সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আর রা'দ (الرّعد) | বজ্রপাত

মাদানী

মোট আয়াতঃ ৪৩

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

الٓـمّٓرٰ ۟ تِلۡکَ اٰیٰتُ الۡکِتٰبِ ؕ وَالَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ مِنۡ رَّبِّکَ الۡحَقُّ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ١

আলিফ লাম মী-ম রা- তিলকা আ-য়া-তুল কিতা-বি ওয়াল্লাযীউনঝিলা ইলাইকা মির রাব্বিকাল হাক্কুওয়ালা-কিন্না আকছারান্না-ছি লা-ইউ’মিনূন।

আলিফ-লাফ-মীম-রা। এগুলো (আল্লাহর) কিতাবের আয়াত, (হে নবী!) তোমার প্রতি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা-কিছু নাযিল করা হয়েছে, তা সত্য কিন্তু অধিকাংশ লোক ঈমান আনছে না।

তাফসীরঃ

১. সূরা বাকারার শুরুতে বলা হয়েছে যে, এগুলোকে ‘আল-হুরূফুল মুকাত্তা‘আত’ বলে। এর প্রকৃত মর্ম আল্লাহ তাআলা ছাড়া কেউ জানে না।

اَللّٰہُ الَّذِیۡ رَفَعَ السَّمٰوٰتِ بِغَیۡرِ عَمَدٍ تَرَوۡنَہَا ثُمَّ اسۡتَوٰی عَلَی الۡعَرۡشِ وَسَخَّرَ الشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ ؕ کُلٌّ یَّجۡرِیۡ لِاَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ یُدَبِّرُ الۡاَمۡرَ یُفَصِّلُ الۡاٰیٰتِ لَعَلَّکُمۡ بِلِقَآءِ رَبِّکُمۡ تُوۡقِنُوۡنَ ٢

আল্লা-হুল্লাযীরাফা‘আছছামা-ওয়া-তি বিগাইরি ‘আমাদিন তারাওনাহা- ছু ম্মাছ তাওয়া ‘আলাল ‘আরশি ওয়া ছাখখারাশশামছা ওয়াল কামারা কুল্লুইঁ ইয়াজরী লিআজালিম মুছাম্মা- ইউদাব্বিরুল আমরা ইউফাসসিলুল আ-য়া-তি লা‘আল্লাকুম বিলিকাই রাব্বিকুম তূকিনূন।

তিনিই আল্লাহ, যিনি আকাশমণ্ডলীকে উঁচুতে স্থাপন করেছেন এমন স্তম্ভ ছাড়া, যা তোমরা দেখতে পাবে। অতঃপর তিনি আরশে ‘ইসতিওয়া’ গ্রহণ করেন। এবং সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রতিটি বস্তু এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত আবর্তন করে। তিনি যাবতীয় বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি এসব নিদর্শন সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাস করতে পার যে, (একদিন) তোমাদেরকে স্বীয় প্রতিপালকের সঙ্গে মিলিত হতে হবে।

তাফসীরঃ

২. অর্থাৎ, আকাশমণ্ডলী তোমাদের চোখে দেখার মত কোন স্তম্ভের উপর স্থাপিত নয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর অপার শক্তিরই সহায়তায় তা দাঁড় করিয়ে রেখেছেন। আয়াতের এ ব্যাখ্যা হযরত মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণিত আছে (রূহুল মাআনী, ১৩ খণ্ড, ১১০ পৃষ্ঠা)।

وَہُوَ الَّذِیۡ مَدَّ الۡاَرۡضَ وَجَعَلَ فِیۡہَا رَوَاسِیَ وَاَنۡہٰرًا ؕ وَمِنۡ کُلِّ الثَّمَرٰتِ جَعَلَ فِیۡہَا زَوۡجَیۡنِ اثۡنَیۡنِ یُغۡشِی الَّیۡلَ النَّہَارَ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّتَفَکَّرُوۡنَ ٣

ওয়া হুওয়াল্লাযী মাদ্দাল আরদা ওয়া জা‘আলা ফীহা-রাওয়া-ছিয়া ওয়াআনহা-রাওঁ ওয়া মিন কুল্লিছছামারা-তি জা‘আলা ফীহা- ঝাওজাইনিছনাইনি ইউগশিল লাইলান্নাহা-র ইন্না ফী যা-লিকা লা আ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইয়াতাফাক্কারূন।

তিনিই সেই সত্তা, যিনি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন, তাতে পাহাড় ও নদ-নদী সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে প্রত্যেক প্রকার ফল জোড়ায়-জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। তিনি দিনকে রাতের চাদরে আবৃত করেন। নিশ্চয়ই এসব বিষয়ের মধ্যে সেই সকল লোকের জন্য নিদর্শন আছে, যারা চিন্তা-ভাবনা করে।

তাফসীরঃ

৬. কুরআন মাজীদের এ বর্ণনা দ্বারা বোঝা যাচ্ছে উদ্ভিদের ভেতরও স্ত্রী-পুরুষের যুগল আছে। এক কালে এ তথ্য মানুষের জানা ছিল না যে, স্ত্রী-পুরুষের এই যুগলীয় ব্যবস্থা প্রত্যেক গুল্ম ও বৃক্ষের মধ্যেও কার্যকর। আধুনিক বিজ্ঞান মানুষের সামনে এ রহস্য উন্মোচিত করেছে।

وَفِی الۡاَرۡضِ قِطَعٌ مُّتَجٰوِرٰتٌ وَّجَنّٰتٌ مِّنۡ اَعۡنَابٍ وَّزَرۡعٌ وَّنَخِیۡلٌ صِنۡوَانٌ وَّغَیۡرُ صِنۡوَانٍ یُّسۡقٰی بِمَآءٍ وَّاحِدٍ ۟ وَنُفَضِّلُ بَعۡضَہَا عَلٰی بَعۡضٍ فِی الۡاُکُلِ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّعۡقِلُوۡنَ ٤

ওয়া ফিল আরদিকিতা‘উম মুতাজা-বিরা-তুওঁ ওয়া জান্না-তুম মিন আ‘না-বিওঁ ওয়া ঝার‘উওঁ ওয়া নাখীলুন সিনওয়া-নুওঁ ওয়া গাইরু সিনওয়া-নিইঁ ইউছকা- বিমাইওঁ ওয়াহিদিওঁ ওয়া নুফাদদিলুবা‘দাহা- ‘আলা-বা‘দিন ফিল উকুলি ইন্না ফী যালিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইয়া‘কিলূন।

আর পৃথিবীতে আছে বিভিন্ন ভূখণ্ড, যা পাশাপাশি অবস্থিত। আর আছে আঙ্গুরের বাগান শস্য ক্ষেত্র ও খেজুর গাছ, যার মধ্যে কতক একাধিক কা-বিশিষ্ট এবং কতক এক কা-বিশিষ্ট। সব একই পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয়। আমি স্বাদে তার কতককে কতকের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই এসব বিষয়ের মধ্যে সেই সকল লোকের জন্য নিদর্শন আছে, যারা বুদ্ধিকে কাজে লাগায়।

তাফসীরঃ

৭. অর্থাৎ, কোন গাছে বেশি ফল ধরে কোন গাছে কম এবং কোন গাছের ফল বেশি স্বাদ এবং কোন গাছের ফল ততটা স্বাদের নয়।

وَاِنۡ تَعۡجَبۡ فَعَجَبٌ قَوۡلُہُمۡ ءَاِذَا کُنَّا تُرٰبًا ءَاِنَّا لَفِیۡ خَلۡقٍ جَدِیۡدٍ ۬ؕ اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِرَبِّہِمۡ ۚ وَاُولٰٓئِکَ الۡاَغۡلٰلُ فِیۡۤ اَعۡنَاقِہِمۡ ۚ وَاُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ ۚ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ٥

ওয়া ইন তা‘জাব ফা‘আজাবুন কাওলুহুম আইযা-কুন্না-তুরা-বান আইন্না-লাফী খালকিন জাদীদিন উলাইকাল্লাযীনা কাফারু বিরাব্বিহিম ওয়া উলাইকাল আগলা-লু ফীআ‘না-কিহিম ওয়া উলাইকা আসহা-বুন্না-রি হুম ফীহা- খা-লিদূ ন।

(ওই কাফেরদের উপর) যদি তুমি বিস্মিত হও, তবে তাদের এ উক্তি (বাস্তবিকই) বিস্ময়ের ব্যাপার যে, আমরা মাটিতে পরিণত হওয়ার পরও কি সত্যি সত্যিই নতুনভাবে জীবন লাভ করব? এরাই তারা, যারা নিজেদের প্রতিপালক (এর শক্তি)কে অস্বীকার করে এবং এরাই তারা, যাদের গলদেশে লাগানো রয়েছে বেড়ি। ১০ তারা জাহান্নামবাসী, যাতে তারা সর্বদা থাকবে।

তাফসীরঃ

৯. কারও গলায় বেড়ি পরানো থাকলে তার পক্ষে ডানে-বামে ফিরে তাকানো সম্ভব হয় না। ঠিক সে রকমই এসব কাফের সত্য দর্শন ও সত্যের প্রতি ধ্যান-মন দেওয়ার তাওফীক থেকে বঞ্চিত (রূহুল মাআনী)। তাছাড়া গলায় বেড়ি থাকা মূলত দাসত্বের আলামত। ইসলাম-পূর্ব সমাজে দাসদের প্রতি এ রকম আচরণ করা হত যে, তাদের গলায় বেড়ি পরিয়ে রাখা হত। সুতরাং আয়াতের ইশারা এদিকেও হতে পারে যে, ওই সব কাফেরের গলদেশে খেয়াল-খুশী ও ইন্দ্রিয়পরবশতা এবং শয়তানের দাসত্বের বেড়ি পরানো রয়েছে। এ কারণেই তারা নিরপেক্ষভাবে কোন কিছু চিন্তা-ভাবনা করার ক্ষমতা রাখে না। উপরিউক্ত তাফসীর একদল মুফাসসিরের। অর্থাৎ, তাদের মতে এ বেড়ির সম্পর্ক দুনিয়ার জীবনের সাথে। অপর একদল মুফাসসিরের মতে এ বাক্যের অর্থ হল, আখেরাতে তাদের গলায় বেড়ি লাগিয়ে দেওয়া হবে।

وَیَسۡتَعۡجِلُوۡنَکَ بِالسَّیِّئَۃِ قَبۡلَ الۡحَسَنَۃِ وَقَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِہِمُ الۡمَثُلٰتُ ؕ وَاِنَّ رَبَّکَ لَذُوۡ مَغۡفِرَۃٍ لِّلنَّاسِ عَلٰی ظُلۡمِہِمۡ ۚ وَاِنَّ رَبَّکَ لَشَدِیۡدُ الۡعِقَابِ ٦

ওয়া ইয়াছতা‘জিলূনাকা বিছছাইয়িআতি কাবলাল হাছানাতি ওয়া কাদ খালাত মিন কাবলিহিমুল মাছুলা-তু ওয়া ইন্না রাব্বাকা লাযূমাগফিরাতিললিন্না-ছি ‘আলাজু লমিহিম ওয়া ইন্না রাব্বাকা লাশাদীদুল ‘ইকা-ব।

তারা ভালো অবস্থার (কাল শেষ হওয়ার) আগে মন্দ অবস্থার জন্য তাড়াহুড়া করছে। ১১ অথচ তাদের পূর্বে এরূপ লাঞ্ছনাকর শাস্তির বহু ঘটনা গত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে মানুষের সীমালংঘন সত্ত্বেও তাদের প্রতি তোমার প্রতিপালক ক্ষমাপ্রবণ এবং এটাও সত্য যে, তার শাস্তি বড় কঠিন। ১২

তাফসীরঃ

১১. অর্থাৎ, মানুষের দ্বারা তাদের অজ্ঞাতসারে যেসব ছোট ছোট গুনাহ হয়ে যায় কিংবা বড় গুনাহ হয়ে গেলেও তারপর সে তাওবা করে নেয়, আল্লাহ তাআলা নিজ দয়ায় তা ক্ষমা করে দেন। সীমালংঘন দ্বারা এসব গুনাহ বোঝানো হয়েছে। কিন্তু কুফর, শিরক এবং আল্লাহ তাআলার সঙ্গে জেদ ও হঠকারিতাপূর্ণ আচরণের ব্যাপারটা এমন যে, এর জন্য আল্লাহর তাআলার আযাব অতি কঠিন। কাজেই আল্লাহ তাআলা অতি ক্ষমাশীল একথা চিন্তা করে নিশ্চিন্ত হয়ে যাওয়া উচিত নয়। ভাবা উচিত নয় যে, তিনি ঢালাওভাবে সব গুনাহই অবশ্যই ক্ষমা করে দেবেন।

وَیَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ عَلَیۡہِ اٰیَۃٌ مِّنۡ رَّبِّہٖ ؕ  اِنَّمَاۤ اَنۡتَ مُنۡذِرٌ وَّلِکُلِّ قَوۡمٍ ہَادٍ ٪ ٧

ওয়া ইয়াকূলুল্লাযীনা কাফারূ লাওলাউনঝিলা ‘আলাইহি আ-য়াতুম মির রাব্বিহী ইন্নামা আনতা মুনযিরুওঁ ওয়া লিকুল্লি কাওমিন হা-দ ।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে তারা বলে, আচ্ছা! তার উপর (অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর) তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে কোন মুজিযা কেন অবতীর্ণ করা হল না? ১৩ (হে নবী!) প্রকৃত ব্যাপার এই যে, তুমি তো কেবল (বিপদ সম্পর্কে) সতর্ককারী। প্রত্যেক জাতির জন্যই হিদায়াতের পথ দেখানোর কেউ না কেউ ছিল।

তাফসীরঃ

১৩. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বহু মুজিযাই দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু মক্কার কাফেরগণ তাঁর কাছে নিত্য-নতুন মুজিযার দাবী জানাত। তাদের কোন দাবী পূরণ না হলে তখন তারা যে মন্তব্য করত, এ আয়াতে সেটাই বর্ণিত হয়েছে। তাদের মন্তব্যের জবাবে কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো নবী। তিনি আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা ছাড়া নিজের পক্ষ থেকে কোন মুজিযা দেখাতে পারেন না। আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক জাতির কাছেই এরূপ নবী পাঠিয়েছেন। তাদের সকলের অবস্থা এ রকমই ছিল।

اَللّٰہُ یَعۡلَمُ مَا تَحۡمِلُ کُلُّ اُنۡثٰی وَمَا تَغِیۡضُ الۡاَرۡحَامُ وَمَا تَزۡدَادُ ؕ وَکُلُّ شَیۡءٍ عِنۡدَہٗ بِمِقۡدَارٍ ٨

আল্লা-হু ইয়া‘লামুমা-তাহমিলুকুল্লুউনছা-ওয়ামা-তাগীদুল আরহা-মুওয়ামা-তাঝদা-দু ওয়া কুল্লুশাইইন ‘ইনদাহূবিমিকদা-র।

প্রত্যেক নারী যে গর্ভ ধারণ করে আল্লাহ তা জানেন এবং মাতৃগর্ভে যা কমে ও বাড়ে তাও ১৪ এবং তার নিকট প্রত্যেক জিনিসের এক নির্দিষ্ট পরিমাণ আছে। ১৫

তাফসীরঃ

১৪. অর্থাৎ নিজ সর্বব্যাপী জ্ঞান অনুযায়ী তিনি প্রত্যেকটি জিনিসকে প্রতিটি অবস্থায় এক নির্দিষ্ট পরিমাণ ও পরিমাপ অনুযায়ী রাখেন। এমনিভাবে তিনি নবীগণের নবুওয়াতের সমর্থনে যেসব নিদর্শন অবতীর্ণ করেছেন তাতেও পরিমাণ-পরিমাপের দিকে লক্ষ রেখেছেন। মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি ও যোগ্যতা অনুসারে যে পরিমাণ নিদর্শন দেখানো দরকার ছিল, ঠিক সেই পরিমাণেই তা দেখানো হয়েছে ও দেখানো হয়ে থাকে। কাজেই এ ব্যাপারে নিজেদের পক্ষ হতে কোন নিদর্শনের ফরমায়েশ করার অবকাশ নেই। -অনুবাদক

عٰلِمُ الۡغَیۡبِ وَالشَّہَادَۃِ الۡکَبِیۡرُ الۡمُتَعَالِ ٩

‘আ-লিমুল গাইবি ওয়াশশাহা-দাতিল কাবীরুল মুতা‘আ-ল।

তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সব কিছুই জানেন। তাঁর সত্তা অনেক বড়, তাঁর মর্যাদা অতি উচ্চ।
১০

سَوَآءٌ مِّنۡکُمۡ مَّنۡ اَسَرَّ الۡقَوۡلَ وَمَنۡ جَہَرَ بِہٖ وَمَنۡ ہُوَ مُسۡتَخۡفٍۭ بِالَّیۡلِ وَسَارِبٌۢ بِالنَّہَارِ ١۰

ছাওয়াউম মিনকুম মান আছাররাল কাওলা ওয়া মান জাহারা বিহী ওয়া মান হুওয়া মুছতাখফিম বিল্লাইলি ওয়া ছা-রিবুম বিন্নাহা-র।

তোমাদের মধ্যে কেউ চুপিসারে কথা বলুক বা উচ্চস্বরে, কেউ রাতের বেলা আত্মগোপন করুক বা দিনের বেলা চলাফেরা করুক, তারা সকলে (আল্লাহর জ্ঞানে) সমান।
১১

لَہٗ مُعَقِّبٰتٌ مِّنۡۢ بَیۡنِ یَدَیۡہِ وَمِنۡ خَلۡفِہٖ یَحۡفَظُوۡنَہٗ مِنۡ اَمۡرِ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یُغَیِّرُ مَا بِقَوۡمٍ حَتّٰی یُغَیِّرُوۡا مَا بِاَنۡفُسِہِمۡ ؕ وَاِذَاۤ اَرَادَ اللّٰہُ بِقَوۡمٍ سُوۡٓءًا فَلَا مَرَدَّ لَہٗ ۚ وَمَا لَہُمۡ مِّنۡ دُوۡنِہٖ مِنۡ وَّالٍ ١١

লাহূ মু‘আক্কিবা-তুম মিমবাইনি ইয়াদাইহি ওয়া মিনখালফিহী ইয়াহফাজূনাহূ মিন আমরিল্লাহি ইন্নাল্লা-হা লা-ইউগাইয়িরু মা-বিকাওমিন হাত্তা-ইউগাইয়িরূমা-বিআনফুছিহিম ওয়া ইযাআরা-দাল্লা-হু বিকাওমিন ছূআন ফালা-মারাদ্দা লাহূ ওয়ামা- লাহুম মিন দূ নিহী মিওঁ ওয়া-ল।

প্রত্যেকের সামনে পিছনে এমন প্রহরী (ফেরেশতা) নিযুক্ত আছে, যারা আল্লাহর নির্দেশে পালাক্রমে তার হেফাজত করে। ১৬ জেনে রেখ, আল্লাহ কোনও জাতির অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। ১৭ আল্লাহ যখন কোন জাতির উপর কোন বিপদ আনার ইচ্ছা করেন, তখন তা রদ করা সম্ভব নয়। আর তিনি ছাড়া তাদের কোন রক্ষাকর্তা থাকতে পারে না।

তাফসীরঃ

১৬. মানুষের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ফেরেশতা নিয়োজিত আছে বলে কারও এই ভুল ধারণা সৃষ্টি হতে পারত যে, আল্লাহ তাআলা যখন হেফাজতের এই ব্যবস্থা করে রেখেছেন, তখন আর এ নিয়ে মানুষের চিন্তা করার কোন দরকার নেই। সে নিশ্চিন্তে সব কাজ করতে পারে। এমনকি গুনাহ ও সওয়াবেরও বিচার করার প্রয়োজন নেই। কেননা ফেরেশতারাই সকল ক্ষেত্রে রক্ষা করবে। আয়াতের এ অংশে সেই ভুল ধারণা দূর করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, এমনিতে আল্লাহ তাআলা কোন জাতির ভালো অবস্থাকে মন্দ অবস্থা দ্বারা বদলে দেন না, কিন্তু তারা নিজেরাই যখন নাফরমানী করতে বদ্ধপরিকর হয়ে যায় এবং নিজেদের আমল-আখলাক পরিবর্তন করে ফেলে তখন তাদের উপর আল্লাহ তাআলার আযাব এসে যায়। সে আযাব আর কেউ রদ করতে পারে না। সুতরাং যে সকল ফেরেশতা হেফাজতের কাজে নিয়োজিত আছে, এরূপ ক্ষেত্রে তারাও কোন কাজে আসে না।
১২

ہُوَ الَّذِیۡ یُرِیۡکُمُ الۡبَرۡقَ خَوۡفًا وَّطَمَعًا وَّیُنۡشِیٴُ السَّحَابَ الثِّقَالَ ۚ ١٢

হুওয়াল্লাযী ইউরীকুমুল বারকাখাওফাওঁ ওয়াতআমাওঁ ওয়া ইউনশিউছছাহা-বাছছিক ল।

তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদেরকে বিজলীর চমক দেখান, যা দ্বারা তোমাদের (বজ্রপাতের) ভীতি দেখা দেয় এবং (বৃষ্টির) আশাও সঞ্চার হয় এবং তিনিই পানিবাহী মেঘ সৃষ্টি করেন।
১৩

وَیُسَبِّحُ الرَّعۡدُ بِحَمۡدِہٖ وَالۡمَلٰٓئِکَۃُ مِنۡ خِیۡفَتِہٖ ۚ  وَیُرۡسِلُ الصَّوَاعِقَ فَیُصِیۡبُ بِہَا مَنۡ یَّشَآءُ وَہُمۡ یُجَادِلُوۡنَ فِی اللّٰہِ ۚ  وَہُوَ شَدِیۡدُ الۡمِحَالِ ؕ ١٣

ওয়া ইউছাব বিহুর রা‘দুবিহামদিহী ওয়াল মালাইকাতুমিন খীফাতিহী ওয়া ইউরছিলুস সাওয়া-‘ইকা ফাইউসীবুবিহা- মাইঁ ইয়াশাউ ওয়া হুম ইউজা-দিলূনা ফিল্লা-হি ওয়া হুওয়া শাদীদুল মিহা -ল।

বজ্র তাঁরই তাসবীহ ও হামদ জ্ঞাপন করে ১৮ এবং তাঁর ভয়ে ফেরেশতাগণও (তাসবীহরত রয়েছে)। তিনিই গর্জমান বিজলী পাঠান তারপর যার উপর ইচ্ছা তাকে বিপদরূপে পতিত করেন। আর তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) অবস্থা এই যে, তারা আল্লাহ সম্বন্ধেই তর্ক-বিতর্ক করছে, অথচ তাঁর শক্তি অতি প্রচণ্ড।

তাফসীরঃ

১৮. ‘বজ্র কর্তৃক ‘তাসবীহ ও হামদ’ জ্ঞাপনের বিষয়টা প্রকৃত অর্থেও হতে পারে। সূরা বনী ইসরাঈলে সৃষ্টিজগতের প্রতিটি বস্তু সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা নিজ-নিজ পন্থায় আল্লাহ তাআলার হামদ ও তাসবীহ আদায় করে, কিন্তু মানুষ তাদের তাসবীহ বোঝে না (১৭ : ৪৪)। আবার এর এরূপ ব্যাখ্যাও হতে পারে যে, যে ব্যক্তিই মেঘের গর্জন, চমক এবং এর কারণ ও ফলাফল সম্পর্কে চিন্তা করবে সে দুনিয়ার দিকে দিকে পানি পৌঁছানোর এ বিস্ময়কর ব্যবস্থা দেখে মহান স্রষ্টা ও মালিকের প্রশংসা আদায় না করে থাকতে পারবে না। সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে উঠবে, কত মহান ও পবিত্র সেই সত্তা, যিনি এ সুনিপুণ ব্যবস্থা চালু করেছেন। তাছাড়া সে এ চিন্তার ফলে অবশ্যই এ সিদ্ধান্তে পৌঁছবে যে, যে সত্তা এ বিস্ময়কর ব্যবস্থা চালু করেছেন, তিনি সকল দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত ও পবিত্র। তার নিজ প্রভুত্বের জন্য কোন শরীক বা সাহায্যকারীর প্রয়োজন নেই। আর ‘তাসবীহ’-এর অর্থ এটাই।
১৪

لَہٗ دَعۡوَۃُ الۡحَقِّ ؕ وَالَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِہٖ لَا یَسۡتَجِیۡبُوۡنَ لَہُمۡ بِشَیۡءٍ اِلَّا کَبَاسِطِ کَفَّیۡہِ اِلَی الۡمَآءِ لِیَبۡلُغَ فَاہُ وَمَا ہُوَ بِبَالِغِہٖ ؕ وَمَا دُعَآءُ الۡکٰفِرِیۡنَ اِلَّا فِیۡ ضَلٰلٍ ١٤

লাহূদা‘ওয়াতুল হাক্কি ওয়াল্লাযীনা ইয়াদ‘ঊনা মিন দূ নিহী লা-ইয়াছতাজীবূনা লাহুম বিশাইইন ইল্লা- কাবা-ছিতিকাফ ফাইহি ইলাল মাই লিইয়াবলুগা-ফা-হু ওয়ামা-হুওয়া ব্বিা-লিগিহী ওয়ামা- দু‘আউল কা-ফিরীনা ইল্লা-ফী দালা-ল।

তাঁরই কাছে দু‘আ করা যথার্থ। ১৯ তারা তাঁকে ছেড়ে যাদেরকে (অর্থাৎ যেই দেব-দেবীদেরকে) ডাকে তারা তাদের দু‘আর কোনও জবাব দেয় না। তাদের দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির মত, যে পানির দিকে দু’হাত বাড়িয়ে আশা করে তা আপনিই তার মুখে পৌঁছে যাবে, অথচ তা কখনও নিজে-নিজে তার মুখে পৌঁছতে পারে না। আর (দেব-দেবীদের কাছে) কাফেরদের দু‘আ করার ফল এ ছাড়া আর কিছুই নয় যে, তা শুধু বৃথাই যাবে।

তাফসীরঃ

১৯. অর্থাৎ যিনি সর্বপ্রকার উপকার-অপকারের মালিক, সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান, দুআ তো তাঁরই কাছে করা উচিত। আল্লাহ ছাড়া এমন কে আছে, যে নিজের ও অন্যের উপকার করার ও ক্ষতি রোধ করার ক্ষমতা রাখে। তা যারা রাখে না, সেই অক্ষমদের কাছে প্রার্থনা করা সম্পূর্ণ অর্থহীন। -অনুবাদক
১৫

وَلِلّٰہِ یَسۡجُدُ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ طَوۡعًا وَّکَرۡہًا وَّظِلٰلُہُمۡ بِالۡغُدُوِّ وَالۡاٰصَالِ ٛ ١٥

ওয়ালিল্লা-হি ইয়াছজূদুমানফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদিতাও‘আওঁ ওয়াকারহাওঁ ওয়া জিলা-লুহুম বিল গুদুওবিওয়াল আ-সা-ল।(ছিজদাহ-২)

আর আল্লাহকেই সিজদা করে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টি, কেউ তো স্বেচ্ছায় এবং কেউ বাধ্য হয়ে। ২০ তাদের ছায়াও সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর সামনে সিজদায় লুটায়।

তাফসীরঃ

২০. এস্থলে সিজদা করা দ্বারা আল্লাহ তাআলার নির্দেশের সামনে আনুগত্য প্রকাশ বোঝানো হয়েছে। মুমিন তো স্বেচ্ছায়, সাগ্রহে তাঁর হুকুম শিরোধার্য করে এবং তার প্রতিটি ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকে। আর কাফের আল্লাহ তাআলার সৃষ্টিগত ফায়সালা মানতে বাধ্য। কাজেই তারা চাক বা না-চাক সৃষ্টিজগতে আল্লাহ তাআলা যা-কিছু ফায়সালা করেন তার সামনে তাদের মাথা নোয়ানো ছাড়া কোন উপায় নেই। উল্লেখ্য, এটি সিজদার আয়াত। এটি তিলাওয়াত করলে বা শুনলে সিজদা করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
১৬

قُلۡ مَنۡ رَّبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ قُلِ اللّٰہُ ؕ قُلۡ اَفَاتَّخَذۡتُمۡ مِّنۡ دُوۡنِہٖۤ اَوۡلِیَآءَ لَا یَمۡلِکُوۡنَ لِاَنۡفُسِہِمۡ نَفۡعًا وَّلَا ضَرًّا ؕ قُلۡ ہَلۡ یَسۡتَوِی الۡاَعۡمٰی وَالۡبَصِیۡرُ ۬ۙ اَمۡ ہَلۡ تَسۡتَوِی الظُّلُمٰتُ وَالنُّوۡرُ ۬ۚ اَمۡ جَعَلُوۡا لِلّٰہِ شُرَکَآءَ خَلَقُوۡا کَخَلۡقِہٖ فَتَشَابَہَ الۡخَلۡقُ عَلَیۡہِمۡ ؕ قُلِ اللّٰہُ خَالِقُ کُلِّ شَیۡءٍ وَّہُوَ الۡوَاحِدُ الۡقَہَّارُ ١٦

কুল মার রাব্বুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিকুল্লিলা-হু কুল আফাত্তাখাযতুম মিন দূ নিহীআওলিয়াআ লা-ইয়ামলিকূনা লিআনফুছিহিম নাফ‘আওঁ ওয়ালা-দাররান কুল হাল ইয়াছতাবিল আ‘মা-ওয়াল বাসীরু আম হাল তাছতাবিজজু লুমা-তুওয়াননূরু আম জা‘আলূলিল্লা-হি শুরাকাআ খালাকূকাখাল কিহী ফাতাশা-বাহাল খালকু ‘আলাইুহিম কুল্লিলা-হু খা-লিকুকুল্লি শাইয়িওঁ ওয়া হুওয়াল ওয়া-হিদুল কাহহা-র।

(হে নবী! কাফেরদেরকে) বল, কে তিনি, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালন করেন? বল, আল্লাহ! বল, তবুও তোমরা তাঁকে ছেড়ে এমন সব অভিভাবক গ্রহণ করলে, যাদের খোদ নিজেদেরও কোন উপকার সাধনের ক্ষমতা নেই এবং অপকার সাধনেরও না? বল, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? অথবা অন্ধকার ও আলো কি একই রকম হতে পারে? না-কি তারা আল্লাহর এমন সব শরীক সাব্যস্ত করেছে, যারা আল্লাহ যেমন সৃষ্টি করেন সে রকম কিছু সৃষ্টি করেছে, ২১ ফলে তাদের কাছে উভয়ের সৃষ্টিকার্য একই রকম মনে হচ্ছে? (কেউ যদি এ বিভ্রান্তির শিকার হয়ে থাকে, তবে তাকে) বলে দাও, কেবল আল্লাহই সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি একাই এমন যে, তাঁর ক্ষমতা সবকিছুতে ব্যাপ্ত।

তাফসীরঃ

২১. আরবের মুশরিকরা যেসব দেবতাদেরকে মাবুদ মনে করত ও তাদের পূজা-অর্চনা করত, তাদের সম্পর্কে তারা সাধারণভাবে একথা স্বীকার করত যে, জগত সৃজনে তাদের কোনও অংশীদারিত্ব নেই। বরং সারা জাহান আল্লাহ তাআলাই সৃষ্টি করেছেন। তবে তাদের বিশ্বাস ছিল, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রভুত্বের বহু ক্ষমতা তাদের উপর ন্যস্ত করেছেন। তাই তাদেরও উপাসনা করা উচিত, যাতে তারা তাদের সে ক্ষমতা আমাদের অনুকূলে ব্যবহার করে এবং আল্লাহ তাআলার কাছে আমাদের পক্ষে সুপারিশও করে। এ আয়াতে প্রথমত বলে দেওয়া হয়েছে, এসব মনগড়া দেবতা খোদ নিজেদেরও কোনও উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখে না। কাজেই সে অন্যদের উপকার-অপকার করবে কি করে? তারপর বলা হয়েছে, এসব দেবতা যদি আল্লাহ তাআলার মত কোন কিছু সৃষ্টি করে থাকত, তবে না হয় তাদেরকে আল্লাহ তাআলার শরীক সাব্যস্ত করার কোন যুক্তি থাকত, কিন্তু না তারা বাস্তবে কোনও কিছু সৃষ্টি করেছে আর না আরববাসী এরূপ আকীদা পোষণ করত। এহেন অবস্থায় তাদেরকে আল্লাহ তাআলার শরীক সাব্যস্ত করে তাদের ইবাদত-উপাসনা করার কী বৈধতা থাকতে পারে?
১৭

اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَسَالَتۡ اَوۡدِیَۃٌۢ بِقَدَرِہَا فَاحۡتَمَلَ السَّیۡلُ زَبَدًا رَّابِیًا ؕ  وَمِمَّا یُوۡقِدُوۡنَ عَلَیۡہِ فِی النَّارِ ابۡتِغَآءَ حِلۡیَۃٍ اَوۡ مَتَاعٍ زَبَدٌ مِّثۡلُہٗ ؕ  کَذٰلِکَ یَضۡرِبُ اللّٰہُ الۡحَقَّ وَالۡبَاطِلَ ۬ؕ  فَاَمَّا الزَّبَدُ فَیَذۡہَبُ جُفَآءً ۚ  وَاَمَّا مَا یَنۡفَعُ النَّاسَ فَیَمۡکُثُ فِی الۡاَرۡضِ ؕ  کَذٰلِکَ یَضۡرِبُ اللّٰہُ الۡاَمۡثَالَ ؕ ١٧

আনঝালা মিনাছছামাই মাআন ফাছা-লাত আওদিয়াতুম বিকাদারিহা-ফাহতামালাছ ছাইলু ঝাবাদার রা-বিয়াওঁ ওয়া মিম্মা-ইউকিদূ না ‘আলাইহি ফিন্না-রিব তিগাআ হিলয়াতিন আও মাতা-‘ইন ঝাবাদুম মিছলুহূ কাযা-লিকা ইয়াদরিবুল্লা-হুল হাক্কা ওয়াল বাতিলা ফাআম্মাঝ ঝাবাদুফাইয়াযহাবুজুফাআওঁ ওয়া আম্মা-মা-ইয়ানফাউন্নাছা ফাইয়ামকুছু ফিল আরদি কাযা-লিকা ইয়াদরিবুল্লা-হুল আমছা-ল।

তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, ফলে নদীনালা আপন-আপন সামর্থ্য অনুযায়ী প্লাবিত হয়েছে, তারপর পানির ধারা স্ফীত ফেনাসমূহ উপরিভাগে তুলে এনেছে। এ রকমের ফেনা সেই সময়ও ওঠে, যখন লোকে অলংকার বা পাত্র তৈরির উদ্দেশ্যে আগুনে ধাতু উত্তপ্ত করে। আল্লাহ এভাবেই সত্য ও মিথ্যার দৃষ্টান্ত বর্ণনা করছেন যে, (উভয় প্রকারে) যা ফেনা, তা তো বাইরে পড়ে নিঃশেষ হয়ে যায় আর যা মানুষের উপকারে আসে তা জমিতে থেকে যায়। ২২ এ রকমেরই দৃষ্টান্ত আল্লাহ বর্ণনা করে থাকেন। ২৩

তাফসীরঃ

২২. এ দৃষ্টান্তের মধ্যে মানুষের জন্য অনেক বড় শিক্ষা আছে। এতে দেখানো হয়েছে যা মানুষের জন্য উপকারী নয় তা ধ্বংস হয়ে যায় আর যা উপকারী তা টিকে থাকে। বিষয়টা বস্তুর মধ্যেই সীমিত নয়। পশু-পাখী প্রাণীকুল এমনকি মানুষের ক্ষেত্রে এটাই আল্লাহ তাআলার শাশ্বত বিধান। হিতসাধনের গুণ না থাকার কারণে কত পশু-পাখীর অস্তিত্ব ভূ-পৃষ্ঠ থেকে বিলীন হয়ে গেছে। আবার যাদের মধ্যে এ গুণ আছে, তা কেবল প্রাকৃতিকভাবেই রক্ষা পায় না, কৃত্রিম প্রক্রিয়ায়ও তার রক্ষা ও প্রবৃদ্ধির ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে বহু মানব-সম্প্রদায়েরও অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে গেছে, যখন তারা হিতসাধনের গুণ হারিয়ে ফেলেছে। বলা বাহুল্য, সত্যধর্ম তথা ঈমান ও ইসলাম মানব মনে হিতৈষণা জন্মায়। ইসলামের সামগ্রিক শিক্ষার ভেতরই এই আবেদন বিদ্যমান। কাজেই যে ব্যক্তি প্রকৃত মুসলিম সে একজন সত্যিকারের মানবহিতৈষী হবেই। কিন্তু বর্তমানকালে এর যথেষ্ট অভাব পরিলক্ষিত হয়, যা দ্বারা প্রতীয়মান হয় আমরা দীন ও ঈমানের মর্মবাণী যেন ঠিক হৃদয়াঙ্গম করছি না। এটা কি এ জাতির অস্তিত্বের পক্ষে কোন অশুভ ইঙ্গিত বহন করছে না? ফেনায় পর্যবসিত জাতির তো টিকে থাকার অধিকার নেই। হিতসাধনের গুণ যদি তারা ধারণ করতে না পারে তবে তো তাদের স্থানে এমন কোন সম্প্রদায়কেই প্রতিষ্ঠিত করা হবে যারা ঠিক তাদের মত হবে না, বরং দীন ও ঈমানের রঙে রঙিন হয়ে তারা বিশ্বমানবতার কল্যাণসাধনে সমর্পিত থাকবে। ফলে ভূ-পৃষ্ঠে তারা ইজ্জত-সম্মানের সাথে টিকে থাকবে। -অনুবাদক
১৮

لِلَّذِیۡنَ اسۡتَجَابُوۡا لِرَبِّہِمُ الۡحُسۡنٰی ؕؔ  وَالَّذِیۡنَ لَمۡ یَسۡتَجِیۡبُوۡا لَہٗ لَوۡ اَنَّ لَہُمۡ مَّا فِی الۡاَرۡضِ جَمِیۡعًا وَّمِثۡلَہٗ مَعَہٗ لَافۡتَدَوۡا بِہٖ ؕ  اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ سُوۡٓءُ الۡحِسَابِ ۬ۙ  وَمَاۡوٰىہُمۡ جَہَنَّمُ ؕ  وَبِئۡسَ الۡمِہَادُ ٪ ١٨

লিল্লাযীনাছতাজা-বূলিরাব্বিহিমুল হুছনা- ওয়াল্লাযীনা লাম ইয়াছতাজীবূলাহূলাও আন্না লাহুম মা-ফিল আরদিজামী‘আওঁ ওয়া মিছলাহূমা‘আহূলাফতাদাওঁ বিহী উলাইকা লাহুম ছূউল হিছা-ব ওয়ামা’ওয়া-হুম জাহান্নামু ওয়া বি’ছাল মিহা-দ ।

মঙ্গল তাদেরই জন্য, যারা তাদের প্রতিপালকের ডাকে সাড়া দিয়েছে। আর যারা তার ডাকে সাড়া দেয়নি, তাদের কাছে যদি দুনিয়ার সমস্ত জিনিসও থাকে এবং তার সমপরিমাণ আরও, তবে তারা (কিয়ামতের দিন) নিজেদের প্রাণ রক্ষার্থে তা সবই দিতে প্রস্তুত হয়ে যাবে। তাদের জন্য রয়েছে কঠিন হিসাব এবং তাদের ঠিকানা জাহান্নাম; তা বড় মন্দ ঠিকানা।
১৯

اَفَمَنۡ یَّعۡلَمُ اَنَّمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ مِنۡ رَّبِّکَ الۡحَقُّ کَمَنۡ ہُوَ اَعۡمٰی ؕ  اِنَّمَا یَتَذَکَّرُ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ ۙ ١٩

আফামাইঁ ইয়া‘লামুআন্নামাউনঝিলা ইলাইকা মির রাব্বিকাল হাক্কুকামান হুওয়া আ‘মা- ইন্নামা-ইয়াতাযাক্কারু ঊলুল আলবা-ব।

যে ব্যক্তি নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে যে, তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা সত্য, সে কি ওই ব্যক্তির মত হতে পারে, যে অন্ধ? বস্তুত উপদেশ কেবল তারাই গ্রহণ করে, যারা বোধ-বুদ্ধির অধিকারী,
২০

الَّذِیۡنَ یُوۡفُوۡنَ بِعَہۡدِ اللّٰہِ وَلَا یَنۡقُضُوۡنَ الۡمِیۡثَاقَ ۙ ٢۰

আল্লাযীনা ইঊফূনা বি‘আহদিল্লা-হি ওয়ালা-ইয়ানকুদূ নাল মীছা-ক।

(অর্থাৎ) সেই সকল লোক, যারা আল্লাহকে প্রদত্ত অঙ্গীকার রক্ষা করে এবং চুক্তির বিপরীত কাজ করে না।
২১

وَالَّذِیۡنَ یَصِلُوۡنَ مَاۤ اَمَرَ اللّٰہُ بِہٖۤ اَنۡ یُّوۡصَلَ وَیَخۡشَوۡنَ رَبَّہُمۡ وَیَخَافُوۡنَ سُوۡٓءَ الۡحِسَابِ ؕ ٢١

ওয়াল্লাযীনা ইয়াসিলূনা মাআমারাল্লা-হুবিহীআইঁ ইউসালা ওয়া ইয়াখশাওনা রাব্বাহুম ওয়া ইয়া খা-ফূনা ছূআল হিছা-ব।

এবং আল্লাহ যে সম্পর্ক বজায় রাখতে আদেশ করেছেন, তারা তা বজায় রাখে, ২৪ নিজেদের প্রতিপালককে ভয় করে এবং ভয় রাখে কঠিন হিসাবের।

তাফসীরঃ

২৪. অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা যে সকল সম্পর্ক রক্ষা করার আদেশ করেছেন তা রক্ষা করে এবং সে সম্পর্কজনিত কর্তব্যসমূহ পালন করে। আত্মীয়-স্বজনের অধিকারসমূহ যেমন এর অন্তর্ভুক্ত, তেমনি দীনি সম্পর্কের কারণে যেসব অধিকার জন্ম নেয়, তাও। সুতরাং আল্লাহ তাআলা যত নবী-রাসূলের প্রতি ঈমান আনার হুকুম দিয়েছেন তারা তাদের প্রতি ঈমান আনে এবং যাদের আনুগত্য করার আদেশ করেছেন তাদের আনুগত্যও করে।
২২

وَالَّذِیۡنَ صَبَرُوا ابۡتِغَآءَ وَجۡہِ رَبِّہِمۡ وَاَقَامُوا الصَّلٰوۃَ وَاَنۡفَقُوۡا مِمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ سِرًّا وَّعَلَانِیَۃً وَّیَدۡرَءُوۡنَ بِالۡحَسَنَۃِ السَّیِّئَۃَ اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ عُقۡبَی الدَّارِ ۙ ٢٢

ওয়াল্লাযীনা সাবারুব তিগাআ ওয়াজহি রাব্বিহিম ওয়া আকা-মুসসালা-তা ওয়া আনফাকূ মিম্মা-রাঝাকনা-হুম ছিররাওঁ ওয়া ‘আলা-নিয়াতাওঁ ওয়া ইয়াদরাঊনা বিলহাছানাতিছ ছাইয়িআতা উলাইকা লাহুম ‘উকবাদ্দা-র।

এবং তারা সেই সকল লোক, যারা নিজ প্রতিপালকের সন্তুষ্টিবিধানের উদ্দেশ্যে সবর অবলম্বন করেছে, ২৫ নামায কায়েম করেছে এবং আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে এবং তারা দুর্ব্যবহারকে প্রতিরোধ করে সদ্ব্যবহার দ্বারা। ২৬ প্রকৃত নিবাসে উৎকৃষ্ট পরিণাম তাদেরই জন্য। ২৭

তাফসীরঃ

২৫. কুরআন মাজীদের পরিভাষায় ‘সবর’-এর মর্ম অতি ব্যাপক। মানুষ আল্লাহ তাআলার হুকুমের সামনে যখন নিজ ইন্দ্রিয় চাহিদাকে সংযত করে রাখে, তখন সেটাই হয় সবর। যেমন নামাযের সময় যদি মনের চাহিদা হয় নামায না পড়া, তবে সেক্ষেত্রে মনের চাহিদাকে উপেক্ষা করে নামাযের রত হওয়াই সবর। কিংবা মনে যদি কোন গুনাহের প্রতি আগ্রহ দেখা দেয়, তবে সেই আগ্রহকে দমন করে সেই গুনাহ থেকে বিরত থাকাই হল সবর। এমনিভাবে কোনও কষ্টের সময় যদি মনের চাহিদা এই হয় যে, আল্লাহ তাআলার ফায়সালার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হোক এবং অনাবশ্যক হল্লা-চিল্লা করা হোক, তবে সেক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার ফায়সালায় সন্তুষ্ট থেকে ঐচ্ছিক উঁহু-আহা বন্ধ রাখাও সবর। এমনিভাবে সবর শব্দটি দীনের যাবতীয় বিধানের অনুসরণকে শামিল করে। ২৪ নং আয়াতেও এ বিষয়টাই বোঝানো হয়েছে।
২৩

جَنّٰتُ عَدۡنٍ یَّدۡخُلُوۡنَہَا وَمَنۡ صَلَحَ مِنۡ اٰبَآئِہِمۡ وَاَزۡوَاجِہِمۡ وَذُرِّیّٰتِہِمۡ وَالۡمَلٰٓئِکَۃُ یَدۡخُلُوۡنَ عَلَیۡہِمۡ مِّنۡ کُلِّ بَابٍ ۚ ٢٣

জান্না-তু‘আদনিইঁ ইয়াদখুলূনাহা-ওয়া মান সালাহামিনআ-বাইহিম ওয়াআঝওয়া-জিহিম ওয়াযুররিইইয়া-তিহিম ওয়াল মালাইকাতুইয়াদখুলূনা ‘আলাইহিম মিন কুল্লি বা-ব।

(অর্থাৎ) স্থায়ীভাবে অবস্থানের সেই উদ্যানসমূহ, যার ভেতর তারা নিজেরাও প্রবেশ করবে এবং তাদের বাপ-দাদাগণ, স্ত্রীগণ ও সন্তানদের মধ্যে যারা নেককার হবে, তারাও। আর (তাদের অভ্যর্থনার জন্য) ফেরেশতাগণ তাদের নিকট প্রত্যেক দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে (আর বলতে থাকবে-)
২৪

سَلٰمٌ عَلَیۡکُمۡ بِمَا صَبَرۡتُمۡ فَنِعۡمَ عُقۡبَی الدَّارِ ؕ ٢٤

ছালা-মুন ‘আলাইকুম বিমা-সাবারতুম ফানি‘মা ‘উকবাদ্দা-র।

তোমরা (দুনিয়ায়) যে সবর অবলম্বন করেছিলে, তার বদৌলতে এখন তোমাদের প্রতি কেবল শান্তিই বর্ষিত হবে এবং (তোমাদের) প্রকৃত নিবাসে এটা কতই না উৎকৃষ্ট পরিণাম।
২৫

وَالَّذِیۡنَ یَنۡقُضُوۡنَ عَہۡدَ اللّٰہِ مِنۡۢ بَعۡدِ مِیۡثَاقِہٖ وَیَقۡطَعُوۡنَ مَاۤ اَمَرَ اللّٰہُ بِہٖۤ اَنۡ یُّوۡصَلَ وَیُفۡسِدُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ ۙ اُولٰٓئِکَ لَہُمُ اللَّعۡنَۃُ وَلَہُمۡ سُوۡٓءُ الدَّارِ ٢٥

ওয়াল্লাযীনা ইয়ানকুদূ না ‘আহদাল্লা-হি মিম বা‘দি মীছা-কিহী ওয়া ইয়াকাতা‘ঊনা মাআমারাল্লা-হু বিহীআইঁ ইঊসালা ওয়াইউফছিদূ না ফিল আরদি উলাইকা লাহুমুল লা‘নাতুওয়া লাহুম ছূূউদ্দা-র।

(অপর দিকে) যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকারে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে, আল্লাহ যে সম্পর্ক বজায় রাখার হুকুম দিয়েছেন তা ছিন্ন করে এবং যমীনে অশান্তি বিস্তার করে, তাদের জন্য রয়েছে লানত এবং প্রকৃত নিবাসে নিকৃষ্ট পরিণাম তাদেরই জন্য।
২৬

اَللّٰہُ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ وَیَقۡدِرُ ؕ  وَفَرِحُوۡا بِالۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ؕ  وَمَا الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا فِی الۡاٰخِرَۃِ اِلَّا مَتَاعٌ ٪ ٢٦

আল্লা-হু ইয়াবছুতু র রিঝকালিমাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইয়াকদিরু ওয়া ফারিহূবিলহায়াতিদদুনইয়া-ওয়ামাল হায়া-তুদদুনইয়া- ফিল আ-খিরাতি ইল্লা-মাতা-‘উ।

আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা করেন তার রিযক প্রশস্ত করে দেন এবং (যার জন্য ইচ্ছা) সংকীর্ণ করে দেন। ২৮ তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ) পার্থিব জীবনেই মগ্ন, অথচ আখেরাতের তুলনায় পার্থিব জীবন মামুলি পুঁজির বেশি কিছু নয়।

তাফসীরঃ

২৮. পূর্বে বলা হয়েছিল, যারা সত্য দীনকে অস্বীকার করে তাদের প্রতি আল্লাহর লানত। কারও খটকা লাগতে পারে আমরা তো দেখছি দুনিয়ায় তারা প্রচুর অর্থ-সম্পদের মালিক হচ্ছে এবং বড় সুখের জীবন যাপন করছে! এ আয়াতে সেই খটকা দূর করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, দুনিয়ায় জীবিকার প্রাচুর্য বা তার সংকীর্ণতা আল্লাহ তাআলার কাছে মকবুল বা সমাদৃত হওয়া-না হওয়ার সাথে সম্পৃক্ত নয়। এখানে আল্লাহ তাআলা তাঁর অপার হিকমত অনুযায়ী যাকে ইচ্ছা প্রচুর অর্থ-সম্পদ দেন এবং যাকে ইচ্ছা অর্থ সংকটে নিপতিত করেন। কাফেরগণ যদিও এখানকার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে মগ্ন, কিন্তু আখেরাতের তুলনায় দিন কয়েকের এই পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য যে নিতান্তই মূল্যহীন, সে খবর তাদের নেই।
২৭

وَیَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ عَلَیۡہِ اٰیَۃٌ مِّنۡ رَّبِّہٖ ؕ  قُلۡ اِنَّ اللّٰہَ یُضِلُّ مَنۡ یَّشَآءُ وَیَہۡدِیۡۤ اِلَیۡہِ مَنۡ اَنَابَ ۖۚ ٢٧

ওয়া ইয়াকূলুল্লাযীনা কাফারূলাওলাউনঝিলা ‘আলাইহি আ-য়াতুম মির রাব্বিহী কুল ইন্নাল্লা-হা ইউদিল্লুমাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইয়াহদীইলাইহি মান আনা-ব।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে তারা বলে, তার প্রতি (অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি) তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ করা হল না কেন? ২৯ বলে দাও, আল্লাহ যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন আর তিনি তাঁর পথে কেবল তাদেরকেই আনয়ন করেন, যারা তাঁর দিকে রুজু হয়।

তাফসীরঃ

২৯. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বহু মুজিযা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মক্কার কাফেরগণ নিত্য-নতুন মুজিযা দাবী করত। কখনও তাদের কোনও দাবী পূরণ না করা হলেই এই কথা বলত যা এ আয়াতে বিবৃত হয়েছে। পূর্বে ৭নং আয়াতেও এটা গত হয়েছে। সামনে ৩১নং আয়াতে এর জবাব আসছে। এখানে তাদের উক্তির জবাব না দিয়ে বলা হয়েছে, এসব দাবী তাদের গোমরাহীরই প্রমাণ। আল্লাহ তাআলা যাকে চান গোমরাহীতে ফেলে রাখেন এবং হিদায়াত লাভ হয় কেবল তাদেরই, যারা আল্লাহ তাআলার দিকে রুজু হয়ে হিদায়াত প্রার্থনা ও সত্যের সন্ধান করে। এরূপ লোক ঈমান আনার পর তার দাবী মত কাজ করে এবং আল্লাহ তাআলার যিকির ও স্মরণ দ্বারা প্রশান্তি লাভ করে। ফলে কোনও রকমের সংশয়-সন্দেহ দ্বারা তারা যন্ত্রণাক্লিষ্ট হয় না। তারা সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআলার প্রতি আত্মনিবেদিত থাকে। সব হালেই থাকে সন্তুষ্ট। অবস্থা ভালো হলে আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করে আর যদি দুঃখ-কষ্ট দেখা দেয়, তবে সবর অবলম্বন করে এবং আল্লাহ তাআলার কাছে দু‘আ করে যেন তিনি তা দূর করে দেন। তারা এই ভেবে স্বস্তিবোধ করে যে, সে দুঃখ যতক্ষণ থাকবে, তা আল্লাহ তাআলার হিকমতেরই অধীনে থাকবে। কাজেই সে ব্যাপারে আমার কোনও অভিযোগ নেই। এভাবে কষ্টের অবস্থায়ও তার মানসিক স্বস্তি থাকে। এর দৃষ্টান্ত হল অপারেশন। যদি চিকিৎসার স্বার্থে কারও অপারেশনের দরকার হয়, তবে কষ্ট সত্ত্বেও সে এই ভেবে শান্তিবোধ করে যে, এ কাজটি তার স্বার্থের অনুকূল; এতে তার রোগ ভালো হওয়ার আশা আছে।
২৮

اَلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَتَطۡمَئِنُّ قُلُوۡبُہُمۡ بِذِکۡرِ اللّٰہِ ؕ  اَلَا بِذِکۡرِ اللّٰہِ تَطۡمَئِنُّ الۡقُلُوۡبُ ؕ ٢٨

আল্লাযীনা আ-মানূওয়া তাতমাইন্নুকুলূবুহুম বিযিকরিল্লা-হি ‘আলা-বিযিকরিল্লা-হি তাতমাইন্নুল কুলূব।

এরা সেই সব লোক, যার ঈমান এনেছে এবং যাদের অন্তর আল্লাহর যিকিরে প্রশান্তি লাভ করে। স্মরণ রেখ, কেবল আল্লাহর যিকিরেই অন্তরে প্রশান্তি লাভ হয়।
২৯

اَلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ طُوۡبٰی لَہُمۡ وَحُسۡنُ مَاٰبٍ ٢٩

আল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি তূবা-লাহুম ওয়া হুছনুমাআ-ব।

(মোটকথা) যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে মঙ্গলময়তা এবং উৎকৃষ্ট পরিণাম।
৩০

کَذٰلِکَ اَرۡسَلۡنٰکَ فِیۡۤ اُمَّۃٍ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِہَاۤ اُمَمٌ لِّتَتۡلُوَا۠ عَلَیۡہِمُ الَّذِیۡۤ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡکَ وَہُمۡ یَکۡفُرُوۡنَ بِالرَّحۡمٰنِ ؕ قُلۡ ہُوَ رَبِّیۡ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ عَلَیۡہِ تَوَکَّلۡتُ وَاِلَیۡہِ مَتَابِ ٣۰

কাযা-লিকা আরছালনা-কা ফীউম্মাতিন কাদ খালাত মিন কাবলিহাউমামুল লিতাতলুওয়া ‘আলাইহিমুল্লাযী আওহাইনাইলাইকা ওয়াহুম ইয়াকফুরূনা বিররাহমা-নি কুল হুওয়া রাববী লাইলা-হা ইল্লা হুওয়া ‘আলাইহি তাওয়াক্কালতুওয়া ইলাইহি মাতা-ব।

(হে নবী! যেমন অন্য নবীগণকে পাঠানো হয়েছিল) তেমনি আমি তোমাকে এমন এক জাতির কাছে রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছি, যার পূর্বে বহু জাতি গত হয়েছে, যাতে আমি তোমার প্রতি ওহীর মাধ্যমে যে কিতাব নাযিল করেছি তা পড়ে তাদেরকে শোনাও। অথচ তারা এমন এক সত্তার অকৃতজ্ঞতা করে যিনি সকলের প্রতি দয়াবান। বলে দাও, তিনি আমার প্রতিপালক। তিনি ছাড়া কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নয়। তাঁরই উপর আমি নির্ভর করেছি এবং তাঁরই কাছে আমাকে ফিরে যেতে হবে।
৩১

وَلَوۡ اَنَّ قُرۡاٰنًا سُیِّرَتۡ بِہِ الۡجِبَالُ اَوۡ قُطِّعَتۡ بِہِ الۡاَرۡضُ اَوۡ کُلِّمَ بِہِ الۡمَوۡتٰی ؕ  بَلۡ لِّلّٰہِ الۡاَمۡرُ جَمِیۡعًا ؕ  اَفَلَمۡ یَایۡـَٔسِ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَنۡ لَّوۡ یَشَآءُ اللّٰہُ لَہَدَی النَّاسَ جَمِیۡعًا ؕ  وَلَا یَزَالُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا تُصِیۡبُہُمۡ بِمَا صَنَعُوۡا قَارِعَۃٌ اَوۡ تَحُلُّ قَرِیۡبًا مِّنۡ دَارِہِمۡ حَتّٰی یَاۡتِیَ وَعۡدُ اللّٰہِ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ لَا یُخۡلِفُ الۡمِیۡعَادَ ٪ ٣١

ওয়া লাও আন্না কুরআ-নান ছুইয়িরাত বিহিল জিবা-লুআও কুত্তি‘আত বিহিল আরদুআও কুল্লিমা বিহিল মাওতা- বাল লিল্লা-হিল আমরু জামী‘আন আফালাম ইয়াইআছিল্লাযীনা আ-মানূআল্লাওঁইয়াশাউল্লা-হু লাহাদান্না-ছা জামী‘আওঁ ওয়ালা-ইয়াঝা-লুল্লাযীনা কাফারূতুসীবুহুম বিমা-সানা‘ঊ কা-রি‘আতুন আও তাহুল্লুকারীবাম মিন দা-রিহিম হাত্তা-ইয়া’তিয়া ওয়া‘দুল্লা-হি ইন্নাল্লা-হা লা-ইউখলিফুল মী‘আ-দ ।

যদি এমন কোনও কুরআনও নাযিল হত, যা দ্বারা পাহাড়কে আপন স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া যেত বা তার দ্বারা পৃথিবীকে বিদীর্ণ করা যেত (ফলে তা থেকে নদী প্রবাহিত হত) কিংবা তার মাধ্যমে মৃতের সাথে কথা বলা সম্ভব হত (তবুও এরা ঈমান আনত না)। ৩০ প্রকৃতপক্ষে এসব কিছুই আল্লাহর এখতিয়ারাধীন। তবুও কি মুমিনগণ একথা চিন্তা করে নিজেদের মনকে ভারমুক্ত করল না যে, আল্লাহ চাইলে সমস্ত মানুষকে (জোরপূর্বক) সৎপথে পরিচালিত করতেন? ৩১ যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তাদের উপর তাদের কৃতকর্মের কারণে সর্বদা কোনও না কোনও গর্জমান বিপদ পতিত হতে থাকবে অথবা তা নিপতিত হতে থাকবে তাদের বসতির আশেপাশে কোথাও, যাবত না (একদিন) আল্লাহর প্রতিশ্রুতি এসে পূর্ণ হয়ে যায়। ৩২ নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না।

তাফসীরঃ

৩০. মক্কার কাফেরগণ যে সকল মুজিযার ফরমায়েশ করত, এ আয়াতে সে রকম কয়েকটি উল্লেখ করা হয়েছে। তারা বলত, মক্কা মুকাররমার আশপাশে যেসব পাহাড় আছে, সেগুলো সরিয়ে দাও এবং এখানকার ভূমি বিদারণ করে নদী প্রবাহিত করে দাও আর আমাদের মৃত বাপ-দাদাদেরকে জীবিত করে তাদের সাথে আমাদের কথা বলিয়ে দাও, তাহলে আমরা ঈমান আনব। এ আয়াতে বলা হয়েছে, কথার কথা যদি তাদের এসব বেহুদা দাবী পূরণ করাও হত, তবু তারা ঈমান আনার ছিল না। কেননা তারা তো সত্য সন্ধানের প্রেরণায় এসব ফরমায়েশ করছে না; বরং তারা কেবল তাদের জেদের বশবর্তীতেই এসব কথা বলছে। সূরা বনী ইসরাঈলে (১৭ : ৯০-৯৩) কাফেরদের এ রকমের আরও কিছু ফরমায়েশ উল্লেখ করা হয়েছে। এ সূরার ৫৯ নং আয়াতে ফরমায়েশী মুজিযা না দেখানোর কারণ বলা হয়েছে এই যে, কোনও সম্প্রদায়কে যদি তাদের বিশেষ ফরমায়েশী মুজিযা দেখানো হয় আর তা সত্ত্বেও তারা ঈমান না আনে তখন আযাব নাযিল করে তাদেরকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। অতীতে আদ, ছামুদ প্রভৃতি জাতির বেলায় এ রকমই হয়েছে। আল্লাহ তাআলার জানা আছে, এসব ফরমায়েশী মুজিযা দেখার পরও তারা ঈমান আনবে না। আবার এখনই তাদেরকে ধ্বংস করার ইচ্ছাও আল্লাহ তাআলার নেই। এ কারণেও এ রকম মুজিযা দেখানো হয় না।
৩২

وَلَقَدِ اسۡتُہۡزِیٴَ بِرُسُلٍ مِّنۡ قَبۡلِکَ فَاَمۡلَیۡتُ لِلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ثُمَّ اَخَذۡتُہُمۡ ۟ فَکَیۡفَ کَانَ عِقَابِ ٣٢

ওয়া লাকাদিছতুহঝিআ বিরুছুলিম মিন কাবলিকা ফাআমলাইতুলিল্লাযীনা কাফারূছু ম্মা আখাযতুহুম ফাকাইফা কা-না ‘ইকা-ব।

(হে নবী!) বস্তুত তোমার পূর্বের নবীগণকেও ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়েছিল এবং এরূপ কাফেরদেরকেও আমি অবকাশ দিয়েছিলাম, কিন্তু কিছুকাল পর আমি তাদেরকে পাকড়াও করি। সুতরাং দেখে নাও কেমন ছিল আমার শাস্তি!
৩৩

اَفَمَنۡ ہُوَ قَآئِمٌ عَلٰی کُلِّ نَفۡسٍۭ بِمَا کَسَبَتۡ ۚ وَجَعَلُوۡا لِلّٰہِ شُرَکَآءَ ؕ قُلۡ سَمُّوۡہُمۡ ؕ اَمۡ تُنَبِّـُٔوۡنَہٗ بِمَا لَا یَعۡلَمُ فِی الۡاَرۡضِ اَمۡ بِظَاہِرٍ مِّنَ الۡقَوۡلِ ؕ بَلۡ زُیِّنَ لِلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مَکۡرُہُمۡ وَصُدُّوۡا عَنِ السَّبِیۡلِ ؕ وَمَنۡ یُّضۡلِلِ اللّٰہُ فَمَا لَہٗ مِنۡ ہَادٍ ٣٣

আফামান হুওয়া কাইমুন ‘আলা-কুল্লি নাফছিম বিমা কাছাবাত ওয়া জা‘আলূলিল্লা-হি শুরাকাআ কুল ছাম্মূহুম আম তুনাব্বিঊনাহূবিমা-লা-ইয়া‘লামুফিল আরদিআম বিজাহিরিম মিনাল কাওলি বাল ঝুইয়িনা লিল্লাযীনা কাফারূমাকরুহুম ওয়াসুদ্দূ‘আনিছ ছাবীলি ওয়ামাইঁ ইউদলিলিল্লা-হু ফামা-লাহূমিন হা-দ ।

আচ্ছা বল তো, একদিকে রয়েছেন সেই সত্তা, যিনি প্রত্যেকের প্রতিটি কাজ পর্যবেক্ষণ করেন আর অন্যদিকে তারা কি না আল্লাহর সাথে শরীক সাব্যস্ত করেছে? ৩৩ বল, একটু তাদের (অর্থাৎ আল্লাহর শরীকদের) নাম বল তো। (যদি কোন নাম বল) তবে কি আল্লাহকে এমন কোন অস্তিত্ব সম্পর্কে অবহিত করবে, যা সারা পৃথিবীর কোথাও আছে বলে তিনি জানেন না? না কি কেবল মুখেই এমন নাম বলবে আসলে যার কোন বাস্তবতা নেই? ৩৪ প্রকৃতপক্ষে কাফেরদের কাছে তাদের ছলনামূলক আচরণ বড় চমৎকার মনে হয়। আর (এভাবে) তাদের হিদায়াতের পথে প্রতিবন্ধক সৃষ্টি হয়ে গেছে। মূলত আল্লাহ যাকে বিভ্রান্তির ভেতর ফেলে রাখেন, সে এমন কাউকে পাবে না, যে তাকে সৎপথে আনয়ন করবে। ৩৫

তাফসীরঃ

৩৩. ইমাম রাযী (রহ.) ও আল্লামা আলুসী (রহ.) ‘হাল্লুল উকাদ’ প্রণেতার বরাতে এ আয়াতের যে তাফসীর বর্ণনা করেছেন, তার ভিত্তিতেই এ তরজমা করা হয়েছে। সে তাফসীর অনুযায়ী مَنْ هُوَ قَائِمٌ হল উদ্দেশ্য (مُبْتَدَأ) এবং এর বিধেয় (خَبْرٌ) হল (مَوْجُوْدٌ) যা এস্থলে উহ্য আছে। আর وَجَعَلُوْا لِلّٰهِ شُرَكَاءَ হল অবস্থা জ্ঞাপক বাক্য। এ বান্দার দৃষ্টিতে বাক্যের অন্যান্য সম্ভাবনা অপেক্ষা এ বিশ্লেষণই বেশি উত্তম মনে হয়। (এর অন্য অর্থ হতে পারে এরকম ‘তবে কি প্রত্যেক মানুষ যা করে তার যিনি পর্যবেক্ষক তিনি কি তাদের অক্ষম ইলাহগুলোর মত?’ এ হিসেবে ‘অক্ষম ইলাহগুলোর মত’ কথাটি উহ্য আছে)। -অনুবাদক
৩৪

لَہُمۡ عَذَابٌ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَلَعَذَابُ الۡاٰخِرَۃِ اَشَقُّ ۚ وَمَا لَہُمۡ مِّنَ اللّٰہِ مِنۡ وَّاقٍ ٣٤

লাহুম ‘আযা-বুন ফিল হায়া-তিদদুনইয়া-ওয়ালা ‘আযা-বুল আ-খিরাতি আশাক্কু ওয়ামা-লাহুম মিনাল্লা-হি মিওঁ ওয়া-ক।

তাদের জন্য দুনিয়ার জীবনেও শাস্তি রয়েছে আর আখেরাতের শাস্তি নিঃসন্দেহে অনেক বেশি কঠিন হবে। এমন কেউ নেই, যে তাদেরকে আল্লাহ (-এর শাস্তি) থেকে বাঁচাতে পারবে।
৩৫

مَثَلُ الۡجَنَّۃِ الَّتِیۡ وُعِدَ الۡمُتَّقُوۡنَ ؕ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ ؕ اُکُلُہَا دَآئِمٌ وَّظِلُّہَا ؕ تِلۡکَ عُقۡبَی الَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا ٭ۖ وَّعُقۡبَی الۡکٰفِرِیۡنَ النَّارُ ٣٥

মাছালুল জান্নাতিল লাতী উ‘ইদাল মুত্তাকূনা তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু উকুলুহা-দাইমুওঁ ওয়াজিল্লুহা- তিলকা ‘উকবাল্লাযী নাত্তাকাওঁ ওয়া ‘উকবাল কাফিরীনান্না-র।

(অপর দিকে) মুত্তাকীদের জন্য যে জান্নাতের ওয়াদা করা হয়েছে তার তলদেশে নহর প্রবাহিত রয়েছে, তার ফল সতত সজীব এবং তার ছায়াও। এটা সেই সকল লোকের পরিণাম, যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে। আর কাফেরদের পরিণাম তো জাহান্নামের আগুন।
৩৬

وَالَّذِیۡنَ اٰتَیۡنٰہُمُ الۡکِتٰبَ یَفۡرَحُوۡنَ بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ وَمِنَ الۡاَحۡزَابِ مَنۡ یُّنۡکِرُ بَعۡضَہٗ ؕ قُلۡ اِنَّمَاۤ اُمِرۡتُ اَنۡ اَعۡبُدَ اللّٰہَ وَلَاۤ اُشۡرِکَ بِہٖ ؕ اِلَیۡہِ اَدۡعُوۡا وَاِلَیۡہِ مَاٰبِ ٣٦

ওয়াল্লাযীনা আ-তাইনা-হুমুল কিতা-বা ইয়াফরাহূনা বিমাউনঝিলা ইলাইকা ওয়া মিনাল আহঝা-বি মাইঁ ইউনকিরু বা‘দাহূ কুল ইন্নামাউমিরতুআন আ‘বুদাল্লা-হা ওয়ালাউশরিকা বিহী ইলাইহি আদ‘ঊ ওয়া ইলাইহি মাআ-ব।

(হে নবী!) আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তারা তোমার প্রতি যে কালাম নাযিল করা হয়েছে, তা শুনে আনন্দিত হয়। আবার তাদেরই কোন কোন দল এমন, যারা এর কিছু কথা মানতে অস্বীকার করে। ৩৬ বল, আমাকে তো এই আদেশ করা হয়েছে যে, আমি আল্লাহর ইবাদত করব এবং প্রভুত্বে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করব না। এ কথারই আমি দাওয়াত দিয়ে থাকি আর তারই (অর্থাৎ আল্লাহরই) দিকে আমাকে ফিরে যেতে হবে। ৩৭

তাফসীরঃ

৩৬. এ আয়াতে ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের বিভিন্ন দলের অবস্থা ব্যক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে কতক এমন যারা কুরআন মাজীদের আয়াত শুনে খুশী হয়। তারা উপলব্ধি করতে পারে পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে যার ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, এটাই আল্লাহ তাআলা সেই আখেরী কিতাব। ফলে তাদের মধ্যে অনেকেই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান এনেছিল, যেমন খৃষ্টানদের মধ্যে, তেমনি ইয়াহুদীদের মধ্যে। এ বাস্তবতা তুলে ধরার মাধ্যমে একদিকে তো মক্কার কাফেরদেরকে লজ্জা দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, যাদের কাছে আসমানী কিতাব আছে তারা তো ঈমান আনছে, অথচ যাদের কাছে না আছে কোন আসমানী কিতাব এবং না কোন ঐশী নির্দেশনা, তারা ঈমান আনতে গড়িমসি করছে। অন্য দিকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও অন্যান্য মুসলিমদেরকে সান্তনা দেওয়া হয়েছে যে, যারা ইসলামের সাথে শত্রুতা করে তাদের মধ্যে বহু লোক তো হিদায়াতের এ বাণী গ্রহণও করছে! ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের মধ্যে অপর দলটি হচ্ছে কাফেরদের। তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা কুরআন মাজীদের কিছু অংশ অস্বীকার করে। ‘কিছু অংশ’ বলে ইশারা করা হয়েছে যে, ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের মধ্যে যারা ঈমান আনেনি, তারাও কুরআন মাজীদের সকল কথা অস্বীকার করতে পারে না। কেননা এর বহু কথা এমন, যা তাওরাত ও ইনজীলেও আছে, যেমন তাওহীদ, পূর্ববর্তী নবীদের প্রতি ঈমান, তাদের ঘটনাবলী, আখেরাতের প্রতি ঈমান ইত্যাদি। এর দাবী তো ছিল এই যে, তারা চিন্তা করবে, এসব বিষয় জানার বাহ্যিক কোন মাধ্যম তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নেই। তা সত্ত্বেও তিনি এগুলো বলছেন কি করে? নিঃসন্দেহে তিনি এসব ওহীর মাধ্যমেই জেনেছেন। কাজেই তিনি একজন সত্য রাসূল। তাঁর রিসালাতকে স্বীকার করে নেওয়া উচিত।
৩৭

وَکَذٰلِکَ اَنۡزَلۡنٰہُ حُکۡمًا عَرَبِیًّا ؕ  وَلَئِنِ اتَّبَعۡتَ اَہۡوَآءَہُمۡ بَعۡدَمَا جَآءَکَ مِنَ الۡعِلۡمِ ۙ  مَا لَکَ مِنَ اللّٰہِ مِنۡ وَّلِیٍّ وَّلَا وَاقٍ ٪ ٣٧

ওয়া কাযা-লিকা আনঝালনা-হু হুকমান ‘আরাবিইইয়াওঁ ওয়ালাইনিততাবা‘তা আহওয়াআহুম বা‘দা মা-জাআকা মিনাল ‘ইল মি মা-লাকা মিনাল্লা-হি মিওঁ ওয়ালিইয়িওঁ ওয়ালা-ওয়া-ক।

আর এভাবেই আমি একে (অর্থাৎ কুরআনকে) আরবী ভাষায় এক নির্দেশপত্র রূপে নাযিল করেছি। ৩৮ (হে নবী!) তোমার নিকট যে জ্ঞান এসেছে, তারপরও যদি তুমি তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ কর, তবে আল্লাহর বিপরীতে তোমার কোনও সাহায্যকারী ও রক্ষক থাকবে না। ৩৯

তাফসীরঃ

৩৮. অর্থাৎ, কাফেরগণ কুরআন মাজীদের যেসব বিধান নিজেদের খেয়াল-খুশীর বিপরীত দেখতে পাচ্ছে, সে ব্যাপারে তাদের মর্জিমত কোনরূপ রদবদল করার অধিকার আপনার নেই। যদিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে একথা চিন্তাও করা যায় না যে, তিনি আল্লাহ তাআলার বিধানে কোন রদবদল করবেন, কিন্তু একটি মূলনীতি হিসেবে একথা বলে দুনিয়ার সমস্ত মানুষকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
৩৮

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا رُسُلًا مِّنۡ قَبۡلِکَ وَجَعَلۡنَا لَہُمۡ اَزۡوَاجًا وَّذُرِّیَّۃً ؕ وَمَا کَانَ لِرَسُوۡلٍ اَنۡ یَّاۡتِیَ بِاٰیَۃٍ اِلَّا بِاِذۡنِ اللّٰہِ ؕ لِکُلِّ اَجَلٍ کِتَابٌ ٣٨

ওয়া লাকাদ আরছালনা-রুছুলাম মিন কাবলিকা ওয়া জা‘আলনা-লাহুম আঝওয়া-জাওঁ ওয়া যুররিইইয়াতাওঁ ওয়ামা-কা-না লিরাছূলিন আইঁ ইয়া’তিয়া বিআ-য়াতিন ইল্লা-বিইযনিল্লা হি লিকুল্লি আজালিন কিতা-ব।

বস্তুত তোমার আগেও আমি বহু রাসূল পাঠিয়েছি এবং তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তানাদি দিয়েছি। কোনও রাসূলেরই এ এখতিয়ার ছিল না যে, সে আল্লাহর হুকুম ছাড়া একটি মাত্র আয়াতও হাজির করবে। প্রত্যেক কালের জন্য পৃথক কিতাব দেওয়া হয়েছে। ৪০

তাফসীরঃ

৪০. কাফেরগণ প্রশ্ন তুলত, হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি আল্লাহ তাআলার রাসূল হন, তবে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানাদি থাকবে কেন? এ আয়াতে তাদের সে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে যে, এক-দু’জন নবীকে বাদ দিলে সমস্ত নবী-রাসূলকেই স্ত্রী ও সন্তানাদি দেওয়া হয়েছিল। কেননা এর সাথে নবুওয়াতের কোনও সম্পর্ক নেই; বরং নবীগণ নিজেদের জীবনাচার দ্বারা দেখিয়ে দেন স্ত্রী ও সন্তানদের হক কিভাবে আদায় করতে হয় এবং তাদের হক ও আল্লাহ তাআলার হকের মধ্যে ভারসাম্য কিভাবে রক্ষা করতে হয়। দ্বিতীয় এটাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, নবীগণের শরীয়তে শাখাগত প্রভেদ সব সময়ই ছিল।
৩৯

یَمۡحُوا اللّٰہُ مَا یَشَآءُ وَیُثۡبِتُ ۚۖ وَعِنۡدَہٗۤ اُمُّ الۡکِتٰبِ ٣٩

ইয়ামহূল্লা-হু মা-ইয়াশাউ ওয়া ইউছবিতু ওয়া ‘ইনদাহূ উম্মুল কিতা-ব।

আল্লাহ যা চান (অর্থাৎ যে বিধানকে ইচ্ছা করেন) রহিত করে দেন এবং যা চান বলবৎ রাখেন। সমস্ত কিতাবের যা মূল, তা তাঁরই কাছে। ৪১

তাফসীরঃ

৪১. ‘সমস্ত কিতাবের মূল’ দ্বারা ‘লাওহে মাহফুজ’ বোঝানো হয়েছে। অনাদিকাল থেকে তাতে লেখা আছে কোন জাতিকে কোন কিতাব এবং কেমন বিধান দেওয়া হবে।
৪০

وَاِنۡ مَّا نُرِیَنَّکَ بَعۡضَ الَّذِیۡ نَعِدُہُمۡ اَوۡ نَتَوَفَّیَنَّکَ فَاِنَّمَا عَلَیۡکَ الۡبَلٰغُ وَعَلَیۡنَا الۡحِسَابُ ٤۰

ওয়া ইম্মা- নুরিইয়ান্নাকা বা‘দাল্লাযীনা‘ইদুহুম আও নাতাওয়াফফাইয়ান্নাকা ফাইন্নামা‘আলাইকাল বালা-গু ওয়া ‘আলাইনাল হিছা-ব।

আমি তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) যে বিষয়ের শাসানি দেই, তার অংশবিশেষ আমি তোমাকে (তোমার জীবদ্দশায়ই) দেখিয়ে দেই অথবা (তার আগেই) তোমাকে দুনিয়া থেকে তুলে নেই, সর্বাবস্থায় তোমার দায়িত্ব তো কেবল বার্তা পৌঁছানো। আর হিসাব গ্রহণের দায়িত্ব আমার। ৪২

তাফসীরঃ

৪২. কোন কোন মুসলিমের মনে ভাবনা জাগত যে, এতটা অবাধ্যতা সত্ত্বেও কাফেরদের উপর কোন শাস্তি অবতীর্ণ হয় না কেন? এ আয়াতে তার উত্তর দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে যে, শাস্তি কখন দিতে হবে, তার প্রকৃত সময় আল্লাহ তাআলা নিজ হিকমত অনুযায়ী স্থির করে রেখেছেন। স্থিরীকৃত সেই সময় অনুসারেই তা ঘটবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হচ্ছে যে, তাঁর উচিত নিজের মনকে চিন্তামুক্ত রাখা এবং স্মরণ রাখা যে, তাঁর দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া। কাফেরদের হিসাব নেওয়া আল্লাহ তাআলার কাজ। তিনি নিজ হিকমত অনুযায়ী যথাসময়ে তা সম্পাদন করবেন।
৪১

اَوَلَمۡ یَرَوۡا اَنَّا نَاۡتِی الۡاَرۡضَ نَنۡقُصُہَا مِنۡ اَطۡرَافِہَا ؕ وَاللّٰہُ یَحۡکُمُ لَا مُعَقِّبَ لِحُکۡمِہٖ ؕ وَہُوَ سَرِیۡعُ الۡحِسَابِ ٤١

আওয়ালাম ইয়ারাও আন্না-না’তিল আরদা নানকুসুহা-মিন আতারা-ফিহা- ওয়াল্লা-হু ইয়াহকুমূলা-মু‘আক্কিবা লিহুকমিহী ওয়া হুওয়া ছারী‘উল হিছা-ব।

তারা কি এ বিষয়টা লক্ষ্য করে না যে, আমি তাদের ভূমি চারদিক থেকে সংকীর্ণ করে আনছি? ৪৩ প্রতিটি আদেশ আল্লাহই দান করেন। এমন কেউ নেই যে, তার আদেশ রদ করতে পারে। তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।

তাফসীরঃ

৪৩. অর্থাৎ, জাযিরাতুল আরব (আরব উপদ্বীপ)-এ মুশরিক ও অংশীবাদী আকীদা-বিশ্বাসের যে আধিপত্য ছিল, তা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। মুশরিকদের প্রভাব-বলয় দিন দিন কমে আসছে। আর তার জায়গায় ইসলাম নিজ প্রভাব বিস্তার করছে। এটা এক সতর্ক সংকেত। মুশরিকদের উচিত এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।
৪২

وَقَدۡ مَکَرَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ فَلِلّٰہِ الۡمَکۡرُ جَمِیۡعًا ؕ یَعۡلَمُ مَا تَکۡسِبُ کُلُّ نَفۡسٍ ؕ وَسَیَعۡلَمُ الۡکُفّٰرُ لِمَنۡ عُقۡبَی الدَّارِ ٤٢

ওয়া কাদ মাকারা ল্লাযীনা মিন কাবলিহিম ফালিল্লা-হিল মাকরু জামী‘আইঁ ইয়া‘লামুমাতাকছিবুকুল্লুনাফছিওঁ ওয়া ছাইয়া‘লামুল কুফফা-রু লিমান ‘উকবাদ দা-র।

তাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে, তারাও চাল চেলেছিল, কিন্তু আল্লাহরই যত চাল কার্যকর হয়। প্রত্যেক ব্যক্তি যা-কিছু করে, সবই তিনি জানেন। কাফেরগণ শীঘ্রই জানতে পারবে প্রকৃত নিবাসের উৎকৃষ্ট পরিণাম কার ভাগে পড়ে।
৪৩

وَیَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَسۡتَ مُرۡسَلًا ؕ  قُلۡ کَفٰی بِاللّٰہِ شَہِیۡدًۢا بَیۡنِیۡ وَبَیۡنَکُمۡ ۙ  وَمَنۡ عِنۡدَہٗ عِلۡمُ الۡکِتٰبِ ٪ ٤٣

ওয়া ইয়াকূলুল্লাযীনা কাফারূ লাছতা মুরছালান কুল কাফা-বিল্লা-হি শাহীদাম বাইনী ওয়া বাইনাকুম ওয়া মান ‘ইনদাহূ‘ইল মুল কিতা-ব।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে তারা বলে, তুমি রাসূল নও। বলে দাও, আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষীরূপে আল্লাহ এবং প্রত্যেক ওই ব্যক্তি যথেষ্ট, যার কাছে কিতাবের জ্ঞান আছে। ৪৪

তাফসীরঃ

৪৪. অর্থাৎ, তোমরা যে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতকে অস্বীকার করছ তাতে কি আসে যায়? তোমাদের অস্বীকৃতির কারণে সত্য মিথ্যা হয়ে যেতে পারে না। আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তার রিসালাতের সাক্ষী এবং আসমানী কিতাবের জ্ঞান রাখে এমন যে-কোনও ব্যক্তি যদি ন্যায়নিষ্ঠতার সাথে সেই জ্ঞানের আলোকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তবে ‘তিনি একজন সত্য নবী’ এ সাক্ষ্য দিতে সে বাধ্য হবে।