সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল কাহ্‌ফ (الكهف) | গুহা

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ১১০

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡۤ اَنۡزَلَ عَلٰی عَبۡدِہِ الۡکِتٰبَ وَلَمۡ یَجۡعَلۡ لَّہٗ عِوَجًا ٜؕ ١

আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযীআনঝালা ‘আলা-‘আবদিহিল কিতা-বা ওয়ালাম ইয়াজ‘আল্লাহূ ‘ইওয়াজা-।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি নিজ বান্দার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে কোনও রকমের বক্রতা রাখেননি।

قَیِّمًا لِّیُنۡذِرَ بَاۡسًا شَدِیۡدًا مِّنۡ لَّدُنۡہُ وَیُبَشِّرَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ الَّذِیۡنَ یَعۡمَلُوۡنَ الصّٰلِحٰتِ اَنَّ لَہُمۡ اَجۡرًا حَسَنًا ۙ ٢

কাইয়িমাল লিইউনযিরা বা’ছান শাদীদাম মিল্লাদুনহু ওয়া ইউবাশশিরাল মু’মিনীনাল্লাযীনা ইয়া‘মালূনাসসা-লিহা-তি আন্না লাহুম আজরান হাছানা-।

নাযিল করেছেন এক সরল-সঠিক গ্রন্থরূপে, মানুষকে নিজের পক্ষ থেকে এক কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করার এবং যেসকল মুমিন সৎকর্ম করে, তাদেরকে এই সুসংবাদ দেওয়ার জন্য যে, তাদের জন্য রয়েছে উৎকৃষ্ট প্রতিদান।

তাফসীরঃ

১. অর্থাৎ কুরআন সর্বপ্রকার প্রান্তিকতামুক্ত এক সরল ও ভারসাম্যমান গ্রন্থ। এর ভাষা ও বিষয়বস্তুতে কোন ত্রুটি ও বক্রতা নেই। এ গ্রন্থ তার অনুসারীকে সরল পথের দিশা দান করে। ফলে তার বিপথগামিতার ভয় থাকে না। সে সোজা আল্লাহর সন্তষ্টিতে উপনীত হয় ও জান্নাতের অধিকারী হয়ে যায়। -অনুবাদক

مَّاکِثِیۡنَ فِیۡہِ اَبَدًا ۙ ٣

মা-কিছীনা ফীহি আবাদা-।

যাতে তারা সর্বদা থাকবে।

وَّیُنۡذِرَ الَّذِیۡنَ قَالُوا اتَّخَذَ اللّٰہُ وَلَدًا ٭ ٤

ওয়া ইউনযিরাল্লাযীনা কা-লুত্তাখাযাল্লা-হু ওয়ালাদা-।

এবং সেই সকল লোককে সতর্ক করার জন্য, যারা বলে, আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করেছেন।

مَا لَہُمۡ بِہٖ مِنۡ عِلۡمٍ وَّلَا لِاٰبَآئِہِمۡ ؕ کَبُرَتۡ کَلِمَۃً تَخۡرُجُ مِنۡ اَفۡوَاہِہِمۡ ؕ اِنۡ یَّقُوۡلُوۡنَ اِلَّا کَذِبًا ٥

মা-লাহুম বিহী মিন ‘ইলমিওঁ ওয়ালা-লিআ-বাইহিম কাবুরাত কালিমাতান তাখরুজু মিন আফওয়া-হিহিম ইয়ঁইয়াকূলূনা ইল্লা-কাযিবা-।

এ বিষয়ে কোন জ্ঞানগত প্রমাণ না তাদের নিজেদের কাছে আছে আর না তাদের বাপ-দাদাদের কাছে ছিল। এটা অতি গুরুতর কথা, যা তাদের মুখ থেকে বের হচ্ছে। তারা যা বলছে তা মিথ্যা ছাড়া কিছুই নয়।

فَلَعَلَّکَ بَاخِعٌ نَّفۡسَکَ عَلٰۤی اٰثَارِہِمۡ اِنۡ لَّمۡ یُؤۡمِنُوۡا بِہٰذَا الۡحَدِیۡثِ اَسَفًا ٦

ফালা‘আল্লাকা বা-খি‘উন্নাফছাকা ‘আলা আ-ছা-রিহিম ইল্লাম ইউ’মিনূ বিহা-যাল হাদীছিআছাফা-।

(হে নবী! অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়) তারা (কুরআনের) এ বাণীর প্রতি ঈমান না আনলে যেন তুমি আক্ষেপ করে করে তাদের পেছনে নিজের প্রাণনাশ করে বসবে।

اِنَّا جَعَلۡنَا مَا عَلَی الۡاَرۡضِ زِیۡنَۃً لَّہَا لِنَبۡلُوَہُمۡ اَیُّہُمۡ اَحۡسَنُ عَمَلًا ٧

ইন্না-জা‘আলনা-মা-‘আলাল আরদি ঝীনাতাল্লাহা- লিনাবলুওয়াহুম আইয়ুহুম আহছানু ‘আমালা-।

নিশ্চিত জেন, ভূপৃষ্ঠে যা-কিছু আছে আমি সেগুলোকে তার জন্য শোভাকর বানিয়েছি, মানুষকে এ বিষয়ে পরীক্ষা করার জন্য যে, কে তাদের মধ্যে বেশি ভালো কাজ করে।

তাফসীরঃ

২. মুশরিকদের কুফর ও তাদের বৈরীসুলভ আচরণে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মনে বড়ই দুঃখ পেতেন। এ আয়াতসমূহে তাঁকে সান্তনা দেওয়া হয়েছে যে, এ দুনিয়া সৃষ্টি করা হয়েছে কেবল মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য। লক্ষ্য করা হবে কে দুনিয়ার সৌন্দর্যে মাতোয়ারা হয়ে আল্লাহ তাআলাকে ভুলে যায় আর কে একে আল্লাহ তাআলার হুকুম মত ব্যবহার করে নিজের জন্য আখেরাতের পুঁজি সঞ্চয় করে। তো এটা যখন পরীক্ষাক্ষেত্র তখন এখানে দু’রকমের লোকই পাওয়া যাবে। একদল কৃতকার্য এবং একদল অকৃতকার্য। সুতরাং ওই সব লোক যদি কুফর ও শিরকে লিপ্ত হয়ে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই এবং সেজন্য আপনার এতটা দুঃখ পাওয়াও উচিত নয়, যদ্দরুণ আপনি আত্মবিনাশী হয়ে পড়বেন।

وَاِنَّا لَجٰعِلُوۡنَ مَا عَلَیۡہَا صَعِیۡدًا جُرُزًا ؕ ٨

ওয়া ইন্না-লাজা-‘ইলূনা মা-‘আলাইহা-সা‘ঈদান জুরুঝা-।

নিশ্চয়ই আমি ভূপৃষ্ঠে যা-কিছু আছে, একদিন তা সমতল প্রান্তরে পরিণত করব।

তাফসীরঃ

৩. অর্থাৎ, যেসব বস্তুর কারণে ভূ-পৃষ্ঠকে শোভাময় ও মনোরম দেখা যায়, একদিন তা সবই ধ্বংস হয়ে যাবে। ঘর-বাড়ি, ইমারত, পাহাড়-পর্বত, বৃক্ষরাজি কিছুই থাকবে না। পৃথিবীকে এক সমতল প্রান্তরে পরিণত করা হবে। তখন এ সত্য পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, দুনিয়ার বাহ্যিক সৌন্দর্য বড়ই ক্ষণস্থায়ী। এটাই সেই সময়, যখন আপনার সাথে জেদ ও শত্রুতামূলক আচরণকারীরা নিজেদের অশুভ পরিণামে উপনীত হবে। সুতরাং দুনিয়ায় তাদেরকে যে ঢিল দেওয়া হচ্ছে তার মানে দুষ্কর্ম সত্ত্বেও তাদেরকে স্বাধীন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এমন নয়। সুতরাং তাদের আচরণে আপনি অতটা ব্যথিত হবেন না এবং তাদের কঠিন পরিণতির জন্যও চিন্তিত হবেন না। আপনার কাজ তাবলীগ ও প্রচারকার্য চালানো। আপনি তাতেই মশগুল থাকুন।

اَمۡ حَسِبۡتَ اَنَّ اَصۡحٰبَ الۡکَہۡفِ وَالرَّقِیۡمِ ۙ کَانُوۡا مِنۡ اٰیٰتِنَا عَجَبًا ٩

আম হাছিবতা আন্না আসহা-বাল কাহফি ওয়ার রাকীমি কা-নূমিন আ-য়া-তিনা‘আজাবা-।

তুমি কি মনে কর গুহা ও রাকীমবাসীরা আমার নিদর্শনাবলীর মধ্যে (বেশি) বিস্ময়কর ছিল?

তাফসীরঃ

৪. যারা সে যুবক দলটি সম্পর্কে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিল, তারা একথাও বলেছিল যে, তাদের ঘটনা বড়ই আশ্চর্যজনক। এ আয়াতে তাদের সে কথারই বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা অসীম কুদরত ও ক্ষমতার অধিকারী। তাঁর কুদরতের প্রতি লক্ষ্য করলে এ ঘটনা অতি বিস্ময়কর কিছু নয়। কেননা তাঁর কুদরতের কারিশমা তো অগণন।সে কারিশমার তালিকায় এর চেয়েও বিস্ময়কর বহু ঘটনা আছে।
১০

اِذۡ اَوَی الۡفِتۡیَۃُ اِلَی الۡکَہۡفِ فَقَالُوۡا رَبَّنَاۤ اٰتِنَا مِنۡ لَّدُنۡکَ رَحۡمَۃً وَّہَیِّیٴۡ لَنَا مِنۡ اَمۡرِنَا رَشَدًا ١۰

ইয আওয়াল ফিতইয়াতুইলাল কাহফি ফাকা-লূরাব্বানাআ-তিনা-মিল্লাদুনকা রাহমাতাওঁ ওয়া হাইয়ি’ লানা-মিন আমরিনা-রাশাদা-।

এটা সেই সময়ের কথা, যখন যুবক দলটি গুহায় আশ্রয় নিয়েছিল এবং (আল্লাহ তাআলার কাছে দু‘আ করে) বলেছিল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের প্রতি আপনার নিকট থেকে বিশেষ রহমত নাযিল করুন এবং আমাদের এ পরিস্থিতিতে আমাদের জন্য কল্যাণকর পথের ব্যবস্থা করে দিন।
১১

فَضَرَبۡنَا عَلٰۤی اٰذَانِہِمۡ فِی الۡکَہۡفِ سِنِیۡنَ عَدَدًا ۙ ١١

ফাদারাবনা-‘আলাআ-যা-নিহিম ফিল কাহফি ছিনীনা ‘আদাদা-।

সুতরাং আমি তাদের কানে চাপড় মেরে কয়েক বছর গুহার ভেতর রাখলাম।

তাফসীরঃ

৬. ‘কানে চাপড় মারা’ একটি আরবী প্রবচন। এর অর্থ গভীর নিদ্রা চাপিয়ে দেওয়া। এর তাৎপর্য হল, মানুষ ঘুমের শুরুভাগে কানে শুনতে পায়। কানের শোনা বন্ধ হয় তখনই যখন ঘুম গভীর হয়ে যায়।
১২

ثُمَّ بَعَثۡنٰہُمۡ لِنَعۡلَمَ اَیُّ الۡحِزۡبَیۡنِ اَحۡصٰی لِمَا لَبِثُوۡۤا اَمَدًا ٪ ١٢

ছু ম্মা বা‘আছনা-হুম লিনা‘লামা আইয়ুল হিঝবাইনি আহসা-লিমা-লাবিছূদ্মআমাদা-।

তারপর তাদেরকে জাগিয়ে দিলাম, এটা লক্ষ্য করার জন্য যে, তাদের দুই দলের মধ্যে কোন দল নিজেদের ঘুমে থাকার মেয়াদকাল সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারে।

তাফসীরঃ

৭. সামনে আসছে, জাগ্রত হওয়ার পর যুবক দল পরস্পর বলাবলি করতে লাগল তারা কতক্ষণ ঘুমিয়েছিল। আয়াতের ইঙ্গিত সে দিকেই।
১৩

نَحۡنُ نَقُصُّ عَلَیۡکَ نَبَاَہُمۡ بِالۡحَقِّ ؕ  اِنَّہُمۡ فِتۡیَۃٌ اٰمَنُوۡا بِرَبِّہِمۡ وَزِدۡنٰہُمۡ ہُدًی ٭ۖ ١٣

নাহনুনাকুসসু‘আলাইকা নাবাআহুম বিলহাক্কি ইন্নাহুম ফিতইয়াতুন আ-মানূ বিরাব্বিহিম ওয়াঝিদনা-হুম হুদা-।

আমি তোমার কাছে তাদের ঘটনা যথাযথভাবে বর্ণনা করছি। তারা ছিল একদল যুবক, যারা নিজ প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদেরকে হিদায়াতে প্রভূত উৎকর্ষ দান করেছিলাম।
১৪

وَّرَبَطۡنَا عَلٰی قُلُوۡبِہِمۡ اِذۡ قَامُوۡا فَقَالُوۡا رَبُّنَا رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ لَنۡ نَّدۡعُوَا۠ مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اِلٰـہًا لَّقَدۡ قُلۡنَاۤ اِذًا شَطَطًا ١٤

ওয়া রাবাতনা-‘আলা-কুলূবিহিম ইয কা-মূফাকা-লূরাব্বুনা-রাব্বুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিলান নাদ‘উওয়া মিন দূনিহীইলা-হাল লাকাদ কুলনাইযান শাতাতা-।

আমি তাদের অন্তর সুদৃঢ় করে দিয়েছিলাম। এটা সেই সময়ের কথা, যখন তারা (রাজার সামনেই) দাঁড়াল এবং বলল, আমাদের প্রতিপালক তিনিই, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মালিক। আমরা তাকে ছাড়া অন্য কাউকে মাবুদ বলে কখনই ডাকব না। তাহলে তো আমরা চরম অবাস্তব কথাই বলব।

তাফসীরঃ

৮. ইবনে কাছীর (রহ.)-এর একটি বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, পৌত্তলিক রাজা যখন তাদের আকীদা-বিশ্বাস সম্পর্কে জানতে পারল, তখন তাদেরকে নিজ দরবারে ডেকে পাঠাল এবং তাদেরকে তাদের বিশ্বাস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তারা নির্ভীকচিত্তে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তাওহীদের আকীদা তুলে ধরল, যেমন আয়াতে বলা হয়েছে। তাদের অন্তরের সেই দৃঢ়তা ও অবিচলতার প্রতিই এ আয়াতে ইশারা করা হয়েছে।
১৫

ہٰۤؤُلَآءِ قَوۡمُنَا اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اٰلِہَۃً ؕ  لَوۡلَا یَاۡتُوۡنَ عَلَیۡہِمۡ بِسُلۡطٰنٍۭ بَیِّنٍ ؕ  فَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا ؕ ١٥

হাউলাই কাওমুনাত্তাখাযূমিন দূ নিহীআ-লিহাতাল লাওলা-ইয়া’তূনা ‘আলাইহিম বিছুলতা-নিম বাইয়িনিন ফামান আজলামুমিম্মানিফতারা-‘আলাল্লা-হি কাযিবা-।

এই আমাদের সম্প্রদায়ের লোকজন তাঁর পরিবর্তে আরও বহু মাবুদ বানিয়ে নিয়েছে। (তাদের বিশ্বাস সত্য হলে) তারা নিজ মাবুদদের সপক্ষে স্পষ্ট কোন প্রমাণ উপস্থিত করে না কেন? যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে?
১৬

وَاِذِ اعۡتَزَلۡتُمُوۡہُمۡ وَمَا یَعۡبُدُوۡنَ اِلَّا اللّٰہَ فَاۡوٗۤا اِلَی الۡکَہۡفِ یَنۡشُرۡ لَکُمۡ رَبُّکُمۡ مِّنۡ رَّحۡمَتِہٖ وَیُہَیِّیٴۡ لَکُمۡ مِّنۡ اَمۡرِکُمۡ مِّرۡفَقًا ١٦

ওয়া ইযি‘তাঝালতুমূহুম ওয়ামা-ইয়া‘বুদূনা ইল্লাল্লা-হা ফা’ঊইলাল কাহফি ইয়ানশুরুলাকুম রাব্বুকুম মির রাহমাতিহী ওয়া ইউহাইয়ি’ লাকুম মিন আমরিকুম মিরফাকা-।

(সাথী বন্ধুরা!) তোমরা যখন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তাদের থেকে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করে তাদের থেকেও, তখন চলো, ওই গুহায় আশ্রয় গ্রহণ কর। তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য নিজ রহমত বিস্তার করে দেবেন এবং তোমাদের বিষয়টা যাতে সহজ হয় সেই ব্যবস্থা করে দেবেন।

তাফসীরঃ

৯. অর্থাৎ, তোমরা যখন সত্য দীন অবলম্বন করেছ এবং তোমাদের শহরবাসী তোমাদের শত্রু হয়ে গেছে, তখন এ দীন অনুসারে ইবাদত-বন্দেগী করার উপায় কেবল এই যে, তোমরা শহর ত্যাগ করে পাহাড়ে চলে যাও এবং তার গুহায় গিয়ে আশ্রয় নাও। তাহলে কেউ তোমাদের খুঁজে পাবে না।
১৭

وَتَرَی الشَّمۡسَ اِذَا طَلَعَتۡ تَّزٰوَرُ عَنۡ کَہۡفِہِمۡ ذَاتَ الۡیَمِیۡنِ وَاِذَا غَرَبَتۡ تَّقۡرِضُہُمۡ ذَاتَ الشِّمَالِ وَہُمۡ فِیۡ فَجۡوَۃٍ مِّنۡہُ ؕ  ذٰلِکَ مِنۡ اٰیٰتِ اللّٰہِ ؕ  مَنۡ یَّہۡدِ اللّٰہُ فَہُوَ الۡمُہۡتَدِ ۚ  وَمَنۡ یُّضۡلِلۡ فَلَنۡ تَجِدَ لَہٗ وَلِیًّا مُّرۡشِدًا ٪ ١٧

ওয়া তারাশশামছা ইযা-তালা‘আততাঝা-ওয়ারু ‘আন কাহফিহিম যা-তাল ইয়ামীনি ওয়া ইযা-গারাবাত তাকরিদুহুম যা-তাশশিমা-লি ওয়া হুম ফী ফাজওয়াতিম মিনহু যালিকা মিন আ-য়া-তিল্লা-হি মাইঁ ইয়াহদিল্লা-হু ফাহুওয়াল মুহতাদি ওয়া মাই ইউদলিল ফালান তাজিদা লাহূত্তয়ালিইইয়াম মুরশিদা-।

(সে গুহাটি এমন ছিল যে,) তুমি সূর্যকে তার উদয়কালে দেখতে পেতে তা তাদের গুহার ডান দিক থেকে সরে চলে যায় এবং অস্তকালে বা দিক থেকে তার পাশ কেটে যায়। ১০ আর তারা ছিল গুহার প্রশস্ত অংশে (শায়িত)। এসব আল্লাহর নিদর্শনাবলীর অন্তর্ভুক্ত। ১১ আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন, সে-ই হিদায়াতপ্রাপ্ত হয় আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তুমি কখনই তার এমন কোন সাহায্যকারী পাবে না, যে তাকে সৎপথে আনবে।

তাফসীরঃ

১০. অর্থাৎ, গুহায় তাদের আশ্রয় গ্রহণ, সুদীর্ঘকাল নিদ্রা যাপন, রোদ থেকে রক্ষা পাওয়া-এসব কিছু ছিল আল্লাহ তাআলার কুদরত ও হিকমতের নিদর্শন।
১৮

وَتَحۡسَبُہُمۡ اَیۡقَاظًا وَّہُمۡ رُقُوۡدٌ ٭ۖ وَّنُقَلِّبُہُمۡ ذَاتَ الۡیَمِیۡنِ وَذَاتَ الشِّمَالِ ٭ۖ وَکَلۡبُہُمۡ بَاسِطٌ ذِرَاعَیۡہِ بِالۡوَصِیۡدِ ؕ لَوِ اطَّلَعۡتَ عَلَیۡہِمۡ لَوَلَّیۡتَ مِنۡہُمۡ فِرَارًا وَّلَمُلِئۡتَ مِنۡہُمۡ رُعۡبًا ١٨

ওয়া তাহছাবুহুম আইকা-জাওঁ ওয়া হুম রুকূদুওঁ ওয়া নুকালিলবুহুম যা-তাল ইয়ামীনি ওয়া যা-তাশশিমা-লি ওয়াকালবুহুম বা-ছিতু ন যিরা-‘আইহি বিল ওয়াসীদি লাবিততালা‘তা ‘আলাইহিম লাওয়াল্লাইতা মিনহুম ফিরা-রাওঁ ওয়ালামুলি’তা মিনহুম রু‘বা-।

(তাদের দেখলে) তোমার মনে হত তারা জাগ্রত, অথচ তারা ছিল নিদ্রিত। ১২ আমি তাদেরকে পার্শ্ব পরিবর্তন করাচ্ছিলাম ডানে ও বামে। আর তাদের কুকুর গুহামুখে সামনের পা দু’টি ছড়িয়ে (বসা) ছিল। তুমি যদি তাদেরকে উঁকি মেরে দেখতে, তবে তুমি তাদের থেকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পালাতে এবং তাদের ভয়ে পরিপূর্ণরূপে ভীত হয়ে পড়তে।

তাফসীরঃ

১২. অর্থাৎ, ঘুমন্ত ব্যক্তির ঘুমের যেসব আলামত দর্শকের দৃষ্টিগোচর হয়, তাদের মাঝে তার কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। বরং তাদের দেখলে মনে হত, তারা জাগ্রত অবস্থায় শুয়ে আছে।
১৯

وَکَذٰلِکَ بَعَثۡنٰہُمۡ لِیَتَسَآءَلُوۡا بَیۡنَہُمۡ ؕ قَالَ قَآئِلٌ مِّنۡہُمۡ کَمۡ لَبِثۡتُمۡ ؕ قَالُوۡا لَبِثۡنَا یَوۡمًا اَوۡ بَعۡضَ یَوۡمٍ ؕ قَالُوۡا رَبُّکُمۡ اَعۡلَمُ بِمَا لَبِثۡتُمۡ ؕ فَابۡعَثُوۡۤا اَحَدَکُمۡ بِوَرِقِکُمۡ ہٰذِہٖۤ اِلَی الۡمَدِیۡنَۃِ فَلۡیَنۡظُرۡ اَیُّہَاۤ اَزۡکٰی طَعَامًا فَلۡیَاۡتِکُمۡ بِرِزۡقٍ مِّنۡہُ وَلۡـیَؔ‍‍‍تَلَطَّفۡ وَلَا یُشۡعِرَنَّ بِکُمۡ اَحَدًا ١٩

ওয়া কাযা-লিকা বা‘আছনা-হুম লিইয়াতাছাআলূবাইনাহুম কা-লা কাইলুম মিনহুম কাম লাবিছতুম কা-লূলাবিছনা-ইয়াওমান আও বা‘দা ইয়াওমিন কালূরাব্বুকুম আ‘লামুবিমা-লাবিছতুম ফাব‘আছূআহাদাকুম বিওয়ারিকিকুম হাযিহীইলাল মাদীনাতি ফালইয়ানজু র আইয়ুহাআঝকা-তা‘আ-মান ফালইয়া’তিকুম বিরিঝকিম মিনহু ওয়াল ইয়াতালাততাফ ওয়ালা-ইউশ‘ইরান্না বিকুম আহাদা-।

আমি (তাদেরকে যেমন নিদ্রাচ্ছন্ন করেছিলাম) এভাবেই তাদেরকে জাগিয়ে দিলাম, যাতে তারা পরস্পরে একে অন্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের মধ্যে একজন বলল, তোমরা এ অবস্থায় কতকাল থেকেছ? কেউ কেউ বলল, আমরা একদিন বা তার কিছু কম (ঘুমে) থেকে থাকব। অন্যরা বলল, তোমাদের প্রতিপালকই ভালো জানেন তোমরা এ অবস্থায় কতকাল থেকেছ। এখন নিজেদের কোন একজনকে রূপার মুদ্রা দিয়ে নগরে পাঠাও। সে গিয়ে দেখুক তার কোন এলাকায় ভালো খাদ্য আছে ১৩ এবং সেখান থেকে তোমাদের জন্য কিছু খাবার নিয়ে আসুক। সে যেন সতর্কতার সাথে কাজ করে এবং সে যেন তোমাদের সম্পর্কে কাউকে অবহিত হতে না দেয়।

তাফসীরঃ

১৩. এটাই প্রকাশ যে, উত্তম খাদ্য দ্বারা হালাল খাদ্য বোঝানো হয়েছে। তাদের ভাবনা ছিল, পৌত্তলিকদের শহরে হালাল খাদ্য পাওয়া তো সহজ নয়। তাই যাকে পাঠিয়েছিল তাকে সতর্ক করে দিল, যেন এমন জায়গা থেকে খাবার কেনে যেখানে হালাল খাদ্য পাওয়া যায়। তাছাড়া তাদের ধারণা মতে সেখানে তখনও পর্যন্ত পৌত্তলিক রাজারই শাসন চলছিল। তাই তাদের দ্বিতীয় চিন্তা ছিল, পাছে এ গুহায় তাদের আত্মগোপনের কথা সে জেনে ফেলে। তাই তাকে সতর্ক করে দিল, সে যেন খাদ্য কিনতে গিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করে।
২০

اِنَّہُمۡ اِنۡ یَّظۡہَرُوۡا عَلَیۡکُمۡ یَرۡجُمُوۡکُمۡ اَوۡ یُعِیۡدُوۡکُمۡ فِیۡ مِلَّتِہِمۡ وَلَنۡ تُفۡلِحُوۡۤا اِذًا اَبَدًا ٢۰

ইন্নাহুম ইয়ঁ ইয়াজহারূ‘আলাইকুম ইয়ারজুমূকুম আও ইউ‘ঈদূকুম ফী মিল্লাতিহিম ওয়ালান তুফলিহূইযান আবাদা-।

কেননা তারা (শহরবাসী) যদি তোমাদের সন্ধান পেয়ে যায়, তবে তারা তোমাদেরকে পাথর মেরে হত্যা করবে অথবা তোমাদেরকে তাদের ধর্মে ফিরে যেতে বাধ্য করবে। আর তাহলে তোমরা কখনও সফলতা লাভ করতে পারবে না।
২১

وَکَذٰلِکَ اَعۡثَرۡنَا عَلَیۡہِمۡ لِیَعۡلَمُوۡۤا اَنَّ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقٌّ وَّاَنَّ السَّاعَۃَ لَا رَیۡبَ فِیۡہَا ۚ٭ اِذۡ یَتَنَازَعُوۡنَ بَیۡنَہُمۡ اَمۡرَہُمۡ فَقَالُوا ابۡنُوۡا عَلَیۡہِمۡ بُنۡیَانًا ؕ رَبُّہُمۡ اَعۡلَمُ بِہِمۡ ؕ قَالَ الَّذِیۡنَ غَلَبُوۡا عَلٰۤی اَمۡرِہِمۡ لَنَتَّخِذَنَّ عَلَیۡہِمۡ مَّسۡجِدًا ٢١

ওয়া কাযা-লিকা আ‘ছারনা-‘আলাইহিম লিইয়া‘লামূআন্না-ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুওঁ ওয়া আন্নাছছা-‘আতা লা-রাইবা ফীহা- ইয ইয়াতানা -ঝা‘ঊনা বাইনাহুম আমরাহুম ফাকালুবনূ‘আলাইহিম বুনইয়া-নার রাব্বুহুম আ‘লামুবিহিম কা-লাল্লাযীনা গালাবূ ‘আলাআমরিহিম লানাত্তাখিযান্না ‘আলাইহিম মাছজিদা-।

এভাবে আমি মানুষের কানে তাদের সংবাদ পৌঁছিয়ে দিলাম, ১৪ যাতে তারা নিশ্চিতভাবে জানতে পারে আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং এটাও যে, কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, ১৫ তাতে কোন সন্দেহ নেই। (অতঃপর সেই সময়ও আসল) যখন লোকে তাদের সম্পর্কে নিজেদের মধ্যে বিতর্ক করছিল। ১৬ কিছু লোক বলল, তাদের উপর সৌধ নির্মাণ কর। তাদের প্রতিপালকই তাদের বিষয়ে ভালো জানেন। ১৭ (শেষ পর্যন্ত) তাদের বিষয়ে যাদের মত প্রবল হল, তারা বলল, আমরা অবশ্যই তাদের উপর একটি মসজিদ নির্মাণ করব।

তাফসীরঃ

১৪. যাকে খাদ্য কিনতে পাঠানো হয়েছিল, কোন কোন বর্ণনা অনুযায়ী তার নাম ‘তামলীখা’। সে যথারীতি খাদ্য কেনার জন্য শহরে গেল এবং দোকানদারকে তিনশ’ বছর আগের মুদ্রা দিল, যাতে সেই যুগের রাজার ছাপ লাগানো ছিল। দোকানদার তো সে মুদ্রা দেখে অবাক। সে তাকে বর্তমান রাজার কাছে নিয়ে গেল। নতুন রাজা ছিলেন অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ। তার এই ঘটনা জানা ছিল যে, রাজা দিকয়ানূসের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে একদল যুবক নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। রাজা আরও খোঁজ-খবর নিলেন। শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেল, এরাই সেই যুবক দল। রাজা তাদেরকে খুব সম্মান ও খাতির-যত্ন করলেন। কিন্তু তারা পুনরায় সেই গুহায় চলে গেল এবং সেখানেই আল্লাহ তাআলা তাদেরকে মৃত্যু দান করলেন।
২২

سَیَقُوۡلُوۡنَ ثَلٰثَۃٌ رَّابِعُہُمۡ کَلۡبُہُمۡ ۚ  وَیَقُوۡلُوۡنَ خَمۡسَۃٌ سَادِسُہُمۡ کَلۡبُہُمۡ رَجۡمًۢا بِالۡغَیۡبِ ۚ  وَیَقُوۡلُوۡنَ سَبۡعَۃٌ وَّثَامِنُہُمۡ کَلۡبُہُمۡ ؕ  قُلۡ رَّبِّیۡۤ اَعۡلَمُ بِعِدَّتِہِمۡ مَّا یَعۡلَمُہُمۡ اِلَّا قَلِیۡلٌ ۬۟  فَلَا تُمَارِ فِیۡہِمۡ اِلَّا مِرَآءً ظَاہِرًا ۪  وَّلَا تَسۡتَفۡتِ فِیۡہِمۡ مِّنۡہُمۡ اَحَدًا ٪ ٢٢

ছাইয়াকূলূনা ছালা-ছাতুর রা-বি‘উহুম কালবুহুম ওয়া ইয়াকূলূনা খামছাতুন ছা-দিছুহুম কালবুহুম রাজমাম বিলগাইবি ওয়া ইয়াকূলূনা ছাব‘আতুওঁ ওয়া ছা-মিনুহুম কালবুহুম কুর রাববীআ‘লামুবি‘ইদ্দাতিহিম মা-ইয়া‘লামুহুম ইল্লা-কালীলুন ফালা-তুমারি ফীহিম ইল্লা-মিরাআন জা-হিরাওঁ ওয়ালা-তাছতাফতি ফীহিম মিনহুম আহাদা-।

কিছু লোক বলবে, তারা ছিল তিনজন আর চতুর্থটি তাদের কুকুর। কিছু লোক বলবে, তারা ছিল পাঁচজন আর ষষ্ঠটি তাদের কুকুর। এসবই তাদের অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়া জাতীয় কথা। কিছু লোক বলবে, তারা ছিল সাতজন, আর অষ্টমটি ছিল তাদের কুকুর। বলে দাও আমার প্রতিপালকই তাদের প্রকৃত সংখ্যা ভালো জানেন। অল্প কিছু লোক ছাড়া কেউ তাদের সম্পর্কে পুরোপুরি জানে না। সুতরাং তাদের সম্পর্কে সাদামাঠা কথাবার্তার বেশি কিছু আলোচনা করো না এবং তাদের সম্বন্ধে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদও করো না। ১৮

তাফসীরঃ

১৮. এ আয়াত আমাদেরকে আলাদাভাবে একটা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দান করছে। তা এই যে, যে বিষয়ে মানুষের কোনও ব্যবহারিক ও কর্মগত মাসআলা নির্ভরশীল নয়, সে বিষয়ে অহেতুক খোঁড়াখুঁড়ি ও তত্ত্ব তালাশে লেগে পড়া উচিত নয়। আসহাবে কাহফের ঘটনা থেকে মৌলিকভাবে যে শিক্ষা লাভ হয়, তা হল প্রতিকূল পরিস্থিতির ভেতর সত্যের উপর অটল থাকার চেষ্টা করলে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই সাহায্য করেন, যেমন যুবক দলটি সত্যের উপর অটল থাকার চেষ্টা করেছিল এবং শত বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও আপন বিশ্বাস থেকে টলেনি; বরং সত্যনিষ্ঠার পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছিল, ফলে আল্লাহ তাআলা কিভাবে তাদেরকে সাহায্য করেছিলেন! বাকি থাকল এই প্রশ্ন যে, তারা সংখ্যায় কতজন ছিল? বস্তুত এটা মজলিস সরগরম করে তোলার মত কোন প্রশ্ন নয়, যেহেতু এর উপর বিশেষ কোন মাসআলা নির্ভরশীল নয়। তাই এ নিয়ে মাথা গরম করারও কোন প্রয়োজন নেই। বরং উপদেশ দেওয়া হয়েছে, কেউ যদি এ নিয়ে আলোচনা উঠায়ও, তবে সাদামাঠা উত্তর দিয়ে কথা শেষ করে ফেল। অহেতুক এর পেছনে সময় নষ্ট করো না।
২৩

وَلَا تَقُوۡلَنَّ لِشَایۡءٍ اِنِّیۡ فَاعِلٌ ذٰلِکَ غَدًا ۙ ٢٣

ওয়ালা-তাকূলান্না লিশাইয়িন ইন্নী ফা-‘ইলুন যা-লিকা গাদা-।

(হে নবী!) কোন কাজ সম্পর্কেই কখনও বলো না ‘আমি এ কাজ আগামীকাল করব’।
২৪

اِلَّاۤ اَنۡ یَّشَآءَ اللّٰہُ ۫ وَاذۡکُرۡ رَّبَّکَ اِذَا نَسِیۡتَ وَقُلۡ عَسٰۤی اَنۡ یَّہۡدِیَنِ رَبِّیۡ لِاَقۡرَبَ مِنۡ ہٰذَا رَشَدًا ٢٤

ইল্লাআইঁ ইয়াশাআল্লা-হু ওয়াযকুর রাব্বাকা ইযা-নাছীতা ওয়াকুল ‘আছাআইঁ ইয়াহদিয়ানি রাববী লিআকরাবা মিন হা-যা-রাশাদা-।

তবে (বলো) আল্লাহ যদি চান (তবে করব)। ১৯ আর কখনও ভুলে গেলে নিজ প্রতিপালককে স্মরণ কর এবং বল, আমি আশা করি আমার প্রতিপালক এমন কোনও বিষয়ের প্রতি আমাকে পথনির্দেশ করবেন, যা এর চেয়েও হিদায়াতের বেশি নিকটবর্তী হবে। ২০

তাফসীরঃ

১৯. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত সত্য কিনা তার প্রমাণ হিসেবেই প্রশ্নকর্তারা তাঁর কাছে আসহাবে কাহফের ঘটনা জানতে চেয়েছিল। এ আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা তাঁকে নবুওয়াতের আরও বহু দলীল-প্রমাণ দান করেছেন, যা তাঁর নবুওয়াত প্রতিষ্ঠার সপক্ষে আসহাবে কাহফের ঘটনা শোনানো অপেক্ষাও বেশি স্পষ্ট। কেউ ঈমান আনতে চাইলে প্রমাণ হিসেবে সেগুলো আরও বেশি কার্যকর।
২৫

وَلَبِثُوۡا فِیۡ کَہۡفِہِمۡ ثَلٰثَ مِائَۃٍ سِنِیۡنَ وَازۡدَادُوۡا تِسۡعًا ٢٥

ওয়া লাবিছূফী কাহফিহিম ছালা-ছা মিআতিন ছিনীনা ওয়াঝদা-দূতিছ‘আ-।

তারা (অর্থাৎ আসহাবে কাহফ) তাদের গুহায় তিনশ’ বছর এবং অতিরিক্ত নয় বছর (নিদ্রিত অবস্থায়) ছিল।
২৬

قُلِ اللّٰہُ اَعۡلَمُ بِمَا لَبِثُوۡا ۚ لَہٗ غَیۡبُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ اَبۡصِرۡ بِہٖ وَاَسۡمِعۡ ؕ مَا لَہُمۡ مِّنۡ دُوۡنِہٖ مِنۡ وَّلِیٍّ ۫ وَّلَا یُشۡرِکُ فِیۡ حُکۡمِہٖۤ اَحَدًا ٢٦

কুল্লিলা-হু আ‘লামুবিমা-লাবিছূ লাহূগাইবুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি আবসির বিহী ওয়া আছমি‘ মা-লাহুম মিন দূ নিহী মিওঁ ওয়ালিইয়িওঁ ওয়ালা-ইউশরিকুফী হুকমিহীআহাদা-।

(কেউ যদি এ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তবে) বল, আল্লাহই ভালো জানেন, তারা কতকাল (ঘুমিয়ে) ছিল। ২১ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর যাবতীয় গুপ্ত জ্ঞান তাঁরই আছে। তিনি কত উত্তম দ্রষ্টা! কত উত্তম শ্রোতা! তিনি ব্যতীত তাদের আর কোন অভিভাবক নেই। তিনি নিজ কর্তৃত্বে কাউকে শরীক করেন না।

তাফসীরঃ

২১. আল্লাহ যদিও জানিয়ে দিয়েছেন যুবক দল তাদের গুহায় তিনশ’ নয় বছর নিদ্রিত ছিল। কিন্তু এটা জানানোর পর পুনরায় সে কথাই বলে দিয়েছেন যে, এ বিষয়ে কেবল অনুমানের ভিত্তিতে কোন কথা বলা উচিত নয়। কেউ যদি মেয়াদ সম্পর্কে ভিন্নমত প্রকাশ করে, তবে তর্কের দুয়ার বন্ধ করার জন্য বলে দাও, মেয়াদ সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহ তাআলারই আছে। কাজেই তিনি যে মেয়াদ বর্ণনা করেছেন সেটাই সঠিক। ঈমানদার হয়ে থাকলে তোমার কর্তব্য সেটাই গ্রহণ করা।
২৭

وَاتۡلُ مَاۤ اُوۡحِیَ اِلَیۡکَ مِنۡ کِتَابِ رَبِّکَ ۚؕ لَا مُبَدِّلَ لِکَلِمٰتِہٖ ۚ۟ وَلَنۡ تَجِدَ مِنۡ دُوۡنِہٖ مُلۡتَحَدًا ٢٧

ওয়াতলুমাঊহিয়া ইলাইকা মিন কিতা-বি রাব্বিকা লা-মুবাদ্দিলা লিকালিমা-তিহী ওয়া লান তাজিদা মিন দূ নিহী মুলতাহাদা-।

(হে নবী!) তোমার কাছে তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যে ওহী পাঠানো হয়েছে, তা পড়ে শোনাও। এমন কেউ নেই যে তাঁর বাণী পরিবর্তন করতে পারে এবং তুমি তাঁকে ছাড়া অন্য কোনও আশ্রয়স্থল পাবে না কখনই। ২২

তাফসীরঃ

২২. কাফেরগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে দাবী করত, আপনি আমাদের ইচ্ছা ও বিশ্বাস অনুযায়ী এ কুরআনকে পরিবর্তন করে দিন। তা করলে আমরা আপনার প্রতি ঈমান আনতে প্রস্তুত আছি। পূর্বে সূরা ইউনুসে (১০ : ১৫) তাদের এ দাবীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বস্তুত তাদেরকে শোনানোর লক্ষ্যেই আল্লাহ তাআলা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্ভাষণ করে এ আয়াতের বক্তব্য পেশ করেছেন। এতে বলা হচ্ছে, আল্লাহ তাআলার কালামে রদবদল করার কোন এখতিয়ার কারও নেই। কেউ যদি এমনটা করে, তবে আল্লাহ তাআলার আযাব থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য সে কোনও আশ্রয়স্থল পাবে না।
২৮

وَاصۡبِرۡ نَفۡسَکَ مَعَ الَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ رَبَّہُمۡ بِالۡغَدٰوۃِ وَالۡعَشِیِّ یُرِیۡدُوۡنَ وَجۡہَہٗ وَلَا تَعۡدُ عَیۡنٰکَ عَنۡہُمۡ ۚ تُرِیۡدُ زِیۡنَۃَ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۚ وَلَا تُطِعۡ مَنۡ اَغۡفَلۡنَا قَلۡبَہٗ عَنۡ ذِکۡرِنَا وَاتَّبَعَ ہَوٰىہُ وَکَانَ اَمۡرُہٗ فُرُطًا ٢٨

ওয়াসবির নাফছাকা মা‘আল্লাযীনা ইয়াদ‘ঊনা রাব্বাহুম বিলগাদা-তি ওয়াল ‘আশিইয়ি ইউরীদূ না ওয়াজহাহূওয়ালা-তা‘দুআইনা-কা ‘আনহুম তুরীদুঝীনাতাল হায়াতিদদুনইয়া- ওয়ালা তুতি‘ মান আগফালনা-কালবাহূ‘আন যিকরিনা-ওয়াত্তাবা‘আ হাওয়া-হু ওয়া কা-না আমরুহূফুরুতা-।

ধৈর্য-স্থৈর্যের সাথে নিজেকে সেই সকল লোকের সংসর্গে রাখ যারা সকাল ও সন্ধ্যায় নিজেদের প্রতিপালককে এ কারণে ডাকে যে, তারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে। ২৩ পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনায় তোমার দৃষ্টি যেন তাদের থেকে সরে না যায়। এমন কোন ব্যক্তির কথা মানবে না, যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে রেখেছি, যে নিজ খেয়াল-খুশীর পেছনে পড়ে রয়েছে এবং যার কার্যকলাপ সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

তাফসীরঃ

২৩. কুরাইশ গোত্রের নেতারা দাবি করেছিল, যে সব গরীব ও সাধারণ স্তরের মুসলিম মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যে থাকে, তিনি যেন তাদেরকে দূর করে দেন। তা করলে তারা তাঁর কথা শুনতে প্রস্তুত থাকবে। অন্যথায় ওইসব সাধারণ স্তরের লোকদের সাথে বসে তাঁর কথা শোনা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের সে দাবীর রদকল্পেই এ আয়াত নাযিল হয়েছে। এতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তিনি যেন তাদের কথায় কর্ণপাত না করেন এবং গরীব সাহাবীগণের সাহচর্য ত্যাগ না করেন। প্রসঙ্গত গরীব সাহাবায়ে কেরামের ফযীলত এবং তাদের বিপরীতে ধনবান কাফেরদের হীনতা বর্ণনা করা হয়েছে। এই একই বিষয়বস্তু সূরা আনআমেও (৬ : ৫২) গত হয়েছে।
২৯

وَقُلِ الۡحَقُّ مِنۡ رَّبِّکُمۡ ۟ فَمَنۡ شَآءَ فَلۡیُؤۡمِنۡ وَّمَنۡ شَآءَ فَلۡیَکۡفُرۡ ۙ اِنَّاۤ اَعۡتَدۡنَا لِلظّٰلِمِیۡنَ نَارًا ۙ اَحَاطَ بِہِمۡ سُرَادِقُہَا ؕ وَاِنۡ یَّسۡتَغِیۡثُوۡا یُغَاثُوۡا بِمَآءٍ کَالۡمُہۡلِ یَشۡوِی الۡوُجُوۡہَ ؕ بِئۡسَ الشَّرَابُ ؕ وَسَآءَتۡ مُرۡتَفَقًا ٢٩

ওয়া কুল্লি হাক্কুমির রাব্বিকুম ফামান শাআ ফালইউ’মিওঁ ওয়ামান শাআ ফালইয়াকফুর ইন্নাআ‘তাদনা-লিজ্জা-লিমীনা না-রান আহা-তা বিহিম ছুরাদিকুহা- ওয়াইয়ঁইয়াছতাগীছূইউগা-ছূবিমাইন কালমুহলি ইয়াশবিল উজূহা বি’ছাশ শারা-বু ওয়া ছাআত মুরতাফাকা-।

বলে দাও, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তো সত্য এসে গেছে। এখন যার ইচ্ছা ঈমান আনুক এবং যার ইচ্ছা কুফর অবলম্বন করুক। ২৪ আমি জালেমদের জন্য আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি, যার প্রাচীর তাদেরকে বেষ্টন করে রাখবে। তারা পানি চাইলে তাদেরকে তেলের তলানী সদৃশ পানীয় দেওয়া হবে, যা তাদের চেহারা ঝলসে দেবে। কতই না মন্দ সে পানীয় এবং কতই না নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল!

তাফসীরঃ

২৪. অর্থাৎ, সত্য পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পর ঈমান আনার জন্য কারও উপর শক্তি আরোপ করা যায় না কিন্তু যে ব্যক্তি ঈমান আনবে না, আখেরাতে অবশ্যই তাকে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
৩০

اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ اِنَّا لَا نُضِیۡعُ اَجۡرَ مَنۡ اَحۡسَنَ عَمَلًا ۚ ٣۰

ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূওয়া‘আমিলুসসা-লিহা-তি ইন্না-লা-নুদী‘উ আজরা মান আহছানা ‘আমালা-।

তবে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারা নিশ্চিত থাকুক, আমি সৎকর্মশীলদের কর্মফল নষ্ট করি না।
৩১

اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ جَنّٰتُ عَدۡنٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہِمُ الۡاَنۡہٰرُ یُحَلَّوۡنَ فِیۡہَا مِنۡ اَسَاوِرَ مِنۡ ذَہَبٍ وَّیَلۡبَسُوۡنَ ثِیَابًا خُضۡرًا مِّنۡ سُنۡدُسٍ وَّاِسۡتَبۡرَقٍ مُّتَّکِئِیۡنَ فِیۡہَا عَلَی الۡاَرَآئِکِ ؕ  نِعۡمَ الثَّوَابُ ؕ  وَحَسُنَتۡ مُرۡتَفَقًا ٪ ٣١

উলাইকা লাহুমজান্না-তু‘আদনিন তাজরী মিন তাহতিহিমুল আনহা-রু ইউহাল্লাওনা ফীহামিন আছা-বিরা মিন যাহাবিওঁ ওয়া ইয়ালবাছূনা ছিয়াবান খুদরাম মিন ছুনদুছিওঁ ওয়া ইছতাবরাকিম মুত্তাকিঈনা ফিহা-‘আলাল আরাইকি নি‘মাছছাওয়া-বু ওয়া হাছুনাত মুরতাফাকা-।

তাদেরই জন্য রয়েছে স্থায়ীভাবে থাকার উদ্যান, তাদের নিচে নহর প্রবহমান থাকবে। তাদেরকে সেখানে স্বর্ণকঙ্কনে অলংকৃত করা হবে। আর তারা উচ্চ আসনে হেলান দেওয়া অবস্থায় মিহি ও পুরু সবুজ রেশমী কাপড় পরিহিত থাকবে। কতই না উৎকৃষ্ট প্রতিদান এবং কত সুন্দর বিশ্রামস্থল।
৩২

وَاضۡرِبۡ لَہُمۡ مَّثَلًا رَّجُلَیۡنِ جَعَلۡنَا لِاَحَدِہِمَا جَنَّتَیۡنِ مِنۡ اَعۡنَابٍ وَّحَفَفۡنٰہُمَا بِنَخۡلٍ وَّجَعَلۡنَا بَیۡنَہُمَا زَرۡعًا ؕ ٣٢

ওয়াদরিব লাহুম মাছালার রাজুলাইনি জা‘আলনা-লিআহাদিহিমা-জান্নাতাইনি মিন আ‘নাবিওঁ ওয়া হাফাফনা-হুমা বিনাখলিওঁ ওয়াজা‘আলনা-বাইনাহুমা-ঝার‘আ-।

(হে নবী!) তাদের সামনে সেই দুই ব্যক্তির উপমা পেশ কর, ২৫ যাদের একজনকে আমি আঙ্গুরের দু’টি বাগান দিয়েছিলাম এবং সে দু’টিকে খেজুর গাছ দ্বারা ঘেরাও দিয়ে রেখেছিলাম আর বাগান দু’টির মাঝখানকে শস্যক্ষেত্র বানিয়েছিলাম।

তাফসীরঃ

২৫. ২৮ নং আয়াতে কাফের নেতৃবর্গের অহমিকার প্রতি ইশারা করা হয়েছিল, যে অহমিকার কারণে তারা গরীব মুসলিমদের সাথে বসতে পছন্দ করত না। এবার আল্লাহ তাআলা এমন একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন, যা দ্বারা অর্থ-সম্পদের স্বরূপ স্পষ্ট হয়ে যায় এবং সমঝদার ব্যক্তি মাত্রই বুঝতে সক্ষম হয় সম্পদের প্রাচুর্য এমন কোন জিনিস নয়, যার কারণে অহমিকা প্রকাশ করা যায়। আল্লাহ তাআলার সাথে সম্পর্কে মজবুত না থাকলে বড় বড় মালদারকেও পরিণামে আফসোস করতে হয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তাআলার সাথে সম্পর্ক যদি ঠিক থাকে, তবে নিতান্ত গরীবও ধনবানদেরকে পিছনে ফেলে বহু দূর এগিয়ে যায়। এখানে যে দুই ব্যক্তির উপমা দেওয়া হয়েছে, নির্ভরযোগ্য কোনও বর্ণনায় তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। কোন কোন মুফাসসির উল্লেখ করেছেন, তারা বনী ইসরাঈলের লোক। উত্তরাধিকার সূত্রে তারা তাদের পিতার থেকে বিপুল সম্পদ পেয়েছিল। তাদের একজন ছিল কাফের। সে অর্থ-সম্পদেই মত্ত থাকল। অপরজন তার সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করতে থাকল। এক পর্যায়ে অন্যজন অপেক্ষা তার সম্পদের পরিমাণ কমে গেল। কিন্তু তার প্রতি আল্লাহর রহমত ছিল। অপরজন কুফরী হেতু তাঁর রহমত থেকে বঞ্চিত হল এবং শেষ পর্যন্ত আল্লাহর গযবে তার অর্থ-সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল। তখন আফসোস করা ছাড়া তার আর কিছু করার থাকল না।
৩৩

کِلۡتَا الۡجَنَّتَیۡنِ اٰتَتۡ اُکُلَہَا وَلَمۡ تَظۡلِمۡ مِّنۡہُ شَیۡئًا ۙ  وَّفَجَّرۡنَا خِلٰلَہُمَا نَہَرًا ۙ ٣٣

কিলতাল জান্নাতাইনি আ-তাত উকুলাহা-ওয়ালাম তাজলিম মিনহু শাইআওঁ ওয়া ফাজ্জারনাখিলা-লাহুমা-নাহারা-।

উভয় বাগান পরিপূর্ণ ফল দান করত এবং তাতে কোন ত্রুটি করত না। আমি বাগান দু’টির মাঝখানে একটি নহর প্রবাহিত করেছিলাম।
৩৪

وَّکَانَ لَہٗ ثَمَرٌ ۚ فَقَالَ لِصَاحِبِہٖ وَہُوَ یُحَاوِرُہٗۤ اَنَا اَکۡثَرُ مِنۡکَ مَالًا وَّاَعَزُّ نَفَرًا ٣٤

ওয়া কা-না লাহূছামারুন , ফাকা-লা লিসা-হিবিহী ওয়াহুওয়া ইউহা-বিরুহূআনা আকছারু মিনকা মা-লাওঁ ওয়া আ‘আঝঝুনাফারা-।

সেই ব্যক্তির প্রচুর ধন-সম্পদ অর্জিত হল। অতঃপর সে কথাচ্ছলে তার সঙ্গীকে বলল, আমার অর্থ-সম্পদও তোমার চেয়ে বেশি এবং আমার দলবলও তোমার চেয়ে শক্তিশালী।
৩৫

وَدَخَلَ جَنَّتَہٗ وَہُوَ ظَالِمٌ لِّنَفۡسِہٖ ۚ  قَالَ مَاۤ اَظُنُّ اَنۡ تَبِیۡدَ ہٰذِہٖۤ اَبَدًا ۙ ٣٥

ওয়া দাখালা জান্নাতাহূওয়াহুওয়া জা-লিমুল লিনাফছিহী কা-লা মাআজুন্নুআন তাবীদা হা-যিহীআবাদা-।

নিজ সত্তার প্রতি সে জুলুম করছিল ২৬ আর এ অবস্থায় সে তার বাগানে প্রবেশ করল। সে বলল, আমি মনে করি না এ বাগান কখনও ধ্বংস হবে।

তাফসীরঃ

২৬. অর্থাৎ সে কুফর ও শিরকে লিপ্ত ছিল। ধন ও জনের মদমত্ততায় অন্যদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করত। আখিরাতকে ভুলে পার্থিব ধন-সম্পদের নেশায় বিভোর হয়ে পড়েছিল আর এভাবে সে আখিরাতের প্রকৃত জীবন ধ্বংস করে নিজের উপরই জুলুম করছিল। -অনুবাদক
৩৬

وَّمَاۤ اَظُنُّ السَّاعَۃَ قَآئِمَۃً ۙ وَّلَئِنۡ رُّدِدۡتُّ اِلٰی رَبِّیۡ لَاَجِدَنَّ خَیۡرًا مِّنۡہَا مُنۡقَلَبًا ٣٦

ওয়ামাআজুন্নুছছা-‘আতা কাইমাতাওঁ ওয়ালাইর রুদিততুইলা-রাববী লাআজিদান্না খাইরাম মিনহা-মুনকালাবা-।

আমার ধারণা কিয়ামত কখনই হবে না। আর আমাকে আমার প্রতিপালকের কাছে যদি ফিরিয়ে নেওয়া হয়, তবে আমি নিশ্চিত (সেখানে) আমি এর চেয়েও উৎকৃষ্ট স্থান পাব।
৩৭

قَالَ لَہٗ صَاحِبُہٗ وَہُوَ یُحَاوِرُہٗۤ اَکَفَرۡتَ بِالَّذِیۡ خَلَقَکَ مِنۡ تُرَابٍ ثُمَّ مِنۡ نُّطۡفَۃٍ ثُمَّ سَوّٰىکَ رَجُلًا ؕ ٣٧

কা-লা লাহূসা-হিবুহূওয়া হুওয়া ইউহা-বিরুহআকাফারতা বিল্লাযী খালাকাকা মিন তুরা-বিন ছু ম্মা মিন নুতফাতিন ছুম্মা ছাওওয়া-কা রাজুলা-।

তার সাথী কথাচ্ছলে তাকে বলল, তুমি কি সেই সত্তার সাথে কুফরী আচরণ করছ, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি হতে, তারপর শুক্র হতে এবং তারপর তোমাকে একজন সুস্থ-সবল মানুষে পরিণত করেছেন?
৩৮

لٰکِنَّا۠ ہُوَ اللّٰہُ رَبِّیۡ وَلَاۤ اُشۡرِکُ بِرَبِّیۡۤ اَحَدًا ٣٨

লা-কিন্না হুওয়াল্লা-হু রাববী ওয়ালাউশরিকুবিরাববীআহাদা-।

আমার ব্যাপারে তো এই যে, আমি বিশ্বাস করি আল্লাহই আমার প্রতিপালক এবং আমি আমার প্রতিপালকের সাথে কাউকে শরীক মানি না।
৩৯

وَلَوۡلَاۤ اِذۡ دَخَلۡتَ جَنَّتَکَ قُلۡتَ مَا شَآءَ اللّٰہُ ۙ  لَا قُوَّۃَ اِلَّا بِاللّٰہِ ۚ  اِنۡ تَرَنِ اَنَا اَقَلَّ مِنۡکَ مَالًا وَّوَلَدًا ۚ ٣٩

ওয়ালাওলাইযদাখালতা জান্নাতাকা কুলতা মা-শাআল্লা-হু লা-কুওওয়াতা ইল্লা-বিল্লাহি ইন তারানি আনা আকাল্লা মিনকা মা-লাওঁ ওয়া ওয়ালাদা-।

তুমি যখন নিজ বাগানে প্রবেশ করছিলে, তখন তুমি কেন বললে না ‘মা-শা-আল্লাহ, লা-কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ (আল্লাহ যা চান তাই হয়। আল্লাহর তাওফীক ছাড়া কারও কোন ক্ষমতা নেই)। তোমার দৃষ্টিতে যদি আমার সম্পদ ও সন্তান তোমা অপেক্ষা কম হয়ে থাকে,
৪০

فَعَسٰی رَبِّیۡۤ اَنۡ یُّؤۡتِیَنِ خَیۡرًا مِّنۡ جَنَّتِکَ وَیُرۡسِلَ عَلَیۡہَا حُسۡبَانًا مِّنَ السَّمَآءِ فَتُصۡبِحَ صَعِیۡدًا زَلَقًا ۙ ٤۰

ফা‘আছা-রাববীআই ইউ’তিয়ানি খাইরাম মিন জান্নাতিকা ওয়া ইউরছিলা ‘আলাইহা-হুছবানাম মিনাছছামাই ফাতুসবিহা সা‘ঈদান ঝালাকা-।

তবে আমার প্রতিপালকের পক্ষে অসম্ভব নয় যে, তিনি আমাকে তোমার বাগান অপেক্ষা উৎকৃষ্ট জিনিস দান করবেন এবং তোমার বাগানে আসমান থেকে কোন বালা পাঠাবেন, ফলে তা তরুহীন প্রান্তরে পরিণত হবে।
৪১

اَوۡ یُصۡبِحَ مَآؤُہَا غَوۡرًا فَلَنۡ تَسۡتَطِیۡعَ لَہٗ طَلَبًا ٤١

আও ইউসবিহা মাউহা-গাওরান ফালান তাছতাতী‘আ লাহূতালাবা-।

অথবা তার পানি ভূগর্ভে নেমে যাবে, অতঃপর তুমি তার সন্ধান লাভে সক্ষম হবে না।
৪২

وَاُحِیۡطَ بِثَمَرِہٖ فَاَصۡبَحَ یُقَلِّبُ کَفَّیۡہِ عَلٰی مَاۤ اَنۡفَقَ فِیۡہَا وَہِیَ خَاوِیَۃٌ عَلٰی عُرُوۡشِہَا وَیَقُوۡلُ یٰلَیۡتَنِیۡ لَمۡ اُشۡرِکۡ بِرَبِّیۡۤ اَحَدًا ٤٢

ওয়া উহীতাবিছামারিহী ফাআছবাহা ইউকালিলবুকাফফাইহি ‘আলা-মাআনফাকা ফীহা-ওয়াহিয়া খা-বিয়াতুন ‘আলা-‘উরূশিহা-ওয়া ইয়াকূ লুইয়া-লাইতানী লাম উশরিক বিরাববীআহাদা-।

(অতঃপর এই ঘটল যে,) তার সমুদয় সম্পদ আযাববেষ্টিত হয়ে গেল এবং তার ভোর হল এমন অবস্থায় যে, বাগানে যা-কিছু ব্যয় করেছিল তজ্জন্য শুধু আক্ষেপ করতে লাগল যখন তার বাগান মাচানসহ ভূমিসাৎ হয়েছিল। সে বলছিল, হায়! আমি যদি আমার প্রতিপালকের সাথে কাউকে শরীক না করতাম!
৪৩

وَلَمۡ تَکُنۡ لَّہٗ فِئَۃٌ یَّنۡصُرُوۡنَہٗ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ وَمَا کَانَ مُنۡتَصِرًا ؕ ٤٣

ওয়ালাম তাকুল লাহূফিয়াতুইঁ ইয়ানসুরূনাহূমিন দূনিল্লা-হি ওয়ামা-কা-না মুনতাসিরা-।

আর আল্লাহ ছাড়া তার এমন কোন দলবল মিলল না, যারা তাকে সাহায্য করতে পারে আর সে নিজেও নিজেকে রক্ষা করতে সমর্থ ছিল না।
৪৪

ہُنَالِکَ الۡوَلَایَۃُ لِلّٰہِ الۡحَقِّ ؕ  ہُوَ خَیۡرٌ ثَوَابًا وَّخَیۡرٌ عُقۡبًا ٪ ٤٤

হুনা-লিকাল ওয়ালা-ইয়াতুলিল্লা-হিল হাক্কি হুওয়া খাইরুন ছাওয়া-বাওঁ ওয়া খাইরুন ‘উকবা-।

এরূপ পরিস্থিতিতে (মানুষ উপলব্ধি করতে পারে) সাহায্য করার ক্ষমতা কেবল পরম সত্য আল্লাহরই আছে। তিনিই উত্তম পুরস্কার দান করেন এবং উত্তম পরিণাম প্রদর্শন করেন। ২৭

তাফসীরঃ

২৭. অর্থাৎ যারা তাঁর প্রতি ঈমান আনে ও তাঁর আনুগত্য করে তাদেরকে উত্তম পুরস্কার দান করেন আর যারা তাঁর উপর নির্ভর করে এবং তাঁর কাছেই আশাবাদী থাকে, তাদের পরিণামকে শুভ করেন। -অনুবাদক
৪৫

وَاضۡرِبۡ لَہُمۡ مَّثَلَ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا کَمَآءٍ اَنۡزَلۡنٰہُ مِنَ السَّمَآءِ فَاخۡتَلَطَ بِہٖ نَبَاتُ الۡاَرۡضِ فَاَصۡبَحَ ہَشِیۡمًا تَذۡرُوۡہُ الرِّیٰحُ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ مُّقۡتَدِرًا ٤٥

ওয়াদরিব লাহুম মাছালাল হায়া-তিদদুনইয়া-কামাইন আনঝালনা-হু মিনাছ ছামাই ফাখতালাতা বিহী নাবা-তুল আরদিফাআসবাহা হাশীমান তাযরূহুর রিয়া-হু ওয়া কানাল্লা-হু ‘আলা-কুল্লি শাইয়িম মুকতাদিরা-।

তাদের কাছে পার্থিব জীবনের এই উপমাও পেশ কর যে, তা পানির মত, যা আমি আকাশ থেকে বর্ষণ করি, ফলে ভূমিজ উদ্ভিদ নিবিড় ঘন হয়ে যায়, তারপর তা এমন চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়, যা বাতাস উড়িয়ে নিয়ে যায়। ২৮ আল্লাহ সর্ব বিষয়ে পরিপূর্ণ ক্ষমতা রাখেন।

তাফসীরঃ

২৮. অর্থাৎ, ভূমিতে উৎপন্ন উদ্ভিদরাজি অতি ক্ষণস্থায়ী। প্রথম দিকে তো তার শোভা দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। কিন্তু পরিশেষে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে বাতাসে বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়। পার্থিব জীবনও এ রকমই। শুরুতে তো বড় মনোহর মনে হয়, কিন্তু শেষ পরিণতি ধ্বংস ছাড়া কিছুই নয়।
৪৬

اَلۡمَالُ وَالۡبَنُوۡنَ زِیۡنَۃُ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۚ وَالۡبٰقِیٰتُ الصّٰلِحٰتُ خَیۡرٌ عِنۡدَ رَبِّکَ ثَوَابًا وَّخَیۡرٌ اَمَلًا ٤٦

আলমা-লুওয়াল বানূনা ঝীনাতুল হায়া-তিদদুনইয়া- ওয়াল বা-কিয়া-তুসসা-লিহাতুখাইরুন ‘ইনদা রাব্বিকা ছাওয়া-বাওঁ ওয়া খাইরুন আমালা-।

সম্পদ ও সন্তান পার্থিব জীবনের শোভা। তবে যে সৎকর্ম স্থায়ী, তোমার প্রতিপালকের নিকট তা সওয়াবের দিক থেকেও উৎকৃষ্ট এবং আশা পোষণের দিক থেকেও উৎকৃষ্ট। ২৯

তাফসীরঃ

২৯. দুনিয়া ছলনাময়। এর সম্পদ ও সামগ্রীতে দিল লাগালে চিরকাল তা আপন হয়ে থাকে না। একদিন না একদিন ধোঁকা দিয়ে চলে যাবেই। পক্ষান্তরে আল্লাহ তাআলার সন্তোষ লাভের উদ্দেশ্যে যে সব সৎকর্ম করা হয়, তা কখনও বিফল যায় না, তার জন্য যে সওয়াবের আশা করা হয় তা অবশ্যই পূরণ হবে।
৪৭

وَیَوۡمَ نُسَیِّرُ الۡجِبَالَ وَتَرَی الۡاَرۡضَ بَارِزَۃً ۙ  وَّحَشَرۡنٰہُمۡ فَلَمۡ نُغَادِرۡ مِنۡہُمۡ اَحَدًا ۚ ٤٧

ওয়া ইয়াওমা নুছাইয়িরুল জিবা-লা ওয়া তারাল আরদা বা-রিঝাতাওঁ ওয়া হাশারনা-হুম ফালাম নুগা-দির মিনহুম আহাদা-।

এবং (সেই দিনকেও স্মরণ রাখ) যে দিন আমি পর্বতসমূহ সঞ্চালিত করব ৩০ এবং তুমি পৃথিবীকে দেখবে উন্মুক্ত পড়ে আছে ৩১ এবং আমি তাদের সকলকে একত্র করব, তাদের কাউকে ছাড়ব না।

তাফসীরঃ

৩০. এর দ্বারা যেমন বোঝানো হয়েছে, ভূগর্ভে যা-কিছু গুপ্ত আছে সব সামনে এসে যাবে। সূরা ইনশিকাকে (৮৪ : ৪)-এ কথা পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, তেমনি একথাও বোঝানো হয়েছে যে, পাহাড়-পর্বত, গাছপালা ও ঘর-বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর যতদূর দৃষ্টি যায় সারাটা পৃথিবী সমতল দেখা যাবে। কোথাও উচু-নিচু থাকবে না, যেমনটা সূরা তোয়াহার ইরশাদ হয়েছে (২০ : ১০, ১০৭)।
৪৮

وَعُرِضُوۡا عَلٰی رَبِّکَ صَفًّا ؕ لَقَدۡ جِئۡتُمُوۡنَا کَمَا خَلَقۡنٰکُمۡ اَوَّلَ مَرَّۃٍۭ ۫ بَلۡ زَعَمۡتُمۡ اَلَّنۡ نَّجۡعَلَ لَکُمۡ مَّوۡعِدًا ٤٨

ওয়া ‘উরিদূ ‘আলা-রাব্বিকা সাফফাল লাকাদ জি’তুমূনা-কামা-খালাকনা-কুম আওওয়ালা মাররাতিম বাল ঝা‘আমতুম আল্লান নাজ‘আলা লাকুম মাও‘ইদা-।

সকলকে তোমার প্রতিপালকের সামনে সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত করা হবে। (তাদেরকে বলা হবে) তোমাদেরকে আমি প্রথমবার যেভাবে সৃষ্টি করেছিলাম, পরিশেষে সেভাবেই তোমরা আমার কাছে চলে এসেছ। অথচ তোমাদের দাবী ছিল আমি তোমাদের জন্য (এই) নির্ধারিত কাল কখনই উপস্থিত করব না।
৪৯

وَوُضِعَ الۡکِتٰبُ فَتَرَی الۡمُجۡرِمِیۡنَ مُشۡفِقِیۡنَ مِمَّا فِیۡہِ وَیَقُوۡلُوۡنَ یٰوَیۡلَتَنَا مَالِ ہٰذَا الۡکِتٰبِ لَا یُغَادِرُ صَغِیۡرَۃً وَّلَا کَبِیۡرَۃً اِلَّاۤ اَحۡصٰہَا ۚ  وَوَجَدُوۡا مَا عَمِلُوۡا حَاضِرًا ؕ  وَلَا یَظۡلِمُ رَبُّکَ اَحَدًا ٪ ٤٩

ওয়া উদি‘আল কিতা-বুফাতারাল মুজরিমীনা মুশফিকীনা মিম্মা-ফীহি ওয়া ইকূলূনা ইয়াওয়াইলাতানা-মা-লি হা-যাল কিতা-বি লা-ইউগা-দিরু সাগীরাতাওঁ ওয়ালা-কাবীরাতান ইল্লাআহসা-হা- ওয়া ওয়াজাদূমা-‘আমিলূহা-দিরা- ওয়ালা-ইয়াজলিমু রাব্বুকা আহাদা-।

আর ‘আমলনামা’ সামনে রেখে দেওয়া হবে। তখন তুমি অপরাধীদেরকে দেখবে, তাতে যা (লেখা) আছে, তার কারণে তারা আতঙ্কিত এবং তারা বলছে, হায়! আমাদের দুর্ভোগ! এটা কেমন কিতাব, যা আমাদের ছোট-বড় যত কর্ম আছে, সবই পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব করে রেখেছে, তারা তাদের সমস্ত কৃতকর্ম সামনে উপস্থিত পাবে। তোমার প্রতিপালক কারও প্রতি কোন জুলুম করবেন না।
৫০

وَاِذۡ قُلۡنَا لِلۡمَلٰٓئِکَۃِ اسۡجُدُوۡا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوۡۤا اِلَّاۤ اِبۡلِیۡسَ ؕ کَانَ مِنَ الۡجِنِّ فَفَسَقَ عَنۡ اَمۡرِ رَبِّہٖ ؕ اَفَتَتَّخِذُوۡنَہٗ وَذُرِّیَّتَہٗۤ اَوۡلِیَآءَ مِنۡ دُوۡنِیۡ وَہُمۡ لَکُمۡ عَدُوٌّ ؕ بِئۡسَ لِلظّٰلِمِیۡنَ بَدَلًا ٥۰

ওয়া ইযকুলনা-লিল মালাইকাতিছ জু দূলিআ-দামা ফাছাজাদূ ইল্লাইবলীছা কানা মিনাল জিন্নি ফাফাছাকা ‘আন আমরি রাব্বিহী আফাতাত্তাখিযূনাহূওয়া যুররিইইয়াতাহূআওলিয়াআ মিন দূ নী ওয়া হুম লাকুম ‘আদুওউম বি’ছা লিজ্জালিমীনা বাদালা-।

সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বলেছিলাম, আদমের সামনে সিজদা কর। তখন সকলেই সিজদা করল এক ইবলীস ছাড়া। ৩২ সে ছিল জিনদের একজন। সে তার প্রতিপালকের হুকুম অমান্য করল। তারপরও কি তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে ও তার বংশধরদেরকে নিজেদের অভিভাবক বানাচ্ছ, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? জালিমদের জন্য (এটা) কতই না নিকৃষ্ট বদল! ৩৩

তাফসীরঃ

৩২. অর্থাৎ, তারা আল্লাহ তাআলার পরিবর্তে কত নিকৃষ্ট অভিভাবক বেছে নিয়েছে।
৫১

مَاۤ اَشۡہَدۡتُّہُمۡ خَلۡقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَلَا خَلۡقَ اَنۡفُسِہِمۡ ۪ وَمَا کُنۡتُ مُتَّخِذَ الۡمُضِلِّیۡنَ عَضُدًا ٥١

মাআশহাততুহুম খালকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়ালা-খালকা আনফুছিহিম ওয়ামা-কুনতুমুত্তাখিযাল মুদিল্লীনা ‘আদুদা-।

আমি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকালেও তাদেরকে হাজির করিনি আর খোদ তাদেরকে সৃষ্টি করার সময়ও না। ৩৪ আমি এমন নই যে, পথভ্রষ্টকারীদেরকে নিজের সহযোগী বানাব।

তাফসীরঃ

৩৪. অর্থাৎ, কাফেরগণ যেই শয়তানদেরকে নিজেদের অভিভাবক বানিয়েছে, আমি বিশ্বজগত সৃজনের দৃশ্য দেখানো বা সৃজন কার্যে সাহায্য গ্রহণের জন্য তাদেরকে কাছে ডাকিনি যে, তারা সৃষ্টির রহস্যাবলী সম্পর্কে জ্ঞাত থাকবে। অথচ কাফেরগণ মনে করছে, শয়তানেরা সব রহস্য জানে। ফলে তাদের প্ররোচনায় পড়ে আল্লাহ তাআলার সঙ্গে তাদেরকে অথবা তাদের কথামত অন্য কাউকে শরীক করে এবং বিশ্বাস করে তারা প্রভুত্বে আল্লাহ তাআলার অংশীদার।
৫২

وَیَوۡمَ یَقُوۡلُ نَادُوۡا شُرَکَآءِیَ الَّذِیۡنَ زَعَمۡتُمۡ فَدَعَوۡہُمۡ فَلَمۡ یَسۡتَجِیۡبُوۡا لَہُمۡ وَجَعَلۡنَا بَیۡنَہُمۡ مَّوۡبِقًا ٥٢

ওয়া ইয়াওমা ইয়াকূ লুনা-দূশুরাকাইয়াল্লাযীনা ঝা‘আমতুম ফাদা‘আওহুম ফালাম ইয়াছতাজীবূলাহুম ওয়া জা‘আলনা-বাইনাহুম মাওবিকা-।

এবং সেই দিনকে স্মরণ কর, যখন আল্লাহ (মুশরিকদেরকে) বলবেন, তোমরা যাদেরকে আমার প্রভুত্বের শরীক মনে করছ তাদেরকে ডাক। সুতরাং তারা ডাকবে। কিন্তু তারা তাদেরকে কোন সাড়া দেবে না। আমি তাদের মাঝখানে রেখে দেব এক ধ্বংসকর অন্তরাল। ৩৫

তাফসীরঃ

৩৫. অর্থাৎ সেই ভ্রান্ত উপাস্য ও তার উপাসকদের মাঝখানে রেখে দেব এমন এক ধ্বংস গহ্বরের প্রতিবন্ধক যদ্দরুণ তারা একে অন্যের সাথে মিলিতও হতে পারবে না। সে প্রতিবন্ধক হল জাহান্নাম। আল্লাহ তাআলা আমাদের রক্ষা করুন। -অনুবাদক
৫৩

وَرَاَ الۡمُجۡرِمُوۡنَ النَّارَ فَظَنُّوۡۤا اَنَّہُمۡ مُّوَاقِعُوۡہَا وَلَمۡ یَجِدُوۡا عَنۡہَا مَصۡرِفًا ٪ ٥٣

ওয়া রাআল মুজরিমূনান্না-রা ফাজাননূআন্নাহুম মুওয়া-কি‘ঊহা-ওয়ালাম ইয়াজিদূ‘আনহা- মাসরিফা-।

অপরাধীরা আগুন দেখে বুঝতে পারবে, তাদেরকে তাতে পতিত হতে হবে। তারা তা থেকে পরিত্রাণের কোন পথ পাবে না।
৫৪

وَلَقَدۡ صَرَّفۡنَا فِیۡ ہٰذَا الۡقُرۡاٰنِ لِلنَّاسِ مِنۡ کُلِّ مَثَلٍ ؕ وَکَانَ الۡاِنۡسَانُ اَکۡثَرَ شَیۡءٍ جَدَلًا ٥٤

ওয়া লাকাদ সাররাফনা-ফী হা-যাল কুরআ-নি লিন্না-ছি মিন কুল্লি মাছালিওঁ ওয়া কানাল ইনছা-নুআকছারা শাইয়িন জাদালা-।

আমি মানুষের উপকারার্থে এই কুরআনে সব রকম বিষয়বস্তু বিভিন্নভাবে বিবৃত করেছি, কিন্তু মানুষ সর্বাপেক্ষা বেশি তর্কপ্রিয়।
৫৫

وَمَا مَنَعَ النَّاسَ اَنۡ یُّؤۡمِنُوۡۤا اِذۡ جَآءَہُمُ الۡہُدٰی وَیَسۡتَغۡفِرُوۡا رَبَّہُمۡ اِلَّاۤ اَنۡ تَاۡتِیَہُمۡ سُنَّۃُ الۡاَوَّلِیۡنَ اَوۡ یَاۡتِیَہُمُ الۡعَذَابُ قُبُلًا ٥٥

ওয়ামা-মানা‘আন্না-ছা আইঁ ইউ’মিনূ ইয জাআহুমুল হুদা-ওয়াইয়াছতাগফিরূরাব্বাহুম ইল্লাআন তা’তিয়াহুম ছুন্নাতুল আওওয়ালীনা আও ইয়া’তিয়াহুমুল ‘আযা-বুকুবুলা-।

মানুষের কাছে যখন হিদায়াত এসে গেছে, তখন ঈমান আনয়ন ও নিজেদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা হতে তাদেরকে এ ছাড়া (অর্থাৎ, এই দাবী ছাড়া) অন্য কিছুই বিরত রাখছে না যে, তাদের ক্ষেত্রেও পূর্ববর্তীদের অনুরূপ ঘটনা ঘটুক অথবা আযাব তাদের একেবারে সামনে এসে যাক। ৩৬

তাফসীরঃ

৩৬. অর্থাৎ, তাদের সামনে সব রকম দলীল-প্রমাণ চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এখন নিজেদের কুফরের পক্ষে তাদের হাতে এছাড়া আর কোন প্রমাণ অবশিষ্ট নেই যে, তারা নবীর কাছে দাবী করবে, পূর্ববর্তী জাতিসমূহকে যেমন শাস্তি দেওয়া হয়েছে, আমরা ভুল পথে থাকলে আমাদের উপরও সে রকম শাস্তি নিয়ে এসো। সুতরাং তারা এ দাবীই করেছিল। আল্লাহ তাআলা সামনে এর উত্তর দিয়েছেন যে, নিজ এখতিয়ারে শাস্তি অবতীর্ণ করা নবীর কাজ নয়। নবীর কাজ কেবল মানুষকে শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করা। আর আল্লাহ তাআলার নীতি হল, অবাধ্যদেরকে চটজলদি শাস্তি না দেওয়া; বরং তিনি নিজ দয়ায় তাদেরকে অবকাশ দেন, যাতে সেই অবকাশের ভেতর যাদের ঈমান আনার তারা ঈমান আনতে পারে। হ্যাঁ, অবাধ্যদেরকে শাস্তি দানের জন্য তিনি একটা সময় ঠিকই স্থির করে রেখেছেন। সেই সময় যখন আসবে, তখন আর তাদের শাস্তি টলানো যাবে না।
৫৬

وَمَا نُرۡسِلُ الۡمُرۡسَلِیۡنَ اِلَّا مُبَشِّرِیۡنَ وَمُنۡذِرِیۡنَ ۚ وَیُجَادِلُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِالۡبَاطِلِ لِیُدۡحِضُوۡا بِہِ الۡحَقَّ وَاتَّخَذُوۡۤا اٰیٰتِیۡ وَمَاۤ اُنۡذِرُوۡا ہُزُوًا ٥٦

ওয়ামা-নুরছিলুল মুরছালীনা ইল্লা-মুবাশশিরীনা ওয়া মুনযিরীনা ওয়া ইউজা-দিলুল্লাযীনা কাফারূবিলবা-তিলি লিইউদহিদূ বিহিল হাক্কা ওয়াত্তাখাযূআ-য়া-তী ওয়ামাউনযিরূ হুঝুওয়া-।

আমি রাসূলগণকে তো পাঠাই কেবল (মুমিনদের জন্য) সুসংবাদদাতা এবং (কাফিরদের জন্য) সতর্ককারীরূপে। যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা মিথ্যাকে আশ্রয় করে বিতণ্ডায় লিপ্ত হয় তার দ্বারা সত্যকে টলিয়ে দেওয়ার লক্ষে। তারা আমার আয়াতসমূহ এবং যে সম্পর্কে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে তাকে ঠাট্টার বিষয় বানিয়ে নিয়েছে।
৫৭

وَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنۡ ذُکِّرَ بِاٰیٰتِ رَبِّہٖ فَاَعۡرَضَ عَنۡہَا وَنَسِیَ مَا قَدَّمَتۡ یَدٰہُ ؕ اِنَّا جَعَلۡنَا عَلٰی قُلُوۡبِہِمۡ اَکِنَّۃً اَنۡ یَّفۡقَہُوۡہُ وَفِیۡۤ اٰذَانِہِمۡ وَقۡرًا ؕ وَاِنۡ تَدۡعُہُمۡ اِلَی الۡہُدٰی فَلَنۡ یَّہۡتَدُوۡۤا اِذًا اَبَدًا ٥٧

ওয়া মান আজলামুমিম্মান যুক্কিরা বিআ-য়া-তি রাব্বিহী ফাআ‘রাদা‘আনহা-ওয়া নাছিয়া মা-কাদ্দামাত ইয়াদা-হু ইন্না-জা‘আলনা-‘আলা-কুলূবিহিম আকিন্নাতান আইঁ ইয়াফকাহূহু ওয়া ফীআ-যা-নিহিম ওয়াকরাওঁ ওয়া ইন তাদ‘উহুম ইলাল হুদা-ফালাইঁ ইয়াহতাদূ ইযান আবাদা-।

সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় জালেম আর কে হতে পারে, যাকে তার প্রতিপালকের আয়াতসমূহের মাধ্যমে উপদেশ দেওয়া হলে সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং নিজ কৃতকর্মসমূহ ভুলে যায়? বস্তুত আমি (তাদের কৃতকর্মের কারণে) তাদের অন্তরের উপর ঘেরাটোপ লাগিয়ে দিয়েছি, যদ্দরুণ তারা এ কুরআন বুঝতে পারে না এবং তাদের কানে ছিপি এঁটে দিয়েছি। সুতরাং তুমি তাদেরকে হিদায়াতের দিকে ডাকলেও তারা কখনও সৎপথে আসবে না।
৫৮

وَرَبُّکَ الۡغَفُوۡرُ ذُو الرَّحۡمَۃِ ؕ لَوۡ یُؤَاخِذُہُمۡ بِمَا کَسَبُوۡا لَعَجَّلَ لَہُمُ الۡعَذَابَ ؕ بَلۡ لَّہُمۡ مَّوۡعِدٌ لَّنۡ یَّجِدُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖ مَوۡئِلًا ٥٨

ওয়া রাব্বুকাল গাফূরু যুর রাহমাতি লাও ইউআ-খিযুহুম বিমা-কাছাবূলা‘আজ্জালা লাহুমুল ‘আযা-বা বাল্লাহুম মাও‘ইদুল লাইঁ ইয়াজিদূমিন দূ নিহী মাওইলা-।

তোমার প্রতিপালক অতি ক্ষমাশীল, দয়াময়। তিনি যদি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও করতে চাইতেন, তবে তাদেরকে অচিরেই শাস্তি দিতেন, কিন্তু তাদের জন্য রয়েছে এক স্থিরীকৃত সময়, যা থেকে নিষ্কৃতি লাভের জন্য তারা কোন আশ্রয়স্থল পাবে না।
৫৯

وَتِلۡکَ الۡقُرٰۤی اَہۡلَکۡنٰہُمۡ لَمَّا ظَلَمُوۡا وَجَعَلۡنَا لِمَہۡلِکِہِمۡ مَّوۡعِدًا ٪ ٥٩

ওয়া তিলকাল কুরা আহলাকনা-হুম লাম্মা-জালামূওয়া জা‘আলনা- লিমাহলিকিহিম মাও‘ইদা-।

ওইসব জনপদ (যা তোমাদের সামনে রয়েছে) আমি তাদেরকে ধ্বংস করে দেই, যখন তারা জুলুম অবলম্বন করল। তাদের ধ্বংসের জন্য (-ও) আমি একটি সময় স্থির করেছিলাম।
৬০

وَاِذۡ قَالَ مُوۡسٰی لِفَتٰىہُ لَاۤ اَبۡرَحُ حَتّٰۤی اَبۡلُغَ مَجۡمَعَ الۡبَحۡرَیۡنِ اَوۡ اَمۡضِیَ حُقُبًا ٦۰

ওয়া ইযকা-লা মূছা-লিফাতা-হুলাআবরাহুহাত্তাআবলুগা মাজমা‘আল বাহরাইনি আও আমদিয়া হুকুবা-।

এবং (সেই সময়ের বৃত্তান্ত শোন) যখন মূসা তার যুবক (শিষ্য)কে বলেছিল, আমি দুই সাগরের সঙ্গমস্থলে না পৌঁছা পর্যন্ত চলতেই থাকব অথবা আমি চলতে থাকব বছরের পর বছর। ৩৭

তাফসীরঃ

৩৭. এখান থেকে ৮২ নং আয়াত পর্যন্ত হযরত খাজির আলাইহিস সালামের সাথে হযরত মূসা আলাইহিস সালামের সাক্ষাতকারের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি দীর্ঘ হাদীসে এ ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে বিবৃত করেছেন। বুখারী শরীফে কয়েকটি সনদে তা উদ্ধৃত হয়েছে। হাদীসটির সারসংক্ষেপ এস্থলে উল্লেখ করা হচ্ছে একবার কেউ হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞেস করল, বর্তমান বিশ্বে সর্বাপেক্ষা বড় আলেম কে? যেহেতু প্রত্যেক নবী তার সমকালীন বিশ্বে দীনের সর্বাপেক্ষা বড় আলেম হয়ে থাকেন, তাই হযরত মূসা আলাইহিস সালাম জবাব দিলেন, আমিই সবচেয়ে বড় আলেম। এ জবাব আল্লাহ তাআলার পছন্দ হল না। আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে অবহিত করা হল যে, প্রশ্নের সঠিক উত্তর ছিল আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন কে সবচেয়ে বড় আলেম। এতদসঙ্গে আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা আলাইহিস সালামের সামনে জ্ঞানের এমন এক দিগন্ত উন্মোচিত করতে চাইলেন, যে সম্পর্কে এ যাবৎকাল তার কোন ধারণা ছিল না। সুতরাং তাঁকে হুকুম দেওয়া হল, তিনি যেন হযরত খাজির আলাইহিস সালামের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। পথ সম্পর্কে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হল যে, যেখানে দু’টি সাগর মিলিত হয়েছে, সেটাই হবে তার গন্তব্যস্থল। আর সেখানে একটা জায়গা এমন আসবে, যেখানে তাঁর সঙ্গে নেওয়া মাছ হারিয়ে যাবে। মাছ হারানোর সে জায়গাতেই হযরত খাজির আলাইহিস সালামের সাক্ষাত পাওয়া যাবে। সুতরাং হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তার যুবক শিষ্য হযরত ইউশা আলাইহিস সালামকে সঙ্গে নিয়ে, যিনি পরবর্তীকালে নবী হয়েছিলেন, সফর শুরু করে দিলেন। এর পরের ঘটনা কুরআন মাজীদেই আসছে। প্রকাশ থাকে যে, হযরত মূসা আলাইহিস সালামের এ সফরকে সাধারণ কোন ভ্রমণের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। তাঁর এ সফরের ভেতর আল্লাহ তাআলার বিশেষ উদ্দেশ্য নিহিত ছিল। একটা উদ্দেশ্য তো অতি পরিষ্কার। আল্লাহ তাআলা এর দ্বারা শিক্ষা দিতে চেয়েছেন, নিজেকে নিজে সকলের বড় আলেম বলা কারও পক্ষেই শোভা পায় না। ইলম বা জ্ঞান হচ্ছে কুল-কিনারাহীন এক অথৈ সাগর। এর কোন দিক সম্পর্কে কে বেশি জানে তা বলা সম্ভব নয়। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল, আল্লাহ তাআলা নিজ জ্ঞান ও হিকমত দ্বারা মহা বিশ্ব কিভাবে চালাচ্ছেন তার একটা ঝলক হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে চাক্ষুষ দেখিয়ে দেওয়া। মানুষ তার প্রাত্যহিক জীবনে দুনিয়ায় বহু ঘটনা ঘটতে দেখে। অনেক সময় এমন কাণ্ড-কারখানাও তার চোখে পড়ে যার কোন ব্যাখ্যা সে খুঁজে পায় না এবং যার উদ্দেশ্য তার বুঝে আসে না। অথচ প্রতিটি ঘটনার ভেতরই আল্লাহ তাআলার কোন না কোন হিকমত নিহিত থাকে। মানুষের দৃষ্টি যেহেতু সীমাবদ্ধ তাই সে অনেক সময় তাঁর রহস্য বুঝতে সক্ষম হয় না। কিন্তু যেই সর্বশক্তিমান মালিকের হাতে বিশ্ব জগতের বাগডোর তিনি জানেন কখন কী ঘটনা ঘটা উচিত। ঘটনাটির শেষে এ বিষয়ে আরও আলোকপাত করা হবে ইনশাআল্লাহ। (৪৬ নং টীকা দেখুন।)
৬১

فَلَمَّا بَلَغَا مَجۡمَعَ بَیۡنِہِمَا نَسِیَا حُوۡتَہُمَا فَاتَّخَذَ سَبِیۡلَہٗ فِی الۡبَحۡرِ سَرَبًا ٦١

ফালাম্মা-বালাগা-মাজমা‘আ বাইনিহিমা-নাছিয়া-হুতাহুমা-ফাত্তাখাযা ছাবীলাহূফিল বাহরি ছারাবা-।

সুতরাং তারা যখন দুই সাগরের সঙ্গমস্থলে পৌঁছল, তখন উভয়েই তাদের মাছের কথা ভুলে গেল। সেটি সাগরের ভেতর সুড়ঙ্গের মত পথ তৈরি করে নিল। ৩৮

তাফসীরঃ

৩৮. হযরত মূসা আলাইহিস সালাম এক জায়গায় পৌঁছে একটি পাথরের চাঁইয়ের উপর কিছুক্ষণের জন্য ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, এ সময় সঙ্গে আনা মাছটি ঝুড়ির ভেতর থেকে বের হয়ে গেল এবং ঘেঁষড়াতে ঘেঁষড়াতে সাগরে গিয়ে পড়ল। যেখানে সেটি পড়েছিল, সেখানে পানিতে সুড়ঙ্গের মত তৈরি হয়ে গেল এবং তার ভেতর সেটি অদৃশ্য হয়ে গেল। হযরত ইউশা আলাইহিস সালাম তখন জেগেই ছিলেন, তিনি মাছটির এ বিস্ময়কর কাণ্ড দেখতে পাচ্ছিলেন, কিন্তু হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ঘুমিয়ে থাকায় তিনি তাঁকে জাগানো সমীচীন মনে করলেন না। তারপর যখন হযরত মূসা আলাইহিস সালামের ঘুম ভাঙল এবং সামনে এগিয়ে চললেন, তখনও হযরত ইউশা আলাইহিস সালাম তাঁকে সে কথা জানাতে ভুলে গেলেন। তাঁর সে কথা মনে পড়ল যখন হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তাঁর কাছে নাশতা চাইলেন।
৬২

فَلَمَّا جَاوَزَا قَالَ لِفَتٰىہُ اٰتِنَا غَدَآءَنَا ۫ لَقَدۡ لَقِیۡنَا مِنۡ سَفَرِنَا ہٰذَا نَصَبًا ٦٢

ফালাম্মা- জা-ওয়াঝা-কা-লা লিফাতা-হুআ-তিনা- গাদাআনা-লাকাদ লাকীনা মিন ছাফারিনা-হা-যা-নাসাবা-।

তারপর তারা যখন সে স্থান অতিক্রম করে গেল, তখন মূসা তার (সঙ্গী) যুবককে বলল, আমাদের নাশতা লও। সত্যি বলতে কি, এ সফরে আমরা বড় ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।
৬৩

قَالَ اَرَءَیۡتَ اِذۡ اَوَیۡنَاۤ اِلَی الصَّخۡرَۃِ فَاِنِّیۡ نَسِیۡتُ الۡحُوۡتَ ۫ وَمَاۤ اَنۡسٰنِیۡہُ اِلَّا الشَّیۡطٰنُ اَنۡ اَذۡکُرَہٗ ۚ وَاتَّخَذَ سَبِیۡلَہٗ فِی الۡبَحۡرِ ٭ۖ عَجَبًا ٦٣

কা-লা আরাআইতা ইয আওয়াইনা ইলাসসাখরাতি ফাইন্নী নাছীতুল হূতা ওয়ামা আনছা-নীহু ইল্লাশশাইতা-নুআন আযকুরাহূ ওয়াত্তাখাযা ছাবীলাহূফিল বাহরি ‘আজাবা-।

সে বলল, আপনি কি জানেন (কী আজব কাণ্ড ঘটেছে?) আমরা যখন পাথরের চাঁইয়ের উপর বিশ্রাম করছিলাম, তখন মাছটির কথা (আপনাকে বলতে) ভুলে গিয়েছিলাম। সেটির কথা বলতে শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল। আর সেটি (অর্থাৎ মাছটি) অত্যন্ত আশ্চর্যজনকভাবে সাগরে নিজের পথ করে নিয়েছিল।
৬৪

قَالَ ذٰلِکَ مَا کُنَّا نَبۡغِ ٭ۖ  فَارۡتَدَّا عَلٰۤی اٰثَارِہِمَا قَصَصًا ۙ ٦٤

কা-লা যা-লিকা মা-কুন্না-নাবগি ফারতাদ্দা-‘আলাআ-ছা-রিহিমা-কাসাসা-।

মূসা বলল, আমরা তো এটাই সন্ধান করছিলাম। ৩৯ অতএব তারা তাদের পদচিহ্ন ধরে ফিরে চলল।

তাফসীরঃ

৩৯. হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে আলামত বলে দেওয়া হয়েছিল এটাই যে, যেখানে মাছটি হারিয়ে যাবে, সেখানেই হযরত খাজির আলাইহিস সালামের সাথে সাক্ষাত হবে। তাই হযরত ইউশা আলাইহিস সালাম তো ঘটনাটি তাঁকে ভয়ে-ভয়ে শুনিয়েছিলেন, কিন্তু হযরত মূসা আলাইহিস সালাম শুনে অত্যন্ত খুশী হলেন। তিনি যে গন্তব্যের সন্ধান পেয়ে গেছেন!
৬৫

فَوَجَدَا عَبۡدًا مِّنۡ عِبَادِنَاۤ اٰتَیۡنٰہُ رَحۡمَۃً مِّنۡ عِنۡدِنَا وَعَلَّمۡنٰہُ مِنۡ لَّدُنَّا عِلۡمًا ٦٥

ফাওয়াজাদা- ‘আবদাম মিন ইবা-দিনা আ-তাইনা-হুরাহমাতাম মিন ‘ইনদিনা ওয়া ‘আল্লামনা-হু মিল্লাদুন্না-‘ইল মা-।

অনন্তর তারা আমার বান্দাদের মধ্য হতে এক বান্দার সাক্ষাত পেল, যাকে আমি আমার বিশেষ রহমত দান করেছিলাম এবং আমার পক্ষ হতে শিক্ষা দিয়েছিলাম এক বিশেষ জ্ঞান। ৪০

তাফসীরঃ

৪০. বুখারী শরীফের একটি হাদীস দ্বারা জানা যায়, ইনিই ছিলেন হযরত খাজির আলাইহিস সালাম। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম যখন পাথরের চাঁইটির কাছে ফিরে আসলেন, তখন তিনি সেখানে চাদর মুড়ি দিয়ে শোওয়া ছিলেন। তাঁকে যে বিশেষ জ্ঞান দেওয়ার কথা আয়াতে বলা হয়েছে, তা হল সৃষ্টি জগতের গুপ্ত রহস্য সংক্রান্ত জ্ঞান, যার ব্যাখ্যা এ ঘটনার শেষে আসছে।
৬৬

قَالَ لَہٗ مُوۡسٰی ہَلۡ اَتَّبِعُکَ عَلٰۤی اَنۡ تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمۡتَ رُشۡدًا ٦٦

কা-লা লাহূমূছা-হাল আত্তাবি‘উকা ‘আলাআন তু‘আলিলমানি মিম্মা-‘উলিলমতা রুশদা-।

মূসা তাকে বলল, আমি কি এই লক্ষে আপনার অনুগমন করতে পারি যে, আপনাকে যে কল্যাণকর জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তা থেকে খানিকটা আমাকে শেখাবেন? ৪১

তাফসীরঃ

৪১. হযরত মূসা আলাইহিস সালামের পক্ষ থেকে এটা ছিল অত্যন্ত বিনীত অনুরোধ। এর দ্বারা শিক্ষা পাওয়া যায়, ছাত্রের কর্তব্য উসতাযের সাথে সর্বদা বিনীতভাবে কথা বলা ও বিনীত আচরণ করা। এক বর্ণনায় আছে, تواضعوالمن تعلمون منه ‘যার কাছে শিক্ষালাভ কর, তার সাথে বিনয় অবলম্বন কর’। -অনুবাদক
৬৭

قَالَ اِنَّکَ لَنۡ تَسۡتَطِیۡعَ مَعِیَ صَبۡرًا ٦٧

কা-লা ইন্নাকা লান তাছতাতী‘আ মা‘ইয়া সাবরা-।

সে বলল, আমি নিশ্চিত আমার সঙ্গে থাকার ধৈর্য আপনি রক্ষা করতে পারবেন না।
৬৮

وَکَیۡفَ تَصۡبِرُ عَلٰی مَا لَمۡ تُحِطۡ بِہٖ خُبۡرًا ٦٨

ওয়া কাইফা তাসবিরু ‘আলা-মা-লাম তুহিতবিহী খুবরা-।

আর যে বিষয়ে আপনি পরিপূর্ণ জ্ঞাত নন, তাতে আপনি ধৈর্য রাখবেনই বা কিভাবে। ৪২

তাফসীরঃ

৪২. বুখারী শরীফের হাদীসে আছে, হযরত খাজির আলাইহিস সালাম হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে একথাও বলেছিলেন যে, আল্লাহ তাআলা আমাকে এমন এক জ্ঞান দিয়েছেন, যে জ্ঞান আপনার নেই অর্থাৎ, সৃষ্টি জগতের গুপ্ত রহস্য সংক্রান্ত জ্ঞান। আবার আপনাকে এমন জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, যা আমার নেই অর্থাৎ, শরীয়তের জ্ঞান।
৬৯

قَالَ سَتَجِدُنِیۡۤ اِنۡ شَآءَ اللّٰہُ صَابِرًا وَّلَاۤ اَعۡصِیۡ لَکَ اَمۡرًا ٦٩

কা-লা ছাতাজিদুনীইন শাআল্লা-হু সা-বিরাওঁ ওয়ালাআ‘সী লাকা আমরা-।

মূসা বলল, ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলই পাবেন এবং আমি আপনার কোন হুকুম অমান্য করব না।
৭০

قَالَ فَاِنِ اتَّبَعۡتَنِیۡ فَلَا تَسۡـَٔلۡنِیۡ عَنۡ شَیۡءٍ حَتّٰۤی اُحۡدِثَ لَکَ مِنۡہُ ذِکۡرًا ٪ ٧۰

কা-লা ফাইনিত তাবা‘তানী ফালা-তাছআলনী ‘আন শাইয়িন হাত্তাউহদিছালাকামিনহু যিকরা-।

সে বলল, আচ্ছা! আপনি যদি আমার সঙ্গে চলেন, তবে যতক্ষণ না আমি নিজে কোন বিষয় আপনাকে খুলে বলি, ততক্ষণ পর্যন্ত সে বিষয়ে আপনি আমাকে কোন প্রশ্ন করবেন না।
৭১

فَانۡطَلَقَا ٝ حَتّٰۤی اِذَا رَکِبَا فِی السَّفِیۡنَۃِ خَرَقَہَا ؕ قَالَ اَخَرَقۡتَہَا لِتُغۡرِقَ اَہۡلَہَا ۚ لَقَدۡ جِئۡتَ شَیۡئًا اِمۡرًا ٧١

ফানতালাকা-হাত্তাইযা-রাকিবা-ফিছছাফীনাতি খারাকাহা- কা-লা আখারাকতাহা-লিতুগরিকা আহলাহা- লাকাদ জি’তা শাইআন ইমরা-।

তারপর তারা চলতে শুরু করল। এক পর্যায়ে তারা যখন একটি নৌকায় চড়ল, তখন সে নৌকাটি ফুঁটো করে দিল। ৪৩ মূসা বলল, আরে! আপনি এটি ফুঁটো করে দিলেন এর যাত্রীদেরকে ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য? আপনি তো একটা বিপজ্জনক কাজ করলেন?

তাফসীরঃ

৪৩. বুখারী শরীফের হাদীসে আছে, হযরত খাজির আলাইহিস সালাম নৌকার একটি তক্তা খুলে ফেলেছিলেন, যাতে সেটিতে এক বিশাল ছিদ্র হয়ে যায়।
৭২

قَالَ اَلَمۡ اَقُلۡ اِنَّکَ لَنۡ تَسۡتَطِیۡعَ مَعِیَ صَبۡرًا ٧٢

কা-লা আলাম আকুল ইন্নাকা লান তাছতাতী‘আ মা‘ইয়া সাবরা-।

সে বলল, আমি কি বলিনি আমার সঙ্গে থেকে আপনি ধৈর্য রাখতে পারবেন না?
৭৩

قَالَ لَا تُؤَاخِذۡنِیۡ بِمَا نَسِیۡتُ وَلَا تُرۡہِقۡنِیۡ مِنۡ اَمۡرِیۡ عُسۡرًا ٧٣

কা-লা লা-তুআখিযনী বিমা -নাছীতুওয়ালা-তুরহিকনী মিন আমরী ‘উছরা-।

মূসা বলল, আমার দ্বারা যে ভুল হয়ে গেছে, তার জন্য আমাকে ধরবেন না এবং আমার কাজকে বেশি কঠিন করবেন না।
৭৪

فَانۡطَلَقَا ٝ حَتّٰۤی اِذَا لَقِیَا غُلٰمًا فَقَتَلَہٗ ۙ قَالَ اَقَتَلۡتَ نَفۡسًا زَکِیَّۃًۢ بِغَیۡرِ نَفۡسٍ ؕ لَقَدۡ جِئۡتَ شَیۡئًا نُّکۡرًا ٧٤

ফানতালাকা-হাত্তাইযা-লাকিয়া-গুলা-মান ফাকাতালাহূকা-লা আকাতালতা নাফছান ঝাকিইইয়াতাম বিগাইরি নাফছিল লাকাদ জি’তা শাইআন নুকরা-।

অতঃপর তারা আবার চলতে শুরু করল। চলতে চলতে যখন একটি বালকের সঙ্গে তাদের সাক্ষাত হল তখন বালকটিকে সে হত্যা করে ফেলল। ৪৪ মূসা বলল, আপনি কি একটা নির্দোষ জীবন নাশ করলেন, যে কিনা কারও জীবন নাশ করেনি? আপনি খুবই অন্যায় কাজ করেছেন!

তাফসীরঃ

৪৪. বুখারী শরীফের উল্লিখিত হাদীসে আছে, বালকটি অন্যান্য বালকদের সাথে খেলায় লিপ্ত ছিল। হযরত খাজির আলাইহিস সালাম তার ধড় থেকে মাথা আলগা করে ফেললেন।
৭৫

قَالَ اَلَمۡ اَقُلۡ لَّکَ اِنَّکَ لَنۡ تَسۡتَطِیۡعَ مَعِیَ صَبۡرًا ٧٥

কা- লা আলাম আকুল্লাকা ইন্নাকা লান তাছতাতী‘আ মা‘ইয়া সাবরা-।

সে বলল, আমি কি আপনাকে বলিনি, আপনি আমার সাথে থাকার ধৈর্য রাখতে পারবেন না?
৭৬

قَالَ اِنۡ سَاَلۡتُکَ عَنۡ شَیۡءٍۭ بَعۡدَہَا فَلَا تُصٰحِبۡنِیۡ ۚ قَدۡ بَلَغۡتَ مِنۡ لَّدُنِّیۡ عُذۡرًا ٧٦

কা-লা ইন ছাআলতুকা ‘আন শাইয়িম বা‘দাহা-ফালা-তুসা-হিবনী কাদ বালাগতা মিল্লাদুন্নী ‘উযরা-।

মূসা বলল, এরপর যদি আপনাকে কোন কথা জিজ্ঞেস করি, তবে আপনি আমাকে আর সাথে রাখবেন না। নিশ্চয়ই আপনি আমার দিক থেকে ওজরের শেষ সীমায় পৌঁছে গেছেন।
৭৭

فَانۡطَلَقَا ٝ حَتّٰۤی اِذَاۤ اَتَیَاۤ اَہۡلَ قَرۡیَۃِۣ اسۡتَطۡعَمَاۤ اَہۡلَہَا فَاَبَوۡا اَنۡ یُّضَیِّفُوۡہُمَا فَوَجَدَا فِیۡہَا جِدَارًا یُّرِیۡدُ اَنۡ یَّنۡقَضَّ فَاَقَامَہٗ ؕ قَالَ لَوۡ شِئۡتَ لَتَّخَذۡتَ عَلَیۡہِ اَجۡرًا ٧٧

ফানতালাকা-হাত্তাইযাআতাইয়াআহলা কারইয়াতিনিছতাত‘আমা আহলাহা-ফাআবাওঁআইঁ ইউদাইয়িফূহুমা-ফাওয়াজাদা-ফীহা-জিদা-রাইঁ ইউরীদুআইঁ ইয়ানকাদ্দা ফাআকা-মাহূ কা-লা লাও শি’তা লাত্তাখাযতা ‘আলাইহি আজরা-।

অতঃপর তারা চলতে থাকল। চলতে চলতে যখন এক জনপদবাসীর কাছে পৌঁছল, তখন তাদের কাছে খাবার চাইল। কিন্তু জনপদবাসী তাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তারা সেখানে পতনোন্মুখ প্রাচীর দেখতে পেল। প্রাচীরটি সে খাড়া করে দিল। মূসা বলল, আপনি ইচ্ছা করলে এ কাজের জন্য কিছু পারিশ্রমিক নিতে পারতেন। ৪৫

তাফসীরঃ

৪৫. অর্থাৎ, এ জনপদের অধিবাসীরা আমাদেরকে মেহমানদারী করতে অস্বীকার করেছিল। এখন আপনি যে তাদের প্রাচীরটি মেরামত করে দিলেন, ইচ্ছা করলে তো এর জন্য কোন পারিশ্রমিক নিতে পারতেন, তাহলে আমরা তা দ্বারা আমাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করতে পারতাম।
৭৮

قَالَ ہٰذَا فِرَاقُ بَیۡنِیۡ وَبَیۡنِکَ ۚ سَاُنَبِّئُکَ بِتَاۡوِیۡلِ مَا لَمۡ تَسۡتَطِعۡ عَّلَیۡہِ صَبۡرًا ٧٨

কা-লা হা-যা-ফিরা-কুবাইনী ওয়া বাইনিকা ছাউনাব্বিউকা বিতা’বিলি মালাম তাছতাতি‘ ‘আলাইহি সাব রা-।

সে বলল, এবার আমার ও আপনার মধ্যে বিচ্ছেদের সময় এসে গেছে। সুতরাং যেসব বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধরতে পারেননি, এখন আমি আপনাকে তার রহস্য বলে দিচ্ছি।
৭৯

اَمَّا السَّفِیۡنَۃُ فَکَانَتۡ لِمَسٰکِیۡنَ یَعۡمَلُوۡنَ فِی الۡبَحۡرِ فَاَرَدۡتُّ اَنۡ اَعِیۡبَہَا وَکَانَ وَرَآءَہُمۡ مَّلِکٌ یَّاۡخُذُ کُلَّ سَفِیۡنَۃٍ غَصۡبًا ٧٩

আম্মাছ ছাফীনাতুফাকা-নাত লিমাছা-কীনা ইয়া‘মালূনা ফিল বাহরি ফাআরাততুআন আ‘ঈবাহা-ওয়া কা-না ওয়ারাআহুম মালিকুইঁ ইয়া‘খুযুকুল্লা ছাফীনাতিন গাসবা-।

নৌকাটির ব্যাপার তো এই, সেটি ছিল কয়েকজন গরীব লোকের, যারা সাগরে কাজ করত। আমি সেটিকে ত্রুটিযুক্ত করে দিতে চাইলাম। (কেননা) তাদের সামনে ছিল এক রাজা, যে বলপ্রয়োগে সব (ভালো) নৌকা কেড়ে নিত।
৮০

وَاَمَّا الۡغُلٰمُ فَکَانَ اَبَوٰہُ مُؤۡمِنَیۡنِ فَخَشِیۡنَاۤ اَنۡ یُّرۡہِقَہُمَا طُغۡیَانًا وَّکُفۡرًا ۚ ٨۰

ওয়া আম্মাল গুলা-মুফাকা-না আবাওয়া-হুমু’মিনাইনি ফাখাশীনাআইঁ ইউরহিকাহুমাতুগইয়া-নাওঁ ওয়া কুফরা-।

আর বালকটির ব্যাপার এই, তার পিতা-মাতা ছিল মুমিন। আমার আশঙ্কা হল, সে কিনা তাদেরকে অবাধ্যতা ও কুফরীতে ফাঁসিয়ে দেয়।
৮১

فَاَرَدۡنَاۤ اَنۡ یُّبۡدِلَہُمَا رَبُّہُمَا خَیۡرًا مِّنۡہُ زَکٰوۃً وَّاَقۡرَبَ رُحۡمًا ٨١

ফাআরাদনাআইঁ ইউবদিলাহুমা- রাব্বুহুমা- খাইরাম মিনহু ঝাকা-তাওঁ ওয়া আকারাবা রুহমা-।

তাই আমি চাইলাম তাদের প্রতিপালক যেন তাদের এই বালকটির পরিবর্তে এমন এক সন্তান দান করেন, যে পবিত্রতায় এর চেয়ে উৎকৃষ্ট এবং সদাচরণেও বেশি অগ্রগামী হবে।
৮২

وَاَمَّا الۡجِدَارُ فَکَانَ لِغُلٰمَیۡنِ یَتِیۡمَیۡنِ فِی الۡمَدِیۡنَۃِ وَکَانَ تَحۡتَہٗ کَنۡزٌ لَّہُمَا وَکَانَ اَبُوۡہُمَا صَالِحًا ۚ  فَاَرَادَ رَبُّکَ اَنۡ یَّبۡلُغَاۤ اَشُدَّہُمَا وَیَسۡتَخۡرِجَا کَنۡزَہُمَا ٭ۖ  رَحۡمَۃً مِّنۡ رَّبِّکَ ۚ  وَمَا فَعَلۡتُہٗ عَنۡ اَمۡرِیۡ ؕ  ذٰلِکَ تَاۡوِیۡلُ مَا لَمۡ تَسۡطِعۡ عَّلَیۡہِ صَبۡرًا ؕ٪ ٨٢

ওয়া আম্মাল জিদা-রু ফাকা-না লিগুলা-মাইনি ইয়াতীমাইনি ফিল মাদীনাতি ওয়া কা-না তাহতাহূকানঝুল্লাহুমা-ওয়া কা-না আবূহুমা-সা-লিহান ফাআরা-দা রাব্বুকা আইঁ ইয়াবলুগাআশুদ্দা হুমা-ওয়া ইয়াছতাখরিজা-কানঝাহুমা- রাহমাতাম মির রাব্বিকা ওয়ামা-ফা‘আলতুহূ‘আন আমরী যা-লিকা তা’বীলুমা-লাম তাছতি‘ ‘আলাইহি সাবরা-।

বাকি থাকল প্রাচীরটি। তো এটি ছিল এই শহরে বসবাসকারী দুই ইয়াতীমের। এর নিচে তাদের গুপ্তধন ছিল এবং তাদের পিতা ছিল একজন সৎলোক। সুতরাং আপনার প্রতিপালক চাইলেন ছেলে দু’টো প্রাপ্তবয়সে উপনীত হোক এবং নিজেদের গুপ্তধন বের করে নিক। এসব আপনার প্রতিপালকের রহমতেই ঘটেছে। আমি কোন কাজই মনগড়াভাবে করিনি। আপনি যেসব ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করতে পারেননি, এই হল তার ব্যাখ্যা। ৪৬

তাফসীরঃ

৪৬. হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে দিয়ে হযরত খাজির আলাইহিস সালামের সাথে সাক্ষাত করানো এবং এসব ঘটনা তাকে প্রত্যক্ষ করানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি বাস্তব সত্যের সাথে তাকে পরিচিত করানো। সে সত্যকে পরিষ্কার করে দেওয়ার লক্ষ্যেই কুরআন মাজীদ তাদের সাক্ষাতকারের ঘটনাটি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছে।অন্যের মালিকানায় তার অনুমতি ছাড়া কোনরূপ হস্তক্ষেপ করা ইসলামী শরীয়তে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েয। বিশেষত অন্যের মালিকানাধীন বস্তুর কোনরূপ ক্ষতিসাধন করার অনুমতি ইসলাম কাউকে দেয়নি। এমনকি সে ক্ষতি যদি মালিকের উপকার করার অভিপ্রায়েও হয়ে থাকে। কিন্তু কুরআন মাজীদ হযরত খাজির আলাইহিস সালামের যে ঘটনা বর্ণনা করেছে, আমরা তাতে অন্য রকম দৃশ্য দেখতে পাই। তিনি মালিকদের অনুমতি ছাড়াই নৌকার তক্তা খুলে ফেলেন। এমনিভাবে কোন নিরপরাধ লোককে হত্যা করা শরীয়তে একটি গুরুতর পাপ। বিশেষত কোন শিশুকে হত্যা করা তো যুদ্ধাবস্থায়ও জায়েয নয়। এমনকি যদি জানা থাকে সে শিশু বড় হয়ে দেশ ও দশের পক্ষে মুসিবতের কারণ হবে, তবুও এখনই তাকে হত্যা করা কোনক্রমেই বৈধ নয়। কিন্তু এতদসত্ত্বেও হযরত খাজির আলাইহিস সালাম একটি শিশুকে হত্যা করে ফেলেন। তাঁর এ কাজ দু’টি যেহেতু শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয ছিল না, তাই হযরত মূসা আলাইহিস সালামের পক্ষে চুপ থাকা সম্ভব হয়নি। তিনি সঙ্গে-সঙ্গেই আপত্তি জানিয়েছিলেন। প্রশ্ন হচ্ছে হযরত খাজির আলাইহিস সালাম এহেন শরীয়ত বিরোধী কাজ কিভাবে করলেন? এ প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য প্রথমে একটা বিষয় বুঝে নেওয়া জরুরি। বিশ্ব-জগতে যত ঘটনা ঘটে, আপাতদৃষ্টিতে আমাদের কাছে তা ভালো মনে হোক বা মন্দ, প্রকৃতপক্ষে তার সম্পর্ক এক অলক্ষ্য জগতের সাথে; এমন এক জগতের সাথে যা আমাদের চোখের আড়ালে। পরিভাষায় তাকে ‘তাকবীনী জগত’ বলে। সে জগত সরাসরি আল্লাহ তাআলার হিকমত এবং সৃজন ও বিনাশ সংক্রান্ত বিধানাবলী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কোন ব্যক্তি কতকাল জীবিত থাকবে, কখন তার মৃত্যু হবে, কতকাল সুস্থ থাকবে, কখন রোগাক্রান্ত হবে, তার পেশা কী হবে এবং তার মাধ্যমে সে কী পরিমাণ উপার্জন করবে, এবংবিধ যাবতীয় বিষয় সম্পাদন করার জন্য তিনি বিশেষ কর্মীবাহিনী নিযুক্ত করে রেখেছেন, যারা আমাদের অলক্ষ্যে থেকে আল্লাহ তাআলার এ জাতীয় হুকুম বাস্তবায়িত করেন। উদাহরণত, আল্লাহ তাআলার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যখন কোন ব্যক্তির মৃত্যুক্ষণ উপস্থিত হয়, তখন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মৃত্যুর ফিরিশতা তার ‘রূহ কবয’ (প্রাণ সংহার)-এর জন্য পৌঁছে যায়। সে যখন আল্লাহ তাআলার হুকুম পালনার্থে কারও মৃত্যু ঘটায়, তখন সে কোন অপরাধ করে না; বরং আল্লাহ তাআলার হুকুম তামিল করে মাত্র। কোন মানুষের কিন্তু অপর কোন মানুষের প্রাণনাশ করার অধিকার নেই, কিন্তু আল্লাহ তাআলা যেই ফিরিশতাকে এ কাজের জন্য নিযুক্ত করেছেন, তার পক্ষে এটা কোন অপরাধ নয়। বরং সম্পূর্ণ ন্যায়নিষ্ঠ আচরণ, যেহেতু সে আল্লাহ তাআলার হুকুম পালন করছে। আল্লাহ তাআলার তাকবীনী হুকুম কার্যকর করার জন্য সাধারণত ফিরিশতাদেরকেই নিযুক্ত করা হয়ে থাকে। কিন্তু তিনি চাইলে যে-কারও উপর এ ভার অর্পণ করতে পারেন। হযরত খাজির আলাইহিস সালাম যদিও মানুষ ছিলেন, কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁকে ফিরিশতাদের মত তাকবীনী জগতের ‘বার্তাবাহক’ বানিয়েছিলেন। তিনি যা-কিছু করেছিলেন আল্লাহ তাআলার তাকবীনী হুকুমের অধীনে করেছিলেন সুতরাং মৃত্যুর ফিরিশতা সম্পর্কে যেমন প্রশ্ন তোলা যায় না সে একজন নিরপরাধ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাল কেন কিংবা বলা যায় না যে, এ কাজ করে সে একটা অপরাধ করেছে, যেহেতু সে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এ কাজের জন্য আদিষ্ট ছিল, তেমনিভাবে হযরত খাজির আলাইহিস সালামের প্রতিও তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণে কোন আপত্তি তোলা যাবে না। কেননা তিনিও নৌকাটিতে খুঁত সৃষ্টি করা ও শিশুটিকে হত্যা করার কাজে আল্লাহ তাআলার তাকবীনী হুকুমের দ্বারা আদিষ্ট ছিলেন। ফলে তাঁর সে কাজ কোন অপরাধ ছিল না। কিন্তু আমাদের ব্যাপার ভিন্ন। আমরা দুনিয়ায় শরয়ী বিধানাবলীর অধীন। আমাদেরকে তাকবীনী জগতের কোন জ্ঞানও দেওয়া হয়নি এবং সেই জগত সম্পর্কিত কোন দায়িত্বও আমাদের উপর অর্পিত হয়নি। আমরা দৃশ্যমান জগতে বাস করি, জাগ্রত জীবনে বিচরণ করি। চাক্ষুষ যা দেখতে পাই তাকে কেন্দ্র করেই আমাদের আবর্তন। তাই আমাদেরকে যেসব বিধান দেওয়া হয়েছে, তা দৃশ্যজগত ও চাক্ষুষ কার্যাবলীর সাথেই সম্পৃক্ত। তাকে ‘শরয়ী হুকুম’ বা শরীয়ত বলে। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম এই চাক্ষুষ ও জাগ্রত জগতের নবী ছিলেন। তাকে এক শরীয়ত দেওয়া হয়েছিল। তিনি তার অধীন ছিলেন। তাই তাঁর পক্ষে না হযরত খাজির আলাইহিস সালামের কর্মকাণ্ড দেখে চুপ থাকা সম্ভব হয়েছে, আর না তিনি পরবর্তীতে তাঁর সঙ্গে সফর অব্যাহত রাখতে পেরেছেন। পর পর ব্যতিক্রমধর্মী তিনটি ঘটনা দেখে তিনি বুঝে ফেলেছেন হযরত খাজির আলাইহিস সালামের কর্মক্ষেত্র তাঁর নিজের কর্মক্ষেত্র থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং তাঁর পক্ষে তাঁর সঙ্গে চলা সম্ভব নয়। তবে তাঁর সঙ্গে আর থাকা সম্ভব না হলেও, এ ঘটনার মাধ্যমে হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে খোলা চোখে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিশ্বজগতে যা-কিছু ঘটছে তার পেছনে আল্লাহ তাআলার অপার হিকমত সক্রিয় রয়েছে। কোন ঘটনার রহস্য ও তাৎপর্য যদি খুঁজে পাওয়া না যায়, তবে তার ভিত্তিতে আল্লাহ তাআলার ফায়সালা সম্পর্কে কোন আপত্তি তোলার সুযোগ আমাদের নেই। কেননা বিষয়টা যেহেতু তাকবীনী জগতের, তাই এর রহস্য উন্মোচনও সে জগতেই হতে পারে, কিন্তু সে জগত তো আমাদের চোখের আড়ালে। দৈনন্দিন জীবনে এমন বহু ঘটনা আমাদের চোখে পড়ে যা আমাদের অন্তর ব্যথিত করে। অনেক সময় নিরীহ-নিরপরাধ লোককে নিগৃহীত হতে দেখে আমাদের অন্তরে নানা সংশয় দেখা দেয়, যা নিরসনের কোন দাওয়াই আমাদের হাতে ছিল না। আল্লাহ তাআলা হযরত খাজির আলাইহিস সালামের মাধ্যমে তাকবীনী জগতের রঙ্গমঞ্চ থেকে খানিকটা পর্দা সরিয়ে এক ঝলক তার দৃশ্য দেখিয়ে দিলেন এবং এভাবে মুমিনের অন্তরে যাতে এরূপ সংশয় সৃষ্টি হতে না পারে তার ব্যবস্থা করে দিলেন। স্মরণ রাখতে হবে তাকবীনী জগত এক অদৃশ্য জগত এবং তার কর্মীগণ আমাদের চোখের আড়াল। হযরত খাজির আলাইহিস সালামও অদৃশ্যই ছিলেন। তাকবীনী জগতের খানিকটা দৃশ্য দেখানোর লক্ষ্যে হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে ওহীর মাধ্যমে তাঁর সন্ধান দেওয়া হয়েছিল। এখন যেহেতু ওহীর দরজা বন্ধ, তাই এখন কারও পক্ষে নিশ্চিতভাবে তাকবীনী জগতের কোন কর্মীর সন্ধান ও সাক্ষাত লাভ সম্ভব নয়। এমনিভাবে দৃশ্যমান জগতের কোন ব্যক্তির পক্ষে এ দাবী করারও অবকাশ নেই যে, সে তাকবীনী জগতের একজন দায়িত্বশীল এবং সেই জগতের বিভিন্ন ক্ষমতা তার উপর ন্যস্ত আছে। কাজেই হযরত খাজির আলাইহিস সালামের ঘটনাকে ভিত্তি করে যারা শরীয়তের বিধি-বিধানকে স্থগিত করা বা তার বিপরীত কাজকে বৈধ সাব্যস্ত করার চেষ্টা করছে, নিঃসন্দেহে তারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত এবং তারা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টির ঘৃণ্য তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। কোন কোন নামধারী দরবেশ তাসাওউফের নাম দিয়ে বলে থাকে, ‘শরীয়তের বিধান কেবল স্থূলদর্শী লোকদের জন্য, আমরা তা থেকে ব্যতিক্রম’। নিঃসন্দেহে এটা চরম পথভ্রষ্টতা। এখন শরীয়তের বিধান সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। কারও কাছে এমন কোন দলীল নেই, যার বলে সে শরীয়তের বিধান থেকে ব্যতিক্রম থাকতে পারে।
৮৩

وَیَسۡـَٔلُوۡنَکَ عَنۡ ذِی الۡقَرۡنَیۡنِ ؕ  قُلۡ سَاَتۡلُوۡا عَلَیۡکُمۡ مِّنۡہُ ذِکۡرًا ؕ ٨٣

ওয়া ইয়াছআলূনাকা আন যিল কারনাইনি কুল ছাআতলূ‘আলাইকুম মিনহু যিকরা-।

তারা তোমাকে যুলকারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। ৪৭ বলে দাও, ‘আমি তার কিছুটা বৃত্তান্ত তোমাদেরকে পড়ে শোনাচ্ছি।

তাফসীরঃ

৪৭. সূরাটির পরিচিতিতে বলা হয়েছে, মুশরিকগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তিনটি প্রশ্ন করেছিল। একটি প্রশ্ন ছিল, এক ব্যক্তি পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সারা পৃথিবী ভ্রমণ করেছিল। কে সেই ব্যক্তি এবং কী তার বৃত্তান্ত? এবার তাদের এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হচ্ছে। কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে, সেই ব্যক্তি নাম ছিল ‘যুলকারনাইন’। ‘যুলকারনাইন’-এর শাব্দিক অর্থ দুই শিং-বিশিষ্ট। এটা এক বাদশাহর উপাধি। এ উপাধির কারণ অজ্ঞাত। কুরআন মাজীদে এ বাদশাহর পরিচয় এবং তার শাসনকাল সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি। তবে আমাদের সমকালীন ঐতিহাসিক ও গবেষকদের অধিকাংশেই মনে করেন, ইনি ছিলেন ইরানের সম্রাট ‘সাইরাস’ [কায়খুসরূ. মৃ. খৃ, পূ. ৫৩৯] যিনি বনী ইসরাঈলকে বাবিলের নির্বাসিত জীবন থেকে মুক্তি দিয়ে পুনরায় ফিলিস্তিনে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। কুরআন মাজীদ কেবল তার তিনটি দীর্ঘ সফরের কথা উল্লেখ করেছে। প্রথম সফর ছিল পৃথিবীর পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত। দ্বিতীয় সফর ছিল পৃথিবীর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত আর তৃতীয়টি উত্তর প্রান্ত পর্যন্ত, যেখানে তিনি ইয়াজুজ-মাজুজের বর্বরোচিত হামলা থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য একটি প্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন।
৮৪

اِنَّا مَکَّنَّا لَہٗ فِی الۡاَرۡضِ وَاٰتَیۡنٰہُ مِنۡ کُلِّ شَیۡءٍ سَبَبًا ۙ ٨٤

ইন্না-মাক্কান্না-লাহূফিল আরদিওয়া আ-তাইনা-হু মিন কুল্লি শাইয়িন ছাবাবা-।

নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে তাকে ক্ষমতা দান করেছিলাম এবং তাকে সবকিছুর উপকরণ দিয়েছিলাম।
৮৫

فَاَتۡبَعَ سَبَبًا ٨٥

ফাআতবা‘আ ছাবাবা-।

ফলে সে একটি পথের অনুগামী হল।
৮৬

حَتّٰۤی اِذَا بَلَغَ مَغۡرِبَ الشَّمۡسِ وَجَدَہَا تَغۡرُبُ فِیۡ عَیۡنٍ حَمِئَۃٍ وَّوَجَدَ عِنۡدَہَا قَوۡمًا ۬ؕ قُلۡنَا یٰذَا الۡقَرۡنَیۡنِ اِمَّاۤ اَنۡ تُعَذِّبَ وَاِمَّاۤ اَنۡ تَتَّخِذَ فِیۡہِمۡ حُسۡنًا ٨٦

হাত্তাইযা-বালাগা মাগরিবাশ শামছি ওয়া জাদাহা-তাগরুবুফী ‘আইনিন হামিআতিওঁ ওয়া ওয়াজাদা ‘ইনদাহা-কাওমান কুলনা-ইয়া-যাল কারনাইনি ইম্মাআন তু‘আযযিবা ওয়া ইম্মাআন তাত্তাখিযা ফীহিম হুছনা-।

যেতে যেতে যখন সূর্যাস্তের স্থানে পৌঁছল, তখন সে দেখতে পেল, সেটি এক কর্দমাক্ত (কালো) জলাধারে অস্ত যাচ্ছে ৪৮ এবং সেখানে সে একটি সম্প্রদায়ের সাক্ষাত পেল। আমি বললাম, হে যুলকারনাইন! (তোমার সামনে দুটি পথ আছে।) হয় তুমি তাদেরকে শাস্তি দেবে, নয়ত তাদের ব্যাপারে উত্তম ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ৪৯

তাফসীরঃ

৪৮. সে অঞ্চলে যারা বসবাস করত তারা ছিল কাফের। যুলকারনাইন যখন সেখানে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করলেন, আল্লাহ তাঁকে বললেন, তুমি ইচ্ছা করলে অন্যান্য বিজেতাদের মত ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে তাদেরকে মিসমার করে দিতে পার কিংবা চাইলে তাদের সাথে ভালো ব্যবহারও করতে পার। দ্বিতীয় পন্থাকে ‘ভালো ব্যবহার’ শব্দে ব্যক্ত করে আল্লাহ তাআলা ইশারা করেছেন এ পন্থা অবলম্বনই শ্রেয়। ‘যুলকারনাইন’ নবী ছিলেন কিনা এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তিনি নবী হয়ে থাকলে আল্লাহ তাআলা তাকে একথা বলেছিলেন ওহীর মাধ্যমে। আর যদি নবী না হন, তবে সম্ভবত সে যুগের কোন নবীর মাধ্যমে তাকে একথা জানানো হয়েছিল। এমনও হতে পারে যে, ইলহামের মাধ্যমে একথা তার অন্তরে সঞ্চারিত করা হয়েছিল।
৮৭

قَالَ اَمَّا مَنۡ ظَلَمَ فَسَوۡفَ نُعَذِّبُہٗ ثُمَّ یُرَدُّ اِلٰی رَبِّہٖ فَیُعَذِّبُہٗ عَذَابًا نُّکۡرًا ٨٧

কা-লা আম্মা-মান জালামা ফাছাওফা নু‘আযযি বুহূ ছু ম্মা ইউরাদ্দু ইলা-রাব্বিহী ফাইউ‘আযযি বুহূ‘আযা-বান নুকরা-।

সে বলল, তাদের মধ্যে যে-কেউ সীমালংঘন করবে তাকে আমি শাস্তি দেব। তারপর তাকে তার প্রতিপালকের কাছে পৌঁছানো হবে এবং তিনি তাকে কঠিন শাস্তি দেবেন।
৮৮

وَاَمَّا مَنۡ اٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَہٗ جَزَآءَۨ الۡحُسۡنٰی ۚ  وَسَنَقُوۡلُ لَہٗ مِنۡ اَمۡرِنَا یُسۡرًا ؕ ٨٨

ওয়া আম্মা-মান আ-মানা ওয়া ‘আমিলা সা-লিহান ফালাহূজাঝাআনিল হুছনা-,ওয়া ছানাকূলুলাহূমিন আমরিনা-ইউছরা-।

তবে যে ঈমান আনবে ও সৎকাজ করবে, সে উত্তম প্রতিদানের উপযুক্ত হবে এবং আমিও আদেশ দান কালে তাকে সহজ কথা বলব। ৫০

তাফসীরঃ

৫০. যুলকারনাইন যে উত্তর দিয়েছিলেন তার সারমর্ম হল, আমি তাদেরকে সরল পথে চলার দাওয়াত দিব, যারা সে দাওয়াত কবুল করবে না এবং এভাবে জুলুমের পথ অবলম্বন করবে আমি তাদেরকে শাস্তি দেব। আর যারা দাওয়াত কবুল করে ঈমান আনবে ও সৎকর্ম অবলম্বন করবে, তাদের প্রতি আমি সহজ ও সদয় আচরণ করব।
৮৯

ثُمَّ اَتۡبَعَ سَبَبًا ٨٩

ছুম্মা আতবা‘আ ছাবাবা-।

তারপর সে আরেক পথ ধরে চলল।
৯০

حَتّٰۤی اِذَا بَلَغَ مَطۡلِعَ الشَّمۡسِ وَجَدَہَا تَطۡلُعُ عَلٰی قَوۡمٍ لَّمۡ نَجۡعَلۡ لَّہُمۡ مِّنۡ دُوۡنِہَا سِتۡرًا ۙ ٩۰

হাত্তাইযা-বালাগা মাতলি‘আশশামছি ওয়াজাদাহা-তাতলু‘উ ‘আলা-কাওমিল লাম নাজ‘আল লাহুম মিন দূনিহা-ছিতরা-।

চলতে চলতে যখন সূর্যোদয়ের স্থানে পৌঁছল, তখন সে দেখল সেটি উদয় হচ্ছে এমন এক জাতির উপর, যাদের জন্য আমি তা থেকে (অর্থাৎ তার রোদ থেকে) বাঁচার কোন অন্তরালের ব্যবস্থা করিনি। ৫১

তাফসীরঃ

৫১. এটা যুলকারনাইনের দ্বিতীয় সফরের বৃত্তান্ত। তিনি এ সফরে পৃথিবীর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলেন। সেখানে এমন কিছু লোক বাস করত, যারা তখনও পর্যন্ত সভ্যতার আলো পায়নি। তারা ঘর-বাড়ি নির্মাণ জানত না এবং রোদ থেকে বাঁচার জন্য ছাউনি তৈরির কলা-কৌশল বুঝত না। সকলে খোলা মাঠে থাকত। সূর্যের রোদ ও তাপ তাদের উপর সরাসরি পড়ত।
৯১

کَذٰلِکَ ؕ وَقَدۡ اَحَطۡنَا بِمَا لَدَیۡہِ خُبۡرًا ٩١

কাযা-লিকা ওয়া কাদ আহাতনা-বিমা-লাদাইহি খুবরা

ঘটনা এমনই ঘটল। যুলকারনাইনের কাছে যা-কিছু (উপকরণ) ছিল সে সম্পর্কে আমি পূর্ণ অবগত ছিলাম।
৯২

ثُمَّ اَتۡبَعَ سَبَبًا ٩٢

ছু ম্মা আতবা‘আ ছাবাবা-।

তারপর সে আরেক পথ ধরে চলল।
৯৩

حَتّٰۤی اِذَا بَلَغَ بَیۡنَ السَّدَّیۡنِ وَجَدَ مِنۡ دُوۡنِہِمَا قَوۡمًا ۙ لَّا یَکَادُوۡنَ یَفۡقَہُوۡنَ قَوۡلًا ٩٣

হাত্তাইযা-বালাগা বাইনাছছাদ্দাইনি ওয়াজাদা মিন দূনিহিমা-কাওমাল লা-ইয়াকা-দূনা ইয়াফকাহূনা কাওলা-।

চলতে চলতে যখন দু’টি পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছল, তখন সে পাহাড়ের কাছে এমন এক জাতির সাক্ষাত পেল, যারা তার কোন কথা যেন বুঝতে পারছিল না। ৫২

তাফসীরঃ

৫২. এটা যুলকারনাইনের তৃতীয় সফর। কুরআন মাজীদে তাঁর এ সফরের কোন দিক বর্ণনা করা হয়নি। অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে তার এ সফর ছিল দুনিয়ার উত্তর দিকে। তিনি সে দিকে লোকালয়ের শেষ মাথায় গিয়ে পৌঁছান। সেখানকার মানুষের ভাষা সম্পূর্ণ অন্য রকম ছিল। সম্ভবত আকার-আকৃতিও ভিন্ন ধরনের ছিল, যদ্দরুণ তারা কথা বুঝতে পারছে কি না তার কোন আভাস তাদের চেহারা দেখে বোঝা যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে যে কথাবার্তা হয় তা সম্ভবত কোন দোভাষীর মাধ্যমে হয়েছিল কিংবা ইশারার মাধ্যমে।
৯৪

قَالُوۡا یٰذَا الۡقَرۡنَیۡنِ اِنَّ یَاۡجُوۡجَ وَمَاۡجُوۡجَ مُفۡسِدُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ فَہَلۡ نَجۡعَلُ لَکَ خَرۡجًا عَلٰۤی اَنۡ تَجۡعَلَ بَیۡنَنَا وَبَیۡنَہُمۡ سَدًّا ٩٤

কা-লূইয়া-যাল কারনাইনি ইন্না ইয়া’জূজা ওয়া মা’জূজা মুফছিদূনা ফিল আরদি ফাহাল নাজ‘আলুলাকা খারজান ‘আলাআন তাজ‘আলা বাইনানা-ওয়া বাইনাহুম ছাদ্দা-।

তারা বলল, হে যুলকারনাইন! ইয়াজুজ ও মাজুজ এ দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায়। আমরা কি আপনাকে কিছু কর দেব, যার বিনিময়ে আপনি আমাদের ও তাদের মাঝখানে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন? ৫৩

তাফসীরঃ

৫৩. ইয়াজুজ ও মাজুজ দু’টি অসভ্য মানবগোষ্ঠীর নাম। তারা পাহাড়ের অপর দিকে বাস করত। তারা কিছুদিন পর-পর গিরিপথ দিয়ে এ-পাশে আসত এবং লুটতরাজ ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যেত। তাদের কারণে এ-পাশের মানুষের দুঃখণ্ডদুর্দশার কোন সীমা ছিল না। কাজেই তারা যখন দেখল যুলকারনাইন একজন অমিত শক্তিশালী সম্রাট এবং সব রকম আসবাব-উপকরণ তার করায়ত্ত, তখন তারা তাকে অনুরোধ জানাল, যেন দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী উপত্যকাটি একটি প্রাচীর দিয়ে বন্ধ করে দেন, যাতে ইয়াজুজ-মাজুজের আসার পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং তারা আর এ-পাশে এসে উপদ্রব করতে না পারে। তারা এ কাজের জন্য কিছু অর্থ জোগাবে বলেও প্রস্তাব করল। কিন্তু হযরত যুলকারনাইন কোন রকম বিনিময় নিতে অস্বীকার করলেন। তবে তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা লোকবল দিয়ে আমাকে সাহায্য কর, তাহলে আমি নিজের তরফ থেকে এ প্রাচীর তৈরি করে দেব।
৯৫

قَالَ مَا مَکَّنِّیۡ فِیۡہِ رَبِّیۡ خَیۡرٌ فَاَعِیۡنُوۡنِیۡ بِقُوَّۃٍ اَجۡعَلۡ بَیۡنَکُمۡ وَبَیۡنَہُمۡ رَدۡمًا ۙ ٩٥

কা-লা মা-মাকান্নী ফীহি রাববী খাইরুন ফাআ‘ঈনূনী বিকুওওয়াতিন আজ‘আল বাইনাকুম ওয়া বাইনাহুম রাদমা-।

যুলকারনাইন বলল, আল্লাহ আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছেন সেটাই (আমার জন্য) শ্রেয়। সুতরাং তোমরা (তোমাদের হাত-পায়ের) শক্তি দ্বারা আমাকে সহযোগিতা কর। আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যে একটি মজবুত প্রাচীর গড়ে দেব।
৯৬

اٰتُوۡنِیۡ زُبَرَ الۡحَدِیۡدِ ؕ  حَتّٰۤی اِذَا سَاوٰی بَیۡنَ الصَّدَفَیۡنِ قَالَ انۡفُخُوۡا ؕ  حَتّٰۤی اِذَا جَعَلَہٗ نَارًا ۙ  قَالَ اٰتُوۡنِیۡۤ اُفۡرِغۡ عَلَیۡہِ قِطۡرًا ؕ ٩٦

আ-তূনী ঝুবারাল হাদীদি হাত্তাইযা-ছা-ওয়া-বাইনাসসাদাফাইনি কা-লানফুখূ হাত্তাইযা-জা‘আলাহূনা-রান কা-লা আ-তূনীউফরিগ ‘আলাইহি কিতরা-।

তোমরা আমাকে লোহার পিণ্ড এনে দাও। অবশেষে সে যখন (মাঝখানের ফাঁকা পূর্ণ করে) উভয় পাহাড়ের চূড়া পরস্পর বরাবর করে মিলিয়ে দিল, তখন বলল, এবার আগুনে হাওয়া দাও। ৫৪ যখন সেটিকে (প্রাচীর) জ্বলন্ত কয়লায় পরিণত করল, তখন বলল, তোমরা গলিত তামা নিয়ে এসো। আমি তা এর উপর ঢেলে দেব।

তাফসীরঃ

৫৪. যুলকারনাইন প্রথমে লোহার বড় বড় পিণ্ড ফেলে দুই পাহাড়ের মাঝখানটা ভরে ফেললেন। লোহার সে স্তূপ পাহাড় সমান উঁচু হয়ে গেল। তারপর তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হল। যখন তা পুরোপুরি উত্তপ্ত হল, তার উপর গলিত তামা ঢেলে দিলেন, যাতে তা লৌহপিণ্ডের ফাঁকে-ফাঁকে গিয়ে সব ফাঁক-ফোকর ভরাট করে ফেলে। এভাবে সেটি এক মজবুত প্রাচীর হয়ে গেল।
৯৭

فَمَا اسۡطَاعُوۡۤا اَنۡ یَّظۡہَرُوۡہُ وَمَا اسۡتَطَاعُوۡا لَہٗ نَقۡبًا ٩٧

ফামাছতা‘ঊআইঁ ইয়াজহারূহু ওয়া মাছতাতা-‘ঊ লাহূনাকবা-।

(এভাবে প্রাচীরটি নির্মিত হয়ে গেল) ফলে ইয়াজুজ মাজুজ না তাতে চড়তে সক্ষম হচ্ছিল আর না তাতে ফোকর বানাতে পারছিল।
৯৮

قَالَ ہٰذَا رَحۡمَۃٌ مِّنۡ رَّبِّیۡ ۚ  فَاِذَا جَآءَ وَعۡدُ رَبِّیۡ جَعَلَہٗ دَکَّآءَ ۚ  وَکَانَ وَعۡدُ رَبِّیۡ حَقًّا ؕ ٩٨

কা-লা হা-যা-রাহমাতুম মির রাববী ফাইযা-জাআ ওয়া‘দুরাববী জা‘আলাহূ দাক্কাআ ওয়া কা-না ওয়া‘দুরাববী হাক্কা-।

যুলকারনাইন বলল, এটা আমার রবের রহমত (যে, তিনি এ রকম একটা প্রাচীর বানানোর তাওফীক দিয়েছেন)। অতঃপর আমার রবের প্রতিশ্রুত সময় যখন আসবে, তখন তিনি এ প্রাচীরটি ধ্বংস করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেবেন। ৫৫ আমার প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত সত্য।

তাফসীরঃ

৫৫. মহাপ্রাচীর নির্মাণের এত বড় কাজ যখন সমাপ্তিতে পৌঁছল, তখন যুলকারনাইন দু’টি পরম সত্যের প্রতি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। (এক) তিনি বললেন, এ-কাজ আমার বাহুবলের মাহাত্ম্য নয়। বরং এটা আল্লাহ তাআলারই রহমত। তিনি আমাকে তাওফীক দিয়েছেন বলেই আমার দ্বারা এটা করা সম্ভব হয়েছে। (দুই) দ্বিতীয়ত তিনি স্পষ্ট করে দেন, যদিও প্রাচীরটি এখন অত্যন্ত মজবুতভাবে তৈরি হয়েছে, যা শত্রুর পক্ষে ভেদ করা সম্ভব নয়, কিন্তু আল্লাহ তাআলার পক্ষে এটা ভেঙ্গে ফেলা কিছু কঠিন কাজ নয়। আল্লাহ তাআলা যত দিন চাইবেন এটা প্রতিষ্ঠিত থাকবে তারপর তিনি এর বিনাশের জন্য যেই সময় নির্দিষ্ট করে রেখেছেন, সেই সময় যখন আসবে, তখন এটা বিধ্বস্ত হয়ে মাটির সাথে মিশে যাবে। যুলকারনাইনের এ বক্তব্যের প্রতি লক্ষ্য করলে এ প্রাচীর কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত থাকবে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। কুরআন মাজীদের ভাষা দ্ব্যর্থহীনভাবে তার প্রতি নির্দেশ করে না। বরং কিয়ামতের আগেও এটা বিধ্বস্ত হওয়ার অবকাশ আছে। কোন কোন গবেষক মনে করেন, প্রাচীরটি নির্মিত হয়েছিল রাশিয়ার দাগিস্তানের অন্তর্গত ‘দরবন্দ’ নামক স্থানে। এখন সেটি ধ্বংসপ্রাপ্ত। [অবশ্য তার যে ধ্বংসাবশেষ এখনও সেখানে বিদ্যমান আছে, গবেষকগণ অনুসন্ধান করে দেখেছেন কুরআন মাজীদে বর্ণিত নির্মাণ পদ্ধতির সাথে তার বেশ মিল রয়েছে]। ইয়াজুজ-মাজুজের বিভিন্ন বাহিনী বিভিন্ন সময় সভ্য এলাকায় নেমে এসে মহা ত্রাস সৃষ্টি করেছে এবং পর্যায়ক্রমে সভ্য মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে তারা নিজেরাও সভ্য হয়ে গেছে। তাদের সর্বশেষ ঢল নামবে কিয়ামতের কিছু আগে (দ্র. সূরা আম্বিয়া ২১ : ৯৬)। এ বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণালব্ধ ও তথ্যবহুল আলোচনা হযরত মাওলানা হিফজুর রহমান রহমাতুল্লাহি আলাইহি রচিত ‘কাসাসুল কুরআন’ ও হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর মাআরিফুল কুরআনে দেখা যেতে পারে। যুলকারনাইন সবশেষে বলেছেন, ‘আমার প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি সত্য’। এর দ্বারা কিয়ামত সংঘটিত করার প্রতিশ্রুতি বোঝানো হয়েছে। তিনি বলতে চাচ্ছেন যে, আমি যে এই প্রাচীর নির্মাণ করলাম এটা কবে ধ্বংস হবে এবং তার জন্য আল্লাহ তাআলা কোন সময়কে নির্দিষ্ট করেছেন, তা তো এখনই কেউ বলতে পারে না, কিন্তু আল্লাহ তাআলার একটা প্রতিশ্রুতি আমরা সুস্পষ্টভাবেই জানি। সকলেরই জানা আছে একদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে। যখন তা ঘটবে তখন যত মজবুত জিনিসই হোক না কেন তা ভেঙ্গে-চুরে চুরমার হয়ে যাবে। যুলকারনাইন এস্থলে যে কিয়ামত বিষয়ের অবতারণা করেছেন, সেই প্রসঙ্গ ধরে আল্লাহ তাআলা সামনে কিয়ামতের কিছু অবস্থা তুলে ধরেছেন।
৯৯

وَتَرَکۡنَا بَعۡضَہُمۡ یَوۡمَئِذٍ یَّمُوۡجُ فِیۡ بَعۡضٍ وَّنُفِخَ فِی الصُّوۡرِ فَجَمَعۡنٰہُمۡ جَمۡعًا ۙ ٩٩

ওয়া তারাকনা- বা‘দাহুম ইয়াওমাইযিইঁ ইয়ামূজুফী বা‘দিওঁ ওয়া নুফিখা ফিসসূরি ফাজামা‘না-হুম জাম‘আ-।

সে দিন আমি তাদের অবস্থা এমন করে দেব যে, তারা তরঙ্গের মত একে অন্যের উপর আছড়ে পড়বে ৫৬ এবং শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সকলকে একত্র করব।

তাফসীরঃ

৫৬. এর দ্বারা কিয়ামতের প্রাক্কালে ইয়াজুজ ও মাজুজের যে ঢল নেমে আসবে তাও বোঝানো হতে পারে আর সে হিসেবে এর ব্যাখ্যা হবে, কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে তারা যখন বের হয়ে আসবে, তখন তাদের অবস্থা হবে বিশৃঙ্খল ভেড়ার পালের মত এবং তারা ঢেউয়ের মত একে অন্যের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়বে অথবা এটাও সম্ভব যে, এর দ্বারা কিয়ামতের সময় মানুষের যে ভীত-বিহ্বল অবস্থা হবে সেটা বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, কিয়ামতের বিভীষিকা দেখে মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কোন সীমা থাকবে না। তারা দিশেহারা হয়ে একে অন্যের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়বে।
১০০

وَّعَرَضۡنَا جَہَنَّمَ یَوۡمَئِذٍ لِّلۡکٰفِرِیۡنَ عَرۡضَۨا ۙ ١۰۰

ওয়া ‘আরাদনা-জাহান্নামা ইয়াওমাইযিল লিলকা-ফিরীনা ‘আরদা-।

সে দিন আমি জাহান্নামকে কাফেরদের সামনে সরাসরিভাবে উপস্থিত করব
১০১

الَّذِیۡنَ کَانَتۡ اَعۡیُنُہُمۡ فِیۡ غِطَـآءٍ عَنۡ ذِکۡرِیۡ وَکَانُوۡا لَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ سَمۡعًا ٪ ١۰١

আল্লাযীনা কা-নাত আ‘ইউনুহুম ফী গিতাইন ‘আন যিকরী ওয়া কা-নূলা-ইয়াছতাতী‘ঊনা ছাম‘আ-।

(দুনিয়ায়) যাদের চোখে আমার নিদর্শন সম্বন্ধে পর্দা পড়ে রয়েছিল এবং যারা শুনতেও সক্ষম ছিল না।
১০২

اَفَحَسِبَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَنۡ یَّتَّخِذُوۡا عِبَادِیۡ مِنۡ دُوۡنِیۡۤ اَوۡلِیَآءَ ؕ اِنَّـاۤ اَعۡتَدۡنَا جَہَنَّمَ لِلۡکٰفِرِیۡنَ نُزُلًا ١۰٢

আফাহাছিবাল্লাযীনা কাফারূআইঁ ইয়াত্তাখিযূ‘ইবা-দী মিন দূ নীআওলিয়াআ ইন্না আ‘তাদনা-জাহান্নামা লিলকা-ফিরীনা নুঝুলা-।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা কি এরপরও মনে করে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমারই বান্দাদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে? নিশ্চয়ই আমি এরূপ কাফেরদের আপ্যায়নের জন্য জাহান্নাম প্রস্তুত রেখেছি।
১০৩

قُلۡ ہَلۡ نُنَبِّئُکُمۡ بِالۡاَخۡسَرِیۡنَ اَعۡمَالًا ؕ ١۰٣

কুল হাল নুনাব্বিউকুম বিলআখছারীনা আ‘মা-লা-।

বলে দাও, আমি কি তোমাদেরকে বলে দেব, কর্মে কারা সর্বাপেক্ষা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?
১০৪

اَلَّذِیۡنَ ضَلَّ سَعۡیُہُمۡ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَہُمۡ یَحۡسَبُوۡنَ اَنَّہُمۡ یُحۡسِنُوۡنَ صُنۡعًا ١۰٤

আল্লাযীনা দাল্লা ছা‘ইউহুম ফিল হায়া-তিদদুনইয়া- ওয়াহুম ইয়াহছাবূনা আন্নাহুম ইউহছিনূনা সুন‘আ-।

তারা সেই সব লোক, পার্থিব জীবনে যাদের সমস্ত দৌড়-ঝাঁপ সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, অথচ তারা মনে করে তারা খুবই ভালো কাজ করছে। ৫৭

তাফসীরঃ

৫৭. এ আয়াত একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি তুলে ধরেছে। বলা হচ্ছে যে, কোন কাজ গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য কেবল সহীহ নিয়তই যথেষ্ট নয়। বরং পথ সঠিক হওয়াও জরুরি। বহু কাফেরও অনেক কাজ খাঁটি নিয়তে করে থাকে। কিন্তু সে কাজ যেহেতু তাদের মনগড়া, আল্লাহ তাআলা বা তাঁর প্রেরিত রাসূলগণ তা শিক্ষা দেননি, তাই নিয়ত সহীহ হওয়া সত্ত্বেও তাদের সমস্ত শ্রম বিফল হয়ে যায়।
১০৫

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِاٰیٰتِ رَبِّہِمۡ وَلِقَآئِہٖ فَحَبِطَتۡ اَعۡمَالُہُمۡ فَلَا نُقِیۡمُ لَہُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ وَزۡنًا ١۰٥

উলাইকাল্লাযীনা কাফারূ বিআ-য়া-তি রাব্বিহিম ওয়ালিকাইহী ফাহাবিতাত আ‘মালুহুম ফালা-নুকীমুলাহুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ওয়াঝনা-।

এরাই সেই সব লোক, যারা নিজ প্রতিপালকের আয়াতসমূহ ও তাঁর সামনে উপস্থিতির বিষয়টিকে অস্বীকার করে। ফলে তাদের যাবতীয় কর্ম নিষ্ফল হয়ে গেছে। আমি কিয়ামতের দিন তাদের কোন ওজন গণ্য করব না। ৫৮

তাফসীরঃ

৫৮. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার কাছে তাদের কোন মূল্য ও ওযন থাকবে না। এক হাদীসে আছে, ‘অত্যধিক পানাহারকারী লম্বা-চওড়া ব্যক্তিকে (কিয়ামতের দিন) হাজির করা হবে, কিন্তু তার ওযন একটা মশার ডানার সমানও হবে না’। -অনুবাদক
১০৬

ذٰلِکَ جَزَآؤُہُمۡ جَہَنَّمُ بِمَا کَفَرُوۡا وَاتَّخَذُوۡۤا اٰیٰتِیۡ وَرُسُلِیۡ ہُزُوًا ١۰٦

যা-লিকা জাঝাউহুম জাহান্নামুবিমা-কাফারূওয়াত্তাখাযূআ-য়া-তী ওয়ারুছুলী হুঝুওয়া-।

জাহান্নামরূপে এটাই তাদের শাস্তি। কেননা তারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহ ও আমার রাসূলগণকে পরিহাসের বস্তু বানিয়েছে।
১০৭

اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ کَانَتۡ لَہُمۡ جَنّٰتُ الۡفِرۡدَوۡسِ نُزُلًا ۙ ١۰٧

ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি কা-নাত লাহুম জান্না-তুল ফিরদাওছি নুঝুলা-।

(অপর দিকে) যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদের আপ্যায়নের জন্য অবশ্যই ফিরদাউসের উদ্যান রয়েছে।
১০৮

خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا لَا یَبۡغُوۡنَ عَنۡہَا حِوَلًا ١۰٨

খা-লিদীনা ফীহা-লা-ইয়াবগূনা ‘আনহা-হিওয়ালা-।

তাতে তারা সর্বদা থাকবে (এবং) তারা সেখান থেকে অন্য কোথাও যেতে চাইবে না।
১০৯

قُلۡ لَّوۡ کَانَ الۡبَحۡرُ مِدَادًا لِّکَلِمٰتِ رَبِّیۡ لَنَفِدَ الۡبَحۡرُ قَبۡلَ اَنۡ تَنۡفَدَ کَلِمٰتُ رَبِّیۡ وَلَوۡ جِئۡنَا بِمِثۡلِہٖ مَدَدًا ١۰٩

কুল লাও কা-নাল বাহরু মিদা-দাল লিকালিমা-তি রাববী লানাফিদাল বাহরু কাবলা আন তানফাদা কালিমা-তুরাববী ওয়ালাও জি’না-বিমিছলিহী মাদাদা-।

(হে নবী! মানুষকে) বলে দাও, আমার প্রতিপালকের কথা লেখার জন্য যদি সাগর কালি হয়ে যায়, তবে আমার প্রতিপালকের কথা শেষ হওয়ার আগেই সাগর নিঃশেষ হয়ে যাবে, তাতে সাহায্যরূপে অনুরূপ আরও সাগর নিয়ে আসি না কেন! ৫৯

তাফসীরঃ

৫৯. ‘আল্লাহ তাআলার কথা’ দ্বারা তার সিফাত ও গুণাবলী বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলার কুদরত, তাঁর হিকমত ও গুণাবলী এত বিপুল যে, যদি তা লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা করা হয় আর সেজন্য সবগুলো সাগরের পানি কালি হয়ে যায়, তবে সবগুলো সাগর নিঃশেষ হয়ে যাবে, কিন্তু আল্লাহ তাআলার গুণাবলী ও তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা শেষ হবে না। অনিঃশেষ আমাদের প্রতিপালকের মহিমা!
১১০

قُلۡ اِنَّمَاۤ اَنَا بَشَرٌ مِّثۡلُکُمۡ یُوۡحٰۤی اِلَیَّ اَنَّمَاۤ اِلٰـہُکُمۡ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ ۚ  فَمَنۡ کَانَ یَرۡجُوۡا لِقَآءَ رَبِّہٖ فَلۡیَعۡمَلۡ عَمَلًا صَالِحًا وَّلَا یُشۡرِکۡ بِعِبَادَۃِ رَبِّہٖۤ اَحَدًا ٪ ١١۰

কুল ইন্নামাআনা-বাশারুম মিছলুকুম ইউহাইলাইইয়া আন্নামাইলা-হুকুম ইলা-হুওঁ ওয়া-হিদুন ফামান কা-না ইয়ারজূলিকাআ রাব্বিহী ফালইয়া‘মাল ‘আমালান সালিহাওঁ ওয়ালা-ইউশরিক বি‘ইবা-দাতি রাব্বিহীআহাদা-।

বলে দাও, আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষই। (তবে) আমার প্রতি এই ওহী আসে যে, তোমাদের মাবুদ কেবল একই মাবুদ। ৬০ সুতরাং যে-কেউ নিজ মালিকের সাথে মিলিত হওয়ার আশা রাখে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং নিজ মালিকের ইবাদতে অন্য কাউকে শরীক না করে। ৬১

তাফসীরঃ

৬০. অর্থাৎ তাঁর যেহেতু কোন শরীক নেই, তাই ইবাদত করতে হবে ইখলাসের সাথে। তাতে স্থূল তো নয়ই, সূক্ষ্ম শিরকও পরিত্যাজ্য। অর্থাৎ নিয়ত থাকবে কেবল আল্লাহ তাআলাকে খুশি করা। রিয়া বা মানুষকে দেখানোর জন্য ইবাদত করলে তাও এক ধরনের শিরক, তাতে ইবাদতের ভেতর সূক্ষ্মভাবে মানুষকে শরীক করা হয়। আর যে ইবাদতে অন্যকে শরীক করা হয়, তা ইবাদতকারীর মুখের উপর ছুঁড়ে মারা হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সর্বপ্রকার শিরক থেকে হেফাজত করুন (আমীন)। -অনুবাদক
সূরা আল কাহ্‌ফ | মুসলিম বাংলা