সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল হাজ্জ্ব (الحج) | হজ্জ

মাদানী

মোট আয়াতঃ ৭৮

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اتَّقُوۡا رَبَّکُمۡ ۚ اِنَّ زَلۡزَلَۃَ السَّاعَۃِ شَیۡءٌ عَظِیۡمٌ ١

ইয়াআইয়ুহান্না-ছুত্তাকূরাব্বাকুম ইন্না ঝালঝালাতাছছা-‘আতি শাইউন ‘আজীম।

হে মানুষ! নিজ প্রতিপালকের (ক্রোধকে) ভয় কর। জেনে রেখ, কিয়ামতের প্রকম্পন এক সাংঘাতিক জিনিস।

یَوۡمَ تَرَوۡنَہَا تَذۡہَلُ کُلُّ مُرۡضِعَۃٍ عَمَّاۤ اَرۡضَعَتۡ وَتَضَعُ کُلُّ ذَاتِ حَمۡلٍ حَمۡلَہَا وَتَرَی النَّاسَ سُکٰرٰی وَمَا ہُمۡ بِسُکٰرٰی وَلٰکِنَّ عَذَابَ اللّٰہِ شَدِیۡدٌ ٢

ইয়াওমা তারাওনাহা-তাযহালুকুলল মুরদি‘আতিন ‘আম্মাআরদা‘আত ওয়া তাদা’উ কুলুল যা-তি হামলিন হামলাহা-ওয়া তারান্না-ছা ছুকা-রা-ওয়ামা-হুম বিছুকা-রা-ওয়ালা-কিন্না ‘আযা-বাল্লা-হি শাদীদ।

যে দিন তোমরা তা দেখতে পাবে, সে দিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী সেই শিশুকে (পর্যন্ত) ভুলে যাবে, যাকে সে দুধ পান করিয়েছে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত ঘটিয়ে ফেলবে আর মানুষকে তুমি এমন দেখবে, যেন তারা নেশাগ্রস্ত, অথচ তারা নেশাগ্রস্ত নয়; বরং (সে দিন) আল্লাহর শাস্তি হবে অতি কঠোর।

وَمِنَ النَّاسِ مَنۡ یُّجَادِلُ فِی اللّٰہِ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ وَّیَتَّبِعُ کُلَّ شَیۡطٰنٍ مَّرِیۡدٍ ۙ ٣

ওয়া মিনান্না-ছি মাইঁ ইউজা-দিলুফিল্লা-হি বিগাইরি ‘ইলমিওঁ ওয়া ইয়াত্তাবি’উ কুল্লা শাইতা নিম মারীদ।

মানুষের মধ্যে কতক এমন আছে, যারা আল্লাহ সম্পর্কে না জেনে-না বুঝে ঝগড়া করে এবং অনুগমন করে সেই অবাধ্য শয়তানের

کُتِبَ عَلَیۡہِ اَنَّہٗ مَنۡ تَوَلَّاہُ فَاَنَّہٗ یُضِلُّہٗ وَیَہۡدِیۡہِ اِلٰی عَذَابِ السَّعِیۡرِ ٤

কুতিবা ‘আলাইহি আন্নাহূমান তাওয়াল্লা-হু ফাআন্নাহূইউদিল্লুহূওয়া ইয়াহদীহি ইলা-‘আযাবিছ ছা‘ঈর।

যার নিয়তিতে লিখে দেওয়া হয়েছে, যে-কেউ তাকে বন্ধু বানাবে, তাকে সে বিপথগামী করে ছাড়বে এবং তাকে নিয়ে যাবে প্রজ্জ্বলিত জাহান্নামের শাস্তির দিকে।

یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اِنۡ کُنۡتُمۡ فِیۡ رَیۡبٍ مِّنَ الۡبَعۡثِ فَاِنَّا خَلَقۡنٰکُمۡ مِّنۡ تُرَابٍ ثُمَّ مِنۡ نُّطۡفَۃٍ ثُمَّ مِنۡ عَلَقَۃٍ ثُمَّ مِنۡ مُّضۡغَۃٍ مُّخَلَّقَۃٍ وَّغَیۡرِ مُخَلَّقَۃٍ لِّنُبَیِّنَ لَکُمۡ ؕ وَنُقِرُّ فِی الۡاَرۡحَامِ مَا نَشَآءُ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ثُمَّ نُخۡرِجُکُمۡ طِفۡلًا ثُمَّ لِتَبۡلُغُوۡۤا اَشُدَّکُمۡ ۚ وَمِنۡکُمۡ مَّنۡ یُّتَوَفّٰی وَمِنۡکُمۡ مَّنۡ یُّرَدُّ اِلٰۤی اَرۡذَلِ الۡعُمُرِ لِکَیۡلَا یَعۡلَمَ مِنۡۢ بَعۡدِ عِلۡمٍ شَیۡئًا ؕ وَتَرَی الۡاَرۡضَ ہَامِدَۃً فَاِذَاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡہَا الۡمَآءَ اہۡتَزَّتۡ وَرَبَتۡ وَاَنۡۢبَتَتۡ مِنۡ کُلِّ زَوۡجٍۭ بَہِیۡجٍ ٥

ইয়াআইয়ুহান্না-ছুইন কুনতুম ফীরাইবিম মিনাল বা‘ছি ফাইন্না-খালাকনা-কুম মিন তুরা-বিন ছু ম্মা মিন নুতফাতিন ছুম্মা মিন ‘আলাকাতিন ছুম্মা মিম মু দগাতিম মুখালিলকাতিওঁ ওয়া গাইরি মুখাল্লাকাতিল লিনুবাইয়িনা লাকুম ওয়া নুকিররু ফিল আরহা-মি মা-নাশাউ ইলাআজালিম মুছাম্মান ছুম্মা নুখরিজুকুম তিফলান ছুম্মা লিতাবলুগূআশুদ্দাকুম ওয়া মিনকুম মাইঁ ইউতাওয়াফফা-ওয়া মিনকুম মাইঁ ইউরাদ্দুইলাআরযালিল ‘উমুরি লিকাইলাইয়া‘লামা মিম বা‘দি ‘ইলমিন শাইআওঁ ওয়া তারাল আরদা হা-মিদাতান ফাইযা আনঝালনা-‘আলাইহাল মাআহতাঝঝাত ওয়া রাবাত ওয়া আমবাতাত মিন কুল্লি ঝাওজিম বাহীজ।

হে মানুষ! পুনরায় জীবিত হওয়া সম্পর্কে তোমাদের যদি কোন সন্দেহ থাকে, তবে (একটু চিন্তা কর) আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি মাটি হতে, তারপর শুক্রবিন্দু থেকে, তারপর জমাট রক্ত থেকে, তারপর এক মাংসপি- থেকে, যা (কখনও) পূর্ণাকৃতি হয় এবং (কখনও) পূর্ণাকৃতি হয় না, তোমাদের কাছে (তোমাদের) প্রকৃত অবস্থা সুস্পষ্টরূপে ব্যক্ত করার জন্য। আর আমি (তোমাদেরকে) যত কাল ইচ্ছা মাতৃগর্ভে রাখি এক নির্দিষ্ট কালের জন্য। তারপর তোমাদেরকে শিশুরূপে বের করি। তারপর (তোমাদেরকে প্রতিপালন করি) যাতে তোমরা পরিণত বয়সে উপনীত হও। তোমাদের কতককে (আগেই) দুনিয়া থেকে তুলে নেওয়া হয় এবং তোমাদের কতককে ফিরিয়ে দেওয়া হয় হীনতম বয়সে (অর্থাৎ চরম বার্ধক্যে), এমনকি তখন সে সব কিছু জানার পরও কিছুই জানে না। তুমি ভূমিকে দেখ শুষ্ক, তারপর যখন আমি তাতে বারি বর্ষণ করি, তখন তা আন্দোলিত ও বাড়-বাড়ন্ত হয়ে ওঠে এবং তা উৎপন্ন করে সর্বপ্রকার নয়নাভিরাম উদ্ভিদ।

তাফসীরঃ

১. যারা মৃত্যুর পর পুনর্জীবন অসম্ভব বা কঠিন মনে করে, তাদেরকে বলা হচ্ছে, তোমরা নিজেদের সৃজন প্রক্রিয়া সম্পর্কেই চিন্তা কর না! আল্লাহ তাআলা কী বিস্ময়কর পন্থায় কতগুলো ধাপ পার করে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তোমাদের কোন অস্তিত্ব ছিল না। আল্লাহ তাআলাই তোমাদেরকে অস্তিত্ব দান করেছেন। তোমাদের প্রাণ ছিল না। আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে প্রাণ দিয়েছেন। যেই সত্তা তোমাদেরকে সম্পূর্ণ নাস্তি থেকে এরূপ বিস্ময়কর পন্থায় সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি তোমাদেরকে তোমাদের মৃত লাশে পরিণত হওয়ার পর পুনরায় জীবন দান করতে পারবে না? এটা তোমাদের কেমন ভাবনা?

ذٰلِکَ بِاَنَّ اللّٰہَ ہُوَ الۡحَقُّ وَاَنَّہٗ یُحۡیِ الۡمَوۡتٰی وَاَنَّہٗ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ۙ ٦

যা-লিকা বিআন্নাল্লা-হা হুওয়াল হাক্কু ওয়া আন্নাহূইউহয়িল মাওতা-ওয়া আন্নাহূ‘আলাকুল্লি শাইয়িন কাদীর।

এসব এজন্য যে, আল্লাহর অস্তিত্বই সত্য এবং তিনিই প্রাণহীনের ভেতর প্রাণ সঞ্চার করেন এবং তিনি সর্ববিষয়ে পরিপূর্ণ ক্ষমতাবান।

তাফসীরঃ

৫. অর্থাৎ, তোমাদের সৃজনকার্য হোক বা মৃত ভূমিতে উদ্ভিদ উৎপন্ন করার ব্যাপার হোক, সব কিছুরই মূল কারণ কেবল এই যে, আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বই সত্যিকারের অস্তিত্ব। তাঁর অস্তিত্ব অন্য কারও মুখাপেক্ষী নয়। অন্য সকলের অস্তিত্ব তাঁর কুদরত থেকেই প্রাপ্ত। তিনিই সকলকে নাস্তি থেকে অস্তিতে আনয়ন করেছেন। এই যে সর্বশক্তিমান সত্তা, তিনি মৃতদেরকে পুনরায় জীবিত করারও ক্ষমতা রাখেন।

وَّاَنَّ السَّاعَۃَ اٰتِیَۃٌ لَّا رَیۡبَ فِیۡہَا ۙ وَاَنَّ اللّٰہَ یَبۡعَثُ مَنۡ فِی الۡقُبُوۡرِ ٧

ওয়া আন্নাছছা-‘আতা আ-তিয়াতুল লা-রাইবা ফীহা- ওয়া আন্নাল্লা-হা ইয়াব‘আছুমান ফিল কুবূর।

এবং এজন্য যে, কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী। তাতে কোন সন্দেহ নেই এবং এজন্য যে, যারা কবরে আছে আল্লাহ তাদের সকলকে পুনরুজ্জীবিত করবেন।

তাফসীরঃ

৬. মানবসৃষ্টির যে প্রক্রিয়ার কথা উপরে বলা হল, একদিকে তো তা আল্লাহ তাআলার অসীম ক্ষমতার সাক্ষ্য বহন করে, যা দ্বারা প্রমাণ হয় আল্লাহ তাআলা মানুষকে মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করতে সক্ষম, অন্যদিকে এর দ্বারা পুনর্জীবনের প্রয়োজনীয়তাও প্রমাণিত হয়। অর্থাৎ দুনিয়ায় মানুষকে যে সৃষ্টি করা হয়েছে অতঃপর তার জীবন যাপনের যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তার ভেতরই এই দাবী নিহিত রয়েছে যে, তাকে যেন নতুন আরেক জীবন দান করা হয়। কেননা দুনিয়ায় মানুষ দুই ধারায় জীবন নির্বাহ করে। কেউ ভালো কাজ করে, কেউ করে মন্দ কাজ। কেউ হয় জালেম, কেউ মজলুম। এখন মৃত্যুর পর যদি আরেকটি জীবন না থাকে, তবে দুনিয়ায় যারা পুণ্যবান হিসেবে জীবন যাপন করেছে তারা ও পাপাচারীগণ এবং জালেম ও মজলুমগণ একই রকম হয়ে যায়। বলাবাহুল্য আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে মানুষকে এজন্য সৃষ্টি করেননি যে, এখানে অন্যায়-অবিচারের সয়লাব বয়ে যাবে, যার ইচ্ছা সে অন্যের উপর জুলুম করবে কিংবা পাপাচারের স্তুপে সারা দুনিয়া ভরে ফেলবে আর সেই দুর্বৃত্তপনার কারণে তার কোন শাস্তিও ভোগ করতে হবে না। আবার এমনিভাবে যে ব্যক্তি নির্মল জীবন যাপন করেছে, অন্যায়-অনাচারে লিপ্ত হয়নি, তাকেও কোন পুরস্কার দেওয়া হবে না। না, কোন যুক্তি-বুদ্ধি এটা গ্রাহ্য করে না। আর এর দ্বারা আপনা-আপনিই এই সিদ্ধান্ত বের হয়ে আসে যে, আল্লাহ তাআলা মানুষকে যখন একবার এ দুনিয়ায় সৃষ্টি করেছেন, তখন আখেরাতে তাদেরকে আরেকটি জীবন দিয়ে তাদের পুরস্কার ও শাস্তির ব্যবস্থাও অবশ্যই করবেন।

وَمِنَ النَّاسِ مَنۡ یُّجَادِلُ فِی اللّٰہِ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ وَّلَا ہُدًی وَّلَا کِتٰبٍ مُّنِیۡرٍ ۙ ٨

ওয়া মিনান্না-ছি মাইঁ ইউজা-দিলুফিল্লা-হি বিগাইরি ‘ইলমিওঁ ওয়ালা-হুদাওঁ ওয়ালা-কিতা-বিম মুনীর।

মানুষের মধ্যে কেউ আছে, যে আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক-বিতর্ক করে, অথচ তার না আছে জ্ঞান, না হিদায়াত, আর না আছে কোন দীপ্তিদায়ক কিতাব।

ثَانِیَ عِطۡفِہٖ لِیُضِلَّ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ؕ لَہٗ فِی الدُّنۡیَا خِزۡیٌ وَّنُذِیۡقُہٗ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ عَذَابَ الۡحَرِیۡقِ ٩

ছা-নিয়া-‘ইতফিহী লিইউদিল্লা ‘আন ছাবীলিল্লা-হি লাহূফিদ দুনইয়া-খিঝইয়ুওঁ ওয়া নুযীকুহূইয়াওমাল কিয়া-মাতি ‘আযা-বাল হারীক।

সে (অহংকারে) নিজ পার্শ্বদেশ বাঁকিয়ে রাখে, যাতে অন্যদেরকেও আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে। এরূপ ব্যক্তির জন্যই দুনিয়ায় রয়েছে লাঞ্ছনা এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে জ্বলন্ত আগুনের স্বাদ গ্রহণ করাব।
১০

ذٰلِکَ بِمَا قَدَّمَتۡ یَدٰکَ وَاَنَّ اللّٰہَ لَیۡسَ بِظَلَّامٍ لِّلۡعَبِیۡدِ ٪ ١۰

যা-লিকা বিমা-কাদ্দামাত ইয়াদা-কা ওয়া আন্নাল্লা-হা লাইছা বিজাল্লা-মিল লিল‘আবীদ।

(বলা হবে,) এটা তোমার সেই কৃতকর্মের ফল, যা তুমি নিজ হাতে সামনে পাঠিয়েছিলে। আর এটা স্থিরীকৃত বিষয় যে, আল্লাহ বান্দাদের প্রতি জুলুম করেন না।
১১

وَمِنَ النَّاسِ مَنۡ یَّعۡبُدُ اللّٰہَ عَلٰی حَرۡفٍ ۚ فَاِنۡ اَصَابَہٗ خَیۡرُۨ اطۡمَاَنَّ بِہٖ ۚ وَاِنۡ اَصَابَتۡہُ فِتۡنَۃُۨ انۡقَلَبَ عَلٰی وَجۡہِہٖ ۟ۚ خَسِرَ الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃَ ؕ ذٰلِکَ ہُوَ الۡخُسۡرَانُ الۡمُبِیۡنُ ١١

ওয়া মিনান্না-ছি মাইঁ ইয়া‘বুদুল্লা-হা ‘আলা-হারফিন ফাইন আসা-বাহূখাইরুনিতমাআন্না বিহী ওয়া ইন আসা-বাতহু ফিতনাতুনিনকালাবা ‘আলা-ওয়াজহিহী খাছিরাদ দুনইয়া-ওয়াল আ-খিরাতা যা-লিকা হুওয়াল খুছরা-নুল মুবীন।

মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এমনও আছে, যে আল্লাহর ইবাদত করে এক প্রান্তে থেকে। যদি (দুনিয়ায়) তার কোন কল্যাণ লাভ হয়, তবে তাতে সে আশ্বস্ত হয়ে যায় আর যদি সে কোন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়, তবে সে মুখ ফিরিয়ে (কুফুরের দিকে) চলে যায়। এরূপ ব্যক্তি দুনিয়াও হারায় এবং আখেরাতও। এটাই তো সুস্পষ্ট ক্ষতি।

তাফসীরঃ

৭. মদীনা মুনাওয়ারায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভাগমনের পর ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে একদল স্বার্থান্বেষী মহলকেও এগিয়ে আসতে দেখা যায়। তাদের ইসলাম গ্রহণ কোন সদুদ্দেশ্যে ছিল না; বরং আশা করেছিল ইসলাম গ্রহণ করলে পার্থিব অনেক সুযোগ-সুবিধা লাভ হবে। কিন্তু যখন তাদের সে আশা পূরণ হল না; বরং কোন পরীক্ষার সম্মুখীন হল, তখন পুনরায় কুফরের দিকে ফিরে গেল। এ আয়াতের ইশারা তাদেরই দিকে। বলা হচ্ছে, তারা সত্যকে সত্য বলে গ্রহণ করছে তা নয়; বরং তারা সত্য গ্রহণ করছে পার্থিব কোন স্বার্থে। তাদের দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির মত, যে কোন রণক্ষেত্রের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকে এবং লক্ষ্য করে কোন পক্ষের জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি। পূর্ব থেকে সে মনস্থির করতে পারে না কোন দলে থাকবে। বরং যখন কোনও এক দলের পাল্লা ভারী দেখে, তখন সেই দলে ভিড়ে যায় এবং আশা করে বিজয়ী দলের সুযোগ-সুবিধায় তারও একটা অংশ থাকবে। এ আয়াতে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, পার্থিব কোন স্বার্থ উদ্ধার হবে এই আশায় ইসলামের অনুসরণ করো না। বরং ইসলামের অনুসরণ করবে এ কারণে যে, ইসলাম সত্য দীন। এটাই আল্লাহ তাআলার দাসত্বের দাবী। পার্থিব সুযোগ-সুবিধার যে মামলা, সেটা মূলত আল্লাহ তাআলার এখতিয়ারাধীন। তিনি নিজ হিকমত অনুসারে যাকে চান তা দিয়ে থাকেন। এমনও হতে পারে যে, ইসলাম গ্রহণের পর পার্থিব কোনও লাভও হাসিল হয়ে যাবে, যদ্দরুণ আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করতে হবে। আবার কোন পরীক্ষাও এসে যেতে পারে, যখন সবর ও ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিতে হবে এবং আল্লাহ তাআলার কাছে দু‘আ করতে হবে, যেন তিনি সকল বিপদ দূর করে দেন ও পরীক্ষা থেকে মুক্তি দান করেন।
১২

یَدۡعُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَا لَا یَضُرُّہٗ وَمَا لَا یَنۡفَعُہٗ ؕ  ذٰلِکَ ہُوَ الضَّلٰلُ الۡبَعِیۡدُ ۚ ١٢

ইয়াদ‘ঊ মিন দূ নিল্লা-হি মা-লা-ইয়াদুররুহূওয়ামা- লা- ইয়ানফা‘উহূ যা-লিকা হুওয়াদ দালা-লুল বা‘ঈদ।

সে আল্লাহকে ছেড়ে এমন কিছুকে ডাকে, যা তার কোন ক্ষতি করতে পারে না এবং তার কোন উপকারও করতে পারে না। এটাই তো চরম পথভ্রষ্টতা।
১৩

یَدۡعُوۡا لَمَنۡ ضَرُّہٗۤ اَقۡرَبُ مِنۡ نَّفۡعِہٖ ؕ لَبِئۡسَ الۡمَوۡلٰی وَلَبِئۡسَ الۡعَشِیۡرُ ١٣

ইয়াদ‘ঊ লামান দাররুহূআকরাবুমিন নাফ‘ইহী লাবি’ছাল মাওলা-ওয়ালা-বি’ছাল ‘আশীর।

সে ডাকে এমন কাউকে (অলীক প্রভুকে) যার ক্ষতি তার উপকার অপেক্ষা বেশি নিকটবর্তী। কত মন্দ এই অভিভাবক এবং কত মন্দ এ সহচর!

তাফসীরঃ

৮. বস্তুত তাদের অলীক উপাস্যদের না কোন উপকার করার শক্তি আছে, না কোন অপকার করার। অবশ্য তারা অপকারের কারণ বনতে পারে। আর তা এভাবে যে, কোন ব্যক্তি তাদেরকে আল্লাহ তাআলার প্রভুত্বে অংশীদার সাব্যস্ত করলে সে আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে শাস্তির উপযুক্ত হবে।
১৪

اِنَّ اللّٰہَ یُدۡخِلُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَفۡعَلُ مَا یُرِیۡدُ ١٤

ইন্নাল্লা-হা ইউদখিলুল্লাযীনা আ-মানূওয়া আমিলুসসা-লিহা-তি জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আহা-রু ইন্নাল্লা-হা ইয়াফ‘আলুমা-ইউরীদ।

যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে দাখিল করবেন এমন উদ্যানরাজিতে, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত থাকবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ করেন যা চান।
১৫

مَنۡ کَانَ یَظُنُّ اَنۡ لَّنۡ یَّنۡصُرَہُ اللّٰہُ فِی الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃِ فَلۡیَمۡدُدۡ بِسَبَبٍ اِلَی السَّمَآءِ ثُمَّ لۡیَقۡطَعۡ فَلۡیَنۡظُرۡ ہَلۡ یُذۡہِبَنَّ کَیۡدُہٗ مَا یَغِیۡظُ ١٥

মান কা-না ইয়াজু ন্নুআল্লাইঁ ইয়ানসুরাহুল্লা-হুফিদদুনইয়া-ওয়াল আ-খিরাতি ফালইয়ামদুদ বিছাবাবিন ইলাছ ছামাইছু ম্মাল ইয়াকতা‘ ফালইয়ানজু র হাল ইউযহিবান্না কাইদুহূমাইয়াগীজ।

যে ব্যক্তি মনে করত আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তাকে (অর্থাৎ নবীকে) সাহায্য করবেন না, সে আকাশ পর্যন্ত একটি রশি টানিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করুক তারপর দেখুক তার প্রচেষ্টা তার আক্রোশ দূর করে কি না! ১০

তাফসীরঃ

১০. ‘রশি টানিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করা’ এর দু’ রকম ব্যাখ্যা হতে পারে। (এক) আরবী বাগ্ধারা অনুযায়ী এর অর্থ গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করা। এ স্থলে যদি এ অর্থ গ্রহণ করা হয়, যেমন হযরত ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত আছে, তবে আয়াতের ব্যাখ্যা হবে, যার ধারণা ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাহ কোন সফলতা অর্জন করতে পারবেন না, তার সে ধারণা তো সম্পূর্ণই ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে, ভবিষ্যতেও তা সত্য হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। এখন সেই গ্লানিতে যদি তার মনে আক্রোশ দেখা দেয়, তবে তা প্রশমিত করার জন্য সে আকাশের দিকে অর্থাৎ, উপর দিকে ছাদ বা অন্য কিছুর সাথে একটা রশি টানিয়ে নিজের গলায় নিজে ফাঁসি দিক আর এভাবে আত্মহত্যা করে ঝাল মেটাক। (দুই) ‘আকাশে রশি টানিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করা’-এর দ্বিতীয় ব্যাখ্যা বর্ণিত হয়েছে হযরত জাবের ইবনে যায়েদ রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যত সাফল্য ও কৃতকার্যতা লাভ করছেন তার উৎস হল ওহী, যা আসমান থেকে তার প্রতি নাযিল হয়। অতএব তাঁর সাফল্য দেখে যদি কারও গাত্রদাহ হয় এবং তাঁর সে সাফল্যের অগ্রযাত্রা প্রতিহত করতে চায়, তবে তার একটাই উপায় হতে পারে। সে একটা রশি টানিয়ে কোনও মতে আকাশে উঠে যাক এবং সেই যোগসূত্র ছিন্ন করে দিক, যার মাধ্যমে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ওহী আসছে আর একের পর এক সফলতা অর্জিত হচ্ছে। কিন্তু পারবে কি সে এ কাজ করতে? কখনও নয়। কারও পক্ষেই এটা কখনও সম্ভব নয়। অতএব, আয়াতের সারাৎসার হল, এরূপ বিদ্বেষপ্রবণ লোকের অর্জন হতাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। (রূহুল মাআনী)
১৬

وَکَذٰلِکَ اَنۡزَلۡنٰہُ اٰیٰتٍۭ بَیِّنٰتٍ ۙ وَّاَنَّ اللّٰہَ یَہۡدِیۡ مَنۡ یُّرِیۡدُ ١٦

ওয়া কাযা-লিকা আনঝালনা-হু আ-য়া-তিম বাইয়িনা-তিওঁ ওয়া আন্নাল্লা-হা ইয়াহদী মাইঁ ইউরীদ।

আমি এভাবেই একে (অর্থাৎ কুরআনকে) সুস্পষ্ট নিদর্শনরূপে অবতীর্ণ করেছি। আর আল্লাহ যাকে চান হিদায়াত দান করেন।
১৭

اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَالَّذِیۡنَ ہَادُوۡا وَالصّٰبِئِیۡنَ وَالنَّصٰرٰی وَالۡمَجُوۡسَ وَالَّذِیۡنَ اَشۡرَکُوۡۤا ٭ۖ اِنَّ اللّٰہَ یَفۡصِلُ بَیۡنَہُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ شَہِیۡدٌ ١٧

ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূওয়াল্লাযীনা হা-দূওয়াসসা-বিঈনা ওয়ান্নাসা-রা-ওয়াল মাজুছা ওয়াল্লাযীনা আশরাকূ ইন্নাল্লা-হা ইয়াফসিলুবাইনাহুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ইন্নাল্লা-হা ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন শাহীদ।

নিশ্চয়ই যারা মুমিন, যারা ইয়াহুদী, সাবী, খ্রিস্টান ও মাজুসী এবং যারা শিরক অবলম্বন করেছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সকলের মধ্যে ফায়সালা করে দিবেন। ১১ নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ের সাক্ষী।

তাফসীরঃ

১১. অর্থাৎ প্রত্যেকেই তো নিজেকে হকপন্থী ও অন্যদেরকে বাতিলপন্থী বলে দাবি করে এবং সে হিসেবে নিজেদেরকে জান্নাতবাসী ও অন্যদেরকে জাহান্নামী মনে করে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কে হকপন্থী ও সে হিসেবে জান্নাতের অধিকারী তা আল্লাহ তাআলাই জানেন আর তার মাপকাঠি হিসেবে আসমানী কিতাব নাযিল করেন। প্রত্যেক যুগে যারা সমকালীন কিতাবের অনুসরণ করে তারাই হকপন্থী আর যারা তা অস্বীকার করে তারা বাতিলপন্থী। আখেরী যমানার সে মানদণ্ড হল কুরআন মাজীদ। যারা এর অনুসরণ করে তারাই অর্থাৎ মুমিন ও মুসলিমগণই এ যমানার হকপন্থী আর যারা কুরআন মানে না তারা বাতিলপন্থী। এতদসত্ত্বেও যারা হঠকারিতা করে তাদের জন্য চূড়ান্ত ও প্রত্যক্ষ মীমাংসা হবে কিয়ামতের দিন। সেদিন আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে জান্নাতে ও অন্যদেরকে জাহান্নামে দাখিল করে দেখিয়ে দেবেন দুনিয়ায় প্রকৃত হকপন্থী কারা ছিল। -অনুবাদক
১৮

اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ یَسۡجُدُ لَہٗ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَمَنۡ فِی الۡاَرۡضِ وَالشَّمۡسُ وَالۡقَمَرُ وَالنُّجُوۡمُ وَالۡجِبَالُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَآبُّ وَکَثِیۡرٌ مِّنَ النَّاسِ ؕ  وَکَثِیۡرٌ حَقَّ عَلَیۡہِ الۡعَذَابُ ؕ  وَمَنۡ یُّہِنِ اللّٰہُ فَمَا لَہٗ مِنۡ مُّکۡرِمٍ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ یَفۡعَلُ مَا یَشَآءُ ؕٛ ١٨

আলাম তারা আন্নাল্লা-হা ইয়াছজুদুলাহূ মান ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়া মান ফিল আরদি ওয়াশশামছুওয়ালকামারু ওয়ান নুজূমুওয়াল জিবা-লুওয়াশশাজারু ওয়াদ্দাওয়া ব্বুওয়া কাছীরুম মিনান্না-ছি ওয়া কাছীরুন হাক্কা ‘আলাইহিল ‘আযা-বু ওয়া মাইঁ ইউহিনিল্লা-হু ফামা-লাহূ মিম মুকরিমিন ইন্নাল্লা-হা ইয়াফ‘আলুমা-ইয়াশাউ(ছিজদাহ-৬)।

তুমি কি দেখনি আল্লাহর সম্মুখে সিজদা করে যা-কিছু আছে আকাশমণ্ডলীতে, যা-কিছু আছে পৃথিবীতে ১২ এবং সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্ররাজি, পাহাড়, বৃক্ষ, জীবজন্তু ও বহু মানুষ? আবার এমনও অনেক আছে, যাদের প্রতি শাস্তি অবধারিত হয়ে আছে। আল্লাহ যাকে লাঞ্ছিত করেন তার কোন সম্মানদাতা নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ করেন যা তিনি চান।

তাফসীরঃ

১২. এসব বস্তুর সিজদা করার অর্থ এরা আল্লাহ তাআলার আজ্ঞাধীন। সব কিছুই তাঁর হুকুম শিরোধার্য করে আছে, সকলেই তাঁর আদেশের সামনে নতশির। তবে এর দ্বারা ইবাদতের সিজদাও বোঝানো হতে পারে। কেননা বিশ্ব জগতের প্রতিটি বস্তুর এতটুকু উপলব্ধি আছে যে, তাকে আল্লাহ তাআলাই সৃষ্টি করেছেন এবং তার কর্তব্য তাঁরই ইবাদত করা। অবশ্য সকল বস্তুর সিজদা একই রকম নয়। প্রত্যেকে সিজদা করে তার নিজের অবস্থা অনুযায়ী। সমগ্র সৃষ্টি জগতে একমাত্র মানুষই এমন মাখলুক, যার সদস্যবর্গের সকলে ইবাদতের এ সিজদা করে না। তাদের মধ্যে অনেকে এ সিজদা করে এবং অনেকে করে না। এ কারণেই মানুষের কথা বলতে গিয়ে বলা হয়েছে, ‘বহু মানুষও’। অর্থাৎ সকলেই নয়। প্রকাশ থাকে যে, এটি সিজদার আয়াত। যে ব্যক্তি মূল আরবীতে এ আয়াত পড়বে বা শুনবে তার উপর সিজদা করা ওয়াজিব হয়ে যাবে।
১৯

ہٰذٰنِ خَصۡمٰنِ اخۡتَصَمُوۡا فِیۡ رَبِّہِمۡ ۫  فَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا قُطِّعَتۡ لَہُمۡ ثِیَابٌ مِّنۡ نَّارٍ ؕ  یُصَبُّ مِنۡ فَوۡقِ رُءُوۡسِہِمُ الۡحَمِیۡمُ ۚ ١٩

হা-যা-নি খাছমা-নিখ তাছামূফী রাব্বিহিম ফাল্লাযীনা কাফারূকুত্তি‘আত লাহুম ছিয়া-বুম মিন্না-রিইঁ ইউসাব্বুমিন ফাওকিরুঊছিহিমুল হামীম।

এরা (মুমিন ও কাফের) দু’টি পক্ষ, যারা নিজ প্রতিপালক সম্পর্কে বিবাদ করছে। সুতরাং (এর মীমাংসা হবে এভাবে যে,) যারা কুফর অবলম্বন করেছে তাদের জন্য তৈরি করা হবে আগুনের পোশাক। তাদের মাথার উপর ঢেলে দেওয়া হবে ফুটন্ত পানি।
২০

یُصۡہَرُ بِہٖ مَا فِیۡ بُطُوۡنِہِمۡ وَالۡجُلُوۡدُ ؕ ٢۰

ইউসহারু বিহী মা-ফী বুতূনিহিম ওয়াল জুলূদ।

যা দ্বারা তাদের উদরস্থ সবকিছু এবং চামড়া গলিয়ে দেওয়া হবে।
২১

وَلَہُمۡ مَّقَامِعُ مِنۡ حَدِیۡدٍ ٢١

ওয়া লাহুম মাকা-মি‘উ মিন হাদীদ।

আর তাদের জন্য থাকবে লোহার হাতুড়ি।
২২

کُلَّمَاۤ اَرَادُوۡۤا اَنۡ یَّخۡرُجُوۡا مِنۡہَا مِنۡ غَمٍّ اُعِیۡدُوۡا فِیۡہَا ٭  وَذُوۡقُوۡا عَذَابَ الۡحَرِیۡقِ ٪ ٢٢

কুল্লামাআরা-দূ আইঁ ইয়াখরুজুমিনহা-মিন গাম্বিন উ‘ঈদূফীহা- ওয়া যূকূ‘আযাবাল হারীক।

যখনই তারা যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে তা থেকে বের হতে চাবে, তখনই তাদেরকে তার ভেতর ফিরিয়ে দেওয়া হবে। (বলা হবে), জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি আস্বাদন কর।
২৩

اِنَّ اللّٰہَ یُدۡخِلُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ یُحَلَّوۡنَ فِیۡہَا مِنۡ اَسَاوِرَ مِنۡ ذَہَبٍ وَّلُؤۡلُؤًا ؕ وَلِبَاسُہُمۡ فِیۡہَا حَرِیۡرٌ ٢٣

ইন্নাল্লা-হা ইউদখিলুল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু ইউহাল্লাওনা ফীহা-মিন আছা-বিরা মিন যাহাবিওঁ ওয়া লু’লুওআওঁ ওয়া লিবা-ছুহুম ফীহা-হারীর।

(অপর দিকে) যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে আল্লাহ তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত থাকবে। সেখানে তাদেরকে সজ্জিত করা হবে সোনার কাঁকন ও মণি-মুক্তা দ্বারা। আর সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের।
২৪

وَہُدُوۡۤا اِلٰی الطَّیِّبِ مِنَ الۡقَوۡلِ ۚۖ وَہُدُوۡۤا اِلَی صِرَاطِ الۡحَمِیۡدِ ٢٤

ওয়া হুদূ ইলাততাইয়িবি মিনাল কাওলি ওয়া হুদূ ইলা-সিরা-তিল হামীদ।

এবং (তার কারণ এই যে,) তাদেরকে পবিত্র কালিমায় (অর্থাৎ কালিমায়ে তাওহীদে) উপনীত করা হয়েছিল এবং তাদেরকে পৌঁছানো হয়েছিল আল্লাহর পথে, যিনি সমস্ত প্রশংসার উপযুক্ত। ১৩

তাফসীরঃ

১৩. অথবা এর দ্বারা জান্নাতেরই বৈশিষ্ট্য বোঝানো হয়েছে যে, তাদেরকে এমন স্থানে পৌঁছানো হবে, যেখানে কোন অসার-অহেতুক কথাবার্তা হবে না, প্রত্যেকেই ভালো ও পবিত্র কথা বলবে এবং তাদেরকে পৌঁছানো হবে প্রশংসার্হ আল্লাহর পথ তথা মুত্তাকীদের নিবাস জান্নাতে। -অনুবাদক
২৫

اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَیَصُدُّوۡنَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ وَالۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ الَّذِیۡ جَعَلۡنٰہُ لِلنَّاسِ سَوَآءَۨ الۡعَاکِفُ فِیۡہِ وَالۡبَادِ ؕ  وَمَنۡ یُّرِدۡ فِیۡہِ بِاِلۡحَادٍۭ بِظُلۡمٍ نُّذِقۡہُ مِنۡ عَذَابٍ اَلِیۡمٍ ٪ ٢٥

ইন্নাল্লাযীনা কাফারূওয়া ইয়াসুদ্দূনা ‘আন ছাবীলিল্লা-হি ওয়াল মাছজিদিল হারা-মিল্লাযী জা‘আলনা-হু লিন্না-ছি ছাওয়া-আনিল ‘আ-কিফুফীহি ওয়াল বা-দি ওয়া মাইঁ ইউরিদ ফীহি বিইলহা-দিম বিজু লমিন নুযিকহু মিন ‘আযা-বিন আলীম।

নিশ্চয়ই (সেই সব লোক শাস্তির উপযুক্ত) যারা কুফর অবলম্বন করেছে এবং অন্যদেরকে বাধা দিচ্ছে আল্লাহর পথ ও মসজিদুল হারাম থেকে, যাকে আমি সমস্ত মানুষের জন্য সমান করেছি তার স্থানীয় বাসিন্দা হোক বা বহিরাগত। ১৪ আর যে-কেউ এখানে জুলুমে রত হয়ে বাঁকা পথের ইচ্ছা করবে ১৫ আমি তাকে মর্মন্তুদ শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাব।

তাফসীরঃ

১৪. মসজিদুল হারাম ও তার আশপাশের স্থানসমূহ, যাতে হজ্জের কার্যাবলী অনুষ্ঠিত হয়, যেমন সাফা ও মারওয়ার মাঝখানে সায়ী করার স্থান, মিনা, আরাফা ও মুযদালিফা কারও ব্যক্তিগত মালিকানাধীন নয়। বরং এসব স্থান বিশ্বের সমস্ত মানুষের জন্য সাধারণভাবে ওয়াকফ। যে-কেউ এখানে অবাধে ইবাদত-বন্দেগী করতে পারে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ও বহিরাগতের কোন প্রভেদ নেই।
২৬

وَاِذۡ بَوَّاۡنَا لِاِبۡرٰہِیۡمَ مَکَانَ الۡبَیۡتِ اَنۡ لَّا تُشۡرِکۡ بِیۡ شَیۡئًا وَّطَہِّرۡ بَیۡتِیَ لِلطَّآئِفِیۡنَ وَالۡقَآئِمِیۡنَ وَالرُّکَّعِ السُّجُوۡدِ ٢٦

ওয়া ইয বাওওয়া’না- লিইবরা-হীমা মাকা-নাল বাইতি আল্লা-তুশরিক বী শাইআও ওয়াতাহহির বাইতিয়া লিততাইফীনা ওয়াল কাইমীনা ওয়াররুক্কা‘ইছছুজুদ ।

এবং সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন আমি ইবরাহীমকে সেই ঘর (অর্থাৎ কাবাগৃহ)-এর স্থান জানিয়ে দিয়েছিলাম। ১৬ (এবং তাকে হুকুম দিয়েছিলাম) আমার সাথে কাউকে শরীক করো না এবং আমার ঘরকে সেই সকল লোকের জন্য পবিত্র রেখ, যারা (এখানে) তাওয়াফ করে, ইবাদতের জন্য দাঁড়ায় এবং রুকূ-সিজদা আদায় করে।

তাফসীরঃ

১৬. পূর্বে সূরা বাকারায় (২ : ১২৭) গত হয়েছে যে, বাইতুল্লাহ শরীফ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের আগেই নির্মিত হয়েছিল এবং কালক্রমে বিধ্বস্ত ও নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহ তাআলার পুনঃর্নিমাণের জন্য তাঁকে তার স্থান জানিয়ে দেন।
২৭

وَاَذِّنۡ فِی النَّاسِ بِالۡحَجِّ یَاۡتُوۡکَ رِجَالًا وَّعَلٰی کُلِّ ضَامِرٍ یَّاۡتِیۡنَ مِنۡ کُلِّ فَجٍّ عَمِیۡقٍ ۙ ٢٧

ওয়া আযযিনফিন্না-ছি বিলহাজ্জি ইয়া’তূকা রিজা-লাওঁ ওয়া ‘আলা-কুল্লি দামিরিইঁ ইয়া’তীনা মিন কুল্লি ফাজজিন ‘আমীক।

এবং মানুষের মধ্যে হজ্জের ঘোষণা দাও। তারা তোমার কাছে আসবে পদযোগে এবং দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রমকারী উটের পিঠে সওয়ার হয়ে যেগুলো (দীর্ঘ সফরের কারণে) রোগা হয়ে গেছে।
২৮

لِّیَشۡہَدُوۡا مَنَافِعَ لَہُمۡ وَیَذۡکُرُوا اسۡمَ اللّٰہِ فِیۡۤ اَیَّامٍ مَّعۡلُوۡمٰتٍ عَلٰی مَا رَزَقَہُمۡ مِّنۡۢ بَہِیۡمَۃِ الۡاَنۡعَامِ ۚ  فَکُلُوۡا مِنۡہَا وَاَطۡعِمُوا الۡبَآئِسَ الۡفَقِیۡرَ ۫ ٢٨

লিইয়াশহাদূমানা-ফি‘আ লাহুম ওয়া ইয়াযকুরুছমাল্লা-হি ফীআইইয়া-মিম মা‘লূমা-তিন ‘আলা-মা-রাঝাকাহুম মিম বাহীমাতিল আন‘আ-মি ফাকুলূমিনহা-ওয়াআত‘ইমুল বাইছাল ফাকীর।

যাতে তারা তাদের জন্য স্থাপিত কল্যাণসমূহ প্রত্যক্ষ করে এবং নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে সেই সকল পশুতে যা তিনি তাদেরকে দিয়েছেন। ১৭ সুতরাং (হে মুসলিমগণ!) সেই পশুগুলি থেকে তোমরা নিজেরাও খাও এবং দুঃস্থ, অভাবগ্রস্তকেও খাওয়াও।

তাফসীরঃ

১৭. হজ্জের অনুষ্ঠানাদির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ পশু কুরবানী করা অর্থাৎ, হারাম শরীফের এলাকায় আল্লাহ তাআলার নামে পশু যবাহ করা। এ আয়াতে সে দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
২৯

ثُمَّ لۡیَقۡضُوۡا تَفَثَہُمۡ وَلۡیُوۡفُوۡا نُذُوۡرَہُمۡ وَلۡیَطَّوَّفُوۡا بِالۡبَیۡتِ الۡعَتِیۡقِ ٢٩

ছু ম্মাল ইয়াকদূ তাফাছাহুম ওয়ালইউফূনুযূরাহুম ওয়াল ইয়াততাওওয়াফূবিলবাইতিল ‘আতীক।

অতঃপর (যারা হজ্জ করে) তারা যেন তাদের মলিনতা দূর করে ও নিজেদের মানত পূরণ করে এবং আতীক গৃহের তাওয়াফ করে। ১৮

তাফসীরঃ

১৮. হজ্জের সময় হাজীগণ ইহরাম অবস্থায় থাকে। তখন তার জন্য চুল ও নখ কাটা জায়েয নয়। হজ্জের কুরবানী না করা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকে। কুরবানী করার পর এসব বৈধ হয়ে যায়। এ আয়াতে যে মলিনতা দূর করতে বলা হয়েছে, তার অর্থ কুরবানী করার পর হাজীগণ তাদের নখণ্ডচুল কাটতে পারবে। মানত পূরণের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার অর্থ বহু লোক ওয়াজিব কুরবানী ছাড়া এ রকম মানতও করে থাকে যে, হজ্জের সময় নিজের পক্ষ থেকে আল্লাহর নামে কুরবানী করব। তাদের জন্য সে মানত পূরণ করা অবশ্যকর্তব্য। কুরবানী করার পর বাইতুল্লাহ শরীফের যে তাওয়াফ করার কথা বলা হয়েছে, এর দ্বারা ‘তাওয়াফে যিয়ারত’ বুঝানো হয়েছে। সাধারণত এ তাওয়াফ করা হয় কুরবানী ও মাথা মুণ্ডন করার পর। এটা হজ্জের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রোকন। এস্থলে বাইতুল্লাহ শরীফকে ‘আল-বাইতুল আতীক’ বলা হয়েছে। ‘আতীক’-এর এক অর্থ প্রাচীন। বাইতুল্লাহ শরীফ এ হিসেবে সর্বপ্রাচীন গৃহ যে, আল্লাহ তাআলার ইবাদতের জন্য সর্বপ্রথম নির্মিত ঘর এটিই। ‘আতীক’-এর আরেক অর্থ মুক্ত। বাইতুল্লাহ শরীফকে আতীক বা ‘মুক্ত গৃহ’ বলার কারণ এক হাদীসে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আল্লাহ তাআলা এ গৃহকে জালেম ও আগ্রাসীদের আগ্রাসন থেকে মুক্ত রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা কিয়ামত পর্যন্ত এর মর্যাদা সমুন্নত রাখুন।
৩০

ذٰلِکَ ٭  وَمَنۡ یُّعَظِّمۡ حُرُمٰتِ اللّٰہِ فَہُوَ خَیۡرٌ لَّہٗ عِنۡدَ رَبِّہٖ ؕ  وَاُحِلَّتۡ لَکُمُ الۡاَنۡعَامُ اِلَّا مَا یُتۡلٰی عَلَیۡکُمۡ فَاجۡتَنِبُوا الرِّجۡسَ مِنَ الۡاَوۡثَانِ وَاجۡتَنِبُوۡا قَوۡلَ الزُّوۡرِ ۙ ٣۰

যা-লিকা ওয়া মাইঁ ইউ‘আজজিম হুরুমা-তিল্লা-হি ফাহুওয়া খাইরুল্লাহূ‘ইনদা রাব্বিহী ওয়া-উহিল্লাত লাকুমুল আন‘আ-মুইল্লা-মা-ইউতলা-‘আলাইকুম ফাজতানিবুর রিজছা মিনাল আওছা-নি ওয়াজতানিবূকাওলাঝঝূর।

এসব কথা স্মরণ রেখ। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ যেসব জিনিসকে মর্যাদা দিয়েছেন তার মর্যাদা রক্ষা করবে, তার পক্ষে তার প্রতিপালকের কাছে এ কাজ অতি উত্তম। সব চতুষ্পদ জন্তু তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে, সেই পশুগুলো ছাড়া যা বিস্তারিতভাবে তোমাদের পড়ে শোনানো হয়েছে। ১৯ সুতরাং তোমরা প্রতিমাদের কলুষ পরিহার কর এবং মিথ্যা কথা থেকে বেঁচে থাক,

তাফসীরঃ

১৯. পশু কুরবানীর আলোচনা প্রসঙ্গে আরব মুশরিকদের সেই অজ্ঞতাপ্রসূত রসমকেও রদ করা হয়েছে, যার ভিত্তিতে তারা প্রতিমাদের নামে বহু পশু হারাম সাব্যস্ত করেছিল (বিস্তারিত দেখুন সূরা আনআম ৬ : ১৩৭-১৪৪)। বলা হয়েছে, এসব পশু তোমাদের পক্ষে হালাল। ব্যতিক্রম কেবল সেগুলো যেগুলোকে কুরআন মাজীদে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে (দেখুন সূরা মায়েদা ৫ : ৩)। মুশরিকরা প্রতিমাদেরকে আল্লাহ তাআলার শরীক বলে বিশ্বাস করত এবং তাদের নামে জীবজন্তু ছেড়ে দিত। এই শিরকী কার্যক্রমের ভিত্তিতেই তারা সেসব পশুকে হারাম সাব্যস্ত করত। এ আয়াতে তাদের সেই হারামকরণের ভিত্তিকেই উৎপাটন করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তোমরা প্রতিমাদের কলুষ ও অলীক-অবাস্তব কথা থেকে বেঁচে থাক।
৩১

حُنَفَآءَ لِلّٰہِ غَیۡرَ مُشۡرِکِیۡنَ بِہٖ ؕ وَمَنۡ یُّشۡرِکۡ بِاللّٰہِ فَکَاَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَآءِ فَتَخۡطَفُہُ الطَّیۡرُ اَوۡ تَہۡوِیۡ بِہِ الرِّیۡحُ فِیۡ مَکَانٍ سَحِیۡقٍ ٣١

হুনাফাআ লিল্লা-হি গাইরা মুশরিকীনা বিহী ওয়া মাইঁ ইউশরিক বিল্লা-হি ফাকাআন্নামাখাররা মিনাছছামাই ফাতাখতাফুহুততাইরু আও তাহওয়ী বিহির রীহুফী মাকা-নিন ছাহীক।

একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর অভিমুখী হয়ে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করে। যে-কেউ আল্লাহ সাথে কাউকে শরীক করে, সে যেন আকাশ থেকে পতিত হল, তারপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবা বাতাস তাকে দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করল। ২০

তাফসীরঃ

২০. এ উপমার ব্যাখ্যা এই যে, ঈমান আকাশতুল্য। যে ব্যক্তি শিরকে লিপ্ত হয়, সে এই আকাশ তথা ঈমানের সমুচ্চ স্থান থেকে নিচে পড়ে যায়। তারপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে যায়, অর্থাৎ, তার কুপ্রবৃত্তি ও খেয়াল-খুশী তাকে সরল পথ থেকে বিচ্যুত করে এদিক-সেদিক নিয়ে যায়। তারপর বাতাস তাকে দূর-দূরান্তে নিয়ে ছুঁড়ে মারে, অর্থাৎ শয়তান তাকে আরও বেশি গোমরাহীতে লিপ্ত করে এবং সে বিপথগামিতায় বহু দূরে নিক্ষিপ্ত হয়। মোদ্দাকথা এরূপ ব্যক্তি ঈমানের উচ্চতর স্থান থেকে অধঃপতিত হয়ে কুপ্রবৃত্তি ও শয়তানের দাস হয়ে যায় ও তারা তাকে প্ররোচনা দিয়ে গোমরাহীর চরম সীমায় পৌঁছিয়ে দেয়।
৩২

ذٰلِکَ ٭ وَمَنۡ یُّعَظِّمۡ شَعَآئِرَ اللّٰہِ فَاِنَّہَا مِنۡ تَقۡوَی الۡقُلُوۡبِ ٣٢

যা-লিকা ওয়া মাইঁ ইউ‘আজজিম শা‘আইরাল্লা-হি ফাইন্নাহা-মিন তাকওয়াল কুলূব।

এসব বিষয় স্মরণ রেখ। আর কেউ আল্লাহর ‘শাআইর’-কে সম্মান করলে এটা তো অন্তরস্থ তাকওয়া থেকেই অর্জিত হয়। ২১

তাফসীরঃ

২১. ‘শাআইর’-এর অর্থ এমন সব আলামত ও নিদর্শন, যা দেখলে অন্য কোন জিনিস স্মরণ হয়। আল্লাহ তাআলা যেসব ইবাদত ফরয করেছেন, বিশেষত যে সকল স্থান ও বস্তুর সাথে হজ্জের কার্যাবলী সম্পৃক্ত, যেমন বায়তুল্লাহ, হরম, কুরবানীর পশু ইত্যাদি সবই আল্লাহ তাআলার শাআইর। কেননা তা দ্বারা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর ইবাদতের কথা স্মরণ হয়। এসবকে সম্মান করা ঈমান ও তাকওয়ার দাবী।
৩৩

لَکُمۡ فِیۡہَا مَنَافِعُ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ثُمَّ مَحِلُّہَاۤ اِلَی الۡبَیۡتِ الۡعَتِیۡقِ ٪ ٣٣

লাকুম ফীহা-মানা-ফি‘উ ইলাআজালিম মুছাম্মান ছুম্মা মাহিল্লুহাইলাল বাইতিল ‘আতীক।

এতে রয়েছে এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তোমাদের নানারকম উপকার। ২২ অতঃপর তাদের হালাল হওয়ার স্থান সেই প্রাচীন গৃহ (কাবা গৃহ)-এর আশেপাশে।

তাফসীরঃ

২২. অর্থাৎ, তোমরা কোন পশুকে যতক্ষণ পর্যন্ত হজ্জের কুরবানী হিসেবে নির্দিষ্ট না কর ততক্ষণ সে পশুকে যে-কোন কাজে ব্যবহার করতে পার। তাতে সওয়ার হওয়া, তার দুধ পান করা, তার দেহ থেকে পশম সংগ্রহ করা সবই জায়েয। কিন্তু তাকে যখন হজ্জের কুরবানী হিসেবে নির্দিষ্ট করে ফেলা হবে, তখন সে পশুকে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। তখন এ সবের কোনওটিই করা জায়েয হয় না। বরং হজ্জের জন্য নির্দিষ্ট করে নেওয়ার পর তাকে বাইতুল্লাহ শরীফের আশেপাশে অর্থাৎ, হারাম শরীফের সীমানার মধ্যে যবাহ করে হালাল করা ওয়াজিব হয়ে যায়। হজ্জের জন্য নির্দিষ্ট করার বিভিন্ন আলামত আছে, যা ফিকহী গ্রন্থাবলীতে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।
৩৪

وَلِکُلِّ اُمَّۃٍ جَعَلۡنَا مَنۡسَکًا لِّیَذۡکُرُوا اسۡمَ اللّٰہِ عَلٰی مَا رَزَقَہُمۡ مِّنۡۢ بَہِیۡمَۃِ الۡاَنۡعَامِ ؕ  فَاِلٰـہُکُمۡ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ فَلَہٗۤ اَسۡلِمُوۡا ؕ  وَبَشِّرِ الۡمُخۡبِتِیۡنَ ۙ ٣٤

ওয়া লিকুল্লি উম্মাতিন জা‘আলনা-মানছাকাল লিইয়াযকুরুছমাল্লা-হি ‘আলা-মা-রাঝাকাহুম মিম বাহীমাতিল আন‘আ-ম ফাইলা-হুকুম ইলা-হুওঁ ওয়া-হিদুন ফালাহূআছলিমূ ওয়া বাশশিরিল মুখবিতীন।

আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কুরবানীর নিয়ম করে দিয়েছি যাতে আল্লাহ তাদেরকে যে চতুষ্পদ জন্তুসমূহ দিয়েছেন তাতে তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। তোমাদের মাবুদ একই মাবুদ। সুতরাং তোমরা তাঁরই আনুগত্য করবে। আর সুসংবাদ দাও বিনীতদেরকে।
৩৫

الَّذِیۡنَ اِذَا ذُکِرَ اللّٰہُ وَجِلَتۡ قُلُوۡبُہُمۡ وَالصّٰبِرِیۡنَ عَلٰی مَاۤ اَصَابَہُمۡ وَالۡمُقِیۡمِی الصَّلٰوۃِ ۙ وَمِمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ یُنۡفِقُوۡنَ ٣٥

আল্লাযীনা ইযা-যুকিরাল্লা-হু ওয়াজিলাত কুলূবুহুম ওয়াসসাবিরীনা ‘আলা-মাআসাবাহুম ওয়াল মুকীমিসসালা-তি ওয়া মিম্মা-রাঝাকনা-হুম ইউনফিকূন।

যাদের সামনে আল্লাহকে স্মরণ করা হলে তাদের অন্তর ভীত-কম্পিত হয়, যে-কোন বিপদ-আপদে আক্রান্ত হলে ধৈর্যশীল থাকে এবং যারা সালাত কায়েম করে ও আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে।
৩৬

وَالۡبُدۡنَ جَعَلۡنٰہَا لَکُمۡ مِّنۡ شَعَآئِرِ اللّٰہِ لَکُمۡ فِیۡہَا خَیۡرٌ ٭ۖ فَاذۡکُرُوا اسۡمَ اللّٰہِ عَلَیۡہَا صَوَآفَّ ۚ فَاِذَا وَجَبَتۡ جُنُوۡبُہَا فَکُلُوۡا مِنۡہَا وَاَطۡعِمُوا الۡقَانِعَ وَالۡمُعۡتَرَّ ؕ کَذٰلِکَ سَخَّرۡنٰہَا لَکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ ٣٦

ওয়ালবুদনা জা‘আলনা-হা-লাকুম মিন শা‘আইরিল্লা-হি লাকুম ফীহা-খাইরুন ফাযকরুছ মাল্লা-হি ‘আলাইহা-সাওয়াফফা ফাইযা-ওয়াজাবাত জুনূবুহা-ফাকুলূ মিনহা-ওয়া আত‘ইমুল কা-নি‘আ ওয়াল মু‘তাররা কাযা-লিকা ছাখখারনা-হা-লাকুম লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন।

কুরবানীর উট (ও গরু)কে তোমাদের জন্য আল্লাহর ‘শাআইর’-এর অন্তর্ভুক্ত করেছি। তোমাদের পক্ষে তাতে আছে কল্যাণ। সুতরাং যখন তা সারিবদ্ধ অবস্থায় দাঁড়ানো থাকে, তোমরা তার উপর আল্লাহর নাম নেবে। তারপর যখন (যবেহ হয়ে যাওয়ার পর) তা কাত হয়ে মাটিতে পড়ে যায়, তখন তার গোশত থেকে নিজেরাও খাও এবং ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্তকেও খাওয়াও এবং তাকেও, যে নিজ অভাব প্রকাশ করে। ২৩ এভাবেই আমি এসব পশুকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

তাফসীরঃ

২৩. কুরবানীর গোশত কাকে কাকে দেওয়া হবে, তা বোঝানোর জন্য কুরআন মাজীদ এখানে দুটি শব্দ ব্যবহার করেছে القانع والمعتر প্রথম শব্দ ‘কানি’ দ্বারা এমন লোককে বোঝানো হয়, যে অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও নিজ অভাবের কথা কারও কাছে প্রকাশ করে না। বরং সবরের সাথে দিন গুজরান করে। আর দ্বিতীয় শব্দ ‘মু‘র্তার’ দ্বারা বোঝানো হয় এমন ব্যক্তিকে, যে নিজ অভাব-অভিযোগের কথা কথায় বা কাজে অন্যের কাছে প্রকাশ করে।
৩৭

لَنۡ یَّنَالَ اللّٰہَ لُحُوۡمُہَا وَلَا دِمَآؤُہَا وَلٰکِنۡ یَّنَالُہُ التَّقۡوٰی مِنۡکُمۡ ؕ کَذٰلِکَ سَخَّرَہَا لَکُمۡ لِتُکَبِّرُوا اللّٰہَ عَلٰی مَا ہَدٰىکُمۡ ؕ وَبَشِّرِ الۡمُحۡسِنِیۡنَ ٣٧

লাইঁ ইয়ানা-লাল্লা-হা লুহূমুহা-ওয়ালা-দিমাউহা-ওয়ালা-কিইঁ ইয়ানা-লুহুততাকওয়ামিনকুম কাযা-লিকা ছাখখারাহা-লাকুম লিতুকাববিরুল্লা-হা ‘আলা-মা-হাদা-কুম ওয়া বাশশিরিল মুহছিনীন।

আল্লাহর কাছে তাদের গোশত পৌঁছে না আর তাদের রক্তও না, বরং তাঁর কাছে তোমাদের তাকওয়াই পৌঁছে। এভাবেই তিনি এসব পশুকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা কর, তিনি তোমাদেরকে হিদায়াত দান করেছেন বলে। যারা সুচারুরূপে সৎকর্ম করে তাদেরকে সুসংবাদ দাও।
৩৮

اِنَّ اللّٰہَ یُدٰفِعُ عَنِ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ؕ  اِنَّ اللّٰہَ لَا یُحِبُّ کُلَّ خَوَّانٍ کَفُوۡرٍ ٪ ٣٨

ইন্নাল্লা-হা ইউদা-ফি‘উ ‘আনিল্লাযীনা আ-মানূ ইন্নাল্লা-হা লা-ইউহিব্বুকুল্লা খাওওয়ানিন কাফূর।

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের প্রতিরক্ষা করেন, যারা ঈমান এনেছে। ২৪ জেনে রেখ, আল্লাহ কোন বিশ্বাসঘাতক, অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না।

তাফসীরঃ

২৪. মক্কা মুকাররমায় কাফেরদের পক্ষ হতে মুসলিমদের প্রতি যে জুলুম-নির্যাতন চালানো হত, শুরুতে কুরআন মাজীদ সেক্ষেত্রে তাদেরকে বারবার সবর অবলম্বনের হুকুম দিয়েছে। অতঃপর এ আয়াতে তাদেরকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, সবরের যে পরীক্ষা এ যাবৎকাল তারা দিয়ে এসেছে তার পালা এখন শেষ হতে যাচ্ছে। জালেমদেরকে তাদের জুলুমের জবাব দেওয়ার সময় এসে গেছে। সুতরাং পরবর্তী আয়াতে মুসলিমদেরকে জিহাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার আগে সুসংবাদ শোনানো হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা নিজেই মুসলিমদের প্রতিরক্ষা করবেন, তাদের পক্ষ থেকে শত্রুদের প্রতিরোধ ও দমন করবেন। কাজেই তারা নির্ভয়ে নিঃসঙ্কচিত্তে যুদ্ধ করুক। কেননা যাদের সঙ্গে তাদের লড়াই হবে, তারা হচ্ছে শঠ ও প্রতারক এবং ঘোর অকৃতজ্ঞ। এরূপ লোককে আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন না। কাজেই তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহ তাআলা মুসলিমদেরকেই সাহায্য করবেন।
৩৯

اُذِنَ لِلَّذِیۡنَ یُقٰتَلُوۡنَ بِاَنَّہُمۡ ظُلِمُوۡا ؕ  وَاِنَّ اللّٰہَ عَلٰی نَصۡرِہِمۡ لَقَدِیۡرُۨ ۙ ٣٩

উযিনা লিল্লাযীনা ইউকা-তালূনা বিআন্নাহুম জুলিমূ ওয়া ইন্নাল্লা-হা ‘আলা-নাসরিহিম লা-কাদীর।

যাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা হচ্ছে, তাদেরকে অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে (তারা নিজেদের প্রতিরক্ষার্থে যুদ্ধ করতে পারে)। যেহেতু তাদের প্রতি জুলুম করা হয়েছে। ২৫ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে জয়যুক্ত করতে পরিপূর্ণ সক্ষম।

তাফসীরঃ

২৫. মক্কা মুকাররমায় সুদীর্ঘ তের বছর পর্যন্ত মুমিনদেরকে সবর ও সংযম অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তারাও সর্বোচ্চ ত্যাগের সাথে তা পালনে ব্রতী থেকেছেন। যত কঠিন নির্যাতনই করা হোক অস্ত্র দ্বারা তার মোকাবেলা করার অনুমতি ছিল না। ফলে মুসলিমগণ জুলুমের জবাব সবর দ্বারাই দিতেন। অবশেষে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় এবং সর্বপ্রথম এ আয়াতের মাধ্যমে তাদেরকে শত্রুর বিরুদ্ধে তরবারি ওঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়।
৪০

الَّذِیۡنَ اُخۡرِجُوۡا مِنۡ دِیَارِہِمۡ بِغَیۡرِ حَقٍّ اِلَّاۤ اَنۡ یَّقُوۡلُوۡا رَبُّنَا اللّٰہُ ؕ وَلَوۡلَا دَفۡعُ اللّٰہِ النَّاسَ بَعۡضَہُمۡ بِبَعۡضٍ لَّہُدِّمَتۡ صَوَامِعُ وَبِیَعٌ وَّصَلَوٰتٌ وَّمَسٰجِدُ یُذۡکَرُ فِیۡہَا اسۡمُ اللّٰہِ کَثِیۡرًا ؕ وَلَیَنۡصُرَنَّ اللّٰہُ مَنۡ یَّنۡصُرُہٗ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَقَوِیٌّ عَزِیۡزٌ ٤۰

আল্লাযীনা উখরিজুমিন দিয়া-রিহিম বিগাইরি হাক্কিন ইল্লাআইঁ ইয়াকূলূরাব্বুনাল্লা-হু ওয়া লাওলা-দাফ‘উল্লা-হিন্না-ছা বা‘দাহুম ব্বিা‘দিল লাহুদ্দিমাত ছাওয়া-মি‘উ ওয়া বিয়া‘উওঁ ওয়া সালাওয়া-তুওঁ ওয়া মাছা-জিদুইউযকারু ফীহাছমুল্লা-হি কাছীরাও ওয়ালাইয়ানসুরান্নাল্লা-হু মাইঁ ইয়ানসুরুহূ ইন্নাল্লা-হা লাকাবিইয়ুউন ‘আঝীঝ।

যাদেরকে তাদের ঘর-বাড়ি হতে অন্যায়ভাবে কেবল এ কারণে বের করা হয়েছে যে, তারা বলেছিল, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। আল্লাহ যদি মানব জাতির এক দল (-এর অনিষ্ট)কে অন্য দলের মাধ্যমে প্রতিহত না করতেন, তবে ধ্বংস করে দেওয়া হত খানকাহ, গির্জা, ইবাদতখানা ও মসজিদসমূহ ২৬ যাতে আল্লাহর যিকির করা বেশি। আল্লাহ অবশ্যই তাদের সাহায্য করবেন, যারা তার (দীনের) সাহায্য করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশক্তিমান, পরাক্রমশালী।

তাফসীরঃ

২৬. এ আয়াতে জিহাদের তাৎপর্য বর্ণিত হয়েছে। দুনিয়ায় যত নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম এসেছেন সকলেই আল্লাহ তাআলার ইবাদত-বন্দেগী শিক্ষা দিয়েছেন এবং সে উদ্দেশ্যে ইবাদতখানা তৈরি করেছেন। হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের শরীয়তে এ কাজের জন্য খানকা ও গির্জা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আরবীতে খানকাকে বলে সাওমা‘আ صَوْمَعَهْ বহুবচনে صَوْامِعْ আর গির্জাকে বলে বী‘আ بِيْعَهْ বহুবচনে بِيَعْ। হযরত মূসা আলাইহিস সালামের অনুসারীগণ যে ইবাদতখানা তৈরি করত তাকে বলে ‘সালাওয়াত’ আর মুসলিমদের ইবাদতখানা হল মসজিদ। সব যুগেই আসমানী দীনের বিরোধীগণ এসব ইবাদতখানা ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। যদি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদের অনুমতি না থাকত, তবে তারা দুনিয়া থেকে সকল ইবাদতখানা নিশ্চিহ্ন করে ফেলত।
৪১

اَلَّذِیۡنَ اِنۡ مَّکَّنّٰہُمۡ فِی الۡاَرۡضِ اَقَامُوا الصَّلٰوۃَ وَاٰتَوُا الزَّکٰوۃَ وَاَمَرُوۡا بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَنَہَوۡا عَنِ الۡمُنۡکَرِ ؕ وَلِلّٰہِ عَاقِبَۃُ الۡاُمُوۡرِ ٤١

আল্লাযীনা ইম মাকান্না-হুম ফিল আরদিআকা-মুসসালা-তা ওয়া আ-তাউঝঝাকা-তা ওয়া আমারূ বিল মা‘রূফি ওয়া নাহাও ‘আনিল মুনকারি ওয়া লিল্লা-হি ‘আ-কিবাতুল উমূর।

তারা এমন যে, আমি যদি দুনিয়ায় তাদেরকে ক্ষমতা দান করি, তবে তারা নামায কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, মানুষকে সৎকাজের আদেশ করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে। ২৭ সব কাজে পরিণতি আল্লাহরই হাতে।

তাফসীরঃ

২৭. মদীনা মুনাওয়ারায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ পরিচালনায় মুমিনদেরকে যে সাহায্যের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, প্রশ্ন দাঁড়ায় যে, এ কাজে আল্লাহ তাআলা সাহায্য করবেন কী কারণে? এ আয়াতে তারই উত্তর দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে যে, এ সকল লোক পৃথিবীতে ক্ষমতা লাভ করতে সক্ষম হলে নিজেদের জান-মাল ব্যয় করে ইবাদত-বন্দেগীর আবহ তৈরি করবে। তারা নিজেরাও ইবাদত করবে, অন্যদেরকেও তা করার জন্য প্রস্তুত করবে। তারা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধের দায়িত্ব পালন করবে। এভাবে এ আয়াতে ইসলামী রাষ্ট্রের মৌল লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বলে দেওয়া হয়েছে।
৪২

وَاِنۡ یُّکَذِّبُوۡکَ فَقَدۡ کَذَّبَتۡ قَبۡلَہُمۡ قَوۡمُ نُوۡحٍ وَّعَادٌ وَّثَمُوۡدُ ۙ ٤٢

ওয়া ইয়ঁইউকাযযিবূকা ফাকাদ কাযযাবাত কাবলাহুম কাওমুনূহিওঁ ওয়া ‘আদুওঁ ওয়া ছামূদ ।

(হে নবী!) তারা যদি তোমাকে অস্বীকার করে, তবে তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায় এবং আদ ও ছামুদের সম্প্রদায়ও তো (নিজ-নিজ নবীকে) অস্বীকার করেছিল।
৪৩

وَقَوۡمُ اِبۡرٰہِیۡمَ وَقَوۡمُ لُوۡطٍ ۙ ٤٣

ওয়া কাওমুইবরা-হীমা ওয়া কাওমুলূত।

এবং ইবরাহীমের সম্প্রদায় ও লুতের সম্প্রদায়
৪৪

وَّاَصۡحٰبُ مَدۡیَنَ ۚ وَکُذِّبَ مُوۡسٰی فَاَمۡلَیۡتُ لِلۡکٰفِرِیۡنَ ثُمَّ اَخَذۡتُہُمۡ ۚ فَکَیۡفَ کَانَ نَکِیۡرِ ٤٤

ওয়া আসহা-বুমাদইয়ানা ওয়া কুযযি বা মূছা-ফাআমলাইতুলিলকা-ফিরীনা ছুম্মা আখাযতুহুম ফাকাইফা কা-না নাকীর।

এবং মাদয়ানবাসীরাও। তাছাড়া মূসাকেও অস্বীকার করা হয়েছিল। সুতরাং আমি সে কাফেরদেরকে কিছুটা অবকাশ দিয়েছিলাম। তারপর তাদেরকে পাকড়াও করি। এবার দেখ আমার ধরা কেমন ছিল!
৪৫

فَکَاَیِّنۡ مِّنۡ قَرۡیَۃٍ اَہۡلَکۡنٰہَا وَہِیَ ظَالِمَۃٌ فَہِیَ خَاوِیَۃٌ عَلٰی عُرُوۡشِہَا وَبِئۡرٍ مُّعَطَّلَۃٍ وَّقَصۡرٍ مَّشِیۡدٍ ٤٥

ফাকাআইয়িম মিন কারইয়াতিন আহলাকনা-হা-ওয়াহিয়া জা-লিমাতুন ফাহিয়া খাওয়িয়াতুন ‘আলা-‘উরূশিহা-ওয়া বি’রিম মু‘আততালাতিওঁ ওয়া কাসরিম মাশীদ।

মোদ্দাকথা আমি কত জনপদকেই ধ্বংস করেছি, যখন তারা জুলুমে রত ছিল! ফলে তা ছাদের উপর ধসে পড়েছে, ২৮ কত কুয়া হয়েছে পরিত্যক্ত এবং কত পাকা মহল (ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে)!

তাফসীরঃ

২৮. অর্থাৎ, তার ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে প্রথমে ছাদ ধসে পড়ে, তারপর সেই পতিত ছাদের উপর দেয়াল ভেঙ্গে পড়ে। এভাবে তা সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়ে যায়। -অনুবাদক
৪৬

اَفَلَمۡ یَسِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَتَکُوۡنَ لَہُمۡ قُلُوۡبٌ یَّعۡقِلُوۡنَ بِہَاۤ اَوۡ اٰذَانٌ یَّسۡمَعُوۡنَ بِہَا ۚ فَاِنَّہَا لَا تَعۡمَی الۡاَبۡصَارُ وَلٰکِنۡ تَعۡمَی الۡقُلُوۡبُ الَّتِیۡ فِی الصُّدُوۡرِ ٤٦

আফালাম ইয়াছীরূফিল আরদিফাতাকূনা লাহুম কুলূবুইঁ ইয়া‘কিলূনা বিহাআও আ-যানুইঁ ইয়াছমা‘ঊনা বিহা- ফাইন্নাহা-লা-তা‘মাল আবসা-রু ওয়ালা-কিন তা‘মাল কুলূবুল্লাতী ফিসসুদূ র।

তবে কি তারা ভূমিতে চলাফেরা করেনি, যা দ্বারা তাদের এমন অন্তকরণ লাভ হত, যা দ্বারা তারা (সত্য) উপলব্ধি করত কিংবা এমন কান লাভ হত, যা দ্বারা তা শুনতে পেত। প্রকৃতপক্ষে চোখ অন্ধ হয় না, বরং অন্ধ হয় সেই হৃদয়, যা বক্ষদেশে বিরাজ করে।
৪৭

وَیَسۡتَعۡجِلُوۡنَکَ بِالۡعَذَابِ وَلَنۡ یُّخۡلِفَ اللّٰہُ وَعۡدَہٗ ؕ وَاِنَّ یَوۡمًا عِنۡدَ رَبِّکَ کَاَلۡفِ سَنَۃٍ مِّمَّا تَعُدُّوۡنَ ٤٧

ওয়া ইয়াছতা‘জিলূনাকা বিল‘আযা-বি ওয়ালাইঁ ইউখলিফাল্লা-হু ওয়া‘দাহূ ওয়া ইন্না ইয়াওমান ‘ইনদা রাব্বিকা কাআলফি ছানাতিম মিম্মা-তা‘উদ্দূন।

তারা তোমাকে তাড়াতাড়ি শাস্তি এনে দিতে বলে, অথচ আল্লাহ কখনই নিজ ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। নিশ্চিত জেনে রেখ, তোমার প্রতিপালকের কাছে এক দিন তোমাদের গণনার হাজার বছরের সমান। ২৯

তাফসীরঃ

২৯. আল্লাহ তাআলার কাছে এক দিন আমাদের হিসাবের এক হাজার বছরের সমান এ কথার অর্থ কি? এর যথাযথ মর্ম তো আল্লাহ তাআলাই জানেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু একে মুতাশাবিহাতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তবে আয়াতটির অর্থ বোঝার জন্য এতটুকু ব্যাখ্যাই যথেষ্ট যে, কাফেরদেরকে যখন বলা হত কুফরের পরিণামে তাদেরকে দুনিয়া বা আখেরাতে আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে, তখন তারা একথা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত এবং বলত, কই এত দিন পার হয়ে গেল, কোন শাস্তি তো আসল না! যদি সত্যিই শাস্তি আসার হয় তবে এখনই কেন আসছে না? এর উত্তরে বলা হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা যে ওয়াদা করেছেন, তা অবশ্যই পূরণ হবে। বাকি কখন তা পূরণ হবে সেটা নির্ভর করে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার উপর। তিনি নিজ হিকমত অনুযায়ী তা স্থির করবেন। তোমরা যে মনে করছ তা আসতে অনেক বিলম্ব হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে তা তোমাদের হিসাবের ব্যাপার। আল্লাহর হিসাব অন্য রকম। তোমাদের হিসাব অনুযায়ী যা এক হাজার বছর আল্লাহর হিসাবের তা একদিন মাত্র। এ আয়াতে আরও ব্যাখ্যা সামনে সূরা মা‘আরিজ (৭০ : ৩)-এ আসবে ইনশাআল্লাহু তাআলা।
৪৮

وَکَاَیِّنۡ مِّنۡ قَرۡیَۃٍ اَمۡلَیۡتُ لَہَا وَہِیَ ظَالِمَۃٌ ثُمَّ اَخَذۡتُہَا ۚ  وَاِلَیَّ الۡمَصِیۡرُ ٪ ٤٨

ওয়া কাআইয়িম মিন কারইয়াতিন আমলাইতুলাহা-ওয়াহিয়া জা-লিমাতুন ছুম্মা আখাযতুহা- ওয়া ইলাইইয়াল মাসীর।

আমি কত জনপদকেই তো অবকাশ দিয়েছিলাম, যা ছিল জুলুমরত। অবশেষে আমি তাদেরকে পাকড়াও করি। আর শেষ পর্যন্ত সকলকে আমারই কাছে ফিরতে হবে।
৪৯

قُلۡ یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اِنَّمَاۤ اَنَا لَکُمۡ نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ ۚ ٤٩

কুল ইয়াআইয়ুহান্না-ছুইন্নামাআনা লাকুম নাযীরুম মুবীন।

(হে নবী!) বলে দাও, আমি তো তোমাদের জন্য এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
৫০

فَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَہُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّرِزۡقٌ کَرِیۡمٌ ٥۰

ফাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি লাহুম মাগফিরাতুওঁ ওয়া রিঝকুন কারীম।

সুতরাং যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য আছে মাগফিরাত ও সম্মানজনক রিযক।
৫১

وَالَّذِیۡنَ سَعَوۡا فِیۡۤ اٰیٰتِنَا مُعٰجِزِیۡنَ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ الۡجَحِیۡمِ ٥١

ওয়াল্লাযীনা ছা‘আও ফীআ-য়া-তিনা-মু‘আ-জিঝীনা উলাইকা আসহা-বুল জাহীম।

আর যারা আমার নিদর্শনসমূহকে ব্যর্থ প্রমাণের জন্য দৌড়-ঝাঁপ করে, তারা হবে জাহান্নামবাসী।
৫২

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِکَ مِنۡ رَّسُوۡلٍ وَّلَا نَبِیٍّ اِلَّاۤ اِذَا تَمَنّٰۤی اَلۡقَی الشَّیۡطٰنُ فِیۡۤ اُمۡنِیَّتِہٖ ۚ  فَیَنۡسَخُ اللّٰہُ مَا یُلۡقِی الشَّیۡطٰنُ ثُمَّ یُحۡکِمُ اللّٰہُ اٰیٰتِہٖ ؕ  وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌ حَکِیۡمٌ ۙ ٥٢

ওয়ামাআরছালনা-মিন কাবলিকা মির রাছূলিওঁ ওয়ালা-নাবিইয়িন ইল্লাইযা-তামান্না আলকাশ শাইতা-নুফীউমনিইইয়াতিহী ফাইয়ানছাখুল্লা-হু মা-ইউলকিশশাইতা-নু ছু ম্মা ইউহকিমুল্লা-হু আ-য়া-তিহী ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হাকীম।

(হে নবী!) তোমার পূর্বে যখনই আমি কোন রাসূল বা নবী পাঠিয়েছি, তার ক্ষেত্রে অবশ্যই এ ঘটনা ঘটেছে যে, যখন সে (আল্লাহর বাণী) পড়েছে শয়তান তার পড়ার সঙ্গে-সঙ্গে (কাফেরদের অন্তরে) কোন প্রতিবন্ধ ফেলে দিয়েছে। অতঃপর শয়তান যে প্রতিবন্ধ ফেলে আল্লাহ তা অপসারণ করেন তারপর নিজ আয়াতসমূহ সুদৃঢ় করে দেন। ৩০ বস্তুত আল্লাহ প্রভূত জ্ঞান ও প্রভূত হিকমতের মালিক।

তাফসীরঃ

৩০. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সান্তনা দেওয়া হচ্ছে যে, আপনার বিরুদ্ধবাদীদের পক্ষ থেকে যেসব সংশয় প্রকাশ করা হচ্ছে তা নতুন কোন বিষয় নয়। পূর্ব যুগের নবীদের ক্ষেত্রেও এরূপই ঘটেছে। তারা যখন মানুষকে আল্লাহ তাআলার কালাম পড়ে শোনাতেন, তখন শয়তান কাফেরদের অন্তরে নানা রকম সংশয় সন্দেহ সৃষ্টি করত, যে কারণে তারা ঈমান আনত না। কিন্তু তাদের সৃষ্ট সংশয়-সন্দেহ যেহেতু ভিত্তিহীন হত, তাই আল্লাহ তাআলা খাঁটি মুমিনদের অন্তরে তার কোন আছর বাকি থাকতে দিতেন না; বরং তা সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দিতেন। এ আয়াতের আরেক তরজমাও করা সম্ভব। তা এ রকম, ‘আমি তোমার আগে যে-সকল রাসূল বা নবী পাঠিয়েছি তাদের ক্ষেত্রেও এ রকমই ঘটেছে যে, তাদের কেউ যখন কোন আকাঙ্ক্ষা করেছে, তখন শয়তান তার আকাঙ্ক্ষায় বিপত্তি সৃষ্টি করত, কিন্তু আল্লাহ তাআলা শয়তানের সৃষ্ট বিপত্তি অপসারণ করে নিজ আয়াতসমূহকে আরও দৃঢ় করতেন। এ তরজমা অনুযায়ী ব্যাখ্যা হবে এ রকম, আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম নিজ সম্প্রদায়ের ইসলামের জন্য কোন বিষয়ের আকাঙ্ক্ষা করলে প্রথম দিকে শয়তান তাদের সে আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথে বাধা সৃষ্টি করত, কিন্তু আল্লাহ তাআলা তার সে বাধা দূর করে নিজ আয়াতসমূহ অধিকতর মজবুত করে দিতেন এবং নবীগণকে সাহায্য করার সুসংবাদ শোনাতেন। তবে শয়তানের সৃষ্ট বাধা কাফেরদের পক্ষে, যাদের অন্তরে সংশয়-সন্দেহের ব্যাধি ছিল, ফিতনার কারণ হয়ে দাঁড়াত। তারা তাকে নবীগণের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে পেশ করত।
৫৩

لِّیَجۡعَلَ مَا یُلۡقِی الشَّیۡطٰنُ فِتۡنَۃً لِّلَّذِیۡنَ فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ مَّرَضٌ وَّالۡقَاسِیَۃِ قُلُوۡبُہُمۡ ؕ  وَاِنَّ الظّٰلِمِیۡنَ لَفِیۡ شِقَاقٍۭ بَعِیۡدٍ ۙ ٥٣

লিইয়াজ‘আলা মা-ইউলকিশশাইতা-নুফিতনাতাল লিল্লাযীনা ফী কুলূবিহিম মারাদুওঁ ওয়াল কা-ছিয়াতি কুলূবুহুম ওয়া ইন্নাজ্জা-লিমীনা লাফী শিকা-কিম বা‘ঈদ।

তা এজন্য যে, শয়তান যে প্রতিবন্ধ ফেলে, আল্লাহ তাকে যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে এবং যাদের অন্তর শক্ত, তাদের জন্য ফিতনায় পরিণত করেন। ৩১ নিশ্চয়ই জালেমগণ বিরোধিতায় বহু দূর পৌঁছে গেছে।

তাফসীরঃ

৩১. আল্লাহ তাআলা শয়তানকে এরূপ প্রতিবন্ধকতা ও সংশয়-সন্দেহ সৃষ্টি করার সুযোগ কেন দেন, ৫৩ ও ৫৪ আয়াতে তার জবাব দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে যে, এর দ্বারাও উদ্দেশ্য মানুষকে পরীক্ষা করা। এ পরীক্ষায় মুনাফিক ও কাফিরগণ অকৃতকার্য ও মুমিনগণ কৃতকার্য হয়। ‘যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে’ বলে মুনাফিকদের আর ‘যাদের অন্তর শক্ত’ বলে ঘোর কাফিরদের বোঝানো হয়েছে। এ পরীক্ষায় তারা মনের ব্যাধি ও কঠিনত্বের কারণে আরও বেশি সন্দেহ ও অবিশ্বাসের দিকে এগিয়ে যায় আর যারা প্রকৃত জ্ঞানী ও মুমিন, সত্যের প্রতি আরও বেশি আস্থাবান হয় তারা নিজেদের ঈমানকে বলিয়ান করে তোলে। -অনুবাদক
৫৪

وَّلِیَعۡلَمَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡعِلۡمَ اَنَّہُ الۡحَقُّ مِنۡ رَّبِّکَ فَیُؤۡمِنُوۡا بِہٖ فَتُخۡبِتَ لَہٗ قُلُوۡبُہُمۡ ؕ وَاِنَّ اللّٰہَ لَہَادِ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ٥٤

ওয়া লিইয়া‘লামাল্লাযীনা ঊতুল ‘ইলমা আন্নাহুল হাক্কুমির রাব্বিকা ফাইউ‘মিনূবিহী ফাতুখবিতা লাহূকুলূবুহুম ওয়া ইন্নাল্লা-হা লাহা-দিল্লাযীনা আ-মানূইলা-সিরাতিম মুছতাকীম।

আর যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা যেন জেনে নেয় এটাই (অর্থাৎ এ কালামই) সত্য, যা তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এসেছে অতঃপর তারা যেন তাতে ঈমান আনে এবং তাদের অন্তর তার প্রতি ঝুঁকে পড়ে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের জন্য সরল পথের হিদায়াতদাতা।
৫৫

وَلَا یَزَالُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فِیۡ مِرۡیَۃٍ مِّنۡہُ حَتّٰی تَاۡتِیَہُمُ السَّاعَۃُ بَغۡتَۃً اَوۡ یَاۡتِیَہُمۡ عَذَابُ یَوۡمٍ عَقِیۡمٍ ٥٥

ওয়ালা- ইয়াঝা-লুল্লাযীনা কাফারূফী মিরইয়াতিম মিনহু হাত্তা- তা’তিয়াহুমুছছা-‘আতু বাগতাতান আও ইয়া’তিয়াহুম ‘আযা-বুইয়াওমিন ‘আকীম।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা এ সম্পর্কে (অর্থাৎ কুরআন সম্পর্কে) অব্যাহতভাবে সন্দেহে পতিত থাকবে, যাবৎ না তাদের উপর অকস্মাৎ কিয়ামত উপস্থিত হয় অথবা তাদের উপর এমন এক দিবসের শাস্তি এসে পড়ে যা (তাদের জন্য) কোনও রকমের ৩২ কল্যাণপ্রসূ নয়।

তাফসীরঃ

৩২. কিয়ামত দিবসকে عقيم (বন্ধ্যা) বলা হয়েছে এ কারণে যে, কাফেরদের জন্য সেদিন হবে সম্পূর্ণ নিষ্ফল। তা থেকে তারা ভালো কিছু লাভ করবে না। অর্থাৎ তাদের কল্যাণ সাধনের পক্ষে তা যেন বন্ধ্যা। অথবা বন্ধ্যা বলার কারণ, এর পর আর কোনও দিন নেই। প্রতিটি দিন যেন পরের দিনকে জন্ম দেয়। কিয়ামতই যেহেতু দুনিয়ার সর্বশেষ দিন, তাই তা আর কোন দিনকে জন্ম দেবে না। সে হিসেবে তা বন্ধ্যাতুল্য। -অনুবাদক
৫৬

اَلۡمُلۡکُ یَوۡمَئِذٍ لِّلّٰہِ ؕ یَحۡکُمُ بَیۡنَہُمۡ ؕ فَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فِیۡ جَنّٰتِ النَّعِیۡمِ ٥٦

আল মুলকুইয়াওমাইযিল লিল্লা-হি ইয়াহকুমুবাইনাহুম ফাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ফী জান্না-তিন না‘ঈম।

সে দিন রাজত্ব হবে কেবল আল্লাহর। তিনি তাদের মধ্যে ফায়সালা করবেন। সুতরাং যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে তারা থাকবে নি‘আমত-আকীর্ণ জান্নাতে।
৫৭

وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَکَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا فَاُولٰٓئِکَ لَہُمۡ عَذَابٌ مُّہِیۡنٌ ٪ ٥٧

ওয়াল্লাযীনা কাফারূওয়া কাযযাবূবিআ-য়া-তিনা-ফাউলাইকা লাহুম ‘আযা-বুম মুহীন।

আর যারা কুফর অবলম্বন করেছে ও আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে, তাদের জন্য থাকবে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।
৫৮

وَالَّذِیۡنَ ہَاجَرُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ثُمَّ قُتِلُوۡۤا اَوۡ مَاتُوۡا لَیَرۡزُقَنَّہُمُ اللّٰہُ رِزۡقًا حَسَنًا ؕ وَاِنَّ اللّٰہَ لَہُوَ خَیۡرُ الرّٰزِقِیۡنَ ٥٨

ওয়াল্লাযীনা হা-জারূফী ছাবীলিল্লা-হি ছুম্মা কুতিলূআও মা-তূলাইয়ারঝুকান্নাহুমুল্লা-হু রিঝকান হাছানাওঁ ওয়া ইন্নাল্লা-হা লাহুওয়া খাইরুর রা-ঝিকীন।

যারা আল্লাহর পথে হিজরত করেছে, তারপর তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে বা তাদের ইন্তিকাল হয়েছে, আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে উত্তম রিযক দান করবেন, নিশ্চয়ই আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।
৫৯

لَیُدۡخِلَنَّہُمۡ مُّدۡخَلًا یَّرۡضَوۡنَہٗ ؕ وَاِنَّ اللّٰہَ لَعَلِیۡمٌ حَلِیۡمٌ ٥٩

লাইউদখিলান্নাহুম মু দ খালাইঁ ইয়ারদাওনাহূ ওয়া ইন্নাল্লা-হা লা‘আলীমুন হালীম।

তিনি তাদেরকে অবশ্যই এমন স্থানে পৌঁছাবেন, যা পেয়ে তারা খুশী হয়ে যাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞাত, পরম সহনশীল।
৬০

ذٰلِکَ ۚ وَمَنۡ عَاقَبَ بِمِثۡلِ مَا عُوۡقِبَ بِہٖ ثُمَّ بُغِیَ عَلَیۡہِ لَیَنۡصُرَنَّہُ اللّٰہُ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَعَفُوٌّ غَفُوۡرٌ ٦۰

যা-লিকা ওয়ামান ‘আ-কাবা বিমিছলি মা-‘উকিবা বিহী ছুম্মা বুগিয়া ‘আলাইহি লাইয়ানসুরান্নাহুল্লা-হু ইন্নাল্লা-হা লা‘আফুওউন গাফূর।

এসব স্থিরীকৃত বিষয় এবং (আরও জেনে রেখ) কোনও ব্যক্তি প্রতিশোধ নিতে গিয়ে যদি ঠিক ততটুকু কষ্ট দেয়, যতটুকু কষ্ট তাকে দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর ফের তার প্রতি অত্যাচার করা হয়, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন। ৩৩ নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি মার্জনাকারী, পরম ক্ষমাশীল।

তাফসীরঃ

৩৩. পূর্বে ৩৯ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুসলিমদেরকে সেই সকল কাফেরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অনুমতি দিয়েছিলেন যারা তাদের উপর জুলুম-অত্যাচার করেছিল, যদিও এর আগে উপর্যুপরি তাদেরকে সবর ও ক্ষমা প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল। এবার এ স্থলে কেবল যুদ্ধের ক্ষেত্রেই নয়, বরং যে-কোন রকমের অত্যাচার-উৎপীড়নের ক্ষেত্রে প্রতিশোধ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে শর্ত হল যে পরিমাণ জুলুম করা হয়েছে, প্রতিশোধ ঠিক সেই পরিমাণই হতে হবে। তার বেশি নয়। সেই সঙ্গে বলা হচ্ছে, ক্ষমা প্রদর্শনের নীতি যদিও সর্বোত্তম, কিন্তু ইনসাফ রক্ষা সাপেক্ষে প্রতিশোধ গ্রহণও জায়েয এবং সে ক্ষেত্রেও আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে সাহায্যের ওয়াদা আছে। বরং এখানে আরও অগ্রসর হয়ে বলা হয়েছে, ইনসাফ রক্ষা করে প্রতিশোধ গ্রহণের পর ফের যদি তাদের উপর জুলুম করা হয়, হবে আল্লাহ তাআলা তখনও তাদেরকে সাহায্য করবেন।
৬১

ذٰلِکَ بِاَنَّ اللّٰہَ یُوۡلِجُ الَّیۡلَ فِی النَّہَارِ وَیُوۡلِجُ النَّہَارَ فِی الَّیۡلِ وَاَنَّ اللّٰہَ سَمِیۡعٌۢ بَصِیۡرٌ ٦١

যা-লিকা বিআন্নাল্লা-হা ইউলিজুল্লাইলা ফিন্নাহা-রি ওয়া ইউলিজুন্নাহা-রা ফিল্লাইলি ওয়া আন্নাল্লা-হা ছামী‘উম বাসীর।

তা এজন্য যে, আল্লাহ (তাআলার শক্তি বিপুল। তিনি) রাতকে দিনের মধ্যে প্রবিষ্ট করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবিষ্ট করান ৩৪ এবং এজন্য যে, আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন।

তাফসীরঃ

৩৪. অর্থাৎ এক মওসুমে যেটা থাকে দিনের অংশ অন্য মওসুমে আল্লাহ তাআলা তাকে রাত বানিয়ে দেন। আবার এক মওসুমে যেটা থাকে রাতের অংশ অন্য মওসুমে তাকে দিন বানিয়ে দেন। চাঁদ-সুরুজের পরিক্রমণকে আল্লাহ তাআলা তাঁর অপার প্রজ্ঞায় এক অলংঘনীয় নিয়ম-নিগড়ে বেঁধে দিয়েছেন। কখনও তাতে এক মুহূর্তের হেরফের হয় না। এমনিতে তো আল্লাহ তাআলার কুদরতের নিদর্শন অগণ্য। কিন্তু এখানে বিশেষভাবে দিবা-রাত্রের এই পালা বদলের বিষয়টাকে উল্লেখ করা হয়েছে সম্ভবত এ কারণে যে, এখানে আলোচনা চলছে মজলুমের সাহায্য করা সম্পর্কে। সে প্রসঙ্গেই এ দৃষ্টান্ত দিয়ে বোঝানো হচ্ছে যে, রাত-দিনের সময় যেমন পরিবর্তিত হয়, তেমনি জালেম-মজলুমের মধ্যেও সময়ের পালাবদল হয়। এক সময় যে ছিল মজলুম, আল্লাহ তাআলা জালেমের বিরুদ্ধে তাকে সাহায্য করেন। ফলে সে শক্তিশালী হয়ে ওঠে ও জালেমের উপর ক্ষমতা বিস্তার করে। আর যে জালেম এতদিন প্রবল-পরাক্রান্ত ছিল সে এ যাবৎকাল যার উপর জুলুম করেছিল, তার সামনে মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়।
৬২

ذٰلِکَ بِاَنَّ اللّٰہَ ہُوَ الۡحَقُّ وَاَنَّ مَا یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِہٖ ہُوَ الۡبَاطِلُ وَاَنَّ اللّٰہَ ہُوَ الۡعَلِیُّ الۡکَبِیۡرُ ٦٢

যা-লিকা বিআন্নাল্লা-হা হুওয়াল হাক্কুওয়াআন্না মা-ইয়াদ‘উনা মিন দূনিহী হুওয়াল বা-তিলু ওয়া আন্নাল্লা-হা হুয়াল ‘আলিইয়ুল কাবীর।

তা এজন্য যে, আল্লাহই সত্য। আর তারা তাঁকে ছেড়ে যেসব জিনিসের ইবাদত করে তা সবই মিথ্যা। আর আল্লাহই সেই সত্তা, যার মহিমা, সমুচ্চ, মর্যাদা বিপুল।
৬৩

اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً ۫  فَتُصۡبِحُ الۡاَرۡضُ مُخۡضَرَّۃً ؕ  اِنَّ اللّٰہَ لَطِیۡفٌ خَبِیۡرٌ ۚ ٦٣

আলাম তারা আন্নাল্লা-হা আনঝালা মিনাছছামাই মাআন ফাতুসবিহুল আরদু মুখদাররাতান ইন্নাল্লা-হা লাতীফুন খাবীর।

তুমি কি দেখনি আল্লাহ আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেন, যা দ্বারা ভূমি সবুজ-সজীব হয়ে ওঠে? বস্তুত আল্লাহ অশেষ দয়াবান, সর্ব বিষয়ে অবহিত। ৩৫

তাফসীরঃ

৩৫. অর্থাৎ বান্দাদের রিযক দানে দয়াবান আর তাদের অন্তরে যা কিছু আছে সে সম্পর্কে জ্ঞাত। এ আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য পুনরুত্থান সম্পর্কে প্রমাণ পেশ করা। অর্থাৎ যেই সত্তা এভাবে মৃত ভূমিকে সঞ্জীবিত করেন তিনি মৃত মানব গোষ্ঠীকেও পুনরায় জীবিত করে তুলতে সক্ষম। -অনুবাদক
৬৪

لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ  وَاِنَّ اللّٰہَ لَہُوَ الۡغَنِیُّ الۡحَمِیۡدُ ٪ ٦٤

লাহূমা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি ওয়া ইন্নাল্লা-হা লাহুওয়াল গানিইয়ুল হামীদ।

যা-কিছু আছে আকাশমণ্ডলীতে এবং যা-কিছু আছে পৃথিবীতে সব তাঁরই। নিশ্চিত জেন, আল্লাহই সেই সত্তা, যিনি সকলের থেকে অনপেক্ষ, প্রশংসার্হ।
৬৫

اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ سَخَّرَ لَکُمۡ مَّا فِی الۡاَرۡضِ وَالۡفُلۡکَ تَجۡرِیۡ فِی الۡبَحۡرِ بِاَمۡرِہٖ ؕ وَیُمۡسِکُ السَّمَآءَ اَنۡ تَقَعَ عَلَی الۡاَرۡضِ اِلَّا بِاِذۡنِہٖ ؕ اِنَّ اللّٰہَ بِالنَّاسِ لَرَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ ٦٥

আলাম তারা আন্নাল্লা-হা ছাখখারা লাকুম মা-ফিল আরদিওয়াল ফুলকা তাজরী ফিল বাহরি বিআমরিহী ওয়া ইউমছিকুছছামাআন তাকা‘আ ‘আলাল আরদিইল্লা-বিইযনিহী ইন্নাল্লা-হা বিন্না-ছি লারাঊফুররাহীম।

তুমি কি দেখনি আল্লাহ ভূমিস্থ সব কিছুকে তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করে রেখেছেন এবং জলযানসমূহকেও, যা তার আদেশে সাগরে চলাচল করে? এবং তিনি আকাশকে এভাবে ধারণ করে রেখেছেন যে, তা তার অনুমতি ছাড়া পৃথিবীর উপর পতিত হবে না। বস্তুত আল্লাহ মানুষের প্রতি মমতাময় পরম দয়ালু।
৬৬

وَہُوَ الَّذِیۡۤ اَحۡیَاکُمۡ ۫ ثُمَّ یُمِیۡتُکُمۡ ثُمَّ یُحۡیِیۡکُمۡ ؕ اِنَّ الۡاِنۡسَانَ لَکَفُوۡرٌ ٦٦

ওয়া হুওয়াল্লাযীআহইয়া-কুম, ছু ম্মা ইউমীতুকুমছু ম্মা ইউহঈকুম ; ইন্নাল ইনছা-না লাকাফূর।

তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদেরকে জীবন দান করেছেন, তারপর তিনিই তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন, তারপর পুনরায় তোমাদেরকে জীবিত করবেন। সত্যিই মানুষ বড় অকৃতজ্ঞ। ৩৬

তাফসীরঃ

৩৬. কেননা যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন তারপর অসংখ্য অগণ্য নি‘আমতের মধ্যে তাকে ডুবিয়ে রেখেছেন, সেই মহাদাতা দয়াময়ের ইবাদত-আনুগত্য থেকে বিমুখ হয়ে অন্যদের সামনে মাথা নোয়াচ্ছে। -অনুবাদক
৬৭

لِکُلِّ اُمَّۃٍ جَعَلۡنَا مَنۡسَکًا ہُمۡ نَاسِکُوۡہُ فَلَا یُنَازِعُنَّکَ فِی الۡاَمۡرِ وَادۡعُ اِلٰی رَبِّکَ ؕ اِنَّکَ لَعَلٰی ہُدًی مُّسۡتَقِیۡمٍ ٦٧

লিকুল্লি উম্মাতিন জা‘আলনা-মানছাকান হুম না-ছিকূহু ফালা-ইউনা-ঝি‘উন্নাকা ফিলআমরি ওয়াদ‘উ ইলা-রাব্বিকা ইন্নাকা লা‘আলা-হুদাম মুছতাকীম।

আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য ইবাদতের এক পদ্ধতি নির্দিষ্ট করেছি, যে অনুসারে তারা ইবাদত করে। ৩৭ সুতরাং (হে নবী!) এ বিষয়ে তোমার সঙ্গে যেন তারা বিতর্কে লিপ্ত না হয়। তুমি নিজ প্রতিপালকের দিকে দাওয়াত দিতে থাক। নিশ্চয়ই তুমি সরল পথে আছ।

তাফসীরঃ

৩৭. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সকল বিধি-বিধান পেশ করেছেন, তার মধ্যে কিছু এমনও আছে, যা পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণের দেওয়া বিধান থেকে আলাদা। এ কারণে কোন কোন কাফেরের আপত্তি ছিল। এ আয়াতে তার উত্তর দেওয়া হয়েছে। এতে আল্লাহ তাআলা জানাচ্ছেন একেক নবীর শরীয়তে ইবাদতের একেক রকম নিয়ম বাতলানো হয়েছে এবং প্রত্যেক যুগের পরিবেশ-পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতি রেখে বিধানাবলীর মধ্যেও কিছু প্রভেদ রাখা হয়েছিল। সুতরাং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীয়তে যে সব বিধান দেওয়া হয়েছে, তার কোনওটিকে পূর্বেকার শরীয়তসমূহ থেকে পৃথক মনে হলে তাতে আপত্তির কিছু নেই এবং তা নিয়ে তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হওয়ারও কোন অবকাশ নেই।
৬৮

وَاِنۡ جٰدَلُوۡکَ فَقُلِ اللّٰہُ اَعۡلَمُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ ٦٨

ওয়া ইন জা-দালূকা ফাকুল্লিলা-হু আ‘লামুবিমা-তা‘মালূন।

তারা তোমার সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হলে বলে দাও, তোমরা যা-কিছু করছ আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন।
৬৯

اَللّٰہُ یَحۡکُمُ بَیۡنَکُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ فِیۡمَا کُنۡتُمۡ فِیۡہِ تَخۡتَلِفُوۡنَ ٦٩

আল্লা-হু ইয়াহকুমুবাইনাকুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ফীমা-কুনতুম ফীহি তাখতালিফূন।

যে সব বিষয়ে তোমরা বিতর্ক করছ, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যে সে বিষয়ে মীমাংসা করে দিবেন।
৭০

اَلَمۡ تَعۡلَمۡ اَنَّ اللّٰہَ یَعۡلَمُ مَا فِی السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ ؕ اِنَّ ذٰلِکَ فِیۡ کِتٰبٍ ؕ اِنَّ ذٰلِکَ عَلَی اللّٰہِ یَسِیۡرٌ ٧۰

আলাম তা‘লাম আন্নাল্লা-হা ইয়া‘লামুমা-ফিছছামাই ওয়াল আরদি ইন্না যা-লিকা ফী কিতা-বিন ইন্না যা-লিকা ‘আলাল্লা-হি ইয়াছীর।

তুমি কি জান না আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সবকিছু সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা জানেন? এসব বিষয় একটি কিতাবে সংরক্ষিত আছে। নিশ্চয়ই তা আল্লাহ তাআলার পক্ষে অতি সহজ।
৭১

وَیَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَا لَمۡ یُنَزِّلۡ بِہٖ سُلۡطٰنًا وَّمَا لَیۡسَ لَہُمۡ بِہٖ عِلۡمٌ ؕ وَمَا لِلظّٰلِمِیۡنَ مِنۡ نَّصِیۡرٍ ٧١

ওয়া ইয়া‘বুদূ না মিন দূ নিল্লা-হি মা-লাম ইউনাঝঝিল বিহী ছুলতা-নাওঁ ওয়ামা-লাইছা লাহুম বিহী ‘ইলমুওঁ ওয়ামা লিজ্জা-লিমীনা মিন নাসীর।

তারা আল্লাহকে ছেড়ে এমন জিনিসের ইবাদত করে যার (মাবুদ হওয়া) সম্পর্কে আল্লাহ কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি এবং এমন জিনিসের (ইবাদত করে) যে সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই। ৩৮ (আখেরাতে) এ রকম জালেমদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না।

তাফসীরঃ

৩৮. অর্থাৎ, তাদের প্রতিমাগুলো যে বাস্তবিকই প্রভুত্বের মর্যাদা রাখে এ জ্ঞান অর্জন হতে পারে এমন কোন দলীল তাদের কাছে নেই।
৭২

وَاِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتُنَا بَیِّنٰتٍ تَعۡرِفُ فِیۡ وُجُوۡہِ الَّذِیۡنَ کَفَرُوا الۡمُنۡکَرَ ؕ  یَکَادُوۡنَ یَسۡطُوۡنَ بِالَّذِیۡنَ یَتۡلُوۡنَ عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِنَا ؕ  قُلۡ اَفَاُنَبِّئُکُمۡ بِشَرٍّ مِّنۡ ذٰلِکُمۡ ؕ  اَلنَّارُ ؕ  وَعَدَہَا اللّٰہُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ؕ  وَبِئۡسَ الۡمَصِیۡرُ ٪ ٧٢

ওয়া ইযা-তুতলা-‘আলাইহিম আ-য়া-তুনা-বাইয়িনা-তিন তা‘রিফুফী উজূহিল্লাযীনা কাফারুল মুনকারা ইয়াকা-দূ না ইয়াছতূনা বিল্লাযীনা ইয়াতলূনা ‘আলাইহিম আ-য়াতিনা- কুল আফাউনাববিউকুম বিশাররিম মিন যা-লিকুম আন্নারু ওয়া ‘আদাহাল্লা-হু ল্লাযীনা কাফারূ ওয়াবি’ছাল মাসীর।

তাদেরকে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পড়ে শোনানো হয়, তখন তুমি কাফেরদের চেহারায় বিতৃষ্ণা ভাব দেখতে পাও। যেন তাদেরকে যারা আমার আয়াতসমূহ পড়ে শোনায় তাদের উপর আক্রমণ চালাবে। বল, হে মানুষ! আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়ে বেশি অপছন্দনীয় বিষয় সম্পর্কে অবগত করব? ৩৯ তা হল আগুন। আল্লাহ কাফেরদেরকে তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তা অতি মন্দ ঠিকানা।

তাফসীরঃ

৩৯. অর্থাৎ, এখন তো তোমরা কেবল কুরআনের আয়াতসমূহকেই অপছন্দ করছ। আখেরাতে যখন জাহান্নামের আগুন সামনে এসে যাবে তখন টের পাবে প্রকৃত অপছন্দের জিনিস কাকে বলে?
৭৩

یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسۡتَمِعُوۡا لَہٗ ؕ اِنَّ الَّذِیۡنَ تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ لَنۡ یَّخۡلُقُوۡا ذُبَابًا وَّلَوِ اجۡتَمَعُوۡا لَہٗ ؕ وَاِنۡ یَّسۡلُبۡہُمُ الذُّبَابُ شَیۡئًا لَّا یَسۡتَنۡقِذُوۡہُ مِنۡہُ ؕ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالۡمَطۡلُوۡبُ ٧٣

ইয়াআইয়ুহান্না-ছুদুরিবা মাছালুন ফাছতামি‘ঊ লাহূ ইন্নাল্লায ীনা তাদ‘উনা মিন দূ নিল্লাহি লাইঁ ইয়াখলুকূযুবা-বাওঁ ওয়া লাবিজতামা‘ঊ লাহূ ওয়াইয়ঁইয়াসলুবহুমুয যুবা-বু শাইআল লাইয়াছতানকিযূহু মিনহু দা‘উফাততা-লিবুওয়াল মাতলূব।

হে মানুষ! একটি উপমা দেওয়া হচ্ছে। মনোযোগ দিয়ে শোন। তোমরা দু‘আর জন্য আল্লাহকে ছেড়ে যাদেরকে ডাক, তারা একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারে না, যদিও এ কাজের জন্য তারা সকলে একত্র হয়ে যায়। এমনকি মাছি যদি তাদের থেকে কোন জিনিস ছিনিয়ে নিয়ে যায়, তাও তারা তার থেকে উদ্ধার করতে পারে না। এরূপ দু‘আকারীও বড় দুর্বল এবং যার কাছে দু‘আ করা হয় সেও।
৭৪

مَا قَدَرُوا اللّٰہَ حَقَّ قَدۡرِہٖ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَقَوِیٌّ عَزِیۡزٌ ٧٤

মা-কাদারুল্লা-হা হাক্কা কাদরিহী ইন্নাল্লা-হা লাকাবিইইউন ‘আঝীঝ।

তারা আল্লাহর যথাযথ মর্যাদা উপলব্ধি করেনি। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ শক্তিমান, পরাক্রান্ত।
৭৫

اَللّٰہُ یَصۡطَفِیۡ مِنَ الۡمَلٰٓئِکَۃِ رُسُلًا وَّمِنَ النَّاسِ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ سَمِیۡعٌۢ بَصِیۡرٌ ۚ ٧٥

আল্লা-হু ইয়াসতাফী মিনাল মালাইকাতি রুছূলাওঁ ওয়া মিনান্না-ছি ইন্নাল্লা-হা ছামী‘উম বাসীর।

আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য হতে তাঁর বার্তাবাহক মনোনীত করেন এবং মানুষের মধ্য হতেও। ৪০ নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন।

তাফসীরঃ

৪০. কোন কোন ফিরিশতা নবীগণের কাছে ওহীর বার্তা নিয়ে আসবে এবং মানুষের মধ্যে কাকে কাকে নবুওয়াতের মর্যাদায় অভিষিক্ত করা হবে তা নির্ধারণ আল্লাহ তাআলাই করেন।
৭৬

یَعۡلَمُ مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡہِمۡ وَمَا خَلۡفَہُمۡ ؕ وَاِلَی اللّٰہِ تُرۡجَعُ الۡاُمُوۡرُ ٧٦

ইয়া‘লামুমা-বাইনা আইদীহিম ওয়ামা-খালফাহুম ওয়া ইলাল্লা-হি তুরজা‘উল উমূর।

তিনি তাদের সামনের ও পিছনের যাবতীয় বিষয় জানেন। বস্তুত আল্লাহরই কাছে যাবতীয় বিষয় ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
৭৭

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا ارۡکَعُوۡا وَاسۡجُدُوۡا وَاعۡبُدُوۡا رَبَّکُمۡ وَافۡعَلُوا الۡخَیۡرَ لَعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ ۚٛ ٧٧

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানুরকা‘উওয়াছজুদূওয়া‘বুদূরাব্বাকুম ওয়াফ‘আলুলখাইরা লা‘আল্লাকুম তুফলিহূন।

হে মুমিনগণ! রুকু কর, সিজদা কর, তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত কর এবং সৎকর্ম কর, যাতে তোমরা সফলতা অর্জন করতে পার।*
৭৮

وَجَاہِدُوۡا فِی اللّٰہِ حَقَّ جِہَادِہٖ ؕ  ہُوَ اجۡتَبٰىکُمۡ وَمَا جَعَلَ عَلَیۡکُمۡ فِی الدِّیۡنِ مِنۡ حَرَجٍ ؕ  مِلَّۃَ اَبِیۡکُمۡ اِبۡرٰہِیۡمَ ؕ  ہُوَ سَمّٰىکُمُ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ۬ۙ  مِنۡ قَبۡلُ وَفِیۡ ہٰذَا لِیَکُوۡنَ الرَّسُوۡلُ شَہِیۡدًا عَلَیۡکُمۡ وَتَکُوۡنُوۡا شُہَدَآءَ عَلَی النَّاسِ ۚۖ  فَاَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَاٰتُوا الزَّکٰوۃَ وَاعۡتَصِمُوۡا بِاللّٰہِ ؕ  ہُوَ مَوۡلٰىکُمۡ ۚ  فَنِعۡمَ الۡمَوۡلٰی وَنِعۡمَ النَّصِیۡرُ ٪ ٧٨

ওয়া জা-হিদূফিল্লা-হি হাক্কা জিহা-দিহী হুওয়াজতাবা-কুম ওয়ামা-জা‘আলা ‘আলাইকুম ফিদদীনি মিন হারাজিন মিল্লাতা আবীকুম ইবরা-হীমা হুওয়া ছাম্মাকুমুল মুছলিমীনা মিন কাবলুওয়া ফী হা-যা-লিয়াকূনার রাছূলুশাহীদান ‘আলাইকুম ওয়া তাকূনূশুহাদাআ ‘আলান্না-ছি ফাআকীমুসসালা-তা ওয়া আ-তুঝঝাকা-তা ওয়া‘ তাসিমূবিল্লা-হি হুওয়া মাওলা-কুম ফানি‘মাল মাওলা-ওয়া নি‘মান নাসীর।

এবং আল্লাহর পথে জিহাদ কর, যেভাবে জিহাদ করা উচিত। ৪১ তিনি তোমাদেরকে (তাঁর দীনের জন্য) মনোনীত করেছেন। তিনি দীনের ব্যাপারে তোমাদের প্রতি কোন সংকীর্ণতা আরোপ করেননি। নিজেদের পিতা ইবরাহীমের দীনকে দৃঢ়ভাবে আকড়ে ধর। তিনিই পূর্বেও তোমাদের নাম রেখেছিলেন মুসলিম এবং এ কিতাবেও ৪২ (অর্থাৎ কুরআনেও), যাতে এই রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হতে পারে আর তোমরা সাক্ষী হতে পার অন্যান্য মানুষের জন্য। ৪৩ সুতরাং নামায কায়েম কর, যাকাত আদায় কর এবং আল্লাহকে মজবুতভাবে আকড়ে ধর। তিনি তোমাদের অভিভাবক। দেখ কত উত্তম অভিভাবক তিনি এবং কত উত্তম সাহায্যকারী।

তাফসীরঃ

৪১. ‘জিহাদ’-এর আভিধানিক অর্থ প্রচেষ্টা চালানো ও মেহনত করা। দীনের পথে যে-কোন মেহনতকেই জিহাদ বলা হয়ে থাকে। সশস্ত্র প্রচেষ্টা তথা আল্লাহ তাআলার পথে যুদ্ধ করাও এর অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া শান্তিপূর্ণ মেহনত ও আত্মশুদ্ধিমূলক সাধনাও জিহাদই বটে।
সূরা আল হাজ্জ্ব | মুসলিম বাংলা