সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা ইব্রাহীম (إبراهيم) | নবী ইব্রাহীম (আঃ)

মাদানী

মোট আয়াতঃ ৫২

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

الٓرٰ ۟  کِتٰبٌ اَنۡزَلۡنٰہُ اِلَیۡکَ لِتُخۡرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوۡرِ ۬ۙ  بِاِذۡنِ رَبِّہِمۡ اِلٰی صِرَاطِ الۡعَزِیۡزِ الۡحَمِیۡدِ ۙ ١

আলিফ লাম রা- কিতা-বুন আনঝালনা-হু ইলাইকা লিতুখরিজান্না-ছা মিনাজজু লুমাতি ইলাননূরি, বিইযনি রাব্বিহিম ইলা -সিরা-তিল ‘আঝীঝিল হামীদ।

আলিফ, লাম, রা (হে নবী!) এটি এক কিতাব, যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তুমি মানুষকে তাদের প্রতিপালকের নির্দেশক্রমে অন্ধকার হতে বের করে আলোর ভেতর নিয়ে আসতে পার। অর্থাৎ, সেই সত্তার পথে, যার ক্ষমতা সকলের উপর প্রবল এবং যিনি সমস্ত প্রশংসার উপযুক্ত।

তাফসীরঃ

১. অর্থাৎ দুনিয়ার সমস্ত মানুষই গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত। কারণ তারা আল্লাহকে চেনে না, তাঁর খুশি-অখুশি জানে না। শয়তানের ধোঁকা ও প্রবৃত্তির প্ররোচনায় যে পথে চলছে তা আল্লাহর গযবের পথ। সে পথে চললে মানুষের মনুষ্যত্ব লোপ পায় ও পাশববৃত্তি বলিয়ান হয়। সুতরাং মানুষের পক্ষে এটা অন্ধকারের পথ। মানুষকে এই ঘোর অন্ধকার থেকে উদ্ধার করে যিনি নিখিল বিশ্বের সমস্ত জ্যোতির আধার সেই পরাক্রান্ত ও প্রশংসার্হ আল্লাহর আলোকিত পথে আনার জন্যই তোমার প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছি। এটাই দোজাহানের মহামুক্তির আলোকস্তম্ভ। এর নির্দেশনায় যারা চলবে, কেবল তারাই সুপথগামী হয়ে আলোকিত মানুষে পরিণত হবে। আর যারা এর নির্দেশনা অগ্রাহ্য করবে তারা বিপথগামিতার অন্ধকারেই নিমজ্জিত থাকবে। -অনুবাদক

اللّٰہِ الَّذِیۡ لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ  وَوَیۡلٌ لِّلۡکٰفِرِیۡنَ مِنۡ عَذَابٍ شَدِیۡدِۣ ۙ ٢

আল্লাহিল্লাযী লাহূমা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি ওয়া ওয়াইলুলিলল কাফিরীনা মিন ‘আযা-বিন শাদীদ।

সেই আল্লাহ, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর ভেতর যা-কিছু আছে সবই যার মালিকানায়। বড়ই দুর্গতি কাফেরদের জন্য অর্থাৎ শাস্তি।

الَّذِیۡنَ یَسۡتَحِبُّوۡنَ الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا عَلَی الۡاٰخِرَۃِ وَیَصُدُّوۡنَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ وَیَبۡغُوۡنَہَا عِوَجًا ؕ اُولٰٓئِکَ فِیۡ ضَلٰلٍۭ بَعِیۡدٍ ٣

আল্লাযীনা ইয়াছতাহিববূনাল হায়া-তাদদুনইয়া-‘আলাল আ-খিরাতি ওয়াইয়াসুদ্দূনা ‘আন ছাবীলিল্লা-হি ওয়া ইয়াবগূনাহা-‘ইওয়াজান উলাইকা ফী দালা-লিম বা‘ঈদ।

যারা আখেরাতের বিপরীতে দুনিয়ার জীবনকেই পছন্দ করে, অন্যদেরকে আল্লাহর পথে আসতে বাধা দেয় এবং সে পথে বক্রতা সন্ধান করে, তারা চরম বিভ্রান্তিতে লিপ্ত।

তাফসীরঃ

২. এর এক অর্থ এই যে, তারা ইসলামের কোথায় কি দোষ পাওয়া যায় তা খুঁজে বেড়ায়, যাতে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার সুযোগ হয়। দ্বিতীয় অর্থ হল, তারা সর্বদা এই ধান্ধায় লেগে থাকে, যাতে কুরআন ও সুন্নাহর ভেতর তাদের মর্জি ও খেয়াল-খুশীমত কোন কথা পেয়ে যায়। কেননা সে রকম কিছু পেলে তাকে তাদের ভ্রান্ত মতাদর্শের সপক্ষে দলীল হিসেবে পেশ করতে পারবে।

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ رَّسُوۡلٍ اِلَّا بِلِسَانِ قَوۡمِہٖ لِیُبَیِّنَ لَہُمۡ ؕ فَیُضِلُّ اللّٰہُ مَنۡ یَّشَآءُ وَیَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ٤

ওয়ামাআরছালনা-মির রাছূলিন ইল্লা-বিলিছা-নি কাওমিহী লিইউবাইয়িনা লাহুম ফাইউদিল্লুল্লা-হু মাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইয়াহদী মাইঁ ইয়াশাউ ওয়া-হুওয়াল ‘আঝীঝুল হাকীম।

আমি যখনই কোন রাসূল পাঠিয়েছি, তাকে তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি, যাতে সে তাদের সামনে সত্যকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারে। তারপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন, যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন। তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

তাফসীরঃ

৩. অর্থাৎ, যে ব্যক্তি সত্য-সন্ধানের অভিপ্রায়ে এ কিতাব পাঠ করে আল্লাহ তাআলা তাকে হিদায়াত দিয়ে দেন। আর যে ব্যক্তি জেদ ও বিদ্বেষ নিয়ে পড়ে, তাকে বিভ্রান্তির মধ্যেই ফেলে রাখেন। আরও দ্র. পূর্বের সূরা (১৩ : ৩৩)-এর টীকা।

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا مُوۡسٰی بِاٰیٰتِنَاۤ اَنۡ اَخۡرِجۡ قَوۡمَکَ مِنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوۡرِ ۬ۙ وَذَکِّرۡہُمۡ بِاَیّٰىمِ اللّٰہِ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّکُلِّ صَبَّارٍ شَکُوۡرٍ ٥

ওয়া লাকাদ আরছালনা-মূছা-বিআ-ইয়া-তিনাআন আখরিজ কাওমাকা মিনাজজু লুমাতি ইলাননূরি ওয়া যাককির হুম বিআইইয়া-মিল্লা-হি ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকুল্লি সাব্বা-রিন শাকূর।

আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলী দিয়ে পাঠিয়েছিলাম। বলেছিলাম যে, নিজ সম্প্রদায়কে অন্ধকার থেকে বের করে আলোতে নিয়ে এসো এবং আল্লাহ (বিভিন্ন মানুষকে ভালো অবস্থা ও মন্দ অবস্থার) যে দিনসমূহ দেখিয়েছেন, তার কথা বলে তাদেরকে উপদেশ দাও। বস্তুত যে-কেউ সবর ও শোকরে অভ্যস্ত, তার জন্য এসব ঘটনার ভেতর বহু নিদর্শন আছে।

তাফসীরঃ

৫. কুরআন মাজীদের اَ يَّمُ اللهِ-এর শাব্দিক অর্থ ‘আল্লাহর দিনসমূহ’। কিন্তু পরিভাষায় এর দ্বারা সেই সমস্ত দিন বোঝানো হয়ে থাকে, যাতে আল্লাহ তাআলা বিশেষ-বিশেষ ঘটনা ঘটিয়েছেন, যেমন অবাধ্য জাতিসমূহের উপর আযাব নাযিল করা, অনুগত বান্দাদেরকে শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় দান করা ইত্যাদি। সুতরাং আয়াতের মর্ম হল, সেই সব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কথা বলে, নিজ সম্প্রদায়কে উপদেশ দিন, যাতে তারা আল্লাহ তাআলার আনুগত্য স্বীকার করে।

وَاِذۡ قَالَ مُوۡسٰی لِقَوۡمِہِ اذۡکُرُوۡا نِعۡمَۃَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ اِذۡ اَنۡجٰکُمۡ مِّنۡ اٰلِ فِرۡعَوۡنَ یَسُوۡمُوۡنَکُمۡ سُوۡٓءَ الۡعَذَابِ وَیُذَبِّحُوۡنَ اَبۡنَآءَکُمۡ وَیَسۡتَحۡیُوۡنَ نِسَآءَکُمۡ ؕ  وَفِیۡ ذٰلِکُمۡ بَلَآءٌ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ عَظِیۡمٌ ٪ ٦

ওয়া ইয কা-লা মূছা-লিকাওমিহিযকুরূনি‘মাতাল্লা-হি ‘আলাইকুম ইযআনজা-কুম মিন আ-লি ফির‘আওনা ইয়াছূমূনাকুম ছুূআল ‘আযা-বি ওয়া ইউযাব্বিহূনা আবনাআকুম ওয়া ইয়াছতাহইউনা নিছাআকুম ; ওয়া ফী যা-লিকুম বালাউম মির রাব্বিকুম ‘আজীম।

সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন মূসা তার সম্প্রদায়কে বলেছিল। আল্লাহ তোমাদের প্রতি যেসব অনুগ্রহ করেছেন তা স্মরণ কর যখন তিনি ফির‘আউনের লোকদের কবল থেকে তোমাদেরকে মুক্তি দিয়েছিলেন, যারা তোমাদেরকে নিকৃষ্টতম শাস্তি দিত, তোমাদের পুত্রদেরকে যবাহ করত ও তোমাদের নারীদেরকে জীবিত রাখত। আর এসব ঘটনার ভেতর তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা ছিল।

وَاِذۡ تَاَذَّنَ رَبُّکُمۡ لَئِنۡ شَکَرۡتُمۡ لَاَزِیۡدَنَّکُمۡ وَلَئِنۡ کَفَرۡتُمۡ اِنَّ عَذَابِیۡ لَشَدِیۡدٌ ٧

ওয়া ইয তাআযযানা রাব্বুকুম লাইন শাকারতুম লাআঝীদান্নাকুম ওয়া লাইন কাফারতুম ইন্না ‘আযা-বী লাশাদীদ ।

এবং সেই সময়টাও স্মরণ কর, যখন তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করেছিলেন, তোমরা সত্যিকারের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আমি তোমাদেরকে আরও বেশি দেব, আর যদি অকৃতজ্ঞতা কর, তবে জেনে রেখ আমার শাস্তি অতি কঠিন।

وَقَالَ مُوۡسٰۤی اِنۡ تَکۡفُرُوۡۤا اَنۡتُمۡ وَمَنۡ فِی الۡاَرۡضِ جَمِیۡعًا ۙ فَاِنَّ اللّٰہَ لَغَنِیٌّ حَمِیۡدٌ ٨

ওয়া কা-লা মূছাইন তাকফুরূআনতুম ওয়া মান ফিল আরদি জামী‘আন ফাইন্নাল্লা-হা লাগানিইয়ুন হামীদ।

এবং মূসা বলেছিল, তোমরা এবং পৃথিবীতে বসবাসকারী সকলেই যদি অকৃতজ্ঞতা কর, তবে (আল্লাহর কোনও ক্ষতি নেই। কেননা) আল্লাহ অতি বেনিয়ায, তিনি আপনিই প্রশংসার উপযুক্ত।

اَلَمۡ یَاۡتِکُمۡ نَبَؤُا الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ قَوۡمِ نُوۡحٍ وَّعَادٍ وَّثَمُوۡدَ ۬ؕۛ وَالَّذِیۡنَ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ ؕۛ لَا یَعۡلَمُہُمۡ اِلَّا اللّٰہُ ؕ جَآءَتۡہُمۡ رُسُلُہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ فَرَدُّوۡۤا اَیۡدِیَہُمۡ فِیۡۤ اَفۡوَاہِہِمۡ وَقَالُوۡۤا اِنَّا کَفَرۡنَا بِمَاۤ اُرۡسِلۡتُمۡ بِہٖ وَاِنَّا لَفِیۡ شَکٍّ مِّمَّا تَدۡعُوۡنَنَاۤ اِلَیۡہِ مُرِیۡبٍ ٩

আলাম ইয়া’তিকুম নাবাউল্লাযীনা মিন কাবলিকুম কাওমি নূহিওঁ ওয়া ‘আ-দিওঁ ওয়া ছামূদা ওয়াল্লাযীনা মিম বা‘দিহিম লা-ইয়া‘লামুহুম ইল্লাল্লা-হুজাআতহুম রুছুলূহুম বিলবাইয়িনা-তি ফারাদ্দুআইদিইয়াহুম ফীআফওয়া-হিহিম ওয়াকা-লূইন্না-কাফারনা-বিমাউরছিলতুম বিহী ওয়া ইন্না-লাফী শাক্কিম মিম্মা-তাদ‘ঊনানাইলাইহি মুরীব।

(হে মক্কার কাফেরগণ!) তোমাদের কাছে কি তোমাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদের সংবাদ পৌঁছেনি নূহের সম্প্রদায়ের এবং আদ, ছামুদ ও তাদের পরবর্তী সম্প্রদায়সমূহের, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না? তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণ নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তারা তাদের মুখে হাত রেখে দিয়েছিল এবং বলেছিল, যে বার্তা দিয়ে তোমাদেরকে পাঠানো হয়েছে, আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছি আর তোমরা যে বিষয়ের দাওয়াত দিচ্ছ, সে সম্পর্কে আমাদের গভীর সন্দেহ আছে।

তাফসীরঃ

৬. এটা একটা প্রবচন। এর অর্থ হল, তারা জোরপূর্বক তাদেরকে বাকরুদ্ধ করে দিল এবং তাদের প্রচারকার্যে বাধা সৃষ্টি করল। (অথবা এর অর্থ তারা বিদ্রূপাত্মক হাসিতে নিজেদের মুখে হাতচাপা দিত)।
১০

قَالَتۡ رُسُلُہُمۡ اَفِی اللّٰہِ شَکٌّ فَاطِرِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ یَدۡعُوۡکُمۡ لِیَغۡفِرَ لَکُمۡ مِّنۡ ذُنُوۡبِکُمۡ وَیُؤَخِّرَکُمۡ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ قَالُوۡۤا اِنۡ اَنۡتُمۡ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُنَا ؕ تُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ تَصُدُّوۡنَا عَمَّا کَانَ یَعۡبُدُ اٰبَآؤُنَا فَاۡتُوۡنَا بِسُلۡطٰنٍ مُّبِیۡنٍ ١۰

কা-লাত রুছুলুহুম আফিল্লা-হি শাক্কন ফা-তিরিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ইয়াদ‘ঊকুম লিইয়াগফিরা লাকুম মিন যু নূবিকুম ওয়া ইউআখখিরাকুম ইলা আজালিম মুছাম্মান কা-লূইন আনতুম ইল্লা-বাশারুম মিছলুনা- তুরীদূ না আন তাসুদ্দূনা ‘আম্মা-কানা ইয়া‘বুদুআ-বাউনা-ফা’তূনা বিছুলতা-নিম মুবীন।

তাদের রাসূলগণ তাদেরকে বলেছিল, আল্লাহ সম্বন্ধেই কি তোমাদের সন্দেহ, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা? তিনি তোমাদেরকে ডাকছেন তোমাদের খাতিরে তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করার এবং স্থিরীকৃত এক মেয়াদ পর্যন্ত তোমাদেরকে অবকাশ দেওয়ার জন্য। তারা বলেছিল, তোমরা তো আমাদেরই মত মানুষ মাত্র। তোমরা চাচ্ছ আমাদের বাপ-দাদাগণ যাদের ইবাদত করত, তাদের থেকে আমাদেরকে বিরত রাখতে। তাহলে তোমরা আমাদের কাছে সুস্পষ্ট কোন মুজিযা উপস্থিত কর।

তাফসীরঃ

৮. আল্লাহ তাআলা প্রায় সকল নবীকেই কোনও না কোনও মুজিযা দান করেছিলেন। কিন্তু কাফেরদের কথা ছিল, আমরা তোমাদের কাছে যখন যে মুজিযা চাই, আমাদেরকে সেটাই দেখাতে হবে। তা না হলে ঈমান আনব না।
১১

قَالَتۡ لَہُمۡ رُسُلُہُمۡ اِنۡ نَّحۡنُ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُکُمۡ وَلٰکِنَّ اللّٰہَ یَمُنُّ عَلٰی مَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِہٖ ؕ وَمَا کَانَ لَنَاۤ اَنۡ نَّاۡتِیَکُمۡ بِسُلۡطٰنٍ اِلَّا بِاِذۡنِ اللّٰہِ ؕ وَعَلَی اللّٰہِ فَلۡیَتَوَکَّلِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ١١

কা-লাত লাহুম রুছুলুহুম ইন নাহনুইল্লা-বাশারুম মিছলুকুম ওয়ালা-কিন্নাল্লা-হা ইয়ামুন্নু ‘আলা-মাইঁ ইয়াশাউ মিন ‘ইবা-দিহী ওয়ামা-কা-না লানাআন না’তিয়াকুম বিছুলতা-নিন ইল্লা-বিইযনিল্লা -হি ওয়া ‘আলাল্লা-হি ফালইয়াতাওয়াক্কালিল মু’মিনূন।

তাদের নবীগণ তাদেরকে বলেছিল, বাস্তবিকই আমরা তোমাদের মত মানুষ। কিন্তু আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা বিশেষ অনুগ্রহ করেন। আর আল্লাহর হুকুম ছাড়া তোমাদেরকে কোন মুজিযা দেখানোর এখতিয়ার আমাদের নেই। মুমিনদের তো কেবল আল্লাহর উপর নির্ভর করা উচিত। ১০

তাফসীরঃ

১০. তোমরা যদি একথা বিশ্বাস না কর, উল্টো যারা বিশ্বাস করে তাদের কষ্ট দিতে তৎপর থাক, তবে তার কোনও পরওয়া মুমিনগণ করে না। এরূপ হীনপ্রাণ দুর্বৃত্তদের তারা ভয় পায় না। কেননা আল্লাহ তাআলার উপর তাদের ভরসা রয়েছে।
১২

وَمَا لَنَاۤ اَلَّا نَتَوَکَّلَ عَلَی اللّٰہِ وَقَدۡ ہَدٰىنَا سُبُلَنَا ؕ  وَلَنَصۡبِرَنَّ عَلٰی مَاۤ اٰذَیۡتُمُوۡنَا ؕ  وَعَلَی اللّٰہِ فَلۡیَتَوَکَّلِ الۡمُتَوَکِّلُوۡنَ ٪ ١٢

ওয়ামা-লানাআল্লা-নাতাওয়াক্কাল ‘আলাল্লা-হি ওয়া কাদ হাদা-না-ছুবুলানা- ওয়া লানাসবিরান্না ‘আলা-মাআ-যাইতুমূনা- ওয়া ‘আলাল্লা-হি ফালইয়াতাওয়াক্কালিল মুতাওয়াক্কিলূন।

কেনইবা আমরা আল্লাহর উপর নির্ভর করব না, যখন তিনি আমাদের সেই পথ প্রদর্শন করেছেন, যে পথে আমাদের চলা উচিত? তোমরা আমাদেরকে যে কষ্ট দিচ্ছ আমরা তাতে অবশ্যই সবর করব। যারা নির্ভর করতে চায়, তারা যেন আল্লাহরই উপর নির্ভর করে।
১৩

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لِرُسُلِہِمۡ لَنُخۡرِجَنَّکُمۡ مِّنۡ اَرۡضِنَاۤ اَوۡ لَتَعُوۡدُنَّ فِیۡ مِلَّتِنَا ؕ  فَاَوۡحٰۤی اِلَیۡہِمۡ رَبُّہُمۡ لَنُہۡلِکَنَّ الظّٰلِمِیۡنَ ۙ ١٣

ওয়া কা-লাল্লাযীনা কাফারূ লিরুছুলিহিম লানুখরিজান্নাকুম মিন আর দিনাআও লাতা‘ঊদুন্না ফী মিল্লাতিনা- ফাআওহাইলাইহিম রাব্বুহুম লানুহলিকান্নাজ্জা-লিমীন।

যারা কুফর অবলম্বন করেছিল, তারা তাদের নবীগণকে বলেছিল, আমরা তোমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে ছাড়ব। অথবা তোমাদেরকে আমাদের দীনে ফিরে আসতে হবে। ১১ অতঃপর তাদের প্রতিপালক তাদের প্রতি ওহী পাঠালেন, আমি অবশ্যই এ জালেমদেরকে ধ্বংস করব।

তাফসীরঃ

১১. এটাই সব যুগের বেদীন সর্দারদের চরিত্র। যখন দলীল-প্রমাণ ও যুক্তি-তর্কে হেরে যায় তখন পেশিশক্তি প্রদর্শন করে এবং সত্যের অনুসারীদেরকে তাদের মিথ্যার কাছে নতি স্বীকারে বাধ্য করতে চায় নয়ত হত্যা করা বা দেশ থেকে উৎখাত করার ভয় দেখায় কিন্তু তাতে শেষ রক্ষা হয় না। শেষ পর্যন্ত তাদের উপর আল্লাহর গযব নেমে আসে এবং তাদের স্থানে বিশ্বাসীদেরকেই প্রতিষ্ঠিত করা হয়। -অনুবাদক
১৪

وَلَنُسۡکِنَنَّـکُمُ الۡاَرۡضَ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ ؕ ذٰلِکَ لِمَنۡ خَافَ مَقَامِیۡ وَخَافَ وَعِیۡدِ ١٤

ওয়া লানুছকিনান্নাকুমুল আরদা মিম বা‘দিহিম যা-লিকা লিমান খা-ফা মাকা-মী ওয়া খা-ফা ওয়া ‘ঈদ।

এবং তাদের পর যমীনে তোমাদেরকেই প্রতিষ্ঠিত করব। ১২ এটা প্রত্যেক ওই ব্যক্তির পুরস্কার, যে আমার সামনে দাঁড়ানোর ভয় রাখে এবং ভয় রাখে আমার সতর্কবাণীর।

তাফসীরঃ

১২. শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছিল। মক্কার কাফের নেতৃবর্গ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীগণকে মক্কা মুকাররমা থেকে চিরতরে উৎখাত করতে চেয়েছিল, হিজরতের পর খুব বেশি দিন যেতে হয়নি বদরের যুদ্ধে তাদের অধিকাংশকেই নিপাত হতে হয়েছিল। পরিশেষে মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে তাদের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটেছিল এবং সেই পুণ্যভূমি থেকে কুফরের নাম নিশানা মুছে গিয়েছিল। আর সেই মক্কা মুকাররমা ও তার আশপাশসহ সমগ্র আরবভূমি মুসলিমদের করতলগত হয়েছিল। -অনুবাদক
১৫

وَاسۡتَفۡتَحُوۡا وَخَابَ کُلُّ جَبَّارٍ عَنِیۡدٍ ۙ ١٥

ওয়াছতাফতাহূওয়াখা-বা কুল্লুজাব্বা-রিন ‘আনীদ।

এবং কাফেরগণ নিজেরাই মীমাংসা প্রার্থনা করেছিল, ১৩ (আর তার পরিণাম হয়েছিল এই যে,) প্রত্যেক উদ্ধ্যত হঠকারী অকৃতকার্য হয়ে গেল।

তাফসীরঃ

১৩. অর্থাৎ, তারা নবীগণের কাছে দাবী করেছিল, তোমরা সত্যবাদী হলে আল্লাহ তাআলাকে বল, তিনি যেন আমাদের উপর এমন এক শাস্তি অবতীর্ণ করেন, যা দ্বারা সত্য-মিথ্যার মীমাংসা হয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে একথা বলে তারা ঔদ্ধত্যপূর্ণভাবে নবীদের সঙ্গে তামাশা করছিল।
১৬

مِّنۡ وَّرَآئِہٖ جَہَنَّمُ وَیُسۡقٰی مِنۡ مَّآءٍ صَدِیۡدٍ ۙ ١٦

মিওঁ ওয়ারাইহী জাহান্নামুওয়া ইউছকা-মিম মাইন সাদীদ ।

তার সামনে রয়েছে জাহান্নাম এবং (সেখানে) তাকে পান করানো হবে গলিত পুঁজ।
১৭

یَّتَجَرَّعُہٗ وَلَا یَکَادُ یُسِیۡغُہٗ وَیَاۡتِیۡہِ الۡمَوۡتُ مِنۡ کُلِّ مَکَانٍ وَّمَا ہُوَ بِمَیِّتٍ ؕ وَمِنۡ وَّرَآئِہٖ عَذَابٌ غَلِیۡظٌ ١٧

ইয়াতাজাররা‘উহূওয়ালা-ইয়া-কা-দূইউছীগুহূওয়া ইয়া’তীহিল মাওতুমিন কুল্লি মাকা-নিওঁ ওয়ামা-হুওয়া বিমাইয়িতিওঁ ওয়ামিওঁ ওয়ারাইহী ‘আযা-বুন গালীজ।

সে তা ঢোক গিলে গিলে পান করবে, মনে হবে যেন সে তা গলা থেকে নামাতে পারছে না। ১৪ মৃত্যু তার দিকে চারদিক থেকে এসে পড়বে, কিন্তু সে মরবে না ১৫ এবং তার সামনে (সর্বদা) থাকবে এক কঠিন শাস্তি। ১৬

তাফসীরঃ

১৪. এ তরজমা করা হয়েছে ইমাম রাযী (রহ.) বর্ণিত এক তাফসীরের ভিত্তিতে। তার মর্ম এই যে, তাদের অনুভব হবে তারা সে পানি গলা দিয়ে নিচে নামাতে পারছে না। তা সত্ত্বেও তারা অতি কষ্টে ঢোক গিলে দীর্ঘ সময় নিয়ে নিচে নামাবে।
১৮

مَثَلُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِرَبِّہِمۡ اَعۡمَالُہُمۡ کَرَمَادِۣ اشۡتَدَّتۡ بِہِ الرِّیۡحُ فِیۡ یَوۡمٍ عَاصِفٍ ؕ لَا یَقۡدِرُوۡنَ مِمَّا کَسَبُوۡا عَلٰی شَیۡءٍ ؕ ذٰلِکَ ہُوَ الضَّلٰلُ الۡبَعِیۡدُ ١٨

মাছালুল্লাযীনা কাফারু বিরাব্বিহিম আ‘মা-লুহুম কারামা-দিনিশতাদ্দাত বিহির রীহুফী ইয়াওমিন ‘আ-সিফিল লা-ইয়াকদিরূনা মিম্মা-কাছাবূ‘আলা-শাইইন যা-লিকা হুওয়াদ্দালা-লুল বা‘ঈদ।

যারা নিজ প্রতিপালকের সাথে কুফরী কর্মপন্থা অবলম্বন করেছে তাদের অবস্থা এই যে, তাদের কর্ম সেই ছাইয়ের মত, প্রচণ্ড ঝড়ের দিনে তীব্র বাতাস যা উড়িয়ে নিয়ে যায়। ১৭ তারা যা কিছু উপার্জন করে, তার কিছুই তাদের হস্তগত হবে না। এটাই তো চরম বিভ্রান্তি।

তাফসীরঃ

১৭. কাফেরগণ দুনিয়ায় কিছু ভালো কাজও করে থাকে, যেমন আর্ত ও পীড়িতদের সাহায্য ইত্যাদি। আল্লাহ তাআলার রীতি হল, তিনি এরূপ কাজের প্রতিদান দুনিয়াতেই তাদেরকে দিয়ে দেন। আখেরাতে তার কোন পুরস্কার তারা পাবে না। কেননা সেখানে পুরস্কার লাভের জন্য ঈমান শর্ত। সুতরাং এসব কাজ আখেরাতে তাদের কোন কাজে আসবে না। এর দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়েছে যে, ঝড়ো হাওয়া যেমন ছাই উড়িয়ে নিয়ে যায়, তারপর তার কোন চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না, ঠিক সে রকমই কাফেরদের কুফর তাদের সৎকর্মসমূহ নিশ্চিহ্ন করে দেয়। ফলে তার কোন উপকার তারা আখেরাতে লাভ করবে না।
১৯

اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِالۡحَقِّ ؕ  اِنۡ یَّشَاۡ یُذۡہِبۡکُمۡ وَیَاۡتِ بِخَلۡقٍ جَدِیۡدٍ ۙ ١٩

আলাম তারা আন্নাল্লা-হা খালাকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা বিল হাক্কি ইয়ঁইয়াশা’ ইউযহিবকুম ওয়া ইয়া’তি বিখালকিন জাদীদ ।

এটা কি তোমার দৃষ্টিগোচর হয় না যে, আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে যথাযথ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন? তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সকলকে ধ্বংস করে দিতে পারেন এবং এক নতুন সৃষ্টি অস্তিত্বে আনতে পারেন। ১৮

তাফসীরঃ

১৮. এ আয়াতে যেমন আখেরাতের অবশ্যম্ভাবিতা বর্ণনা করা হয়েছে, তেমনি এ সম্বন্ধে কাফেরদের মনে যে সংশয়-সন্দেহ দানা বাঁধে তারও জবাব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত বলা হয়েছে, এ বিশ্বজগত যথাযথ এক উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে। সে উদ্দেশ্য হল, আল্লাহ তাআলার অনুগত বান্দাদেরকে পুরস্কার দান করা এবং তাঁর অবাধ্যদেরকে শাস্তি দেওয়া। আখেরাত না থাকলে ভালো-মন্দ এবং অনুগত ও অবাধ্য সব সমান হয়ে যায়। সুতরাং এটা ইনসাফের দাবী যে, ইহজগতের পর আরেকটি জগত থাকবে, যেখানে প্রত্যেককে তার কর্ম অনুযায়ী প্রতিফল দেওয়া হবে। বাকি থাকল কাফেরদের এই খট্কা যে, মৃত্যুর পর মানুষ তো মাটিতে মিশে যায়। এ অবস্থায় সে পুনরায় জীবিত হবে কিভাবে? পরবর্তী বাক্যে এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলার শক্তি অসীম। তিনি ইচ্ছা করলে তো এটাও করতে পারেন যে, তোমাদের সকলকে ধ্বংস করে এক নতুন মাখলুক সৃষ্টি করবেন। বলাবাহুল্য, সম্পূর্ণ নতুনরূপে কোন মাখলুককে নাস্তি থেকে অস্তিতে আনা অত্যন্ত কঠিন কাজ। সেই তুলনায় যে মাখলুক একবার অস্তিত্ব লাভ করেছে তার মৃত্যু ঘটিয়ে তাকে পুনরায় জীবন দান করা অনেক সহজ। তো আল্লাহ তাআলা যখন অধিকতর কঠিন কাজটিই অনায়াসে করার ক্ষমতা রাখেন, তখন তুলনামূলক যেটি সহজ, সেটি কেন তার পক্ষে কঠিন হবে? নিঃসন্দেহে সেটি করতেও তিনি সমানভাবে সক্ষম।
২০

وَّمَا ذٰلِکَ عَلَی اللّٰہِ بِعَزِیۡزٍ ٢۰

ওয়ামা-যা-লিকা ‘আলাল্লা-হি বি’আঝীঝ।

আর এটা আল্লাহর পক্ষে কিছু কঠিন নয়।
২১

وَبَرَزُوۡا لِلّٰہِ جَمِیۡعًا فَقَالَ الضُّعَفٰٓؤُا لِلَّذِیۡنَ اسۡتَکۡبَرُوۡۤا اِنَّا کُنَّا لَکُمۡ تَبَعًا فَہَلۡ اَنۡتُمۡ مُّغۡنُوۡنَ عَنَّا مِنۡ عَذَابِ اللّٰہِ مِنۡ شَیۡءٍ ؕ  قَالُوۡا لَوۡ ہَدٰىنَا اللّٰہُ لَہَدَیۡنٰکُمۡ ؕ  سَوَآءٌ عَلَیۡنَاۤ اَجَزِعۡنَاۤ اَمۡ صَبَرۡنَا مَا لَنَا مِنۡ مَّحِیۡصٍ ٪ ٢١

ওয়া বারাঝূ লিল্লা-হি জামী‘আন ফাকালাদদু‘আফাউলিল্লাযীনাছ তাকাবারূইন্না-কুন্নালাকুম তাবা‘আন ফাহাল আনতুম মুগনূনা ‘আন্না-মিন ‘আযা-বিল্লা-হি মিন শাইইন কা-লূ লাও হাদা-নাল্লা-হু লাহাদাইনা-কুম ছাওয়াউন ‘আলাইনাআজাঝি‘না আম সাবারনা-মালানা-মিম মাহীস।

এবং সমস্ত মানুষ আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। যারা (দুনিয়ায়) দুর্বল ছিল, তারা বড়ত্ব প্রদর্শনকারীদেরকে বলবে, আমরা তো তোমাদেরই অনুগামী ছিলাম। এখন কি তোমরা আমাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে একটু বাঁচাবে? তারা বলবে, আল্লাহ যদি আমাদেরকে হিদায়াত দান করে থাকতেন, তবে আমরাও তোমাদেরকে হিদায়াত দিতাম। এখন আমরা চিৎকার করি বা সবর করি উভয় অবস্থাই আমাদের জন্য সমান। আমাদের নিষ্কৃতি লাভের কোন উপায় নেই।
২২

وَقَالَ الشَّیۡطٰنُ لَمَّا قُضِیَ الۡاَمۡرُ اِنَّ اللّٰہَ وَعَدَکُمۡ وَعۡدَ الۡحَقِّ وَوَعَدۡتُّکُمۡ فَاَخۡلَفۡتُکُمۡ ؕ وَمَا کَانَ لِیَ عَلَیۡکُمۡ مِّنۡ سُلۡطٰنٍ اِلَّاۤ اَنۡ دَعَوۡتُکُمۡ فَاسۡتَجَبۡتُمۡ لِیۡ ۚ فَلَا تَلُوۡمُوۡنِیۡ وَلُوۡمُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ ؕ مَاۤ اَنَا بِمُصۡرِخِکُمۡ وَمَاۤ اَنۡتُمۡ بِمُصۡرِخِیَّ ؕ اِنِّیۡ کَفَرۡتُ بِمَاۤ اَشۡرَکۡتُمُوۡنِ مِنۡ قَبۡلُ ؕ اِنَّ الظّٰلِمِیۡنَ لَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ٢٢

ওয়া কা-লাশশাইতা-নুলাম্মা-কুদিয়াল আমরু ইন্নাল্লা-হা ওয়া‘আদাকুমওয়া‘আদাল হাক্কিওয়া ওয়াআততুকুম ফাআখলাফতুকুম ওয়ামা-কা-না লিয়া ‘আলাইকুম মিন ছুলতা-নিন ইল্লা আন দা‘আওতুকুম ফাছতাজাবতুম লী ফালা-তালূমূনী ওয়া লূমূআনফুছাকুম মাআনা-বিমুসরিখিকুম ওয়ামাআনতুম বিমুসরিখিইইয়া ইন্নী কাফারতুবিমা আশরাকতুমূনি মিন কাবলু ইন্নাজ্জা-লিমীনা লাহুম ‘আযা-বুন আলীম।

যখন সবকিছুর মীমাংসা হয়ে যাবে, তখন শয়তান (তার অনুসারীদেরকে) বলবে, বস্তুত আল্লাহ তোমাদেরকে সত্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আর আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু আমি তোমাদের সাথে তা রক্ষা করিনি। তোমাদের উপর আমার এর বেশি কিছু ক্ষমতা ছিল না যে, আমি তোমাদেরকে (আল্লাহর অবাধ্যতা করার) দাওয়াত দিয়েছিলাম আর তোমরা আমার কথা শুনেছিলে। সুতরাং এখন আমাকে দোষারোপ করো না, বরং নিজেদেরই দোষারোপ কর। না তোমাদের বিপদ মুক্তিতে আমি তোমাদের কোন সাহায্য করতে পারি আর না আমার বিপদ মুক্তিতে তোমরা আমার কোন সাহায্য করতে পার। এর আগে তোমরা যে আমাকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত করেছিলে (আজ) আমি তা প্রত্যাখ্যান করলাম। ১৯ যারা এ সীমালংঘন করেছিল আজ তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।

তাফসীরঃ

১৯. শয়তানকে আল্লাহ তাআলার শরীক সাব্যস্ত করার অর্থ তার এমন আনুগত্য করা, যেমন আনুগত্য কেবল আল্লাহ তাআলারই হতে পারে। শয়তান সে দিন বলবে, আজ আমি তোমাদের সেই কর্মপন্থার যথার্থতা অস্বীকার করছি।
২৩

وَاُدۡخِلَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا بِاِذۡنِ رَبِّہِمۡ ؕ تَحِیَّتُہُمۡ فِیۡہَا سَلٰمٌ ٢٣

ওয়া উদখিলাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা-বিইযনি রাব্বিহিম তাহিইইয়াতুহুম ফীহাছালা-ম ।

আর যারা ঈমান এনেছিল ও সৎকর্ম করেছিল, তাদেরকে এমন উদ্যানরাজিতে দাখিল করা হবে, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত থাকবে। নিজ প্রতিপালকের হুকুমে তারা সর্বদা তাতে (উদ্যানরাজিতে) থাকবে। তাতে তাদের পারস্পরিক অভিবাদন হবে সালাম। ২০

তাফসীরঃ

২০. উপরে জাহান্নামীদের পারস্পরিক কথপোকথন উল্লেখ করা হয়েছিল, তারা একে অন্যকে দোষারোপও করবে এবং এ কথার ঘোষণা দেবে যে, এখন তাদের জন্য ধ্বংস ছাড়া কিছু নেই। এর বিপরীতে জান্নাতবাসীদের অবস্থা বলা হয়েছে, তারা প্রতিটি সাক্ষাতে একে অন্যকে ধ্বংসের বিপরীতে শান্তি ও নিরাপত্তার বার্তা শোনাবে।
২৪

اَلَمۡ تَرَ کَیۡفَ ضَرَبَ اللّٰہُ مَثَلًا کَلِمَۃً طَیِّبَۃً کَشَجَرَۃٍ طَیِّبَۃٍ اَصۡلُہَا ثَابِتٌ وَّفَرۡعُہَا فِی السَّمَآءِ ۙ ٢٤

আলাম তারা কাইফা দারাবাল্লা-হুমাছালান কালিমাতান তাইয়িবাতান কাশাজারাতিন তাইয়িবাতিন আসলুহা-ছা-বিতুওঁ ওয়া ফার‘উহা-ফিছছামাই।

তুমি কি দেখনি আল্লাহ কালেমা তায়্যিবার কেমন দৃষ্টান্ত দিয়েছেন? তা এক পবিত্র বৃক্ষের মত, যার মূল (ভূমিতে) সুদৃঢ়ভাবে স্থিত আর তার শাখা-প্রশাখা আকাশে বিস্তৃত। ২১

তাফসীরঃ

২১. কালিমা তায়্যিবা দ্বারা কালিমা তাওহীদ অর্থাৎ ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বোঝানো হয়েছে। অধিকাংশ মুফাসসির বলেছেন, ‘পবিত্র বৃক্ষ’ হল খেজুর গাছ। খেজুর গাছের শিকড় মাটির নিচে অত্যন্ত শক্তভাবে গাড়া থাকে। তীব্র বাতাস বা ঝড়ো হাওয়া তার কোন ক্ষতি করতে পারে না। এভাবেই তাওহীদের কালিমা যখন মানুষের মন-মস্তিষ্কে বদ্ধমূল হয়ে যায়, তখন ঈমানের কারণে তার সামনে যতই কষ্ট-ক্লেশ ও বিপদাপদ দেখা দিক না কেন, তাতে তার ঈমানে বিন্দুমাত্র দুর্বলতা সৃষ্টি হয় না। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে কত রকমের কষ্টই না দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাদের অন্তরে তাওহীদের যে কালিমা বাসা বেঁধেছিল, বিপদাপদের ঝড়ো-ঝঞ্ঝায় তাতে এতটুকু কাঁপন ধরেনি। আয়াতে খেজুর গাছের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য বলা হয়েছে তার শাখা-প্রশাখা আকাশের দিকে বিস্তৃত থাকে এবং ভূমির মলিনতা থেকে দূরে থাকে। এভাবেই মুমিনের অন্তরে যখন তাওহীদের কালিমা বদ্ধমূল হয়ে যায়, তখন তার সমস্ত শাখা-প্রশাখা অর্থাৎ সৎকর্মসমূহ দুনিয়াদারির মলিনতা হতে মুক্ত থেকে আসমানের দিকে চলে যায় এবং আল্লাহ তাআলার কাছে পৌঁছে তাঁর সন্তুষ্টি হাসিল করে নেয়।
২৫

تُؤۡتِیۡۤ اُکُلَہَا کُلَّ حِیۡنٍۭ بِاِذۡنِ رَبِّہَا ؕ وَیَضۡرِبُ اللّٰہُ الۡاَمۡثَالَ لِلنَّاسِ لَعَلَّہُمۡ یَتَذَکَّرُوۡنَ ٢٥

তু’তী উকুলাহা-কুল্লা হীনিম বিইযনি রাব্বিহা - ওয়া ইয়াদরিবুল্লা-হুল আমছা-লা লিন্না-ছি লা‘আল্লাহুম ইয়াতাযাক্কারূন।

তা নিজ প্রতিপালকের নির্দেশে প্রতি মুহূর্তে ফল দেয়। ২২ আল্লাহ (এ জাতীয়) দৃষ্টান্ত দেন, যাতে মানুষ উপদেশ গ্রহণ করে।

তাফসীরঃ

২২. অর্থাৎ, এ গাছ সদা সজীব। কখনও পাতা ঝরে ন্যাড়া হয় না। সর্বাবস্থায় ফল দেয়। এর দ্বারা খেজুর গাছ বোঝানো হয়ে থাকলে এর অর্থ হবে, এর ফল সারা বছরই খাওয়া হয়। তাছাড়া যে মওসুমে গাছে ফল থাকে না, তখনও তা দ্বারা বহুমাত্রিক উপকার লাভ হয়। কখনও তার রস আহরণ করা হয়। কখনও তার শাঁস বের করে খাওয়া হয়। তার পাতা দ্বারা বিভিন্ন রকমের জিনিস তৈরি করা হয়। এমনিভাবে যখন কেউ কালিমা তায়্যিবার প্রতি ঈমান এনে ফেলে, তখন সে সচ্ছল থাকুক বা অসচ্ছল, আরামে থাকুক বা কষ্টে, সর্বাবস্থায় ঈমানের বদৌলতে তার আমলনামায় উত্তরোত্তর পূণ্য বাড়তে থাকে। ফলে তার পুরস্কারেও মাত্রা যোগ হতে থাকে, যা প্রকৃতপক্ষে তাওহীদী কালিমারই ফল।
২৬

وَمَثَلُ کَلِمَۃٍ خَبِیۡثَۃٍ کَشَجَرَۃٍ خَبِیۡثَۃِۣ اجۡتُثَّتۡ مِنۡ فَوۡقِ الۡاَرۡضِ مَا لَہَا مِنۡ قَرَارٍ ٢٦

ওয়া মাছালুকালিমাতিন খাবীছাতিন কাশাজারাতিন খাবীছাতি নিজতুছছাত মিন ফাওকিল আরদিমা-লাহা-মিন কারা-র।

আর অপবিত্র কালিমার দৃষ্টান্ত এক মন্দ বৃক্ষ, যা ভূমির উপরিভাগ থেকেই উপড়ে ফেলা যায়। তার একটুও স্থায়িত্ব নেই। ২৩

তাফসীরঃ

২৩. অপবিত্র কালিমা দ্বারা কুফরী কথা বোঝানো হয়েছে। এর দৃষ্টান্ত হল এমন নিকৃষ্ট গাছ, যার কোন মজবুত শিকড় নেই। তা ঝোপ-ঝাড়ের মত আপনা-আপনিই জন্ম নেয়। তার একটুও স্থিতাবস্থা থাকে না। তাই যে-কেউ ইচ্ছা করলে তা অনায়াসেই উপড়ে ফেলতে পারে। এমনিভাবে কুফরী আকীদা-বিশ্বাসের যুক্তি-প্রমাণগত কোনও ভিত্তি থাকে না। অতি সহজেই তা রদ করা যায়। খুব সম্ভব এর দ্বারা মুসলিমদেরকে সান্তনা দেওয়া হয়েছে যে, কুফর ও শিরকের যে আকীদাসমূহ বর্তমানে মুসলিমদের পক্ষে ভূমি সংকীর্ণ করে রেখেছে, সে দিন দূরে নয়, যখন এগুলো ঝোপ-ঝাড়ের মত উপড়ে ফেলা হবে।
২৭

یُثَبِّتُ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِالۡقَوۡلِ الثَّابِتِ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَفِی الۡاٰخِرَۃِ ۚ  وَیُضِلُّ اللّٰہُ الظّٰلِمِیۡنَ ۟ۙ  وَیَفۡعَلُ اللّٰہُ مَا یَشَآءُ ٪ ٢٧

ইউছাব্বিতুল্লা-হুল্লাযীনা আ-মানূবিলকাওলিছছা-বিতি ফিল হায়া-তিদদুনইয়া-ওয়া ফিল আ-খিরাতি ওয়া ইউদিল্লা-হুজ জা-লিমীনা ওয়াইয়াফ ‘আলুল্লাহু মাইয়াশাউ।

যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদেরকে এ সুদৃঢ় কথার উপর স্থিতি দান করেন দুনিয়ার জীবনেও এবং আখেরাতেও। ২৪ আর আল্লাহ জালেমদেরকে করেন বিভ্রান্ত। আল্লাহ (নিজ হিকমত অনুযায়ী) যা চান, তাই করেন।

তাফসীরঃ

২৪. দুনিয়ায় স্থিতি দান করার অর্থ, তাদের উপর যত জুলুম-নিপীড়নই চালানো হোক, তারা এ কালিমা ত্যাগ করতে কিছুতেই সম্মত হবে না। আর আখেরাতে স্থিতি সৃষ্টির অর্থ হল, কবরে যখন সওয়াল-জওয়াবের সম্মুখীন হবে, তখন তারা এ কালিমায় বিশ্বাসের কথা প্রকাশ করতে সক্ষম হবে। ফলে আখেরাতে তাদের স্থায়ী নি‘আমত লাভ হবে।
২৮

اَلَمۡ تَرَ اِلَی الَّذِیۡنَ بَدَّلُوۡا نِعۡمَتَ اللّٰہِ کُفۡرًا وَّاَحَلُّوۡا قَوۡمَہُمۡ دَارَ الۡبَوَارِ ۙ ٢٨

আলাম তারা ইলাল্লাযীনা বাদ্দালূনি‘মাতাল্লা-হি কুফরাওঁ ওয়া আহাললূকাওমাহুম দা-রাল বাওয়া-র।

তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা আল্লাহর নি‘আমতকে কুফর দ্বারা পরিবর্তন করে ফেলেছে এবং নিজ সম্প্রদায়কে ধ্বংস-নিবাসে পৌঁছে দিয়েছে-
২৯

جَہَنَّمَ ۚ یَصۡلَوۡنَہَا ؕ وَبِئۡسَ الۡقَرَارُ ٢٩

জাহান্নামা ইয়াসলাওনাহা- ওয়াবি’ছাল কারা-র।

জাহান্নামে? ২৫ তারা তাতে দগ্ধ হবে আর তা অতি মন্দ ঠিকানা।

তাফসীরঃ

২৫. এর দ্বারা মক্কা মুকাররমার কাফের সর্দারদের দিকে ইশারা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে নানা প্রকার নি‘আমত ও বিত্ত-বৈভব দান করেছিলেন। কিন্তু তারা সেসব নি‘আমতের চরম না-শোকরী করে। পরিণামে তারা নিজেদেরকে তো ধ্বংস করলই, সঙ্গে নিজ সম্প্রদায়কেও ধ্বংসের পথে নিয়ে গেল।
৩০

وَجَعَلُوۡا لِلّٰہِ اَنۡدَادًا لِّیُضِلُّوۡا عَنۡ سَبِیۡلِہٖ ؕ قُلۡ تَمَتَّعُوۡا فَاِنَّ مَصِیۡرَکُمۡ اِلَی النَّارِ ٣۰

ওয়া জা‘আলূলিল্লা-হি আনদা-দাল লিইউদিললূ‘আন ছাবীলিহী কুল তামাত্তা‘ঊ ফাইন্না মাসীরাকুম ইলান্না-র।

আর তারা আল্লাহর সাথে (তাঁর প্রভুত্বে) কতিপয় শরীক সাব্যস্ত করেছে, যাতে মানুষকে তার পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে। তাদেরকে বল, (অল্প কিছু) ভোগ করে নাও। শেষ পর্যন্ত তোমাদেরকে জাহান্নামেই যেতে হবে।
৩১

قُلۡ لِّعِبَادِیَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا یُقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَیُنۡفِقُوۡا مِمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ سِرًّا وَّعَلَانِیَۃً مِّنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّاۡتِیَ یَوۡمٌ لَّا بَیۡعٌ فِیۡہِ وَلَا خِلٰلٌ ٣١

কুললি‘ইবা-দিয়াল্লাযীনা আ-মানূইউকীমুসসালা-তা ওয়া ইউনফিকূ মিম্মা-রাঝাকনাহুম ছিররাওঁ ওয়া ‘আলা-নিয়াতাম মিন কাবলি আইঁ ইয়া’তিয়া ইয়াওমুল লা-বাই‘ঊন ফীহি ওয়ালা-খিলা-ল।

আমার যে বান্দাগণ ঈমান এনেছে তাদেরকে বল, যেন নামায কায়েম করে, আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে (সৎকাজে) ব্যয় করে (এবং এ কাজ) সেই দিন আসার আগে-আগেই (করে), যে দিন কোন বেচাকেনা থাকবে না এবং কোন বন্ধুত্বও কাজে আসবে না। ২৬

তাফসীরঃ

২৬. এর দ্বারা হিসাব-নিকাশের দিন বোঝানো হয়েছে। সে দিন কেউ না পারবে টাকা-পয়সার বিনিময়ে জান্নাত কিনতে আর না পারবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দ্বারা নিজেকে শাস্তি থেকে বাঁচাতে।
৩২

اَللّٰہُ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَاَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَخۡرَجَ بِہٖ مِنَ الثَّمَرٰتِ رِزۡقًا لَّکُمۡ ۚ  وَسَخَّرَ لَکُمُ الۡفُلۡکَ لِتَجۡرِیَ فِی الۡبَحۡرِ بِاَمۡرِہٖ ۚ  وَسَخَّرَ لَکُمُ الۡاَنۡہٰرَ ۚ ٣٢

আল্লা-হুল্লাযী খালাকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ওয়া আনঝালা মিনাছছামাই মাআন ফাআখরাজা বিহী মিনাছছামারা-তি রিঝকাল লাকুম ওয়াছাখখারা লাকুমুল ফুলকা লিতাজরিয়া ফিল বাহরি বিআমরিহী ওয়া ছাখখারা লাকুমুল আনহা-র।

আল্লাহ তিনি, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, তারপর তা দ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্য ফল উৎপাদন করেছেন এবং জলযানসমূহকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, যাতে তা তাঁর নির্দেশে সাগরে চলাচল করে আর নদ-নদীকেও তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন।
৩৩

وَسَخَّرَ لَکُمُ الشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ دَآئِبَیۡنِ ۚ  وَسَخَّرَ لَکُمُ الَّیۡلَ وَالنَّہَارَ ۚ ٣٣

ওয়া ছাখখারা লকুমুশশামছা ওয়াল কামারা দাইবাইনি ওয়া ছাখখারা লাকুমুল লাইলা ওয়ান নাহা-র।

সূর্য ও চন্দ্রকে তোমাদের কাজে নিয়োজিত করেছেন, যা অবিরাম পরিভ্রমণরত রয়েছে। আর তোমাদের জন্য রাত ও দিনকেও কাজে লাগিয়ে রেখেছেন।
৩৪

وَاٰتٰىکُمۡ مِّنۡ کُلِّ مَا سَاَلۡتُمُوۡہُ ؕ  وَاِنۡ تَعُدُّوۡا نِعۡمَتَ اللّٰہِ لَا تُحۡصُوۡہَا ؕ  اِنَّ الۡاِنۡسَانَ لَظَلُوۡمٌ کَفَّارٌ ٪ ٣٤

ওয়া আ-তা-কুম মিন কুল্লি মা-ছাআলতুমূহু ওয়া ইন তা‘উদ্দূনি‘মাতাল্লা-হি লা-তুহসূহা- ইন্নাল ইনছা-না লাজালূমুন কাফ ফা-র।

তোমরা যা-কিছু চেয়েছ, তিনি তার মধ্য হতে (যা তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক তা) তোমাদেরকে দান করেছেন। তোমরা আল্লাহর নি‘আমতসমূহ গুণতে শুরু করলে, তা গুণতে সক্ষম হবে না। বস্তুত মানুষ অতি অন্যায়াচারী, ঘোর অকৃতজ্ঞ।
৩৫

وَاِذۡ قَالَ اِبۡرٰہِیۡمُ رَبِّ اجۡعَلۡ ہٰذَا الۡبَلَدَ اٰمِنًا وَّاجۡنُبۡنِیۡ وَبَنِیَّ اَنۡ نَّعۡبُدَ الۡاَصۡنَامَ ؕ ٣٥

ওয়া ইয কা-লা ইবরা-হীমুরাব্বিজ‘আল হা-যাল বালাদা আ-মিনাওঁ ওয়াজনুবনী ওয়া বানিইইয়া আন্না‘বুদাল আসনা-ম।

এবং সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম (আল্লাহ তাআলার কাছে দু‘আ করছিল আর তাতে) বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! এ নগরকে শান্তিপূর্ণ বানিয়ে দিন ২৭ এবং আমাকে ও আমার পুত্রকে মূর্তিপূজা করা হতে রক্ষা করুন। ২৮

তাফসীরঃ

২৭. মক্কা মুকাররমার মুশরিকগণ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে নিজেদের শ্রেষ্ঠতম মান্যবর হিসেবে গণ্য করত। তাই আল্লাহ তাআলা এ আয়াতসমূহে তাঁর দু‘আর বরাত দিয়ে তাদেরকে সতর্ক করছেন যে, তিনি তো মূর্তিপূজাকে চরম ঘৃণা করতেন, যে কারণে নিজ সন্তানদেরকে পর্যন্ত তা থেকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে দু‘আ করেছিলেন। তা তার অনুসরণের দাবীদার হয়ে তোমরা কিসের ভিত্তিতে মূর্তিপূজা শুরু করলে?
৩৬

رَبِّ اِنَّہُنَّ اَضۡلَلۡنَ کَثِیۡرًا مِّنَ النَّاسِ ۚ فَمَنۡ تَبِعَنِیۡ فَاِنَّہٗ مِنِّیۡ ۚ وَمَنۡ عَصَانِیۡ فَاِنَّکَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٣٦

রাব্বি ইন্নাহুন্না আদলালনা কাছীরাম মিনান্না-ছি ফামান তাবি‘আনী ফাইন্নাহূমিন্নী ওয়ামান ‘আসা-নী ফাইন্নাকা গাফূরুর রাহীম।

হে আমার প্রতিপালক! ওইসব প্রতিমা বিপুল সংখ্যক মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে। সুতরাং যে-কেউ আমার অনুসরণ করবে, সে আমার দলভুক্ত আর কেউ আমাকে অমান্য করলে (তার বিষয়টা আমি আপনার উপর ছেড়ে দিচ্ছি), আপনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ২৯

তাফসীরঃ

২৯. অর্থাৎ, আমি আমার সন্তান-সন্ততি ও অন্যান্য লোকদেরকে মূর্তিপূজা হতে বেঁচে থাকার আদেশ করতে থাকব। যারা আমার আদেশমত কাজ করবে তারা আমার অনুসারী বলে দাবী করার অধিকার রাখবে। কিন্তু যারা আমার কথা মানবে না, তারা আমার দলের থাকবে না। তবে আমি তাদের জন্য বদদু‘আ করি না। তাদের বিষয়টা আমি আপনার উপরে ছেড়ে দিচ্ছি। আপনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। সুতরাং আপনি তাদেরকে হিদায়াত দিয়ে মাগফিরাতের ব্যবস্থাও করতে পারেন।
৩৭

رَبَّنَاۤ اِنِّیۡۤ اَسۡکَنۡتُ مِنۡ ذُرِّیَّتِیۡ بِوَادٍ غَیۡرِ ذِیۡ زَرۡعٍ عِنۡدَ بَیۡتِکَ الۡمُحَرَّمِ ۙ رَبَّنَا لِیُـقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ فَاجۡعَلۡ اَفۡئِدَۃً مِّنَ النَّاسِ تَہۡوِیۡۤ اِلَیۡہِمۡ وَارۡزُقۡہُمۡ مِّنَ الثَّمَرٰتِ لَعَلَّہُمۡ یَشۡکُرُوۡنَ ٣٧

রাব্বানা ইন্নী আছকানতুমিন যুররিইইয়াতী বিওয়া-দিন গাইরি যী ঝার ‘ইন ‘ইনদা বাইতিকাল মুহাররামি রাব্বানা-লিইউকীমুসসালা-তা ফাজ‘আল আফইদাতাম মিনান্নাছি তাহবীইলাইহিম ওয়ারঝুকহুম মিনাছছামারা-তি লা‘আল্লাহুম ইয়াশকুরূন।

হে আমার প্রতিপালক! আমি আমার কতিপয় ৩০ সন্তানকে আপনার সম্মানিত ঘরের আশেপাশে এমন এক উপত্যকায় এনে বসবাস করিয়েছি, যেখানে কোন ক্ষেত-খামার নেই। হে আমাদের প্রতিপালক! (এটা আমি এজন্য করেছি) যাতে তারা নামায কায়েম করে। সুতরাং মানুষের অন্তরে তাদের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি করে দিন এবং তাদেরকে ফলমূলের জীবিকা দান করুন, ৩১ যাতে তারা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে।

তাফসীরঃ

৩০. আল্লাহ তাআলার কাছে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের দু‘আ পরিপূর্ণরূপে কবুল হয়েছে, যে কারণে মক্কা মুকাররমার প্রতি সারা বিশ্বের সকল মুসলিমের হৃদয় থাকে অনুরাগ-উদ্বেলিত। হজ্জের মওসুমে তার নিদর্শন কার না চোখে পড়ে? কত দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ কত কষ্ট করে এই জল-বৃক্ষহীন ভূমিতে ছুটে আসে। হজ্জের মওসুম ছাড়া অন্য সময়েও অসংখ্য মানুষ উমরা ও অন্যান্য ইবাদতের জন্য এখানে ভিড় করে। একবার যে এখানে আসে তার বারবার আসার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। আর এখানে ফলমূল যে পরিমাণ পাওয়া যায় তা আরেক বিস্ময়। দুনিয়ার সব রকম ফলের সাংবাৎসরিক সমাহার পবিত্র মক্কার মত আর কোথায় আছে? অথচ এখানকার ভূমিতে নিজস্ব কোন ফল কখনও উৎপন্ন হয় না।
৩৮

رَبَّنَاۤ اِنَّکَ تَعۡلَمُ مَا نُخۡفِیۡ وَمَا نُعۡلِنُ ؕ وَمَا یَخۡفٰی عَلَی اللّٰہِ مِنۡ شَیۡءٍ فِی الۡاَرۡضِ وَلَا فِی السَّمَآءِ ٣٨

রাব্বানাইন্নাকা তা‘লামুমা-নুখফী ওয়ামা-নু‘লিনু ওয়ামা-ইয়াখফা-‘আলাল্লা-হি মিন শাইইন ফিল আরদিওয়ালা-ফিছছামাই।

হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা যে কাজ লুকিয়ে করি তাও আপনি জানেন এবং যে কাজ প্রকাশ্যে করি তাও। পৃথিবীতে যা আছে তার কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না এবং আকাশে যা কিছু আছে তাও না।
৩৯

اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡ وَہَبَ لِیۡ عَلَی الۡکِبَرِ اِسۡمٰعِیۡلَ وَاِسۡحٰقَ ؕ اِنَّ رَبِّیۡ لَسَمِیۡعُ الدُّعَآءِ ٣٩

আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযী ওয়াহাবালী ‘আলাল কিবারি ইছমা-‘ঈলা ওয়া ইছহা-ক ইন্না রাববী লাছামী‘উদদু‘আই।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে বৃদ্ধ বয়সে ইসমাঈল ও ইসহাক (-এর মত পুত্র) দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অত্যধিক দু‘আ শ্রবণকারী।
৪০

رَبِّ اجۡعَلۡنِیۡ مُقِیۡمَ الصَّلٰوۃِ وَمِنۡ ذُرِّیَّتِیۡ ٭ۖ رَبَّنَا وَتَقَبَّلۡ دُعَآءِ ٤۰

রাব্বিজ ‘আলনী মুকীমাসসালা-তি ওয়া মিন যুররিইইয়াতী রাব্বানা-ওয়া তাকাব্বাল দু‘আই।

হে আমার প্রতিপালক! আমাকেও নামায কায়েমকারী বানিয়ে দিন এবং আমার আওলাদের মধ্য হতেও (এমন লোক সৃষ্টি করুন, যারা নামায কায়েম করবে)। হে আমার প্রতিপালক! এবং আমার দু‘আ কবুল করে নিন।
৪১

رَبَّنَا اغۡفِرۡ لِیۡ وَلِوَالِدَیَّ وَلِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ یَوۡمَ یَقُوۡمُ الۡحِسَابُ ٪ ٤١

রাব্বানাগফিরলী ওয়া লিওয়ালিদাইয়া ওয়ালিলমু’মিনীনা ইয়াওমা ইয়াকূমুল হিছা-ব।

হে আমার প্রতিপালক! যে দিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে, সে দিন আমাকে, আমার পিতা-মাতা ৩২ ও সকল ঈমানদারকে ক্ষমা করুন।

তাফসীরঃ

৩২. এখানে কারও খটকা লাগতে পারে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পিতা আযর তো ছিল কাফের। তা সত্ত্বেও তিনি তার মাগফিরাতের জন্য দু‘আ করলেন কিভাবে? এর উত্তর এই যে, হতে পারে তিনি যখন এ দু‘আ করেছিলেন, তখন কুফর অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটা সম্পর্কে তিনি অবহিত ছিলেন না। সুতরাং তাঁর দু‘আর অর্থ ছিল, আপনি তাকে ঈমানের তাওফীক দিন, যাতে তা তার মাগফিরাত লাভের কারণ হয়ে যায়। আবার এ ব্যাখ্যাও হতে পারে যে, তখনও পর্যন্ত তাঁকে তার মুশরিক পিতার জন্য দু‘আ করতে নিষেধ করা হয়নি।
৪২

وَلَا تَحۡسَبَنَّ اللّٰہَ غَافِلًا عَمَّا یَعۡمَلُ الظّٰلِمُوۡنَ ۬ؕ  اِنَّمَا یُؤَخِّرُہُمۡ لِیَوۡمٍ تَشۡخَصُ فِیۡہِ الۡاَبۡصَارُ ۙ ٤٢

ওয়ালা-তাহছাবান্নাল্লা-হা গা-ফিলান ‘আম্মা-ইয়া‘মালুজ্জা-লিমূনা ইন্নামাইউআখখিরুহুম লিইয়াওমিন তাশখাসুফীহিল আবসা-র ।

তুমি কিছুতেই মনে করো না জালিমগণ যা-কিছু করছে আল্লাহ সে সম্পর্কে বেখবর। ৩৩ তিনি তো তাদেরকে সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দিচ্ছেন, যে দিন চক্ষুসমূহ থাকবে বিস্ফারিত।

তাফসীরঃ

৩৩. পূর্বে বলা হয়েছিল, জালেমগণ আল্লাহ তাআলার নি‘আমতের অকৃতজ্ঞতা করে নিজ সম্প্রদায়কে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে। কারও মনে খটকা জাগতে পারত, দুনিয়ায় তো তাদেরকে ক্রমশ উন্নতি লাভ করতেই দেখা যাচ্ছে। এ আয়াতসমূহে তার সমাধান দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ঢিল দিয়ে রেখেছেন। পরিশেষে বিভীষিকাময় এক শাস্তিতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে। তখন তাদের ভীতি-বিহ্বলতার যে অবস্থা হবে তা অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভাষায়, সালংকার বাকশৈলীতে ব্যক্ত করা হয়েছে, যার আবেদন তরজমার মাধ্যমে অন্য কোন ভাষায় প্রতিস্থাপন সম্ভব নয়। যদিও এটাকে সরাসরি মক্কার কাফেরদের পরিণাম হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, কিন্তু এর ভাষা যেহেতু সাধারণ, তাই যে-কোনও জালেম সম্প্রদায়ের খুব বাড়-বাড়ন্ত অবস্থা চোখে পড়বে, তাদের সম্পর্কেই এ আয়াত প্রযোজ্য হবে।
৪৩

مُہۡطِعِیۡنَ مُقۡنِعِیۡ رُءُوۡسِہِمۡ لَا یَرۡتَدُّ اِلَیۡہِمۡ طَرۡفُہُمۡ ۚ  وَاَفۡـِٕدَتُہُمۡ ہَوَآءٌ ؕ ٤٣

মুহতি‘ঈনা মুকনি‘ঈ রুউছিহিম লা-ইয়ারতাদ্দুইলাইহিম তারফুহুম ওয়া আফইদাতুহুম হাওয়াউ।

তারা মাথা উপর দিকে তুলে দৌড়াতে থাকবে। তাদের দৃষ্টি পলক ফেলার জন্য ফিরে আসবে না। ৩৪ আর (ভীতি বিহ্বলতার কারণে) তাদের প্রাণ উড়ে যাওয়ার উপক্রম করবে।

তাফসীরঃ

৩৪. অর্থাৎ, তাদের সামনে যে ভয়াল পরিণাম দেখা দেবে, সে কারণে তারা একই দিকে অপলক তাকিয়ে থাকবে। দুনিয়ায় চোখে পলক দেওয়ার যে শক্তি ছিল, সে দিন সে শক্তি তাদের ফিরে আসবে না।
৪৪

وَاَنۡذِرِ النَّاسَ یَوۡمَ یَاۡتِیۡہِمُ الۡعَذَابُ فَیَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا رَبَّنَاۤ اَخِّرۡنَاۤ اِلٰۤی اَجَلٍ قَرِیۡبٍ ۙ  نُّجِبۡ دَعۡوَتَکَ وَنَتَّبِعِ الرُّسُلَ ؕ  اَوَلَمۡ تَکُوۡنُوۡۤا اَقۡسَمۡتُمۡ مِّنۡ قَبۡلُ مَا لَکُمۡ مِّنۡ زَوَالٍ ۙ ٤٤

ওয়াআনযিরিন্না-ছা ইয়াওমা ইয়া’তীহিমুল ‘আযা-বুফাইয়াকূলুল্লাযীনা জালামূ রাব্বানাআখখিরনাইলাআজালিন কারীবিন নুজিব দা‘ওয়াতাকা ওয়া নাত্তাবি‘ইররুছুলা আওয়ালাম তাকূনূআকছামতুম মিন কাবলুমা-লাকুম মিন ঝাওয়া-ল।

এবং (হে নবী!) তুমি মানুষকে সেই দিন সম্পর্কে সতর্ক কর, যেদিন তাদের উপর আযাব আপতিত হবে আর তখন জালেমগণ বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে অল্পকালের জন্য সুযোগ দিন, তাহলে আমরা আপনার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলগণের অনুসরণ করব। ৩৫ (তখন তাদেরকে বলা হবে) আরে, তোমরা কি কসম করে বলনি তোমাদের কোন লয় নেই?

তাফসীরঃ

৩৫. তাদের একথা মৃত্যুকালেও হতে পারে কিংবা কিয়ামতেও হতে পারে, মৃত্যুকালে হলে এর অর্থ হল, মৃত্যুর অসহনীয় যন্ত্রণা দেখে তারা বলবে, আমাদেরকে আরও কিছুদিন দুনিয়ায় থাকার সুযোগ দিন। আমরা ওয়াদা করছি, আমরা দীন ও ঈমান কবুল করে নিজেদেরকে শুধরে নেব, যেমন সূরা মুমিনুনে আছে, যখন তাদের কারও মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন সে বলে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে পুনরায় প্রেরণ কর, যাতে আমি সৎকর্ম করতে পারি’। (সূরা মুমিনুন ২৩ : ৯৯-১০০) এবং সূরা মুনাফিকূনে আছে, ‘মৃত্যু আসলে সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক, আমাকে আরও কিছুকালের জন্য অবকাশ দিলে আমি সদাকা দিতাম এবং সৎর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। (সূরা মুনাফিকূন ৬৩ : ১১) আর এটা যদি তাদের কিয়ামত দিবসের কথা হয় তবে এর অর্থ হবে, আমাদের কিছুদিনের জন্য ফের দুনিয়ায় পাঠিয়ে দিন আমরা ওয়াদা করছি আপনার অনুগত হয়ে চলব, যেমন সূরা সাজদায় আছে, ‘তুমি যদি দেখতে, যখন অপরাধীরা তাদের প্রতিপালকের সামনে অধোবদন হয়ে বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা দেখলাম ও শুনলাম। এখন তুমি আমাদের ফের পাঠাও আমরা সৎকাজ করব।’ (সূরা সাজদা ৩২ : ১২) -অনুবাদক
৪৫

وَّسَکَنۡتُمۡ فِیۡ مَسٰکِنِ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ وَتَبَیَّنَ لَکُمۡ کَیۡفَ فَعَلۡنَا بِہِمۡ وَضَرَبۡنَا لَکُمُ الۡاَمۡثَالَ ٤٥

ওয়া ছাকানতুম ফী মাছা-কিনিল্লাযীনা জালামূআনফুছাহুম ওয়া তাবাইইয়ানা লাকুম কাইফা ফা‘আলনা-বিহিম ওয়াদারাবনা-লাকুমুল আমছা-ল।

যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, তাদের বাসভূমিতে তোমরা থেকেছিলে এবং তাদের সঙ্গে আমি কি আচরণ করেছি তাও তোমাদের কাছে প্রকাশ পেয়েছিল আর তোমাদের সামনে দৃষ্টান্তও পেশ করেছিলাম।
৪৬

وَقَدۡ مَکَرُوۡا مَکۡرَہُمۡ وَعِنۡدَ اللّٰہِ مَکۡرُہُمۡ ؕ وَاِنۡ کَانَ مَکۡرُہُمۡ لِتَزُوۡلَ مِنۡہُ الۡجِبَالُ ٤٦

ওয়া কাদ মাকারূমাকরাহুম ওয়া ‘ইনদাল্লা-হি মাকরুহুম ওয়া ইন কা-না মাকরুহুম লিতাঝূলা মিনহুল জিবা-ল।

তারা তাদের সব রকম চাল চেলেছিল, কিন্তু আল্লাহর কাছে তাদের সমস্ত চাল ব্যর্থ করারও ব্যবস্থা ছিল, হোক না তাদের চালসমূহ এমন (শক্তিশালী), যাতে পাহাড়ও টলে যায়।
৪৭

فَلَا تَحۡسَبَنَّ اللّٰہَ مُخۡلِفَ وَعۡدِہٖ رُسُلَہٗ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ عَزِیۡزٌ ذُو انۡتِقَامٍ ؕ ٤٧

ফালা-তাহছাবান্নাল্লা-হা মুখলিফা ওয়া‘দিহী রুছুলাহূ ইন্নাল্লা-হা ‘আঝীঝুন যুনতিকা-ম ।

সুতরাং আল্লাহ সম্পর্কে কখনও এমন ধারণা মনে আসতে দেবে না যে, তিনি নিজ রাসূলদেরকে দেওয়া ওয়াদার বিপরীত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, (এবং) শাস্তিদাতা।
৪৮

یَوۡمَ تُبَدَّلُ الۡاَرۡضُ غَیۡرَ الۡاَرۡضِ وَالسَّمٰوٰتُ وَبَرَزُوۡا لِلّٰہِ الۡوَاحِدِ الۡقَہَّارِ ٤٨

ইয়াওমা তুবাদ্দালুল আরদুগাইরাল আরদি ওয়াছছামা-ওয়া-তুওয়া বারাঝূলিল্লা-হিল ওয়াহিদিল কাহহা-র।

সেই দিন, যে দিন এ পৃথিবীকে অন্য এক পৃথিবী দ্বারা বদলে দেওয়া হবে এবং আকাশমণ্ডলীকেও (বদলে দেওয়া হবে) এবং সকলেই এক পরাক্রমশালী আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে।
৪৯

وَتَـرَی الۡمُجۡرِمِیۡنَ یَوۡمَئِذٍ مُّقَرَّنِیۡنَ فِی الۡاَصۡفَادِ ۚ ٤٩

ওয়া তারাল মুজরিমীনা ইয়াওমাইযিম মুকাররানীনা ফিল আসফা-দ ।

এবং সে দিন তুমি অপরাধীদেরকে শিকলে কষে বাঁধা অবস্থায় দেখবে।
৫০

سَرَابِیۡلُہُمۡ مِّنۡ قَطِرَانٍ وَّتَغۡشٰی وُجُوۡہَہُمُ النَّارُ ۙ ٥۰

ছারা-বীলুহুম মিন কাতিরা-নিওঁ ওয়া তাগশা-উজূহাহুমুন্না-র।

তাদের জামা হবে আলকাতরার এবং আগুন তাদের মুখমণ্ডল আচ্ছন্ন করবে-
৫১

لِیَجۡزِیَ اللّٰہُ کُلَّ نَفۡسٍ مَّا کَسَبَتۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ سَرِیۡعُ الۡحِسَابِ ٥١

লিইয়াজঝিয়াল্লা-হু কুল্লা নাফছিম মা-কাছাবাত ইন্নাল্লা-হা ছারী‘উল হিছা-ব।

এইজন্য যে, আল্লাহ প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিফল দেবেন। আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
৫২

ہٰذَا بَلٰغٌ لِّلنَّاسِ وَلِیُنۡذَرُوۡا بِہٖ وَلِیَعۡلَمُوۡۤا اَنَّمَا ہُوَ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ وَّلِیَذَّکَّرَ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ ٪ ٥٢

হা-যা-বালা-গুল লিন্না-ছি ওয়ালিইউনযারূবিহী ওয়া লিইয়া‘লামূআন্নামা-হুওয়া ইলাহুওঁ ওয়াহিদুওঁ ওয়ালিইয়াযযাক্কারা উলুল আলবা-ব।

এটা সমস্ত মানুষের জন্য এক বার্তা এবং এটা এই জন্য দেওয়া হচ্ছে, যাতে এর মাধ্যমে তাদেরকে সতর্ক করা হয় এবং যাতে তারা জানতে পারে সত্য মাবুদ কেবল একজনই এবং যাতে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ উপদেশ গ্রহণ করে। ৩৬

তাফসীরঃ

৩৬. এ আয়াতে কুরআন মাজীদের চারটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে (ক) এটা এমন এক বার্তা, যা মানুষের উপদেশ বাণী হিসেবে যথেষ্ট। কেউ যদি একনিষ্ঠ মনে এ কিতাব পাঠ করে, তবে তার অন্তরে এর তাছীর হবেই। (খ) এটি এমন এক সতর্কবাণী, যা দ্বারা মানুষকে দোজাহানের ক্ষতি থেকে সতর্কীকরণের পূর্ণতাবিধান হয়ে গেছে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী নবীগণের মাধ্যমে যে সতর্কীকরণের সিলসিলা চালু করা হয়েছিল তা পরিপূর্ণতা লাভ করেছে এ গ্রন্থের মাধ্যমে। এরপর আর নতুন কোন সতর্কবাণীর প্রয়োজন নেই। (গ) এর দ্বারা চিন্তা-চেতনার পূর্ণতা বিধান করা হয়েছে। মানুষ একাগ্র মনে এ কিতাব পাঠ করলে তার চিন্তা-চেতনা তাওহীদের দিকে ধাবিত হবে এবং চূড়ান্ত পর্বে সে স্বীকার করতে বাধ্য হবে যে, মাবুদ কেবল একজনই এবং নিজেকে তার দাসত্বে লীন করে দেওয়ার মধ্যেই জীবনের সার্থকতা। (ঘ) নিজেকে মুত্তাকী-পরহেযগার বানানো তথা মননে-কর্মে নিজেকে উৎকর্ষমণ্ডিত করে তোলার সর্বোত্তম পথ নির্দেশ। আয়াতের শেষবাক্যে সেদিকেই ইঙ্গিত। -অনুবাদক
সূরা ইব্রাহীম | মুসলিম বাংলা