সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আন নাহ্‌ল (النحل) | মৌমাছি

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ১২৮

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

اَتٰۤی اَمۡرُ اللّٰہِ فَلَا تَسۡتَعۡجِلُوۡہُ ؕ سُبۡحٰنَہٗ وَتَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ ١

আতাআমরুল্লা-হি ফালা-তাছতা‘জিলূহু ছুবহা-নাহূওয়া তা‘আ-লা-‘আম্মাইউশরিকূন।

আল্লাহর হুকুম এসে গেছে। কাজেই তার জন্য তাড়াহুড়া করো না। তারা যে শিরক করছে, তিনি তা থেকে পবিত্র ও সমুচ্চ।

তাফসীরঃ

১. আরবী ভাষার বাকরীতি অনুযায়ী এটি অত্যন্ত বলিষ্ঠ বাক্য। ভবিষ্যতে নিশ্চিতভাবেই ঘটবে এরূপ ঘটনাকে আরবীতে অতীত ক্রিয়ায় ব্যক্ত করা হয়ে থাকে। এর শক্তি ও প্রভাব অন্য কোন ভাষায় আদায় করা খুবই কঠিন। এস্থলে যে ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, তার পটভূমি এই, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাফেরদেরকে বলতেন, কুফর করতে থাকলে তার পরিণামে আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর আযাব নাযিল করবেন এবং মুসলিমদেরকে বিজয়ী করবেন, তখন তারা ঠাট্টাচ্ছলে বলত, আল্লাহ তাআলা যদি আযাব নাযিল করেনই, তবে তাকে বলুন যেন এখনই তা নাযিল করেন। এই বলে তারা বোঝাতে চাচ্ছিল, শাস্তির শাসানি ও মুসলিমদের জয়লাভের প্রতিশ্রুতি তাঁর মনগড়া কথা, এর কোন বাস্তবতা নেই (নাউযুবিল্লাহ)। তাদের সে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের উত্তর দ্বারাই সূরাটির সূচনা হয়েছে। বলা হয়েছে, কাফেরদের বিরুদ্ধে প্রেরিতব্য শাস্তি ও মুসলিমদের জয়লাভের যে সংবাদকে তোমরা অসম্ভব মনে করছ, প্রকৃতপক্ষে তা আল্লাহ তাআলার অনড় ফায়সালা এবং তা এতটা নিশ্চিত, যেন তা ঘটেই গেছে। সুতরাং তোমরা তার আগমনের জন্য তাড়া দেখানোর ছলে তার প্রতি ব্যঙ্গ প্রদর্শন করো না। কেননা তা তোমাদের মাথার উপর খাড়া রয়েছে। পরবর্তী বাক্যে এ শাস্তির অবশ্যম্ভাবী হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তোমরা আল্লাহ তাআলার সাথে অন্যকে শরীক করে থাক। অথচ আল্লাহ তাআলা যে কোনও রকমের অংশীদারিত্ব থেকে কেবল পবিত্রই নন, বরং তিনি তার বহু উর্ধ্বে। সুতরাং কাউকে তাঁর শরীক সাব্যস্ত করা তাঁর প্রতি চরম অমর্যাদা প্রকাশের নামান্তর। বিশ্ব-জগতের সৃষ্টিকর্তাকে অসম্মান করার অনিবার্য পরিণাম তো এটাই যে, যে ব্যক্তি তাঁকে অসম্মান করবে তার উপর আযাব পতিত হবে। (তাফসীরুল মাহাইমী, ১ম খণ্ড, ৪০২ পৃষ্ঠা)

یُنَزِّلُ الۡمَلٰٓئِکَۃَ بِالرُّوۡحِ مِنۡ اَمۡرِہٖ عَلٰی مَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِہٖۤ اَنۡ اَنۡذِرُوۡۤا اَنَّہٗ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّاۤ اَنَا فَاتَّقُوۡنِ ٢

ইউনাঝঝিলুল মালাইকাতা বিররূহি মিন আমরিহী ‘আলা- মাইঁ ইয়াশাউমিন ‘ইবাদিহীআন আনযিরূআন্নাহূলাইলা-হা ইল্লাআনা-ফাত্তাকূন।

তিনি নিজ বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা নিজ হুকুমে রূহ (অর্থাৎ প্রাণ সঞ্চারক ওহী) সহ ফিরিশতা অবতীর্ণ করেন, এই মর্মে সতর্ক করার জন্য যে, আমি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। সুতরাং তোমরা আমাকেই ভয় কর (অন্য কাউকে নয়)।

তাফসীরঃ

২. রূহ দ্বারা ‘ওহী’ বোঝানো হয়েছে, যেমন অন্যত্র কুরআন মাজীদকেও রূহ বলা হয়েছে। সূরা শূরায় আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন- وَكَذَٰلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِّنْ أَمْرِنَا আমার নির্দেশে ওহীরূপে তোমার প্রতি নাযিল করেছি এক রূহ, অর্থাৎ কুরআন (সূরা শূরা ৪২ : ৫২)। ওহী ও কুরআনকে রূহ বলা হয়েছে এর সঞ্জীবনী শক্তির কারণে। রূহ যেমন দেহকে জীবিত করে তোলে, তেমনি ওহী ও কুরআন ও মানুষের মৃত আত্মায় জীবন সঞ্চার করে। -অনুবাদক

خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِالۡحَقِّ ؕ تَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ ٣

খালাকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা বিলহাক্কি তা‘আ-লা-‘আম্মা-ইউশরিকূন।

তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে যথার্থ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। তারা যে শিরক করে তা থেকে তিনি বহু উর্ধ্বে।

خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ مِنۡ نُّطۡفَۃٍ فَاِذَا ہُوَ خَصِیۡمٌ مُّبِیۡنٌ ٤

খালাকাল ইনছা-না মিন নুতফাতিন ফাইযা-হুওয়া খাসীমুম মুবীন।

তিনি মানুষকে শুক্রবিন্দু হতে সৃষ্টি করেছেন। তারপর সহসা সে প্রকাশ্য বিতণ্ডার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছে।

তাফসীরঃ

৩. অর্থাৎ, মানুষের সারবত্তা তো কেবল এই যে, সে এক অপবিত্র বিন্দু থেকে সৃষ্টি। কিন্তু সে যখন একটু বাকশক্তি লাভ করল, অমনি সে যেই মহান সত্তা তাকে অপবিত্র বিন্দু থেকে এক পূর্ণাঙ্গ মানব বানিয়েছেন এবং তাকে আশরাফুল মাখলুকাতের মর্যাদা দান করেছেন, তাঁর সাথে অন্যকে শরীক করে রীতিমত তার সাথে ঝগড়া শুরু করে দিল।

وَالۡاَنۡعَامَ خَلَقَہَا ۚ  لَکُمۡ فِیۡہَا دِفۡءٌ وَّمَنَافِعُ وَمِنۡہَا تَاۡکُلُوۡنَ ۪ ٥

ওয়াল আন‘আ-মা খালাকাহা- লাকুম ফীহা-দিফউওঁ ওয়া মানা-ফি‘উ ওয়া মিনহাতা’কুলূন।

তিনিই চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যার মধ্যে তোমাদের জন্য শীত থেকে বাঁচার উপকরণ এবং তা ছাড়া আরও বহু উপকার রয়েছে এবং তা থেকেই তোমরা খেয়েও থাক।

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ, তোমরা চতুষ্পদ জন্তুর চামড়া দ্বারা এমন পোশাক তৈরি কর, যা তোমাদেরকে শীত থেকে রক্ষা করে।

وَلَکُمۡ فِیۡہَا جَمَالٌ حِیۡنَ تُرِیۡحُوۡنَ وَحِیۡنَ تَسۡرَحُوۡنَ ۪ ٦

ওয়া লাকুম ফীহা-জামা-লুন হীনা তুরী হূনা ওয়াহীনা তাছরাহূন।

তোমরা সন্ধ্যাকালে যখন সেগুলোকে বাড়িতে ফিরিয়ে আন এবং ভোরবেলা যখন সেগুলোকে চারণভূমিতে নিয়ে যাও, তখন তার ভেতর তোমাদের জন্য দৃষ্টিনন্দন শোভাও রয়েছে।

وَتَحۡمِلُ اَثۡقَالَکُمۡ اِلٰی بَلَدٍ لَّمۡ تَکُوۡنُوۡا بٰلِغِیۡہِ اِلَّا بِشِقِّ الۡاَنۡفُسِ ؕ  اِنَّ رَبَّکُمۡ لَرَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ ۙ ٧

ওয়া তাহমিলুআছকা-লাকুম ইলা-বালাদিল লাম তাকূনূবা-লিগীহি ইল্লা-বিশিক্কিল আনফুছি ইন্না রাব্বাকুম লারাঊফুর রাহীম।

এবং তারা তোমাদের ভার বয়ে নিয়ে যায় এমন নগরে, যেখানে প্রাণান্তকর কষ্ট ছাড়া তোমরা পৌঁছতে পারতে না। প্রকৃতপক্ষে তোমাদের প্রতিপালক অতি মমতাময়, পরম দয়ালু।

وَّالۡخَیۡلَ وَالۡبِغَالَ وَالۡحَمِیۡرَ لِتَرۡکَبُوۡہَا وَزِیۡنَۃً ؕ وَیَخۡلُقُ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ ٨

ওয়াল খাইলা ওয়াল বিগা-লা ওয়াল হমীরা লিতারকাবূহা-ওয়াঝীনাতাওঁ ওয়া ইয়াখলুকু মা-লা-তা‘লামূন।

এবং ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা তিনিই সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাতে আরোহণ করতে পার এবং তা তোমাদের শোভা হয়। তিনি সৃষ্টি করেন এমন বহু জিনিস, যা তোমরা জান না।

তাফসীরঃ

৫. অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলার সৃষ্ট এমন বহু বাহন আছে, যে সম্পর্কে এখন তোমাদের কোন জ্ঞান নেই। এভাবে এ আয়াত আমাদের জানাচ্ছে, যদিও বাহন হিসেবে এখন তোমরা ঘোড়া, খচ্চর ও গাধাই ব্যবহার করছ, কিন্তু ভবিষ্যতে আল্লাহ তাআলা নতুন-নতুন বাহন সৃষ্টি করবেন। সুতরাং কুরআন নাযিলের পর থেকে সাম্প্রতিক কাল পর্যন্ত যে সব বাহন আবিষ্কৃত হয়েছে, যেমন মোটর গাড়ি, বাস, রেল, উড়োজাহাজ, স্টিমার ইত্যাদি কিংবা কিয়ামত পর্যন্ত আরও যা-কিছু আবিষ্কৃত হবে তা সবই এ আয়াতের মধ্যে এসে গেছে। আরবী ব্যাকরণের আলোকে এ আয়াতের তরজমা এভাবেও করা যায়- ‘তিনি এমন সব বস্তু সৃষ্টি করবেন, যে সম্পর্কে তোমরা এখনও জান না।’ এ তরজমা দ্বারা বক্তব্য আরও স্পষ্ট হয়।

وَعَلَی اللّٰہِ قَصۡدُ السَّبِیۡلِ وَمِنۡہَا جَآئِرٌ ؕ  وَلَوۡ شَآءَ لَہَدٰىکُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ٪ ٩

ওয়া ‘আলাল্লা-হি কাসদুছছাবীলি ওয়া মিনহা-জাইরুওঁ ওয়া লাও শাআ লাহাদা-কুম আজমা‘ঈন।

সরল পথ দেখানোর দায়িত্ব আল্লাহ তাআলার। আর আছে বহু বাঁকা পথ। তিনি চাইলে তোমাদের সকলকে সরল পথে পরিচালিত করতেন।

তাফসীরঃ

৬. অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা মানুষকে যেমন দুনিয়ার পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য এসব বাহন সৃষ্টি করেছেন, তেমনি আখেরাতের রূহানী সফরের জন্য তিনি সরল পথ দেখানোর দায়িত্বও গ্রহণ করেছেন। কেননা মানুষ এর জন্য বহু বাঁকা পথ তৈরি করে রেখেছে। তা থেকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহ তাআলা নবী-রাসূল পাঠান ও কিতাব নাযিল করেন এবং তাদের মাধ্যমে মানুষকে সরল সোজা পথ দেখিয়ে দেন। তবে কাউকে তিনি জবরদস্তিমূলকভাবে এ পথে পরিচালিত করেন না। ইচ্ছা করলে তাও করতে পারতেন। কিন্তু তা করেন না এজন্য যে, তিনি চান মানুষ তাঁর প্রদর্শিত পথে জবরদস্তিমূলকভাবে নয়; বরং স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে চলুক। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা নিজ নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে মানুষকে পথ দেখানোর ব্যবস্থা করেই ক্ষান্ত হয়েছেন।
১০

ہُوَ الَّذِیۡۤ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً لَّکُمۡ مِّنۡہُ شَرَابٌ وَّمِنۡہُ شَجَرٌ فِیۡہِ تُسِیۡمُوۡنَ ١۰

হুওয়াল্লাযীআনঝালা মিনাছছামাইমাআল্লাকুম মিনহু শারা-বুওঁ ওয়া মিনহু শাজারুন ফীহি তুছীমূন।

তিনিই সেই সত্তা, যিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, যা থেকে তোমাদের পানীয় লাভ হয় এবং তা থেকেই জন্মায় উদ্ভিদ, যাতে তোমরা পশু চরাও।
১১

یُنۡۢبِتُ لَکُمۡ بِہِ الزَّرۡعَ وَالزَّیۡتُوۡنَ وَالنَّخِیۡلَ وَالۡاَعۡنَابَ وَمِنۡ کُلِّ الثَّمَرٰتِ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّقَوۡمٍ یَّتَفَکَّرُوۡنَ ١١

ইউমবিতুলাকুম বিহিঝঝার‘আ ওয়াঝঝাইতূনা ওয়ান্নাখীলা ওয়াল আ‘না-বা ওয়া মিন কুল্লিছছামারা-ত ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাল লিকাওমিইঁ ইয়াতাফাক্কারূন।

তা দ্বারাই তিনি তোমাদের জন্য ফসল, যায়তুন, খেজুর গাছ, আঙ্গুর ও সর্বপ্রকার ফল উৎপাদন করেন। নিশ্চয়ই যারা চিন্তা করে, তাদের জন্য এসব বিষয়ের মধ্যে নিদর্শন আছে।

তাফসীরঃ

৭. ফসল দ্বারা সেই সব শস্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা মানুষ দৈনন্দিন খাদ্যরূপে ব্যবহার করে, যেমন গম, চাল, তরি-তরকারি ইত্যাদি। যয়তুন হল সেই সকল বস্তুর একটা নমুনা, যা খাদ্য প্রস্তুত ও তা সুস্বাদু করার কাজে ব্যবহৃত হয়। আর খেজুর, আঙ্গুর ও অন্যান্য ফল দ্বারা সেই সব জিনিসের প্রতি ইশারা করা হয়েছে, যা বাড়তি ভোগ-সৌখিনতায় কাজে আসে।
১২

وَسَخَّرَ لَکُمُ الَّیۡلَ وَالنَّہَارَ ۙ  وَالشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ ؕ  وَالنُّجُوۡمُ مُسَخَّرٰتٌۢ بِاَمۡرِہٖ ؕ  اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّعۡقِلُوۡنَ ۙ ١٢

ওয়া ছাখখারা লাকুমুল লাইলা ওয়ান্নাহা-রা ওয়াশশামছা ওয়াল কামারা ওয়াননুজূমু মুছাখখারা-তুম বিআমরিহি ইন্না ফী যা-লিকা লা আ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইয়া‘কিলূন।

তিনি দিন-রাত ও চন্দ্র-সূর্যকে তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। নক্ষত্ররাজিও তাঁর নির্দেশে কর্মরত রয়েছে। নিশ্চয়ই এর ভেতর বহু নিদর্শন আছে সেই সকল লোকের জন্য, যারা বুদ্ধি কাজে লাগায়।
১৩

وَمَا ذَرَاَ لَکُمۡ فِی الۡاَرۡضِ مُخۡتَلِفًا اَلۡوَانُہٗ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّقَوۡمٍ یَّذَّکَّرُوۡنَ ١٣

ওয়ামা-যারাআ লাকুম ফিল আরদিমুখতালিফান আলওয়া-নুহূ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাল লিকাওমিইঁ ইয়াযযাক্কারূন।

এমনিভাবে তিনি তোমাদের জন্য রঙ-বেরঙের যে বস্তুরাজি পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তাও তাঁর নির্দেশে কর্মরত আছে। নিশ্চয়ই যারা শিক্ষাগ্রহণ করে, সেই সব লোকের জন্য এর মধ্যে নিদর্শন আছে।
১৪

وَہُوَ الَّذِیۡ سَخَّرَ الۡبَحۡرَ لِتَاۡکُلُوۡا مِنۡہُ لَحۡمًا طَرِیًّا وَّتَسۡتَخۡرِجُوۡا مِنۡہُ حِلۡیَۃً تَلۡبَسُوۡنَہَا ۚ وَتَرَی الۡفُلۡکَ مَوَاخِرَ فِیۡہِ وَلِتَبۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِہٖ وَلَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ ١٤

ওয়াহুওয়াল্লাযী ছাখখারাল বাহরা লিতা’কুলূমিনহু লাহমান তারিইইয়াওঁ ওয়া তাছতাখরিজূ মিনহু হিলয়াতান তালবাছূনাহা- ওয়া তারাল ফুলকা মাওয়া-খিরা ফীহি ওয়া লিতাবতাগূ মিন ফাদলিহী ওয়া লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন।

তিনিই সেই সত্তা, যিনি সমুদ্রকে কাজে নিয়োজিত করেছেন, যাতে তোমরা তা থেকে তাজা গোশত খেতে পার এবং তা থেকে আহরণ করতে পার অলংকার, যা তোমরা পরিধান কর এবং তোমরা দেখতে পাও তাতে পানি কেটে কেটে নৌযান চলাচল করে, যাতে তোমরা সন্ধান করতে পার আল্লাহর অনুগ্রহ এবং যাতে তোমরা শোকর গোজার হয়ে যাও। ১০

তাফসীরঃ

৮. এর দ্বারা মাছের গোশত বোঝানো হয়েছে।
১৫

وَاَلۡقٰی فِی الۡاَرۡضِ رَوَاسِیَ اَنۡ تَمِیۡدَ بِکُمۡ وَاَنۡہٰرًا وَّسُبُلًا لَّعَلَّکُمۡ تَہۡتَدُوۡنَ ۙ ١٥

ওয়া আলকা-ফিল আরদি রাওয়া-ছিয়া আন তামীদাবিকুমওয়াআনহা-রাওঁ ওয়া ছুবুলাল লা‘আল্লাকুম তাহতাদূন।

এবং তিনি পৃথিবীতে পাহাড়ের ভার স্থাপন করেছেন, যাতে তা তোমাদের নিয়ে দোল না খায় ১১ এবং নদ-নদী ও পথ তৈরি করেছেন, যাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পার।

তাফসীরঃ

১১. প্রথমে পৃথিবীকে যখন সাগরের উপর স্থাপন করা হয়েছিল, তখন পৃথিবী দোল খাচ্ছিল। আল্লাহ তাআলা পাহাড় দ্বারা তা স্থির করে দেন। আধুনিক বিজ্ঞান দ্বারা জানা যায়, এখনও বড়-বড় মহাদেশ সাগরের পানির উপর ঈষৎ নড়াচড়া করছে। কিন্তু সে নড়াচড়া অত্যন্ত মৃদু, যা মানুষ টের পায় না।
১৬

وَعَلٰمٰتٍ ؕ وَبِالنَّجۡمِ ہُمۡ یَہۡتَدُوۡنَ ١٦

ওয়া ‘আলা-মা-তিওঁ ওয়াবিন্নাজমি হুম ইয়াহতাদূ ন।

এবং (পথ চেনার সুবিধার্থে) বহু আলামত তৈরি করেছেন, তাছাড়া মানুষ নক্ষত্র দ্বারা পথ চিনে নেয়।
১৭

اَفَمَنۡ یَّخۡلُقُ کَمَنۡ لَّا یَخۡلُقُ ؕ اَفَلَا تَذَکَّرُوۡنَ ١٧

আফামাইঁ ইয়াখলুকুকামাল লা-ইয়াখলুকু আফালা-তাযাক্কারূন।

সুতরাং বল, যেই সত্তা (এতসব বস্তু) সৃষ্টি করেন, তিনি কি তার সমান হতে পারেন, যে কিছুই সৃষ্টি করে না? তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?
১৮

وَاِنۡ تَعُدُّوۡا نِعۡمَۃَ اللّٰہِ لَا تُحۡصُوۡہَا ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَغَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ١٨

ওয়া ইন তা‘উদ্দূনি‘মাতাল্লা-হি লা-তুহসূহা- ইন্নাল্লা-হা লাগাফরুর রাহীম।

তোমরা যদি আল্লাহর নি‘আমতসমূহ গুণতে শুরু কর, তবে তা গুণে শেষ করতে পারবে না। বস্তুত আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ১২

তাফসীরঃ

১২. অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলার নি‘আমত যখন এত বিপুল, যা গণা সম্ভব নয়, তখন তার তো দাবী ছিল মানুষ সর্বক্ষণ আল্লাহ তাআলার শোকর আদায়ে লিপ্ত থাকবে, কিন্তু আল্লাহ তাআলা জানেন, মানুষের পক্ষে সেটা সম্ভব নয়। তাই তিনি তাদের সঙ্গে মাগফিরাত ও রহমত সুলভ আচরণ করেন এবং তাদের দ্বারা শোকর আদায়ে যে কমতি ঘটে তা ক্ষমা করে দেন। তবে তিনি এটা অবশ্যই চান যে, মানুষ তাঁর আহকাম মোতাবেক জীবন যাপন করবে এবং প্রকাশ্য ও গোপন সর্বাবস্থায় তাঁর অনুগত হয়ে চলবে। এজন্য সর্বদা তার অন্তরে এ চেতনা জাগ্রত রাখতে হবে যে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতিটি কাজ জানেন, চাই সে তা প্রকাশ্যে করুক বা গোপনে। সুতরাং পরবর্তী আয়াতে এ সত্যই ব্যক্ত হয়েছে।
১৯

وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ مَا تُسِرُّوۡنَ وَمَا تُعۡلِنُوۡنَ ١٩

ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামুমা-তুছিররূনা ওয়ামা-তু‘লিনূন।

তোমরা যা গোপনে কর তা আল্লাহ জানেন এবং তোমরা যা প্রকাশ্যে কর তাও।
২০

وَالَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ لَا یَخۡلُقُوۡنَ شَیۡئًا وَّہُمۡ یُخۡلَقُوۡنَ ؕ ٢۰

ওয়াল্লাযীনা ইয়াদ‘ঊনা মিন দূনিল্লা-হি লা-ইয়াখলুকূ না শাইআওঁ ওয়া হুম ইউখলাকূন।

তারা আল্লাহকে ছেড়ে যাদেরকে (অর্থাৎ যে সব দেব-দেবীকে) ডাকে, তারা কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না। তাদের নিজেদেরই তো সৃষ্টি করা হয়।
২১

اَمۡوَاتٌ غَیۡرُ اَحۡیَآءٍ ۚ  وَمَا یَشۡعُرُوۡنَ ۙ  اَیَّانَ یُبۡعَثُوۡنَ ٪ ٢١

আমওয়া-তুন গাইরু আহইয়াইওঁ ওয়ামা-ইয়াশ‘উরূনা আইইয়া-না ইউব‘আছূন।

তারা নিষ্প্রাণ। তাদের ভেতর জীবন নেই। তাদেরকে কখন জীবিত করে উঠানো হবে সে বিষয়েও তাদের কোন চেতনা নেই। ১৩

তাফসীরঃ

১৩. এর দ্বারা তারা যাদের পূজা করত সেই প্রতিমাদের বোঝানো হয়েছে। বলা হচ্ছে, তারা অন্যকে সৃষ্টি করবে কি, নিজেরাই তো অন্যের হাতে তৈরি। তাদের না আছে জান, না জীবন। তাদের একথাও জানা নেই যে, মৃত্যুর পর তাদের পূজারীদেরকে কবে পুনরুজ্জীবিত করা হবে?
২২

اِلٰـہُکُمۡ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ ۚ فَالَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ قُلُوۡبُہُمۡ مُّنۡکِرَۃٌ وَّہُمۡ مُّسۡتَکۡبِرُوۡنَ ٢٢

ইলা-হুকুম ইলা-হুওঁ ওয়াহিদুন ফাল্লাযীনা লা-ইউ’মিনূনা বিলআ-খিরাতি কুলূবুহুম মুনকিরাতুওঁ ওয়াহুম মুছতাকবিরূন।

তোমাদের মাবুদ একই মাবুদ। সুতরাং যারা আখেরাতে ঈমান রাখে না তাদের অন্তরে অবিশ্বাস বদ্ধমূল হয়ে গেছে এবং তারা অহমিকায় লিপ্ত।
২৩

لَا جَرَمَ اَنَّ اللّٰہَ یَعۡلَمُ مَا یُسِرُّوۡنَ وَمَا یُعۡلِنُوۡنَ ؕ اِنَّہٗ لَا یُحِبُّ الۡمُسۡتَکۡبِرِیۡنَ ٢٣

লা-জারামা আন্নাল্লা-হা ইয়া‘লামুমা-ইউছিররূনা ওয়ামা-ইউ‘লিনূন ইন্নাহু লাইউহিব্বুল মুছতাকবিরীন।

এটা সুনিশ্চিত যে, তারা যা গোপনে করে তা আল্লাহ জানেন এবং তারা যা প্রকাশ্যে করে তাও। নিশ্চয়ই তিনি অহংকারীকে পছন্দ করেন না। ১৪

তাফসীরঃ

১৪. আল্লাহ তাআলা যেহেতু অহংকারীদেরকে পছন্দ করেন না তাই তিনি অবশ্যই তাদেরকে শাস্তি দেবেন। আর সেজন্য আখেরাতের অস্তিত্ব থাকা অপরিহার্য। কাজেই আখেরাতকে অস্বীকার করার কোনও কারণ নেই।
২৪

وَاِذَا قِیۡلَ لَہُمۡ مَّاذَاۤ اَنۡزَلَ رَبُّکُمۡ ۙ  قَالُوۡۤا اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ ۙ ٢٤

ওয়া ইযা- কীলা লাহুম মা-যাআনঝালা রাব্বুকুম কা-লূআছা-তীরুল আওওয়ালীন।

যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমাদের প্রতিপালক কী বিষয় অবতীর্ণ করেছেন? তারা বলে বিগতদের গল্প!
২৫

لِیَحۡمِلُوۡۤا اَوۡزَارَہُمۡ کَامِلَۃً یَّوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ۙ  وَمِنۡ اَوۡزَارِ الَّذِیۡنَ یُضِلُّوۡنَہُمۡ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ؕ  اَلَا سَآءَ مَا یَزِرُوۡنَ ٪ ٢٥

লিইয়াহমিলূআওঝা-রাহুম কা-মিলাতাইঁ ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ওয়া মিন আওঝারিল্লাযীনা ইউদিললূনাহুম বিগাইরি ‘ইলমিন আলা-ছাআ মা ইয়াঝিরূন।

(এসবের) পরিণাম হল এই যে, কিয়ামতের দিন তারা নিজেদের (কৃত গুনাহের) পরিপূর্ণ ভারও বহন করবে এবং তাদেরও ভারের একটা অংশ, যাদেরকে তারা কোনরূপ জ্ঞান ব্যতিরেকে বিপথগামী করছে। ১৫ স্মরণ রেখ, তারা যা বহন করছে তা অতি মন্দ।

তাফসীরঃ

১৫. অর্থাৎ, তারা আল্লাহ তাআলার কালামকে গল্প-গুজব সাব্যস্ত করে যাদেরকে বিপথগামী করেছিল, তারা তাদের প্রভাব-বলয়ে থেকে যেসব গুনাহ করত, তার বোঝাও তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।
২৬

قَدۡ مَکَرَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ فَاَتَی اللّٰہُ بُنۡیَانَہُمۡ مِّنَ الۡقَوَاعِدِ فَخَرَّ عَلَیۡہِمُ السَّقۡفُ مِنۡ فَوۡقِہِمۡ وَاَتٰىہُمُ الۡعَذَابُ مِنۡ حَیۡثُ لَا یَشۡعُرُوۡنَ ٢٦

কাদ মাকারাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম ফাআতাল্লা-হুবুনইয়া-নাহুম মিনাল কাওয়া-‘ইদি ফাখাররা ‘আলাইহিমুছছাকফুমিন ফাউকিহিম ওয়া আতা-হুমুল ‘আযা-বুমিন হাইছু লাইয়াশ‘উরূন।

তাদের পূর্ববর্তী লোকেও চক্রান্ত করেছিল। পরিণামে তারা যে (ষড়যন্ত্রের) ইমারত নির্মাণ করেছিল, আল্লাহ তার ভিত্তিমূল উপড়ে ফেললেন ফলে উপর থেকে ছাদও তাদের উপর ধ্বসে পড়ল। আর এমন স্থান থেকে তাদের উপর আযাব আপতিত হল, যা তারা টের করতেই পারছিল না। ১৬

তাফসীরঃ

১৬. অর্থাৎ মক্কাবাসীদের আগেও বহু জাতি তাদের নবীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল এবং আল্লাহর জ্যোতিকে নিভিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের সাধ্যমত সবকিছুই করেছিল, কিন্তু পরিণামে এমনভাবে তাদের উপর আল্লাহর আযাব এসে পড়েছিল, যা ছিল তাদের ধারণার অতীত। এটাই সর্বকালে আল্লাহ তাআলার নীতি। নবীগণ এবং তাদের যথার্থ অনুসারীগণ যখন দাওয়াতী কার্যক্রমে অবতীর্ণ হন, বাতিল শক্তি তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য আঁটঘাট বেঁধে নেমে পড়ে। তারা থাকে দর্পিত-স্পর্ধিত। নিজেদের শক্তি-সামর্থের উপর অত্যধিক আস্থা থাকার কারণে কোনও রকম বিপর্যয়ের কথা তাদের মনেও আসে না। কিন্তু ওদিকে নিজেদের সক্ষমতার উপর নয়, বরং আল্লাহ তাআলার কুদরতের উপর পূর্ণ আস্থা থাকার কারণে সত্যপন্থীদের পক্ষে আল্লাহ তাআলার সাহায্য থাকে। তাঁর ঘোষণা রয়েছে وَلَيَنْصُرَنَّ اللّٰهُ مَنْ يَّنْصُرُهُ যে আল্লাহর দীনের সাহায্য করে আল্লাহ তাকে অবশ্যই সাহায্য করেন’। (সূরা হজ্জ ২২ : ৪০) সুতরাং একদিকে তিনি তাদেরকে জয়যুক্ত করেন আর অন্যদিকে সত্যের দুশমনদেরকে তাদের কল্পনার বাইরে জেরবার করে দেন। -অনুবাদক
২৭

ثُمَّ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ یُخۡزِیۡہِمۡ وَیَقُوۡلُ اَیۡنَ شُرَکَآءِیَ الَّذِیۡنَ کُنۡتُمۡ تُشَآقُّوۡنَ فِیۡہِمۡ ؕ  قَالَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡعِلۡمَ اِنَّ الۡخِزۡیَ الۡیَوۡمَ وَالسُّوۡٓءَ عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ ۙ ٢٧

ছু ম্মা ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ইউখঝীহিম ওয়া ইয়াকূলুআইনা শুরাকাই ইয়াল্লাযীনা কুনতুম তুশাক্কূনা ফীহিম কা-লাল্লাযীনা ঊতুল ‘ইলমা ইন্নাল খিঝইয়াল ইয়াওমা ওয়াছছূআ ‘আলাল কা-ফিরীন।

তারপর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন, আমার সেই শরীকগণ কোথায়, যাদেরকে নিয়ে তোমরা (মুসলিমদের সাথে) বিতণ্ডা করতে? ১৭ যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তারা (সে দিন) বলবে, আজ বড় লাঞ্ছনা ও দুর্দশা চেপেছে সেই কাফেরদের উপর

তাফসীরঃ

১৭. অর্থাৎ তোমাদের বিশ্বাস ছিল তারা তোমাদের পক্ষে সুপারিশ করবে আর এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কও করতে। ঠিক আছে, এখন তাদেরকে ডাক, তারা তোমাদের জন্য সুপারিশ করুক। আল্লাহ তাআলা এ কথা বলবেন, পরিহাস ও তিরস্কারস্বরূপ। -অনুবাদক
২৮

الَّذِیۡنَ تَتَوَفّٰىہُمُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ ظَالِمِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ ۪ فَاَلۡقَوُا السَّلَمَ مَا کُنَّا نَعۡمَلُ مِنۡ سُوۡٓءٍ ؕ بَلٰۤی اِنَّ اللّٰہَ عَلِیۡمٌۢ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ٢٨

আল্লাযীনা তাতাওয়াফফা-হুমুল মালাইকাতুজা-লিমীআনফুছিহিম ফাআলকাউছ ছালামা মা-কুন্না-না‘মালুমিন ছূইন বালাইন্নাল্লা-হা ‘আলীমুম বিমা-কুনতুম তা‘মালূন।

ফিরিশতাগণ যাদের রূহ এই অবস্থায় সংহার করেছে, যখন তারা (কুফরীতে লিপ্ত থেকে) নিজ সত্তার উপর জুলুম করছিল। ১৮ এ সময় কাফেরগণ আত্মসমর্পণ করে বলবে যে, আমরা তো কোন মন্দ কাজ করতাম না। (তাদের বলা হবে) আলবৎ করতে! তোমরা যা-কিছু করতে সব আল্লাহ জানেন।

তাফসীরঃ

১৮. এর দ্বারা জানা গেল, যারা কুফর অবস্থায় মারা যায় শাস্তি কেবল তাদেরই হবে। মৃত্যুর আগে আগে যদি কেউ তাওবা করে ঈমান এনে ফেলে তবে তার তাওবা কবুল হয়ে যায় এবং তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
২৯

فَادۡخُلُوۡۤا اَبۡوَابَ جَہَنَّمَ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ؕ فَلَبِئۡسَ مَثۡوَی الۡمُتَکَبِّرِیۡنَ ٢٩

ফাদখুলূআবওয়া-বা জাহান্নামা খালিদীনা ফীহা- ফালাবি’ছা মাছওয়াল মুতাকাববিরীন।

সুতরাং এখন স্থায়ীভাবে জাহান্নাম বাসের জন্য তার দরজা দিয়ে প্রবেশ কর। অহংকারীদের এ ঠিকানা কতই না মন্দ!
৩০

وَقِیۡلَ لِلَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا مَاذَاۤ اَنۡزَلَ رَبُّکُمۡ ؕ  قَالُوۡا خَیۡرًا ؕ  لِلَّذِیۡنَ اَحۡسَنُوۡا فِیۡ ہٰذِہِ الدُّنۡیَا حَسَنَۃٌ ؕ  وَلَدَارُ الۡاٰخِرَۃِ خَیۡرٌ ؕ  وَلَنِعۡمَ دَارُ الۡمُتَّقِیۡنَ ۙ ٣۰

ওয়া কীলা লিল্লাযীনাততাকাও মা-যাআনঝালা রাব্বুকুম কা-লূখাইরাল লিল্লাযীনা আহছানূফী হা-যিহিদদুনইয়া-হাছানাতুওঁ ওয়া লাদা-রুল আ-খিরাতি খাইরুওঁ ওয়ালানি‘মা দা-রুল মুত্তাকীন।

(অন্য দিকে) মুত্তাকীদের জিজ্ঞেস করা হল, তোমাদের প্রতিপালক কী নাযিল করেছেন? তারা বলল, সমূহ কল্যাণই নাযিল করেছেন। (এভাবে) যারা পুণ্যের কর্মপন্থা অবলম্বন করেছে তাদের জন্য ইহকালেও মঙ্গল আছে, আর আখেরাতের নিবাস তো আগাগোড়া মঙ্গলই। মুত্তাকীদের নিবাস কতই না উত্তম
৩১

جَنّٰتُ عَدۡنٍ یَّدۡخُلُوۡنَہَا تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ لَہُمۡ فِیۡہَا مَا یَشَآءُوۡنَ ؕ  کَذٰلِکَ یَجۡزِی اللّٰہُ الۡمُتَّقِیۡنَ ۙ ٣١

জান্না-তু‘আদনিইঁ ইয়াদখুলূনাহা-তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু লাহুম ফীহা-মাইয়াশাঊনা কাযা-লিকা ইয়াজঝিল্লা-হুল মুত্তাকীন।

স্থায়ী বসবাসের সেই উদ্যান, যাতে তারা প্রবেশ করবে, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত থাকবে এবং তারা সেখানে যা-কিছু চাবে তাই পাবে। আল্লাহ এ রকমই পুরস্কার দিয়ে থাকেন মুত্তাকীদেরকে
৩২

الَّذِیۡنَ تَتَوَفّٰىہُمُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ طَیِّبِیۡنَ ۙ یَقُوۡلُوۡنَ سَلٰمٌ عَلَیۡکُمُ ۙ ادۡخُلُوا الۡجَنَّۃَ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ٣٢

আল্লাযীনা তাতাওয়াফফা-হুমুল মালাইকাতুতাইয়িবীনা ইয়াকূলূনা ছালা-মুন ‘আলাইকুমু দ খুলুল জান্নাতা বিমা-কুনতুম তা‘মালূন।

তারা ওই সকল লোক, ফিরিশতাগণ যাদের রূহ কবজ করে তাদের পাক-পবিত্র থাকা অবস্থায়। ১৯ তারা (তাদেরকে) বলে, তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। তোমরা যে আমল করতে, তার ফলে জান্নাতে প্রবেশ কর।

তাফসীরঃ

১৯. অর্থাৎ কুফর ও শিরক এবং পাপাচারের পঙ্কিলতা থেকে তারা পাক-পবিত্র থাকবে এবং আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য থাকবে স্বতঃস্ফূর্ত। -অনুবাদক
৩৩

ہَلۡ یَنۡظُرُوۡنَ اِلَّاۤ اَنۡ تَاۡتِیَہُمُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ اَوۡ یَاۡتِیَ اَمۡرُ رَبِّکَ ؕ کَذٰلِکَ فَعَلَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ؕ وَمَا ظَلَمَہُمُ اللّٰہُ وَلٰکِنۡ کَانُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ یَظۡلِمُوۡنَ ٣٣

হাল ইয়ানজু রূনা ইল্লাআন তা’তিয়াহুমুল মালাইকাতুআও ইয়া’তিয়া আমরু রাব্বিকা কাযা-লিকা ফা‘আলাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম ওয়ামা জালামাহুমুল্লা-হু ওয়ালা-কিন কানূআনফুছাহুম ইয়াজলিমূন।

তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ ঈমান আনার ব্যাপারে) কি কেবল এরই প্রতীক্ষায় আছে যে, তাদের কাছে ফিরিশতা এসে উপস্থিত হবে অথবা তোমার প্রতিপালকের হুকুম (আযাব বা কিয়ামতরূপে) এসে পড়বে? যেসব জাতি তাদের পূর্বে গত হয়েছে, তারাও এরূপই করেছিল। আল্লাহ তাদের প্রতি কোন জুলুম করেননি, কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করছিল।
৩৪

فَاَصَابَہُمۡ سَیِّاٰتُ مَا عَمِلُوۡا وَحَاقَ بِہِمۡ مَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ٪ ٣٤

ফাআসা-বাহুম ছাইয়িআ-তু মা-‘আমিলূ ওয়া হা-কাবিহিমমা- কা-নূ বিহী ইয়াছতাহঝিঊন।

সুতরাং তাদের উপর তাদের মন্দ কাজের কুফল আপতিত হয়েছিল এবং তারা যে জিনিস নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, তাই এসে তাদেরকে পরিবেষ্টন করেছিল।
৩৫

وَقَالَ الَّذِیۡنَ اَشۡرَکُوۡا لَوۡ شَآءَ اللّٰہُ مَا عَبَدۡنَا مِنۡ دُوۡنِہٖ مِنۡ شَیۡءٍ نَّحۡنُ وَلَاۤ اٰبَآؤُنَا وَلَا حَرَّمۡنَا مِنۡ دُوۡنِہٖ مِنۡ شَیۡءٍ ؕ کَذٰلِکَ فَعَلَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ۚ فَہَلۡ عَلَی الرُّسُلِ اِلَّا الۡبَلٰغُ الۡمُبِیۡنُ ٣٥

ওয়া কালাল্লাযীনা আশরাকূলাও শাআল্লা-হু মা-‘আবাদনা-মিন দূ নিহী মিন শাইয়িন নাহনুওয়ালাআ-বাউনা-ওয়ালা-হাররামনা-মিন দূ নিহী মিন শাইয়িন কাযা-লিকা ফা‘আলাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম ফাহাল ‘আলাররুছুলি ইল্লাল বালা-গুল মুবীন।

যারা শিরক অবলম্বন করেছে, তারা বলে, আল্লাহ চাইলে আমরা তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করতাম না না আমরা এবং না আমাদের বাপ-দাদাগণ এবং আমরা তার হুকুম ছাড়া কোন জিনিস হারামও সাব্যস্ত করতাম না। তাদের পূর্বে যে সকল জাতি গত হয়েছে তারাও এ রকমই করেছিল। কিন্তু স্পষ্টভাবে বার্তা পৌঁছানো ছাড়া রাসূলগণের আর কোন দায়িত্ব নেই। ২০

তাফসীরঃ

২০. তাদের উক্তি ‘আল্লাহ চাইলে আমরা তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করতাম না’ এটা সম্পূর্ণ হঠকারিতাপ্রসূত কথা। এ রকম কথা তো যে-কোনও অপরাধীই বলতে পারে। কঠিন থেকে কঠিন অপরাধ করবে আর বলে দেবে, আল্লাহ চাইলে আমি এরূপ অপরাধ করতাম না। এরূপ জবাব কখনও গ্রহণযোগ্য হয় না। তাই আল্লাহ তাআলা এর কোন প্রতিউত্তর না করে কেবল জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাসূলদের দায়িত্ব বার্তা পৌঁছানো পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। যেভাবেই হোক এরূপ জেদী লোকদেরকে সৎপথে আনতেই হবে এটা তাদের দায়িত্ব নয়। তারা যে বলছে, ‘আমরা কোন জিনিসকে হারাম সাব্যস্ত করতাম না’, এর দ্বারা তারা তাদের প্রতিমাদের নামে যেসব পশু হারাম করেছিল, তার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। বিস্তারিত দেখুন সূরা আনআম (৬ : ১৩৯-১৪৫)।
৩৬

وَلَقَدۡ بَعَثۡنَا فِیۡ کُلِّ اُمَّۃٍ رَّسُوۡلًا اَنِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ وَاجۡتَنِبُوا الطَّاغُوۡتَ ۚ فَمِنۡہُمۡ مَّنۡ ہَدَی اللّٰہُ وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ حَقَّتۡ عَلَیۡہِ الضَّلٰلَۃُ ؕ فَسِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَانۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُکَذِّبِیۡنَ ٣٦

ওয়ালাকাদ বা‘আছনা-ফী কুল্লি উম্মাতির রাছূলান আনি‘বুদুল্লা-হা ওয়াজতানিবুততাগূতা ফামিনহুম মান হাদাল্লা-হু ওয়া মিনহুম মান হাক্কাত ‘আলাইহিদ্দালা-লাতু ফাছীরূ ফিল আরদিফানজুরূকাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল মুকাযযি বীন।

নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক উম্মতের ভেতর কোনও না কোনও রাসূল পাঠিয়েছি এই পথনির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগূতকে পরিহার কর। ২১ তারপর তাদের মধ্যে কতক তো এমন ছিল, যাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত দান করেছেন আর কতক ছিল এমন, যাদের উপর বিপথগামিতা অবধারিত হয়ে গেছে। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে একটু পরিভ্রমণ করে দেখ, (নবীদেরকে) অস্বীকারকারীদের পরিণতি কী হয়েছে?

তাফসীরঃ

২১. ‘তাগুত’ শয়তানকেও বলে আবার প্রতিমাদেরকেও বলে। সে হিসেবে বাক্যটির দুই ব্যাখ্যা হতে পারে। (ক) তোমরা শয়তানকে পরিহার করো, তার অনুগামী হয়ো না। (খ) তোমরা মূর্তিপূজা হতে বেঁচে থাক।
৩৭

اِنۡ تَحۡرِصۡ عَلٰی ہُدٰىہُمۡ فَاِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِیۡ مَنۡ یُّضِلُّ وَمَا لَہُمۡ مِّنۡ نّٰصِرِیۡنَ ٣٧

ইন তাহরিস ‘আলা-হুদা-হুম ফাইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াহদী মাইঁ ইউদিল্লুওয়ামা-লাহুম মিন্নাসিরীন।

(হে নবী!) তাদের হিদায়াতপ্রাপ্তির লোভ যদি তোমার থাকে, তবে বাস্তবতা হল, আল্লাহ যাদেরকে (তাদের একরোখামির কারণে) পথভ্রষ্ট করেন তাদেরকে হিদায়াতে উপনীত করেন না এবং এরূপ লোকের কোন রকমের সাহায্যকারীও লাভ হয় না।
৩৮

وَاَقۡسَمُوۡا بِاللّٰہِ جَہۡدَ اَیۡمَانِہِمۡ ۙ  لَا یَبۡعَثُ اللّٰہُ مَنۡ یَّمُوۡتُ ؕ  بَلٰی وَعۡدًا عَلَیۡہِ حَقًّا وَّلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ۙ ٣٨

ওয়া আকছামূবিল্লা-হি জাহদা আইমা-নিহিম লা-ইয়াব‘আছুল্লা-হু মাইঁ ইয়ামূতু বালা-ওয়া‘দান ‘আলাইহি হাক্কাওঁ ওয়ালা-কিন্না আকছারান্না-ছি লা-ইয়া‘লামূন।

তারা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে আল্লাহর নামে শপথ করে বলে, যারা মারা যায় আল্লাহ তাদেরকে পুনরায় জীবিত করবেন না। কেন করবেন না? এটা তো এক প্রতিশ্রুতি, যাকে সত্যে পরিণত করার দায়িত্ব আল্লাহর, কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না।
৩৯

لِیُبَیِّنَ لَہُمُ الَّذِیۡ یَخۡتَلِفُوۡنَ فِیۡہِ وَلِیَعۡلَمَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَنَّہُمۡ کَانُوۡا کٰذِبِیۡنَ ٣٩

লিইউবাইয়িনা লাহুমুল্লাযী ইয়াখতালিফূনা ফীহি ওয়া লিইয়া‘লামাল্লাযীনা কাফারূআন্নাহুম কা-নূকা-যিবীন।

(আল্লাহ পুনর্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি করেছেন) মানুষ যে বিষয়ে মতবিরোধ করছে, তা তাদের সামনে স্পষ্ট করে দেওয়ার জন্য এবং যাতে কাফেরগণ জানতে পারে যে, তারা মিথ্যাবাদী ছিল।
৪০

اِنَّمَا قَوۡلُنَا لِشَیۡءٍ اِذَاۤ اَرَدۡنٰہُ اَنۡ نَّقُوۡلَ لَہٗ کُنۡ فَیَکُوۡنُ ٪ ٤۰

ইন্নামা-কাওলুনা-লিশাইয়িন ইযাআরদনা-হু আন নাকূলা লাহূকুন ফাইয়াকূন।

আমি যখন কোন জিনিস সৃষ্টি করার ইচ্ছা করি, তখন আমার পক্ষ থেকে কেবল এতটুকু কথাই হয় যে, আমি তাকে বলি, ‘হয়ে যাও’, অমনি তা হয়ে যায়। ২২

তাফসীরঃ

২২. পূর্বের আয়াতে আখেরাতে যে দ্বিতীয় জীবন আসছে, তার উদ্দেশ্য বর্ণিত হয়েছিল। আর এ আয়াতে কাফেরগণ মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবনকে কী কারণে অসম্ভব মনে করত তা বর্ণনা করত তার জবাব দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, তোমরা মৃত্যুর পর পুনরুত্থানকে অসম্ভব মনে করছ এ কারণে যে, তা তোমাদের চিন্তা ও কল্পনার ঊর্ধ্বের জিনিস। কিন্তু আল্লাহ তাআলার পক্ষে কোনও কাজই কঠিন নয়। কোন জিনিস সৃষ্টি করার জন্য তাঁকে পরিশ্রম করতে হয় না। তিনি কেবল আদেশ দান করেন আর সঙ্গে সঙ্গে সে জিনিস সৃষ্টি হয়ে যায়।
৪১

وَالَّذِیۡنَ ہَاجَرُوۡا فِی اللّٰہِ مِنۡۢ بَعۡدِ مَا ظُلِمُوۡا لَـنُبَوِّئَنَّہُمۡ فِی الدُّنۡیَا حَسَنَۃً ؕ  وَلَاَجۡرُ الۡاٰخِرَۃِ اَکۡبَرُ ۘ  لَوۡ کَانُوۡا یَعۡلَمُوۡنَ ۙ ٤١

ওয়াল্লাযীনা হা-জারূফিল্লা-হি মিম বা‘দি মা-জু লিমূলানুবাওবিআন্নাহুম ফিদদুনইয়াহাছানাতাওঁ ওয়ালাআজরুল আ-খিরাতি আকবার । লাও কা-নূইয়া‘লামূন।

যারা নির্যাতিত হওয়ার পর আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষে হিজরত করেছে নিশ্চিত থেক আমি দুনিয়ায়ও তাদেরকে উত্তম নিবাস দান করব আর আখেরাতের প্রতিদান তো নিঃসন্দেহে সর্বশ্রেষ্ঠ। হায়! তারা যদি জানত। ২৩

তাফসীরঃ

২৩. যেমন সূরাটির পরিচিতিতে বলা হয়েছিল, এ আয়াতে সেই সাহাবীদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, যারা কাফেরদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে হাবশায় হিজরত করেছিলেন। তবে আয়াতে ব্যবহৃত শব্দাবলী সাধারণ। কাজেই দীনের খাতিরে যে-কোনও দেশত্যাগী মুহাজিরের জন্য এ আয়াত প্রযোজ্য। সবশেষে যে বলা হয়েছে, ‘হায়, তারা যদি জানত!’ এর দ্বারাও দৃশ্যত সেই মুহাজিরগণকেই বোঝানো উদ্দেশ্য। এর অর্থ, তারা যদি এই প্রতিদান ও পুরস্কার সম্পর্কে জানতে পারত তবে নির্বাসনের কারণে তাদের যে কষ্ট হচ্ছে, তা বিলকুল দূর হয়ে যেত। কোন কোন মুফাসসিরের মতে, এর দ্বারা কাফেরদেরকে বোঝানো হয়েছে। এর অর্থ, হায় এই সত্য যদি তারাও জানতে পারত, তবে তারা অবশ্যই কুফর পরিত্যাগ করত।
৪২

الَّذِیۡنَ صَبَرُوۡا وَعَلٰی رَبِّہِمۡ یَتَوَکَّلُوۡنَ ٤٢

আল্লাযীনা সাবারূওয়া‘আলা-রাব্বিহিম ইয়া তাওয়াক্কালূন।

তারা ওই সব লোক, যারা সবর অবলম্বন করে এবং নিজ প্রতিপালকের উপর ভরসা রাখে।
৪৩

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِکَ اِلَّا رِجَالًا نُّوۡحِیۡۤ اِلَیۡہِمۡ فَسۡـَٔلُوۡۤا اَہۡلَ الذِّکۡرِ اِنۡ کُنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ ۙ ٤٣

ওয়ামা আরছালনা- মিন কাবলিকা ইল্লা- রিজা-লান নূহী ইলাইহিম ফাছআলূ আহলাযযিকরি ইন কুনতুম লা-তা‘লামূন।

(হে নবী!) তোমার পূর্বেও আমি অন্য কাউকে নয়, কেবল পুরুষ মানুষকেই রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছিলাম, যাদের প্রতি আমি ওহী নাযিল করতাম। ২৪ (হে অবিশ্বাসীগণ!) যদি এ বিষয়ে তোমাদের জানা না থাকে, তবে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করে নাও। ২৫

তাফসীরঃ

২৪. এর দ্বারা আম-সাধারণকে উলামার শরণাপন্ন হওয়ার তালিম দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শরীআতের কোন বিষয় যার জানা না থাকবে সে আন্দাজ-অনুমান ও নিজ যুক্তি বুদ্ধির পিছনে না পড়ে উলামাদের কাছ থেকে সমাধান জেনে নেবে। এর দ্বারা ইমামগণের তাকলীদ করার জরুরতও প্রমাণিত হয়। -অনুবাদক
৪৪

بِالۡبَیِّنٰتِ وَالزُّبُرِ ؕ وَاَنۡزَلۡنَاۤ اِلَیۡکَ الذِّکۡرَ لِتُبَیِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ اِلَیۡہِمۡ وَلَعَلَّہُمۡ یَتَفَکَّرُوۡنَ ٤٤

বিলবাইয়িনা-তি ওয়াঝঝুবুরি ওয়া আনঝালনাইলাইকাযযিকরা লিতুবাইয়িনা লিন্না-ছি মা-নুঝঝিলা ইলাইহিম ওয়া লা‘আল্লাহুম ইয়াতাফাক্কারূন।

সে রাসূলদেরকে উজ্জ্বল নিদর্শন ও আসমানী কিতাব দিয়ে পাঠানো হয়েছিল। (হে নবী!) আমি তোমার প্রতিও এই কিতাব নাযিল করেছি, যাতে তুমি মানুষের সামনে সেই সব বিষয়ের ব্যাখ্যা করে দাও, যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা করে।
৪৫

اَفَاَمِنَ الَّذِیۡنَ مَکَرُوا السَّیِّاٰتِ اَنۡ یَّخۡسِفَ اللّٰہُ بِہِمُ الۡاَرۡضَ اَوۡ یَاۡتِیَہُمُ الۡعَذَابُ مِنۡ حَیۡثُ لَا یَشۡعُرُوۡنَ ۙ ٤٥

আফাআমিনাল্লাযীনা মাকারুছছাইয়িআ-তি আইঁ ইয়াখছিফাল্লা-হুবিহিমুল আরদাআও ইয়া’তিয়াহুমুল ‘আযা-বুমিন হাইছুলা-ইয়াশ‘উরূন।

তবে কি যারা নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে তারা এ বিষয় থেকে নিজেদেরকে নিরাপদ বোধ করছে যে, আল্লাহ তাদেরকে ভূগর্ভে ধসিয়ে দেবেন বা তাদের উপর এমন স্থান থেকে শাস্তি আসবে, যা তারা ধারণাই করতে পারবে না
৪৬

اَوۡ یَاۡخُذَہُمۡ فِیۡ تَقَلُّبِہِمۡ فَمَا ہُمۡ بِمُعۡجِزِیۡنَ ۙ ٤٦

আও ইয়া’খুযাহুম ফী তাকাল্লুবিহিম ফামা-হুম বিমু‘জিঝীন।

অথবা তাদেরকে চলাফেরা করা অবস্থায়ই ধৃত করবেন? তারা তো তাকে ব্যর্থ করতে পারবে না।
৪৭

اَوۡ یَاۡخُذَہُمۡ عَلٰی تَخَوُّفٍ ؕ فَاِنَّ رَبَّکُمۡ لَرَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ ٤٧

আও ইয়া’খুযাহুম ‘আলা-তাখাওউফিন ফাইন্না রাব্বাকুম লারাঊফুর রাহীম।

অথবা তিনি তাদেরকে এভাবে পাকড়াও করবেন যে, তারা ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকবে। ২৬ কেননা তোমার প্রতিপালক অতি মমতাময়, পরম দয়ালু। ২৭

তাফসীরঃ

২৬. ‘কেননা’-এর সম্পর্ক ‘নিরাপদ বোধ করা’এর সাথে। অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা যেহেতু মমতাবান ও দয়াময়, তাই তিনি কাফেরদেরকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। সহসাই তাদেরকে শাস্তি দেন না। এর ফলে কাফেররা নির্ভয় হয়ে গেছে এবং নিজেদেরকে নিরাপদ মনে করছে। অথচ তাদের উচিত ছিল নির্ভয় নিশ্চিন্ত না হয়ে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের পরিণাম থেকে শিক্ষা নেওয়া।
৪৮

اَوَلَمۡ یَرَوۡا اِلٰی مَا خَلَقَ اللّٰہُ مِنۡ شَیۡءٍ یَّتَفَیَّؤُا ظِلٰلُہٗ عَنِ الۡیَمِیۡنِ وَالشَّمَآئِلِ سُجَّدًا لِّلّٰہِ وَہُمۡ دٰخِرُوۡنَ ٤٨

আওয়ালাম ইয়ারাও ইলা-মা-খালাকাল্লা-হু মিন শাইয়িইঁ ইয়াতাফাইয়াউ জিলা-লুহূ‘আনিল ইয়ামীনি ওয়াশশামাইলি ছুজ্জাদাল লিল্লা-হি ওয়াহুম দা-খিরূন।

তারা কি দেখেনি, আল্লাহ যা-কিছু সৃষ্টি করেছেন, তার ছায়া আল্লাহর প্রতি সিজদারত থেকে ডানে-বামে ঢলে পড়ে এবং তারা সকলে থাকে বিনয়াবনত? ২৮

তাফসীরঃ

২৮. মানুষ যত বড় অহংকারীই হোক, তার ছায়া যখন মাটিতে পড়ে, তখন সে নিরুপায়। তখন আপনা-আপনিই তার দ্বারা বিনয় প্রকাশ পায়। এভাবে আল্লাহ তাআলা প্রতিটি মাখলুকের সাথে ছায়ারূপে এমন একটা জিনিস সৃষ্টি করে দিয়েছেন, যা তার ইচ্ছা ছাড়াই সর্বদা আল্লাহ তাআলার সামনে সিজদায় পড়ে থাকে। এমনকি যারা সূর্যের পূজা করে, তারা নিজেরা তো সূর্যের সামনে সিজদাবনত থাকে, কিন্তু তাদের ছায়া থাকে তাদের বিপরীত দিকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদারত।
৪৯

وَلِلّٰہِ یَسۡجُدُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ مِنۡ دَآبَّۃٍ وَّالۡمَلٰٓئِکَۃُ وَہُمۡ لَا یَسۡتَکۡبِرُوۡنَ ٤٩

ওয়ালিল্লা-হি ইয়াছজুদুমা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদিমিন দাব্বাতিওঁ ওয়াল মালাইকাতুওয়া হুম লা-ইয়াছতাকবিরূন।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যত প্রাণী আছে তারা এবং সমস্ত ফেরেশতা আল্লাহকেই সিজদা করে এবং তারা মোটেই অহংকার করে না।
৫০

یَخَافُوۡنَ رَبَّہُمۡ مِّنۡ فَوۡقِہِمۡ وَیَفۡعَلُوۡنَ مَا یُؤۡمَرُوۡنَ ٪ٛ ٥۰

ইয়াখা-ফূনা রাব্বাহু ম মিন ফাওকিহিম ওয়া ইয়াফ‘আলূনা মা-ইউ’মারূন (ছিজদাহ-৩)।

তারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, যিনি তাদের উপরে এবং তারা সেই কাজই করে, যার আদেশ তাদেরকে করা হয়। ২৯

তাফসীরঃ

২৯. এটি সিজদার আয়াত। অর্থাৎ, কেউ আরবী ভাষায় এ আয়াতটি পাঠ করলে তার উপর সিজদা ওয়াজিব হয়ে যায়। একে ‘সিজদায়ে তিলাওয়াত’ [আয়াত পাঠজনিত সিজদা] বলে। এটা নামাযের সিজদা থেকে আলাদা। অবশ্য কেবল তরজমা পাঠ দ্বারা কিংবা আয়াত পাঠ ছাড়া কেবল দেখার দ্বারা সিজদা ওয়াজিব হয় না।
৫১

وَقَالَ اللّٰہُ لَا تَتَّخِذُوۡۤا اِلٰـہَیۡنِ اثۡنَیۡنِ ۚ اِنَّمَا ہُوَ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ ۚ فَاِیَّایَ فَارۡہَبُوۡنِ ٥١

ওয়া কা-লাল্লাহু লা-তাত্তাখিযূইলা-হাইনিছনাইনি ইন্নামা-হুওয়া ইলা-হুওঁ ওয়াহিদুন ফাইয়্যা-ইয়া ফারহাবূন।

আল্লাহ বলেন, তোমরা দু’-দু’জন মাবুদ গ্রহণ করো না। তিনি তো একই মাবুদ। সুতরাং তোমরা আমাকেই ভয় কর।
৫২

وَلَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَلَہُ الدِّیۡنُ وَاصِبًا ؕ اَفَغَیۡرَ اللّٰہِ تَتَّقُوۡنَ ٥٢

ওয়া লাহূমা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়া লাহুদ্দীনুওয়া-সিবান আফাগাইরাল্লাহি তাত্তাকূন।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে, তা তাঁরই। সর্বাবস্থায় তাঁরই আনুগত্য করা অপরিহার্য। ৩০ তবুও কি তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে ভয় করছ?

তাফসীরঃ

৩০. অর্থাৎ মাবুদ যেহেতু এক আল্লাহ তাআলাই, তাই তার সাথে অন্য কাউকে যোগ করে দুই মাবুদ বানিয়ে নিও না। এর দ্বারা নির্দিষ্ট দুই সংখ্যা লক্ষবস্তু নয়; বরং আল্লাহর সঙ্গে অন্যের অংশীদারিত্বকে রদ করা উদ্দেশ্য, তা সংখ্যা যাই হোক না কেন। বিষয়টাকে এভাবেও বলা যায় যে, তোমরা হক মাবুদ ও নাহক মাবুদ এই দুই মাবুদ গ্রহণ করো না, তাতে নাহক মাবুদের সংখ্যা যাই হোক না কেন। -অনুবাদক
৫৩

وَمَا بِکُمۡ مِّنۡ نِّعۡمَۃٍ فَمِنَ اللّٰہِ ثُمَّ اِذَا مَسَّکُمُ الضُّرُّ فَاِلَیۡہِ تَجۡـَٔرُوۡنَ ۚ ٥٣

ওয়ামা-বিকুম মিন নি‘মাতিন ফামিনাল্লা‘হি ছু ম্মা ইযা-মাছছাকুমুদ দুররু ফাইলাইহি তাজআরূন।

তোমাদের যে নি‘আমতই অর্জিত হয়, আল্লাহরই পক্ষ হতে হয়। আবার যখন কোন দুঃখ-কষ্ট তোমাদেরকে স্পর্শ করে, তখন তোমরা তাঁরই কাছে সাহায্য চাও।
৫৪

ثُمَّ اِذَا کَشَفَ الضُّرَّ عَنۡکُمۡ اِذَا فَرِیۡقٌ مِّنۡکُمۡ بِرَبِّہِمۡ یُشۡرِکُوۡنَ ۙ ٥٤

ছু ম্মা ইযা-কাশাফাদদুররা ‘আনকুম ইযা-ফারীকুম মিনকুম বিরাব্বিহিম ইউশরিকূন।

তারপর তিনি যখন তোমাদের কষ্ট দূর করেন, অমনি তোমাদের মধ্য হতে একটি দল নিজ প্রতিপালকের সাথে শিরক শুরু করে দেয়
৫৫

لِیَکۡفُرُوۡا بِمَاۤ اٰتَیۡنٰہُمۡ ؕ فَتَمَتَّعُوۡا ۟ فَسَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ ٥٥

লিয়াকফুরূবিমা আ-তাইনা-হুম ফাতামাত্তা‘ঊ ফাছাওফা তা‘লামূন।

আমি তাদেরকে যে নি‘আমত দিয়েছি তার অকৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য। ঠিক আছে, কিছুটা ভোগ-বিলাস করে নাও। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে।
৫৬

وَیَجۡعَلُوۡنَ لِمَا لَا یَعۡلَمُوۡنَ نَصِیۡبًا مِّمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ ؕ تَاللّٰہِ لَتُسۡـَٔلُنَّ عَمَّا کُنۡتُمۡ تَفۡتَرُوۡنَ ٥٦

ওয়া ইয়াজ‘আলূনা লিমা-লা-ইয়া‘লামূনা নাসীবাম মিম্মা-রাঝাকনা-হুম তাল্লা-হি লাতুছআলুন্না ‘আম্মা-কুনতুম তাফতারূন।

আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি, তাতে তারা একটা অংশ নির্ধারণ করে তাদের (অর্থাৎ প্রতিমাদের) জন্য, যাদের স্বরূপ তারা নিজেরাই জানে না। ৩১ আল্লাহর কসম! তোমরা যে মিথ্যা উদ্ভাবন করতে, সে সম্পর্কে তোমাদেরকে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

তাফসীরঃ

৩১. আরব মুশরিকগণ তাদের জমির ফসল ও গবাদি পশু থেকে একটা অংশ তাদের প্রতিমাদের নামে উৎসর্গ করত, আয়াতের ইশারা সেদিকেই। এটা কতই না মূর্খতা যে, রিযক দান করেন আল্লাহ তাআলা, অথচ তা উৎসর্গ করা হয় প্রতিমাদের নামে, যে প্রতিমাদের স্বরূপ সম্পর্কে তাদের কোনও জ্ঞান নেই এবং তাদের অস্তিত্ব সম্পর্কেও তাদের কাছে কোন দলীল-প্রমাণ নেই। এ সম্পর্কে সূরা আনআমে (৬ : ১৩৬) বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে।
৫৭

وَیَجۡعَلُوۡنَ لِلّٰہِ الۡبَنٰتِ سُبۡحٰنَہٗ ۙ وَلَہُمۡ مَّا یَشۡتَہُوۡنَ ٥٧

ওয়া ইয়াজ‘আলূনা লিল্লা-হিল বানা-তি ছুবহা-নাহূ ওয়া লাহুম মা-ইয়াশতাহূন।

তারা তো আল্লাহর জন্য কন্যা সন্তান স্থির করছে। সুবহানাল্লাহ! অথচ নিজেদের জন্য (প্রার্থনা করে) তাই (অর্থাৎ পুত্র সন্তান) যা তাদের অভিলাষ মোতাবেক হয়। ৩২

তাফসীরঃ

৩২. আরব মুশরিকগণ ফেরেশতাদেরকে আল্লাহ তাআলার কন্যা সন্তান বলে বিশ্বাস করত। আল্লাহ তাআলা বলেন, প্রথমত আল্লাহ তাআলার কোন সন্তানের প্রয়োজন নেই। দ্বিতীয়ত তারা নিজেরা তো নিজেদের জন্য কন্যা সন্তান পছন্দ করে না। তারা সর্বদা পুত্র সন্তানই আশা করে। সন্দেহ নেই তাদের এ নীতি একটি মারাত্মক গোমরাহী। সেই তারাই আবার আল্লাহ সম্পর্কে বলে, তাঁর কন্যা সন্তান আছে। (যেন ভালো জিনিস তাদের প্রাপ্য, মন্দটা আল্লাহর (নাউযুবিল্লাহ)।
৫৮

وَاِذَا بُشِّرَ اَحَدُہُمۡ بِالۡاُنۡثٰی ظَلَّ وَجۡہُہٗ مُسۡوَدًّا وَّہُوَ کَظِیۡمٌ ۚ ٥٨

ওয়া ইযা-বুশশিরা আহাদুহুম বিলউনছা-জাল্লা ওয়াজহুহূমুছওয়াদ্দাওঁ ওয়া হুওয়া কাজীম।

যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তান (জন্মগ্রহণ)-এর সুসংবাদ দেওয়া হয়, ৩৩ তখন তার চেহারা মলিন হয়ে যায় এবং সে মনে মনে দুঃখ-ক্লিষ্ট হয়।

তাফসীরঃ

৩৩. আল্লাহ তাআলা শব্দ ব্যবহার করেছেন بُشِّرَ (সুসংবাদ দেওয়া হয়)। ইশারা হচ্ছে, পুত্র সন্তানের খবর যেমন সুখবর, কন্যা সন্তানেরও তাই। পুত্র সন্তান হলে সুসংবাদ আর কন্যা সন্তান হলে দুঃসংবাদ, এটা অমানবিক ও অনৈসলামিক ভাবনা দুটোই সুসংবাদ এবং দুই’ই আল্লাহর দান। কাজেই সন্তান পুত্র হোক বা কন্যা সর্বাবস্থায়ই তার জন্ম সংবাদকে খুশীমনে গ্রহণ করত আল্লাহ তাআলার শুকর আদায়ে রত হতে হবে। এটাই কুরআনের শিক্ষা এবং জগদ্বাসীকে সবার আগে কুরআনই এ শিক্ষা দান করেছে। -অনুবাদক
৫৯

یَتَوَارٰی مِنَ الۡقَوۡمِ مِنۡ سُوۡٓءِ مَا بُشِّرَ بِہٖ ؕ اَیُمۡسِکُہٗ عَلٰی ہُوۡنٍ اَمۡ یَدُسُّہٗ فِی التُّرَابِ ؕ اَلَا سَآءَ مَا یَحۡکُمُوۡنَ ٥٩

ইয়াতাওয়া-রা-মিনাল কাওমি মিন ছূই মা-বুশশিরা বিহী আইউমছিকুহূ‘আলা-হূনিন আম ইয়াদুছছুহূফিততুরা-বি আলা-ছাআ মা-ইয়াহকুমূন।

সে এ সুসংবাদকে খারাপ মনে করে মানুষ থেকে লুকিয়ে বেড়ায় (এবং চিন্তা করে), হীনতা স্বীকার করে তাকে নিজের কাছে রেখে দেবে, নাকি তাকে মাটিতে পুঁতে ফেলবে। জেনে রেখ, তারা যে সিদ্ধান্ত স্থির করে তা অতি মন্দ!
৬০

لِلَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ مَثَلُ السَّوۡءِ ۚ  وَلِلّٰہِ الۡمَثَلُ الۡاَعۡلٰی ؕ  وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ٪ ٦۰

লিলাযীনা লা-ইউ’মিনূনা বিলআ-খিরাতি মাছালুছছাওই ওয়া লিল্লা-হিল মাছালুল আ‘লা- ওয়া হুওয়াল ‘আঝীঝুল হাকীম।

যত সব মন্দ বিষয় তাদেরই মধ্যে, যারা আখেরাতে ঈমান রাখে না। আর সর্বোচ্চ পর্যায়ের গুণাবলী আল্লাহ তাআলারই আছে। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
৬১

وَلَوۡ یُؤَاخِذُ اللّٰہُ النَّاسَ بِظُلۡمِہِمۡ مَّا تَرَکَ عَلَیۡہَا مِنۡ دَآبَّۃٍ وَّلٰکِنۡ یُّؤَخِّرُہُمۡ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ۚ فَاِذَا جَآءَ اَجَلُہُمۡ لَا یَسۡتَاۡخِرُوۡنَ سَاعَۃً وَّلَا یَسۡتَقۡدِمُوۡنَ ٦١

ওয়া লাও ইউআ-খিযু ল্লা-হুন্না-ছা বিজুলমিহিম মা-তারাকা ‘আলাইহা-মিন দাব্বাতিওঁ ওয়ালা-কিইঁ ইউআখরিম্নহুম ইলাআজালিম মুছাম্মান ফাইযা-জাআ আজালুহুম লাইয়াছতা’খিরূনা ছা-‘আতাওঁ ওয়ালা-ইয়াছতাকদিমূন।

আল্লাহ মানুষকে তাদের জুলুমের কারণে (সহসা) ধৃত করলে ভূপৃষ্ঠে কোনও প্রাণীকে রেহাই দিতেন না। কিন্তু তিনি তাদেরকে একটা নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত অবকাশ দেন। তারপর যখন তাদের নির্দিষ্ট কাল এসে পড়বে, তখন তারা মুহূর্তকালও পেছনে যেতে পারে না এবং সামনেও যেতে পারে না।
৬২

وَیَجۡعَلُوۡنَ لِلّٰہِ مَا یَکۡرَہُوۡنَ وَتَصِفُ اَلۡسِنَتُہُمُ الۡکَذِبَ اَنَّ لَہُمُ الۡحُسۡنٰی ؕ لَا جَرَمَ اَنَّ لَہُمُ النَّارَ وَاَنَّہُمۡ مُّفۡرَطُوۡنَ ٦٢

ওয়া ইয়াজ আলূনা লিল্লা-হি মা ইয়াকরাহূনা ওয়া তাসিফুআলছিনাতুহুমুল কাযিবা আন্না লাহুমুল হুছনা লা-জারামা আন্না লাহুমুন না-রা ওয়া আন্নাহুম মুফরাতূন।

তারা আল্লাহর জন্য এমন জিনিস নির্ধারণ করে, যা নিজেরা অপছন্দ করে। তারপরও তাদের জিহ্বা (নিজেদের) মিথ্যা প্রশংসা করে যে, সমস্ত মঙ্গল তাদেরই জন্য। এটা সুনিশ্চিত (এরূপ আচরণের কারণে) তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম এবং তাদেরকে তাতেই নিপতিত রাখা হবে।
৬৩

تَاللّٰہِ لَقَدۡ اَرۡسَلۡنَاۤ اِلٰۤی اُمَمٍ مِّنۡ قَبۡلِکَ فَزَیَّنَ لَہُمُ الشَّیۡطٰنُ اَعۡمَالَہُمۡ فَہُوَ وَلِیُّہُمُ الۡیَوۡمَ وَلَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ٦٣

তাল্লা-হি লাকাদ আরছালনাইলাউমামিম মিন কাবলিকা ফাঝাইইয়ানা লাহুমুশ শাইতা-নু আ‘মা-লাহুম ফাহুওয়া ওয়ালিইয়ুহুমুল ইয়াওমা ওয়া লাহুম ‘আযা-বুন আলীম।

(হে নবী!) আল্লাহর কসম! তোমার পূর্বে যেসব জাতি গত হয়েছে, আমি তাদের কাছে রাসূল পাঠিয়েছিলাম। অতঃপর শয়তান তাদের কর্মকাণ্ডকে তাদের সামনে চমৎকার রূপে তুলে ধরেছিল। ৩৪ সুতরাং সে-ই (অর্থাৎ শয়তান) আজ তাদের অভিভাবক এবং (এ কারণে) তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাময় শাস্তি।

তাফসীরঃ

৩৪. অর্থাৎ, তাদেরকে সবক দিল, তোমরা যে সব কাজ করছ সেটাই সর্বাপেক্ষা ভালো।
৬৪

وَمَاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡکَ الۡکِتٰبَ اِلَّا لِتُبَیِّنَ لَہُمُ الَّذِی اخۡتَلَفُوۡا فِیۡہِ ۙ وَہُدًی وَّرَحۡمَۃً لِّقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ ٦٤

ওয়ামাআনঝালনা-‘আলাইকাল কিতা-বা ইল্লা লিতুবাইয়িনা লাহুমুল লাযীখ তালাফূফীহি ওয়াহুদাওঁ ওয়া রাহমাতাল লিকাওমিইঁ ইউ’মিনূন।

আমি তোমার উপর এ কিতাব এজন্যই নাযিল করেছি, যাতে তারা যে সব বিষয়ে বিভিন্ন পথ গ্রহণ করেছে, তাদের সামনে তা সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা কর এবং যাতে এটা ঈমান আনয়নকারীদের জন্য হিদায়াত ও রহমতের অবলম্বন হয়।
৬৫

وَاللّٰہُ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَحۡیَا بِہِ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِہَا ؕ  اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّقَوۡمٍ یَّسۡمَعُوۡنَ ٪ ٦٥

ওয়াল্লা-হু আনঝালা মিনাছছামা-ই মা-আন ফাআহইয়া-বিহিল আরদা বা‘দা মাওতিহা- ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়াতাল লিকাওমিইঁ ইয়াছমা’ঊন।

আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করলেন এবং ভূমির মৃত্যুর পর তাতে প্রাণ সঞ্চার করলেন। নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন আছে সেইসব লোকের জন্য, যারা কথা শোনে। ৩৫

তাফসীরঃ

৩৫. অর্থাৎ হৃদয়-মন দিয়ে শুনলে তারা বুঝতে পারবে, আকাশ থেকে বৃষ্টিবর্ষণ হলে যেমন মৃত ভূমি সঞ্জীবিত হয়, তেমনি আসমানী ওহী দ্বারাও মৃত আত্মায় প্রাণ-সঞ্চার হয় এবং সহসা তা জাগ্রত হয়ে আল্লাহ তাআলার আনুগত্যে লিপ্ত হয় ও সত্যিকার মনুষ্যসুলভ কর্মানুষ্ঠান দ্বারা ব্যক্তির মানবজন্মকে সার্থক করে তোলে। -অনুবাদক
৬৬

وَاِنَّ لَکُمۡ فِی الۡاَنۡعَامِ لَعِبۡرَۃً ؕ نُسۡقِیۡکُمۡ مِّمَّا فِیۡ بُطُوۡنِہٖ مِنۡۢ بَیۡنِ فَرۡثٍ وَّدَمٍ لَّبَنًا خَالِصًا سَآئِغًا لِّلشّٰرِبِیۡنَ ٦٦

ওয়া ইন্না লাকুম ফিল আন‘আ-মি লা‘ইবরাতান নুছকীকুম মিম্মা-ফী বুতূনিহী মিম বাইনি ফারছিওঁ ওয়া দামিল লাবানান খা-লিসান ছাইগাল লিশশা-রিবীন ।

নিশ্চয়ই গবাদি পশুর ভেতর তোমাদের জন্য চিন্তা-ভাবনা করার উপকরণ আছে। তার পেটে যে গোবর ও রক্ত আছে, তার মাঝখান থেকে আমি তোমাদেরকে এমন বিশুদ্ধ দুধ পান করাই, যা পানকারীদের জন্য সুস্বাদু হয়ে থাকে।
৬৭

وَمِنۡ ثَمَرٰتِ النَّخِیۡلِ وَالۡاَعۡنَابِ تَتَّخِذُوۡنَ مِنۡہُ سَکَرًا وَّرِزۡقًا حَسَنًا ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّقَوۡمٍ یَّعۡقِلُوۡنَ ٦٧

ওয়া মিন ছামারা-তিন নাখীলি ওয়াল আ‘না-বি তাত্তাখিযূনা মিনহু ছাকারাওঁ ওয়ারিঝকান হাছানান ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়াতাল লিকাওমিইঁ ইয়া‘কিলূন।

এবং খেজুরের ফল ও আঙ্গুর থেকেও (আমি তোমাদেরকে পানীয় দান করি), যা দ্বারা তোমরা মদ বানাও এবং উত্তম খাদ্যও। ৩৬ নিশ্চয়ই এর ভেতরও সেই সব লোকের জন্য নিদর্শন আছে, যারা বুদ্ধিকে কাজে লাগায়।

তাফসীরঃ

৩৬. এটি মক্কী সূরা। এ সূরা যখন নাযিল হয় তখনও পর্যন্ত মদ হারাম হয়নি। কিন্তু এ আয়াতে মদকে উত্তম খাদ্যের বিপরীতে উল্লেখ করে একটা সূক্ষ্ম ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, মদ উত্তম খাবার নয়। অতঃপর পর্যায়ক্রমে তার মন্দত্ব ও কদর্যতা তুলে ধরে এবং আস্তে-আস্তে তার ব্যবহারকে সঙ্কুচিত করে সবশেষে চূড়ান্তরূপে হারাম করে দেওয়া হয়েছে।
৬৮

وَاَوۡحٰی رَبُّکَ اِلَی النَّحۡلِ اَنِ اتَّخِذِیۡ مِنَ الۡجِبَالِ بُیُوۡتًا وَّمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا یَعۡرِشُوۡنَ ۙ ٦٨

ওয়া আওহা- রাব্বুকা ইলান নাহলি আনিত্তাখিযীমিনালজিবা-লি বুইঊতাও ওয়া মিনাশশাজারি ওয়া মিম্মা-ইয়া‘রিশূন।

তোমার প্রতিপালক মৌমাছির অন্তরে এই নির্দেশ সঞ্চার করেন যে, পাহাড়ে, গাছে এবং মানুষ যে মাচান তৈরি করে তাতে নিজ ঘর তৈরি কর। ৩৭

তাফসীরঃ

৩৭. مَا يَعْرِشُوْنَ যে মাচান তৈরি করে, অর্থাৎ, যার উপর বিভিন্ন প্রকার লতা চড়ানো হয়। আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে মৌমাছির গৃহ নির্মাণের কথা উল্লেখ করেছেন এ কারণে যে, তারা যে চাক তৈরি করে, তা নির্মাণ শিল্পের সর্বোৎকৃষ্ট নমুনা। সাধারণত তারা মৌচাক বানায় উঁচু স্থানে, যাতে তাতে সঞ্চিত মধু মাটির মলিনতা থেকে রক্ষা পায় এবং সর্বদা বিশুদ্ধ বাতাসের স্পর্শের ভেতর থাকে। এর দ্বারা এই দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে যে, মৌমাছিকে এসব শিক্ষা আল্লাহ তাআলাই দিয়েছেন (বিস্তারিত দেখুন, মাআরিফুল কুরআন, ৫ম খণ্ড ৩৬২-৩৬৭ পৃষ্ঠা)।
৬৯

ثُمَّ کُلِیۡ مِنۡ کُلِّ الثَّمَرٰتِ فَاسۡلُکِیۡ سُبُلَ رَبِّکِ ذُلُلًا ؕ یَخۡرُجُ مِنۡۢ بُطُوۡنِہَا شَرَابٌ مُّخۡتَلِفٌ اَلۡوَانُہٗ فِیۡہِ شِفَآءٌ لِّلنَّاسِ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّقَوۡمٍ یَّتَفَکَّرُوۡنَ ٦٩

ছু ম্মা কুলী মিন কুল্লিছছামারা-তি ফাছলুকী ছুবুলা রাব্বিকি যুলুলান ইয়াখরুজুমিম বুতূনিহা-শারা-বুম মুখতালিফুন আলওয়া-নুহূফীহি শিফাউললিন্না-ছি ইন্না ফী যালিকা লাআ-ইয়াতাল লিকাওমিইঁ ইয়াতাফাক্কারূন।

তারপর সব রকম ফল থেকে নিজ খাদ্য আহরণ কর। তারপর তোমার প্রতিপালক তোমার জন্য যে পথ সহজ করে দিয়েছেন, সেই পথে চল। (এভাবে) তার পেট থেকে বিভিন্ন বর্ণের পানীয় বের হয়, যার ভেতর মানুষের জন্য আছে শেফা। নিশ্চয়ই এসবের মধ্যে নিদর্শন আছে সেই সকল লোকের জন্য, যারা চিন্তা-ভাবনা করে।
৭০

وَاللّٰہُ خَلَقَکُمۡ ثُمَّ یَتَوَفّٰىکُمۡ ۟ۙ  وَمِنۡکُمۡ مَّنۡ یُّرَدُّ اِلٰۤی اَرۡذَلِ الۡعُمُرِ لِکَیۡ لَا یَعۡلَمَ بَعۡدَ عِلۡمٍ شَیۡئًا ؕ  اِنَّ اللّٰہَ عَلِیۡمٌ قَدِیۡرٌ ٪ ٧۰

ওয়াল্লা-হু খালাকাকুম ছু ম্মা ইয়াতাওয়াফফা-কুম ওয়া মিনকুম মাইঁ ইউরাদ্দুইলা আরযালিল ‘উমুরি লিকাই লা-ইয়া‘লামা বা‘দা ‘ইলমিন শাইআন ইন্নাল্লা-হা ‘আলীমুন কাদীর।

আল্লাহই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি তোমাদের রূহ কবজ করেন। তোমাদের মধ্যে কতক এমন হয়, যাদেরকে বয়সের সর্বাপেক্ষা অকর্মণ্য স্তরে পৌঁছানো হয়, যেখানে পৌঁছার পর তারা সবকিছু জানার পরও কিছুই জানে না। ৩৮ নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।

তাফসীরঃ

৩৮. চরম বার্ধক্যকে ‘অকর্মণ্য বয়স’ বলা হয়েছে, যে বয়সে মানুষের দৈহিক ও মানসিক শক্তি অকেজো হয়ে যায়। ‘সবকিছু জানা সত্ত্বেও কিছুই না জানা’-এর এক অর্থ হল, মানুষ জীবনের বিগত দিনগুলোতে যেসব জ্ঞান অর্জন করে, বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার পর তার অধিকাংশই ভুলে যায়। এর দ্বিতীয় অর্থ হতে পারে, বার্ধক্যকালে মানুষ সদ্য শোনা কথাও মনে রাখতে পারে না। প্রায়ই এমন হয় যে, এইমাত্র তাকে একটা কথা বলা হল, আর পরক্ষণেই সে একই কথা আবার জিজ্ঞেস করে, যেন সে সম্পর্কে তাকে কিছুই বলা হয়নি। এসব বাস্তবতা বর্ণনা করার উদ্দেশ্য গাফেল মানুষকে সজাগ করা এবং তার দৃষ্টি এদিকে আকর্ষণ করা যে, তার যা-কিছু শক্তি তা আল্লাহ তাআলারই দান। তিনি যখন ইচ্ছা করেন তা আবার কেড়েও নেন। কাজেই নিজের কোন যোগ্যতা ও ক্ষমতার কারণে বড়াই করা উচিত নয়; বরং তার অবস্থার এই চড়াই-উৎরাইয়ের দ্বারা তার শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। উপলব্ধি করা উচিত যে, এই জগত-কারখানা এক মহাজ্ঞানী, মহাশক্তিমান স্রষ্টার সৃষ্টি। তাঁর কোনও শরীক নেই। শেষ পর্যন্ত সকল মানুষকে তাঁরই কাছে ফিরে যেতে হবে।
৭১

وَاللّٰہُ فَضَّلَ بَعۡضَکُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ فِی الرِّزۡقِ ۚ فَمَا الَّذِیۡنَ فُضِّلُوۡا بِرَآدِّیۡ رِزۡقِہِمۡ عَلٰی مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُہُمۡ فَہُمۡ فِیۡہِ سَوَآءٌ ؕ اَفَبِنِعۡمَۃِ اللّٰہِ یَجۡحَدُوۡنَ ٧١

ওয়াল্লা-হু ফাদ্দালা বা‘দাকুম ‘আলা-বা‘দিন ফির রিঝকি ফামাল্লাযীনা ফুদ্দিলূ বিরাদ্দী রিঝকিহিম ‘আলা-মা-মালাকাত আইমা-নুহুম ফাহুম ফীহি ছাওয়াউন আফাবিনি‘মাতিল্লা-হি ইয়াজহাদূ ন।

আল্লাহ রিযকের ক্ষেত্রে তোমাদের কাউকে কারও উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। যাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা তাদের রিযক নিজ দাস-দাসীকে এভাবে দান করে না, যাতে তারা সকলে সমান হয়ে যায়। ৩৯ তবে কি তারা আল্লাহর নি‘আমতকে অস্বীকার করে? ৪০

তাফসীরঃ

৩৯. অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলার সাথে শরীক করে এই দাবী করে যে, অমুক নি‘আমত আল্লাহ নয়; বরং তাদের মনগড়া দেবতা দিয়েছে।
৭২

وَاللّٰہُ جَعَلَ لَکُمۡ مِّنۡ اَنۡفُسِکُمۡ اَزۡوَاجًا وَّجَعَلَ لَکُمۡ مِّنۡ اَزۡوَاجِکُمۡ بَنِیۡنَ وَحَفَدَۃً وَّرَزَقَکُمۡ مِّنَ الطَّیِّبٰتِ ؕ  اَفَبِالۡبَاطِلِ یُؤۡمِنُوۡنَ وَبِنِعۡمَتِ اللّٰہِ ہُمۡ یَکۡفُرُوۡنَ ۙ ٧٢

ওয়াল্লা-হু জা‘আলা লাকুম মিন আনফুছিকুম আঝওয়া-জাওঁ ওয়া জা‘আলা লাকুম মিন আঝওয়াজিকুম বানীনা ওয়া হাফাদাতাওঁ ওয়া রাঝাকাকুম মিনাততাইয়িবা-তি আফাবিলবাতিলি ইউ’মিনূনা ওয়া বিনি‘মাতিল্লা-হি হুম ইয়াকফুরূন।

আল্লাহ তোমাদেরই মধ্য হতে তোমাদের জন্য স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের স্ত্রীদের থেকে তোমাদের জন্য পুত্র ও পৌত্রাদি সৃষ্টি করেছেন। আর ভালো-ভালো জিনিসের থেকে রিযকের ব্যবস্থা করেছেন। তবুও কি তারা ভিত্তিহীন জিনিসের প্রতি ঈমান রাখবে আর আল্লাহর নি‘আমতসমূহের অকৃতজ্ঞতা করবে?
৭৩

وَیَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَا لَا یَمۡلِکُ لَہُمۡ رِزۡقًا مِّنَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ شَیۡئًا وَّلَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ ۚ ٧٣

ওয়া ইয়া‘বুদূনা মিন দূনিল্লা-হি মা-লা-ইয়ামলিকুলাহুম রিঝকাম মিনাছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিশাইআওঁ ওয়ালা-ইয়াছতাতী‘ঊন।

তারা আল্লাহ ছাড়া এমন সব জিনিসের ইবাদত করে যারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী থেকে তাদেরকে কোনওভাবে রিযক দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না এবং তা রাখতে সক্ষমও নয়।
৭৪

فَلَا تَضۡرِبُوۡا لِلّٰہِ الۡاَمۡثَالَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَعۡلَمُ وَاَنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ ٧٤

ফালা-তাদরিবূলিল্লা-হিল আমছা-লা ইন্নাল্লা-হা ইয়া‘লামুওয়া আনতুম লা-তা‘লামূন।

সুতরাং তোমরা আল্লাহর জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করো না। ৪১ নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।

তাফসীরঃ

৪১. আরব মুশরিকগণ অনেক সময় দৃষ্টান্ত পেশ করত যে, দুনিয়ার কোনও বাদশাহ নিজে একা রাজত্ব চালায় না। বরং রাজত্বের বহু কাজই সহযোগীদের হাতে ছাড়তে হয়। এমনিভাবে আল্লাহ তাআলাও তার প্রভুত্বের বহু কাজ দেব-দেবীদের হাতে ন্যস্ত করে দিয়েছেন। তারা সেসব কাজ স্বাধীনভাবে আঞ্জাম দেয় (নাউযুবিল্লাহ)। এ আয়াতে তাদেরকে বলা হচ্ছে, আল্লাহ তাআলার জন্য দুনিয়ার রাজা-বাদশাহদের কিংবা যে-কোনও মাখলুকের দৃষ্টান্ত পেশ করা চরম পর্যায়ের মূর্খতা। অতঃপর ৭৪ থেকে ৭৬ পর্যন্ত আয়াতসমূহ আল্লাহ তাআলা দু’টি দৃষ্টান্ত দিয়েছেন। তা দ্বারা বোঝানো উদ্দেশ্য, যদি সৃষ্টির দৃষ্টান্তই দেখতে হয়, তবে এ দৃষ্টান্ত দু’টো লক্ষ্য কর। এর দ্বারা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, সৃষ্টিতে-সৃষ্টিতেও প্রভেদ আছে। কোন সৃষ্টি উচ্চ স্তরের হয়, কোন সৃষ্টি নিম্নস্তরের। যখন দুই সৃষ্টির মধ্যে এমন প্রভেদ, তখন স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে কেমন প্রভেদ থাকতে পারে? তা সত্ত্বেও ইবাদত-বন্দেগীতে কোনও সৃষ্টিকে স্রষ্টার অংশীদার কিভাবে বানানো যেতে পারে?
৭৫

ضَرَبَ اللّٰہُ مَثَلًا عَبۡدًا مَّمۡلُوۡکًا لَّا یَقۡدِرُ عَلٰی شَیۡءٍ وَّمَنۡ رَّزَقۡنٰہُ مِنَّا رِزۡقًا حَسَنًا فَہُوَ یُنۡفِقُ مِنۡہُ سِرًّا وَّجَہۡرًا ؕ ہَلۡ یَسۡتَوٗنَ ؕ اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ ؕ بَلۡ اَکۡثَرُہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٧٥

দারাবাল্লা-হু মাছালান ‘আবদাম মামলূকাল লা-ইয়াকদিরু ‘আলা-শাইইওঁ ওয়া মার রাঝাকনা-হু মিন্না-রিঝকান হাছানান ফাহুওয়া ইউনফিকুমিনহু ছিররাওঁ ওয়া জাহরান হাল ইয়াছতাঊনা আলহামদুলিল্লা-হি বাল আকছারুহুম লা-ইয়া‘লামূন।

আল্লাহ একটি দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন- একদিকে এক গোলাম, যে কারও মালিকানাধীন আছে। কোনও বস্তুর মধ্যে তার কিছুমাত্র ক্ষমতা নেই। আর অন্যদিকে এমন এক ব্যক্তি, যাকে আমি আমার পক্ষ হতে উৎকৃষ্ট রিযক দিয়েছি এবং সে তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে খরচ করে। এই দু’জন কি সমান হতে পারে? সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। কিন্তু তাদের অধিকাংশেই (এমন পরিষ্কার কথাও) জানে না।
৭৬

وَضَرَبَ اللّٰہُ مَثَلًا رَّجُلَیۡنِ اَحَدُہُمَاۤ اَبۡکَمُ لَا یَقۡدِرُ عَلٰی شَیۡءٍ وَّہُوَ کَلٌّ عَلٰی مَوۡلٰىہُ ۙ  اَیۡنَمَا یُوَجِّہۡہُّ لَا یَاۡتِ بِخَیۡرٍ ؕ  ہَلۡ یَسۡتَوِیۡ ہُوَ ۙ  وَمَنۡ یَّاۡمُرُ بِالۡعَدۡلِ ۙ  وَہُوَ عَلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ٪ ٧٦

ওয়া দারাবাল্লা-হু মাছালার রাজুলাইনি আহাদুহুমাআবকামুলা-ইয়াকদিরু ‘আলাশাইইওঁ ওয়া হুওয়া কাল্লুন ‘আলা-মাওলা-হু আইনামা-ইউওয়াজজিহহু লা-ইয়া’তি বিখাইরিন হাল ইয়াছতাবী হুওয়া ওয়া মাইঁ ইয়া’মরু বিল‘আদলি ওয়া হুওয়া ‘আলা-সিরা-তিম মুছতাকীম।

আল্লাহ আরেকটি দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন- দু’জন লোক, তাদের একজন বোবা। সে কোনও কাজ করতে পারে না, বরং সে তার মনিবের জন্য একটা বোঝা। মনিব তাকে যেখানেই পাঠায়, সে ভালো কিছু করে আনে না। এরূপ ব্যক্তি কি ওই ব্যক্তির সমান হতে পারে, যে অন্যদেরকেও ন্যায়ের আদেশ দেয় এবং নিজেও সরল পথে প্রতিষ্ঠিত থাকে?
৭৭

وَلِلّٰہِ غَیۡبُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ وَمَاۤ اَمۡرُ السَّاعَۃِ اِلَّا کَلَمۡحِ الۡبَصَرِ اَوۡ ہُوَ اَقۡرَبُ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ٧٧

ওয়া লিল্লা-হি গাইবুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়ামা আমরুছ ছা-‘আতি ইল্লাকালামহিল বাসারি আও হুওয়া আকরাবু ইন্নাল্লা-হা ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সকল রহস্য আল্লাহর মুঠোয়। কিয়ামতের বিষয়টি কেবল চোখের পলকতুল্য; বরং তার চেয়েও দ্রুত। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।
৭৮

وَاللّٰہُ اَخۡرَجَکُمۡ مِّنۡۢ بُطُوۡنِ اُمَّہٰتِکُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ شَیۡئًا ۙ وَّجَعَلَ لَکُمُ السَّمۡعَ وَالۡاَبۡصَارَ وَالۡاَفۡـِٕدَۃَ ۙ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ ٧٨

ওয়াল্লা-হু আখরাজাকুম মিম বুতূনি উম্মাহা-তিকুম লা-তা‘লামূনা শাইআওঁ ওয়া জা‘আলা লাকুমুছ ছাম‘আ ওয়াল আব সা-রা ওয়াল আফইদাতা লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন।

আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মাতৃগর্ভ থেকে এমন অবস্থায় বের করেছেন যে, তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ ও অন্তকরণ সৃষ্টি করেছেন। যাতে তোমরা শোকর আদায় কর।
৭৯

اَلَمۡ یَرَوۡا اِلَی الطَّیۡرِ مُسَخَّرٰتٍ فِیۡ جَوِّ السَّمَآءِ ؕ مَا یُمۡسِکُہُنَّ اِلَّا اللّٰہُ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ ٧٩

আলাম ইয়ারাও ইলাততাইরি মুছাখখারা-তিন ফী জাওবিছ ছামাই মা-ইউমছিকুহুন্না ইল্লাল্লা-হু ইন্নাফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইউ’মিনূন।

তারা কি পাখিদের প্রতি লক্ষ্য করেনি, যারা আকাশের শূন্যমণ্ডলে আল্লাহর আজ্ঞাধীন? তাদেরকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ স্থির রাখছে না। নিশ্চয়ই এতে বহু নিদর্শন আছে, তাদের জন্য যারা ঈমান রাখে।
৮০

وَاللّٰہُ جَعَلَ لَکُمۡ مِّنۡۢ بُیُوۡتِکُمۡ سَکَنًا وَّجَعَلَ لَکُمۡ مِّنۡ جُلُوۡدِ الۡاَنۡعَامِ بُیُوۡتًا تَسۡتَخِفُّوۡنَہَا یَوۡمَ ظَعۡنِکُمۡ وَیَوۡمَ اِقَامَتِکُمۡ ۙ وَمِنۡ اَصۡوَافِہَا وَاَوۡبَارِہَا وَاَشۡعَارِہَاۤ اَثَاثًا وَّمَتَاعًا اِلٰی حِیۡنٍ ٨۰

ওয়াল্লা-হু জা‘আলা লাকুম মিমবুইউতিকুম ছাকানাওঁ ওয়া জা‘আলা লাকুম মিন জূলূদিল আন‘আ-মি বুইঊতান তাছতাখিফফূনাহা-ইয়াওমা জা‘নিকুম ওয়া ইয়াওমা ইকা-মাতিকুম ওয়া মিন আসওয়া-ফিহা-ওয়া আওবা-রিহা-ওয়া আশ‘আ-রিহাআছা-ছাওঁ ওয়া মাতা‘আন ইলা-হীন।

তিনি তোমাদের গৃহকে তোমাদের জন্য আবাসস্থল বানিয়েছেন এবং পশুর চামড়া দ্বারা তোমাদের জন্য এমন ঘর বানিয়েছেন, যা ভ্রমণে যাওয়ার সময় এবং কোথাও অবস্থান গ্রহণকালে তোমাদের কাছে বেশ হালকা-পাতলা মনে হয়। ৪২ আর তাদের পশম, লোম ও কেশ দ্বারা গৃহ-সামগ্রী ও এমন সব জিনিস তৈরি করেন, যা কিছু কাল তোমাদের উপকারে আসে।

তাফসীরঃ

৪২. এসব ঘর দ্বারা তাঁবু বোঝানো হয়েছে, যা চামড়া দ্বারা তৈরি হয়। আরবের লোক সফরকালে তা সঙ্গে নিয়ে যায়। কেননা এর বিশেষ সুবিধা হল, যখন যেখানে ইচ্ছা খাটিয়ে বিশ্রাম করা যায়। আর হালকা হওয়ায় বহনের সুবিধা তো আছেই। [اَصْوَافٌ শব্দটিصُوْفٌ এর বহুবচন। অর্থ ভেড়ার পশম। اَوْبَارٌ হল وَبَرٌ এর বহুবচন। অর্থ উটের লোম। আর اَشْعَارٌ বলে অন্যান্য জীব-জন্তুর পশম বা কেশরাজিকে। এটা شَعْرٌ এর বহুবচন -অনুবাদক।]
৮১

وَاللّٰہُ جَعَلَ لَکُمۡ مِّمَّا خَلَقَ ظِلٰلًا وَّجَعَلَ لَکُمۡ مِّنَ الۡجِبَالِ اَکۡنَانًا وَّجَعَلَ لَکُمۡ سَرَابِیۡلَ تَقِیۡکُمُ الۡحَرَّ وَسَرَابِیۡلَ تَقِیۡکُمۡ بَاۡسَکُمۡ ؕ کَذٰلِکَ یُتِمُّ نِعۡمَتَہٗ عَلَیۡکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تُسۡلِمُوۡنَ ٨١

ওয়াল্লা-হু জা‘আলা লাকুম মিম্মা-খালাকা জিলা-লাওঁ ওয়া জা‘আলা লাকুম মিনাল জিবা-লি আকনা-নাওঁ ওয়া জা‘আলা লাকুম ছারা-বীলা তাকীকুমুল হাররা ওয়া ছারা-বীলা তাকীকুম বা’ছাকুম কাযা-লিকা ইউতিম্মুনি‘মাতাহূ‘আলাইকুম লা‘আল্লাকুম তুছলিমূন।

এবং আল্লাহই নিজ সৃষ্ট বস্তুসমূহ হতে তোমাদের জন্য ছায়ার ব্যবস্থা করেছেন, পাহাড়-পর্বতে তোমাদের জন্য আশ্রয়স্থল বানিয়েছেন, আর তোমাদের জন্য বানিয়েছেন এমন পোশাক, যা তোমাদেরকে তাপ থেকে রক্ষা করে এবং এমন পোশাক, যা যুদ্ধকালে তোমাদেরকে রক্ষা করে। ৪৩ এভাবে তিনি তোমাদের প্রতি নিজ অনুগ্রহ পূর্ণ করেন, যাতে তোমরা অনুগত হয়ে যাও।

তাফসীরঃ

৪৩. অর্থাৎ, লোহার বর্ম, যা যুদ্ধকালে তরবারি ও অন্যান্য অস্ত্রের আঘাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য পরিধান করা হয়।
৮২

فَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَاِنَّمَا عَلَیۡکَ الۡبَلٰغُ الۡمُبِیۡنُ ٨٢

ফাইন তাওয়াল্লাও ফাইন্নামা -‘আলাইকাল বালা-গুল মুবীন।

তারপরও যদি তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ) মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে (হে নবী!) তোমার দায়িত্ব তো শুধু স্পষ্টভাবে বার্তা পৌঁছানো।
৮৩

یَعۡرِفُوۡنَ نِعۡمَتَ اللّٰہِ ثُمَّ یُنۡکِرُوۡنَہَا وَاَکۡثَرُہُمُ الۡکٰفِرُوۡنَ ٪ ٨٣

ইয়া‘রিফূনা নি‘মাতাল্লা-হি ছুম্মা ইউনকিরূনাহা-ওয়া আকছারুহুমুল কা-ফিরূন।

তারা আল্লাহর নি‘আমতসমূহ চেনে, তবুও তা অস্বীকার করে এবং তাদের অধিকাংশই অকৃতজ্ঞ।
৮৪

وَیَوۡمَ نَبۡعَثُ مِنۡ کُلِّ اُمَّۃٍ شَہِیۡدًا ثُمَّ لَا یُؤۡذَنُ لِلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَلَا ہُمۡ یُسۡتَعۡتَبُوۡنَ ٨٤

ওয়া ইয়াওমা নাব ‘আছুমিন কুল্লি উম্মাতিন শাহীদান ছু ম্মা লা-ইউ’যানুলিল্লাযীনা কাফারূ ওয়ালা-হুম ইউছতা‘তাবূন।

এবং সেই দিনকে স্মরণ রেখ, যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী দাঁড় করাব, ৪৪ তারপর যারা কুফর অবলম্বন করেছিল, তাদেরকে (অজুহাত দেখানোর) অনুমতি দেওয়া হবে না এবং তাদেরকে তাওবা করার জন্যও ফরমায়েশ করা হবে না। ৪৫

তাফসীরঃ

৪৪. কেননা তাওবার দরজা মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত খোলা থাকে। মৃত্যুর পর তাওবা কবুল হয় না।
৮৫

وَاِذَا رَاَ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوا الۡعَذَابَ فَلَا یُخَفَّفُ عَنۡہُمۡ وَلَا ہُمۡ یُنۡظَرُوۡنَ ٨٥

ওয়া ইযা-রাআল্লাযীনা জালামুল ‘আযা-বা ফালা-ইউখাফফাফুআনহুম ওয়ালা-হুম ইউনজারূন।

জালেমগণ যখন শাস্তি দেখতে পাবে, তখন তাদের শাস্তি হালকা করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হবে না।
৮৬

وَاِذَا رَاَ الَّذِیۡنَ اَشۡرَکُوۡا شُرَکَآءَہُمۡ قَالُوۡا رَبَّنَا ہٰۤؤُلَآءِ شُرَکَآؤُنَا الَّذِیۡنَ کُنَّا نَدۡعُوۡا مِنۡ دُوۡنِکَ ۚ  فَاَلۡقَوۡا اِلَیۡہِمُ الۡقَوۡلَ اِنَّکُمۡ لَکٰذِبُوۡنَ ۚ ٨٦

ওয়া ইযা-রাআল্লাযীনা আশরাকূশুরাকাআহুম কা-লূরাব্বানা-হাউলাই শুরাকাউনাল্লাযীনা কুন্না-নাদ‘ঊ মিন দূ নিকা ফাআলকাও ইলাইহিমুল কাওলা ইন্নাকুম লাকা-যিবূন।

যারা আল্লাহর সঙ্গে শরীক করেছিল, তারা যখন তাদের (নিজেদের গড়া) শরীকদেরকে দেখবে, তখন বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! এরাই সেই শরীক, তোমার পরিবর্তে যাদেরকে আমরা ডাকতাম। ৪৬ এ সময় তারা (অর্থাৎ মনগড়া শরীকগণ) তাদের দিকে কথা ছুঁড়ে মারবে যে, তোমরা বিলকুল মিথ্যুক! ৪৭

তাফসীরঃ

৪৬. যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে আল্লাহ তাআলা সে দিন প্রতিমাদেরকে বাকশক্তি দান করবেন, ফলে তারা ঘোষণা করে দেবে তাদের উপাসকরা মিথ্যুক। কেননা নিষ্প্রাণ হওয়ার কারণে তাদের খবরই ছিল না যে, তাদের ইবাদত-উপাসনা করা হচ্ছে। এমনও হতে পারে, তারা একথা ব্যক্ত করবে তাদের অবস্থা দ্বারা। আর শয়তানগণ এ কথা বলবে তাদের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কহীনতা প্রকাশ করার জন্য।
৮৭

وَاَلۡقَوۡا اِلَی اللّٰہِ یَوۡمَئِذِۣ السَّلَمَ وَضَلَّ عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَفۡتَرُوۡنَ ٨٧

ওয়া আল কাও ইলাল্লা-হি ইয়াওমাইযিনিছছালামা ওয়াদাল্লা ‘আনহুম মা-কা-নূইয়াফতারূন।

সে দিন আল্লাহর সামনে তারা আনুগত্যমূলক কথা বলবে। আর তারা যে মিথ্যা উদ্ভাবন করত, সে দিন তার কোন হদিসই তারা পাবে না।
৮৮

اَلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَصَدُّوۡا عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ زِدۡنٰہُمۡ عَذَابًا فَوۡقَ الۡعَذَابِ بِمَا کَانُوۡا یُفۡسِدُوۡنَ ٨٨

আল্লাযীনা কাফারূওয়াসাদ্দূ‘আন ছাবীলিল্লা-হি ঝিদনা-হুম ‘আযা-বান ফাওকাল ‘আযা-বি বিমা-কা-নূইউফছিদূন।

যারা কুফর অবলম্বন করেছিল এবং আল্লাহর পথে অন্যদেরকে বাধা দিত, আমি তাদের শাস্তির উপর শাস্তি বৃদ্ধি করতে থাকব। কারণ তারা অশান্তি বিস্তার করত।
৮৯

وَیَوۡمَ نَبۡعَثُ فِیۡ کُلِّ اُمَّۃٍ شَہِیۡدًا عَلَیۡہِمۡ مِّنۡ اَنۡفُسِہِمۡ وَجِئۡنَا بِکَ شَہِیۡدًا عَلٰی ہٰۤؤُلَآءِ ؕ  وَنَزَّلۡنَا عَلَیۡکَ الۡکِتٰبَ تِبۡیَانًا لِّکُلِّ شَیۡءٍ وَّہُدًی وَّرَحۡمَۃً وَّبُشۡرٰی لِلۡمُسۡلِمِیۡنَ ٪ ٨٩

ওয়া ইয়াওমা নাব‘আছুফী কুল্লি উম্মাতিন শাহীদান ‘আলাইহিম মিন আনফুছিহিম ওয়া জি’নাবিকা শাহীদান ‘আলা-হাউলাই ওয়া নাঝঝালনা ‘আলাইকাল কিতা-বা তিবইয়া-নাল লিকুল্লি শাইইওঁ ওয়া হুদাওঁ ওয়া রাহমাতাওঁ ওয়া বুশরা-লিলমুছলিমীন।

সেই দিনকেও স্মরণ রেখ, যেদিন প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে, তাদের নিজেদের থেকে, তাদের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী দাঁড় করাব আর (হে নবী!) আমি তোমাকে এদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উপস্থিত করব। ৪৮ আমি তোমার প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছি, যাতে এটা প্রতিটি বিষয় সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করে দেয় এবং মুসলিমদের জন্য হয় হিদায়াত, রহমত ও সুসংবাদ।

তাফসীরঃ

৪৮. অর্থাৎ প্রত্যেক নবী আপন আপন উম্মত সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার দরবারে সাক্ষি দেবেন আর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও নিজ উম্মত সম্পর্কে সাক্ষি দেবেন। তাঁর ওফাত-উত্তর লোকদের সম্পর্কে তাঁর সাক্ষ্যদান সম্ভব হবে এ কারণে যে, তাঁদের আমল পবিত্র কবরে, তাঁর সামনে পেশ করা হয়। উম্মত সম্পর্কে তাঁর সাক্ষ্যদানের আরেক অর্থ হতে পারে এ রকম যে, অন্যান্য নবীগণ যখন আপন-আপন উম্মত সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবেন আর তার বিপরীতে সেইসব উম্মত দাবি করবে যে, তাদের কাছে কেউ হিদায়াতের বাণী প্রচার করেনি, তখন এই উম্মত নবীগণের পক্ষে সাক্ষি দেবে যে, তারা আপন-আপন উম্মতের কাছে সত্য দীনের প্রচার করেছিলেন। এ সময় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ উম্মতের বিশ্বস্ততা ও তাদের সাক্ষের যথার্থতা সম্পর্কে সাক্ষি দেবেন, যেমন সূরা বাকারার ২ : ১৪৩ নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে। -অনুবাদক
৯০

اِنَّ اللّٰہَ یَاۡمُرُ بِالۡعَدۡلِ وَالۡاِحۡسَانِ وَاِیۡتَآیِٔ ذِی الۡقُرۡبٰی وَیَنۡہٰی عَنِ الۡفَحۡشَآءِ وَالۡمُنۡکَرِ وَالۡبَغۡیِ ۚ یَعِظُکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَذَکَّرُوۡنَ ٩۰

ইন্নাল্লা-হা ইয়া’মুরু বিল‘আদলি ওয়াল ইহছা-নি ওয়া ঈতাইযিল কুরবা-ওয়া ইয়ানহা‘আনিল ফাহশাই ওয়াল মুনকারি ওয়াল বাগই ইয়া‘ইজু কুম লা‘আল্লাকুম তাযাক্কারূন।

নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফ, দয়া এবং আত্মীয়-স্বজনকে (তাদের হক) প্রদানের হুকুম দেন আর অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও জুলুম করতে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। ৪৯

তাফসীরঃ

৪৯. হযরত ইবনে মাসঊদ (রাযি.) বলেন, ‘এটি কুরআন মাজীদের সর্বাপেক্ষা পূর্ণাঙ্গ আয়াত’, যাবতীয় ভালো কাজের আদেশ ও মন্দকাজের নিষেধ এর মধ্যে এসে গেছে। অনেকে বলেন, কুরআন যে মানব জীবনের সকল ক্ষেত্রের পূর্ণাঙ্গ-পথনির্দেশ, তার প্রমাণ হিসেবে এ আয়াতই যথেষ্ট। সম্ভবত এ কারণেই হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহ) জুমআর খুতবায় এ আয়াতটি পাঠ করতেন এবং তাঁর অনুসরণে পরবর্তী খতীবগণও এটি পাঠ করে থাকেন। আয়াতটির তাফসীর জানার জন্য তাফসীরে উসমানী দেখুন। -অনুবাদক
৯১

وَاَوۡفُوۡا بِعَہۡدِ اللّٰہِ اِذَا عٰہَدۡتُّمۡ وَلَا تَنۡقُضُوا الۡاَیۡمَانَ بَعۡدَ تَوۡکِیۡدِہَا وَقَدۡ جَعَلۡتُمُ اللّٰہَ عَلَیۡکُمۡ کَفِیۡلًا ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَعۡلَمُ مَا تَفۡعَلُوۡنَ ٩١

ওয়া আওফূবি‘আহদিল্লা-হি ইযা-‘আ-হাততুম ওয়ালা-তানকুদুল আইমা-না বা‘দা তাওকীদিহা-ওয়া কাদ জা‘আলতুমুল্লা-হা ‘আলাইকুম কাফীলান ইন্নাল্লা-হা ইয়া‘লামুমাতাফ‘আলূন।

তোমরা যখন কোন অঙ্গীকার কর, তখন আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ কর। শপথকে দৃঢ় করার পর তা ভঙ্গ করো না যখন তোমরা আল্লাহকে নিজেদের উপর সাক্ষী বানিয়ে নিয়েছ। তোমরা যা-কিছু কর, আল্লাহ নিশ্চয় তা জানেন।
৯২

وَلَا تَکُوۡنُوۡا کَالَّتِیۡ نَقَضَتۡ غَزۡلَہَا مِنۡۢ بَعۡدِ قُوَّۃٍ اَنۡکَاثًا ؕ تَتَّخِذُوۡنَ اَیۡمَانَکُمۡ دَخَلًۢا بَیۡنَکُمۡ اَنۡ تَکُوۡنَ اُمَّۃٌ ہِیَ اَرۡبٰی مِنۡ اُمَّۃٍ ؕ اِنَّمَا یَبۡلُوۡکُمُ اللّٰہُ بِہٖ ؕ وَلَیُبَیِّنَنَّ لَکُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ مَا کُنۡتُمۡ فِیۡہِ تَخۡتَلِفُوۡنَ ٩٢

ওয়ালা-তাকূনূ কাল্লাতী নাকাদাতগাঝলাহা-মিমবা‘দি কুওওয়াতিন আনকা-ছান তাত্তাখিযূনা আইমা-নাকুম দাখালাম বাইনাকুম আন তাকূনা উম্মাতুন হিয়া আরবা-মিন উম্মাতিন ইন্নামা-ইয়াবলূকুমুল্লা-হু বিহী ওয়ালা ইউবাইয়িনান্না লাকুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি মা-কুনতুম ফীহি তাখতালিফূন।

যে নারী তার সূতা মজবুত করে পাকানোর পর পাক খুলে তা রোঁয়া-রোঁয়া করে ফেলেছিল, তোমরা তার মত হয়ো না। ৫০ ফলে তোমরাও নিজেদের শপথকে (ভেঙ্গে) পরস্পরের মধ্যে অনর্থ সৃষ্টির মাধ্যম বানাবে, কেবল একদল অপর একদল অপেক্ষা বেশি লাভবান হওয়ার জন্য। ৫১ আল্লাহ তো এর দ্বারা তোমাদের পরীক্ষা করে থাকেন। তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ কর, কিয়ামতের দিন তিনি তোমাদের সামনে তা স্পষ্ট করে দিবেন।

তাফসীরঃ

৫০. সাধারণত মিথ্যা শপথ করা বা শপথ করার পর তা ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্য হয় পার্থিব কোন স্বার্থ চরিতার্থ করা। তাই বলা হয়েছে, দুনিয়ার স্বার্থ, যা কিনা নিতান্তই তুচ্ছ বিষয়, চরিতার্থ করার জন্য কসম ভঙ্গ করো না। কেননা কসম ভঙ্গ করা কঠিন গুনাহ।
৯৩

وَلَوۡ شَآءَ اللّٰہُ لَجَعَلَکُمۡ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً وَّلٰکِنۡ یُّضِلُّ مَنۡ یَّشَآءُ وَیَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَلَتُسۡـَٔلُنَّ عَمَّا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ٩٣

ওয়া লাও শাআল্লা-হু লাজা‘আলাকুম উম্মাতাওঁ ওয়া-হিদাতাওঁ ওয়ালা-কিইঁ ইউদিল্লুমাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইয়াহদী মাইঁ ইয়াশাউ ওয়ালা তুছআলুন্না ‘আম্মা-কুনতুম তা‘মালূন।

আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদের সকলকে একই উম্মত (অর্থাৎ একই দীনের অনুসারী) বানাতে পারতেন। কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা (তার জেদী আচরণের কারণে) বিভ্রান্তিতে নিক্ষেপ করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন। তোমরা যা-কিছু কর, সে সম্পর্কে তোমাদেরকে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
৯৪

وَلَا تَتَّخِذُوۡۤا اَیۡمَانَکُمۡ دَخَلًۢا بَیۡنَکُمۡ فَتَزِلَّ قَدَمٌۢ بَعۡدَ ثُبُوۡتِہَا وَتَذُوۡقُوا السُّوۡٓءَ بِمَا صَدَدۡتُّمۡ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ۚ وَلَکُمۡ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ ٩٤

ওয়ালা-তাত্তাখিযূআইমা-নাকুম দাখালাম বাইনাকুম ফাতাঝিল্লা কাদামুম বা‘দা ছুবূতিহাওয়া তাযূকুছছূআ বিমা-সাদাততুম ‘আন ছাবীলিল্লা-হি ওয়ালাকুম ‘আযা-বুন ‘আজীম।

তোমরা নিজেদের শপথকে পরস্পরের মধ্যে অনর্থ সৃষ্টির কাজে ব্যবহার করো না। পরিণামে (কারও) পা স্থিত হওয়ার পর পিছলে যাবে। ৫২ অতঃপর (তাকে) আল্লাহর পথ থেকে বিরত রাখার কারণে তোমাদেরকে কঠিন শাস্তির আস্বাদ গ্রহণ করতে হবে আর (সেক্ষেত্রে) তোমাদের জন্য থাকবে মহাশাস্তি।

তাফসীরঃ

৫২. এটা শপথ ভাঙ্গার আরেকটি ক্ষতি। বলা হচ্ছে যে, তোমরা যদি শপথ ভঙ্গ কর, তবে যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে, তোমাদের দেখাদেখি অন্য লোকও এ গুনাহ করতে উৎসাহিত হবে। প্রথমে তো সে অবিচলিত ছিল, কিন্তু তোমাদেরকে দেখার পর তাদের পদস্খলন হয়েছে। তোমরাই যেহেতু তাদের এ গুনাহের ‘কারণ’ হয়েছ, তাই তোমাদের দ্বিগুণ গুনাহ হবে। কেননা তোমরা তাকে আল্লাহর পথ থেকে বিরত রেখেছ।
৯৫

وَلَا تَشۡتَرُوۡا بِعَہۡدِ اللّٰہِ ثَمَنًا قَلِیۡلًا ؕ اِنَّمَا عِنۡدَ اللّٰہِ ہُوَ خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ ٩٥

ওয়ালা-তাশতারূবি‘আহদিল্লা-হি ছামানান কালীলান ইন্নামা-‘ইনদাল্লা-হি হুওয়া খাইরুল্লাকুম ইন কুনতুম তা‘লামূন।

আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করো না। তোমরা যদি প্রকৃত সত্য উপলব্ধি কর, তবে আল্লাহর কাছে যে প্রতিদান আছে তোমাদের পক্ষে তাই শ্রেয়।
৯৬

مَا عِنۡدَکُمۡ یَنۡفَدُ وَمَا عِنۡدَ اللّٰہِ بَاقٍ ؕ وَلَنَجۡزِیَنَّ الَّذِیۡنَ صَبَرُوۡۤا اَجۡرَہُمۡ بِاَحۡسَنِ مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ٩٦

মা-‘ইনদাকুম ইয়ানফাদুওয়ামা-‘ইনদাল্লা-হি বা-কিওঁ ওয়ালা নাজঝিয়ান্নাল্লাযীনা সাবারূআজরাহুম বিআহছানি মা-কা-নূইয়া‘মালূন।

তোমাদের কাছে যা-কিছু আছে তা নিঃশেষ হয়ে যাবে আর আল্লাহর কাছে যা আছে তা স্থায়ী। যারা সবর ৫৩ করে, আমি তাদের উৎকৃষ্ট কাজ অনুযায়ী অবশ্যই তাদের প্রতিদান দেব।

তাফসীরঃ

৫৩. পূর্বে কয়েক জায়গায় বলা হয়েছে কুরআন মাজীদের পরিভাষায় ‘সবর’ শব্দটি অতি ব্যাপক অর্থবোধক। নিজের মনের চাহিদাকে দমন করে আল্লাহ তাআলার হুকুম-আহকামের অনুবর্তী থাকাকেও যেমন সবর বলে, তেমনি যে-কোন দুঃখ-কষ্টে আল্লাহ তাআলার ফায়সালার বিরুদ্ধে অভিযোগ না তুলে তার অভিমুখী থাকাও সবর।
৯৭

مَنۡ عَمِلَ صَالِحًا مِّنۡ ذَکَرٍ اَوۡ اُنۡثٰی وَہُوَ مُؤۡمِنٌ فَلَنُحۡیِیَنَّہٗ حَیٰوۃً طَیِّبَۃً ۚ وَلَنَجۡزِیَنَّہُمۡ اَجۡرَہُمۡ بِاَحۡسَنِ مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ٩٧

মান ‘আমিলা সা-লিহাম মিন যাকারিন আও উনছা-ওয়া হুওয়া মু’মিনুন ফালা নুহয়িইয়ান্নাহূ হায়া-তান তাইয়িবাতাওঁ ওয়া লানাজঝিয়ান্নাহুম আজরাহুম বিআহছানি মা-কানূ ইয়া‘মালূন।

যে ব্যক্তিই মুমিন থাকা অবস্থায় সৎকর্ম করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, আমি অবশ্যই তাকে উত্তম জীবন যাপন করাব এবং তাদেরকে তাদের উৎকৃষ্ট কর্ম অনুযায়ী তাদের প্রতিদান অবশ্যই প্রদান করব।
৯৮

فَاِذَا قَرَاۡتَ الۡقُرۡاٰنَ فَاسۡتَعِذۡ بِاللّٰہِ مِنَ الشَّیۡطٰنِ الرَّجِیۡمِ ٩٨

ফাইযা-কারা’তাল কুরআ-না ফাছতা‘ইযবিল্লা-হিমিনাশশাইতা-নির রাজীম।

সুতরাং আপনি যখন কুরআন পড়বে, তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করবেন। ৫৪

তাফসীরঃ

৫৪. পূর্বের আয়াতসমূহে সৎকর্মের ফযীলত বর্ণিত হয়েছিল। যেহেতু শয়তানই সৎকর্মের সর্বাপেক্ষা বড় বাধা এবং বেশির ভাগ তার কারসাজির ফলেই মানুষ সৎকর্মে প্রস্তুত হতে পারে না, তাই এ আয়াতে তার প্রতিকারের ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে। কুরআন তিলাওয়াতও একটি সৎকর্ম। বলা হয়েছে, তোমরা কুরআন তিলাওয়াতের আগে শয়তান থেকে আল্লাহ তাআলার আশ্রয় গ্রহণ করবে। অর্থাৎ বলবে اَعُوْذُبِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ ‘আমি বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করছি’। বিশেষভাবে কুরআন তিলাওয়াতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এ কারণে যে, কুরআন মাজীদই সমস্ত সৎকর্মের পথনির্দেশ করে ও উৎসাহ যোগায়। তবে শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনার বিষয়টা কেবল কুরআন তিলাওয়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটা একটা সাধারণ নির্দেশ। যে-কোনও সৎকর্ম শুরুর আগে শয়তান থেকে আল্লাহ তাআলার আশ্রয় প্রার্থনার অভ্যাস গড়ে তুললে ইনশাআল্লাহ তার ছলনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
৯৯

اِنَّہٗ لَیۡسَ لَہٗ سُلۡطٰنٌ عَلَی الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَلٰی رَبِّہِمۡ یَتَوَکَّلُوۡنَ ٩٩

ইন্নাহূলাইছা লাহূছুলতা-নুন ‘আলাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আলা রাব্বিহীম ইয়াতাওয়াক্কালূন।

যারা ঈমান এনেছে এবং নিজ প্রতিপালকের উপর ভরসা রাখে, তাদের উপর তার কোন আধিপত্য চলে না।
১০০

اِنَّمَا سُلۡطٰنُہٗ عَلَی الَّذِیۡنَ یَتَوَلَّوۡنَہٗ وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ بِہٖ مُشۡرِکُوۡنَ ٪ ١۰۰

ইন্নামা-ছুলতা-নুহূ‘আলাল্লাযীনা ইয়াতাওয়াল্লাওনাহূওয়াল্লাযীনা হুম বিহী মুশরিকূন।

তার আধিপত্য চলে কেবল এমন সব লোকের উপর যারা তাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছে এবং যারা আল্লাহর শরীক সাব্যস্তকারী।
১০১

وَاِذَا بَدَّلۡنَاۤ اٰیَۃً مَّکَانَ اٰیَۃٍ ۙ وَّاللّٰہُ اَعۡلَمُ بِمَا یُنَزِّلُ قَالُوۡۤا اِنَّمَاۤ اَنۡتَ مُفۡتَرٍ ؕ بَلۡ اَکۡثَرُہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ١۰١

ওয়া ইযা-বাদ্দালনাআ-য়াতাম মাকা-না আ-য়াতিওঁ ওয়াল্লা-হু ‘আলামুবিমাইউনাঝঝিলুকা-লূইন্নামাআনতা মুফতারিম বাল আকছারুহুম লা-ইয়া‘লামূন।

আমি যখন এক আয়াতকে অন্য আয়াত দ্বারা পরিবর্তন করি ৫৫ আর আল্লাহই ভালো জানে তিনি কী নাযিল করবেন, তখন তারা (কাফেরগণ) বলে, তুমি তো আল্লাহর প্রতি অপবাদ দিচ্ছ। অথচ তাদের অধিকাংশেই প্রকৃত বিষয় জানে না।

তাফসীরঃ

৫৫. আল্লাহ তাআলা পরিবেশ-পরিস্থিতির পার্থক্যের প্রতি লক্ষ্য করে অনেক সময় নিজ বিধানাবলীর মধ্যে রদ-বদল করেন। সূরা বাকারায় কিবলা পরিবর্তন প্রসঙ্গে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এটাও কাফেরদের একটা আপত্তির বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তারা প্রশ্ন করত এ কুরআন ও এর বিধানসমূহ যদি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই হয়, তবে এতে এত রদবদল কেন? বোঝা যাচ্ছে, এটা আল্লাহর কালাম নয়; বরং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পক্ষ থেকেই এসব তৈরি করে আল্লাহর নামে চালাচ্ছেন। তাই এটা তাঁর পক্ষ হতে আল্লাহর প্রতি অপবাদ (নাউযুবিল্লাহ)। এ আয়াতে তাদের সে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে যে, কখন কোন বিধান নাযিল করতে হবে তা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন এবং সে কারণেই এ রদবদল হচ্ছে। কিন্তু তারা অজ্ঞ হওয়ার কারণে এ রহস্য বুঝতে পারছে না। তাই এসব অবান্তর কথা বলছে।
১০২

قُلۡ نَزَّلَہٗ رُوۡحُ الۡقُدُسِ مِنۡ رَّبِّکَ بِالۡحَقِّ لِیُـثَبِّتَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَہُدًی وَّبُشۡرٰی لِلۡمُسۡلِمِیۡنَ ١۰٢

কুল নাঝঝালাহূরূহুলকুদুছি মির রাব্বিকা বিলহাক্কি লিইউছাব্বিতাল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া হুদাওঁ ওয়া বুশরা-লিলমুছলিমীন।

বলে দাও, এটা (অর্থাৎ কুরআন মাজীদ) তো রূহুল কুদস (জিবরাঈল আলাইহিস সালাম) তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে নিয়ে এসেছে, ঈমানদারদেরকে দৃঢ়পদ রাখার জন্য এবং মুসলিমদের পক্ষে হিদায়াত ও সুসংবাদস্বরূপ।
১০৩

وَلَقَدۡ نَعۡلَمُ اَنَّہُمۡ یَقُوۡلُوۡنَ اِنَّمَا یُعَلِّمُہٗ بَشَرٌ ؕ لِسَانُ الَّذِیۡ یُلۡحِدُوۡنَ اِلَیۡہِ اَعۡجَمِیٌّ وَّہٰذَا لِسَانٌ عَرَبِیٌّ مُّبِیۡنٌ ١۰٣

ওয়া লাকাদ না‘লামুআন্নাহুম ইয়াকূলূনা ইন্নামা-ইউ‘আলিলমুহূবাশারুল লিছা-নুল্লাযী ইউলহিদূ না ইলাইহি আ‘জামিইয়ুওঁ ওয়া হা-যা-লিছা-নুন ‘আরাবিইয়ুম মুবীন।

(হে নবী!) আমার জানা আছে যে, তারা (তোমার সম্পর্কে) বলে, তাকে তো একজন মানুষ শিক্ষা দেয়। (অথচ) তারা যার প্রতি এটা আরোপ করে তার ভাষা আরবী নয়। ৫৬ আর এটা (অর্থাৎ কুরআনের ভাষা) স্পষ্ট আরবী ভাষা।

তাফসীরঃ

৫৬. মক্কা মুকাররমায় একজন কামার ছিল, যে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়াসাল্লামের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনত। তাই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝে-মাঝে তার কাছে যেতেন ও তাকে দীন ও ঈমানের কথা শোনাতেন। সেও কখনও কখনও তাঁকে ইনজীলের দু’-একটি কথা শুনিয়ে দিত। ব্যস! এরই ভিত্তিতে মক্কা মুকাররমার কোন কোন কাফের বলতে শুরু করল, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়াসাল্লামকে সেই কামারই এ কুরআন শিখাচ্ছে। তাদের সে মন্তব্য যে কতটা অবান্তর সেটাই এ আয়াতে ব্যক্ত করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, সেই বেচারা কামার তো এক অনারব লোক। সে এই অনন্যসাধারণ বাকশৈলীর অলংকারময় আরবী কুরআন কিভাবে রচনা করতে পারে?
১০৪

اِنَّ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِاٰیٰتِ اللّٰہِ ۙ لَا یَہۡدِیۡہِمُ اللّٰہُ وَلَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ١۰٤

ইন্নাল্লাযীনা লা-ইউ’মিনূনা বিআ-য়া-তিল্লা-হি লা-ইয়াহদীহিমুল্লা-হু ওয়া লাহুম ‘আযাবুন আলীম।

যারা আল্লাহর আয়াতের উপর ঈমান রাখে না, আল্লাহ তাদেরকে হিদায়াত দান করেন না। তাদের জন্য আছে, যন্ত্রণাময় শাস্তি।
১০৫

اِنَّمَا یَفۡتَرِی الۡکَذِبَ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِاٰیٰتِ اللّٰہِ ۚ وَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡکٰذِبُوۡنَ ١۰٥

ইন্নামা-ইয়াফতারিল কাযিবাল্লাযীনা লা-ইউ’মিনূনা বিআ-য়া-তিল্লা-হি ওয়া উলাইকা হুমুল কা-যিবূন।

আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ তো (নবী নয়, বরং) তারাই করে, যারা আল্লাহর আয়াতের উপর ঈমান রাখে না। প্রকৃতপক্ষে তারাই মিথ্যাবাদী।
১০৬

مَنۡ کَفَرَ بِاللّٰہِ مِنۡۢ بَعۡدِ اِیۡمَانِہٖۤ اِلَّا مَنۡ اُکۡرِہَ وَقَلۡبُہٗ مُطۡمَئِنٌّۢ بِالۡاِیۡمَانِ وَلٰکِنۡ مَّنۡ شَرَحَ بِالۡکُفۡرِ صَدۡرًا فَعَلَیۡہِمۡ غَضَبٌ مِّنَ اللّٰہِ ۚ وَلَہُمۡ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ ١۰٦

মান কাফারা বিল্লা-হি মিম বা‘দি ঈমা-নিহীইল্লা-মান উকরিহা ওয়া কালবুহূমুতমাইননুম বিলঈমা-নি ওয়ালা-কিম মান শারাহা বিলকুফরি সাদরান ফা‘আলাইহিম গাদাবুম মিনাল্লা-হি ওয়ালাহুম ‘আযা-বুন ‘আজীম।

যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার পর তাঁর কুফরীতে লিপ্ত হয় অবশ্য যাকে (কুফরীর জন্য) বাধ্য করা হয়েছে, কিন্তু তার অন্তর ঈমানে স্থির সে নয়; বরং যে কুফরীর জন্য নিজ হৃদয় খুলে দিয়েছে, এরূপ লোকের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে গযব ৫৭ এবং তাদের জন্য আছে মহাশাস্তি।

তাফসীরঃ

৫৭. অর্থাৎ, কারও যদি প্রাণের আশঙ্কা দেখা দেয়, হুমকি দেওয়া হয় কুফরী কথা উচ্চারণ না করলে তাকে জানে মেরে ফেলা হবে, তবে সে মাযূর। সে তা উচ্চারণ করলে ক্ষমাযোগ্য হবে। শর্ত হল, তার অন্তর ঈমানে অবিচলিত থাকতে হবে। কিন্তু কেউ যদি স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে কুফরী কথা বলে, তবে তার উপর আল্লাহ তাআলার গযব নাযিল হবে।
১০৭

ذٰلِکَ بِاَنَّہُمُ اسۡتَحَبُّوا الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا عَلَی الۡاٰخِرَۃِ ۙ وَاَنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الۡکٰفِرِیۡنَ ١۰٧

যা-লিকা বিআন্নাহুমুছ তাহাব্বুল হায়া-তাদদুনইয়া-‘আলাল আ-খিরাতি ওয়া আন্নাল্লাহা লা-ইয়াহদিল কাওমাল কা-ফিরীন।

তা এজন্য যে, তারা আখেরাতের বিপরীতে দুনিয়ার জীবনকেই বেশি ভালোবেসেছে এবং এজন্য যে, আল্লাহ এরূপ অকৃতজ্ঞ লোকদেরকে হিদায়াতে উপনীত করেন না।
১০৮

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ طَبَعَ اللّٰہُ عَلٰی قُلُوۡبِہِمۡ وَسَمۡعِہِمۡ وَاَبۡصَارِہِمۡ ۚ وَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡغٰفِلُوۡنَ ١۰٨

উলাইকাল্লাযীনা তাবা‘আল্লা-হু ‘আলা-কুলূবিহিম ওয়া ছাম‘ইহিম ওয়া আবসা-রিহিম ওয়া উলাইকা হুমুল গা-ফিলূন।

তারা এমন লোক, আল্লাহ যাদের অন্তর, কান ও চোখে মোহর করে দিয়েছেন এবং তারাই এমন লোক, যারা (নিজ পরিণাম সম্পর্কে) সম্পূর্ণ গাফেল।
১০৯

لَا جَرَمَ اَنَّہُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ ہُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ ١۰٩

লা-জারামা আন্নাহুম ফিল আ-খিরাতি হুমুল খা-ছিরূন।

এটা সুনিশ্চিত যে, এরাই আখেরাতে সর্বাপেক্ষা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
১১০

ثُمَّ اِنَّ رَبَّکَ لِلَّذِیۡنَ ہَاجَرُوۡا مِنۡۢ بَعۡدِ مَا فُتِنُوۡا ثُمَّ جٰہَدُوۡا وَصَبَرُوۡۤا ۙ  اِنَّ رَبَّکَ مِنۡۢ بَعۡدِہَا لَغَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٪ ١١۰

ছু ম্মা ইন্না রাব্বাকা লিল্লাযীনা হা-জারূমিম বা‘দি মা-ফুতিনূছু ম্মা জা-হাদূওয়া সাবারূ ইন্না রাব্বাকা মিম বা‘দিহা-লাগাফূরুর রাহীম।

যারা ফিতনায় আক্রান্ত হওয়ার পর হিজরত করেছে, তারপর জিহাদ করেছে ও সবর অবলম্বন করেছে, তোমার প্রতিপালক এসব বিষয়ের পর অবশ্যই অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ৫৮

তাফসীরঃ

৫৮. এ আয়াতে ‘ফিতনায় আক্রান্ত হওয়ার’ কথা বলে সেই সকল সাহাবীর প্রতি ইশারা করা হতে পারে, যারা মক্কা মুকাররমায় কাফেরদের পক্ষ থেকে জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। প্রথমে যেহেতু কাফেরদের অশুভ পরিণামের কথা জানানো হয়েছিল, তাই এবার সেই নিপীড়িত মুসলিমদের প্রতিদানের কথাও জানিয়ে দেওয়া হল। কোন কোন মুফাসসির এখানে ফিতনায় আক্রান্ত হওয়ার অর্থ এই করেছেন যে, তারা প্রথমে কুফরীতে লিপ্ত হয় এবং তারপর তাওবা করে নেয়। এ হিসেবে এর সম্পর্ক হবে মুরতাদদের সাথে। অর্থাৎ, পূর্বে যে মুরতাদ (ইসলামত্যাগী)দের সম্পর্কে আলোচনা চলছিল, আলোচনা আবার সে দিকেই ফিরে গেছে। এবার তাদের সম্পর্কে বলা হচ্ছে, এখনও যদি তারা তাওবা করে এবং হিজরত ও জিহাদে শামিল হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাআলা আগের সবকিছু ক্ষমা করে দেবেন।
১১১

یَوۡمَ تَاۡتِیۡ کُلُّ نَفۡسٍ تُجَادِلُ عَنۡ نَّفۡسِہَا وَتُوَفّٰی کُلُّ نَفۡسٍ مَّا عَمِلَتۡ وَہُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ ١١١

ইয়াওমা তা’তী কুল্লুনাফছিন তুজা-দিলু‘আন নাফছিহা-ওয়া তুওয়াফফা-কুল্লুনাফছিম মা‘আমিলাত ওয়া হুম লা-ইউজলামূন।

তা সেই দিন, যে দিন প্রত্যেক ব্যক্তি আত্মরক্ষামূলক কথা বলতে বলতে উপস্থিত হবে এবং প্রত্যেককে তার সমস্ত কর্মের পরিপূর্ণ প্রতিফল দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোন জুলুম করা হবে না।
১১২

وَضَرَبَ اللّٰہُ مَثَلًا قَرۡیَۃً کَانَتۡ اٰمِنَۃً مُّطۡمَئِنَّۃً یَّاۡتِیۡہَا رِزۡقُہَا رَغَدًا مِّنۡ کُلِّ مَکَانٍ فَکَفَرَتۡ بِاَنۡعُمِ اللّٰہِ فَاَذَاقَہَا اللّٰہُ لِبَاسَ الۡجُوۡعِ وَالۡخَوۡفِ بِمَا کَانُوۡا یَصۡنَعُوۡنَ ١١٢

ওয়া দারাবাল্লা-হু মাছালান কারইয়াতান কা-নাত আ-মিনাতাম মুতমাইন্নাতাইঁ ইয়া’তীহারিঝকুহা-রাগাদাম মিন কুল্লি মাকা-নিন ফাকাফারাত বিআন‘উমিল্লা-হি ফাআযা-কাহাল্লা-হু লিবা-ছাল জূ‘ই ওয়াল খাওফি বিমা-কা-নূইয়াসনা‘ঊন।

আল্লাহ এক জনবসতির দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন, যা ছিল নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ। চতুর্দিক থেকে তার জীবিকা চলে আসত পর্যাপ্ত পরিমাণে। অতঃপর তা আল্লাহর নি‘আমতের অকৃতজ্ঞতা শুরু করে দিল। ফলে আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদেরকে ক্ষুধা ও ভীতির পোশাক আস্বাদন করালেন। ৫৯

তাফসীরঃ

৫৯. এখানে আল্লাহ তাআলা একটি সাধারণ দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন। বলছেন যে, একটি জনপদ ছিল সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ভরপুর। কালক্রমে তারা আল্লাহ তাআলার অকৃতজ্ঞতা ও অবাধ্যতায় ডুবে গেল এবং কোনক্রমেই নিজেদেরকে শোধরাতে রাজি হল না। ফলে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে শাস্তির স্বাদ চাখালেন। এক দিকে তাদের উপর দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দেওয়া হল, অন্যদিকে শত্রুদের পক্ষ থেকে আক্রমণ ও লুট-তরাজের ভয়-ভীতি। এ দুটো বিপদ যেন পোশাকের মত তাদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলল। কিন্তু কোন-কোন মুফাসসির বলেন, এর দ্বারা মক্কা মুকাররমার জনপদকে বোঝানো হয়েছে, যার বাসিন্দাগণ সুখণ্ডশান্তিতে জীবন যাপন করছিল। কিন্তু তারা যখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অস্বীকার করল, তখন তাদের উপর কঠিন দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দেওয়া হল। তাতে মানুষ চামড়া পর্যন্ত খেতে বাধ্য হল। শেষ পর্যন্ত তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে আবেদন করল, আপনি দু‘আ করুন, যেন আমাদেরকে এ দুর্ভিক্ষ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। সুতরাং তিনি দু‘আ করলেন। ফলে দুর্ভিক্ষ কেটে গেল। সূরা দুখানেও এ ঘটনা আসবে।
১১৩

وَلَقَدۡ جَآءَہُمۡ رَسُوۡلٌ مِّنۡہُمۡ فَکَذَّبُوۡہُ فَاَخَذَہُمُ الۡعَذَابُ وَہُمۡ ظٰلِمُوۡنَ ١١٣

ওয়া লাকাদ জাআহুম রাছূলুম মিনহুম ফাকাযযাবূহু ফাআখাযাহুমুল‘আযা-বুওয়া হুম জা-লিমূন।

তাদের কাছে তাদেরই মধ্য হতে একজন রাসূল এসেছিল, কিন্তু তারা তাকে অস্বীকার করল। সুতরাং তারা যখন জুলুমে লিপ্ত হল তখন শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করল।
১১৪

فَکُلُوۡا مِمَّا رَزَقَکُمُ اللّٰہُ حَلٰلًا طَیِّبًا ۪ وَّاشۡکُرُوۡا نِعۡمَتَ اللّٰہِ اِنۡ کُنۡتُمۡ اِیَّاہُ تَعۡبُدُوۡنَ ١١٤

ফাকুলূমিম্মা-রাঝাকাকুমুল্লা-হু হালা-লান তাইয়িবাওঁ ওয়াশকুরূনি‘মাতাল্লা-হি ইন কুনতুম ইয়্যা-হু তা‘বুদূ ন।

আল্লাহ তোমাদেরকে রিযক হিসেবে যে হালাল, পবিত্র বস্তু দিয়েছেন, তা খাও ৬০ এবং আল্লাহর নি‘আমতসমূহের শোকর আদায় কর যদি তোমরা সত্যিই তাঁর ইবাদত করে থাক।

তাফসীরঃ

৬০. পূর্বে যে অকৃতজ্ঞতার নিন্দা করা হয়েছে, এখানে তারই একটি পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে, যে পদ্ধতি আরব মুশরিকগণ অবলম্বন করেছিল। তা এই যে, তারা মনগড়াভাবে বহু নি‘আমত হারাম সাব্যস্ত করেছিল। সূরা আনআমে (৬ : ১৩৯-১৪৫) তা সবিস্তারে আলোচিত হয়েছে। এখানে তাদের অকৃতজ্ঞতার এই বিশেষ পদ্ধতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
১১৫

اِنَّمَا حَرَّمَ عَلَیۡکُمُ الۡمَیۡتَۃَ وَالدَّمَ وَلَحۡمَ الۡخِنۡزِیۡرِ وَمَاۤ اُہِلَّ لِغَیۡرِ اللّٰہِ بِہٖ ۚ فَمَنِ اضۡطُرَّ غَیۡرَ بَاغٍ وَّلَا عَادٍ فَاِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ١١٥

ইন্নামা-হাররামা ‘আলাইকুমুল মাইতাতা ওয়াদ্দামা ওয়া লাহমাল খিনঝীরি ওয়ামাউহিল্লা লিগাইরিল্লা-হি বিহী ফামানিদতুররা গাইরা বা-গিওঁ ওয়ালা-‘আদিন ফাইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম।

তিনি তো তোমাদের জন্য কেবল মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোশত এবং সেই পশু হারাম করেছেন, যাতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নাম নেওয়া হয়েছে। তবে যে ক্ষুধায় অতিষ্ঠ হয়ে যাবে এবং মজা লুটার জন্য না খাবে আর (প্রয়োজনের) সীমা অতিক্রমও না করবে, (তার পক্ষে) তো আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ৬১

তাফসীরঃ

৬১. এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সূরা মায়েদায় (৫ : ৩) চলে গেছে।
১১৬

وَلَا تَقُوۡلُوۡا لِمَا تَصِفُ اَلۡسِنَتُکُمُ الۡکَذِبَ ہٰذَا حَلٰلٌ وَّہٰذَا حَرَامٌ لِّتَفۡتَرُوۡا عَلَی اللّٰہِ الۡکَذِبَ ؕ  اِنَّ الَّذِیۡنَ یَفۡتَرُوۡنَ عَلَی اللّٰہِ الۡکَذِبَ لَا یُفۡلِحُوۡنَ ؕ ١١٦

ওয়ালা-তাকূলূলিমা-তাসিফুআলছিনাতুকুমুল কাযিবা হা-যা-হালা-লুওঁ ওয়া হা-যাহারামুল লিতাফতারূ‘আলাল্লা-হিল কাযিবা ইন্নাল্লাযীনা ইয়াফতারূনা ‘আলাল্লা-হিল কাযিবা লা-ইউফলিহূন।

যে সব বস্তু সম্পর্কে তোমাদের জিহ্বা মিথ্যা রচনা করে, সে সম্পর্কে বলো না- এটা হালাল এবং এটা হারাম। কেননা তার অর্থ হবে তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছ। জেনে রেখ, যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেয়, তারা সফলকাম হয় না।
১১৭

مَتَاعٌ قَلِیۡلٌ ۪ وَّلَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ١١٧

মাতা-‘উন কালীলুওঁ ওয়া লাহুম ‘আযা-বুন আলীম।

(দুনিয়ায়) তাদের আরাম-আয়েশ অতি সামান্য। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাময় শাস্তি।
১১৮

وَعَلَی الَّذِیۡنَ ہَادُوۡا حَرَّمۡنَا مَا قَصَصۡنَا عَلَیۡکَ مِنۡ قَبۡلُ ۚ وَمَا ظَلَمۡنٰہُمۡ وَلٰکِنۡ کَانُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ یَظۡلِمُوۡنَ ١١٨

ওয়া ‘আলাল্লাযীনা হা-দূহাররামনা-মা-কাসাসনা-‘আলাইকা মিন কাবলু ওয়ামাজালামনা-হুম ওয়ালা-কিন কা-নূআনফুছাহুম ইয়জলিমূন।

ইয়াহুদীদের জন্য আমি হারাম করেছিলাম সেই সব জিনিস, যা আমি পূর্বেই তোমার নিকট উল্লেখ করেছি। ৬২ আমি তাদের উপর কোন জুলুম করিনি; বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করছিল।

তাফসীরঃ

৬২. বলা উদ্দেশ্য, মক্কার কাফেরগণ নিজেদেরকে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের অনুসারী বলে দাবী করত, অথচ তারা যেসব হালাল জিনিসকে হারাম সাব্যস্ত করেছিল, তা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সময় থেকেই হালালরূপে চলে আসছিল। তার মধ্যে কেবল গুটি কয়েক জিনিস ইয়াহুদীদের প্রতি শাস্তিস্বরূপ হারাম করা হয়েছিল। যেমন সূরা নিসায় (৪ : ১৬০) গত হয়েছে। বাকি সবই তখন থেকে হালাল হিসেবেই চলে আসছে।
১১৯

ثُمَّ اِنَّ رَبَّکَ لِلَّذِیۡنَ عَمِلُوا السُّوۡٓءَ بِجَہَالَۃٍ ثُمَّ تَابُوۡا مِنۡۢ بَعۡدِ ذٰلِکَ وَاَصۡلَحُوۡۤا ۙ  اِنَّ رَبَّکَ مِنۡۢ بَعۡدِہَا لَغَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٪ ١١٩

ছু ম্মা ইন্না রাব্বাকা লিল্লাযীনা ‘আমিলুছছূআ বিজাহা-লাতিন ছুম্মা তা-বূমিম বা‘দি যালিকা ওয়া আসলাহূ ইন্না রাব্বাকা মিম বা‘দিহা-লাগাফরুর রাহীম।

তা সত্ত্বেও তোমার প্রতিপালক এমন যে, যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে এবং তারপর তাওবা করে ও নিজেদেরকে শুধরিয়ে নেয়, তোমার প্রতিপালক তারপরও তাদের জন্য অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
১২০

اِنَّ اِبۡرٰہِیۡمَ کَانَ اُمَّۃً قَانِتًا لِّلّٰہِ حَنِیۡفًا ؕ  وَلَمۡ یَکُ مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ ۙ ١٢۰

ইন্না ইবরা-হীমা কা-না উম্মাতান কা-নিতাল লিল্লা-হি হানীফাওঁ ওয়ালাম ইয়াকুমিনাল মুশরিকীন।

নিশ্চয়ই ইবরাহীম ছিল এক আদর্শপুরুষ আল্লাহর অনুগত, একনিষ্ঠ এবং যারা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
১২১

شَاکِرًا لِّاَنۡعُمِہٖ ؕ اِجۡتَبٰہُ وَہَدٰىہُ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ١٢١

শা-কিরাল লিআন‘উমিহী ইজতাবা-হু ওয়াহাদা-হু ইলা-সিরা-তিম মুছতাকীম।

সে আল্লাহর নি‘আমতের কৃতজ্ঞতা আদায়কারী ছিল। আল্লাহ তাকে মনোনীত করেছিলেন এবং তাকে সরল পথে পরিচালিত করেছিলেন।
১২২

وَاٰتَیۡنٰہُ فِی الدُّنۡیَا حَسَنَۃً ؕ  وَاِنَّہٗ فِی الۡاٰخِرَۃِ لَمِنَ الصّٰلِحِیۡنَ ؕ ١٢٢

ওয়া আ-তাইনা-হু ফিদদুনইয়া-হাছানাতাওঁ ওয়া ইন্নাহূফিল আ-খিরাতি লামিনাসসালিহীন।

আমি তাকে দুনিয়ায়ও কল্যাণ দিয়েছিলাম এবং আখেরাতেও সে নিশ্চয়ই সালেহীনের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
১২৩

ثُمَّ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡکَ اَنِ اتَّبِعۡ مِلَّۃَ اِبۡرٰہِیۡمَ حَنِیۡفًا ؕ وَمَا کَانَ مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ ١٢٣

ছু ম্মা আওহাইনাইলাইকা আনিত্তাবি‘ মিল্লাতা ইবরা-হীমা হানীফাওঁ ওয়ামা-কা-না মিনাল মুশরিকীন।

অতঃপর (হে নবী!) আমি ওহীর মাধ্যমে তোমার প্রতিও এই হুকুম নাযিল করেছি যে, তুমি ইবরাহীমের দীন অনুসরণ কর, যে নিজেকে আল্লাহরই অভিমুখী করে রেখেছিল এবং যারা আল্লাহর সঙ্গে শরীক করে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
১২৪

اِنَّمَا جُعِلَ السَّبۡتُ عَلَی الَّذِیۡنَ اخۡتَلَفُوۡا فِیۡہِ ؕ وَاِنَّ رَبَّکَ لَیَحۡکُمُ بَیۡنَہُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ فِیۡمَا کَانُوۡا فِیۡہِ یَخۡتَلِفُوۡنَ ١٢٤

ইন্নামা-জু‘ইলাছছাব তু‘আলাল্লাযীনাখ তালাফূফীহি ওয়া ইন্না রাব্বাকা লাইয়াহকুমু বাইনাহুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ফীমা-কা-নূফীহি ইয়াখাতালিফূন।

শনিবার সম্পর্কিত বিধান তো কেবল তাদের উপরই বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, যারা এ সম্পর্কে মতভেদ করত। ৬৩ নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক তারা যেসব বিষয়ে মতভেদ করে কিয়ামতের দিন সে সম্পর্কে মীমাংসা করবেন।

তাফসীরঃ

৬৩. এটা দ্বিতীয় ব্যতিক্রম, যা ইয়াহুদীদের প্রতি হারাম করা হয়েছিল, অথচ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের শরীয়তে তা বৈধ ছিল। ইয়াহুদীদের জন্য শনিবারে অর্থনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু এক্ষেত্রেও তারা দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে যায়। কিছু লোক তো এ হুকুম পালন করল এবং কিছু লোক করল না। যাই হোক, এটাও একটা ব্যতিক্রম বিধান ছিল, যা কেবল ইয়াহুদীদের প্রতিই আরোপ করা হয়েছিল। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের শরীয়ত এর থেকে মুক্ত ছিল। কাজেই কারও এ অধিকার নেই যে, নিজের পক্ষ থেকে কোন জিনিসকে হারাম সাব্যস্ত করবে।
১২৫

اُدۡعُ اِلٰی سَبِیۡلِ رَبِّکَ بِالۡحِکۡمَۃِ وَالۡمَوۡعِظَۃِ الۡحَسَنَۃِ وَجَادِلۡہُمۡ بِالَّتِیۡ ہِیَ اَحۡسَنُ ؕ اِنَّ رَبَّکَ ہُوَ اَعۡلَمُ بِمَنۡ ضَلَّ عَنۡ سَبِیۡلِہٖ وَہُوَ اَعۡلَمُ بِالۡمُہۡتَدِیۡنَ ١٢٥

উদ‘উ ইলা-ছাবীলি রাব্বিকা বিলহিকমাতি ওয়াল মাও‘ইজাতিল হাছানাতি ওয়া জা-দিলহুম বিল্লাতী হিয়া আহছানু ইন্না রাব্বাকা হুওয়া আ‘লামুবিমান দাল্লা ‘আন ছাবীলিহী ওয়া হুওয়া আ‘লামুবিলমুহতাদীন।

তুমি নিজ প্রতিপালকের পথে মানুষকে ডাকবে হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে আর (যদি কখনও বিতর্কের দরকার পড়ে, তবে) তাদের সাথে বিতর্ক করবে উৎকৃষ্ট পন্থায়। ৬৪ নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক যারা তার পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তাদের সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন এবং তিনি তাদের সম্পর্কেও পরিপূর্ণ জ্ঞাত, যারা সৎপথে প্রতিষ্ঠিত।

তাফসীরঃ

৬৪. এ আয়াতে আল্লাহর পথে ডাকার পদ্ধতি শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এতে বর্ণিত মূলনীতি হল তিনটি (ক) হিকমত (খ) সদুপদেশ ও (গ) উৎকৃষ্ট পন্থায় বিতর্ক। হিকমতের মর্ম হল সত্য-সঠিক বিষয়বস্তুকে অকাট্য দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে স্থান-কাল-পাত্রকে বিবেচনায় রেখে উপস্থাপন করা। সদুপদেশের অর্থ যাকে দাওয়াত দেওয়া হবে তার ইজ্জত-সম্মানের প্রতি লক্ষ রেখে তার কল্যাণ কামনার্থে হৃদয়গ্রাহী ভাষায় ও নম্রতার সাথে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করা। আর উৎকৃষ্ট পন্থায় বিতর্ক করার অর্থ সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা ও প্রতিপক্ষকে তা বোঝানোর নিয়তে সত্যনিষ্ঠার সাথে ভদ্রোচিত ভাষায় যথোপযুক্ত যুক্তি-তর্ক ও দলীল-প্রমাণ পেশ করা, প্রতিপক্ষের মনে আঘাত লাগতে পারে বা জিদ সৃষ্টি হতে পারে এ জাতীয় আচরণ পরিহার করা এবং সর্বাবস্থায় মাত্রাবোধ ও ন্যায়-ইনসাফের পরিচয় দেওয়া। -অনুবাদক
১২৬

وَاِنۡ عَاقَبۡتُمۡ فَعَاقِبُوۡا بِمِثۡلِ مَا عُوۡقِبۡتُمۡ بِہٖ ؕ وَلَئِنۡ صَبَرۡتُمۡ لَہُوَ خَیۡرٌ لِّلصّٰبِرِیۡنَ ١٢٦

ওয়া ইন ‘আ-কাবতুম ফা‘আকিবূবিমিছলি মা -‘ঊকিবতুম বিহী ওয়া লাইন সাবারতুম লাহুওয়া খাইরুল লিসসা-বিরীন।

তোমরা যদি (কোন জুলুমের) প্রতিশোধ নাও, তবে ঠিক ততটুকুই নেবে, যতটুকু জুলুম তোমাদের উপর করা হয়েছে আর যদি সবর কর, তবে নিশ্চয়ই সবর অবলম্বনকারীদের পক্ষে তাই শ্রেয়।
১২৭

وَاصۡبِرۡ وَمَا صَبۡرُکَ اِلَّا بِاللّٰہِ وَلَا تَحۡزَنۡ عَلَیۡہِمۡ وَلَا تَکُ فِیۡ ضَیۡقٍ مِّمَّا یَمۡکُرُوۡنَ ١٢٧

ওয়াসবির ওয়ামা-সাবরুকা ইল্লা-বিল্লা-হি ওয়ালা-তাহঝান ‘আলাইহিম ওয়ালা-তাকুফী দাইকিম মিম্মা-ইয়ামকুরূন।

এবং (হে নবী!) তুমি সবর অবলম্বন কর। তোমার সবর তো আল্লাহরই সাহায্যে হবে। তুমি কাফেরদের জন্য দুঃখ করো না এবং তারা যে ষড়যন্ত্র করে তার কারণে কুণ্ঠিত হয়ো না।
১২৮

اِنَّ اللّٰہَ مَعَ الَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا وَّالَّذِیۡنَ ہُمۡ مُّحۡسِنُوۡنَ ٪ ١٢٨

ইন্নাল্লা-হা মা‘আল্লাযী নাত্তাকাওঁ ওয়াল্লাযীনা হুম মুহছিনূন।

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরই সাথী, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা ইহসানের অধিকারী হয়। ৬৫

তাফসীরঃ

৬৫. ‘ইহসান’ অতি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। সব রকম সৎকর্মই এর অন্তর্ভুক্ত। একটি হাদীসে এর ব্যাখ্যা এভাবে করা হয়েছে- ‘মানুষ এভাবে আল্লাহ তাআলার ইবাদত করবে, যেন সে আল্লাহ তাআলাকে দেখছে কিংবা অন্ততপক্ষে এই চিন্তা করবে যে, তিনি তো আমাকে দেখছেন’। হে আল্লাহ! আমাকে ইহসানওয়ালাদের অন্তর্ভুক্ত কর।
সূরা আন নাহ্‌ল | মুসলিম বাংলা