সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আন নূর (النّور) | আলো

মাদানী

মোট আয়াতঃ ৬৪

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

سُوۡرَۃٌ اَنۡزَلۡنٰہَا وَفَرَضۡنٰہَا وَاَنۡزَلۡنَا فِیۡہَاۤ اٰیٰتٍۭ بَیِّنٰتٍ لَّعَلَّکُمۡ تَذَکَّرُوۡنَ ١

ছূরাতুন আনঝালনা-হা-ওয়া ফারাদনা-হা-ওয়া আনঝালনা-ফীহাআ-য়া-তিম বাইয়িনাতিল লা‘আল্লাকুম তাযাক্কারূন।

এটি একটি সূরা, যা আমি নাযিল করেছি এবং যা (অর্থাৎ যার বিধানাবলী) আমি ফরয করেছি এবং এতে আমি নাযিল করেছি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।

اَلزَّانِیَۃُ وَالزَّانِیۡ فَاجۡلِدُوۡا کُلَّ وَاحِدٍ مِّنۡہُمَا مِائَۃَ جَلۡدَۃٍ ۪ وَّلَا تَاۡخُذۡکُمۡ بِہِمَا رَاۡفَۃٌ فِیۡ دِیۡنِ اللّٰہِ اِنۡ کُنۡتُمۡ تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ ۚ وَلۡیَشۡہَدۡ عَذَابَہُمَا طَآئِفَۃٌ مِّنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ٢

আঝঝা-নিয়াতুওয়াঝঝা-নী ফাজলিদূকুল্লা ওয়াহিদিম মিনহুমা-মিআতা জালদাতিওঁ ওয়ালা-তা’খুযকুম বিহিমা-রা’ফাতুন ফী দীনিল্লা-হি ইন কুনতুম তু’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়াল ইয়াওমিল আ-খিরি ওয়াল ইয়াশহাদ ‘আযা-বাহুমা-তাইফাতুম মিনাল মু’মিনীন।

ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী তাদের প্রত্যেককে একশত চাবুক মারবে। তোমরা যদি আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখ, তবে আল্লাহর দীনের ব্যাপারে তাদের প্রতি করুণাবোধ যেন তোমাদেরকে প্রভাবিত না করে। আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।

তাফসীরঃ

১. ‘একশত চাবুক’ এটা ব্যভিচারের শাস্তি। কুরআন মাজীদ ব্যভিচারকারী নারী-পুরুষ প্রত্যেকের জন্য এ শাস্তি নির্ধারণ করেছে। পরিভাষায় এ শাস্তিকে ব্যভিচারের ‘হদ্দ’ বলে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিভিন্ন বাণী ও বাস্তব কর্ম দ্বারা ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন যে, ব্যভিচার কোন অবিবাহিত পুরুষ বা অবিবাহিতা নারী করলে তখনই এ শাস্তি প্রযোজ্য হবে। পক্ষান্তরে এ অপরাধ যদি কোন বিবাহিত পুরুষ বা বিবাহিতা নারী করে, তবে সেক্ষেত্রে এ শাস্তি প্রযোজ্য নয়। তাদের শাস্তি হল ‘রজম’ করা অর্থাৎ, পাথর মেরে হত্যা করা। এ মাসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আমার রচিত ‘আদালতী ফায়সালা’ শীর্ষক বইখানি দেখা যেতে পারে।

اَلزَّانِیۡ لَا یَنۡکِحُ اِلَّا زَانِیَۃً اَوۡ مُشۡرِکَۃً ۫ وَّالزَّانِیَۃُ لَا یَنۡکِحُہَاۤ اِلَّا زَانٍ اَوۡ مُشۡرِکٌ ۚ وَحُرِّمَ ذٰلِکَ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ٣

আঝঝা-নী লা-ইয়ানকিহুইল্লা-ঝা-নিইয়াতান আও মুশরিকাতাওঁ ওয়াঝঝা-নিয়াতুলাইয়ানকিহুহাইল্লা-ঝা-নিন আও মুশরিকুওঁ ওয়া হুররিমা যা-লিকা ‘আলাল মু’মিনীন।

ব্যভিচারী কেবল ব্যভিচারিণী বা মুশরিক নারীকেই বিবাহ করে। আর ব্যভিচারিণীকে বিবাহ করে কেবল সেই পুরুষ যে নিজে ব্যভিচারকারী বা মুশরিক। মুমিনদের জন্য এটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তাফসীরঃ

২. অর্থাৎ, বিবাহের জন্য ব্যভিচারী বা ব্যভিচারিণীকে পছন্দ করা মুমিনদের জন্য হারাম। জীবনসঙ্গী বা জীবনসঙ্গিনী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাদের উচিত চারিত্রিক পবিত্রতাকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় রাখা। এটা ভিন্ন কথা যে, কেউ কোন ব্যভিচারী বা ব্যভিচারিণীকে বিবাহ করে ফেললে তার সে বিবাহকে বাতিল করা হবে না এবং বিবাহজনিত সমস্ত বিধান ও দায়-দায়িত্ব সেক্ষেত্রে কার্যকর হবে। কিন্তু সে কেন ভুল নির্বাচন করল, সেজন্য অবশ্যই গুনাহগার হবে। প্রকাশ থাকে যে, এ বিধান কেবল সেই ব্যভিচারীর জন্য, যে ব্যভিচারে অভ্যস্ত হয়ে গেছে এবং তা থেকে তাওবার গরজ বোধ করে না। কেউ যদি ব্যভিচারের পর আন্তরিকভাবে তাওবা করে ফেলে, তার সঙ্গে বিবাহে কোন দোষ নেই। আয়াতটির উপরে বর্ণিত ব্যাখ্যা ছাড়া অন্য ব্যাখ্যাও করা হয়েছে, কিন্তু তার চেয়ে এ ব্যাখ্যাই বেশি সহজ ও নিখুঁত। ‘বয়ানুল কুরআন’ গ্রন্থে হযরত হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী (রহ.)ও এ ব্যাখ্যাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

وَالَّذِیۡنَ یَرۡمُوۡنَ الۡمُحۡصَنٰتِ ثُمَّ لَمۡ یَاۡتُوۡا بِاَرۡبَعَۃِ شُہَدَآءَ فَاجۡلِدُوۡہُمۡ ثَمٰنِیۡنَ جَلۡدَۃً وَّلَا تَقۡبَلُوۡا لَہُمۡ شَہَادَۃً اَبَدًا ۚ  وَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡفٰسِقُوۡنَ ۙ ٤

ওয়াল্লাযীনা ইয়ারমূনাল মুহসানা-তি ছুম্মা লাম ইয়া’তূবিআরবা‘আতি শুহাদাআ ফাজলিদূ হুম ছামা-নীনা জালদাতাওঁ ওয়ালা-তাকবালূলাহুম শাহা-দাতান আবাদা- ওয়া উলাইকা হুমুল ফা-ছিকূন।

যারা সতী-সাধ্বী নারীকে অপবাদ দেয়, তারপর চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে না। তাদেরকে আশিটি চাবুক মারবে এবং তাদের সাক্ষ্য কখনও গ্রহণ করবে না। তারা নিজেরাই তো ফাসেক।

তাফসীরঃ

৪. এটাও মিথ্যা অপবাদের জন্য নির্ধারিত শাস্তির একটা অংশ যে, কোন মামলা-মোকদ্দমায় অপবাদদাতার সাক্ষ্য গৃহীত হবে না।

اِلَّا الَّذِیۡنَ تَابُوۡا مِنۡۢ بَعۡدِ ذٰلِکَ وَاَصۡلَحُوۡا ۚ فَاِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٥

ইল্লাল্লাযীনা তা-বূমিম বা‘দি যা-লিকা ওয়া আসলাহূ ফাইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম।

অবশ্য যারা তারপর তাওবা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে, (তাদের জন্য) তো আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

৬. তাওবা দ্বারা মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে ঠিক, কিন্তু উপরে যে শাস্তি বর্ণিত হয়েছে তা অবশ্যই কার্যকর করা হবে।

وَالَّذِیۡنَ یَرۡمُوۡنَ اَزۡوَاجَہُمۡ وَلَمۡ یَکُنۡ لَّہُمۡ شُہَدَآءُ اِلَّاۤ اَنۡفُسُہُمۡ فَشَہَادَۃُ اَحَدِہِمۡ اَرۡبَعُ شَہٰدٰتٍۭ بِاللّٰہِ ۙ اِنَّہٗ لَمِنَ الصّٰدِقِیۡنَ ٦

ওয়াল্লাযীনা ইয়ারমূনা আঝওয়া-জাহুম ওয়ালাম ইয়াকুল লাহূম শুহাদাউ ইল্লাআনফুছুহুম ফাশাহা-দাতুআহাদিহিম আরবা‘উ শাহা-দা-তিম বিল্লা-হি ইন্নাহূলামিনাসসা-দিকীন।

যারা নিজেদের স্ত্রীদেরকে অপবাদ দেয়, আর নিজেরা ছাড়া তাদের কোন সাক্ষী থাকে না, এরূপ কোন ব্যক্তির সাক্ষ্য এই যে, সে চারবার আল্লাহর কসম করে বলবে, সে (স্ত্রীকে দেওয়া অভিযোগের ব্যাপারে) অবশ্যই সত্যবাদী।

তাফসীরঃ

৭. কোন স্বামী নিজ স্ত্রীকে ব্যভিচারের অপবাদ দিলে উপরে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী তাকেও চারজন সাক্ষী উপস্থিত করতে হবে। কিন্তু সে যদি তা করতে ব্যর্থ হয়, তবে নিয়ম অনুযায়ী যদিও আশি দোররার শাস্তি তার উপরও আরোপ হওয়ার কথা, কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর বিশেষ সম্পর্কের কারণে আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য এক বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছেন। পরিভাষায় তাকে ‘লিআন’ বলে। এখান থেকে ৯নং আয়াত পর্যন্ত সেই বিশেষ ব্যবস্থারই বিবরণ। তার সারমর্ম এই যে, কাযী (বিচারক) স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেককে পাঁচবার করে কসম করতে বলবে। তাদেরকে কসম করতে হবে কুরআন মাজীদে বর্ণিত পদ্ধতিতে এবং সেই শব্দাবলীতে। তার আগে কাযী তাদেরকে নসীহত করবে। তাদেরকে বলবে, দেখ, আখেরাতের আযাব দুনিয়ার শাস্তি অপেক্ষা অনেক কঠিন। কাজেই তোমরা মিথ্যা কসম করো না। তার চেয়ে বরং প্রকৃত ঘটনা স্বীকার করে ফেল। স্ত্রী কসম না করে নিজ অপরাধ স্বীকার করলে তার উপর ব্যভিচারের ‘হদ্দ’ আরোপ করা হবে। আর যদি স্বামী কসম করার পরিবর্তে স্বীকার করে নেয় যে, সে স্ত্রীর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিল, তবে তার উপর ‘হদ্দে কযফ’ আরোপিত হবে, যা ৪নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। যদি উভয়েই কসম করে, তবে দুনিয়ায় তাদের কারও উপর কোন শাস্তি জারি করা হবে না। অবশ্য কাযী তাদের মধ্যকার বিবাহ রহিত করে দেবে। অতঃপর সে নারীর কোন সন্তান জন্ম নিলে এবং স্বামী তাকে নিজ সন্তান বলে স্বীকার না করলে তাকে মায়ের সাথেই সম্পৃক্ত করা হবে (অর্থাৎ তার পিতৃ পরিচয় থাকবে না, মায়ের পরিচয়ে সে পরিচিত হবে)।

وَالۡخَامِسَۃُ اَنَّ لَعۡنَتَ اللّٰہِ عَلَیۡہِ اِنۡ کَانَ مِنَ الۡکٰذِبِیۡنَ ٧

ওয়াল খা-মিছাতুআন্না লা‘নাতাল্লা-হি ‘আলাইহি ইন কা-না মিনাল কা-যিবীন।

এবং পঞ্চমবার সে বলবে, সে যদি (তার দেওয়া অভিযোগে) মিথ্যুক হয়, তবে তার প্রতি আল্লাহর লানত।

وَیَدۡرَؤُا عَنۡہَا الۡعَذَابَ اَنۡ تَشۡہَدَ اَرۡبَعَ شَہٰدٰتٍۭ بِاللّٰہِ ۙ  اِنَّہٗ لَمِنَ الۡکٰذِبِیۡنَ ۙ ٨

ওয়া ইয়াদরাউ ‘আনহাল ‘আযা-বা আন তাশহাদা আরবা‘আ শাহা-দা-তিম বিল্লা-হি ইন্নাহূ লামিনাল কা-যিবীন।

আর নারীটি হতে (ব্যভিচারের) শাস্তি রদ করার উপায় এই যে, সে চারবার আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য দেবে, (কথিত অভিযোগে) তার স্বামী মিথ্যাবাদী।

وَالۡخَامِسَۃَ اَنَّ غَضَبَ اللّٰہِ عَلَیۡہَاۤ اِنۡ کَانَ مِنَ الصّٰدِقِیۡنَ ٩

ওয়াল খা-মিছাতা আন্না গাদাবাল্লা-হি ‘আলাইহাইন কা-না মিনাসসা-দিকীন।

আর পঞ্চমবার সে বলবে, সে (অর্থাৎ স্বামী) সত্যবাদী হলে তার নিজের প্রতি আল্লাহর গযব পড়ুক।
১০

وَلَوۡلَا فَضۡلُ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ وَرَحۡمَتُہٗ وَاَنَّ اللّٰہَ تَوَّابٌ حَکِیۡمٌ ٪ ١۰

ওয়া লাওলা- ফাদলুল্লা-হি ‘আলাইকুমওয়ারাহমাতুহূওয়া আন্নাল্লা-হা তাওওয়া-বুন হাকীম।

তোমাদের প্রতি আল্লাহর ফযল ও তাঁর রহমত না হলে এবং আল্লাহ যে অত্যধিক তাওবা কবুলকারী ও হিকমতের মালিক এটা না হলে (চিন্তা করে দেখ তোমাদের দশা কী হত)।

তাফসীরঃ

৮. অর্থাৎ, লিআনের যে ব্যবস্থা তোমাদেরকে দেওয়া হয়েছে, তা আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহ। অন্যথায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও সাধারণ নিয়ম কার্যকর হলে মহা মুশকিল দেখা দিত। কেননা সেক্ষেত্রে কোন স্বামী তার স্ত্রীকে অন্যের সাথে পাপকার্যে লিপ্ত দেখলেও যতক্ষণ পর্যন্ত চারজন সাক্ষী না পেত ততক্ষণ মুখ খুলত না। মুখ খুললে তার নিজেকেই আশি দোররা খেতে হত। লিআনের ব্যবস্থা দ্বারা আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে সেই সংকট থেকে উদ্ধার করেছেন।
১১

اِنَّ الَّذِیۡنَ جَآءُوۡ بِالۡاِفۡکِ عُصۡبَۃٌ مِّنۡکُمۡ ؕ لَا تَحۡسَبُوۡہُ شَرًّا لَّکُمۡ ؕ بَلۡ ہُوَ خَیۡرٌ لَّکُمۡ ؕ لِکُلِّ امۡرِیًٴ مِّنۡہُمۡ مَّا اکۡتَسَبَ مِنَ الۡاِثۡمِ ۚ وَالَّذِیۡ تَوَلّٰی کِبۡرَہٗ مِنۡہُمۡ لَہٗ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ ١١

ইন্নাল্লাযীনা জাঊ বিলইফকি ‘উসবাতুম মিনকুম লা তাহছাবূহু শাররাল্লাকুম বাল হুওয়া খাইরুল লাকুম লিকুল্লিমরিয়িম মিনহুম মাকতাছাবা মিনাল ইছমি ওয়াল্লাযী তাওয়াল্লা-কিবরাহূমিনহুম লাহূ‘আযা-বুন ‘আজীম।

নিশ্চয়ই, যারা এই মিথ্যা অপবাদ রচনা করে এনেছে তারা তোমাদেরই মধ্যকার একটি দল। তোমরা একে তোমাদের জন্য অনিষ্টকর মনে করো না; বরং এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। ১০ তাদের প্রত্যেকের ভাগে রয়েছে নিজ কৃতকর্মের গুনাহ। তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এর (অর্থাৎ এ অপবাদের) ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা নিয়েছে, তার জন্য আছে কঠিন শাস্তি। ১১

তাফসীরঃ

৯. এখান থেকে ২৬ নং পর্যন্ত আয়াতসমূহে যে ঘটনার প্রতি ইশারা, তার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ, মদীনা মুনাওয়ারায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভাগমনের পর ইসলামের ক্রমবিস্তারে যে গতি সঞ্চার হয়, তা দেখে কুফরী শক্তি ক্ষোভে-আক্রোশে দাঁত কিড়মিড় করছিল। কাফেরদের মধ্যে একদল ছিল মুনাফেক, যারা মুখে মুখে ইসলাম গ্রহণ করেছিল, কিন্তু তাদের অন্তর ছিল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়াসাল্লামের প্রতি বিদ্বেষে ভরা। তাদের সার্বক্ষণিক চেষ্টা ছিল কিভাবে মুসলিমদের বদনাম করা যায় এবং কি উপায়ে তাদেরকে উত্যক্ত করা যায়। খোদ মদীনা মুনাওয়ারার ভেতরই তাদের একটি বড়সড় দল বাস করত। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বনুল মুস্তালিকের বিরুদ্ধে অভিযান চালান তখন তাদের একটি দলও সে অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিল। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহা এ যুদ্ধে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলেন। অভিযান থেকে ফেরার পথে এক জায়গায় শিবির ফেলা হয়েছিল। সেখানে হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহার হার হারিয়ে যায়। তিনি তার খোঁজে শিবিরের বাইরে চলে গিয়েছিলেন। বিষয়টি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জানা ছিল না। তিনি সৈন্যদেরকে রওয়ানা হওয়ার হুকুম দিলেন। হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা ফিরে এসে দেখেন কাফেলা চলে গেছে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে প্রখর বুদ্ধিমত্তা ও অসাধারণ সংযম শক্তি দিয়েছিলেন। তিনি অস্থির হয়ে এদিক ওদিক ছোটাছুটি না করে সেখানেই বসে থাকলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন টের পাবেন তিনি কাফেলায় নেই, তখন হয় নিজেই তাঁর খোঁজে এখানে আসবেন অথবা অন্য কাউকে পাঠাবেন। তাছাড়া মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিয়ম ছিল এক ব্যক্তিকে কাফেলার পিছনে রেখে আসা। কাফেলা চলে যাওয়ার পর কোন কিছু থেকে গেল কি না তা সেই ব্যক্তি দেখে আসত। এ কাফেলায় এ কাজের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছিল হযরত সাফওয়ান ইবন মুআত্তাল রাযিয়াল্লাহু আনহুকে। তিনি খোঁজ নিতে গিয়ে যখন হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা যেখানে ছিলেন, সেখানে পৌঁছলেন তখন কী দুর্ঘটনা ঘটে গেছে তা বুঝে ফেললেন। কালবিলম্ব না করে নিজের উটটি হযরত উম্মুল মুমিনীনের সামনে পেশ করলেন। তাতে সওয়ার হয়ে তিনি মদীনা মুনাওয়ারায় পৌঁছলেন। মুনাফিকদের সর্দার আবদুল্লাহ ইবন উবাই যখন এ ঘটনা জানতে পারল সে তিলকে তাল করে প্রচার করতে লাগল এবং আমাদের প্রাণের চেয়েও প্রিয় এ মায়ের প্রতি এমন ন্যাক্কারজনক অপবাদ দিল, যা কোন আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন মুসলিমের পক্ষে উচ্চারণ করাও কঠিন। আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এ অপবাদকে এতটাই প্রসিদ্ধ করে তুলল যে, জনা কয়েক সরলমতি মুসলিমও তার প্রচারণার ফাঁদে পড়ে গেল। মুনাফিক শ্রেণী বেশ কিছুদিন এই মাথামু-হীন বিষয় নিয়ে মেতে রইল এবং মদীনা মুনাওয়ারার শান্তিময় পরিবেশকে বিষাক্ত করে তুলল। পরিশেষে আল্লাহ তাআলা সূরা নূরের এ আয়াতসমূহ নাযিল করলেন। এর দ্বারা এক দিকে হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযিয়াল্লাহু আনহার চারিত্রিক নির্মলতার পক্ষে ঐশী সনদ দিয়ে দেওয়া হল, অন্যদিকে যারা চক্রান্তটির রুই-কাতলা ছিল তাদেরকে জানানো হল কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারী বার্তা।
১২

لَوۡلَاۤ اِذۡ سَمِعۡتُمُوۡہُ ظَنَّ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ وَالۡمُؤۡمِنٰتُ بِاَنۡفُسِہِمۡ خَیۡرًا ۙ وَّقَالُوۡا ہٰذَاۤ اِفۡکٌ مُّبِیۡنٌ ١٢

লাওলাইযছামি‘তুমূহু জান্নাল মু’মিনূনা ওয়াল মু’মিনা-তুবিআনফুছিহিম খাইরাওঁ ওয়া কা-লূহা-যাইফকুম মুবীন।

যখন তোমরা তা শুনলে, তখন কেন মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীগণ নিজেদের সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করলে না এবং বললে না এটা সুস্পষ্ট মিথ্যা? ১২

তাফসীরঃ

১২. এ আয়াতে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, দীন ও ঈমানের ভিত্তিতে সকল মুমিন নর-নারী একান্তই আপনজন। কাজেই কোন মুমিন-নারী সম্পর্কে কোন মন্দ প্রচারণা শুনলে আপনজন হিসেবে তাতে কর্ণপাত না করে তার প্রতি সুধারণা রাখা চাই এবং ‘মিথ্যা অপবাদ’ বলে তার নিন্দা জানানো চাই। যে সকল মুমিন এ নীতি অবলম্বন করেনি, আয়াতে তাদেরকে তিরস্কার করা হয়েছে। তবে অনেকেই এমন ছিলেন, যারা প্রথমেই এ প্রচারণাকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। যেমন হযরত আবু আইয়ুব আনসারীকে (রা.) তার স্ত্রী যখন বললেন, লোকে আয়েশা সিদ্দীকা সম্পর্কে কি বলছে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ শুনেছি, কিন্তু তা সম্পূর্ণ মিথ্যা! হে আইয়ুবের মা! তুমি কি কখনও এরূপ কাজ করবে? স্ত্রী বললেন, আল্লাহর কসম! কক্ষণও নয়। তিনি বললেন, তা হলে আয়েশা তো আল্লাহর কসম তোমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ! (তাঁর দ্বারা এটা কি করে সম্ভব?)। -অনুবাদক
১৩

لَوۡلَا جَآءُوۡ عَلَیۡہِ بِاَرۡبَعَۃِ شُہَدَآءَ ۚ فَاِذۡ لَمۡ یَاۡتُوۡا بِالشُّہَدَآءِ فَاُولٰٓئِکَ عِنۡدَ اللّٰہِ ہُمُ الۡکٰذِبُوۡنَ ١٣

লাওলা-জাঊ ‘আলাইহি বিআরবা‘আতি শুহাদাআ ফাইযলাম ইয়া’তূ বিশশুহাদাই ফাউলাইকা ‘ইনদাল্লা-হি হুমুল কা-যিবূন।

তারা (অর্থাৎ অপবাদদাতাগণ) এ বিষয়ে কেন চারজন সাক্ষী উপস্থিত করল না? সুতরাং তারা যখন সাক্ষী উপস্থিত করল না, তখন আল্লাহর নিকট তারাই মিথ্যুক।
১৪

وَلَوۡلَا فَضۡلُ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ وَرَحۡمَتُہٗ فِی الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃِ لَمَسَّکُمۡ فِیۡ مَاۤ اَفَضۡتُمۡ فِیۡہِ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ ۚۖ ١٤

ওয়া লাওলা- ফাদলুল্লা-হি আলাইকুমওয়ারাহমাতুহূফিদদুনইয়া-ওয়াল আ-খিরাতি লামছছাকুম ফী মাআফাদতুম ফীহি ‘আযা-বুন ‘আজীম।

দুনিয়া ও আখেরাতে তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না হলে তোমরা যে বিষয়ে জড়িয়ে পড়েছিলে তজ্জন্য তোমাদেরকে স্পর্শ করত কঠিন শাস্তি,
১৫

اِذۡ تَلَقَّوۡنَہٗ بِاَلۡسِنَتِکُمۡ وَتَقُوۡلُوۡنَ بِاَفۡوَاہِکُمۡ مَّا لَیۡسَ لَکُمۡ بِہٖ عِلۡمٌ وَّتَحۡسَبُوۡنَہٗ ہَیِّنًا ٭ۖ وَّہُوَ عِنۡدَ اللّٰہِ عَظِیۡمٌ ١٥

ইযতালাক্কাওনাহূবিআলছিনাতিকুম ওয়া তাকূলূনা বিআফওয়া-হিকুম মা-লাইছা লাকুম বিহী ‘ইলমুওঁ ওয়া তাহছাবূনাহূহাইয়িনাওঁ ওয়া হুওয়া ‘ইনদাল্লা-হি ‘আজীম।

যখন তোমরা নিজ রসনা দ্বারা তা একে অন্যের থেকে প্রচার করছিলে ১৩ এবং নিজ মুখে এমন কথা বলছিলে, যে সম্পর্কে তোমাদের কিছু জানা নেই আর তোমরা এ ব্যাপারটাকে মামুলি মনে করছিলে, অথচ আল্লাহর কাছে এটা ছিল গুরুতর।

তাফসীরঃ

১৩. নিষ্ঠাবান ও খাঁটি মুমিনদের অধিকাংশেরই বিশ্বাস ছিল এ ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুরুতর অপবাদ। তা সত্ত্বেও মুনাফেকদের সোৎসাহ প্রচারণার ফলে মুমিনদের মজলিসেও এ নিয়ে কথা শুরু হয়ে গিয়েছিল। এ আয়াত সাবধান করছে যে, এরূপ ভিত্তিহীন বিষয়ে মুখ খোলাও কারও জন্য জায়েয নয়।
১৬

وَلَوۡلَاۤ اِذۡ سَمِعۡتُمُوۡہُ قُلۡتُمۡ مَّا یَکُوۡنُ لَنَاۤ اَنۡ نَّتَکَلَّمَ بِہٰذَا ٭ۖ سُبۡحٰنَکَ ہٰذَا بُہۡتَانٌ عَظِیۡمٌ ١٦

ওয়া লাওলাইযছামি‘তুমূহু কুলতুম মা-ইয়াকূনুলানাআন নাতাকাল্লামা বিহা-যা- ছুবহা-নাকা হা-যা-বুহতা-নুন ‘আজীম।

তোমরা যখন একথা শুনেছিলে তখনই কেন বলে দিলে না ‘একথা মুখে আনার কোন অধিকার আমাদের নেই; হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র। এটা তো মারাত্মক অপবাদ।’
১৭

یَعِظُکُمُ اللّٰہُ اَنۡ تَعُوۡدُوۡا لِمِثۡلِہٖۤ اَبَدًا اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ۚ ١٧

ইয়া‘ইজু কুমুল্লা-হু আন তা‘ঊদূলিমিছলিহীআবাদান ইন কুনতুম মু’মিনীন।

আল্লাহ তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন, এ রকম আর কখনও যেন না কর যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক।
১৮

وَیُبَیِّنُ اللّٰہُ لَکُمُ الۡاٰیٰتِ ؕ وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌ حَکِیۡمٌ ١٨

ওয়া ইউবাইয়িনুল্লা-হু লাকুমুল আ-য়া-তি ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হাকীম।

আল্লাহ তোমাদের সামনে হেদায়াতের বাণী সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করছেন। আল্লাহ জ্ঞানেরও মালিক, হেকমতেরও মালিক।
১৯

اِنَّ الَّذِیۡنَ یُحِبُّوۡنَ اَنۡ تَشِیۡعَ الۡفَاحِشَۃُ فِی الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ۙ فِی الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃِ ؕ وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ وَاَنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ ١٩

ইন্নাল্লাযীনা ইউহিববূনা আন তাশী‘আল ফা-হিশাতুফিল্লাযীনা আ-মানূলাহুম ‘আযা-বুন আলিমুন ফিদদুনইয়া-ওয়াল আ-খিরাতি ওয়া ল্লা-হু ইয়া‘লামুওয়া আনতুম লাতা‘লামূন।

স্মরণ রেখ, যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার হোক এটা কামনা করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে আছে যন্ত্রণাময় শাস্তি এবং আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না।
২০

وَلَوۡلَا فَضۡلُ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ وَرَحۡمَتُہٗ وَاَنَّ اللّٰہَ رَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ ٪ ٢۰

ওয়া লাওলা-ফাদলুল্লা-হি ‘আলাইকুম ওয়া রাহমাতুহূওয়া আন্নাল্লা-হা রাঊফুর রাহীম।

যদি না তোমাদের প্রতি আল্লাহর ফযল ও রহমত থাকত এবং না হতেন আল্লাহ অতি মমতাশীল, পরম দয়ালু (তবে রক্ষা পেতে না তোমরাও)।
২১

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّبِعُوۡا خُطُوٰتِ الشَّیۡطٰنِ ؕ وَمَنۡ یَّتَّبِعۡ خُطُوٰتِ الشَّیۡطٰنِ فَاِنَّہٗ یَاۡمُرُ بِالۡفَحۡشَآءِ وَالۡمُنۡکَرِ ؕ وَلَوۡلَا فَضۡلُ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ وَرَحۡمَتُہٗ مَا زَکٰی مِنۡکُمۡ مِّنۡ اَحَدٍ اَبَدًا ۙ وَّلٰکِنَّ اللّٰہَ یُزَکِّیۡ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَاللّٰہُ سَمِیۡعٌ عَلِیۡمٌ ٢١

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তাত্তাবি‘উ খুতুওয়া-তিশশাইতা-নি ওয়া মাইঁ ইয়াত্তাবি’ খুতুওয়া-তিশশাইতা-নি ফাইন্নাহূইয়া’মরু বিল ফাহশাই ওয়াল মুনকারি ওয়া লাওলা-ফাদলুল্লা-হি ‘আলাইকুম ওয়া রাহমাতুহূমা-ঝাকা-মিনকুম মিন আহাদিন আবাদাওঁ ওয়ালা-কিন্নাল্লা-হা ইউঝাক্কী মাইঁ ইয়াশাউ ওয়াল্লা-হু ছামী‘উন ‘আলীম।

হে মুমিনগণ! তোমরা শয়তানের অনুগামী হয়ো না। কেউ শয়তানের অনুগামী হলে শয়তান তো সর্বদা অশ্লীল ও অন্যায় কাজেরই নির্দেশ দেবে। তোমাদের প্রতি আল্লাহর ফযল ও রহমত না হলে তোমাদের মধ্যে কেউ কখনও পাক-পবিত্র হতে পারত না। কিন্তু আল্লাহ যাকে চান পবিত্র করে দেন এবং আল্লাহ সকল কথা শোনেন ও সকল বিষয় জানেন।
২২

وَلَا یَاۡتَلِ اُولُوا الۡفَضۡلِ مِنۡکُمۡ وَالسَّعَۃِ اَنۡ یُّؤۡتُوۡۤا اُولِی الۡقُرۡبٰی وَالۡمَسٰکِیۡنَ وَالۡمُہٰجِرِیۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ۪ۖ وَلۡیَعۡفُوۡا وَلۡیَصۡفَحُوۡا ؕ اَلَا تُحِبُّوۡنَ اَنۡ یَّغۡفِرَ اللّٰہُ لَکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٢٢

ওয়ালা-ইয়া’তালি উলুল ফাদলি মিনকুম ওয়াছছা‘আতি আইঁ ইউ’তূউলিল কুরবা-ওয়াল মাছা-কীনা ওয়ালমুহা-জিরীনা ফী ছাবীলিল্লা-হি ওয়ালইয়া‘ফূওয়ালইয়াসফাহূ আলা-তুহিববূনা আইঁ ইয়াগফিরাল্লা-হু লাকুম ওয়াল্লা-হু গাফরুর রাহীম।

তোমাদের মধ্যে যারা সম্পদ ও স্বচ্ছলতার অধিকারী, তারা যেন এরূপ কসম না করে যে, আত্মীয়-স্বজন, অভাবগ্রস্ত ও আল্লাহর পথে হিজরতকারীদেরকে কিছু দেবে না। ১৪ তারা যেন ক্ষমা করে ও ঔদার্য প্রদর্শন করে। তোমরা কি কামনা কর না আল্লাহ তোমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করুন? আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

১৪. যে দু’-তিনজন সরলপ্রাণ মুসলিম মুনাফেকদের অপপ্রচারের শিকার হয়েছিল, তাদের একজন মিসতাহ ইবনে উছাছা (রাযি.)। ইনি একজন মুহাজির সাহাবী ছিলেন। হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে তাঁর আত্মীয়তা ছিল। তিনি গরীব ছিলেন। হযরত সিদ্দীকে আকবার রাযিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে আর্থিক সাহায্য করতেন। তিনি যখন জানতে পারলেন মিসতাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুও হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযিয়াল্লাহু আনহা সম্পর্কে অনুচিত কথাবার্তা বলছে, তখন শপথ করলেন, আমি ভবিষ্যতে কখনও তাকে আর্থিক সাহায্য করব না। হযরত মিসতাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুর ভুল অবশ্যই হয়েছিল, কিন্তু তিনি সে ভুলের উপরই গোঁ ধরে বসে থাকেননি; বরং সেজন্য অনুতপ্ত হয়েছিলেন ও খাঁটিমনে তাওবা করেছিলেন। তাই আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে দেন যে, তাকে আর্থিক সহযোগিতা না করার শপথ করা উচিত নয়। যখন তিনি তাওবা করে ফেলেছেন, তাকে ক্ষমা করা উচিত। [বিশেষত এ কারণেও যে, তোমাদেরও তো কত ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকে। তোমরা কি চাও না আল্লাহ তাআলা সেগুলো ক্ষমা করে দিন? তা চাইলে তোমরা অন্যের প্রতি ক্ষমাপ্রবণ হও। তাহলে আল্লাহ তাআলার কাছে তোমরাও ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে। এ আয়াত নাযিল হলে হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযিয়াল্লাহু আনহু চিৎকার করে বলে ওঠেন, অবশ্যই হে আমাদের রব! আমরা চাই তুমি আমাদের ক্ষমা কর -অনুবাদক] অনন্তর তিনি পুনরায় তার অর্থ সাহায্য জারি করে দেন এবং কসমের কাফফারা আদায় করেন। সেই সাথে ঘোষণা করে দেন, আর কখনও এ সাহায্য বন্ধ করব না।
২৩

اِنَّ الَّذِیۡنَ یَرۡمُوۡنَ الۡمُحۡصَنٰتِ الۡغٰفِلٰتِ الۡمُؤۡمِنٰتِ لُعِنُوۡا فِی الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃِ ۪  وَلَہُمۡ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ ۙ ٢٣

ইন্নাল্লাযীনা ইয়ারমূনাল মুহসানা-তিল গা-ফিলা-তিল মু’মিনা-তি লু‘ইনূফিদদুনইয়া-ওয়াল আ-খিরাতি ওয়া লাহুম ‘আযা-বুন ‘আজীম।

স্মরণ রেখ, যারা চরিত্রবতী, সরলমতী মুমিন নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা দুনিয়া ও আখেরাতে অভিশপ্ত হয়েছে আর তাদের জন্য রয়েছে ভয়ানক শাস্তি।
২৪

یَّوۡمَ تَشۡہَدُ عَلَیۡہِمۡ اَلۡسِنَتُہُمۡ وَاَیۡدِیۡہِمۡ وَاَرۡجُلُہُمۡ بِمَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ٢٤

ইয়াওমা তাশহাদু‘আলাইহিম আলছিনাতুহুম ওয়া আইদীহিম ওয়া আরজুলুহুম বিমা-কা-নূ ইয়া‘মালূন।

যে দিন তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তাদের বিরুদ্ধে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের পা সাক্ষ্য দেবে
২৫

یَوۡمَئِذٍ یُّوَفِّیۡہِمُ اللّٰہُ دِیۡنَہُمُ الۡحَقَّ وَیَعۡلَمُوۡنَ اَنَّ اللّٰہَ ہُوَ الۡحَقُّ الۡمُبِیۡنُ ٢٥

ইয়াওমায়িযিইঁ ইউওয়াফফীহিমুল্লা-হু দীনাহুমুলহাক্কাওয়াইয়া‘লামূনা আন্নাল্লা-হা হুওয়াল হাক্কুল মুবীন।

সে দিন আল্লাহ তাদেরকে তাদের উপযুক্ত প্রতিদান পুরোপুরি দান করবেন এবং তারা জানতে পারবে আল্লাহই সত্য, তিনিই যাবতীয় বিষয় সুস্পষ্টকারী।
২৬

اَلۡخَبِیۡثٰتُ لِلۡخَبِیۡثِیۡنَ وَالۡخَبِیۡثُوۡنَ لِلۡخَبِیۡثٰتِ ۚ  وَالطَّیِّبٰتُ لِلطَّیِّبِیۡنَ وَالطَّیِّبُوۡنَ لِلطَّیِّبٰتِ ۚ  اُولٰٓئِکَ مُبَرَّءُوۡنَ مِمَّا یَقُوۡلُوۡنَ ؕ  لَہُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّرِزۡقٌ کَرِیۡمٌ ٪ ٢٦

আলখাবীছা-তুলিলখাবীছীনা ওয়াল খাবীছূনা লিলখাবীছা-তি ওয়াততাইয়িবা-তু লিততাইয়িবীনা ওয়াততাইয়িবূনা লিততাইয়িবা-ত উলাইকা মুবাররাঊনা মিম্মাইয়াকূলূনা লাহুম মাগরিফাতুওঁ ওয়ারিঝকুন কারীম।

অপবিত্র নারীগণ অপবিত্র পুরুষদের উপযুক্ত এবং অপবিত্র পুরুষগণ অপবিত্র নারীদের উপযুক্ত। পবিত্র নারীগণ পবিত্র পুরুষদের উপযুক্ত এবং পবিত্র পুরুষগণ পবিত্র নারীদের উপযুক্ত। ১৫ তারা (অর্থাৎ পবিত্র নারী-পুরুষ) লোকে যা রটনা করে তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। তাদের (অর্থাৎ পবিত্রদের) জন্য রয়েছে মাগফিরাত ও সম্মানজনক জীবিকা।

তাফসীরঃ

১৫. মূলনীতি বলে দেওয়া হল যে, পবিত্র ও চরিত্রবতী নারী পবিত্র ও চরিত্রবান পুরুষেরই উপযুক্ত। এর ভেতর দিয়ে এই ইশারাও করে দেওয়া হল যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ পবিত্রতা ও আখলাক-চরিত্রের সর্বোচ্চ মার্গে অবস্থিত। কেননা বিশ্বজগতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপেক্ষা বেশি পূত চরিত্রের অধিকারী আর কে হতে পারে? কাজেই এটা কখনও সম্ভবই নয় যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর স্ত্রী হিসেবে এমন কাউকে মনোনীত করবেন যার চরিত্র পবিত্র ও নিষ্কলুষ নয় (নাউযুবিল্লাহ)। কেউ যদি এতটুকু বিষয় চিন্তা করত তবে তার কাছে মুনাফিকদের দেওয়া অপবাদের স্বরূপ উন্মোচিত হয়ে যেত।
২৭

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَدۡخُلُوۡا بُیُوۡتًا غَیۡرَ بُیُوۡتِکُمۡ حَتّٰی تَسۡتَاۡنِسُوۡا وَتُسَلِّمُوۡا عَلٰۤی اَہۡلِہَا ؕ ذٰلِکُمۡ خَیۡرٌ لَّکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَذَکَّرُوۡنَ ٢٧

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা তাদখুলূবুয়ূতান গাইরা বুয়ূতিকুম হাত্তা-তাছতা’নিছূওয়া তুছালিলমূ‘আলাআহলিহা- যা-লিকুম খাউরুল্লাকুম লা‘আল্লাকুম তাযাক্কারূন।

হে মুমিনগণ! নিজ গৃহ ছাড়া অন্যের গৃহে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না অনুমতি গ্রহণ কর ও তার বাসিন্দাদেরকে সালাম দাও। ১৬ এ পন্থাই তোমাদের জন্য শ্রেয়। আশা করা যায়, তোমরা লক্ষ রাখবে।

তাফসীরঃ

১৬. মৌলিকভাবে যেসব কারণে সমাজে অশ্লীলতা বিস্তার লাভ করে সেগুলো বন্ধ ও নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষে এবার কিছু বিধান দেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে প্রথম বিধান দেওয়া হয়েছে এই যে, অন্য কারও ঘরে প্রবেশের আগে গৃহকর্তার অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। এর উপকারিতা বহুবিধ। যেমন, এর ফলে অন্যের ঘরে অনাবশ্যক প্রবেশ বা অসময় প্রবেশ বন্ধ হয়ে যাবে। এরূপ প্রবেশের ফলে গৃহবাসীদের কষ্ট হয়ে থাকে। তাছাড়া বিনা অনুমতিতে প্রবেশের ফলে অন্যায়-অশ্লীল কাজ সংঘটিত হওয়া বা তার বিস্তার ঘটার সম্ভাবনা থাকে। অনুমতি গ্রহণ দ্বারা তারও রোধ হবে। অনুমতি কিভাবে গ্রহণ করতে হবে আয়াতে তাও শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম হল, বাহির থেকে ‘আস-সালামু আলাইকুম’ বলতে হবে। যদি মনে হয় গৃহবাসী সালাম শুনবে না, তবে করাঘাত করবে বা বেল টিপবে। তারপর গৃহবাসী যখন সামনে আসবে তখন সালাম দেবে।
২৮

فَاِنۡ لَّمۡ تَجِدُوۡا فِیۡہَاۤ اَحَدًا فَلَا تَدۡخُلُوۡہَا حَتّٰی یُؤۡذَنَ لَکُمۡ ۚ وَاِنۡ قِیۡلَ لَکُمُ ارۡجِعُوۡا فَارۡجِعُوۡا ہُوَ اَزۡکٰی لَکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ عَلِیۡمٌ ٢٨

ফাইল লাম তাজিদূফীহাআহাদান ফালা-তাদখুলূহা-হাত্তা-ইউ’যানা লাকুম ওয়া ইন কীলা লাকুমুর জি‘ঊ ফারজি‘ঊ হুওয়া আঝকা-লাকুম ওয়াল্লা-হু বিমা-তা‘মালূনা ‘আলীম।

তোমরা যদি তাতে কাউকে না পাও, তবুও যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদেরকে অনুমতি দেওয়া না হয়, তাতে প্রবেশ করো না। ১৭ তোমাদেরকে যদি বলা হয়, ‘ফিরে যাও’ তবে ফিরে যেও। এটাই তোমাদের পক্ষে শুদ্ধতর। তোমরা যা-কিছুই কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞাত।

তাফসীরঃ

১৭. অর্থাৎ, অন্যের কোন ঘর যদি খালি মনে হয়, তবুও তাতে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা জায়েয নয়। কেননা এমনও তো হতে পারে ভিতরে কোন লোক আছে, যাকে বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে না। আর যদি কেউ নাও থাকে, তবুও ঘরটি যেহেতু অন্যের তাই তার অনুমতি ছাড়া তাতে প্রবেশ করার অধিকার কারও থাকতে পারে না।
২৯

لَیۡسَ عَلَیۡکُمۡ جُنَاحٌ اَنۡ تَدۡخُلُوۡا بُیُوۡتًا غَیۡرَ مَسۡکُوۡنَۃٍ فِیۡہَا مَتَاعٌ لَّکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ مَا تُبۡدُوۡنَ وَمَا تَکۡتُمُوۡنَ ٢٩

লাইছা ‘আলাইকুম জুনা-হুন আন তাদখুলূবুয়ূতান গাইরা মাছকূনাতিন ফীহা-মাতা-‘উল লাকুম ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামুমা-তুবদূ না ওয়ামা-তাকতুমূন।

যে ঘরে কেউ বাস করে না এবং তার ভেতর তোমাদের কোন উপকার (বা প্রয়োজন) আছে, ১৮ তাতে তোমাদের (অনুমতি ছাড়া) প্রবেশে কোন গুনাহ নেই। তোমরা যে কাজ প্রকাশ্যে কর এবং যা গোপনে কর আল্লাহ তা জানেন।

তাফসীরঃ

১৮. এর দ্বারা এমন পাবলিক নিবাস বোঝানো হয়েছে, যা ব্যক্তিবিশেষের মালিকানাধীন নয়; বরং সাধারণভাবে তা যে-কারও ব্যবহার করার অনুমতি আছে, যেমন গণ-মুসাফিরখানা, হোটেলের বহিরাংশ, হাসপাতাল, ডাকঘর, পার্ক, মাদরাসা ইত্যাদি। অনুমতি গ্রহণ-সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধি-বিধানের জন্য ‘মা‘আরিফুল কুরআন’ গ্রন্থে আলোচ্য আয়াতসমূহের তাফসীর দেখুন। তাতে বিশদ আলোচনা ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের সাথে এ সংক্রান্ত জরুরী মাসাইল উল্লেখ করা হয়েছে।
৩০

قُلۡ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ یَغُضُّوۡا مِنۡ اَبۡصَارِہِمۡ وَیَحۡفَظُوۡا فُرُوۡجَہُمۡ ؕ ذٰلِکَ اَزۡکٰی لَہُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ خَبِیۡرٌۢ بِمَا یَصۡنَعُوۡنَ ٣۰

কুল লিলমু’মিনীনা ইয়াগুদদূ মিন আবসা-রিহিম ওয়া ইয়াহফাজূ’ ফুরূজাহুম যালিকা আঝকা-লাহুম ইন্নাল্লা-হা খাবীরুম বিমা ইয়াসনা‘ঊন।

মুমিন পুরুষদের বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য শুদ্ধতর। তারা যা-কিছু করে আল্লাহ সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবগত।
৩১

وَقُلۡ لِّلۡمُؤۡمِنٰتِ یَغۡضُضۡنَ مِنۡ اَبۡصَارِہِنَّ وَیَحۡفَظۡنَ فُرُوۡجَہُنَّ وَلَا یُبۡدِیۡنَ زِیۡنَتَہُنَّ اِلَّا مَا ظَہَرَ مِنۡہَا وَلۡیَضۡرِبۡنَ بِخُمُرِہِنَّ عَلٰی جُیُوۡبِہِنَّ ۪ وَلَا یُبۡدِیۡنَ زِیۡنَتَہُنَّ اِلَّا لِبُعُوۡلَتِہِنَّ اَوۡ اٰبَآئِہِنَّ اَوۡ اٰبَآءِ بُعُوۡلَتِہِنَّ اَوۡ اَبۡنَآئِہِنَّ اَوۡ اَبۡنَآءِ بُعُوۡلَتِہِنَّ اَوۡ اِخۡوَانِہِنَّ اَوۡ بَنِیۡۤ اِخۡوَانِہِنَّ اَوۡ بَنِیۡۤ اَخَوٰتِہِنَّ اَوۡ نِسَآئِہِنَّ اَوۡ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُہُنَّ اَوِ التّٰبِعِیۡنَ غَیۡرِ اُولِی الۡاِرۡبَۃِ مِنَ الرِّجَالِ اَوِ الطِّفۡلِ الَّذِیۡنَ لَمۡ یَظۡہَرُوۡا عَلٰی عَوۡرٰتِ النِّسَآءِ ۪ وَلَا یَضۡرِبۡنَ بِاَرۡجُلِہِنَّ لِیُعۡلَمَ مَا یُخۡفِیۡنَ مِنۡ زِیۡنَتِہِنَّ ؕ وَتُوۡبُوۡۤا اِلَی اللّٰہِ جَمِیۡعًا اَیُّہَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ لَعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ ٣١

ওয়া কুল লিলমু’মিনা-তি ইয়াগদুদনা মিন আবসা-রিহিন্না ওয়া ইয়াহফাজনা ফুরূজাহুন্না ওয়ালা-ইউবদীনা ঝীনাতাহুন্না ইল্লা-মা-জাহারা মিনহা-ওয়াল ইয়াদরিবনা বিখুমুরিহিন্না ‘আলা-জুয়ূবিহিন্না ওয়ালা-ইউবদীনা ঝীনাতাহুন্না ইল্লা-লিবু‘উলাতিহিন্না আও আবাইহিন্না আও আ-বাই বু‘উলাতিহিন্না আও আবনাইহিন্না আও আবনাই বু‘উলাতিহিন্না আও ইখওয়া-নিহিন্না আও বানীইখওয়া-নিহিন্না আও বানীআখাওয়া-তিহিন্না আও নিছাইহিন্না আও মা-মালাকাত আইমা-নুহুন্না আবিত তা-বি‘ঈনা গাইরি ঊলিল ইরবাতি মিনার রিজা-লি আবিততিফলিল্লাযীনা লাম ইয়াজহারূ‘আলা-‘আওরাতিননিছাই ওয়ালা-ইয়াদরিবনা বিআরজুলিহিন্না লিইউ‘লামা মা-ইউখফীনা মিন ঝীনাতিহিন্না ওয়াতূবূইলাল্লা-হি জামী‘আন আইয়ুহাল মু’মিনূনা লা‘আল্লাকুম তুফলিহূন।

এবং মুমিন নারীদের বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং নিজেদের ভূষণ অন্যদের কাছে প্রকাশ না করে, যা আপনিই প্রকাশ পায় তা ছাড়া ১৯ এবং তারা যেন তাদের ওড়নার আঁচল নিজ বক্ষদেশে নামিয়ে দেয় এবং নিজেদের ভূষণ ২০ যেন স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাতিজা, ভাগিনেয়, আপন নারীগণ, ২১ যারা নিজ মালিকানাধীন, ২২ যৌনকামনা নেই এমন পুরুষ খেদমতগার ২৩ এবং নারীদের গোপনীয় অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ২৪ ছাড়া আর কারও সামনে প্রকাশ না করে। মুসলিম নারীদের উচিত ভূমিতে এভাবে পদক্ষেপ না করা, যাতে তাদের গুপ্ত সাজ জানা হয়ে যায়। ২৫ হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলতা অর্জন কর।

তাফসীরঃ

১৯. এখানে ভূষণ দ্বারা শরীরের সেই অংশ বোঝানো হয়েছে, যাতে অলংকার বা আকর্ষণীয় পোশাক পরিধান করা হয়। এভাবে এ আয়াতে নারীদেরকে হুকুম করা হয়েছে, তারা যেন গায়রে মাহরাম বা পরপুরুষের সামনে নিজেদের গোটা শরীর বড় চাদর বা বোরকা দ্বারা ঢেকে রাখে, যাতে তারা তার সাজসজ্জার অঙ্গসমূহ দেখতে না পায়। তবে শরীরের এ রকম অংশ যদি কাজকর্ম করার সময় আপনিই খুলে যায় বা বিশেষ প্রয়োজনবশত খোলার দরকার পড়ে, তাতে গুনাহ হবে না। সে সম্পর্কে বলা হয়েছে ‘যা আপনিই প্রকাশ পায় তা ছাড়া’। ইবনে জারীর তাবারী (রহ.) তাঁর তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নারী যে চাদর দ্বারা শরীর ঢাকে, এ ব্যতিক্রম দ্বারা সেটাই বোঝানো উদ্দেশ্য, যেহেতু তা আবৃত করা সম্ভব নয়। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু ব্যাখ্যা করেন, বিশেষ প্রয়োজনে যদি চেহারা বা হাত খুলতে হয়, তবে এ আয়াত তার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু চেহারাই যেহেতু রূপ ও সৌন্দর্যের কেন্দ্রস্থল তাই সাধারণ অবস্থায় তা ঢেকে রাখতে হবে, যেমন সূরা আহযাবে হুকুম দেওয়া হয়েছে (৩৩ : ৫৯)। হ্যাঁ বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিলে সেটা ভিন্ন কথা। তখন চেহারাও খোলা যাবে, কিন্তু পুরুষের প্রতি নির্দেশ হল তখন যেন সে নিজ দৃষ্টি অবনমিত রাখে, যেমন এর আগের আয়াতে গেছে।
৩২

وَاَنۡکِحُوا الۡاَیَامٰی مِنۡکُمۡ وَالصّٰلِحِیۡنَ مِنۡ عِبَادِکُمۡ وَاِمَآئِکُمۡ ؕ اِنۡ یَّکُوۡنُوۡا فُقَرَآءَ یُغۡنِہِمُ اللّٰہُ مِنۡ فَضۡلِہٖ ؕ وَاللّٰہُ وَاسِعٌ عَلِیۡمٌ ٣٢

ওয়া আনকিহুল আয়া-মা-মিনকুম ওয়াসসা-লিহীনা মিন ‘ইবা-দিকুম ওয়াইমাইকুম ইয়ঁইয়াকূনূফুকারাআ ইউগনিহিমুল্লা-হু মিন ফাদলিহী ওয়াল্লা-হু ওয়া-ছি‘উন ‘আলীম।

তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত (তারা পুরুষ হোক বা নারী) তাদের বিবাহ সম্পাদন কর এবং তোমাদের গোলাম ও বাঁদীদের মধ্যে যারা বিবাহের উপযুক্ত, তাদেরও। তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দিবেন। ২৬ আল্লাহ অতি প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।

তাফসীরঃ

২৬. এ সূরায় অশ্লীলতা ও ব্যভিচার রোধ করার লক্ষে যেমন বিভিন্ন বিধি-বিধান দেওয়া হয়েছে তেমনি মানুষকে উৎসাহিত করা হয়েছে, সে যেন তার স্বভাবগত যৌনচাহিদা বৈধ পন্থায় পূরণ করে। সে হিসেবেই এ আয়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বালেগ নারী-পুরুষ যদি বিবাহের উপযুক্ত হয়, তবে অভিভাবকদের উচিত তাদের বিবাহের জন্য চেষ্টা করা। এ ব্যাপারে বর্তমান সামর্থ্যই যথেষ্ট। বিবাহের পর স্ত্রী ও সন্তানদের ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে সে অভাবে পড়তে পারে এই আশঙ্কায় বিবাহ বিলম্বিত করা সমীচীন নয়। চরিত্র রক্ষার উদ্দেশ্যে আল্লাহ তাআলার উপর ভরসা করে বিবাহ দিলে অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহের জন্য আল্লাহ তাআলাই উপযুক্ত কোন ব্যবস্থা করে দেবেন। বাকি যাদের বর্তমান অবস্থাও সচ্ছল নয় এবং বিবাহ করার মত অর্থ-সম্পদ হাতে নেই, তারা কী করবে? পরের আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে যতক্ষণ পর্যন্ত তাদেরকে সামর্থ্য দান করেন, ততক্ষণ তারা সংযম অবলম্বন করবে এবং নিজ চরিত্র রক্ষায় যত্নবান থাকবে।
৩৩

وَلۡیَسۡتَعۡفِفِ الَّذِیۡنَ لَا یَجِدُوۡنَ نِکَاحًا حَتّٰی یُغۡنِیَہُمُ اللّٰہُ مِنۡ فَضۡلِہٖ ؕ وَالَّذِیۡنَ یَبۡتَغُوۡنَ الۡکِتٰبَ مِمَّا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ فَکَاتِبُوۡہُمۡ اِنۡ عَلِمۡتُمۡ فِیۡہِمۡ خَیۡرًا ٭ۖ وَّاٰتُوۡہُمۡ مِّنۡ مَّالِ اللّٰہِ الَّذِیۡۤ اٰتٰىکُمۡ ؕ وَلَا تُکۡرِہُوۡا فَتَیٰتِکُمۡ عَلَی الۡبِغَآءِ اِنۡ اَرَدۡنَ تَحَصُّنًا لِّتَبۡتَغُوۡا عَرَضَ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ؕ وَمَنۡ یُّکۡرِہۡہُّنَّ فَاِنَّ اللّٰہَ مِنۡۢ بَعۡدِ اِکۡرَاہِہِنَّ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٣٣

ওয়ালইয়াছতা‘ফিফিল্লাযীনা লা-ইয়াজিদূ না নিকা-হান হাত্তা-ইউগনিয়াহুমুল্লা-হু মিন ফাদলিহী ওয়াল্লাযীনা ইয়াবতাগূনাল কিতা-বা মিম্মা-মালাকাত আইমা-নুকুম ফাকাতিবূহুম ইন ‘আলিমতুম ফীহিম খাইরাওঁ ওয়াআ-তূহুম মিম মা-লিল্লা-হিল্লাযীআ-তাকুম ওয়ালা-তুকরিহূফাতায়া-তিকুম ‘আলাল বিগাই ইন আরদনা তাহাসসুনাল লিতাবতাগূ‘আরাদাল হায়া-তিদদুনইয়া- ওয়া মাইঁ ইউকরিহহুন্না ফাইন্নাল্লা-হা মিম বা‘দি ইকরা-হিহিন্না গাফূরুর রাহীম।

যাদের বিবাহ করার সামর্থ্য নেই, তারা সংযম অবলম্বন করবে, যতক্ষণ না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করেন। তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদের মধ্যে যারা ‘মুকাতাবা’ করতে চায়, তোমরা তাদের সঙ্গে মুকাতাবা করবে ২৭ যদি তাদের মধ্যে ভালো কিছু দেখ ২৮ এবং (হে মুসলিমগণ!) আল্লাহ তোমাদেরকে যে সম্পদ দিয়েছেন তা থেকে তাদেরকেও দাও এবং তোমরা নিজ দাসীদেরকে দুনিয়ার ধন-সম্পদ অর্জনের জন্য ব্যভিচারে বাধ্য করো না ২৯ যদি তারা পুতপবিত্র থাকতে চায়। কেউ তাদেরকে বাধ্য করলে, তাদেরকে বাধ্য করার পর (তারা ক্ষমার আশা রাখতে পারে। কেননা) আল্লাহ তো অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ৩০

তাফসীরঃ

২৭. দাস-দাসীর প্রচলন থাকাকালে অনেক সময় দাস-দাসীগণ অর্থের বিনিময়ে মুক্তি লাভের জন্য মনিবদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হত। উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ধার্য করা হত। তারা যথাসময়ে মনিবকে সে অর্থ পরিশোধ করলে দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যেত। মুক্তি লাভের জন্য সম্পাদিত এ চুক্তিকেই ‘মুকাতাবা’ বা ‘কিতাবা’ বলা হয়। এ আয়াতে মনিবদেরকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, দাস-দাসীগণ এরূপ চুক্তি করতে চাইলে তারা যেন তাতে সম্মত হয়। আর অন্যান্য মুসলিমকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে তারা যেন এরূপ দাস-দাসীর মুক্তির লক্ষ্যে তাদেরকে অর্থসাহায্য করে।
৩৪

وَلَقَدۡ اَنۡزَلۡنَاۤ اِلَیۡکُمۡ اٰیٰتٍ مُّبَیِّنٰتٍ وَّمَثَلًا مِّنَ الَّذِیۡنَ خَلَوۡا مِنۡ قَبۡلِکُمۡ وَمَوۡعِظَۃً لِّلۡمُتَّقِیۡنَ ٪ ٣٤

ওয়া লাকাদ আনঝালনাইলাইকুমআ-য়া-তিম মুবাইয়িানা-তিওঁ ওয়া মাছালাম মিনাল্লাযীনা খালাও মিন কাবলিকুম ওয়া মাও‘ইজাতাল লিল মুত্তাকীন।

আমি তোমাদের প্রতি নাযিল করেছি প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্টকারক আয়াত, তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহের দৃষ্টান্ত এবং মুত্তাকীদের জন্য উপকারী উপদেশ।
৩৫

اَللّٰہُ نُوۡرُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ  مَثَلُ نُوۡرِہٖ کَمِشۡکٰوۃٍ فِیۡہَا مِصۡبَاحٌ ؕ  اَلۡمِصۡبَاحُ فِیۡ زُجَاجَۃٍ ؕ  اَلزُّجَاجَۃُ کَاَنَّہَا کَوۡکَبٌ دُرِّیٌّ یُّوۡقَدُ مِنۡ شَجَرَۃٍ مُّبٰرَکَۃٍ زَیۡتُوۡنَۃٍ لَّا شَرۡقِیَّۃٍ وَّلَا غَرۡبِیَّۃٍ ۙ  یَّکَادُ زَیۡتُہَا یُضِیۡٓءُ وَلَوۡ لَمۡ تَمۡسَسۡہُ نَارٌ ؕ  نُوۡرٌ عَلٰی نُوۡرٍ ؕ  یَہۡدِی اللّٰہُ لِنُوۡرِہٖ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ  وَیَضۡرِبُ اللّٰہُ الۡاَمۡثَالَ لِلنَّاسِ ؕ  وَاللّٰہُ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ ۙ ٣٥

আল্লা-হু নূরুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি মাছালুনূরিহী কামিশকা-তিন ফীহা-মিসবাহুন আলমিসবা-হুফী ঝুজা-জাতিন আঝঝুজা-জাতুকাআন্নাহা-কাওকাবুন দুররিইইউঁইউকাদুমিন শাজারাতিম মুবা-রাকাতিন ঝাইতূনাতিল লা-শারকিইইয়াতিওঁ ওয়ালাগারবিইইয়াতিইঁ ইয়াকা-দুঝাইতুহা- ইউদীঊ ওয়ালাও লাম তামছাছহু না-রুন নূরুন ‘আলা-নূরিন ইয়াহদিল্লা-হু লিনূরিহী মাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইয়াদরিবুল্লা-হুল আমছা-লা লিন্না-ছি ওয়াল্লা-হু বিকুল্লি শাইয়িন ‘আলীম।

আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর নূর। ৩১ তাঁর নূরের দৃষ্টান্ত যেন এক তাক, যাতে আছে এক প্রদীপ। ৩২ প্রদীপটি একটি কাচের আবরণের ভেতর। যেন তা (অর্থাৎ কাচ) নক্ষত্র, মুক্তার মত উজ্জ্বল। প্রদীপটি প্রজ্বলিত বরকতপূর্ণ যয়তুন বৃক্ষের তেল দ্বারা, যা (কেবল) পুবেরও নয়, (কেবল) পশ্চিমের নয়। ৩৩ মনে হয়, যেন আগুনের ছোঁয়া না লাগলেও তা এমনিই আলো দেবে। ৩৪ নূরের উপর নূর। আল্লাহ যাকে চান তাকে নিজ নূরে উপনীত করেন। আল্লাহ মানুষের কল্যাণার্থে দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন। আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।

তাফসীরঃ

৩১. ‘আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর নূর’ এ বাক্যের সরল অর্থ তো এই যে, আসমান-যমীনের সমস্ত মাখলুক হেদায়েতের আলো পায় কেবল আল্লাহ তাআলারই নিকট থেকে। [তবে এর আরও গূঢ় অর্থ ও গভীর তাৎপর্য রয়েছে। এর ভেতর আছে পণ্ডিতমনষ্ক ব্যক্তিবর্গের চিন্তার খোরাক। আছে তত্ত্বানুসন্ধানীদের জন্য কৌতুহলী অভিযাত্রার আহ্বান।-অনুবাদক] ইমাম গাযালী (রহ.) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় একটি স্বতন্ত্র নিবন্ধ রচনা করেছেন। তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম দার্শনিক ভঙ্গিতে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ইমাম রাযী (রহ.) নিজ তাফসীর গ্রন্থে এ আয়াতের অধীনে সম্পূর্ণ নিবন্ধটি উদ্ধৃত করেছেন। জ্ঞানপিপাসু পাঠকের তা একবার পড়া উচিত।
৩৬

فِیۡ بُیُوۡتٍ اَذِنَ اللّٰہُ اَنۡ تُرۡفَعَ وَیُذۡکَرَ فِیۡہَا اسۡمُہٗ ۙ  یُسَبِّحُ لَہٗ فِیۡہَا بِالۡغُدُوِّ وَالۡاٰصَالِ ۙ ٣٦

ফী বুয়ূতিন আযিনাল্লা-হু আন তুরফা‘আ ওয়া ইউযকারা ফীহাছমুহূ ইউছাব্বিহুলাহূ ফীহা-বিলগুদুওবিওয়াল আ-সা-ল।

আল্লাহ যে ঘরগুলিকে উচ্চমর্যাদা দিতে এবং তাতে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে আদেশ করেছেন, তাতে সকাল ও সন্ধ্যায় তাসবীহ পাঠ করে
৩৭

رِجَالٌ ۙ  لَّا تُلۡہِیۡہِمۡ تِجَارَۃٌ وَّلَا بَیۡعٌ عَنۡ ذِکۡرِ اللّٰہِ وَاِقَامِ الصَّلٰوۃِ وَاِیۡتَآءِ الزَّکٰوۃِ ۪ۙ  یَخَافُوۡنَ یَوۡمًا تَتَقَلَّبُ فِیۡہِ الۡقُلُوۡبُ وَالۡاَبۡصَارُ ٭ۙ ٣٧

রিজা-লুল লা-তুলহীহিম তিজা-রাতুওঁ ওয়ালা-বাই‘উন ‘আন যিকরিল্লা-হি ওয়া ইকামিসসালা-তি ওয়া ইতাইঝঝাকা-তি ইয়াখা-ফূনা ইয়াওমান তাতাকাল্লাবুফীহিল কুলূবু ওয়াল আবসা-র।

এমন লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বেচাকেনা আল্লাহর স্মরণ, নামায কায়েম ও যাকাত আদায় থেকে গাফেল করতে পারে না। ৩৫ তারা ভয় করে সেই দিনকে, যে দিন অন্তর ও দৃষ্টি ওলট-পালট হয়ে যাবে।

তাফসীরঃ

৩৫. পূর্বের আয়াতে বলা হয়েছিল আল্লাহ তাআলা যাকে চান হিদায়াতের আলোতে উপনীত করেন। এবার যারা হেদায়াতের আলোপ্রাপ্ত হয়, তাদের বৈশিষ্ট্যাবলী বর্ণিত হচ্ছে। সুতরাং এ আয়াতে বলা হয়েছে, তারা মসজিদ ও ইবাদতখানায় আল্লাহর তাসবীহ ও যিকির করে। মসজিদ ও ইবাদতখানা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার হুকুম হল, এগুলোকে যেন উচ্চমর্যাদা দেওয়া হয় ও সম্মান করা হয়। যারা এসব ইবাদতখানায় ইবাদত করে, তারা যে দুনিয়ার কাজকর্ম বিলকুল ছেড়ে দেয় এমন নয়; বরং আল্লাহ তাআলার হুকুম অনুসারে জীবিকা উপার্জনের কাজও করে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বেচাকেনায়ও লিপ্ত হয়। তবে ব্যবসায়িক ধান্ধায় পড়ে তারা আল্লাহ তাআলার স্মরণ ও তাঁর হুকুম-আহকাম পালন থেকে গাফেল হয়ে যায় না। তারা ওয়াক্ত মত নামায পড়ে, যাকাত ফরয হলে তাও আদায় করে এবং কখনওই একথা ভুলে যায় না যে, এমন একদিন অবশ্যই আসবে, যে দিন জীবনের সব কাজ-কর্মের হিসাব দিতে হবে। সে দিনটি অত্যন্ত বিভীষিকাময়। তখন সমস্ত মানুষের বিশেষত নাফরমানদের অন্তরাত্মা শুকিয়ে যাবে, চোখ উল্টে যাবে।
৩৮

لِیَجۡزِیَہُمُ اللّٰہُ اَحۡسَنَ مَا عَمِلُوۡا وَیَزِیۡدَہُمۡ مِّنۡ فَضۡلِہٖ ؕ وَاللّٰہُ یَرۡزُقُ مَنۡ یَّشَآءُ بِغَیۡرِ حِسَابٍ ٣٨

লিইয়াজঝিইয়াহুমুল্লা-হু আহছানা মা-‘আমিলূওয়া ইয়াঝীদাহুম মিন ফাদলিহী ওয়াল্লা-হু ইয়ারঝুকুমাইঁ ইয়াশাউ বিগাইরি হিছা-ব।

ফলে আল্লাহ তাদেরকে তাদের কাজের উত্তম বিনিময় দান করবেন এবং নিজ অনুগ্রহে অতিরিক্ত আরও কিছু দিবেন। ৩৬ আল্লাহ যাকে চান, তাকে দান করেন অপরিমিত।

তাফসীরঃ

৩৬. ‘নিজ অনুগ্রহে অতিরিক্ত আরও কিছু দিবেন’। আল্লাহ তাআলা সৎকর্মের যেসব পুরস্কার দান করবেন, তার কিছু কিছু তো কুরআন ও হাদীসে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেক কিছু রাখা হয়েছে অব্যক্ত। এ আয়াতে কৌতুহলোদ্দীপক ভাষায় বলা হয়েছে, কুরআন ও হাদীসে যা প্রকাশ করা হয়েছে, পুণ্যবানদের প্রাপ্তব্য পুরস্কার তার মধ্যেই সীমিত নয়। বরং আল্লাহ তাআলা তার বাইরেও এমন অনেক নি‘আমত দান করবেন, যা কুরআন-হাদীসে তো বর্ণিত হয়ইনি, কারও অন্তর তা কল্পনা করতেও সক্ষম নয়।
৩৯

وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَعۡمَالُہُمۡ کَسَرَابٍۭ بِقِیۡعَۃٍ یَّحۡسَبُہُ الظَّمۡاٰنُ مَآءً ؕ  حَتّٰۤی اِذَا جَآءَہٗ لَمۡ یَجِدۡہُ شَیۡئًا وَّوَجَدَ اللّٰہَ عِنۡدَہٗ فَوَفّٰىہُ حِسَابَہٗ ؕ  وَاللّٰہُ سَرِیۡعُ الۡحِسَابِ ۙ ٣٩

ওয়াল্লাযীনা কাফারূআ‘মা-লুহুম কাছারা-বিম বিকী‘আতিইঁ ইয়াহছাবুহুজ্জামআ-নু মাআন হাত্তাইযা-জাআহূলাম ইয়াজিদহু শাইআওঁ ওয়া ওয়াজাদাল্লা-হা ‘ইনদাহূ ফাওয়াফফা-হু হিছা-বাহূ ওয়াল্লা-হু ছারী‘উল হিছা-ব।

এবং (অন্যদিকে) যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তাদের কার্যাবলী যেন মরুভূমির মরীচিকা, যাকে পিপাসার্ত লোক মনে করে পানি, অবশেষে যখন সে তার কাছে পৌঁছে, তখন বুঝতে পারে তা কিছুই নয়। ৩৭ সেখানে সে পায় আল্লাহকে। আল্লাহ তার হিসাব পরিপূর্ণরূপে চুকিয়ে দেন। ৩৮ আল্লাহ অতি দ্রুত হিসাব গ্রহীতা।

তাফসীরঃ

৩৭. মরুভূমিতে যে বালুরাশি চিকচিক করে, দূর থেকে তাকে মনে হয় পানি। আসলে তো তা পানি নয়; মরীচিকা। আরবীতে বলে سَرَابٌ (সারাব)। সফরকালে মুসাফিরগণ ভ্রমবশত তাকে পানি মনে করে বসে। কিন্তু বাস্তবে তা কিছুই নয়। ঠিক এ রকমই কাফেরগণ যে ইবাদত ও সৎকর্ম করে আর ভাবে বেশ নেকী কামাচ্ছে, প্রকৃতপ্রস্তাবে তার কিছুই কামাই হয় না, তা মরীচিকার মতই ফাঁকি।
৪০

اَوۡ کَظُلُمٰتٍ فِیۡ بَحۡرٍ لُّجِّیٍّ یَّغۡشٰہُ مَوۡجٌ مِّنۡ فَوۡقِہٖ مَوۡجٌ مِّنۡ فَوۡقِہٖ سَحَابٌ ؕ  ظُلُمٰتٌۢ بَعۡضُہَا فَوۡقَ بَعۡضٍ ؕ  اِذَاۤ اَخۡرَجَ یَدَہٗ لَمۡ یَکَدۡ یَرٰىہَا ؕ  وَمَنۡ لَّمۡ یَجۡعَلِ اللّٰہُ لَہٗ نُوۡرًا فَمَا لَہٗ مِنۡ نُّوۡرٍ ٪ ٤۰

আও কাজুলুমা-তিন ফী বাহরিল লুজ্জিইয়িইঁ ইয়াগশা-হু মাওজুম মিন ফাওকিহী মাওজুম মিন ফাওকিহী ছাহা-বুন জু লুমা-তুম বা‘দুহা-ফাওকা বা‘দিন ইযাআখরাজা ইয়াদাহূলাম ইয়াকাদ ইয়ারা-হা- ওয়া মাল লাম ইয়াজ‘আলিল্লা-হু লাহূনূরান ফামালাহূমিননূর।

অথবা (তাদের কার্যাবলী) যেন গভীর সমুদ্রে বিস্তৃত অন্ধকার, যাকে আচ্ছন্ন করে তরঙ্গ, যার উপর আরেক তরঙ্গ এবং তার উপর মেঘরাশি। স্তরের উপর স্তরে বিন্যস্ত আধারপুঞ্জ। কেউ যখন নিজ হাত বের করে, তাও দেখতে পায় না। ৩৯ বস্তুত আল্লাহ যাকে আলো না দেন, তার নসীবে কোন আলো নেই।

তাফসীরঃ

৩৯. যেসব কাফের আখেরাতকেও মানে না, এটা তাদের দৃষ্টান্ত। বিশ্বাসের দিক থেকে এরা অধিকতর নিঃস্ব হওয়ার কারণে এরা অতটুকু আলোও পাবে না, যতটুকু প্রথমোক্ত দল পেয়েছিল। তারা তো অন্তত এই আশা করতে পেরেছিল যে, তাদের কর্ম আখেরাতে তাদের উপকারে আসবে, কিন্তু এই দলের সে রকম আশারও লেশমাত্র থাকবে না। কোন কোন মুফাসসির উপমা দু’টির পার্থক্য ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে যে, কাফেরদের কর্ম দু’রকম হয়ে থাকে। (এক) সেই সকল কাজ, যাকে তারা পুণ্য মনে করে এবং সেই বিশ্বাসেই তা করে। তাদের আশা তা করলে তাদের উপকার হবে। এ জাতীয় কাজের দৃষ্টান্ত হল মরীচিকা। (দুই) এমন সব কাজ যাকে তারা পুণ্য মনে করে না এবং তাতে তাদের উপকারের আশাও থাকে না। এর দৃষ্টান্ত হল পুঞ্জীভূত অন্ধকার, যাতে আলোর লেশমাত্র থাকে না। এখানে সমুদ্রগর্ভের অন্ধকার হল তাদের কুফরী আকীদা-বিশ্বাসের উপমা। তাতে এক তরঙ্গ তাদের অসৎকর্মের আর দ্বিতীয় তরঙ্গ জেদ ও হঠকারিতার উপমা। এভাবে উপর-নিচ স্তরবিশিষ্ট নিবিড় অন্ধকার পুঞ্জীভূত হয়ে গেল। এরূপ ঘন অন্ধকারের ভেতর মানুষ যেমন নিজের হাতও দেখতে পায় না, তেমনিভাবে কুফর ও নাফরমানীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন থাকার কারণে তারা নিজেদের স্বরূপও উপলব্ধি করতে পারছে না।
৪১

اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ یُسَبِّحُ لَہٗ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَالطَّیۡرُ صٰٓفّٰتٍ ؕ کُلٌّ قَدۡ عَلِمَ صَلَاتَہٗ وَتَسۡبِیۡحَہٗ ؕ وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌۢ بِمَا یَفۡعَلُوۡنَ ٤١

আলাম তারা আন্নাল্লা-হা ইউছাব্বিহুলাহূমান ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়াততাইরু সাফফা-তিন কুল্লুন কাদ ‘আলিমা সালা-তাহূওয়া তাছবীহাহূও ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুম বিমা-ইয়াফ‘আলুন।

তুমি কি দেখনি আসমান ও যমীনে যা-কিছু আছে, তারা আল্লাহরই তাসবীহ পাঠ করে এবং পাখিরাও, যারা পাখা বিস্তার করে উড়ছে। প্রত্যেকেরই নিজ-নিজ নামায ও তাসবীহের পদ্ধতি জানা আছে। ৪০ আল্লাহ তাদের যাবতীয় কাজ সম্পর্কে পুরোপুরি জ্ঞাত।

তাফসীরঃ

৪০. সূরা বনী ইসরাঈলে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, বিশ্বজগতের প্রতিটি বস্তু আল্লাহ তাআলার তাসবীহ পাঠ করে। কিন্তু তোমরা তাদের তাসবীহ বুঝতে পার না (১৭ : ৪৪)। এখানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, প্রত্যেক জিনিসের তাসবীহের পদ্ধতি আলাদা। বিশ্বজগতের প্রতিটি বস্তু আপন-আপন পন্থায় আল্লাহ তাআলার তাসবীহ আদায়ে রত আছে। সূরা বনী ইসরাঈলের উল্লিখিত আয়াতের টীকায় আমরা উল্লেখ করেছি যে, কুরআন মাজীদের বহু আয়াত দ্বারা জানা যায়, দুনিয়ায় আমরা যে সকল বস্তুকে অনুভূতিহীন মনে করি, তাদের মধ্যে কিছু না কিছু অনুভূতি অবশ্যই আছে। এখন তো আধুনিক বিজ্ঞানও একথা ক্রমশ স্বীকার করছে।
৪২

وَلِلّٰہِ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ۚ وَاِلَی اللّٰہِ الۡمَصِیۡرُ ٤٢

ওয়ালিল্লা-হি মুলকুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়া ইলাল্লা-হিল মাসীর।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহরই এবং আল্লাহরই দিকে (সকলের) ফিরে যেতে হবে।
৪৩

اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ یُزۡجِیۡ سَحَابًا ثُمَّ یُؤَلِّفُ بَیۡنَہٗ ثُمَّ یَجۡعَلُہٗ رُکَامًا فَتَرَی الۡوَدۡقَ یَخۡرُجُ مِنۡ خِلٰلِہٖ ۚ  وَیُنَزِّلُ مِنَ السَّمَآءِ مِنۡ جِبَالٍ فِیۡہَا مِنۡۢ بَرَدٍ فَیُصِیۡبُ بِہٖ مَنۡ یَّشَآءُ وَیَصۡرِفُہٗ عَنۡ مَّنۡ یَّشَآءُ ؕ  یَکَادُ سَنَا بَرۡقِہٖ یَذۡہَبُ بِالۡاَبۡصَارِ ؕ ٤٣

আলাম তারা আন্নাল্লা-হা ইউঝজী ছাহা-বান ছুম্মা ইউআলিলফুবাইনাহূছু ম্মা ইয়াজ‘আলুহূ রুকা-মান ফাতারাল ওয়াদকা ইয়াখরুজুমিন খিলা-লিহী ওয়া ইউনাঝঝিলুমিনাছছামাই মিন জিবা-লিন ফীহা-মিম বারাদিন ফাইউসীবুবিহী মাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইয়াসরিফুহূ‘আম মাইঁ ইয়াশাউ ইয়াকা-দুছানা-বারকিহী ইয়াযহাবুবিলআবসা-র।

তোমরা কি দেখনি আল্লাহ মেঘমালা হাঁকিয়ে নেন, তারপর তাকে পরস্পর জুড়ে দেন, তারপর তাকে পুঞ্জীভূত ঘনঘটায় পরিণত করেন। তারপর তোমরা তার ভেতর থেকে বৃষ্টি নির্গত হতে দেখ। তিনি আকাশে (মেঘরূপে) যে পর্বতমালা আছে, তা থেকে শিলা বর্ষণ করেন। তারপর তা দ্বারা যাকে চান বিপন্ন করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা হয়, তা অন্য দিকে ফিরিয়ে দেন। তার বিদ্যুতের ঝলক দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেওয়ার উপক্রম করে।
৪৪

یُقَلِّبُ اللّٰہُ الَّیۡلَ وَالنَّہَارَ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَعِبۡرَۃً لِّاُولِی الۡاَبۡصَارِ ٤٤

ইউকালিলবুল্লা-হুল লাইলা ওয়ান্নাহা-রা ইন্না ফী যা-লিকা লা‘ইবরাতাল লিঊলিল আবসার।

আল্লাহ রাত ও দিনকে পরিবর্তিত করেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে চক্ষুষ্মানদের জন্য শিক্ষা আছে।
৪৫

وَاللّٰہُ خَلَقَ کُلَّ دَآبَّۃٍ مِّنۡ مَّآءٍ ۚ فَمِنۡہُمۡ مَّنۡ یَّمۡشِیۡ عَلٰی بَطۡنِہٖ ۚ وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ یَّمۡشِیۡ عَلٰی رِجۡلَیۡنِ ۚ وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ یَّمۡشِیۡ عَلٰۤی اَرۡبَعٍ ؕ یَخۡلُقُ اللّٰہُ مَا یَشَآءُ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ٤٥

ওয়াল্লা-হু খালাকাকুল্লা দাব্বাতিম মিম মাইন ফামিনহুম মাইঁ ইয়ামশী ‘আলাবাতনিহী ওয়া মিনহুম মাইঁ ইয়ামশী ‘আলা-রিজলাইনি ওয়া মিনহুম মাইঁ ইয়ামশী ‘আলাআরবা‘ইন ইয়াখলুকুল্লা-হু মা-ইয়াশাউ ইন্নাল্লা-হা ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

আল্লাহ ভূমিতে বিচরণকারী প্রতিটি জীব সৃষ্টি করেছেন পানি দ্বারা। তার মধ্যে কতক এমন, যারা পেটে ভর করে চলে, কতক এমন, যারা দু’ পায়ে ভর করে চলে এবং কতক এমন, যারা চার পায়ে ভর করে চলে। আল্লাহ যা চান তাই সৃষ্টি করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সববিষয়ে সক্ষম।
৪৬

لَقَدۡ اَنۡزَلۡنَاۤ اٰیٰتٍ مُّبَیِّنٰتٍ ؕ وَاللّٰہُ یَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ٤٦

লাকাদ আনঝালনাআ-য়া-তিম মুবাইয়িনা-তিওঁ ওয়াল্লা-হু ইয়াহদী মাইঁ ইয়াশাউ ইলা-সিরা-তিম মুছতাকীম।

নিশ্চয়ই আমি (সত্য) পরিস্ফুটনকারী আয়াতসমূহ নাযিল করেছি। আল্লাহ যাকে চান সরল পথে পৌঁছে দেন।
৪৭

وَیَقُوۡلُوۡنَ اٰمَنَّا بِاللّٰہِ وَبِالرَّسُوۡلِ وَاَطَعۡنَا ثُمَّ یَتَوَلّٰی فَرِیۡقٌ مِّنۡہُمۡ مِّنۡۢ بَعۡدِ ذٰلِکَ ؕ وَمَاۤ اُولٰٓئِکَ بِالۡمُؤۡمِنِیۡنَ ٤٧

ওয়া ইয়াকূলূনা আ-মান্না-বিল্লা-হি ওয়া বিররাছূলি ওয়া আতা‘না-ছু ম্মা ইয়াতাওয়াল্লাফারীকুম মিনহুম মিম বা‘দি যা-লিকা ওয়ামাউলাইকা বিলমু’মিনীন।

তারা (অর্থাৎ মুনাফিকগণ) বলে, আমরা আল্লাহর প্রতি ও রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি এবং আমরা অনুগত হয়েছি। অতঃপর তাদের একটি দল এরপরও মুখ ফিরিয়ে নেয়। (প্রকৃতপক্ষে) তারা মুমিন নয়। ৪১

তাফসীরঃ

৪১. মুনাফিক শ্রেণী কেবল মুখেই ঈমানের দাবি করত, আন্তরিকভাবে তারা ঈমান আনত না। আর সে কারণেই তারা সর্বদা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক আচরণে লিপ্ত থাকত। যেমন একবারের ঘটনা, জনৈক ইয়াহুদীর সাথে বিশর নামক এক মুনাফিকের ঝগড়া লেগে যায়। ইয়াহুদী জানত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিচার সর্বদা ইনসাফভিত্তিক হয়। তাই সে বিশরকে প্রস্তাব দিল, চলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যাই, তিনি আমাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবেন। বিশর তো মুনাফিক। তার মনে ছিল ভয়। তাই সে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিচারক বানাতে রাজি হল না। সে প্রস্তাব দিল ইয়াহুদীদের নেতা কাব ইবনে আশরাফের কাছে যাওয়া যাক। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয়েছে (ইবনে জারীর তাবারী)।
৪৮

وَاِذَا دُعُوۡۤا اِلَی اللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ لِیَحۡکُمَ بَیۡنَہُمۡ اِذَا فَرِیۡقٌ مِّنۡہُمۡ مُّعۡرِضُوۡنَ ٤٨

ওয়া ইযা-দু’ঊইলাল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী লিইয়াহকুমা বাইনাহুম ইযা-ফারীকুমমিনহুম মু‘রিদূন।

তাদেরকে যখন আল্লাহ ও তার রাসূলের দিকে ডাকা হয়, যাতে রাসূল তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেন, তখন সহসা তাদের একটি দল মুখ ফিরিয়ে নেয়।
৪৯

وَاِنۡ یَّکُنۡ لَّہُمُ الۡحَقُّ یَاۡتُوۡۤا اِلَیۡہِ مُذۡعِنِیۡنَ ؕ ٤٩

ওয়াইয়ঁইয়াকুল লাহুমুল হাক্কুইয়া’তূইলাইহি মুয’ইনীন।

আর যদি তাদের হক উসুল করার থাকে, তবে অত্যন্ত বাধ্যগত হয়ে রাসূলের কাছে চলে আসে।
৫০

اَفِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ مَّرَضٌ اَمِ ارۡتَابُوۡۤا اَمۡ یَخَافُوۡنَ اَنۡ یَّحِیۡفَ اللّٰہُ عَلَیۡہِمۡ وَرَسُوۡلُہٗ ؕ  بَلۡ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الظّٰلِمُوۡنَ ٪ ٥۰

আফী কুলূবিহিম মারাদুন আমিরতা-বূআম ইয়াখা-ফূনা আইঁ ইয়াহীফাল্লা-হু ‘আলাইহিম ওয়া রাছূলুহূ বাল উলাইকা হুমুজ্জা-লিমূন।

তবে কি তাদের অন্তরে কোন ব্যাধি আছে, না কি তারা সন্দেহে নিপতিত, না তারা আশঙ্কাবোধ করে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদের প্রতি জুলুম করবেন? না, বরং তারা নিজেরাই জুলুমকারী। ৪২

তাফসীরঃ

৪২. শরীআতী বিচার-ব্যবস্থায় যাদের আস্থা নেই, যারা তা গ্রহণে প্রস্তত নয় বা তার যথার্থতা ও উপযোগিতায় সন্দেহ পোষণ করে এসব আয়াত তাদের জন্য এক সুস্পষ্ট সতর্কবাণী। বলা হচ্ছে, তাদের অন্তরে কি মুনাফিকীর ব্যাধি আছে, না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যতা সম্পর্কে তারা সন্দিহান, নাকি মনে করে আল্লাহ ও তার রাসূলের বিচার ইনসাফভিত্তিক নয়? বলা বাহুল্য এরূপ কোন কারণে কেউ ইসলামী বিচারব্যবস্থাকে অপছন্দ করলে তার ঈমান ও ইসলামের দাবিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। আল্লাহ তাআলা এরূপ লোকদেরকে জালিম সাব্যস্ত করেছেন। তারা আল্লাহ ও রাসূলের বিচারকে উপেক্ষা করে কেবল নিজেদের প্রতিই জুলুম করে না, অনৈসলামিক বিচার-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখে সমাজেও জুলুম-নির্যাতন বিস্তারের পথ করে দেয়। -অনুবাদক
৫১

اِنَّمَا کَانَ قَوۡلَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ اِذَا دُعُوۡۤا اِلَی اللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ لِیَحۡکُمَ بَیۡنَہُمۡ اَنۡ یَّقُوۡلُوۡا سَمِعۡنَا وَاَطَعۡنَا ؕ وَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ ٥١

ইন্নামা-কা-না কাওলাল মু’মিমীনা ইযা-দু‘উইলাল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী লিইয়াহকুমা বাইনাহুম আইঁ ইয়াকূলূছামি‘না-ওয়া আতা‘না- ওয়া উলাইকা হুমুল মুফলিহূন।

মুমিনদেরকে যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয়, যাতে রাসূল তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেন, তখন তাদের কথা কেবল এটাই হয় যে, তারা বলে আমরা (হুকুম) শুনলাম এবং মেনে নিলাম। আর তারাই সফলকাম।
৫২

وَمَنۡ یُّطِعِ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ وَیَخۡشَ اللّٰہَ وَیَتَّقۡہِ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡفَآئِزُوۡنَ ٥٢

ওয়া মাইঁ ইউতি‘ইল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূওয়া ইয়াখশাল্লা-হা ওয়া ইয়াত্তাকহি ফাউলাইকা হুমুল ফাইঝূন।

যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে ও তার অবাধ্যতা পরিহার করে চলে, তারাই কৃতকার্য হয়।
৫৩

وَاَقۡسَمُوۡا بِاللّٰہِ جَہۡدَ اَیۡمَانِہِمۡ لَئِنۡ اَمَرۡتَہُمۡ لَیَخۡرُجُنَّ ؕ قُلۡ لَّا تُقۡسِمُوۡا ۚ طَاعَۃٌ مَّعۡرُوۡفَۃٌ ؕ اِنَّ اللّٰہَ خَبِیۡرٌۢ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ ٥٣

ওয়া আকছামূবিল্লা-হি জাহদা আইমা-নিহিম লাইন আমারতাহুম লাইয়াখরুজুন্না কুল লাতুকছিমূ তা-‘আতুম মা‘রূফাতুন ইন্নাল্লা-হা খাবীরুম বিমা-তা‘মালূন।

তারা (অর্থাৎ মুনাফিকগণ)। অত্যন্ত জোরালোভাবে আল্লাহর নামে শপথ করে যে, (হে নবী!) তুমি নির্দেশ দিলে তারা অবশ্যই বের হবে। (তাদেরকে) বলে দাও, তোমরা শপথ করো না। (তোমাদের) আনুগত্য সকলের জানা। ৪৩ তোমরা যা-কিছু কর আল্লাহ নিশ্চয়ই তার পুরোপুরি খবর রাখেন।

তাফসীরঃ

৪৩. যখন জিহাদ থাকত না, মুনাফিকরা তখন কসম করে বড় মুখে বলত, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করলে তারা ঘরবাড়ি ছেড়ে জিহাদে বের হয়ে পড়বে। কিন্তু জিহাদের ঘোষণা এসে গেলে তারা নানা ছলছুতা দেখিয়ে গা বাঁচাত। এজন্যই বলা হয়েছে, তোমাদের আনুগত্যের স্বরূপ সকলেরই জানা আছে। বহুবার পরীক্ষা হয়ে গেছে সময়কালে তোমরা কেমন আনুগত্য দেখাও। তখন আর কসমের কথা মনে থাকে না।
৫৪

قُلۡ اَطِیۡعُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوا الرَّسُوۡلَ ۚ فَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَاِنَّمَا عَلَیۡہِ مَا حُمِّلَ وَعَلَیۡکُمۡ مَّا حُمِّلۡتُمۡ ؕ وَاِنۡ تُطِیۡعُوۡہُ تَہۡتَدُوۡا ؕ وَمَا عَلَی الرَّسُوۡلِ اِلَّا الۡبَلٰغُ الۡمُبِیۡنُ ٥٤

কুল আতী‘উল্লা-হা ওয়া আতী‘উররাছূলা ফাইন তাওয়াল্লাও ফাইন্নামা -‘আলাইহি মাহুম্মিলা ওয়া ‘আলাইকুম মা-হুম্মিলতুম ওয়া ইন তুতী‘ঊহু তাহতাদূ ওয়ামা‘আলার রাছূলি ইল্লাল বালা-গুল মুবীন।

(তাদেরকে) বলে দাও, আল্লাহর আনুগত্য কর এবং আনুগত্য কর রাসূলের। তথাপি যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে রাখ, তবে রাসূলের দায় ততটুকুই, যতটুকুর দায়িত্ব তার উপর অর্পণ করা হয়েছে। আর তোমাদের উপর যে ভার অর্পিত হয়েছে, তার দায় তোমাদেরই উপর। তোমরা তাঁর আনুগত্য করলে হেদায়াত পেয়ে যাবে। রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল পরিষ্কারভাবে পৌঁছে দেওয়া।

তাফসীরঃ

৪৪. মক্কা মুকাররমায় সাহাবায়ে কেরামকে অশেষ জুলুম-নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছিল। হিজরত করে মদীনা মুনাওয়ারায় আসার পরও তারা স্বস্তি পাননি। কাফেরদের পক্ষ থেকে সব সময়ই হামলার আশঙ্কা ছিল। সেই পরিস্থিতিতে জনৈক সাহাবী জিজ্ঞেস করেছিলেন, এমন কোনও দিন কি আসবে, যখন আমরা অস্ত্র রেখে শান্তিতে সময় কাটাতে পারব? তার উত্তরে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, হাঁ, অচিরেই সে দিন আসছে। এ আয়াত সেই প্রেক্ষাপটেই নাযিল হয়েছে। এতে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, আল্লাহর যমীনে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের জন্য একদিন পরিবেশ সম্পূর্ণ অনুকূল হয়ে যাবে। তখন তাদের কোন ভয় থাকবে না। চারদিকে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। পৃথিবীর ক্ষমতা তখন তাদেরই হাতে থাকবে। তারা অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির অধিকারী হয়ে যাবে। ফলে তারা নির্বিঘ্নে আল্লাহ তাআলার ইবাদত-বন্দেগী করতে থাকবে। আল্লাহ তাআলার এ ওয়াদা পূর্ণ হতে বেশি দিন লাগেনি। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায়ই সমগ্র জাযীরাতুল আরব ইসলামের ঝাণ্ডাতলে এসে গিয়েছিল। আর খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানা অর্ধজাহানে বিস্তার লাভ করেছিল।
৫৫

وَعَدَ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مِنۡکُمۡ وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَیَسۡتَخۡلِفَنَّہُمۡ فِی الۡاَرۡضِ کَمَا اسۡتَخۡلَفَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ۪ وَلَیُمَکِّنَنَّ لَہُمۡ دِیۡنَہُمُ الَّذِی ارۡتَضٰی لَہُمۡ وَلَیُبَدِّلَنَّہُمۡ مِّنۡۢ بَعۡدِ خَوۡفِہِمۡ اَمۡنًا ؕ یَعۡبُدُوۡنَنِیۡ لَا یُشۡرِکُوۡنَ بِیۡ شَیۡئًا ؕ وَمَنۡ کَفَرَ بَعۡدَ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡفٰسِقُوۡنَ ٥٥

ওয়া ‘আদাল্লা-হুল লাযীনা আ-মানূ মিনকুম ওয়া আমিলুসসা-লিহা-তি লাইয়াসতাখলিফান্নাহুম ফিল আরদিকামাছ তাখলাফাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম ওয়া লাইউমাক্কিনান্না লাহুম দীনাহুমুল্লাযির তাদা-লাহুম ওয়ালা ইউবাদ্দিলান্নাহুম মিম বা‘দি খাওফিহিম আমনা- ইয়া‘বুদূ নানী লা-ইউশরিকূনা বী শাইআওঁ ওয়া মান কাফারা বা‘দা যা-লিকা ফাউলাইকা হুমুল ফা-ছিকূন।

তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে নিজ খলীফা বানাবেন, যেমন খলীফা বানিয়েছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তাদের জন্য তিনি সেই দীনকে অবশ্যই প্রতিষ্ঠা দান করবেন, যে দীনকে তাদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তারা যে ভয়-ভীতির মধ্যে আছে, তার পরিবর্তে তাদেরকে অবশ্যই নিরাপত্তা দান করবেন। তারা আমার ইবাদত করবে। আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না। এরপরও যারা অকৃতজ্ঞতা করবে, তারাই অবাধ্য সাব্যস্ত হবে। ৪৪
৫৬

وَاَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَاٰتُوا الزَّکٰوۃَ وَاَطِیۡعُوا الرَّسُوۡلَ لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ ٥٦

ওয়া আকীমুসসালা-তা ওয়া-আ-তুঝঝাকা-তা ওয়া আতী‘উর রাছূলা লা‘আল্লাকুম তুরহামূন।

নামায কায়েম কর, যাকাত আদায় কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর, যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয়।
৫৭

لَا تَحۡسَبَنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مُعۡجِزِیۡنَ فِی الۡاَرۡضِ ۚ  وَمَاۡوٰىہُمُ النَّارُ ؕ  وَلَبِئۡسَ الۡمَصِیۡرُ ٪ ٥٧

লা-তাহছাবান্নাল্লাযীনা কাফারূমু‘জিঝীনা ফিল আর দি ওয়ামা’ওয়া-হুমুন্না-রু ওয়ালাবি’ছাল মাসীর।

যারা কুফরের পথ অবলম্বন করেছে তুমি কিছুতেই তাদেরকে মনে করো না পৃথিবীতে (কোথাও পালিয়ে গিয়ে) তারা আমাকে অক্ষম করে দেবে। তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। নিশ্চয়ই তা অতি মন্দ ঠিকানা।
৫৮

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لِیَسۡتَاۡذِنۡکُمُ الَّذِیۡنَ مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ وَالَّذِیۡنَ لَمۡ یَبۡلُغُوا الۡحُلُمَ مِنۡکُمۡ ثَلٰثَ مَرّٰتٍ ؕ مِنۡ قَبۡلِ صَلٰوۃِ الۡفَجۡرِ وَحِیۡنَ تَضَعُوۡنَ ثِیَابَکُمۡ مِّنَ الظَّہِیۡرَۃِ وَمِنۡۢ بَعۡدِ صَلٰوۃِ الۡعِشَآءِ ۟ؕ ثَلٰثُ عَوۡرٰتٍ لَّکُمۡ ؕ لَیۡسَ عَلَیۡکُمۡ وَلَا عَلَیۡہِمۡ جُنَاحٌۢ بَعۡدَہُنَّ ؕ طَوّٰفُوۡنَ عَلَیۡکُمۡ بَعۡضُکُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ ؕ کَذٰلِکَ یُبَیِّنُ اللّٰہُ لَکُمُ الۡاٰیٰتِ ؕ وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌ حَکِیۡمٌ ٥٨

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলিইয়াছতা’যিনকুমুল্লাযীনা মালাকাত আইমা-নুকুম ওয়াল লাযীনা লাম ইয়াবলুগুল হুলুমা মিনকুম ছালা-ছা মাররা-তিন মিন কাবলি সালা-তিল ফাজরি ওয়া হীনা তাদা‘ঊনা ছিয়া-বাকুম মিনাজ্জাহীরাতি ওয়া মিম বা‘দি সালা-তিল ‘ইশাই ছালা-ছু‘আওরা-তিল্লাকুম লাইছা ‘আলাইকুম ওয়ালা-‘আলাইহিম জুনা-হুম বা‘দাহুন্না তাওওয়া-ফূনা ‘আলাইকুম বা‘দুকুম ‘আলা-বা‘দিন কাযালিকা ইউবাইয়িনুল্লা-হু লাকুমুল আ-য়া-তি ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হাকীম।

হে মুমিনগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীগণ এবং তোমাদের মধ্যে যারা এখনও সাবালকত্বে পৌঁছেনি সেই শিশুগণ যেন তিনটি সময়ে (তোমাদের কাছে আসার জন্য) অনুমতি গ্রহণ করে ফজরের নামাযের আগে, দুপুর বেলা যখন তোমরা পোশাক খুলে রাখ এবং ইশার নামাযের পর। ৪৫ এ তিনটি তোমাদের গোপনীয়তা অবলম্বনের সময়। এ ছাড়া অন্য সময়ে তোমাদের ও তাদের প্রতি কোন কঠোরতা নেই। তোমাদের পরস্পরের মধ্যে তো সার্বক্ষণিক যাতায়াত থাকেই। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের কাছে আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে থাকেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

তাফসীরঃ

৪৫. ২৭-২৯ আয়াতসমূহে হুকুম দেওয়া হয়েছিল, কেউ যেন অন্যের ঘরে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ না করে। মুসলিমগণ সাধারণভাবে এ হুকুম মেনে চলছিল। কিন্তু ঘরের দাস-দাসী ও নাবালেগ ছেলে-মেয়েদের যেহেতু বারবার এ ঘর-ও ঘর করতে হয় বা এক কামরা থেকে অন্য কামরায় যাতায়াত করতে হয়, তাই তাদের ব্যাপারে তারা এ নিয়ম রক্ষা করত না। এর ফলে অনেক সময় এমনও ঘটে যেত যে, কেউ হয়ত আরাম করছে বা একা খোলামেলা অবস্থায় আছে আর এ সময় হঠাৎ কোন দাস-দাসী বা ছেলে-মেয়ে সেখানে ঢুকে পড়ল। এতে যে কেবল বিশ্রামের ব্যাঘাত হত তাই নয়, অনেক সময় পর্দাও নষ্ট হত। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হল। এতে স্পষ্টভাবে বিধান জানিয়ে দেওয়া হল যে, অন্ততপক্ষে তিনটি সময়ে দাস-দাসী ও শিশুদেরকেও অনুমতি নিতে হবে। বিনা অনুমতিতে তারাও অন্য ঘরে বা অন্য কক্ষে প্রবেশ করবে না। বিশেষভাবে এ তিনটি সময় (অর্থাৎ ফজরের পূর্বে, দুপুর বেলা ও ইশার পর)-এর কথা বলা হয়েছে এ কারণে যে, এ সময়গুলোতে মানুষ সাধারণত একা থাকতে ভালোবাসে। একটু খোলামেলা থাকতে স্বচ্ছন্দবোধ করে। তাই একান্ত জরুরী পোশাক ছাড়া অন্য কাপড় খুলে রাখে। এ অবস্থায় হঠাৎ করে কেউ এসে পড়লে পর্দাহীনতার আশঙ্কা থাকে আর আরাম তো নষ্ট হয়ই। এছাড়া অন্যান্য সময়ে যেহেতু এসব ভয় থাকে না আবার এদের বেশি-বেশি আসা-যাওয়া করারও প্রয়োজন থাকে, তাই হুকুম শিথিল রাখা হয়েছে। তখন তারা অনুমতি ছাড়াও প্রবেশ করতে পারবে।
৫৯

وَاِذَا بَلَغَ الۡاَطۡفَالُ مِنۡکُمُ الۡحُلُمَ فَلۡیَسۡتَاۡذِنُوۡا کَمَا اسۡتَاۡذَنَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ؕ کَذٰلِکَ یُبَیِّنُ اللّٰہُ لَکُمۡ اٰیٰتِہٖ ؕ وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌ حَکِیۡمٌ ٥٩

ওয়া ইযা-বালাগাল আতফা-লুমিনকুমুল হুলুমা ফালইয়াছতা’যিনূকামাছতা’যানাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম কাযা-লিকা ইউবাইয়িনুল্লা-হু লাকুম আ-য়া-তিহী ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হাকীম।

এবং তোমাদের শিশুরা সাবালকত্বে উপনীত হলে তারাও যেন অনুমতি গ্রহণ করে, যেমন তাদের আগে বয়ঃপ্রাপ্তগণ অনুমতি গ্রহণ করে আসছে। এভাবেই আল্লাহ নিজ আয়াতসমূহ তোমাদের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে থাকেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
৬০

وَالۡقَوَاعِدُ مِنَ النِّسَآءِ الّٰتِیۡ لَا یَرۡجُوۡنَ نِکَاحًا فَلَیۡسَ عَلَیۡہِنَّ جُنَاحٌ اَنۡ یَّضَعۡنَ ثِیَابَہُنَّ غَیۡرَ مُتَبَرِّجٰتٍۭ بِزِیۡنَۃٍ ؕ وَاَنۡ یَّسۡتَعۡفِفۡنَ خَیۡرٌ لَّہُنَّ ؕ وَاللّٰہُ سَمِیۡعٌ عَلِیۡمٌ ٦۰

ওয়াল কাওয়া-‘ইদুমিনাননিছাইল্লা-তী লা-ইয়ারজুনা নিকা-হান ফালাইছা ‘আলাইহিন্না জুনা-হুন আইঁ ইয়াদা‘না ছিয়া-বাহুন্না গাইরা মুতাবাররিজা-তিম বিঝীনাতিও ওয়া আইঁ ইয়াছতা‘ফিফনা খাইরুল লাহুন্না ওয়াল্লা-হু ছামী‘উন ‘আলীম।

যে বৃদ্ধা নারীদের বিবাহের কোন আশা নেই, তাদের জন্য এতে কোন গুনাহ নেই যে, তারা নিজেদের (বাড়তি) কাপড় (বহির্বাস, গায়রে মাহরাম পুরুষদের সামনে) খুলে রাখবে, সৌন্দর্য প্রদর্শনের ইচ্ছা ব্যতিরেকে। ৪৬ আর যদি তারা সাবধানতা অবলম্বন করে, তবে সেটাই তাদের পক্ষে শ্রেয়। আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও সকল বিষয় জানেন।

তাফসীরঃ

৪৬. চরম বার্ধক্যে পৌঁছার কারণে যারা বিবাহের উপযুক্ত থাকে না, ফলে তাদের প্রতি কারও আকর্ষণ সৃষ্টি হয় না, এ ধরনের বৃদ্ধা নারীদের জন্যই এ বিধান। তাদেরকে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে যে, গায়রে মাহরাম পুরুষের সামনে অন্যান্য নারীদেরকে যেমন বড় কোন চাদর জড়িয়ে বা বোরকা পরে যেতে হয়, তাদের জন্য তা জরুরী নয়। এ রকম বৃদ্ধা নারীগণ তা ছাড়াই পরপুরুষের সামনে যেতে পারবে। তবে শর্ত হল, তারা তাদের সামনে সেজেগুঁজে যেতে পারবে না। এর সাথে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিধানের এ শিথিলতা কেবলই জায়েয পর্যায়ের। সুতরাং তারা যদি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে এবং অন্যান্য নারীদের মত তারাও পরপুরুষের সামনে পুরোপুরি পর্দা রক্ষা করে চলে তবে সেটাই উত্তম।
৬১

لَیۡسَ عَلَی الۡاَعۡمٰی حَرَجٌ وَّلَا عَلَی الۡاَعۡرَجِ حَرَجٌ وَّلَا عَلَی الۡمَرِیۡضِ حَرَجٌ وَّلَا عَلٰۤی اَنۡفُسِکُمۡ اَنۡ تَاۡکُلُوۡا مِنۡۢ بُیُوۡتِکُمۡ اَوۡ بُیُوۡتِ اٰبَآئِکُمۡ اَوۡ بُیُوۡتِ اُمَّہٰتِکُمۡ اَوۡ بُیُوۡتِ اِخۡوَانِکُمۡ اَوۡ بُیُوۡتِ اَخَوٰتِکُمۡ اَوۡ بُیُوۡتِ اَعۡمَامِکُمۡ اَوۡ بُیُوۡتِ عَمّٰتِکُمۡ اَوۡ بُیُوۡتِ اَخۡوَالِکُمۡ اَوۡ بُیُوۡتِ خٰلٰتِکُمۡ اَوۡ مَا مَلَکۡتُمۡ مَّفَاتِحَہٗۤ اَوۡ صَدِیۡقِکُمۡ ؕ  لَیۡسَ عَلَیۡکُمۡ جُنَاحٌ اَنۡ تَاۡکُلُوۡا جَمِیۡعًا اَوۡ اَشۡتَاتًا ؕ  فَاِذَا دَخَلۡتُمۡ بُیُوۡتًا فَسَلِّمُوۡا عَلٰۤی اَنۡفُسِکُمۡ تَحِیَّۃً مِّنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ مُبٰرَکَۃً طَیِّبَۃً ؕ  کَذٰلِکَ یُبَیِّنُ اللّٰہُ لَکُمُ الۡاٰیٰتِ لَعَلَّکُمۡ تَعۡقِلُوۡنَ ٪ ٦١

লাইছা ‘আলাল আ‘মা-হারাজুইঁওয়ালা-‘আলাল আ‘রাজি হারাজুওঁ ওয়ালা ‘আলাল মারীদি হারাজুওঁ ওয়ালা-‘আলা- আনফুছিকুম আন তা’কুলূমিম বুয়ূতিকুম আও বুয়ূতি আ-বাইকুম আও বুয়ূতি উম্মাহা-তিকুম আও বুয়ূতি ইখওয়া-নিকুম আও বুয়ূতি আখাওয়া-তিকুম আও বুয়ূতি আ‘মা-মিকুম আও বুয়ূতি ‘আম্মা-তিকুম আও বুয়ূতি আখওয়া-লিকুম আও বুয়ূতি খা-লাতিকুম আও মা-মালাকতুম মাফা-তিহাহূআও সাদীকিকুম লাইছা ‘আলাইকুম জুনা-হুন আন তা‘কুলূজামী‘আন আও আশতা-তান ফাইযা-দাখাল তুম বূয়ূতান ফাছালিল-মূ‘আলা আনফুছিকুম তাহিইইয়াতাম মিন ‘ইনদিল্লা-হি মুবা-রাকাতান তাইয়িবাতান কাযা-লিকা ইউবাইয়িনুল্লা-হু লাকুমুল আ-য়া-তি লা‘আল্লাকুম তা’কিলূন।

অন্ধের জন্য গুনাহ নেই, খোড়া ব্যক্তির জন্য গুনাহ নেই, অসুস্থ ব্যক্তির জন্য গুনাহ নেই এবং নেই তোমাদের নিজেদের জন্যও, তোমাদের নিজেদের ঘরে আহার করাতে ৪৭ বা তোমাদের বাপ-দাদার ঘরে, তোমাদের মায়েদের ঘরে, তোমাদের ভাইদের ঘরে, ৪৮ তোমাদের বোনদের ঘরে, তোমাদের চাচাদের ঘরে, তোমাদের ফুফুদের ঘরে, তোমাদের মামাদের ঘরে, তোমাদের খালাদের ঘরে বা এমন কোন ঘরে যার চাবি তোমাদের কর্তৃত্বাধীন ৪৯ কিংবা তোমাদের বন্ধুদের ঘরে। তোমরা একত্রে খাও বা পৃথক-পৃথক তাতেও তোমাদের কোন গুনাহ নেই। যখন তোমরা ঘরে ঢুকবে নিজেদের লোকদেরকে সালাম করবে কারণ এটা সাক্ষাতের জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে প্রদত্ত বরকতপূর্ণ ও পবিত্র দোয়া। এভাবেই আল্লাহ আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা বুঝতে পার।

তাফসীরঃ

৪৭. এ আয়াত নাযিলের প্রেক্ষপট এই যে, অন্ধ ও বিকলাঙ্গ শ্রেণীর লোক অনেক সময় অন্যদের সাথে খাবার খেতে সঙ্কোচবোধ করত। তারা ভাবত অন্যরা তাদের সাথে বসে খেতে অস্বস্তি বোধ করে থাকবে। কখনও তাদের এ রকম চিন্তাও হত যে, প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তারা পাছে অন্যদের তুলনায় বেশি জায়গা আটকে ফেলে কিংবা দেখতে না পাওয়ার ফলে অন্যদের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলে। অপরদিকে অনেক সময় সুস্থ ব্যক্তিরাও মনে করত, মাযূর হওয়ার কারণে তারা হয়ত সুস্থদের সাথে একযোগে চলতে পারবে না; হয়ত কম খাবে, নয়ত খাদ্যের পাত্র থেকে অন্যদের মত নিজ অভিরুচি বা নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার তুলে নিতে পারবে না। তাদের এসব অনুভূতির উৎস হল শরীয়তের এমন কিছু বিধান, যাতে অন্যকে কষ্ট দেওয়াকে গুনাহ সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে নিজের কোন আচার-আচরণ অন্যের পক্ষে অপ্রীতিকর না হয়। সেই সঙ্গে আছে যৌথ জিনিসপত্র ব্যবহারেও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ। তো এ আয়াত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আপনজনদের হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে এতটা হিসাবী দৃষ্টির দরকার নেই।
৬২

اِنَّمَا الۡمُؤۡمِنُوۡنَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ وَاِذَا کَانُوۡا مَعَہٗ عَلٰۤی اَمۡرٍ جَامِعٍ لَّمۡ یَذۡہَبُوۡا حَتّٰی یَسۡتَاۡذِنُوۡہُ ؕ اِنَّ الَّذِیۡنَ یَسۡتَاۡذِنُوۡنَکَ اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ ۚ فَاِذَا اسۡتَاۡذَنُوۡکَ لِبَعۡضِ شَاۡنِہِمۡ فَاۡذَنۡ لِّمَنۡ شِئۡتَ مِنۡہُمۡ وَاسۡتَغۡفِرۡ لَہُمُ اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٦٢

ইন্নামাল মু’মিনূনাল্লাযীনা আ-মানূ বিল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ওয়া ইযা-কা-নূ মা‘আহূ‘আলা আমরিন জামি‘ইল লাম ইয়াযহাবূহাত্তা-ইয়াছতা’যিনূহু ইন্নাল্লাযীনা ইয়াছতা’যিনূনাকা উলাইকাল্লাযীনা ইউ’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ফাইযাছতা’যানূকা লিবা‘দি শা’নিহিম ফা’যাল লিমান শি’তা মিনহুম ওয়াছতাগফির লাহুমুল্লা-হা ইন্নাল্লা-হা গাফরুর রাহীম।

মুমিন তো কেবল তারাই, যারা আল্লাহ ও তার রাসূলকে আন্তরিকভাবে মানে এবং যখন রাসূলের সাথে সমষ্টিগত কোন কাজে শরীক হয়, তখন তার অনুমতি ছাড়া কোথাও যায় না। ৫০ (হে নবী!) যারা তোমার অনুমতি নেয়, তারাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সত্যিকারভাবে মানে। সুতরাং তারা যখন তাদের কোন কাজের জন্য তোমার কাছে অনুমতি চায়, তখন তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হয় অনুমতি দিও এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে মাগফিরাতের দোয়া কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

৫০. এ আয়াত নাযিল হয়েছিল খন্দক যুদ্ধের প্রাক্কালে। এ যুদ্ধে আরবের বেশ কয়েকটি গোত্র একাট্টা হয়ে মদীনা মুনাওয়ারায় হামলা করতে এসেছিল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মদীনা মুনাওয়ারার পাশে পরিখা খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি মুমিনদেরকে একত্র করে খননকার্য বণ্টন করে দিলেন। তারা সকলে কাজ করে যাচ্ছিলেন। কারও কোন প্রয়োজন দেখা দিলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অনুমতি নিয়ে যেতেন। কিন্তু মুনাফিকরা ছিল এর সম্পূর্ণ বিপরীত। একে তো তারা এ কাজে অংশ নিতেই অলসতা করত। আর যদি কখনও এসেও পড়ত নানা বাহানায় চলে যেত। অনেক সময় অনুমতি ছাড়াই চুপি চুপি সরে পড়ত। এ আয়াতে তাদের নিন্দা জানানো হয়েছে এবং মুখলিস ও নিষ্ঠাবান মুমিনদের, যারা অনুমতি ছাড়া যেত না, প্রশংসা করা হয়েছে।
৬৩

لَا تَجۡعَلُوۡا دُعَآءَ الرَّسُوۡلِ بَیۡنَکُمۡ کَدُعَآءِ بَعۡضِکُمۡ بَعۡضًا ؕ قَدۡ یَعۡلَمُ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ یَتَسَلَّلُوۡنَ مِنۡکُمۡ لِوَاذًا ۚ فَلۡیَحۡذَرِ الَّذِیۡنَ یُخَالِفُوۡنَ عَنۡ اَمۡرِہٖۤ اَنۡ تُصِیۡبَہُمۡ فِتۡنَۃٌ اَوۡ یُصِیۡبَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ٦٣

লা-তাজ‘আলূদু‘আআররাছূলি বাইনাকুম কাদু‘আই বা‘দিকুম বা‘দান কাদ ইয়ালামুল্লা-হুল্লাযীনা ইয়াতাছাল্লালূনা মিনকুম লিওয়া-যান ফালইয়াহযারিল্লাযীনা ইউখালিফূনা ‘আন আমরিহীআন তুসীবাহুম ফিতনাতুন আও ইউসীবাহুম ‘আযা-বুন আলীম।

(হে মানুষ!) তোমরা নিজেদের মধ্যে রাসূলের ডাককে তোমাদের পারস্পরিক ডাকের মত (মামুলি) মনে করো না; ৫১ তোমাদের মধ্যে যারা একে অন্যের আড়াল নিয়ে চুপিসারে সরে পড়ে আল্লাহ তাদেরকে ভালো করে জানেন। সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাদের ভয় করা উচিত না জানি তাদের উপর কোন বিপদ আপতিত হয় অথবা যন্ত্রণাদায়ক কোন শাস্তি তাদেরকে আক্রান্ত করে।

তাফসীরঃ

৫১. সমপর্যায়ের লোক যখন একে অন্যকে ডাকে তখন তার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কাজেই তাতে সাড়া দিয়ে না গেলে যেমন দোষ মনে করা হয় না, তেমনি যাওয়ার পর যদি অনুমতি ছাড়া চলে আসে তাও বিশেষ দূষণীয় হয় না। কিন্তু বড়দের ডাকের ব্যাপারটা ভিন্ন। তাদের ডাককে বিশেষ গুরুত্বের সাথে নেওয়াই নিয়ম। আর সে ডাক যদি হয় রাসূলের, তার গুরুত্ব হয় অপরিসীম। আয়াতে বলা হচ্ছে, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে কোন কাজের জন্য ডাকেন, তখন তাকে তোমাদের আপসের ডাকের মত মামুলি গণ্য করো না যে, চাইলে সাড়া দিলে আর চাইলে দিলে না। বরং তাঁর ডাকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে সাড়া দিয়ে পত্রপাঠ ছুটে যাওয়া উচিত। আর যাওয়ার পরও যেন এমন না হয় যে, ইচ্ছা হল আর অনুমতি ছাড়া উঠে গেলে। যদি যাওয়ার বিশেষ প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে তাঁর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তবেই যাবে। এ আয়াতের এ রকম তরজমা করাও সম্ভব যে, ‘তোমরা রাসূলকে ডাকার বিষয়টিকে তোমাদের পরস্পরে একে অন্যকে ডাকার মত (মামুলি) গণ্য করো না’। এ হিসেবে ব্যাখ্যা হবে, তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লক্ষ্য করে যখন কোন কথা বলবে, তখন তোমরা নিজেরা একে অন্যকে যেমন ডাক দিয়ে থাক, যেমন হে অমুক! শোন, তাকেও সেভাবে ডাক দিও না। সুতরাং তাকে লক্ষ্য করে ‘হে মুহাম্মাদ!’ বলা কিছুতেই উচিত নয়। বরং তাঁকে সম্মানের সাথে ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ!’ বলে সম্বোধন করা চাই।
৬৪

اَلَاۤ اِنَّ لِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ  قَدۡ یَعۡلَمُ مَاۤ اَنۡتُمۡ عَلَیۡہِ ؕ  وَیَوۡمَ یُرۡجَعُوۡنَ اِلَیۡہِ فَیُنَبِّئُہُمۡ بِمَا عَمِلُوۡا ؕ  وَاللّٰہُ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ ٪ ٦٤

আলাইন্না লিল্লা-হি মা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি কাদ ইয়া‘লামুমাআনতুম ‘আলাইহি ওয়া ইয়াওমা ইউরজা‘ঊনা ইলাইহি ফাইউনাব্বিঊহুম বিমা-‘আমিলূ ওয়াল্লা-হু বিকুল্লি শাইয়িন ‘আলীম।

স্মরণ রেখ, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে সব আল্লাহরই মালিকানাধীন। তোমরা যে অবস্থায়ই থাক, আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন। যে দিন সকলকে তার কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, সে দিন তিনি তাদেরকে তারা যা-কিছু করত তা জানিয়ে দেবেন। আল্লাহ প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।
সূরা আন নূর | মুসলিম বাংলা