সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা মারইয়াম (مريم) | মারইয়াম (ঈসা নবীর মা)

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৯৮

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

کٓہٰیٰعٓصٓ ۟ۚ ١

কাফ হা-ইয়া-‘আঈূন সোয়াদ ।

কাফ-হা-ইয়া-‘আইন-সাদ।

তাফসীরঃ

১. সূরা বাকারার শুরুতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সূরার শুরুতে যে বিচ্ছিন্ন হরফসমূহ আছে, যাকে ‘আল-হুরূফুল মুকাত্তাআত’ বলা হয়, তার প্রকৃত অর্থ আল্লাহ তাআলা ছাড়া কেউ জানে না। সুতরাং অহেতুক এর অর্থ সন্ধানের পেছনে না পড়ে এই ঈমান রাখাই যথেষ্ট যে, এটা আল্লাহর কালামের অংশ এবং এর প্রকৃত অর্থ আল্লাহ তাআলাই জানেন।

ذِکۡرُ رَحۡمَتِ رَبِّکَ عَبۡدَہٗ زَکَرِیَّا ۖۚ ٢

যিকরু রাহমাতি রাব্বিকা ‘আবদাহূঝাকারিইইয়া-।

এটা সেই রহমতের বর্ণনা, যা তোমার প্রতিপালক নিজ বান্দা যাকারিয়ার প্রতি করেছিলেন।

اِذۡ نَادٰی رَبَّہٗ نِدَآءً خَفِیًّا ٣

ইযনা-দা-রাব্বাহূনিদাআন খাফিইইয়া-।

যখন সে নিজ প্রতিপালককে ডেকেছিল চুপিসারে।

قَالَ رَبِّ اِنِّیۡ وَہَنَ الۡعَظۡمُ مِنِّیۡ وَاشۡتَعَلَ الرَّاۡسُ شَیۡبًا وَّلَمۡ اَکُنۡۢ بِدُعَآئِکَ رَبِّ شَقِیًّا ٤

কা-লা রাব্বি ইন্নী ওয়াহানাল ‘আজমুমিন্নী ওয়াশতা‘আলার রা’ছুশাইবাওঁ ওয়ালাম আকুম বিদু‘আইকা রাব্বি শাকিইইয়া-।

সে বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার অস্থিরাজি পর্যন্ত জীর্ণ হয়ে গেছে, মাথা বার্ধক্যজনিত শুভ্রতায় উজ্জ্বলিত হয়ে উঠেছে এবং হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করে কখনও ব্যর্থকাম হইনি।

وَاِنِّیۡ خِفۡتُ الۡمَوَالِیَ مِنۡ وَّرَآءِیۡ وَکَانَتِ امۡرَاَتِیۡ عَاقِرًا فَہَبۡ لِیۡ مِنۡ لَّدُنۡکَ وَلِیًّا ۙ ٥

ওয়া ইন্নী খিফতুল মাওয়া-লিয়া মিওঁ ওয়ারাঈওয়াকা-নাতিম রাআতী ‘আ-কিরান ফাহাব লী মিল্লা দুনকা ওয়ালিইইয়া-।

আমি আমার পর আমার চাচাত ভাইদের ব্যাপারে শঙ্কা বোধ করছি এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা। সুতরাং আপনি আপনার নিকট থেকে আমাকে এমন এক উত্তরাধিকারী দান করুন

তাফসীরঃ

২. অর্থাৎ, আমার নিজের তো কোন সন্তান নেই আবার আমার চাচাত ভাইয়েরাও জ্ঞান-গরিমা ও তাকওয়া-পরহেজগারীতে এ পর্যায়ের নয় যে, তারা আমার মিশন অব্যাহত রাখবে। তারা দীনের খেদমত কতটুকু আঞ্জাম দিতে পারবে সে ব্যাপারে আমার যথেষ্ট ভয়। সুতরাং আমার নবুওয়াতী ইলমের উত্তরাধিকারী হতে পারে এমন এক পুত্র সন্তান আমাকে দান করুন। হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালামের এ দু‘আ এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে তা গৃহীত হওয়া এবং সেমতে তাঁকে পুত্র সন্তান দান করা, এ সবই পূর্বে সূরা আলে ইমরানে (৩ : ৩৮-৪০) বর্ণিত হয়েছে এবং টীকায় প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। সুতরাং টীকাসহ সেই সকল আয়াত দেখে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

یَّرِثُنِیۡ وَیَرِثُ مِنۡ اٰلِ یَعۡقُوۡبَ ٭ۖ وَاجۡعَلۡہُ رَبِّ رَضِیًّا ٦

ইয়ারিছু নী ওয়া ইয়ারিছুমিন আ-লি ইয়া‘কূবা ওয়াজ‘আলহু রাব্বি রাদিইইয়া-।

যে আমারও উত্তরাধিকারী হবে এবং ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর উত্তরাধিকারও লাভ করবে এবং হে আমার প্রতিপালক! তাকে এমন বানান, যে (আপনার নিজেরও) সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত হবে।

তাফসীরঃ

৩. আয়াতের শব্দাবলী দ্বারা এটা স্পষ্ট যে, হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম বৈষয়িক উত্তরাধিকার বোঝাতে চাননি। বরং তিনি নবুওয়াতী ইলমের উত্তরাধিকার লাভ করার কথা বুঝিয়েছিলেন। কেননা হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের আওলাদ থেকে বৈষয়িক উত্তরাধিকার লাভের কোন প্রশ্নই আসে না। সুতরাং প্রসিদ্ধ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ইরশাদ করেছেন, ‘নবীগণের রেখে যাওয়ার সম্পদ তাদের ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন হয় না”, হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালামের দু‘আ তার সাথে সাংঘর্ষিক নয়।

یٰزَکَرِیَّاۤ اِنَّا نُبَشِّرُکَ بِغُلٰمِ ۣ اسۡمُہٗ یَحۡیٰی ۙ لَمۡ نَجۡعَلۡ لَّہٗ مِنۡ قَبۡلُ سَمِیًّا ٧

ইয়া-ঝাকারিইইয়াইন্না-নুবাশশিরুকা বিগুলা-মি নিছমুহূইয়াহইয়া- লাম নাজ‘আল লাহূমিন কাবলুছামিইইয়া-।

(উত্তর আসল) হে যাকারিয়া! আমি তোমাকে একটি ছেলের সুসংবাদ দিচ্ছি, তার নাম ইয়াহইয়া! আমি আগে তার সমনামধারী কাউকে সৃষ্টি করিনি।

قَالَ رَبِّ اَنّٰی یَکُوۡنُ لِیۡ غُلٰمٌ وَّکَانَتِ امۡرَاَتِیۡ عَاقِرًا وَّقَدۡ بَلَغۡتُ مِنَ الۡکِبَرِ عِتِیًّا ٨

কা-লা রাব্বি আন্না-ইয়াকূনুলী গুলা-মুওঁ ওয়াকা-নাতিমরাআতী ‘আ-কিরাওঁ ওয়া কাদ বালাগতুমিনাল কিবারি ‘ইতিইইয়া-।

যাকারিয়া বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার কিভাবে পুত্র-সন্তান জন্ম নেবে, যখন আমার স্ত্রী বন্ধ্যা এবং আমি এমন বার্ধক্যে উপনীত হয়েছি যে, আমার দেহ শুকিয়ে গেছে?

তাফসীরঃ

৪. হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালামের এ বিস্ময় প্রকাশ নাউযুবিল্লাহ আল্লাহ তাআলার কুদরতের ব্যাপারে কোনরূপ সন্দেহ থেকে উৎপন্ন নয়; বরং এটা ছিল আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে এ অভাবনীয় নি‘আমতের কারণে আনন্দ প্রকাশের ভাষা এবং শোকর আদায়ের এক বিশেষ ভঙ্গি।

قَالَ کَذٰلِکَ ۚ قَالَ رَبُّکَ ہُوَ عَلَیَّ ہَیِّنٌ وَّقَدۡ خَلَقۡتُکَ مِنۡ قَبۡلُ وَلَمۡ تَکُ شَیۡئًا ٩

কা-লা কাযা-লিকা কা-লা রাব্বুকা হুওয়া ‘আলাইইয়া হাইয়িনুওঁ ওয়াকাদ খালাকতুকা মিন কাবলুওয়া লাম তাকুশাইআ-।

তিনি বললেন, এভাবেই হবে। তোমার প্রতিপালক বলেছেন, এটা তো আমার পক্ষে মামুলি ব্যাপার। তাছাড়া এর আগে তো আমি তোমাকেও সৃষ্টি করেছি, যখন তুমি কিছুই ছিলে না।

তাফসীরঃ

৫. অর্থাৎ, তুমি নিজেও তো এক সময় অস্তিত্বহীন ছিলে। যেই আল্লাহ তাআলা তোমাকে তা থেকে অস্তিত্বে আনয়ন করেছেন, তিনি তোমাকে তোমার বৃদ্ধ বয়সে সন্তান দিতে পারবেন না? আলবৎ পারবেন!
১০

قَالَ رَبِّ اجۡعَلۡ لِّیۡۤ اٰیَۃً ؕ قَالَ اٰیَتُکَ اَلَّا تُکَلِّمَ النَّاسَ ثَلٰثَ لَیَالٍ سَوِیًّا ١۰

কা-লা রাব্বিজ‘আললীআ-য়াতান কা-লা আ-ইয়াতুকা আল্লা-তুকালিলমান্না-ছা ছালা-ছা লাইয়া-লিন ছাবিইইয়া-

যাকারিয়া বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার জন্য কোন নিদর্শন স্থির করে দিন। তিনি বললেন, তোমার নিদর্শন হল তুমি সুস্থ থাকা সত্ত্বেও তিন রাত পর্যন্ত মানুষের সাথে কথা বলতে পারবে না।

তাফসীরঃ

৬. অর্থাৎ, যখন গর্ভ সঞ্চার হয়ে যাবে, তখন তিন দিনের জন্য তোমার বাকশক্তি কেড়ে নেওয়া হবে। অবশ্য আল্লাহ তাআলার তাসবীহ ও হামদ আদায় করতে পারবে। [এস্থলে তিন রাত এবং সূরা আলে ‘ইমরানে তিন দিন বলা হয়েছে। প্রতিটি শব্দ দ্বারাই মূলত দিন-রাতের সমষ্টি বোঝানো হয়েছে। সুতরাং তিনি পূর্ণ তিন দিন তিন রাত মানুষের সাথে কোন কথা বলতে পারতেন না। কিন্তু যিকর, তাসবীহ ও কিতাব তিলাওয়াত করতে পারতেন। এভাবে সন্তান জন্মের এমনই আলামত তাকে দান করা হল, যা ছিল আল্লাহর ইবাদত ও শুকর। মহামানবের জন্য মহতী আলামতই বটে। -অনুবাদক
১১

فَخَرَجَ عَلٰی قَوۡمِہٖ مِنَ الۡمِحۡرَابِ فَاَوۡحٰۤی اِلَیۡہِمۡ اَنۡ سَبِّحُوۡا بُکۡرَۃً وَّعَشِیًّا ١١

ফাখারাজা ‘আলা- কাওমিহী মিনাল মিহরা-বি ফাআওহা ইলাইহিম আন ছাব্বিহূবুকরাতাওঁ ওয়া ‘আশিইইয়া-।

সুতরাং সে ইবাদতখানা থেকে বের হয়ে নিজ সম্প্রদায়ের সামনে আসল এবং তাদেরকে ইশারায় হুকুম দিল, তোমরা সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবীহ (পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা) কর।
১২

یٰیَحۡیٰی خُذِ الۡکِتٰبَ بِقُوَّۃٍ ؕ  وَاٰتَیۡنٰہُ الۡحُکۡمَ صَبِیًّا ۙ ١٢

ইয়া-ইয়াহইয়া-খুযিল কিতা-বা বিকুওয়াতিওঁ ওয়াআ-তাইনা-হুল হুকমা সাবিইইয়া-।

(অতঃপর যখন ইয়াহইয়া জন্মগ্রহণ করল এবং সে বড়ও হয়ে গেল, তখন আমি তাকে বললাম) হে ইয়াহইয়া! (আল্লাহর) কিতাবকে দৃঢ়ভাবে আকড়ে ধর। আমি তাকে তার শৈশবেই জ্ঞানবত্তা দান করেছিলাম

তাফসীরঃ

৮. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তাঁকে শৈশবেই সমঝদারি, বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এবং অন্তর্দৃষ্টি দান করেছিলেন, কিতাব ও শরীয়তী জ্ঞানের অধিকারী করেছিলেন এবং ইবাদত-বন্দেগীর রীতি-নীতি ও সেবামূলক কাজের পথ ও পদ্ধতি সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি দান করেছিলেন। -অনুবাদক, তাফসীরে উসমানীর বরাতে।
১৩

وَّحَنَانًا مِّنۡ لَّدُنَّا وَزَکٰوۃً ؕ  وَکَانَ تَقِیًّا ۙ ١٣

ওয়াহানা-নাম মিল্লাদুন্না-ওয়াঝাকা-তাও ওয়াকা-না তাকিইইয়া-।

এবং বিশেষভাবে আমার নিজের পক্ষ থেকে হৃদয়ের কোমলতা ও পবিত্রতাও। আর সে ছিল বড়ই পরহেজগার।
১৪

وَّبَرًّۢا بِوَالِدَیۡہِ وَلَمۡ یَکُنۡ جَبَّارًا عَصِیًّا ١٤

ওয়া বাররাম বিওয়া-লিদাইহি ওয়া-লাম ইয়াকুন জাব্বা-রান ‘আসিইইয়া-।

এবং নিজ পিতা-মাতার খেদমতগার। সে অহংকারী ও অবাধ্য ছিল না।
১৫

وَسَلٰمٌ عَلَیۡہِ یَوۡمَ وُلِدَ وَیَوۡمَ یَمُوۡتُ وَیَوۡمَ یُبۡعَثُ حَیًّا ٪ ١٥

ওয়া ছালা-মুন ‘আলাইহি ইয়াওমা উলিদা ওয়া ইয়াওমা ইয়ামূতুওয়া ইয়াওমা ইউব‘আছু হাইইয়া-।

এবং (আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে) তার প্রতি সালাম যে দিন সে জন্মগ্রহণ করেছে, যে দিন তার মৃত্যু হবে এবং যে দিন সে জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে।
১৬

وَاذۡکُرۡ فِی الۡکِتٰبِ مَرۡیَمَ ۘ  اِذِ انۡتَبَذَتۡ مِنۡ اَہۡلِہَا مَکَانًا شَرۡقِیًّا ۙ ١٦

ওয়াযকুর ফিল কিতা-বি মারইয়াম । ইযিন তাবাযাত মিন আহলিহা-মাকা-নান শারকিইইয়া-।

এ কিতাবে মারয়ামের বৃত্তান্তও বিবৃত কর। সেই সময়ের বৃত্তান্ত, যখন সে তার পরিবারবর্গ থেকে পৃথক হয়ে পূর্ব দিকের এক স্থানে চলে গেল।
১৭

فَاتَّخَذَتۡ مِنۡ دُوۡنِہِمۡ حِجَابًا ۪۟ فَاَرۡسَلۡنَاۤ اِلَیۡہَا رُوۡحَنَا فَتَمَثَّلَ لَہَا بَشَرًا سَوِیًّا ١٧

ফাত্তাখাযাত মিন দূ নিহিম হিজা-বান ফাআরছালনাইলাইহা-রূহানাফাতামাছছালা লাহা-বাশারান ছাবিইইয়া-।

তারপর সে তাদের ও নিজের মাঝখানে একটি পর্দা ফেলে দিল। ১০ এ সময় আমি তার কাছে আমার রূহ (অর্থাৎ একজন ফিরিশতা) পাঠালাম, যে তার সামনে এক পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করল।

তাফসীরঃ

১০. হযরত মারয়াম আলাইহিস সালাম পৃথক স্থানে গিয়ে পর্দা ফেলেছিলেন কেন এ সম্পর্কে মুফাসসিরদের বিভিন্ন মত আছে। কেউ বলেন, তিনি গোসল করতে চাচ্ছিলেন। কারও মতে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ইবাদত-বন্দেগীর জন্য নির্জনতা অবলম্বন করা। আল্লামা কুরতুবী (রহ.) এ মতকেই শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।
১৮

قَالَتۡ اِنِّیۡۤ اَعُوۡذُ بِالرَّحۡمٰنِ مِنۡکَ اِنۡ کُنۡتَ تَقِیًّا ١٨

কা-লাত ইন্নীআ‘ঊযুবিররাহমা-নি মিনকা ইন কুনতা তাকিইইয়া-।

মারয়াম বলল, আমি তোমার থেকে দয়াময় আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করছি যদি তুমি আল্লাহকে ভয় কর (তবে এখান থেকে সরে যাও)।
১৯

قَالَ اِنَّمَاۤ اَنَا رَسُوۡلُ رَبِّکِ ٭ۖ لِاَہَبَ لَکِ غُلٰمًا زَکِیًّا ١٩

কা-লা ইন্নামাআনা রাছূলুরাব্বিকি লিআহাবা লাকি গুলা-মান ঝাকিইইয়া-।

ফিরিশতা বলল, আমি তো তোমার প্রতিপালকের প্রেরিত (ফিরিশতা আর আমি এসেছি) তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করার জন্য। ১১

তাফসীরঃ

১১. পবিত্র পুত্র বলতে এমন পুত্র বোঝানো হয়েছে, যে বংশ-পরিচয় ও স্বভাব-চরিত্রের দিক থেকে পবিত্র ও নিষ্পাপ হবে।
২০

قَالَتۡ اَنّٰی یَکُوۡنُ لِیۡ غُلٰمٌ وَّلَمۡ یَمۡسَسۡنِیۡ بَشَرٌ وَّلَمۡ اَکُ بَغِیًّا ٢۰

কা-লাত আন্না-ইয়াকূনুলী গুলা-মুওঁ ওয়া লাম ইয়ামছাছনী বাশারুওঁ ওয়া লাম আকু বাগিইইয়া-।

মারয়াম বলল, আমার পুত্র হবে কেমন করে, যখন আমাকে কোন পুরুষ স্পর্শ করেনি এবং আমি নই কোন ব্যভিচারিণী নারী?
২১

قَالَ کَذٰلِکِ ۚ قَالَ رَبُّکِ ہُوَ عَلَیَّ ہَیِّنٌ ۚ وَلِنَجۡعَلَہٗۤ اٰیَۃً لِّلنَّاسِ وَرَحۡمَۃً مِّنَّا ۚ وَکَانَ اَمۡرًا مَّقۡضِیًّا ٢١

কা-লা কাযা-লিকি কা-লা রাব্বুকি হুওয়া ‘আলাইইয়া হাইয়িনুওঁ ওয়ালিনাজ‘আলাহূআ-য়াতাল লিন্না-ছি ওয়ারাহমাতাম মিন্না- ওয়াকা-না আমরাম মাকদিইইয়া-।

ফিরিশতা বলল, এভাবেই হবে। তোমার রব্ব বলেছেন, আমার পক্ষে এটা একটা মামুলি কাজ। আমি এটা করব এজন্য যে, তাকে বানাব মানুষের জন্য (আমার কুদরতের) এক নিদর্শন ও আমার নিকট হতে রহমত। ১২ এটা সম্পূর্ণরূপে স্থিরীকৃত হয়ে গেছে।

তাফসীরঃ

১২. দুনিয়ায় মানুষের আগমনের সাধারণ নিয়ম এই যে, সে নর-নারীর মিলনের ফলে জন্ম নেয়। কিন্তু আল্লাহ তাআলা হযরত আদম আলাইহিস সালাম, হযরত হাওয়া ও হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে এ নিয়মের অধীনে সৃষ্টি করেননি। হযরত আদম আলাইহিস সালামের সৃজনে তো পুরুষ ও নারী কারোই কোন ভূমিকা ছিল না। হযরত হাওয়াকে যেহেতু তাঁরই পাঁজর থেকে সৃষ্টি করা হয়, সে হিসেবে তাঁর সৃজনে পুরুষের তো এক রকম ভূমিকা ছিল, কিন্তু নারীর কোন ভূমিকা ছিল না। আল্লাহ তাআলা চাইলেন মানব সৃষ্টির চতুর্থ এক পন্থার মাধ্যমে মানুষকে নিজ কুদরতের মহিমা দেখাবেন। সুতরাং তিনি হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে পিতার ভূমিকা ছাড়া কেবল মা হতে সৃষ্টি করলেন। এর দ্বারা আল্লাহ তাআলার এক উদ্দেশ্য তো ছিল মানুষকে নিজ কুদরতের প্রকাশ দেখিয়ে দেওয়া, দ্বিতীয়ত এটা স্পষ্ট করে দেওয়া যে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম একজন নবীরূপে মানুষের জন্য রহমত স্বরূপ আগমন করছেন।
২২

فَحَمَلَتۡہُ فَانۡتَبَذَتۡ بِہٖ مَکَانًا قَصِیًّا ٢٢

ফাহামালাতহু ফানতাবাযাত বিহী মাকা-নান কাসিইইয়া-।

অতঃপর এই ঘটল যে, মারয়াম সেই শিশুকে গর্ভে ধারণ করল (এবং যখন জন্মের সময় কাছে এসে গেল) তখন সে তাকে নিয়ে দূরে এক নিভৃত স্থানে চলে গেল।
২৩

فَاَجَآءَہَا الۡمَخَاضُ اِلٰی جِذۡعِ النَّخۡلَۃِ ۚ قَالَتۡ یٰلَیۡتَنِیۡ مِتُّ قَبۡلَ ہٰذَا وَکُنۡتُ نَسۡیًا مَّنۡسِیًّا ٢٣

ফাআজাআহাল মাখা-দুইলা-জিয‘ইন নাখলাতি কা-লাত ইয়া-লাইতানী মিত্তু কাবলা হা-যা-ওয়াকুনতুনাছইয়াম মানছিইইয়া-।

তারপর প্রসব-বেদনা তাকে একটি খেজুর গাছের কাছে নিয়ে গেল। সে বলতে লাগল, হায়! আমি যদি এর আগেই মারা যেতাম এবং সম্পূর্ণ বিস্মৃত-বিলুপ্ত হয়ে যেতাম! ১৩

তাফসীরঃ

১৩. একজন সতী-সাধ্বী কুমারী নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে তাতে তার উদ্বেগ ও অস্থিরতা কী পরিমাণ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। যদিও সাধারণ অবস্থায় মৃত্যু কামনা করা নিষেধ, কিন্তু কোন দীনী ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিলে এরূপ কামনা দূষনীয় নয়। খুব সম্ভব হযরত মারয়াম আলাইহিস সালাম প্রচণ্ড মানসিক চাপের কারণে সাময়িকভাবে ফিরিশতার দেওয়া সুসংবাদের প্রতি বে-খেয়াল হয়ে পড়েছিলেন এবং সেই অবকাশে হঠাৎ তাঁর মুখ থেকে এ কথাটি বের হয়ে পড়ে।
২৪

فَنَادٰىہَا مِنۡ تَحۡتِہَاۤ اَلَّا تَحۡزَنِیۡ قَدۡ جَعَلَ رَبُّکِ تَحۡتَکِ سَرِیًّا ٢٤

ফানা-দা-হা-মিন তাহতিহাআল্লা-তাহঝানী কাদ জা‘আলা রাব্বুকি তাহতাকি ছারিইইয়া-।

তখন ফিরিশতা তার নিচে এক স্থান থেকে তাকে ডাক দিয়ে বলল, তুমি দুঃখ করো না, তোমার প্রতিপালক তোমার নিচে একটি উৎস সৃষ্টি করেছেন।
২৫

وَہُزِّیۡۤ اِلَیۡکِ بِجِذۡعِ النَّخۡلَۃِ تُسٰقِطۡ عَلَیۡکِ رُطَبًا جَنِیًّا ۫ ٢٥

ওয়া হুঝঝীইলাইকি বিজিয‘ইন্নাখলাতি তুছা-কিত‘আলাইকি রুতাবান জানিইইয়া-।

এবং খেজুর গাছের ডালাকে নিজের দিকে নাড়া দাও, তা থেকে পাকা তাজা খেজুর তোমার উপর ঝরে পড়বে।
২৬

فَکُلِیۡ وَاشۡرَبِیۡ وَقَرِّیۡ عَیۡنًا ۚ  فَاِمَّا تَرَیِنَّ مِنَ الۡبَشَرِ اَحَدًا ۙ  فَقُوۡلِیۡۤ اِنِّیۡ نَذَرۡتُ لِلرَّحۡمٰنِ صَوۡمًا فَلَنۡ اُکَلِّمَ الۡیَوۡمَ اِنۡسِیًّا ۚ ٢٦

ফাকুলী ওয়াশরাবী ওয়াকাররী ‘আইনান ফাইম্মা-তারায়িন্না মিনাল বাশারি আহাদান ফাকূলীইন্নী নাযারতুলিররাহমা-নি সাওমান ফালান উকালিলমাল ইয়াওমা ইনছিইইয়া-।

তারপর খাও ও পান কর এবং চোখ জুড়াও, ১৪ মানুষের মধ্যে কাউকে আসতে দেখলে (ইশারায়) বলে দিও, আজ আমি দয়াময় আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি রোজা মানত করেছি। সুতরাং আজ আমি কোন মানুষের সাথে কথা বলব না। ১৫

তাফসীরঃ

১৪. বিগত শরীয়তসমূহের কোন-কোনটিতে কথাবার্তা না বলে চুপচাপ থাকাও এক ধরনের রোযা ও ইবাদত ছিল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীয়তে ইবাদতের এ পন্থা রহিত করে দেওয়া হয়েছে। এখন এরূপ রোযা রাখা জায়েয নয়। আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে হযরত মারয়াম আলাইহিস সালামকে নির্দেশ করা হয়েছিল, তিনি যেন এরূপ রোযার মানত করেন। অতঃপর যদি কথা বলার প্রয়োজন পড়ে, তবে তা যেন ইশারা দ্বারা সেরে নেন এবং বুঝিয়ে দেন আমি রোযা রেখেছি। এতে করে মানুষের অহেতুক সওয়াল-জওয়াবের ঝামেলা থেকে বেঁচে যাবেন এবং কিছুটা হলেও স্বস্তিতে থাকতে পারবেন।
২৭

فَاَتَتۡ بِہٖ قَوۡمَہَا تَحۡمِلُہٗ ؕ قَالُوۡا یٰمَرۡیَمُ لَقَدۡ جِئۡتِ شَیۡئًا فَرِیًّا ٢٧

ফাআতাত বিহী কাওমাহা-তাহমিলুহূ কা-লূইয়া-মারইয়ামুলাকাদ জি’তি শাইআন ফারিইইয়া-।

তারপর সে শিশুটি নিয়ে নিজ সম্প্রদায়ের কাছে আসল। ১৬ তারা বলে উঠল, মারয়াম! তুমি তো বড় খতরনাক কাজ করেছ!

তাফসীরঃ

১৬. শিশুর জন্মের পর হযরত মারয়াম আলাইহিস সালাম পরিপূর্ণ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন যে, যেই আল্লাহ নিজের বিশেষ কুদরত দ্বারা এই শিশুটির জন্ম দিয়েছেন, তিনিই মানুষের কাছে পরিষ্কার করে দেবেন যে, তাঁর গায়ে কোন কলঙ্ক নেই। তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র। কাজেই তিনি নিশ্চিত মনে নিজেই শিশুটিকে কোলে নিয়ে নিজ সম্প্রদায়ের কাছে চলে আসলেন।
২৮

یٰۤاُخۡتَ ہٰرُوۡنَ مَا کَانَ اَبُوۡکِ امۡرَاَ سَوۡءٍ وَّمَا کَانَتۡ اُمُّکِ بَغِیًّا ۖۚ ٢٨

ইয়াউখতা হা-রূনা মা-কা-না আবূকিম রাআ ছাওইওঁ ওয়ামা-কানাত উম্মুকি বাগিইইয়া-।

ওহে হারূনের বোন! ১৭ তোমার পিতাও কোন খারাপ লোক ছিল না এবং তোমার মাও ছিল না অসতী নারী।

তাফসীরঃ

১৭. ‘হারূনের বোন’ কথাটির দু’টি অর্থ হতে পারে। (ক) সম্ভবত হযরত মারয়াম আলাইহাস সালাম হযরত হারূন আলাইহিস সালামের বংশধর ছিলেন আর সে হিসেবেই তাকে ‘হারূনের বোন’ বলা হয়েছে, যেমন হযরত হুদ আলাইহিস সালামকে ‘আদের ভাই’ বলা হয়েছে। (খ) আবার এটাও সম্ভব যে, তাঁর কোন ভাইয়ের নাম ছিল হারূন, যিনি একজন বুযুর্গ লোক ছিলেন। এ কারণে হয়ত তিরস্কারকে তীব্রতর করার লক্ষ্যে তারা তাঁর নাম উল্লেখ করেছিল।
২৯

فَاَشَارَتۡ اِلَیۡہِ ؕ قَالُوۡا کَیۡفَ نُکَلِّمُ مَنۡ کَانَ فِی الۡمَہۡدِ صَبِیًّا ٢٩

ফাআশা-রাত ইলাইহি কা-লূকাইফা নুকালিলমুমান কা-না ফিল মাহদি সাবিইইয়া-।

তখন মারয়াম শিশুটির দিকে ইশারা করলেন। তারা বলল, আমরা এই দোলনার শিশুর সাথে কিভাবে কথা বলব?
৩০

قَالَ اِنِّیۡ عَبۡدُ اللّٰہِ ۟ؕ  اٰتٰنِیَ الۡکِتٰبَ وَجَعَلَنِیۡ نَبِیًّا ۙ ٣۰

কা-লা ইন্নী ‘আবদুল্লা-হি আ-তা-নিয়াল কিতা-বা ওয়া জা‘আলানী নাবিইইয়া-।

অমনি শিশুটি বলে উঠল, আমি আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং নবী বানিয়েছেন। ১৮

তাফসীরঃ

১৮. অর্থাৎ, বড় হলে আমাকে ইনজীল দেওয়া হবে এবং আমাকে নবী বানানো হবে। আর এ বিষয়টা এমনই নিশ্চিত, যেন ঘটে গেছে। এ কারণেই তিনি কথাটি অতীতবাচক ক্রিয়াপদে ব্যক্ত করেছেন। সবগুলো কথাই অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন। তেজস্বী ও ওজনদারও বটে। দুধের শিশুর এ রকম ভাষণ ছিল আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি খোলা মুজিযা। এর মাধ্যমে তিনি হযরত মারয়াম আলাইহাস সালামের চারিত্রিক নির্মলতা ও পবিত্রতা পরিষ্কার করে দিয়েছেন।
৩১

وَّجَعَلَنِیۡ مُبٰرَکًا اَیۡنَ مَا کُنۡتُ ۪  وَاَوۡصٰنِیۡ بِالصَّلٰوۃِ وَالزَّکٰوۃِ مَا دُمۡتُ حَیًّا ۪ۖ ٣١

ওয়াজা‘আলানী মুবা-রাকান আইনা মা-কুনতু,ওয়াআওসা-নী বিসসালা-তি ওয়াঝঝাকা-তি মা-দুমতুহাইইয়া-।

এবং আমি যেখানেই থাকি না কেন আমাকে বরকতময় করেছেন এবং যত দিন জীবিত থাকি আমাকে নামায ও যাকাত আদায়ের হুকুম দিয়েছেন। ১৯

তাফসীরঃ

১৯. অর্থাৎ, আমি যত দিন দুনিয়ায় জীবিত থাকব আমার উপর নামায ও যাকাত ফরয থাকবে।
৩২

وَّبَرًّۢا بِوَالِدَتِیۡ ۫ وَلَمۡ یَجۡعَلۡنِیۡ جَبَّارًا شَقِیًّا ٣٢

ওয়াবাররাম বিওয়া-লিদাতী ওয়ালাম ইয়াজ‘আলনী জাব্বা-রান শাকিইইয়া-।

এবং আমাকে আমার মায়ের প্রতি অনুগত বানিয়েছেন। আমাকে উদ্ধত ও রূঢ় বানাননি।
৩৩

وَالسَّلٰمُ عَلَیَّ یَوۡمَ وُلِدۡتُّ وَیَوۡمَ اَمُوۡتُ وَیَوۡمَ اُبۡعَثُ حَیًّا ٣٣

ওয়াছছালা-মূ‘আলাইইয়া ইয়াওমা উলিততুওয়া ইয়াওমা আমূতুওয়া ইয়াওমা উব ‘আছু হাইইয়া-।

এবং (আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে) আমার প্রতি সালাম যে দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যে দিন আমার মৃত্যু হবে এবং যে দিন আমাকে পুনরায় জীবিত করে ওঠানো হবে।
৩৪

ذٰلِکَ عِیۡسَی ابۡنُ مَرۡیَمَ ۚ قَوۡلَ الۡحَقِّ الَّذِیۡ فِیۡہِ یَمۡتَرُوۡنَ ٣٤

যা-লিকা ‘ঈছাবনুমারইয়ামা কাওলাল হাক্কিল্লাযী ফীহি ইয়ামতারূন।

এই হল মারয়ামের পুত্র ঈসা। তার (প্রকৃত অবস্থা) সম্পর্কে এটাই সত্য কথা, যে সম্পর্কে তারা তর্ক-বিতর্ক করছে। ২০

তাফসীরঃ

২০. এই সম্পূর্ণ ঘটনাটি উল্লেখ করার মূল উদ্দেশ্য হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরা। এ ঘটনার দ্বারা আপনা-আপনিই এ সিদ্ধান্ত বের হয়ে আসে যে, ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান সম্প্রদায় তাঁর সম্পর্কে যে বিপরীতমুখী অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং আপন-আপন অবস্থানে তারা যে চরম বাড়াবাড়ি করছে তা সর্বৈব ভ্রান্ত ও ভিত্তিহীন। ইয়াহুদী সম্প্রদায় তাঁর সম্পর্কে যে অভিযোগ করছে তা যেমন মিথ্যাচার, তেমনি খ্রিস্ট সম্প্রদায় যা বলছে তাও সত্যের অপলাপ। তাদের এ বিশ্বাস বিলকুল ভ্রান্ত যে, তিনি আল্লাহ তাআলার পুত্র। আল্লাহ তাআলার কোন পুত্রের দরকার নেই। এটাই সত্য কথা যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও নবী।
৩৫

مَا کَانَ لِلّٰہِ اَنۡ یَّتَّخِذَ مِنۡ وَّلَدٍ ۙ  سُبۡحٰنَہٗ ؕ  اِذَا قَضٰۤی اَمۡرًا فَاِنَّمَا یَقُوۡلُ لَہٗ کُنۡ فَیَکُوۡنُ ؕ ٣٥

মা-কা-না লিল্লা-হি আইঁ ইয়াত্তাখিযা মিওঁ ওয়ালাদিন ছুবহা-নাহূ ইযা-কাদা আমরান ফাইন্নামা-ইয়াকূলুলাহূকুন ফাইয়াকূন।

এটা আল্লাহর শান নয় যে, তিনি কোন পুত্র গ্রহণ করবেন। তাঁর সত্তা পবিত্র। তিনি যখন কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থির করেন, তখন কেবল বলেন, ‘হয়ে যাও’। অমনি তা হয়ে যায়।
৩৬

وَاِنَّ اللّٰہَ رَبِّیۡ وَرَبُّکُمۡ فَاعۡبُدُوۡہُ ؕ ہٰذَا صِرَاطٌ مُّسۡتَقِیۡمٌ ٣٦

ওয়া ইন্নাল্লা-হা রাববী ওয়ারাব্বুকুম ফা‘বুদূ হু হা-যা-সিরা-তুম মুছতাকীম।

(হে নবী! মানুষকে) বলে দাও, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক। সুতরাং তোমরা তাঁর ইবাদত কর। এটাই সরল পথ।
৩৭

فَاخۡتَلَفَ الۡاَحۡزَابُ مِنۡۢ بَیۡنِہِمۡ ۚ فَوَیۡلٌ لِّلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ مَّشۡہَدِ یَوۡمٍ عَظِیۡمٍ ٣٧

ফাখতালাফাল আহঝা-বুমিম বাইনিহিম ফাওয়াইলুল লিল্লাযীনা কাফারূমিম মাশহাদি ইয়াওমিন ‘আজীম।

তা সত্ত্বেও তাদের বিভিন্ন দল বিভিন্ন মত সৃষ্টি করেছে। ২১ সুতরাং যারা কুফর অবলম্বন করেছে মহাদিবস প্রত্যক্ষ করার দিন তাদের জন্য রয়েছে ধ্বংস।

তাফসীরঃ

২১. খ্রিস্টানগণ বলছে, তিনি আল্লাহর পুত্র, ইয়াহুদীরা বলছে তিনি অসতী মায়ের পুত্র, আবার খোদ খ্রিস্টানদের মধ্যেও একদল বলছে, তিনি ঈশ্বরের পুত্র এবং ঈশ্বরের তিন এককের একজন, অন্যদল বলছে তিনি স্বয়ং ঈশ্বর। এ সবগুলোই কুফরী বিশ্বাস এবং এর পরিণতি জাহান্নামবাস। -অনুবাদক
৩৮

اَسۡمِعۡ بِہِمۡ وَاَبۡصِرۡ ۙ یَوۡمَ یَاۡتُوۡنَنَا لٰکِنِ الظّٰلِمُوۡنَ الۡیَوۡمَ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ ٣٨

আছমি‘বিহিম ওয়া আবসির ইয়াওমা ইয়া’তূনানা-লা-কিনিজ্জা-লিমূনাল ইয়াওমা ফী দালা-লিম মুবীন।

যে দিন তারা আমার কাছে আসবে সে দিন তারা কতইনা শুনবে এবং কতইনা দেখবে! কিন্তু জালেমগণ আজ স্পষ্ট গোমরাহীতে নিপতিত।
৩৯

وَاَنۡذِرۡہُمۡ یَوۡمَ الۡحَسۡرَۃِ اِذۡ قُضِیَ الۡاَمۡرُ ۘ وَہُمۡ فِیۡ غَفۡلَۃٍ وَّہُمۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ٣٩

ওয়া আনযিরহুম ইয়াওমাল হাছরাতি ইযকুদিয়াল আমর । ওয়াহুম ফী গাফলাতিওঁ ওয়াহুম লা-ইউ’মিনূন।

(হে নবী!) তাদেরকে আক্ষেপের দিন সম্পর্কে সতর্ক করুন, যে দিন সকল বিষয়ে চূড়ান্ত ফায়সালা হয়ে যাবে, অথচ মানুষ গাফলতিতে পড়ে আছে এবং তারা ঈমান আনছে না।
৪০

اِنَّا نَحۡنُ نَرِثُ الۡاَرۡضَ وَمَنۡ عَلَیۡہَا وَاِلَیۡنَا یُرۡجَعُوۡنَ ٪ ٤۰

ইন্না-নাহনুনারিছুল আরদা ওয়ামান ‘আলাইহা-ওয়া ইলাইনা-ইউরজা‘ঊন।

নিশ্চয়ই পৃথিবী এবং এর উপর যারা আছে, সকলের ওয়ারিশ হব আমিই এবং আমারই কাছে তাদের সকলকে ফিরিয়ে আনা হবে।
৪১

وَاذۡکُرۡ فِی الۡکِتٰبِ اِبۡرٰہِیۡمَ ۬ؕ اِنَّہٗ کَانَ صِدِّیۡقًا نَّبِیًّا ٤١

ওয়াযকুর ফিল কিতা-বি ইবরা-হীমা ইন্নাহূকা-না সিদ্দীকান নাবিইইয়া-।

এ কিতাবে ইবরাহীমের বৃত্তান্তও বিবৃত কর। নিশ্চয়ই সে ছিল সত্যনিষ্ঠ নবী।
৪২

اِذۡ قَالَ لِاَبِیۡہِ یٰۤاَبَتِ لِمَ تَعۡبُدُ مَا لَا یَسۡمَعُ وَلَا یُبۡصِرُ وَلَا یُغۡنِیۡ عَنۡکَ شَیۡئًا ٤٢

ইয কা-লা লিআবীহি ইয়া আবাতি লিমা তা‘বুদুমা-লা-ইয়াছমা‘উ ওয়ালা-ইউবসিরূ ওয়ালা-ইউগনী ‘আনকা শাইআ-।

স্মরণ কর, যখন সে নিজ পিতাকে বলেছিল, আব্বাজী! আপনি এমন জিনিসের ইবাদত কেন করেন, যা কিছু শোনে না, দেখে না এবং আপনার কোন কাজও করতে পারে না? ২২

তাফসীরঃ

২২. হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পিতা আযর ছিল পৌত্তলিক। সে কেবল মূর্তির পূজাই করত না; মূর্তি নির্মাণও করত।
৪৩

یٰۤاَبَتِ اِنِّیۡ قَدۡ جَآءَنِیۡ مِنَ الۡعِلۡمِ مَا لَمۡ یَاۡتِکَ فَاتَّبِعۡنِیۡۤ اَہۡدِکَ صِرَاطًا سَوِیًّا ٤٣

ইয়াআবাতি ইন্নী কাদ জাআনী মিনাল ‘ইলমি মা-লাম ইয়া’তিকা ফাত্তাবি‘নীআহদিকা সিরা-তান ছাবিইইয়া-।

আব্বাজী! আমার নিকট এমন এক জ্ঞান এসেছে যা আপনার কাছে আসেনি। কাজেই আপনি আমার কথা শুনুন, আমি আপনাকে সরল পথ বাতলে দেব।
৪৪

یٰۤاَبَتِ لَا تَعۡبُدِ الشَّیۡطٰنَ ؕ اِنَّ الشَّیۡطٰنَ کَانَ لِلرَّحۡمٰنِ عَصِیًّا ٤٤

ইয়াআবাতি লা-তা‘বুদিশশাইতা-না ইন্নাশশাইতা-না কা-না লিররাহমা-নি আ‘সিইইয়া- ।

আব্বাজী! শয়তানের ইবাদত করবেন না। ২৩ নিশ্চয়ই শয়তান দয়াময়ের অবাধ্য।

তাফসীরঃ

২৩. মূর্তিপূজার ধারণাটি মূলত শয়তানের উদ্ভাবিত। কাজেই মূর্তিপূজা প্রকারান্তরে শয়তানেরই পূজা। মানুষ যেন শয়তানকে আনুগত্যের উপযুক্ত মনে করে তারই ইবাদত করছে।
৪৫

یٰۤاَبَتِ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اَنۡ یَّمَسَّکَ عَذَابٌ مِّنَ الرَّحۡمٰنِ فَتَکُوۡنَ لِلشَّیۡطٰنِ وَلِیًّا ٤٥

ইয়াআবাতি ইন্নীআখা-ফুআইঁ ইয়ামাছছাকা ‘আযা-বুম মিনার রাহমা-নি ফাতাকূনা লিশশাইতা-নি ওয়ালিইইয়া-।

আব্বাজী! আমার আশঙ্কা দয়াময়ের পক্ষ হতে কোন শাস্তি আপনাকে স্পর্শ করবে। ফলে আপনি শয়তানের সঙ্গী হয়ে যাবেন। ২৪

তাফসীরঃ

২৪. শয়তানের সঙ্গী হয়ে যাওয়ার অর্থ, শয়তানের যে পরিণাম হবে অর্থাৎ, জাহান্নাম বাস, সেই পরিণাম আপনাকেও ভোগ করতে হবে।
৪৬

قَالَ اَرَاغِبٌ اَنۡتَ عَنۡ اٰلِہَتِیۡ یٰۤـاِبۡرٰہِیۡمُ ۚ لَئِنۡ لَّمۡ تَنۡتَہِ لَاَرۡجُمَنَّکَ وَاہۡجُرۡنِیۡ مَلِیًّا ٤٦

কা-লা আরা-গিবুন আনতা ‘আন আ-লিহাতী ইয়াইবরা-হীমু লাইল্লাম তানতাহি লাআরজুমান্নাকা ওয়াহজুরনী মালিইইয়া-।

তার পিতা বলল, ইবরাহীম! তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে বিমুখ? তুমি যদি এর থেকে নিবৃত্ত না হও, তবে আমি অবশ্যই তোমার উপর পাথর নিক্ষেপ করব। আর এখন তুমি চিরদিনের জন্য আমার থেকে দূর হয়ে যাও।
৪৭

قَالَ سَلٰمٌ عَلَیۡکَ ۚ سَاَسۡتَغۡفِرُ لَکَ رَبِّیۡ ؕ اِنَّہٗ کَانَ بِیۡ حَفِیًّا ٤٧

কা-লা ছালা-মুন ‘আলাইকা ছাআছতাগফিরুলাকা রাববী ইন্নাহূকা-না বী হাফিইইয়া-।

ইবরাহীম বলল, আপনার প্রতি (বিদায়ী) সালাম। ২৫ আমি আমার প্রতিপালকের কাছে আপনার মাগফিরাতের জন্য দু‘আ করব। ২৬ নিঃসন্দেহে তিনি আমার প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।

তাফসীরঃ

২৫. সূরা তাওবায় (৯ : ১১৪) আল্লাহ তাআলা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের এই প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছেন। এর দ্বারা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম পিতার মাগফিরাতের জন্য দু‘আ করার এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেই সময়, যখন ‘পিতার ভাগ্যে ঈমান নেই’-একথা তার জানা ছিল না। পরবর্তীতে যখন এটা তিনি জানতে পারলেন, তখন এরূপ দু‘আ করা থেকে নিবৃত্ত হলেন।
৪৮

وَاَعۡتَزِلُکُمۡ وَمَا تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ وَاَدۡعُوۡا رَبِّیۡ ۫ۖ عَسٰۤی اَلَّاۤ اَکُوۡنَ بِدُعَآءِ رَبِّیۡ شَقِیًّا ٤٨

ওয়া আ‘তাঝিলুকুম ওয়ামা-তাদ‘ঊনা মিন দূ নিল্লা-হি ওয়া আদ‘ঊ রাববী ‘আছাআল্লা আকূনা বিদু‘আই রাববী শাকিইইয়া-।

আমি আপনাদের থেকেও পৃথক হয়ে যাচ্ছি এবং আপনারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করেন তাদের থেকেও। আমি আমার প্রতিপালককে ডাকতে থাকব। আমি পরিপূর্ণ আশাবাদী যে, আমি আমার প্রতিপালককে ডেকে ব্যর্থকাম হব না।
৪৯

فَلَمَّا اعۡتَزَلَہُمۡ وَمَا یَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ۙ وَہَبۡنَا لَہٗۤ اِسۡحٰقَ وَیَعۡقُوۡبَ ؕ وَکُلًّا جَعَلۡنَا نَبِیًّا ٤٩

ফালাম্মা‘ তাঝালাহুম ওয়ামা-ইয়া‘বুদূ না মিন দূ নিল্লা-হি ওয়াহাবনা-লাহূইছহা-কা ওয়া ইয়া‘কূবা ওয়া কুল্লান জা‘আলনা-নাবিইইয়া-।

সুতরাং যখন সে তাদের থেকে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে (অর্থাৎ যেই প্রতিমাদেরকে) ডাকত তাদের থেকে পৃথক হয়ে গেল, তখন আমি তাকে ইসহাক ও ইয়াকুব (-এর মত সন্তান) দান করলাম এবং তাদের প্রত্যেককে নবী বানালাম।
৫০

وَوَہَبۡنَا لَہُمۡ مِّنۡ رَّحۡمَتِنَا وَجَعَلۡنَا لَہُمۡ لِسَانَ صِدۡقٍ عَلِیًّا ٪ ٥۰

ওয়া ওয়াহাবনা-লাহুম মির রাহমাতিনা- ওয়া জা‘আলনা- লাহুম লিছা-না সিদকিন ‘আলিইইয়া-।

এবং তাদেরকে দান করলাম আমার রহমত আর তাদের দিলাম সমুচ্চ সুখ্যাতি। ২৭

তাফসীরঃ

২৭. সুতরাং হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে কেবল মুসলিমগণই নয়, ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানরাও নিজেদের আদর্শ মনে করে।
৫১

وَاذۡکُرۡ فِی الۡکِتٰبِ مُوۡسٰۤی ۫ اِنَّہٗ کَانَ مُخۡلَصًا وَّکَانَ رَسُوۡلًا نَّبِیًّا ٥١

ওয়াযকুর ফিল কিতা-বি মূছাইন্নাহূকা-না মুখলাসাও ওয়া কা-না রাছূলান নাবিইইয়া-।

এ কিতাবে মূসার বৃত্তান্তও বিবৃত কর। নিশ্চয়ই সে ছিল আল্লাহর মনোনীত বান্দা এবং (তাঁর) রাসূল ও নবী। ২৮

তাফসীরঃ

২৮. হযরত মূসা ও হযরত হারূন আলাইহিমাস সালামের ঘটনা বিস্তারিতভাবে সামনের সূরায় আসছে।
৫২

وَنَادَیۡنٰہُ مِنۡ جَانِبِ الطُّوۡرِ الۡاَیۡمَنِ وَقَرَّبۡنٰہُ نَجِیًّا ٥٢

ওয়া না-দাইনা-হু মিন জা-নিবিততূরিল আইমানি ওয়া কাররাবনা-হু নাজিইইয়া-।

আমি তাকে তূর পাহাড়ের ডান দিক থেকে ডাক দিলাম এবং তাকে আমার অন্তরঙ্গরূপে নৈকট্য দান করলাম।
৫৩

وَوَہَبۡنَا لَہٗ مِنۡ رَّحۡمَتِنَاۤ اَخَاہُ ہٰرُوۡنَ نَبِیًّا ٥٣

ওয়া ওয়াহাবনা-লাহূমিররাহমাতিনাআখা-হু হা-রূনা নাবিইইয়া-।

আর আমি নিজ রহমতে তাকে দান করলাম তার ভাই হারূনকে নবীরূপে।
৫৪

وَاذۡکُرۡ فِی الۡکِتٰبِ اِسۡمٰعِیۡلَ ۫  اِنَّہٗ کَانَ صَادِقَ الۡوَعۡدِ وَکَانَ رَسُوۡلًا نَّبِیًّا ۚ ٥٤

ওয়াযকুর ফিল কিতা-বি ইছমা-ঈলা ইন্নাহূকা-না সা-দিকাল ওয়া‘দি ওয়া কা-না রাছূলান নাবিইইয়া-।

এবং এ কিতাবে ইসমাঈলের বৃত্তান্তও বিবৃত কর। নিশ্চয়ই সে ছিল প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে সত্যবাদী এবং রাসূল ও নবী। ২৯

তাফসীরঃ

২৯. পূর্বে ৪৯ নং আয়াতে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের আওলাদের মধ্যে পুত্র ইসহাক আলাইহিস সালাম ও পৌত্র ইয়াকুব আলাইহিস সালামের নাম তো উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালামের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এর কারণ খুব সম্ভব এই যে, তাঁর বিশেষ গুরুত্বের কারণে স্বতন্ত্রভাবে তাঁর বৃত্তান্ত বর্ণনা করা উদ্দেশ্য ছিল, যা এ আয়াতে করা হয়েছে। এমনিতে প্রত্যেক নবীই ওয়াদা রক্ষায় সত্যনিষ্ঠ হয়ে থাকেন। তা সত্ত্বেও হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে বিশেষভাবে এ বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে এ সম্পর্কিত তাঁর এক অসাধারণ ঘটনার কারণে। যখন আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে তাঁকে যবাহ করার হুকুম দেওয়া হয়েছিল, তখন তিনি পিতার সঙ্গে ওয়াদা করেছিলেন, যবাহকালে তিনি পরিপূর্ণ ধৈর্য ধারণ করবেন (সূরা সাফফাতে সে ঘটনা বিস্তারিত আসবে)। পিতা যখন আল্লাহ তাআলার নির্দেশ মত তাকে যবাহ করতে উদ্যত হন এবং তিনি সাক্ষাত মৃত্যুর সম্মুখীন হন, তখনও নিজ ওয়াদার কথা ভোলেননি; বরং ধৈর্য-স্থৈর্যের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছিলেন। মুফাসসিরগণ তাঁর ওয়াদা রক্ষার এ ছাড়া আরও কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন।
৫৫

وَکَانَ یَاۡمُرُ اَہۡلَہٗ بِالصَّلٰوۃِ وَالزَّکٰوۃِ ۪ وَکَانَ عِنۡدَ رَبِّہٖ مَرۡضِیًّا ٥٥

ওয়া কা-না ইয়া’মুরু আহলাহূবিসসালা-তি ওয়াঝঝাকা-তি ওয়া কা-না ‘ইনদা রাব্বিহী মার দিইইয়া-।

সে নিজ পরিবারবর্গকে সালাত ও যাকাত আদায়ের হুকুম করত এবং সে ছিল নিজ প্রতিপালকের সন্তোষভাজন।
৫৬

وَاذۡکُرۡ فِی الۡکِتٰبِ اِدۡرِیۡسَ ۫  اِنَّہٗ کَانَ صِدِّیۡقًا نَّبِیًّا ٭ۙ ٥٦

ওয়াযকুর ফিল কিতা-বি ইদরীছা ইন্নাহূকা-না সিদ্দীকান নাবিইইয়া-।

এ কিতাবে ইদরীসের বৃত্তান্তও বিবৃত কর। নিশ্চয়ই সে ছিল একজন সত্যনিষ্ঠ নবী!
৫৭

وَّرَفَعۡنٰہُ مَکَانًا عَلِیًّا ٥٧

ওয়া রাফা‘না-হু মাকা-নান ‘আলিয়া-।

আমি তাকে এক উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছিলাম। ৩০

তাফসীরঃ

৩০. ‘উচ্চ মর্যাদা’ দ্বারা নবুওয়াত ও রিসালাত এবং তাকওয়া ও পরহেজগারী বোঝানো হয়েছে। মানুষের পক্ষে এটাই সর্বোচ্চ মর্যাদা। হযরত ইদরীস আলাইহিস সালামের যামানায় আল্লাহ তাআলা তাঁকেই এ মর্যাদা দান করেছিলেন। বাইবেলে তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁকে জীবিত অবস্থায় আসমানে তুলে নিয়েছিলেন। কোন-কোন তাফসীর গ্রন্থেও এ রকমের কিছু রিওয়ায়াত উদ্ধৃত হয়েছে এবং তার ভিত্তিতে কেউ কেউ বলছেন, আয়াতের ইশারা সে ঘটনার দিকেই। কিন্তু সনদের বিচারে সেসব রিওয়ায়াত নিতান্তই দুর্বল, যার উপর মোটেই নির্ভর করা যায় না।
৫৮

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ اَنۡعَمَ اللّٰہُ عَلَیۡہِمۡ مِّنَ النَّبِیّٖنَ مِنۡ ذُرِّیَّۃِ اٰدَمَ ٭  وَمِمَّنۡ حَمَلۡنَا مَعَ نُوۡحٍ ۫  وَّمِنۡ ذُرِّیَّۃِ اِبۡرٰہِیۡمَ وَاِسۡرَآءِیۡلَ ۫  وَمِمَّنۡ ہَدَیۡنَا وَاجۡتَبَیۡنَا ؕ  اِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتُ الرَّحۡمٰنِ خَرُّوۡا سُجَّدًا وَّبُکِیًّا ٛ ٥٨

উলাইকাল্লাযীনা আন‘আমাল্লা-হু ‘আলাইহিম মিনান নাবিইয়ীনা মিন যুররিইইয়াতি আ-দামা ওয়া মিম্মান হামালনা-মা‘আ নূহিওঁ ওয়া মিন যুররিইইয়াতি ইবরা-হীমা ওয়া ইছরাঈলা ওয়া মিম্মান হাদাইনা-ওয়াজতাবাইনা- ইযা-তুতলা-‘আলাইহিম আয়া-তুররাহমা-নি খাররূ ছুজ্জাদাওঁ ওয়া বুকিইইয়া-(ছিজদাহ-৫)।

আদমের বংশধরদের মধ্যে এরাই সেই সকল নবী, যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন। এদের কতিপয় সেই সব লোকের বংশধর, যাদেরকে আমি নূহের সাথে (নৌকায়) আরোহণ করিয়েছিলাম এবং কতিপয় ইবরাহীম ও ইসরাঈল (অর্থাৎ হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর। আমি যাদেরকে হিদায়াত দিয়েছিলাম ও (আমার দীনের জন্য) মনোনীত করেছিলাম, এরা তাদের অন্তর্ভুক্ত। তাদের সামনে যখন দয়াময় আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হত, তখন তারা কাঁদতে কাঁদতে সিজদায় লুটিয়ে পড়ত। ৩১

তাফসীরঃ

৩১. এটা সিজদার আয়াত। যে ব্যক্তি আরবীতে এ আয়াত পড়বে বা শুনবে তার উপর সিজদা ওয়াজিব হয়ে যাবে।
৫৯

فَخَلَفَ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ خَلۡفٌ اَضَاعُوا الصَّلٰوۃَ وَاتَّبَعُوا الشَّہَوٰتِ فَسَوۡفَ یَلۡقَوۡنَ غَیًّا ۙ ٥٩

ফাখালাফা মিম বা‘দিহিম খালফুনআদা-‘উসসালা-তা ওয়াত তাবা‘উশশাহাওয়া-তি ফাছাওফা ইয়ালকাওনা গাইইয়া-।

তারপর তাদের স্থলাভিষিক্ত হল এমন লোক, যারা নামায নষ্ট করল এবং ইন্দ্রিয়-চাহিদার অনুগামী হল। সুতরাং তারা অচিরেই তাদের পথভ্রষ্টতার সাক্ষাত পাবে। ৩২

তাফসীরঃ

৩২. ‘পথভ্রষ্টতার সাক্ষাৎ পাওয়া’-এর অর্থ পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হওয়ার পরিণামে তারা কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে শাস্তির সম্মুখীন হবে। হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, ‘গায়্য’ হল জাহান্নামের একটি গর্ত, যার উত্তাপ অত্যন্ত বেশি যদ্দরুন জাহান্নামের অন্যান্য গর্ত আল্লাহ তাআলার কাছে তার থেকে পানাহ চায়- কুরতুবী (-অনুবাদক)
৬০

اِلَّا مَنۡ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَاُولٰٓئِکَ یَدۡخُلُوۡنَ الۡجَنَّۃَ وَلَا یُظۡلَمُوۡنَ شَیۡئًا ۙ ٦۰

ইল্লা-মান তা-বা ওয়া আ-মানা ওয়া ‘আমিলা সা-লিহান ফাউলাইকা ইয়াদখুলূনাল জান্নাতা ওয়ালা-ইউজলামূনা শাইআ-।

অবশ্য যারা তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করা হবে না।
৬১

جَنّٰتِ عَدۡنِۣ الَّتِیۡ وَعَدَ الرَّحۡمٰنُ عِبَادَہٗ بِالۡغَیۡبِ ؕ اِنَّہٗ کَانَ وَعۡدُہٗ مَاۡتِیًّا ٦١

জান্না-তি ‘আদনি নিল্লাতী ওয়া আ‘দার রাহমা-নু‘ইবা-দাহূবিলগাইবি ইন্নাহূকা-না ওয়া‘দুহূমা’তিইইয়া-।

(তারা প্রবেশ করবে) এমন স্থায়ী উদ্যানরাজিতে, দয়াময় আল্লাহ নিজ বান্দাদেরকে যার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাদের অলক্ষ্যে। নিশ্চয়ই তাঁর প্রতিশ্রুতি এমন যে, তারা সে পর্যন্ত অবশ্যই পৌঁছবে।
৬২

لَا یَسۡمَعُوۡنَ فِیۡہَا لَغۡوًا اِلَّا سَلٰمًا ؕ وَلَہُمۡ رِزۡقُہُمۡ فِیۡہَا بُکۡرَۃً وَّعَشِیًّا ٦٢

লা-ইয়াছমা‘ঊনা ফীহা-লাগওয়ান ইল্লা-ছালা-মাওঁ ওয়ালাহুম রিঝকুহুম ফীহিাবুকরাতাওঁ ওয়া ‘আশিইইয়া-।

তারা সেখানে শান্তিমূলক কথা ছাড়া কোন বেহুদা কথা শুনবে না এবং তারা সেখানে সকাল-সন্ধ্যায় জীবিকা লাভ করবে।
৬৩

تِلۡکَ الۡجَنَّۃُ الَّتِیۡ نُوۡرِثُ مِنۡ عِبَادِنَا مَنۡ کَانَ تَقِیًّا ٦٣

তিলকাল জান্নাতুল্লাতী নূরিছুমিন ‘ইবা-দিনা-মান কা-না তাকিইইয়া-।

এটাই সেই জান্নাত যার ওয়ারিশ বানাব আমার বান্দাদের মধ্যে যারা মুত্তাকী তাদেরকে।
৬৪

وَمَا نَتَنَزَّلُ اِلَّا بِاَمۡرِ رَبِّکَ ۚ  لَہٗ مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡنَا وَمَا خَلۡفَنَا وَمَا بَیۡنَ ذٰلِکَ ۚ  وَمَا کَانَ رَبُّکَ نَسِیًّا ۚ ٦٤

ওয়ামা-নাতানাঝঝালুইল্লা-বিআমরি রাব্বিকা লাহূমা-বাইনা আইদীনা-ওয়ামাখালফানা ওয়ামা-বাইনা যা-লিকা ওয়ামা-কা-না রাব্বুকা নাছিইইয়া-।

(এবং ফেরেশতাগণ তোমাকে বলে,) আমরা আপনার প্রতিপালকের হুকুম ছাড়া অবতরণ করি না। ৩৩ যা-কিছু আমাদের সামনে, যা-কিছু আমাদের পিছনে এবং যা-কিছু এ দু’য়ের মাঝখানে আছে, তা সব তাঁরই মালিকানাধীন। তোমার প্রতিপালক ভুলে যাওয়ার নন।

তাফসীরঃ

৩৩. বুখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে, একবার হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসতে বেশ বিলম্ব করছিলেন। তখন কতিপয় কাফের এই বলে উপহাস করছিল যে, তার আল্লাহ তাকে পরিত্যাগ করেছে (নাউযুবিল্লাহ)। অবশেষে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম যখন আসলেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, আপনি আমার কাছে আরও ঘন ঘন আসেন না কেন? সেই প্রেক্ষাপটেই এ আয়াত নাযিল হয়েছে। এতে আল্লাহ তাআলা হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালামের উত্তর বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের অবতরণ সর্বদা আল্লাহ তাআলার আদেশক্রমেই হয়ে থাকে। বিশ্বজগতের পক্ষে কখন কোনটা কল্যাণকর একমাত্র তিনিই তা ভালো জানেন, যেহেতু আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এদের অন্তর্গত সবকিছুর মালিক তিনিই। আমার আগমন কখনও দেরীতে হলে তার পেছনেও আল্লাহ তাআলার কোন হেকমত নিহিত থাকে, যা কেবল তিনিই জানেন। আমার আগমন বিলম্বিত হওয়ার কারণ এ নয় যে, তিনি ওহী নাযিল করার বিষয়টা ভুলে গেছেন (নাউযুবিল্লাহ)।
৬৫

رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا فَاعۡبُدۡہُ وَاصۡطَبِرۡ لِعِبَادَتِہٖ ؕ  ہَلۡ تَعۡلَمُ لَہٗ سَمِیًّا ٪ ٦٥

রাব্বুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়ামা-বাইনাহুমা-ফা‘বুদ হু ওয়াসতাবির লি‘ইবা-দাতিহী হাল তা‘লামুলাহূছামিইইয়া-।

তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মালিক এবং এ দু’য়ের মাঝখানে যা আছে তারও। সুতরাং তুমি তাঁর ইবাদত কর এবং তাঁর ইবাদতে অবিচলিত থাক। তোমার জানা মতে তাঁর সমগুণসম্পন্ন কেউ আছে কি?
৬৬

وَیَقُوۡلُ الۡاِنۡسَانُ ءَاِذَا مَا مِتُّ لَسَوۡفَ اُخۡرَجُ حَیًّا ٦٦

ওয়া ইয়াকূলুল ইনছা-নুআইযা-মা-মিত্তুলাছাওফা উখরাজুহাইইয়া-।

আর মানুষ (অর্থাৎ কাফেরগণ) বলে, আমার যখন মৃত্যু হয়ে যাবে, তখন বাস্তবিকই কি আমাকে আবার জীবিতরূপে উঠানো হবে?
৬৭

اَوَلَا یَذۡکُرُ الۡاِنۡسَانُ اَنَّا خَلَقۡنٰہُ مِنۡ قَبۡلُ وَلَمۡ یَکُ شَیۡئًا ٦٧

আওয়ালা-ইয়াযকুরুল ইনছা-নুআন্না-খালাকনা-হু মিন কাবলুওয়া লাম ইয়াকুশাইআ-।

মানুষের কি স্মরণ পড়ে না যে, আমি তাকে পূর্বে সৃষ্টি করেছি, যখন সে কিছুই ছিল না? ৩৪

তাফসীরঃ

৩৪. অর্থাৎ, এই মানুষের তো এক সময় অস্তিত্বমাত্র ছিল না। আল্লাহ তাআলা নিজ কুদরতে তাকে সৃষ্টি করেছেন। অস্তিত্বপ্রাপ্তির পর সে যখন মারা যায়, তার দেহের কিছু না কিছু যেভাবেই হোক অবশিষ্ট থাকে। এ অবস্থায় তাকে পুনরায় জীবিত করে তোলা কি করে কঠিন হতে পারে, যখন আল্লাহ তাআলা ইতঃপূর্বে তাকে বিলকুল নাস্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন?
৬৮

فَوَرَبِّکَ لَنَحۡشُرَنَّہُمۡ وَالشَّیٰطِیۡنَ ثُمَّ لَنُحۡضِرَنَّہُمۡ حَوۡلَ جَہَنَّمَ جِثِیًّا ۚ ٦٨

ফাওয়ারাব্বিকা লানাহশুরান্নাহুম ওয়াশশায়া-তীনা ছু ম্মা লানুহদিরান্নাহুম হাওলা জাহান্নামা জিছিইইয়া-।

সুতরাং শপথ তোমার প্রতিপালকের। আমি তাদেরকে তাদের শয়তানদেরসহ অবশ্যই সমবেত করব ৩৫ তারপর অবশ্যই তাদেরকে জাহান্নামের আশেপাশে নতজানু অবস্থায় উপস্থিত করব।

তাফসীরঃ

৩৫. অর্থাৎ, সেই সকল শয়তানকে, যারা তাদেরকে বিপথগামী করার তৎপরতায় লিপ্ত ছিল। কিয়ামতের দিন প্রত্যেক পথভ্রষ্ট ব্যক্তির সাথে সেই শয়তানকেও উপস্থিত করা হবে, যে তাকে গোমরাহ করেছিল (তাফসীরে উসমানী)।
৬৯

ثُمَّ لَنَنۡزِعَنَّ مِنۡ کُلِّ شِیۡعَۃٍ اَیُّہُمۡ اَشَدُّ عَلَی الرَّحۡمٰنِ عِتِیًّا ۚ ٦٩

ছু ম্মা লানানঝি‘আন্না মিন কুল্লি শী‘আতিন আইয়ুহুম আশাদ্দু‘আলার রাহমা-নি ‘ইতিইইয়া-।

তারপর তাদের প্রত্যেক দলের মধ্যে যারা দয়াময় আল্লাহর অবাধ্যতায় প্রচণ্ডতম, তাদেরকে টেনে বের করব।
৭০

ثُمَّ لَنَحۡنُ اَعۡلَمُ بِالَّذِیۡنَ ہُمۡ اَوۡلٰی بِہَا صِلِیًّا ٧۰

ছু ম্মা লানাহনুআ‘লামুবিল্লাযীনা হুম আওলা-বিহা-সিলিইইয়া-।

আর সেই সকল লোক সম্পর্কে আমিই ভালো জানি, যারা জাহান্নামে পৌঁছার বেশি উপযুক্ত।
৭১

وَاِنۡ مِّنۡکُمۡ اِلَّا وَارِدُہَا ۚ  کَانَ عَلٰی رَبِّکَ حَتۡمًا مَّقۡضِیًّا ۚ ٧١

ওয়া ইম মিনকুম ইল্লা-ওয়া-রিদুহা- কা-না ‘আলা-রাব্বিকা হাতমাম মাকদিইইয়া-।

তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে তা (অর্থাৎ জাহান্নাম) অতিক্রম করবে না। ৩৬ এটা তোমার প্রতিপালকের পক্ষে এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

তাফসীরঃ

৩৬. এর দ্বারা পুলসিরাত বোঝানো হয়েছে, যা জাহান্নামের উপর স্থাপিত। মুসলিম-কাফির ও পুণ্যবান-পাপিষ্ঠ নির্বিশেষে সকলকেই তা পার হতে হবে। হ্যাঁ, পার হতে গিয়ে কার অবস্থা কেমন হবে তা পরবর্তী আয়াতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মুমিন ও নেককার লোক তা এমনভাবে পার হবে যে, জাহান্নামে কোন কষ্ট তাদেরকে স্পর্শ করবে না। তারা নিরাপদে তা পার হয়ে জান্নাতে চলে যাবে। পক্ষান্তরে যারা কাফের ও পাপী, তারা তা পার হতে পারবে না। তারা জাহান্নামে পতিত হবে। অতঃপর যাদের অন্তরে ঈমান থাকবে, শাস্তি ভোগের পর তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনা হবে। কিন্তু যাদের অন্তরে বিন্দুমাত্র ঈমান থাকবে না তারা মুক্তি পাবে না। চিরকাল তাদেরকে জাহান্নামেই থাকতে হবে। আল্লাহ তাআলার কাছে আমরা তা থেকে পানাহ চাই। পুণ্যবানদেরকে জাহান্নাম পার হতে হবে কেন? এটা এজন্য যে, জাহান্নামের বিভীষিকাময় দৃশ্য দেখার পর যখন জান্নাতে যাবে, তখন জান্নাতের মর্যাদা তারা ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবে।
৭২

ثُمَّ نُنَجِّی الَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا وَّنَذَرُ الظّٰلِمِیۡنَ فِیۡہَا جِثِیًّا ٧٢

ছু ম্মা নুনাজজিল্লাযীনাততাকাওঁ ওয়া নাযারুজ্জা-লিমীনা ফীহা-জিছিইইয়া-।

অতঃপর যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে তাদেরকে আমি নিষ্কৃতি দেব আর জালিমদেরকে তাতে (জাহান্নামে) মুখ থুবড়ানো অবস্থায় ফেলে রাখব।
৭৩

وَاِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتُنَا بَیِّنٰتٍ قَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا ۙ اَیُّ الۡفَرِیۡقَیۡنِ خَیۡرٌ مَّقَامًا وَّاَحۡسَنُ نَدِیًّا ٧٣

ওয়া ইযা-তুতলা-আলাইহিম আ-য়া-তুনা-বাইয়িনা-তিন কা-লাল্লাযীনা কাফারূলিল্লাযীনা আ-মানূ আইয়ুল ফারীকাইনি খাইরুম মাকা-মাওঁ ওয়া আহছানুনাদিইইয়া-।

তাদের সামনে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন কাফেরগণ মুমিনদেরকে বলে, বল, আমাদের এ দুই দলের মধ্যে কোন দল মর্যাদায় শ্রেষ্ঠতর এবং মজলিস হিসেবে উৎকৃষ্ট? ৩৭

তাফসীরঃ

৩৭. অর্থাৎ যখন কুরআনের সুস্পষ্ট ও বলিষ্ঠ আয়াত শুনে লা-জবাব হয়ে যেত তখন তারা দুনিয়ার বিত্ত-বৈভব ও ঠাট-বাট দ্বারা গৌরব দেখাত এবং ধনজনের প্রাচুর্যকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হিসেবে পেশ করত। পরের আয়াতে আল্লাহ তাআলা এরই জবাব দিয়েছেন। -অনুবাদক
৭৪

وَکَمۡ اَہۡلَکۡنَا قَبۡلَہُمۡ مِّنۡ قَرۡنٍ ہُمۡ اَحۡسَنُ اَثَاثًا وَّرِءۡیًا ٧٤

ওয়াকাম আহলাকনা-কাবলাহুম মিন কারনিনহুম আহছানুআছা-ছাওঁ ওয়ারি’য়া-।

(তারা কি দেখে না) তাদের আগে আমি কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছি, যারা নিজেদের আসবাব-উপকরণ ও বাহ্য আড়ম্বরে তাদের অপেক্ষা উন্নত ছিল।
৭৫

قُلۡ مَنۡ کَانَ فِی الضَّلٰلَۃِ فَلۡیَمۡدُدۡ لَہُ الرَّحۡمٰنُ مَدًّا ۬ۚ حَتّٰۤی اِذَا رَاَوۡا مَا یُوۡعَدُوۡنَ اِمَّا الۡعَذَابَ وَاِمَّا السَّاعَۃَ ؕ فَسَیَعۡلَمُوۡنَ مَنۡ ہُوَ شَرٌّ مَّکَانًا وَّاَضۡعَفُ جُنۡدًا ٧٥

কুল মান কা-না ফিদ্দালা-লাতি ফালইয়ামদুদ লাহুর রাহমা-নুমাদ্দান হাত্তাইযারাআও মা-ইউ‘আদূ না ইম্মাল ‘আযা-বা ওয়া ইম্মাছছা-‘আতা ফাছাইয়া‘লামূনা মান হুওয়া শাররুম মাকা-নাওঁ ওয়া আদ‘আফুজুনদা-।

বলে দাও, যারা বিভ্রান্তিতে পতিত, তাদের জন্য এটাই সমীচীন যে, দয়াময় আল্লাহ তাদেরকে প্রচুর ঢিল দিতে থাকবেন। পরিশেষে তাদেরকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে তা যখন নিজেরা দেখে নেবে, তা শাস্তি হোক বা কিয়ামত, তখন তারা জানতে পারবে কে মর্যাদায় নিকৃষ্ট এবং কে বাহিনীর দিক দিয়ে বেশি দুর্বল।
৭৬

وَیَزِیۡدُ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اہۡتَدَوۡا ہُدًی ؕ وَالۡبٰقِیٰتُ الصّٰلِحٰتُ خَیۡرٌ عِنۡدَ رَبِّکَ ثَوَابًا وَّخَیۡرٌ مَّرَدًّا ٧٦

ওয়া ইয়াঝীদুল্লা-হু ল্লাযী নাহতাদাও হুদাওঁ ওয়াল বা-কিয়া-তুসসা-লিহা-তুখাইরুন ‘ইনদা রাব্বিকা ছাওয়া-বাও ওয়াখাইরুম মারাদ্দা-।

আর যারা সরল পথ অবলম্বন করেছে, আল্লাহ তাদেরকে হিদায়াতের ক্ষেত্রে অধিকতর উৎকর্ষ দান করেন এবং যে সৎকর্ম স্থায়ী, তোমার প্রতিপালকের কাছে তা প্রতিদানে উৎকৃষ্ট এবং পরিণামেও শ্রেষ্ঠতর।
৭৭

اَفَرَءَیۡتَ الَّذِیۡ کَفَرَ بِاٰیٰتِنَا وَقَالَ لَاُوۡتَیَنَّ مَالًا وَّوَلَدًا ؕ ٧٧

আফারাআইতাল্লাযী কাফারা বিআ-য়া-তিনা-ওয়াকা-লা লাঊতাইয়ান্না মা-লাওঁ ওয়া ওয়ালাদা-।

তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখেছ, যে আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে এবং বলে (আখেরাতেও) আমাকে অবশ্যই সম্পদ ও সন্তান দেওয়া হবে। ৩৮

তাফসীরঃ

৩৮. সহীহ বুখারীতে হযরত খাব্বাব ইবনুল আরাত্ত্ (রাযি.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি মক্কা মুকাররমায় লৌহ কর্মের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতাম। সেই সুবাদে মুশরিকদের এক সর্দারের কাছে আমার কিছু পাওনা সাব্যস্ত হয়েছিল। তার নাম ছিল ‘আস ইবন ওয়াইল। আমি তা চাইতে গেলে সে বলল, তুমি যতক্ষণ পর্যন্ত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে) অস্বীকার না করবে ততক্ষণ তোমার টাকা দেব না। আমি বললাম, তুমি যদি মর, তারপর আবার জীবিত হও তবুও আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অস্বীকার করতে পারব না। ‘আস ইবন ওয়াইল এ কথার উত্তরে বলল, মৃত্যুর পর আমি পুনরুজ্জীবিত হব? তিনি বললেন, অবশ্যই। ‘আস বলল, ঠিক আছে মৃত্যুর পর যদি আমি জীবিত হই সেখানেও আমার প্রচুর অর্থ-সম্পদ ও সন্তানাদি থাকবে। কাজেই তখনই আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করব। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয়েছে।
৭৮

اَطَّلَعَ الۡغَیۡبَ اَمِ اتَّخَذَ عِنۡدَ الرَّحۡمٰنِ عَہۡدًا ۙ ٧٨

আততালা‘আল গাইবা আমিত্তাখাযা ‘ইনদার রাহমা-নি ‘আহদা-।

তবে কি সে অদৃশ্য জগতে উঁকি মেরে দেখেছে, না কি সে দয়াময় আল্লাহর থেকে কোন প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে?
৭৯

کَلَّا ؕ  سَنَکۡتُبُ مَا یَقُوۡلُ وَنَمُدُّ لَہٗ مِنَ الۡعَذَابِ مَدًّا ۙ ٧٩

কাল্লা- ছানাকতুবুমা-ইয়াকূলুওয়ানামুদ্দুলাহূমিনাল ‘আযা-বি মাদ্দা-।

কখনও নয়। সে যা কিছু বলছে আমি তাও লিখে রাখব এবং তার শাস্তি আরও বৃদ্ধি করে দেব।
৮০

وَّنَرِثُہٗ مَا یَقُوۡلُ وَیَاۡتِیۡنَا فَرۡدًا ٨۰

ওয়া নারিছুহূমা-ইয়াকূ লুওয়া ইয়া’তীনা-ফারদা-।

এবং সে যার কথা বলছে, তার (অর্থাৎ সেই ধন ও জনের) ওয়ারিশ আমিই হব। আর সে একাকীই আমার কাছে আসবে।
৮১

وَاتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ اٰلِہَۃً لِّیَکُوۡنُوۡا لَہُمۡ عِزًّا ۙ ٨١

ওয়াত্তাখাযূমিন দূনিল্লা-হি আ-লিহাতাল লিইয়াকূনূলাহুম ‘ইঝঝা-।

তারা আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য মাবুদ গ্রহণ করেছে এজন্য, যাতে তারা তাদের সহায়ক হতে পারে। ৩৯

তাফসীরঃ

৩৯. মুশরিকরা বলত, আমরা লাত, উযযা প্রভৃতি প্রতিমা ও অন্যান্য উপাস্যদের ইবাদত তো এজন্য করি যে, তারা আল্লাহ তাআলার কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে (সূরা ইউনুস ১৮ : ১০)। এ আয়াতে তাদের সেই বিশ্বাসের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। উত্তরে বলা হচ্ছে, তারা যে সব-দেবীর উপর ভরসা করে বসে আছে, কিয়ামতের দিন তারা এ কথা স্বীকারই করবে না যে, তাদের ইবাদত করা হত। তারা সুপারিশ করবে তো দূরের কথা, বরং সে দিন তারা এ পূজারীদের বিরোধী হয়ে যাবে। সূরা নাহলেও (১৬ : ৮৬) এ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। সেখানে আরয করা হয়েছিল, খুব সম্ভব আল্লাহ তাআলা তাদের উপাস্যদেরকে বাকশক্তি দান করবেন। ফলে তারা দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা দেবে যে, তারা মিথ্যাবাদী। কেননা দুনিয়ায় নিষ্প্রাণ হওয়ার কারণে তাদের খবরই ছিল না যে, তাদের ইবাদত করা হচ্ছে। এমনও হতে পারে যে, তারা তাদের ভাব-ভঙ্গি দ্বারা একথা বোঝাবে। আর শয়তান তো বাস্তবিক অর্থেই এরূপ কথা বলে তাদের সঙ্গে সম্পর্কহীনতা প্রকাশ করবে।
৮২

کَلَّا ؕ  سَیَکۡفُرُوۡنَ بِعِبَادَتِہِمۡ وَیَکُوۡنُوۡنَ عَلَیۡہِمۡ ضِدًّا ٪ ٨٢

কাল্লা- ছাইয়াকফুরূনা বি‘ইবা-দাতিহিম ওয়া ইয়াকূনূনা ‘আলাইহিম দিদ্দা-।

এসব তাদের ভ্রান্ত ধারণা। তারা তো তাদের ইবাদতকেই অস্বীকার করবে এবং উল্টো তাদের বিরোধী হয়ে যাবে।
৮৩

اَلَمۡ تَرَ اَنَّـاۤ اَرۡسَلۡنَا الشَّیٰطِیۡنَ عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ تَؤُزُّہُمۡ اَزًّا ۙ ٨٣

আলাম তারা আন্নাআরছালনাশশাইয়া-তীনা ‘আলাল কা-ফিরীনা তাউঝঝুহুম আঝঝা-।

(হে নবী!) তুমি কি জ্ঞাত নও আমি কাফেরদের প্রতি শয়তানদেরকে ছেড়ে দিয়েছি, যারা তাদেরকে অবিরত প্ররোচনা দেয়?
৮৪

فَلَا تَعۡجَلۡ عَلَیۡہِمۡ ؕ  اِنَّمَا نَعُدُّ لَہُمۡ عَدًّا ۚ ٨٤

ফালা-তা‘জাল ‘আলাইহিম ইন্নামা-না‘উদ্দুলাহুম ‘আদ্দা-।

সুতরাং তুমি তাদের ব্যাপারে তাড়াহুড়া করো না। আমি তো তাদের জন্য দিনক্ষণ গুণছি।
৮৫

یَوۡمَ نَحۡشُرُ الۡمُتَّقِیۡنَ اِلَی الرَّحۡمٰنِ وَفۡدًا ۙ ٨٥

ইয়াওমা নাহশুরুল মুত্তাকীনা ইলাররাহমা-নি ওয়াফদা-।

(সেই দিনকে ভুলো না) যে দিন আমি মুত্তাকীগণকে অতিথিরূপে দয়াময় (আল্লাহ)-এর কাছে একত্র করব।
৮৬

وَّنَسُوۡقُ الۡمُجۡرِمِیۡنَ اِلٰی جَہَنَّمَ وِرۡدًا ۘ ٨٦

ওয়া নাছূকুল মুজরিমীনা ইলা-জাহান্নামা বিরদা-।

আর অপরাধীদেরকে পিপাসার্ত অবস্থায় হাঁকিয়ে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাব। ৪০

তাফসীরঃ

৪০. অর্থাৎ যেভাবে উট বা অন্য কোন তৃষ্ণার্ত পশুকে পানির দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, ঠিক সে রকমই তৃষ্ণার্ত অবস্থায় লাঞ্ছনার সাথে তাদেরকে জাহান্নামে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। -অনুবাদক
৮৭

لَا یَمۡلِکُوۡنَ الشَّفَاعَۃَ اِلَّا مَنِ اتَّخَذَ عِنۡدَ الرَّحۡمٰنِ عَہۡدًا ۘ ٨٧

লা-ইয়ামলিকূনাশশাফা-‘আতা ইল্লা-মানিত তাখাযা ‘ইনদাররাহমা-নি ‘আহদা-।

মানুষ কারও জন্য সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখবে না, তারা ছাড়া, যারা দয়াময় (আল্লাহ)-এর নিকট থেকে অনুমতি লাভ করেছে।
৮৮

وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحۡمٰنُ وَلَدًا ؕ ٨٨

ওয়া কা-লুত তাখাযার রাহমা-নুওয়ালাদা-।

তারা বলে, দয়াময়ের পুত্র আছে।
৮৯

لَقَدۡ جِئۡتُمۡ شَیۡئًا اِدًّا ۙ ٨٩

লাকাদ জি’তুম শাইআন ইদ্দা-।

তোমরা (যারা এরূপ কথা বলছ, তারা) প্রকৃতপক্ষে অতি গুরুতর কথার অবতারণা করেছ।
৯০

تَکَادُ السَّمٰوٰتُ یَتَفَطَّرۡنَ مِنۡہُ وَتَنۡشَقُّ الۡاَرۡضُ وَتَخِرُّ الۡجِبَالُ ہَدًّا ۙ ٩۰

তাকা-দুছছামা-ওয়া-তুইয়াতাফাততারনা মিনহু ওয়া তানশাক্কুলআরদুওয়া তাখিররুল জিবা-লুহাদ্দা-।

অসম্ভব নয় এর কারণে আকাশ ফেটে যাবে, ভূমি বিদীর্ণ হবে এবং পাহাড় ভেঙ্গে-চুরে পড়বে।
৯১

اَنۡ دَعَوۡا لِلرَّحۡمٰنِ وَلَدًا ۚ ٩١

আন দা‘আও লিররাহমা-নি ওয়ালাদা-।

যেহেতু তারা দয়াময়ের সন্তান আছে বলে দাবী করে।
৯২

وَمَا یَنۡۢبَغِیۡ لِلرَّحۡمٰنِ اَنۡ یَّتَّخِذَ وَلَدًا ؕ ٩٢

ওয়ামা-ইয়ামবাগী লির রাহমা-নি আইঁ ইয়াত্তাখিযা ওয়ালাদা-।

অথচ এটা দয়াময়ের শান নয় যে, তার সন্তান থাকবে।
৯৩

اِنۡ کُلُّ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ اِلَّاۤ اٰتِی الرَّحۡمٰنِ عَبۡدًا ؕ ٩٣

ইন কুল্লুমান ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিইল্লাআ-তির রাহমা-নি ‘আবদা-।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে এমন কেউ নেই, যে দয়াময়ের দরবারে বান্দারূপে উপস্থিত হবে না। ৪১

তাফসীরঃ

৪১. অর্থাৎ জগতের সকলেই আল্লাহর সৃষ্টি ও তাঁর দাস। সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী ও শাসনাধীন। কিয়ামতের দিন দাসরূপেই সকলে তাঁর সামনে উপস্থিত হবে। তা কোন দাস তার মনিবের পুত্র হয় কি করে? আবার সকলেরই যিনি শাসক ও প্রতিপালক, তার পুত্রেরই বা কি প্রয়োজন থাকতে পারে? -অনুবাদক
৯৪

لَقَدۡ اَحۡصٰہُمۡ وَعَدَّہُمۡ عَدًّا ؕ ٩٤

লাকাদ আহসা-হুম ওয়া ‘আদ্দাহুম ‘আদ্দা-।

নিশ্চয়ই তিনি সকলকে বেষ্টন করে রেখেছেন এবং তাদেরকে ভালোভাবে গুণে রেখেছেন।
৯৫

وَکُلُّہُمۡ اٰتِیۡہِ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ فَرۡدًا ٩٥

ওয়া কুল্লুহুম আ-তীহি ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ফারদা-।

কিয়ামতের দিন তাদের প্রত্যেকে তার কাছে একাকী উপস্থিত হবে।
৯৬

اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ سَیَجۡعَلُ لَہُمُ الرَّحۡمٰنُ وُدًّا ٩٦

ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ছাইয়াজ‘আলুলাহুমুর রাহমা-নুউদ্দা-।

(তবে) যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে নিশ্চয়ই দয়াময় (আল্লাহ) তাদের জন্য সৃষ্টি করবেন ভালোবাসা। ৪২

তাফসীরঃ

৪২. এখন তো মুসলিমগণ কঠিন সময় অতিক্রম করছে, কাফেরগণ সর্বক্ষণ তাদের শত্রুতা করে যাচ্ছে। কিন্তু সে দিন দূরে নয় যে দিন মানব সাধারণের অন্তরে তাদের প্রতি গভীর মহব্বত ও ভালোবাসা সৃষ্টি হয়ে যাবে।
৯৭

فَاِنَّمَا یَسَّرۡنٰہُ بِلِسَانِکَ لِتُبَشِّرَ بِہِ الۡمُتَّقِیۡنَ وَتُنۡذِرَ بِہٖ قَوۡمًا لُّدًّا ٩٧

ফাইন্নামা-ইয়াছছারনা-হুবিলিছা-নিকা লিতুবাশশিরা বিহিল মুত্তাকীনা ওয়া তুনযিরা বিহী কাওমাল লুদ্দা-।

সুতরাং (হে নবী!) আমি এ কুরআনকে তোমার ভাষায় সহজ করে দিয়েছি, যাতে তুমি এর মাধ্যমে মুত্তাকীদেরকে সুসংবাদ দাও এবং এর মাধ্যমেই বিতণ্ডাপ্রবণ লোকদেরকে সতর্ক কর।
৯৮

وَکَمۡ اَہۡلَکۡنَا قَبۡلَہُمۡ مِّنۡ قَرۡنٍ ؕ  ہَلۡ تُحِسُّ مِنۡہُمۡ مِّنۡ اَحَدٍ اَوۡ تَسۡمَعُ لَہُمۡ رِکۡزًا ٪ ٩٨

ওয়া কাম আহলাকনা-কাবলাহুম মিন কারনিন হাল তুহিছছুমিনহুম মিন আহাদিন আও তাছমা‘ঊ লাহুম রিকঝা-।

তাদের আগে আমি কত মানব-গোষ্ঠীকেই ধ্বংস করেছি। তুমি কি হাতড়িয়েও তাদের কারও সন্ধান পাও কিংবা তুমি কি তাদের কোন সাড়া-শব্দ শুনতে পাও? ৪৩

তাফসীরঃ

৪৩. সুতরাং এই হঠকারী অবিশ্বাসীরা সতর্ক হয়ে যাক। তারা তাদের অন্যায়-অনাচার ত্যাগ করে সুপথে ফিরে না আসলে তাদেরকে আগের সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিসমূহের মত যে কোনও সময় ধ্বংস করে দিতে পারি, ফলে ভূ-পৃষ্ঠে তাদের নাম-নিশানা পর্যন্ত বাকি থাকবে না। -অনুবাদক