সূরা
পারা
Loading verses...
সূরা
পারা
Loading verses...
অন্যান্য
অনুবাদ
তেলাওয়াত
সূরা আল ইখলাস (الإخلاص) | একত্ব
মাক্কী
মোট আয়াতঃ ৪
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
قُلۡ ہُوَ اللّٰہُ اَحَدٌ ۚ ١
কুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ।
বলে দাও, ১ কথা হল আল্লাহ সব দিক থেকে এক। ২
তাফসীরঃ
১. ‘আল্লাহ সব দিক থেকে এক’-এর দ্বারা احد শব্দের তরজমা করার চেষ্টা করা হয়েছে। কেবল ‘এক’ বললে এর সম্পূর্ণ মর্ম আদায় হয় না। ‘সব দিক থেকে এক’-এর ব্যাখ্যা এই যে, তাঁর সত্তা এক। তাঁর কোন অংশ নেই, খণ্ড নেই। তাঁর গুণাবলীও এমন যে, তা আর কারও মধ্যে পাওয়া যায় না। এভাবে তিনি নিজ সত্তার দিক থেকেও এক, গুণাবলীর দিক থেকেও এক।
اَللّٰہُ الصَّمَدُ ۚ ٢
আল্লা-হুসসামাদ।
আল্লাহই এমন যে, সকলে তাঁর মুখাপেক্ষী, তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন। ৩
তাফসীরঃ
৩. ‘সকলে তাঁর মুখাপেক্ষী, তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন’ এটা الصمد-এর তরজমা। এ শব্দের মর্মও কোন এক শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আরবীতে الصمد বলে তাকে, মানুষ নিজেদের বিপদ-আপদ ও সমস্যাদিতে সাহায্যের জন্য যার শরণাপন্ন হয় এবং সকলে যার মুখাপেক্ষী থাকে, কিন্তু সে নিজে কারও মুখাপেক্ষী থাকে না। সাধারণত সংক্ষিপ্তভাবে এ শব্দের তরজমা করা হয় ‘বেনিয়ায’। কিন্তু তা দ্বারা শব্দটির কেবল এই দিকই প্রকাশ পায় যে, তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন। কিন্তু সকলেই যে তার মুখাপেক্ষী সে দিকটি এর দ্বারা আদায় হয় না। তাই এখানে বিশেষ একটি শব্দ দ্বারা তরজমা না করে সম্পূর্ণ মর্ম বর্ণনা করা হয়েছে।
وَلَمۡ یَکُنۡ لَّہٗ کُفُوًا اَحَدٌ ٪ ٤
ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহূকুফুওয়ান আহাদ।
এবং তার সমকক্ষ নয় কেউ। ৫
তাফসীরঃ
৫. অর্থাৎ এমন কেউ নেই, যে কোন ব্যাপারে তাঁর সমকক্ষতা দাবি করতে পারে। সূরাটির এ চার আয়াত দ্বারা আল্লাহ তাআলার তাওহীদকে অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথম আয়াত দ্বারা বহু-ঈশ্বরবাদী তথা যারা একের বেশি মাবুদে বিশ্বাস করে তাদেরকে রদ করা হয়েছে। দ্বিতীয় আয়াতে তাদের ধ্যান-ধারণা খণ্ডন করা হয়েছে, যারা আল্লাহ তাআলাকে এক জানা সত্ত্বেও অন্য কাউকে বিপদাপদ থেকে উদ্ধারকারী, প্রয়োজন সমাধাকারী, মনোবাঞ্ছা পূরণকারী ইত্যাদি বলে বিশ্বাস করে। তৃতীয় আয়াতে রদ করা হয়েছে তাদেরকে, যারা বিশ্বাস করে আল্লাহ তাআলার সন্তান-সন্ততি আছে। চতুর্থ আয়াতে সেই সব লোকের বিশ্বাস খণ্ডন করা হয়েছে, যারা মনে করে আল্লাহ তাআলার যে-কোনও গুণ একই রকমভাবে অন্য কারও মধ্যেও থাকতে পারে। যেমন মাজুসী সম্প্রদায় বলত, আলোর স্রষ্টা একজন এবং অন্ধকারের অন্যজন। এমনিভাবে মঙ্গল এক খোদা সৃষ্টি করে এবং অমঙ্গল অন্য খোদা। এভাবে এই সংক্ষিপ্ত সূরাটি সব রকমের শিরককে ভ্রান্ত সাব্যস্ত করতঃ খালেস ও বিশুদ্ধ তাওহীদকে সপ্রমাণ করেছে। এ কারণেই এ সূরাকে সূরা ইখলাস বলা হয়।
একটি সহীহ হাদীসে আছে, সূরা ইখলাস কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ। বাহ্যত তার কারণ এই যে, কুরআন মাজীদ মৌলিকভাবে তিনটি আকীদার প্রতি বেশি জোর দিয়েছে তাওহীদ, রিসালাত ও আখেরাত। সূরা ইখলাসে এ তিনটির মধ্য হতে তাওহীদকে সুস্পষ্ট করে দিয়েছে। বিভিন্ন হাদীসে এ সূরাটি তিলাওয়াতেরও অনেক ফযীলত বর্ণিত হয়েছে।