সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা হুদ (هود) | নবী হুদ (আঃ)

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ১২৩

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

الٓرٰ ۟  کِتٰبٌ اُحۡکِمَتۡ اٰیٰتُہٗ ثُمَّ فُصِّلَتۡ مِنۡ لَّدُنۡ حَکِیۡمٍ خَبِیۡرٍ ۙ ١

আলিফ লামরা-,কিতা-বুনউহকিমাত আ-য়া-তুহূছু ম্মা ফুসসিলাত মিল্লাদুনহাকীমিন খাবীর।

আলিফ-লাম-রা। এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াতসমূহকে (দলীল-প্রমাণ দ্বারা) সুদৃঢ় করা হয়েছে। অতঃপর এমন এক সত্তার পক্ষ হতে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি প্রজ্ঞাময়, সর্ববিষয়ে অবহিত।

তাফসীরঃ

১. সুদৃঢ় করার অর্থ এতে যে সব বিষয় বর্ণিত হয়েছে, দলীল-প্রমাণে তা অত্যন্ত মজবুত ও পরিপূর্ণ। তাতে কোনও রকমের ত্রুটি ও দুর্বলতা নেই।

اَلَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّا اللّٰہَ ؕ  اِنَّنِیۡ لَکُمۡ مِّنۡہُ نَذِیۡرٌ وَّبَشِیۡرٌ ۙ ٢

আল্লা তা‘বুদূ ইল্লাল্লা-হা ইন্নানী লাকুম মিনহু নাযীরুওঁ ওয়াবাশীর।

(এ কিতাব নবীকে নির্দেশ দেয় মানুষকে এই কথা বলতে) যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না। নিশ্চয়ই আমি তাঁর পক্ষ হতে তোমাদের জন্য সতর্ককারী এবং সুসংবাদদাতা।

وَّاَنِ اسۡتَغۡفِرُوۡا رَبَّکُمۡ ثُمَّ تُوۡبُوۡۤا اِلَیۡہِ یُمَتِّعۡکُمۡ مَّتَاعًا حَسَنًا اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی وَّیُؤۡتِ کُلَّ ذِیۡ فَضۡلٍ فَضۡلَہٗ ؕ وَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَاِنِّیۡۤ اَخَافُ عَلَیۡکُمۡ عَذَابَ یَوۡمٍ کَبِیۡرٍ ٣

ওয়া আনিছতাগফিরূ রাব্বাকুম ছুম্মা তূবূইলাইহি ইউমাত্তি‘কুম মাতা-‘আন হাছানান ইলা আজালিম মুছাম্মাওঁ ওয়াইউ’তি কুল্লা যী ফাদলিন ফাদলাহূ ওয়া ইন তাওয়াল্লাও ফাইন্নী আখা-ফু‘আলাইকুম ‘আযা-বা ইয়াওমিন কাবীর।

এবং এই (পথনির্দেশ দেয়) যে, তোমাদের প্রতিপালকের কাছে গুনাহের ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁর অভিমুখী হও। তিনি তোমাদেরকে এক নির্ধারিত কাল পর্যন্ত উত্তম জীবন উপভোগ করতে দিবেন এবং যে-কেউ বেশি আমল করবে তাকে নিজের পক্ষ থেকে বেশি প্রতিদান দিবেন। আর তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমি তোমাদের জন্য এক মহা দিবসের শাস্তির আশঙ্কা করি।

তাফসীরঃ

৩. এস্থলে অভিমুখী হওয়ার অর্থ এই যে, কেবল ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং ভবিষ্যতে গুনাহ না করা ও আল্লাহ তাআলার হুকুম পালন করার সংকল্প করাও অবশ্য কর্তব্য।

اِلَی اللّٰہِ مَرۡجِعُکُمۡ ۚ وَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ٤

ইলাল্লা-হি মারজি‘উকুম ওয়া হুওয়া ‘আলা-কুল্লি শাইইন কাদীর।

আল্লাহরই কাছে তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে এবং তিনি সর্ববিষয়ে শক্তিমান।

اَلَاۤ اِنَّہُمۡ یَثۡنُوۡنَ صُدُوۡرَہُمۡ لِیَسۡتَخۡفُوۡا مِنۡہُ ؕ اَلَا حِیۡنَ یَسۡتَغۡشُوۡنَ ثِیَابَہُمۡ ۙ یَعۡلَمُ مَا یُسِرُّوۡنَ وَمَا یُعۡلِنُوۡنَ ۚ اِنَّہٗ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ ٥

আলাইন্নাহুম ইয়াছনূনা সুদূ রাহুম লিইয়াছতাখফূমিনহু আলা-হীনা ইয়াছতাগশূনা ছিয়া-বাহুম ইয়া‘লামুমা-ইউছিররূনা ওয়ামা-ইউ‘লিনূনা ইন্নাহূ‘আলীমুম বিযাতিসসুদূ র।

দেখ, তারা (কাফেরগণ) তাঁর থেকে লুকানোর জন্য নিজেদের বুক দু’ভাঁজ করে রাখে। স্মরণ রেখ, তারা যখন নিজেদের গায়ে কাপড় জড়ায়, তখন তারা যেসব কথা গোপন করে তাও আল্লাহ জানেন এবং তারা যা প্রকাশ্যে করে তাও। নিশ্চয়ই তিনি অন্তর্যামী।

তাফসীরঃ

৪. বহু মুশরিক এমন ছিল, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এড়িয়ে চলত, যাতে তাঁর কোনও কথা তাদের কানে না পড়ে। সুতরাং তাঁকে কখনও দেখলেই তারা নুয়ে সংকুচিত হয়ে নিজেদের বুক দু’ভাঁজ করে ফেলত এবং কাপড়ের ভেতর লুকিয়ে তাড়াতাড়ি সরে পড়ত। এমনিভাবে কোনও কোনও নির্বোধ কোনও গুনাহের কাজ করলে তখনও নিজেকে লুকানোর জন্য বুক দু’ভাঁজ করে ফেলত ও কাপড় দ্বারা নিজেকে ঢেকে নিত। তারা মনে করত এভাবে তারা আল্লাহর থেকে নিজেদের গোপন করতে সক্ষম হয়েছে। আয়াতে এই উভয় প্রকার লোকের দিকে ইশারা করা হয়েছে।

وَمَا مِنۡ دَآبَّۃٍ فِی الۡاَرۡضِ اِلَّا عَلَی اللّٰہِ رِزۡقُہَا وَیَعۡلَمُ مُسۡتَقَرَّہَا وَمُسۡتَوۡدَعَہَا ؕ کُلٌّ فِیۡ کِتٰبٍ مُّبِیۡنٍ ٦

ওয়ামা-মিন দাব্বাতিন ফিল আরদিইল্লা- ‘আলাল্লা-হি রিঝকুহা- ওয়া ইয়া‘লামু মুছতাকাররাহা-ওয়া মুছতাওদা‘আহা- কুল্লুন ফী কিতা-বিম মুবীন।

ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোনও প্রাণী নেই, যার রিযক আল্লাহ নিজ দায়িত্বে রাখেননি। তিনি তাদের স্থায়ী ঠিকানাও জানেন এবং সাময়িক ঠিকানাও। সব কিছুই সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে।

তাফসীরঃ

৫. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলাই রিযকদাতা। সৃষ্টি করার সাথে সাথে একান্ত নিজ অনুগ্রহে রিযকের দায়িত্বও তিনি নিজ দায়িত্বে রেখেছেন। কাজেই যার জন্য যে পরিমাণ রিযক বরাদ্দ আছে সে তা পাবেই। সুতরাং এ ব্যাপারে তাঁরই উপর ভরসা রাখতে হবে। একে তাওয়াক্কুল বলে। উপায় অবলম্বন করা তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়। বরং বান্দার উপায় অবলম্বনকে তিনি তার জন্য বরাদ্দকৃত রিযক পৌঁছানোর দুয়ার ও মাধ্যম বানিয়েছেন। তাওয়াক্কুল যেমন তাঁর হুকুম, তেমনি কোন উপায় অবলম্বন করাও তার হুকুম। তাই কোন উপায় অবলম্বন না করলে তাতে তাঁর আদেশ অমান্য করা হয়। এ কারণে রিযকের সংকট দেখা দিলে তা তার আদেশ অমান্য করারই পরিণাম। উপায়-এর নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই যে, তা অবলম্বন করলে রিযক প্রাপ্তি অবশ্যম্ভাবী হবে আর না করলে অপ্রাপ্তি অনিবার্য হবে। এজন্যই কখনও কখনও উপায় নিষ্ফল হয় এবং কখনও উপায় ছাড়াই ফল পাওয়া যায়। মূল দাতা যেহেতু আল্লাহ তাআলা, তাই তিনি চাইলে উপায়কে ফলপ্রসূ করতে পারেন, চাইলে নিষ্ফল করে দিতে পারেন এবং বিনা উপায়েও রিযক দিতে পারেন। তবে ইহজগতে উপায়ের সাথে রিযক দানই তাঁর সাধারণ নিয়ম, যে কারণে একদিকে যেমন উপায় অবলম্বন করতে হবে, অন্যদিকে তাওয়াক্কুলও করতে হবে অর্থাৎ মূলদাতা তিনিই এই বিশ্বাসের সাথে তারই উপর নির্ভর করতে হবে। -অনুবাদক

وَہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ وَّکَانَ عَرۡشُہٗ عَلَی الۡمَآءِ لِیَبۡلُوَکُمۡ اَیُّکُمۡ اَحۡسَنُ عَمَلًا ؕ وَلَئِنۡ قُلۡتَ اِنَّکُمۡ مَّبۡعُوۡثُوۡنَ مِنۡۢ بَعۡدِ الۡمَوۡتِ لَیَقُوۡلَنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ ٧

ওয়া হুওয়াল্লাযীখালাকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদাফী ছিত্তাতি আইয়া-মিওঁ ওয়া কা-না ‘আরশুহূ‘আলাল মাই লিইয়াবলুওয়াকুম আইয়ুকুম আহছানু‘আমালাওঁ ওয়ালাইন কুলতা ইন্নাকুম মাব‘ঊছূনা মিম বা‘দিল মাওতি লাইয়াকূলান্নাল্লাযীনা কাফারূইন হা-যাইল্লা-ছিহরুম মুবীন।

তিনিই আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, যখন তাঁর আরশ ছিল পানির উপর, তোমাদের মধ্যে কাজে কে শ্রেষ্ঠ তা পরীক্ষা করার জন্য। তুমি যদি (মানুষকে) বল যে, মৃত্যুর পর তোমাদেরকে ফের জীবিত করা হবে, তবে যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা অবশ্যই বলবে, এটা সুস্পষ্ট যাদু ছাড়া কিছুই নয়।

তাফসীরঃ

৬. এর দ্বারা জানা গেল, আসমান ও যমীন সৃষ্টি করার আগেই আরশ সৃষ্টি করা হয়েছিল। মুফাসসিরগণ বলেন, আকাশমণ্ডল দ্বারা উর্ধ্ব জগতের সব কিছুই বোঝানো হয়েছে এবং যমীন দ্বারা নিচের সমস্ত জিনিস। সূরা হা-মীম সাজদায় (আয়াত ৪১ : ১০, ৪১ : ১১) এ সৃজনের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

وَلَئِنۡ اَخَّرۡنَا عَنۡہُمُ الۡعَذَابَ اِلٰۤی اُمَّۃٍ مَّعۡدُوۡدَۃٍ لَّیَقُوۡلُنَّ مَا یَحۡبِسُہٗ ؕ  اَلَا یَوۡمَ یَاۡتِیۡہِمۡ لَیۡسَ مَصۡرُوۡفًا عَنۡہُمۡ وَحَاقَ بِہِمۡ مَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ٪ ٨

ওয়া লাইন আখখারনা-‘আনহুমুল ‘আযা-বা ইলাউম্মাতিম মা‘দূদাতিল লাইয়াকূলুন্না মাইয়াহবিছুহূ আলা-ইয়াওমা ইয়া’তীহিম লাইছা মাছরূফান ‘আনহুম ওয়া হা-কা বিহীম মা-কা-নূবিহী ইয়াছতাহঝিঊ-ন।

আমি কিছু কালের জন্য যদি তাদের শাস্তি স্থগিত রাখি, তবে তারা নিশ্চয়ই বলবে, কোন জিনিস তা (অর্থাৎ সেই শাস্তি) আটকে রেখেছে? সাবধান! যে দিন সে শাস্তি এসে যাবে সে দিন তা তাদের থেকে টলানো যাবে না। তারা যা নিয়ে ঠাট্টা করছে তা তাদেরকে চারদিক থেকে বেষ্টন করে ফেলবে।

তাফসীরঃ

৯. এ কথা বলে তারা মূলত আখেরাত ও আযাবকে উপহাস করত।

وَلَئِنۡ اَذَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ مِنَّا رَحۡمَۃً ثُمَّ نَزَعۡنٰہَا مِنۡہُ ۚ اِنَّہٗ لَیَـُٔوۡسٌ کَفُوۡرٌ ٩

ওয়ালাইন আযাকনাল ইনছা-না মিন্না-রাহমাতান ছুম্মা নাঝা‘না-হা-মিনহু ইন্নাহূ লাইয়াঊছুন কাফূর।

যখন আমি মানুষকে আমার নিকট হতে অনুগ্রহ আস্বাদন করাই ও পরে তার থেকে তা প্রত্যাহার করে নেই তখন সে হতাশ (ও) অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়।
১০

وَلَئِنۡ اَذَقۡنٰہُ نَعۡمَآءَ بَعۡدَ ضَرَّآءَ مَسَّتۡہُ لَیَقُوۡلَنَّ ذَہَبَ السَّیِّاٰتُ عَنِّیۡ ؕ  اِنَّہٗ لَفَرِحٌ فَخُوۡرٌ ۙ ١۰

ওয়ালাই আযাকনা-হু না‘মাআ বা‘দা দাররাআ মাছছাতহু লাইয়াকূলান্না যাহাবাছ ছাইয়িআ-তু‘আন্নী ইন্নাহূলাফারিহুন ফাখূর।

আবার যখন কোনও দুঃখ-কষ্ট তাকে স্পর্শ করার পর তাকে নি‘আমতরাজি আস্বাদন করাই, তখন সে বলে, আমার সব অমঙ্গল কেটে গেছে। (আর তখন) সে হয় উল্লসিত, গর্বিত।
১১

اِلَّا الَّذِیۡنَ صَبَرُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ؕ اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّاَجۡرٌ کَبِیۡرٌ ١١

ইল্লাল্লাযীনা সাবারূ ওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি উলাইকা লাহুম মাগফিরাতুওঁ ওয়া আজরুন কাবীর।

তবে যারা ধৈর্য ধারণ করে ও সৎকর্ম করে, তারা এ রকম নয়। তারা মাগফিরাত ও মহা প্রতিদান লাভ করবে।
১২

فَلَعَلَّکَ تَارِکٌۢ بَعۡضَ مَا یُوۡحٰۤی اِلَیۡکَ وَضَآئِقٌۢ بِہٖ صَدۡرُکَ اَنۡ یَّقُوۡلُوۡا لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ عَلَیۡہِ کَنۡزٌ اَوۡ جَآءَ مَعَہٗ مَلَکٌ ؕ  اِنَّمَاۤ اَنۡتَ نَذِیۡرٌ ؕ  وَاللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ وَّکِیۡلٌ ؕ ١٢

ফালা‘আল্লাকা তা-রিকুম বা‘দা মা-ইঊহাইলাইকা ওয়া দাইকুম বিহী সাদরুকা আইঁ ইয়াকূলূলাওলাউনঝিলা ‘আলাইহি কানঝুন আও জাআ মা‘আহূমালাকুন ইন্নামা আনতা নাযীরুওঁ ওয়াল্লা-হু ‘আলা-কুল্লি শাইইওঁ ওয়াকীল।

(হে নবী!) তবে কি তোমার প্রতি যে ওহী নাযিল করা হচ্ছে তার কিছু অংশ ছেড়ে দিবে? ১০ এবং তারা যে বলে, তার (অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) প্রতি কোনও ধন-ভান্ডার অবতীর্ণ হল না কেন কিংবা তার সাথে কোনও ফেরেশতা আসল না কেন? এ কারণে সম্ভবত তোমার অন্তর সঙ্কুচিত হচ্ছে। তুমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র! আল্লাহ তাআলাই প্রতিটি বিষয়ে পরিপূর্ণ এখতিয়ার রাখেন।

তাফসীরঃ

১০. মুশরিকগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলত, আপনি আমাদের মূর্তিদের সমালোচনা ত্যাগ করুন। তাহলে আপনার সাথে আমাদের কোন বিবাদ থাকবে না। এরই উত্তরে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হচ্ছে, আপনার পক্ষে তো এটা সম্ভব নয় যে, তাদেরকে খুশী করার জন্য আপনার প্রতি নাযিলকৃত ওহীর অংশবিশেষ ছেড়ে দিবেন। সুতরাং তাদের এ জাতীয় কথায় আপনি মন খারাপ করবেন না। কেননা আপনার কাজ তো কেবল তাদেরকে সত্য সম্পর্কে অবহিত করা। অতঃপর তারা মানবে কি মানবে না সেটা আপনার বিষয় নয়। সে দায়-দায়িত্ব তাদের নিজেদের। আর তারা যে আপনার প্রতি কোনও ধন-ভাণ্ডার নাযিল হওয়ার ফরমায়েশ করছে, এ ব্যাপারে কথা হলধন-ভাণ্ডারের সাথে নবুওয়াতের সম্পর্ক কী? যাবতীয় বিষয়ের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ও এখতিয়ার তো কেবল আল্লাহ তাআলার। কোন ফরমায়েশ পূরণ করা হবে এবং কোনটা নয় এ ব্যাপারে তিনি নিজ হিকমত অনুসারে ফায়সালা করে থাকেন। প্রকাশ থাকে যে, এ তরজমা করা হয়েছে মুফাসসিরদের এই মতের ভিত্তিতে যে, ‘এ স্থলে لعلك শব্দটি সম্ভাবনাব্যঞ্জক নয়; বরং অসম্ভাব্যতাবোধক। আবার কেউ বলেছেন এটা অস্বীকৃতিমূলক প্রশ্নের অর্থে ব্যবহৃত (রূহুল মাআনী; ১২ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩০৭, ৭০৬)।
১৩

اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ افۡتَرٰىہُ ؕ قُلۡ فَاۡتُوۡا بِعَشۡرِ سُوَرٍ مِّثۡلِہٖ مُفۡتَرَیٰتٍ وَّادۡعُوۡا مَنِ اسۡتَطَعۡتُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ١٣

আম ইয়াকূলুনাফ তারা-হু কুল ফা’তূবি‘আশরি ছুওয়ারিম মিছলিহী মুফতারাইয়া-তিওঁ ওয়াদ‘ঊ মানিছতাতা‘তুম মিনদূ নিল্লা-হি ইন কুনতুম সা-দিকীন।

তবে কি তারা বলে, সে (নবী) নিজের পক্ষ থেকে এই ওহী রচনা করেছে? (হে নবী! তাদেরকে) বলে দাও, তাহলে তোমরাও এর মত দশটি স্বরচিত সূরা এনে উপস্থিত কর ১১ এবং (এ কাজে সাহায্যের জন্য) আল্লাহ ছাড়া যাকে ডাকতে পার ডেকে নাও- যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

তাফসীরঃ

১১. প্রথম দিকে তাদেরকে কুরআনের মত দশটি সূরা রচনা করার চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এ চ্যালেঞ্জ আরও সহজ করে দেওয়া হয়। সূরা বাকারা (২ : ২৩) ও সূরা ইউনুসে (১০ : ৩৮) কেবল একটি সূরা তৈরি করে আনতে বলা হয়েছে। কিন্তু আরব মুশরিকগণ, যারা নিজেদের সাহিত্যালংকার নিয়ে গর্ব করত, এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়নি।
১৪

فَاِلَّمۡ یَسۡتَجِیۡبُوۡا لَکُمۡ فَاعۡلَمُوۡۤا اَنَّمَاۤ اُنۡزِلَ بِعِلۡمِ اللّٰہِ وَاَنۡ لَّاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ فَہَلۡ اَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ ١٤

ফাইল্লাম ইয়াছতাজীবূলাকুম ফা‘লামূআন্নামাউনঝিলা বি‘ইলমিল্লা-হি ওয়া আল্লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ফাহাল আনতুম মুছলিমূন।

এরপরও যদি তারা তোমার কথা গ্রহণ না করে তবে (হে মানুষ!) জেনে রেখ এ ওহী কেবল আল্লাহর ইলম হতে অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কেউ নেই। সুতরাং তোমরা কি আত্মসমর্পণকারী হবে?
১৫

مَنۡ کَانَ یُرِیۡدُ الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا وَزِیۡنَتَہَا نُوَفِّ اِلَیۡہِمۡ اَعۡمَالَہُمۡ فِیۡہَا وَہُمۡ فِیۡہَا لَا یُبۡخَسُوۡنَ ١٥

মান কা-না ইউরীদুলহায়া-তাদদুনইয়া-ওয়াঝীনাতাহা-নুওয়াফফি ইলাইহিম আ‘মা-লাহুম ফীহা-ওয়াহুম ফীহা-লা-ইউবখাছূন।

যারা (কেবল) পার্থিব জীবন ও তার ঠাটবাট চায়, আমি তাদেরকে তাদের কর্মের পূর্ণ ফল এ দুনিয়ায়ই ভোগ করতে দেব এবং এখানে তাদের প্রাপ্য কিছু কম দেওয়া হবে না। ১২

তাফসীরঃ

১২. যারা আখেরাতকে বিশ্বাস করে না এবং যা-কিছু করে তা এ দুনিয়ার জন্যই করে, সেই কাফেরদেরকে তাদের দান-খয়রাত ইত্যাদি সৎকর্মের প্রতিদান দুনিয়াতেই দিয়ে দেওয়া হয়। আখেরাতে তারা এর বিনিময়ে কিছু পাবে না। কেননা ঈমান ছাড়া আখেরাতে কোনও সৎকর্ম গ্রহণযোগ্য নয়। অনুরূপ কোনও মুসলিমও যদি পার্থিব সুনাম-সুখ্যাতি, অর্থ-সম্পদ বা ক্ষমতা ইত্যাদি লাভের উদ্দেশ্যে কোনও সৎকাজ করে, তবে দুনিয়ায় তার এসব লাভ হতে পারে, কিন্তু আখেরাতে সে এর কোনও সওয়াব পাবে না। বরং ওয়াজিব ও ফরয ইবাদতসমূহে ইখলাস ও বিশুদ্ধ নিয়ত না থাকলে উল্টো গুনাহ হয়। আখেরাতে সেই সৎকর্মই গ্রহণযোগ্য, যা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের নিয়তে করা হয়।
১৬

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ لَیۡسَ لَہُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ اِلَّا النَّارُ ۫ۖ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوۡا فِیۡہَا وَبٰطِلٌ مَّا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ١٦

উলাইকাল্লাযীনা লাইছা লাহুম ফিল আ-খিরাতি ইল্লান্না-রু ওয়া হাবিতা মা-সানা‘ঊ ফীহা-ওয়া বা-তিলুম মা-কা-নূইয়া‘মালূন।

এরাই তারা, যাদের জন্য আখেরাতে জাহান্নাম ছাড়া কিছুই নেই এবং যা-কিছু কাজকর্ম তারা করেছিল, আখেরাতে তা নিষ্ফল হয়ে যাবে আর তারা যে আমল করছে (আখেরাতের হিসেবে) তা না করারই মত।
১৭

اَفَمَنۡ کَانَ عَلٰی بَیِّنَۃٍ مِّنۡ رَّبِّہٖ وَیَتۡلُوۡہُ شَاہِدٌ مِّنۡہُ وَمِنۡ قَبۡلِہٖ کِتٰبُ مُوۡسٰۤی اِمَامًا وَّرَحۡمَۃً ؕ اُولٰٓئِکَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِہٖ ؕ وَمَنۡ یَّکۡفُرۡ بِہٖ مِنَ الۡاَحۡزَابِ فَالنَّارُ مَوۡعِدُہٗ ۚ فَلَا تَکُ فِیۡ مِرۡیَۃٍ مِّنۡہُ ٭ اِنَّہُ الۡحَقُّ مِنۡ رَّبِّکَ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ١٧

আফামান কা-না ‘আলা-বাইয়িনাতিম মির রাব্বিহী ওয়া ইয়াতলূহু শা-হিদুম মিনহু ওয়ামিন কাবলিহী কিতা-বুমূছা-ইমা-মাওঁ ওয়া রাহমাতান উলাইকা ইউ’মিনূনা বিহী ওয়া মাইঁ ইয়াকফুর বিহী মিনাল আহঝা-বি ফান্না-রু মাও‘ইদুহূ ফালা-তাকুফী মিরইয়াতিম মিনহু ইন্নাহুল হাক্কুমির রাব্বিকা ওয়ালা-কিন্না আকছারান্না-ছি লাইউ’মিনূন।

আচ্ছা বল তো, সেই ব্যক্তি (তাদের মত কী করে হতে পারে) যে নিজ প্রতিপালকের পক্ষ হতে আগত উজ্জ্বল হিদায়াত (অর্থাৎ কুরআন)-এর উপর প্রতিষ্ঠিত আছে, যার সত্যতার এক প্রমাণ খোদ তার মধ্যেই তার অনুগামী হয়েছে ১৩ এবং তার পূর্বে মূসার কিতাবও (তার সত্যতার প্রমাণ বহন করে), যা মানুষের জন্য অনুসরণীয় ও রহমতস্বরূপ ছিল। এরূপ লোক এর (অর্থাৎ কুরআনের) প্রতি ঈমান রাখে। আর ওইসব দলের মধ্যে যে ব্যক্তি একে অস্বীকার করে, জাহান্নামই তার নির্ধারিত স্থান। ১৪ সুতরাং এর (অর্থাৎ কুরআনের) ব্যাপারে কোনও সন্দেহে পতিত হয়ো না। নিশ্চয়ই এটা তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে আগত সত্য। কিন্তু অধিকাংশ লোক ঈমান আনে না।

তাফসীরঃ

১৩. অর্থাৎ ইয়াহুদী, খ্রিস্টান, পৌত্তলিক, নাস্তিক প্রভৃতি যত দল ও জাতি আছে, সকলকেই কুরআনের প্রতি ঈমান আনতে হবে। যে তা করবে না তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। অর্থাৎ আখিরাতের নাজাত পূর্ণাঙ্গ কুরআনের প্রতি ঈমান আনার উপরই নির্ভরশীল। -অনুবাদক
১৮

وَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا ؕ  اُولٰٓئِکَ یُعۡرَضُوۡنَ عَلٰی رَبِّہِمۡ وَیَقُوۡلُ الۡاَشۡہَادُ ہٰۤؤُلَآءِ الَّذِیۡنَ کَذَبُوۡا عَلٰی رَبِّہِمۡ ۚ  اَلَا لَعۡنَۃُ اللّٰہِ عَلَی الظّٰلِمِیۡنَ ۙ ١٨

ওয়া মান আজলামূমিম্মানিফতারা-‘আলাল্লা-হি কাযিবান উলাইকা ইউ‘রাদূনা ‘আলারাব্বিহিম ওয়া ইয়াকূলুল আশহা-দুহাউলাইল্লাযীনা কাযাবূ‘আলা-রাব্বিহিম আলা-লা‘নাতুল্লা-হি ‘আলাজ্জা-লিমীন।

সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেয়? এরূপ লোকদেরকে তাদের প্রতিপালকের সামনে উপস্থিত করা হবে এবং সাক্ষ্যদাতাগণ বলবে, এরাই তারা, যারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি মিথ্যা আরোপ করত। ১৫ সকলে শুনে নিক, ওই জালেমদের উপর আল্লাহর লানত-

তাফসীরঃ

১৫. সাক্ষ্যদাতাদের মধ্যে রয়েছেন মানুষের আমল লিপিবদ্ধ করার দায়িত্বে নিযুক্ত ফেরেশতাগণ এবং সেই সকল নবী-রাসূল, যারা নিজ-নিজ উম্মত সম্পর্কে সাক্ষ্য দান করবেন।
১৯

الَّذِیۡنَ یَصُدُّوۡنَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ وَیَبۡغُوۡنَہَا عِوَجًا ؕ وَہُمۡ بِالۡاٰخِرَۃِ ہُمۡ کٰفِرُوۡنَ ١٩

আল্লাযীনা ইয়াসুদ্দূনা ‘আন ছাবীলিল্লা-হি ওয়া ইয়াবগূনাহা-‘ইওয়াজাওঁ ওয়াহুম বিলআখিরাতি হুম কা-ফিরূন।

যারা আল্লাহর পথ থেকে অন্যদেরকে নিবৃত্ত রাখত ও তাতে বক্রতা তালাশ করত ১৬ আর আখেরাতকে তারা বিলকুল অস্বীকার করত।

তাফসীরঃ

১৬. অর্থাৎ, সত্য দীন সম্পর্কে নানা রকম কূট প্রশ্ন তুলে তাকে বাঁকা সাব্যস্ত করার অপচেষ্টা চালায়।
২০

اُولٰٓئِکَ لَمۡ یَکُوۡنُوۡا مُعۡجِزِیۡنَ فِی الۡاَرۡضِ وَمَا کَانَ لَہُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مِنۡ اَوۡلِیَآءَ ۘ یُضٰعَفُ لَہُمُ الۡعَذَابُ ؕ مَا کَانُوۡا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ السَّمۡعَ وَمَا کَانُوۡا یُبۡصِرُوۡنَ ٢۰

উলাইকা লাম ইয়াকূনূ মু‘জিঝীনা ফিল আরদিওয়ামা-কা-না লাহুম মিন দূ নিল্লা-হি মিন আওলিয়াআ । ইউদা-‘আফুলাহুমুল ‘আযা-বু মা-কা-নূইয়াছতাতী‘ঊনাছছাম‘আ ওয়ামা-কা-নূইউবসিরূন।

এরূপ লোক পৃথিবীতে কোথাও আল্লাহ হতে নিজেদেরকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে না এবং আল্লাহ ছাড়া তাদের কোনও বন্ধু ও সাহায্যকারী লাভ হতে পারে না। তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দেওয়া হবে। ১৭ তারা (ঘৃণা ও বিদ্বেষের কারণে সত্য কথা) শুনতে পারত না এবং তারা (সত্য) দেখতেও পারত না।

তাফসীরঃ

১৭. এক শাস্তি তো তাদের নিজেদের কুফরের কারণে এবং আরেক শাস্তি অন্যদেরকে সত্যের পথে বাধা দেওয়ার কারণে।
২১

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ وَضَلَّ عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَفۡتَرُوۡنَ ٢١

উলাইকাল্লাযীনা খাছিরূ আনফুছাহুম ওয়াদাল্লা ‘আনহুম মা-কা-নূইয়াফতারূন।

তারাই সেই সব লোক, যারা নিজেদের জন্য লোকসানের সওদা করেছিল এবং তারা যে মাবুদ গড়ে নিয়েছিল, তা তাদের থেকে অন্তর্হিত হবে। ১৮

তাফসীরঃ

১৮. অর্থাৎ যেই মিথ্যা উপাস্যদের সম্পর্কে তাদের বিশ্বাস ছিল আল্লাহর কাছে তারা তাদের পক্ষে সুপারিশ করবে, তারা তাদের থেকে লাপাত্তা হয়ে যাবে। -অনুবাদক
২২

لَا جَرَمَ اَنَّہُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ ہُمُ الۡاَخۡسَرُوۡنَ ٢٢

লা-জারামা আন্নাহুম ফিল আ-খিরাতি হুমুল আখছারূন।

নিশ্চয়ই আখেরাতে তারাই সর্বাপেক্ষা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
২৩

اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَاَخۡبَتُوۡۤا اِلٰی رَبِّہِمۡ ۙ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ ۚ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ٢٣

ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ওয়া আখবাতুইলা-রাব্বিহিম উলাইকা আসহা-বুল জান্নাতি হুম ফীহা-খা-লিদূ ন।

(অন্য দিকে) যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে এবং নিজেদের প্রতিপালকের সামনে বিনীত প্রশান্ত ১৯ হয়ে গেছে, তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা তাতে সর্বদা থাকবে।

তাফসীরঃ

১৯. اخبتوا-এর ক্রিয়ামূল ‘ইখবাত’ যার উৎপত্তি الخبت হতে, অর্থ নিম্নভূমি। নিম্নভূমিতে কোন কিছু পড়লে তা সেখানে স্থির অনড় পড়ে থাকে। সুতরাং ইখবাত অর্থ নিচু নত হয়ে স্থির পড়ে থাকা। আয়াতে জান্নাতবাসীদের গুণ বলা হয়েছে যে, ঈমান ও ‘আমলে সালিহা’-এর সাথে তারা আল্লাহ তাআলার সামনে এমন বিনয়াবত থাকে যে, সবকিছু থেকে বিমুখ হয়ে স্থির প্রশান্ত মনে তাঁরই ইবাদত-আনুগত্যে মগ্ন থাকে। -অনুবাদক
২৪

مَثَلُ الۡفَرِیۡقَیۡنِ کَالۡاَعۡمٰی وَالۡاَصَمِّ وَالۡبَصِیۡرِ وَالسَّمِیۡعِ ؕ  ہَلۡ یَسۡتَوِیٰنِ مَثَلًا ؕ  اَفَلَا تَذَکَّرُوۡنَ ٪ ٢٤

মাছালুল ফারীকাইনি কালআ‘মা-ওয়াল আসাম্মি ওয়াল বাসীরি ওয়াছছামী‘ই হাল ইয়াছতাবিইয়া-নি মাছালান- আফালা-তাযাক্কারূন।

এ দল দু’টির উপমা অন্ধ ও বধির এবং চক্ষুষ্মান ও শ্রবণশক্তিসম্পন্নের মত। তুলনায় এরা উভয়ে কি সমান হতে পারে? তথাপি কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?
২৫

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا نُوۡحًا اِلٰی قَوۡمِہٖۤ ۫  اِنِّیۡ لَکُمۡ نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ ۙ ٢٥

ওয়া লাকাদ আরছালনা-নূহান ইলা-কাওমিহী ইন্নী লাকুম নাযীরুম মুবীন।

আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের কাছে এই বার্তা দিয়ে পাঠালাম যে, আমি তোমাদের জন্য এ বিষয়ের সুস্পষ্ট সতর্ককারী-
২৬

اَنۡ لَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّا اللّٰہَ ؕ اِنِّیۡۤ اَخَافُ عَلَیۡکُمۡ عَذَابَ یَوۡمٍ اَلِیۡمٍ ٢٦

আল্লা-তা‘বুদূইল্লাল্লা-হা ইন্নীআখা-ফু‘আলাইকুম ‘আযা-বা ইয়াওমিন আলীম।

যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ব্যাপারে এক মর্মন্তুদ দিবসের শাস্তির ভয় করি।
২৭

فَقَالَ الۡمَلَاُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ قَوۡمِہٖ مَا نَرٰىکَ اِلَّا بَشَرًا مِّثۡلَنَا وَمَا نَرٰىکَ اتَّبَعَکَ اِلَّا الَّذِیۡنَ ہُمۡ اَرَاذِلُنَا بَادِیَ الرَّاۡیِ ۚ وَمَا نَرٰی لَکُمۡ عَلَیۡنَا مِنۡ فَضۡلٍۭ بَلۡ نَظُنُّکُمۡ کٰذِبِیۡنَ ٢٧

ফাকালাল মালাউল্লাযীনা কাফারূ মিন কাওমিহী মা-নারা-কা ইল্লা-বাশারাম মিছলানাওয়ামা-নারা-কাততাবা‘আকা ইল্লাল্লাযীনা হুম আরা-যিলুনা-বা-দিয়াররা’ই ওয়ামানারা-লাকুম ‘আলাইনা-মিন ফাদলিম বাল নাজুন্নুকুম কা-যিবীন।

তার সম্প্রদায়ের যেই নেতৃবর্গ কুফর অবলম্বন করেছিল, তারা বলতে লাগল, আমরা তো তোমাকে আমাদের মতই মানুষ দেখছি, এর বেশি কিছু নয়। আমরা আরও দেখছি তোমার অনুসরণ করছে কেবল সেই সব লোক, যারা আমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বহীন এবং তাও ভাসা-ভাসা চিন্তার ভিত্তিতে এবং আমরা তো আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব দেখতে পাচ্ছি না; বরং আমাদের ধারণা তোমরা সকলে মিথ্যাবাদী।
২৮

قَالَ یٰقَوۡمِ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ کُنۡتُ عَلٰی بَیِّنَۃٍ مِّنۡ رَّبِّیۡ وَاٰتٰىنِیۡ رَحۡمَۃً مِّنۡ عِنۡدِہٖ فَعُمِّیَتۡ عَلَیۡکُمۡ ؕ اَنُلۡزِمُکُمُوۡہَا وَاَنۡتُمۡ لَہَا کٰرِہُوۡنَ ٢٨

কা-লা ইয়া-কাওমি আরাআইতুম ইন কুনতু‘আলা-বাইয়িনাতিম মির রাববী ওয়া আ-তা-নী রাহমাতাম মিন ‘ইনদিহী ফা‘উম্মিয়াত ‘আলাইকুম আনুলঝিমুকুমূহা-ওয়া আনতুম লাহাকা-রিহূন।

নূহ বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আমাকে একটু বল তো, আমি যদি আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আগত এক উজ্জ্বল হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি বিশেষভাবে নিজের পক্ষ থেকে এক রহমত (অর্থাৎ নবুওয়াত) দান করেন কিন্তু তোমাদের তা উপলব্ধিতে না আসে, তবে কি আমি তোমাদের উপর তা জবরদস্তিমূলকভাবে চাপিয়ে দেব, যখন তোমরা তা অপছন্দ কর?
২৯

وَیٰقَوۡمِ لَاۤ اَسۡئَلُکُمۡ عَلَیۡہِ مَالًا ؕ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلَی اللّٰہِ وَمَاۤ اَنَا بِطَارِدِ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ؕ اِنَّہُمۡ مُّلٰقُوۡا رَبِّہِمۡ وَلٰکِنِّیۡۤ اَرٰىکُمۡ قَوۡمًا تَجۡہَلُوۡنَ ٢٩

ওয়া ইয়া-কাওমি লাআছআলুকুম ‘আলাইহি মা-লান ইন আজরিয়া ইল্লা-‘আলাল্লা-হি ওয়ামাআনা-বিতা-রিদিল্লাযীনা আ-মানূ ইন্নাহুম মুলা-কূরাব্বিহিম ওয়ালাকিন্নীআরা-কুম কাওমান তাজহালূন।

এবং হে আমার সম্প্রদায়! আমি এর (অর্থাৎ এই তাবলীগের) বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনও সম্পদ চাই না। আমার পারিশ্রমিকের দায়িত্ব আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উপর নয়। যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে আমি তাড়িয়ে দিতে পারি না। নিশ্চয়ই তারা তাদের প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাত করবে। কিন্তু আমি তো দেখছি তোমরা অজ্ঞতাসুলভ কথা বলছ। ২০

তাফসীরঃ

২০. অবিশ্বাসীরা বলত, তুমি ওই অল্প আয়ের, নিম্ন পেশার অল্পবুদ্ধির ও নীচ স্তরের লোকগুলোকে তাড়িয়ে দিলে আমরা তোমার কাছে বসতে ও তোমার কথা শুনতে পারি। বস্তুত এটা ছিল তাদের অহমিকা। অর্থ ও ক্ষমতা এভাবেই মানুষকে অহংকারী করে তোলে এবং ঈমানের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণেই সব যুগে এই স্তরের লোক ঈমান থেকে দূরে থেকেছে এবং গরীব ও সাধারণ স্তরের মানুষ সহজে ঈমান কবুল করেছে। হযরত নূহ আলাইহিস সালাম তাদেরকে উত্তর দিয়েছেন যে, তোমরা আর্থিক দৈন্যদশা দেখে তাদেরকে হীন ভাবছ এবং সে কারণেই তাদেরকে তাড়িয়ে দেওয়ার মত অবান্তর কথা বলছ। বস্তুত গরীবী হাল কোন দোষ নয় যে, সেজন্য তাদেরকে তাড়িয়ে দেওয়া যাবে। বরং গরীব হওয়ার ফলেই তো তাদের পক্ষে ঈমান আনা সহজ হয়েছে এবং এর বদৌলতে তারা আল্লাহ তাআলার সাথে সসম্মানে মিলিত হতে পারবে। কিন্তু অহমিকাবশে তোমরা সেই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারছ না, যে কারণে এ রকম মূর্খতাসুলভ কথা বলছ। -অনুবাদক
৩০

وَیٰقَوۡمِ مَنۡ یَّنۡصُرُنِیۡ مِنَ اللّٰہِ اِنۡ طَرَدۡتُّہُمۡ ؕ اَفَلَا تَذَکَّرُوۡنَ ٣۰

ওয়া ইয়া-কাওমি মাইঁ ইয়ানসুরুনী মিনাল্লা-হি ইন তারাততুহুম আফালা-তাযাক্কারূন।

এবং হে আমার সম্প্রদায়! আমি যদি তাদেরকে তাড়িয়ে দেই, তবে আমাকে আল্লাহর (ধরা) থেকে কে রক্ষা করবে? তবুও কি তোমরা অনুধ্যান করবে না?
৩১

وَلَاۤ اَقُوۡلُ لَکُمۡ عِنۡدِیۡ خَزَآئِنُ اللّٰہِ وَلَاۤ اَعۡلَمُ الۡغَیۡبَ وَلَاۤ اَقُوۡلُ اِنِّیۡ مَلَکٌ وَّلَاۤ اَقُوۡلُ لِلَّذِیۡنَ تَزۡدَرِیۡۤ اَعۡیُنُکُمۡ لَنۡ یُّؤۡتِیَہُمُ اللّٰہُ خَیۡرًا ؕ اَللّٰہُ اَعۡلَمُ بِمَا فِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ ۚۖ اِنِّیۡۤ اِذًا لَّمِنَ الظّٰلِمِیۡنَ ٣١

ওয়ালাআকূলুলাকুম ‘ইনদী খাঝাইনুল্লা-হি ওয়ালাআ‘লামুল গাইবা ওয়ালাআকূলু ইন্নী মালাকুওঁ ওয়ালাআকূলুলিল্লাযীনা তাঝদারীআ‘ইউনুকুম লাইঁ ইউতিয়াহুমুল্লা-হু খাইরান আল্লা-হু আ‘লামুবিমা-ফীআনফুছিহিম ইন্নীইযাল লামিনাজ্জালিমীন।

আমি তোমাদেরকে বলছি না যে, আমার হাতে আল্লাহর ধন-ভাণ্ডার আছে, এবং এটাও নয় যে, আমি গায়েব জানি এবং আমি একথাও বলছি না যে, আমি কোনও ফেরেশতা। ২১ তোমাদের দৃষ্টিতে যারা হেয়, তাদের সম্পর্কে আমি একথা বলতে পারি না যে, আল্লাহ তাদেরকে কোনও মঙ্গল দান করবেন না। তাদের অন্তরে যা-কিছু আছে, তা আল্লাহই সর্বাপেক্ষা বেশি জানেন। আমি তাদের সম্পর্কে এরূপ কথা বললে নিশ্চয়ই আমি জালিমদের মধ্যে গণ্য হব।

তাফসীরঃ

২১. কাফেরদের ধারণা ছিল, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার নবী বা সান্নিধ্যপ্রাপ্ত বান্দা হবে, তার হাতে সব রকম ক্ষমতা থাকা, অদৃশ্য জগতের যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে তার জানা থাকা এবং তার মানুষ না হয়ে ফেরেশতা হওয়া অপরিহার্য। এ আয়াতে তাদের সে মূর্খতাসুলভ ধারণাকে রদ করা হয়েছে। হযরত নূহ আলাইহিস সালাম পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, মানুষের মধ্যে দুনিয়ার ধন-সম্পদ বিতরণ করা কিংবা অদৃশ্য জগতের সবকিছু সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা কোনও নবী ও ওলীর কাজ নয়। তাঁর উদ্দেশ্য তো কেবল মানুষের আকীদা-বিশ্বাস, কাজ-কর্ম ও আখলাক-চরিত্র সংশোধন করা। তার শিক্ষামালা এই উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। সুতরাং তার কাছে ওই সকল বিষয়ের আশা করা সম্পূর্ণ মূর্খতার পরিচায়ক। যারা বুযুর্গানে দীনের কাছে পার্থিব কোন উদ্দেশ্যে যাতায়াত করে, তাদেরকে পার্থিব ও সৃষ্টিগত বিষয়াবলী তথা হায়াত, মওত, রিযক, সুখণ্ডদুঃখ ইত্যাদিতে নিজেদের সংকট মোচনকারী মনে করে এবং আশা করে তারা তাদেরকে ভবিষ্যত সম্পর্কিত সবকিছু জানিয়ে দেবেন, তাদের জন্য এ আয়াতে সুস্পষ্ট হিদায়াত রয়েছে। আল্লাহ তাআলার এত বড় নবী যখন এসব বিষয়কে নিজ এখতিয়ার বহির্ভূত বলে ঘোষণা করেছেন, তখন এমন কে আছে যে এগুলোতে নিজের এখতিয়ার দাবী করতে পারে? হযরত নূহ আলাইহিস সালামের সঙ্গীদের সম্পর্কে কাফেরগণ বলেছিল, তারা নিম্ন শ্রেণীর লোক এবং তারা আন্তরিকভাবে ঈমান আনেনি। নূহ আলাইহিস সালাম তার উত্তরে বলেন, আমি একথা বলতে পারব না যে, তারা আন্তরিকভাবে ঈমান আনেনি এবং আল্লাহ তাআলা তাদেরকে কোনো কল্যাণ তথা তাদের আমলের সওয়াব দান করবেন না।
৩২

قَالُوۡا یٰنُوۡحُ قَدۡ جٰدَلۡتَنَا فَاَکۡثَرۡتَ جِدَالَنَا فَاۡتِنَا بِمَا تَعِدُنَاۤ اِنۡ کُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِیۡنَ ٣٢

কা-লূ ইয়া-নূহু কাদ জা-দালতানা ফাআকছারতা জিদা-লানা- ফা’তিনা- বিমাতা‘ইদুনাইন কুনতা মিনাসসা-দিকীন।

তারা বলল, হে নূহ! তুমি আমাদের সাথে হুজ্জত করেছ এবং আমাদের সাথে বড় বেশি হুজ্জত করেছ। এখন তুমি যদি সত্যবাদী হও, তবে তুমি আমাদেরকে যার (অর্থাৎ যে শাস্তির) হুমকি দিচ্ছ, তা হাজির কর।
৩৩

قَالَ اِنَّمَا یَاۡتِیۡکُمۡ بِہِ اللّٰہُ اِنۡ شَآءَ وَمَاۤ اَنۡتُمۡ بِمُعۡجِزِیۡنَ ٣٣

কা-লা ইন্নামা-ইয়া’তীকুম বিহিল্লা-হু ইন শাআ ওয়ামাআনতুম বিমু‘জিঝীন।

নূহ বলল, তা তো আল্লাহই হাজির করবেন, যদি তিনি ইচ্ছা করেন। আর তোমরা তাকে অক্ষম করতে পারবে না।
৩৪

وَلَا یَنۡفَعُکُمۡ نُصۡحِیۡۤ اِنۡ اَرَدۡتُّ اَنۡ اَنۡصَحَ لَکُمۡ اِنۡ کَانَ اللّٰہُ یُرِیۡدُ اَنۡ یُّغۡوِیَکُمۡ ؕ  ہُوَ رَبُّکُمۡ ۟  وَاِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ ؕ ٣٤

ওয়ালা-ইয়ানফা‘উকুম নুসহীইন আরাততুআন আনসাহা লাকুম ইন কা-নাল্লা-হু ইউরীদু আইঁ ইউগবিয়াকুম হুওয়া রাব্বুকুম ওয়া ইলাইহি তুরজা‘ঊন।

আমি তোমাদের কল্যাণ কামনা করতে চাইলেও আমার উপদেশ তোমাদের কোনও কাজে আসতে পারে না, যদি (তোমাদের জেদ ও হঠকারিতার কারণে) আল্লাহই তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করতে চান। তিনিই তোমাদের প্রতিপালক এবং তাঁরই কাছে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
৩৫

اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ افۡتَرٰىہُ ؕ  قُلۡ اِنِ افۡتَرَیۡتُہٗ فَعَلَیَّ اِجۡرَامِیۡ وَاَنَا بَرِیۡٓءٌ مِّمَّا تُجۡرِمُوۡنَ ٪ ٣٥

আম ইয়াকূলূনাফ তারা-হু কুল ইনিফ তারাইতুহূফা‘আলাইয়া ইজরা-মী ওয়া আনা বারীউম মিম্মা-তুজরিমূন।

আচ্ছা তারা (অর্থাৎ আরবের এসব কাফের) বলে না কি যে, সে (অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ কুরআন নিজের পক্ষ থেকে রচনা করেছে? (হে নবী!) বলে দাও, আমি এটা রচনা করে থাকলে আমার অপরাধের দায় আমার নিজের উপরই বর্তাবে। আর তোমরা যে অপরাধ করছ আমি সে জন্য দায়ী নই। ২২

তাফসীরঃ

২২. হযরত নূহ আলাইহিস সালামের ঘটনার মাঝখানে একটি অন্তর্বর্তী বাক্য হিসেবে এ আয়াতটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। বলা হচ্ছে যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত নূহ আলাইহিস সালামের ঘটনা যে এমন বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করলেন, তা তিনি এসব জানলেন কোথা থেকে? বলাবাহুল্য, এ জ্ঞান লাভের জন্য তাঁর ওহী ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যম নেই এবং বর্ণনার যে শৈলী ও ভঙ্গিতে তিনি এটা উপস্থাপন করেছেন তাও তাঁর মনগড়া হতে পারে না। এটা এ বিষয়ের এক সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, এ কুরআন নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই অবতীর্ণ। এতদসত্ত্বেও আরবের কাফেরগণ যে এটা অস্বীকার করছে এর কারণ তাদের জেদী মানসিকতা ছাড়া কিছুই নয়।
৩৬

وَاُوۡحِیَ اِلٰی نُوۡحٍ اَنَّہٗ لَنۡ یُّؤۡمِنَ مِنۡ قَوۡمِکَ اِلَّا مَنۡ قَدۡ اٰمَنَ فَلَا تَبۡتَئِسۡ بِمَا کَانُوۡا یَفۡعَلُوۡنَ ۚۖ ٣٦

ওয়া ঊহিয়া ইলা-নূহিনআন্নাহূলাইঁ ইউ’মিনা মিন কাওমিকা ইল্লা-মান কাদ আ-মানা ফালাতাবতাইছ বিমা-কা-নূইয়াফ‘আলূন।

এবং নূহের কাছে ওহী পাঠানো হল যে, এ পর্যন্ত তোমার সম্প্রদায়ের যে সকল লোক ঈমান এনেছে তারা ছাড়া আর কেউ ঈমান আনবে না। সুতরাং তারা যা-কিছু করছে সে জন্য তুমি দুঃখ করো না।
৩৭

وَاصۡنَعِ الۡفُلۡکَ بِاَعۡیُنِنَا وَوَحۡیِنَا وَلَا تُخَاطِبۡنِیۡ فِی الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا ۚ اِنَّہُمۡ مُّغۡرَقُوۡنَ ٣٧

ওয়াসনা‘ইল ফূলকা বিআ‘ইউনিনা-ওয়া ওয়াহয়িনা-ওয়ালা-তুখা-তিবনী ফিল্লাযীনা জালামূ ইন্নাহুম মুগরাকূন।

এবং আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার ওহীর সাহায্যে তুমি নৌকা তৈরি কর। ২৩ আর যারা জালেম হয়ে গেছে তাদের সম্পর্কে তুমি আমার সঙ্গে কোন কথা বলো না। এবার তারা অবশ্যই নিমজ্জিত হবে।

তাফসীরঃ

২৩. হযরত নূহ আলাইহিস সালাম প্রায় এক হাজার বছর আয়ু লাভ করেছিলেন। এই দীর্ঘকাল যাবৎ তিনি নিজ সম্প্রদায়কে পরম দরদের সাথে দীনের পথে ডাকতে থাকেন এবং এর বিনিময়ে তাদের পক্ষ হতে উপর্যুপরি উৎপীড়ন ভোগ করতে থাকেন। তা সত্ত্বেও তারা তাঁর ডাকে সাড়া দেয়নি। জনা কতক লোক ছাড়া বাকি সকলেই তাদের কুফর ও দুষ্কর্মে অটল থাকে। পরিশেষে আল্লাহ তাআলা তাঁকে জানান যে, এসব লোক ঈমান আনার নয়। সুতরাং তাদের উপর মহাপ্লাবনের শাস্তি এসে পড়বে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে একটি নৌকা বানাতে আদেশ করলেন, যাতে সে নৌকায় চড়ে তিনি ও তাঁর অনুসারী মুমিনগণ আত্মরক্ষা করতে পারেন। কোনও কোনও মুফাসসির বলেন, সর্বপ্রথম নৌকা তৈরির কাজ হযরত নূহ আলাইহিস সালামই করেছিলেন এবং তিনি তা করেছিলেন ওহীর নির্দেশনায়। তাঁর তৈরি নৌকাটি ছিল তিন তলা বিশিষ্ট।
৩৮

وَیَصۡنَعُ الۡفُلۡکَ ۟  وَکُلَّمَا مَرَّ عَلَیۡہِ مَلَاٌ مِّنۡ قَوۡمِہٖ سَخِرُوۡا مِنۡہُ ؕ  قَالَ اِنۡ تَسۡخَرُوۡا مِنَّا فَاِنَّا نَسۡخَرُ مِنۡکُمۡ کَمَا تَسۡخَرُوۡنَ ؕ ٣٨

ওয়া ইয়াসনা‘উল ফুলকা ওয়া কুল্লামা-মাররা ‘আলাইহি মালাউম মিন কাওমিহী ছাখিরূ মিনহু কা-লা ইন তাছখারূ মিন্না-ফাইন্না-নাছখারু মিনকুম কামা-তাছখারূন।

সুতরাং তিনি নৌকা বানাতে শুরু করলেন। যখনই তার সম্প্রদায়ের কতক সর্দার তাঁর কাছ দিয়ে যেত, তখন তারা তাকে নিয়ে উপহাস করত। ২৪ নূহ বলল, তোমরা যদি আমাকে নিয়ে উপহাস কর, তবে তোমরা যেমন উপহাস করছ, তেমনি আমরাও তোমাদের নিয়ে উপহাস করছি। ২৫

তাফসীরঃ

২৪. অর্থাৎ, তোমাদের প্রতি আমাদেরও এ কারণে হাসি আসছে যে, তোমাদের মাথার উপর আযাব এসে পড়েছে অথচ তোমরা এখনও হাসি-তামাশায় লিপ্ত রয়েছ।
৩৯

فَسَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ ۙ مَنۡ یَّاۡتِیۡہِ عَذَابٌ یُّخۡزِیۡہِ وَیَحِلُّ عَلَیۡہِ عَذَابٌ مُّقِیۡمٌ ٣٩

ফাছাওফা তা‘লামূনা মাইঁ ইয়া’তীহি ‘আযা-বুইঁ ইউখঝীহি ওয়া ইয়াহিল্লু‘আলাইহি ‘আযা-বুম মুকীম।

এবং শীঘ্রই তোমরা টের পাবে কার উপর এমন শাস্তি আপতিত হয়, যা তাকে লাঞ্ছিত করে ছাড়বে এবং কার উপর অবতীর্ণ হয় স্থায়ী শাস্তি।
৪০

حَتّٰۤی اِذَا جَآءَ اَمۡرُنَا وَفَارَ التَّنُّوۡرُ ۙ قُلۡنَا احۡمِلۡ فِیۡہَا مِنۡ کُلٍّ زَوۡجَیۡنِ اثۡنَیۡنِ وَاَہۡلَکَ اِلَّا مَنۡ سَبَقَ عَلَیۡہِ الۡقَوۡلُ وَمَنۡ اٰمَنَ ؕ وَمَاۤ اٰمَنَ مَعَہٗۤ اِلَّا قَلِیۡلٌ ٤۰

হাত্তা-ইযা-জাআ আমরুনা-ওয়া ফা-রাত্তাননূরু কুলনাহমিল ফীহা-মিন কুল্লিন ঝাওজাইনিছ নাইনি ওয়া আহলাকা ইল্লা-মান ছাবাকা ‘আলাইহিল কাওলুওয়ামান আ-মানা ওয়ামাআ-মানা মা‘আহূইল্লা-কালীল।

পরিশেষে যখন আমার হুকুম এসে গেল এবং তান্নূর ২৬ উথলে উঠল, তখন আমি (নূহকে) বললাম, ওই নৌকায় প্রত্যেক প্রকার প্রাণী হতে দু’টি করে যুগল তুলে লও ২৭ এবং তোমার পরিবারবর্গকেও, তবে তাদের মধ্যে যাদের সম্পর্কে পূর্বে বলা হয়েছে (যে, তারা কুফরীর কারণে নিমজ্জিত হবে) তারা ব্যতীত এবং (তুলে নাও) যারা ঈমান এনেছে তাদেরকেও। বস্তুত অল্প সংখ্যক লোকই তার সঙ্গে ঈমান এনেছিল।

তাফসীরঃ

২৬. যেসব প্রাণী মানুষের প্রয়োজন তা যাতে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে না যায় তাই আদেশ দেওয়া হল, সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রাণী থেকে এক জোড়া করে নৌকায় তুলে নাও, যাতে তাদের বংশ রক্ষা পায় এবং বন্যার পর তাদেরকে কাজে লাগানো যায়।
৪১

وَقَالَ ارۡکَبُوۡا فِیۡہَا بِسۡمِ اللّٰہِ مَ‍‍جۡؔرٖىہَا وَمُرۡسٰىہَا ؕ اِنَّ رَبِّیۡ لَغَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٤١

ওয়া কা-লার কাবূফীহা-বিছমিল্লা-হি মাজরেহা-ওয়া মুরছা-হা- ইন্না রাববী লাগাফূরুর রাহীম।

নূহ (তাদের সকলকে) বলল, তোমরা এ নৌকায় আরোহণ কর। এর চলাও আল্লাহর নামে এবং নোঙ্গর করাও। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
৪২

وَہِیَ تَجۡرِیۡ بِہِمۡ فِیۡ مَوۡجٍ کَالۡجِبَالِ ۟ وَنَادٰی نُوۡحُۨ ابۡنَہٗ وَکَانَ فِیۡ مَعۡزِلٍ یّٰـبُنَیَّ ارۡکَبۡ مَّعَنَا وَلَا تَکُنۡ مَّعَ الۡکٰفِرِیۡنَ ٤٢

ওয়া হিয়া তাজরী বিহিম ফী মাওজিন কালজিবা-লি ওয়া না-দা-নূহুনিবনাহূওয়া কা-না ফী মা‘ঝিলিইঁ ইয়া-বুনাইয়ার কাব মা‘আনা-ওয়ালা তাকুম মা‘আল কা-ফিরীন।

সে নৌকা পর্বত-প্রমাণ তরঙ্গরাশির মধ্যে তাদের নিয়ে বয়ে চলছিল। নূহ তার যে পুত্র সকলের থেকে পৃথক ছিল, তাকে ডেকে বলল, বাছা! আমাদের সাথে আরোহণ কর এবং কাফেরদের সাথে থেক না। ২৮

তাফসীরঃ

২৮. হযরত নূহ আলাইহিস সালামের অন্যান্য পুত্রগণ তো নৌকায় সওয়ার হয়েছিল, কিন্তু তাঁর ‘কিনআন’ নামক পুত্র সওয়ার হয়নি। সে ছিল কাফের এবং কাফেরদের সাথেই ওঠাবসা করত। সম্ভবত তার কাফের হওয়ার বিষয়টা হযরত নূহ আলাইহিস সালামের জানা ছিল না; তাঁর ধারণা ছিল, কেবল সঙ্গদোষই তাঁর সমস্যা। অথবা তিনি জানতেন সে কাফের, কিন্তু আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন সে মুসলিম হয়ে যাক। তাই প্রথমে তাকে নৌকায় চড়ার জন্য ডাকেন তারপর তার জন্য দু‘আ করেন, যেমন সামনে ৪৫ নং আয়াতে আসছে, যাতে সেও নৌকায় চড়ার অনুমতি লাভ করে, অর্থাৎ, কাফের হয়ে থাকলে যেন ঈমানের তাওফীক লাভ করে। আল্লাহ তাআলার ওয়াদা ছিল হযরত নূহ আলাইহিস সালামের পরিবারবর্গের মধ্যে যারা মুমিন তারা সকলেই আযাব থেকে রক্ষা পাবে। তাই হযরত নূহ আলাইহিস সালাম সে ওয়াদার কথাও উল্লেখ করলেন। আল্লাহ তাআলা উত্তরে জানালেন, সে কাফের এবং তার ভাগ্যে ঈমান নেই। আর এ কারণে বাস্তবিকপক্ষে সে তোমার পরিবারভুক্ত নয়। তোমার জানা ছিল না যে, তার ভাগ্যে ঈমান নেই আর সে কারণেই তুমি তার নাজাত বা ঈমানের জন্য দু‘আ করেছ। এ কথাই সামনের আয়াতে বোঝানো হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে, তুমি আমার কাছে এমন জিনিস চেও না, যে সম্পর্কে তোমার জানা নেই।
৪৩

قَالَ سَاٰوِیۡۤ اِلٰی جَبَلٍ یَّعۡصِمُنِیۡ مِنَ الۡمَآءِ ؕ قَالَ لَا عَاصِمَ الۡیَوۡمَ مِنۡ اَمۡرِ اللّٰہِ اِلَّا مَنۡ رَّحِمَ ۚ وَحَالَ بَیۡنَہُمَا الۡمَوۡجُ فَکَانَ مِنَ الۡمُغۡرَقِیۡنَ ٤٣

কা-লা ছাআ-বীইলা জাবালিইঁ ইয়া‘সিমুনী মিনাল মাই কা-লা লা-‘আ-সিমাল ইয়াওমা মিন আমরিল্লা-হি ইল্লা-মার রাহিমা ওয়াহা-লা বাইনাহুমাল মাওজুফাকা-না মিনাল মুগরাকীন।

সে বলল, আমি এখনই এমন এক পাহাড়ে আশ্রয় নেব, যা আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে। নূহ বলল, আজ আল্লাহর হুকুম থেকে কাউকে রক্ষা করার কেউ নেই, কেবল সেই ছাড়া যার প্রতি আল্লাহ দয়া করবেন। অতঃপর ঢেউ তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দিল এবং সেও নিমজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হল।
৪৪

وَقِیۡلَ یٰۤاَرۡضُ ابۡلَعِیۡ مَآءَکِ وَیٰسَمَآءُ اَقۡلِعِیۡ وَغِیۡضَ الۡمَآءُ وَقُضِیَ الۡاَمۡرُ وَاسۡتَوَتۡ عَلَی الۡجُوۡدِیِّ وَقِیۡلَ بُعۡدًا لِّلۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ ٤٤

ওয়া-কীলা ইয়াআরদুবলা‘ঈমাআকি ওয়া ইয়া-ছামাউআকলি‘ঈ ওয়া গীদাল মাউওয়াকুদিয়াল আমরু ওয়াছতাওয়াত ‘আলাল জুদিইয়ি ওয়া কীলা বু‘দাল লিলকাওমিজ্জা-লিমীন।

এবং হুকুম দেওয়া হল, হে ভূমি! তুমি নিজ পানি গ্রাস করে নাও এবং হে আকাশ! তুমি ক্ষান্ত হও। সুতরাং পানি নেমে গেল এবং বিষয়টি চুকিয়ে দেওয়া হল। ২৯ আর নৌকা জুদী পাহাড়ে এসে থেমে গেল ৩০ এবং বলে দেওয়া হল, ধ্বংস সেই সম্প্রদায়ের জন্য, যারা জালিম!

তাফসীরঃ

২৯. এটা উত্তর ইরাকে অবস্থিত একটি পাহাড়ের নাম। পাহাড়টি কুর্দিস্তান থেকে আর্মেনিয়া পর্যন্তবিস্তৃত দীর্ঘ এক পর্বতশ্রেণীর অংশ। বাইবেলে এ পাহাড়ের নাম বলা হয়েছে ‘আরারাত’।
৪৫

وَنَادٰی نُوۡحٌ رَّبَّہٗ فَقَالَ رَبِّ اِنَّ ابۡنِیۡ مِنۡ اَہۡلِیۡ وَاِنَّ وَعۡدَکَ الۡحَقُّ وَاَنۡتَ اَحۡکَمُ الۡحٰکِمِیۡنَ ٤٥

ওয়া না-দা-নূহুর রাব্বাহূফাকা-লা রাব্বি ইন্নাবনী মিন আহলী ওয়া ইন্না ওয়া‘দাকাল হাক্কু আনতা আহকামুল হা-কিমীন।

নূহ তার প্রতিপালককে ডাক দিয়ে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার পুত্র তো আমার পরিবারেরই একজন! এবং নিশ্চয়ই তোমার ওয়াদা সত্য এবং তুমি সকল বিচারকের শ্রেষ্ঠ বিচারক! ৩১

তাফসীরঃ

৩১. অর্থাৎ প্রতিটি বিষয়ে তোমার পরিপূর্ণ ক্ষমতা আছে। তুমি ইচ্ছা করলে তাকে ঈমান আনার তাওফীক দিতে পার। আর এভাবে সে যদি ঈমান আনে, তবে ঈমানদারদের অনুকূলে তোমার যে ওয়াদা আছে, তা তার ব্যাপারেও পূরণ হতে পারে।
৪৬

قَالَ یٰنُوۡحُ اِنَّہٗ لَیۡسَ مِنۡ اَہۡلِکَ ۚ اِنَّہٗ عَمَلٌ غَیۡرُ صَالِحٍ ٭۫ۖ فَلَا تَسۡـَٔلۡنِ مَا لَـیۡسَ لَکَ بِہٖ عِلۡمٌ ؕ اِنِّیۡۤ اَعِظُکَ اَنۡ تَکُوۡنَ مِنَ الۡجٰہِلِیۡنَ ٤٦

কা-লা ইয়া-নূহুইন্নাহূলাইছা মিন আহলিকা ইন্নাহূ‘আমালুন গাইরু সা-লিহিন ফালা-তাছআলনি মা-লাইছা লাকা বিহী ‘ইলমুন ইন্নী আ‘ইজুকা আন তাকূনা মিনাল জা-হিলীন।

আল্লাহ বললেন, হে নূহ! জেনে রেখ, সে তোমার পরিবারবর্গের অন্তর্ভুক্ত নয়। সে তো অসৎ কর্মে কলুষিত। সুতরাং তুমি আমার কাছে এমন কিছু চেও না, যে সম্পর্কে তোমার কোনও জ্ঞান নেই। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি তুমি অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
৪৭

قَالَ رَبِّ اِنِّیۡۤ اَعُوۡذُ بِکَ اَنۡ اَسۡـَٔلَکَ مَا لَـیۡسَ لِیۡ بِہٖ عِلۡمٌ ؕ وَاِلَّا تَغۡفِرۡ لِیۡ وَتَرۡحَمۡنِیۡۤ اَکُنۡ مِّنَ الۡخٰسِرِیۡنَ ٤٧

কা-লা রাব্বি ইন্নীআঊযুবিকা আন আছআলাকা মা-লাইছা লী বিহী ‘ইলমুওঁ ওয়া ইল্লাতাগফিরলী ওয়া তারহামনী আকুম মিনাল খা-ছিরীন।

নূহ বলল, হে আমার প্রতিপালক! যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই, ভবিষ্যতে আপনার কাছে তা চাওয়া হতে আমি আপনার আশ্রয় চাই। আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন ও আমার প্রতি দয়া না করেন, তবে আমিও ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।
৪৮

قِیۡلَ یٰنُوۡحُ اہۡبِطۡ بِسَلٰمٍ مِّنَّا وَبَرَکٰتٍ عَلَیۡکَ وَعَلٰۤی اُمَمٍ مِّمَّنۡ مَّعَکَ ؕ وَاُمَمٌ سَنُمَتِّعُہُمۡ ثُمَّ یَمَسُّہُمۡ مِّنَّا عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ٤٨

কীলা ইয়া-নূহুহবিতবিছালা-মিম মিন্না-ওয়া বারাকা-তিন ‘আলাইকা ওয়া ‘আলাউমামিম মিম্মাম মা‘আকা ওয়া উমামুন ছানুমাত্তি‘উহুম ছু ম্মা ইয়ামাছছুহুম মিন্না‘আযা-বুন আলীম।

বলা হল, হে নূহ! এবার (নৌকা থেকে) নেমে যাও আমার পক্ষ হতে সেই শান্তি ও বরকতসহ, যা তোমার জন্যও এবং তোমার সঙ্গে যে ‘সম্প্রদায়সমূহ’ আছে তাদের জন্যও। আর কিছু সম্প্রদায় এমন রয়েছে, যাদেরকে আমি (দুনিয়ায়) জীবন উপভোগ করতে দেব, তারপর আমার পক্ষ হতে তাদেরকে এক যন্ত্রণাময় শাস্তি স্পর্শ করবে। ৩২

তাফসীরঃ

৩২. হযরত নূহ আলাইহিস সালামের সঙ্গীদের জন্য শান্তি ও বরকতের যে ওয়াদা করা হয়েছে, তাতে ‘সম্প্রদায়সমূহ’ শব্দ ব্যবহার করে ইশারা করা হয়েছে যে, এখন যদিও তারা অল্পসংখ্যক, কিন্তু তাদের বংশে বহু সম্প্রদায় জন্ম নেবে এবং তারা সত্য দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। তাই শান্তি ও বরকতে তারাও অংশীদার থাকবে। তবে শেষে বলা হয়েছে, তাদের বংশে এমন কিছু সম্প্রদায়ও জন্ম নেবে, যারা সত্য দীনের উপর কায়েম থাকবে না। ফলে দুনিয়ায় তো তাদেরকে কিছু কালের জন্য জীবন উপভোগের সুযোগ দেওয়া হবে, কিন্তু কুফরের কারণে তাদের শেষ পরিণাম শুভ হবে না। হয়ত দুনিয়াতেও এবং আখেরাতে তো অবশ্যই তাদেরকে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।
৪৯

تِلۡکَ مِنۡ اَنۡۢبَآءِ الۡغَیۡبِ نُوۡحِیۡہَاۤ اِلَیۡکَ ۚ  مَا کُنۡتَ تَعۡلَمُہَاۤ اَنۡتَ وَلَا قَوۡمُکَ مِنۡ قَبۡلِ ہٰذَا ؕۛ  فَاصۡبِرۡ ؕۛ  اِنَّ الۡعَاقِبَۃَ لِلۡمُتَّقِیۡنَ ٪ ٤٩

তিলকা মিন আমবাইল গাইবি নূহীহাইলাইকা মা-কুনতা তা‘লামুহা-আনতা ওয়ালাকাওমুকা মিন কাবলি হা-যা- ফাসবির ইন্নাল ‘আ-কিবাতা লিলমুত্তাকীন।

(হে নবী!) এগুলো গায়েবের কিছু বৃত্তান্ত, যা আমি ওহীর মাধ্যমে তোমাকে জানাচ্ছি। এসব বৃত্তান্ত তুমিও ইতঃপূর্বে জানতে না এবং তোমার সম্প্রদায়ও না। সুতরাং ধৈর্য ধারণ কর। শেষ পরিণাম মুত্তাকীদেরই অনুকূলে থাকবে। ৩৩

তাফসীরঃ

৩৩. হযরত নূহ আলাইহিস সালামের ঘটনা বর্ণনা করার পর এ আয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে দু’টি সত্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। (এক) এ ঘটনা কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই নয়; বরং কুরাইশ এবং অকিতাবীদের মধ্যে কেউ এর আগে জানত না। আর কিতাবীদের থেকে তাঁর এসব শেখারও কোনও সুযোগ ছিল না। সুতরাং এটা পরিষ্কার যে, কেবল ওহীর মাধ্যমেই তিনি এটা জানতে পেরেছেন। এর দ্বারা তাঁর নবুওয়াত ও রিসালাত সপ্রমাণ হয়। (দুই) নিজ সম্প্রদায়ের পক্ষ হতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে অবিশ্বাস ও উৎপীড়নের সম্মুখীন হতে হয়েছিল, সে ব্যাপারে এ ঘটনার মাধ্যমে তাকে প্রথমত সবরের উপদেশ দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় সান্তনা দেওয়া হয়েছে যে, শুরুর দিকে হযরত নূহ আলাইহিস সালামকে কঠিন-কঠিন পরিস্থিতির মুকাবিলা করতে হলেও শেষ পরিণাম যেমন তাঁরই অনুকূলে থেকেছে, তেমনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরই বিজয় অর্জিত হবে।
৫০

وَاِلٰی عَادٍ اَخَاہُمۡ ہُوۡدًا ؕ قَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرُہٗ ؕ اِنۡ اَنۡتُمۡ اِلَّا مُفۡتَرُوۡنَ ٥۰

ওয়া ইলা- ‘আ-দিন আখা-হুম হূদান কা-লা ইয়া-কাওমি‘বুদুল্লা-হা মা-লাকুম মিন ইলা-হিন গাইরুুহূ ইন আনতুম ইল্লা-মুফতারূন।

আর আদ জাতির কাছে আমি তাদের ভাই হুদকে নবী বানিয়ে পাঠালাম। ৩৪ সে বলল, হে আমার কওম! আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনও মাবুদ নেই। প্রকৃতপক্ষে তোমরা মিথ্যা রচনাকারী বৈ নও।

তাফসীরঃ

৩৪. ইতঃপূর্বে সূরা আরাফে (৭ : ৬৫) আদ জাতির সংক্ষিপ্ত পরিচয় গত হয়েছে।
৫১

یٰقَوۡمِ لَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡہِ اَجۡرًا ؕ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلَی الَّذِیۡ فَطَرَنِیۡ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ ٥١

ইয়া-কাওমি লাআছআলুকুম ‘আলাইহি আজরান ইন আজরিয়া ইল্লা-‘আলাল্লাযী ফাতারানী আফালা- তা‘কিলূন।

হে আমার কওম! আমি এর (অর্থাৎ এই প্রচার কার্যের) বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনও পারিশ্রমিক চাই না। আমার পারিতোষিক তো অন্য কেউ নয়; বরং সেই সত্তাই নিজ দায়িত্বে রেখেছেন, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তারপরও কি তোমরা বুদ্ধিকে কাজে লাগাবে না?
৫২

وَیٰقَوۡمِ اسۡتَغۡفِرُوۡا رَبَّکُمۡ ثُمَّ تُوۡبُوۡۤا اِلَیۡہِ یُرۡسِلِ السَّمَآءَ عَلَیۡکُمۡ مِّدۡرَارًا وَّیَزِدۡکُمۡ قُوَّۃً اِلٰی قُوَّتِکُمۡ وَلَا تَتَوَلَّوۡا مُجۡرِمِیۡنَ ٥٢

ওয়া ইয়া-কাওমিছতাগফিরূ রাব্বাকুমছুম্মা তূবূইলাইহি; ইয়ুরছিলিছছামাআ ‘আলাইকুম মিদরারাওঁ ওয়া ইয়াঝিদকুমকুওওয়াতান ইলা-কুওওয়াতিকুমওয়ালা-তাতাওয়াল্লাও মুজরিমীন।

হে আমার কওম! নিজেদের প্রতিপালকের কাছে গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তারই দিকে রুজু হও। তিনি তোমাদের প্রতি আকাশ থেকে মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন ৩৫ এবং তোমাদের বর্তমান শক্তির সাথে বাড়তি আরও শক্তি যোগাবেন। সুতরাং তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিও না।

তাফসীরঃ

৩৫. শুরুতে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত করেছিলেন, যাতে তারা ঔদাসিন্য ত্যাগ করে কিছুটা সচেতন হয়। এ সময় হযরত হুদ আলাইহিস সালাম তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, এটা তোমাদের প্রতি আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে এক কষাঘাত স্বরূপ। এখনও সময় আছে। তোমরা যদি মূর্তিপূজা ত্যাগ করে আল্লাহ তাআলার অভিমুখী হও, তবে তোমরা এ খরা ও দুর্ভিক্ষ থেকে মুক্তি পেতে পার এবং আল্লাহ তাআলা তোমাদের প্রতি পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃষ্টি বর্ষণ করতে পারেন।
৫৩

قَالُوۡا یٰہُوۡدُ مَا جِئۡتَنَا بِبَیِّنَۃٍ وَّمَا نَحۡنُ بِتَارِکِیۡۤ اٰلِہَتِنَا عَنۡ قَوۡلِکَ وَمَا نَحۡنُ لَکَ بِمُؤۡمِنِیۡنَ ٥٣

কা-লূইয়া-হূদুমা-জি’তানা-ব্বিাইয়িনাতিওঁ ওয়ামা-নাহনুবিতা-রিকী আ-লিহাতিনা- ‘আন কাওলিকা ওয়ামা-নাহনুলাকা বিমু’মিনীন।

তারা বলল, হে হুদ! তুমি আমাদের কাছে কোনও উজ্জ্বল নিদর্শন নিয়ে আসনি ৩৬ এবং আমরা কেবল তোমার কথায় আমাদের উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করবার নই এবং আমরা তোমার কথায় ঈমানও আনতে পারি না।

তাফসীরঃ

৩৬. উজ্জ্বল নিদর্শন দ্বারা তারা তাদের ফরমায়েশী মুজিযার কথা বোঝাচ্ছিল। হযরত হুদ আলাইহিস সালাম তাদের সামনে বহু যুক্তি-প্রমাণ পেশ করেছিলেন, যা তাদের সত্য বোঝার পক্ষে যথেষ্ট ছিল, কিন্তু তারা তাতে ভ্রুক্ষেপ না করে একই কথা বলে যাচ্ছিল। তাদের কথা ছিল, আমরা তোমাকে যে মুজিযা ও নিদর্শন দেখাতে বলছি, তাই দেখাও। বলাবাহুল্য, নবীগণ নিজেদেরকে মানুষের ইচ্ছামত কারিশমা দেখানোর কাজে উৎসর্গ করতে পারেন না। এ কারণে তাদের ফরমায়েশ পূরণ করা হয়নি। আর তা পূরণ না হওয়ায় তারা এক কথায় সব মুজিযা অস্বীকার করে বলে দিয়েছে, তুমি আমাদের সামনে কোনও উজ্জ্বল নিদর্শন পেশই করনি।
৫৪

اِنۡ نَّقُوۡلُ اِلَّا اعۡتَرٰىکَ بَعۡضُ اٰلِہَتِنَا بِسُوۡٓءٍ ؕ  قَالَ اِنِّیۡۤ اُشۡہِدُ اللّٰہَ وَاشۡہَدُوۡۤا اَنِّیۡ بَرِیۡٓءٌ مِّمَّا تُشۡرِکُوۡنَ ۙ ٥٤

ইন নাকূলুইল্লা‘তারা-কা বা‘দুআ-লিহাতিনা-বিছূইন কা-লা ইন্নীউশহিদুল্লা-হা ওয়াশহাদূ আন্নী বারীউম মিম্মা-তুশরিকূন।

আমরা তো এ ছাড়া আর কিছুই বলতে পারি না যে, আমাদের উপাস্যদের মধ্যে কেউ তোমাকে অমঙ্গলে আক্রান্ত করেছে। ৩৭ হুদ বলল, আমি আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি এবং তোমরাও সাক্ষী থাক যে, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক কর, তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই-

তাফসীরঃ

৩৭. অর্থাৎ, তুমি যে আমাদের মূর্তিদের ঈশ্বরত্ব অস্বীকার করছ, এ কারণে তারা তোমার প্রতি নারাজ হয়ে গেছে। তাই তাদের কেউ তোমার উপর ভূত-প্রেত ভর করিয়ে দিয়েছে ফলে তোমার জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পেয়ে গেছে (নাউযুবিল্লাহ)।
৫৫

مِنۡ دُوۡنِہٖ فَکِیۡدُوۡنِیۡ جَمِیۡعًا ثُمَّ لَا تُنۡظِرُوۡنِ ٥٥

মিন দূনিহী ফাকীদূনী জামী‘আন ছুম্মা লা-তুনজিরূন।

আল্লাহ ছাড়া। সুতরাং তোমরা সকলে মিলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আঁট এবং আমাকে একটুও অবকাশ দিও না।
৫৬

اِنِّیۡ تَوَکَّلۡتُ عَلَی اللّٰہِ رَبِّیۡ وَرَبِّکُمۡ ؕ مَا مِنۡ دَآبَّۃٍ اِلَّا ہُوَ اٰخِذٌۢ بِنَاصِیَتِہَا ؕ اِنَّ رَبِّیۡ عَلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ٥٦

ইন্নী তাওয়াক্কালতু‘আলাল্লা-হি রাববী ওয়া রাব্বিকুম মা-মিন দাব্বাতিন ইল্লা-হুওয়া আখিযুম বিনা-সিয়াতিহা- ইন্না-রাববী ‘আলা-সিরা-তিম মুছতাকীম।

আমি তো আল্লাহর উপর ভরসা করেছি, যিনি আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক। ভূমিতে বিচরণকারী এমন কোনও প্রাণী নেই, যার ঝুঁটি তাঁর মুঠোয় নয়। ৩৮ নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক সরল পথে রয়েছেন। ৩৯

তাফসীরঃ

৩৮. অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা নিজ বান্দাদের জন্য সরল-সোজা পথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সে পথে চললেই আল্লাহ তাআলাকে পাওয়া যায়।
৫৭

فَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَقَدۡ اَبۡلَغۡتُکُمۡ مَّاۤ اُرۡسِلۡتُ بِہٖۤ اِلَیۡکُمۡ ؕ وَیَسۡتَخۡلِفُ رَبِّیۡ قَوۡمًا غَیۡرَکُمۡ ۚ وَلَا تَضُرُّوۡنَہٗ شَیۡئًا ؕ اِنَّ رَبِّیۡ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ حَفِیۡظٌ ٥٧

ফাইন তাওয়াল্লাও ফাকাদ আবলাগতুকুম মাউরছিলতুবিহীইলাইকুম ওয়া ইয়াছতাখলিফু রাববী কাওমান গাইরাকুম ওয়ালা-তাদুররূনাহূশাইআন ইন্না রাববী ‘আলা-কুল্লি শাইইন হাফীজ।

তথাপি যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমাকে যে বার্তা দিয়ে পাঠানো হয়েছিল আমি তো তা পৌঁছিয়ে দিয়েছি। আর আমার প্রতিপালক (তোমাদের কুফরের কারণে) তোমাদের স্থানে অন্য কোনও সম্প্রদায়কে স্থাপিত করবেন। তখন তোমরা তার কিছু ক্ষতি করতে পারবে না। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক সবকিছু রক্ষণাবেক্ষণ করেন।
৫৮

وَلَمَّا جَآءَ اَمۡرُنَا نَجَّیۡنَا ہُوۡدًا وَّالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَہٗ بِرَحۡمَۃٍ مِّنَّا ۚ وَنَجَّیۡنٰہُمۡ مِّنۡ عَذَابٍ غَلِیۡظٍ ٥٨

ওয়া লাম্মা-জাআ আমরুনা-নাজ্জাইনা-হুদাওঁ ওয়াল্লাযীনা আ-মানূমা‘আহূ বিরাহমাতিম মিন্না- ওয়া নাজ্জাইনা-হুম মিন ‘আযা-বিন গালীজ।

(পরিশেষে) যখন আমার হুকুম এসে গেল, ৪০ তখন আমি নিজ রহমতে হুদকে এবং তার সাথে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে বাঁচালাম এবং তাদেরকে রক্ষা করলাম এক কঠিন শাস্তি হতে।

তাফসীরঃ

৪০. এখানে ‘হুকুম’ দ্বারা আল্লাহ তাআলার প্রেরিত শাস্তি বোঝানো হয়েছে, যেমন সূরা আরাফে বর্ণিত হয়েছে যে, তাদের উপর প্রলয়ঙ্করী ঝড়-তুফান ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এ জাতির লোকজন অসাধারণ রকমের বিশাল বপুর অধিকারী ছিল। অমিত ছিল তাদের শক্তি। কিন্তু তা দিয়ে তারা শাস্তি হতে আত্মরক্ষা করতে পারল না। গোটা সম্প্রদায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেল।
৫৯

وَتِلۡکَ عَادٌ ۟ۙ جَحَدُوۡا بِاٰیٰتِ رَبِّہِمۡ وَعَصَوۡا رُسُلَہٗ وَاتَّبَعُوۡۤا اَمۡرَ کُلِّ جَبَّارٍ عَنِیۡدٍ ٥٩

ওয়া তিলকা ‘আ-দুন জাহাদূবিআ-য়া-তি রাব্বিহিম ওয়া‘আসাও রুছুলাহূ ওয়াত্তাবা‘উআমরা কুল্লি জাব্বা-রিন ‘আনীদ।

এই ছিল আদ জাতি, যারা তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী অস্বীকার করেছিল, তাঁর রাসূলগণের অবাধ্যতা করেছিল এবং এমন সব ব্যক্তির আনুগত্য করেছিল, যারা ছিল চরম স্পর্ধিত ও সত্যের ঘোর দুশমন।
৬০

وَاُتۡبِعُوۡا فِیۡ ہٰذِہِ الدُّنۡیَا لَعۡنَۃً وَّیَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ  اَلَاۤ اِنَّ عَادًا کَفَرُوۡا رَبَّہُمۡ ؕ  اَلَا بُعۡدًا لِّعَادٍ قَوۡمِ ہُوۡدٍ ٪ ٦۰

ওয়া উতবি‘ঊ ফী হা-যিহিদদুনইয়া-লা‘নাতাওঁ ওয়া ইয়াওমাল কিয়া-মাতি আলাইন্না ‘আ-দান কাফারূ রাব্বাহুম আলা-বু‘দাল লি‘আদিন কাওমি হূদ।

আর (এর ফল হল এই যে,) এ দুনিয়ায়ও অভিসম্পাতকে তাদের অনুগামী করে দেওয়া হল এবং কিয়ামত দিবসেও। স্মরণ রেখ, আদ জাতি নিজ প্রতিপালকের সঙ্গে কুফরীর আচরণ করেছিল। স্মরণ রেখ, আদ জাতিই ধ্বংস হয়েছে, যা ছিল হুদের সম্প্রদায়।
৬১

وَاِلٰی ثَمُوۡدَ اَخَاہُمۡ صٰلِحًا ۘ قَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرُہٗ ؕ ہُوَ اَنۡشَاَکُمۡ مِّنَ الۡاَرۡضِ وَاسۡتَعۡمَرَکُمۡ فِیۡہَا فَاسۡتَغۡفِرُوۡہُ ثُمَّ تُوۡبُوۡۤا اِلَیۡہِ ؕ اِنَّ رَبِّیۡ قَرِیۡبٌ مُّجِیۡبٌ ٦١

ওয়া ইলা-ছামূদা আখা-হুম সা-লিহা- । কা-লা ইয়া-কাওমি‘বুদুল্লা-হা মা-লাকুম মিন ইলা-হিন গাইরুহু হুওয়া আনশাআকুম মিনাল আরদিওয়াছতা‘মারাকুম ফীহাফাছতাগফিরূহু ছুম্মা তূবূইলাইহি ইন্না রাববী কারীবুম মুজীব।

এবং ছামুদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালিহকে নবী করে পাঠালাম। ৪১ সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন মাবুদ নেই। তিনিই তোমাদেরকে ভূমি হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে তোমাদেরকে বসবাস করিয়েছেন। সুতরাং তাঁর কাছে নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর তারপর তাঁর অভিমুখী হও। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক (তোমাদের) নিকটবর্তী ও দু‘আ কবুলকারীও।

তাফসীরঃ

৪১. ছামুদ জাতির পরিচয় ও তাদের ঘটনা পূর্বে সূরা আরাফ (৭ : ৭৩)-এর টীকায় সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে দ্রষ্টব্য।
৬২

قَالُوۡا یٰصٰلِحُ قَدۡ کُنۡتَ فِیۡنَا مَرۡجُوًّا قَبۡلَ ہٰذَاۤ اَتَنۡہٰنَاۤ اَنۡ نَّعۡبُدَ مَا یَعۡبُدُ اٰبَآؤُنَا وَاِنَّنَا لَفِیۡ شَکٍّ مِّمَّا تَدۡعُوۡنَاۤ اِلَیۡہِ مُرِیۡبٍ ٦٢

কা-লূইয়া-সা-লিহু কাদ কুনতা ফীনা-মারজুওওয়া কাবলা হা-যা-আতানহা-না-আন না‘বুদা মা-ইয়া‘বুদুআ-বাউনা-ওয়া ইন্নানা-লাফী শাক্কিম মিম্মা- তাদ‘ঊনা ইলাইহি মুরীব।

তারা বলল, হে সালিহ! ইতঃপূর্বে তুমি আমাদের মধ্যে এমন ছিলে যে, তোমাকে নিয়ে অনেক আশা ছিল। ৪২ আমাদের বাপ-দাদাগণ যাদের (অর্থাৎ যে সকল প্রতিমার) উপাসনা করত, তুমি আমাদেরকে তাদের উপাসনা করতে নিষেধ করছ? ৪৩ তুমি যে বিষয়ের দিকে ডাকছ, তাতে আমাদের এতটা সন্দেহ রয়েছে যে, তা আমাদেরকে অস্থিরতার ভেতর ফেলে দিয়েছে।

তাফসীরঃ

৪২. অর্থাৎ তোমাকে দিয়ে আমাদের কী আশা ছিল, আর তার পরিবর্তে তুমি কী করছ? আশা তো ছিল তুমি জাতির নেতৃত্ব দেবে। বাপ-দাদার ঐতিহ্যকে আরও বহুদূর এগিয়ে নেবে। তা কি না তুমি সে ঐতিহ্যকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার কর্মসূচী হাতে নিয়েছ। তাদের বহু ঈশ্বরের বদলে আমাদেরকে এক আল্লাহর ইবাদত করতে বলছ। তোমার এ দাওয়াতের যথার্থতা ও এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ। কাজেই আমরা তা নিতে পারছি না। -অনুবাদক
৬৩

قَالَ یٰقَوۡمِ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ کُنۡتُ عَلٰی بَیِّنَۃٍ مِّنۡ رَّبِّیۡ وَاٰتٰىنِیۡ مِنۡہُ رَحۡمَۃً فَمَنۡ یَّنۡصُرُنِیۡ مِنَ اللّٰہِ اِنۡ عَصَیۡتُہٗ ۟ فَمَا تَزِیۡدُوۡنَنِیۡ غَیۡرَ تَخۡسِیۡرٍ ٦٣

কা-লা ইয়া-কাওমি আরাআইতুম ইন কুনতু‘আলা-বাইয়িনাতিম মির রাববী ওয়া আ-তা-নী মিনহু রাহমাতান ফামাইঁ ইয়ানসুরুনী মিনাল্লা-হি ইন ‘আসাইতুহূ ফামা-তাঝীদূ নানী গাইরা তাখছীর।

সালিহ বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমাকে বল তো, আমি যদি আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আগত এক উজ্জ্বল হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি বিশেষভাবে তাঁর নিজের কাছ থেকে আমাকে এক রহমত (অর্থাৎ নবুওয়াত) দান করে থাকেন, আর তারপরও আমি তার নাফরমানী করি, তবে এমন কে আছে, যে আমাকে তাঁর (শাস্তি) থেকে রক্ষা করবে? সুতরাং তোমরা (আমার কর্তব্য কাজে বাধা দিয়ে) ক্ষতিগ্রস্ত করা ছাড়া আমাকে আর কী দিচ্ছ?
৬৪

وَیٰقَوۡمِ ہٰذِہٖ نَاقَۃُ اللّٰہِ لَکُمۡ اٰیَۃً فَذَرُوۡہَا تَاۡکُلۡ فِیۡۤ اَرۡضِ اللّٰہِ وَلَا تَمَسُّوۡہَا بِسُوۡٓءٍ فَیَاۡخُذَکُمۡ عَذَابٌ قَرِیۡبٌ ٦٤

ওয়া ইয়া- কাওমি হা-যিহী না-কাতুল্লা-হি লাকুমআ-য়াতান ফাযারূহা- তা’কুল ফীআরদিল্লা-হি ওয়ালা-তামাছছূহা বিছূইন ফাইয়া’খুযাকুম ‘আযা-বুন কারীব।

এবং হে আমার সম্প্রদায়! এটা আল্লাহর এক উটনী, তোমাদের জন্য একটি নিদর্শনরূপে এসেছে। সুতরাং এটিকে আল্লাহর ভূমিতে স্বাধীনভাবে চরে খেতে দাও। একে অসুদদ্দেশ্যে স্পর্শও করবে না, পাছে আশু শাস্তি তোমাদেরকে পাকড়াও করে।
৬৫

فَعَقَرُوۡہَا فَقَالَ تَمَتَّعُوۡا فِیۡ دَارِکُمۡ ثَلٰثَۃَ اَیَّامٍ ؕ ذٰلِکَ وَعۡدٌ غَیۡرُ مَکۡذُوۡبٍ ٦٥

ফা‘আকারূহা-ফাকা-লা তামাত্তা‘ঊ ফী দা-রিকুম ছালা-ছাতা আইইয়া-মিন যালিকা ওয়া‘দুন গাইরু মাকযূব ।

অতঃপর ঘটল এই যে, তারা সেটিকে মেরে ফেলল। সুতরাং সালিহ তাদেরকে বলল, তোমরা নিজেদের ঘর-বাড়িতে তিন দিন ফূর্তি করে নাও ৪৪ (তারপর শাস্তি আসবে আর) এটা এমন এক প্রতিশ্রুতি, যাকে কেউ মিথ্যা বানাতে পারবে না।

তাফসীরঃ

৪৪. শাস্তির আগে তাদেরকে তিন দিনের অবকাশ দেওয়া হয়েছিল।
৬৬

فَلَمَّا جَآءَ اَمۡرُنَا نَجَّیۡنَا صٰلِحًا وَّالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَہٗ بِرَحۡمَۃٍ مِّنَّا وَمِنۡ خِزۡیِ یَوۡمِئِذٍ ؕ اِنَّ رَبَّکَ ہُوَ الۡقَوِیُّ الۡعَزِیۡزُ ٦٦

ফালাম্মা-জাআ আমরুনা-নাজ্জাইনা-সা-লিহাওঁ ওয়াল্লাযীনা আ-মানূমা‘আহূ বিরাহমাতিম মিন্না-ওয়ামিন খিঝয়ি ইয়াওমিইযিন ইন্না-রাব্বাকা হুওয়াল কাবিইয়ুল ‘আঝীঝ।

অতঃপর যখন আমার হুকুম এসে গেল, তখন আমি সালিহকে এবং তার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমার বিশেষ রহমতে রক্ষা করলাম এবং সে দিনের লাঞ্ছনা থেকে বাঁচালাম। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক অত্যন্ত শক্তিশালী, সর্বময় ক্ষমতার মালিক।
৬৭

وَاَخَذَ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوا الصَّیۡحَۃُ فَاَصۡبَحُوۡا فِیۡ دِیَارِہِمۡ جٰثِمِیۡنَ ۙ ٦٧

ওয়া আখাযাল্লাযীনা জালামুসসাইহাতুফাআসবাহূফী দিয়ারিহিম জা-ছিমীন।

আর যারা জুলুমের পথ অবলম্বন করেছিল, তাদেরকে আঘাত হানল মহা গর্জন। ৪৫ ফলে তারা তাদের ঘর-বাড়িতে এভাবে অধঃমুখে পড়ে থাকল

তাফসীরঃ

৪৫. সূরা আরাফে আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করেছেন যে, ছামুদ জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছিল ভূমিকম্প দ্বারা দ্র. আরাফ ৭ : ৭৮। এ আয়াত দ্বারা জানা যায়, সে ভূমিকম্পের সাথে ভয়াল গর্জনও শোনা গিয়েছিল, যদ্দরুণ তারা সকলে ধ্বংস হয়ে যায়।
৬৮

کَاَنۡ لَّمۡ یَغۡنَوۡا فِیۡہَا ؕ  اَلَاۤ اِنَّ ثَمُوۡدَا۠ کَفَرُوۡا رَبَّہُمۡ ؕ  اَلَا بُعۡدًا لِّثَمُوۡدَ ٪ ٦٨

কাআল্লাম ইয়াগনাও ফীহা- আলাইন্না ছামূদা কাফারূরাব্বাহুম আলা-বু‘দাল লিছামূদ।

যেন তারা কখনও সেখানে বসবাসই করেনি। স্মরণ রেখ, ছামুদ জাতি নিজ প্রতিপালকের সঙ্গে কুফরীর আরচরণ করেছিল। স্মরণ রেখ, ছামুদ জাতিই ধ্বংস হয়েছিল।
৬৯

وَلَقَدۡ جَآءَتۡ رُسُلُنَاۤ اِبۡرٰہِیۡمَ بِالۡبُشۡرٰی قَالُوۡا سَلٰمًا ؕ قَالَ سَلٰمٌ فَمَا لَبِثَ اَنۡ جَآءَ بِعِجۡلٍ حَنِیۡذٍ ٦٩

ওয়া লাকাদ জাআত রুছুলুনা-ইবরা-হীমা বিলবুশরা-কা-লূছালা-মান কা-লা ছালা-মুন ফামা লাবিছা আন জাআ বি‘ইজলিন হানীয।

আর আমার ফিরিশতাগণ (মানুষের বেশে) ইবরাহীমের কাছে সুসংবাদ নিয়ে আসল (যে, তার পুত্র সন্তান জন্ম নেবে)। ৪৬ তারা সালাম বলল। ইবরাহীমও সালাম বলল। অতঃপর সে অবিলম্বে (তাদের আতিথেয়তার জন্য) একটি ভুনা করা বাছুর নিয়ে আসল।

তাফসীরঃ

৪৬. আল্লাহ তাআলা এ ফিরিশতাদেরকে দু’টি কাজের জন্য পাঠিয়েছিলেন। একটি হচ্ছে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে এই সুসংবাদ দেওয়া যে, তাঁর এক পুত্র সন্তান জন্ম নেবে, যার নাম ইসহাক আলাইহিস সালাম। আর তাঁদের দ্বিতীয় কাজ ছিল হযরত লূত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়কে শাস্তি দান করা। সুতরাং হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে সুসংবাদ জানানোর পর তাঁরা হযরত লূত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায় যেখানে বসবাস করত, সেখানে চলে যাওয়ার ছিলেন।
৭০

فَلَمَّا رَاٰۤ اَیۡدِیَہُمۡ لَا تَصِلُ اِلَیۡہِ نَکِرَہُمۡ وَاَوۡجَسَ مِنۡہُمۡ خِیۡفَۃً ؕ  قَالُوۡا لَا تَخَفۡ اِنَّاۤ اُرۡسِلۡنَاۤ اِلٰی قَوۡمِ لُوۡطٍ ؕ ٧۰

ফালাম্মা-রাআআইদিয়াহুম লা-তাসিলুইলাইহি নাকিরাহুম ওয়া আওজাছা মিনহুম খীফাতান কা-লূলা-তাখাফ ইন্নাউরছিলনাইলা-কাওমি লূত।

কিন্তু যখন দেখল তাদের হাত সে দিকে (অর্থাৎ বাছুরের দিকে) বাড়ছে না, তখন তাদের ব্যাপারে তার খটকা লাগল এবং তাদের দিক থেকে অন্তরে শঙ্কা বোধ করল। ৪৭ ফিরিশতাগণ বলল, ভয় করবেন না। আমাদেরকে পাঠানো হয়েছে (আপনাকে পুত্র সন্তান জন্মের সুসংবাদ দেওয়ার জন্য এবং পাঠানো হয়েছে) লূতের সম্প্রদায়ের কাছে।

তাফসীরঃ

৪৭. ফিরিশতাগণ যেহেতু মানুষের বেশে এসেছিলেন, তাই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম প্রথমে তাঁদেরকে চিনতে পারেননি, যে কারণে তিনি তাঁদের মেহমানদারি করার জন্য বাছুরের গোশত ভুনা করে নিয়ে আসেন। কিন্তু তাঁরা তো ফিরিশতা, যাদের পানাহারের প্রয়োজন নেই। তাই তাঁরা খাবারের দিকে হাত বাড়ালেন না। সেকালে রীতি ছিল মেজবান খাবার পরিবেশন করা সত্ত্বেও যদি মেহমান তা গ্রহণ না করত, তবে মনে করা হত সে একজন শত্রু এবং সে কোনও অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ভয় পেয়ে গেলেন। তখন ফিরিশতাগণ স্পষ্ট করে দিলেন যে, তারা ফিরিশতা। দু’টি কাজের জন্য তাদেরকে পাঠানো হয়েছে।
৭১

وَامۡرَاَتُہٗ قَآئِمَۃٌ فَضَحِکَتۡ فَبَشَّرۡنٰہَا بِاِسۡحٰقَ ۙ وَمِنۡ وَّرَآءِ اِسۡحٰقَ یَعۡقُوۡبَ ٧١

ওয়ামরা’আতুহূ কাইমাতুনফাদাহিকাত ফাবাশশারনা-হা- বিইছহা-কা ওয়ামিওঁ ওয়ারাই ইছহা-কা ইয়া‘কূব।

আর ইবরাহীমের স্ত্রী দাঁড়ানো ছিল। সে হেসে দিল। ৪৮ আমি তাকে (পুনরায়) ইসহাকের এবং ইসহাকের পর ইয়াকূবের জন্মের সুসংবাদ দিলাম।

তাফসীরঃ

৪৮. কোনও কোনও মুফাসসির তাঁর হাসির কারণ এই ব্যাখ্যা করেছেন যে, যখন তিনি নিশ্চিত হলেন, তাঁরা ফিরিশতা এবং ভয়ের কিছু নেই, তখন খুশী হয়ে গেলেন এবং সেই খুশীতেই হেসে দিলেন। কিন্তু বেশি সঠিক মনে হচ্ছে এই যে, তিনি পুত্র জন্মের সুসংবাদ শুনে হেসেছিলেন। সূরা হিজর (১৫ : ৫৩) ও সূরা যারিয়াত (৫১ : ২৯-৩০)-এ বলা হয়েছে, ফিরিশতাগণ প্রথমে তাঁকে পুত্রের সুসংবাদ দিয়েছিলেন এবং তারপর হযরত লূত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়কে শাস্তি দানের কথা উল্লেখ করেন। এতে তিনি বিস্ময়ও বোধ করেন এবং খুশীও হন। তাঁকে হাসতে দেখে ফিরিশতাগণ পুনরায় সুসংবাদ দেন।
৭২

قَالَتۡ یٰوَیۡلَتٰۤیءَ اَلِدُ وَاَنَا عَجُوۡزٌ وَّہٰذَا بَعۡلِیۡ شَیۡخًا ؕ اِنَّ ہٰذَا لَشَیۡءٌ عَجِیۡبٌ ٧٢

কা-লাত ইয়া-ওয়াইলাতাআআলিদুওয়া আনা-‘আজুঝুওঁ ওয়া হা-যা-বা‘লী শাইখান ইন্না হা-যা-লাশাইউন ‘আজীব।

সে বলতে লাগল, হায়! আমি এ অবস্থায় সন্তান জন্মাব, যখন আমি বৃদ্ধা এবং এই আমার স্বামী, যে নিজেও বার্ধক্যে উপনীত? বাস্তবিকই এটা বড় আশ্চর্য ব্যাপার।
৭৩

قَالُوۡۤا اَتَعۡجَبِیۡنَ مِنۡ اَمۡرِ اللّٰہِ رَحۡمَتُ اللّٰہِ وَبَرَکٰتُہٗ عَلَیۡکُمۡ اَہۡلَ الۡبَیۡتِ ؕ اِنَّہٗ حَمِیۡدٌ مَّجِیۡدٌ ٧٣

কা-লূআতা‘জাবীনা মিন আমরিল্লা-হি রাহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহূ‘আলাইকুম আহলাল বাইতি ইন্নাহূহামীদুম মাজীদ।

ফেরেশতাগণ বলল, আপনি কি আল্লাহর হুকুম সম্বন্ধে বিস্ময়বোধ করছেন? আপনাদের মত সম্মানিত পরিবারবর্গের ৪৯ উপর রয়েছে আল্লাহর রহমত ও প্রভূত বরকত। নিশ্চয়ই তিনি সর্বময় প্রশংসার হকদার, অতি মর্যাদাবান।

তাফসীরঃ

৪৯. আরবী ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী اهل البيت-কে منصوب على سبيل المدح ধরা হয়েছে এবং তারই ভিত্তিতে আয়াতের এ তরজমা করা হয়েছে। তরজমায় ‘সম্মানিত’ শব্দটিও এ হিসেবেই যোগ করা হয়েছে। আয়াতটির এরূপ তরজমা করারও অবকাশ আছে যে, ‘হে পরিবারবর্গ! তোমাদের প্রতি রয়েছে আল্লাহর রহমত ও বরকত।’
৭৪

فَلَمَّا ذَہَبَ عَنۡ اِبۡرٰہِیۡمَ الرَّوۡعُ وَجَآءَتۡہُ الۡبُشۡرٰی یُجَادِلُنَا فِیۡ قَوۡمِ لُوۡطٍ ؕ ٧٤

ফালাম্মা যাহাবা ‘আন ইবরা-হীমার রাও‘উ ওয়া জাআতহুল বুশরা- ইউজা-দিলুনা-ফী কাওমি লূত।

অতঃপর যখন ইবরাহীমের ভীতি দূর হল এবং সে সুসংবাদ লাভ করল, তখন সে লূতের সম্প্রদায় সম্পর্কে আমার সঙ্গে (আবদারের ভঙ্গিতে) ঝগড়া শুরু করে দিল। ৫০

তাফসীরঃ

৫০. সূরা আরাফ (৭ : ৮০)-এর টীকায় বলা হয়েছে, হযরত লূত আলাইহিস সালাম ছিলেন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের ভাতিজা। ইরাকে থাকতেই তিনি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের প্রতি ঈমান এনেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গেই দেশ থেকে হিজরত করেছিলেন। পরবর্তীকালে আল্লাহ তাআলা তাঁকেও নবুওয়াত দান করেন ও সাদূমবাসীর হিদায়াতের জন্য প্রেরণ করেন। সাদূমবাসী ছিল পৌত্তলিক। তাছাড়া তারা সমকামের মত এক কদর্য কাজেও লিপ্ত ছিল। লূত আলাইহিস সালাম নানাভাবে তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন, কিন্তু তাঁর কোনও কথায় তারা কর্ণপাত করল না। পরিশেষে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে শাস্তিদানের জন্য ফিরিশতা পাঠালেন। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের আশা ছিল তারা হয়ত এক সময় শুধরে যাবে। তাই তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে মিনতি করতে থাকেন যে, এখনই যেন তাদেরকে শাস্তি দেওয়া না হয়। তিনি যেহেতু আল্লাহ তাআলার অতি প্রিয় নবী ছিলেন, তাই তিনি আযাব পিছিয়ে দেওয়ার জন্য যেভাবে আবদারের ভঙ্গিতে বারবার উপরোধ করছিলেন, সেটাকেই এ আয়াতে প্রীতিসম্ভাষণের ধারায় ‘ঝগড়া’ শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে।
৭৫

اِنَّ اِبۡرٰہِیۡمَ لَحَلِیۡمٌ اَوَّاہٌ مُّنِیۡبٌ ٧٥

ইন্না ইবরা-হীমা লাহালীমুন আওওয়া-হুম মুনীব।

বস্তুত ইবরাহীম অত্যন্ত সহনশীল, (আল্লাহর স্মরণে) অত্যধিক আহ্-উহ্কারী (এবং) সর্বদা আমার প্রতি অভিনিবিষ্ট ছিল। ৫১

তাফসীরঃ

৫১. হযরত লূত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়কে এখনই শাস্তি না দিয়ে তাদেরকে আরও কিছুকালের জন্য অবকাশ দেওয়ার যে প্রার্থনা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম করেছিলেন, তা কবুল করা না হলেও তিনি যেই আবেগে আপ্লুত হয়ে এ প্রার্থনা করেছিলেন এবং এর জন্য যে ভঙ্গিতে তিনি আল্লাহ তাআলার দিকে রুজু করেছিলেন, এ আয়াতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাষায় তার প্রশংসা করা হয়েছে।
৭৬

یٰۤـاِبۡرٰہِیۡمُ اَعۡرِضۡ عَنۡ ہٰذَا ۚ اِنَّہٗ قَدۡ جَآءَ اَمۡرُ رَبِّکَ ۚ وَاِنَّہُمۡ اٰتِیۡہِمۡ عَذَابٌ غَیۡرُ مَرۡدُوۡدٍ ٧٦

ইয়া-ইবরাহীমুআ‘রিদ‘আন হা-যা- ইন্নাহূকাদ জাআ আমরু রাব্বিকা ওয়া ইন্নাহুম আ-তীহিম ‘আযা-বুন গাইরু মারদূদ।

(আমি তাকে বললাম), হে ইবরাহীম! এ বিষয়টা যেতে দাও। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালকের হুকুম এসে পড়েছে এবং তাদের উপর এমন শাস্তি আসবেই, যা কেউ প্রতিহত করতে পারবে না।
৭৭

وَلَمَّا جَآءَتۡ رُسُلُنَا لُوۡطًا سِیۡٓءَ بِہِمۡ وَضَاقَ بِہِمۡ ذَرۡعًا وَّقَالَ ہٰذَا یَوۡمٌ عَصِیۡبٌ ٧٧

ওয়া লাম্মা-জাআত রুছুলুনা-লূতান ছীআ বিহিম ওয়াদা-কাবিহিমযারআওঁ ওয়া কা-লা হা-যা-ইয়াওমুন ‘আসীব।

যখন আমার ফিরিশতাগণ লূতের কাছে পৌঁছল, সে তাদের কারণে ঘাবড়ে গেল, তার অন্তরে উদ্বেগ দেখা দিল এবং সে বলতে লাগল, আজকের এ দিনটি বড় কঠিন। ৫২

তাফসীরঃ

৫২. ফিরিশতাগণ হযরত লূত আলাইহিস সালামের কাছে সুদর্শন যুবকের বেশে হাজির হয়েছিল। তখনও তিনি বুঝতে পারেননি তারা ফিরিশতা। অন্য দিকে নিজ সম্প্রদায়ের বিকৃত যৌনাচার ও তাদের চরম অশ্লীলতা সম্বন্ধে তিনি অবগত ছিলেন। সঙ্গত কারণেই তিনি অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়েন। তাঁর আশঙ্কা ছিল তার সম্প্রদায় এই অতিথিদেরকে তাদের লালসার নিশানা বানাতে চাইবে। তাঁর সে আশঙ্কাই সত্য হয়েছিল, যেমন পরবর্তী আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। তারা একদল সুদর্শন যুবকের আগমন সংবাদ শোনামাত্র তাদের কাছে ছুটে আসল এবং হযরত লূত আলাইহিস সালামের কাছে দাবী জানাল, তিনি যেন তার অতিথিদেরকে তাদের হাতে ছেড়ে দেন।
৭৮

وَجَآءَہٗ قَوۡمُہٗ یُہۡرَعُوۡنَ اِلَیۡہِ ؕ وَمِنۡ قَبۡلُ کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ السَّیِّاٰتِ ؕ قَالَ یٰقَوۡمِ ہٰۤؤُلَآءِ بَنَاتِیۡ ہُنَّ اَطۡہَرُ لَکُمۡ فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَلَا تُخۡزُوۡنِ فِیۡ ضَیۡفِیۡ ؕ اَلَـیۡسَ مِنۡکُمۡ رَجُلٌ رَّشِیۡدٌ ٧٨

ওয়া জাআহূকাওমুহূইউহরা‘ঊনা ইলাইহি ওয়া মিন কাবলুকা-নূ ইয়া‘মালূনাছছাইয়িআ-তি কা-লা ইয়া-কাওমি হাউলাই বানা-তী হুন্না আতহারু লাকুম ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়া লা-তুখঝূনি ফী দাইফী আলাইছা মিনকুম রাজুলুর রাশীদ।

তার সম্প্রদায়ের লোক তার দিকে ছুটে আসল। তারা পূর্ব থেকেই কুকর্মে লিপ্ত ছিল। লূত বলল, হে আমার সম্প্রদায়! এই আমার কন্যাগণ উপস্থিত রয়েছে। এরা তোমাদের পক্ষে ঢের পবিত্র! ৫৩ সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার মেহমানদের ব্যাপারে তোমরা আমাকে হেয় করো না। তোমাদের মধ্যে কি একজনও ভালো লোক নেই?

তাফসীরঃ

৫৩. প্রত্যেক উম্মতের নারীগণ তাদের নবীর রূহানী কন্যা হয়ে থাকে। ‘আমার কন্যাগণ’ বলে হযরত লুত আলাইহিস সালাম সে কথাই বোঝাতে চেয়েছেন। তিনি দুর্বৃত্তদেরকে নম্রতার সাথে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, তোমাদের স্ত্রীরা, যারা আমার রূহানী কন্যাও বটে, তোমাদের ঘরেই রয়েছে। তোমরা তাদের দ্বারা নিজেদের যৌন চাহিদা মেটাতে পার আর সেটাই স্বভাবসম্মত পবিত্র পন্থা। (اطهر অর্থ বেশি পবিত্র, অর্থাৎ অন্যের তুলনায় বেশি, কিন্তু এ স্থলে তুলনা বোঝানো উদ্দেশ্য নয়, কেননা সমকামের মধ্যে কোন পবিত্রতা নেই যে, তা অপেক্ষা বিবাহ বেশি পবিত্র হবে; বরং এর দ্বারা পবিত্রতার দৃঢ়তা ও পূর্ণতা বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ বিবাহের মাধ্যমে কামেচ্ছা পূরণ সর্বোতভাবে পবিত্র, তাতে অপবিত্রতার লেশমাত্র নেই। -অনুবাদক)
৭৯

قَالُوۡا لَقَدۡ عَلِمۡتَ مَا لَنَا فِیۡ بَنٰتِکَ مِنۡ حَقٍّ ۚ وَاِنَّکَ لَتَعۡلَمُ مَا نُرِیۡدُ ٧٩

কা-লূলাকাদ ‘আলিমতা মা-লানা-ফী বানা-তিকা মিন হাক্কিওঁ ওয়া ইন্নাকা লাতা‘লামুমা-নুরীদ।

তারা বলল, তোমার জানা আছে তোমার কন্যাদের প্রতি আমাদের কোন আগ্রহ নেই। তুমি ভালো করেই জান আমরা কী চাই।
৮০

قَالَ لَوۡ اَنَّ لِیۡ بِکُمۡ قُوَّۃً اَوۡ اٰوِیۡۤ اِلٰی رُکۡنٍ شَدِیۡدٍ ٨۰

কা-লা লাও আন্না লী বিকুম কুওওয়াতান আও আ-বীইলা-রুকনিন শাদীদ।

লূত বলল, হায়! তোমাদের মুকাবেলা করার কোন শক্তি যদি আমার থাকত অথবা আমি যদি গ্রহণ করতে পারতাম কোন শক্তিশালী আশ্রয়! ৫৪

তাফসীরঃ

৫৪. সাদূমের সে জনপদে হযরত লূত আলাইহিস সালামের খান্দান বা গোত্রের কোন লোক ছিল না। তিনি ছিলেন ইরাকের বাসিন্দা। সাদূমেবাসীর কাছে তাঁকে নবী করে পাঠানো হয়েছিল। সাদূমবাসী যেহেতু তাঁর উম্মত ছিল, সে হিসেবেই তাদেরকে তাঁর কওম বলা হয়েছে। অতিথিদের ব্যাপারে তারা যখন এ রকম উৎপাত করছিল তখন তিনি দারুণ অসহায়ত্ব বোধ করছিলেন। তাই আক্ষেপ করে বলছিলেন, আমার খান্দানের কোন লোক এখানে থাকলে হয়ত আমার কিছুটা সাহায্য করতে পারত, যেমন পরের আয়াতে বলা হয়েছে। অবশেষে ফিরিশতাগণ নিজেদের পরিচয় ফাঁস করলেন। বললেন, আমরা ফিরিশতা। আপনি একটুও ঘাবড়াবেন না। ওরা আপনার বা আমাদের কিছুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না। আমাদেরকে পাঠানো হয়েছে তাদেরকে শাস্তি দেওয়ার জন্য। ভোর হলেই তাদেরকে নির্মূল করে ফেলা হবে। আপনি আপনার পরিবারবর্গসহ এ জনপদ থেকে রাতের ভেতর বের হয়ে পড়ুন। তা হলে এ আযাব থেকে রক্ষা পাবেন। তবে হযরত লূত আলাইহিস সালামের স্ত্রী ছিল কাফের। সে তাঁর সম্প্রদায়ের কুকর্মে তাদের সাহায্য করত। তাই হুকুম দেওয়া হল যে, সে আপনার সাথে যাবে না; বরং অন্যদের সাথে সেও শাস্তিতে নিপতিত হবে।
৮১

قَالُوۡا یٰلُوۡطُ اِنَّا رُسُلُ رَبِّکَ لَنۡ یَّصِلُوۡۤا اِلَیۡکَ فَاَسۡرِ بِاَہۡلِکَ بِقِطۡعٍ مِّنَ الَّیۡلِ وَلَا یَلۡتَفِتۡ مِنۡکُمۡ اَحَدٌ اِلَّا امۡرَاَتَکَ ؕ اِنَّہٗ مُصِیۡبُہَا مَاۤ اَصَابَہُمۡ ؕ اِنَّ مَوۡعِدَہُمُ الصُّبۡحُ ؕ اَلَـیۡسَ الصُّبۡحُ بِقَرِیۡبٍ ٨١

কা-লূইয়া-লূতুইন্না-রুছুলুরাব্বিকা লাইঁ ইয়াসিলূইলাইকা ফাআছরি বিআহলিকা বিকিত‘ইম মিনাল লাইলি ওয়ালা-ইয়ালতাফিত মিনকুম আহাদুন ইল্লাম রাআতাকা ইন্নাহূমুসীবুহা-মাআসা-বাহুম ইন্না মাও‘ইদাহুমুসসুবহু আলাইছাসসুবহুবিকারীব।

(অবশেষে) ফিরিশতাগণ (লুতকে) বলল, আমরা আপনার প্রতিপালকের প্রেরিত ফিরিশতা। তারা কিছুতেই আপনার পর্যন্ত পৌঁছুতে পারবে না। আপনি রাতের কোন অংশে আপনার পরিবারবর্গ নিয়ে জনপদ থেকে বের হয়ে পড়ুন। আপনাদের মধ্য হতে কেউ যেন পেছনে ফিরেও না তাকায়, তবে আপনার স্ত্রী ছাড়া (সে আপনাদের সাথে যাবে না)। তার উপরও সেই বিপদ আসবে, যা অন্যদের উপর আসছে। নিশ্চয়ই, তাদের (উপর শাস্তি নাযিলের) জন্য প্রভাতকাল স্থিরীকৃত। প্রভাতকাল কি খুব কাছে নয়?
৮২

فَلَمَّا جَآءَ اَمۡرُنَا جَعَلۡنَا عَالِیَہَا سَافِلَہَا وَاَمۡطَرۡنَا عَلَیۡہَا حِجَارَۃً مِّنۡ سِجِّیۡلٍ ۬ۙ  مَّنۡضُوۡدٍ ۙ ٨٢

ফালাম্মা-জাআ আমরুনা-জা‘আলনা-‘আ-লিয়াহা-ছা-ফিলাহা-ওয়া আমতারনা‘আলাইহা-হিজা-রাতাম মিন ছিজজীলিম মানদূদ।

অতঃপর যখন আমার হুকুম এসে গেল, তখন আমি সে জনপদের উপর দিককে নিচের দিকে উল্টিয়ে দিলাম ৫৫ এবং তাদের উপর থাকে থাকে পাকা মাটির পাথর বর্ষণ করলাম-

তাফসীরঃ

৫৫. বিভিন্ন বর্ণনায় আছে, এসব দুশ্চরিত্র লোক মোট চারটি জনপদে বাস করত। ফেরেশতাগণ সবগুলো জনপদকে একত্রে উৎপাটিত করে শূন্যে নিয়ে গেলেন এবং সেখান থেকে উল্টিয়ে নিচে ছুঁড়ে মারলেন। এভাবে সবগুলো বসতি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেল। অনেকের মতে এ জনপদসমূহের উল্টে যাওয়ার ফলেই মৃত সাগর (Dead Sea) নামক প্রসিদ্ধ সাগরটির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের এ মতকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কেননা কোনও বড় সাগরের সাথে এটির কোনও সংযোগ নেই। তাছাড়া যে স্থানে এসব বসতি অবস্থিত ছিল, মৃত সাগর-সংলগ্ন আশপাশের সে এলাকার একটা বৈশিষ্ট্য হল যে, এটি ভূ-পৃষ্ঠের মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিচু। পৃথিবীর অন্য কোনও অঞ্চল সমুদ্র-পৃষ্ঠ হতে এতটা নিচু নয়। কুরআন মাজীদে যে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি এ জনপদের উপর দিককে নিচের দিকে উল্টিয়ে দিলাম’, অসম্ভব নয় যে, এর দ্বারা এই ভৌগোলিক অবস্থানের দিকেও ইশারা করা হয়েছে এবং সেই সঙ্গে এটাও বোঝানো হয়েছে যে, জনপদবাসীদের চরম নীচতা ও অধঃপতিত চরিত্রকে দৃশ্যমান আকৃতি দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
৮৩

مُّسَوَّمَۃً عِنۡدَ رَبِّکَ ؕ  وَمَا ہِیَ مِنَ الظّٰلِمِیۡنَ بِبَعِیۡدٍ ٪ ٨٣

মুছাওওয়ামাতান ‘ইনদা রাব্বিকা ওয়ামা-হিয়া মিনাজ্জা-লিমীনা ব্বিা‘ঈদ।

যা তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে চিহ্নিত ছিল। সে জনপদ (মক্কার এই) জালেমদের থেকে দূরে নয়। ৫৬

তাফসীরঃ

৫৬. হযরত লূত আলাইহিস সালামের ঘটনা বর্ণনার শেষে এবার আলোচনা-ধারা মক্কা মুকাররমার কাফেরদের দিকে বাঁক নিয়েছে। তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হচ্ছে যে, হযরত লূত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায় যে অঞ্চলে বসবাস করত, তা তোমাদের থেকে বেশি দূরে নয়। বাণিজ্য-ব্যাপদেশে তোমরা যখন শামে সফর কর, সে এলাকা তোমাদের পথেই পড়ে। তোমাদের মধ্যে বুদ্ধির লেশমাত্রও যদি থাকে, তবে তোমাদের উচিত এর থেকে শিক্ষা নেওয়া।
৮৪

وَاِلٰی مَدۡیَنَ اَخَاہُمۡ شُعَیۡبًا ؕ قَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرُہٗ ؕ وَلَا تَنۡقُصُوا الۡمِکۡیَالَ وَالۡمِیۡزَانَ اِنِّیۡۤ اَرٰىکُمۡ بِخَیۡرٍ وَّاِنِّیۡۤ اَخَافُ عَلَیۡکُمۡ عَذَابَ یَوۡمٍ مُّحِیۡطٍ ٨٤

ওয়া ইলা-মাদইয়ানা আখা-হুম শু‘আইবান কা-লা ইয়া-কাওমি‘বুদুল্লা-হা মা-লাকুম মিন ইলা-হিন গাইরুহূ ওয়ালা-তানকুসুল মিকয়া-লা ওয়াল মীঝা-না ইন্নীআরা-কুম বিখাইরিওঁ ওয়া ইন্নীআখা-ফু‘আলাইকুম ‘আযা-বা ইয়াওমিম মুহীত।

আর মাদয়ানে তাদের ভাই শুআইবকে নবী করে পাঠাই। ৫৭ সে (তাদেরকে) বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন মাবুদ নেই এবং ওজন ও পরিমাপে কম দিও না। আমি তোমাদেরকে সমৃদ্ধশালী দেখছি। ৫৮ আমি তোমাদের প্রতি এমন এক দিনের শাস্তির আশঙ্কা করছি, যা তোমাদেরকে চারও দিক থেকে বেষ্টন করে ফেলবে।

তাফসীরঃ

৫৭. মাদয়ান ও হযরত শুআইব আলাইহিস সালামের সংক্ষিপ্ত পরিচিতির জন্য সূরা আরাফ (৭ : ৮৫)-এর টীকা দেখুন।
৮৫

وَیٰقَوۡمِ اَوۡفُوا الۡمِکۡیَالَ وَالۡمِیۡزَانَ بِالۡقِسۡطِ وَلَا تَبۡخَسُوا النَّاسَ اَشۡیَآءَہُمۡ وَلَا تَعۡثَوۡا فِی الۡاَرۡضِ مُفۡسِدِیۡنَ ٨٥

ওয়া ইয়া-কাওমি আওফুলমিকয়া-লা ওয়াল মীঝা-না বিলকিছতিওয়ালা-তাবখাছুন্না-ছা আশইয়াআহুম ওয়ালা-তা‘ছাও ফিল আরদিমুফছিদীন।

হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা পরিমাণ ও ওজন ন্যায়সঙ্গতভাবে পূর্ণ করবে। মানুষকে তাদের দ্রব্যাদি কম দেবে না ৫৯ এবং পৃথিবীতে অশান্তি বিস্তার করে বেড়াবে না। ৬০

তাফসীরঃ

৫৯. এস্থলে কুরআন মাজীদ যে শব্দ ব্যবহার করেছে, তা অতি ব্যাপক অর্থবোধক। সব রকমের হক এর অন্তর্ভুক্ত। বলা হচ্ছে যে, তোমাদের কাছে যে-কোনও ব্যক্তির কোনও রকমের হক ও পাওনা সাব্যস্ত হলে ছল-চাতুরি করে তা কমানোর চেষ্টা করবে না; বরং প্রত্যেক হকদারকে তার হক পরিপূর্ণরূপে আদায় করে দেবে।
৮৬

بَقِیَّتُ اللّٰہِ خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ۬ۚ وَمَاۤ اَنَا عَلَیۡکُمۡ بِحَفِیۡظٍ ٨٦

বাকিইইয়াতুল্লা-হি খাইরুল্লাকুম ইন কুনতুম মু’মিনীনা ওয়ামাআনা ‘আলাইকুম বিহাফীজ।

তোমরা যদি আমার কথা মান, তবে (মানুষের ন্যায্য হক আদায় করার পর) আল্লাহ-প্রদত্ত যা-কিছু অবশিষ্ট থাকবে, তোমাদের পক্ষে তাই শ্রেয়। আর (যদি না মান, তবে) আমি তোমাদের উপর পাহারাদার নিযুক্ত হইনি।
৮৭

قَالُوۡا یٰشُعَیۡبُ اَصَلٰوتُکَ تَاۡمُرُکَ اَنۡ نَّتۡرُکَ مَا یَعۡبُدُ اٰبَآؤُنَاۤ اَوۡ اَنۡ نَّفۡعَلَ فِیۡۤ اَمۡوَالِنَا مَا نَشٰٓؤُا ؕ اِنَّکَ لَاَنۡتَ الۡحَلِیۡمُ الرَّشِیۡدُ ٨٧

কা-লূইয়া-শু‘আইবুআসালা-তুকা তা’মুরুকা আন নাতরুকা মা-ইয়া‘বুদুআ-বাউনাআও আন্নাফ‘আলা ফীআমওয়া-লিনা-মা-নাশাউ ইন্নাকা লাআনতাল হালীমুর রাশীদ।

তারা বলল, হে শুআইব! তোমার নামায কি তোমাকে এই আদেশ করছে যে, আমাদের বাপ-দাদাগণ যাদের ইবাদত করত, আমরা তাদেরকে পরিত্যাগ করব এবং নিজেদের অর্থ-সম্পদে যা ইচ্ছা হয় তা করব না? ৬১ তুমি তো বড় বুদ্ধিমান ও সদাচারী লোক! ৬২

তাফসীরঃ

৬১. এটা হচ্ছে পুঁজিবাদী মানসিকতা যে, আমার হস্তগত সম্পদে আমার একচ্ছত্র অধিকার। কাজেই তাতে আমার যা-ইচ্ছা তাই করার এখতিয়ার রয়েছে। এতে কারও বাধা দেওয়ার কোনও হক নেই। এর বিপরীতে কুরআন মাজীদের ইরশাদ হল, অর্থ-সম্পদের প্রকৃত মালিকানা আল্লাহ তাআলার। অবশ্য তিনি নিজ অনুগ্রহে মানুষকে তাতে সাময়িক মালিকানা দান করেছেন (দেখুন সূরা ইয়াসীন ৩৬ : ৭১)। সুতরাং এ মালিকানায় নিজ ইচ্ছামত বিধি-নিষেধ আরোপ করার (দ্র. সূরা কাসাস ২৮ : ৭৭) এবং যেখানে ভালো মনে করেন ব্যয়ের নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার তাঁর রয়েছে (সূরা নূর ২৪ : ৩৩)। আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে এসব বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয় এজন্য, যাতে প্রত্যেকে নিজ অর্থ-সম্পদের আয়-ব্যয় সুষ্ঠু-সঠিক পন্থায় সম্পন্ন করে। ফলে আর্থ-সামাজিক জীবনে প্রত্যেকে সমান সুযোগ-সুবিধা লাভ করবে। কেউ কারও প্রতি জুলুম করতে পারবে না এবং সকলের মধ্যে ইনসাফের সাথে অর্থ-সম্পদ বণ্টিত হবে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানার জন্য দ্র. (মূলঃ) হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি কৃত ‘ইসলামের অর্থ-বণ্টন ব্যবস্থা’।
৮৮

قَالَ یٰقَوۡمِ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ کُنۡتُ عَلٰی بَیِّنَۃٍ مِّنۡ رَّبِّیۡ وَرَزَقَنِیۡ مِنۡہُ رِزۡقًا حَسَنًا ؕ وَمَاۤ اُرِیۡدُ اَنۡ اُخَالِفَکُمۡ اِلٰی مَاۤ اَنۡہٰکُمۡ عَنۡہُ ؕ اِنۡ اُرِیۡدُ اِلَّا الۡاِصۡلَاحَ مَا اسۡتَطَعۡتُ ؕ وَمَا تَوۡفِیۡقِیۡۤ اِلَّا بِاللّٰہِ ؕ عَلَیۡہِ تَوَکَّلۡتُ وَاِلَیۡہِ اُنِیۡبُ ٨٨

কা-লা ইয়া-কাওমি আরাআইতুম ইন কুনতু‘আলা-বাইয়িনাতিম মির রাববী ওয়া রাঝাকানী মিনহু রিঝকান হাছানাওঁ ওয়ামাউরীদুআন উখা-লিফাকুম ইলা-মাআনহা-কুম ‘আনহু ইন উরীদুইল্লাল ইসলা-হা মাছতাতা‘তু ওয়ামা-তাওফীকীইল্লা-বিল্লাহি ‘আলাইহি তাওয়াক্কালতুওয়া ইলাইহি উনীব।

শুআইব বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমাকে বল তো, আমি যদি আমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে এক স্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি বিশেষভাবে নিজের পক্ষ থেকে আমাকে উত্তম রিযক দান করে থাকেন ৬৩ (তবে তা সত্ত্বেও আমি তোমাদের ভ্রান্ত পথে কেন চলব?)। আমার এমন কোন ইচ্ছা নেই যে, আমি যে সব বিষয়ে তোমাদেরকে নিষেধ করি, তোমাদের পিছনে গিয়ে নিজেই তা করতে থাকব। ৬৪ নিজ সাধ্যমত সংস্কার করা ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্য আমার নেই। আর আমি যা-কিছু করতে পারি, তা কেবল আল্লাহর সাহায্যেই পারি। আমি তারই উপর নির্ভর করেছি এবং তারই দিকে (প্রতিটি বিষয়ে) রুজূ হই।

তাফসীরঃ

৬৩. এ রিযক দ্বারা বেঁচে থাকার জন্য পানাহার ইত্যাদি যে সকল সামগ্রী প্রয়োজন, তাও বোঝানো হতে পারে আর এ হিসেবে অর্থ হবে, আল্লাহ তাআলা যখন সরল পথে আমাকে রিযক দান করেছেন, তখন তোমরা এসব অর্জনের জন্য যে ভ্রান্ত পথ অবলম্বন করেছ, আমি তা কেন অবলম্বন করব? আবার এ রিযক দ্বারা এস্থলে নবুওয়াতও বোঝানো হতে পারে।
৮৯

وَیٰقَوۡمِ لَا یَجۡرِمَنَّکُمۡ شِقَاقِیۡۤ اَنۡ یُّصِیۡبَکُمۡ مِّثۡلُ مَاۤ اَصَابَ قَوۡمَ نُوۡحٍ اَوۡ قَوۡمَ ہُوۡدٍ اَوۡ قَوۡمَ صٰلِحٍ ؕ وَمَا قَوۡمُ لُوۡطٍ مِّنۡکُمۡ بِبَعِیۡدٍ ٨٩

ওয়া ইয়া-কাওমি লা-ইয়াজরিমান্নাকুম শিকা-কীআইঁ ইউসীবাকুম মিছলুমাআসা-বা কাওমা নূহিন আও কাওমা হূদিন আও কাওমা সা-লিহিওঁ ওয়ামা-কাওমুলূতিম মিনকুম ব্বিা‘ঈদ।

হে আমার সম্প্রদায়! আমার সাথে তোমাদের বিরোধ যেন তোমাদেরকে এমন পরিণতিতে না পৌঁছায় যে, নূহের সম্প্রদায় বা হুদের সম্প্রদায় কিংবা সালিহের সম্প্রদায়ের উপর যেমন মুসিবত অবতীর্ণ হয়েছিল, তোমাদের উপরও সে রকম মুসিবত অবতীর্ণ হয়ে যায়। আর লূতের সম্প্রদায় তো তোমাদের থেকে বেশি দূরেও নয়।
৯০

وَاسۡتَغۡفِرُوۡا رَبَّکُمۡ ثُمَّ تُوۡبُوۡۤا اِلَیۡہِ ؕ اِنَّ رَبِّیۡ رَحِیۡمٌ وَّدُوۡدٌ ٩۰

ওয়াছতাগফিরু রাব্বাকুম ছুম্মা তূবূইলাইহি ইন্না রাববী রাহীমুওঁ ওয়াদূদ।

তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তারপর তাঁরই দিকে রুজূ হও। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক পরম দয়ালু, প্রেমময়।
৯১

قَالُوۡا یٰشُعَیۡبُ مَا نَفۡقَہُ کَثِیۡرًا مِّمَّا تَقُوۡلُ وَاِنَّا لَنَرٰىکَ فِیۡنَا ضَعِیۡفًا ۚ وَلَوۡلَا رَہۡطُکَ لَرَجَمۡنٰکَ ۫ وَمَاۤ اَنۡتَ عَلَیۡنَا بِعَزِیۡزٍ ٩١

কা-লূইয়া-শু‘আইবুমা-নাফকাহু কাছীরাম মিম্মা-তাকূলুওয়া ইন্না-লানারা-কা ফীনা-দা‘ঈফাওঁ- ওয়া লাওলা-রাহতুকা লারাজামনা-কা ওয়ামাআনতা ‘আলাইনাবি‘আঝীঝ।

তারা বলল, হে শুআইব! তোমার অনেক কথা আমাদের বুঝেই আসে না। আমরা দেখছি, আমাদের মধ্যে তুমি একজন দুর্বল লোক। তোমার খান্দান না থাকলে আমরা তোমাকে পাথর মেরে ধ্বংস করতাম। আমাদের বিপরীতে তুমি কিছু শক্তিমান নও।
৯২

قَالَ یٰقَوۡمِ اَرَہۡطِیۡۤ اَعَزُّ عَلَیۡکُمۡ مِّنَ اللّٰہِ ؕ وَاتَّخَذۡتُمُوۡہُ وَرَآءَکُمۡ ظِہۡرِیًّا ؕ اِنَّ رَبِّیۡ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ مُحِیۡطٌ ٩٢

কা-লা ইয়া-কাওমি আরাহতী-আ‘আঝঝু‘আলাইকুম মিনাল্লা-হি ওয়াত্তাখাযতুমূহু ওয়ারাআকুম জিহরিইয়া- ইন্না রাববী বিমা-তা‘মালূনা মুহীত।

শুআইব বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের উপর কি আল্লাহ অপেক্ষা আমার খান্দানের চাপই বেশি? তোমরা তাঁকে সম্পূর্ণরূপে তোমাদের পিছন দিকে রেখে দিয়েছ? জেনে রেখ, তোমরা যা-কিছু করছ, আমার প্রতিপালক তা সবই পরিপূর্ণরূপে বেষ্টন করে রেখেছেন।
৯৩

وَیٰقَوۡمِ اعۡمَلُوۡا عَلٰی مَکَانَتِکُمۡ اِنِّیۡ عَامِلٌ ؕ سَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ ۙ مَنۡ یَّاۡتِیۡہِ عَذَابٌ یُّخۡزِیۡہِ وَمَنۡ ہُوَ کَاذِبٌ ؕ وَارۡتَقِبُوۡۤا اِنِّیۡ مَعَکُمۡ رَقِیۡبٌ ٩٣

ওয়া ইয়া-কাওমি‘মালূ‘আলা-মাকা-নাতিকুম ইন্নী ‘আ-মিলুন ছাওফা তা‘লামূনা মাইঁ ইয়া’তীহি ‘আযা-বুইঁ ইউখঝীহি ওয়ামান হুওয়া কা-যিবুওঁ ওয়ারতাকিবূইন্নী মা‘আকুম রাকীব।

এবং হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আপন অবস্থায় থেকে (যা ইচ্ছা হয়) কাজ করতে থাক, আমিও (নিজ নিয়ম অনুসারে) কাজ করছি। ৬৫ শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে কার উপর এমন শাস্তি অবতীর্ণ হয়, যা তাকে লাঞ্ছিত করে ছাড়বে আর কে মিথ্যাবাদী? তোমরা অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষারত আছি।

তাফসীরঃ

৬৫. অর্থাৎ, আমার প্রচারকার্য সত্ত্বেও তোমরা যদি জিদের উপর থাক, তবে শেষ কথা এটাই যে, তোমরা তোমাদের পথে চলতে থাক এবং আমি আমার পথে। তারপর দেখ কার পরিণতি কী হয়।
৯৪

وَلَمَّا جَآءَ اَمۡرُنَا نَجَّیۡنَا شُعَیۡبًا وَّالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَہٗ بِرَحۡمَۃٍ مِّنَّا وَاَخَذَتِ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوا الصَّیۡحَۃُ فَاَصۡبَحُوۡا فِیۡ دِیَارِہِمۡ جٰثِمِیۡنَ ۙ ٩٤

ওয়া লাম্মা-জাআ আমরুনা- নাজ্জাইনা-শু‘আইবাওঁ ওয়াল্লাযীনা আ-মানূমা‘আহূ বিরাহমাতিম মিন্না-ওয়া আখাযাতিল্লাযীনা জালামুসসাইহাতুফাআসবাহূফী দিয়া-রিহিম জা-ছিমীন।

এবং (পরিশেষে) যখন আমার হুকুম এসে গেল, আমি শুআইবকে এবং যারা তার সাথে ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমার বিশেষ রহমতে রক্ষা করি আর যারা জুলুম করেছিল তাদেরকে এক প্রচণ্ড নিনাদ এসে পাকড়াও করল। ৬৬ ফলে তারা নিজেদের ঘর-বাড়িতে এমনভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকল-

তাফসীরঃ

৬৬. এর ব্যাখ্যার জন্য সূরা আরাফ (৭ : ৯১)-এর টীকা দেখুন।
৯৫

کَاَنۡ لَّمۡ یَغۡنَوۡا فِیۡہَا ؕ  اَلَا بُعۡدًا لِّمَدۡیَنَ کَمَا بَعِدَتۡ ثَمُوۡدُ ٪ ٩٥

কাআল লাম ইয়াগনাও ফীহা- আলা-বু‘দাল লিমাদইয়ানা কামা বা‘ইদাত ছামূদ।

যেন তারা কখনও সেখানে বসবাসই করেনি। স্মরণ রেখ, মাদয়ানেরও সেইভাবে বিনাশ ঘটল, যেভাবে বিনাশ হয়েছিল ছামুদ জাতি।
৯৬

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا مُوۡسٰی بِاٰیٰتِنَا وَسُلۡطٰنٍ مُّبِیۡنٍ ۙ ٩٦

ওয়া লাকাদ আরছালনা-মূছা-বিআ-য়া-তিনা-ওয়া ছুলতা-নিম মুবীন।

এবং আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলী ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ পাঠালাম-
৯৭

اِلٰی فِرۡعَوۡنَ وَمَلَا۠ئِہٖ فَاتَّبَعُوۡۤا اَمۡرَ فِرۡعَوۡنَ ۚ وَمَاۤ اَمۡرُ فِرۡعَوۡنَ بِرَشِیۡدٍ ٩٧

ইলা-ফির‘আওনা ওয়া মালাইহী ফাত্তাবা‘উআমরা ফির‘আওনা ওয়ামাআমরু ফির‘আওনা বিরাশীদ।

ফিরাউন ও তার অমাত্যদের কাছে। তারা ফির‘আউনের কর্মকাণ্ডেরই অনুসরণ করল, অথচ ফির‘আউনের কর্মকাণ্ড যথোচিত ছিল না।
৯৮

یَقۡدُمُ قَوۡمَہٗ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ فَاَوۡرَدَہُمُ النَّارَ ؕ وَبِئۡسَ الۡوِرۡدُ الۡمَوۡرُوۡدُ ٩٨

ইয়াকদুমুকাওমাহূইয়াওমাল কিয়া-মাতি ফাআওরাদা হুমুন্না-রু ওয়া বি‘ছাল বিরদুল মাওরূদ।

কিয়ামতের দিন সে নিজ সম্প্রদায়ের অগ্রভাগে থাকবে এবং তাদের সকলকে নিয়ে জাহান্নামে নামাবে আর তা কত নিকৃষ্ট ঘাট, যাতে তারা নামবে।
৯৯

وَاُتۡبِعُوۡا فِیۡ ہٰذِہٖ لَعۡنَۃً وَّیَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ بِئۡسَ الرِّفۡدُ الۡمَرۡفُوۡدُ ٩٩

ওয়া উতবি‘ঊ ফী হা-যিহী লা‘নাতাওঁ ওয়া ইয়াওমাল কিয়া-মাতি বি’ছার রিফদুল মারফূদ।

এই দুনিয়ায়ও লানতকে তাদের পিছনে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কিয়ামতের দিনেও। এটা কত নিকৃষ্ট পুরস্কার, যা তাদেরকে দেওয়া হবে।
১০০

ذٰلِکَ مِنۡ اَنۡۢبَآءِ الۡقُرٰی نَقُصُّہٗ عَلَیۡکَ مِنۡہَا قَآئِمٌ وَّحَصِیۡدٌ ١۰۰

যা-লিকা মিন আমবাইল কুরা-নাকুসসুহূ‘আলাইকা মিনহা কাইমুওঁ ওয়া হাসীদ।

এটা সেই সব জনপদের বৃত্তান্ত, যা আমি তোমাকে শোনাচ্ছি। তার মধ্যে কতক (জনপদ) এখনও আপন স্থানে বিদ্যমান আছে ৬৭ এবং কতক কর্তিত ফসল (-এর মত নিশ্চিহ্ন) হয়ে গেছে।

তাফসীরঃ

৬৭. যেমন ফির‘আউনের দেশ মিসর। ফির‘আউনের নিমজ্জিত হওয়ার পরও সে দেশটির অস্তিত্ব বাকি আছে। অপর দিকে আদ ও ছামুদ জাতির বাসভূমি এবং হযরত লুত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায় যে জনপদে বাস করত, তা এমনভাবে ধ্বংস হয়েছে যে, পরবর্তীকালে আর তা আবাদ হতে পারেনি।
১০১

وَمَا ظَلَمۡنٰہُمۡ وَلٰکِنۡ ظَلَمُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ فَمَاۤ اَغۡنَتۡ عَنۡہُمۡ اٰلِہَتُہُمُ الَّتِیۡ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مِنۡ شَیۡءٍ لَّمَّا جَآءَ اَمۡرُ رَبِّکَ ؕ وَمَا زَادُوۡہُمۡ غَیۡرَ تَتۡبِیۡبٍ ١۰١

ওয়ামা-জালামনা-হুম ওয়ালা-কিন জালামূআনফুছাহুম ফামাআগনাত ‘আনহুম আলিহাতুহুমুল্লাতী ইয়াদ‘ঊনা মিন দূ নিল্লা-হি মিন শাইয়িল লাম্মা-জাআ আমরু রাব্বিকা ওয়ামা-ঝা-দুহুম গাইরা তাতবীব।

আমি তাদের উপর কোনও জুলুম করিনি; বরং তারা নিজেরাই নিজেদের উপর জুলুম করেছিল, পরিণামে যখন তোমার প্রতিপালকের হুকুম আসল, তখন আল্লাহর পরিবর্তে যে সকল মাবুদকে তারা ডাকত, তারা তাদের কিছুমাত্র কাজে আসল না এবং তারা ধ্বংস ছাড়া তাদের জন্য কিছু বৃদ্ধি করল না।
১০২

وَکَذٰلِکَ اَخۡذُ رَبِّکَ اِذَاۤ اَخَذَ الۡقُرٰی وَہِیَ ظَالِمَۃٌ ؕ اِنَّ اَخۡذَہٗۤ اَلِیۡمٌ شَدِیۡدٌ ١۰٢

ওয়া কাযা-লিকা আখযুরাব্বিক ইযাআখাযাল কুরা-ওয়াহিয়া জা-লিমাতুন ইন্না আখযাহূআলীমুন শাদীদ।

যে সকল জনপদ জুলুমে লিপ্ত হয়, তোমার প্রতিপালক যখন তাদের ধরেন, তখন তাঁর ধরা এমনই হয়ে থাকে। বাস্তবিকই তাঁর ধরা অতি মর্মন্তুদ, অতি কঠিন।
১০৩

اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّمَنۡ خَافَ عَذَابَ الۡاٰخِرَۃِ ؕ ذٰلِکَ یَوۡمٌ مَّجۡمُوۡعٌ ۙ لَّہُ النَّاسُ وَذٰلِکَ یَوۡمٌ مَّشۡہُوۡدٌ ١۰٣

ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাল লিমান খা-ফা ‘আযা-বাল আ-খিরাতি যা-লিকা ইয়াওমুম মাজমূ‘উল্লাহুন্না-ছুওয়া যা-লিকা ইয়াওমুম মাশহুদ।

যে ব্যক্তি আখেরাতের শাস্তিকে ভয় করে, তার জন্য এসব বিষয়ের মধ্যে বিরাট শিক্ষা রয়েছে। তা এমন দিন, যার জন্য সমস্ত মানুষকে একত্র করা হবে এবং তা এমন দিন, যা হবে (সকলের কাছে) দৃশ্যমান।
১০৪

وَمَا نُؤَخِّرُہٗۤ اِلَّا لِاَجَلٍ مَّعۡدُوۡدٍ ؕ ١۰٤

ওয়ামা-নুআখখিরুহূ ইল্লা-লিআজালিম মা‘দূদ।

আমি তা স্থগিত রেখেছি গনা-গুণতি কিছু কালের জন্য।
১০৫

یَوۡمَ یَاۡتِ لَا تَکَلَّمُ نَفۡسٌ اِلَّا بِاِذۡنِہٖ ۚ فَمِنۡہُمۡ شَقِیٌّ وَّسَعِیۡدٌ ١۰٥

ইয়াওমা ইয়া'তি লা-তাকাল্লামুনাফছুন ইল্লা-বিইযনিহী ফামিনহুম শাকিইইউঁওয়াছা‘ঈদ।

যখন সে দিন আসবে, তখন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কথা বলতে পারবে না। তাদের মধ্যে কেউ হবে দুর্গতিগ্রস্ত এবং কেউ হবে সদগতিসম্পন্ন।
১০৬

فَاَمَّا الَّذِیۡنَ شَقُوۡا فَفِی النَّارِ لَہُمۡ فِیۡہَا زَفِیۡرٌ وَّشَہِیۡقٌ ۙ ١۰٦

ফাআম্মাল্লাযীনা শাকূফাফিন্না-রি লাহুম ফীহা-ঝাফীরুওঁ ওয়া শাহীক।

সুতরাং যারা দুর্গতিগ্রস্ত হবে, তারা থাকবে জাহান্নামে, যেখানে তাদের চিৎকার ও আর্তনাদ শোনা যাবে।
১০৭

خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا مَا دَامَتِ السَّمٰوٰتُ وَالۡاَرۡضُ اِلَّا مَا شَآءَ رَبُّکَ ؕ اِنَّ رَبَّکَ فَعَّالٌ لِّمَا یُرِیۡدُ ١۰٧

খা-লিদীনা ফীহা-মা-দা-মাতিছছামা-ওয়া-তুওয়াল আরদুইল্লা-মা-শাআ রাব্বুকা ইন্না রাব্বাকা ফা‘‘আ-লুলিলমা-ইউরীদ।

তারা তাতে সর্বদা থাকবে যতদিন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে ৬৮ যদি না তোমার প্রতিপালক অন্য কিছু ইচ্ছা করেন। ৬৯ নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা করেন, তা উত্তমরূপে সাধিত করেন।

তাফসীরঃ

৬৮. এ রকমের ব্যত্যয় পূর্বে সূরা আনআম (৬ : ১২৮)-এও গত হয়েছে। সেখানে আমরা বলেছিলাম, এর প্রকৃত মর্ম আল্লাহ তাআলাই জানেন। তবে এর দ্বারা এতটুকু বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায় যে, কাকে আযাব দেওয়া হবে আর কাকে সওয়াব সে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্পূর্ণ এখতিয়ার আল্লাহ তাআলারই হাতে। কারও সুপারিশ বা ফরমায়েশের কোনও প্রভাব এখানে নেই। দ্বিতীয়ত কাফেরদেরকে শাস্তি দানের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার কোন বাধ্যবাধকতা নেই; বরং এটা তাঁর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। কুফর সত্ত্বেও তিনি যদি কাউকে শাস্তি থেকে পরিত্রাণ দিতে চান, তবে সে এখতিয়ার তাঁর রয়েছে। এতে বাধ সাধার কোনও হক কারও নেই। এটা ভিন্ন কথা যে, কাফেরদেরকে স্থায়ীভাবে শাস্তির ভেতর রাখাই তাঁর ইচ্ছা, যেমন কুরআন মাজীদের বিভিন্ন আয়াত দ্বারা জানা যায়।
১০৮

وَاَمَّا الَّذِیۡنَ سُعِدُوۡا فَفِی الۡجَنَّۃِ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا مَا دَامَتِ السَّمٰوٰتُ وَالۡاَرۡضُ اِلَّا مَا شَآءَ رَبُّکَ ؕ عَطَآءً غَیۡرَ مَجۡذُوۡذٍ ١۰٨

ওয়াআম্মাল্লাযীনা ছু‘ইদূফাফিল জান্নাতি খা-লিদীনা ফীহা-মা-দা-মাতিছছামা-ওয়া-তু ওয়াল আরদুইল্লা-মা-শাআ রাব্বুকা; ‘আতা-আন গাইরা মাজযূয।

আর যারা সদগতিসম্পন্ন হবে, তারা থাকবে জান্নাতে, তাতে তারা সর্বদা থাকবে- যতদিন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, যদি না তোমার প্রতিপালক অন্য কিছু ইচ্ছা করেন। এটা হবে এক নিরবচ্ছিন্ন দান।
১০৯

فَلَا تَکُ فِیۡ مِرۡیَۃٍ مِّمَّا یَعۡبُدُ ہٰۤؤُلَآءِ ؕ  مَا یَعۡبُدُوۡنَ اِلَّا کَمَا یَعۡبُدُ اٰبَآؤُہُمۡ مِّنۡ قَبۡلُ ؕ  وَاِنَّا لَمُوَفُّوۡہُمۡ نَصِیۡبَہُمۡ غَیۡرَ مَنۡقُوۡصٍ ٪ ١۰٩

ফালা-তাকুফী মিরইয়াতিম মিম্মা-ইয়া‘বুদুহাউলাই মা-ইয়া‘বুদূ না ইল্লা-কামাইয়া‘বুদুআ-বাউহুম মিন কাবলু ওয়া ইন্না-লামুওয়াফফূহুম নাসীবাহুম গাইরা মানকূস।

সুতরাং (হে নবী!) তারা (অর্থাৎ মুশরিকগণ) যাদের (অর্থাৎ প্রতিমাদের) ইবাদত করে, তাদের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহে থেক না। পূর্বে তাদের বাপ-দাদাগণ যেভাবে ইবাদত করত এরা তো সেভাবেই ইবাদত করছে। নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে তাদের অংশ পরিপূর্ণভাবে আদায় করে দেব, যাতে কিছুমাত্র কম করা হবে না। ৭০

তাফসীরঃ

৭০. অর্থাৎ মূর্তিপূজার ব্যাপারে তারা কোন দলীল-প্রমাণ ছাড়াই অন্ধভাবে তাদের বাপদাদাদের অনুসরণ করছে। তোমাকে জানানো হয়েছে শিরক ও পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত থাকার পরিণামে সেই বাপদাদাদের কী শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। তুমি নিশ্চিত থাক সেই একই পরিণতি এদেরও হবে। এর দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সান্তনা দেওয়া হয়েছে। -অনুবাদক
১১০

وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡکِتٰبَ فَاخۡتُلِفَ فِیۡہِ ؕ وَلَوۡلَا کَلِمَۃٌ سَبَقَتۡ مِنۡ رَّبِّکَ لَقُضِیَ بَیۡنَہُمۡ ؕ وَاِنَّہُمۡ لَفِیۡ شَکٍّ مِّنۡہُ مُرِیۡبٍ ١١۰

ওয়া লাকাদ আ-তাইনা-মুছাল কিতা-বা ফাখতুলিফা ফীহি ওয়া লাওলা-কালিমাতুন ছাবাকাত মির রাব্বিকা লাকুদিয়া বাইনাহুম ওয়া ইন্নাহুম লাফী শাক্কিম মিনহু মুরীব।

আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, অতঃপর তাতেও মতভেদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে পূর্বেই যদি একটি কথা (অর্থাৎ তাদেরকে পরিপূর্ণ শাস্তি দেওয়া হবে আখেরাতে এই কথা) স্থিরীকৃত না থাকত, তবে (দুনিয়াতেই) তাদের মীমাংসা হয়ে যেত। বস্তুত তারা (এখনও পর্যন্ত) এ বিষয়ে কঠিন সন্দেহে নিপতিত। ৭১

তাফসীরঃ

৭১. এর দ্বারাও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সান্তনা দেওয়া উদ্দেশ্য যে, অবিশ্বাসীরা যে কুরআনকে অস্বীকার করছে এটা অভূতপূর্ব কোন ব্যাপার নয়। ইতঃপূর্বে মূসাকে যে তাওরাত গ্রন্থ দিয়েছিলাম, সে ব্যাপারে মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। একদল তা অবিশ্বাস করেছিল এবং আরেকদল বিশ্বাস করেছিল, ঠিক তোমার সম্প্রদায়েরই অনুরূপ। সুতরাং এ নিয়ে তুমি দুঃখ করো না। -অনুবাদক
১১১

وَاِنَّ کُلًّا لَّمَّا لَیُوَفِّیَنَّہُمۡ رَبُّکَ اَعۡمَالَہُمۡ ؕ اِنَّہٗ بِمَا یَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرٌ ١١١

ওয়া ইন্না কুল্লাল লাম্মা-লাইউওয়াফফিয়ান্নাহুম রাব্বুকা আ‘মা-লাহুম ইন্নাহূবিমাইয়া‘মালূনা খাবীর।

নিশ্চয়ই সকলের ব্যাপারে এটাই নিয়ম যে, তোমার প্রতিপালক তাদের কর্মফল পুরোপুরি দিবেন। নিশ্চয়ই তিনি তাদের যাবতীয় কর্ম সম্পর্কে পরিপূর্ণরূপে অবগত।
১১২

فَاسۡتَقِمۡ کَمَاۤ اُمِرۡتَ وَمَنۡ تَابَ مَعَکَ وَلَا تَطۡغَوۡا ؕ اِنَّہٗ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ ١١٢

ফাছতাকিম কামাউমিরতা ওয়ামান তা-বা মা‘আকা ওয়ালা-তাতগাও ইন্নাহূবিমাতা‘মালূনা বাসীর।

সুতরাং (হে নবী!) তোমাকে যেভাবে হুকুম করা হয়েছে, সে অনুযায়ী তুমি নিজেও সরল পথে স্থির থাক এবং যারা তাওবা করে তোমার সঙ্গে আছে তারাও। আর সীমালংঘন করো না। নিশ্চয়ই তোমরা যা-কিছুই কর, তিনি তা ভালোভাবে দেখেন।
১১৩

وَلَا تَرۡکَنُوۡۤا اِلَی الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا فَتَمَسَّکُمُ النَّارُ ۙ وَمَا لَکُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مِنۡ اَوۡلِیَآءَ ثُمَّ لَا تُنۡصَرُوۡنَ ١١٣

ওয়ালা-তারকানূইলাল্লাযীনা জালামূফাতামাছছাকুমুন্না-রু ওয়ামা-লাকুমমিনদূনিল্লা-হি মিন আউলিয়াআ ছুম্মা লা-তুনসারূন।

এবং (হে মুসলিমগণ!) তোমরা ওই জালেমদের দিকে একটুও ঝুঁকবে না, অন্যথায় জাহান্নামের আগুন তোমাদেরকেও স্পর্শ করবে ৭২ এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনও রকমের বন্ধু লাভ হবে না আর তখন কেউ তোমাদের সাহায্যও করবে না।

তাফসীরঃ

৭২. অর্থাৎ জালেম ও কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করবে না, তাদের সাহচর্য অবলম্বন করবে না, তাদের প্রতি সৌজন্যমূলক আচরণ করবে বটে, কিন্তু তাদেরকে ইজ্জত-সম্মান ও প্রশংসা করবে না। প্রকাশ্য-গুপ্ত সর্বপ্রকারে তাদের অনুসরণ-অনুকরণ পরিহার করে চলবে। অন্যথায় তোমরা তাদের দলভুক্ত হয়ে যাবে এবং পরিণামে জাহান্নামের আগুন তোমাদেরকে স্পর্শ করবে। -অনুবাদক
১১৪

وَاَقِمِ الصَّلٰوۃَ طَرَفَیِ النَّہَارِ وَزُلَفًا مِّنَ الَّیۡلِ ؕ  اِنَّ الۡحَسَنٰتِ یُذۡہِبۡنَ السَّیِّاٰتِ ؕ  ذٰلِکَ ذِکۡرٰی لِلذّٰکِرِیۡنَ ۚ ١١٤

ওয়া আকিমিসসালা-তা তারাফাইন্নাহা-রি ওয়া ঝুলাফাম মিনাল্লাইলি ইন্নাল হাছানা-তি ইউযহিবনাছ ছাইয়িআ-তি যা-লিকা যিকরা-লিযযা-কিরীন।

এবং (হে নবী!) দিনের উভয় প্রান্তে ৭৩ এবং রাতের কিছু অংশে নামায কায়েম কর। ৭৪ নিশ্চয়ই পুণ্যরাজি পাপরাশিকে মিটিয়ে দেয়। ৭৫ যারা উপদেশ মানে তাদের জন্য এটা এক উপদেশ।

তাফসীরঃ

৭৩. পূর্বের আয়াতে জালেমদের দিকে ঝুঁকতে নিষেধ করা হয়েছিল। এ আয়াতের নির্দেশ হচ্ছে, ঝুঁকবে কেবল আল্লাহ তা‘আলার দিকে এবং সে ঝোঁকার সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা ও বিধিবদ্ধ নিয়ম হল পাঁচ ওয়াক্ত নামায। সুতরাং আয়াতে পাঁচ নামাযের ওয়াক্ত ও উপকারিতা শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। -অনুবাদক
১১৫

وَاصۡبِرۡ فَاِنَّ اللّٰہَ لَا یُضِیۡعُ اَجۡرَ الۡمُحۡسِنِیۡنَ ١١٥

ওয়াসবির ফাইন্নাল্লা-হা লা-ইউদী‘উ আজরাল মুহছিনীন।

এবং সবর অবলম্বন কর। কেননা আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।
১১৬

فَلَوۡلَا کَانَ مِنَ الۡقُرُوۡنِ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ اُولُوۡا بَقِیَّۃٍ یَّنۡہَوۡنَ عَنِ الۡفَسَادِ فِی الۡاَرۡضِ اِلَّا قَلِیۡلًا مِّمَّنۡ اَنۡجَیۡنَا مِنۡہُمۡ ۚ وَاتَّبَعَ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا مَاۤ اُتۡرِفُوۡا فِیۡہِ وَکَانُوۡا مُجۡرِمِیۡنَ ١١٦

ফালাওলা-কা-না মিনাল কুরূনি মিন কাবলিকুম ঊলূবাকিইইয়াতিইঁ ইয়ানহাওনা ‘আনিল ফাছা-দি ফিল আরদিইল্লা-কালীলাম মিম্মান আনজাইনা-মিনহুম ওয়াত্তাবা‘আল্লাযীনা জালামুমাউতরিফূফীহি ওয়াকা-নূমুজরীমিন।

তোমাদের আগে যেসব উম্মত গত হয়েছে, তাদের মধ্যে জ্ঞান-বুদ্ধির অবশেষ আছে এমন কিছু লোক কেন হল না, যারা পৃথিবীতে অশান্তি বিস্তার করা থেকে মানুষকে নিবৃত্ত করত? অবশ্য অল্প কিছু লোক ছিল, যাদেরকে আমি তাদের মধ্য হতে (শাস্তি থেকে) রক্ষা করেছিলাম। আর জালেমগণ যে ভোগ-বিলাসের মধ্যে ছিল, তারই পিছনে লেগে থাকল এবং তারা ছিল অপরাধী।
১১৭

وَمَا کَانَ رَبُّکَ لِیُہۡلِکَ الۡقُرٰی بِظُلۡمٍ وَّاَہۡلُہَا مُصۡلِحُوۡنَ ١١٧

ওয়ামা-কা-না রাব্বুকা লিইউহলিকাল কুরা- বিজু লমিওঁ ওয়া আহলুহা-মুসলিহুন।

তোমার প্রতিপালক এমন নন যে, তিনি জনপদসমূহ অন্যায়ভাবে ধ্বংস করে দেবেন, অথচ তার বাসিন্দাগণ সঠিক পথে চলছে।
১১৮

وَلَوۡ شَآءَ رَبُّکَ لَجَعَلَ النَّاسَ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً وَّلَا یَزَالُوۡنَ مُخۡتَلِفِیۡنَ ۙ ١١٨

ওয়া লাও শাআ রাব্বুকা লাজা‘আলান্না-ছা উম্মাতাওঁ ওয়া-হিদাতাওঁ ওয়ালা-ইয়াঝা-লূনা মুখতালিফীন।

তোমার প্রতিপালক চাইলে সমস্ত মানুষকে একই পথের অনুসারী বানিয়ে দিতেন কিন্তু (কাউকে জোরপূর্বক কোনও দীন মানতে বাধ্য করাটা তাঁর হিকমতের পরিপন্থী। তাই তাদেরকে তাদের ইচ্ছাক্রমে যে-কোনও পথ অবলম্বনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, সুতরাং) তারা বিভিন্ন পথেই চলতে থাকবে।
১১৯

اِلَّا مَنۡ رَّحِمَ رَبُّکَ ؕ وَلِذٰلِکَ خَلَقَہُمۡ ؕ وَتَمَّتۡ کَلِمَۃُ رَبِّکَ لَاَمۡلَـَٔنَّ جَہَنَّمَ مِنَ الۡجِنَّۃِ وَالنَّاسِ اَجۡمَعِیۡنَ ١١٩

ইল্লা-মার রাহিমা রাব্বুকা ওয়া লিযা-লিকা খালাকাহুম ওয়া তাম্মাত কালিমাতু রাব্বিকা লাআমলাআন্না জাহান্নামা মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-ছি আজমা‘ঈন।

অবশ্য তোমার প্রতিপালক যাদের প্রতি দয়া করবেন, তাদের কথা ভিন্ন (আল্লাহ তাদেরকে সঠিক পথে প্রতিষ্ঠিত রাখবেন)। আর এরই (অর্থাৎ এই পরীক্ষারই) জন্য তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। ৭৬ তোমার প্রতিপালকের এই কথা পূর্ণ হবেই, যা তিনি বলেছিলেন যে, আমি জিন ও ইনসান উভয়ের দ্বারা জাহান্নাম ভরে ফেলব।

তাফসীরঃ

৭৬. কুরআন মাজীদে এ বিষয়টা বার বার স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করলে সমস্ত মানুষকে জোরপূর্বক একই দীনের অনুসারী বানাতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি এ কারণে যে, বিশ্ব-জগত সৃষ্টি ও তাতে মানুষকে পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য মানুষকে পরীক্ষা করা। অর্থাৎ, তাকে ভালো-মন্দের পার্থক্য শিখিয়ে এই সুযোগ দিয়ে দেওয়া, যাতে সে নিজ এখতিয়ার ও পছন্দ মত দুই পথের মধ্যে যে কোনওটি অবলম্বন করতে পারে। এর দ্বারা তার পরীক্ষা হয়ে যায় যে, সে নিজ ইচ্ছা ও পছন্দের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জান্নাত অর্জন করে, না তার ভুল ব্যবহারের পরিণতিতে জাহান্নামের উপযুক্ত হয়ে যায়। এই পরীক্ষার লক্ষ্যেই আল্লাহ তাআলা কাউকে তার বিনা ইচ্ছায় বিশেষ কোনও পথে চলতে বাধ্য করেননি।
১২০

وَکُلًّا نَّقُصُّ عَلَیۡکَ مِنۡ اَنۡۢبَآءِ الرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِہٖ فُؤَادَکَ ۚ وَجَآءَکَ فِیۡ ہٰذِہِ الۡحَقُّ وَمَوۡعِظَۃٌ وَّذِکۡرٰی لِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ ١٢۰

ওয়াকুল্লান নাকুসসু‘আলাইকা মিন আমবাইর রুছুলি মা-নুছাব্বিতুবিহী ফুআ-দাকা ওয়া জাআকা ফীহা-যিহিল হাক্কুওয়া মাও‘ইজাতুওঁ ওয়া যিকরা-লিলমু’মিনীন।

(হে নবী!) আমি তোমাকে বিগত নবীগণের এমন সব ঘটনা শোনাচ্ছি, যা দ্বারা আমি তোমার অন্তরে শক্তি যোগাই। আর এসব ঘটনার ভিতর দিয়ে তোমার কাছে যে বাণী এসেছে তা সত্য এবং মুমিনদের জন্য উপদেশ ও স্মারকও।
১২১

وَقُلۡ لِّلَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ اعۡمَلُوۡا عَلٰی مَکَانَتِکُمۡ ؕ  اِنَّا عٰمِلُوۡنَ ۙ ١٢١

ওয়া কুল লিল্লাযীনা লা- ইউ’মিনূনা‘মালূ‘আলা-মাকা-নাতিকুম ইন্না-‘আ-মিলূন।

যারা ঈমান আনছে না তাদেরকে বল, তোমরা নিজেদের বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী কাজ করতে থাক, আমরাও (নিজেদের নিয়ম অনুসারে) কাজ করছি।
১২২

وَانۡتَظِرُوۡا ۚ اِنَّا مُنۡتَظِرُوۡنَ ١٢٢

ওয়ানতাজিরু ইন্না-মুনতাজিরূন।

এবং তোমরাও (আল্লাহর পক্ষ হতে ফায়সালার) অপেক্ষা কর, আমরাও অপেক্ষা করছি।
১২৩

وَلِلّٰہِ غَیۡبُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَاِلَیۡہِ یُرۡجَعُ الۡاَمۡرُ کُلُّہٗ فَاعۡبُدۡہُ وَتَوَکَّلۡ عَلَیۡہِ ؕ  وَمَا رَبُّکَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعۡمَلُوۡنَ ٪ ١٢٣

ওয়ালিল্লা-হি গাইবুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়া ইলাইহি ইউরজা‘উল আমরু কুল্লুহূ ফা‘বুদহু ওয়া তাওয়াক্কাল ‘আলাইহি ওয়ামা-রাব্বুকা বিগা-ফিলিন ‘আম্মা-তা‘মালূন।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যত গুপ্ত রহস্য আছে, তার সবই আল্লাহর জ্ঞানে রয়েছে এবং তাঁরই দিকে যাবতীয় বিষয় প্রত্যানীত হবে। সুতরাং (হে নবী!) তাঁর ইবাদত কর এবং তাঁর উপর নির্ভর কর। তোমরা যা-কিছু কর, তোমার প্রতিপালক সে সম্পর্কে অনবহিত নন।
সূরা হুদ | মুসলিম বাংলা