সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল মু'মিনূন (المؤمنون) | মুমিনগণ

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ১১৮

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

قَدۡ اَفۡلَحَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ۙ ١

কাদ আফলা হাল মু’মিনূন।

নিশ্চয়ই সফলতা অর্জন করেছে মুমিনগণ

الَّذِیۡنَ ہُمۡ فِیۡ صَلَاتِہِمۡ خٰشِعُوۡنَ ۙ ٢

আল্লাযীনা হুম ফী সালা-তিহিম খা-শি‘ঊন,

যারা তাদের নামাযে আন্তরিকভাবে বিনীত।

তাফসীরঃ

১. এটা খুশু-এর অর্থ। আরবীতে খুযূ (خُضُوْعْ)-এর অর্থ বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে নত করা আর খুশু (خُشُوْعْ) অর্থ অন্তরকে বিনয়ের সাথে নামাযের অভিমুখী রাখা। এর সহজ পন্থা হল, নামাযে মুখে যা পড়া হয় তার দিকে ধ্যান রাখা, অনিচ্ছাকৃতভাবে কোন দিকে খেয়াল গেলে সেটা ধর্তব্য নয়। কিন্তু স্মরণ হওয়া মাত্র ফের নামাযের শব্দাবলীর প্রতি মনোযোগ দেওয়া চাই।

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ عَنِ اللَّغۡوِ مُعۡرِضُوۡنَ ۙ ٣

ওয়াল্লাযীনা হুম ‘আনিল লাগবি মু‘রিদূন।

যারা অহেতুক বিষয় থেকে বিরত থাকে।

তাফসীরঃ

২. لغو অর্থ অহেতুক কাজ, যাতে না দুনিয়ার কোন ফায়দা আছে, না আখেরাতের।

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ لِلزَّکٰوۃِ فٰعِلُوۡنَ ۙ ٤

ওয়াল্লাযীনা হুম লিঝঝাকা-তি ফা-‘ইলূন।

যারা যাকাত সম্পাদানকারী

তাফসীরঃ

৩. ‘যাকাত’-এর আভিধানিক অর্থ পাক-পবিত্র করা। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের উপর ফরয করেছেন যে, তারা যেন তাদের সম্পদের একটা অংশ গরীবদের দান করে। এটা ইসলামের একটি মৌলিক ইবাদত। পরিভাষায় একে যাকাত বলে। এই আর্থিক ইবাদতকে যাকাত বলার কারণ এর ফলে ব্যক্তির অবশিষ্ট সম্পদ পবিত্র হয়ে যায় এবং পরিশুদ্ধ হয় তার অন্তরও। এস্থলে যাকাত দ্বারা যেমন আর্থিক প্রদেয়কে বোঝানো হতে পারে তেমনি বোঝানো হতে পারে ‘তাযকিয়া’-ও। তাযকিয়া মানে নিজেকে মন্দ কাজ ও মন্দ চরিত্র থেকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করা। কুরআন মাজীদ এস্থলে ‘যাকাত আদায়কারী’ না বলে যে ‘যাকাত সম্পাদনকারী’ বলেছে, এ কারণে অনেক মুফাসসির দ্বিতীয় অর্থকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ لِفُرُوۡجِہِمۡ حٰفِظُوۡنَ ۙ ٥

ওয়াল্লাযীনা হুম লিফুরূজিহিম হা-ফিজূ ন।

যারা নিজ লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ, যৌন চাহিদা পূরণের জন্য কোন অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে না আর এভাবে নিজ লজ্জাস্থানকে তা থেকে হেফাজত করে।

اِلَّا عَلٰۤی اَزۡوَاجِہِمۡ اَوۡ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُہُمۡ فَاِنَّہُمۡ غَیۡرُ مَلُوۡمِیۡنَ ۚ ٦

ইল্লা-‘আলাআঝওয়া-জিহিম আও মা-মালাকাত আইমা-নুহুম ফাইন্নাহুম গাইরু মালূমীন।

নিজেদের স্ত্রী ও তাদের মালিকানাধীন দাসীদের ছাড়া অন্য সকলের থেকে, কেননা এতে তারা নিন্দনীয় হবে না।

তাফসীরঃ

৫. এর দ্বারা এমন দাসীদেরকে বোঝানো হয়েছে, যারা শরয়ী বিধান অনুসারে কারও মালিকানাধীন হয়ে গেছে। অবশ্য বর্তমানে এ রকম দাসীর কোন অস্তিত্ব কোথাও নেই।

فَمَنِ ابۡتَغٰی وَرَآءَ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡعٰدُوۡنَ ۚ ٧

ফামানিবতাগা-ওয়ারাআ যা-লিকা ফাউলাইকা হুমুল ‘আ-দূন।

তবে কেউ এ ছাড়া অন্য কিছু কামনা করলে তারাই হবে সীমালঙ্ঘনকারী।

তাফসীরঃ

৬. অর্থাৎ, স্ত্রী ও শরীয়তসম্মত দাসী ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে লিপ্ত হয়ে যৌন চাহিদা পূরণ করা যেহেতু হারাম, তাই কেউ যদি অন্যতে লিপ্ত হতে চায়, তবে সে শরীয়তের সীমা অতিক্রমকারী সাব্যস্ত হবে।

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ لِاَمٰنٰتِہِمۡ وَعَہۡدِہِمۡ رٰعُوۡنَ ۙ ٨

ওয়াল্লা যীনা হুম লিআমা-না-তিহিম ওয়া‘আহদিহিম রা-‘ঊন।

এবং যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে।

তাফসীরঃ

৭. ‘আমানত’ কথাটি অতি ব্যাপক। এর দ্বারা যেমন বান্দার প্রতি আরোপিত আল্লাহর আমানত বোঝানো হয়েছে, যথা ঈমান-আকীদা, ওহীর ইলম, সৃষ্টিগত যোগ্যতা ইত্যাদি, তেমনি মানুষের পারস্পরিক আমানতও, যথা গচ্ছিত অর্থ-সম্পদ, প্রার্থিত রায় ও পরামর্শ, গোপন কথাবার্তা, অর্পিত পদমর্যাদা ও দায়-দায়িত্ব ইত্যাদি। -অনুবাদক

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ عَلٰی صَلَوٰتِہِمۡ یُحَافِظُوۡنَ ۘ ٩

ওয়াল্লাযীনা হুম ‘আলা-সালাওয়া-তিহিম ইউহা-ফিজূ ন।

এবং যারা নিজেদের নামাযের পরিপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করে

তাফসীরঃ

৮. নামাযের রক্ষণাবেক্ষণ কথাটির অর্থ অতি ব্যাপক। যথাসময়ে নামায পড়া, নামাযের শর্ত, আদব ও অন্যান্য নিয়মাবলী রক্ষায় যত্নবান থাকা, সুন্দর ও সুচারুরূপে নামায আদায় করা, সবই এর অন্তর্ভুক্ত।
১০

اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡوٰرِثُوۡنَ ۙ ١۰

উলাইকা হুমুল ওয়া-রিছূ ন।

এরাই হল সেই ওয়ারিশ,
১১

الَّذِیۡنَ یَرِثُوۡنَ الۡفِرۡدَوۡسَ ؕ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ١١

আল্লাযীনা ইয়ারিছূনাল ফিরদাউছা হুম ফীহা-খা-লিদূ ন।

যারা জান্নাতুল ফিরদাউসের মীরাস লাভ করবে। তারা তাতে সর্বদা থাকবে।

তাফসীরঃ

৯. জান্নাতকে মুমিনদের মীরাস বলা হয়েছে এ কারণে যে, মালিকানা লাভের যতগুলো সূত্র আছে তার মধ্যে ‘মীরাস’ সূত্রটি অত্যন্ত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট সম্পদ এ সূত্রে আপনা-আপনিই ব্যক্তির মালিকানায় এসে যায় এবং এসে যাওয়ার পর আর সে মালিকানা লুপ্ত হওয়ার কোন অবকাশ নেই। ইশারা করা হচ্ছে, জান্নাত লাভের পর পাছে তার থেকে তা কেড়ে নেওয়া হয় মুমিন ব্যক্তির এরূপ কোন ভয় থাকবে না। নিশ্চিত মনে সে অনন্তকাল তাতে বসবাস করতে থাকবে।
১২

وَلَقَدۡ خَلَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ مِنۡ سُلٰلَۃٍ مِّنۡ طِیۡنٍ ۚ ١٢

ওয়ালাকাদ খালাকনাল ইনছা-না মিন ছুলা-লাতিম মিন তীন।

আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মাটির সারাংশ দ্বারা। ১০

তাফসীরঃ

১০. মানুষকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করার এক অর্থ তো এই যে, আদি পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালামকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছিল। তারপর তার ঔরস থেকে প্রজন্ম পরম্পরায় মানুষ জন্মলাভ করেছে। অর্থাৎ, সরাসরি মাটির সৃষ্টি কেবল হযরত আদম আলাইহিস সালাম আর বাকি সকলে মাটির সৃষ্টি তাঁর মাধ্যমে। এর দ্বিতীয় অর্থ হল, মানুষ সৃষ্টির সূচনা হয় শুক্রবিন্দু হতে। শুক্রের মূল খাদ্য আর খাদ্য উৎপাদনে মাটির ভূমিকাই প্রধান। সুতরাং পরোক্ষভাবে সমস্ত মানুষ মাটির সৃষ্টি।
১৩

ثُمَّ جَعَلۡنٰہُ نُطۡفَۃً فِیۡ قَرَارٍ مَّکِیۡنٍ ۪ ١٣

ছু ম্মা জা‘আলনা-হু নুতফাতান ফী কারা-রিম মাকীন।

তারপর তাকে স্খলিত বিন্দুরূপে এক সংরক্ষিত স্থানে রাখি। ১১

তাফসীরঃ

১১. সংরক্ষিত স্থান হল মায়ের গর্ভ।
১৪

ثُمَّ خَلَقۡنَا النُّطۡفَۃَ عَلَقَۃً فَخَلَقۡنَا الۡعَلَقَۃَ مُضۡغَۃً فَخَلَقۡنَا الۡمُضۡغَۃَ عِظٰمًا فَکَسَوۡنَا الۡعِظٰمَ لَحۡمًا ٭  ثُمَّ اَنۡشَاۡنٰہُ خَلۡقًا اٰخَرَ ؕ  فَتَبٰرَکَ اللّٰہُ اَحۡسَنُ الۡخٰلِقِیۡنَ ؕ ١٤

ছু ম্মা খালাকনান নুতফাতা ‘আলাকাতান ফাখালাকনাল ‘আলাকাতা মুদগাতান ফাখালাকনাল মুদগাতা ‘ইজা-মান ফাকাছাওনাল ‘ইজা-মা লাহমান ছু ম্মা আনশা’না-হু খালকান আ-খারা ফাতাবা-রাকাল্লা-হু আহছানুল খা-লিকীন।

তারপর আমি সেই বিন্দুকে জমাট রক্তে ১২ পরিণত করি। তারপর সেই জমাট রক্তকে গোশতপিণ্ড বানিয়ে দেই। তারপর সেই গোশতপিণ্ডকে অস্থিতে রূপান্তরিত করি। তারপর অস্থিরাজিতে গোশতের আচ্ছাদন লাগিয়ে দেই। তারপর তাকে অন্য এক সৃষ্টিরূপে গড়ে তুলি ১৩। বস্তুত সকল কারিগরের শ্রেষ্ঠ কারিগর আল্লাহ কত মহান!

তাফসীরঃ

১২. عَلَقَةً এর অর্থ জমাট রক্ত, সংযুক্ত, ঝুলন্ত ইত্যাদি। সাধারণ মুফাসসিরগণ এর অর্থ করেছেন জমাট রক্ত। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান মতে মাতৃগর্ভের ভ্রুণের যে ক্রমবিকাশ হয়, তাতে প্রথম দিকে পুরুষের শুক্র ও নারীর ডিম্বাণু মিলিত হয়ে জরায়ুর গায়ে সংযুক্ত অবস্থায় থাকে। এ হিসেবে আলাকা হল সম্মিলিতরূপে শুক্র ও ডিম্বাণুর জরায়ু-সংলগ্ন সেই অবস্থার নাম। -অনুবাদক
১৫

ثُمَّ اِنَّکُمۡ بَعۡدَ ذٰلِکَ لَمَیِّتُوۡنَ ؕ ١٥

ছু ম্মা ইন্নাকুম বা‘দা যা-লিকা লামাইয়িতূন।

অতঃপর এসবের পর অবশ্যই তোমাদের মৃত্যু ঘটবে।
১৬

ثُمَّ اِنَّکُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ تُبۡعَثُوۡنَ ١٦

ছু ম্মা ইন্নাকুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি তুব‘আছূন।

তারপর কিয়ামতের দিন অবশ্যই তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে।
১৭

وَلَقَدۡ خَلَقۡنَا فَوۡقَکُمۡ سَبۡعَ طَرَآئِقَ ٭ۖ وَمَا کُنَّا عَنِ الۡخَلۡقِ غٰفِلِیۡنَ ١٧

ওয়া লাকাদ খালাকনা-ফাওকাকুম ছাব‘আ তারাইকা ওয়ামা-কুন্না-‘আনিল খালকিগা-ফিলীন।

আমি তোমাদের উপর সৃষ্টি করেছি সাত স্তরবিশিষ্ট পথ। আর সৃষ্টি সম্বন্ধে আমি উদাসীন নই। ১৪

তাফসীরঃ

১৩. ‘অন্য এক সৃষ্টিরূপে গড়ে তুলি’ অর্থাৎ তারপর তার মধ্যে রূহ ফুকে দেই। ফলে সে এক জ্যান্ত-জাগ্রত মানুষে পরিণত হয়। ছিল জড়, হয়ে গেল প্রাণবন্ত, ছিল মূক হয়ে গেল সবাক, এমনিভাবে হয়ে গেল দ্রষ্টা, শ্রোতা এবং আরও কত কি! তারপর তার মধ্যে শৈশব, কৈশোর , যৌবন, বার্ধক্যের নানাবিধ অবস্থান্তর ঘটে। -অনুবাদক
১৮

وَاَنۡزَلۡنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءًۢ بِقَدَرٍ فَاَسۡکَنّٰہُ فِی الۡاَرۡضِ ٭ۖ  وَاِنَّا عَلٰی ذَہَابٍۭ بِہٖ لَقٰدِرُوۡنَ ۚ ١٨

ওয়া আনঝালনা-মিনাছ ছামাই মাআম বিকাদারিন ফাআছকান্না-হু ফিল আরদি ওয়া ইন্না-‘আলা-যাহা-বিম বিহী লাকা-দিরূন।

আমি আকাশ থেকে পরিমিতভাবে বারি বর্ষণ করি, তারপর তা ভূমিতে সংরক্ষণ করি। ১৫ নিশ্চয়ই আমি তা অপসারণ করতেও সক্ষম।

তাফসীরঃ

১৫. অর্থাৎ, আকাশ থেকে আমি যে বৃষ্টি বর্ষণ করি তোমাদেরকে যদি তা সংরক্ষণ করার দায়িত্ব দেওয়া হত, তবে তোমাদের পক্ষে তা সম্ভব হত না। আমি এ পানি পাহাড়-পর্বতে বর্ষণ করে বরফ আকারে জমা করে রাখি। তারপর সে বরফ গলে-গলে নদ- নদীর সৃষ্টি হয়। তা থেকে শিরা-উপশিরারূপে সে পানি ভূগর্ভে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাটির স্তরে-স্তরে তা জমা হয়ে থাকে। কোথাও কুয়া ও প্রস্রবণের সৃষ্টি হয়।
১৯

فَاَنۡشَاۡنَا لَکُمۡ بِہٖ جَنّٰتٍ مِّنۡ نَّخِیۡلٍ وَّاَعۡنَابٍ ۘ  لَکُمۡ فِیۡہَا فَوَاکِہُ کَثِیۡرَۃٌ وَّمِنۡہَا تَاۡکُلُوۡنَ ۙ ١٩

ফাআনশা’না-লাকুম বিহী জান্না-তিম মিন নাখীলিওঁ ওয়া ‘আনা-ব । লাকুম ফীহা-ফাওয়াকিহু কাছী রাতুওঁ ওয়া মিনহা-তা’কুলূন।

তারপর আমি তা দ্বারা তোমাদের জন্য খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান উৎপন্ন করি, যা দ্বারা তোমাদের প্রচুর ফল অর্জিত হয় এবং তা থেকেই তোমরা খাও।
২০

وَشَجَرَۃً تَخۡرُجُ مِنۡ طُوۡرِ سَیۡنَآءَ تَنۡۢبُتُ بِالدُّہۡنِ وَصِبۡغٍ لِّلۡاٰکِلِیۡنَ ٢۰

ওয়া শাজারাতান তাখরুজুমিন তূরি ছাইনাআ তামবুতুবিদ্দুহনি ওয়াছিবগিল লিলআ-কিলীন।

এবং সৃষ্টি করি সেই বৃক্ষও, যা সিনাই পর্বতে জন্ম নেয় ১৬ এবং যা আহারকারীদের জন্য তেল ও ব্যঞ্জনসহ উৎপন্ন হয়।

তাফসীরঃ

১৬. এর দ্বারা যায়তুন গাছ বোঝানো হয়েছে। সাধারণত এ গাছ সিনাই পাহাড়ের এলাকাতেই বেশি জন্মায়। এর থেকে যে তেল উৎপন্ন হয়, তা যেমন তেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তেমনি আরব দেশসমূহে রুটির সাথে ব্যঞ্জনরূপেও এর বহুল ব্যবহার আছে। এস্থলে আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ হিসেবে বিশেষভাবে যয়তুন বৃক্ষের উল্লেখ করেছেন এ কারণে যে, এর উপকারিতা বহুবিধ।
২১

وَاِنَّ لَکُمۡ فِی الۡاَنۡعَامِ لَعِبۡرَۃً ؕ  نُسۡقِیۡکُمۡ مِّمَّا فِیۡ بُطُوۡنِہَا وَلَکُمۡ فِیۡہَا مَنَافِعُ کَثِیۡرَۃٌ وَّمِنۡہَا تَاۡکُلُوۡنَ ۙ ٢١

ওয়া ইন্না লাকুম ফিল আন‘আ-মি লা‘ইবরাতান নুছকীকুম মিম্মা-ফী বুতূনিহা-ওয়া লাকুম ফীহা-মানা-ফি‘উ কাছীরাতুওঁ ওয়া মিনহা-তা’কুলূন।

নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য গবাদি পশুতে আছে শিক্ষা। তার উদরে যা আছে তা (অর্থাৎ দুধ) থেকে আমি তোমাদেরকে পান করাই এবং তার মধ্যে তোমাদের জন্য আছে বহু উপকারিতা আর তা থেকে তোমরা খাদ্য গ্রহণ কর।
২২

وَعَلَیۡہَا وَعَلَی الۡفُلۡکِ تُحۡمَلُوۡنَ ٪ ٢٢

ওয়া ‘আলাইহা-ওয়া ‘আলাল ফুলকি তুহমালূন।

এবং তাতে ও নৌযানে তোমাদেরকে সওয়ারও করানো হয়ে থাকে।
২৩

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا نُوۡحًا اِلٰی قَوۡمِہٖ فَقَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرُہٗ ؕ اَفَلَا تَتَّقُوۡنَ ٢٣

ওয়া লাকাদ আরছালনা-নূহান ইলা-কাওমিহী ফাকা-লা ইয়া-কাওমি‘বুদল্লা-হা মালাকুম মিন ইলা-হিন গাইরুহূ আফালা-তাত্তাকূন।

আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম। সুতরাং সে (তার সম্প্রদায়কে) বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন মাবুদ নেই। তবুও কি তোমরা ভয় করবে না?
২৪

فَقَالَ الۡمَلَؤُا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ قَوۡمِہٖ مَا ہٰذَاۤ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُکُمۡ ۙ  یُرِیۡدُ اَنۡ یَّتَفَضَّلَ عَلَیۡکُمۡ ؕ  وَلَوۡ شَآءَ اللّٰہُ لَاَنۡزَلَ مَلٰٓئِکَۃً ۚۖ  مَّا سَمِعۡنَا بِہٰذَا فِیۡۤ اٰبَآئِنَا الۡاَوَّلِیۡنَ ۚ ٢٤

ফাকা-লাল মালাউল্লাযীনা কাফারূমিন কাওমিহী মা-হা-যাইল্লা-বাশারুম মিছলুকুম ইউরীদুআইঁ ইয়াতাফাদ্দালা ‘আলাইকুম ওয়া লাও শাআল্লা-হু লাআনঝালা মালাইকাতাম মা-ছামি‘না-বিহা-যা-ফীআ-বাইনাল আওওয়ালীন।

তখন তার সম্প্রদায়ের কাফের প্রধানগণ (একে অপরকে) বলল, এই ব্যক্তি তোমাদেরই মত একজন মানুষ ছাড়া তো কিছু নয়। সে তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চায়। আল্লাহ চাইলে কোন ফেরেশতাই নাযিল করতেন। আমরা তো এমন কথা আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে কখনও শুনিনি।
২৫

اِنۡ ہُوَ اِلَّا رَجُلٌۢ بِہٖ جِنَّۃٌ فَتَرَبَّصُوۡا بِہٖ حَتّٰی حِیۡنٍ ٢٥

ইন হুওয়া ইল্লা-রাজুলুম বিহী জিন্নাতুন ফাতারাব্বাসুবিহী হাত্তা-হীন।

(প্রকৃতপক্ষে এ লোকটির ব্যাপার এই যে,) সে এমনই এক লোক, যার উন্মত্ততা দেখা দিয়েছে। সুতরাং তার ব্যাপারে তোমরা কিছুকাল অপেক্ষা করে দেখ (হয়ত তার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে)।
২৬

قَالَ رَبِّ انۡصُرۡنِیۡ بِمَا کَذَّبُوۡنِ ٢٦

কা-লা রাব্বিনসুরনী বিমা-কাযযাবূন।

নূহ বলল, হে আমার প্রতিপালক! তারা যে আমাকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করেছে, তাতে তুমিই আমাকে সাহায্য কর।
২৭

فَاَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡہِ اَنِ اصۡنَعِ الۡفُلۡکَ بِاَعۡیُنِنَا وَوَحۡیِنَا فَاِذَا جَآءَ اَمۡرُنَا وَفَارَ التَّنُّوۡرُ ۙ فَاسۡلُکۡ فِیۡہَا مِنۡ کُلٍّ زَوۡجَیۡنِ اثۡنَیۡنِ وَاَہۡلَکَ اِلَّا مَنۡ سَبَقَ عَلَیۡہِ الۡقَوۡلُ مِنۡہُمۡ ۚ وَلَا تُخَاطِبۡنِیۡ فِی الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا ۚ اِنَّہُمۡ مُّغۡرَقُوۡنَ ٢٧

ফাআওহাইনা ইলাইহি আনিসনা‘ইল ফুলকা বিআ‘ইউনিনা-ওয়া ওয়াহয়িনা-ফাইযাজাআ আমরুনা-ওয়া ফা-রাততাননূরূ ফাছলুক ফীহা-মিন কুলিন ঝাওজাইনিছনাইনি ওয়া আহ লাকা ইল্লা-মান ছাবাকা ‘আলাইহিল কাওলুমিনহুম ওয়ালা-তুখা-তিবনী ফিল্লাযীনা জালামূ ইন্নাহুম মুগরাকূন।

সুতরাং আমি তার কাছে ওহী পাঠালাম, তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার ওহী অনুসারে নৌযান নির্মাণ কর। তারপর যখন আমার হুকুম আসবে এবং তান্নুর ১৭ উথলে উঠবে তখন প্রত্যেক জীব থেকে এক-এক জোড়া নিয়ে তা সেই নৌযানে তুলে নিও ১৮ এবং নিজ পরিবারবর্গকেও, তবে যাদের বিরুদ্ধে আগেই সিদ্ধান্ত স্থির হয়ে গেছে তাদেরকে নয়। ১৯ আর সে জালেমদের সম্বন্ধে আমার সঙ্গে কোন কথা বলবে না। নিশ্চয়ই তাদেরকে নিমজ্জিত করা হবে।

তাফসীরঃ

১৭. ‘তান্নুর’-এর এক অর্থ চুলা, অন্য অর্থ ভূপৃষ্ঠ। কোন কোন রিওয়ায়াতে প্রকাশ যে, হযরত নূহ আলাইহিস সালামের সময়কার প্লাবন শুরু হয়েছিল চুলা থেকে। একদিন দেখা গেল চুলা থেকে পানি উথলে উঠছে এবং উপর থেকেও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। দেখতে দেখতে তা ভয়াবহ প্লাবনের আকার ধারণ করল। হযরত নূহ আলাইহিস সালামের ঘটনা বিস্তারিতভাবে সূরা হুদ (১১ : ২৫-৪৮)-এ চলে গেছে।
২৮

فَاِذَا اسۡتَوَیۡتَ اَنۡتَ وَمَنۡ مَّعَکَ عَلَی الۡفُلۡکِ فَقُلِ الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡ نَجّٰنَا مِنَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ ٢٨

ফাইযাছ তাওয়াইতা আনতা ওয়া মাম মা‘আকা ‘আলাল ফুলকি ফাকুল্লি হামদুলিল্লা-হি ল্লাযী নাজ্জা-না-মিনাল কাওমিজ্জা-লিমীন।

তারপর যখন তুমি এবং তোমার সঙ্গীগণ নৌযানে ঠিকঠাক হয়ে বসে যাবে, তখন বলবে, শুকর আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে জালেম সম্প্রদায় থেকে মুক্তি দিয়েছেন।
২৯

وَقُلۡ رَّبِّ اَنۡزِلۡنِیۡ مُنۡزَلًا مُّبٰرَکًا وَّاَنۡتَ خَیۡرُ الۡمُنۡزِلِیۡنَ ٢٩

ওয়া কুর রাব্বি আনঝিলনী মুনঝালাম মুবা-রাকাওঁ ওয়া আনতা খাইরুল মুনঝিলীন।

এবং বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে অবতরণ করাও বরকতময় অবতারণে। আর তুমিই শ্রেষ্ঠ অবতারণকারী।
৩০

اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ وَّاِنۡ کُنَّا لَمُبۡتَلِیۡنَ ٣۰

ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিওঁ ওয়া ইন কুন্না-লামুবতালীন।

নিশ্চয়ই এতে আছে বহু নিদর্শন। আর আমি তো তোমাদেরকে পরীক্ষা করারই ছিলাম।
৩১

ثُمَّ اَنۡشَاۡنَا مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ قَرۡنًا اٰخَرِیۡنَ ۚ ٣١

ছু ম্মা আশা’না-মিম বা‘দিহিম কারনান আ-খারীন।

অতঃপর আমি তাদের পর অন্য মানবগোষ্ঠী সৃষ্টি করলাম।
৩২

فَاَرۡسَلۡنَا فِیۡہِمۡ رَسُوۡلًا مِّنۡہُمۡ اَنِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرُہٗ ؕ  اَفَلَا تَتَّقُوۡنَ ٪ ٣٢

ফাআরছালনা-ফীহিম রাছূলাম মিনহুম আনি‘ বুদুল্লা-হা মা-লাকুম মিন ইলা-হিন গাইরুহূ আফালা-তাত্তাকূন।

এবং তাদের মধ্যে তাদেরই একজনকে রাসূল করে পাঠালাম, ২০ সে বলেছিল, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন মাবুদ নেই। তবুও কি তোমরা ভয় করবে না?

তাফসীরঃ

২০. ‘তাদের মধ্যে তাদেরই একজনকে রাসূল করে পাঠালাম’। ইনি কোন নবী কুরআন মাজীদ তা স্পষ্ট করে বলেনি। তবে ঘটনা বিশ্লেষণ করলে এটাই বেশি পরিষ্কার মনে হয় যে, ইনি ছিলেন হযরত সালিহ আলাইহিস সালাম। তাকে ছামূদ জাতির কাছে পাঠানো হয়েছিল। কেননা সামনে ৪০ নং আয়াতে বলা হয়েছে, তার সম্প্রদায়কে ধ্বংস করা হয়েছিল বিকট আওয়াজ দ্বারা। আর অন্যান্য সূরায় আছে হযরত সালিহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়কেই বিকট আওয়াজ দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিল। কোন কোন মুফাসসির এ সম্ভাবনাও ব্যক্ত করেছেন যে, সম্ভবত এখানে হযরত হুদ আলাইহিস সালামের কথা বলা হয়েছে, যাকে আদ জাতির কাছে পাঠানো হয়েছিল।এ হিসেবে اَلصَّيْحَةُ হবে এমন প্রলয়ঙ্কারী ঝড়, যার সাথে বিকট আওয়াজও ছিল। এ উভয় জাতির ঘটনা সূরা আরাফ (৭ : ৬৫, ৭৩) ও সূরা হুদ (১১ : ৫০, ৬১)-এ বর্ণিত হয়েছে।
৩৩

وَقَالَ الۡمَلَاُ مِنۡ قَوۡمِہِ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَکَذَّبُوۡا بِلِقَآءِ الۡاٰخِرَۃِ وَاَتۡرَفۡنٰہُمۡ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۙ  مَا ہٰذَاۤ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُکُمۡ ۙ  یَاۡکُلُ مِمَّا تَاۡکُلُوۡنَ مِنۡہُ وَیَشۡرَبُ مِمَّا تَشۡرَبُوۡنَ ۪ۙ ٣٣

ওয়া কা-লাল মালাউ মিন কাওমিহিল্লাযীনা কাফারূওয়া কাযযাবূবিলিকাইল আখিরাতি ওয়া আতরাফনা-হুম ফিল হায়া-তিদ দুনইয়া- মা হা-যাইল্লা-বাশারুম মিছলুকুম ইয়া’কুলু মিম্মা-তা’কুলূনা মিনহু ওয়া ইয়াশরাবুমিম্মা-তাশরাবূন।

তার সম্প্রদায়ের প্রধানগণ, যারা কুফর অবলম্বন করেছিল ও আখেরাতের সাক্ষাৎকারকে অস্বীকার করেছিল এবং যাদেরকে আমি পার্থিব জীবনে প্রচুর ভোগ-সামগ্রী দিয়েছিলাম, তারা একে অন্যকে) বলল, এই ব্যক্তি তো তোমাদেরই মত একজন মানুষ। তোমরা যা খাও সে তাই খায় এবং তোমরা যা পান কর সেও তাই পান করে।
৩৪

وَلَئِنۡ اَطَعۡتُمۡ بَشَرًا مِّثۡلَکُمۡ اِنَّکُمۡ اِذًا لَّخٰسِرُوۡنَ ۙ ٣٤

ওয়া লাইন আতা‘তুম বাশারাম মিছলাকুম ইন্নাকুম ইযাল লাখা-ছিরূন।

তোমরা যদি তোমাদেরই মত একজন মানুষের আনুগত্য করে বস, তবে তোমরা নিশ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
৩৫

اَیَعِدُکُمۡ اَنَّکُمۡ اِذَا مِتُّمۡ وَکُنۡتُمۡ تُرَابًا وَّعِظَامًا اَنَّکُمۡ مُّخۡرَجُوۡنَ ۪ۙ ٣٥

আইয়া‘ইদুকুমআন্নাকুমইযা-মিততুমওয়াকনতুমতুরা-বাওঁ ওয়া ‘ইজা-মান আন্নাকুম মুখরাজূন।

সে কি তোমাদেরকে এই ভয় দেখায় যে, তোমরা যখন মারা যাবে এবং মাটি ও অস্থিতে পরিণত হবে, তখন তোমাদেরকে পুনরায় (মাটি থেকে) বের করা হবে?
৩৬

ہَیۡہَاتَ ہَیۡہَاتَ لِمَا تُوۡعَدُوۡنَ ۪ۙ ٣٦

হাইহা-তা হাই-হাতা লিমা-তূ‘আদূন।

তোমাদেরকে যে বিষয়ের ভয় দেখান হচ্ছে, সেটা তো সম্পূর্ণ অসম্ভব ও অকল্পনীয় ব্যাপার।
৩৭

اِنۡ ہِیَ اِلَّا حَیَاتُنَا الدُّنۡیَا نَمُوۡتُ وَنَحۡیَا وَمَا نَحۡنُ بِمَبۡعُوۡثِیۡنَ ۪ۙ ٣٧

ইন হিয়া ইল্লা-হায়া-তুনাদ দুনইয়া-নামূতুওয়া নাহইয়া-ওয়ামা-নাহনুবিমাব‘উছীন।

জীবন তো এই ইহজীবনই, আর কিছু নয়। (এখানেই) আমরা মরি ও বাঁচি। আমাদেরকে ফের জীবিত করা যাবে না।
৩৮

اِنۡ ہُوَ اِلَّا رَجُلُۨ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا وَّمَا نَحۡنُ لَہٗ بِمُؤۡمِنِیۡنَ ٣٨

ইন হুওয়া ইল্লা-রাজুলুনিফতারা-‘আলাল্লা-হি কাযিবাও ওয়ামা-নাহনুলাহূবিমু’মিনীন।

(আর এই যে ব্যক্তি) এ তো এমনই এক লোক, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। আমরা এর প্রতি ঈমান আনার নই।
৩৯

قَالَ رَبِّ انۡصُرۡنِیۡ بِمَا کَذَّبُوۡنِ ٣٩

কা-লা রাব্বিনসুরনী বিমা-কাযযাবূন।

নবী বলল, হে আমার প্রতিপালক! তারা যে আমাকে মিথ্যুক ঠাওরিয়েছে, সে ব্যাপারে তুমিই আমাকে সাহায্য কর।
৪০

قَالَ عَمَّا قَلِیۡلٍ لَّیُصۡبِحُنَّ نٰدِمِیۡنَ ۚ ٤۰

কা-লা ‘আম্মা-কালীলিল লাইউসবিহুন্না না-দিমীন।

আল্লাহ বললেন, অল্পকালের ভেতরই তারা নিশ্চিত অনুতপ্ত হবে।
৪১

فَاَخَذَتۡہُمُ الصَّیۡحَۃُ بِالۡحَقِّ فَجَعَلۡنٰہُمۡ غُثَآءً ۚ فَبُعۡدًا لِّلۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ ٤١

ফাআখাযাতহুমুসসাইহাতুবিলহাক্কিফাজা‘আলনা-হুম গুছাআন ফাবু‘দাল লিলকাওমিজ্জা-লিমীন।

সুতরাং সত্যিই ২১ তাদেরকে এক মহানাদ আক্রান্ত করে এবং আমি তাদেরকে আবর্জনায় পরিণত করি। সুতরাং এরূপ জালেম সম্প্রদায়ের প্রতি অভিশাপ।

তাফসীরঃ

২১. ‘সত্যিই’, অর্থাৎ উপরে যে শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা সত্য ছিল এবং সে অনুযায়ী সত্যিই এক মহানাদ তাদেরকে আঘাত করেছিল। অথবা এর অর্থ, ‘এক মহানাদ তাদেরকে আঘাত করেছিল ন্যায্যভাবে। তা তাদের উপর জুলুম ছিল না আদৌ। -অনুবাদক
৪২

ثُمَّ اَنۡشَاۡنَا مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ قُرُوۡنًا اٰخَرِیۡنَ ؕ ٤٢

ছু ম্মা আনশা’না-মিম বা‘দিহিম কুরুনান আ-খারীন।

অতঃপর আমি তাদের পর অন্যান্য মানবগোষ্ঠী সৃষ্টি করি।
৪৩

مَا تَسۡبِقُ مِنۡ اُمَّۃٍ اَجَلَہَا وَمَا یَسۡتَاۡخِرُوۡنَ ؕ ٤٣

মা-তাছবিকুমিন উম্মাতিন আজালাহা-ওয়ামা-ইয়াছতা’খিরূন।

কোন জাতিই তার নির্ধারিত কালের আগেও যেতে পারে না এবং তার পরেও থাকতে পারে না। ২২

তাফসীরঃ

২২. অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা যে ব্যক্তির ধ্বংসের জন্য যে কাল নির্দিষ্ট করেছেন, তারা তাকে আগ-পাছ করতে পারে না।
৪৪

ثُمَّ اَرۡسَلۡنَا رُسُلَنَا تَتۡرَا ؕ کُلَّ مَا جَآءَ اُمَّۃً رَّسُوۡلُہَا کَذَّبُوۡہُ فَاَتۡبَعۡنَا بَعۡضَہُمۡ بَعۡضًا وَّجَعَلۡنٰہُمۡ اَحَادِیۡثَ ۚ فَبُعۡدًا لِّقَوۡمٍ لَّا یُؤۡمِنُوۡنَ ٤٤

ছু ম্মা আর ছাল না-রুছুলানা-তাতরা- ‘কুল্লামা-জাআ উম্মাতার রাছূলুহা-কাযযাবূহু ফাআতবা‘না-বা‘দাহুম বা‘দাওঁ ওয়া জা‘আলনা-হুম আহা-দীছা ফাবু‘দাল লিকাওমিল লা-ইউ’মিনূন।

অতঃপর আমি আমার রাসূলগণকে পাঠাতে থাকি একের পর এক। যখনই কোন সম্প্রদায়ের কাছে তাদের রাসূল এসেছে, তারা অবশ্যই তাকে মিথ্যাবাদী বলেছে। সুতরাং আমিও তাদের একের পর এককে ধ্বংস করে দেই এবং তাদেরকে পরিণত করি কিস্সা-কাহিনীতে। অতএব অভিশাপ সেই সম্প্রদায়ের প্রতি, যারা ঈমান আনে না।
৪৫

ثُمَّ اَرۡسَلۡنَا مُوۡسٰی وَاَخَاہُ ہٰرُوۡنَ ۬ۙ  بِاٰیٰتِنَا وَسُلۡطٰنٍ مُّبِیۡنٍ ۙ ٤٥

ছু ম্মা আর ছাল না-মূছা-ওয়া আখা-হু হা-রূনা বিআ-য়া-তিনা-ওয়া ছুলতা-নিম মুবীন।

অতঃপর আমি মূসা ও তার ভাই হারূনকে আমার নিদর্শনাবলী ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ
৪৬

اِلٰی فِرۡعَوۡنَ وَمَلَا۠ئِہٖ فَاسۡتَکۡبَرُوۡا وَکَانُوۡا قَوۡمًا عَالِیۡنَ ۚ ٤٦

ইলা-ফিরআওনা ওয়া মালাইহী ফাছতাকবারূওয়া কা-নূকাওমান ‘আ-লীন।

ফির‘আউন ও তার সরদারদের কাছে পাঠালাম। কিন্তু তারা অহংকার প্রদর্শন করল। বস্তুত তারা ছিল এক দাম্ভিক সম্প্রদায়।
৪৭

فَقَالُوۡۤا اَنُؤۡمِنُ لِبَشَرَیۡنِ مِثۡلِنَا وَقَوۡمُہُمَا لَنَا عٰبِدُوۡنَ ۚ ٤٧

ফাকা-লূআনু’মিনুলিবাশারাইনি মিছলিনা-ওয়া কাওমুহুমা-লানা-‘আ-বিদূন।

অতঃপর তারা বলল, আমরা কি আমাদেরই মত দু’জন মানুষের প্রতি ঈমান আনব, অথচ তাদের সম্প্রদায় আমাদের দাসত্ব করছে? ২৩

তাফসীরঃ

২৩. হযরত মূসা ও হারূন আলাইহিমাস সালামের কওম ছিল বনী ইসরাঈল। ফির‘আউন তাদেরকে গোলাম বানিয়ে রেখেছিল।
৪৮

فَکَذَّبُوۡہُمَا فَکَانُوۡا مِنَ الۡمُہۡلَکِیۡنَ ٤٨

ফাকাযযাবূহুমা-ফাকা-নূমিনাল মুহলাকীন।

এভাবে তারা তাদেরকে অস্বীকার করল এবং শেষ পর্যন্ত তারাও ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হল।
৪৯

وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡکِتٰبَ لَعَلَّہُمۡ یَہۡتَدُوۡنَ ٤٩

ওয়া লাকাদ আ-তাইনা-মূছাল কিতা-বা লা‘আল্লাহুম ইয়াহতাদূন।

আর আমি মূসাকে দিয়েছিলাম কিতাব, যাতে তারা হেদায়াত লাভ করে।
৫০

وَجَعَلۡنَا ابۡنَ مَرۡیَمَ وَاُمَّہٗۤ اٰیَۃً وَّاٰوَیۡنٰہُمَاۤ اِلٰی رَبۡوَۃٍ ذَاتِ قَرَارٍ وَّمَعِیۡنٍ ٪ ٥۰

ওয়া জা‘আলনাবনা মারয়ামা ওয়া উম্মাহূ আ-য়াতাওঁ ওয়াআ- ওয়াইনা-হুমা ইলারবওয়াতিন যা-তি কারা-রিওঁ ওয়া মা‘ঈন।

এবং আমি মারয়ামের পুত্র ও তার মাকে (অর্থাৎ হযরত ঈসা ও মারয়াম আলাইহিমাস সালামকে) বানিয়েছিলাম এক নিদর্শন এবং তাদেরকে এমন এক উচ্চভূমিতে আশ্রয় দিয়েছিলাম, যা ছিল শান্তিপূর্ণ এবং যেখানে প্রবাহিত ছিল স্বচ্ছ পানি। ২৪

তাফসীরঃ

২৪. হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার কুদরতের এক নিদর্শন স্বরূপ বিনা পিতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর জন্মস্থান ছিল বেথেলহাম। বেথেলহামের রাজা তাঁর ও তাঁর মায়ের শত্রু হয়ে গিয়েছিল। তাই তাদের আত্মগোপনের জন্য এমন একটা জায়গা দরকার ছিল, যা রাজার নজরদারির বাইরে। কুরআন মাজীদ বলছে, আমি তাদেরকে এমন এক উচ্চস্থানে আশ্রয় দিলাম, যা ছিল তাদের জন্য নিরাপদ এবং সেখানে তাঁদের প্রয়োজন সমাধার জন্য ছিল ঝরনার পানি।
৫১

یٰۤاَیُّہَا الرُّسُلُ کُلُوۡا مِنَ الطَّیِّبٰتِ وَاعۡمَلُوۡا صَالِحًا ؕ  اِنِّیۡ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ عَلِیۡمٌ ؕ ٥١

ইয়াআইয়ুহার রুছুলুকুলূমিনাততাইয়িবা-তি ওয়া‘মালূসা-লিহান ইন্নী বিমাতা‘মালূনা ‘আলীম।

হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তুসমূহ হতে (যা ইচ্ছা) খাও ও সৎকর্ম কর। তোমরা যা কর নিশ্চয়ই আমি সে সম্পর্কে পূর্ণ অবগত।
৫২

وَاِنَّ ہٰذِہٖۤ اُمَّتُکُمۡ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً وَّاَنَا رَبُّکُمۡ فَاتَّقُوۡنِ ٥٢

ওয়া ইন্না হা-যিহীউম্মাতুকুম উম্মাতাওঁ ওয়াহিদাতাওঁ ওয়া আনা-রাব্বুকুম ফাত্তাকূন।

বস্তুত এটাই তোমাদের দীন, (সকলের জন্য) একই দীন! আর আমি তোমাদের প্রতিপালক। সুতরাং আমাকে ভয় কর।
৫৩

فَتَقَطَّعُوۡۤا اَمۡرَہُمۡ بَیۡنَہُمۡ زُبُرًا ؕ کُلُّ حِزۡبٍۭ بِمَا لَدَیۡہِمۡ فَرِحُوۡنَ ٥٣

ফাতাকাততা‘ঊআমরাহুম বাইনাহুম ঝুবুরান কুল্লুহিঝবিম বিমা-লাদাইহিম ফারিহূন।

কিন্তু তারা নিজেদের মধ্যে (বিবাদ-বিসম্বাদে লিপ্ত হয়ে) তাদের দীনকে বহু খণ্ডে বিভক্ত করে ফেলল। প্রতিটি দল নিজেদের ভাবনা মতে যে পন্থা অবলম্বন করেছে তা নিয়েই উৎফুল্ল। ২৫

তাফসীরঃ

২৫. অর্থাৎ মৌলিকভাবে সমস্ত নবীর দীন ছিল একই। তারা একই ‘আকীদা-বিশ্বাসের প্রতি মানুষকে দাওয়াত দিয়েছেন, হালাল খাদ্য গ্রহণ ও হারাম থেকে বেঁচে থাকা এবং সৎকর্ম অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে পার্থক্য ছিল কেবল শাখাগত বিষয়ে অর্থাৎ প্রত্যেকের শরীআত ছিল আলাদা। মৌলিক বিষয়ে যে পার্থক্য, তা মানুষেরই সৃষ্টি। তারাই পরস্পর মতবিরোধে লিপ্ত হয়ে আলাদা-আলাদা আকীদা-বিশ্বাস তৈরি করে নিয়েছে আর এভাবে বিভিন্ন দল তৈরি হয়ে কেউ হয়েছে ইয়াহুদী, কেউ খ্রিস্টান, কেউ মাজূসী কিংবা বৌদ্ধ, পৌত্তলিক ইত্যাদি। সকলে যদি যথাযথভাবে নবীগনের নির্দেশনা অনুযায়ী চলত, তবে বিশ্বব্যাপী দীন বলতে কেবল ইসলামই থাকত এবং সকলেই হত মুসলিম। -অনুবাদক
৫৪

فَذَرۡہُمۡ فِیۡ غَمۡرَتِہِمۡ حَتّٰی حِیۡنٍ ٥٤

ফাযারহুম ফী গামরাতিহিম হাত্তা-হীন।

সুতরাং (হে রাসূল!) তাদেরকে নির্দিষ্ট এক কাল পর্যন্ত নিজেদের অজ্ঞতার ভেতর নিমজ্জিত থাকতে দাও।
৫৫

اَیَحۡسَبُوۡنَ اَنَّمَا نُمِدُّہُمۡ بِہٖ مِنۡ مَّالٍ وَّبَنِیۡنَ ۙ ٥٥

আইয়াহছাবূনা আন্নামা-নুমিদ্দুহুম বিহী মিম মা-লিওঁ ওয়া বানীন।

তারা কি মনে করে আমি তাদেরকে যে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে যাচ্ছি
৫৬

نُسَارِعُ لَہُمۡ فِی الۡخَیۡرٰتِ ؕ بَلۡ لَّا یَشۡعُرُوۡنَ ٥٦

নুছা-রি‘উ লাহুম ফিল খাইরা-তি বাল লা-ইয়াশ‘উরূন।

তা দ্বারা তাদের কল্যাণ সাধনে ত্বরা দেখাচ্ছি? ২৬ না, বরং (প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে) তাদের কোন অনুভূতি নেই।

তাফসীরঃ

২৬. কাফেরগণ দাবি করত তারাই সঠিক পথে আছে আর তারা প্রমাণ হিসেবে বলত, আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ধনে-জনে সম্পন্নতা দান করেছেন। এর দ্বারা বোঝা যায় তিনি আমাদের প্রতি খুশী। ফলে আগামীতেও তিনি আমাদেরকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে রাখবেন। তিনি নারাজ হলে এমন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আমাদেরকে দিতেন না। এটা প্রমাণ করে আমরাই সত্যের উপর আছি। এ আয়াতে তাদের সে দাবির জবাব দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, দুনিয়ায় অর্থ-সম্পদের প্রাপ্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি প্রমাণ করে না। কেননা তিনি কাফের ও নাফরমানকেও রিযক দান করেন। বস্তুত তিনি খুশী কেবল সেই সকল লোকের প্রতি যারা ৫৭ থেকে ৬০ নং আয়াতে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যাবলীর অধিকারী। তিনি তাদেরকে উৎকৃষ্ট পরিণাম দান করবেন।
৫৭

اِنَّ الَّذِیۡنَ ہُمۡ مِّنۡ خَشۡیَۃِ رَبِّہِمۡ مُّشۡفِقُوۡنَ ۙ ٥٧

ইন্নাল লাযীনা হুম মিন খাশইয়াতি রাব্বিহিম মুশফিকূন।

নিশ্চয়ই যারা নিজ প্রতিপালকের ভয়ে ভীত
৫৮

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ بِاٰیٰتِ رَبِّہِمۡ یُؤۡمِنُوۡنَ ۙ ٥٨

ওয়াল্লাযীনা হুম বিআ-য়া-তি রাব্বিহিম ইউ’মিনূন।

এবং যারা নিজ প্রতিপালকের আয়াতসমূহে ঈমান রাখে
৫৯

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ بِرَبِّہِمۡ لَا یُشۡرِکُوۡنَ ۙ ٥٩

ওয়াল্লাযীনা হুম বিরাব্বিহিম লা-ইউশরিকূন।

এবং যারা নিজ প্রতিপালকের সাথে কাউকে শরীক করে না
৬০

وَالَّذِیۡنَ یُؤۡتُوۡنَ مَاۤ اٰتَوۡا وَّقُلُوۡبُہُمۡ وَجِلَۃٌ اَنَّہُمۡ اِلٰی رَبِّہِمۡ رٰجِعُوۡنَ ۙ ٦۰

ওয়াল্লাযীনা ইউ’তূনা মাআ-তাওঁ ওয়া কুলূবুহুম ওয়াজিলাতুনআন্নাহুমইলা-লাব্বিহিম রাজি‘উন।

এবং যারা যে-কোন কাজই করে, তা করার সময় তাদের অন্তর এই ভয়ে ভীত থাকে যে, তাদেরকে নিজ প্রতিপালকের কাছে ফিরে যেতে হবে, ২৭

তাফসীরঃ

২৭. অর্থাৎ, সৎকর্ম করছে বলে তাদের অন্তরে অহমিকা দেখা দেয় না; বরং তারা এই ভেবে ভীত-কম্পিত থাকে যে, তাদের কর্মে এমন কোন ত্রুটি রয়ে যায়নি তো, যা আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে!
৬১

اُولٰٓئِکَ یُسٰرِعُوۡنَ فِی الۡخَیۡرٰتِ وَہُمۡ لَہَا سٰبِقُوۡنَ ٦١

উলাইকা ইউছা-রি‘উনা ফিল খাইরা-তি ওয়া হুম লাহা-ছা-বিকূন।

তারাই কল্যাণার্জনে তৎপরতা প্রদর্শন করছে এবং তারাই সে দিকে অগ্রসর হচ্ছে দ্রুতগতিতে।
৬২

وَلَا نُکَلِّفُ نَفۡسًا اِلَّا وُسۡعَہَا وَلَدَیۡنَا کِتٰبٌ یَّنۡطِقُ بِالۡحَقِّ وَہُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ ٦٢

ওয়ালা-নুকালিলফুনাফছান ইল্লা-উছ‘আহা-ওয়া লাদাইনা-কিতা-বুইঁ ইয়ানতিকুবিলহাক্কি ওয়া হুম লা-ইউজলামূন।

আমি কাউকে তার সাধ্যাতীত কাজের দায়িত্ব দেই না। আমার কাছে আছে এক কিতাব, যা (সকলের অবস্থা) যথাযথভাবে বলে দেবে এবং তাদের প্রতি কোন জুলুম করা হবে না।
৬৩

بَلۡ قُلُوۡبُہُمۡ فِیۡ غَمۡرَۃٍ مِّنۡ ہٰذَا وَلَہُمۡ اَعۡمَالٌ مِّنۡ دُوۡنِ ذٰلِکَ ہُمۡ لَہَا عٰمِلُوۡنَ ٦٣

বাল কুলূবুহুম ফী গামরাতিম মিন হা-যা-ওয়া লাহুম ‘আমা-লুমমিনদূনি যা-লিকা হুম লাহা-‘আ-মিলূন।

কিন্তু তাদের অন্তর এ বিষয়ে উদাসীনতায় নিমজ্জিত। এছাড়া তাদের আরও বহু দুষ্কর্ম আছে, যা তারা করে থাকে। ২৮

তাফসীরঃ

২৮. অর্থাৎ, কুফর ও শিরক ছাড়াও তাদের বহু দুষ্কর্ম আছে, যা তারা করে থাকে।
৬৪

حَتّٰۤی اِذَاۤ اَخَذۡنَا مُتۡرَفِیۡہِمۡ بِالۡعَذَابِ اِذَا ہُمۡ یَجۡـَٔرُوۡنَ ؕ ٦٤

হাত্তাইযাআখাযনা -মুতরাফীহিম বিলআযা-বি ইযা-হুম ইয়াজআরূন।

অবশেষে আমি যখন তাদের ঐশ্বর্যশালী ব্যক্তিদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করব, তখন তারা আর্তনাদ করে উঠবে।
৬৫

لَا تَجۡـَٔرُوا الۡیَوۡمَ ۟ اِنَّکُمۡ مِّنَّا لَا تُنۡصَرُوۡنَ ٦٥

লা-তাজআরুল ইয়াওমা ইন্নাকুম মিন্না-লা-তুনসারূন।

এখন আর্তনাদ করো না। আমার পক্ষ হতে তোমরা কোন সাহায্য পাবে না।
৬৬

قَدۡ کَانَتۡ اٰیٰتِیۡ تُتۡلٰی عَلَیۡکُمۡ فَکُنۡتُمۡ عَلٰۤی اَعۡقَابِکُمۡ تَنۡکِصُوۡنَ ۙ ٦٦

কাদ কা-নাত আ-য়া-তী তুতলা-আলাইকুম ফাকুনতুম ‘আলাআ’কা-বিকুম তানকিসূন।

আমার আয়াতসমূহ তোমাদেরকে পড়ে শোনানো হত। কিন্তু তোমরা পিছন ফিরে সরে পড়তে
৬৭

مُسۡتَکۡبِرِیۡنَ ٭ۖ بِہٖ سٰمِرًا تَہۡجُرُوۡنَ ٦٧

মুছতাকবিরীনা বিহী ছা-মিরান তাহজুরূন।

অত্যন্ত অহমিকার সাথে এ সম্পর্কে (অর্থাৎ কুরআন সম্পর্কে) রাতের বেলা বেহুদা গল্প-গুজব করতে। ২৯

তাফসীরঃ

২৯. بِهٖ সর্বনাম দ্বারা কুরআন মাজীদকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ অহমিকা বশে তারা কুরআনের প্রতি তো ঈমান আনতই না, উল্টো রাতের বেলা পবিত্র কাবার চত্বরে বসে কুরআন সম্পর্কে বাজে কথাবার্তায় মেতে উঠত। কেউ বলত এটা জাদু, কেউ বলত কবিতা এবং আরও কত কি। অথবা ’بِهٖ‘ দ্বারা পবিত্র কাবাকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ পবিত্র কাবার পড়শী ও তার সেবায়েত এই অহংকারে তারা কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিত। سَامِرًا تَهْجُرُوْنَ -এর আরেক অর্থ হতে পারে এক গল্পকারকে ত্যাগ করছ’, অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিস থেকে এমন অবজ্ঞাভরে উঠে যেত, যেন কোন গল্পকারকে ত্যাগ করছে। -অনুবাদক
৬৮

اَفَلَمۡ یَدَّبَّرُوا الۡقَوۡلَ اَمۡ جَآءَہُمۡ مَّا لَمۡ یَاۡتِ اٰبَآءَہُمُ الۡاَوَّلِیۡنَ ۫ ٦٨

আফালাম ইয়াদ্দাব্বারুল কাওলা আম জাআহুম মা-লাম ইয়া’তি আ-বাআ হুমুল আওওয়ালীন।

তবে কি তারা এ বাণীর ভেতর চিন্তা করেনি নাকি তাদের কাছে এমন কিছু এসেছে, যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি?
৬৯

اَمۡ لَمۡ یَعۡرِفُوۡا رَسُوۡلَہُمۡ فَہُمۡ لَہٗ مُنۡکِرُوۡنَ ۫ ٦٩

আম লাম ইয়া‘রিফূরাছুলাহুম ফাহুম লাহূমুনকিরূন।

নাকি তারা তাদের রাসূলকে (আগে থেকে) চিনত না, ফলে তাকে অস্বীকার করছে? ৩০

তাফসীরঃ

৩০. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সততা ও বিশ্বস্ততা সম্পর্কে কোন ব্যক্তির যদি জানা না থাকত তবে তার অন্তরে তাঁর নবুওয়াতের ব্যাপারে সন্দেহ দেখা দেওয়ার কিংবা তার নবুওয়াতের বিষয়টি বুঝতে বিলম্ব হওয়ার অবকাশ ছিল। কিন্তু মক্কাবাসী তো চল্লিশ বছর যাবৎ তাঁর সততা ও বিশ্বস্ততার সাথে পরিচিত। তারা তাঁর উন্নত আখলাক-চরিত্র দেখে অভ্যস্ত। তারা নিশ্চিতভাবে জানে, তিনি জীবনে কখনও মিথ্যা বলেননি, কখনও কাউকে ধোঁকা দেননি। তা সত্ত্বেও তারা তাঁকে এভাবে প্রত্যাখ্যান করছে, যেন তারা তাঁকে চেনেই না এবং তাঁর আখলাক-চরিত্র সম্পর্কে কিছু জানেই না।
৭০

اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ بِہٖ جِنَّۃٌ ؕ بَلۡ جَآءَہُمۡ بِالۡحَقِّ وَاَکۡثَرُہُمۡ لِلۡحَقِّ کٰرِہُوۡنَ ٧۰

আম ইয়াকূলূনা বিহী জিন্নাতুম বাল জাআহুম বিলহাক্কিওয়া আকছারুহুম লিলহাক্কি কা-রিহূন।

নাকি তারা বলে, সে (অর্থাৎ রাসূল) উন্মাদগ্রস্ত? না, বরং (প্রকৃত ব্যাপার হল) সে তাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছে এবং তাদের অধিকাংশ সত্য পছন্দ করে না। ৩১

তাফসীরঃ

৩১. মক্কার কাফেরগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কেন অস্বীকার করত? তিনি কি অভিনব কোন বিষয় নিয়ে এসেছিলেন, যা পূর্ববর্তী নবীদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা? তাঁর মহান আখলাক-চরিত্র কি তাদের অজ্ঞাত ছিল? নাকি তারা সত্যি সত্যি মনে করত তিনি (নাউযুবিল্লাহ) একজন উন্মাদ? না, এর কোনওটিই তাদের অস্বীকৃতির কারণ নয়। বরং প্রকৃত কারণ ছিল অন্য। তিনি যে সত্যের বাণী নিয়ে এসেছিলেন তা তাদের ইচ্ছা-অভিরুচির বিপরীত ছিল। তা গ্রহণ করলে ইন্দ্রিয়পরবশ হয়ে চলা যেত না। তাই তাঁকে অস্বীকার করার জন্য একেকবার একেক বাহানা দেখাত।
৭১

وَلَوِ اتَّبَعَ الۡحَقُّ اَہۡوَآءَہُمۡ لَفَسَدَتِ السَّمٰوٰتُ وَالۡاَرۡضُ وَمَنۡ فِیۡہِنَّ ؕ  بَلۡ اَتَیۡنٰہُمۡ بِذِکۡرِہِمۡ فَہُمۡ عَنۡ ذِکۡرِہِمۡ مُّعۡرِضُوۡنَ ؕ ٧١

ওয়ালা বিততাবা‘আল হাক্কুআহওয়াআহুম লাফাছাদাতিছ ছামা-ওয়া-তুওয়াল আরদ ওয়া মান ফীহিন্না বাল আতাইনা-হুম বিযিকরিহিম ফাহুম ‘আন যিকরিহিম মু‘রিদূ ন।

সত্য যদি তাদের খেয়াল-খুশীর অনুগামী হত, তবে আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এতে বসবাসকারী সবকিছুই বিপর্যস্ত হয়ে যেত। প্রকৃতপক্ষে আমি তাদের কাছে তাদের উপদেশবাণী নিয়ে এসেছি, কিন্তু তারা নিজেদের উপদেশবাণী থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে।
৭২

اَمۡ تَسۡـَٔلُہُمۡ خَرۡجًا فَخَرَاجُ رَبِّکَ خَیۡرٌ ٭ۖ وَّہُوَ خَیۡرُ الرّٰزِقِیۡنَ ٧٢

আম তাছআলুহুম খারজান ফাখারা-জুরাব্বিকা খাইরুওঁ ওয়া হুওয়া খাইরুর রা-ঝিকীন।

নাকি (তাদের অস্বীকৃতির কারণ এই যে,) তুমি তাদের কাছে কোন প্রতিদান চাও? কিন্তু (এটাও তো গলদ। কেননা) তোমার প্রতিপালক প্রদত্ত প্রতিদানই (তোমার পক্ষে) উৎকৃষ্ট। তিনি শ্রেষ্ঠতম রিযিকদাতা। ৩২

তাফসীরঃ

৩২. এর দ্বারা মক্কার মুশরিকদের তিরস্কার করা হচ্ছে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততা সম্পর্কে তো তারা জ্ঞাত, তারা জানে তাঁর জ্ঞান-বুদ্ধিতে কোন ত্রুটি নেই, সেদিক থেকে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ, বলিষ্ঠ ও অসাধারণ। তিনি যে বিষয়ের দিকে ডাকছেন তাও সত্য সরল ও সুস্পষ্ট। আবার এ দাওয়াতের কারণে তিনি তাদের কাছে কোন বিনিময়েরও প্রত্যাশা করেন না এবং তা প্রত্যাশা করার কোন প্রশ্নও আসে না, যেহেতু আল্লাহ তাআলা দোজাহানের যে নি‘আমত তাকে দান করেছেন তা মানুষের পক্ষ হতে কল্পনীয় সকল বিনিময় অপেক্ষা অতুলনীয়ভাবে শ্রেয়। তা সত্ত্বেও তারা কী কারণে ঈমান না এনে কেবল শত্রুতাই করে যাচ্ছে? -অনুবাদক
৭৩

وَاِنَّکَ لَتَدۡعُوۡہُمۡ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ٧٣

ওয়া ইন্নাকা লাতাদ‘ঊহুম ইলা-সিরা-তিম মুছতাকীম।

বস্তুত তুমি তাদেরকে ডাকছ সরল পথের দিকে।
৭৪

وَاِنَّ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ عَنِ الصِّرَاطِ لَنٰکِبُوۡنَ ٧٤

ওয়া ইন্নাল্লাযীনা লা-ইউ’মিনূনা বিলআ-খিরাতি ‘আনিসসিরা-তিলানা-কিবূন।

যারা আখেরাতে বিশ্বাস রাখে না, তারা তো পথ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত।
৭৫

وَلَوۡ رَحِمۡنٰہُمۡ وَکَشَفۡنَا مَا بِہِمۡ مِّنۡ ضُرٍّ لَّلَجُّوۡا فِیۡ طُغۡیَانِہِمۡ یَعۡمَہُوۡنَ ٧٥

ওয়া লাও রাহিমনা-হুম ওয়াকাশাফনা-মা-বিহিম মিন দুররিল লালাজজুফী তুগইয়া-নিহিম ইয়া‘মাহূন।

আমি যদি তাদের প্রতি দয়া করি এবং তারা যে দুঃখ-কষ্টে আক্রান্ত আছে তা দূর করে দেই, তবুও তারা বিভ্রান্ত হয়ে নিজেদের অবাধ্যতায় গোঁ ধরে থাকে। ৩৩

তাফসীরঃ

৩৩. মক্কার মুশরিকদেরকে ঝাকুনি দেওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলা তাদেরকে দু’-একবার দুর্ভিক্ষ ও অর্থসঙ্কটে ফেলেছিলেন। এ আয়াতের ইশারা সে দিকেই।
৭৬

وَلَقَدۡ اَخَذۡنٰہُمۡ بِالۡعَذَابِ فَمَا اسۡتَکَانُوۡا لِرَبِّہِمۡ وَمَا یَتَضَرَّعُوۡنَ ٧٦

ওয়া লাকাদ আখাযনা-হুম বিল’আযা-বি ফামাছতা কা-নূ লিরাব্বিহিম ওয়ামাইয়াতাদাররা‘ঊন।

আমি তো তাদেরকে (একবার) শাস্তিতে ধৃত করেছিলাম। তখনও তারা নিজ প্রতিপালকের সামনে নত হয়নি এবং তারা তো কোন রকম অনুনয়-বিনয় করে না।
৭৭

حَتّٰۤی اِذَا فَتَحۡنَا عَلَیۡہِمۡ بَابًا ذَا عَذَابٍ شَدِیۡدٍ اِذَا ہُمۡ فِیۡہِ مُبۡلِسُوۡنَ ٪ ٧٧

হাত্তাইযা-ফাতাহনা-‘আলাইহিম বা-বান যা-‘আযা-বিন শাদীদিন ইযা-হুম ফীহি মুবলিছূন।

অবশেষে যখন আমি তাদের জন্য কঠিন শাস্তির দুয়ার খুলে দেব, তখন সহসা তারা তাতে হতাশ হয়ে পড়বে।
৭৮

وَہُوَ الَّذِیۡۤ اَنۡشَاَ لَکُمُ السَّمۡعَ وَالۡاَبۡصَارَ وَالۡاَفۡـِٕدَۃَ ؕ قَلِیۡلًا مَّا تَشۡکُرُوۡنَ ٧٨

ওয়া হুওয়ল্লাযীআনশাআলাকুমুছ ছাম‘আ ওয়াল আবসা-রা ওয়াল আফইদাতা কালীলাম মা-তাশকুরূন।

আল্লাহই তো সেই সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ ও অন্তর সৃষ্টি করেছেন, (কিন্তু) তোমরা বড় কমই শুকর আদায় কর। ৩৪

তাফসীরঃ

৩৪. এখান থেকে আল্লাহ তাআলা নিজ কুদরতের বিভিন্ন নিদর্শনের কথা বর্ণনা করছেন। এসব নিদর্শনকে মক্কার কাফেরগণও স্বীকার করত। এর দ্বারা প্রমাণ করা উদ্দেশ্য যে, যেই মহিয়ান সত্তা এ রকম মহা বিস্ময়কর কাজ করতে সক্ষম, তিনি মানুষের মৃত্যু ঘটানোর পর তাদেরকে পুনরায় জীবিত করতে পারবেন না?
৭৯

وَہُوَ الَّذِیۡ ذَرَاَکُمۡ فِی الۡاَرۡضِ وَاِلَیۡہِ تُحۡشَرُوۡنَ ٧٩

ওয়া হুওয়াল্লাযী যারা-আকুম ফিল আরদিওয়া ইলাইহি তুহশারূন।

তিনিই তো তোমাদেরকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তারই কাছে তোমাদেরকে একত্র করা হবে।
৮০

وَہُوَ الَّذِیۡ یُحۡیٖ وَیُمِیۡتُ وَلَہُ اخۡتِلَافُ الَّیۡلِ وَالنَّہَارِ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ ٨۰

ওয়া হুওয়াল্লাযী ইউহয়ী ওয়া ইউমীতুওয়ালাহুখতিলা-ফুল লাইলি ওয়ান্নাহা-রি আফালাতা’কিলূন।

তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। রাত ও দিনের পরিবর্তন তাঁরই নিয়ন্ত্রণে। তবুও কি তোমরা বুদ্ধি কাজে লাগাবে না?
৮১

بَلۡ قَالُوۡا مِثۡلَ مَا قَالَ الۡاَوَّلُوۡنَ ٨١

বাল কা-লূমিছলা মা-কা-লাল আওওয়ালূন।

বরং তারাও সে রকম কথাই বলে, যেমন বলেছিল পূর্বেকার লোকে।
৮২

قَالُوۡۤا ءَاِذَا مِتۡنَا وَکُنَّا تُرَابًا وَّعِظَامًا ءَاِنَّا لَمَبۡعُوۡثُوۡنَ ٨٢

কা-লূআইযা-মিতনা-ওয়া কুন্না-তুরা-বাওঁ ওয়া ‘ইজা-মান আইন্না-লামাব‘উছূন।

তারা বলে, আমরা যখন মারা যাব এবং মাটি ও অস্থিতে পরিণত হব, তখনও কি আমাদেরকে পুনর্জীবিত করে তোলা হবে?
৮৩

لَقَدۡ وُعِدۡنَا نَحۡنُ وَاٰبَآؤُنَا ہٰذَا مِنۡ قَبۡلُ اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ ٨٣

লাকাদ উ‘ইদনা-নাহনুওয়া আ-বাউনা-হা-যা-মিন কাবলুইন হা-যাইল্লাআছাতীরুল আওওয়ালীন।

এই প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছে আমাদেরকে এবং পূর্বে আমাদের বাপ-দাদাদেরকেও। বস্তুত এটা পূর্ববর্তীদের তৈরি করা উপকথা ছাড়া কিছুই নয়।
৮৪

قُلۡ لِّمَنِ الۡاَرۡضُ وَمَنۡ فِیۡہَاۤ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ ٨٤

কুল লিমানিল আরদুওয়া মান ফীহাইন কুনতুম তা‘লামূন।

(হে রাসূল! তাদেরকে) বল, এই পৃথিবী এবং এতে যারা বাস করছে তারা কার মালিকানায়, যদি তোমরা জান?
৮৫

سَیَقُوۡلُوۡنَ لِلّٰہِ ؕ قُلۡ اَفَلَا تَذَکَّرُوۡنَ ٨٥

ছাইয়াকূলূনা লিল্লা-হি কুল আফালা-তাযাক্কারূন।

তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহর। ৩৫ বল, তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?

তাফসীরঃ

৩৫. আরবের অবিশ্বাসীগণ এটা স্বীকার করত যে, আসমান, যমীন ও এর বাসিন্দাদের মালিক আল্লাহ তাআলাই। তা সত্ত্বেও তারা বিভিন্ন মাবুদে বিশ্বাসী ছিল।
৮৬

قُلۡ مَنۡ رَّبُّ السَّمٰوٰتِ السَّبۡعِ وَرَبُّ الۡعَرۡشِ الۡعَظِیۡمِ ٨٦

কুল মার রাব্বুছছামা-ওয়া-তিছছাব‘ই ওয়া রাব্বুল ‘আরশিল ‘আজীম।

বল, কে সাত আকাশের মালিক এবং মহা আরশের মালিক?
৮৭

سَیَقُوۡلُوۡنَ لِلّٰہِ ؕ قُلۡ اَفَلَا تَتَّقُوۡنَ ٨٧

ছাইয়াকূলূনা লিল্লা-হি কুল আফালা-তাত্তাকূন।

তারা অবশ্যই বলবে, এসব আল্লাহর। বল, তবুও কি তোমরা (আল্লাহকে) ভয় করবে না?
৮৮

قُلۡ مَنۡۢ بِیَدِہٖ مَلَکُوۡتُ کُلِّ شَیۡءٍ وَّہُوَ یُجِیۡرُ وَلَا یُجَارُ عَلَیۡہِ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ ٨٨

কুল মাম বিইয়াদিহী মালাকূতুকুল্লি শাইয়িওঁ ওয়া হুওয়া ইউজীরু ওয়ালা-ইউজা-রু ‘আলাইহি ইন কুনতুম তা‘লামূন।

বল, কে তিনি, যার হাতে সবকিছুর পূর্ণ কর্তৃত্ব এবং যিনি আশ্রয় দান করেন এবং তার বিপরীতে কেউ কাউকে আশ্রয় দিতে পারে না (বল) যদি জান?
৮৯

سَیَقُوۡلُوۡنَ لِلّٰہِ ؕ قُلۡ فَاَنّٰی تُسۡحَرُوۡنَ ٨٩

ছাইয়াকূলূনা লিল্লা-হি কুল ফাআন্না-তুছহারূন।

তারা অবশ্যই বলবে, (সমস্ত কর্তৃত্ব) আল্লাহর। বল, তবে কোথা হতে তোমরা যাদুগ্রস্ত হচ্ছ? ৩৬

তাফসীরঃ

৩৬. আয়াতে তাদের বিভ্রান্তিকে যাদুগ্রস্ততার সাথে তুলনা করা হয়েছে। যাদুগ্রস্ত ব্যক্তি সঠিক বিষয় বুঝতে পারে না, তাই উল্টাপাল্টা কথা বলে, তারাও তেমনি মহাবিশ্বে আল্লাহ তাআলার একচ্ছত্র কর্তৃত্ব ও আধিপত্য এবং তার জ্ঞান ও শক্তির অসীমত্ব জানা থাকা সত্ত্বেও এই সহজ কথাটা বুঝতে পারছে না যে, এমন সর্বশক্তিমানের পক্ষে মানুষকে তাদের মাটিতে মিশে যাওয়ার পরও পুনরুজ্জীবিত করা কিছু কঠিন কাজ নয়। উল্টো মন্তব্য করছে যে, এসব পুরাকালের উপকথা। -অনুবাদক
৯০

بَلۡ اَتَیۡنٰہُمۡ بِالۡحَقِّ وَاِنَّہُمۡ لَکٰذِبُوۡنَ ٩۰

বাল আতাইনা-হুম বিলহাক্কিওয়া ইন্নাহুম লাকা-যিবূন।

না, (এটা উপকথা নয়); বরং আমি তাদের কাছে সত্য পৌঁছিয়েছি। কিন্তু তারা তো মিথ্যাবাদী।
৯১

مَا اتَّخَذَ اللّٰہُ مِنۡ وَّلَدٍ وَّمَا کَانَ مَعَہٗ مِنۡ اِلٰہٍ اِذًا لَّذَہَبَ کُلُّ اِلٰہٍۭ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعۡضُہُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ ؕ  سُبۡحٰنَ اللّٰہِ عَمَّا یَصِفُوۡنَ ۙ ٩١

মাততাখাযাল্লা-হু মিওঁ ওয়ালাদিওঁ ওয়ামা-কা-না মা‘আহূমিন ইলা-হিন ইযাল লাযাহাবা কুল্লুইলা-হিম বিমা-খালাকা ওয়া লা‘আলা-বা‘দুহুম ‘আলা-বা‘দিন ছুবহা-নাল্লা-হি ‘আম্মা-ইয়াসিফূন।

আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তার সঙ্গে নেই অন্য কোন মাবুদ। সে রকম হলে প্রত্যেক মাবুদ নিজ মাখলুক নিয়ে পৃথক হয়ে যেত, তারপর তারা একে অন্যের উপর আধিপত্য বিস্তার করত। ৩৭ তারা যা বলে, তা হতে আল্লাহ পবিত্র,

তাফসীরঃ

৩৭. তাওহীদের এ রকম দলীলই সূরা বনী ইসরাঈল (১৭ : ৪২) ও সূরা আম্বিয়ায় (২১ : ২২) গত হয়েছে। এর ব্যাখ্যার জন্য সেসব আয়াতের টীকা দ্রষ্টব্য।
৯২

عٰلِمِ الۡغَیۡبِ وَالشَّہَادَۃِ فَتَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ ٪ ٩٢

‘আ-লিমিল গাইবি ওয়াশশাহা-দাতি ফাতা‘আ-লা-‘আম্মা-ইউশরিকূন।

(সেই আল্লাহ), যিনি যাবতীয় গুপ্ত ও প্রকাশ্য বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞাত। সুতরাং তিনি তাদের শিরক থেকে বহু উর্ধ্বে।
৯৩

قُلۡ رَّبِّ اِمَّا تُرِیَنِّیۡ مَا یُوۡعَدُوۡنَ ۙ ٩٣

কুররাব্বি ইম্মা-তুরিইয়ান্নী মা-ইউ‘আদূন।

(হে রাসূল!) বল, হে আমার প্রতিপালক! তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) যে আযাবের ধমকি দেওয়া হচ্ছে, আপনি যদি আমার চোখের সামনেই তা নিয়ে আসেন
৯৪

رَبِّ فَلَا تَجۡعَلۡنِیۡ فِی الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ ٩٤

রাব্বি ফালা-তাজ‘আলনী ফিল কাউমিজ্জা-লিমীন।

তবে হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে ওই জালেম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করবেন না।
৯৫

وَاِنَّا عَلٰۤی اَنۡ نُّرِیَکَ مَا نَعِدُہُمۡ لَقٰدِرُوۡنَ ٩٥

ওয়া ইন্না-‘আলাআননুরিইয়াকা মা-না‘ইদুহুম লাকা-দিরূন।

আমি তাদেরকে যে বিষয়ে ধমক দিচ্ছি, তা তোমার চোখের সামনেই ঘটাতে আমি অবশ্যই সক্ষম।
৯৬

اِدۡفَعۡ بِالَّتِیۡ ہِیَ اَحۡسَنُ السَّیِّئَۃَ ؕ نَحۡنُ اَعۡلَمُ بِمَا یَصِفُوۡنَ ٩٦

ইদফা‘ বিল্লাতী হিইয়া আহছানুছ ছাইয়িআতা নাহনুআ‘লামুবিমা-ইয়াসিফূন।

(কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত সে সময় না আসছে) তুমি মন্দকে প্রতিহত করবে এমন পন্থায়, যা হবে উৎকৃষ্ট। ৩৮ তারা যেসব কথা বলছে, তা আমি ভালোভাবে জানি।

তাফসীরঃ

৩৮. অর্থাৎ তাদের অসার কথাবার্তা এবং তারা যে দুঃখ-কষ্ট দেয়, যতদূর সম্ভব নম্রতা, সদাচরণ ও চারিত্রিক মাধুর্য দ্বারা তার জবাব দিন।
৯৭

وَقُلۡ رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ ہَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ ۙ ٩٧

ওয়া কুর রাব্বি আ‘ঊযুবিকা মিন হামাঝা-তিশশাইয়া-তীন।

এবং দোয়া কর, হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই।
৯৮

وَاَعُوۡذُ بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ ٩٨

ওয়া আ‘ঊযুবিকা রাব্বি আইঁ ইয়াহদু রূন।

হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
৯৯

حَتّٰۤی اِذَا جَآءَ اَحَدَہُمُ الۡمَوۡتُ قَالَ رَبِّ ارۡجِعُوۡنِ ۙ ٩٩

হাত্তাইযা-জাআ আহাদাহুমুল মাওতুকা-লা রাব্বির জি‘ঊন।

পরিশেষে যখন তাদের কারও মৃত্যু উপস্থিত হয়ে যাবে, তখন তারা বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ওয়াপস পাঠিয়ে দিন
১০০

لَعَلِّیۡۤ اَعۡمَلُ صَالِحًا فِیۡمَا تَرَکۡتُ کَلَّا ؕ اِنَّہَا کَلِمَۃٌ ہُوَ قَآئِلُہَا ؕ وَمِنۡ وَّرَآئِہِمۡ بَرۡزَخٌ اِلٰی یَوۡمِ یُبۡعَثُوۡنَ ١۰۰

লা‘আললীআ‘মালুসা-লিহান ফীমা-তারাকতুকাল্লা- ইন্নাহা-কালিমাতুন হুওয়া কাইলুহা- ওয়ামিওঁ ওয়ারাইহিম বারঝাখুন ইলা-ইয়াওমি ইউব‘আছূন।

যাতে আমি যা (অর্থাৎ যে দুনিয়া) ছেড়ে এসেছি সেখানে গিয়ে সৎকাজ করতে পারি। কখনও না। এটা একটা কথার কথা, যা সে মুখে বলছে মাত্র। তাদের (অর্থাৎ মৃতদের) সামনে রয়েছে ‘বরযখ’ ৩৯ যা তাদেরকে পুনরুত্থিত করার দিন পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে।

তাফসীরঃ

৩৯. মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত মৃত ব্যক্তি যে জগতে থাকে, তাকে ‘বরযখ’ বলে। আয়াতে বলা হচ্ছে, মৃতদেরকে তাদের কথার জবাবে বলা হবে, মৃত্যুর পর এখন আর তোমাদের দুনিয়ায় ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। কেননা তোমাদের সামনে রয়েছে বরযখের বাধা। এ বাধা কিয়ামত পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে। [ورائه শব্দটি যেমন ‘পিছন’ অর্থে আসে, তেমনি ‘সম্মুখ’ অর্থেও আসে]
১০১

فَاِذَا نُفِخَ فِی الصُّوۡرِ فَلَاۤ اَنۡسَابَ بَیۡنَہُمۡ یَوۡمَئِذٍ وَّلَا یَتَسَآءَلُوۡنَ ١۰١

ফাইযা- নুফিখা ফিসসূরি ফালা আনছা-বা বাইনাহুম ইয়াওমায়িযিওঁ ওয়ালাইয়াতাছাআলূন।

অতঃপর যখন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে, তখন তাদের মধ্যকার কোন আত্মীয়তা বাকি থাকবে না এবং কেউ কাউকে কিছু জিজ্ঞেসও করবে না। ৪০

তাফসীরঃ

৪০. দুনিয়ায় আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব একে অন্যের খোঁজ-খবর নেয়, কেমন আছে জিজ্ঞেস করে। কিন্তু কিয়ামতের অবস্থা এমনই বিভীষিকাময় হবে যে, প্রত্যেকে নিজের চিন্তায় ব্যস্ত থাকবে। আত্মীয়-স্বজন বা অন্য কারও খবর নেওয়ার মত অবকাশ কারও হবে না।
১০২

فَمَنۡ ثَقُلَتۡ مَوَازِیۡنُہٗ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ ١۰٢

ফামান ছাকুলাত মাওয়া-ঝীনুহূফাউলাইকা হুমুল মুফলিহূন।

তখন যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই সফলকাম হবে।
১০৩

وَمَنۡ خَفَّتۡ مَوَازِیۡنُہٗ فَاُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ فِیۡ جَہَنَّمَ خٰلِدُوۡنَ ۚ ١۰٣

ওয়া মান খাফফাত মাওয়া-ঝীনুহূফাউলাইকাল্লাযীনা খাছিরূআনফুছাহুম ফী জাহান্নামা খালিদূন।

আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারাই এমন, যারা নিজেদের জন্য লোকসানের ব্যবসা করেছিল। তারা সদা-সর্বদা জাহান্নামে থাকবে।
১০৪

تَلۡفَحُ وُجُوۡہَہُمُ النَّارُ وَہُمۡ فِیۡہَا کٰلِحُوۡنَ ١۰٤

তালফাহুউজূহাহুমুন্না-রু ওয়া হুম ফীহা-কা-লিহূন।

আগুন তাদের চেহারা ঝলসে দেবে এবং তাতে তাদের আকৃতি বিকৃত হয়ে যাবে। ৪১

তাফসীরঃ

৪১. আগুনে ঝলসে তাদের চেহারা এমনই বীভৎস হয়ে যাবে যে, তাদের উপরের ঠোঁট কুঞ্চিত হয়ে মাথার তালুতে পৌঁছে যাবে, নিচের ঠোঁট ঝুলে নাভি পর্যন্ত নেমে আসবে এবং মাঝখানে বিশাল-বিকট দাঁত বের হয়ে আসবে। হে আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে জাহান্নাম থেকে পানাহ চাই। -অনুবাদক
১০৫

اَلَمۡ تَکُنۡ اٰیٰتِیۡ تُتۡلٰی عَلَیۡکُمۡ فَکُنۡتُمۡ بِہَا تُکَذِّبُوۡنَ ١۰٥

আলাম তাকুন আ-য়া-তী তুতলা-‘আলাইকুম ফাকুনতুম বিহা-তুকাযযি বূন।

(তাদেরকে বলা হবে) তোমাদেরকে কি আমার আয়াতসমূহ পড়ে শোনানো হত না? কিন্তু তোমরা তা অবিশ্বাস করতে।
১০৬

قَالُوۡا رَبَّنَا غَلَبَتۡ عَلَیۡنَا شِقۡوَتُنَا وَکُنَّا قَوۡمًا ضَآلِّیۡنَ ١۰٦

কা-লূরাব্বানা-গালাবাত ‘আলাইনা-শিকওয়াতুনা-ওয়াকুন্না-কাওমান দাল্লীন।

তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উপর আমাদের দুর্ভাগ্য ছেয়ে গিয়েছিল এবং আমরা ছিলাম বিপথগামী সম্প্রদায়।
১০৭

رَبَّنَاۤ اَخۡرِجۡنَا مِنۡہَا فَاِنۡ عُدۡنَا فَاِنَّا ظٰلِمُوۡنَ ١۰٧

রাব্বানাআখরিজনা-মিনহা-ফাইন ‘উদনা-ফাইন্না-জা-লিমূন।

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এখান থেকে উদ্ধার করুন। অতঃপর পুনরায় যদি আমরা সেই কাজই করি, তবে অবশ্যই আমরা জালেম হব।
১০৮

قَالَ اخۡسَـُٔوۡا فِیۡہَا وَلَا تُکَلِّمُوۡنِ ١۰٨

কা-লাখছাঊ ফীহা-ওয়ালা-তুকালিলমূন।

আল্লাহ বলবেন, এরই মধ্যে তোমরা হীন অবস্থায় পড়ে থাক এবং আমার সাথে কথা বলো না।
১০৯

اِنَّہٗ کَانَ فَرِیۡقٌ مِّنۡ عِبَادِیۡ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغۡفِرۡ لَنَا وَارۡحَمۡنَا وَاَنۡتَ خَیۡرُ الرّٰحِمِیۡنَ ۚۖ ١۰٩

ইন্নাহূ কা-না ফারীকুম মিন ‘ইবা-দী ইয়াকূ লূনা রাব্বানা আ-মান্না-ফাগফিরলানাওয়ারহামনা-ওয়াআনতা খাইরুর রা-হিমীন।

আমার বান্দাদের একটি দল দোয়া করত, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি। সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনি দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।
১১০

فَاتَّخَذۡتُمُوۡہُمۡ سِخۡرِیًّا حَتّٰۤی اَنۡسَوۡکُمۡ ذِکۡرِیۡ وَکُنۡتُمۡ مِّنۡہُمۡ تَضۡحَکُوۡنَ ١١۰

ফাত্তাখাযতুমূহুম ছিখরিইইয়ান হাত্তাআনছাওকুম যিকরী ওয়া কুনতুম মিনহুম তাদহাকূন।

তোমরা তখন তাদেরকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছিলে। এমনকি তা (অর্থাৎ তাদেরকে উত্ত্যক্তকরণ) তোমাদেরকে আমার স্মরণ পর্যন্ত ভুলিয়ে দিয়েছিল। আর তোমরা তাদেরকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টায় লিপ্ত থাকতে। ৪২

তাফসীরঃ

৪২. অর্থাৎ, তোমাদের অপরাধ কেবল ‘হক্কুল্লাহ’র অমর্যাদা করাই নয়; বরং নেক বান্দাদের প্রতি জুলুম করে হক্কুল ইবাদও পদদলিত করেছিলে। তোমাদেরকে তো এ দিনের ভয়াবহ শাস্তি সম্পর্কে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু সে সতর্কবাণীকে উপহাস করেছিলে। সুতরাং আজ তোমাদের প্রতি কোন দয়া করা হবে না। তোমরা দয়ার উপযুক্ত থাকনি।
১১১

اِنِّیۡ جَزَیۡتُہُمُ الۡیَوۡمَ بِمَا صَبَرُوۡۤا ۙ اَنَّہُمۡ ہُمُ الۡفَآئِزُوۡنَ ١١١

ইন্নী জাঝাইতুহুমুল ইয়াওমা বিমা-সাবারূ আন্নাহুম হুমুল ফাইঝূন।

তারা যে সবর করেছিল সে কারণে আজ আমি তাদেরকে এমন প্রতিদান দিলাম যে, তারাই হয়ে গেল কৃতকার্য।
১১২

قٰلَ کَمۡ لَبِثۡتُمۡ فِی الۡاَرۡضِ عَدَدَ سِنِیۡنَ ١١٢

কা-লা কাম লাবিছতুম ফিল আরদি‘আদাদা ছিনীন।

(তারপর) আল্লাহ (জাহান্নামীদেরকে) বলবেন, তোমরা পৃথিবীতে বছরের গণনায় কত কাল থেকেছ?
১১৩

قَالُوۡا لَبِثۡنَا یَوۡمًا اَوۡ بَعۡضَ یَوۡمٍ فَسۡـَٔلِ الۡعَآدِّیۡنَ ١١٣

কা-লূলাবিছনা-ইয়াওমান আও বা‘দা ইয়াওমিন ফাছআলিল ‘আ-দ্দীন।

তারা বলবে, আমরা এক দিন বা এক দিনেরও কম থেকেছি। ৪৩ (আমাদের ভালো মনে নেই) কাজেই যারা (সময়) গুনেছে তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন।

তাফসীরঃ

৪৩. আখেরাতের শাস্তি অতি কঠিন হওয়ার কারণে জাহান্নামীদের কাছে দুনিয়ার সুখণ্ডশান্তিকে সম্পূর্ণ নাস্তি মনে হবে এবং গোটা ইহকাল একদিন বা তারও কম অনুভূত হবে।
১১৪

قٰلَ اِنۡ لَّبِثۡتُمۡ اِلَّا قَلِیۡلًا لَّوۡ اَنَّکُمۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ ١١٤

কা-লা ইল লাবিছতুম ইল্লা-কালীলাল লাও আন্নাকুম কুনতুম তা‘লামূন।

আল্লাহ বলবেন, তোমরা অল্পকালই থেকেছিলে। কতই না ভালো হত যদি এ বিষয়টা তোমরা (আগেই) বুঝতে! ৪৪

তাফসীরঃ

৪৪. অর্থাৎ, এখন তো তোমরা নিজেরাই দেখলে দুনিয়ার জীবন এক দিন না হোক, আখেরাতের তুলনায় অতি সামান্যই তো ছিল। এ কথাই তো তোমাদেরকে দুনিয়ায় বলা হত, কিন্তু তোমরা তো মানতে প্রস্তুত ছিলে না। আহা! এ সত্য যদি তোমরা তখনই বুঝতে তবে আজ তোমাদের এ পরিণতি হত না।
১১৫

اَفَحَسِبۡتُمۡ اَنَّمَا خَلَقۡنٰکُمۡ عَبَثًا وَّاَنَّکُمۡ اِلَیۡنَا لَا تُرۡجَعُوۡنَ ١١٥

আফাহাছিবতুম আন্নামা-খালাকনা-কুম আবাছাওঁ ওয়া আন্নাকুম ইলাইনা-লা-তুরজা‘ঊন।

তবে কি তোমরা মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অহেতুক সৃষ্টি করেছি ৪৫ এবং তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না?

তাফসীরঃ

৪৫. যারা আখেরাতের জীবন এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থানকে স্বীকার করে না, তারা যেন বলতে চাচ্ছে, আল্লাহ তাআলা এ জগতকে অহেতুক ও উদ্দেশ্যহীন সৃষ্টি করেছেন। কাজেই এখানে যা ইচ্ছা করতে পারবে। অন্য কোন জগতে এ জগতের কোন কাজের প্রতিফল ভোগ করতে হবে না। যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বে ঈমান রাখে ও তাঁর হিকমতকে বিশ্বাস করে, আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে এরূপ ভ্রান্ত ও বালখিল্য ধারণা পোষণ তার পক্ষে সম্ভবই নয়। কাজেই আখেরাতের প্রতি ঈমান আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমানের এক যৌক্তিক ও অনিবার্য দাবি।
১১৬

فَتَعٰلَی اللّٰہُ الۡمَلِکُ الۡحَقُّ ۚ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ رَبُّ الۡعَرۡشِ الۡکَرِیۡمِ ١١٦

ফাতাআ-লাল্লা-হুল মালিকুল হাক্কু লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া, রাব্বুল ‘আরশিল কারীম।

অতি মহিমময় আল্লাহ, যিনি প্রকৃত বাদশাহ। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি সম্মানিত আরশের মালিক।
১১৭

وَمَنۡ یَّدۡعُ مَعَ اللّٰہِ اِلٰـہًا اٰخَرَ ۙ لَا بُرۡہَانَ لَہٗ بِہٖ ۙ فَاِنَّمَا حِسَابُہٗ عِنۡدَ رَبِّہٖ ؕ اِنَّہٗ لَا یُفۡلِحُ الۡکٰفِرُوۡنَ ١١٧

ওয়া মাইঁ ইয়াদ‘উ মা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খারা লা-বুরহা-না লাহূবিহী ফাইন্নামাহিছা-বুহূ‘ইনদা রাব্বিহী ইন্নাহূলা-ইউফলিহুল কা-ফিরূন।

যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদকে ডাকে, যে সম্পর্কে তার কাছে কোন রকম দলীল-প্রমাণ নেই, তার হিসাব তার প্রতিপালকের নিকট আছে। জেনে রেখ, কাফেরগণ সফলকাম হতে পারে না।
১১৮

وَقُلۡ رَّبِّ اغۡفِرۡ وَارۡحَمۡ وَاَنۡتَ خَیۡرُ الرّٰحِمِیۡنَ ٪ ١١٨

ওয়া কুর রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুররা-হিমীন।

(হে রাসূল!) বল, হে আমার প্রতিপালক, আমার ত্রুটিসমূহ ক্ষমা কর ও দয়া কর। তুমি দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।
সূরা আল মু'মিনূন | মুসলিম বাংলা