকৃতিরও বিপরীত মনে হচ্ছিল। হাদীসেও আছে ‘সেই জাতি কখনও সফল হতে পারে না, যে তার শাসনভার কোন নারীর হাতে ন্যস্ত করে’। -অনুবাদক
২৪

وَجَدۡتُّہَا وَقَوۡمَہَا یَسۡجُدُوۡنَ لِلشَّمۡسِ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ وَزَیَّنَ لَہُمُ الشَّیۡطٰنُ اَعۡمَالَہُمۡ فَصَدَّہُمۡ عَنِ السَّبِیۡلِ فَہُمۡ لَا یَہۡتَدُوۡنَ ۙ ٢٤

ওয়া জাততুহা-ওয়া কাওমাহা-ইয়াছজুদূনা লিশশামছি মিন দূনিল্লা-হি ওয়া ঝাইইয়ানা লাহুমুশ শাইতা-নুআ‘মা-লাহুম ফাসাদ্দাহুম ‘আনিছছাবীলি ফাহুম লা-ইয়াহতাদূন।

আমি সেই নারী ও তার সম্প্রদায়কে দেখেছি আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যের সিজদা করছে। শয়তান তাদের কাছে, তাদের কার্যকলাপকে শোভনীয় করে দেখিয়েছে। এভাবে সে তাদেরকে সঠিক পথ থেকে নিবৃত্ত রেখেছে, ফলে তারা হেদায়াত পাচ্ছে না।
২৫

اَلَّا یَسۡجُدُوۡا لِلّٰہِ الَّذِیۡ یُخۡرِجُ الۡخَبۡءَ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَیَعۡلَمُ مَا تُخۡفُوۡنَ وَمَا تُعۡلِنُوۡنَ ٢٥

আল্লা-ইয়াছজুদূলিল্লা-হিল্লাযী ইউখরিজুলখাবআফিছছামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়া ইয়া‘লামুমা-তুখফূনা ওয়ামা-তু‘লিনূন(ছিজদাহ-৮)।

(সে তাদেরকে নিবৃত্ত রেখেছে), যাতে তারা সিজদা না করে আল্লাহকে, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর গুপ্ত বিষয়াবলী প্রকাশ করেন এবং তোমরা যা গোপন কর ও যা প্রকাশ কর সবই জানেন।
২৬

اَللّٰہُ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ رَبُّ الۡعَرۡشِ الۡعَظِیۡمِ ٛ ٢٦

আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা-হুওয়া রাব্বুল ‘আরশিল ‘আজীম ।

আল্লাহ তিনি, যিনি ছাড়া কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নয়, তিনি মহা আরশের অধিপতি।*
২৭

قَالَ سَنَنۡظُرُ اَصَدَقۡتَ اَمۡ کُنۡتَ مِنَ الۡکٰذِبِیۡنَ ٢٧

কা-লা ছানানজুরু আসাদাকতা আম কুনতা মিনাল কা-যিবীন।

সুলাইমান বলল, আমি এখনই দেখছি তুমি সত্য বলেছ, নাকি তুমি মিথ্যাবাদীদের একজন হয়ে গেছ।
২৮

اِذۡہَبۡ بِّکِتٰبِیۡ ہٰذَا فَاَلۡقِہۡ اِلَیۡہِمۡ ثُمَّ تَوَلَّ عَنۡہُمۡ فَانۡظُرۡ مَاذَا یَرۡجِعُوۡنَ ٢٨

ইযহাব বিকিতা-বী হা-যা-ফাআলকিহ ইলাইহিম ছু ম্মা তাওয়াল্লা ‘আনহুম ফানজুরমাযা-ইয়ারজি‘ঊন।

আমার এ চিঠি নিয়ে যাও। এটি তাদের সামনে ফেলে দেবে তারপর তাদের থেকে সরে যাবে এবং লক্ষ্য করবে তারা এর জবাবে কী করে।
২৯

قَالَتۡ یٰۤاَیُّہَا الۡمَلَؤُا اِنِّیۡۤ اُلۡقِیَ اِلَیَّ کِتٰبٌ کَرِیۡمٌ ٢٩

কা-লাত ইয়াআইয়ুহাল মালাউ ইন্নীউলকিয়া ইলাইইয়া কিতা-বুন কারীম।

(সুতরাং হুদহুদ তাই করল। তারপর) রাণী (তার দরবারের লোকদেরকে) বলল, হে জাতির নেতৃবর্গ! আমার সামনে একটি মর্যাদাসম্পন্ন চিঠি ফেলা হয়েছে।
৩০

اِنَّہٗ مِنۡ سُلَیۡمٰنَ وَاِنَّہٗ بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ۙ ٣۰

ইন্নাহূমিন ছুলাইমা-না ওয়া ইন্নাহূবিছমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহীম।

তা এসেছে সুলাইমানের পক্ষ থেকে। তা শুরু করা হয়েছে আল্লাহর নামে, যিনি রহমান ও রাহীম।
৩১

اَلَّا تَعۡلُوۡا عَلَیَّ وَاۡتُوۡنِیۡ مُسۡلِمِیۡنَ ٪ ٣١

আল্লা-তা‘লূ‘আলাইইয়া ওয়া’তূনী মুছলিমীন।

(তাতে সে লিখেছে) আমার উপর অহমিকা দেখিও না। বশ্যতা স্বীকার করে আমার কাছে চলে এসো। ১৫

তাফসীরঃ

১৫. অনুমান করা যায়, ইয়ামানের এ অঞ্চলটিও হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল। কিন্তু কোনও এক সময়ে এ নারী সেখানে নিজ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য গোপন চেষ্টা চালান এবং তাতে সফলতাও লাভ করেন। হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম হুদহুদের মাধ্যমে এ খবর জানতে পেরে, যেমনটা কুরআন মাজীদ বলছে, এই সংক্ষিপ্ত অথচ দ্ব্যর্থহীন ও দৃঢ়ভাষ পত্রখানি লেখেন। বিস্তারিত কোন বক্তব্য নয়; বরং এতে তিনি বিলকীস ও তাঁর সম্প্রদায়কে অবাধ্যতা পরিহার করে আনুগত্য স্বীকার করার হুকুম দিয়েছেন। [এমন সংক্ষিপ্ত অথচ পূর্ণাঙ্গ ও তেজস্বী পত্র কদাচ কেউ লিখে থাকবে তাফসীরে উছমানী]
৩২

قَالَتۡ یٰۤاَیُّہَا الۡمَلَؤُا اَفۡتُوۡنِیۡ فِیۡۤ اَمۡرِیۡ ۚ مَا کُنۡتُ قَاطِعَۃً اَمۡرًا حَتّٰی تَشۡہَدُوۡنِ ٣٢

কা-লাত ইয়াআইয়ুহাল মালাউ আফতূনী ফীআমরী মা-কুনতুকা-তি‘আতান আমরান হাত্তা-তাশহাদূ ন।

রাণী বলল, ওহে জাতির নেতৃবৃন্দ! যে সমস্যাটি আমার সামনে দেখা দিয়েছে, এ বিষয়ে তোমরা আমাকে সিদ্ধান্তমূলক পরামর্শ দাও। আমি কোন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না, যতক্ষণ না তোমরা আমার কাছে উপস্থিত থাক।
৩৩

قَالُوۡا نَحۡنُ اُولُوۡا قُوَّۃٍ وَّاُولُوۡا بَاۡسٍ شَدِیۡدٍ ۬ۙ وَّالۡاَمۡرُ اِلَیۡکِ فَانۡظُرِیۡ مَاذَا تَاۡمُرِیۡنَ ٣٣

কা-লূনাহনুঊলূকুওওয়াতিওঁ ওয়া উলূবা’ছিন শাদীদিওঁ ওয়াল আমরু ইলাইকি ফানজু রী মা-যা-তা’মুরীন।

তারা বলল, আমরা শক্তিশালী লোক এবং প্রচণ্ড লড়াকু। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার আপনার। সুতরাং ভেবে দেখুন কি হুকুম দেবেন।
৩৪

قَالَتۡ اِنَّ الۡمُلُوۡکَ اِذَا دَخَلُوۡا قَرۡیَۃً اَفۡسَدُوۡہَا وَجَعَلُوۡۤا اَعِزَّۃَ اَہۡلِہَاۤ اَذِلَّۃً ۚ وَکَذٰلِکَ یَفۡعَلُوۡنَ ٣٤

কা-লাত ইন্নাল মুলূকা ইযা-দাখালূকারইয়াতান আফছাদূ হা-ওয়া জা‘আলূ আ‘ইঝঝাতা আহলিহাআযিল্লাতাওঁ ওয়া কাযা-লিকা ইয়াফ‘আলূন।

রাণী বলল, প্রকৃত ব্যাপার হল, রাজা-বাদশাগণ যখন কোন জনপদে ঢুকে পড়ে, তখন তাকে যেরবার করে ফেলে এবং তার মর্যাদাবান বাসিন্দাদেরকে লাঞ্ছিত করে ছাড়ে। এরাও তো তাই করবে।
৩৫

وَاِنِّیۡ مُرۡسِلَۃٌ اِلَیۡہِمۡ بِہَدِیَّۃٍ فَنٰظِرَۃٌۢ بِمَ یَرۡجِعُ الۡمُرۡسَلُوۡنَ ٣٥

ওয়া ইন্নী মুরছিলাতুন ইলাইহিম বিহাদিইইয়াতিন ফানা-জিরাতুম বিমা ইয়ারজি‘উল মুরছালূন।

বরং আমি তাদের কাছে উপঢৌকন পাঠাব। তারপর দেখব দূতেরা কী উত্তর নিয়ে ফেরে। ১৬

তাফসীরঃ

১৬. সম্ভবত নবুওয়াতী পত্রের অসামান্য শক্তি বিলকীসের অন্তরে এক অনির্বচনীয় প্রভাব বিস্তার করেছিল। পত্রের এতটা শৌর্য যে কেবল রাজকীয় বলবত্তা থেকে উৎসারিত নয়; বরং এর উৎস অন্য কোথাও, সে রকম কিছু হয়তো তিনি আঁচ করতে পেরেছিলেন। সেই বোধ থেকেই তিনি উপহার-সামগ্রী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। ইচ্ছা পরীক্ষা করে দেখা হযরত সুলাইমান (আ.) তা কবুল করেন কিনা। কবুল করলে বোঝা যাবে তিনি কেবলই একজন রাজা এবং রাজাদের মতোই অর্থ ও ক্ষমতার মোহ দ্বারা তিনি চালিত। সে মতে তার সাথে বোঝা পড়া করার সুযোগ থাকবে। পক্ষান্তরে তিনি যদি তা প্রত্যাখ্যান করেন, তবে বুঝতে হবে তিনি পার্থিব লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে এবং কোন ঐশ্বরিক যোগাযোগ তার মধ্যে ক্রিয়াশীল। সে ক্ষেত্রে বোঝা পড়ার চিন্তা ত্যাগ করে নিঃশর্ত আনুগত্য প্রকাশই হবে সুবুদ্ধির পরিচায়ক। -অনুবাদক
৩৬

فَلَمَّا جَآءَ سُلَیۡمٰنَ قَالَ اَتُمِدُّوۡنَنِ بِمَالٍ ۫ فَمَاۤ اٰتٰىنِۦَ اللّٰہُ خَیۡرٌ مِّمَّاۤ اٰتٰىکُمۡ ۚ بَلۡ اَنۡتُمۡ بِہَدِیَّتِکُمۡ تَفۡرَحُوۡنَ ٣٦

ফালাম্মা-জাআ ছুলাইমা-না কা-লা আতুমিদ্দূনানি বিমা-লিন ফামাআ-তা-নিইয়াল্লাহু খাইরুম মিম্মাআ-তা-কুম বাল আনতুম বিহাদিইইয়াতিকুম তাফ রাহূন।

তারপর দূত যখন সুলাইমানের কাছে উপস্থিত হল, সে বলল, তোমরা কি অর্থ দ্বারা আমার সাহায্য করতে চাও? বস্তুত আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন, তা তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তার চেয়ে উৎকৃষ্ট, অথচ তোমরা তোমাদের উপহার-সামগ্রী নিয়ে উৎফুল্ল।
৩৭

اِرۡجِعۡ اِلَیۡہِمۡ فَلَنَاۡتِیَنَّہُمۡ بِجُنُوۡدٍ لَّا قِبَلَ لَہُمۡ بِہَا وَلَنُخۡرِجَنَّہُمۡ مِّنۡہَاۤ اَذِلَّۃً وَّہُمۡ صٰغِرُوۡنَ ٣٧

ইরজি‘ ইলাইহিম ফালানা’তিইয়ান্নাহুম বিজুনূদিল লা-কিবালা লাহুম বিহা-ওয়ালানুখরিজান্নাহুম মিনহাআযিল্লাতাওঁ ওয়াহুম সা-গিরূন।

ফিরে যাও তাদের কাছে। আমি তাদের কাছে এমন এক সেনাদল নিয়ে আসব, যার মোকাবেলা করার শক্তি তাদের নেই এবং আমি তাদেরকে সেখান থেকে লাঞ্ছিতভাবে বের করে দেব আর তারা হয়ে যাবে অবনমিত।
৩৮

قَالَ یٰۤاَیُّہَا الۡمَلَؤُا اَیُّکُمۡ یَاۡتِیۡنِیۡ بِعَرۡشِہَا قَبۡلَ اَنۡ یَّاۡتُوۡنِیۡ مُسۡلِمِیۡنَ ٣٨

কা-লা ইয়াআইয়ুহাল মালাউ আইয়ুকুম ইয়া’তীনী বি‘আরশিহা-কাবলা আইঁ ইয়া’তূনী মুছলিমীন।

সুলাইমান বলল, ওহে দরবারীগণ! কে আছে তোমাদের মধ্যে, যে তারা বশ্যতা স্বীকার করে আসার আগেই আমার কাছে তার সিংহাসন নিয়ে আসবে? ১৭

তাফসীরঃ

১৭. হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম রাণীর সামনে একটা মুজিযা প্রকাশ করতে চাচ্ছিলেন। এজন্য তিনি রাণীর সিংহাসনটিকেই বেছে নেন। রাণী এসে পৌঁছার আগেই যদি তাঁর বিশাল ভারী সিংহাসনটি হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের দরবারে হাজির হয়ে যায়, তবে এক অলৌকিক কাণ্ড হিসেবে তা রাণীকে অবশ্যই প্রভাবিত করবে এবং তাঁর নবুওয়াতের শক্তি ও সত্যতা তাঁর সামনে পরিস্ফুট হয়ে ওঠবে।
৩৯

قَالَ عِفۡرِیۡتٌ مِّنَ الۡجِنِّ اَنَا اٰتِیۡکَ بِہٖ قَبۡلَ اَنۡ تَقُوۡمَ مِنۡ مَّقَامِکَ ۚ وَاِنِّیۡ عَلَیۡہِ لَقَوِیٌّ اَمِیۡنٌ ٣٩

কা-লা ‘ইফরীতুম মিনাল জিন্নি আনা আ-তীকা বিহী কাবলা আন তাকূমা মিম মাকা-মিকা ওয়া ইন্নী ‘আলাইহি লাকাওওয়িয়ুন আমীন।

এক বলিষ্ঠদেহী জীন বলল, আপনি আপনার স্থান থেকে ওঠার আগেই আমি সেটি আপনার কাছে নিয়ে আসব। নিশ্চয়ই আমি এ কাজে সক্ষম, (এবং আমি) বিশ্বস্তও বটে। ১৮

তাফসীরঃ

১৮. যে ব্যক্তি বলেছিল হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের দরবার শেষ হওয়ার আগেই সিংহাসনটি তাঁর কাছে এনে দেবে, সে ছিল জিন। সে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামকে এই বলে আশ্বস্ত করেছিল যে, সিংহাসনটি এনে দেওয়ার মত ক্ষমতা তো তার আছেই। সেই সঙ্গে সে আমানতদারও বটে। কাজেই তাতে যে সোনা-রুপা, হীরা-জহরত আছে তার কোনরূপ এদিক-সেদিক হবে না।
৪০

قَالَ الَّذِیۡ عِنۡدَہٗ عِلۡمٌ مِّنَ الۡکِتٰبِ اَنَا اٰتِیۡکَ بِہٖ قَبۡلَ اَنۡ یَّرۡتَدَّ اِلَیۡکَ طَرۡفُکَ ؕ فَلَمَّا رَاٰہُ مُسۡتَقِرًّا عِنۡدَہٗ قَالَ ہٰذَا مِنۡ فَضۡلِ رَبِّیۡ ۟ۖ لِیَبۡلُوَنِیۡۤ ءَاَشۡکُرُ اَمۡ اَکۡفُرُ ؕ وَمَنۡ شَکَرَ فَاِنَّمَا یَشۡکُرُ لِنَفۡسِہٖ ۚ وَمَنۡ کَفَرَ فَاِنَّ رَبِّیۡ غَنِیٌّ کَرِیۡمٌ ٤۰

কা-লাল্লাযী ‘ইনদাহূ‘ইলমুম মিনাল কিতা-বি আনা আ-তীকা বিহী কাবলা আইঁ ইয়ারতাদ্দা ইলাইকা তারফুকা ফালাম্মা-রাআ-হু মুছতাকিররান ইনদাহূকা-লা হা-যা-মিন ফাদলি রাববী লিইয়াবলুওয়ানী আআশকুরু আম আকফুরু ওয়া মান শাকারা ফাইন্নামা-ইয়াশকুরু লিনাফছিহী ওয়ামান কাফারা ফাইন্না রাববী গানিইয়ুন কারীম।

যার কাছে ছিল কিতাবের ইলম, সে বলল, আমি আপনার চোখের পলক ফেলার আগেই তা আপনার সামনে এনে দেব। ১৯ অনন্তর সুলাইমান যখন সিংহাসনটি নিজের সামনে রাখা অবস্থায় দেখল, তখন বলে উঠল, এটা আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ। তিনি আমাকে পরীক্ষা করতে চান যে, আমি কৃতজ্ঞতা আদায় করি, না অকৃতজ্ঞতা করি? যে-কেউ কৃতজ্ঞতা আদায় করে, সে তো কৃতজ্ঞতা আদায় করে নিজেরই উপকারার্থে। আর কেউ অকৃতজ্ঞতা করলে আমার প্রতিপালক তো ঐশ্বর্যশালী, মহানুভব।

তাফসীরঃ

১৯. ‘যার কাছে ছিল কিতাবের ইলম’, কে ছিল এই ব্যক্তি? কুরআন মাজীদ এ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু বলেনি। এটাই বেশি প্রকাশ যে, কিতাবের ইলম দ্বারা তাওরাতের ইলম বোঝানো হয়েছে। কোন কোন মুফাসসিরের মতে, ইনি ছিলেন হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের মন্ত্রী আসাফ ইবনে বারখিয়া। তাঁর ‘ইসমে আযম’ জানা ছিল আর সেই শক্তিতেই দাবি করেছিলেন, চোখের পলকের ভেতর তিনি সিংহাসনটি এনে দিতে পারবেন। অপর দিকে ইমাম রাযী (রহ.)-সহ অনেকে এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, ইনি ছিলেন খোদ হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম। কেননা কিতাবের ইলম তাঁর যেমনটা ছিল সে পরিমাণ তখন আর কারওই ছিল না। প্রথমে তিনি দরবারী লোকজন বিশেষত জিন্নদেরকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, এমন কে আছে, যে বিলকীস এসে পৌঁছার আগেই তাঁর সিংহাসনটি আমার কাছে এনে দিতে পারবে? বস্তুত এর দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল জিন্নদের দর্প চূর্ণ করা। সুতরাং যখন একজন জিন্ন দর্পভরে বলে উঠল, আমি আপনার দরবার শেষ হওয়ার আগেই সেটি এনে দেব, তখন তার কথার পিঠে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম নিজেই বললেন, তুমি তো দরবার শেষ হওয়ার কথা বলছ। আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় আমি মুজিযাস্বরূপ সেটি তোমার চোখের পলকের ভেতর এখানে নিয়ে আসব। খুব সম্ভব এই বলে তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করলেন এবং আল্লাহ তাআলা সেই মুহূর্তে বিলকীসের সিংহাসনটি সেখানে আনিয়ে দিলেন।
৪১

قَالَ نَکِّرُوۡا لَہَا عَرۡشَہَا نَنۡظُرۡ اَتَہۡتَدِیۡۤ اَمۡ تَکُوۡنُ مِنَ الَّذِیۡنَ لَا یَہۡتَدُوۡنَ ٤١

কা-লা নাক্কিরূলাহা- ‘আরশাহা- নানজু র আতাহতাদীআম তাকূনুমিনাল্লাযীনা লা ইয়াহতাদূন।

সুলাইমান (তাঁর অনুচরদেরকে) বলল, তোমরা রাণীর সিংহাসনটিকে তার পক্ষে অচেনা বানিয়ে দাও, ২০ দেখি সে এর দিশা পায়, না কি সে যারা সত্যে উপনীত হতে পারে না তাদের অন্তর্ভুক্ত?

তাফসীরঃ

২০. ‘এটিকে অচেনা বানিয়ে দাও’, অর্থাৎ, এর আকৃতিতে এমন কোন পরিবর্তন আন, যাতে এটি চিনতে তার কষ্ট হয় এবং এর দ্বারা তার বুদ্ধিমত্তা যাচাই করা যায়।
৪২

فَلَمَّا جَآءَتۡ قِیۡلَ اَہٰکَذَا عَرۡشُکِ ؕ قَالَتۡ کَاَنَّہٗ ہُوَ ۚ وَاُوۡتِیۡنَا الۡعِلۡمَ مِنۡ قَبۡلِہَا وَکُنَّا مُسۡلِمِیۡنَ ٤٢

ফালাম্মা-জাআত কীলা আহা-কাযা-‘আরশুকি কা-লাত কাআন্নাহূহুওয়া ওয়া ঊতীনাল ‘ইলমা মিন কাবলিহা-ওয়া কুন্না-মুছলিমীন।

পরিশেষে সে যখন আসল, জিজ্ঞেস করা হল, তোমার সিংহাসনটি কি এ রকম? সে বলল, যেন এটি সেটিই। ২১ আমাদেরকে তো এর আগেই (আপনার সত্যতা সম্পর্কে) জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল এবং আপনার আনুগত্যও স্বীকার করেছিলাম। ২২

তাফসীরঃ

২১. বিলকীস বুঝে ফেললেন সিংহাসনটির আকৃতিতে কিছুটা রদবদল করা হয়েছে। তাই এক দিকে তো তিনি নিশ্চিত করে বলেননি যে, ‘এটি সেটিই’; বরং ‘যেন’ শব্দ ব্যবহার করে এক মাত্রার সন্দেহ রেখে দিয়েছেন। অপর দিকে বাকভঙ্গি অবলম্বন করেছেন এমন, যা দ্বারা বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি সিংহাসনটি ঠিকই চিনতে পেরেছেন।
৪৩

وَصَدَّہَا مَا کَانَتۡ تَّعۡبُدُ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ؕ اِنَّہَا کَانَتۡ مِنۡ قَوۡمٍ کٰفِرِیۡنَ ٤٣

ওয়াসাদ্দাহা-মা-কা-নাত তা‘বুদুমিন দূ নিল্লা-হি ইন্নাহা-কা-নাত মিন কাওমিন কাফিরীন।

সে আল্লাহর পরিবর্তে যার পূজা করত তাই তাকে (ঈমান আনা হতে) নিবৃত্ত রেখেছিল এবং সে ছিল এক কাফের সম্প্রদায়ের সাথে সম্পৃক্ত। ২৩

তাফসীরঃ

২৩. বিলকীস যে বলেছিলেন, ‘আমাদেরকে তো এর আগেই আপনার সত্যতা সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল’, এটা ছিল তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও সত্যনিষ্ঠার পরিচায়ক। তাই আল্লাহ তাআলাও তাঁর প্রশংসা করছেন যে, বস্তুত সে এক বুদ্ধিমতি নারীই ছিল। তা সত্ত্বেও যে এ পর্যন্ত ঈমান আনেনি, সেটা ছিল পরিবেশ-পরিস্থিতির প্রভাব। তার সম্প্রদায়ের সমস্ত মানুষ ছিল কাফের। এ রকম পরিবেশে থাকলে মানুষ কোন রকম চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই সকলের দেখাদেখি কাজ করে। সকলে সূর্যের পূজা করত, ব্যস সেও তাই করত। কিন্তু বুঝ-সমঝ যেহেতু ভালো ছিল, তাই যখন সত্যের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হল, তখন আর দেরি করল না। পত্রপাঠ সত্য মেনে নিল।
৪৪

قِیۡلَ لَہَا ادۡخُلِی الصَّرۡحَ ۚ  فَلَمَّا رَاَتۡہُ حَسِبَتۡہُ لُجَّۃً وَّکَشَفَتۡ عَنۡ سَاقَیۡہَا ؕ  قَالَ اِنَّہٗ صَرۡحٌ مُّمَرَّدٌ مِّنۡ قَوَارِیۡرَ ۬ؕ  قَالَتۡ رَبِّ اِنِّیۡ ظَلَمۡتُ نَفۡسِیۡ وَاَسۡلَمۡتُ مَعَ سُلَیۡمٰنَ لِلّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ٪ ٤٤

কীলা লাহাদ খুলিসসারহা ফালাম্মা-রাআতহু হাছিবাতহু লুজ্জাতাওঁ ওয়া কাশাফাত ‘আন ছা-কাইহা- কা-লা ইন্নাহূছারহুম মুমার রাদুম মিন কাওয়ারীরা কা-লাত রাব্বি ইন্নী জালামতুনাফছী ওয়া আছলামতুমা‘আ ছুলাইমা-না লিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন।

তাকে বলা হল, এই মহলে প্রবেশ কর। ২৪ যখন সে তা দেখল, তাকে জলাশয় মনে করল। তাই সে (কাপড় উঁচিয়ে) নিজ গোছা খুলে ফেলল। সুলাইমান বলল, এটা তো স্বচ্ছ শিশার ঢালাইকৃত মহল। রাণী বলল, হে আমার প্রতিপালক! বস্তুত (এ পর্যন্ত) আমি আমার নিজের প্রতি জুলুম করেছি। এক্ষণে আমি সুলাইমানের সাথে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আনুগত্য স্বীকার করে নিলাম। ২৫

তাফসীরঃ

২৪. হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম দুনিয়া-প্রেমী লোকদের উপর প্রভাব বিস্তার করার লক্ষ্যে এক জমকালো শিশমহল নির্মাণ করেছিলেন। তার সামনের চত্বরে ছিল একটি জলাশয়। যার উপরে স্বচ্ছ শিশার ছাদ ঢালাই করে দিয়েছিলেন। গভীরভাবে লক্ষ্য না করলে শিশার ছাদটি চোখে পড়ত না। সরাসরি পানির উপরই নজর পড়ত এবং মনে হত সেটি একটি উন্মুক্ত জলাশয়। মহলে প্রবেশ করতে হত সেই জলাশয়ের উপর দিয়েই। সুতরাং বিলকীস যখন তাতে প্রবেশ করার জন্য এগিয়ে চললেন, সামনে সেই জলাশয়টি পড়ল। সেটি যেহেতু গভীর ছিল না, তাই তিনি এগিয়ে যেতেই থাকলেন আর যাতে পরিধানের কাপড় ভিজে না যায়, তাই তা একটু উঁচিয়ে ধরলেন। তাতে তার পায়ের নলা ক্ষাণিকটা খুলে গেল। তখন হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তাঁকে বললেন, কাপড় উঁচানোর দরকার নেই। জলাশয়ের উপরে শিশাঢালা ছাদ রয়েছে। উপর দিয়ে গেলে ভেজার কোন আশঙ্কা নেই।
৪৫

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَاۤ اِلٰی ثَمُوۡدَ اَخَاہُمۡ صٰلِحًا اَنِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ فَاِذَا ہُمۡ فَرِیۡقٰنِ یَخۡتَصِمُوۡنَ ٤٥

ওয়া লাকাদ আরছালনাইলা-ছামূদা আখা-হুম সা-লিহান আনি‘বুদুল্লা-হা-ফাইযা-হুম ফারীকা-নি ইয়াখতাসিমূন।

আমি ছামুদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালেহকে বার্তা দিয়ে পাঠালাম যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। ২৬ অমনি তারা দু’দলে বিভক্ত হয়ে পরস্পরে বিতর্কে লিপ্ত হল।

তাফসীরঃ

২৬. ছামুদ জাতি ও হযরত সালেহ আলাইহিস সালামের বৃত্তান্ত পূর্বে সূরা আরাফ (৭ : ৭২) ও সূরা হুদ (১১ : ৬১-৬৮)-এ চলে গেছে।
৪৬

قَالَ یٰقَوۡمِ لِمَ تَسۡتَعۡجِلُوۡنَ بِالسَّیِّئَۃِ قَبۡلَ الۡحَسَنَۃِ ۚ لَوۡلَا تَسۡتَغۡفِرُوۡنَ اللّٰہَ لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ ٤٦

কা-লা ইয়া-কাওমি লিমা তাছতা‘জিলূনা বিছছাইয়িআতি কাবলাল হাছানাতি লাওলাতাছতাগফিরূনাল্লা-হা লা‘আল্লাকুম তুরহামূন।

সালেহ বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা ভালোর আগে মন্দকে কেন তাড়াতাড়ি চাচ্ছ? ২৭ তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছ না কেন, যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয়?

তাফসীরঃ

২৭. ‘ভালো’ দ্বারা ঈমান ও ‘মন্দ’ দ্বারা আযাব বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, উচিত তো ছিল প্রথমে ঈমান এনে কল্যাণ হাসিল করা। কিন্তু তোমরা ঈমান আনার পরিবর্তে তোমাদেরকে শীঘ্র শাস্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছ।
৪৭

قَالُوا اطَّیَّرۡنَا بِکَ وَبِمَنۡ مَّعَکَ ؕ قَالَ طٰٓئِرُکُمۡ عِنۡدَ اللّٰہِ بَلۡ اَنۡتُمۡ قَوۡمٌ تُفۡتَنُوۡنَ ٤٧

কা-লুততাইয়ারনা-বিকা ওয়া বিমাম মা‘আকা কা-লা তাইরুকুম ‘ইনদাল্লা-হি বাল আনতুম কাওমুন তুফতানূন।

তারা বলল, আমরা তো তোমাকে এবং তোমার সঙ্গীরদেরকে অশুভ মনে করি। ২৮ সালেহ বলল, তোমাদের অশুভতা আল্লাহর হাতে। বস্তুত তোমরা এমনই এক সম্প্রদায়, যাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে। ২৯

তাফসীরঃ

২৮. অর্থাৎ, তুমি নবুওয়াতের দাবি যখন করনি তখন আমরা সংঘবদ্ধ ছিলাম, আমাদের মধ্যে সম্প্রীতি ছিল। কিন্তু তোমার নবুওয়াত দাবির পর আমাদের মধ্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। আমাদের জাতি দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আমরা মনে করি এটা তোমার অশুভত্ব। কোন কোন বর্ণনায় প্রকাশ, তারা দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছিল এবং এটাকেও তারা হযরত সালেহ আলাইহিস সালামের অপয়ত্ব সাব্যস্ত করেছিল।
৪৮

وَکَانَ فِی الۡمَدِیۡنَۃِ تِسۡعَۃُ رَہۡطٍ یُّفۡسِدُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ وَلَا یُصۡلِحُوۡنَ ٤٨

ওয়া কা-না ফিল মাদীনাতি তিছ‘আতুরাহতিইঁ ইউফছিদূনা ফিল আরদিওয়ালা-ইউসলিহূন।

এবং নগরে নয়জন লোক ছিল এমন, যারা যমীনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বেড়াত, ইসলাহের কাজ করত না। ৩০

তাফসীরঃ

৩০. এ নয়জন ছিল হযরত সালেহ আলাইহিস সালামের জাতির নেতা। এদের প্রত্যেকের ছিল স্বতন্ত্র একেকটি দল। মুজিযা হিসেবে পাহাড় থেকে যে উটনী জন্ম নিয়েছিল, সেটিকে হত্যা করেছিল তারাই। এ হত্যার পরিণামে যখন তাদেরকে শাস্তি দেওয়ার ফায়সালা হল এবং হযরত সালেহ আলাইহিস সালাম তাদেরকে শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করলেন, তখন তারা ফন্দী আঁটল খোদ হযরত সালেহ আলাইহিস সালামকেই হত্যা করে ফেলবে; সঙ্গে তার পরিবারবর্গকেও। তারা শপথ করল রাতের বেলা একযোগে তাদের উপর হামলা চালাবে।
৪৯

قَالُوۡا تَقَاسَمُوۡا بِاللّٰہِ لَنُبَیِّتَنَّہٗ وَاَہۡلَہٗ ثُمَّ لَنَقُوۡلَنَّ لِوَلِیِّہٖ مَا شَہِدۡنَا مَہۡلِکَ اَہۡلِہٖ وَاِنَّا لَصٰدِقُوۡنَ ٤٩

কা-লূতাকা-ছামূবিল্লা-হি লানুবাইয়িতান্নাহূওয়া আহলাহূছু ম্মা লানাকূলান্না লিওয়ালিয়্যিহী মা-শাহিদনা-মাহলিকা আহলিহী ওয়া ইন্না-লাসা-দিকূ ন।

তারা (একত্র হয়ে একে অন্যকে) বলল, সকলে শপথ কর, আমরা রাতের বেলা সালেহ ও তার পরিবারবর্গের উপর হামলা চালাব, তারপর তার ওয়ারিশকে বলব, আমরা তার পরিবারবর্গের হত্যাকাণ্ডের সময় উপস্থিতই ছিলাম না। বিশ্বাস কর আমরা সম্পূর্ণ সত্যবাদী।
৫০

وَمَکَرُوۡا مَکۡرًا وَّمَکَرۡنَا مَکۡرًا وَّہُمۡ لَا یَشۡعُرُوۡنَ ٥۰

ওয়া মাকারূমাকরাওঁ ওয়া মাকারনা-মাকরাওঁ ওয়া হুম লা-ইয়াশ‘উরূন।

তারা তো এই চাল চালল আর আমিও এক চাল চাললাম কিন্তু তারা টেরও পেল না। ৩১

তাফসীরঃ

৩১. অর্থাৎ তাদের চক্রান্ত এমনভাবে নস্যাৎ করা হল যে, তারা কিছু বুঝে উঠতে পারল না। তা কিভাবে তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ করা হয়েছিল? কুরআন মাজীদ সে বিবরণ পেশ করেনি। কোন কোন বর্ণনায় প্রকাশ, তারা যখন চক্রান্ত বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে গেল, পথিমধ্যে পাথরের এক বিশালাকার চাঁই তাদের উপর গড়িয়ে পড়ল এবং তার নিচে চাপা পড়ে সকলেই ধ্বংস হয়ে গেল। তারপর সম্প্রদায়ের সকলের উপর আযাব আসল। কোন কোন বর্ণনায় আছে, তারা অস্ত্রসজ্জিত হয়ে যখন হযরত সালেহ আলাইহিস সালামের বাড়িতে পৌঁছল, তখন ফেরেশতাগণ তাদেরকে ঘিরে ফেলল। এ অবস্থায় ফেরেশতাদের হাতেই তারা বিনাশ হয়। আবার কোন কোন মুফাসসির বলেন, তারা তাদের চক্রান্তমত কাজ করার সুযোগই পায়নি। তার আগেই গোটা সম্প্রদায়ের উপর শাস্তি এসে যায় এবং অন্যদের সাথে তারাও ধ্বংস হয়ে যায়।
৫১

فَانۡظُرۡ کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ مَکۡرِہِمۡ ۙ اَنَّا دَمَّرۡنٰہُمۡ وَقَوۡمَہُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ٥١

ফানজু র কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুমাকরিহিম আন্না-দাম্মারনা-হুম ওয়া কাওমাহুম আজমা‘ঈন।

সুতরাং লক্ষ্য কর তাদের চালাকির পরিণাম কেমন হল। আমি তাদেরকে ও তাদের গোটা জাতিকে ধ্বংস করে ফেললাম।
৫২

فَتِلۡکَ بُیُوۡتُہُمۡ خَاوِیَۃًۢ بِمَا ظَلَمُوۡا ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّقَوۡمٍ یَّعۡلَمُوۡنَ ٥٢

ফাতিলকা বুয়ূতুহুম খা-বিয়াতাম বিমা-জালামূ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাল লিকাওমিইঁ ইয়া‘লামূন।

ওই তো তাদের ঘর-বাড়ি, যা তাদের জুলুমের কারণে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ৩২ নিশ্চয়ই যারা তাদের জ্ঞান-বুদ্ধিকে কাজে লাগায়, তাদের জন্য এতে আছে শিক্ষা।

তাফসীরঃ

৩২. হযরত সালেহ আলাইহিস সালামের বসতি আরব এলাকার অন্তর্ভুক্ত এবং মদীনা মুনাওয়ারা হতে কিছুটা দূরে অবস্থিত। আরববাসী শামের সফরকালে এ বসতির উপর দিয়েই যাতায়াত করত। তাই কুরআন মাজীদ সেদিকে এমনভাবে ইশারা করেছে, যেন তা চোখের সামনে। তাদের সেই বিরাণ জনপদ ও তার ধ্বংসাবশেষ এখনও ‘মাদাইন সালেহ’ নামে প্রসিদ্ধ এবং এখনও তা জ্ঞানীজনের জন্য উপদেশের রসদ জোগায়।
৫৩

وَاَنۡجَیۡنَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَکَانُوۡا یَتَّقُوۡنَ ٥٣

ওয়া আনজাইনাল্লাযীনা আ-মানূওয়া কা-নূইয়াত্তাকূন।

আর যারা ঈমান এনেছিল ও তাকওয়া অবলম্বন করেছিল, তাদেরকে আমি রক্ষা করেছি।
৫৪

وَلُوۡطًا اِذۡ قَالَ لِقَوۡمِہٖۤ اَتَاۡتُوۡنَ الۡفَاحِشَۃَ وَاَنۡتُمۡ تُبۡصِرُوۡنَ ٥٤

ওয়া লূতান ইযকা-লা লিকাওমিহী আতা’তূনাল ফা-হিশাতা ওয়া আনতুম তুবসিরূন।

এবং আমি লূতকে (নবী বানিয়ে পাঠালাম)। যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলল, তোমরা কি চাক্ষুষ দেখেও অশ্লীল কাজ করছ?
৫৫

اَئِنَّکُمۡ لَتَاۡتُوۡنَ الرِّجَالَ شَہۡوَۃً مِّنۡ دُوۡنِ النِّسَآءِ ؕ بَلۡ اَنۡتُمۡ قَوۡمٌ تَجۡہَلُوۡنَ ٥٥

আইন্নাকুম লাতা’তূনার রিজা-লা শাহওয়াতাম মিন দূ নিন নিছা-ই বাল আনতুম কাওমুন তাজহালূন।

এটা কি বিশ্বাসযোগ্য যে, তোমরা কামচাহিদা পূরণের জন্য নারীদের ছেড়ে পুরুষদের কাছে যাও? বস্তুত তোমরা অতি মূর্খতাসুলভ কাজ করছ।
৫৬

فَمَا کَانَ جَوَابَ قَوۡمِہٖۤ اِلَّاۤ اَنۡ قَالُوۡۤا اَخۡرِجُوۡۤا اٰلَ لُوۡطٍ مِّنۡ قَرۡیَتِکُمۡ ۚ اِنَّہُمۡ اُنَاسٌ یَّتَطَہَّرُوۡنَ ٥٦

ফামা-কা-না জাওয়া-বা কাওমিহীইল্লা-আন কা-লূআখরিজু আ-লা লূতিম মিন কারইয়াতিকুম ইন্নাহুম উনা-ছুইঁ ইয়াতাতাহহারূন।

তার সম্প্রদায়ের উত্তর ছিল কেবল এই যে, তারা বলল, লূতের পরিবারবর্গকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। তারা এমন লোক, যারা বড় পবিত্রতা জাহির করছে।
৫৭

فَاَنۡجَیۡنٰہُ وَاَہۡلَہٗۤ اِلَّا امۡرَاَتَہٗ ۫ قَدَّرۡنٰہَا مِنَ الۡغٰبِرِیۡنَ ٥٧

ফাআনজাইনা-হু ওয়া আহলাহূইল্লাম রাআতাহূ কাদ্দারনা-হা-মিনাল গা-বিরীন।

তারপর এই ঘটল যে, আমি লুত ও তার পরিবারবর্গকে রক্ষা করলাম, তবে তার স্ত্রীকে নয়, যার সম্পর্কে আমি স্থির করেছিলাম, সে যারা পিছনে থেকে যাবে তাদের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
৫৮

وَاَمۡطَرۡنَا عَلَیۡہِمۡ مَّطَرًا ۚ  فَسَآءَ مَطَرُ الۡمُنۡذَرِیۡنَ ٪ ٥٨

ওয়া আমতারনা-‘আলাইহিম মাতারান ফাছাআ মাতারুল মুনযারীন।

আর আমি তাদের উপর বর্ষণ করলাম এক মারাত্মক বৃষ্টি। যাদেরকে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল তাদের প্রতি বর্ষিত সে বৃষ্টি ছিল কতই না মন্দ! ৩৩

তাফসীরঃ

৩৩. হযরত লুত আলাইহিস সালামের ঘটনা পূর্বে বিস্তারিতভাবে সূরা হুদ (১১ : ৭৭-৮৩) ও সূরা হিজর (১৫ : ৫৮-৭৬)-এ গত হয়েছে। কিছুটা সূরা শুআরায়ও (২৬ : ১৬০-১৭৫) বর্ণিত হয়েছে। আমরা সূরা আরাফে (৭ : ৮০) তাদের পরিচিতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছি।
৫৯

قُلِ الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ وَسَلٰمٌ عَلٰی عِبَادِہِ الَّذِیۡنَ اصۡطَفٰی ؕ  آٰللّٰہُ خَیۡرٌ اَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ ؕ ٥٩

কুল্লিহামদুলিল্লা-হি ওয়া ছালা-মুন ‘আলা-‘ইবাদিহিল্লাযী নাসতাফা- আল্লা-হু খাইরুন আম্মা-ইউশরিকূন।

(হে নবী!) বল, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই এবং সালাম তাঁর সেই বান্দাদের প্রতি যাদেরকে তিনি মনোনীত করেছেন। ৩৪ বল তো, আল্লাহ শ্রেষ্ঠ, নাকি যাদেরকে তারা (আল্লাহর প্রভুত্বে) অংশীদার বানিয়েছে তারা?

তাফসীরঃ

৩৪. বিভিন্ন নবী-রাসূলের ঘটনা বর্ণনা করার পর আল্লাহ তাআলা এবার তাঁর তাওহীদের দলীল-প্রমাণ উল্লেখ করছেন। এটা এমনই এক আকীদা, সমস্ত নবী-রাসূল যা প্রচার করে গেছেন। এটা সকল দীনের এক সাধারণ বিষয় এবং আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের দাওয়াতী কার্যক্রমের প্রধানতম ধারা। বিশ্বজগতে আল্লাহ তাআলার অপার কুদরতের যে নিদর্শনাবলী সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, সে দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হচ্ছে, যেই মহিমময় সত্তা এই মহাজগত সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে বিস্ময়কর নিয়ম-শৃঙ্খলার অধীন করে দিয়েছেন, তাঁর কি নিজ প্রভুত্বে কোন অংশীদারের প্রয়োজন থাকতে পারে? জগত পরিচালনায় তাঁর কি কোন সাহায্যকারীর দরকার আছে? তাওহীদ সম্পর্কে এটা অত্যধিক বলিষ্ঠ ও তাৎপর্যপূর্ণ এক ভাষণ। তরজমার মাধ্যমে এর ওজস্বিতা অন্য কোন ভাষায় প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। তথাপি এর মর্মবাণী যাতে তরজমার ভেতর এসে যায় সে চেষ্টা করা হয়েছে। যেহেতু এ ভাষণটি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমেই মানুষের কাছে পৌঁছেছে, তাই এর শুরুতে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তিনি এর সূচনা করেন আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি সালাম পাঠের মাধ্যমে। এভাবে মানুষকে বক্তৃতা করার এই আদব শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, কেউ বক্তৃতা করলে তা শুরু করবে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও নবী-রাসূলগণের প্রতি সালাম পাঠ দ্বারা।
৬০

اَمَّنۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَاَنۡزَلَ لَکُمۡ مِّنَ السَّمَآءِ مَآءً ۚ  فَاَنۡۢبَتۡنَا بِہٖ حَدَآئِقَ ذَاتَ بَہۡجَۃٍ ۚ  مَا کَانَ لَکُمۡ اَنۡ تُنۡۢبِتُوۡا شَجَرَہَا ؕ  ءَاِلٰہٌ مَّعَ اللّٰہِ ؕ  بَلۡ ہُمۡ قَوۡمٌ یَّعۡدِلُوۡنَ ؕ ٦۰

আম্মান খালাকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ওয়া আনঝালা লাকুম মিনাছছামাই মাআন ফাআমবাতনা-বিহী হাদাইকা যা-তা বাহজাতিম মা-কা-না লাকুম আন তুমবিতূ শাজারাহা-; আ ইলা-হুম মা‘আল্লা-হি ; বাল হুম কাওমুইঁ ইয়া‘দিলূন।

তবে কে তিনি, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন? তারপর আমি সে পানি দ্বারা উদগত করেছি মনোরম উদ্যানরাজি। তার বৃক্ষরাজি উদগত করা তোমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। (তবুও কি তোমরা বলছ,) আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন প্রভু আছে? ৩৫ না; বরং তারা (সত্যপথ থেকে) মুখ ফিরিয়ে রাখে।

তাফসীরঃ

৩৫. প্রকাশ থাকে যে, মক্কার কাফেরগণ আল্লাহ তাআলাকেই বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তা বলে বিশ্বাস করত। কিন্তু সেই সঙ্গে তারা একথাও বলত যে, তিনি জগতের একেকটি বিভাগ পরিচালনার দায়িত্ব একেক দেবতার উপর ছেড়ে দিয়েছেন। তাই দেবতাদেরও পূজা-অর্চনা করা জরুরি।
৬১

اَمَّنۡ جَعَلَ الۡاَرۡضَ قَرَارًا وَّجَعَلَ خِلٰلَہَاۤ اَنۡہٰرًا وَّجَعَلَ لَہَا رَوَاسِیَ وَجَعَلَ بَیۡنَ الۡبَحۡرَیۡنِ حَاجِزًا ؕ  ءَاِلٰہٌ مَّعَ اللّٰہِ ؕ  بَلۡ اَکۡثَرُہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ؕ ٦١

আম্মান জা‘আলাল আরদা কারা-রাওঁ ওয়া জা‘আলা খিলা-লাহাআনহা-রাওঁ ওয়া জা‘আলা লাহা রাওয়া-ছিয়া ওয়া জা‘আলা বাইনাল বাহরাইনি হা-জিঝান আ ইলা-হুম মা‘আল্লাহি বাল আকছারুহুম লা-ইয়া‘লামূন।

তবে কে তিনি, যিনি পৃথিবীকে বানিয়েছেন অবস্থানের জায়গা, তার মাঝে-মাঝে সৃষ্টি করেছেন নদ-নদী, তার (স্থিতির) জন্য (পর্বতমালার) কীলক গেড়ে দিয়েছেন এবং তিনি দুই সাগরের মাঝখানে স্থাপন করেছেন এক অন্তরায়? ৩৬ (তবুও কি তোমরা বলছ) আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন প্রভু আছে? না, বরং তাদের অধিকাংশেই (প্রকৃত সত্য) জানে না।

তাফসীরঃ

৩৬. দুটি নদী বা দুটি সাগরের সঙ্গমস্থলে আল্লাহ তাআলার কুদরতের এক অপূর্ব মহিমা লক্ষ্য করা যায়। উভয়ের জলধারা পাশাপাশি বয়ে যায়, কিন্তু একটির সাথে আরেকটি মিশ্রিত হয় না। কী এক অলক্ষ্য অন্তরায় উভয়ের মধ্যে বিদ্যমান যে, দূর-দূরান্ত পর্যন্ত এভাবে চলতে থাকে, অথচ এক ধারার পানি অন্য ধারায় ঢুকতে পারে না!
৬২

اَمَّنۡ یُّجِیۡبُ الۡمُضۡطَرَّ اِذَا دَعَاہُ وَیَکۡشِفُ السُّوۡٓءَ وَیَجۡعَلُکُمۡ خُلَفَآءَ الۡاَرۡضِ ؕ  ءَاِلٰہٌ مَّعَ اللّٰہِ ؕ  قَلِیۡلًا مَّا تَذَکَّرُوۡنَ ؕ ٦٢

আম্মাইঁ ইউজীবুল মু দতাররা ইযা-দা‘আ-হু ওয়া ইয়াকশিফুছছূআ ওয়া ইয়াজ‘আলুকুম খুলাফাআল আরদি আ ইলা-হুম মা‘আল্লা-হি কালীলাম মা-তাযাক্কারূন।

তবে কে তিনি, যিনি কোন আর্ত যখন তাকে ডাকে, তার ডাকে সাড়া দেন ও তার কষ্ট দূর করে দেন এবং যিনি তোমাদেরকে পৃথিবীর খলীফা বানান? (তবুও কি তোমরা বলছ) আল্লাহর সঙ্গে অন্য প্রভু আছেন? তোমরা অতি অল্পই উপদেশ গ্রহণ কর।
৬৩

اَمَّنۡ یَّہۡدِیۡکُمۡ فِیۡ ظُلُمٰتِ الۡبَرِّ وَالۡبَحۡرِ وَمَنۡ یُّرۡسِلُ الرِّیٰحَ بُشۡرًۢا بَیۡنَ یَدَیۡ رَحۡمَتِہٖ ؕ  ءَاِلٰہٌ مَّعَ اللّٰہِ ؕ  تَعٰلَی اللّٰہُ عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ ؕ ٦٣

আম্মাইঁ ইয়াহদীকুম ফী জুলুমা-তিল বাররি ওয়াল বাহরি ওয়া মাইঁ ইউরছিলুর রিয়া-হা বুশরাম বাইনা ইয়াদাই রাহমাতিহী আ ইলা-হুম মা‘আল্লা-হি তা‘আ-লাল্লা-হু ‘আম্মা-ইউশরিকূন।

তবে কে তিনি, যিনি স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে তোমাদেরকে পথ দেখান এবং যিনি নিজ রহমতের (বৃষ্টির) আগে (বৃষ্টির) সুসংবাদবাহীরূপে বাতাস পাঠান? (তবুও কি তোমরা বলছ) আল্লাহর সঙ্গে অন্য প্রভু আছে? (না, বরং) তারা যাকে শরীক করে আল্লাহ তা থেকে বহু ঊর্ধ্বে।
৬৪

اَمَّنۡ یَّبۡدَؤُا الۡخَلۡقَ ثُمَّ یُعِیۡدُہٗ وَمَنۡ یَّرۡزُقُکُمۡ مِّنَ السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ ؕ ءَاِلٰہٌ مَّعَ اللّٰہِ ؕ قُلۡ ہَاتُوۡا بُرۡہَانَکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ٦٤

আম্মাইঁ ইয়াবদাউল খালকা ছুম্মা ইউ‘ঈদুহূওয়ামাইঁ ইয়ারঝুকুকুম মিনাছ ছামাই ওয়াল আরদি আ ইলা-হুম মা‘আল্লা-হি কুল হা-তূবুরহা-নাকুম ইন কুনতুম সা-দিকীন।

তবে কে তিনি, যিনি সমস্ত মাখলুককে প্রথমবার সৃষ্টি করেন, তারপর তাদেরকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন এবং যিনি আসমান ও যমীন থেকে তোমাদের রিযক সরবরাহ করেন? (তবুও কি তোমরা বলছ,) আল্লাহর সাথে অন্য কোন প্রভু আছেন? বল, তোমরা তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর যদি সত্যবাদী হও।
৬৫

قُلۡ لَّا یَعۡلَمُ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ الۡغَیۡبَ اِلَّا اللّٰہُ ؕ وَمَا یَشۡعُرُوۡنَ اَیَّانَ یُبۡعَثُوۡنَ ٦٥

কুল লা-ইয়া‘লামুমান ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিল গাইবা ইল্লাল্লা-হু ওয়ামাইয়াশ‘উরূনা আইয়া-না ইউব‘আছূন।

বলে দাও, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ ছাড়া কেউ গায়েব জানে না। ৩৭ এবং মানুষ জানে না তাদেরকে কখন পুনর্জীবিত করা হবে।

তাফসীরঃ

৩৭. আল্লাহ তাআলা ওহীর মাধ্যমে নবীদেরকে বিভিন্ন গায়েবী বিষয় সম্পর্কে অবহিত করতেন। গায়েবী খবরাখবর সর্বাপেক্ষা বেশি জানানো হয়েছিল আমাদের মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও গায়েবের যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে তিনি জ্ঞাত ছিলেন না। পরিপূর্ণ গায়েবী জ্ঞান কেবল আল্লাহ তাআলারই আছে। সুতরাং তাকে ছাড়া অন্য কাউকে ‘আলেমুল গায়েব’ বলা যায় না।
৬৬

بَلِ ادّٰرَکَ عِلۡمُہُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ ۟  بَلۡ ہُمۡ فِیۡ شَکٍّ مِّنۡہَا ۫۟  بَلۡ ہُمۡ مِّنۡہَا عَمُوۡنَ ٪ ٦٦

বালিদ দা-রাকা ‘ইলমুহুম ফিল আ-খিরাতি বাল হুম ফী শাক্কিম মিনহা-, বাল হুম মিনহা‘আমূন।

বরং আখেরাত সম্পর্কে তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) জ্ঞান সম্পূর্ণ অপারগ হয়ে গেছে; বরং তারা সে সম্বন্ধে সন্দেহে নিপতিত; বরং তারা সে সম্পর্কে অন্ধ।
৬৭

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا ءَاِذَا کُنَّا تُرٰبًا وَّاٰبَآؤُنَاۤ اَئِنَّا لَمُخۡرَجُوۡنَ ٦٧

ওয়া কা-লাল্লাযীনা কাফারূ আইযা-কুন্না-তুরা-বাওঁ ওয়াআ-বাউনা আইন্নালামুখরাজুন।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে তারা বলে, আমরা ও আমাদের বাপ-দাদাগণ যখন মাটি হয়ে যাব, তখনও কি আমাদেরকে সত্যি সত্যিই (কবর থেকে) বের করা হবে?
৬৮

لَقَدۡ وُعِدۡنَا ہٰذَا نَحۡنُ وَاٰبَآؤُنَا مِنۡ قَبۡلُ ۙ اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ ٦٨

লাকাদ উ‘ইদনা-হা-যা-নাহনুওয়া আ-বাউনা-মিন কাবলু ইন হাযাইল্লাআছা-তীরুল আওওয়ালীন।

আমাদেরকে ও আমাদের বাপ-দাদাদেরকে এ রকমের প্রতিশ্রুতি আগেও শোনানো হয়েছিল, (কিন্তু) প্রকৃতপক্ষে এসব পূর্ববর্তীদের কিস্সা-কাহিনী ছাড়া কিছুই নয়।
৬৯

قُلۡ سِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَانۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُجۡرِمِیۡنَ ٦٩

কুল ছীরূফিল আরদিফানজুরূকাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল মুজরিমীন।

বলে দাও, পৃথিবীতে ভ্রমণ করে দেখ অপরাধীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল?
৭০

وَلَا تَحۡزَنۡ عَلَیۡہِمۡ وَلَا تَکُنۡ فِیۡ ضَیۡقٍ مِّمَّا یَمۡکُرُوۡنَ ٧۰

ওয়ালা-তাহঝান ‘আলাইহিম ওয়ালা-তাকুন ফী দাইকিম মিম্মা-ইয়ামকুরূন।

(হে নবী!) তুমি তাদের প্রতি দুঃখ করো না। আর তারা যে চক্রান্ত করছে, তার জন্য কুণ্ঠাবোধ করো না।
৭১

وَیَقُوۡلُوۡنَ مَتٰی ہٰذَا الۡوَعۡدُ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ٧١

ওয়া ইয়াকূলূনা মাতা-হা-যাল ওয়া‘দুইন কুনতুম সা-দিকীন।

তারা (তোমাকে) বলে, তোমরা সত্যবাদী হলে (বল,) এ ওয়াদা পূরণ হবে কখন?
৭২

قُلۡ عَسٰۤی اَنۡ یَّکُوۡنَ رَدِفَ لَکُمۡ بَعۡضُ الَّذِیۡ تَسۡتَعۡجِلُوۡنَ ٧٢

কুল ‘আছাআইঁ ইয়াকূনা রাদিফা লাকুম বা‘দুল্লাযী তাছতা‘জিলূন।

বলে দাও, অসম্ভব নয় তোমরা যে আযাব তাড়াতাড়ি চাচ্ছ, তার কতক তোমাদের একদম কাছেই। ৩৮

তাফসীরঃ

৩৮. অর্থাৎ, কুফরের আসল শাস্তি তো আখেরাতেই হবে, তবে তার অংশবিশেষ তোমাদেরকে ইহকালেও ভোগ করতে হতে পারে। তা করতে হয়েছিল বৈকি! বদরের যুদ্ধে কুরাইশের বড়-বড় সর্দার মারা পড়েছিল আর বাকিদেরকে বরণ করতে হয়েছিল গ্লানিকর পরাজয়।
৭৩

وَاِنَّ رَبَّکَ لَذُوۡ فَضۡلٍ عَلَی النَّاسِ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ لَا یَشۡکُرُوۡنَ ٧٣

ওয়া ইন্না রাব্বাকা লাযূফাদলিন ‘আলান্না -ছি ওয়ালা-কিন্না আকছারাহুম লা-ইয়াশকুরূন।

বস্তুত তোমার প্রতিপালক মানুষের প্রতি অতি অনুগ্রহশীল কিন্তু তাদের অধিকাংশেই শুকর আদায় করে না।
৭৪

وَاِنَّ رَبَّکَ لَیَعۡلَمُ مَا تُکِنُّ صُدُوۡرُہُمۡ وَمَا یُعۡلِنُوۡنَ ٧٤

ওয়া ইন্না রাব্বাকা লাইয়া‘লামুমা-তুকিন্নুসুদূরুহুম ওয়ামা-ইউ‘লিনূন।

এবং নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক তাদের অন্তর যা-কিছু গোপন রাখে তাও জানেন এবং তারা যা-কিছু প্রকাশ করে তাও।
৭৫

وَمَا مِنۡ غَآئِبَۃٍ فِی السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ اِلَّا فِیۡ کِتٰبٍ مُّبِیۡنٍ ٧٥

ওয়ামা মিন গাইবাতিন ফিছছামাই ওয়াল আরদিইল্লা-ফী কিতা-বিম মুবীন।

আসমান ও যমীনে এমন কোন গুপ্ত বিষয় নেই, যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ নয়। ৩৯

তাফসীরঃ

৩৯. ‘সুস্পষ্ট কিতাব’ দ্বারা ‘লাওহে মাহফুজ’ বোঝানো হয়েছে।
৭৬

اِنَّ ہٰذَا الۡقُرۡاٰنَ یَقُصُّ عَلٰی بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ اَکۡثَرَ الَّذِیۡ ہُمۡ فِیۡہِ یَخۡتَلِفُوۡنَ ٧٦

ইন্না হা-যাল কুরআ-না ইয়াকু সসু‘আলা-বানীইছরাঈলা আকছারাল্লাযীহুমফীহি ইয়াখতালিফূন।

বস্তুত এ কুরআন বনী ইসরাঈলের সামনে (যথার্থরূপে) বিবৃত করে দেয় তারা যেসব বিষয়ে মতভেদ করে তার অধিকাংশ। ৪০

তাফসীরঃ

৪০. কুরআন মাজীদ যে আল্লাহ তাআলার সত্য কিতাব, তার অন্যতম এক প্রমাণ হল বিতর্কিত বিষয়ের মীমাংসা দান, বিশেষত বনী ইসরাঈলের বিতর্কিত বিষয়। তাদের বড়-বড় পণ্ডিতগণ যুগ-যুগ ধরে যেসব বিষয়ে বিতর্ক করে আসছে এবং কোন মীমাংসায় পৌঁছাতে পারছিল না, কুরআন মাজীদ সেসব বিষয়ের স্বরূপ উন্মোচন করে দিয়েছে। স্পষ্ট করে দিয়েছে কোনটা সত্য, কোনটা ভ্রান্ত। [যেমন হযরত মাসীহ (আ.) সম্পর্কে তাদের মধ্যে নানা মত। কেউ তাকে ঈশ্বর বা তার অবতার সাব্যস্ত করছে আবার কেউ তাকে মিথ্যুক বলছে। কুরআন মাজীদ মীমাংসা করে দিয়েছে যে, তাদের উভয় ধারণাই গলদ। প্রকৃত সত্য হচ্ছে তিনি একজন মানুষ ছিলেন এবং ছিলেন আল্লাহ তাআলার মনোনীত বান্দা ও বনী ইসরাঈলের প্রতি প্রেরিত তাঁর রাসূল। -অনুবাদক]
৭৭

وَاِنَّہٗ لَہُدًی وَّرَحۡمَۃٌ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ ٧٧

ওয়া ইন্নাহূলাহুদাওঁ ওয়া রাহমাতুল লিলমু’মিনীন।

নিশ্চয়ই এটা ঈমানদারদের জন্য হেদায়াত ও রহমত।
৭৮

اِنَّ رَبَّکَ یَقۡضِیۡ بَیۡنَہُمۡ بِحُکۡمِہٖ ۚ  وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡعَلِیۡمُ ۙۚ ٧٨

ইন্না রাব্বাকা ইয়াকদী বাইনাহুম বিহুকমিহী ওয়া হুওয়াল ‘আঝীঝুল ‘আলীম।

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক তাদের মধ্যে নিজ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফায়সালা করবেন। তিনি অতি ক্ষমতাবান, সর্বজ্ঞ।
৭৯

فَتَوَکَّلۡ عَلَی اللّٰہِ ؕ اِنَّکَ عَلَی الۡحَقِّ الۡمُبِیۡنِ ٧٩

ফাতাওয়াক্কাল ‘আলাল্লা-হি ইন্নাকা ‘আলাল হাক্কিল মুবীন।

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি আল্লাহর উপর ভরসা রাখ। নিশ্চয়ই তুমি সুস্পষ্ট সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
৮০

اِنَّکَ لَا تُسۡمِعُ الۡمَوۡتٰی وَلَا تُسۡمِعُ الصُّمَّ الدُّعَآءَ اِذَا وَلَّوۡا مُدۡبِرِیۡنَ ٨۰

ইন্নাকা লা-তুছমি‘উল মাওতা-ওয়ালা-তুছমি‘উসসু ম্মাদ দু‘আ-আ ইযা-ওয়াল্লাও মুদবিরীন।

স্মরণ রেখ, তুমি মৃতদেরকে (তোমার কথা) শোনাতে পারবে না এবং বধিরকেও পারবে না ডাক শোনাতে, যখন তারা পেছন ফিরে চলে যায়।
৮১

وَمَاۤ اَنۡتَ بِہٰدِی الۡعُمۡیِ عَنۡ ضَلٰلَتِہِمۡ ؕ اِنۡ تُسۡمِعُ اِلَّا مَنۡ یُّؤۡمِنُ بِاٰیٰتِنَا فَہُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ ٨١

ওয়ামাআনতা বিহা-দিল ‘উময়ি ‘আন দালা-লাতিহিম ইন তুছমি‘উ ইল্লা-মাইঁ ইউ‘মিনু বিআ-য়া-তিনা-ফাহুম মুছলিমূন।

আর তুমি অন্ধদেরকেও তাদের পথভ্রষ্টতা হতে মুক্ত করে সঠিক পথে আনতে পারবে না। তুমি তো কথা শোনাতে পারবে কেবল তাদেরকেই যারা আমার আয়াতসমূহে ঈমান আনে অতঃপর তারাই হবে আনুগত্য স্বীকারকারী।
৮২

وَاِذَا وَقَعَ الۡقَوۡلُ عَلَیۡہِمۡ اَخۡرَجۡنَا لَہُمۡ دَآبَّۃً مِّنَ الۡاَرۡضِ تُکَلِّمُہُمۡ ۙ  اَنَّ النَّاسَ کَانُوۡا بِاٰیٰتِنَا لَا یُوۡقِنُوۡنَ ٪ ٨٢

ওয়া ইযা-ওয়াকা‘আল কাওলু‘আলাইহিম আখরাজনা-লাহুম দাব্বাতাম মিনাল আরদি তুকালিলমুহুম আন্নান্না-ছা কা-নূবিআ-য়া-তিনা-লা-ইঊকিনূন।

যখন তাদের সামনে আমার কথা পূর্ণ হওয়ার সময় এসে পড়বে, ৪১ তখন তাদের জন্য ভূমি থেকে এক জন্তু বের করব, যা তাদের সাথে কথা বলবে, যেহেতু মানুষ আমার আয়াতসমূহে ঈমান আনছিল না। ৪২

তাফসীরঃ

৪১. এটা কিয়ামতের বিলকুল শেষ দিকের একটি আলামত। কিয়ামত যখন একেবারে কাছে এসে যাবে, তখন আল্লাহ তাআলা ভূমি থেকে অদ্ভুত রকমের একটি জীব সৃষ্টি করবেন। সেটি মানুষের সাথে কথা বলবে। কোন কোন রেওয়ায়েত দ্বারা জানা যায় সে জীবটির আবির্ভাবের পর তাওবার দুয়ার বন্ধ হয়ে যাবে এবং অবিলম্বেই কিয়ামত হয়ে যাবে।
৮৩

وَیَوۡمَ نَحۡشُرُ مِنۡ کُلِّ اُمَّۃٍ فَوۡجًا مِّمَّنۡ یُّکَذِّبُ بِاٰیٰتِنَا فَہُمۡ یُوۡزَعُوۡنَ ٨٣

ওয়া ইয়াওমা নাহশুরু মিন কুল্লি উম্মাতিন ফাওজাম মিম্মাইঁ ইউকাযযিবুবিআ-য়া-তিনা-ফাহুম ইউঝা‘ঊন।

এবং সেই দিনকে ভুলো না, যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একেকটি দলকে সমবেত করব, যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করত। তারপর তাদেরকে শ্রেণীবদ্ধ করা হবে।
৮৪

حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوۡ قَالَ اَکَذَّبۡتُمۡ بِاٰیٰتِیۡ وَلَمۡ تُحِیۡطُوۡا بِہَا عِلۡمًا اَمَّاذَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ٨٤

হাত্তাইযা- জাঊকা-লা আকাযযাবতুমবিআ-য়া-তী ওয়া লাম তুহীতূবিহা‘ইলমান আম্মা-যা-কুনতুম তা‘মালূন।

পরিশেষে যখন সকলেই এসে পৌঁছবে, তখন আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি ভালোভাবে না জেনেই আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছিলে কিংবা তোমরা আসলে কী করছিলে? ৪৩

তাফসীরঃ

৪৩. আল্লাহ তা‘আলা ভালোভাবেই জানেন তারা কি করেছিল, তা সত্ত্বেও তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন তিরস্কারস্বরূপ। প্রথমে তিরস্কার করবেন কোনরূপ চিন্তা-ভাবনা না করে ও ভালোভাবে না বুঝে কেন তারা সত্যের বাণী প্রত্যাখ্যান করল সেজন্য। অর্থাৎ তারা যদি একটু মাথা খাটাত তবে তো তার সত্যতা বুঝতে পারত এবং ঈমান আনার পক্ষে তা সহায়ক হত আর তা হলে আখিরাতে এই দূরবস্থার সম্মুখীন হতে হত না। তারপর তিরস্কার করবেন তাদের কৃতকর্মের ব্যাপারে যে, চিন্তা-ভাবনা না করে আমার বাণী প্রত্যাখ্যান তো করেছই, তা ছাড়াও তো আরও কত অন্যায়-অপরাধ তোমরা করেছ। তা বল তো তোমরা আর কি কি করেছ? পরের আয়াতে জানানো হয়েছে, আখিরাতের বিভীষিকা দেখে তাদের পক্ষে এর কোন জবাব দেওয়া সম্ভব হবে না। -অনুবাদক
৮৫

وَوَقَعَ الۡقَوۡلُ عَلَیۡہِمۡ بِمَا ظَلَمُوۡا فَہُمۡ لَا یَنۡطِقُوۡنَ ٨٥

ওয়া-ওয়াকা‘আল কাওলু‘আলাইহিম বিমা-জালামূফাহুম লা-ইয়ানতিকূন।

তারা জুলুম করেছিল, সে কারণে তাদের প্রতি শাস্তিবাণী কার্যকর হয়ে যাবে। ফলে তারা কিছুই বলতে পারবে না।
৮৬

اَلَمۡ یَرَوۡا اَنَّا جَعَلۡنَا الَّیۡلَ لِیَسۡکُنُوۡا فِیۡہِ وَالنَّہَارَ مُبۡصِرًا ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ ٨٦

আলাম ইয়ারাও আন্না-জা‘আলনাল্লাইলা লিইয়াছকুনূফীহি ওয়ান্নাহা-রা মুবসিরান ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইউ’মিনূন।

তারা কি দেখেনি আমি রাত সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা তখন বিশ্রাম নিতে পারে আর দিন সৃষ্টি করেছি এমনভাবে, যাতে তখন সবকিছু দৃষ্টিগোচর হয়। নিশ্চয়ই যে সকল লোক ঈমান আনে তাদের জন্য এর ভেতর বহু নিদর্শন আছে। ৪৪

তাফসীরঃ

৪৪. অর্থাৎ রাত-দিনের পরিবর্তনের মধ্যে চিন্তা করলে তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাত সম্পর্কে শিক্ষালাভ হয়। কেননা একই নিয়মের অধীনে যেভাবে রাত-দিনের নিরবচ্ছিন্ন পালাবদল হচ্ছে তা এক লা-শারীক সর্বশক্তিমান সত্তার ইচ্ছা ছাড়া সম্ভব নয়। এরূপ একাধিক সত্তা থাকলে এ শৃঙ্খলায় ভাঙ্গন অনিবার্য হয়ে যেত। এটা তাওহীদের প্রমাণ রিসালাতের শিক্ষালাভ হয় এভাবে যে, যেই আল্লাহ অন্ধকার রাতের পর দিনের আলো দিয়ে মানুষের দৈহিক ও বাহ্যিক প্রতিপালনের ব্যবস্থা করেছেন, তিনি তাদের আত্মিক ও অভ্যন্তরীণ পালন-পরিচর্যার জন্য হিদায়াতের আলো দান করবেন না এটা কি করে সম্ভব। বস্তুত সেই আলো বিতরণের জন্যই নবী-রাসূল প্রেরণের ধারা চালু করেছেন যার সর্বশেষ জ্যোতিষ্ক হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আর আখিরাতের শিক্ষালাভ এভাবে হয় যে, রাতের বেলা মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম মৃত্যুসদৃশ একটা অবস্থা। দিনের আলো ফুটলে আল্লাহ তাআলা মানুষকে ঘুমের সাময়িক মৃত্যু থেকে জীবিত করে তোলেন। ঠিক এভাবেই তিনি আয়ু শেষের আসল মৃত্যু থেকেও মানুষকে একদিন পুনর্জীবিত করবেন। সেটাই আখিরাত। মোটকথা চিন্তাভাবনা করলে বিশ্ববাসীগণ এর থেকে দীন ও ঈমানের বহু শিক্ষা লাভ করতে পারে (-অনুবাদক, তাফসীরে উছমানী অবলম্বনে)।
৮৭

وَیَوۡمَ یُنۡفَخُ فِی الصُّوۡرِ فَفَزِعَ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَمَنۡ فِی الۡاَرۡضِ اِلَّا مَنۡ شَآءَ اللّٰہُ ؕ وَکُلٌّ اَتَوۡہُ دٰخِرِیۡنَ ٨٧

ওয়া ইয়াওমা ইউনফাখুফিসসূরি ফাফাঝি‘আ মান ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়া মান ফিল আরদি ইল্লা-মান শাআল্লা-হু ওয়া কুললন আতাওহু দা-খিরীন।

যে দিন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে, সে দিন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যারা আছে সকলেই ঘাবড়ে যাবে, আল্লাহ যাদের ব্যাপারে ইচ্ছা করবেন তারা ছাড়া ৪৫ এবং সকলেই আনত হয়ে তার সামনে উপস্থিত হবে।

তাফসীরঃ

৪৫. ‘আল্লাহ যাদের ব্যাপারে ইচ্ছা করবেন তারা ছাড়া’এর ব্যাখ্যা সামনে ৮৯ নং আয়াতে আসছে। অর্থাৎ এরা সেইসব লোক, যারা আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হবে সৎকর্ম নিয়ে। কোন কোন বর্ণনায় প্রকাশ, এরা হল আল্লাহর পথে যারা প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছে, সেই শহীদগণ।
৮৮

وَتَرَی الۡجِبَالَ تَحۡسَبُہَا جَامِدَۃً وَّہِیَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ ؕ صُنۡعَ اللّٰہِ الَّذِیۡۤ اَتۡقَنَ کُلَّ شَیۡءٍ ؕ اِنَّہٗ خَبِیۡرٌۢ بِمَا تَفۡعَلُوۡنَ ٨٨

ওয়া তারাল জিবা-লা তাহছাবুহা-জা-মিদাতাওঁ ওয়াহিয়া তামুররু মাররাছছাহা-বি সুন‘আল্লা-হিল্লাযী আতকানা কুল্লা শাইয়িন ইন্নাহূখাবীরুম বিমা-তাফ‘আলূন।

তোমরা (আজ) পাহাড়কে দেখে মনে কর তা আপন স্থানে অচল, অথচ (সে দিন) তা সঞ্চরণ করবে, যেমন সঞ্চরণ করে মেঘমালা। এসবই আল্লাহর কর্ম-কুশলতা, যিনি সকল বস্তু সুদৃঢ়ভাবে সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই তোমরা যা-কিছু কর তিনি তা সম্যক অবহিত।
৮৯

مَنۡ جَآءَ بِالۡحَسَنَۃِ فَلَہٗ خَیۡرٌ مِّنۡہَا ۚ وَہُمۡ مِّنۡ فَزَعٍ یَّوۡمَئِذٍ اٰمِنُوۡنَ ٨٩

মান জাআ বিলহাছানাতি ফালাহূখাইরুম মিনহা- ওয়া হুম মিন ফাঝাইয়ঁইয়াওমাইযিন আ-মিনূন।

যে-কেউ সৎকর্মসহ আসবে, সে তদপেক্ষা উৎকৃষ্ট প্রতিফল পাবে। ৪৬ তারা সে দিন সর্বপ্রকার ভয়-ভীতি হতে নিরাপদ থাকবে।

তাফসীরঃ

৪৬. আল্লাহ তাআলার ওয়াদা হল তিনি প্রতিটি সৎকর্মের সওয়াব দিবেন তার দশগুণ।
৯০

وَمَنۡ جَآءَ بِالسَّیِّئَۃِ فَکُبَّتۡ وُجُوۡہُہُمۡ فِی النَّارِ ؕ ہَلۡ تُجۡزَوۡنَ اِلَّا مَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ٩۰

ওয়া মান জাআ বিছছাইয়িআতি ফাকুব্বাত উজূহুহুম ফিন্না-রি হাল তুজঝাওনা ইল্লা-মাকনতুম তা‘মালূন।

আর যে-কেউ মন্দকর্ম নিয়ে আসবে, তাদেরকে উল্টো-মুখো করে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। তোমাদেরকে তো কেবল তোমরা যা করতে তারই শাস্তি দেওয়া হবে।
৯১

اِنَّمَاۤ اُمِرۡتُ اَنۡ اَعۡبُدَ رَبَّ ہٰذِہِ الۡبَلۡدَۃِ الَّذِیۡ حَرَّمَہَا وَلَہٗ کُلُّ شَیۡءٍ ۫  وَّاُمِرۡتُ اَنۡ اَکُوۡنَ مِنَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ۙ ٩١

ইন্নামা উমিরতুআন আ‘বুদা রাব্বা হা-যিহিল বালদাতিল্লাযী হাররামাহা-ওয়ালাহূকুল্লু শাইয়িওঁ ওয়া উমিরতুআন আকূনা মিনাল মুছলিমীন।

(হে রাসূল! তাদেরকে বলে দাও) আমাকে তো কেবল এ হুকুমই দেওয়া হয়েছে যে, আমি যেন এই নগরের প্রতিপালকের ইবাদত করি, যিনি এ নগরকে মর্যাদা দান করেছেন। তিনিই সবকিছুর মালিক এবং আমাকে আদেশ করা হয়েছে, যেন আমি আনুগত্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত থাকি।
৯২

وَاَنۡ اَتۡلُوَا الۡقُرۡاٰنَ ۚ فَمَنِ اہۡتَدٰی فَاِنَّمَا یَہۡتَدِیۡ لِنَفۡسِہٖ ۚ وَمَنۡ ضَلَّ فَقُلۡ اِنَّمَاۤ اَنَا مِنَ الۡمُنۡذِرِیۡنَ ٩٢

ওয়া আন আতলুওয়াল কুরআ-না ফামানিহ তাদা-ফাইন্নামা-ইয়াহতাদী লিনাফছিহী ওয়া মান দাল্লা ফাকুল ইন্নামা আনা মিনাল মুনযিরীন।

এবং আমি যেন কুরআন তিলাওয়াত করি। যে ব্যক্তি হেদায়াতের পথে আসবে, সে হেদায়াতের পথে আসবে নিজেরই কল্যাণার্থে। আর কেউ পথভ্রষ্টতা অবলম্বন করলে বলে দাও, আমি তো সতর্ককারীদেরই একজন।
৯৩

وَقُلِ الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ سَیُرِیۡکُمۡ اٰیٰتِہٖ فَتَعۡرِفُوۡنَہَا ؕ  وَمَا رَبُّکَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعۡمَلُوۡنَ ٪ ٩٣

ওয়া কুল্লি হামদুলিল্লা-হি ছাইউরীকুম আ-য়া-তিহী ফাতা‘রিফূনাহা- ওয়ামা-রাব্বুকা বিগা-ফিলিন ‘আম্মা-তা‘মালূন।

এবং বলে দাও, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। তিনি তোমাদেরকে নিজ নিদর্শনসমূহ দেখাবেন। অতঃপর তোমরা তা চিনতেও পারবে। ৪৭ তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের কার্যাবলী সম্পর্কে অনবহিত নন।

তাফসীরঃ

৪৭. আল্লাহ তাআলা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যতা ও আপন কুদরতের বহু নিদর্শন মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন এবং মানুষ তা প্রত্যক্ষও করেছে, যেমন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহীর ভিত্তিতে বিভিন্ন বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, যা মানুষ বাস্তবায়িত হতে দেখেছে। সামনে সূরা ‘রূম’-এর শুরুতে এর একটা উদাহরণ আসছে। আয়াতে নিদর্শনাবলী বলতে এ জাতীয় নিদর্শনও বোঝানো হতে পারে আবার এটাও সম্ভব যে, এর দ্বারা কিয়ামত বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, কিয়ামত তো একদিন সংঘটিত হবেই আর যখন তা সংঘটিত হবে, তখন অবিশ্বাসীরাও চিনতে ও বুঝতে পারবে যে, তা কিয়ামত। কিন্তু তখন বুঝে তো কোন লাভ হবে না, যেহেতু ঈমান আনার সময় পার হয়ে গেছে।