সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল আম্বিয়া (الأنبياء) | নবীগণ (আঃ)

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ১১২

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

اِقۡتَرَبَ لِلنَّاسِ حِسَابُہُمۡ وَہُمۡ فِیۡ غَفۡلَۃٍ مُّعۡرِضُوۡنَ ۚ ١

ইকতারাবা লিন্না-ছি হিছা-বুহুম ওয়া হুম ফী গাফলাতিম মু‘রিদূন।

মানুষের জন্য তাদের হিসাবের সময় কাছে এসে গেছে। অথচ তারা উদাসীনতায় বিমুখ হয়ে আছে।

مَا یَاۡتِیۡہِمۡ مِّنۡ ذِکۡرٍ مِّنۡ رَّبِّہِمۡ مُّحۡدَثٍ اِلَّا اسۡتَمَعُوۡہُ وَہُمۡ یَلۡعَبُوۡنَ ۙ ٢

মা-ইয়া’তীহিম মিন যিকরিম মির রাব্বিহিম মুহদাছিন ইল্লাছতামা‘উহু ওয়া হুম ইয়াল‘আবূন।

যখনই তাদের নিকট তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে নতুন কোন উপদেশ আসে, তখন তারা তামাশারত হয়ে তা এমনভাবে শোনে যে,

لَاہِیَۃً قُلُوۡبُہُمۡ ؕ وَاَسَرُّوا النَّجۡوَی ٭ۖ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا ٭ۖ ہَلۡ ہٰذَاۤ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُکُمۡ ۚ اَفَتَاۡتُوۡنَ السِّحۡرَ وَاَنۡتُمۡ تُبۡصِرُوۡنَ ٣

লা-হিয়াতান কুলূবুহুম ওয়া আছার রুন নাজওয়াল্লাযীনা জালামূ হাল হা-যা ইল্লা-বাশারুম মিছলুকুম আফাতা’তূনাছছিহরা ওয়া আনতুম তুবসিরূন।

তাদের অন্তর ফজুল কাজে মগ্ন থাকে। জালেমগণ চুপিসারে (একে অন্যের সাথে) কানাকানি করে যে, এই ব্যক্তি (অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি তোমাদের মত মানুষ ছাড়া আর কিছু? তারপরও কি তোমরা দেখে শুনে যাদুর কথাই শুনে যাবে?

قٰلَ رَبِّیۡ یَعۡلَمُ الۡقَوۡلَ فِی السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ ۫ وَہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ ٤

কা-লা রাববী ইয়া‘লামুল কাওলা ফিছছামাই ওয়াল আরদি ওয়া হুওয়াছছামী‘উল ‘আলীম।

(উত্তরে) নবী বলল, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর যাবতীয় কথাই আমার প্রতিপালক জানেন। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

তাফসীরঃ

১. কাফেরগণ গোপনে ইসলাম ও ইসলামের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে যেসব কথা বলাবলি করত, কখনও কখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হত এবং তিনি তা তাদের কাছে প্রকাশ করতেন। তখন তারা একে যাদু বলে মন্তব্য করত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বলেন, এটা যাদু নয়; বরং আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে অবতীর্ণ ওহী। তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু বলা হয় তা ভালোভাবে অবগত আছেন।

بَلۡ قَالُوۡۤا اَضۡغَاثُ اَحۡلَامٍۭ بَلِ افۡتَرٰىہُ بَلۡ ہُوَ شَاعِرٌ ۚۖ فَلۡیَاۡتِنَا بِاٰیَۃٍ کَمَاۤ اُرۡسِلَ الۡاَوَّلُوۡنَ ٥

বাল কা-লূআদগা-ছু আহলা-মিম বালিফ তারা-হু বাল হুওয়া শা-‘ইরুন ফালইয়া’তিনা-বিআ-য়াতিন কামাউরছিলাল আওওয়ালূন।

এতটুকুই নয়; বরং তারা একথাও বলে যে, এটা (অর্থাৎ কুরআন) অসংলগ্ন স্বপ্ন সম্ভার; বরং সে নিজে এটা রচনা করেছে। কিংবা সে একজন কবি। তা সে আমাদের সামনে কোন নিদর্শন নিয়ে আসুক না, যেমন পূর্ববর্তী নবীগণ (নিদর্শনসহ) প্রেরিত হয়েছিল!

তাফসীরঃ

২. ‘নিদর্শন’ দ্বারা মুজিযা (অলৌকিক বিষয়) বোঝানো হয়েছে। কাফেরদের সামনে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বহু মুজিযাই প্রকাশ পেয়েছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা নিত্য-নতুন মুজিযার দাবি করত। আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে জানাচ্ছেন, পূর্বের জাতিসমূহও তাদের মত মুজিযা দাবি করত। কিন্তু তাদের দাবি অনুযায়ী যখন তাদেরকে মুজিযা দেখানো হত, তখন যে তারা ঈমান আনত তা নয়; বরং তখন তারা নতুন বাহানা দেখাত। পরিণামে তাদেরকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। আল্লাহ তাআলার জানা আছে ফরমায়েশী মুজিযা দেখার পরও তারা ঈমান আনবে না। অথচ আল্লাহ তাআলার নীতি হল, কোন সম্প্রদায় তাদের ফরমায়েশী মুজিযা দেখার পরও যদি ঈমান না আনে, তবে তাদেরকে তিনি ধ্বংস করে দেন। কিন্তু এদেরকে তো এখনই ধ্বংস করা তাঁর অভিপ্রেত নয়। এ কারণেই তিনি তাদেরকে তাদের দাবি অনুযায়ী মুজিযা দেখাচ্ছেন না।

مَاۤ اٰمَنَتۡ قَبۡلَہُمۡ مِّنۡ قَرۡیَۃٍ اَہۡلَکۡنٰہَا ۚ اَفَہُمۡ یُؤۡمِنُوۡنَ ٦

মাআ-মানাত কাবলাহুম মিন কারইয়াতিন আহলাকনা-হা- আফাহুম ইউ’মিনূন।

অথচ তাদের পূর্বে আমি যত জনপদ ধ্বংস করেছি, তারা ঈমান আনেনি। তবে কি এরা ঈমান আনবে?

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا قَبۡلَکَ اِلَّا رِجَالًا نُّوۡحِیۡۤ اِلَیۡہِمۡ فَسۡـَٔلُوۡۤا اَہۡلَ الذِّکۡرِ اِنۡ کُنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ ٧

ওয়ামাআরছালনা-কাবলাকা ইল্লা-রিজা-লাননূহীইলাইহিম ফাছআলূআহলাযযিকরি ইন কুনতুম লা-তা‘লামূন।

(হে নবী!) আমি তোমার আগে কেবল পুরুষ মানুষকেই রাসূল করে পাঠিয়েছিলাম, যাদের প্রতি ওহী নাযিল করতাম। সুতরাং (কাফেরদেরকে বল) তোমরা নিজেরা যদি না জান তবে উপদেশ সম্পর্কে জ্ঞাতদেরকে জিজ্ঞেস কর।

তাফসীরঃ

৪. ‘উপদেশ সম্পর্কে জ্ঞাতদের’ দ্বারা কিতাবীদেরকে বোঝানো উদ্দেশ্য। অর্থাৎ পূর্ববর্তী নবীগণ সম্পর্কে তোমাদের নিজেদের যদি জানা না থাকে, তবে কিতাবীদেরকে জিজ্ঞেস কর। তারা এ কথার সমর্থন করবে যে, সমস্ত নবী-রাসূল মানুষই ছিলেন, মানুষের কাছে মানুষকেই নবী করে পাঠানো হয়েছিল এবং তাও নারীকে নয়, পুরুষকেই।

وَمَا جَعَلۡنٰہُمۡ جَسَدًا لَّا یَاۡکُلُوۡنَ الطَّعَامَ وَمَا کَانُوۡا خٰلِدِیۡنَ ٨

ওয়ামা-জা‘আলনা-হুম জাছাদাল্লা-ইয়া‘কুলূনাততা‘আ-মা ওয়ামা-কা-নূখা-লিদীন।

এবং আমি তাদের (অর্থাৎ রাসূলদের)-কে এমন দেহবিশিষ্ট বানাইনি, যারা খাবার খাবে না। আর তারা চিরজীবীও ছিল না।

ثُمَّ صَدَقۡنٰہُمُ الۡوَعۡدَ فَاَنۡجَیۡنٰہُمۡ وَمَنۡ نَّشَآءُ وَاَہۡلَکۡنَا الۡمُسۡرِفِیۡنَ ٩

ছু ম্মা সাদাকনা-হুমুল ওয়া‘দা ফাআনজাইনা-হুম ওয়া মান নাশাউ ওয়া আহলাকনাল মুছরিফীন।

অতঃপর আমি তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা সত্যে পরিণত করি, অর্থাৎ আমি তাদেরকেও রক্ষা করি এবং (তাদের ছাড়া অন্য) যাদেরকে ইচ্ছা করেছিলাম তাদেরকেও। আর যারা সীমালংঘন করেছিল তাদেরকে করি ধ্বংস।
১০

لَقَدۡ اَنۡزَلۡنَاۤ اِلَیۡکُمۡ کِتٰبًا فِیۡہِ ذِکۡرُکُمۡ ؕ  اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ ٪ ١۰

লাকাদ আনঝালনাইলাইকুম কিতা-বান ফীহি যিকরুকুম আফালা-তা‘কিলূন।

(পরিশেষে) আমি তোমাদের প্রতি নাযিল করেছি এমন এক কিতাব, যার ভেতর তোমাদের জন্য উপদেশ রয়েছে। তবুও কি তোমরা বুঝবে না?

তাফসীরঃ

৫. এ আয়াতের তরজমা এভাবেও করা যেতে পারে যে, ‘আমি তোমাদের প্রতি এমন এক কিতাব নাযিল করেছি, যার ভেতর তোমাদের সুখ্যাতির ব্যবস্থা আছে’। তখন এর ব্যাখ্যা হল, আমি এ কিতাব আরবী ভাষায় নাযিল করেছি। এতে সরাসরি তোমাদের আরবদেরকেই সম্বোধন করা হয়েছে। নিশ্চয়ই এটা তোমাদের জন্য অতি মর্যাদার বিষয় যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর সার্বজনীন সর্বশেষ কিতাব তোমাদের প্রতি নাযিল করেছেন এবং তাও তোমাদেরই ভাষায়। স্বাভাবিকভাবেই এর ফলে পৃথিবীর অস্তিত্ব যত দিন থাকবে তত দিন তোমাদের সুনাম-সুখ্যাতিও অব্যাহত থাকবে।
১১

وَکَمۡ قَصَمۡنَا مِنۡ قَرۡیَۃٍ کَانَتۡ ظَالِمَۃً وَّاَنۡشَاۡنَا بَعۡدَہَا قَوۡمًا اٰخَرِیۡنَ ١١

ওকাম কাসামনা- মিন কারইয়াতিন কা-নাত জা-লিমাতাওঁ ওয়া আনশা’না- বা‘দাহাকাওমান আ-খারীন।

আমি কত জনপদ পিষ্ট করেছি, যারা ছিল জালেম! তাদের পর আমি অন্যান্য জাতি সৃষ্টি করেছি।
১২

فَلَمَّاۤ اَحَسُّوۡا بَاۡسَنَاۤ اِذَا ہُمۡ مِّنۡہَا یَرۡکُضُوۡنَ ؕ ١٢

ফালাম্মাআহাছছূবা’ছানাইযা-হুম মিনহা-ইয়ারকুদূন।

অতঃপর তারা যখন আমার শাস্তির পূর্বাভাষ পেল, তখন তারা দ্রুত সেখান থেকে পালাতে লাগল।
১৩

لَا تَرۡکُضُوۡا وَارۡجِعُوۡۤا اِلٰی مَاۤ اُتۡرِفۡتُمۡ فِیۡہِ وَمَسٰکِنِکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تُسۡـَٔلُوۡنَ ١٣

লা- তারকুদূ ওয়ারজি‘উ ইলা-মাউতরিফতুম ফীহি ওয়া মাছা-কিনিকুম লা‘আল্লাকুম তুছআলূন।

(তাদেরকে বলা হয়েছিল) পালিও না। বরং ফিরে এসো তোমাদের সেই ঘর-বাড়ি ও ভোগ-বিলাসের উপকরণের দিকে, যার মজা তোমরা লুটছিলে। হয়ত তোমাদেরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হবে।

তাফসীরঃ

৬. একথা বলা হয়েছে তাদের প্রতি পরিহাসস্বরূপ। অর্থাৎ তোমরা যখন ভোগ-বিলাসের ভেতর নিমজ্জিত ছিলে, তখন তোমাদের চাকর-বাকর তোমাদের হুকুম জানতে চাইত, কখন কী করতে হবে তা জিজ্ঞেস করত। সুতরাং এখন পালাও কেন, বাড়িতে ফিরে এসো, এসে দেখ তোমাদের চাকর-বাকর এখনও তোমাদের হুকুম জানতে চায় কি না। বস্তুত সেই অবকাশ আর নেই। তোমরা ফিরে আসলে তোমাদের ঘর-বাড়ির কোন চিহ্নই খুঁজে পাবে না। তোমাদের বিলাসিতার উপকরণও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আর কোথায়ই বা সেই চাকর-বাকর, যারা তোমাদের হুকুমের অপেক্ষায় থাকত!
১৪

قَالُوۡا یٰوَیۡلَنَاۤ اِنَّا کُنَّا ظٰلِمِیۡنَ ١٤

কা-লূইয়া-ওয়াইলানাইন্না-কুন্না-জা-লিমীন।

তারা বলল, হায় আমাদের দুর্ভাগ্য! প্রকৃতপক্ষে আমরাই জালেম ছিলাম।
১৫

فَمَا زَالَتۡ تِّلۡکَ دَعۡوٰىہُمۡ حَتّٰی جَعَلۡنٰہُمۡ حَصِیۡدًا خٰمِدِیۡنَ ١٥

ফামা-ঝা-লাত তিলকা দা‘ওয়া-হুম হাত্তা-জা‘আলনা-হুম হাসীদান খা-মিদীন।

তাদের এই চিৎকারই চলতে থাকে যতক্ষণ না আমি তাদেরকে করে ফেলি কর্তিত শস্য, নির্বাপিত আগুনতুল্য।
১৬

وَمَا خَلَقۡنَا السَّمَآءَ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَیۡنَہُمَا لٰعِبِیۡنَ ١٦

ওয়ামা-খালাকনাছছামাআ ওয়াল আরদা ওয়ামা-বাইনাহুমা-লা-‘ইবীন।

আমি আকাশ, পৃথিবী ও এ দুয়ের মাঝখানে যা-কিছু আছে, তা খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।

তাফসীরঃ

৭. যারা পার্থিব জীবনকেই শেষ কথা মনে করে, আখেরাতের অস্তিত্ব স্বীকার করে না, তাদের কথার অর্থ দাঁড়ায়, আল্লাহ তাআলা বিশ্ব জগতকে এমনিই সৃষ্টি করেছেন, এর পেছনে তাঁর বিশেষ কোন উদ্দেশ্য নেই। এটা তার একটা খেলা মাত্র। তারা যেন বলছে, এ দুনিয়ায় যা-কিছু ঘটছে পরবর্তীতে কখনও এর কোন ফলাফল প্রকাশ পাবে না। না কেউ তার সৎকাজের কোন পুরস্কার পাবে, না কাউকে তার অসৎ কাজের শাস্তি ভোগ করতে হবে। বলার দরকার পড়ে না, আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে এরূপ ধারণা পোষণ গুরুতর বেয়াদবী ও চরম ধৃষ্টতা।
১৭

لَوۡ اَرَدۡنَاۤ اَنۡ نَّتَّخِذَ لَہۡوًا لَّاتَّخَذۡنٰہُ مِنۡ لَّدُنَّاۤ ٭ۖ اِنۡ کُنَّا فٰعِلِیۡنَ ١٧

লাও আরাদনাআন নাত্তাখিযা লাহওয়াল্লাত্তাখাযনা -হু মিল্লাদুন্না ইন কুন্না-ফা-‘ইলীন ।

আমি যদি কোন খেলার ব্যবস্থা করতে চাইতাম, তবে আমি নিজের কাছ থেকেই তার কোন ব্যবস্থা করে নিতাম একান্ত যদি আমার তা করতেই হত।

তাফসীরঃ

৮. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা কোন রকমের খেলা করতে চাচ্ছেন- এ রকমের ধারণা তাঁর সম্পর্কে করা বেহুদা অর্বাচীনতা। এই অসম্ভবকে যদি সম্ভব ধরেও নেওয়া হয় এবং বলা হয় একটু আনন্দ-স্ফূর্তি করাই তার উদ্দেশ্য ছিল (নাউযুবিল্লাহ), তবে সেজন্য এই বিস্ময়কর মহাবিশ্ব সৃষ্টির কী প্রয়োজন ছিল? তিনি তো তাঁর নিজের কাছে আগে থেকেই যেসব ফিরিশতা বা অন্যান্য সৃষ্টি আছে তাদের দ্বারাই খেলার কোন ব্যবস্থা করে নিতে পারতেন।
১৮

بَلۡ نَقۡذِفُ بِالۡحَقِّ عَلَی الۡبَاطِلِ فَیَدۡمَغُہٗ فَاِذَا ہُوَ زَاہِقٌ ؕ وَلَکُمُ الۡوَیۡلُ مِمَّا تَصِفُوۡنَ ١٨

বাল নাকযিফুবিলহাক্কি‘আলাল বা-তিলি ফাইয়াদমাগুহূফাইযা-হুওয়া ঝা-হিকুও ওয়ালাকুমুল ওয়াইলুমিম্মা-তাসিফূন।

বরং আমি সত্যকে মিথ্যার উপর নিক্ষেপ করি, যা মিথ্যার মাথা গুঁড়ো করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তোমরা যে সব কথা বলছ, তার জন্য দুর্ভোগ রয়েছে তোমাদেরই।

তাফসীরঃ

৯. অর্থাৎ খেলাধুলা ও আনন্দ-স্ফূর্তি করা আমার কাজ নয়। আমি যা-কিছু করি তা হক ও সত্যই হয়ে থাকে। তার বিপরীতে কোন কিছু দাঁড়ালে তা হয় বাতিল ও মিথ্যা। আমি ‘হক’-এর দ্বারা বাতিলকে চূর্ণ করি। ফলে বাতিল নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
১৯

وَلَہٗ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ  وَمَنۡ عِنۡدَہٗ لَا یَسۡتَکۡبِرُوۡنَ عَنۡ عِبَادَتِہٖ وَلَا یَسۡتَحۡسِرُوۡنَ ۚ ١٩

ওয়া লাহূমান ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি;ওয়ামান ‘ইন্দাহূলা-ইয়াছতাকবিরূনা ‘আন ‘ইবা-দাতিহী ওয়ালা-ইয়াছতাহছিরূন।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যারাই আছে, সকলেই আল্লাহর। আর যারা (অর্থাৎ যে সকল ফেরেশতা) তাঁর কাছে আছে, তারা অহংকারবশত তাঁর ইবাদত থেকে বিমুখ হয় না এবং তারা ক্লান্তিও বোধ করে না।
২০

یُسَبِّحُوۡنَ الَّیۡلَ وَالنَّہَارَ لَا یَفۡتُرُوۡنَ ٢۰

ইউছাব্বিহূ নাল লাইলা ওয়ান নাহা-রা লা-ইয়াফতুরূন।

তারা রাত-দিন তার তাসবীহতে লিপ্ত থাকে, কখনও অবসন্ন হয় না।
২১

اَمِ اتَّخَذُوۡۤا اٰلِہَۃً مِّنَ الۡاَرۡضِ ہُمۡ یُنۡشِرُوۡنَ ٢١

আমিততাখাযূআ-লিহাতাম মিনাল আরদিহুম ইউনশিরূন।

তবে কি তারা যমীন থেকে এমন মাবুদ বানিয়েছে, যারা নতুন জীবন দিতে পারে? ১০

তাফসীরঃ

১০. অধিকাংশ মুফাসসির ‘নতুন জীবন দান’-এর ব্যাখ্যা করেছেন, মৃত্যুর পর জীবন দান করা। অর্থাৎ মুশরিকগণ যেই দেব-দেবীকে প্রভুত্বের মর্যাদা দান করেছে, তারা কি মৃতদেরকে নতুন জীবন দান করার ক্ষমতা রাখে? যদিও মুশরিকগণ মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে স্বীকার করত না, কিন্তু যখন কোন সত্তাকে প্রভুত্বের মর্যাদা দেওয়া হবে, তখন যুক্তির দাবি তো এটাই যে, সে সত্তা নতুন জীবন দানেও সক্ষম হবে। তা মুশরিকরা কি দেব-দেবীকে এরূপ ক্ষমতার অধিকারী বলে বিশ্বাস করে? কিন্তু কোন কোন মুফাসসির নতুন জীবন দানের ব্যাখ্যা করেছেন এরূপ যে, মুশরিকদের বিশ্বাস ছিল দেব-দেবী ভূমিকে নতুন জীবন দান করে, ফলে তা সবুজ-শ্যামল হয়ে ওঠে তাদের এ বিশ্বাসের ভিত্তি হল ‘ঈশ্বর দু’জন’এই মতবাদের উপর। এক শ্রেণীর কাফের বিশ্বাস করত আকাশের ঈশ্বর একজন এবং পৃথিবীর আরেকজন। আল্লাহ তাআলার প্রভুত্ব আকাশে আর দেব-দেবীর পৃথিবীতে। এই অবাস্তব ধারণা থেকেই তাদের এ বিশ্বাসের উৎপত্তি। সেটাকেই রদ করে বলা হয়েছে, তোমরা যাদেরকে পৃথিবীর প্রভু মনে করছ, তারা কি পৃথিবীকে সঞ্জীবিত করার ক্ষমতা রাখে?
২২

لَوۡ کَانَ فِیۡہِمَاۤ اٰلِہَۃٌ اِلَّا اللّٰہُ لَفَسَدَتَا ۚ فَسُبۡحٰنَ اللّٰہِ رَبِّ الۡعَرۡشِ عَمَّا یَصِفُوۡنَ ٢٢

লাও কা-না ফীহিমাআ-লিহাতুন ইল্লাল্লা-হু লাফাছাদাতা- ফাছুবহা-নাল্লা-হি রাব্বিল ‘আরশি ‘আম্মা-ইয়াসিফূন।

যদি আসমান ও যমীনে আল্লাহ ছাড়া অন্য মাবুদ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত। ১১ সুতরাং তারা যা বলছে, আরশের মালিক আল্লাহ তা থেকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র।

তাফসীরঃ

১১. এটা তাওহীদের একটি সহজ-সরল প্রমাণ। এর ব্যাখ্যা হল, বিশ্বজগতে যদি একের বেশি প্রভু থাকত, তবে প্রত্যেক প্রভু স্বতন্ত্র প্রভুত্বের অধিকারী হত এবং কেউ কারও অধীন হত না। সে ক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেকের সিদ্ধান্ত আলাদা হতে পারত, ফলে বিরোধ অনিবার্য হয়ে যেত। যখন দু’জনের সিদ্ধান্তে বিরোধ দেখা দিত, তখন তাদের একজন কি অন্যজনের কাছে হার মানত? হার মানলে সে কেমন ঈশ্বর হল, যে অন্যের বশ্যতা স্বীকার করে? আর যদি কেউ হার না মানে; বরং প্রত্যেকেই আপন-আপন সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সচেষ্ট হয়, তবে পরস্পর বিরোধী সিদ্ধান্ত কার্যকর করার দ্বারা আসমান-যমীনের শৃঙ্খলা বিপর্যস্ত হয়ে যেত। এ দলীলের অন্য রকম ব্যাখ্যাও করা যায়। যেমন, যারা আসমান ও যমীনের জন্য ভিন্ন-ভিন্ন ঈশ্বরের কথা বলে, তারা কি বিশ্ব জগতের ব্যবস্থাপনার প্রতি দৃষ্টিপাত করে না? তা করলে তাদের এ আকীদা আপনিই বাতিল সাব্যস্ত হত। কেননা লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সমগ্র জগত একই নিয়ম নিগড়ে বাঁধা, একই সূত্রে গাথা। চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র থেকে শুরু করে নদী-সাগর, পাহাড়-পর্বত, উদ্ভিদ ও জড় পদার্থ পর্যন্ত সব কিছুই সুসমঞ্জস; কোথাও একটু বৈসাদৃশ্য নেই। এটা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে এগুলো একই ইচ্ছার প্রতিফলন এবং একই পরিকল্পনার অধীনে এরা নিজ-নিজ কাজে নিয়োজিত। আসমান ও যমীনের মালিক আলাদা হলে মহাবিশ্বের এই ঐকতান সম্ভব হত না, সর্বত্র এমন সাজুয্য থাকত না। বরং নানা ক্ষেত্রে নানা রকম অসঙ্গতি দেখা দিত। ফলে বিশ্ব জগতে ঘটত মহা বিপর্যয়।
২৩

لَا یُسۡـَٔلُ عَمَّا یَفۡعَلُ وَہُمۡ یُسۡـَٔلُوۡنَ ٢٣

লা-ইউছআলু‘আম্মা-ইয়াফ‘আলুওয়া হুম ইউছআলূন।

তিনি যা-কিছু করেন, সেজন্য কারও কাছে তাঁর জবাবদিহি করতে হবে না, কিন্তু সকলকেই তাঁর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ১২

তাফসীরঃ

১২. কেননা আল্লাহ তাআলা সকলের মালিক ও মনিব। মালিক নিজ মালিকানাধীন জিনিসে যা ইচ্ছা করতে পারে। আর তিনি যেহেতু সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময় তার নিজ জ্ঞান-প্রজ্ঞা অনুযায়ী তিনি যা করেন যথার্থই করে থাকেন। সুতরাং তার কাজে জবাবদিহিতার প্রশ্নই আসে না। পক্ষান্তরে মানুষ যেহেতু তাঁর বান্দা। তাদের উপর তাঁর পক্ষ হতে বিভিন্ন দায়-দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তাই সে দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে তাদেরকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। এক হাদীসে আছে, ‘জেনে রেখ, তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই নিজ দায়িত্ব সম্পকে জিজ্ঞেস করা হবে’। -অনুবাদক
২৪

اَمِ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اٰلِہَۃً ؕ قُلۡ ہَاتُوۡا بُرۡہَانَکُمۡ ۚ ہٰذَا ذِکۡرُ مَنۡ مَّعِیَ وَذِکۡرُ مَنۡ قَبۡلِیۡ ؕ بَلۡ اَکۡثَرُہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ۙ الۡحَقَّ فَہُمۡ مُّعۡرِضُوۡنَ ٢٤

আমিত তাখাযূমিন দূ নিহীআ-লিহাতান কুল হা-তূবুরহা-নাকুম হা-যা-যিকরু মাম মা‘ইয়া ওয়া যিকরু মান কাবলী বাল আকছারুহুম লা-ইয়া‘লামূনাল হাক্কা ফাহুম মু‘রিদূ ন।

তবে কি তারা তাকে ছেড়ে অন্য সব মাবুদ গ্রহণ করেছে? (হে নবী!) তাদেরকে বল, নিজেদের দলীল পেশ কর। এই তো (বর্তমান) রয়েছে (কুরআন, যা) আমার সঙ্গে যারা আছে তাদের জন্য উপদেশবাণী এবং রয়েছে (পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ, যা) আমার পূর্বে যারা ছিল তাদের উপদেশবাণী। ১৩ কিন্তু বাস্তবতা হল, তাদের অধিকাংশেই সত্যে বিশ্বাস করে না, ফলে তারা মুখ ফিরিয়ে রেখেছে।

তাফসীরঃ

১৩. আল্লাহ তাআলা যে এক, এর এক বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ তো পূর্বের আয়াতে বর্ণিত হয়েছে এবং উপরের টীকায় তার ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। এবার এ আয়াতে নকলী (বর্ণনানির্ভর) দলীল বর্ণিত হচ্ছে যে, সমস্ত আসমানী কিতাবে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে যে বিষয়টা বর্ণিত হয়েছে, তা হল তাওহীদের আকীদা। কুরআন মাজীদে তো বটেই, এর আগেও যত কিতাব নাযিল করা হয়েছে, এ আকীদাই ছিল সবগুলোর প্রধান প্রতিপাদ্য। [এ কালের উপদেশবাণী কুরআনও সামনে আছে। এতে চোখ বুলালে তোমরা তাওহীদের শিক্ষাই পাবে। আর পূর্বে যেসব উপদেশবাণী নাযিল হয়েছিল, যেমন তাওরাত, যাবূর, ইনজীল ইত্যাদি, তাতে হাজারও বিকৃতি সত্ত্বেও ভালোভাবে লক্ষ করলে তাওহীদের কথাই পাবে। তা সত্ত্বেও কিসের ভিত্তিতে তোমরা শিরকের পথে চলছ? উল্লেখ্য, هٰذا দ্বারা ইশারা করা হয়েছে কুরআন ও অন্যান্য আসমানী কিতাবের প্রতি। এ ছাড়া এর ইঙ্গিত তাওহীদের প্রতিও হতে পারে, যে সম্পর্কে আলোচনা চলছে। সে হিসেবে তরজমা হবে ‘ইহাই (অর্থাৎ এই একত্ববাদের কথাই) আমার সঙ্গে যারা আছে তাদের জন্য উপদেশ এবং ইহাই উপদেশ ছিল আমার পূর্ববর্তীদের জন্য’। -অনুবাদক]
২৫

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِکَ مِنۡ رَّسُوۡلٍ اِلَّا نُوۡحِیۡۤ اِلَیۡہِ اَنَّہٗ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّاۤ اَنَا فَاعۡبُدُوۡنِ ٢٥

ওয়ামাআরছালনা-মিন কাবলিকা মির রাছূলিন ইল্লা-নূহীইলাইহি আন্নাহূলাইলা-হা ইল্লাআনা-ফা‘বুদূন।

আমি তোমার পূর্বে এমন কোন রাসূল পাঠাইনি, যার প্রতি আমি এই ওহী নাযিল করিনি যে, ‘আমি ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই। সুতরাং আমারই ইবাদত কর’।
২৬

وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحۡمٰنُ وَلَدًا سُبۡحٰنَہٗ ؕ  بَلۡ عِبَادٌ مُّکۡرَمُوۡنَ ۙ ٢٦

ওয়া কা-লুততাখাযার রাহমা-নুওয়ালাদান ছুবহা-নাহূ বাল ‘ইবা-দুম মুকরামূন।

তারা বলে, রহমান (আল্লাহ) সন্তান গ্রহণ করেছেন ১৪ (আর তাঁর সন্তান হল ফিরিশতাগণ)। সুবহানাল্লাহ! তারা তো তাঁর সম্মানিত বান্দা।

তাফসীরঃ

১৪. আরবগণ ফিরিশতাদেরকে আল্লাহ তাআলার কন্যা বলত। আয়াতে সেটাই রদ করা হয়েছে।
২৭

لَا یَسۡبِقُوۡنَہٗ بِالۡقَوۡلِ وَہُمۡ بِاَمۡرِہٖ یَعۡمَلُوۡنَ ٢٧

লা-ইয়াছবিকূ নাহূবিলকাওলি ওয়া হুম বিআমরিহী ইয়া‘মালূন।

তারা তাঁকে ডিঙিয়ে কোন কথা বলে না এবং তারা তাঁর আদেশ মতই কাজ করে।
২৮

یَعۡلَمُ مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡہِمۡ وَمَا خَلۡفَہُمۡ وَلَا یَشۡفَعُوۡنَ ۙ اِلَّا لِمَنِ ارۡتَضٰی وَہُمۡ مِّنۡ خَشۡیَتِہٖ مُشۡفِقُوۡنَ ٢٨

ইয়া‘লামুমা-বাইনা আইদীহিম ওয়ামা-খালফাহুম ওয়ালা-ইয়াশফা‘ঊনা ইল্লালিমানিরতাদা-ওয়া হুম মিন খাশইয়াতিহী মুশফিকূন।

তিনি তাদের সম্মুখ ও পিছনের সবকিছু জানেন। তারা কারও জন্য সুপারিশ করতে পারে না, কেবল তাদের ছাড়া, যাদের জন্য আল্লাহর পছন্দ হয়। তারা তাঁর ভয়ে থাকে ভীত।
২৯

وَمَنۡ یَّقُلۡ مِنۡہُمۡ اِنِّیۡۤ اِلٰہٌ مِّنۡ دُوۡنِہٖ فَذٰلِکَ نَجۡزِیۡہِ جَہَنَّمَ ؕ  کَذٰلِکَ نَجۡزِی الظّٰلِمِیۡنَ ٪ ٢٩

ওয়া মাইঁ ইয়াকুল মিনহুম ইন্নীইলা-হুম মিন দূ নিহী ফাযা-লিকা নাজঝীহি জাহান্নামা কাযা-লিকা নাজঝিজ্জা-লিমীন।

তাদের মধ্যে কেউ যদি এমন কথা বলেও (যদিও সেটা অসম্ভব) যে, ‘আল্লাহ ছাড়া আমিও একজন মাবুদ’, তবে আমি তাকে জাহান্নামের শাস্তি দেব। এরূপ জালেমদেরকে আমি এভাবেই শাস্তি দেই।
৩০

اَوَلَمۡ یَرَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَنَّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ کَانَتَا رَتۡقًا فَفَتَقۡنٰہُمَا ؕ وَجَعَلۡنَا مِنَ الۡمَآءِ کُلَّ شَیۡءٍ حَیٍّ ؕ اَفَلَا یُؤۡمِنُوۡنَ ٣۰

আওয়ালাম ইয়ারাল্লাযীনা কাফারূআন্নছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা কা-নাতা-রাতকান ফাফাতাকনা-হুমা- ওয়া জা‘আলনা-মিনাল মাই কুল্লা শাইয়িন হাইয়ি আফালাইউ’মিনূন।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা কি জানে না আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী রুদ্ধ ছিল, তারপর আমি তা উন্মুক্ত করি ১৫ এবং পানি হতে প্রাণবান সবকিছু সৃষ্টি করি? ১৬ তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?

তাফসীরঃ

১৫. এ আয়াত পরিষ্কার করে দিয়েছে, প্রতিটি প্রাণীর সৃজনে পানির কিছু না কিছু ভূমিকা আছে।
৩১

وَجَعَلۡنَا فِی الۡاَرۡضِ رَوَاسِیَ اَنۡ تَمِیۡدَ بِہِمۡ ۪ وَجَعَلۡنَا فِیۡہَا فِجَاجًا سُبُلًا لَّعَلَّہُمۡ یَہۡتَدُوۡنَ ٣١

ওয়া জা‘আলনা-ফিল আরদিরাওয়া-ছিয়া আন তামীদা বিহিম ওয়া জা‘আলনা ফীহাফিজাজান ছুবুলাল লা‘আল্লাহুম ইয়াহতাদূ ন।

আমি পৃথিবীতে দৃঢ়ভাবে স্থাপিত পাহাড় সৃষ্টি করেছি, যাতে তাদেরকে নিয়ে তা দোল না খায় ১৭ এবং তাতে তৈরি করেছি প্রশস্ত রাস্তা, যাতে তারা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারে।

তাফসীরঃ

১৭. কুরআন মাজীদ একাধিক জায়গায় উল্লেখ করেছে, প্রথমে যখন পৃথিবীকে সৃষ্টি করা হয়, তখন তা দোল খাচ্ছিল। তাই আল্লাহ তাআলা বড় বড় পাহাড়-পর্বত তার উপর স্থাপিত করেন। ফলে পৃথিবী স্থির হয়ে যায়। শত-শত বছর পরে এসে আধুনিক বিজ্ঞানও স্বীকার করছে যে, বড়-বড় মহাদেশ এখনও সাগরের পানিতে মৃদু সঞ্চরণ করছে, কিন্তু সেটা এতই মৃদু যা সাধারণভাবে অনুভব করা যায় না।
৩২

وَجَعَلۡنَا السَّمَآءَ سَقۡفًا مَّحۡفُوۡظًا ۚۖ وَّہُمۡ عَنۡ اٰیٰتِہَا مُعۡرِضُوۡنَ ٣٢

ওয়া জা‘আলনাছছামাআ ছাকফাম মাহফূজাওঁ ওয়া হুম ‘আন আ-য়া-তিহা মু‘রিদূ ন।

এবং আমি আকাশকে করেছি এক সুরক্ষিত ছাদ। ১৮ কিন্তু তারা আকাশের নিদর্শনসমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে।

তাফসীরঃ

১৮. অর্থাৎ ছাদসদৃশ আকাশকে এমনই সুরক্ষিত করেছেন, যা ধ্বসে যাওয়ার বা ভেঙ্গে-চুরে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। এমনিভাবে শয়তানের হস্তক্ষেপ থেকেও তা সংরক্ষিত। শয়তান তাতে পৌঁছতেই পারবে না।
৩৩

وَہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَ الَّیۡلَ وَالنَّہَارَ وَالشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ ؕ کُلٌّ فِیۡ فَلَکٍ یَّسۡبَحُوۡنَ ٣٣

ওয়াহুয়াল্লাযী খালাকাল লাইলা-ওয়ান্নাহা-রা ওয়াশ শামছা ওয়াল কামারা কুল্লুন ফী ফালাকিইঁ ইয়াছবাহূন।

এবং তিনিই সেই সত্তা, যিনি রাত, দিন, সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টি করেছেন। প্রত্যেকেই কোনও না কোনও কক্ষপথে সাঁতার কাটছে। ১৯

তাফসীরঃ

১৯. ‘কক্ষপথে সাঁতার কাটছে’। কুরআন মাজীদে ব্যবহৃত শব্দ হল فَلَكٌ যার প্রকৃত অর্থ বৃত্ত। এ আয়াত যখন নাযিল হয়েছে, তখন জ্যোতির্বিজ্ঞানে টলেমিক মতবাদের জয়-জয়কার। টলেমির মতে চন্দ্র, সূর্য ও অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্র আকাশমণ্ডলের সাথে সংস্থাপিত। ফলে আকাশের ঘুর্ণনের সাথে নক্ষত্ররাজিও অনিবার্যভাবে ঘুরছে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে যে শব্দমালা ব্যবহার করেছেন, তা টলেমির চিন্তাধারার সাথে পুরোপুরি খাপ খায় না। বরং এ আয়াতের বক্তব্য মতে প্রতিটি নক্ষত্রের নিজস্ব গতিপথ আছে। প্রত্যেকে আপন-আপন গতিপথে সন্তরণ করছে। ‘সন্তরণ করা’ শব্দটি বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। এর দ্বারা এটাই প্রকাশ যে, তারা শূন্যমণ্ডলে আবর্তন করছে। ‘গ্রহ-নক্ষত্ররা শূন্যমণ্ডলে আবর্তন করছে’ এই যে তত্ত্ব কুরআন মাজীদ বহু পূর্বেই জানিয়ে রেখেছে, বিজ্ঞানের এখানে পৌঁছতে অনেক দিন লেগেছে।
৩৪

وَمَا جَعَلۡنَا لِبَشَرٍ مِّنۡ قَبۡلِکَ الۡخُلۡدَ ؕ اَفَا۠ئِنۡ مِّتَّ فَہُمُ الۡخٰلِدُوۡنَ ٣٤

ওয়ামা-জা‘আলনা-লিবাশারিম মিন কাবলিকাল খুলদা আফাইম মিত্তা ফাহুমুল খা-লিদূ ন।

(হে নবী!) আমি তোমার আগেও কোন মানুষের জন্য চিরদিন বেঁচে থাকার ফায়সালা করিনি। ২০ সুতরাং তোমার মৃত্যু হলে তারা কি চিরজীবী হয়ে থাকবে?

তাফসীরঃ

২০. সূরা ‘তূর’ (৫২ : ৩০)-এ আছে, মক্কার কাফেরগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলত, আমরা তার মৃত্যুর অপেক্ষা করছি। বোঝাতে চাচ্ছিল, তাঁর ইন্তিকালে তারা আনন্দ উদযাপন করবে। তারই উত্তরে এ আয়াত নাযিল হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মরণ সকলেরই হবে। যারা আনন্দ উদযাপনের জন্য উদ্গ্রীব হয়ে আছে, তারা নিজেরা কি মৃত্যু এড়াতে পারবে?
৩৫

کُلُّ نَفۡسٍ ذَآئِقَۃُ الۡمَوۡتِ ؕ وَنَبۡلُوۡکُمۡ بِالشَّرِّ وَالۡخَیۡرِ فِتۡنَۃً ؕ وَاِلَیۡنَا تُرۡجَعُوۡنَ ٣٥

কুল্লুনাফছিন যাইকাতুল মাওতি ওয়া নাবলূকুম বিশশাররি ওয়াল খাইরি ফিতনাতাও ওয়া ইলাইনা-তুর জা‘ঊন ।

জীবমাত্রকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আমি পরীক্ষা করার জন্য তোমাদেরকে মন্দ ও ভালোতে লিপ্ত করি, এবং ২১ তোমাদের সকলকে আমারই কাছে ফিরিয়ে আনা হবে।

তাফসীরঃ

২১. অর্থাৎ আমি যে মানুষকে সুখ ও দুঃখ, বিপদ ও স্বস্তি, সুস্বাস্থ্য ও রুগ্নাবস্থা, দৈন্য ও সম্পন্নতা ইত্যাদি ভালো-মন্দ অবস্থাসমূহ দিয়ে থাকি, এর উদ্দেশ্য মানুষকে পরীক্ষা করা। অর্থাৎ যাচাই করে দেখা কে মন্দ অবস্থায় সবর করে আর ভালো অবস্থায় শুকর করে আর কে মন্দ অবস্থায় অধৈর্য হয়ে তাকদীরকে দোষারোপ করে ভালো অবস্থায় উল্লসিত হয়ে অকৃতজ্ঞতা ও অহমিকায় লিপ্ত হয়। মোটকথা পরীক্ষার ভেতর আছে সকলেই এবং সে দৃষ্টিতে তোমাদের কেউ কারও অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ নও। একদিন তোমাদের সকলকেই আমার কাছে ফিরে আসতে হবে। শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপিত হবে সেদিনই। সুতরাং যে ব্যক্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে, অর্থাৎ ভালো অবস্থায় শুকর ও মন্দ অবস্থায় সবর করবে সেই আল্লাহর কাছে শ্রেষ্ঠ গণ্য হবে এবং যে ব্যক্তির অবস্থা হবে এর বিপরীত সে দুনিয়ায় যে হালেই থাকুক এবং নিজের ও অন্যদের দৃষ্টিতে যে মান-মর্যাদারই হোক আল্লাহর কাছে তার কোন মূল্য থাকবে না। -অনুবাদক
৩৬

وَاِذَا رَاٰکَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِنۡ یَّتَّخِذُوۡنَکَ اِلَّا ہُزُوًا ؕ اَہٰذَا الَّذِیۡ یَذۡکُرُ اٰلِہَتَکُمۡ ۚ وَہُمۡ بِذِکۡرِ الرَّحۡمٰنِ ہُمۡ کٰفِرُوۡنَ ٣٦

ওয়া ইযা-রাআ-কাল্লাযীনা কাফারূইয়ঁইয়াত্তাখিযূনাকা ইল্লা-হুঝুওয়ান আহাযাল্লাযী ইয়াযকুরু আ-লিহাতাকুম ওয়া হুম বিযিকরির রাহমা-নি হুম কা-ফিরূন।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা যখন তোমাকে দেখে তখন তাদের কাজ হয় কেবল তোমাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা। (তারা বলে,) এই লোকই কি সেই, যে তোমাদের উপাস্যদের সমালোচনা করে (অর্থাৎ বলে, এদের কোন ভিত্তি নেই)। অথচ তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) অবস্থা হল, তারা ‘রহমান’-এর উল্লেখ করার বিরোধী। ২২

তাফসীরঃ

২২. অর্থাৎ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেব-দেবীর প্রভুত্ব যে ভিত্তিহীন একথা প্রচার করলে তারা এটাকে তাঁর একটা বড় দোষ গণ্য করছিল এবং বলছিল, তিনি আমাদের উপাস্যদের সমালোচনা করেন। অথচ তাদের নিজেদের অবস্থা হল, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আল্লাহ তাআলার ‘রহমান’ নামটি উল্লেখ করতেন, তখন তারা আপত্তি জানাত এবং বলত, রহমান আবার কী? দেখুন সূরা ফুরকান (২৫ : ৬০)।
৩৭

خُلِقَ الۡاِنۡسَانُ مِنۡ عَجَلٍ ؕ سَاُورِیۡکُمۡ اٰیٰتِیۡ فَلَا تَسۡتَعۡجِلُوۡنِ ٣٧

খুলিকাল ইনছা-নুমিন ‘আজালিন ছাঊরীকুম আ-য়া-তী ফালা-তাছতা‘জিলূন।

মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে ত্বরাপ্রবণ করে। আমি অচিরেই তোমাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব। সুতরাং তোমরা আমার কাছে ত্বরা চেও না। ২৩

তাফসীরঃ

২৩. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দুনিয়া বা আখেরাতের শাস্তি সম্পর্কে মানুষকে সাবধান করতেন, তখন কাফেরগণ তা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত। তারা বলত, বেশ তো সেই শাস্তি এখনই নিয়ে এসো না! এ আয়াতসমূহে তারই জবাব দেওয়া হয়েছে।
৩৮

وَیَقُوۡلُوۡنَ مَتٰی ہٰذَا الۡوَعۡدُ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ٣٨

ওয়া-ইয়াকূ লূনা মাতা-হা-যাল ও‘দুইন কুনতুম সা-দিকীন।

তারা (মুসলিমদেরকে) বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে বল, (শাস্তির) এ ধমকি কবে পূর্ণ হবে?
৩৯

لَوۡ یَعۡلَمُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا حِیۡنَ لَا یَکُفُّوۡنَ عَنۡ وُّجُوۡہِہِمُ النَّارَ وَلَا عَنۡ ظُہُوۡرِہِمۡ وَلَا ہُمۡ یُنۡصَرُوۡنَ ٣٩

লাও ইয়া‘লামুল্লাযীনা কাফারূহীনা লা-ইয়াকুফফূনা ‘আওঁউজুহিহিমুন্না-রা ওয়ালা-‘আন জু হূরিহিম ওয়ালা-হুম ইউনসারূন।

হায়! কাফিরগণ যদি সেই সময়ের কথা জানত, যখন তারা তাদের চেহারা থেকে আগুন ফেরাতে পারবে না এবং তাদের পিঠ থেকেও নয় এবং তারা কোন সাহায্যও লাভ করবে না।
৪০

بَلۡ تَاۡتِیۡہِمۡ بَغۡتَۃً فَتَبۡہَتُہُمۡ فَلَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ رَدَّہَا وَلَا ہُمۡ یُنۡظَرُوۡنَ ٤۰

বাল তা’তীহিম বাগতাতান ফাতাবহাতুহুম, ফালা-ইয়াছতাতী‘উনা রাদ্দাহা-ওয়া লা-হুম ইউনজারূন।

বরং তা (অর্থাৎ জাহান্নামের আগুন) তাদের কাছে আসবে অতর্কিতভাবে এবং তাদেরকে হতভম্ব করে দেবে, ফলে না তারা তা হটাতে পারবে এবং না তাদেরকে কিছুমাত্র অবকাশ দেওয়া হবে।
৪১

وَلَقَدِ اسۡتُہۡزِئَ بِرُسُلٍ مِّنۡ قَبۡلِکَ فَحَاقَ بِالَّذِیۡنَ سَخِرُوۡا مِنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ٪ ٤١

ওয়ালাকাদিছ তুহঝিআ বিরুছুলিম মিন কাবলিকা ফাহা-কাবিল্লাযীনা ছাখিরূমিনহুম মাকা-নূবিহী ইয়াছতাহঝিউন।

(হে নবী!) তোমার পূর্বেও রাসূলগণকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়েছিল। পরিশেষে তারা তাদেরকে যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, সেটাই তাদেরকে পরিবেষ্টন করে ফেলে।
৪২

قُلۡ مَنۡ یَّکۡلَؤُکُمۡ بِالَّیۡلِ وَالنَّہَارِ مِنَ الرَّحۡمٰنِ ؕ بَلۡ ہُمۡ عَنۡ ذِکۡرِ رَبِّہِمۡ مُّعۡرِضُوۡنَ ٤٢

কুল মাই ইয়াকলাউকুম বিল লাইলি ওয়ান নাহা-রি মিনার রাহমা-নি বাল হুম ‘আন যিকরি রাব্বিহিম মু‘রিদূন।

বল, রাতে ও দিনে কে তোমাদেরকে রহমান (-এর আযাব) থেকে রক্ষা করবে। বরং তারা নিজ প্রতিপালকের স্মরণ থেকে বিমুখ।
৪৩

اَمۡ لَہُمۡ اٰلِہَۃٌ تَمۡنَعُہُمۡ مِّنۡ دُوۡنِنَا ؕ لَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ نَصۡرَ اَنۡفُسِہِمۡ وَلَا ہُمۡ مِّنَّا یُصۡحَبُوۡنَ ٤٣

আম লাহুম আ-লিহাতুন তামনা‘উহুম মিন দূ নিনা- লা ইয়াছতাতী‘উনা নাছরা আনফুছিহিম ওয়ালা-হুম মিন্না-ইউছহাবূন।

তবে কি তাদের জন্য আমি ছাড়া এমন কোন মাবুদও আছে, যে তাদেরকে রক্ষা করতে পারে? তারা তো নিজেদেরই কোন সাহায্য করতে পারে না এবং আমার মুকাবিলায় কেউ তাদের সহযোগিতা করার ক্ষমতা রাখে না।
৪৪

بَلۡ مَتَّعۡنَا ہٰۤؤُلَآءِ وَاٰبَآءَہُمۡ حَتّٰی طَالَ عَلَیۡہِمُ الۡعُمُرُ ؕ اَفَلَا یَرَوۡنَ اَنَّا نَاۡتِی الۡاَرۡضَ نَنۡقُصُہَا مِنۡ اَطۡرَافِہَا ؕ اَفَہُمُ الۡغٰلِبُوۡنَ ٤٤

বাল মাত্তা‘না-হাউলাই ওয়া আ-বাআহুম হাত্তা-তা-লা ‘আলাইহিমুল ‘উমরু আফালা-ইয়ারাওনা আন্না-না’তিল আরদা নানকুসুহা-মিন আতরা-ফিহা- আফাহুমুল গা-লিবূন।

প্রকৃত ব্যাপার হল, আমি তাদেরকে এবং তাদের বাপ-দাদাদেরকে ভোগ-সম্ভার দিয়েছিলাম, এমনকি (এ অবস্থায়ই) তাদের আয়ুষ্কাল হয়ে যায় দীর্ঘ, ২৪ তবে কি তারা দেখতে পাচ্ছে না আমি ভূমিকে তার চতুর্দিক থেকে সঙ্কুচিত করে আনছি? ২৫

তাফসীরঃ

২৪. এ আয়াতে যে ভূমি সংকোচনের কথা বলা হয়েছে এই একই কথা সূরা রাদ (১৩ : ৪১)-এও চলে গেছে। এর মানে আরব উপদ্বীপের চতুর্দিক থেকে শিরক ও কুফরের প্রভাব ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে এবং ইসলাম ক্রমবিস্তার লাভ করছে ও মুসলিমদের প্রভাব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৪৫

قُلۡ اِنَّمَاۤ اُنۡذِرُکُمۡ بِالۡوَحۡیِ ۫ۖ وَلَا یَسۡمَعُ الصُّمُّ الدُّعَآءَ اِذَا مَا یُنۡذَرُوۡنَ ٤٥

কুল ইন্নামাউনযিরুকুম বিল ওয়াহয়ি ওয়ালা-ইয়াছমা‘উসসুম্মুদ দু‘আআ ইযা-মাইউনযারূন।

বলে দাও, আমি তো কেবল ওহী দ্বারাই তোমাদেরকে সতর্ক করি, কিন্তু যারা বধির, তাদেরকে যখন সতর্ক করা হয়, তখন তারা কোন ডাক শোনে না।
৪৬

وَلَئِنۡ مَّسَّتۡہُمۡ نَفۡحَۃٌ مِّنۡ عَذَابِ رَبِّکَ لَیَقُوۡلُنَّ یٰوَیۡلَنَاۤ اِنَّا کُنَّا ظٰلِمِیۡنَ ٤٦

ওয়ালাইম মাছছাতহুম নাফহাতুমমিন‘আযা-বি রাব্বিকা লাইয়াকূলুন্না ইয়াওয়াইলানাইন্না-কুন্না-জা-লিমীন।

তোমার প্রতিপালকের শাস্তির একটা ঝাপটাও যদি তাদের লাগত, তবে তারা বলে ওঠত, হায় আমাদের দুর্ভোগ! বাস্তবিকই আমরা জালেম ছিলাম।
৪৭

وَنَضَعُ الۡمَوَازِیۡنَ الۡقِسۡطَ لِیَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ فَلَا تُظۡلَمُ نَفۡسٌ شَیۡئًا ؕ وَاِنۡ کَانَ مِثۡقَالَ حَبَّۃٍ مِّنۡ خَرۡدَلٍ اَتَیۡنَا بِہَا ؕ وَکَفٰی بِنَا حٰسِبِیۡنَ ٤٧

ওয়া নাদা‘উল মাওয়া-ঝীনাল কিছতা লিইয়াওমিল কিয়া-মাতি ফালা-তুজলামুনাফছুন শাইআ- ওয়া ইন কা-না মিছকা-লা হাব্বাতিম মিন খারদালিন আতাইনা-বিহা- ওয়াকাফা-বিনা-হা-ছিবীন।

কিয়ামতের দিন আমি ন্যায়ানুগ তুলাদণ্ড স্থাপন করব। ২৬ ফলে কারও প্রতি কোন জুলুম করা হবে না। যদি কোন কর্ম তিল পরিমাণও হয়, তবে তাও আমি উপস্থিত করব। হিসাব গ্রহণের জন্য আমিই যথেষ্ট।

তাফসীরঃ

২৬. এ আয়াত স্পষ্ট জানাচ্ছে, কিয়ামতের দিন কেবল এতটুকুই নয় যে, সমস্ত মানুষের প্রতি ইনসাফ করা হবে, বরং সে ইনসাফ যাতে সমস্ত মানুষের নজরে আসে সে ব্যবস্থাও করা হবে। এ উদ্দেশ্যে আল্লাহ তাআলা সর্বসমক্ষে তুলাদণ্ড স্থাপন করবেন। তাতে মানুষের আমল পরিমাপ করা হবে এবং আমলের ওজন অনুসারে মানুষের পরিণাম স্থির করা হবে। মানুষ যে আমলই করে, দুনিয়ায় যদিও তার কোন বস্তুগত অস্তিত্ব দেখা যায় না এবং তার কোন ওজনও অনুভূত হয় না, কিন্তু আখেরাতে আল্লাহ তাআলা পরিমাপের এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন যা দ্বারা আমলের প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হয়ে যাবে। মানুষ যদি শীত ও তাপ মাপার জন্য নতুন-নতুন যন্ত্র আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়, মানুষের স্রষ্টা বুঝি তাদের কর্ম পরিমাপের ব্যবস্থা করতে পারবেন না? আলবত পারবেন। তিনি অসীম ক্ষমতার মালিক।
৪৮

وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسٰی وَہٰرُوۡنَ الۡفُرۡقَانَ وَضِیَآءً وَّذِکۡرًا لِّلۡمُتَّقِیۡنَ ۙ ٤٨

ওয়া লাকাদ আ-তাইনা-মূছা-ওয়া হা-রূনাল ফুরকা-না ওয়া দিয়াআওঁ ওয়া যিকরাল লিলমুত্তাকীন।

আমি মূসা ও হারূনকে দিয়েছিলাম সত্য ও মিথ্যার এক মানদণ্ড, (হিদায়াতের) আলো ও মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ, ২৭

তাফসীরঃ

২৭. অর্থাৎ তাওরাত গ্রন্থ, যা ছিল সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায় ও সুপথ-কুপথের পার্থক্যকারী, অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টাতায় জ্ঞান ও হিদায়াতের আলোদানকারী এবং যারা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে চলে, তাদের জন্য উপদেশ-অনুশাসন সরবরাহকারী। -অনুবাদক
৪৯

الَّذِیۡنَ یَخۡشَوۡنَ رَبَّہُمۡ بِالۡغَیۡبِ وَہُمۡ مِّنَ السَّاعَۃِ مُشۡفِقُوۡنَ ٤٩

আল্লাযীনা ইয়াখশাওনা রাব্বাহুম বিলগাইবি ওয়া হুম মিনাছছা-‘আতি মুশফিকূন।

যারা নিজ প্রতিপালককে না দেখেও ভয় করে এবং কিয়ামত সম্পর্কে যারা ভীত।
৫০

وَہٰذَا ذِکۡرٌ مُّبٰرَکٌ اَنۡزَلۡنٰہُ ؕ  اَفَاَنۡتُمۡ لَہٗ مُنۡکِرُوۡنَ ٪ ٥۰

ওয়া হা-যা-যিকরুমমুবা-রাকুন আনঝালনা-হু আফাআনতুম লাহূমুনকিরূন।

এটা (অর্থাৎ এই কুরআন) বরকতময় উপদেশবাণী, যা আমি নাযিল করেছি, তবুও কি তোমরা একে অস্বীকার কর।
৫১

وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَاۤ اِبۡرٰہِیۡمَ رُشۡدَہٗ مِنۡ قَبۡلُ وَکُنَّا بِہٖ عٰلِمِیۡنَ ۚ ٥١

ওয়া লাকাদ আ-তাইনাইবরা-হীমা রুশদাহূমিন কাবলুওয়া কুন্না-বিহী ‘আ-লিমীন।

এর আগে আমি ইবরাহীমকে দিয়েছিলাম তার (উপযুক্ত) বুদ্ধিমত্তা। আমি তার সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবগত ছিলাম।
৫২

اِذۡ قَالَ لِاَبِیۡہِ وَقَوۡمِہٖ مَا ہٰذِہِ التَّمَاثِیۡلُ الَّتِیۡۤ اَنۡتُمۡ لَہَا عٰکِفُوۡنَ ٥٢

ইযকা-লা লিআবীহি ওয়া কাওমিহী মা-হা-যিহিততামা-ছীলুল্লাতীআনতুম লাহা-‘আকিফূন।

সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন সে নিজ পিতা ও নিজ সম্প্রদায়কে বলেছিল, এই মূর্তিগুলি কী, যার সামনে তোমরা ধর্না দিয়ে বসে থাক?
৫৩

قَالُوۡا وَجَدۡنَاۤ اٰبَآءَنَا لَہَا عٰبِدِیۡنَ ٥٣

কা-লূওয়াজাদনাআ-বাআনা-লাহা-‘আ-বিদীন।

তারা বলল, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে এদের পূজা করতে দেখেছি।
৫৪

قَالَ لَقَدۡ کُنۡتُمۡ اَنۡتُمۡ وَاٰبَآؤُکُمۡ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ ٥٤

কা-লা লাকাদ কুনতুম আনতুম ওয়া আ-বাউকুম ফী দালা-লিম মুবীন।

ইবরাহীম বলল, প্রকৃতপক্ষে তোমরা নিজেরা এবং তোমাদের বাপ-দাদাগণ স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত রয়েছে।
৫৫

قَالُوۡۤا اَجِئۡتَنَا بِالۡحَقِّ اَمۡ اَنۡتَ مِنَ اللّٰعِبِیۡنَ ٥٥

কা-লূআজি’তানা-বিলহাক্কিআম আনতা মিনাল্লা-‘ইবীন।

তারা বলল, তুমি কি আমাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছ, না আমাদের সাথে পরিহাস করছ? ২৮

তাফসীরঃ

২৮. তাদের দেব-দেবী সম্পর্কে এরূপ কথা কেউ বলতে পারে এটা তাদের কল্পনায়ও ছিল না। তাই প্রথম দিকে তাদের সন্দেহ হয়েছিল হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম একথা হয়তবা পরিহাস ছলে বলছেন।
৫৬

قَالَ بَلۡ رَّبُّکُمۡ رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ الَّذِیۡ فَطَرَہُنَّ ۫ۖ وَاَنَا عَلٰی ذٰلِکُمۡ مِّنَ الشّٰہِدِیۡنَ ٥٦

কা-লা বার রাব্বুকুম রাব্বুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিল্লাযী ফাতারাহুন্না ওয়া আনা ‘আলা-যা-লিকুম মিনাশশা-হিদীন।

ইবরাহীম বলল, না তোমাদের প্রতিপালক তো তিনিই, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মালিক, যিনি এদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি এ বিষয়ে সাক্ষ্য দান করছি।
৫৭

وَتَاللّٰہِ لَاَکِیۡدَنَّ اَصۡنَامَکُمۡ بَعۡدَ اَنۡ تُوَلُّوۡا مُدۡبِرِیۡنَ ٥٧

ওয়া তাল্লা-হি লাআকীদান্না আসনা-মাকুম বা‘দা আন তুওয়াললূমুদবিরীন।

আল্লাহর কসম! তোমরা যখন পিছন ফিরে চলে যাবে, তখন তোমাদের মূর্তিদের উপর (এমন) কৌশল খাটাব (যা দ্বারা তাদের স্বরূপ উন্মোচন হয়ে যাবে)।
৫৮

فَجَعَلَہُمۡ جُذٰذًا اِلَّا کَبِیۡرًا لَّہُمۡ لَعَلَّہُمۡ اِلَیۡہِ یَرۡجِعُوۡنَ ٥٨

ফাজা‘আলাহুম জুযা-যান ইল্লা-কাবীরাল লাহুম লা‘আল্লাহুম ইলাইহি ইয়ারজি‘ঊন।

সুতরাং সবগুলো মূর্তি চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলল তাদের প্রধানটি ছাড়া, যাতে তারা তার কাছে রুজূ করতে পারে। ২৯

তাফসীরঃ

২৯. এটা ছিল তাদের কোন উৎসবের দিন, যে দিন সমস্ত নগরবাসী আনন্দ উদযাপনের জন্য বাইরে চলে যেত, যেমন সূরা সাফফাতে আসবে (৩৭ : ৮৮-৮৯)। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাদের সাথে যেতে অপারগতা প্রদর্শন করেছিলেন। তারপর যখন সকলে শহরের বাইরে চলে গেল, তিনি দেবালয়ে ঢুকে সবগুলো মূর্তি ভেঙ্গে ফেললেন। শুধু একটি মূর্তি রেখে দিলেন, যেটি ছিল সকলের বড়। কোন কোন রেওয়ায়াতে আছে, যে কুড়ালটি দিয়ে তাদেরকে ভেঙ্গেছিলেন, সেটিও তিনি বড়টির গলায় ঝুলিয়ে দিলেন। এর দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল তাদের চোখ খুলে দেওয়া, যাতে তারা নিজ চোখে মূর্তিদের অক্ষমতা ও অসহায়তা দেখতে পায় এবং তাদের চিন্তা করার সুযোগ হয়, যে মূর্তি নিজেকেই নিজে রক্ষা করতে পারে না, সে অন্যের সাহায্য করবে কি করে? বড় মূর্তিটিকে কি কারণে ছেড়ে দিয়েছিলেন, তা ৬৩নং আয়াতে বর্ণিত প্রশ্নোত্তর দ্বারা স্পষ্ট করা হয়েছে।
৫৯

قَالُوۡا مَنۡ فَعَلَ ہٰذَا بِاٰلِہَتِنَاۤ اِنَّہٗ لَمِنَ الظّٰلِمِیۡنَ ٥٩

কা-লূমান ফা‘আলা হা-যা বিআ-লিহাতিনাইন্নাহূলামিনাজ্জা-লিমীন।

তারা বলল, আমাদের উপাস্যদের সাথে এরূপ আচরণ কে করল? নিশ্চয়ই সে ঘোর জালেম।
৬০

قَالُوۡا سَمِعۡنَا فَتًی یَّذۡکُرُہُمۡ یُقَالُ لَہٗۤ اِبۡرٰہِیۡمُ ؕ ٦۰

কা-লূছামি‘না ফাতাইঁ ইয়াযকুরুহুম ইউকা-লুলাহূইবরা-হীম।

কিছু লোক বলল, আমরা এক যুবককে তাদের সমালোচনা করতে শুনেছি। তাকে ‘ইবরাহীম’ বলা হয়।
৬১

قَالُوۡا فَاۡتُوۡا بِہٖ عَلٰۤی اَعۡیُنِ النَّاسِ لَعَلَّہُمۡ یَشۡہَدُوۡنَ ٦١

কা-লূফা’তূবিহী ‘আলাআ‘ইউনিন্না-ছি লা‘আল্লাহুম ইয়াশহাদূন।

তারা বলল, তবে তাকে জনসমক্ষে হাজির কর, যাতে সকলে সাক্ষী হয়ে যায়।
৬২

قَالُوۡۤا ءَاَنۡتَ فَعَلۡتَ ہٰذَا بِاٰلِہَتِنَا یٰۤـاِبۡرٰہِیۡمُ ؕ ٦٢

কা-লূআআনতা ফা‘আলতা হা-যা-বিআ-লিহাতিনা ইয়াইবরা-হীম।

(তারপর যখন ইবরাহীমকে নিয়ে আসা হল, তখন) তারা বলল হে ইবরাহীম! আমাদের উপাস্যদের সাথে এটা কি তুমিই করেছ?
৬৩

قَالَ بَلۡ فَعَلَہٗ ٭ۖ کَبِیۡرُہُمۡ ہٰذَا فَسۡـَٔلُوۡہُمۡ اِنۡ کَانُوۡا یَنۡطِقُوۡنَ ٦٣

কা-লা বাল ফা‘আলাহূ কাবীরুহুম হা-যা-ফাছআলূহুম ইন কা-নূইয়ানতিকূন।

ইবরাহীম বলল, বরং এটা করেছে তাদের এই বড়টি। এই প্রতিমাদেরকেই জিজ্ঞেস কর না- যদি তারা কথা বলতে পারে। ৩০

তাফসীরঃ

৩০. একথা বলে মূলত তাদের বিশ্বাসের প্রতি কটাক্ষ করা হয়েছিল। তারা মনে করত তাদের দেব-দেবীগণ বড় বড় কাজ করার ক্ষমতা রাখে। সর্বপ্রধান প্রতিমাটি সম্পর্কে বিশ্বাস ছিল, ছোটগুলোর উপর সে কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা রাখে। তারই প্রতি কটাক্ষ করে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বলেছিলেন, ‘এ কাজ করেছে তাদের এই বড়টি’। অর্থাৎ বড়টিকে যখন তোমরা ছোট প্রতিমাদের সর্দার মনে করছ আর সর্দার তো তার অধীনস্থদের রক্ষক হয়ে থাকে, তখন এটা হতেই পারে না যে, অন্য কেউ তাদেরকে ভেঙ্গেছে। কেননা কেউ তাদেরকে ভাঙতে চাইলে বড় মূর্তিটি অবশ্যই তাকে বাধা দিত এবং তাদেরকে হেফাজত করত। এটা কখনওই সম্ভব নয় যে, হামলাকারী তাদের এ রকম নাকাল করবে আর বড়টি বসে বসে তামাশা দেখবে। কাজেই তোমাদের বিশ্বাস মতে সম্ভাবনা থাকে একটাই। এই বড়টিই কোন কারণে তাদের উপর নারাজ হয়ে গেছে এবং সেই তাদেরকে ভেঙ্গেছে। এটা যে একটা বিদ্রূপাত্মক কথা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কাজেই এ কথার ভেতর বিভ্রান্তির কোন কারণ নেই। অপর দিকে ছোট মূর্তিগুলোও তাদের বিশ্বাস মতে ছোট হওয়া সত্ত্বেও দেবতা ছিল অবশ্যই। তাই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বললেন, তাদেরকে জিজ্ঞেস করে দেখ। অর্থাৎ, তাদের এতটুকু ক্ষমতা তো থাকা চাই যে, তাদের সাথে যে কা- করা হয়েছে, অন্ততপক্ষে তারা তা তোমাদেরকে বলতে পারবে। কাজেই তাদেরকেই জিজ্ঞেস কর তাদের এ দশা কে ঘটিয়েছে।
৬৪

فَرَجَعُوۡۤا اِلٰۤی اَنۡفُسِہِمۡ فَقَالُوۡۤا اِنَّکُمۡ اَنۡتُمُ الظّٰلِمُوۡنَ ۙ ٦٤

ফারাজা‘উইলাআনফুছিহিম ফাকা-লূইন্নাকুম আনতুমুজ্জা-লিমূন।

এ কথায় তারা আপন মনে চিন্তা করতে লাগল এবং (স্বগতভাবে) বলতে লাগল, প্রকৃতপক্ষে তোমরা নিজেরাই জালেম।
৬৫

ثُمَّ نُکِسُوۡا عَلٰی رُءُوۡسِہِمۡ ۚ لَقَدۡ عَلِمۡتَ مَا ہٰۤؤُلَآءِ یَنۡطِقُوۡنَ ٦٥

ছু ম্মা নুকিছূ‘আলা-রুঊছিহিম লাকাদ ‘আলিমতা মা-হাউলাই ইয়ানতিকূন।

অতঃপর তারা তাদের মাথা নুইয়ে দিল এবং বলল, তুমি তো জানই তারা কথা বলতে পারে না। ৩১

তাফসীরঃ

৩১. হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম প্রতিমাদের প্রকৃত অবস্থা তাদের সামনে পরিষ্কার করে দেওয়ার জন্য যে পন্থা অবলম্বন করেছিলেন, তা অত্যন্ত কার্যকর ছিল। তার ফলে তারা অন্ততপক্ষে এতটুকু চিন্তা করতে বাধ্য হয় যে, আমরা আসলে কী করছি, কাদের পূজায় নিজেদের রত রাখছি। তবে কি আমরা ভুল করছি, আমাদের পূজা-অর্চনা সব কি অন্যায়? পরিশেষে তাদের অন্তর থেকে সাক্ষ্য উদগত হল, হা এসবই অন্যায়, ‘মূলত আমরাই জালেম’। তবে যুগ-যুগ ধরে লালিত বিশ্বাস ত্যাগ করার মত মনের জোরও তাদের ছিল না। লা-জবাব হয়ে তারা মাথা তো ঝুঁকিয়ে দিল, কিন্তু মচকাতে চাইল না। ভাব দেখাল যেন কোন ভুল তাদের নেই। বলল, এরা যে কথা বলে না সেটা তো আমরা আগে থেকেই জানি এবং তোমারও এটা অজানা নয়।
৬৬

قَالَ اَفَتَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَا لَا یَنۡفَعُکُمۡ شَیۡئًا وَّلَا یَضُرُّکُمۡ ؕ ٦٦

কা-লা আফাতা‘বুদূনা মিন দূনিল্লা-হি মা-লা-ইয়ানফা‘উকুম শাইআওঁ ওয়ালা-ইয়াদু ররুকুম।

সে বলল, তবে কি তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর উপাসনা করছ, যা তোমাদের কিছু উপকারও করতে পারে না এবং তোমাদের ক্ষতিও করতে পারে না?
৬৭

اُفٍّ لَّکُمۡ وَلِمَا تَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ ٦٧

উফফিল্লাকুম ওয়া লিমা-তা‘বুদূ না মিন দূ নিল্লা-হি আফালা-তা‘কিলূন।

আফসোস তোমাদের প্রতি এবং আল্লাহকে ছেড়ে যাদের ইবাদত করছ তাদেরও প্রতি। তোমাদের কি এতটুকু বোধও নেই?
৬৮

قَالُوۡا حَرِّقُوۡہُ وَانۡصُرُوۡۤا اٰلِہَتَکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ فٰعِلِیۡنَ ٦٨

কা-লূহাররিকূহু ওয়ানসুরূআ-লিহাতাকুম ইন কুনতুম ফা-‘ইলীন।

তারা (একে অন্যকে) বলতে লাগল, তোমরা তাকে আগুনে জ্বালিয়ে দাও এবং নিজেদের দেবতাদেরকে সাহায্য কর, যদি তোমাদের কিছু করার থাকে।
৬৯

قُلۡنَا یٰنَارُ کُوۡنِیۡ بَرۡدًا وَّسَلٰمًا عَلٰۤی اِبۡرٰہِیۡمَ ۙ ٦٩

কুলনা-ইয়া-না-রু কূনী বারদাওঁ ওয়া ছালা-মান ‘আলাইবরা-হীম।

(সুতরাং তারা ইবরাহীমকে আগুনে নিক্ষেপ করল) এবং আমি বললাম, হে আগুন! ঠাণ্ডা হয়ে যাও এবং ইবরাহীমের পক্ষে শান্তিদায়ক হয়ে যাও। ৩২

তাফসীরঃ

৩২. এ মুহূর্তে আল্লাহ তাআলা নিজ কুদরতের মহিমা প্রকাশ করলেন। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পক্ষে আগুন ঠাণ্ডা ও শান্তিদায়ক হয়ে গেল। এটা ছিল একটা মুজিযা বা আল্লাহ তাআলার কুদরতঘটিত অলৌকিক ব্যাপার। যারা মুজিযাকে অস্বীকার করে প্রকারান্তরে তারা আল্লাহ তাআলার কুদরত ও ক্ষমতার অসীমতাকে অস্বীকার করে। অথচ আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমান থাকলে এটাও স্বীকার করা অপরিহার্য যে, আগুনের ভেতর উত্তাপ ও জ্বালানোর ক্ষমতা তাঁরই সৃষ্টি। তিনি যদি একজন মহান রাসূলকে শত্রুদের কবল থেকে মুক্তি দানের জন্য আগুনের সে শক্তি কেড়ে নেন তাতে আশ্চর্যের কি আছে?
৭০

وَاَرَادُوۡا بِہٖ کَیۡدًا فَجَعَلۡنٰہُمُ الۡاَخۡسَرِیۡنَ ۚ ٧۰

ওয়া আরা-দূবিহী কাইদান ফাজা‘আলনা-হুমুল আখছারীন।

তারা ইবরাহীমের বিরুদ্ধে এক দুরভিসন্ধি আঁটল, কিন্তু আমি তাদেরকেই করলাম মহা ক্ষতিগ্রস্ত।
৭১

وَنَجَّیۡنٰہُ وَلُوۡطًا اِلَی الۡاَرۡضِ الَّتِیۡ بٰرَکۡنَا فِیۡہَا لِلۡعٰلَمِیۡنَ ٧١

ওয়া নাজ্জাইনা-হু ওয়া লূতান ইলাল আরদিল্লাতী বা-রাকনা-ফীহা-লিল‘আ-লামীন।

এবং আমি তাকে ও লূতকে উদ্ধার করে এমন এক ভূমিতে নিয়ে গেলাম, যেখানে আমি সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য বরকত রেখেছি। ৩৩

তাফসীরঃ

৩৩. হযরত লুত আলাইহিস সালাম ছিলেন ইবরাহীম আলাইহিস সালামের ভাতিজা। সূরা আনকাবুতের বর্ণনা (২৯ : ২৬) দ্বারা জানা যায় হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের প্রতি তাঁর গোটা সম্প্রদায়ের মধ্যে একা লুত আলাইহিস সালামই ঈমান এনেছিলেন। ইতিহাসের বর্ণনায় প্রকাশ, তাকে অগ্নিদগ্ধ করার পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে গেলে নমরূদ মনে মনে ভড়কে গিয়েছিল। সে ক্ষান্ত হয়ে তাঁর পথ ছেড়ে দিল। তিনি আল্লাহ তাআলার হুকুমে ভাতিজাকে নিয়ে ইরাক থেকে শাম এলাকায় হিজরত করলেন। কুরআন মাজীদের কয়েকটি আয়াতে শাম ও ফিলিস্তিন অঞ্চলকে বরকতপূর্ণ এলাকা বলা হয়েছে।
৭২

وَوَہَبۡنَا لَہٗۤ اِسۡحٰقَ ؕ وَیَعۡقُوۡبَ نَافِلَۃً ؕ وَکُلًّا جَعَلۡنَا صٰلِحِیۡنَ ٧٢

ওয়া ওয়াহাবনা-লাহূইছহা-কা ওয়া ইয়া‘কূবা নাফিলাতাও ওয়া কুল্লান জা‘আলনা-সা-লিহীন ।

এবং আমি পুরস্কার স্বরূপ তাকে দান করেছিলাম ইসহাক ও ইয়াকুব। আমি তাদের প্রত্যেককে বানিয়েছিলাম নেককার।
৭৩

وَجَعَلۡنٰہُمۡ اَئِمَّۃً یَّہۡدُوۡنَ بِاَمۡرِنَا وَاَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡہِمۡ فِعۡلَ الۡخَیۡرٰتِ وَاِقَامَ الصَّلٰوۃِ وَاِیۡتَآءَ الزَّکٰوۃِ ۚ  وَکَانُوۡا لَنَا عٰبِدِیۡنَ ۚۙ ٧٣

ওয়া জাআলনা-হুম আইম্মাতাইঁ ইয়াহদূ না বিআমরিনা-ওয়াআওহাইনাইলাইহিম ফি‘লাল খাইরা-তি ওয়া ইকা-মাসসালা-তি ওয়া ঈতাআঝঝাকা-তি ওয়া কা-নূলানা-‘আবিদীন ।

আমি তাদেরকে করেছিলাম নেতা, যারা আমার হুকুমে মানুষকে পথ দেখাত। আমি ওহীর মাধ্যমে তাদেরকে সৎকর্ম করতে, নামায কায়েম করতে ও যাকাত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছিলাম। তারা আমারই ইবাদতগোজার ছিল।
৭৪

وَلُوۡطًا اٰتَیۡنٰہُ حُکۡمًا وَّعِلۡمًا وَّنَجَّیۡنٰہُ مِنَ الۡقَرۡیَۃِ الَّتِیۡ کَانَتۡ تَّعۡمَلُ الۡخَبٰٓئِثَ ؕ  اِنَّہُمۡ کَانُوۡا قَوۡمَ سَوۡءٍ فٰسِقِیۡنَ ۙ ٧٤

ওয়া লূতান আ-তাইনা-হু হুকমাওঁ ওয়া ‘ইল মাওঁ ওয়া নাজ্জাইনা-হু মিনাল কারয়াতিল্লাতী কা-নাত তা‘মালুল খাবাইছা ইন্নাহুম কা-নূকাওমা ছাওইন ফা-ছিকীন।

আমি লূতকে হিকমত ও ইলম দিয়েছিলাম এবং এমন এক জনপদ থেকে তাকে মুক্তি দিয়েছিলাম, যার অধিবাসীরা এক কদর্য কাজ করত। ৩৪ বস্তুত তারা ছিল অত্যন্ত নিকৃষ্ট, নাফরমান সম্প্রদায়।

তাফসীরঃ

৩৪. এমনিতে তো এ জাতি নানা রকম অপকর্মে লিপ্ত ছিল। কিন্তু কুরআন মাজীদ বিশেষভাবে তাদের যে কদাচারের কথা উল্লেখ করেছে, যা তাদের আগে আর কোন জাতির মধ্যে ছিল না, তা হচ্ছে সমকাম বা পুরুষে-পুরুষে যৌনক্রিয়া। পূর্বে সূরা হুদে (১১ : ৭৭-৮৩) তাদের বৃত্তান্ত বিস্তারিতভাবে চলে গেছে।
৭৫

وَاَدۡخَلۡنٰہُ فِیۡ رَحۡمَتِنَا ؕ  اِنَّہٗ مِنَ الصّٰلِحِیۡنَ ٪ ٧٥

ওয়া আদখাল না-হু ফী রাহমাতিনা- ইন্নাহূমিনাসসা-লিহীন।

এবং আমি লূতকে আমার রহমতের অন্তর্ভুক্ত করে নেই। নিশ্চয়ই সে ছিল নেক লোকদের একজন।
৭৬

وَنُوۡحًا اِذۡ نَادٰی مِنۡ قَبۡلُ فَاسۡتَجَبۡنَا لَہٗ فَنَجَّیۡنٰہُ وَاَہۡلَہٗ مِنَ الۡکَرۡبِ الۡعَظِیۡمِ ۚ ٧٦

ওয়া নূহান ইযনা-দা-মিন কাবলুফাছতাজাবনা-লাহূফানাজ্জাইনা-হুওয়াআহলাহূমিনাল কারবিল ‘আজীম।

এবং নূহকেও (হিকমত ও ইলম দিয়েছিলাম)। সেই সময়কে স্মরণ কর, (এ ঘটনার) আগে যখন সে আমাকে ডেকেছিল, আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম এবং তাকে ও তার সঙ্গীদেরকে মহা বিপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম।
৭৭

وَنَصَرۡنٰہُ مِنَ الۡقَوۡمِ الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا ؕ اِنَّہُمۡ کَانُوۡا قَوۡمَ سَوۡءٍ فَاَغۡرَقۡنٰہُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ٧٧

ওয়া নাসারনা-হু মিনাল কাওমিল্লাযীনা কাযযাবূবিআ-য়া-তিনা- ইন্নাহুম কা-নূ কাওমা ছাওইন ফাআগরাকনা-হুম আজমা‘ঈন।

এবং যে সম্প্রদায় আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে আমি তাকে সাহায্য করেছিলাম। বস্তুত তারা ছিল অতি মন্দ লোক। তাই আমি তাদের সকলকে নিমজ্জিত করি।
৭৮

وَدَاوٗدَ وَسُلَیۡمٰنَ اِذۡ یَحۡکُمٰنِ فِی الۡحَرۡثِ اِذۡ نَفَشَتۡ فِیۡہِ غَنَمُ الۡقَوۡمِ ۚ  وَکُنَّا لِحُکۡمِہِمۡ شٰہِدِیۡنَ ٭ۙ ٧٨

ওয়া দাঊদা ওয়া ছুলাইমা-না ইযইয়াহকুমা-নি ফিল হারছি ইযনাফাশাত ফীহি গানামুল কাওমি ওয়াকুন্না-লিহুকমিহিম শা-হিদীন।

এবং দাঊদ ও সুলায়মানকেও (হিকমত ও ইলম দিয়েছিলাম), যখন তারা একটি শস্য ক্ষেত্রের ব্যাপারে বিচার করছিল। তাতে রাতের বেলা একদল লোকের মেষপাল প্রবেশ করেছিল। ৩৫ তাদের ফায়সালা আমি নিজে প্রত্যক্ষ করছিলাম।

তাফসীরঃ

৩৫. ঘটনাটি এ রকম, এক ব্যক্তির মেষপাল রাতের বেলা অপর এক ব্যক্তির শস্যক্ষেত্রে ঢুকে সবটা ফসল নষ্ট করে দিয়েছিল। ক্ষেতের মালিক হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের আদালতে মামলা দায়ের করল। তিনি রায় দিলেন, মেষপালের মালিক ভুল করেছে। তার উচিত ছিল রাতে সেগুলো বেঁধে রাখা। কিন্তু সে তা রাখেনি। ফলে ক্ষেতের মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন দেখতে হবে তার কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। পশুর মালিক তার সমমূল্যের মেষ তাকে প্রদান করবে। অতি সুন্দর ফায়সালা। এটা বিলকুল শরীয়তসম্মত ছিল। কিন্তু এ ফায়সালা নিয়ে তারা যখন বের হয়ে গেল, দরজার সামনে হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের সঙ্গে সাক্ষাত হল। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, মহান পিতা কী রায় দিয়েছেন? তারা তাঁকে রায় সম্পর্কে অবহিত করল। তিনি বললেন, আমার আরেকটি ফায়সালা বুঝে আসছে, যা উভয়ের পক্ষে কল্যাণকর হবে। তাঁর এ মন্তব্য হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের কাছে পৌঁছলে তিনি তাঁকে ডেকে পাঠালেন। জিজ্ঞেস করলেন, সে ফায়সালাটি কী? হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বললেন, মেষপালের মালিক কিছু কালের জন্য তার মেষপালটি ক্ষেত-মালিকের হাতে সমর্পণ করবে। ক্ষেত-মালিক তা পালন করবে ও তার দুধ খাবে। আর সে তার শস্যক্ষেত্রটি মেষ মালিকের কাছে সমর্পণ করবে। সে তার যত্ন নিতে থাকবে। যখন ক্ষেতের ফসল পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে, অর্থাৎ মেষপাল নষ্ট করার আগে তা যে অবস্থায় ছিল, তখন মেষের মালিক ক্ষেতটিকে তার মালিকের হাতে প্রত্যার্পণ করবে এবং ক্ষেতওয়ালাও মেষপালটি তার মালিককে বুঝিয়ে দেবে। এটা ছিল এক রকমের আপোসরফা, যার ভেতর উভয়েরই উপকার ছিল। তাই হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের এটা পছন্দ হল এবং উভয় পক্ষ এতে খুশী হয়ে গেল।
৭৯

فَفَہَّمۡنٰہَا سُلَیۡمٰنَ ۚ وَکُلًّا اٰتَیۡنَا حُکۡمًا وَّعِلۡمًا ۫ وَّسَخَّرۡنَا مَعَ دَاوٗدَ الۡجِبَالَ یُسَبِّحۡنَ وَالطَّیۡرَ ؕ وَکُنَّا فٰعِلِیۡنَ ٧٩

ফাফাহহামনা-হা-ছুলাইমা-না ওয়া কুল্লান আ-তাইনা-হুকমাও ওয়া ‘ইলমাওঁ ওয়া ছাখখারনা-মা‘আ দা-ঊদাল জিবা-লা ইউছাব্বিহনা ওয়াততাইরা ওয়া কুন্না-ফা‘ইলীন ।

আমি সুলায়মানকে সে ফায়সালার বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়েছিলাম এবং (এমনিতে তো) আমি উভয়কেই হিকমত ও ইলম দান করেছিলাম। ৩৬ আমি পর্বতসমূহকে দাঊদের অধীন করে দিয়েছিলাম, যাতে তারা পাখিদেরকে সাথে নিয়ে তাসবীহরত থাকে। ৩৭ এসব কিছুর কর্তা ছিলাম আমিই।

তাফসীরঃ

৩৬. হযরত দাঊদ আলাইহিস সালাম যে রায় দিয়েছিলেন তা ছিল শরীয়তের আইন মোতাবেক আর হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের প্রস্তাবটি ছিল উভয় পক্ষের সম্মতিসাপেক্ষ একটি আপোসরফা। উভয়টিই আপন-আপন স্থানে সঠিক ছিল। তাই আল্লাহ তাআলা উভয়ের সম্পর্কে বলেছেন, আমি তাদের দু’জনকেই ইলম ও হিকমত দান করেছিলাম, কিন্তু হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম আপোসরফার যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সে সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন, আমি সুলায়মানকে সে ফায়সালার বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়েছিলাম। এর দ্বারা বোঝা যায় মামলা-মোকদ্দমায় আইনগত ফায়সালা অপেক্ষা পারস্পরিক সম্মতিক্রমে আপোসরফার এমন কোন পথ খোঁজা উত্তম, যা উভয় পক্ষের জন্য মঙ্গলজনক।
৮০

وَعَلَّمۡنٰہُ صَنۡعَۃَ لَبُوۡسٍ لَّکُمۡ لِتُحۡصِنَکُمۡ مِّنۡۢ بَاۡسِکُمۡ ۚ فَہَلۡ اَنۡتُمۡ شٰکِرُوۡنَ ٨۰

ওয়া ‘আল্লামনা-হু সান‘আতা লাবূছিল লাকুম লিতুহছিনাকুম মিম বা’ছিকুম ফাহাল আনতুম শা-কিরূন।

তোমাদের কল্যাণার্থে তাকে শিক্ষা দিয়েছিলাম সামরিক পোশাক (বর্ম) তৈরির কারিগরি, যাতে যুদ্ধকালে তা তোমাদেরকে পারস্পরিক আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। ৩৮ এবার বল, তোমরা কৃতজ্ঞ হবে কি?

তাফসীরঃ

৩৮. সূরা সাবায় আছে (৩৪ : ১০) আল্লাহ তাআলা তাঁর হাতে লোহাকে নমনীয় করে দিয়েছিলেন। এটা ছিল হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের একটি মুজিযা। তিনি লোহাকে যেভাবে চাইতেন ঘুরাতে-বাঁকাতে পারতেন। তিনি লোহা দ্বারা এমন নিখুঁত ও পরিমাপ মত বর্ম তৈরি করতে পারতেন, যার অংশসমূহ পরস্পর সুসমঞ্জস হত। উলামায়ে কেরাম এ আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন, এর দ্বারা ইশারা পাওয়া যায়, মানুষের উপকারে আসে এমন যে-কোন শিল্প ও কারিগরি বিদ্যা ইসলামে প্রশংসনীয়।
৮১

وَلِسُلَیۡمٰنَ الرِّیۡحَ عَاصِفَۃً تَجۡرِیۡ بِاَمۡرِہٖۤ اِلَی الۡاَرۡضِ الَّتِیۡ بٰرَکۡنَا فِیۡہَا ؕ وَکُنَّا بِکُلِّ شَیۡءٍ عٰلِمِیۡنَ ٨١

ওয়া লিছুলাইমা-নাররীহা ‘আ-সিফাতান তাজরী বিআমরিহীইলাল আরদিল্লাতী বা-রাকনাফীহা- ওয়াকুন্না-বিকুল্লি শাইয়িন ‘আ-লিমীন।

এবং আমি ঝড়ো হাওয়াকে সুলায়মানের বশীভূত করে দিয়েছিলাম, যা তার হুকুমে এমন ভূমির দিকে প্রবাহিত হত, যেখানে আমি বরকত রেখেছি। ৩৯ আমি প্রতিটি বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।

তাফসীরঃ

৩৯. আল্লাহ তাআলা লোহার মত কঠিন পদার্থকেও হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের জন্য নমনীয় করে দিয়েছিলেন আর হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের অধীন করেছিলেন বায়ুর মত কোমল জিনিসকে। হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম সিংহাসনে আরোহন করে বাতাসকে হুকুম দিতেন অমুক জায়গায় নিয়ে যাও। বাতাস তার হুকুমমত তাঁকে যথাস্থানে পৌঁছে দিত। সূরা সাবায় আছে (৩৪ : ১২) তিনি ভোরের ভ্রমণে এক মাসের পথ এবং বিকেলের ভ্রমণেও এক মাসের পথ অতিক্রম করতেন। আয়াতে যে বরকতপূর্ণ ভূমির কথা বলা হয়েছে, তা হল শাম ও ফিলিস্তিন এলাকা। বোঝানো উদ্দেশ্য, তিনি সফর করে বহু দূর-দূরান্তে চলে গেলেও বাতাস তাকে দ্রুতগতিতে তার নিজের বরকতপূর্ণ ভূমি ফিলিস্তিনে ফিরিয়ে নিয়ে আসত।
৮২

وَمِنَ الشَّیٰطِیۡنِ مَنۡ یَّغُوۡصُوۡنَ لَہٗ وَیَعۡمَلُوۡنَ عَمَلًا دُوۡنَ ذٰلِکَ ۚ  وَکُنَّا لَہُمۡ حٰفِظِیۡنَ ۙ ٨٢

ওয়া মিনাশশাইয়া-তীনি মাইঁ ইয়াগূছূনা লাহূওয়া ইয়া‘মালূনা ‘আমালান দূ না যা-লিকা ওয়া কুন্না-লাহুম হাফিজীন ।

এবং কতক দুষ্ট জিনকেও আমি তার বশীভূত করে দিয়েছিলাম, যারা তার জন্য ডুবুরির কাজ করত ৪০ এবং তাছাড়া অন্য কাজও করত। আর আমিই তাদের সকলের দেখাশোনা করছিলাম।

তাফসীরঃ

৪০. ‘দুষ্ট জিন’ বলতে সেই সকল জিনকে বোঝানো উদ্দেশ্য যারা ঈমান আনেনি। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের বশীভূত করে দিয়েছিলেন। তারা তাঁর হুকুমে সাগরে ডুব দিয়ে তাঁর জন্য মণি-মুক্তা আহরণ করত। এছাড়া আরও বিভিন্ন কাজ করত, যা বিস্তারিতভাবে সূরা সাবায় আসবে ইনশাআল্লাহ (৩৪ : ১৩)।
৮৩

وَاَیُّوۡبَ اِذۡ نَادٰی رَبَّہٗۤ اَنِّیۡ مَسَّنِیَ الضُّرُّ وَاَنۡتَ اَرۡحَمُ الرّٰحِمِیۡنَ ۚۖ ٨٣

ওয়া আইঁয়ুবা ইযনা-দা-রাব্বাহূআন্নী মাছছানিয়াদদু ররু ওয়া আনতা আরহামুররা-হিমীন ।

এবং আয়্যূবকে দেখ, যখন সে নিজ প্রতিপালককে ডেকে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার এই কষ্ট দেখা দিয়েছে এবং তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। ৪১

তাফসীরঃ

৪১. কুরআন মাজীদে হযরত আয়্যূব আলাইহিস সালাম সম্পর্কে কেবল এতটুকুই বলা হয়েছে যে, তিনি কোন কঠিন পীড়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাতে তিনি পরম ধৈর্য ধারণ করেন ও আল্লাহ তাআলাকে ডাকতে থাকেন। পরিশেষে আল্লাহ তাআলা তাঁকে আরোগ্য দান করেন। বাকি তার রোগটা কী ছিল কুরআন মাজীদ তা প্রকাশের প্রয়োজন বোধ করেনি। কাজেই তার অনুসন্ধানে পড়ার কোন দরকার নেই। এ সম্পর্কে বিভিন্ন রকমের বর্ণনা প্রসিদ্ধ ও লোকমুখে চালু আছে, কিন্তু তার কোনওটি নির্ভরযোগ্য নয়।
৮৪

فَاسۡتَجَبۡنَا لَہٗ فَکَشَفۡنَا مَا بِہٖ مِنۡ ضُرٍّ وَّاٰتَیۡنٰہُ اَہۡلَہٗ وَمِثۡلَہُمۡ مَّعَہُمۡ رَحۡمَۃً مِّنۡ عِنۡدِنَا وَذِکۡرٰی لِلۡعٰبِدِیۡنَ ٨٤

ফাছতাজাবনা- লাহূফাকাশাফনা-মা-বিহী মিন দু ররিওঁ ওয়া আ-তাইনা-হু আহলাহূওয়া মিছলাহুম মা‘আহুম রাহমাতাম মিন ‘ইনদিনা-ওয়া যিকরা-লিল‘আ-বিদীন।

অতঃপর আমি তার দু‘আ কবুল করলাম এবং সে যে কষ্টে আক্রান্ত ছিল তা দূর করে দিলাম। আর তাকে তার পরিবার-পরিজন ফিরিয়ে দিলাম এবং তাদের সমপরিমাণ আরও, ৪২ যাতে আমার পক্ষ হতে রহমতের প্রকাশ ঘটে এবং ইবাদতকারীদের লাভ হয় স্মরণীয় শিক্ষা।

তাফসীরঃ

৪২. হযরত আয়্যূব আলাইহিস সালামের অসুস্থতাকালে একমাত্র তাঁর পতিব্রতা স্ত্রীই শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যগণ এক-এক করে তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। কিন্তু এ সময় তিনি ধৈর্যের যে পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেন, তার প্রতিফল স্বরূপ আল্লাহ তাআলা তাঁকে কেবল আরোগ্যই দান করেননি, বরং ধনে-জনেও তাঁকে সম্পন্নতা দান করেছিলেন। তাঁর ছেলে-মেয়ে ও নাতী-নাতনীর সংখ্যা যারা তাকে ত্যাগ করেছিল তাদেরকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
৮৫

وَاِسۡمٰعِیۡلَ وَاِدۡرِیۡسَ وَذَا الۡکِفۡلِ ؕ  کُلٌّ مِّنَ الصّٰبِرِیۡنَ ۚۖ ٨٥

ওয়া ইছমা-‘ঈলা ওয়া ইদরীছা ওয়া যাল কিফলি কুল্লুম মিনাসসা-বিরীন।

এবং ইসমাঈল, ইদরীস ও যুলকিফলকে দেখ, তারা সকলেই ছিল ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত। ৪৩

তাফসীরঃ

৪৩. পূর্বে সূরা মারয়ামে হযরত ইসমাঈল ও হযরত ইদরীস আলাইহিস সালামের বৃত্তান্ত গত হয়েছে। হযরত যুলকিফল আলাইহিস সালামের কথা এর আগে আর যায়নি। কুরআন মাজীদে তাঁর কেবল নামই পাওয়া যায়, তাঁর কোন ঘটনা বর্ণিত হয়নি। তিনি নবী ছিলেন কিনা এ সম্পর্কে মতভিন্নতা আছে। কোন কোন মুফাসসিরের মতে তিনি নবী ছিলেন আবার কেউ বলেন, নবী নয়, বরং তিনি একজন উচ্চস্তরের ওলী এবং হযরত ইউশা আলাইহিস সালামের খলীফা ছিলেন।
৮৬

وَاَدۡخَلۡنٰہُمۡ فِیۡ رَحۡمَتِنَا ؕ اِنَّہُمۡ مِّنَ الصّٰلِحِیۡنَ ٨٦

ওয়া আদখাল না-হুম ফী রাহমাতিনা- ইন্নাহুম মিনাসসা-লিহীন।

আমি তাদেরকে আমার রহমতের অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। নিশ্চয়ই তারা নেক লোকদের মধ্যে গণ্য ছিল।
৮৭

وَذَا النُّوۡنِ اِذۡ ذَّہَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ اَنۡ لَّنۡ نَّقۡدِرَ عَلَیۡہِ فَنَادٰی فِی الظُّلُمٰتِ اَنۡ لَّاۤ اِلٰہَ اِلَّاۤ اَنۡتَ سُبۡحٰنَکَ ٭ۖ  اِنِّیۡ کُنۡتُ مِنَ الظّٰلِمِیۡنَ ۚۖ ٨٧

ওয়া যাননূনি ইযযাহাবা মুগা-দিবান ফাজান্না আল্লান নাকদিরা ‘আলাইহি ফানা-দাফিজজু লুমা-তি আল্লাইলা-হা ইল্লাআনতা ছুবহা-নাকা ইন্নী কুনতুমিনাজ্জালিমীন।

এবং মাছের সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তি (নবী ইউনুস আলাইহিস সালাম)কে দেখ, যখন সে ক্ষুব্ধ হয়ে চলে গিয়েছিল এবং মনে করেছিল, আমি তাকে পাকড়াও করব না। অতঃপর সে অন্ধকার থেকে ডাক দিয়েছিল, (হে আল্লাহ!) তুমি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তুমি সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি অপরাধী। ৪৪

তাফসীরঃ

৪৪. পূর্বে সূরা ইউনুসে (১০ : ৯৭) হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের ঘটনা চলে গেছে। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পাওয়ার আগেই নিজ এলাকা ত্যাগ করেছিলেন। তাঁর এ কাজ আল্লাহ তাআলার পছন্দ হয়নি। ফলে তিনি মহা পরীক্ষার সম্মুখীন হন। তিনি যে নৌকায় চড়ে যাচ্ছিলেন, তা থেকে তাঁকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে একটি মাছ তাঁকে গিলে ফেলে। তিনি তিন দিন সেই মাছের পেটে থাকেন। আয়াতে যে অন্ধকারের কথা বলা হয়েছে, তা হল মাছের পেটের অন্ধকার। সেখানে তিনি আল্লাহ তাআলাকে এই বলে ডাকতে থাকেন - لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنْتَ سُبْحٰنَكَ ۖۗ اِنِّیْ كُنْتُ مِنَ الظّٰلِمِیْنَ ‘তুমি ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তুমি পবিত্র, নিশ্চয়ই আমি একজন অপরাধী’। পরিশেষে আল্লাহ তাআলা মাছকে হুকুম দিলেন সে যেন তাঁকে তীরে নিয়ে নিক্ষেপ করে। এভাবে তিনি সেই মহাবিপদ থেকে মুক্তি লাভ করেন। ইনশাআল্লাহ সূরা আস-সাফফাতে তার ঘটনা বিস্তারিত আসবে (৩৭ : ১৩৯-১৪৮)।
৮৮

فَاسۡتَجَبۡنَا لَہٗ ۙ وَنَجَّیۡنٰہُ مِنَ الۡغَمِّ ؕ وَکَذٰلِکَ نُــۨۡجِی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ٨٨

ফাছতাজাবনা-লাহূওয়া নাজ্জাইনা-হু মিনাল গাম্মি ওয়া কাযা-লিকা নুনজিল মু’মিনীন।

তখন আমি তার দু‘আ কবুল করলাম এবং তাকে সংকট থেকে মুক্তি দিয়েছিলাম। এভাবেই আমি ঈমানদারদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি।
৮৯

وَزَکَرِیَّاۤ اِذۡ نَادٰی رَبَّہٗ رَبِّ لَا تَذَرۡنِیۡ فَرۡدًا وَّاَنۡتَ خَیۡرُ الۡوٰرِثِیۡنَ ۚۖ ٨٩

ওয়া ঝাকারিইইয়াইযনা-দা-রাব্বাহূরাব্বি লা-তাযারনী ফারদাওঁ ওয়া আনতা খাইরুল ওয়ারিছীন।

এবং যাকারিয়াকে দেখ, যখন সে নিজ প্রতিপালককে ডেকে বলেছিল, হে আমার রব্ব! আমাকে একা রেখে দিও না, আর তুমিই শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী। ৪৫

তাফসীরঃ

৪৫. হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম ছিলেন নিঃসন্তান। তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে দু‘আ করলেন যেন তাঁকে এক পুত্র সন্তান দান করেন। তাঁর দু‘আ কবুল হল এবং হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালামের মত এক মহান পুত্র তাঁকে দেওয়া হল। এ ঘটনা বিস্তারিতভাবে সূরা আলে-ইমরানে গত হয়েছে (৩ : ৩৭-৪০)।
৯০

فَاسۡتَجَبۡنَا لَہٗ ۫ وَوَہَبۡنَا لَہٗ یَحۡیٰی وَاَصۡلَحۡنَا لَہٗ زَوۡجَہٗ ؕ اِنَّہُمۡ کَانُوۡا یُسٰرِعُوۡنَ فِی الۡخَیۡرٰتِ وَیَدۡعُوۡنَنَا رَغَبًا وَّرَہَبًا ؕ وَ کَانُوۡا لَنَا خٰشِعِیۡنَ ٩۰

ফছতাজাবনা-লাহূ ওয়া ওয়াহাবনা-লাহূইয়াহইয়া-ওয়া আসলাহনা-লাহূঝাওজাহূ ইন্নাহুম কা-নূইউছা-রি‘ঊনা ফিল খাইরা-তি ওয়া ইয়াদঊনানা-রাগাবাওঁ ওয়া রাহাবাও ওয়া কা-নূলানা-খা-শি‘ঈন।

সুতরাং আমি তার দু‘আ কবুল করলাম এবং তাকে ইয়াহইয়া (-এর মত পুত্র) দান করলাম। আর তার জন্য তার স্ত্রীকে (সন্তান ধারণের) উপযুক্ত করে দিলাম। ৪৬ নিশ্চয়ই তারা সৎকাজে দ্রুতগমন করত এবং আশা ও ভীতির সাথে আমাকে ডাকত আর তাদের অন্তর ছিল আমার সামনে বিনীত।

তাফসীরঃ

৪৬. অর্থাৎ, তাঁর স্ত্রী ছিলেন বন্ধ্যা। আল্লাহ তাআলা তাকে সন্তান ধারণের ক্ষমতা দান করলেন।
৯১

وَالَّتِیۡۤ اَحۡصَنَتۡ فَرۡجَہَا فَنَفَخۡنَا فِیۡہَا مِنۡ رُّوۡحِنَا وَجَعَلۡنٰہَا وَابۡنَہَاۤ اٰیَۃً لِّلۡعٰلَمِیۡنَ ٩١

ওয়াল্লাতীআহসানাত ফারজাহা-ফানাফাখনা-ফীহা-মির রূহিনা-ওয়া জা‘আলনা-হাওয়াবনাহাআ-য়াতাল লিল‘আ-লামীন।

এবং দেখ সেই নারীকে, যে নিজ সতীত্ব রক্ষা করেছিল, তারপর আমি তার ভেতর আমার রূহ ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং তাকে ও তার পুত্রকে সমগ্র জগতবাসীর জন্য এক নিদর্শন বানিয়েছিলাম। ৪৭

তাফসীরঃ

৪৭. এ আয়াতে বর্ণিত সতী-সাধ্বী নারী হলেন হযরত মারয়াম আলাইহিস সালাম। আল্লাহ তাআলা তাঁর পুত্র হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে বিনা পিতায় সৃষ্টি করে তাঁদের মাতা-পুত্রকে নিজ কুদরতের এক মহা নিদর্শন বানিয়েছিলেন।
৯২

اِنَّ ہٰذِہٖۤ اُمَّتُکُمۡ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً ۫ۖ وَّاَنَا رَبُّکُمۡ فَاعۡبُدُوۡنِ ٩٢

ইন্না হা-যিহীউম্মাতুকুম উম্মাতাওঁ ওয়া-হিদাতাওঁ ওয়া আনা রাব্বুকুম ফা‘বুদূ ন।

(হে মানুষ!) নিশ্চয়ই এটাই তোমাদের দীন, যা একই দীন ৪৮ (সমস্ত নবী-রাসূল যার দাওয়াত দিত) এবং আমি তোমাদের প্রতিপালক। সুতরাং তোমরা আমার ইবাদত কর।

তাফসীরঃ

৪৮. অর্থাৎ সমস্ত দীনের মূল কথা একই এক আল্লাহর ‘ইবাদত-আনুগত্য করা। সমস্ত নবীর মূল শিক্ষা ছিল এটাই। তাদের মধ্যে পার্থক্য ছিল কেবল ইবাদত-আনুগত্যের রীতি-নীতি তথা দীনের শাখাগত বিষয়ে যাকে শরীআত বলে। শাখাগত সে পার্থক্য হয়েছে স্থান-কাল ভেদে এবং তাও আল্লাহপ্রদত্ত। আখেরী যমানায় সমগ্র বিশ্বের সমস্ত মানুষের জন্য মুহাম্মাদী শরীআত দেওয়া হয়েছে। এখন এরই অনুসরণ অপরিহার্য। কিন্তু শরীআতেরও মূলকথা এক আল্লাহ তাআলার ‘ইবাদত-আনুগত্য, তথা তাওহীদ, যা অন্যান্য ধর্মেরও মূলকথা ছিল। কিন্তু ইয়াহুদী-নাসারা প্রভৃতি সম্প্রদায় তাতে নিজেদের পক্ষ থেকে শিরকের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে। ফলে এসব ধর্মের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। যা পরের আয়াতে ব্যক্ত হয়েছে। -অনুবাদক
৯৩

وَتَقَطَّعُوۡۤا اَمۡرَہُمۡ بَیۡنَہُمۡ ؕ  کُلٌّ اِلَیۡنَا رٰجِعُوۡنَ ٪ ٩٣

ওয়া তাকাততা‘ঊআমরাহুম বাইনাহুম কুল্লুন ইলাইনা-রা-জি‘উন।

কিন্তু মানুষ তাদের দীনকে নিজেদের মধ্যে খণ্ড খণ্ড করে ভাগ করেছে। সকলকেই (একদিন) আমার কাছে ফিরে আসতে হবে।
৯৪

فَمَنۡ یَّعۡمَلۡ مِنَ الصّٰلِحٰتِ وَہُوَ مُؤۡمِنٌ فَلَا کُفۡرَانَ لِسَعۡیِہٖ ۚ وَاِنَّا لَہٗ کٰتِبُوۡنَ ٩٤

ফামাইঁ ইয়া‘মাল মিনাসসা-লিহা-তি ওয়া হুওয়া মু’মিনুন ফালা কুফরা-না লিছা‘য়িহী ওয়া ইন্না-লাহূকা-তিবূন।

সুতরাং যে ব্যক্তি মুমিন হয়ে সৎকাজ করবে, তার প্রচেষ্টাকে অগ্রাহ্য করা হবে না এবং আমি সে প্রচেষ্টা লিখে রাখি।
৯৫

وَحَرٰمٌ عَلٰی قَرۡیَۃٍ اَہۡلَکۡنٰہَاۤ اَنَّہُمۡ لَا یَرۡجِعُوۡنَ ٩٥

ওয়া হারা-মুন ‘আলা-কারইয়াতিন আহলাকনা-হাআন্নাহুম লা-ইয়ারজি‘ঊন।

আর আমি যে জনপদ (-এর মানুষ)-কে ধ্বংস করেছি, তার পক্ষে এটা অসম্ভব যে, তারা (অর্থাৎ তার বাসিন্দাগণ) আবার (দুনিয়ায়) ফিরে আসবে। ৪৯

তাফসীরঃ

৪৯. কাফেরগণ বলত, মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হওয়া যদি অবধারিত হয়ে থাকে, তবে এ যাবৎকাল যে সকল কাফের মারা গেছে তাদেরকে জীবিত করে এখনই কেন তাদের হিসাব নেওয়া হচ্ছে না? এ আয়াত তাদের সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। বলা হয়েছে, হিসাব-নিকাশ এবং পুরস্কার ও শাস্তির জন্য আল্লাহ তাআলা একটি সময় স্থির করে রেখেছেন। তার আগে কারও জীবিত হয়ে ইহলোকে ফিরে আসা সম্ভব নয়।
৯৬

حَتّٰۤی اِذَا فُتِحَتۡ یَاۡجُوۡجُ وَمَاۡجُوۡجُ وَہُمۡ مِّنۡ کُلِّ حَدَبٍ یَّنۡسِلُوۡنَ ٩٦

হাত্তাইযা-ফুতিহাত ইয়া’জুজুওয়ামা’জুজুওয়া হুম মিন কুল্লি হাদাবিইঁ ইয়ানছিলূন।

পরিশেষে যখন ইয়াজুজ ও মাজুজকে খুলে দেওয়া হবে এবং তাদেরকে প্রতিটি উঁচু ভূমি থেকে পিছলে নামতে দেখা যাবে। ৫০

তাফসীরঃ

৫০. অর্থাৎ, মৃত্যুর পর মানুষকে যে পুনরায় জীবিত করা হবে, সেটা কিয়ামত কালে। কিয়ামতের বড়-বড় আলামতগুরোর মধ্যে একটি হল ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব। এই বিশাল বর্বর সম্প্রদায় এমন ক্ষিপ্রতায় সভ্য জগতে হামলা চালাবে, মনে হবে যেন তারা উঁচু স্থান থেকে পিছলে নেমে আসছে।
৯৭

وَاقۡتَرَبَ الۡوَعۡدُ الۡحَقُّ فَاِذَا ہِیَ شَاخِصَۃٌ اَبۡصَارُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ؕ یٰوَیۡلَنَا قَدۡ کُنَّا فِیۡ غَفۡلَۃٍ مِّنۡ ہٰذَا بَلۡ کُنَّا ظٰلِمِیۡنَ ٩٧

ওয়াকতালাবাল ওয়া‘দুল হাক্কুফাইযা-হিয়া শা-খিসাতুন আবসা-রুল্লাযীনা কাফারূ ইয়া-ওয়াইলানা-কাদ কুন্না-ফী গাফলাতিম মিন হা-যা-বাল কুন্না-জা-লিমীন।

এবং সত্য ওয়াদা পূরণ হওয়ার কাল সমাসন্ন হবে, তখন অকস্মাৎ যারা কুফর অবলম্বন করেছিল, তাদের চোখ বিস্ফারিত হয়ে যাবে (এবং তারা বলবে) হায় আমাদের দুর্ভাগ্য। আমরা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন ছিলাম বরং আমরা বড়ই অন্যায় করেছিলাম।
৯৮

اِنَّکُمۡ وَمَا تَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ حَصَبُ جَہَنَّمَ ؕ اَنۡتُمۡ لَہَا وٰرِدُوۡنَ ٩٨

ইন্নাকুম ওয়ামা-তা‘বুদূ না মিন দূ নিল্লা-হি হাসাবুজাহান্নামা আনতুম লাহা-ওয়া-রিদূ ন।

(হে মুশরিকগণ!) নিশ্চিত জেনে রেখ, তোমরা এবং আল্লাহকে ছেড়ে তোমরা যাদের ইবাদত কর, সকলেই জাহান্নামের জ্বালানি হবে। ৫১ তোমাদেরকে সে জাহান্নামেই গিয়ে নামতে হবে।

তাফসীরঃ

৫১. মুশরিকগণ পাথরে গড়া যে সব দেব-দেবীর পূজা করত তাদেরকেও জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অবশ্য সেটা তাদের শাস্তি হিসেবে নয়; বরং তাদের মুশরিক পূজারীদেরকে হাতেনাতে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য যে, তারা যাদেরকে ক্ষমতাবান মনে করে পূজা-অর্চনা করত, বাস্তবে তারা কতটা অক্ষম ও অসহায়।
৯৯

لَوۡ کَانَ ہٰۤؤُلَآءِ اٰلِہَۃً مَّا وَرَدُوۡہَا ؕ وَکُلٌّ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ٩٩

লাও কা-না হাঊলাই আ-লিহাতামমা-ওয়ারাদূ হা- ওয়া কুল্লুন ফীহা-খা-লিদূ ন।

তারা বাস্তবিক মাবুদ হলে তাতে (অর্থাৎ জাহান্নামে) যেত না। তারা সকলেই তাতে সর্বদা থাকবে।
১০০

لَہُمۡ فِیۡہَا زَفِیۡرٌ وَّہُمۡ فِیۡہَا لَا یَسۡمَعُوۡنَ ١۰۰

লাহুম ফীহা-ঝাফীরুওঁ ওয়াহুম ফীহা-লা-ইয়াছমা‘ঊন।

সেখানে থাকবে তাদের আর্তনাদ। তারা সেখানে কিছুই শুনতে পাবে না।
১০১

اِنَّ الَّذِیۡنَ سَبَقَتۡ لَہُمۡ مِّنَّا الۡحُسۡنٰۤی ۙ  اُولٰٓئِکَ عَنۡہَا مُبۡعَدُوۡنَ ۙ ١۰١

ইন্নাল্লাযীনা ছাবাকাত লাহুম মিন্নাল হুছনা উলাইকা ‘আনহা-মুব‘আদূ ন।

অবশ্য যাদের জন্য পূর্ব থেকেই আমার পক্ষ হতে কল্যাণ লেখা হয়েছে (অর্থাৎ যারা নেক ও মুমিন) তাদেরকে তা (অর্থাৎ জাহান্নাম) থেকে দূরে রাখা হবে।
১০২

لَا یَسۡمَعُوۡنَ حَسِیۡسَہَا ۚ  وَہُمۡ فِیۡ مَا اشۡتَہَتۡ اَنۡفُسُہُمۡ خٰلِدُوۡنَ ۚ ١۰٢

লা-ইয়াছমা‘ঊনা হাছীছাহা- ওয়া হুম ফী মাশতাহাত আনফুছুহুম খা-লিদূ ন।

তারা তার মৃদু শব্দও শুনতে পাবে না। তারা সর্বদা তাদের মনের কাঙ্খিত বস্তুরাজির মধ্যে থাকবে।
১০৩

لَا یَحۡزُنُہُمُ الۡفَزَعُ الۡاَکۡبَرُ وَتَتَلَقّٰہُمُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ ؕ ہٰذَا یَوۡمُکُمُ الَّذِیۡ کُنۡتُمۡ تُوۡعَدُوۡنَ ١۰٣

লা-ইয়াহঝুনুহুমুল ফাঝা‘উল আকবারু ওয়া তাতালাক্কা-হুমুল মালাইকাতু হা-যাইয়াওমুকুমুল্লাযী কুনতুম তূ‘আদূ ন।

তাদেরকে (কিয়ামতের) মহাভীতি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করবে না এবং ফিরিশতাগণ তাদেরকে (এই বলে) অভ্যর্থনা জানাবে যে, এটাই তোমাদের সেই দিন, যার ওয়াদা তোমাদের সঙ্গে করা হত।
১০৪

یَوۡمَ نَطۡوِی السَّمَآءَ کَطَیِّ السِّجِلِّ لِلۡکُتُبِ ؕ کَمَا بَدَاۡنَاۤ اَوَّلَ خَلۡقٍ نُّعِیۡدُہٗ ؕ وَعۡدًا عَلَیۡنَا ؕ اِنَّا کُنَّا فٰعِلِیۡنَ ١۰٤

ইয়াওমা নাতবিছছামাআ কাতাইয়িছছিজিলিল লিলকুতুবি কামা-বাদা’নাআওয়ালা খালকিন নু‘ঈদুহূ ওয়া‘দান ‘আলাইনা- ইন্না-কুন্না-ফা-‘ইলীন ।

সেই দিনকে স্মরণ রাখ, যখন আমি আকাশমণ্ডলীকে গুটিয়ে ফেলব, কাগজের বেলনে লেখাসমূহ গুটানোর মত। আমি পুনরায় তাকে সৃষ্টি করব, যেভাবে প্রথমবার সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম। ৫২ এটা এক প্রতিশ্রুতি, যা পূরণ করার দায় আমার। আমি তা অবশ্যই করব।

তাফসীরঃ

৫২. অর্থাৎ প্রথমবার যেমন অতি সহজে সৃষ্টি করেছিলাম পুনর্বার সেই রকম সহজেই সৃষ্টি করব। এমনিভাবে প্রথমবার যেমন তোমাদেরকে বস্ত্রহীন ও খত্নাবিহীন সৃষ্টি করেছিলাম, পুনরায় তোমাদেরকে হাশরের ময়দানে সেভাবেই উপস্থিত করা হবে। এক হাদীসে আছে, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম পোশাক পরানো হবে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে। -অনুবাদক
১০৫

وَلَقَدۡ کَتَبۡنَا فِی الزَّبُوۡرِ مِنۡۢ بَعۡدِ الذِّکۡرِ اَنَّ الۡاَرۡضَ یَرِثُہَا عِبَادِیَ الصّٰلِحُوۡنَ ١۰٥

ওয়া লাকাদ কাতাবনা-ফিঝঝাবূরি মিম বা‘দিযযিকরি আন্নাল আরদা ইয়ারিছু হা-ইবা দিয়াসসা-লিহূন।

আমি যাবুরে উপদেশের পর লিখে দিয়েছিলাম, ভূমির উত্তরাধিকারী হবে আমার নেক বান্দাগণ। ৫৩

তাফসীরঃ

৫৩. অর্থাৎ আখেরাতে সমগ্র বিশ্বে কোন কাফেরের কিছুমাত্র অংশ থাকবে না; বরং আল্লাহ তাআলার নেক বান্দাগণই সব কিছুর অধিকারী হবে। [অনেকের মতে এখানে الارض অর্থাৎ ভূমি দ্বারা জান্নাতের ভূমি বোঝানো হয়েছে। -অনুবাদক]
১০৬

اِنَّ فِیۡ ہٰذَا لَبَلٰغًا لِّقَوۡمٍ عٰبِدِیۡنَ ؕ ١۰٦

ইন্না ফী হা-যা-লাবালা-গাল লিকাওমিন ‘আ-বিদীন।

নিশ্চয়ই এতে (অর্থাৎ কুরআনে) ইবাদতনিষ্ঠদের জন্য যথেষ্ট বার্তা রয়েছে।
১০৭

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا رَحۡمَۃً لِّلۡعٰلَمِیۡنَ ١۰٧

ওয়ামাআরছালনা-কা ইল্লা-রাহমাতাল লিল‘আ-লামীন।

(হে নবী!) আমি তোমাকে বিশ্ব জগতের জন্য কেবল রহমত করেই পাঠিয়েছি।
১০৮

قُلۡ اِنَّمَا یُوۡحٰۤی اِلَیَّ اَنَّمَاۤ اِلٰـہُکُمۡ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ ۚ فَہَلۡ اَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ ١۰٨

কুল ইন্নামা-ইঊহাইলাইয়া আন্নামাইলা-হুকুম ইলা-হুওঁ ওয়াহিদুন ফাহাল আনতুম মুছলিমূন।

বলে দাও, আমার প্রতি এই ওহীই অবতীর্ণ হয় যে, তোমাদের প্রভু একই প্রভু। সুতরাং তোমরা আনুগত্য স্বীকার করবে কি?
১০৯

فَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَقُلۡ اٰذَنۡتُکُمۡ عَلٰی سَوَآءٍ ؕ وَاِنۡ اَدۡرِیۡۤ اَقَرِیۡبٌ اَمۡ بَعِیۡدٌ مَّا تُوۡعَدُوۡنَ ١۰٩

ফাইন তাওয়াল্লাও ফাকুল আ-যানতুকুম ‘আলা-ছাওয়াইও ওয়া ইন আদরীআকারীবুন আম বা‘ঈদুম মা-তূ‘আদূ ন।

তবুও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলে দাও, আমি তোমাদেরকে প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছি। আমি জানি না তোমাদেরকে যে বিষয়ের (অর্থাৎ যে শাস্তির) প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা নিকটবর্তী, না দূরে।
১১০

اِنَّہٗ یَعۡلَمُ الۡجَہۡرَ مِنَ الۡقَوۡلِ وَیَعۡلَمُ مَا تَکۡتُمُوۡنَ ١١۰

ইন্নাহূইয়া‘লামুল জাহরা মিনাল কাওলি ওয়া ইয়া‘লামুমা-তাকতুমূন।

নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন যা উচ্চস্বরে বলা হয় এবং তিনি জানেন যা তোমরা গোপন কর।
১১১

وَاِنۡ اَدۡرِیۡ لَعَلَّہٗ فِتۡنَۃٌ لَّکُمۡ وَمَتَاعٌ اِلٰی حِیۡنٍ ١١١

ওয়া ইন আদরী লা‘আল্লাহূফিতনাতুল লাকুম ওয়া মাতা-‘উন ইলা-হীন।

আমি জানি না হয়ত এটা (অর্থাৎ শাস্তিকে বিলম্বিত করা) তোমাদের জন্য এক পরীক্ষা এবং নির্দিষ্ট একটা সময় পর্যন্ত ভোগের অবকাশ।
১১২

قٰلَ رَبِّ احۡکُمۡ بِالۡحَقِّ ؕ  وَرَبُّنَا الرَّحۡمٰنُ الۡمُسۡتَعَانُ عَلٰی مَا تَصِفُوۡنَ ٪ ١١٢

কা-লা রাব্বিহকুম বিলহাক্কি ওয়া রাব্বুনার রাহমা-নুল মুছতা‘আ-নু‘আলা-মাতাসিফূন।

(পরিশেষে) রাসূল বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! আপনি সত্যের ফায়সালা করে দিন। আমাদের প্রতিপালক অতি দয়াবান, তোমরা যেসব কথা বলছ তার বিপরীতে তিনিই সাহায্য প্রার্থনার স্থল।
সূরা আল আম্বিয়া | মুসলিম বাংলা