সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল হিজ্‌র (الحجر) | পাথুরে পাহাড়

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৯৯

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

الٓرٰ ۟ تِلۡکَ اٰیٰتُ الۡکِتٰبِ وَقُرۡاٰنٍ مُّبِیۡنٍ ١

আলিফ লাম রা- তিলকা আ-য়া-তুল কিতা-বি ওয়া কুরআ-নিম মুবীন।

আলিফ-লাম-রা। এগুলো (আল্লাহর) কিতাব ও সুস্পষ্ট কুরআনের আয়াত।

رُبَمَا یَوَدُّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَوۡ کَانُوۡا مُسۡلِمِیۡنَ ٢

রুবামা-ইয়াওয়াদ্দুল্লাযীনা কাফারূলাও কা-নূমুছলিমীন।

একটা সময় আসবে, যখন কাফেরগণ আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করবে, তারা যদি মুসলিম হয়ে যেত!

ذَرۡہُمۡ یَاۡکُلُوۡا وَیَتَمَتَّعُوۡا وَیُلۡہِہِمُ الۡاَمَلُ فَسَوۡفَ یَعۡلَمُوۡنَ ٣

যারহুম ইয়া’কুলূওয়া ইয়াতামাত্তা‘ঊ ওয়া ইউলহিহিমুল আমালুফাছাওফা ইয়া‘লামূন।

(হে নবী!) তাদেরকে তাদের হালে ছেড়ে দাও- তারা খেয়ে নিক, ফুর্তি ওড়াক এবং অসার আশা তাদেরকে উদাসীন করে রাখুক। শীঘ্রই তারা জানতে পারবে (প্রকৃত সত্য কী ছিল)।

তাফসীরঃ

১. এ আয়াত জানাচ্ছে, কেবল পানাহার করা ও দুনিয়ার মজা লুটাকে জীবনের মূল উদ্দেশ্য বানিয়ে নেওয়া এবং তারই জন্য এমন লম্বা-চওড়া আশা করা, যেন দুনিয়াই আসল জীবন, এটা কাফেরদের কাজ। মুসলিম ব্যক্তি দুনিয়ায় জীবন যাপন করবে, আল্লাহ প্রদত্ত নি‘আমত ভোগ করবে, কিন্তু দুনিয়াকে জীবনের লক্ষ্যবস্তু বানাবে না। বরং পার্থিব সবকিছুকে আখেরাতের কল্যাণ অর্জনের জন্য ব্যবহার করবে। আখেরাতের কল্যাণ লাভ করার সর্বোত্তম উপায় হল শরয়ী বিধানাবলীর অনুসরণ।

وَمَاۤ اَہۡلَکۡنَا مِنۡ قَرۡیَۃٍ اِلَّا وَلَہَا کِتَابٌ مَّعۡلُوۡمٌ ٤

ওয়ামাআহলাকনা-মিন কারয়াতিন ইল্লা ওয়ালাহা-কিতা-বুম মা‘লূম।

আমি যে জনপদকেই ধ্বংস করেছি, তার জন্য একটা নির্দিষ্ট কাল লেখা ছিল।

مَا تَسۡبِقُ مِنۡ اُمَّۃٍ اَجَلَہَا وَمَا یَسۡتَاۡخِرُوۡنَ ٥

মা-তাছবিকুমিন উম্মাতিন আজালাহা-ওয়ামা-ইয়াছতা’খিরূন।

কোন সম্প্রদায় তার নির্দিষ্ট কালের আগে ধ্বংস হয় না এবং সে কালকে অতিক্রমও করতে পারে না।

وَقَالُوۡا یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡ نُزِّلَ عَلَیۡہِ الذِّکۡرُ اِنَّکَ لَمَجۡنُوۡنٌ ؕ ٦

ওয়া কা-লূইয়াআইয়ুহাল্লাযী নুঝঝিলা ‘আলাইহিযযিকরু ইন্নাকা লামাজনূন।

তারা বলে, হে ওই ব্যক্তি, যার প্রতি এই উপদেশবাণী (অর্থাৎ কুরআন) অবতীর্ণ করা হয়েছে, তুমি নিশ্চিতরূপেই উন্মাদ।

لَوۡ مَا تَاۡتِیۡنَا بِالۡمَلٰٓئِکَۃِ اِنۡ کُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِیۡنَ ٧

লাও মা-তা’তীনা-বিলমালাইকাতি ইন কুনতা মিনাসসা-দিকীন।

বাস্তবিকই যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে আমাদের কাছে ফিরিশতা নিয়ে আস না কেন?

مَا نُنَزِّلُ الۡمَلٰٓئِکَۃَ اِلَّا بِالۡحَقِّ وَمَا کَانُوۡۤا اِذًا مُّنۡظَرِیۡنَ ٨

মা-নুনাঝঝিলুল মালাইকাতা ইল্লা-বিলহাক্কিওয়ামা-কা-নূ ইযাম মুনজারীন।

আমি তো ফিরিশতা অবতীর্ণ করি কেবল যথার্থ মীমাংসা দিয়ে আর তখন তাদেরকে কোন সুযোগ দেওয়া হয় না।

তাফসীরঃ

২. তারা আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে ফিরিশতা পাঠানোর যে ফরমায়েশ করত এটা তার উত্তর। উত্তরের সারমর্ম হল, যে সম্প্রদায়ের কাছে আমি কোন নবী পাঠিয়েছি তাদের কাছে সহসা ফিরিশতা অবতীর্ণ করি না। তা করি কেবল সেই সময় যখন সে সম্প্রদায়ের নাফরমানী সকল সীমা ছাড়িয়ে যায়। ফলে তাদের উপর শাস্তি অবতীর্ণ করার ফায়সালা হয়ে যায়। সে ফায়সালার অধীনে ফিরিশতা পাঠিয়ে দেওয়া হলে তখন আর তারা ঈমান আনার ফুরসত পায় না। এ দুনিয়া তো এক পরীক্ষার জায়গা। এখানে যে ঈমান গ্রহণযোগ্য, সেটা হল ঈমান বিল গায়েব বা না দেখে বিশ্বাস। অর্থাৎ, মানুষ নিজ জ্ঞান-বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে আল্লাহ তাআলার সত্তা ও তাঁর একত্ববাদকে শিরোধার্য করে নেবে। যদি গায়েবের সবকিছু চাক্ষুষ দেখিয়ে দেওয়া হয়, তবে পরীক্ষা হল কিসের?

اِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا الذِّکۡرَ وَاِنَّا لَہٗ لَحٰفِظُوۡنَ ٩

ইন্না-নাহনুনাঝঝালনাযযি করা ওয়া ইন্না-লাহূলাহা-ফিজূ ন।

বস্তুত এ উপদেশ বাণী (কুরআন) আমিই অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর রক্ষাকর্তা।

তাফসীরঃ

৩. এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যদিও কুরআন মাজীদের আগেও বহু আসমানী কিতাব নাযিল করা হয়েছিল, কিন্তু তা ছিল বিশেষ-বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য। তাই আল্লাহ তাআলা সেগুলোকে কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষণ করার গ্যারাণ্টি দেননি। সেগুলোকে হেফাজত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের উপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, যেমন সূরা মায়েদায় (৫ : ৪৪) বলা হয়েছে। কিন্তু কুরআন মাজীদ সর্বশেষ আসমানী কিতাব। কিয়ামতকাল পর্যন্ত এর কার্যকারিতা বলবৎ থাকবে। তাই আল্লাহ তাআলা এর সংরক্ষণের দায়িত্ব নিজের কাছেই রেখে দিয়েছেন। সুতরাং কিয়ামত পর্যন্ত এর ভেতর কোন রদবদলের সম্ভাবনা নেই। আল্লাহ তাআলা এমনভাবে এ গ্রন্থ সংরক্ষণ করেছেন যে, ছোট-ছোট শিশুরা পর্যন্ত পূর্ণ কিতাব মুখস্থ করে নিজেদের বক্ষদেশে সুরক্ষিত করে রাখে। কথার কথা যদি শত্রুগণ কুরআন মাজীদের সমস্ত কপি খতম করে ফেলে (নাউযুবিল্লাহ) তবুও ছোট-ছোট শিশুরাও এ কুরআন পুনরায় লিপিবদ্ধ করাতে পারবে এবং তাতে এক হরফেরও হেরফের হবে না। এটা কুরআন মাজীদের এক জীবন্ত মুজিযা।
১০

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِکَ فِیۡ شِیَعِ الۡاَوَّلِیۡنَ ١۰

ওয়া লাকাদ আরছালনা-মিন কাবলিকা ফী শিয়া‘ইল আওওয়ালীন।

(হে নবী!) তোমার পূর্বেও আমি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কাছে আমার রাসূল পাঠিয়েছি।
১১

وَمَا یَاۡتِیۡہِمۡ مِّنۡ رَّسُوۡلٍ اِلَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ١١

ওয়ামা-ইয়া’তীহিম মির রাছূলিন ইল্লা-কা-নূবিহী ইয়াছতাহঝিঊন।

তাদের কাছে এমন কোনও রাসূল আসেনি, যাকে নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ না করেছে।
১২

کَذٰلِکَ نَسۡلُکُہٗ فِیۡ قُلُوۡبِ الۡمُجۡرِمِیۡنَ ۙ ١٢

কাযা-লিকা নাছলুকুহূফী কুলূবিল মুজরিমীন।

আমি অপরাধীদের অন্তরে এ বিষয়টা এভাবেই ঢুকিয়ে দেই-

তাফসীরঃ

৪. ‘এ বিষয়’ দ্বারা কুরআন মাজীদকেও বোঝানো হতে পারে। অর্থাৎ, কুরআন মাজীদ তাদের অন্তরে প্রবেশ করে বটে, কিন্তু তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এর প্রতি ঈমান আনার তাওফীক তাদেরকে দেওয়া হয় না। অথবা এর দ্বারা তাদের ঠাট্টা-বিদ্রূপের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। অর্থাৎ, তাদের চরম অপরাধ প্রবণতার কারণে তাদের অন্তরে মোহর করে দেওয়া হয়েছে এবং তাতে কুফর, অবাধ্যতা ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিণামে তারা ঈমান আনতে পারবে না।
১৩

لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِہٖ وَقَدۡ خَلَتۡ سُنَّۃُ الۡاَوَّلِیۡنَ ١٣

লা-ইউ’মিনূনা বিহী ওয়া কাদ খালাত ছুন্নাতুল আওওয়ালীন।

যে, তারা এর প্রতি ঈমান আনবে না। পূর্ববর্তী লোকদের রীতিও এ রকমই চলে এসেছে।
১৪

وَلَوۡ فَتَحۡنَا عَلَیۡہِمۡ بَابًا مِّنَ السَّمَآءِ فَظَلُّوۡا فِیۡہِ یَعۡرُجُوۡنَ ۙ ١٤

ওয়া লাও ফাতাহনা-‘আলাইহিম বা-বাম মিনাছছামাই ফাজাললূফীহি ইয়া‘রুজুন।

এবং আমি যদি (কথার কথা) তাদের জন্য আসমানের কোন দরজা খুলে দেই এবং তারা দিনের আলোতে তাতে চড়তে শুরু করে-
১৫

لَقَالُوۡۤا اِنَّمَا سُکِّرَتۡ اَبۡصَارُنَا بَلۡ نَحۡنُ قَوۡمٌ مَّسۡحُوۡرُوۡنَ ٪ ١٥

লাকা-লূ ইন্নমা-ছুক্কিরাত আবসা-রুনা-বালনাহনুকাওমুম মাছহূরূন।

তবুও তারা একথাই বলবে যে, আমাদের দৃষ্টি সম্মোহিত করা হয়েছে, বরং আমরা এক যাদুগ্রস্ত সম্প্রদায়।

তাফসীরঃ

৫. অর্থাৎ, তারা যা-কিছু দাবী ও ফরমায়েশ করে তা কেবলই জেদপ্রসূত। কাজেই ফিরিশতা পাঠানো হলে তো দূরের কথা খোদ তাদেরকেই যদি আকাশে নিয়ে যাওয়া হয়, তবুও তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান আনবে না, বরং তাকে অস্বীকার করার জন্য কোনও না কোনও ছুতা বানিয়ে নেবে। বলবে, আমাদেরকে যাদু করা হয়েছে।
১৬

وَلَقَدۡ جَعَلۡنَا فِی السَّمَآءِ بُرُوۡجًا وَّزَیَّنّٰہَا لِلنّٰظِرِیۡنَ ۙ ١٦

ওয়া লাকাদ জা‘আলনা-ফিছ ছামাই বুরূজাওঁ ওয়া ঝাইয়ান্না-হা-লিন্না-জিরীন।

আমি আসমানে বহু ‘বুরূজ’ তৈরি করেছি এবং দর্শকদের জন্য তাতে শোভা দান করেছি।

তাফসীরঃ

৬. ‘বুরূজ’-এর প্রকৃত অর্থ দুর্গ। কিন্তু অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে এখানে বুরূজ (بروج) দ্বারা গ্রহ-নক্ষত্র বোঝানো হয়েছে।
১৭

وَحَفِظۡنٰہَا مِنۡ کُلِّ شَیۡطٰنٍ رَّجِیۡمٍ ۙ ١٧

ওয়া হাফিজনা-হা-মিন কুল্লি শাইতা-নির রাজীম।

এবং তাকে প্রত্যেক বিতাড়িত শয়তান থেকে সংরক্ষিত করে রেখেছি।
১৮

اِلَّا مَنِ اسۡتَرَقَ السَّمۡعَ فَاَتۡبَعَہٗ شِہَابٌ مُّبِیۡنٌ ١٨

ইল্লা-মানিছ তারাকাছ ছাম‘আ ফাআতবা‘আহূশিহা-বুম মুবীন।

তবে কেউ চুরি করে কিছু শোনার চেষ্টা করলে এক উজ্জ্বল শিখা তাকে ধাওয়া করে।

তাফসীরঃ

৮. কুরআন মাজীদে কয়েক জায়গায় বলা হয়েছে, শয়তান আকাশে গিয়ে ঊর্ধ্বজগতের খবরাখবর সংগ্রহ করতে চায়। উদ্দেশ্য সেসব খবর অতীন্দ্রিয়বাদী ও জ্যোতিষীদেরকে সরবরাহ করা, যাতে তারা তার মাধ্যমে মানুষকে বিশ্বাস করাতে সক্ষম হয় যে, তারা গায়েবী খবর জানতে পারে। কিন্তু আকাশে প্রবেশের দুয়ার তাদের জন্য পূর্ব থেকেই বন্ধ রয়েছে। তবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভাগমনের আগে শয়তানেরা আকাশের কাছাকাছি পৌঁছতে পারত এবং সেখান থেকে চুরি করে ফেরেশতাদের কথাবার্তা শোনার চেষ্টা করত। ঘটনাক্রমে কোনও একটু কথা কানে পড়ে গেলে তার সাথে অসংখ্য মিথ্যা মিলিয়ে অতীন্দ্রিয়বাদীদের কাছে পৌঁছাত। এভাবে অতীন্দ্রিয়বাদীদের দু’-একটি কথা ফলেও যেত। কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভাগমনের পর তাদের আকাশের কাছে যাওয়াও বন্ধ করে দেওয়া হল। এখন তারা সে রকম চেষ্টা করলে জ্বলন্ত উল্কা ছুঁড়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। আকাশে আমরা যে নক্ষত্র পতনের দৃশ্য দেখতে পাই, অনেক সময় তা এই শয়তান বিতাড়নেরই ব্যাপার হয়ে থাকে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা ইনশাআল্লাহ তাআলা সূরা জীনে আসবে।
১৯

وَالۡاَرۡضَ مَدَدۡنٰہَا وَاَلۡقَیۡنَا فِیۡہَا رَوَاسِیَ وَاَنۡۢبَتۡنَا فِیۡہَا مِنۡ کُلِّ شَیۡءٍ مَّوۡزُوۡنٍ ١٩

ওয়াল আরদা মাদাদনা-হা-ওয়া আলকাইনা-ফীহা-রাওয়া-ছিয়া ওয়া আমবাতনা-ফীহামিন কুল্লি শাইয়িম মাওঝূন।

এবং আমি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছি এবং (তাকে স্থিত রাখার জন্য) তাতে পাহাড় স্থাপিত করেছি। আর তাতে সর্বপ্রকার বস্তু পরিমিতভাবে উদগত করেছি।

তাফসীরঃ

৯. কুরআন মাজীদের কয়েক জায়গায় বলা হয়েছে, শুরুতে ভূমিকে যখন সাগরে বিছিয়ে দেওয়া হয়, তখন তা দুলছিল। তাই আল্লাহ তাআলা তাকে স্থির রাখার জন্য পাহাড়-পর্বত সৃষ্টি করেন (দেখুন, সূরা নাহল ১৬ : ১৫)।
২০

وَجَعَلۡنَا لَکُمۡ فِیۡہَا مَعَایِشَ وَمَنۡ لَّسۡتُمۡ لَہٗ بِرٰزِقِیۡنَ ٢۰

ওয়া জা‘আলনা-লাকুম ফীহা-মা‘আ-ইশা ওয়ামাল লাছতুম লাহূবিরা-ঝিকীন।

আর তাতে জীবিকার উপকরণ সৃষ্টি করেছি তোমাদের জন্য এবং তাদের (অর্থাৎ সেই সকল মাখলুকের) জন্যও যাদের রিযক তোমরা দাও না। ১০

তাফসীরঃ

১০. প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তাআলাই সকল সৃষ্টির রিযিকদাতা। কোন কোন গৃহপালিত পশু-পাখি এমন আছে, বাহ্যিকভাবে মানুষ তাদের দানা-পানির যোগান দেয়, কিন্তু অধিকাংশ সৃষ্টিই এমন, যাদের জীবিকা সরবরাহে মানুষের কোন ভূমিকা নেই। এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলছেন, আমি মানুষের জন্যও জীবিকার উপকরণ সৃষ্টি করেছি এবং মানুষ বাহ্যিকভাবেও যাদের খাদ্যের বন্দোবস্ত করে না, তাদের জন্যও। আরবী ব্যাকরণ অনুযায়ী এ আয়াতের অন্য রকম তরজমারও অবকাশ আছে, যেমন ‘আমি তোমাদের কল্যাণার্থে এতে (ভূমিতে) জীবিকার উপকরণও সৃষ্টি করেছি এবং সেই সব মাখলুকও সৃষ্টি করেছি, তোমরা যাদের জীবিকার ব্যবস্থা কর না’। অর্থাৎ, মানুষ বাহ্যিকভাবেও যাদের জীবিকার ব্যবস্থা করে না, অথচ তাদের দ্বারা উপকৃত হয়, যেমন শিকারের জন্তু, সেগুলোও আল্লাহ তাআলা মানুষের কল্যাণার্থে সৃষ্টি করেছেন।
২১

وَاِنۡ مِّنۡ شَیۡءٍ اِلَّا عِنۡدَنَا خَزَآئِنُہٗ ۫ وَمَا نُنَزِّلُہٗۤ اِلَّا بِقَدَرٍ مَّعۡلُوۡمٍ ٢١

ওয়া ইম মিন শাইয়িন ইল্লা-‘ইনদানা-খাঝাইনুহূ ওয়ামা-নুনাঝঝিলুহূ ইল্লাবিকাদারিম মা‘লূম।

এবং এমন কোন (প্রয়োজনীয়) বস্তু নেই, যার ভাণ্ডার আমার কাছে নেই, কিন্তু আমি তা অবতীর্ণ করি সুনির্দিষ্ট পরিমাণেই।
২২

وَاَرۡسَلۡنَا الرِّیٰحَ لَوَاقِحَ فَاَنۡزَلۡنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَسۡقَیۡنٰکُمُوۡہُ ۚ وَمَاۤ اَنۡتُمۡ لَہٗ بِخٰزِنِیۡنَ ٢٢

ওয়া আরছালনার রিয়া-হা লাওয়া-কিহা ফাআনঝালনা-মিনাছ ছামাই মাআন ফাআছকাইনা-কুমূহু ওয়ামা আনতুম লাহূবিখা-ঝিনীন।

এবং পাঠিয়েছি সেই বায়ু, যা মেঘমালাকে করে পানিপূর্ণ, তারপর আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছি, তারপর আমি তা দ্বারা তোমাদের তৃষ্ণা নিবারণ করি। তোমাদের সাধ্য নেই যে, তা সঞ্চয় করে রাখবে। ১১

তাফসীরঃ

১১. অর্থাৎ শূন্যলোকে মেঘমালায় এবং নিচে নদ-নদী ও ভূ-গর্ভে পানি সঞ্চয়ে তোমাদের কোন হাত নেই। তোমরা মেঘ তৈরি করতে বা তার থেকে ইচ্ছামত বৃষ্টি নামাতে কিংবা বৃষ্টিপাত বন্ধ করতে পার না। এমনিভাবে ভূ-গর্ভের পানি যদি শুকিয়ে বা নিচে নেমে যায় তখনও তোমাদের কিছু করার থাকে না। বস্তুত তিনিই নিজ অনুগ্রহে তোমাদের জন্য উপরে ও নিচে অফুরন্ত পানি সঞ্চিত রেখেছেন এবং তা দ্বারা তোমাদের সহজে উপকৃত হওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। -অনুবাদক
২৩

وَاِنَّا لَنَحۡنُ نُحۡیٖ وَنُمِیۡتُ وَنَحۡنُ الۡوٰرِثُوۡنَ ٢٣

ওয়া ইন্না-লানাহনুনুহয়ী ওয়া নুমীতুওয়া নাহনুল ওয়া-রিছূ ন।

আমিই জীবন দেই এবং আমিই মৃত্যু ঘটাই আর আমিই সকলের ওয়ারিশ। ১২

তাফসীরঃ

১২. অর্থাৎ সকলের জীবন-মরণ আমারই হাতে। এক সময় সকলেরই মৃত্যু ঘটবে, কেবল আমিই জীবিত থাকব। তখন বাস্তবিক ও প্রকাশ্য সর্বতোভাবেই সমগ্রজগত আমার মালিকানায় এসে যাবে এবং সকলকে আমারই কাছে ফিরে আসতে হবে। -অনুবাদক
২৪

وَلَقَدۡ عَلِمۡنَا الۡمُسۡتَقۡدِمِیۡنَ مِنۡکُمۡ وَلَقَدۡ عَلِمۡنَا الۡمُسۡتَاۡخِرِیۡنَ ٢٤

ওয়া লাকাদ ‘আলিমনাল মুছতাকদিমীনা মিনকুম ওয়ালাকাদ ‘আলিমনাল মুছতা’খিরীন।

যারা তোমাদের আগে চলে গেছে, আমি তাদেরকেও জানি এবং যারা পেছনে রয়ে গেছে তাদেরকেও জানি। ১৩

তাফসীরঃ

১৩. এর দুই অর্থ হতে পারে (এক) তোমাদের আগে যে সব জাতি গত হয়েছে, আমি তাদের সম্পর্কেও অবগত এবং যে সকল জাতি ভবিষ্যতে আসবে তাদের অবস্থাদি সম্পর্কেও অবগত। (দুই) তোমাদের মধ্যে যেসব লোক সৎকাজে অগ্রগামী হয়ে অন্যদেরকে ছাড়িয়ে যায়, আমি তাদেরকেও জানি আর যারা পেছনে পড়ে থাকে তাদের সম্পর্কেও আমি খবর রাখি।
২৫

وَاِنَّ رَبَّکَ ہُوَ یَحۡشُرُہُمۡ ؕ  اِنَّہٗ حَکِیۡمٌ عَلِیۡمٌ ٪ ٢٥

ওয়া ইন্না রাব্বাকা হুওয়া ইয়াহশুরুহুম ইন্নাহূহাকীমুন ‘আলীম।

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালকই তাদেরকে হাশরে একত্র করবেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।
২৬

وَلَقَدۡ خَلَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ مِنۡ صَلۡصَالٍ مِّنۡ حَمَاٍ مَّسۡنُوۡنٍ ۚ ٢٦

ওয়ালাকাদ খালাকনাল ইনছা-না মিন সালসা-লিম মিন হামাইম মাছনূন।

আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি পচা কাদার শুকনো ঠনঠনে মাটি হতে ১৪

তাফসীরঃ

১৪. এর দ্বারা হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করার কথা বোঝানো হয়েছে। পূর্ণ ঘটনা সূরা বাকারায় (২ : ৩, ৩৪) গত হয়েছে। ফেরেশতাদের সিজদা সম্পর্কিত জরুরী বিষয়াবলীও সেখানে বর্ণিত হয়েছে।
২৭

وَالۡجَآنَّ خَلَقۡنٰہُ مِنۡ قَبۡلُ مِنۡ نَّارِ السَّمُوۡمِ ٢٧

ওয়ালজান্না খালাকনা-হু মিন কাবলুমিন না-রিছছামূম।

এবং তার আগে জিনদেরকে সৃষ্টি করেছিলাম লু’র আগুন দ্বারা। ১৫

তাফসীরঃ

১৫. মানুষের আদি পিতা যেমন হযরত আদম আলাইহিস সালাম, তেমনি জিনদের মধ্যে সর্বপ্রথম যাকে সৃষ্টি করা হয়েছিল, তার নাম ‘জান্ন’। তাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছিল।
২৮

وَاِذۡ قَالَ رَبُّکَ لِلۡمَلٰٓئِکَۃِ اِنِّیۡ خَالِقٌۢ بَشَرًا مِّنۡ صَلۡصَالٍ مِّنۡ حَمَاٍ مَّسۡنُوۡنٍ ٢٨

ওয়া ইযকা-লা রাব্বুকা লিলমালাইকাতি ইন্নী খা-লিকুম বাশারাম মিন সালসা-লিম মিন হামাইম মাছনূন।

সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদেরকে বলেছিলেন, আমি শুকনো কাদার ঠনঠনে মাটি দ্বারা এক মানব সৃষ্টি করতে চাই।
২৯

فَاِذَا سَوَّیۡتُہٗ وَنَفَخۡتُ فِیۡہِ مِنۡ رُّوۡحِیۡ فَقَعُوۡا لَہٗ سٰجِدِیۡنَ ٢٩

ফাইযা-ছাওয়াইতুহূওয়ানাফাখতুফীহি মিররূহী ফাকা‘ঊ লাহূছা-জিদীন।

তাকে যখন পরিপূর্ণ রূপ দান করব এবং তাতে রূহ সঞ্চার করব, তখন তোমরা সকলে তার সামনে সিজদায় পড়ে যেও।
৩০

فَسَجَدَ الۡمَلٰٓئِکَۃُ کُلُّہُمۡ اَجۡمَعُوۡنَ ۙ ٣۰

ফাছাজাদাল মালাইকাতুকুল্লুহুম আজমা‘ঊন।

সুতরাং সমস্ত ফেরেশতা সিজদা করল-
৩১

اِلَّاۤ اِبۡلِیۡسَ ؕ اَبٰۤی اَنۡ یَّکُوۡنَ مَعَ السّٰجِدِیۡنَ ٣١

ইল্লাইবলীছা আবাআইঁ ইয়াকূনা মা‘আছছা-জিদীন।

ইবলিস ব্যতীত। সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে অস্বীকার করল।
৩২

قَالَ یٰۤـاِبۡلِیۡسُ مَا لَکَ اَلَّا تَکُوۡنَ مَعَ السّٰجِدِیۡنَ ٣٢

কা-লা ইয়াইবলীছুমা-লাকা আল্লা-তাকূনা মা‘আছ ছা-জিদীন।

আল্লাহ বললেন, হে ইবলিস! তোমার কি হল যে, সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হলে না?
৩৩

قَالَ لَمۡ اَکُنۡ لِّاَسۡجُدَ لِبَشَرٍ خَلَقۡتَہٗ مِنۡ صَلۡصَالٍ مِّنۡ حَمَاٍ مَّسۡنُوۡنٍ ٣٣

কা-লা লাম আকুল লিআছজুদা লিবাশারিন খালাকতাহূমিন সালসা-লিম মিন হামাইম মাছনূন।

সে বলল, আমি এমন (তুচ্ছ) নই যে, একজন মানুষকে সিজদা করব, যাকে আপনি পচা কাদার শুকনো ঠনঠনে মাটি হতে সৃষ্টি করেছেন।
৩৪

قَالَ فَاخۡرُجۡ مِنۡہَا فَاِنَّکَ رَجِیۡمٌ ۙ ٣٤

কা-লা ফাখরুজ মিনহা-ফাইন্নাকা রাজীম।

আল্লাহ বললেন, তবে তুই এখান থেকে বের হয়ে যা। কেননা তুই মরদূদ হয়ে গেছিস।
৩৫

وَّاِنَّ عَلَیۡکَ اللَّعۡنَۃَ اِلٰی یَوۡمِ الدِّیۡنِ ٣٥

ওয়াইন্না ‘আলাইকাল লা‘নাতা ইলা-ইয়াওমিদ্দীন।

কিয়ামতকাল পর্যন্ত তোমার উপর অভিশাপ পড়তে থাকবে।
৩৬

قَالَ رَبِّ فَاَنۡظِرۡنِیۡۤ اِلٰی یَوۡمِ یُبۡعَثُوۡنَ ٣٦

কা-লা রাববী ফাআনজিরনীইলা-ইয়াওমি ইউব‘আছূন।

সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! তাহলে আমাকে সেই দিন পর্যন্ত (জীবিত থাকার) সুযোগ দিন, যখন মানুষকে পুনরুত্থিত করা হবে।
৩৭

قَالَ فَاِنَّکَ مِنَ الۡمُنۡظَرِیۡنَ ۙ ٣٧

কা-লা ফাইন্নাকা মিনাল মুনজারীন।

আল্লাহ বললেন, আচ্ছা যা, তোকে অবকাশ দেওয়া হল-
৩৮

اِلٰی یَوۡمِ الۡوَقۡتِ الۡمَعۡلُوۡمِ ٣٨

ইলা-ইয়াওমিল ওয়াকতিল মা‘লূম।

এমন এক কাল পর্যন্ত, যা আমার জানা আছে। ১৬

তাফসীরঃ

১৬. শয়তান হাশরের দিন পর্যন্ত অবকাশ চেয়েছিল, কিন্তু আল্লাহ তাআলা তার পরিবর্তে এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত অবকাশ দিয়েছেন। অধিকাংশ তাফসীরবিদের মতে, তা হল শিঙ্গায় প্রথমবার ফুঁ দেওয়ার কাল। যখন সমস্ত সৃষ্টির মৃত্যু ঘটবে। সুতরাং এ সময় শয়তানও মারা যাবে।
৩৯

قَالَ رَبِّ بِمَاۤ اَغۡوَیۡتَنِیۡ لَاُزَیِّنَنَّ لَہُمۡ فِی الۡاَرۡضِ وَلَاُغۡوِیَنَّہُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ۙ ٣٩

কা-লা রাব্বি বিমাআগওয়াইতানী লাউঝাইয়িনান্না লাহুম ফিল আরদিওয়ালাউগবিইয়ান্নাহুম আজমা‘ঈন।

সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করলেন, তাই আমি কসম করছি যে, আমি মানুষের জন্য দুনিয়ার ভেতর আকর্ষণ সৃষ্টি করব ১৭ এবং তাদের সকলকে বিপথগামী করব।

তাফসীরঃ

১৭. অর্থাৎ, এমন মনোমুগ্ধতা সৃষ্টি করব, যা তাদেরকে নাফরমানী করতে উৎসাহ যোগাবে।
৪০

اِلَّا عِبَادَکَ مِنۡہُمُ الۡمُخۡلَصِیۡنَ ٤۰

ইল্লা-‘ইবা-দাকা মিনহুমুল মুখলাসীন।

তবে আপনার সেই বান্দাদেরকে নয়, যাদেরকে আপনি নিজের জন্য বিশুদ্ধচিত্ত বানিয়ে নিয়েছেন।
৪১

قَالَ ہٰذَا صِرَاطٌ عَلَیَّ مُسۡتَقِیۡمٌ ٤١

কা-লা হা-যা সিরা-তুন ‘আলাইইয়া মুছতাকীম।

আল্লাহ বললেন, এটাই সেই সরল পথ, যা আমার পর্যন্ত পৌঁছে। ১৮

তাফসীরঃ

১৮. আল্লাহ তাআলা তখনই এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইখলাসের সাথে আল্লাহর আনুগত্যের পথই হল একমাত্র সরল পথ। যারা এ পথ অবলম্বন করবে, তারা সোজা আমার কাছে পৌঁছে যাবে। শয়তানের ছল-চাতুরী তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। অথবা এর অর্থ, এটাই আমার সরল পথ ও সুস্পষ্ট নীতি যে, যারা আমার অনুগত বান্দা হবে তাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা ও চালাকি চলবে না। আমি তাদেরকে তোমার ছলনা থেকে রক্ষা করব।
৪২

اِنَّ عِبَادِیۡ لَیۡسَ لَکَ عَلَیۡہِمۡ سُلۡطٰنٌ اِلَّا مَنِ اتَّبَعَکَ مِنَ الۡغٰوِیۡنَ ٤٢

ইন্না ‘ইবা-দী লাইছা লাকা ‘আলাইহিম ছুলতা-নুন ইল্লা-মানিত্তাবা‘আকা মিনাল গা-বীন।

জেনে রাখিস, যারা আমার বান্দা, তাদের উপর তোর কোনও ক্ষমতা চলবে না। ১৯ তবে যারা তোর অনুগামী হবে সেই বিভ্রান্তদের কথা ভিন্ন।

তাফসীরঃ

১৯. ‘আমার বান্দা’ বলতে সেই সকল লোককে বোঝানো হয়েছে, যারা আল্লাহ তাআলার পথে চলতে স্থির সংকল্প এবং সে পথে চলার জন্য তাঁরই কাছে সাহায্য চায়। এরূপ লোকদের উপর শয়তানের ক্ষমতা না চলার অর্থ, যদিও শয়তান তাদেরকেও বিপথগামী করার চেষ্টা করবে, কিন্তু তারা তাদের ইখলাসের বদৌলতে আল্লাহ তাআলার দয়া ও সাহায্য লাভ করবে। ফলে তারা শয়তানের ফাঁদে পড়বে না।
৪৩

وَاِنَّ جَہَنَّمَ لَمَوۡعِدُہُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ۟ۙ ٤٣

ওয়া ইন্না জাহান্নামা লামাও‘ইদুহুম আজমা‘ঈন।

এরূপ সকলেরই নির্ধারিত ঠিকানা হল জাহান্নাম।
৪৪

لَہَا سَبۡعَۃُ اَبۡوَابٍ ؕ  لِکُلِّ بَابٍ مِّنۡہُمۡ جُزۡءٌ مَّقۡسُوۡمٌ ٪ ٤٤

লাহা-ছাব ‘আতুআবওয়া-বিল লিকুল্লি বা-বিম মিনহুম জুঝউম মাকছূম ।

তার সাতটি দরজা। প্রত্যেক দরজার জন্য তাদের (অর্থাৎ জাহান্নামীদের) একেকটি দলকে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
৪৫

اِنَّ الۡمُتَّقِیۡنَ فِیۡ جَنّٰتٍ وَّعُیُوۡنٍ ؕ ٤٥

ইন্নাল মুত্তাকীনা ফী জান্না-তিওঁ ওয়া উ‘ইয়ূন।

(অন্য দিকে) মুত্তাকীগণ থাকবে উদ্যানরাজি ও প্রস্রবণের মাঝে।
৪৬

اُدۡخُلُوۡہَا بِسَلٰمٍ اٰمِنِیۡنَ ٤٦

উদখুলূহা-বিছালা-মিন আ-মিনীন।

(তাদেরকে বলা হবে-) তোমরা এতে (অর্থাৎ উদ্যানসমূহে) প্রবেশ কর নিরাপদে ও নির্ভয়ে।
৪৭

وَنَزَعۡنَا مَا فِیۡ صُدُوۡرِہِمۡ مِّنۡ غِلٍّ اِخۡوَانًا عَلٰی سُرُرٍ مُّتَقٰبِلِیۡنَ ٤٧

ওয়া নাঝা‘না-মা-ফী সুদূরিহিম মিন গিলিলন ইখওয়া-নান ‘আলা-ছুরুরিম মুতাকা-বিলীন।

তাদের অন্তরে যে দুঃখ-বেদনা থাকবে তা দূর করে দেব। ২০ তারা ভাই-ভাই রূপে মুখোমুখি হয়ে উঁচু আসনে আসীন হবে।

তাফসীরঃ

২০. অর্থাৎ, দুনিয়ায় তাদের মধ্যে পারস্পরিক কোন দুঃখ-বেদনা থেকে থাকলে জান্নাতে পৌঁছার পর তাদের অন্তর থেকে আল্লাহ তাআলা তা দূর করে দেবেন।
৪৮

لَا یَمَسُّہُمۡ فِیۡہَا نَصَبٌ وَّمَا ہُمۡ مِّنۡہَا بِمُخۡرَجِیۡنَ ٤٨

লা-ইয়ামছছুহুম ফীহা-নাসাবুওঁ ওয়ামা-হুম মিনহা-বিমুখরাজীন।

সেখানে তাদেরকে কোন ক্লান্তি স্পর্শ করবে না এবং তাদেরকে সেখান থেকে বের করেও দেওয়া হবে না।
৪৯

نَبِّیٴۡ عِبَادِیۡۤ اَنِّیۡۤ اَنَا الۡغَفُوۡرُ الرَّحِیۡمُ ۙ ٤٩

নাব্বি’ ‘ইবা-দীআন্নীআনাল গাফূরুর রাহীম।

আমার বান্দাদেরকে জানিয়ে দাও, নিশ্চয় আমিই অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
৫০

وَاَنَّ عَذَابِیۡ ہُوَ الۡعَذَابُ الۡاَلِیۡمُ ٥۰

ওয়া আন্না ‘আযা-বী হুওয়াল ‘আযা-বুল আলীম।

এবং এটাও জানিয়ে দাও যে, আমার শাস্তিই মর্মন্তুদ শাস্তি।
৫১

وَنَبِّئۡہُمۡ عَنۡ ضَیۡفِ اِبۡرٰہِیۡمَ ۘ ٥١

ওয়া নাব্বি’হুম ‘আন দাইফি ইবরা-হীম।

এবং তাদেরকে ইবরাহীমের অতিথিদের কথা শুনিয়ে দাও। ২১

তাফসীরঃ

২১. অতিথি দ্বারা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের কাছে প্রেরিত ফিরিশতাদেরকে বোঝানো হয়েছে। উপরে বলা হয়েছিল, আল্লাহ তাআলার রহমত যেমন সর্বব্যাপী, তেমনি তাঁর শাস্তিও অতি কঠোর। সুতরাং কারও আল্লাহ তাআলার রহমত থেকেও নিরাশ হওয়া উচিত নয় এবং তার শাস্তি থেকেও নিশ্চিন্ত হওয়া ঠিক নয়। সেই পটভূমিতেই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের কাছে আগত অতিথিদের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। এ ঘটনায় যেমন আল্লাহ তাআলার রহমতের তেমনি তাঁর কঠিন শাস্তির উল্লেখ রয়েছে। রহমতের বিষয় হল, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে তার পুত্র হযরত ইসহাক আলাইহিস সালামের জন্মের সুসংবাদ দান। ফিরিশতাগণ যখন তাঁর কাছে এ সুসংবাদ নিয়ে আসেন, তখন তিনি বার্ধক্যে উপনীত হয়েছিলেন। সুতরাং এ সুসংবাদ এক বিরাট রহমত বৈ কি! আর শাস্তির ব্যাপার হল এই যে, আগত এই ফিরিশতাদের মাধ্যমে হযরত লূত আলাইহিস সালামের কওমের উপর আযাব নাযিল করা হয়েছিল। ঘটনাটি সূরা হুদে (১১ : ৬৯-৮৩) কিছুটা বিস্তারিতভাবে গত হয়েছে। সেখানে ঐ সম্পর্কিত বিভিন্ন দিক পরিষ্কার করা হয়েছে।
৫২

اِذۡ دَخَلُوۡا عَلَیۡہِ فَقَالُوۡا سَلٰمًا ؕ قَالَ اِنَّا مِنۡکُمۡ وَجِلُوۡنَ ٥٢

ইয দাখালূ‘আলাইহি ফাকা-লূছালা-মান কা-লা ইন্না-মিনকুম ওয়াজিলূন।

সেই সময়ের কথা, যখন তারা তার কাছে উপস্থিত হল ও সালাম করল। ইবরাহীম বলল, আমরা তো তোমাদের আগমনে ভীত। ২২

তাফসীরঃ

২২. সূরা হুদে বলা হয়েছে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাদেরকে মানুষ মনে করেছিলেন। তাই তাদের আতিথেয়তার লক্ষ্যে বাছুরের ভুনা গোশত পেশ করেছিলেন, কিন্তু তারা খাওয়া হতে বিরত থাকলেন। তখনকার আঞ্চলিক রেওয়াজ অনুযায়ী এটা শত্রুতার আলামত ছিল। এরূপ দেখা গেলে মনে করা হত, তারা কোন দূরভিসন্ধি নিয়ে এসেছে। এ কারণেই তাঁর ভয় লেগেছিল।
৫৩

قَالُوۡا لَا تَوۡجَلۡ اِنَّا نُبَشِّرُکَ بِغُلٰمٍ عَلِیۡمٍ ٥٣

কা-লূলা-তাওজাল ইন্না-নুবাশশিরুকা বিগুলা-মিন ‘আলীম।

তারা বলল, ভয় পাবেন না, আমরা আপনাকে এক জ্ঞানী পুত্র (-এর জন্মগ্রহণ) এর সুসংবাদ দিচ্ছি।
৫৪

قَالَ اَبَشَّرۡتُمُوۡنِیۡ عَلٰۤی اَنۡ مَّسَّنِیَ الۡکِبَرُ فَبِمَ تُبَشِّرُوۡنَ ٥٤

কা-লা আবাশশারতুমূনী ‘আলাআম মাছছানিয়াল কিবারু ফাবিমা তুবাশশিরূন।

ইবরাহীম বলল, তোমরা আমাকে এই সুসংবাদ দিচ্ছ, যখন বার্ধক্য আমাকে আচ্ছন্ন করেছে? তোমরা কিসের ভিত্তিতে আমাকে সুসংবাদ দিচ্ছ?
৫৫

قَالُوۡا بَشَّرۡنٰکَ بِالۡحَقِّ فَلَا تَکُنۡ مِّنَ الۡقٰنِطِیۡنَ ٥٥

কা-লূবাশশারনা-কা বিলহাক্কিফালা-তাকুম মিনাল কা-নিতীন।

তারা বলল, আমরা আপনাকে সত্য সুসংবাদ দিয়েছি। সুতরাং যারা নিরাশ হয়, আপনি তাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
৫৬

قَالَ وَمَنۡ یَّقۡنَطُ مِنۡ رَّحۡمَۃِ رَبِّہٖۤ اِلَّا الضَّآلُّوۡنَ ٥٦

কা-লা ওয়া মাইঁ ইয়াকনাতুমির রাহমাতি রাব্বিহীইল্লাদ্দাললূন।

ইবরাহীম বলল, পথভ্রষ্টগণ ছাড়া আর কে নিজ প্রতিপালকের রহমত থেকে নিরাশ হয়?
৫৭

قَالَ فَمَا خَطۡبُکُمۡ اَیُّہَا الۡمُرۡسَلُوۡنَ ٥٧

কা-লা ফামা-খাতবুকুম আইয়ুহাল মুরছালূন।

(তারপর) তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর প্রেরিত ফিরিশতাগণ! আপনাদের পরবর্তী বিশেষ কাজ কী?
৫৮

قَالُوۡۤا اِنَّاۤ اُرۡسِلۡنَاۤ اِلٰی قَوۡمٍ مُّجۡرِمِیۡنَ ۙ ٥٨

কা-লূইন্নাউরছিলনাইলা কাওমিম মুজরিমীন ।

তারা বলল, আমাদেরকে এক অপরাধী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পাঠানো হয়েছে (তাদের প্রতি আযাব নাযিল করার জন্য)-
৫৯

اِلَّاۤ اٰلَ لُوۡطٍ ؕ  اِنَّا لَمُنَجُّوۡہُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ۙ ٥٩

ইল্লাআ-লা লূতিন ইন্না-লামুনাজজূহুম আজমা‘ঈন।

তবে লুতের পরিবারবর্গ ছাড়া। তাদের সকলকে আমরা রক্ষা করব।
৬০

اِلَّا امۡرَاَتَہٗ قَدَّرۡنَاۤ ۙ  اِنَّہَا لَمِنَ الۡغٰبِرِیۡنَ ٪ ٦۰

ইল্লাম রাআতাহূকাদ্দারনা ইন্নাহা-লামিনাল গা-বিরীন ।

কিন্তু তার স্ত্রীকে নয়। আমরা স্থির করেছি, (শাস্তির লক্ষ্যবস্তু হওয়ার জন্য) যারা পেছনে থেকে যাবে সেও তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
৬১

فَلَمَّا جَآءَ اٰلَ لُوۡطِۣ الۡمُرۡسَلُوۡنَ ۙ ٦١

ফালাম্মা-জাআ আ-লা লূতিনিল মুরছালূন।

সুতরাং ফিরিশতাগণ যখন লুতের পরিবারবর্গের কাছে আসল-
৬২

قَالَ اِنَّکُمۡ قَوۡمٌ مُّنۡکَرُوۡنَ ٦٢

কা-লা ইন্নাকুম কাওমুম মুনকারূন।

তখন লূত বলল, আপনাদেরকে অপরিচিত মনে হচ্ছে! ২৩

তাফসীরঃ

২৩. হযরত লূত আলাইহিস সালাম নিজ সম্প্রদায়ের কু-স্বভাব সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তারা বহিরাগতদেরকে নিজেদের লালসার শিকার বানাতে চাইত। সঙ্গত কারণেই তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করলেন। হযরত লূত আলাইহিস সালামের এই দুশ্চরিত্র সম্প্রদায়ের ঘটনা সংক্ষেপে সূরা আরাফ (৭ : ৮০)-এর টীকায় উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে দ্রষ্টব্য।
৬৩

قَالُوۡا بَلۡ جِئۡنٰکَ بِمَا کَانُوۡا فِیۡہِ یَمۡتَرُوۡنَ ٦٣

কা-লূবাল জি’না-কা বিমা-কা-নূফীহি ইয়ামতারূন।

তারা বলল, না; বরং তারা যে (আযাব) সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করত, আমরা আপনার কাছে সেটাই নিয়ে এসেছি।
৬৪

وَاَتَیۡنٰکَ بِالۡحَقِّ وَاِنَّا لَصٰدِقُوۡنَ ٦٤

ওয়া আতাইনা-কা বিলহাক্কিওয়া ইন্না-লাসা-দিকূ ন।

আমরা আপনার কাছে অনড় ফায়সালা নিয়ে এসেছি এবং নিশ্চিত থাকুন, আমরা সত্যবাদী।
৬৫

فَاَسۡرِ بِاَہۡلِکَ بِقِطۡعٍ مِّنَ الَّیۡلِ وَاتَّبِعۡ اَدۡبَارَہُمۡ وَلَا یَلۡتَفِتۡ مِنۡکُمۡ اَحَدٌ وَّامۡضُوۡا حَیۡثُ تُؤۡمَرُوۡنَ ٦٥

ফাআছরি বিআহলিকা বিকিত‘ইম মিনাল লাইলি ওয়াত্তাবি‘ আদবা-রা হুম ওয়ালা ইয়ালতাফিত মিনকুম আহদুওঁ ওয়ামদু হাইছুতু’মারূন।

সুতরাং আপনি রাতের কোনও এক অংশে নিজ পরিবারবর্গকে নিয়ে বের হয়ে পড়ুন এবং নিজে তাদের পিছনে পিছনে চলুন। ২৪ আপনাদের মধ্যে কেউ যেন পিছনে ফিরে না দেখে এবং আপনাদেরকে যেখানে যাওয়ার হুকুম দেওয়া হয়েছে, সেখানকার উদ্দেশ্যে চলতে থাকুন।

তাফসীরঃ

২৪. পেছনে থেকে যাতে সকল সঙ্গীর তত্ত্বাবধান করতে পারেন, সেজন্যই হযরত লূত আলাইহিস সালামকে সকলের পেছনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আর বিশেষত সকলের প্রতি যেহেতু নির্দেশ ছিল, যেন কেউ পিছনে ফিরে না দেখে, তাই হযরত লূত আলাইহিস সালামের পিছনে থাকাই দরকার ছিল, যাতে কারও এ হুকুম অমান্য করার সাহস না হয়।
৬৬

وَقَضَیۡنَاۤ اِلَیۡہِ ذٰلِکَ الۡاَمۡرَ اَنَّ دَابِرَ ہٰۤؤُلَآءِ مَقۡطُوۡعٌ مُّصۡبِحِیۡنَ ٦٦

ওয়া কাদাইনা ইলাইহি যা-লিকাল আমরাআন্না দা-বিরা হাউলাইমাকতূ‘উম মুসবিহীন।

এবং (এভাবে) আমি লূতের কাছে আমার এই ফায়সালা পৌঁছিয়ে দিলাম যে, ভোর হওয়া মাত্র তাদেরকে নির্মূল করে ফেলা হবে।
৬৭

وَجَآءَ اَہۡلُ الۡمَدِیۡنَۃِ یَسۡتَبۡشِرُوۡنَ ٦٧

ওয়া জাআ আহলূল মাদীনাতি ইয়াছতাবশিরূন।

নগরবাসীগণ আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে (লূতের কাছে) চলে আসল। ২৫

তাফসীরঃ

২৫. ফিরিশতাগণ অত্যন্ত সুদর্শন যুবকের বেশে এসেছিলেন। তা শুনে নগরের লোক নিজেদের কু-বাসনা চরিতার্থ করার লক্ষ্যে সোল্লাসে ছুটে আসল, যেমনটা হযরত লূত আলাইহিস সালামের আশঙ্কা ছিল।
৬৮

قَالَ اِنَّ ہٰۤؤُلَآءِ ضَیۡفِیۡ فَلَا تَفۡضَحُوۡنِ ۙ ٦٨

কা-লা ইন্না হাউলাই দাইফী ফালা-তাফদাহূন।

লূত (তাদেরকে) বলল, এরা আমার অতিথি। সুতরাং আমাকে বেইজ্জত করো না।
৬৯

وَاتَّقُوا اللّٰہَ وَلَا تُخۡزُوۡنِ ٦٩

ওয়াত্তাকুল্লা-হা ওয়ালা তুখঝূন।

এবং আল্লাহকে ভয় কর আর আমাকে হেয় করো না।
৭০

قَالُوۡۤا اَوَلَمۡ نَنۡہَکَ عَنِ الۡعٰلَمِیۡنَ ٧۰

কা-লূ আওয়ালাম নানহাকা ‘আনিল ‘আ-লামীন।

তারা বলল, আমরা কি আপনাকে আগেই দুনিয়াশুদ্ধ লোককে মেহমান বানাতে নিষেধ করে দেইনি?
৭১

قَالَ ہٰۤؤُلَآءِ بَنٰتِیۡۤ اِنۡ کُنۡتُمۡ فٰعِلِیۡنَ ؕ ٧١

কা-লা হাউলাই বানা-তীইন কুনতুম ফা-‘ইলীন।

লূত বলল, তোমরা যদি আমার কথা অনুযায়ী কাজ কর, তবে এই যে আমার কন্যাগণ (তোমাদের বিবাহাধীন) রয়েছে। ২৬

তাফসীরঃ

২৬. উম্মতের নারীগণ সংশ্লিষ্ট নবীর রূহানী কন্যা হয়ে থাকে। হযরত লূত আলাইহিস সালাম সেই দুর্বৃত্তদেরকে নম্রতার সাথে বোঝানোর চেষ্টা করলেন, তোমাদের ঘরে তো তোমাদের স্ত্রীরা রয়েছে, যারা আমার রূহানী কন্যা। তোমরা তোমাদের কামেচ্ছা তাদের দ্বারাই পূরণ করতে পার আর সেটাই এ কাজের স্বভাবসিদ্ধ ও পবিত্র পন্থা।
৭২

لَعَمۡرُکَ اِنَّہُمۡ لَفِیۡ سَکۡرَتِہِمۡ یَعۡمَہُوۡنَ ٧٢

লা‘আমরুকা ইন্নাহুম লাফী ছাকরাতিহিম ইয়া‘মাহূন।

(হে নবী!) তোমার জীবনের শপথ! প্রকৃতপক্ষে ওই সব লোক নিজেদের মত্ততায় বুঁদ হয়ে গিয়েছিল।
৭৩

فَاَخَذَتۡہُمُ الصَّیۡحَۃُ مُشۡرِقِیۡنَ ۙ ٧٣

ফাআখাযাতহুমসসাইহাতুমুশরিকীন।

সুতরাং সূর্যোদয় হওয়া মাত্রই মহানাদ তাদেরকে আঘাত করল।
৭৪

فَجَعَلۡنَا عَالِیَہَا سَافِلَہَا وَاَمۡطَرۡنَا عَلَیۡہِمۡ حِجَارَۃً مِّنۡ سِجِّیۡلٍ ؕ ٧٤

ফাজা‘আলনা-‘আ-লিয়াহা-ছা-ফিলাহা-ওয়া আমতারনা-‘আলাইহিম হিজা-রাতাম মিন ছিজজীল।

অনন্তর আমি সে ভূখণ্ডটিকে উল্টিয়ে উপর-নিচ করে দিলাম এবং তাদের উপর পাকা মাটির পাথর-ধারা বর্ষণ করলাম।
৭৫

اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّلۡمُتَوَسِّمِیۡنَ ٧٥

ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিল মুতাওয়াছছিমীন।

বস্তুত এসব ঘটনার ভেতর বহু নিদর্শন আছে তাদের জন্য, যারা শেখার দৃষ্টি দিয়ে দেখে।
৭৬

وَاِنَّہَا لَبِسَبِیۡلٍ مُّقِیۡمٍ ٧٦

ওয়া ইন্নাহা-লাবিছাবীলিম মুকীম।

এ জনপদটি এমন এক পথের উপর অবস্থিত, যাতে সর্বদা লোক চলাচল রয়েছে। ২৭

তাফসীরঃ

২৭. হযরত লূত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায় জর্ডানের মৃত সাগরের আশেপাশে বাস করত। আরবের লোক যখন শামের সফর করত, তখন তাদের যাতায়াত পথে সে সম্প্রদায়ের ধ্বংসাবশেষ পড়ত।
৭৭

اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ ؕ ٧٧

ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাল লিলমু’মিনীন।

নিশ্চয়ই এর মধ্যে মুমিনদের জন্য নিদর্শন আছে।
৭৮

وَاِنۡ کَانَ اَصۡحٰبُ الۡاَیۡکَۃِ لَظٰلِمِیۡنَ ۙ ٧٨

ওয়া ইন কা-না আছহা-বুল আইকাতি লাজা-লিমীন।

আয়কার বাসিন্দাগণ (-ও) বড় জালেম ছিল। ২৮

তাফসীরঃ

২৮. ‘আয়কা’ অর্থ নিবিড় বনভূমি। হযরত শুআইব আলাইহিস সালামকে যে সম্প্রদায়ের কাছে পাঠানো হয়েছিল তাদের বসতি এ রকমই একটি বন-সংলগ্ন ছিল। কোন কোন মুফাসসির বলেন, জনপদটির নাম ছিল ‘মাদয়ান’। কেউ বলেন, মাদয়ান ও আয়কা দু’টি পৃথক জনপদ। হযরত শুআইব আলাইহিস সালাম উভয় এলাকারই নবী ছিলেন। আয়কাবাসীদের ঘটনা সূরা আরাফে (৭ : ৮৫-৯৩) গত হয়েছে। (বিস্তারিত জানার জন্য সেখানকার টীকাসমূহ দ্রষ্টব্য)।
৭৯

فَانۡتَقَمۡنَا مِنۡہُمۡ ۘ  وَاِنَّہُمَا لَبِاِمَامٍ مُّبِیۡنٍ ؕ٪ ٧٩

ফানতাকামনা-মিনহুম । ওয়া ইন্নাহুমা-লাবিইমা-মিম মুবীন।

ফলে আমি তাদের থেকেও প্রতিশোধ নিয়েছি। উভয় সম্প্রদায়ের বাসভূমি প্রকাশ্য রাজপথের পাশে অবস্থিত। ২৯

তাফসীরঃ

২৯. উভয় বলতে হযরত লূত আলাইহিস সালাম ও হযরত শুআইব আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের বসতি দু’টিকে বোঝানো হয়েছে। যেমন উপরে বলা হয়েছে, হযরত লূত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায় বাস করত মৃত সাগরের আশেপাশে আর হযরত শুআইব আলাইহিস সালামের বাসভূমি ‘মাদয়ান’-ও জর্দানেই অবস্থিত ছিল। শামের যাতায়াত পথে আরববাসী এ জনপদ দু’টির উপর দিয়েই আসা-যাওয়া করত।
৮০

وَلَقَدۡ کَذَّبَ اَصۡحٰبُ الۡحِجۡرِ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۙ ٨۰

ওয়া লাকাদ কাযযাবা আসহা-বুল হিজরিল মুরছালীন।

হিজরবাসীগণও রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল।%# ০%#

তাফসীরঃ

৩০. ‘হিজর’ হল ছামুদ জাতির বাসভূমি, মদীনা ও শামের মাঝখানে অবস্থিত। এখনও তার ধ্বংসাবশেষ পথিকদের দৃষ্টিগোচর হয়। এখানে হযরত সালেহ আলাইহিস সালামকে নবী বানিয়ে পাঠানো হয়েছিল। এ জাতির ঘটনাও সূরা আরাফে (৭ : ৭৩-৭৯) চলে গেছে। তাদের অবস্থা জানার জন্য সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহ ও তার টীকা দেখুন।
৮১

وَاٰتَیۡنٰہُمۡ اٰیٰتِنَا فَکَانُوۡا عَنۡہَا مُعۡرِضِیۡنَ ۙ ٨١

ওয়া আ-তাইনা-হুম আ-য়া-তিনা-ফাকা-নূ‘আনহা-মু‘রিদীন।

আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছিল।
৮২

وَکَانُوۡا یَنۡحِتُوۡنَ مِنَ الۡجِبَالِ بُیُوۡتًا اٰمِنِیۡنَ ٨٢

ওয়া কা-নূইয়ানহিতূনা মিনাল জিবা-লি বুউয়ূতান আ-মিনীন।

তারা পাহাড় কেটে গৃহ নির্মাণ করত নিরাপদ বাসের জন্য।
৮৩

فَاَخَذَتۡہُمُ الصَّیۡحَۃُ مُصۡبِحِیۡنَ ۙ ٨٣

ফাআখাযাতহুমুসসাইহাতুমুসবিহীন।

পরিশেষে ভোরবেলা এক মহানাদ তাদেরকে আঘাত করল।
৮৪

فَمَاۤ اَغۡنٰی عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَکۡسِبُوۡنَ ؕ ٨٤

ফামাআগনা-‘আনহুম মা-কা-নূইয়াকছিবূন।

পরিণাম হল এই, তারা যে শিল্পকর্ম দ্বারা রোজগার করত, তা তাদের কোনও কাজে আসল না।
৮৫

وَمَا خَلَقۡنَا السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَیۡنَہُمَاۤ اِلَّا بِالۡحَقِّ ؕ وَاِنَّ السَّاعَۃَ لَاٰتِیَۃٌ فَاصۡفَحِ الصَّفۡحَ الۡجَمِیۡلَ ٨٥

ওয়ামা-খালাকনাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ওয়ামা-বাইনাহুমাইল্লা-বিলহাক্কি ওয়া ইন্নাছছা-‘আতা লাআ-তিয়াতুন ফাছফাহিসসাফহাল জামীল।

আমি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এর মাঝখানে যা-কিছু আছে, তা যথাযথ উদ্দেশ্য ছাড়া সৃষ্টি করিনি ৩১ এবং কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী। সুতরাং (হে নবী! তাদের আচার-আচরণকে) উপেক্ষা কর সৌন্দর্যমণ্ডিত ৩২ উপেক্ষায়।

তাফসীরঃ

৩১. উপেক্ষা করার অর্থ এ নয় যে, তাদের মধ্যে দাওয়াতী কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে। বরং বোঝানো উদ্দেশ্য, তাদেরকে শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব আপনার নয়। মক্কী জীবনে তাদের সাথে যুদ্ধ করার তো নয়ই, এমনকি তারা যে জুলুম-নির্যাতন চালাত তার প্রতিশোধ গ্রহণেরও অনুমতি ছিল না। বরং হুকুম ছিল ক্ষমা প্রদর্শনের, অর্থাৎ, এখন তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ থেকে বিরত থাক। এভাবে কষ্ট-ক্লেশের চুল্লিতে ঝালাই করে মুসলিমদের আখলাক-চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন করা হচ্ছিল।
৮৬

اِنَّ رَبَّکَ ہُوَ الۡخَلّٰقُ الۡعَلِیۡمُ ٨٦

ইন্না রাব্বাকা হুওয়াল খাল্লা-কুল ‘আলীম।

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালকই সকলের স্রষ্টা, সব কিছুর জ্ঞাতা।
৮৭

وَلَقَدۡ اٰتَیۡنٰکَ سَبۡعًا مِّنَ الۡمَثَانِیۡ وَالۡقُرۡاٰنَ الۡعَظِیۡمَ ٨٧

ওয়ালাকাদ আ-তাইনা-কা ছাব‘আম মিনাল মাছা-নী ওয়াল কুরআ-নাল ‘আজীম।

আমি তোমাকে এমন সাতটি আয়াত দিয়েছি, যা বারবার পড়া হয় ৩৩ এবং দিয়েছি মর্যাদাপূর্ণ কুরআন।

তাফসীরঃ

৩৩. এর দ্বারা সূরা ফাতিহার সাত আয়াত বোঝানো হয়েছে। প্রতি নামাযে তা বারবার পড়া হয়। এস্থলে বিশেষভাবে সূরা ফাতিহার কথা বলার কারণ খুব সম্ভব এই যে, এ সূরার আয়াত إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِيْنُ ‘আমরা তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য চাই’এর মাধ্যমে বান্দাকে শেখানো হয়েছে, সে যেন প্রতিটি জিনিস আল্লাহ তাআলার কাছেই চায়। তো এ সূরার বরাত দিয়ে যেন নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, যখন কোন মুসিবত বা দুঃখ-কষ্ট দেখা দেয়, তখন আল্লাহ তাআলার দিকে রুজু হয়ে তাঁরই কাছে সাহায্য চাবে এবং ‘সীরাতে মুস্তাকীম’-এর উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার জন্য তাঁরই কাছে দু‘আ করবে।
৮৮

لَا تَمُدَّنَّ عَیۡنَیۡکَ اِلٰی مَا مَتَّعۡنَا بِہٖۤ اَزۡوَاجًا مِّنۡہُمۡ وَلَا تَحۡزَنۡ عَلَیۡہِمۡ وَاخۡفِضۡ جَنَاحَکَ لِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ ٨٨

লা তামুদ্দান্না ‘আইনাইকা ইলা-মা-মাত্তা‘না-বিহীআঝওয়া-জাম মিনহুম ওয়ালা তাহঝান ‘আলাইহিম ওয়াখফিদ জানা -হাকা লিলমু’মিনীন।

আমি তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) বিভিন্ন লোককে মজা লোটার যে উপকরণ দিয়েছি, তুমি তার দিকে চোখ তুলে তাকিও না এবং তাদের প্রতি মনোক্ষুন্ন হয়ো না। আর যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য তোমার (বাৎসল্যের) ডানা নামিয়ে দাও।
৮৯

وَقُلۡ اِنِّیۡۤ اَنَا النَّذِیۡرُ الۡمُبِیۡنُ ۚ ٨٩

ওয়াকুল ইন্নীআনান নাযীরুল মুবীন।

এবং (যারা কুফরে লিপ্ত তাদেরকে) বলে দাও, আমি তো কেবল এক স্পষ্টভাষী সতর্ককারী।
৯০

کَمَاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلَی الۡمُقۡتَسِمِیۡنَ ۙ ٩۰

কামাআনঝালনা-‘আলাল মুকতাছিমীন।

(কুরআন মাজীদের মাধ্যমে এ সতর্কবাণী আমি নাযিল করেছি সেভাবেই,) যেমন নাযিল করেছিলাম সেই বিভক্তকারীদের প্রতি-
৯১

الَّذِیۡنَ جَعَلُوا الۡقُرۡاٰنَ عِضِیۡنَ ٩١

আল্লাযীনা জা‘আলুল কুরআ-না ‘ইদীন।

যারা (তাদের) পাঠ্য কিতাবকে খন্ড-বিখণ্ড করেছিল। ৩৪

তাফসীরঃ

৩৪. এর দ্বারা ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদেরকে বোঝানো হয়েছে। তারা তাদের কিতাবকে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলেছিল। অর্থাৎ, কিতাবের যে বিধান তাদের ইচ্ছামত হত তা মানত এবং যে বিধান ইচ্ছামত হত না, তা অমান্য করত।
৯২

فَوَرَبِّکَ لَنَسۡـَٔلَنَّہُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ۙ ٩٢

ফাওয়ারাব্বিকা লানাছআলান্নাহুম আজমা‘ঈন।

সুতরাং তোমার প্রতিপালকের কসম! আমি এক-এক করে তাদের সকলকে প্রশ্ন করব-
৯৩

عَمَّا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ٙ ٩٣

‘আম্মা-কা-নূইয়া‘মালূন।

তারা যা-কিছু করত সে সম্পর্কে,
৯৪

فَاصۡدَعۡ بِمَا تُؤۡمَرُ وَاَعۡرِضۡ عَنِ الۡمُشۡرِکِیۡنَ ٩٤

ফাসদা‘ বিমা-তু’মারূওয়া আ‘রিদ ‘আনিল মুশরিকীন।

সুতরাং তোমাকে যে বিষয়ে আদেশ করা হচ্ছে, তা প্রকাশ্যে মানুষকে শুনিয়ে দাও। ৩৫ (তথাপি) যারা শিরক করবে তাদের পরওয়া করো না।

তাফসীরঃ

৩৫. এটাই সেই আয়াত, যার মাধ্যমে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রকাশ্যে দাওয়াত ও প্রচার কার্যের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে তাঁর দাওয়াতী কার্যক্রম চলছিল গোপনে।
৯৫

اِنَّا کَفَیۡنٰکَ الۡمُسۡتَہۡزِءِیۡنَ ۙ ٩٥

ইন্না-কাফাইনা-কাল মুছতাহঝিঈন।

নিশ্চয় আমিই তোমার পক্ষ হতে বিদ্রূপকারীদের সাথে নিষ্পত্তির জন্য যথেষ্ট-
৯৬

الَّذِیۡنَ یَجۡعَلُوۡنَ مَعَ اللّٰہِ اِلٰہًا اٰخَرَ ۚ فَسَوۡفَ یَعۡلَمُوۡنَ ٩٦

আল্লাযীনা ইয়াজ‘আলূনা মা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খারা ফাছাওফা ইয়া‘লামূন।

যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোন মাবুদ প্রতিষ্ঠা করেছে। সুতরাং শীঘ্রই তারা জানতে পারবে।
৯৭

وَلَقَدۡ نَعۡلَمُ اَنَّکَ یَضِیۡقُ صَدۡرُکَ بِمَا یَقُوۡلُوۡنَ ۙ ٩٧

ওয়া লাকাদ না‘লামুআন্নাকা ইয়াদীকুসাদরুকা বিমা-ইয়াকূলূন।

নিশ্চয়ই আমি জানি তারা যে সব কথা বলে তাতে তোমার অন্তর সঙ্কুচিত হয়।
৯৮

فَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ وَکُنۡ مِّنَ السّٰجِدِیۡنَ ۙ ٩٨

ফাছাব্বিহবিহামদি রাব্বিকা ওয়া কুম মিনাছছা-জিদীন।

(তার প্রতিকার এই যে,) তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে তার তাসবীহ পাঠ করতে থাক এবং সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত থাক। ৩৬

তাফসীরঃ

৩৬. অর্থাৎ তাদের হঠকারিতায় মন খারাপ লাগলে আল্লাহ তাআলার যিকর ও তাসবীহ এবং নামাযে রত হও। কেননা যিকর ও ইবাদত দ্বারা অন্তরে প্রশান্তি আসে, মনের দুঃখ-কষ্ট লাঘব হয়। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাামের অভ্যাস ছিল, যে কোন সংকট ও দুর্যোগ দেখা দিলে তিনি নামাযে লেগে যেতেন। -অনুবাদক
৯৯

وَاعۡبُدۡ رَبَّکَ حَتّٰی یَاۡتِیَکَ الۡیَقِیۡنُ ٪ ٩٩

ওয়া‘বুদ রাব্বাকা হাত্তা- ইয়া’তিইয়াকাল ইয়াকীন।

এবং নিজ প্রতিপালকের ইবাদত করতে থাক যাবত না যার আগমন সুনিশ্চিত তোমার কাছে তা এসে যায়। ৩৭

তাফসীরঃ

৩৭. এর দ্বারা ‘মৃত্যু’ বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, সারা জীবন আল্লাহর ইবাদতে লেগে থাক, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা ওফাতের মাধ্যমে নিজের কাছে ডেকে নেন।