সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আশ শুআরা' (الشعراء) | কবিগণ

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ২২৭

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

طٰسٓمّٓ ١

তা-ছীম মীম।

তোয়া-সীম-মীম।

তাফসীরঃ

১. সূরা বাকারায় শুরুতে বলা হয়েছিল যে, বিভিন্ন সূরার প্রারম্ভে যে বিচ্ছিন্ন হরফসমূহ ব্যবহৃত হয়েছে, তাকে ‘আল-হুরূফুল মুকাত্তাআত’ বলে। এর প্রকৃত মর্ম আল্লাহ তাআলা ছাড়া কেউ জানে না।

تِلۡکَ اٰیٰتُ الۡکِتٰبِ الۡمُبِیۡنِ ٢

তিলকা আ-য়া-তুল কিতা-বিল মুবীন।

এগুলি সত্যকে সুস্পষ্টকারী কিতাবের আয়াত।

لَعَلَّکَ بَاخِعٌ نَّفۡسَکَ اَلَّا یَکُوۡنُوۡا مُؤۡمِنِیۡنَ ٣

লা‘আল্লাকা বা-খি‘উন নাফছাকা আল্লা-ইয়াকূনূমু’মিনীন।

(হে রাসূল!) তারা ঈমান (কেন) আনছে না, এই দুঃখে হয়ত তুমি আত্মবিনাশী হয়ে যাবে!

اِنۡ نَّشَاۡ نُنَزِّلۡ عَلَیۡہِمۡ مِّنَ السَّمَآءِ اٰیَۃً فَظَلَّتۡ اَعۡنَاقُہُمۡ لَہَا خٰضِعِیۡنَ ٤

ইন নাশা’ নুনাঝঝিল ‘আলাইহিম মিনাছছামাইআ-ইয়াতান ফাজাল্লাত আ‘না-কুহুম লাহা খা-দি‘ঈন।

আমি ইচ্ছা করলে আকাশ থেকে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ করতাম, ফলে তার সামনে তাদের ঘাড় নুয়ে যেত।

তাফসীরঃ

২. অর্থাৎ, তাদেরকে ঈমান আনতে বাধ্য করাটা আল্লাহ তাআলার পক্ষে কিছু কঠিন ছিল না। কিন্তু এ দুনিয়ায় মানুষ পাঠানোর উদ্দেশ্য তো এ নয় যে, তাদেরকে জবরদস্তিমূলকভাবে মুমিন বানানো হবে। বরং মানুষের কাছে দাবি হল, কোন রকম জোর-জবরদস্তি ছাড়াই তারাই নিজ বুদ্ধি-বিবেক খাটিয়ে এবং নিদর্শনাবলীর মধ্যে চিন্তা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঈমান আনুক। তারা এরূপ করে কিনা সে পরীক্ষার জন্যই আল্লাহ তাআলা মানুষকে এ দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। কাজেই তারা যদি ঈমান না আনে, তবে ক্ষতি তাদেরই। সেজন্য আপনার এতটা দুঃখ কাতর হওয়া উচিত নয় যে, আপনি একেবারে আত্মনাশী হয়ে পড়বেন।

وَمَا یَاۡتِیۡہِمۡ مِّنۡ ذِکۡرٍ مِّنَ الرَّحۡمٰنِ مُحۡدَثٍ اِلَّا کَانُوۡا عَنۡہُ مُعۡرِضِیۡنَ ٥

ওয়ামা-ইয়াতীহিম মিন যিকরিম মিনার রাহমা-নি মুহদাছিনইল্লা-কা-নূ‘আনহু মু‘রিদীন।

(তাদের অবস্থা তো এই যে,) তাদের সামনে দয়াময় আল্লাহর পক্ষ হতে যখনই নতুন কোন উপদেশ আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

فَقَدۡ کَذَّبُوۡا فَسَیَاۡتِیۡہِمۡ اَنۡۢبٰٓؤُا مَا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ٦

ফাকাদ কাযযাবূফাছাইয়া’তীহিম আমবাউ মা-কা-নূবিহী ইয়াছতাহঝিউন।

এভাবে তারা তো সত্য প্রত্যাখ্যান করেছে। সুতরাং তারা যে বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, অচিরেই তার প্রকৃত সংবাদ তাদের কাছে এসে যাবে

তাফসীরঃ

৩. ‘সংবাদ’ বলে ঠাট্টা-বিদ্রূপের শাস্তি বোঝানো হয়েছে, যা তাদেরকে নগদ দুনিয়াতেই কিংবা আখিরাতে দেওয়া হবে। শাস্তিকে ‘সংবাদ’ বলা হয়েছে এ কারণে যে, কুরআন সে সম্পর্কে সংবাদ দান করেছে। অথবা সংবাদ দ্বারা যেমন অজ্ঞাত বিষয়ে জ্ঞান লাভ হয়, তেমনি সেই শাস্তি দ্বারা কুরআনের সত্যতা সম্পর্কে চাক্ষুষ জ্ঞান লাভ হবে বলে তাকে ‘সংবাদ’ শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। -অনুবাদক

اَوَلَمۡ یَرَوۡا اِلَی الۡاَرۡضِ کَمۡ اَنۡۢبَتۡنَا فِیۡہَا مِنۡ کُلِّ زَوۡجٍ کَرِیۡمٍ ٧

আওয়ালাম ইয়ারাও ইলাল আরদিকাম আমবাতনা-ফীহা-মিন কুল্লি ঝাওজিন কারীম।

তারা কি ভূমির প্রতি লক্ষ্য করেনি, আমি তাতে সর্বপ্রকার উৎকৃষ্ট বস্তু হতে কত কিছু উৎপন্ন করেছি?

اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً ؕ وَمَا کَانَ اَکۡثَرُہُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ٨

ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়াতাওঁ ওয়ামা-কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন।

নিশ্চয়ই এর মধ্যে আছে নিদর্শন। তথাপি তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনে না।

وَاِنَّ رَبَّکَ لَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ٪ ٩

ওয়া ইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আঝীঝুর রাহীম।

নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক তিনিই পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
১০

وَاِذۡ نَادٰی رَبُّکَ مُوۡسٰۤی اَنِ ائۡتِ الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ ۙ ١۰

ওয়া ইযনা-দা-রাব্বুকা মূছা-আনি’তিল কাওমাজ্জা-লিমীন।

(সেই সময়ের বৃত্তান্ত শোন), যখন তোমার প্রতিপালক মূসাকে ডেকে বলেছিলেন, তুমি ওই জালেম সম্প্রদায়ের কাছে যাও
১১

قَوۡمَ فِرۡعَوۡنَ ؕ اَلَا یَتَّقُوۡنَ ١١

কাওমা ফির‘আওনা আলা-ইয়াত্তাকূন।

ফেরাউনের সম্প্রদায়ের কাছে। তারা কি আল্লাহকে ভয় করে না?
১২

قَالَ رَبِّ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اَنۡ یُّکَذِّبُوۡنِ ؕ ١٢

কা-লা রাব্বি ইন্নী-আখা-ফুআইঁ ইউকাযযি বূন।

মূসা বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার আশঙ্কা তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।
১৩

وَیَضِیۡقُ صَدۡرِیۡ وَلَا یَنۡطَلِقُ لِسَانِیۡ فَاَرۡسِلۡ اِلٰی ہٰرُوۡنَ ١٣

ওয়া ইয়াদীকুসাদরী ওয়ালা-ইয়ানতলিকুলিছা-নী ফাআরছিল ইলা-হা-রূন।

আমার অন্তর সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে এবং আমার জিহ্বাও স্বচ্ছন্দে চলে না। সুতরাং হারূনের কাছেও (নবুওয়াতের) বার্তা পাঠান
১৪

وَلَہُمۡ عَلَیَّ ذَنۡۢبٌ فَاَخَافُ اَنۡ یَّقۡتُلُوۡنِ ۚ ١٤

ওয়ালাহুম ‘আলাইইয়া যামবুন ফাআখা-ফুআইঁ ইয়াকতুলূন।

আর আমার বিরুদ্ধে তো তাদের একটা অভিযোগও আছে। তাই আমার ভয়, তারা আমাকে হত্যা করবে।

তাফসীরঃ

৪. একবার এক কিবতী এক ইসরাঈলীর উপর জুলুম করছিল। ঘটনাটি হযরত মূসা আলাইহিস সালামের সামনে পড়ে যায়। তিনি মজলুমকে বাঁচানোর জন্য জালেমকে একটি ঘুষি মারেন। সেই এক ঘুষিতে লোকটির মৃত্যু হয়ে যায়। ফলে তার উপর স্থানীয় কিবতীকে হত্যা করার অভিযোগ উত্থাপিত হয়। আয়াতের ইশারা সে দিকেই। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সামনে সূরা কাসাস (সূরা নং ২৮)-এ আসছে।
১৫

قَالَ کَلَّا ۚ فَاذۡہَبَا بِاٰیٰتِنَاۤ اِنَّا مَعَکُمۡ مُّسۡتَمِعُوۡنَ ١٥

কা-লা কাল্লা- ফাযহাবা-বিআ-য়া-তিনাইন্না মা‘আকুম মুছতামি‘উন।

আল্লাহ বললেন, কখনও নয়। তোমরা আমার নিদর্শনাবলী নিয়ে যাও। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সঙ্গে আছি, সবকিছু শুনতে থাকব।
১৬

فَاۡتِیَا فِرۡعَوۡنَ فَقُوۡلَاۤ اِنَّا رَسُوۡلُ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ ١٦

ফা’তিইয়া-ফির‘আওনা ফাকূলা ইন্না-রাছূলুরাব্বিল ‘আ-লামীন।

সুতরাং তোমরা ফির‘আউনের কাছে যাও এবং বল, আমরা রাব্বুল আলামীনের রাসূল।
১৭

اَنۡ اَرۡسِلۡ مَعَنَا بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ؕ ١٧

আন আরছিল মা‘আনা-বানীইছরাঈল।

(আমরা এই বার্তা নিয়ে এসেছি যে,) তুমি বনী ইসরাঈলকে আমাদের সঙ্গে যেতে দাও।

তাফসীরঃ

৫. বনী ইসরাঈল অর্থ ইসরাঈলের বংশধর। ইসরাঈল হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের আরেক নাম। তাঁর বংশধরগণকেই বনী ইসরাঈল বলা হয়। তারা ফিলিস্তিনের কানআন এলাকায় বাস করত। কিন্তু হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম যখন মিসরের শাসনক্ষমতা লাভ করেন, তখন তিনি তাঁর খান্দান তথা বনী ইসরাঈলের সকলকে মিসরে নিয়ে যান। সেখানে তারা দীর্ঘকাল বসবাস করে। সূরা ইউসুফে এ ঘটনা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। প্রথম দিকে তো তারা সম্মান ও শান্তির সাথেই বসবাস করছিল। কিন্তু হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের পর পরিস্থিতির ক্রম অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে মিসরের রাজাগণ, যাদেরকে ফির‘আউন বলা হত, তাদেরকে দাসরূপে ব্যবহার করতে শুরু করে এবং তাদের প্রতি নানা রকম জুলুম-নির্যাতন চালাতে থাকে।
১৮

قَالَ اَلَمۡ نُرَبِّکَ فِیۡنَا وَلِیۡدًا وَّلَبِثۡتَ فِیۡنَا مِنۡ عُمُرِکَ سِنِیۡنَ ۙ ١٨

কা-লা আলাম নুরাব্বিকা ফীনা-ওয়ালীদাওঁ ওয়ালাবিছতা ফীনা-মিন ‘উমুরিকা ছিনীন।

ফেরাউন (একথার উত্তরে হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে) বলল, আমরা কি তোমাকে তোমার শিশুকালে আমাদের মধ্যে লালন-পালন করিনি? তুমি তো তোমার জীবনের বহু বছর আমাদের মাঝেই কাটিয়েছ।

তাফসীরঃ

৬. সূরা তোয়াহা (২০ : ৩৯) এ ঘটনা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।
১৯

وَفَعَلۡتَ فَعۡلَتَکَ الَّتِیۡ فَعَلۡتَ وَاَنۡتَ مِنَ الۡکٰفِرِیۡنَ ١٩

ওয়া ফা‘আলতা ফা‘লাতাকাল্লাতী ফা‘আলতা ওয়াআনতা মিনাল কা-ফিরীন।

আর তোমার যে কা- তুমি করেছিলে সে তো করেছই। বস্তুত তুমি একজন অকৃতজ্ঞ লোক।

তাফসীরঃ

৭. পূর্বে ৩নং টীকায় যে ঘটনার কথা সংক্ষেপে বলা হয়েছে এ ইঙ্গিত তারই প্রতি।
২০

قَالَ فَعَلۡتُہَاۤ اِذًا وَّاَنَا مِنَ الضَّآلِّیۡنَ ؕ ٢۰

কা-লা ফা‘আলতুহা ইযাওঁ ওয়া আনা মিনাদ্দাল্লীন।

মূসা বলল, আমি সে কাজটি এমন অবস্থায় করেছিলাম যখন আমি ছিলাম অজ্ঞ।

তাফসীরঃ

৮. অর্থাৎ, একটা মাত্র ঘুষিতেই লোকটা মারা যাবে সে কথা আমার জানা ছিল না।
২১

فَفَرَرۡتُ مِنۡکُمۡ لَمَّا خِفۡتُکُمۡ فَوَہَبَ لِیۡ رَبِّیۡ حُکۡمًا وَّجَعَلَنِیۡ مِنَ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ٢١

ফাফারারতুমিনকুমলাম্মা-খিফতুকুম ফাওয়াহাবালী রাববী হুকমাওঁ ওয়া জা‘আলানী মিনাল মুরছালীন।

অতঃপর আমি যখন তোমাদেরকে ভয় করলাম, তখন তোমাদের থেকে পালিয়ে গেলাম। তারপর আমার প্রতিপালক আমাকে হেকমত দান করলেন এবং আমাকে রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত করলেন।

তাফসীরঃ

৯. কিবতী হত্যার কারণে হুলিয়া জারি হলে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম পালিয়ে মাদইয়ান চলে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে তাকে নবুওয়াত দান করা হয়। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সামনের সূরা কাসাস (সূরা নং ২৮)-এ আসছে।
২২

وَتِلۡکَ نِعۡمَۃٌ تَمُنُّہَا عَلَیَّ اَنۡ عَبَّدۡتَّ بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ؕ ٢٢

ওয়া তিলকা নি‘মাতুন তামুননুহা-‘আলাইইয়া আন ‘আব্বাত্তা বানীইছরাঈল।

আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের খোঁটা দিচ্ছ, তার স্বরূপ তো এই যে, তুমি বনী ইসরাঈলকে দাস বানিয়ে রেখেছ।
২৩

قَالَ فِرۡعَوۡنُ وَمَا رَبُّ الۡعٰلَمِیۡنَ ؕ ٢٣

কা-লা ফির‘আওনুওয়ামা-রাব্বুল ‘আ-লামীন।

ফেরাউন বলল, রাব্বুল আলামীন আবার কী?
২৪

قَالَ رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا ؕ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّوۡقِنِیۡنَ ٢٤

কা-লা রাব্বুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়ামা-বাইনাহুমা- ইন কুনতুম মূকিনীন।

মূসা বলল, তিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর প্রতিপালক যদি তোমাদের বাস্তবিকই বিশ্বাস করার থাকে।
২৫

قَالَ لِمَنۡ حَوۡلَہٗۤ اَلَا تَسۡتَمِعُوۡنَ ٢٥

কা-লা লিমান হাওলাহূ আলা-তাছতামি‘উন।

ফেরাউন তার আশপাশের লোকদেরকে বলল, তোমরা শুনছ কি না? ১০

তাফসীরঃ

১০. ফেরাউন যে প্রশ্ন করেছিল তার সারমর্ম ছিল, ‘রাব্বুল আলামীন’ এর স্বরূপ কী, তা ব্যাখ্যা কর। আর হযরত মূসা আলাইহিস সালামের দেওয়া উত্তরের সারমর্ম হল, আল্লাহ তাআলার সত্তা কেমন, তাঁর স্বরূপ কী, তা জানা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। হাঁ, তাঁকে চেনা যায় তাঁর সিফাত বা গুণাবলীর দ্বারা। তাই হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উত্তরে আল্লাহ তাআলার সিফাতই উল্লেখ করেছেন। তা শুনে ফির‘আউন মন্তব্য করল, এ লোকটা বদ্ধ পাগল। প্রশ্ন করেছি কী, আর উত্তর দেয় কী! প্রশ্ন ছিল স্বরূপ সম্পর্কে, কিন্তু উত্তরে তাঁর গুণ বর্ণনা করছে। [অথবা এর অর্থ, দেখ তার ধৃষ্টতা! কেবল আসমান-যমীনের রব বলেই ক্ষান্ত হচ্ছে না। তাকে আমার ও আমাদের বাপ-দাদাদেরও রব বলছে। পাগল না হলে কেউ আমার মুখের উপর এমন ভয়ংকর কথা বলতে পারে? -অনুবাদক]
২৬

قَالَ رَبُّکُمۡ وَرَبُّ اٰبَآئِکُمُ الۡاَوَّلِیۡنَ ٢٦

কা-লা রাব্বুকুম ওয়ারাব্বুআবাইকুমুল আওওয়ালীন।

মূসা বলল, তিনি তোমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদেরও প্রতিপালক।
২৭

قَالَ اِنَّ رَسُوۡلَکُمُ الَّذِیۡۤ اُرۡسِلَ اِلَیۡکُمۡ لَمَجۡنُوۡنٌ ٢٧

কা-লা ইন্না রাছূলাকুমুল্লাযী উরছিলা ইলাইকুম লামাজনূন।

ফেরাউন বলল, তোমাদের এই রাসূল, যাকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে, একেবারেই উন্মাদ! ১১

তাফসীরঃ

১১. অর্থাৎ তোমরা শুনছ সে কী বলছে, আসমান-যমীনে আমি ছাড়া আরও নাকি রব আছে! তোমরা কি বিশ্বাস কর তার এ কথা? এই বলে সে তাদেরকে উত্তেজিত করতে চাচ্ছিল।
২৮

قَالَ رَبُّ الۡمَشۡرِقِ وَالۡمَغۡرِبِ وَمَا بَیۡنَہُمَا ؕ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡقِلُوۡنَ ٢٨

কা-লা রাব্বুল মাশরিকিওয়াল মাগরিবি ওয়ামা-বাইনাহুমা- ইন কুনতুম তা‘কিলূন।

মূসা বলল, তিনি প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের প্রতিপালক এবং এ দুয়ের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছুরও যদি তোমরা বুদ্ধির সদ্ব্যবহার কর। ১২

তাফসীরঃ

১২. অর্থাৎ তোমরা আমাকে উন্মাদ বলছ কি, নিজেদের আকলের খবর নাও। বুদ্ধি সুস্থ থাকলে সৃষ্টিকে স্রষ্টা বানাতে না। বরং বুঝতে পারতে এই মহাবিশ্ব ও এর অন্তর্গত অগণ্য সৃষ্টির সুষ্ঠু-সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা যিনি করেন, রব কেবল তিনিই। আর এ কাজ আল্লাহ ছাড়া আর কেউ করতে পারে না। সুতরাং তাকে ছাড়া আর কাউকে রব বানিয়ে তার ইবাদত করারও কোন বৈধতা নেই। এই যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য শুনে ফিরআউন সম্পূর্ণ নিরুত্তর হয়ে গেল। অগত্যা ক্ষমতাদর্পী শাসকেরা যা করে থাকে, সেও তাই করল। হুমকি দিল মূসা আলাইহিস সালাম এসব কথা থেকে ক্ষান্ত না হলে সে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। -অনুবাদক
২৯

قَالَ لَئِنِ اتَّخَذۡتَ اِلٰـہًا غَیۡرِیۡ لَاَجۡعَلَنَّکَ مِنَ الۡمَسۡجُوۡنِیۡنَ ٢٩

কা-লা লাইনিততাখাযতা ইলা -হান গাইরী লাআজ‘আলান্নাকা মিনাল মাছজূনীন।

সে বলল, (মনে রেখ) তুমি যদি আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে মাবুদ বলে গ্রহণ কর, তবে আমি তোমাকে অবশ্যই যারা জেলে পড়ে আছে, তাদের অন্তর্ভুক্ত করব।
৩০

قَالَ اَوَلَوۡ جِئۡتُکَ بِشَیۡءٍ مُّبِیۡنٍ ۚ ٣۰

কা-লা আওয়ালাও জি’তুকা বিশাইয়িম মুবীন।

মূসা বলল, আমি যদি (সত্যকে) পরিস্ফুটকারী কোন জিনিস তোমার নিকট উপস্থিত করি, তবুও কি?
৩১

قَالَ فَاۡتِ بِہٖۤ اِنۡ کُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِیۡنَ ٣١

কা-লা ফা’তি বিহীইন কুননতা মিনাসসা-দিকীন।

ফেরাউন বলল, আচ্ছ, তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে তা উপস্থিত কর।
৩২

فَاَلۡقٰی عَصَاہُ فَاِذَا ہِیَ ثُعۡبَانٌ مُّبِیۡنٌ ۚۖ ٣٢

ফাআলকা-‘আসা-হু ফাইযা-হিয়া ছু‘বা-নুম মুবীন।

সুতরাং মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করল, তৎক্ষণাৎ তা সাক্ষাৎ অজগর হয়ে গেল।
৩৩

وَّنَزَعَ یَدَہٗ فَاِذَا ہِیَ بَیۡضَآءُ لِلنّٰظِرِیۡنَ ٪ ٣٣

ওয়া নাঝা‘আ ইয়াদাহূফাইযা-হিয়া বাইদাউ লিন্না-জিরীন।

এবং সে তার হাত (বগলের ভেতর থেকে) টেনে বের করল, অমনি তা দর্শকদের সামনে সাদা হয়ে গেল। ১৩

তাফসীরঃ

১৩. ‘সাদা হয়ে গেল’ মানে উজ্জ্বল হয়ে গেল।
৩৪

قَالَ لِلۡمَلَاِ حَوۡلَہٗۤ اِنَّ ہٰذَا لَسٰحِرٌ عَلِیۡمٌ ۙ ٣٤

কা-লা লিলমালায়ি হাওলাহূ ইন্না হা-যা-লাছা-হিরুন ‘আলীম।

ফেরাউন তার আশপাশের নেতৃবর্গকে বলল, নিশ্চয়ই সে একজন সুদক্ষ যাদুকর।
৩৫

یُّرِیۡدُ اَنۡ یُّخۡرِجَکُمۡ مِّنۡ اَرۡضِکُمۡ بِسِحۡرِہٖ ٭ۖ فَمَاذَا تَاۡمُرُوۡنَ ٣٥

ইউরীদুআইঁ ইউখরিজাকুম মিন আরদিকুম বিছিহরিহী ফামা-যা-তা’মুরূন।

সে তার যাদুবলে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে উৎখাত করতে চায়। এবার বল, তোমাদের অভিমত কী? ১৪

তাফসীরঃ

১৪. স্বৈরতন্ত্রী একনায়ক হওয়া সত্ত্বেও তাদের মতামত চাওয়া দ্বারা হয়ত তাদের মনোরঞ্জন করা উদ্দেশ্য ছিল। কেননা তার ভয় হয়েছিল, মূসা আলাইহিস সালামের মহা মুজিযা দেখে মিসরবাসী তার প্রতি বিশ্বাসী ও তার অনুসারী হয়ে যেতে পারে। -অনুবাদক
৩৬

قَالُوۡۤا اَرۡجِہۡ وَاَخَاہُ وَابۡعَثۡ فِی الۡمَدَآئِنِ حٰشِرِیۡنَ ۙ ٣٦

কা-লূ আরজিহ ওয়া আখা-হু ওয়াব‘আছফিল মাদা-ইনি হা-শিরীন।

তারা বলল, তাকে ও তার ভাইকে কিছুটা সময় দিন এবং নগরে-নগরে সংবাদবাহক পাঠিয়ে দিন
৩৭

یَاۡتُوۡکَ بِکُلِّ سَحَّارٍ عَلِیۡمٍ ٣٧

ইয়া’তূকা বিকুল্লি ছাহহা-রিন ‘আলীম।

যারা যত সুদক্ষ যাদুকর আছে, তাদেরকে আপনার কাছে নিয়ে আসবে (তারপর মূসা ও তাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হোক)।
৩৮

فَجُمِعَ السَّحَرَۃُ لِمِیۡقَاتِ یَوۡمٍ مَّعۡلُوۡمٍ ۙ ٣٨

ফাজুমি‘আছ ছাহারাতুলিমীকা-তি ইয়াওমিম মা‘লূম।

সুতরাং নির্ধারিত এক দিন সুনির্দিষ্ট সময়ে যাদুকরদের একত্র করা হল।
৩৯

وَّقِیۡلَ لِلنَّاسِ ہَلۡ اَنۡتُمۡ مُّجۡتَمِعُوۡنَ ۙ ٣٩

ওয়া কীলা লিন্না-ছি হাল আনতুম মুজতামি‘ঊন।

এবং মানুষকে বলা হল, তোমরা সমবেত হচ্ছ তো?
৪০

لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ السَّحَرَۃَ اِنۡ کَانُوۡا ہُمُ الۡغٰلِبِیۡنَ ٤۰

লা‘আল্লানা-নাত্তাবি‘উছ ছাহারাতা ইন কা-নূহুমুল গা-লিবীন।

হয়ত আমরা যাদুকরদের অনুগামী হতে পারব যদি তারাই জয়ী হয়।
৪১

فَلَمَّا جَآءَ السَّحَرَۃُ قَالُوۡا لِفِرۡعَوۡنَ اَئِنَّ لَنَا لَاَجۡرًا اِنۡ کُنَّا نَحۡنُ الۡغٰلِبِیۡنَ ٤١

ফালাম্মা- জাআছছাহারাতুকা-লূলিফির‘আওনা আইন্না লানা- লাআজরান ইন কুন্নানাহনুল গা-লিবীন।

তারপর যখন যাদুকরগণ আসল, তখন তারা ফির‘আউনকে বলল, এটা তো নিশ্চিত যে, আমরা বিজয়ী হলে আমাদের জন্য কোন পুরস্কার থাকবে?
৪২

قَالَ نَعَمۡ وَاِنَّکُمۡ اِذًا لَّمِنَ الۡمُقَرَّبِیۡنَ ٤٢

কা-লা না‘আম ওয়া ইন্নাকুম ইযাল্লামিনাল মুকারবাবীন।

ফির‘আউন বলল, হাঁ এবং তখন তোমরা অবশ্যই আমার ঘনিষ্টজনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। ১৫

তাফসীরঃ

১৫. অর্থাৎ কেবল আর্থিক পুরস্কারই নয়, পারিষদ হিসেবে বিশেষ মর্যাদাও তোমাদের দেওয়া হবে। -অনুবাদক
৪৩

قَالَ لَہُمۡ مُّوۡسٰۤی اَلۡقُوۡا مَاۤ اَنۡتُمۡ مُّلۡقُوۡنَ ٤٣

কা-লা লাহুম মূছাআলকূমাআনতুম মুলকূন।

মুসা যাদুকরদেরকে বলল, তোমাদের যা নিক্ষেপ করার তা নিক্ষেপ কর। ১৬

তাফসীরঃ

১৬. এটা ছিল আল্লাহ-নির্ভরতাপ্রসূত আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ। অর্থাৎ সূচনা তোমরাই কর এবং তোমাদের যতদূর যা করার ক্ষমতা আছে, তা কর। আমি ওসবের কোন পরওয়া করি না। আল্লাহর সত্য নবী হিসেবে আমার এ বিশ্বাস আছে যে, আল্লাহ তাআলাই আমাকে সাহায্য করবেন এবং সত্যেরই জয় হবে। -অনুবাদক
৪৪

فَاَلۡقَوۡا حِبَالَہُمۡ وَعِصِیَّہُمۡ وَقَالُوۡا بِعِزَّۃِ فِرۡعَوۡنَ اِنَّا لَنَحۡنُ الۡغٰلِبُوۡنَ ٤٤

ফাআলকাও হিবা-লাহুম ওয়া ‘ইসিইইয়াহুম ওয়া কা-লূবি‘ইঝঝাতি ফির‘আওনা ইন্নালানাহনুল গা-লিবূন।

তখন তারা তাদের রশি ও লাঠি মাটিতে ফেলে দিল ১৭ এবং বলল, ফির‘আউনের ইজ্জতের শপথ! আমরাই বিজয়ী হব।

তাফসীরঃ

১৭. সূরা তোয়াহায় (২০ : ৬৬) বর্ণিত হয়েছে, যাদুকরগণ যে রশি ও লাঠিগুলো নিক্ষেপ করেছিল, তাদের যাদুর কারসাজিতে হঠাৎ মনে হচ্ছিল, যেন তা দৌড়াদৌড়ি করছে।
৪৫

فَاَلۡقٰی مُوۡسٰی عَصَاہُ فَاِذَا ہِیَ تَلۡقَفُ مَا یَاۡفِکُوۡنَ ۚۖ ٤٥

ফাআলকা-মূছা-‘আসা-হু ফাইযা-হিইয়া তালকাফুমা-ইয়া’ফিকূন।

অতঃপর মুসা নিজ লাঠি মাটিতে নিক্ষেপ করল। অমনি তা (অজগর হয়ে) তারা মিছামিছি যা তৈরি করেছিল তা গ্রাস করতে লাগল।
৪৬

فَاُلۡقِیَ السَّحَرَۃُ سٰجِدِیۡنَ ۙ ٤٦

ফাউলকিয়াছ ছাহারাতুছা-জিদীন।

অনন্তর যাদুকরদেরকে সিজদায় পাতিত করা হল। ১৮

তাফসীরঃ

১৮. লক্ষ্য করার বিষয় হল, কুরআন মাজীদ এস্থলে ‘তারা সিজদায় পতিত হল’ না বলে, ভাষা ব্যবহার করেছে ‘তাদেরকে সিজদায় পাতিত করা হল’। এটা করা হয়েছে এজন্য যে, এর দ্বারা তাদের সিজদার প্রকৃতির দিকে ইশারা করা হয়েছে। অর্থাৎ তারা এমনিতেই সিজদা করেনি। হযরত মুসা আলাইহিস সালামের মুজিযাই তাদেরকে সিজদা করিয়েছে। সে মুজিযা এতই শক্তিশালী ছিল যে, তার প্রভাবে তারা সিজদা করতে বাধ্য হয়ে যায়।
৪৭

قَالُوۡۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ ٤٧

কা-লূ আ-মান্না-বিরাব্বিল ‘আ-লামীন।

তারা বলতে লাগল, আমরা ঈমান আনলাম রাব্বুল আলামীনের প্রতি
৪৮

رَبِّ مُوۡسٰی وَہٰرُوۡنَ ٤٨

রাব্বি মূছা-ওয়াহা-রূন।

যিনি মুসা ও হারূনের প্রতিপালক।
৪৯

قَالَ اٰمَنۡتُمۡ لَہٗ قَبۡلَ اَنۡ اٰذَنَ لَکُمۡ ۚ  اِنَّہٗ لَکَبِیۡرُکُمُ الَّذِیۡ عَلَّمَکُمُ السِّحۡرَ ۚ  فَلَسَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ ۬ؕ  لَاُقَطِّعَنَّ اَیۡدِیَکُمۡ وَاَرۡجُلَکُمۡ مِّنۡ خِلَافٍ وَّلَاُوصَلِّبَنَّکُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ۚ ٤٩

কা-লা আ-মানতুম লাহূকাবলা আন আ-যানা লাকুম ইন্নাহূলাকাবীরু কুমুল্লাযী ‘আল্লামাকুমুছ ছিহরা ফালাছাওফা তা‘লামূনা লাউকাত্তি‘আন্না আইদিয়াকুম ওয়া আরজুলাকুম মিন খিলা-ফিওঁ ওয়ালাউসালিলবান্নাকুম আজমা‘ঈন।

ফেরাউন বলল, আমি অনুমতি দেওয়ার আগেই তোমরা মূসার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয়ই সে তোমাদের সকলের গুরু, যে তোমাদেরকে যাদু শিক্ষা দিয়েছে। আচ্ছা, তোমরা এখনই জানতে পারবে। আমি অবশ্যই তোমাদের সকলের এক দিকের হাত ও অন্য দিকের পা কেটে ফেলব এবং তোমাদের সকলকে শূলে চড়িয়ে ছাড়ব।
৫০

قَالُوۡا لَا ضَیۡرَ ۫  اِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا مُنۡقَلِبُوۡنَ ۚ ٥۰

কা-লূলা-দাইরা ইন্নাইলা-রাব্বিনা- মুনকালিবূন।

যাদুকরগণ বলল, আমাদের কোন ক্ষতি নেই। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা আমাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যাব।
৫১

اِنَّا نَطۡمَعُ اَنۡ یَّغۡفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطٰیٰنَاۤ اَنۡ کُنَّاۤ اَوَّلَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ؕ٪ ٥١

ইন্না-নাতমা‘উ আইঁ ইউগফিরালানা- রাব্বুনা- খাতাইয়া-নাআন কুন্না আওওয়ালাল মু’মিনীন।

আমরা আশা করি, আমাদের প্রতিপালক এ কারণে আমাদের পাপরাশি ক্ষমা করবেন যে, আমরা সকলের আগে ঈমান এনেছি।
৫২

وَاَوۡحَیۡنَاۤ اِلٰی مُوۡسٰۤی اَنۡ اَسۡرِ بِعِبَادِیۡۤ اِنَّکُمۡ مُّتَّبَعُوۡنَ ٥٢

ওয়া আওহাইনাইলা-মূছাআন আছরিবি‘ইবা-দী ইন্নাকুম মুত্তাবা‘ঊন।

আমি মূসার কাছে ওহী পাঠালাম, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে তুমি রাতারাতি রওয়ানা হয়ে যাও। তোমাদের কিন্তু অবশ্যই পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।
৫৩

فَاَرۡسَلَ فِرۡعَوۡنُ فِی الۡمَدَآئِنِ حٰشِرِیۡنَ ۚ ٥٣

ফাআরছালা ফির‘আওনুফিল মাদাইনি হা-শিরীন।

অতঃপর ফির‘আউন শহরে শহরে সংবাদবাহক পাঠিয়ে দিল
৫৪

اِنَّ ہٰۤؤُلَآءِ لَشِرۡذِمَۃٌ قَلِیۡلُوۡنَ ۙ ٥٤

ইন্না হাউলাই লাশিরযিমাতুন কালীলূন।

(এই বলে যে,) তারা (অর্থাৎ বনী ইসরাঈল) ছোট্ট একটা দলের অল্পকিছু লোক।
৫৫

وَاِنَّہُمۡ لَنَا لَغَآئِظُوۡنَ ۙ ٥٥

ওয়া ইন্নাহুম লানা-লাগাইজূ ন।

নিশ্চয়ই তারা আমাদের প্রচণ্ডভাবে ক্রুদ্ধ করে তুলেছে!
৫৬

وَاِنَّا لَجَمِیۡعٌ حٰذِرُوۡنَ ؕ ٥٦

ওয়া ইন্না-লাজামী‘উন হা-যিরূন।

আর আমরা সতর্ক (সশস্ত্র) একটি বড় দল (সুতরাং সকলে সম্মিলিতভাবে তাদের পশ্চাদ্ধাবন কর)।
৫৭

فَاَخۡرَجۡنٰہُمۡ مِّنۡ جَنّٰتٍ وَّعُیُوۡنٍ ۙ ٥٧

ফাআখরাজনা-হুম মিন জান্না-তিওঁ ওয়া ‘উয়ূন।

এভাবে আমি তাদেরকে বের করে আনলাম উদ্যানরাজি ও প্রস্রবণ হতে
৫৮

وَّکُنُوۡزٍ وَّمَقَامٍ کَرِیۡمٍ ۙ ٥٨

ওয়া কুনূঝিওঁ ওয়া মাকা-মিন কারীম।

এবং ধনভাণ্ডার ও মর্যাদাপূর্ণ স্থানসমূহ থেকে।
৫৯

کَذٰلِکَ ؕ  وَاَوۡرَثۡنٰہَا بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ؕ ٥٩

কাযা-লিকা ওয়া আওরাছনা-হা-বানীইছরাঈল।

এ রকমই হয়েছিল তাদের ব্যাপার। আর (অন্য দিকে) আমি বনী ইসরাঈলকে বানিয়ে দিলাম তার উত্তরাধিকারী। ১৯

তাফসীরঃ

১৯. এর ব্যাখ্যার জন্য দেখুন সূরা আরাফ (৭ : ১৩৭)-এর টীকা। [এর দুই অর্থ হতে পারে (ক) ফির‘আউন ও তার সম্প্রদায় উদ্যানরাজি, প্রস্রবণ ইত্যাদি পার্থিব যে নি‘আমতরাজী ভোগ করছিল এবং শেষ পর্যন্ত যা পেছনে ফেলে গিয়ে সাগরে নিমজ্জিত হয়েছিল, অনুরূপ নি‘আমত পরবর্তীকালে আমি বনী ইসরাঈলকে দান করেছিলাম। তারা শামের বরকতপূর্ণ ভূমিতে এসব নি‘আমতের অধিকারী হল। (খ) কোন কোন মুফাসসিরের মতে বনী ইসরাঈলকে ফির‘আউনী সম্প্রদায়ের পরিত্যক্ত সম্পদেরই উত্তরাধিকারী করা হয়েছিল। অর্থাৎ তাদের নিমজ্জিত হওয়ার পর বনী ইসরাঈল মিসরে প্রত্যাবর্তন করে সেখানে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। আর ঐতিহাসিকভাবে এটা প্রমাণিত না হলেও আরও পরে মিসর যখন হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের সাম্রাজ্যভুক্ত হয়ে যায়, তখন প্রকারান্তরে তা বনী ইসরাঈলেরই অধিকারে আসে। হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তো বনী ইসরাঈলেরই নবী ও বাদশাহ ছিলেন। -অনুবাদক, তাফসীরে উসমানীর বরাতে, দেখুন সূরা আরাফ ৭ : ১৩৭; সূরা শুআরা (২৬ : ৫৯) ও সূরা দুখান (৪৪ : ২৮)-এর টীকাসমূহ]
৬০

فَاَتۡبَعُوۡہُمۡ مُّشۡرِقِیۡنَ ٦۰

ফাআতবা‘ঊহুম মুশরিকীন।

সারকথা সূর্যোদয় মাত্রই তারা তাদের পশ্চাদ্ধাবনের উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়ল।
৬১

فَلَمَّا تَرَآءَ الۡجَمۡعٰنِ قَالَ اَصۡحٰبُ مُوۡسٰۤی اِنَّا لَمُدۡرَکُوۡنَ ۚ ٦١

ফালাম্মা-তারাআল জাম‘আ-নি কা-লা আসহা-বুমূছাইন্না-লামুদরাকূন।

তারপর যখন উভয় দল একে অন্যকে দেখতে পেল, তখন মুসার সঙ্গীগণ বলল, এখন আমরা নির্ঘাত ধরা পড়ব। ২০

তাফসীরঃ

২০. হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে চলতে থাকলেন। এক পর্যায়ে তাদের সামনে সাগর বাধা হয়ে দাঁড়াল। অপর দিকে ফির‘আউনও তার বাহিনী নিয়ে তাদের কাছাকাছি পৌঁছে গেল। হযরত মূসা আলাইহিস সালামের সঙ্গীগণ উপলব্ধি করল এখন আর বাঁচার কোন পথ নেই। হতাশ হয়ে তারা বলল উঠল, আমরা তো ধরা পড়ে গেলাম।
৬২

قَالَ کَلَّا ۚ اِنَّ مَعِیَ رَبِّیۡ سَیَہۡدِیۡنِ ٦٢

কা-লা কাল্লা- ইন্না মা‘ইয়া রাববী ছাইয়াহদীন।

মুসা বলল, কখনও নয়। আমার সঙ্গে নিশ্চিতভাবেই আমার প্রতিপালক আছেন। তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।
৬৩

فَاَوۡحَیۡنَاۤ اِلٰی مُوۡسٰۤی اَنِ اضۡرِبۡ بِّعَصَاکَ الۡبَحۡرَ ؕ  فَانۡفَلَقَ فَکَانَ کُلُّ فِرۡقٍ کَالطَّوۡدِ الۡعَظِیۡمِ ۚ ٦٣

ফাআওহাইনাইলা-মূছাআনিদরিব বি‘আসাকাল বাহ রা ফানফালাকা ফাকা-না কুল্লু ফিরকিন কাততাওদিল ‘আজীম।

সুতরাং আমি মূসার কাছে ওহী পাঠালাম, তুমি তোমার লাঠি দ্বারা সাগরে আঘাত কর। ফলে সাগর বিদীর্ণ হল এবং প্রত্যেক ভাগ বড় পাহাড়ের মত উঁচু হয়ে গেল। ২১

তাফসীরঃ

২১. আল্লাহ তাআলা পানিকে কয়েক ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগকে পাহাড়ের মত উঁচু করে দিলেন। ফলে তার ফাঁকে ফাঁকে শুকনো পথ তৈরি হয়ে গেল।
৬৪

وَاَزۡلَفۡنَا ثَمَّ الۡاٰخَرِیۡنَ ۚ ٦٤

ওয়া আঝলাফনা-ছাম্মাল আ-খারীন।

অন্য দলটিকেও আমি সেথায় উপনীত করলাম। ২২

তাফসীরঃ

২২. ফির‘আউনের বাহিনী সাগরের বুকে রাস্তা দেখতে পেয়ে মনে করল তারাও তা দিয়ে পার হয়ে যাবে। যেই না তারা মধ্য সাগরে পৌঁছল, আল্লাহ তাআলা সাগরকে তার আসল অবস্থায় ফিরিয়ে দিলেন। ফলে ফির‘আউন গোটা বাহিনীসহ তাতে ডুবে মরল। এ ঘটনা সূরা ইউনুসে (১০ : ৯১, ৯২) বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।
৬৫

وَاَنۡجَیۡنَا مُوۡسٰی وَمَنۡ مَّعَہٗۤ اَجۡمَعِیۡنَ ۚ ٦٥

ওয়া আনজাইনা-মূছা-ওয়ামাম মা‘আহূআজমা‘ঈন।

এবং মূসা ও তার সঙ্গী সকলকে রক্ষা করলাম।
৬৬

ثُمَّ اَغۡرَقۡنَا الۡاٰخَرِیۡنَ ؕ ٦٦

ছু ম্মা আগরাকনাল আ-খারীন।

তারপর অন্যদেরকে করলাম নিমজ্জিত।
৬৭

اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً ؕ وَمَا کَانَ اَکۡثَرُہُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ٦٧

ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাওঁ ওয়ামা-কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন।

নিশ্চয় এর মধ্যে শিক্ষার বিষয় রয়েছে। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনে না।
৬৮

وَاِنَّ رَبَّکَ لَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ٪ ٦٨

ওয়া ইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আঝীঝুর রাহীম।

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু ২৩

তাফসীরঃ

২৩. এসব নবী ও তাঁর সম্প্রদায়ের বৃত্তান্ত দ্বারা একদিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সান্তনা দেওয়া হয়েছে যে, অত্যন্ত মমতার সাথে আপন সম্প্রদায়কে দীনের দাওয়াত দান ও তার বিপরীতে কওমের পক্ষ হতে দুঃখ-কষ্ট ভোগের এ ধারা প্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে, এটা আপনার জন্য অভিনব কিছু নয়। সুতরাং নিজ সম্প্রদায়ের আচরণে আপনি বেশি দুঃখিত হবেন না। সেই সঙ্গে পুনরাবৃত্তির সঙ্গে জানানো হয়েছে যে, এসব ঘটনার মধ্যে মানুষের জন্য যথার্থ শিক্ষা আছে। কিন্তু অল্পসংখ্যক লোকই তা দেখে ঈমান আনে আর অধিকাংশেই আনে না। কিন্তু আপনার প্রতিপালক তো পরাক্রমশালী ও দয়াময়। সুতরাং তিনি ঈমানদারদের প্রতি দয়াবরবশ হয়ে চূড়ান্ত বিজয় তাদেরকেই দান করেন। আর সেই দয়ার কারণেই অবিশ্বাসীদেরকেও প্রথমেই শাস্তি দান করেন না; বরং তাদেরকে চিন্তা-ভাবনা করার অবকাশ দেন। শেষ পর্যন্ত কোনওক্রমেই যখন ঈমান আনে না, তখন নিজ পরাক্রমশালীতার প্রকাশ ঘটান এবং তাদেরকে চূড়ান্ত শাস্তি দান করেন। -অনুবাদক
৬৯

وَاتۡلُ عَلَیۡہِمۡ نَبَاَ اِبۡرٰہِیۡمَ ۘ ٦٩

ওয়াতলু‘আলাইহিম নাবাআ ইবরা-হীম।

(হে নবী!) তাদেরকে শোনাও ইবরাহীমের বৃত্তান্ত।
৭০

اِذۡ قَالَ لِاَبِیۡہِ وَقَوۡمِہٖ مَا تَعۡبُدُوۡنَ ٧۰

ইযকা-লা লিআবীহি ওয়া কাওমিহী মা-তা‘বুদূন।

যখন সে তার পিতা ও সম্প্রদায়কে বলল, তোমরা কিসের ইবাদত কর।
৭১

قَالُوۡا نَعۡبُدُ اَصۡنَامًا فَنَظَلُّ لَہَا عٰکِفِیۡنَ ٧١

কা-লূনা‘বুদুআসনা-মান ফানাজালুল লাহা -‘আ-কিফীন।

তারা বলল, আমরা প্রতিমাদের ইবাদত করি এবং তাদেরই সামনে ধর্ণা দিয়ে থাকি।
৭২

قَالَ ہَلۡ یَسۡمَعُوۡنَکُمۡ اِذۡ تَدۡعُوۡنَ ۙ ٧٢

কা-লা হাল ইয়াছমা‘উনাকুম ইযতাদ‘ঊন।

ইবরাহীম বলল, তোমরা যখন তাদেরকে ডাক, তখন তারা কি তোমাদের কথা শোনে?
৭৩

اَوۡ یَنۡفَعُوۡنَکُمۡ اَوۡ یَضُرُّوۡنَ ٧٣

আও ইয়ানফা‘ঊনাকুম আও ইয়াদুররূন।

কিংবা তারা কি তোমাদের কোন উপকার বা ক্ষতি করতে পারে?
৭৪

قَالُوۡا بَلۡ وَجَدۡنَاۤ اٰبَآءَنَا کَذٰلِکَ یَفۡعَلُوۡنَ ٧٤

কা-লূবাল ওয়া জাদনাআ-বাআনা-কাযা-লিকা ইয়াফ‘আলূন।

তারা বলল, আসল কথা হল, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে এমনই করতে দেখেছি।
৭৫

قَالَ اَفَرَءَیۡتُمۡ مَّا کُنۡتُمۡ تَعۡبُدُوۡنَ ۙ ٧٥

কা-লা আফারাআইতুম মা-কুনতুম তা‘বুদূন।

ইবরাহীম বলল, তোমরা কি কখনও গভীরভাবে লক্ষ্য করে দেখছ তোমরা কিসের ইবাদত করছ?
৭৬

اَنۡتُمۡ وَاٰبَآؤُکُمُ الۡاَقۡدَمُوۡنَ ۫ۖ ٧٦

আনতুম ওয়া আ-বাউকুমুল আকদামূন।

তোমরা এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষগণ? ২৪

তাফসীরঃ

২৪. অর্থাৎ তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষ যে প্রতিমাদের উপাসনা করছ তোমরা কি চিন্তা করে দেখেছ তারা ইবাদত লাভের উপযুক্ত কিনা? একটু যদি চিন্তা করতে, স্পষ্টভাবেই বুঝতে পারতে, নিজ হাতে গড়া জড়প্রতিমার পূজা করা চরম মূর্খতা ও নির্বুদ্ধিতার কাজ এবং তখন তোমরা নিজেরাই ঘৃণাভরে তাদের পরিত্যাগ করতে। -অনুবাদক
৭৭

فَاِنَّہُمۡ عَدُوٌّ لِّیۡۤ اِلَّا رَبَّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ ٧٧

ফাইন্নাহুম ‘আদুওউললী ইল্লা-রাব্বাল ‘আ-লামীন।

এরা সব আমার শত্রু এক রাব্বুল আলামীন ছাড়া।
৭৮

الَّذِیۡ خَلَقَنِیۡ فَہُوَ یَہۡدِیۡنِ ۙ ٧٨

আল্লাযী খালাকানী ফাহুওয়া ইয়াহদীন।

যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনিই আমার পথপ্রদর্শন করেন।
৭৯

وَالَّذِیۡ ہُوَ یُطۡعِمُنِیۡ وَیَسۡقِیۡنِ ۙ ٧٩

ওয়াল্লাযী হুওয়া ইউত‘ইমুনী ওয়া ইয়াছকীন।

এবং আমাকে খাওয়ান ও পান করান।
৮০

وَاِذَا مَرِضۡتُ فَہُوَ یَشۡفِیۡنِ ۪ۙ ٨۰

ওয়া ইযা-মারিদতুফাহুওয়া ইয়াশফীন।

এবং আমি যখন পীড়িত হই, আমাকে শেফা দান করেন। ২৫

তাফসীরঃ

২৫. হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের আদব-কায়দা লক্ষ্য করুন। অসুস্থতাকে তো নিজের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে বলছেন, ‘আমি পীড়িত’ হই। কিন্তু আরোগ্য দানকে আল্লাহ তাআলার কাজরূপে উল্লেখ করে বলেন, ‘তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন’। এর দ্বারা এদিকেও ইশারা হতে পারে যে, রোগ-ব্যাধি মানুষের কোন ত্রুটির কারণে হয়ে থাকে আর শেফা সরাসরি আল্লাহ তাআলার দান।
৮১

وَالَّذِیۡ یُمِیۡتُنِیۡ ثُمَّ یُحۡیِیۡنِ ۙ ٨١

ওয়াল্লাযী ইউমীতুনী ছুম্মা ইউহঈন।

এবং যিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন, ফের আমাকে জীবিত করবেন।
৮২

وَالَّذِیۡۤ اَطۡمَعُ اَنۡ یَّغۡفِرَ لِیۡ خَطِیۡٓئَتِیۡ یَوۡمَ الدِّیۡنِ ؕ ٨٢

ওয়াল্লাযীআতমা‘উ আইঁ ইয়াগফিরালী খাতীআতী ইয়াওমাদ দীন।

এবং যার কাছে আমি আশা রাখি, হিসাব-নিকাশের দিন তিনি আমার অপরাধসমূহ ক্ষমা করবেন।
৮৩

رَبِّ ہَبۡ لِیۡ حُکۡمًا وَّاَلۡحِقۡنِیۡ بِالصّٰلِحِیۡنَ ۙ ٨٣

রাব্বি হাবলী হুকমাওঁ ওয়া আল হিকনী বিসসা-লিহীন।

হে আমার প্রতিপালক! আমাকে হেকমত দান করুন এবং আমাকে নেককার লোকদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
৮৪

وَاجۡعَلۡ لِّیۡ لِسَانَ صِدۡقٍ فِی الۡاٰخِرِیۡنَ ۙ ٨٤

ওয়াজ‘আললী লিছা-না সিদকিন ফিল আ-খিরীন।

এবং পরবর্তীকালীন লোকদের মধ্যে আমার পক্ষে এমন রসনা সৃষ্টি করুন, যা আমার সততার সাক্ষ্য দেবে। ২৬

তাফসীরঃ

২৬. অর্থাৎ এমন সৎকর্ম ও সুকীর্তির তাওফীক দান করুন, যাতে পরবর্তী প্রজন্ম আমার সুখ্যাতি করে ও আমার অনুসরণ করতে আগ্রহী হয়। অথবা এর অর্থ, শেষ যমানায় যেন আমার বংশধরদের মধ্যে নবী ও আমার অনুসারী হয়, যারা আমার দীনকে নবজীবন দান করবে। আল্লাহ তাআলা তাঁর এ দুআ এমনভাবে কবুল করেছেন যে, আজ সকল আসমানী ধর্মের অনুসারীরা এমনকি যারা তার আদর্শ হতে বিচ্যুত, তারা পর্যন্ত তার অকুণ্ঠ প্রশংসা করে এবং নিজেদেরকে তার দীনের পরিচয়ে পরিচিত করতে গর্ববোধ করে। শেষনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো নিজেকে তাঁরই দুআর ফসল বলে প্রকাশ করতেন এবং তিনি ও তার অনুসারীগণ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের এমনই স্মৃতিচারণকারী যে, পাঁচ ওয়াক্তের নামাযে তারা নিত্যদিন উচ্চারণ করেন كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيْمَ كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيْمَ (-অনুবাদক, তাফসীরে উসমানী অবলম্বনে)
৮৫

وَاجۡعَلۡنِیۡ مِنۡ وَّرَثَۃِ جَنَّۃِ النَّعِیۡمِ ۙ ٨٥

ওয়াজ‘আলনী মিওঁ ওয়ারাছাতি জান্নাতিন না‘ঈম।

এবং আমাকে সেই সকল লোকের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা হবে নি‘আমতপূর্ণ জান্নাতের অধিকারী।
৮৬

وَاغۡفِرۡ لِاَبِیۡۤ اِنَّہٗ کَانَ مِنَ الضَّآلِّیۡنَ ۙ ٨٦

ওয়াগফির লিআবী ইন্নাহূকা-না মিনাদ্দাল্লীন,

এবং আমার পিতাকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই তিনি পথভ্রষ্টদের একজন। ২৭

তাফসীরঃ

২৭. সূরা মারয়ামে (১৯ : ৪৭) গেছে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম পিতার সঙ্গে ওয়াদা করেছিলেন, তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে তার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করবেন। কিন্তু যখন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আসল এবং তিনি জানতে পারলেন, পিতা কখনও ঈমান আনবে না, তখন তিনি ক্ষান্ত হয়ে গেলেন এবং তার সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কচ্ছেদ ঘোষণা করলেন। যেমন সূরা তাওবায় বলা হয়েছে (৯ : ১১৪)।
৮৭

وَلَا تُخۡزِنِیۡ یَوۡمَ یُبۡعَثُوۡنَ ۙ ٨٧

ওয়ালা-তুখঝিনী ইয়াওমা ইউব‘আছূন।

এবং আমাকে সেই দিন লাঞ্ছিত করবেন না, যে দিন মানুষকে পুনরায় জীবিত করা হবে।
৮৮

یَوۡمَ لَا یَنۡفَعُ مَالٌ وَّلَا بَنُوۡنَ ۙ ٨٨

ইয়াওমা লা-ইয়ানফা‘উ মা-লুওঁ ওয়ালা-বানূন।

যে দিন কোন অর্থ-সম্পদ কাজে আসবে না এবং সন্তান-সন্ততিও না।
৮৯

اِلَّا مَنۡ اَتَی اللّٰہَ بِقَلۡبٍ سَلِیۡمٍ ؕ ٨٩

ইল্লা-মান আতাল্লা-হা বিকালবিন ছালীম।

তবে যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে সুস্থ মন নিয়ে (সে মুক্তি পাবে)।
৯০

وَاُزۡلِفَتِ الۡجَنَّۃُ لِلۡمُتَّقِیۡنَ ۙ ٩۰

ওয়া উঝলিফাতিল জান্নাতুলিলমুত্তাকীন।

জান্নাতকে মুত্তাকীদের কাছে নিয়ে আসা হবে।
৯১

وَبُرِّزَتِ الۡجَحِیۡمُ لِلۡغٰوِیۡنَ ۙ ٩١

ওয়া বুররিঝাতিল জাহীমুলিলগা-বীন।

এবং জাহান্নামকে পথভ্রষ্টদের সামনে উন্মুক্ত করা হবে।
৯২

وَقِیۡلَ لَہُمۡ اَیۡنَ مَا کُنۡتُمۡ تَعۡبُدُوۡنَ ۙ ٩٢

ওয়াকীলা লাহুম আইনামা-কুনতুম তা‘বুদূন।

এবং তাদেরকে বলা হবে, তোমরা যাদের ইবাদত করতে তারা কোথায়?
৯৩

مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ؕ  ہَلۡ یَنۡصُرُوۡنَکُمۡ اَوۡ یَنۡتَصِرُوۡنَ ؕ ٩٣

মিন দূ নিল্লাহি হাল ইয়ানসুরূনাকুম আও ইয়ানতাসিরূন।

আল্লাহকে ছেড়ে তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারবে কিংবা পারবে কি তারা আত্মরক্ষা করতে?
৯৪

فَکُبۡکِبُوۡا فِیۡہَا ہُمۡ وَالۡغَاوٗنَ ۙ ٩٤

ফাকুবকিবূফীহা-হুম ওয়ালগা-ঊন।

অতঃপর তাদেরকে ও পথভ্রষ্টদেরকে অধোমুখী করে নিক্ষেপ করা হবে জাহান্নামে ২৮

তাফসীরঃ

২৮. অর্থাৎ বিপথগামীদের সাথে তাদের মিথ্যা উপাস্যদেরকেও জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তাদের মধ্যে কতক তো এমন যারা নিজেরাও নিজেদেরকে উপাস্য বলে দাবি করেছিল, যে কারণে তারা জাহান্নামে যাওয়ারই উপযুক্ত। আর কতক হল পাথরের মূর্তি। সেগুলোকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে পূজারীদেরকে দেখানোর জন্য যে, তোমরা যাদেরকে মাবুদ মনে করতে, দেখে নাও তাদের দশা কী হয়েছে।
৯৫

وَجُنُوۡدُ اِبۡلِیۡسَ اَجۡمَعُوۡنَ ؕ ٩٥

ওয়াজুনূদুইবলীছা আজমা‘উন।

এবং ইবলীসের সমস্ত বাহিনীকেও। ২৯

তাফসীরঃ

২৯. ‘ইবলীসের বাহিনী’ হল দুষ্ট জিনেরা অথবা জিন ও ইনসানের মধ্যে যারা তার অনুসরণ করে তারা। -অনুবাদক
৯৬

قَالُوۡا وَہُمۡ فِیۡہَا یَخۡتَصِمُوۡنَ ۙ ٩٦

কা-লূওয়া হুম ফীহা-ইয়াখতাসিমূন।

সেখানে তারা পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ে (তাদের উপাস্যদেরকে) বলবে
৯৭

تَاللّٰہِ اِنۡ کُنَّا لَفِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ ۙ ٩٧

তাল্লা-হি ইন কুন্না-লাফী দালা-লিম মুবীন।

আল্লাহর কসম! আমরা তো সেই সময় স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিলাম
৯৮

اِذۡ نُسَوِّیۡکُمۡ بِرَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ٩٨

ইযনুছাওবীকুম বিরাব্বিল ‘আ-লামীন।

যখন আমরা তোমাদেরকে ‘রাব্বুল আলামীনের’ সমকক্ষ গণ্য করতাম।
৯৯

وَمَاۤ اَضَلَّنَاۤ اِلَّا الۡمُجۡرِمُوۡنَ ٩٩

ওয়ামাআদাল্লানাইল্লাল মুজরিমূন।

আমাদেরকে তো বড় বড় অপরাধীরাই বিভ্রান্ত করেছিল। ৩০

তাফসীরঃ

৩০. অপরাধী বলে কাফেরদের বড় বড় নেতাদের বোঝানো হয়েছে, যারা নিজেরাও কুফর ধরে রেখেছে, অন্যদেরকেও তাতে উৎসাহিত করেছে এবং তাদের দেখাদেখি আরও অনেকে কুফরের পথ বেছে নিয়েছে।
১০০

فَمَا لَنَا مِنۡ شَافِعِیۡنَ ۙ ١۰۰

ফামা-লানা-মিন শা-ফি‘ঈন।

পরিণামে আমাদের না আছে কোন রকম সুপারিশকারী।
১০১

وَلَا صَدِیۡقٍ حَمِیۡمٍ ١۰١

ওয়ালা সাদীকিন হামীম।

আর না এমন কোন সহৃদয় বন্ধু।
১০২

فَلَوۡ اَنَّ لَنَا کَرَّۃً فَنَکُوۡنَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ١۰٢

ফালাও আন্না লানা-কাররাতান ফানাকূনা মিনাল মু’মিনীন।

হায়! আমাদের যদি একবার (দুনিয়ায়) ফিরে যাওয়ার সুযোগ লাভ হত, তবে আমরা অবশ্যই মুমিন হয়ে যেতাম। ৩১

তাফসীরঃ

৩১. এটা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সেই ভাষণ যা তিনি নিজ সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে দিয়েছিলেন। ঘটনার অবশিষ্টাংশ এস্থলে উল্লেখ করা হয়নি। পূর্বে সূরা আম্বিয়ায় (২১ : ৫১) তা বিস্তারিত চলে গেছে। কিছুটা সামনে সূরা সাফফাতে (৩৭ : ৮৩) আসছে।
১০৩

اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً ؕ وَمَا کَانَ اَکۡثَرُہُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ١۰٣

ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাওঁ ওয়ামা-কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন।

নিশ্চয়ই এর মধ্যে শিক্ষার বিষয় আছে। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশে ঈমান আনে না।
১০৪

وَاِنَّ رَبَّکَ لَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ٪ ١۰٤

ওয়া ইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আঝীঝুর রাহীম।

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
১০৫

کَذَّبَتۡ قَوۡمُ نُوۡحِۣ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۚۖ ١۰٥

কাযযাবাত কাওমুনূহিনিল মুরছালীন।

নূহের সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল
১০৬

اِذۡ قَالَ لَہُمۡ اَخُوۡہُمۡ نُوۡحٌ اَلَا تَتَّقُوۡنَ ۚ ١۰٦

ইযকা-লা লাহুম আখূহুম নূহুন ‘আলা-তাত্তাকূন।

যখন তাদের ভাই নূহ তাদেরকে বলেছিল, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় কর না?
১০৭

اِنِّیۡ لَکُمۡ رَسُوۡلٌ اَمِیۡنٌ ۙ ١۰٧

ইন্নী লাকুম রাছূলুন আমীন।

নিশ্চয়ই আমি তোমদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
১০৮

فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوۡنِ ۚ ١۰٨

ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়া আতী‘ঊন।

সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
১০৯

وَمَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡہِ مِنۡ اَجۡرٍ ۚ  اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۚ ١۰٩

ওয়ামাআছআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা-‘আলা-রাব্বিল ‘আলামীন।

আমি এ কাজের বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। আমার প্রতিদান বিশ্বজগতের প্রতিপালক নিজ দায়িত্বে রেখেছেন।
১১০

فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوۡنِ ؕ ١١۰

ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন।

সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার কথা মান।
১১১

قَالُوۡۤا اَنُؤۡمِنُ لَکَ وَاتَّبَعَکَ الۡاَرۡذَلُوۡنَ ؕ ١١١

কা-লূআনু’মিনুলাকা ওয়াত্তাবা‘আকাল আরযালূন।

তারা বলল, আমরা কি তোমার প্রতি ঈমান আনব, অথচ তোমার অনুসরণ করছে কেবল নিম্নস্তরের লোকজন?
১১২

قَالَ وَمَا عِلۡمِیۡ بِمَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ۚ ١١٢

কা-লা ওয়ামা-‘ইলমী বিমা-কা-নূইয়া‘মালূন।

নূহ বলল, তারা কী কাজ করে তার আমি কি জানি? ৩২

তাফসীরঃ

৩২. কাফেরগণ সর্বদা হযরত নূহ আলাইহিস সালামকে তাঁর অনুসারীদেরকে নিয়ে খোঁচাত। বলত, তাঁর অনুসারীরা সব নিম্নস্তরের লোক। ক্ষুদ্র পেশায় নিয়োজিত থাকার কারণে তাদের কোন সামাজিক মান নেই। হযরত নূহ আলাইহিস সালাম জবাবে বলতেন, তাদের পেশা কী ও কী কাজ করে তার সাথে আমার কী সম্পর্ক। আমার তা জানার ও তার খোঁজ নেওয়ার কী দরকার? তারা ঈমান এনেছে এটাই বড় কথা। আল্লাহ কারও পেশা কী তা জিজ্ঞেস করবেন না? তিনি জিজ্ঞেস করবেন ঈমান ও আমল সম্পর্কে।
১১৩

اِنۡ حِسَابُہُمۡ اِلَّا عَلٰی رَبِّیۡ لَوۡ تَشۡعُرُوۡنَ ۚ ١١٣

ইন হিছা-বুহুম ইল্লা-‘আলা-রাববী লাও তাশ‘উরূন।

তাদের হিসাব নেওয়া অন্য কারও নয়, কেবল আমার প্রতিপালকেরই কাজ। ৩৩ হায়! তোমরা যদি বুঝতে!

তাফসীরঃ

৩৩. কাফেরদের উপরিউক্ত আপত্তির ভেতর এই ইঙ্গিতও ছিল যে, নিম্নস্তরের লোক হওয়ায় ওদের বুদ্ধিশুদ্ধিও কম। কাজেই কিছু চিন্তা-ভাবনা করে যে ঈমান এনেছে এমন নয়; বরং উপস্থিত কোন সুবিধা দেখেছে আর আপনার সাথে জুটে গেছে। এ বাক্যে তাদের সে মন্তব্যের জবাব দেওয়া হয়েছে যে, যদি ধরেও নেওয়া যায় তারা খাঁটি মনে ঈমান আনেনি, তাদের অন্তরে অন্য কোন ভাবনা আছে, তবুও আমি তাদের তাড়াতে পারি না; বরং মুমিন হিসেবে তাদের মূল্যায়ন করা আমার কর্তব্য। কেননা মনে কি আছে না আছে তা যাচাই করার দায়িত্ব আমার নয়। তার হিসাব আল্লাহ তাআলাই নিবেন।
১১৪

وَمَاۤ اَنَا بِطَارِدِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ ١١٤

ওয়ামাআনা বিতা-রিদিল মু’মিনীন।

আমি মুমিনদেরকে আমার কাছ থেকে তাড়িয়ে দিতে পারি না।
১১৫

اِنۡ اَنَا اِلَّا نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ ؕ ١١٥

ইন আনা ইল্লা-নাযীরুম মুবীন।

আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র, যে (তোমাদের সামনে) সত্য সুস্পষ্ট করে দিচ্ছে।
১১৬

قَالُوۡا لَئِنۡ لَّمۡ تَنۡتَہِ یٰنُوۡحُ لَتَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡمَرۡجُوۡمِیۡنَ ؕ ١١٦

কা-লূলাইল্লাম তানতাহি ইয়া-নূহুলাতাকূনান্না মিনাল মারজূমীন।

তারা বলল, হে নূহ! তুমি যদি ক্ষান্ত না হও, তবে পাথরের আঘাতে নিহতদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
১১৭

قَالَ رَبِّ اِنَّ قَوۡمِیۡ کَذَّبُوۡنِ ۚۖ ١١٧

কা-লা রাব্বি ইন্না কাওমী কাযযাবূন।

নূহ বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় আমাকে মিথ্যাবাদী ঠাওরিয়েছে।
১১৮

فَافۡتَحۡ بَیۡنِیۡ وَبَیۡنَہُمۡ فَتۡحًا وَّنَجِّنِیۡ وَمَنۡ مَّعِیَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ١١٨

ফাফতাহবাইনী ওয়া বাইনাহুম ফাতহাও ওয়া নাজজিনী ওয়ামাম মা‘ইয়া মিনাল মু’মিনীন।

সুতরাং আপনি আমার ও তাদের মধ্যে সুস্পষ্ট ফায়সালা করে দিন এবং আমাকে ও আমার মুমিন সঙ্গীদেরকে রক্ষা করুন।
১১৯

فَاَنۡجَیۡنٰہُ وَمَنۡ مَّعَہٗ فِی الۡفُلۡکِ الۡمَشۡحُوۡنِ ۚ ١١٩

ফাআনজাইনা-হু ওয়ামাম মা‘আহূফিল ফুলকিল মাশহূন।

অতঃপর আমি তাকে ও তার সঙ্গীদেরকে বোঝাই নৌকায় রক্ষা করলাম।
১২০

ثُمَّ اَغۡرَقۡنَا بَعۡدُ الۡبٰقِیۡنَ ؕ ١٢۰

ছু ম্মা আগরাকনা-বা‘দুল বা-কীন।

তারপর অবশিষ্ট সকলকে নিমজ্জিত করলাম। ৩৪

তাফসীরঃ

৩৪. হযরত নূহ আলাইহিস সালামকে নিমজ্জিত করার ঘটনা বিস্তারিতভাবে সূরা হুদে চলে গেছে। ১১ : ২৫-৪৮ টীকাসহ দ্রষ্টব্য।
১২১

اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً ؕ وَمَا کَانَ اَکۡثَرُہُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ١٢١

ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাওঁ ওয়ামা কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন।

নিশ্চয়ই এর মধ্যে আছে শিক্ষার বিষয়। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনে না।
১২২

وَاِنَّ رَبَّکَ لَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ٪ ١٢٢

ওয়া ইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আঝীঝুর রাহীম।

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
১২৩

کَذَّبَتۡ عَادُۨ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۚۖ ١٢٣

কাযযাবাত ‘আ-দুনিল মুরছালীন।

আদ জাতি রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল।
১২৪

اِذۡ قَالَ لَہُمۡ اَخُوۡہُمۡ ہُوۡدٌ اَلَا تَتَّقُوۡنَ ۚ ١٢٤

ইযকা-লা লাহুম আখূহুম হূদুন ‘আলা-তাত্তাকূন।

তাদের ভাই হুদ যখন তাদেরকে বলল, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় কর না?
১২৫

اِنِّیۡ لَکُمۡ رَسُوۡلٌ اَمِیۡنٌ ۙ ١٢٥

ইন্নী লাকুম রাছূলুন আমীন।

নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
১২৬

فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوۡنِ ۚ ١٢٦

ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন।

সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে মান।
১২৭

وَمَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡہِ مِنۡ اَجۡرٍ ۚ  اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ؕ ١٢٧

ওয়ামাআছআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা-‘আলা-রাব্বিল ‘আলামীন।

আমি এ কাজের বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক নিজ দায়িত্বে রেখেছেন।
১২৮

اَتَبۡنُوۡنَ بِکُلِّ رِیۡعٍ اٰیَۃً تَعۡبَثُوۡنَ ١٢٨

আতাবনূনা বিকুল্লি রী‘ইন আ-য়াতান তা‘বাছূন।

তোমরা কি প্রতিটি উঁচু স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করার অহেতুক কাজ করছ। ৩৫

তাফসীরঃ

৩৫. ‘অহেতুক কাজ করছ’এর দুটি ব্যাখ্যা হতে পারে। (ক) প্রতিটি উঁচু স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজটা একটা নিরর্থক কাজ। কেননা এর পেছনে মহৎ কোন উদ্দেশ্য ছিল না। কেবল মানুষকে দেখানো ও বড়ত্ব ফলানোর উদ্দেশ্যেই এসব নির্মাণ করা হত। (খ) হযরত দাহহাক (রহ.) সহ কতিপয় মুফাসসির থেকে এর ব্যাখ্যা বর্ণিত আছে যে, তারা উঁচু ইমারতের উপর থেকে নিচের যাতায়াতকারীদের সাথে অশোভন আচরণ করত। সেটাকেই আয়াতে ‘অহেতুক কাজ’ শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। (রূহুল মাআনী)
১২৯

وَتَتَّخِذُوۡنَ مَصَانِعَ لَعَلَّکُمۡ تَخۡلُدُوۡنَ ۚ ١٢٩

ওয়া তাত্তাখিযূনা মাসা-নি‘আ লা‘আল্লাকুম তাখলুদূন।

আর তোমরা এমন শিল্পমণ্ডিত ইমারত নির্মাণ করছ, যেন তোমরা চিরজীবী হয়ে থাকবে। ৩৬

তাফসীরঃ

৩৬. আয়াতে ব্যবহৃত مَصَانِعَ শব্দটির মূল অর্থ এমন সব জিনিস, যা শৈল্পিক দক্ষতার প্রদর্শনীস্বরূপ নির্মাণ করা হয়। কাজেই শান-শওকত ও জাকজমকপূর্ণ ঘর-বাড়ি, দালান-কোঠা, দুর্গ, দীঘি, রাস্তাঘাট ইত্যাদি সবই এর অন্তর্ভুক্ত; যদি উদ্দেশ্য হয়ে থাকে দর্প দেখানো ও বাহাদুরি ফলানো। আদ জাতি এসব করত বলে হযরত হুদ আলাইহিস সালাম আপত্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি বোঝাচ্ছিলেন যে, এটা কেমন কথা তোমরা নাম-ডাক কামানো ও বড়ত্ব ফলানোকেই জীবনের উদ্দেশ্য বানিয়ে নিয়েছ এবং যত দৌড়-ঝাঁপ, তা একে কেন্দ্র করেই করছ। ভাবখানা এই, যেন তোমরা চিরকাল এই দুনিয়ায় থাকবে। কখনও তোমাদের মৃত্যু হবে না এবং আল্লাহ তাআলার সামনে তোমাদের কখনও দাঁড়াতে হবে না।
১৩০

وَاِذَا بَطَشۡتُمۡ بَطَشۡتُمۡ جَبَّارِیۡنَ ۚ ١٣۰

ওয়া ইযা-বাতাশতুম বাতাশতুম জাব্বা-রীন।

আর যখন কাউকে ধৃত কর, তখন তাকে ধৃত কর কঠোর অত্যাচারীরূপে। ৩৭

তাফসীরঃ

৩৭. অর্থাৎ, একদিকে তো তোমরা খ্যাতি কুড়ানোর উদ্দেশ্যে ওইসব ইমারত তৈরি করছ ও তার পেছনে পানির মত অর্থ ঢালছ, অন্যদিকে গরীবদেরকে শোষণ করছ ও তাদের প্রতি চরম দলন-নিপীড়ন চালাচ্ছ। নানা ছল-ছুতায় তাদের ধর-পাকড় কর এবং কাউকে ধরলে তার প্রাণ ওষ্ঠাগত করে ফেল। কুরআন মাজীদ হযরত হুদ আলাইহিস সালামের এ উক্তি উদ্ধৃত করে আমাদেরকে সাবধান করছে, আমাদের কার্যকলাপ যেন তাদের মত না হয়। আমরাও যেন দুনিয়ার ডাঁটফাটকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আখেরাত থেকে গাফেল না হই এবং অর্থ-সম্পদের নেশায় পড়ে গরীবদেরকে নির্যাতনের যাতাকলে পিষ্ট না করি।
১৩১

فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوۡنِ ۚ ١٣١

ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়া আতী‘ঊন।

এখন তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
১৩২

وَاتَّقُوا الَّذِیۡۤ اَمَدَّکُمۡ بِمَا تَعۡلَمُوۡنَ ۚ ١٣٢

ওয়াত্তাকুল্লাযী আমাদ্দাকুম বিমা-তা‘লামূন।

এবং ভয় কর তাঁকে, যিনি এমন সব জিনিস দ্বারা তোমাদের শক্তিবৃদ্ধি করেছেন যা তোমরা জান।
১৩৩

اَمَدَّکُمۡ بِاَنۡعَامٍ وَّبَنِیۡنَ ۚۙ ١٣٣

আমাদ্দাকুম বিআন‘আ-মিওঁ ওয়াবানীন।

তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন গবাদি পশু ও সন্তান-সন্ততি।
১৩৪

وَجَنّٰتٍ وَّعُیُوۡنٍ ۚ ١٣٤

ওয়া জান্নাতিওঁ ওয়া ‘উইয়ূন।

এবং উদ্যানরাজি ও প্রস্রবণ।
১৩৫

اِنِّیۡۤ اَخَافُ عَلَیۡکُمۡ عَذَابَ یَوۡمٍ عَظِیۡمٍ ؕ ١٣٥

ইন্নীআখা-ফু‘আলাইকুম ‘আযা-বা ইয়াওমিন ‘আজীম।

প্রকৃতপক্ষে আমি তোমাদের ব্যাপারে ভয় করি এক মহা দিবসের শাস্তির।
১৩৬

قَالُوۡا سَوَآءٌ عَلَیۡنَاۤ اَوَعَظۡتَ اَمۡ لَمۡ تَکُنۡ مِّنَ الۡوٰعِظِیۡنَ ۙ ١٣٦

কা-লূছাওয়াউন ‘আলাইনা আওয়া ‘আজতা আম লাম তাকুম মিনাল ওয়া‘ইজীন।

তারা বলল, তুমি উপদেশ দাও বা না দাও আমাদের জন্য উভয়ই সমান।
১৩৭

اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّا خُلُقُ الۡاَوَّلِیۡنَ ۙ ١٣٧

ইন হা-যাইল্লা-খুলুকুল আওওয়ালীন।

এটা তো সেই বিষয়ই, যাতে পূর্ববর্তীগণ অভ্যস্ত ছিল। ৩৮

তাফসীরঃ

৩৮. ‘যাতে পূর্ববর্তীগণ অভ্যস্ত ছিল’এর দুই ব্যাখ্যা হতে পারে। (এক) তুমি দুনিয়ার জাঁকজমকের প্রতি বীতস্পৃহা করে আমাদেরকে আখেরাতমুখী হতে বলছ এটা নতুন কোন বিষয় নয়। পূর্বেও যুগে-যুগে বহু লোক এভাবে নবুওয়াতের মিথ্যা দাবি করেছে এবং তোমার মত এ জাতীয় কথাবার্তা বলেছে। সুতরাং তোমার এসব কথা একটা গতানুগতিক বিষয়, যা কর্ণপাতযোগ্য নয়। (দুই) অথবা এর এ ব্যাখ্যাও হতে পারে যে, আমরা যা কিছু করছি, তা নতুন কোন ব্যাপার নয়। প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ এ রকম করে আসছে। অর্থাৎ, এটাই মানুষের স্বাভাবিক নিয়ম। কাজেই এটা দূষনীয় নয় এবং এর উপর আপত্তি তোলা সঙ্গত নয়।
১৩৮

وَمَا نَحۡنُ بِمُعَذَّبِیۡنَ ۚ ١٣٨

ওয়ামা-নাহনুবিমু‘আযযাবীন।

আমরা আদৌ শাস্তিপ্রাপ্ত হওয়ার নই।
১৩৯

فَکَذَّبُوۡہُ فَاَہۡلَکۡنٰہُمۡ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً ؕ وَمَا کَانَ اَکۡثَرُہُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ١٣٩

ফাকাযযাবূহু ফাআহলাকনা-হুম ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাও ওয়ামা-কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন।

মোটকথা তারা হুদকে অস্বীকার করে। ফলে আমি তাদেরকে ধ্বংস করে দেই। ৩৯ নিশ্চয়ই এর ভেতর আছে শিক্ষার বিষয়। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনে না।

তাফসীরঃ

৩৯. আদ জাতি ও হযরত হুদ আলাইহিস সালামের বৃত্তান্ত পূর্বে বিস্তারিতভাবে চলে গেছে। দেখুন সূরা আরাফ (৭ : ৬৫) ও সূরা হুদ (১১ : ৫০-৫৯), টীকাসহ।
১৪০

وَاِنَّ رَبَّکَ لَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ٪ ١٤۰

ওয়া ইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আঝীঝুর রাহীম।

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
১৪১

کَذَّبَتۡ ثَمُوۡدُ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۚۖ ١٤١

কাযযাবাত ছামূদুল মুরছালীন।

ছামুদ জাতি রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল। ৪০

তাফসীরঃ

৪০. ছামুদ জাতি ও তাদের নবী হযরত সালেহ (আ.)-এর বৃত্তান্ত পূর্বে বিস্তারিত গত হয়েছে। দেখুন সূরা আরাফ (৭ : ৭৩) ও সূরা হুদ (১১ : ৬১-৬৮) এবং সংশ্লিষ্ট টীকাসমূহ।
১৪২

اِذۡ قَالَ لَہُمۡ اَخُوۡہُمۡ صٰلِحٌ اَلَا تَتَّقُوۡنَ ۚ ١٤٢

ইযকা-লা লাহুম আখূহুম সা-লিহুন ‘আলা-তাত্তাকূন।

যখন তাদের ভাই সালেহ তাদেরকে বলল, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় কর না?
১৪৩

اِنِّیۡ لَکُمۡ رَسُوۡلٌ اَمِیۡنٌ ۙ ١٤٣

ইন্নী লাকুম রাছূলুন আমীন।

নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
১৪৪

فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوۡنِ ۚ ١٤٤

ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়া আতী‘ঊন।

সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
১৪৫

وَمَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡہِ مِنۡ اَجۡرٍ ۚ  اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ؕ ١٤٥

ওয়ামাআছআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা-‘আলা-রাব্বিল ‘আলামীন।

আমি এ কাজের জন্য তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক নিজ দায়িত্বে রেখেছেন।
১৪৬

اَتُتۡرَکُوۡنَ فِیۡ مَا ہٰہُنَاۤ اٰمِنِیۡنَ ۙ ١٤٦

আতুতরাকূনা ফী মা-হা-হুনাআ-মিনীন।

এখানে যেসব নি‘আমত আছে, তোমাদেরকে কি তার ভেতর সর্বদা নিরাপদে রেখে দেওয়া হবে?
১৪৭

فِیۡ جَنّٰتٍ وَّعُیُوۡنٍ ۙ ١٤٧

ফী জান্না-তিওঁ ওয়া ‘উইয়ূন।

উদ্যানরাজি ও প্রস্রবণসমূহের ভেতর?
১৪৮

وَّزُرُوۡعٍ وَّنَخۡلٍ طَلۡعُہَا ہَضِیۡمٌ ۚ ١٤٨

ওয়া ঝুরূ‘ইওঁ ওয়া নাখলিন তাল‘উহা-হাদীম।

এবং ক্ষেত-খামার ও এমন খেজুর বাগানের ভেতর, যার গুচ্ছ পরস্পর সন্নিবিষ্ট?
১৪৯

وَتَنۡحِتُوۡنَ مِنَ الۡجِبَالِ بُیُوۡتًا فٰرِہِیۡنَ ۚ ١٤٩

ওয়া তানহিতূনা মিনাল জিবা-লি বুঊতান ফা-রিহীন।

তোমরা কি (সর্বদা) জাঁকজমকের সাথে পাহাড় কেটে গৃহ নির্মাণ করতে থাকবে?
১৫০

فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوۡنِ ۚ ١٥۰

ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়া আতী‘ঊন।

এবার আল্লাহকে ভয় কর ও আমাকে মেনে চল।
১৫১

وَلَا تُطِیۡعُوۡۤا اَمۡرَ الۡمُسۡرِفِیۡنَ ۙ ١٥١

ওয়ালা-তুতী‘ঊআমরাল মুছরিফীন।

সীমালঙ্ঘনকারীদের কথা মত চলো না
১৫২

الَّذِیۡنَ یُفۡسِدُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ وَلَا یُصۡلِحُوۡنَ ١٥٢

আল্লাযীনা ইউফছিদূনা ফিল আরদিওয়ালা-ইউসলিহূন।

যারা যমীনে অশান্তি বিস্তার করে এবং সংশোধনমূলক কাজ করে না।
১৫৩

قَالُوۡۤا اِنَّمَاۤ اَنۡتَ مِنَ الۡمُسَحَّرِیۡنَ ۚ ١٥٣

কা-লূইন্নামাআনতা মিনাল মুছাহহারীন।

তারা বলল, নিশ্চয়ই যাদের উপর কঠিন যাদু করা হয়েছে, তুমি তাদেরই একজন।
১৫৪

مَاۤ اَنۡتَ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُنَا ۚۖ فَاۡتِ بِاٰیَۃٍ اِنۡ کُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِیۡنَ ١٥٤

মাআনতা ইল্লা-বাশারুম মিছলুনা ফা’তি বিআয়া-তিন ইন কুনতা মিনাসসা-দিকীন।

তোমার স্বরূপ তো এ ছাড়া কিছুই নয় যে, তুমি আমাদেরই মত একজন মানুষ। সুতরাং তুমি সত্যবাদী হলে কোন নিদর্শন হাজির কর। ৪১

তাফসীরঃ

৪১. ‘কোন নিদর্শন হাজির কর’অর্থাৎ মুজিযা দেখাও। তারা নিজেরাই ফরমায়েশ করেছিল যে, পাহাড়ের ভেতর থেকে একটি উটনী বের করে দাও। সুতরাং তাদের কথামত আল্লাহ তাআলার নির্দেশে পাহাড় থেকে একটি উটনী বের হয়ে আসল।
১৫৫

قَالَ ہٰذِہٖ نَاقَۃٌ لَّہَا شِرۡبٌ وَّلَکُمۡ شِرۡبُ یَوۡمٍ مَّعۡلُوۡمٍ ۚ ١٥٥

কা-লা হা-যিহী না-কাতুল লাহা-শিরবুওঁ ওয়ালাকুম শিরবুইয়াওমিম মা‘লূম।

সালেহ বলল, (নাও) এই যে এক উটনী। এর জন্য থাকবে পানি পানের পালা আর তোমাদের জন্য থাকবে পানি পানের পালা এক নির্ধারিত দিনে। ৪২

তাফসীরঃ

৪২. উটনী বের করে আনার মুজিযাটি যেহেতু তারাই চেয়ে আনিয়েছিল, তাই তাদেরকে বলা হয়, এ উটনীটির কিন্তু কিছু অধিকার থাকবে। তার মধ্যে একটা অধিকার হল, তোমাদের কুয়া থেকে একদিন কেবল সে পানি পান করবে এবং একদিন তোমরা পান করবে। এভাবে তার ও তোমাদের মধ্যে পালা বণ্টন থাকবে। তবে তোমাদের পালার দিন তোমরা যত ইচ্ছা পানি পাত্রাদিতে ভরে রাখতে পারবে।
১৫৬

وَلَا تَمَسُّوۡہَا بِسُوۡٓءٍ فَیَاۡخُذَکُمۡ عَذَابُ یَوۡمٍ عَظِیۡمٍ ١٥٦

ওয়ালা-তামাছছূহা-বিছূইন ফাইয়া’খুযাকুম ‘আযা-বুইয়াওমিন ‘আজীম।

আর কোন অসদুদ্দেশ্যে একে স্পর্শ করো না। অন্যথায় এক মহাদিবসের শাস্তি তোমাদেরকে পাকড়াও করবে।
১৫৭

فَعَقَرُوۡہَا فَاَصۡبَحُوۡا نٰدِمِیۡنَ ۙ ١٥٧

ফা‘আকারূহা-ফাআছবাহূনা-দিমীন।

অতঃপর (এই ঘটল যে) তারা উটনীটির পায়ের রগ কেটে ফেলল। তারপর তারা অনুতপ্ত হল। ৪৩

তাফসীরঃ

৪৩. তাদের সে অনুতাপ তওবার উদ্দেশ্যে ছিল না। আল্লাহ তাআলার হুকুম অমান্য করেছিল বলে যে তাদের মনে অনুশোচনা জেগেছিল তা নয়; বরং উটনী হত্যার কারণে যে শীঘ্রই আযাব এসে যাবে, আর বেশিদিন দুনিয়ার মজা লোটা যাবে না, সে কারণেই অনুতপ্ত হয়েছিল। -অনুবাদক
১৫৮

فَاَخَذَہُمُ الۡعَذَابُ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً ؕ وَمَا کَانَ اَکۡثَرُہُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ١٥٨

ফাআখাযাহুমুল ‘আযা-বু ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাওঁ; ওয়ামা-কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন।

অতঃপর শাস্তি তাদেরকে পাকড়াও করল। ৪৪ নিশ্চয়ই এর মধ্যে শিক্ষার বিষয় আছে। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনে না।

তাফসীরঃ

৪৪. সূরা হুদ (১১ : ৬৮)-এ বলা হয়েছে, ছামুদ জাতিকে যে শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিল, তা ছিল এক ভয়াল-বিরাট আওয়াজ, যার ধাক্কায় তাদের কলিজা ফেটে গিয়েছিল। আর সূরা আরাফে আছে, তাদেরকে প্রচণ্ড ভূমিকম্পে আক্রান্ত করা হয়েছিল। বস্তুত তাদের উপর উভয় রকম শাস্তিই আপতিত হয়েছিল। এর বিস্তারিত বিবরণ সূরা আরাফে (৭ : ৭৩-৭৯) চলে গেছে। সে সূরার ৩৯নং টীকা দেখুন।
১৫৯

وَاِنَّ رَبَّکَ لَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ٪ ١٥٩

ওয়া ইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আঝীঝুর রাহীম।

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
১৬০

کَذَّبَتۡ قَوۡمُ لُوۡطِۣ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۚۖ ١٦۰

কাযযাবাত কাওমুলূতিনিল মুরছালীন।

লূতের সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল।
১৬১

اِذۡ قَالَ لَہُمۡ اَخُوۡہُمۡ لُوۡطٌ اَلَا تَتَّقُوۡنَ ۚ ١٦١

ইযকা-লা লাহুম আখূহুম লূতুন আলা-তাত্তাকূন।

যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বলল, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় কর না?
১৬২

اِنِّیۡ لَکُمۡ رَسُوۡلٌ اَمِیۡنٌ ۙ ١٦٢

ইন্নী লাকুম রাছূলুন আমীন।

নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
১৬৩

فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوۡنِ ۚ ١٦٣

ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়া আতী‘ঊন।

সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
১৬৪

وَمَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡہِ مِنۡ اَجۡرٍ ۚ  اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ؕ ١٦٤

ওয়ামাআছআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা-‘আলা-রাব্বিল ‘আলামীন।

আমি এ কাজের জন্য তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক নিজ দায়িত্বে রেখেছেন।
১৬৫

اَتَاۡتُوۡنَ الذُّکۡرَانَ مِنَ الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ ١٦٥

আতা’তূনাযযুকরা-না মিনাল ‘আ-লামীন।

বিশ্বজগতের সমস্ত মানুষের মধ্যে তোমরাই কি এমন, যারা পুরুষে উপগমন কর। ৪৫

তাফসীরঃ

৪৫. হযরত লূত আলাইহিস সালামকে যে জাতির কাছে নবী করে পাঠানো হয়েছিল, তাদের পুরুষগণ বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত ছিল। তারা স্বভাবসম্মত নিয়মের বিপরীতে পুরুষ-পুরুষে মিলিত হয়ে যৌন চাহিদা মেটাত। তাদের ঘটনা বিস্তারিতভাবে সূরা হুদ (১১ : ৭৭-৮৩) ও সূরা হিজর (১৫ : ৫৮-৭৬)-এ চলে গেছে। আমরা সূরা আরাফে এ সম্প্রদায় ও হযরত লুত আলাইহিস সালামের পরিচিতি সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি। (দ্রষ্টব্য ৭ : ৮০)
১৬৬

وَتَذَرُوۡنَ مَا خَلَقَ لَکُمۡ رَبُّکُمۡ مِّنۡ اَزۡوَاجِکُمۡ ؕ بَلۡ اَنۡتُمۡ قَوۡمٌ عٰدُوۡنَ ١٦٦

ওয়া তাযারূনা মা-খালাকা লাকুম রাব্বুকুম মিন আঝওয়া-জিকুম বাল আনতুম কাওমুন ‘আ-দূ ন।

আর বর্জন করে থাক তোমাদের স্ত্রীগণকে, যাদেরকে তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন? প্রকৃতপক্ষে তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।
১৬৭

قَالُوۡا لَئِنۡ لَّمۡ تَنۡتَہِ یٰلُوۡطُ لَتَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡمُخۡرَجِیۡنَ ١٦٧

কা-লূলাইল্লাম তানতাহি ইয়া-লূতুলাতাকূনান্না মিনাল মুখরাজীন।

তারা বলল, হে লূত! তুমি যদি ক্ষান্ত না হও, তবে জনপদ থেকে যাদেরকে বহিষ্কার করা হয়, তুমিও তাদের একজন হয়ে যাবে।
১৬৮

قَالَ اِنِّیۡ لِعَمَلِکُمۡ مِّنَ الۡقَالِیۡنَ ؕ ١٦٨

কা-লা ইন্নী লি‘আমালিকুম মিনাল কা-লীন।

লূত বলল, জেনে রেখ, যারা তোমাদের এ কাজকে ঘৃণা করে, আমি তাদেরই একজন।
১৬৯

رَبِّ نَجِّنِیۡ وَاَہۡلِیۡ مِمَّا یَعۡمَلُوۡنَ ١٦٩

রাব্বি নাজজিনী ওয়া আহলী মিম্মা-ইয়া‘মালূন।

হে আমার প্রতিপালক! তারা যে কার্যকলাপ করছে আমাকে ও আমার পরিবারবর্গকে তা থেকে রক্ষা করুন। ৪৬

তাফসীরঃ

৪৬. অর্থাৎ এ জাতীয় ঘৃণ্য কার্যকলাপে কাউকে লিপ্ত হতে দেখলে যে দুঃখ-বেদনা সৃষ্টি হয় তা থেকে আমাদেরকে মুক্তি দিন এবং এ অপকর্মের কারণে সে জাতির উপর যে শাস্তি অবতীর্ণ হওয়ার ছিল তা থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন।
১৭০

فَنَجَّیۡنٰہُ وَاَہۡلَہٗۤ اَجۡمَعِیۡنَ ۙ ١٧۰

ফানাজ্জাইনা-হু ওয়া আহলাহূআজমা‘ঈন।

সুতরাং আমি তাকে ও তার পরিবারের সকলকে রক্ষা করলাম
১৭১

اِلَّا عَجُوۡزًا فِی الۡغٰبِرِیۡنَ ۚ ١٧١

ইল্লা-‘আজুঝান ফিল গা-বিরীন।

এক বৃদ্ধাকে ছাড়া, যে পেছনে অবস্থানকারীদের মধ্যে থেকে গেল। ৪৭

তাফসীরঃ

৪৭. ‘এক বৃদ্ধা’ বলতে হযরত লূত আলাইহিস সালামের স্ত্রীকে বোঝানো হয়েছে। সে নবী-পত্নী হয়েও নবীর প্রতি ঈমান তো আনেইনি, উল্টো তাঁর সম্প্রদায়ের কদর্য কাজে সে তাদের সহযোগিতা করছিল। আযাব আসার আগে যখন হযরত লূত আলাইহিস সালামকে শহর ত্যাগ করে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল, তখন সে পিছনে রয়ে গিয়েছিল। কাজেই আযাব আপতিত হলে জনপদবাসীদের সাথে সেও তার শিকার হয়ে যায়।
১৭২

ثُمَّ دَمَّرۡنَا الۡاٰخَرِیۡنَ ۚ ١٧٢

ছু ম্মা দাম্মারনাল আ-খারীন।

তারপর অবশিষ্ট সকলকে আমি ধ্বংস করে দিলাম।
১৭৩

وَاَمۡطَرۡنَا عَلَیۡہِمۡ مَّطَرًا ۚ فَسَآءَ مَطَرُ الۡمُنۡذَرِیۡنَ ١٧٣

ওয়া আমতারনা-‘আলাইহিম মাতারান ফাছাআ মাতারুল মুনযারীন।

তাদের উপর বর্ষণ করলাম এক মারাত্মক বৃষ্টি। ৪৮ যাদেরকে ভয় দেখানো হয়েছিল তাদের জন্য তা ছিল অতি মন্দ বৃষ্টি।

তাফসীরঃ

৪৮. অর্থাৎ পাথরের বৃষ্টি। সূরা হিজরে স্পষ্টই বলা হয়েছে যে, তাদেরকে পাথরের বৃষ্টি দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল।
১৭৪

اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً ؕ وَمَا کَانَ اَکۡثَرُہُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ١٧٤

ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাওঁ ওয়ামা-কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন।

নিশ্চয়ই এর মধ্যে আছে শিক্ষা। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনে না।
১৭৫

وَاِنَّ رَبَّکَ لَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ٪ ١٧٥

ওয়া ইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আঝীঝুর রাহীম।

জেনে রেখ, তোমার প্রতিপালক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
১৭৬

کَذَّبَ اَصۡحٰبُ لۡـَٔـیۡکَۃِ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۚۖ ١٧٦

কাযযাবা আসহা-বুল আইকাতিল মুরছালীন।

আয়কাবাসীগণ রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল। ৪৯

তাফসীরঃ

৪৯. ‘আয়কা’ অর্থ নিবিড় বন। হযরত শুআইব (আ.)কে যে সম্প্রদায়ের কাছে পাঠানো হয়েছিল, তারা এ রকম বনের পাশেই বাস করত। কোন কোন মুফাসসির বলেন, এ জনপদেরই নাম ছিল ‘মাদইয়ান’। কারও মতে ‘আয়কা’ ও ‘মাদইয়ান’ এক নয়; বরং স্বতন্ত্র দু’টি জনপদ। হযরত শুআইব আলাইহিস সালাম উভয়ের প্রতিই প্রেরিত হয়েছিলেন। এ সম্প্রদায়ের ঘটনা বিস্তারিতভাবে সূরা আরাফে চলে গেছে (৭ : ৮৫-৯৩)। টীকাসহ দ্রষ্টব্য।
১৭৭

اِذۡ قَالَ لَہُمۡ شُعَیۡبٌ اَلَا تَتَّقُوۡنَ ۚ ١٧٧

ইযকা-লা লাহুম শু‘আইবুন আলা-তাত্তাকূন।

যখন শুআইব তাদেরকে বলল, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় কর না?
১৭৮

اِنِّیۡ لَکُمۡ رَسُوۡلٌ اَمِیۡنٌ ۙ ١٧٨

ইন্নী লাকুম রাছূলুন আমীন।

নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
১৭৯

فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوۡنِ ۚ ١٧٩

ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়া আতী‘ঊন।

সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার কথা মান।
১৮০

وَمَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡہِ مِنۡ اَجۡرٍ ۚ  اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ؕ ١٨۰

ওয়ামাআছআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা-‘আলা-রাব্বিল ‘আলামীন।

আমি এ কাজের বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। আমার প্রতিদান তো জগতসমূহের প্রতিপালক নিজ দায়িত্বে রেখেছেন।
১৮১

اَوۡفُوا الۡکَیۡلَ وَلَا تَکُوۡنُوۡا مِنَ الۡمُخۡسِرِیۡنَ ۚ ١٨١

আওফুল কাইলা ওয়ালা-তাকূনূমিনাল মুখছিরীন।

তোমরা মাপে পুরোপুরি দিও। যারা মাপে ঘাটতি করে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। ৫০

তাফসীরঃ

৫০. আয়কাবাসীগণ কুফর ও শিরকে তো লিপ্ত ছিলই। সেই সঙ্গে তাদের আরেকটি দোষ ছিল, তারা বেচাকেনায় মানুষকে ঠকাত, মাপে হেরফের করত।
১৮২

وَزِنُوۡا بِالۡقِسۡطَاسِ الۡمُسۡتَقِیۡمِ ۚ ١٨٢

ওয়াঝিনূবিলকিছতা-ছিল মুছতাকীম।

ওজন করো সঠিক দাঁড়িপাল্লায়।
১৮৩

وَلَا تَبۡخَسُوا النَّاسَ اَشۡیَآءَہُمۡ وَلَا تَعۡثَوۡا فِی الۡاَرۡضِ مُفۡسِدِیۡنَ ۚ ١٨٣

ওয়ালা-তাবখাছুন্না-ছা আশইয়াআহুম ওয়ালা-তা‘ছাও ফিল আরদিমুফছিদীন।

মানুষকে তাদের মালামাল কমিয়ে দিও না এবং যমীনে অশান্তি বিস্তার করে বেড়িও না। ৫১

তাফসীরঃ

৫১. তাদের আরও একটি অপরাধ ছিল, তারা দস্যুবৃত্তি করত। রাস্তাঘাটে প্রকাশ্যে পথিকদের মালামাল লুট করত।
১৮৪

وَاتَّقُوا الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ وَالۡجِبِلَّۃَ الۡاَوَّلِیۡنَ ؕ ١٨٤

ওয়াত্তাকুল্লাযী খালাকাকুম ওয়াল জিবিল্লাতাল আওওয়ালীন।

এবং সেই সত্তাকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকেও সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মকেও।
১৮৫

قَالُوۡۤا اِنَّمَاۤ اَنۡتَ مِنَ الۡمُسَحَّرِیۡنَ ۙ ١٨٥

কা-লূইন্নামাআনতা মিনাল মুছাহহারীন।

তারা বলল, নিশ্চয়ই যাদের উপর কঠিন যাদু করা হয়েছে তুমি তাদেরই একজন।
১৮৬

وَمَاۤ اَنۡتَ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُنَا وَاِنۡ نَّظُنُّکَ لَمِنَ الۡکٰذِبِیۡنَ ۚ ١٨٦

ওয়ামাআনতা ইল্লা-বাশারুম মিছলুনা-ওয়া ইন নাজুন্নুকা লামিনাল কা-যিবীন।

তুমি তো আমাদের মত একজন মানুষই। তোমার সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাস এটাই যে, তুমি মিথ্যাবাদীদের একজন।
১৮৭

فَاَسۡقِطۡ عَلَیۡنَا کِسَفًا مِّنَ السَّمَآءِ اِنۡ کُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِیۡنَ ؕ ١٨٧

ফাআছকিত‘আলাইনা-কিছাফাম মিনাছছামাই ইন কুনতা মিনাসসা-দিকীন।

তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে আমাদের উপর আকাশের একটি খণ্ড ফেলে দাও।
১৮৮

قَالَ رَبِّیۡۤ اَعۡلَمُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ ١٨٨

কা-লা রাববীআ‘লামুবিমা-তা‘মালূন।

শুআইব বলল, আমার প্রতিপালক ভালোভাবে জানেন তোমরা যা করছ। ৫২

তাফসীরঃ

৫২. অর্থাৎ, তোমরা যে আকাশের একটি খণ্ড ফেলে তোমাদেরকে শাস্তি দেওয়ার জন্য আমাকে বলছ, এটা আমার এখতিয়ারে নয়। শাস্তি দান আল্লাহ তাআলার কাজ। কাকে কখন কী শাস্তি দেওয়া হবে সে ফায়সালা তাঁরই হাতে। তিনি যখন যে রকম শাস্তি দিতে চান, তা ঠিকই দেবেন। কেননা তোমাদের যাবতীয় কার্যকলাপ তাঁর ভালোভাবে জানা আছে।
১৮৯

فَکَذَّبُوۡہُ فَاَخَذَہُمۡ عَذَابُ یَوۡمِ الظُّلَّۃِ ؕ اِنَّہٗ کَانَ عَذَابَ یَوۡمٍ عَظِیۡمٍ ١٨٩

ফাকাযযাবূহু ফাআখাযাহুম ‘আযা-বুইয়াওমিজজু ল্লাতি ইন্নাহূকা-না ‘আযা-বা ইয়াওমিন ‘আজীম।

মোটকথা তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করল। পরিণামে মেঘাচ্ছন্ন দিনের শাস্তি তাদেরকে আক্রান্ত করল। ৫৩ নিশ্চয়ই তা ছিল এক ভয়ানক দিনের শাস্তি।

তাফসীরঃ

৫৩. একটানা কয়েক দিন প্রচণ্ড গরমের পর তাদের জনপদের কাছে একখণ্ড মেঘ এসে পৌঁছল। প্রথম দিকে তার নিচে শীতল হাওয়া বইছিল। সে হাওয়ায় দেহ জুড়ানোর আশায় জনপদের সমস্ত লোক মেঘখণ্ডটির নিচে জড়ো হল। অনন্তর হঠাৎ করে সেই মেঘ তাদের উপর অগ্নিবর্ষণ শুরু করল। এভাবে তাদের সকলকে ধ্বংস করে দেওয়া হল।
১৯০

اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً ؕ وَمَا کَانَ اَکۡثَرُہُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ١٩۰

ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাওঁ ওয়ামা-কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন।

নিশ্চয়ই এর ভেতর আছে শিক্ষা। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনে না।
১৯১

وَاِنَّ رَبَّکَ لَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ٪ ١٩١

ওয়া ইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আঝীঝুর রাহীম।

জেনে রেখ, তোমার প্রতিপালক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
১৯২

وَاِنَّہٗ لَتَنۡزِیۡلُ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ؕ ١٩٢

ওয়া ইন্নাহূলাতানঝীলুরাব্বিল ‘আ-লামীন।

নিশ্চয়ই এ কুরআন রাব্বুল আলামীনের পক্ষ হতে অবতীর্ণ।
১৯৩

نَزَلَ بِہِ الرُّوۡحُ الۡاَمِیۡنُ ۙ ١٩٣

নাঝালা বিহির রূহুলআমীন।

রূহুল-আমীন তা নিয়ে অবতরণ করেছে। ৫৪

তাফসীরঃ

৫৪. ‘রূহুল-আমীন’ হযরত জিবরীল (আ.)-এর উপাধি। অর্থ ‘বিশ্বস্ত আত্মা’।
১৯৪

عَلٰی قَلۡبِکَ لِتَکُوۡنَ مِنَ الۡمُنۡذِرِیۡنَ ١٩٤

‘আ-লা কালবিকা লিতাকূনা মিনাল মুনযিরীন।

(হে নবী!) তোমার অন্তরে অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে তুমি সতর্ককারীদের (অর্থাৎ নবীদের) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও।
১৯৫

بِلِسَانٍ عَرَبِیٍّ مُّبِیۡنٍ ؕ ١٩٥

বিলিছা-নিন ‘আরাবিইয়িম মুবীন।

নাযিল হয়েছে এমন আরবী ভাষায়, যা বাণীকে সুস্পষ্ট করে দেয়। ৫৫

তাফসীরঃ

৫৫. এর দ্বারা বোঝা গেল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরে কুরআন মাজীদের কেবল ‘ভাব’ নাযিল করা হয়নি, যা তিনি নিজ ভাষায় প্রকাশ করেছেন। বরং ভাবের সাথে এর বিশুদ্ধ, অলংকারপূর্ণ আরবী ভাষাও তাঁর প্রতি ওহী মারফত নাযিল করা হয়েছে। -অনুবাদক
১৯৬

وَاِنَّہٗ لَفِیۡ زُبُرِ الۡاَوَّلِیۡنَ ١٩٦

ওয়া ইন্নাহূলাফী ঝুবুরিল আওওয়ালীন।

পূর্ববর্তী (আসমানী) কিতাবসমূহেও এর (অর্থাৎ এই কুরআনের) উল্লেখ রয়েছে। ৫৬

তাফসীরঃ

৫৬. অর্থাৎ, তাওরাত, যাবুর ও ইনজীলসহ আরও যে সমস্ত কিতাব পূর্ববর্তী রাসূলগণের প্রতি নাযিল হয়েছিল, তাতে আখেরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাব ও তাঁর প্রতি কুরআন নাযিল হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী ছিল। সেসব কিতাবের অনেক বিষয় রদবদল করে ফেলা হয়েছে। তা সত্ত্বেও অনেকগুলি ভবিষ্যদ্বাণী এখনও পর্যন্ত তাতে দেখতে পাওয়া যায়। হযরত মাওলানা রহমাতুল্লাহ কীরানবী (রহ.) তাঁর বিখ্যাত ‘ইজহারুল হক’ গ্রন্থের শেষ অধ্যায়ে সেসব ভবিষ্যদ্বাণী বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় এই লেখক (আল্লামা তাকী উসমানী)-এর হাতে গ্রন্থখানি উর্দূ ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তাতে প্রয়োজনীয় টীকাণ্ডটিপ্পনীও সংযোজন করা হয়েছে। অনেক দিন হল তা ‘বাইবেল সে কুরআন তাক’ নামে পাঠকের হাতে পৌঁছে গেছে।
১৯৭

اَوَلَمۡ یَکُنۡ لَّہُمۡ اٰیَۃً اَنۡ یَّعۡلَمَہٗ عُلَمٰٓؤُا بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ؕ ١٩٧

আওয়ালাম ইয়াকুল্লাহুম আ-য়াতান আইঁ ইয়া‘লামাহূ‘উলামাউ বানীইছরাঈল।

বনী ইসরাঈলের উলামা এ সম্পর্কে অবগত আছে এটা কি তাদের জন্য একটা প্রমাণ নয়? ৫৭

তাফসীরঃ

৫৭. বনী ইসরাঈলের যে ভাগ্যবান ব্যক্তিবর্গ ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তারা তো স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করতই যে, ইয়াহুদী ও নাসারাদের কিতাবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন সম্পর্কে সুসংবাদ জানানো হয়েছে এবং তাঁর আলামতসমূহও উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি বনী ইসরাঈলের যে সকল আলেম ইসলাম গ্রহণ করেনি, তারাও মাঝে-মধ্যে একান্ত আলাপচারিতার সময় এ সত্য স্বীকার করত, যদিও প্রকাশ্যে তার নানা রকম অপব্যাখ্যা করত এবং এখনও করে যাচ্ছে।
১৯৮

وَلَوۡ نَزَّلۡنٰہُ عَلٰی بَعۡضِ الۡاَعۡجَمِیۡنَ ۙ ١٩٨

ওয়ালাও নাঝঝালনা-হু ‘আলা-বা‘দিল আ‘জামীন।

আমি যদি এ কিতাব কোন আযমী ব্যক্তির উপর অবতীর্ণ করতাম
১৯৯

فَقَرَاَہٗ عَلَیۡہِمۡ مَّا کَانُوۡا بِہٖ مُؤۡمِنِیۡنَ ؕ ١٩٩

ফাকারাআহূ‘আলাইহিম মা-কা-নূবিহী মু’মিনীন।

আর সে তাদের সামনে তা পড়ে দিত, তবুও তারা তাতে ঈমান আনত না। ৫৮

তাফসীরঃ

৫৮. অর্থাৎ, কুরআন মাজীদ যে একটি মুজিযা ও মনুষ্যশক্তির ঊর্ধ্বের বিষয় তা আরও বেশি পরিষ্কার এভাবে করা যেত যে, আরবী ভাষায় এই কিতাবকে অন্য কোন ভাষাভাষী ব্যক্তির প্রতি নাযিল করা হত আর অনারবী সেই লোক আরবী ভাষা না জানা সত্ত্বেও আরবী কুরআন পড়ে শুনিয়ে দিত। কিন্তু সেটা করলেই কি এসব লোক ঈমান আনত? কখনও আনত না। কেননা বিষয়টা তো এমন নয় যে, কুরআন মাজীদের সত্যতা সম্পর্কিত দলীল-প্রমাণে কোনরূপ দুর্বলতা আছে আর সে কারণেই তারা ঈমান আনছে না। বরং তাদের ঈমান না আনার কারণ কেবল তাদের জেদী মানসিকতা। তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে যত শক্তিশালী দলীলই সামনে আসুক না কেন তারা কিছুতেই ঈমান আনবে না।
২০০

کَذٰلِکَ سَلَکۡنٰہُ فِیۡ قُلُوۡبِ الۡمُجۡرِمِیۡنَ ؕ ٢۰۰

কাযা-লিকা ছালাকনা-হু ফী কুলূবিল মুজরিমীন।

এভাবেই আমি অপরাধীদের অন্তরে তা ঢুকিয়ে দিয়েছি। ৫৯

তাফসীরঃ

৫৯. অর্থাৎ, যদিও কুরআন মাজীদ হেদায়াতের কিতাব এবং সত্যসন্ধানীদের অন্তরে এর প্রভাবও অপরিসীম, যে কারণে এ কিতাব তাদের হেদায়াত লাভের মাধ্যম হয়ে যায়, কিন্তু কাফেরগণ তো সত্যের সন্ধানী নয়; বরং তারা সত্য কবুল করবে না বলে জিদ ধরে আছে, তাই আমিও তাদের অন্তরে কুরআন এভাবেই প্রবেশ করাই যে, তার কোন আছর তাতে পড়ে না।
২০১

لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِہٖ حَتّٰی یَرَوُا الۡعَذَابَ الۡاَلِیۡمَ ۙ ٢۰١

লা-ইউ’মিনূনা বিহী হাত্তা-ইয়ারাউল ‘আযা-বাল আলীম।

তারা তাতে ঈমান আনবে না, যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাময় শাস্তি দেখতে পাবে।
২০২

فَیَاۡتِیَہُمۡ بَغۡتَۃً وَّہُمۡ لَا یَشۡعُرُوۡنَ ۙ ٢۰٢

ফাইয়া’তিয়াহুম বাগতাতাওঁ ওয়াহুম লা-ইয়াশ‘উরূন।

এবং তা তাদের সামনে এমন আকস্মিকভাবে এসে পড়বে যে, তারা বুঝতেই পারবে না।
২০৩

فَیَقُوۡلُوۡا ہَلۡ نَحۡنُ مُنۡظَرُوۡنَ ؕ ٢۰٣

ফাইয়াকূলূহাল নাহনুমুনজারূন।

তখন তারা বলে উঠবে, আমাদেরকে কিছুটা অবকাশ দেওয়া হবে কি?
২০৪

اَفَبِعَذَابِنَا یَسۡتَعۡجِلُوۡنَ ٢۰٤

আফাবি‘আযা-বিনা -ইয়াছতা‘জিলূন।

তারা কি আমার শাস্তির জন্য তড়িঘড়ি করছে? ৬০

তাফসীরঃ

৬০. উপরে যে আযাবের কথা বলা হয়েছে কাফেরগণ তাতে মোটেই বিশ্বাস করত না। তারা ঠাট্টাচ্ছলে বলত, আমাদেরকে যদি শাস্তি দেওয়া হয়, তবে এখনই দেওয়া হোক না! এ আয়াতে তারই জবাব দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, কাউকে যে তড়িঘড়ি করে শাস্তি দেওয়া হয় না এটা কেবল আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ। তিনি অবাধ্যদেরকে প্রথমে সতর্ক করেন। সে উদ্দেশ্যে তাদের কাছে পথপ্রদর্শক পাঠান। তাদেরকে সুযোগ দেন, যাতে পথপ্রদর্শকের দাওয়াত সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করতে ও সত্য গ্রহণে প্রস্তুত হতে পারে।
২০৫

اَفَرَءَیۡتَ اِنۡ مَّتَّعۡنٰہُمۡ سِنِیۡنَ ۙ ٢۰٥

আফারাআইতাইম্মাততা‘না-হুম ছিনীন।

আচ্ছা বল তো, আমি যদি একটানা কয়েক বছর তাদেরকে ভোগ-বিলাসের উপকরণ দিতে থাকি।
২০৬

ثُمَّ جَآءَہُمۡ مَّا کَانُوۡا یُوۡعَدُوۡنَ ۙ ٢۰٦

ছু ম্মা জাআহুম মা-কা-নূইউ‘আদূন।

তারপর তাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখানো হচ্ছে তা তাদের নিকট এসে পড়ে
২০৭

مَاۤ اَغۡنٰی عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یُمَتَّعُوۡنَ ؕ ٢۰٧

মাআগনা-‘আনহুম মা-কা-নূইউমাত্তা‘ঊন।

তবে ভোগ-বিলাসের যে উপকরণ তাদেরকে দেওয়া হচ্ছিল, তখন (অর্থাৎ শাস্তির সময়) তা তাদের কোন উপকারে আসবে কি? ৬১

তাফসীরঃ

৬১. শীঘ্র শাস্তি না আসার কারণে কাফেরগণ বলত, আল্লাহ তাআলা তো আমাদেরকে বেশ সুখণ্ডশান্তিতে রেখেছেন। আমরা ভ্রান্ত পথে থাকলে তিনি আমাদেরকে সুখে রাখবেন কেন? এ আয়াতে জবাব দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা দ্রুত শাস্তি দেন না তোমাদেরকে শুধরে যাওয়ার সুযোগ দানের লক্ষ্যে। তিনি একটা কাল পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে রাখেন। এর ভেতর কিছু লোক শুধরে গেলে তো ভাল। অন্যথায় যখন সময় শেষ হয়ে যাবে তখন তারা পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য কি কাজের তা বুঝতে পারবে। দুনিয়ায় সর্বোচ্চ অবকাশ দেওয়া হয় মৃত্যু পর্যন্ত। মৃত্যুর পর যখন শাস্তি সামনে এসে যাবে, তখন জাগতিক প্রাচুর্য কোন কাজেই আসবে না। আখেরাতের বিপরীতে দুনিয়ার জীবন তো নিতান্তই মূল্যহীন তখন এটা ভালো করেই বুঝে আসবে। কিন্তু সেই সময়ের বুঝ কী উপকার দেবে?
২০৮

وَمَاۤ اَہۡلَکۡنَا مِنۡ قَرۡیَۃٍ اِلَّا لَہَا مُنۡذِرُوۡنَ ٭ۖۛ ٢۰٨

ওয়ামাআহলাকনা-মিন কারইয়াতিন ইল্লা-লাহা-মুনযিরূন।

আমি কোন জনপদকে ধ্বংস করিনি, এ ব্যতিরেকে যে, (পূর্বে) তাদের জন্য ছিল সতর্ককারী।
২০৯

ذِکۡرٰی ۟ۛ وَمَا کُنَّا ظٰلِمِیۡنَ ٢۰٩

যিকরা-ওয়ামা-কুন্না-জা-লিমীন।

যাতে তারা তাদেরকে উপদেশ দান করে। আমি তো জালিম নই।
২১০

وَمَا تَنَزَّلَتۡ بِہِ الشَّیٰطِیۡنُ ٢١۰

ওয়ামা তানাঝঝালাত বিহিশশাইয়া-তীন।

আর এ কুরআন নিয়ে শয়তানগণ অবতরণ করেনি। ৬২

তাফসীরঃ

৬২. কুরআন মাজীদ সম্পর্কে কাফেরগণ যেসব কথা বলত এবার তা রদ করা হচ্ছে। মৌলিকভাবে তাদের দাবি ছিল দু’টি। (এক) কেউ কেউ বলত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন কাহেন বা অতীন্দ্রিয়বাদী। (দুই) কারও দাবি ছিল তিনি একজন কবি এবং কুরআন মাজীদ একখানি কাব্যগ্রন্থ (নাউযুবিল্লাহ)। আল্লাহ তাআলা এখান থেকে তাদের দু’টো দাবিই খণ্ডন করছেন। কাহেন (অতীন্দ্রিয়বাদী) বলা হত সেইসব লোককে যাদের দাবি ছিল, তাদের হাতে জিন্ন আছে, যারা তাদের বশ্যতা স্বীকার করে এবং গায়েবী সংবাদ তাদেরকে এনে দেয়। এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা কাহেনদের স্বরূপ তুলে ধরেছেন যে, তাদের কাছে যে সকল জিন্ন আসে, তারা মূলত শয়তান। কুরআন মাজীদে যেসব বিষয়বস্তু বর্ণিত হয়েছে, তা শয়তানদের জন্য আদৌ প্রীতিকর নয়, তারা তা কখনও কামনা করতে পারে না। [অর্থাৎ জিন-শয়তানের স্বভাবই হল অসৎপথে চলা, ফিতনা-ফাসাদ বিস্তার করা ও অন্যকে বিপথগামী করা। অপরদিকে কুরআন হল সৎপথের নির্দেশনা ও অন্ধকারের আলোক-বর্তিকা। অর্থাৎ তাদের স্বভাবের সম্পূর্ণ বিপরীত। কাজেই এর ভারবহন করা ও নবী-রাসূলদের কাছে একে নিয়ে আসার কাজটি তাদের স্বভাব-চরিত্রের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। -অনুবাদক] তাছাড়া এতে যেসব পুণ্যের কথা আছে, তা বলার মত ক্ষমতাও তাদের নেই। কবি সংক্রান্ত দাবির রদ সামনে ২২৪ নং আয়াতে আসছে।
২১১

وَمَا یَنۡۢبَغِیۡ لَہُمۡ وَمَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ ؕ ٢١١

ওয়ামা-ইয়ামবাগী লাহুম ওয়ামা-ইয়াছতাতী‘ঊন।

এটা তাদের জন্য সংগত নয় এবং তারা এর ক্ষমতাও রাখে না।
২১২

اِنَّہُمۡ عَنِ السَّمۡعِ لَمَعۡزُوۡلُوۡنَ ؕ ٢١٢

ইন্নাহুম ‘আনিছছাম‘ই লামা‘ঝূলূন।

তাদেরকে তো (ওহী) শোনা থেকেও দূরে রাখা হয়েছে।
২১৩

فَلَا تَدۡعُ مَعَ اللّٰہِ اِلٰـہًا اٰخَرَ فَتَکُوۡنَ مِنَ الۡمُعَذَّبِیۡنَ ۚ ٢١٣

ফালা-তাদ‘উ মা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খারা ফাতাকূনা মিনাল মু‘আযযাবীন।

সুতরাং আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে মাবুদ মানবে না, পাছে তুমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত হও, যারা হবে শাস্তিপ্রাপ্ত।
২১৪

وَاَنۡذِرۡ عَشِیۡرَتَکَ الۡاَقۡرَبِیۡنَ ۙ ٢١٤

ওয়া আনযির ‘আশীরাতাকাল আকরাবীন।

এবং (হে নবী!) তুমি তোমার নিকটতম খান্দানকে সতর্ক করে দাও। ৬৩

তাফসীরঃ

৬৩. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দীনের তাবলীগ ও প্রকাশ্যে প্রচারকার্য চালানোর নির্দেশ সর্বপ্রথম যে আয়াত দ্বারা দেওয়া হয়, এটাই সেই আয়াত, এতে সর্বাপেক্ষা নিকটবর্তী খান্দান থেকে তাবলীগের সূচনা করতে বলা হয়েছে। সুতরাং এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা পাহাড়ে উঠে নিজ খান্দানের নিকটবর্তী লোকদেরকে ডাক দিলেন এবং তারা সেখানে সমবেত হলে, সত্য দীনের প্রতি তাদেরকে দাওয়াত দিলেন। এ আয়াতে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, যারা ইসলামী দাওয়াতের কাজ করবে, তাদের কর্তব্য প্রথমে নিজ পরিবার ও খান্দান থেকেই তা শুরু করা।
২১৫

وَاخۡفِضۡ جَنَاحَکَ لِمَنِ اتَّبَعَکَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ ٢١٥

ওয়াখফিদজানা-হাকা লিমানিততাবা‘আকা মিনাল মু’মিনীন।

আর যে মুমিনগণ তোমার অনুসরণ করে, তাদের জন্য বিনয়ের সাথে মমতার ডানা নুইয়ে দাও।
২১৬

فَاِنۡ عَصَوۡکَ فَقُلۡ اِنِّیۡ بَرِیۡٓءٌ مِّمَّا تَعۡمَلُوۡنَ ۚ ٢١٦

ফাইন ‘আসাওকা ফাকুল ইন্নী বারীউম মিম্মা-তা‘মালূন।

আর তারা যদি তোমার অবাধ্যতা করে তবে বলে দাও, তোমরা যা-কিছু করছ তার সাথে আমার কোন সম্বন্ধ নেই।
২১৭

وَتَوَکَّلۡ عَلَی الۡعَزِیۡزِ الرَّحِیۡمِ ۙ ٢١٧

ওয়া তাওয়াক্কাল ‘আলাল ‘আঝীঝির রাহীম।

আর ভরসা রাখ মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু, (আল্লাহ)-এর প্রতি
২১৮

الَّذِیۡ یَرٰىکَ حِیۡنَ تَقُوۡمُ ۙ ٢١٨

আল্লাযী ইয়ারা-কা হীনা তাকূম।

যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি (ইবাদতের জন্য) দাঁড়াও।
২১৯

وَتَقَلُّبَکَ فِی السّٰجِدِیۡنَ ٢١٩

ওয়া তাকাল্লুবাকা ফিছছা-জিদীন।

এবং দেখেন সিজদাকারীদের মধ্যে তোমার যাতায়াতকেও।
২২০

اِنَّہٗ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ ٢٢۰

ইন্নাহূহুওয়াছ ছামী‘উল ‘আলীম।

নিশ্চয়ই তিনিই সব কথা শোনেন, সকল বিষয় জানেন।
২২১

ہَلۡ اُنَبِّئُکُمۡ عَلٰی مَنۡ تَنَزَّلُ الشَّیٰطِیۡنُ ؕ ٢٢١

হাল উনাব্বিউকুম ‘আলা-মান তানাঝঝালুশ শাইয়া-তীন।

আমি কি তোমাদেরকে বলে দেব শয়তানেরা কার কাছে অবতরণ করে?
২২২

تَنَزَّلُ عَلٰی کُلِّ اَفَّاکٍ اَثِیۡمٍ ۙ ٢٢٢

তানাঝঝালু‘আলা-কুল্লি আফফা-কিন আছীম।

অবতরণ করে প্রত্যেক এমন ব্যক্তির কাছে, যে চরম মিথ্যুক, ঘোর পাপিষ্ঠ।
২২৩

یُّلۡقُوۡنَ السَّمۡعَ وَاَکۡثَرُہُمۡ کٰذِبُوۡنَ ؕ ٢٢٣

ইউলকূ নাছছাম‘আ ওয়া আকছারুহুম কা-যিবূন।

তারা শোনাকথা তাদের দিকে ছুঁড়ে দেয় এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী। ৬৪

তাফসীরঃ

৬৪. অর্থাৎ, শয়তানদের কথায় ভরসা কোন ভালো মানুষ করে না। মিথ্যুক ও পাপিষ্ঠ কিসিমের লোকই তাদেরকে বিশ্বাস করে। আর ‘তারা গায়েবী বিষয় জানে’, শয়তানদের এ দাবি বিলকুল মিথ্যা। তাদের জন্য তো আসমানে যাওয়ার পথই বন্ধ। কাজেই তারা গায়েব জানবে কোত্থেকে? যা ঘটে তা এই যে, তারা ফেরেশতাদের কথা চুরি করে শুনতে চেষ্টা করে। কদাচিত কোন কথা তাদের কানে পড়ে যায় আর অমনি সেটা লুফে নেয় এবং তার সাথে আরও শতটা মিথ্যা মিশ্রিত করে। তারপর সেগুলো তাদের ভক্তদেরকে এসে শোনায়। এই হল তাদের গায়েব জানার রহস্য, মিথ্যাই যার সারাৎসার।
২২৪

وَالشُّعَرَآءُ یَتَّبِعُہُمُ الۡغَاوٗنَ ؕ ٢٢٤

ওয়াশশু‘আরাঊ ইয়াত্তাবি‘উহুমুল গা-ঊন।

আর কবিগণ তাদের অনুগামী হয় তো যতসব বিপথগামী লোক।
২২৫

اَلَمۡ تَرَ اَنَّہُمۡ فِیۡ کُلِّ وَادٍ یَّہِیۡمُوۡنَ ۙ ٢٢٥

আলাম তারা আন্নাহুম ফী কুল্লি ওয়াদিইঁ ইয়াহীমূন।

তুমি দেখনি তারা প্রত্যেক উপত্যকায় উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়? ৬৫

তাফসীরঃ

৬৫. এটা কাফেরদের দ্বিতীয় মন্তব্যের রদ। তারা বলত, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন কবি এবং কুরআন মাজীদ একখানি কাব্যগ্রন্থ (নাউযুবিল্লাহ)। আল্লাহ তাআলা বলছেন, কবিত্ব তো এক কাল্পনিক জিনিস। অনেক সময় বাস্তবের সাথে তার কোন সম্পর্ক থাকে না বরং তারা কল্পনার জগতে ঘোরাঘুরি করে। সে ঘোরাঘুরির কোন দিক-জ্ঞান থাকে না। থাকে না ণত্ব-ষত্ব বোধ। নানা রকম অতিশয়োক্তি করে। উপমা, উৎপ্রেক্ষা ও প্রতীক-রূপকের প্রয়োগে তাদের বাড়াবাড়ির কোন সীমা থাকে না। কাজেই যারা কবিত্বকেই নিজেদের পরম আরাধ্য বানিয়ে নেয়, তাদেরকে কেউ নিজের দীনী অভিভাবক বানায় না। আর বানালেও বানায় এমন শ্রেণীর লোক যারা বিপথগামিতাই পছন্দ করে এবং বাস্তব জগত ছেড়ে কল্পনার জগত নিয়েই মেতে থাকতে চায়।
২২৬

وَاَنَّہُمۡ یَقُوۡلُوۡنَ مَا لَا یَفۡعَلُوۡنَ ۙ ٢٢٦

ওয়া আন্নাহুম ইয়াকূলূনা মা-লা-ইয়াফ‘আলূন।

আর তারা এমন কথা বলে যা নিজেরা করে না। ৬৬

তাফসীরঃ

৬৬. অর্থাৎ, বড়ত্ব জাহির ও মুরুব্বীগিরি ফলানোর জন্য এমন দাবি করে, এমন সব কথাবার্তা বলে, যার কোন প্রতিফলন তাদের নিজেদের জীবনে থাকে না।
২২৭

اِلَّا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَذَکَرُوا اللّٰہَ کَثِیۡرًا وَّانۡتَصَرُوۡا مِنۡۢ بَعۡدِ مَا ظُلِمُوۡا ؕ  وَسَیَعۡلَمُ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡۤا اَیَّ مُنۡقَلَبٍ یَّنۡقَلِبُوۡنَ ٪ ٢٢٧

ইল্লাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ওয়া যাকারুল্লা-হা কাছীরাওঁ ওয়ানতাসারূমিম বা‘দি মা-জু লিমূ ওয়া ছাইয়া‘লামুল লাযীনা জালামূ আইইয়া মুনকালাবিইঁ ইয়ানকালিবূন।

তবে সেই সকল লোক ব্যতিক্রম, যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে, আল্লাহকে বেশি পরিমাণে স্মরণ করেছে এবং নিজেরা নির্যাতিত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করেছে। ৬৭ যারা জুলুম করেছে তারা অচিরেই জানতে পারবে কোন পরিণামের দিকে ফিরে যাচ্ছে।

তাফসীরঃ

৬৭. এই ব্যতিক্রমের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কাব্য চর্চা যদি উপরে বর্ণিত দোষ থেকে মুক্ত থাকে, তাতে থাকে ঈমানের ঝলক ও ‘আমলে সালেহ’-এর ব্যঞ্জনা আর কবি তার কাব্য প্রতিভাকে দীন ও ঈমানের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করে, তার কবি-কল্পনা বেদীনী কার্যকলাপে ইন্ধন না যোগায়, তবে এমন কাব্যচর্চায় দোষ নেই। জুলুমের প্রতিশোধ গ্রহণের বিষয়টাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এ কারণে যে, সেকালে প্রচারণার সর্বাপেক্ষা কার্যকর মাধ্যম ছিল কবিতা। কোন কবি কারও বিরুদ্ধে একটা ব্যঙ্গ কবিতা রচনা করে দিত আর অমনি তা মানুষের মুখে মুখে রটে যেত। এমনটাই করেছিল কোন কোন দুর্মুখ কাফের কবি। তারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে এ জাতীয় কিছু কবিতা চালিয়ে দিয়েছিল। হযরত হাসসান ইবনে সাবিত (রাযি.) ও হযরত আবদুল্লাহু ইবনে রাওয়াহা (রাযি.) প্রমুখ সাহাবী কবি তার জবাব দেওয়াকে নিজেদের ঈমানী দায়িত্ব মনে করলেন। সুতরাং তারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে কাসীদা রচনায় লেগে পড়লেন। তাঁরা তার মাধ্যমে যেমন কাফেরদের ব্যঙ্গ ও আপত্তির দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছিলেন, তেমনি কাফেরগণ আসলে কী বস্তু সেটাও উন্মোচিত করে দিয়েছিলেন। তাদের সে কবিতাগুলো শত্রুর বিরুদ্ধে তীরের চেয়েও বেশি কার্যকর হয়েছিল। এ আয়াতে তাঁদের সে কবিত্বের সমর্থন করা হয়েছে।
সূরা আশ শুআরা' | মুসলিম বাংলা