সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা ইউনুস (يونس) | নবী ইউনুস (আঃ)

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ১০৯

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

الٓرٰ ۟ تِلۡکَ اٰیٰتُ الۡکِتٰبِ الۡحَکِیۡمِ ١

আলিফ লাম রা- তিলকা আ-য়া-তুল কিতা-বিল হাকীম।

আলিফ-লাম-রা। এসব হিকমতপূর্ণ কিতাবের আয়াত।

তাফসীরঃ

১. সূরা বাকারার শুরুতে বলা হয়েছিল যে, বিভিন্ন সূরার প্রারম্ভে যে এ রকম বিচ্ছিন্ন হরফসমূহ আছে, এগুলোকে ‘আল-হুরূফুল মুকাত্তা‘আত’ বলে। এর প্রকৃত মর্ম আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কেউ জানে না।

اَکَانَ لِلنَّاسِ عَجَبًا اَنۡ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلٰی رَجُلٍ مِّنۡہُمۡ اَنۡ اَنۡذِرِ النَّاسَ وَبَشِّرِ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَنَّ لَہُمۡ قَدَمَ صِدۡقٍ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ ؕؔ قَالَ الۡکٰفِرُوۡنَ اِنَّ ہٰذَا لَسٰحِرٌ مُّبِیۡنٌ ٢

আকা-না লিন্না-ছি ‘আজাবান আন আওহাইনাইলা-রাজুলিম মিনহুম আন আনযিরিন্না-ছা ওয়া বাশশিরিল্লাযীনা আ-মানূআন্না লাহুম কাদামা সিদকিন ‘ইনদা রাব্বিহিম কা-লাল কা-ফিরূনা ইন্না হা-যা-লাছা-হিরুম মুবীন।

মানুষের জন্য কি এটা বিস্ময়ের ব্যাপার যে, আমি তাদেরই এক ব্যক্তির প্রতি ওহী নাযিল করেছি যে, মানুষকে (আল্লাহর হুকুম অমান্য করার পরিণাম সম্পর্কে) সতর্ক কর এবং যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাদের প্রতিপালকের নিকট তাদের জন্য আছে সত্যিকারের উচ্চমর্যাদা। (কিন্তু সে যখন তাদেরকে এই বার্তা দিল, তখন) কাফেরগণ বলল, এতো এক সুস্পষ্ট যাদুকর।

তাফসীরঃ

২. قدم এর প্রকৃত অর্থ পদ (পা)। এখানে মর্যাদা বোঝানো উদ্দেশ্য।

اِنَّ رَبَّکُمُ اللّٰہُ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسۡتَوٰی عَلَی الۡعَرۡشِ یُدَبِّرُ الۡاَمۡرَ ؕ مَا مِنۡ شَفِیۡعٍ اِلَّا مِنۡۢ بَعۡدِ اِذۡنِہٖ ؕ ذٰلِکُمُ اللّٰہُ رَبُّکُمۡ فَاعۡبُدُوۡہُ ؕ اَفَلَا تَذَکَّرُوۡنَ ٣

ইন্না রাব্বাকুমুল্লা-হুল্লাযী খালাকাছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ফী ছিত্তাতি আইয়া-মিন ছু ম্মাছতাওয়া-‘আলাল ‘আরশি ইউদাব্বিরুল আমরা মা-মিন শাফী‘ইন ইল্লা-মিম বা‘দি ইযনিহী যা-লিকুমুল্লা-হু রাব্বুকুম ফা‘বুদূ হু আফালা-তাযাক্কারূন।

নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি আরশে ‘ইসতিওয়া’ গ্রহণ করেন। তিনি সকল কিছু পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ (তাঁর কাছে) কারও পক্ষে সুপারিশ করার নেই। তিনিই আল্লাহ তোমাদের প্রতিপালক। সুতরাং তাঁর ইবাদত কর। তবুও কি তোমরা অনুধ্যান করবে না?

তাফসীরঃ

৩. استواء ‘ইসতিওয়া’-এর শাব্দিক অর্থ সোজা হওয়া, কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা, সমাসীন হওয়া ইত্যাদি। আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি-সদৃশ নন। কাজেই তাঁর ‘ইসতিওয়া’ও সৃষ্টির ইস্তিওয়ার মত নয়। এর স্বরূপ আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কেউ জানে না। এ কারণেই আমরা কোনও তরজমা না করে হুবহু শব্দটিকেই রেখে দিয়েছি। কেননা আমাদের জন্য এতটুকু বিশ্বাস রাখাই যথেষ্ট যে, আল্লাহ তাআলা নিজ শান মোতাবেক আরশে ‘ইসতিওয়া’ গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে এর বেশি আলোচনা-পর্যালোচনার দরকার নেই। কেননা আমাদের জ্ঞান-বুদ্ধি দ্বারা এর সবটা আয়ত্ত করা সম্ভব নয়।

اِلَیۡہِ مَرۡجِعُکُمۡ جَمِیۡعًا ؕ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقًّا ؕ اِنَّہٗ یَبۡدَؤُا الۡخَلۡقَ ثُمَّ یُعِیۡدُہٗ لِیَجۡزِیَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ بِالۡقِسۡطِ ؕ وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَہُمۡ شَرَابٌ مِّنۡ حَمِیۡمٍ وَّعَذَابٌ اَلِیۡمٌۢ بِمَا کَانُوۡا یَکۡفُرُوۡنَ ٤

ইলাইহি মারজি‘উকুম জামী‘আওঁ ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কান ইন্নাহূইয়াবদাউল খালকা ছুম্মা ইউ‘ঈদুহূলিইয়াজঝিয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া আ‘মিলুসসা-লিহা-তি বিলকিছতি ওয়াল্লাযীনা কাফারূলাহুম শারা-বুম মিন হামীমিওঁ ওয়া ‘আযা-বুন আলীমুম বিমা-কা-নূ ইয়াকফুরূন।

তাঁরই দিকে তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন। এটা আল্লাহর সত্য প্রতিশ্রুতি। নিশ্চয়ই সমস্ত মাখলুক প্রথমবারও তিনিই সৃষ্টি করেন এবং পুনর্বারও তিনিই সৃষ্টি করবেন, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদেরকে ইনসাফের সাথে প্রতিদান দেওয়ার জন্য। আর যারা কুফর অবলম্বন করেছে তাদের জন্য আছে উত্তপ্ত পানির পানীয় ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, যেহেতু তারা সত্য প্রত্যাখ্যান করত।

ہُوَ الَّذِیۡ جَعَلَ الشَّمۡسَ ضِیَآءً وَّالۡقَمَرَ نُوۡرًا وَّقَدَّرَہٗ مَنَازِلَ لِتَعۡلَمُوۡا عَدَدَ السِّنِیۡنَ وَالۡحِسَابَ ؕ مَا خَلَقَ اللّٰہُ ذٰلِکَ اِلَّا بِالۡحَقِّ ۚ یُفَصِّلُ الۡاٰیٰتِ لِقَوۡمٍ یَّعۡلَمُوۡنَ ٥

হুওয়াল্লাযী জা‘আলাশশামছা দিয়াআওঁ ওয়ালকামারা নূরাওঁ ওয়াকাদ্দারাহূমানা-ঝিলা লিতা‘লামূ‘আদাদাছ ছিনীনা ওয়ালহিছা-বা মা-খালাকাল্লা-হু যা-লিকা ইল্লাবিলহাক্কি ইউফাসসিলুল আ-য়া-তি লিকাওমিইঁ ইয়া‘লামূন।

তিনিই আল্লাহ, যিনি সূর্যকে রশ্মিময় ও চন্দ্রকে জ্যোতির্পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর (পরিভ্রমণের) জন্য বিভিন্ন ‘মনযিল’ নির্ধারণ করেছেন, যাতে তোমরা বছরের গণনা ও (মাসসমূহের) হিসাব জানতে পার। আল্লাহ এসব যথার্থ উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে সৃষ্টি করেননি। যে সকল লোক জ্ঞান-বুদ্ধি রাখে, তাদের জন্য তিনি এসব নিদর্শন সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন।

তাফসীরঃ

৪. কুরআন মাজীদ সৃষ্টি জগতের যে বস্তুরাজির প্রতি অঙ্গুলি-নির্দেশ করে, তা দ্বারা দু’টি বিষয় প্রমাণ করা উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। (এক) মহা বিশ্বের যে মহা বিস্ময়কর ব্যবস্থাপনার অধীনে চন্দ্র-সূর্য অত্যন্ত নিপুণ ও সূক্ষ্ম হিসাব অনুযায়ী আপন-আপন কাজ করে যাচ্ছে, তা আল্লাহ তাআলার অসীম কুদরত ও অপার হিকমতের পরিচয় বহন করে। আরব মুশরিকরাও স্বীকার করত যে, এ সমস্ত কিছু আল্লাহ তাআলারই সৃষ্টি। কুরআন মাজীদ বলছে, যেই মহান সত্তা এত বড়-বড় কাজে সক্ষম, তার জন্য কোনও রকম শরীকের কী প্রয়োজন থাকতে পারে? সুতরাং এই নিখিল বিশ্ব আল্লাহ তাআলার তাওহীদ ও তাঁর একত্বের সাক্ষ্য দিচ্ছে। (দুই) বিশ্ব জগতকে নিরর্থক ও উদ্দেশ্যবিহীন সৃষ্টি করা হয়নি। ইহকালের পর আখিরাতের স্থায়ী জীবন না থাকলে বিশ্ব জগতের সৃজন নিরর্থক হয়ে যায়। কেননা মানুষের ভালো-মন্দ কর্মের ফলাফলের জন্য সে রকম এক জগত অপরিহার্য। সুতরাং এ সৃষ্টিজগত আল্লাহ তাআলার একত্ব প্রমাণের সাথে সাথে আখেরাতের অপরিহার্যতাকেও সপ্রমাণ করে।

اِنَّ فِی اخۡتِلَافِ الَّیۡلِ وَالنَّہَارِ وَمَا خَلَقَ اللّٰہُ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّتَّقُوۡنَ ٦

ইন্না ফিখতিলা-ফিল্লাইলি ওয়ান্নাহা-রি ওয়ামা-খালাকাল্লা-হু ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি লাআ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইয়াত্তাকূন।

নিশ্চয়ই দিন-রাতের একের পর এক আগমনে এবং আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু সৃষ্টি করেছেন তাতে সেই সকল লোকের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে, যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় আছে।

اِنَّ الَّذِیۡنَ لَا یَرۡجُوۡنَ لِقَآءَنَا وَرَضُوۡا بِالۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَاطۡمَاَنُّوۡا بِہَا وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ عَنۡ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوۡنَ ۙ ٧

ইন্নাল্লাযীনা লা-ইয়ারজূনা লিকাআনা-ওয়া রাদূবিলহায়া-তিদ দুনইয়া-ওয়াতমাআননূ বিহা-ওয়াল্লাযীনা হুম ‘আন আ-য়া-তিনা-গা-ফিলূন।

নিশ্চয়ই যারা (আখিরাতে) আমার সঙ্গে সক্ষাত করার আশা রাখে না এবং পার্থিব জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট ও তাতেই নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে এবং যারা আমার নিদর্শনাবলী সম্পর্কে উদাসীন-

اُولٰٓئِکَ مَاۡوٰىہُمُ النَّارُ بِمَا کَانُوۡا یَکۡسِبُوۡنَ ٨

উলাইকা মা‘ওয়া-হুমুন্না-রু বিমা-কা-নূইয়াকছিবূন।

নিজেদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ঠিকানা জাহান্নাম।

اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَہۡدِیۡہِمۡ رَبُّہُمۡ بِاِیۡمَانِہِمۡ ۚ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہِمُ الۡاَنۡہٰرُ فِیۡ جَنّٰتِ النَّعِیۡمِ ٩

ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ইয়াহদীহিম রাব্বুহুম বিঈমা-নিহিম তাজরী মিন তাহতিহিমুল আনহা-রু ফী জান্না-তিন না‘ঈম।

(অপরদিকে) যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তাদের ঈমানের কারণে তাদের প্রতিপালক তাদেরকে এমন স্থানে পৌঁছাবেন যে, প্রাচুর্যময় উদ্যানরাজিতে তাদের তলদেশ দিয়ে নহর বহমান থাকবে।
১০

دَعۡوٰىہُمۡ فِیۡہَا سُبۡحٰنَکَ اللّٰہُمَّ وَتَحِیَّتُہُمۡ فِیۡہَا سَلٰمٌ ۚ  وَاٰخِرُ دَعۡوٰىہُمۡ اَنِ الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ٪ ١۰

দা‘ওয়া-হুম ফীহা-ছুবহা-নাকাল্লা-হুম্মা ওয়া তাহিইয়াতুহুম ফীহা-ছালা-মুওঁ ওয়া আখিরু দা‘ওয়া-হুম ‘আনিল হামদুলিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন।

তাতে (প্রবেশকালে) তাদের ধ্বনি হবে এই যে, হে আল্লাহ! সকল দোষ-ত্রুটি থেকে তুমি পবিত্র এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে সালাম। আর তাদের শেষ ধ্বনি হবে এই যে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।
১১

وَلَوۡ یُعَجِّلُ اللّٰہُ لِلنَّاسِ الشَّرَّ اسۡتِعۡجَالَہُمۡ بِالۡخَیۡرِ لَقُضِیَ اِلَیۡہِمۡ اَجَلُہُمۡ ؕ فَنَذَرُ الَّذِیۡنَ لَا یَرۡجُوۡنَ لِقَآءَنَا فِیۡ طُغۡیَانِہِمۡ یَعۡمَہُوۡنَ ١١

ওয়া লাও ইউআজজিলুল্লা-হু লিন্না-ছিশশাররাছতি‘জা-লাহুম বিলখাইরি লাকুদিয়া ইলাইহিম আজালুহুম ফানাযারুল্লাযীনা লা-ইয়ারজুনা লিকাআনা-ফী তুগইয়া-নিহিম ইয়া‘মাহূন।

আল্লাহ যদি মানুষের (অর্থাৎ ওইসব কাফিরের) জন্য অনিষ্টকে (অর্থাৎ শাস্তিকে) ত্বরান্বিত করতেন, যেমনটা ত্বরা কল্যাণ প্রার্থনার ক্ষেত্রে তারা করে থাকে, তবে তাদের অবকাশ খতম করে দেওয়া হত। (কিন্তু এরূপ তাড়াহুড়া আমার হিকমত-বিরুদ্ধ)। সুতরাং যারা (আখেরাতে) আমার সাথে মিলিত হওয়ার আশা রাখে না তাদেরকে আমি তাদের আপন অবস্থায় ছেড়ে দেই, যাতে তারা তাদের অবাধ্যতার ভেতর ইতস্তত ঘুরতে থাকে।

তাফসীরঃ

৫. এটা মূলত আরব কাফেরদের এক প্রশ্নের উত্তর। তাদেরকে যখন কুফরের পরিণামে আল্লাহর আযাবের ভয় দেখানো হত, তখন তারা বলত, এটা সত্য হলে এখনই কেন সে শাস্তি আসছে না? আল্লাহ তাআলা বলছেন, তারা শাস্তি পাওয়ার জন্য এমন ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, যেন তা কিছু ভালো জিনিস। আল্লাহ তাআলা তাদের ইচ্ছামত শাস্তি দান করলে তাদেরকে প্রদত্ত অবকাশ খতম করে দেওয়া হত। ফলে তাদের আর চিন্তা-ভাবনা করার সুযোগ থাকত না। আর তখন ঈমান আনলে তা গৃহীত হত না। আল্লাহ তাআলা যে তাদের দাবী পূরণ করছেন না তা তাঁর এই হিকমতের ভিত্তিতেই। বরং তিনি তাদেরকে আপন হালে ছেড়ে দিয়েছেন, যাতে অবাধ্যজনেরা তাদের বিভ্রান্তির মধ্যে ঘোরাফেরা করতে থাকে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ চূড়ান্ত হয়ে যায়, সেই সঙ্গে যারা চিন্তা-ভাবনার ইচ্ছা রাখে তারাও সঠিক পথে আসার সুযোগ পেয়ে যায়।
১২

وَاِذَا مَسَّ الۡاِنۡسَانَ الضُّرُّ دَعَانَا لِجَنۡۢبِہٖۤ اَوۡ قَاعِدًا اَوۡ قَآئِمًا ۚ فَلَمَّا کَشَفۡنَا عَنۡہُ ضُرَّہٗ مَرَّ کَاَنۡ لَّمۡ یَدۡعُنَاۤ اِلٰی ضُرٍّ مَّسَّہٗ ؕ کَذٰلِکَ زُیِّنَ لِلۡمُسۡرِفِیۡنَ مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ١٢

ওয়া ইযা-মাছছাল ইনছা-নাদদুররু দা‘আ-না-লিজামবিহী আও কা-‘ইদান আও কাইমান ফালাম্মা-কাশাফনা-‘আনহু দুররাহূমাররা কাআল্লামা ইয়াদ‘ঊনা ইলা-দুররিম মাছছাহূ কাযা-লিকা ঝুইয়িনা লিলমুছরিফীনা মা-কা-নূইয়া‘মালূন।

মানুষকে যখন দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে শুয়ে, বসে ও দাঁড়িয়ে (সর্বাবস্থায়) আমাকে ডাকে। তারপর আমি যখন তার কষ্ট দূর করে দেই, তখন সে এমনভাবে পথ চলে যেন সে কখনও তাকে স্পর্শ করা কোনও বিপদের জন্য আমাকে ডাকেইনি! যারা সীমালংঘন করে তাদের কাছে নিজেদের কৃতকর্মকে এভাবেই মনোরম করে তোলা হয়েছে।
১৩

وَلَقَدۡ اَہۡلَکۡنَا الۡقُرُوۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ لَمَّا ظَلَمُوۡا ۙ وَجَآءَتۡہُمۡ رُسُلُہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ وَمَا کَانُوۡا لِیُؤۡمِنُوۡا ؕ کَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡقَوۡمَ الۡمُجۡرِمِیۡنَ ١٣

ওয়া লাকাদ আহলাকনাল কুরূনা মিন কাবলিকুম লাম্মা-জালামূ ওয়া জাআতহুম রুছুলুহুম বিলবাইয়িনা-তি ওয়ামা-কা-নূলিইউ’মিনূ কাযা-লিকা নাজঝিল কাওমাল মুজরিমীন।

তোমাদেরর পূর্বে আমি বহু জাতিকে, যখন তারা জুলুমে লিপ্ত হয়েছে, ধ্বংস করে দিয়েছি। তাদের রাসূলগণ তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিল। অথচ তারা ঈমান আনেনি। অপরাধী সম্প্রদায়কে আমি এভাবেই বদলা দিয়ে থাকি।
১৪

ثُمَّ جَعَلۡنٰکُمۡ خَلٰٓئِفَ فِی الۡاَرۡضِ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ لِنَنۡظُرَ کَیۡفَ تَعۡمَلُوۡنَ ١٤

ছু ম্মা জা‘আলনা-কুম খালাইফা ফিল আরদিমিম বা‘দিহিম লিনানজুরা কাইফা তা‘মালূন।

অতঃপর পৃথিবীতে আমি তোমাদেরকে তাদের পর স্থলাভিষিক্ত করেছি, তোমরা কিরূপ কাজ কর তা দেখার জন্য।
১৫

وَاِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡہِمۡ اٰیَاتُنَا بَیِّنٰتٍ ۙ قَالَ الَّذِیۡنَ لَا یَرۡجُوۡنَ لِقَآءَنَا ائۡتِ بِقُرۡاٰنٍ غَیۡرِ ہٰذَاۤ اَوۡ بَدِّلۡہُ ؕ قُلۡ مَا یَکُوۡنُ لِیۡۤ اَنۡ اُبَدِّلَہٗ مِنۡ تِلۡقَآیِٔ نَفۡسِیۡ ۚ اِنۡ اَتَّبِعُ اِلَّا مَا یُوۡحٰۤی اِلَیَّ ۚ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اِنۡ عَصَیۡتُ رَبِّیۡ عَذَابَ یَوۡمٍ عَظِیۡمٍ ١٥

ওয়া ইযা-তুতলা-‘আলাইহিম আ-য়া-তুনা-বাইয়িনা-তিন কা-লাল্লাযীনা লাইয়ারজূনা লিকাআনা’তি বিকুরআ-নিন গাইরি হা-যা-আও বাদ্দিলহু কুল মাইয়াকূনুলীআন উবাদ্দিলাহূমিন তিলকাই নাফছী ইন আত্তাবি‘উ ইল্লা-মাইউহাইলাইইয়া ইন্নী আখা-ফুইন ‘আসাইতুরাববী ‘আযা-বা ইয়াওমিন ‘আজীম।

যারা (আখেরাতে) আমার সাথে মিলিত হওয়ার আশা রাখে না, তাদের সামনে যখন আমার আয়াতসমূহ সুস্পষ্টরূপে পাঠ করা হয়, তখন তারা বলে, এটা নয়, অন্য কোনও কুরআন নিয়ে এসো অথবা এতে পরিবর্তন আন। (হে নবী!) তাদেরকে বলে দাও, আমার এ অধিকার নেই যে, নিজের পক্ষ থেকে এতে কোন পরিবর্তন আনব। আমি তো অন্য কিছুর নয়; কেবল সেই ওহীরই অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি নাযিল করা হয়। আমি যদি কখনও আমার প্রতিপালকের নাফরমানী করে বসি, তবে আমার এক মহা দিবসের শাস্তির ভয় রয়েছে।

তাফসীরঃ

৬. অর্থাৎ ওহীর ভেতর রদবদল করার অধিকার আমাকে দেওয়া হয়নি। আল্লাহ তা‘আলাই বিধানদাতা। তিনিই মানুষের জন্য যথোপযুক্ত বিধান দিয়ে থাকেন। আমার ও সমস্ত মানুষের কর্তব্য বিনাবাক্যে সেই বিধান মেনে চলা এবং তাতেই নিজেদের কল্যাণের বিশ্বাস রাখা। তার পরিবর্তে আমি যদি নিজের পক্ষ হতে এর মধ্যে কোন রদবদল করি তবে সেজন্য কিয়ামতে আমাকে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। তো নবীরই যখন ওহীর বাণী ও বিধানে রদবদল করার কোন এখতিয়ার নেই, তখন এ এখতিয়ার আর কার থাকতে পারে? বস্তুত এরূপ করা এক মহাপাপ। কেননা বান্দা হিসেবে মানুষের কাজ ওহীর অনুসরণ করা। তাতে সংযোজন-বিয়োজন করা তার কাজ নয়। তার পক্ষে সেটা অনধিকারচর্চা। -অনুবাদক
১৬

قُلۡ لَّوۡ شَآءَ اللّٰہُ مَا تَلَوۡتُہٗ عَلَیۡکُمۡ وَلَاۤ اَدۡرٰىکُمۡ بِہٖ ۫ۖ فَقَدۡ لَبِثۡتُ فِیۡکُمۡ عُمُرًا مِّنۡ قَبۡلِہٖ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ ١٦

কুল লাও শাআল্লা-হু মা-তালাওতুহূ‘আলাইকুম ওয়ালাআদরা-কুম বিহী ফাকাদ লাবিছতুফীকুম ‘উমুরাম মিন কাবলিহী আফালা-তা‘কিলূন।

বলে দাও, আল্লাহ চাইলে আমি এ কুরআন তোমাদের সামনে পড়তাম না এবং আল্লাহ তোমাদেরকে এ সম্পর্কে অবগত করতেন না। আমি তো এর আগেও একটা বয়স তোমাদের মধ্যে কাটিয়েছি। তারপরও কি তোমরা অনুধাবন করবে না?

তাফসীরঃ

৮. অর্থাৎ, তোমরা যে কুরআনকে বদলে দেওয়ার দাবী করছ, এটা প্রকারান্তরে আমার নবুওয়াতেরই অস্বীকৃতি এবং আমার প্রতি মিথ্যার অপবাদ। আমি তো আমার জীবনের একটা বড় অংশ তোমাদের মধ্যে কাটিয়েছি এবং আমার গোটা জীবন এক খোলা পুস্তকের মত তোমাদের সামনে বিদ্যমান। কুরআন মাজীদ নাযিল হওয়ার আগে তোমরা সকলে আমাকে সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত বলে স্বীকার করতে। চল্লিশ বছরের দীর্ঘ সময়ের ভেতর কেউ কখনও আমার সম্পর্কে এই অভিযোগ তুলতে পারেনি যে, আমি মিথ্যা বলি। সেই আমি নবুওয়াতের মত মহান এক বিষয়ে কি করে মিথ্যা বলতে পারি? এ রকম অভিযোগ আমার সম্পর্কে উত্থাপন করা হলে সেটা চরম নির্বুদ্ধিতা হবে না কি?
১৭

فَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا اَوۡ کَذَّبَ بِاٰیٰتِہٖ ؕ اِنَّہٗ لَا یُفۡلِحُ الۡمُجۡرِمُوۡنَ ١٧

ফামান আজলামুমিম্মানিফতারা-‘আলাল্লা-হি কাযিবান আও কাযযাবা বিআ-য়া-তিহী ইন্নাহূলা-ইউফলিহুল মুজরিমূন।

ওই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে কিংবা তার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে? বিশ্বাস কর অপরাধীরা কৃতকার্য হয় না।
১৮

وَیَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَا لَا یَضُرُّہُمۡ وَلَا یَنۡفَعُہُمۡ وَیَقُوۡلُوۡنَ ہٰۤؤُلَآءِ شُفَعَآؤُنَا عِنۡدَ اللّٰہِ ؕ قُلۡ اَتُنَبِّـُٔوۡنَ اللّٰہَ بِمَا لَا یَعۡلَمُ فِی السَّمٰوٰتِ وَلَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ سُبۡحٰنَہٗ وَتَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ ١٨

ওয়া ইয়া‘বুদূ না মিন দূ নিল্লা-হি মা-লা-ইয়াদুররুহুম ওয়ালা-ইয়ানফা‘উহুম ওয়াইয়াকূলূনা হাউলাই শুফা‘আউনা-‘ইনদাল্লা-হি কুল আতুনাব্বিঊনাল্লা-হা বিমা-লা-ইয়া‘লামু ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়ালা-ফিলআরদিছুবহা-নাহূওয়া তা‘আ-লা-‘আম্মা-ইউশরিকূন।

তারা আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর (অর্থাৎ মনগড়া উপাস্যদের) ইবাদত করে, যারা তাদের কোনও ক্ষতি করতে পারে না এবং তাদের কোন উপকারও করতে পারে না। তারা বলে, এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী। (হে নবী! তাদেরকে) বল, তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয় সম্পর্কে অবহিত করছ, যার কোন অস্তিত্ব তাঁর জ্ঞানে নেই, না আকাশমণ্ডলীতে এবং না পৃথিবীতে? বস্তুত তারা যে শিরক করে তা থেকে তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র ও বহু উর্ধ্বে।
১৯

وَمَا کَانَ النَّاسُ اِلَّاۤ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً فَاخۡتَلَفُوۡا ؕ وَلَوۡلَا کَلِمَۃٌ سَبَقَتۡ مِنۡ رَّبِّکَ لَقُضِیَ بَیۡنَہُمۡ فِیۡمَا فِیۡہِ یَخۡتَلِفُوۡنَ ١٩

ওয়া মা-কা-নান্না-ছুইল্লাউম্মাতাওঁ ওয়া হিদাতান ফাখতালাফূ ওয়া লাওলা-কালিমাতুন ছাবাকাত মির রাব্বিকা লাকুদিয়া বাইনাহুম ফীমা-ফীহি ইয়াখতালিফূন।

(প্রথমে) সমস্ত মানুষ কেবল একই দীনের অনুসারী ছিল। তারপর তারা (পরস্পরে মতভেদে লিপ্ত হয়ে) আলাদা-আলাদা হয়ে যায়। তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে পূর্ব থেকেই একটা কথা স্থিরীকৃত না থাকলে তারা যে বিষয়ে মতভেদ করছে (দুনিয়াতেই) তার মীমাংসা করে দেওয়া হত। ১০

তাফসীরঃ

১০. অর্থাৎ শুরু শুরুতে হযরত আদম আলাইহিস সালাম যখন পৃথিবীতে আগমন করেন, তখন সমস্ত মানুষ তাওহীদ ও সত্য-সঠিক দীনেরই অনুসরণ করত। পরবর্তীকালে কিছু লোক পরস্পর মতভেদে লিপ্ত হয়ে ভিন্ন-ভিন্ন ধর্ম সৃষ্টি করে নেয়। আল্লাহ তাআলা এ দুনিয়াতেই তাদের মতভেদের মীমাংসা করে দিতে পারতেন, কিন্তু তা করেননি এ কারণে যে, তা দুনিয়া সৃষ্টির উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হত। আল্লাহ তাআলা জগত সৃষ্টির পূর্বেই স্থির করে রেখেছিলেন যে, দুনিয়া সৃষ্টি করা হবে মানুষকে পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে। সে পরীক্ষাকে সকলের জন্য সহজ করার লক্ষ্যে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নবী-রাসূল পাঠানো হবে। তারা মানুষকে দুনিয়ায় তাদের আগমনের উদ্দেশ্য স্মরণ করিয়ে দেবে এবং তারা অকাট্য দলীল-প্রমাণ দ্বারা সত্য দীনকে মানুষের সামনে স্পষ্ট করে দেবে। তারপর তারা স্বেচ্ছায় যে পথ ইচ্ছা অবলম্বন করবে। কে সঠিক ও পুরস্কারযোগ্য পথ অবলম্বন করেছে এবং কে ভ্রান্ত ও শাস্তিযোগ্য পথ, তার মীমাংসা হবে আখেরাতে।
২০

وَیَقُوۡلُوۡنَ لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ عَلَیۡہِ اٰیَۃٌ مِّنۡ رَّبِّہٖ ۚ  فَقُلۡ اِنَّمَا الۡغَیۡبُ لِلّٰہِ فَانۡتَظِرُوۡا ۚ  اِنِّیۡ مَعَکُمۡ مِّنَ الۡمُنۡتَظِرِیۡنَ ٪ ٢۰

ওয়া ইয়াকূলূনা লাওলাউনঝিলা ‘আলাইহি আ-য়াতুম মির রাব্বিহী ফাকুল ইন্নামাল গাইবুলিল্লা-হি ফানতাজিরু ইন্নী মা‘আকুম মিনাল মুনতাজিরীন।

তারা বলে, এ নবীর প্রতি তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে কোনও নিদর্শন কেন অবতীর্ণ করা হল না? (হে নবী! উত্তরে) তুমি বলে দাও, অদৃশ্যের বিষয়সমূহ তো কেবল আল্লাহরই এখতিয়ারে। সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর। আমিও তোমাদের সঙ্গে অপেক্ষা করছি। ১১

তাফসীরঃ

১১. এ আয়াতে নিদর্শন দ্বারা মুজিযা বোঝানো হয়েছে। এমনিতে তো আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বহু মুজিযা দিয়েছিলেন। উম্মী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর পবিত্র মুখে কুরআন মাজীদ উচ্চারিত হওয়াই তো এক বিশাল মুজিযা ছিল। তারপরও মক্কার কাফেরগণ তাঁর কাছে নিত্য-নতুন মুজিযা দাবী করত, যার কিছু বিবরণ সূরা বনী ইসরাঈলে (১৭ : ৯৩) আসবে। বলাবাহুল্য, কাফেরদের সকল দাবী পূরণ ও যে-কারও ফরমায়েশ অনুযায়ী নিত্য-নতুন মুজিযা প্রদর্শন করা নবী-রাসূলগণের কাজ নয়, বিশেষত যদি জানা থাকে তাদের সে সব দাবীর উদ্দেশ্য কেবল কালক্ষেপণ করা এবং ঈমান না আনার জন্য ছল-ছুতার আশ্রয় নেওয়া। এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের সে সব ফরমায়েশের এই সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে বলা হয়েছে যে, গায়েবী যাবতীয় বিষয়, মুজিযাও যার অন্তর্ভুক্ত, আমার এখতিয়ারাধীন নয়। তা কেবল আল্লাহ তাআলারই ইচ্ছাধীন। তিনি তোমাদের কোন দাবী পূরণ করেন ও কোনটা অপূর্ণ রাখেন তা দেখার জন্য তোমরাও অপেক্ষা কর এবং আমরাও অপেক্ষা করছি।
২১

وَاِذَاۤ اَذَقۡنَا النَّاسَ رَحۡمَۃً مِّنۡۢ بَعۡدِ ضَرَّآءَ مَسَّتۡہُمۡ اِذَا لَہُمۡ مَّکۡرٌ فِیۡۤ اٰیَاتِنَا ؕ قُلِ اللّٰہُ اَسۡرَعُ مَکۡرًا ؕ اِنَّ رُسُلَنَا یَکۡتُبُوۡنَ مَا تَمۡکُرُوۡنَ ٢١

ওয়া ইযাআযাকনান্না-ছা রাহমাতাম মিম বা‘দি দাররাআ মাছছাতহুম ইযা-লাহুম মাকরুন ফী-আ-য়া-তিনা- কুল্লিলা-হু আছরা‘উ মাকরা- ইন্না রুছুলানাইয়াকতুবূনা মা-তামকুরূন।

আমি যখন মানুষকে রহমত আস্বাদন করাই তাদেরকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করার পর, তখন সহসাই তারা আমার নিদর্শনসমূহের ব্যাপারে চালাকি শুরু করে দেয়। ১২ বলে দাও, আল্লাহ আরও দ্রুত কোনও চাল দেখাতে পারেন। ১৩ নিশ্চয়ই আমার ফিরিশতাগণ তোমাদের সমস্ত চালাকি লিপিবদ্ধ করছে।

তাফসীরঃ

১২. আল্লাহ তাআলার জন্য ‘চাল’ শব্দটি তাদের প্রতি ভর্ৎসনা স্বরূপ ব্যবহৃত হয়েছে। এর দ্বারা বোঝানো উদ্দেশ্য তাদের চালাকীর শাস্তি। অর্থাৎ আল্লাহ অতি দ্রুত তাদেরকে তাদের ছল-চাতুরির শাস্তি দিতে পারেন।
২২

ہُوَ الَّذِیۡ یُسَیِّرُکُمۡ فِی الۡبَرِّ وَالۡبَحۡرِ ؕ حَتّٰۤی اِذَا کُنۡتُمۡ فِی الۡفُلۡکِ ۚ وَجَرَیۡنَ بِہِمۡ بِرِیۡحٍ طَیِّبَۃٍ وَّفَرِحُوۡا بِہَا جَآءَتۡہَا رِیۡحٌ عَاصِفٌ وَّجَآءَہُمُ الۡمَوۡجُ مِنۡ کُلِّ مَکَانٍ وَّظَنُّوۡۤا اَنَّہُمۡ اُحِیۡطَ بِہِمۡ ۙ دَعَوُا اللّٰہَ مُخۡلِصِیۡنَ لَہُ الدِّیۡنَ ۬ۚ لَئِنۡ اَنۡجَیۡتَنَا مِنۡ ہٰذِہٖ لَنَکُوۡنَنَّ مِنَ الشّٰکِرِیۡنَ ٢٢

হুওয়াল্লাযীইউছাইয়িরুকুম ফিল বাররি ওয়াল বাহরি হাত্তাইযা-কুনতুম ফিল ফুলকি ওয়া জারাইনা বিহিম বিরীহিন তাইয়িবাতিওঁ ওয়াফারিহূবিহা-জাআতহা-রীহুন ‘আসিফুওঁ ওয়া জাআহুমুল মাওজুমিন কুল্লি মাকা-নিও ওয়াজান্নূআন্নাহুম উহীতাবিহিম দা‘আউল্লা-হা মুখলিসীনা লাহুদদীনা লাইন আনজাইতানা-মিন হা-যিহী লানাকূনান্না মিনাশশা-কিরীন।

তিনি তো আল্লাহই, যিনি তোমাদেরকে স্থলেও ভ্রমণ করান এবং সাগরেও। এভাবে তোমরা যখন নৌকায় সওয়ার হও আর নৌকাগুলো মানুষকে নিয়ে অনুকূল বাতাসে পানির উপর বয়ে চলে এবং তারা তাতে আনন্দ-মগ্ন হয়ে পড়ে, তখন হঠাৎ তার উপর আপতিত হয় তীব্র বায়ু এবং সব দিক থেকে তাদের দিকে ছুটে আসে তরঙ্গ এবং তারা মনে করে সব দিক থেকে তারা পরিবেষ্টিত হয়ে পড়েছে, তখন তারা খাঁটি মনে কেবল আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী হয়ে শুধু তাঁকেই ডাকে (এবং বলে, হে আল্লাহ!) তুমি যদি এর (অর্থাৎ এই বিপদ) থেকে আমাদেরকে মুক্তি দাও, তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব।
২৩

فَلَمَّاۤ اَنۡجٰہُمۡ اِذَا ہُمۡ یَبۡغُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ بِغَیۡرِ الۡحَقِّ ؕ یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اِنَّمَا بَغۡیُکُمۡ عَلٰۤی اَنۡفُسِکُمۡ ۙ مَّتَاعَ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۫ ثُمَّ اِلَیۡنَا مَرۡجِعُکُمۡ فَنُنَبِّئُکُمۡ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ٢٣

ফালাম্মাআনজা-হুম ইযা-হুম ইয়াবগুনা ফিল আরদিবিগাইরিল হাক্কি ইয়াআইয়ুহান্নাছুইন্নামা-বাগইউকুম ‘আলাআনফুছিকুম মাতা-‘আল হায়া-তিদদুনইয়া-ছু ম্মা ইলাইনামারজি‘উকুম ফানুনাব্বিউকুম বিমা-কুনতুম তা‘মালূন।

কিন্তু আল্লাহ যখন তাদেরকে মুক্তি দান করেন, অমনি তারা যমীনে অন্যায়ভাবে অবাধ্যতা প্রদর্শন করে। হে মানুষ! প্রকৃতপক্ষে তোমাদের এ অবাধ্যতা খোদ তোমাদেরই বিরুদ্ধে যাচ্ছে। সুতরাং তোমরা পার্থিব জীবনের মজা লুটে নাও। শেষ পর্যন্ত আমারই নিকট তোমাদের ফিরতে হবে। তখন আমি তোমাদেরকে তোমরা যা-কিছু করছ তা অবহিত করব।
২৪

اِنَّمَا مَثَلُ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا کَمَآءٍ اَنۡزَلۡنٰہُ مِنَ السَّمَآءِ فَاخۡتَلَطَ بِہٖ نَبَاتُ الۡاَرۡضِ مِمَّا یَاۡکُلُ النَّاسُ وَالۡاَنۡعَامُ ؕ حَتّٰۤی اِذَاۤ اَخَذَتِ الۡاَرۡضُ زُخۡرُفَہَا وَازَّیَّنَتۡ وَظَنَّ اَہۡلُہَاۤ اَنَّہُمۡ قٰدِرُوۡنَ عَلَیۡہَاۤ ۙ اَتٰہَاۤ اَمۡرُنَا لَیۡلًا اَوۡ نَہَارًا فَجَعَلۡنٰہَا حَصِیۡدًا کَاَنۡ لَّمۡ تَغۡنَ بِالۡاَمۡسِ ؕ کَذٰلِکَ نُفَصِّلُ الۡاٰیٰتِ لِقَوۡمٍ یَّتَفَکَّرُوۡنَ ٢٤

ইন্নামা-মাছালুল হায়া-তিদ দুনইয়া-কামাইন আনঝালনা-হু মিনাছছামাই ফাখতালাতা বিহী নাবা-তুল আরদিমিম্মা-ইয়া’কুলুন্না-ছুওয়াল আন‘আ-মু হাত্তাইযাআখাযাতিল আরদুঝুখরুফাহা-ওয়াঝঝাইয়ানাত ওয়াজান্না আহলুহা-আন্নাহুম কাদিরূনা ‘আলাইহা আতা-হাআমরুনা-লাইলান আও নাহা-রান ফাজা‘আলনা-হাহাসীদান কাআল্লাম তাগনা বিলআমছি কাযা-লিকা নুফাসসিলুল আ-য়া-তি লিকাওমিইঁ ইয়াতাফাক্কারূন।

পার্থিব জীবনের দৃষ্টান্ত তো কিছুটা এ রকম, যেমন আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করলাম, যদ্দরুণ ভূমিজ সেই সব উদ্ভিদ নিবিড় ঘন হয়ে জন্মাল, যা মানুষ ও গবাদি পশু খেয়ে থাকে। অবশেষে ভূমি যখন নিজ শোভা ধারণ করে ও নয়নাভিরাম হয়ে ওঠে এবং তার মালিকগণ মনে করে এখন তা সম্পূর্ণরূপে তাদের আয়ত্তাধীন, তখন কোনও এক দিনে বা রাতে তাতে আমার নির্দেশ এসে পড়ে (এই মর্মে যে, তার উপর কোন দুর্যোগ আপতিত হোক) এবং আমি তাকে কর্তিত ফসলের এমন শূন্য ভূমিতে পরিণত করি, যেন গতকাল তার অস্তিত্বই ছিল না। ১৪ যে সকল লোক চিন্তা করে তাদের জন্য এভাবেই নিদর্শনাবলী সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করি।

তাফসীরঃ

১৪. দুনিয়ার অবস্থাও এরকমই। এখন তো তাকে বড় সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর মনে হয়। কিন্তু এ সৌন্দর্যের কোনও স্থায়িত্ব নেই। কেননা প্রথমত কিয়ামতের আগেই আল্লাহ তাআলার কোন আযাবের কারণে যে-কোনও মুহূর্তে এর সমস্ত রূপ ও শোভা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে এবং বাস্তবে বিভিন্ন সময় তা ঘটছেও। দ্বিতীয়ত যখন মানুষের মৃত্যুক্ষণ উপস্থিত হয়, তখনও তার চোখে গোটা পৃথিবী অন্ধকার হয়ে আসে। যদি ঈমান ও আমলে সালেহার পুঁজি না থাকে তবে তখনই বুঝে আসে, এর সমস্ত চাকচিক্য বাস্তবিকপক্ষে আযাব ছাড়া কিছুই ছিল না। তারপর যখন কিয়ামত আসবে তখন তো সারা পৃথিবী থেকে এই আপাত সৌন্দর্য সম্পূর্ণ খতম হয়ে যাবে।
২৫

وَاللّٰہُ یَدۡعُوۡۤا اِلٰی دَارِ السَّلٰمِ ؕ وَیَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ٢٥

ওয়াল্লা-হু ইয়াদ‘ঊইলা-দা-রিছ ছালা-মি ওয়া ইয়াহদী মাইঁ ইয়াশাউ ইলা-সিরা-তিম মুছতাকীম।

আল্লাহ মানুষকে শান্তির আবাসের দিকে ডাকেন এবং যাকে চান সরল-পথপ্রাপ্ত করেন। ১৫

তাফসীরঃ

১৫. ‘শান্তির আবাস’ দ্বারা জান্নাত বোঝানো হয়েছে। সমস্ত মানুষের জন্য আল্লাহ তাআলার সাধারণ দাওয়াত রয়েছে, তারা যেন ‘ঈমান’ ও ‘আমলে সালেহা’র মাধ্যমে জান্নাত অর্জন করে। কিন্তু সে পর্যন্ত পৌঁছার যে সরল পথ, তা কেবল সে-ই পায়, যার জন্য আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করেন। তাঁর হিকমতের চাহিদা হচ্ছে, যে ব্যক্তি নিজ ইচ্ছাশক্তি ও হিম্মতকে কাজে লাগিয়ে জান্নাত লাভের অপরিহার্য শর্তাবলী পূর্ণ করবে, সরল পথ কেবল সেই পাবে।
২৬

لِلَّذِیۡنَ اَحۡسَنُوا الۡحُسۡنٰی وَزِیَادَۃٌ ؕ وَلَا یَرۡہَقُ وُجُوۡہَہُمۡ قَتَرٌ وَّلَا ذِلَّۃٌ ؕ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ ۚ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ٢٦

লিল্লাযীনা আহছানুল হুছনা-ওয়া ঝিয়া-দাতুওঁ ওয়ালা ইয়ারহাকুউজূহাহুম কাতারুওঁ ওয়ালা-যিল্লাতুন উলাইকা আসহা-বুল জান্নাতি হুম ফীহা-খা-লিদূ ন।

যারা উৎকৃষ্ট কাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে উৎকৃষ্ট অবস্থা এবং বেশি আরও কিছু। ১৬ তাদের মুখমণ্ডলকে কোনও কালিমা আচ্ছন্ন করবে না এবং লাঞ্ছনাও নয়। তারা হবে জান্নাতবাসী। তারা তাতে সর্বদা থাকবে।

তাফসীরঃ

১৬. এটা প্রতিশ্রুতির এক সূক্ষ্ম ও কৌতূহলোদ্দীপক ভঙ্গি যে, ‘আরও কিছু’ যে কী তা আল্লাহ তাআলা খুলে বলেননি। বরং তা পর্দার আড়ালে রেখে দিয়েছেন। ব্যাপার এই যে, জান্নাতে উৎকৃষ্ট সব নিয়ামতের অতিরিক্ত এমন কিছু নিয়ামতও থাকবে, যা আল্লাহ তাআলা ব্যাখ্যা করে বললেও তার আসল মজা ও আস্বাদ ইহজগতে বসে উপলব্ধি করা মানুষের পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়। কাজেই আপাতত মানুষের বোঝার জন্য যতটুকু দরকার আল্লাহ তাআলা ততটুকু বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ, তাঁর শান মোতাবেক হবে এমন কিছু আপেক্ষিক নিয়ামতের কথা উল্লেখ করে দিয়েছেন। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, যখন সমস্ত জান্নাতবাসী জান্নাতের নিয়ামতসমূহ পেয়ে আনন্দাপ্লুত হয়ে যাবে ও তাতে সম্পূর্ণ মাতোয়ারা হয়ে পড়বে, তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমি তোমাদেরকে একটা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, এখন আমি তা পূরণ করতে চাই। জান্নাতবাসীগণ বলবে, আল্লাহ তাআলা তো আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করে জান্নাত দান করেছেন এবং এভাবে নিজের সব ওয়াদা পূরণ করে ফেলেছেন। এরপর আবার কোন ওয়াদা বাকি আছে? এ সময় আল্লাহ তাআলা পর্দা সরিয়ে নিজ দীদার ও দর্শন দান করবেন। তখন জান্নাতবাসীদের মনে হবে, এ পর্যন্ত তাদেরকে যত নি‘আমত দেওয়া হয়েছে এই নি‘আমতের মজা ও আনন্দ সে সব কিছুর উপরে (রূহুল মাআনী সহীহ মুসলিম প্রভৃতির বরাতে)।
২৭

وَالَّذِیۡنَ کَسَبُوا السَّیِّاٰتِ جَزَآءُ سَیِّئَۃٍۭ بِمِثۡلِہَا ۙ وَتَرۡہَقُہُمۡ ذِلَّۃٌ ؕ مَا لَہُمۡ مِّنَ اللّٰہِ مِنۡ عَاصِمٍ ۚ کَاَنَّمَاۤ اُغۡشِیَتۡ وُجُوۡہُہُمۡ قِطَعًا مِّنَ الَّیۡلِ مُظۡلِمًا ؕ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ ۚ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ٢٧

ওয়াল্লাযীনা কাছাবুছছাইয়িআ-তি জাঝাউছাইয়িআতিম বিমিছলিহা- ওয়া তারহাকুহুম যিল্লাতুন মা-লাহুম মিনাল্লা-হি মিন ‘আ-সিমিন কাআন্নামা-উগশিয়াত উজুহুম কিতা‘আম মিনাল্লাইলি মুজলিমান উলাইকা আসহা-বুন্না-রি হুম ফীহাখা-লিদূ ন।

আর যারা মন্দ কাজ করেছে, (তাদের) মন্দ কাজের বদলা অনুরূপ মন্দই হবে। ১৭ লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। আল্লাহ (-এর আযাব) হতে তাদের কোন রক্ষাকর্তা থাকবে না। মনে হবে যেন তাদের মুখমণ্ডল অন্ধকার রাতের টুকরা দ্বারা আচ্ছাদিত করা হয়েছে। তারা হবে জাহান্নামবাসী। তারা তাতে সর্বদা থাকবে।

তাফসীরঃ

১৭. অর্থাৎ, সৎকর্মের সওয়াব তো কয়েক গুণ বেশি দেওয়া হবে, যার মধ্যে সদ্য বর্ণিত আল্লাহ তাআলার দীদার ও দর্শন লাভের নি‘আমতও রয়েছে, কিন্তু পাপ কর্মের শাস্তি দেওয়া হবে সমপরিমাণই, তার বেশি নয়।
২৮

وَیَوۡمَ نَحۡشُرُہُمۡ جَمِیۡعًا ثُمَّ نَقُوۡلُ لِلَّذِیۡنَ اَشۡرَکُوۡا مَکَانَکُمۡ اَنۡتُمۡ وَشُرَکَآؤُکُمۡ ۚ فَزَیَّلۡنَا بَیۡنَہُمۡ وَقَالَ شُرَکَآؤُہُمۡ مَّا کُنۡتُمۡ اِیَّانَا تَعۡبُدُوۡنَ ٢٨

ওয়া ইয়াওমা নাহশুরুহুম জামী‘আন ছুম্মা নাকূলুলিল্লাযীনা আশরাকূমাকা-নাকুম আনতুম ওয়া শুরাকাউকুম ফাঝাইইয়ালনা-বাইনাহুম ওয়া কা-লা শুরাকাউহুম মা-কুনতুম ইয়্যা-না-তা‘বুদূ ন।

এবং (স্মরণ রেখ) যে দিন আমি তাদের সকলকে একত্র করব, তারপর যারা শিরক করেছিল তাদেরকে বলব, নিজ-নিজ স্থানে অবস্থান কর তোমরাও এবং তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক মেনেছিলে তারাও! অতঃপর তাদের মধ্যে (উপাসক ও উপাস্যের) যে সম্পর্ক ছিল, আমি তা ঘুচিয়ে দেব এবং তাদের শরীকগণ বলবে, তোমরা তো আমাদের ইবাদত করতে না। ১৮

তাফসীরঃ

১৮. অর্থাৎ, তাদের পূজিত মূর্তিগুলো যেহেতু নিষ্প্রাণ ছিল তাই পূজারীদের পূজা সম্পর্কে তাদের কোনও খবরই ছিল না। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা যখন তাদেরকে বাকশক্তি দান করবেন, তখন প্রথমে তারা পরিষ্কার ভাষায় তাদের ইবাদতের কথা অস্বীকার করবে। তারপর যখন তারা জানতে পারবে সত্যিই তাদের ইবাদত করা হত, তখন বলবে, তারা আমাদের ইবাদত-উপাসনা করলেও আমাদের তা জানা ছিল না।
২৯

فَکَفٰی بِاللّٰہِ شَہِیۡدًۢا بَیۡنَنَا وَبَیۡنَکُمۡ اِنۡ کُنَّا عَنۡ عِبَادَتِکُمۡ لَغٰفِلِیۡنَ ٢٩

ফাকাফা-বিল্লা-হি শাহীদাম বাইনানা-ওয়া বাইনাকুমইনকুন্না-‘আন ‘ইবা-দাতিকুমলাগাফিলীন।

আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষীরূপে আল্লাহই যথেষ্ট (যে,) আমরা তোমাদের ইবাদত সম্পর্কে সম্পূর্ণ অনবহিত ছিলাম।
৩০

ہُنَالِکَ تَبۡلُوۡا کُلُّ نَفۡسٍ مَّاۤ اَسۡلَفَتۡ وَرُدُّوۡۤا اِلَی اللّٰہِ مَوۡلٰىہُمُ الۡحَقِّ وَضَلَّ عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَفۡتَرُوۡنَ ٪ ٣۰

হুনা-লিকা তাবলূকুল্লুনাফছিম মা-আছলাফাত ওয়া রুদ্দূইলাল্লা-হি মাওলা-হুমুলহাক্কিওয়া দাল্লা ‘আনহুম মা-কা-নূইয়াফতারূন।

প্রত্যেকে অতীতে যা-কিছু করেছে, সেই সময়ে সে নিজেই তা যাচাই করে নেবে। ১৯ সকলকেই তাদের প্রকৃত মালিক আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে এবং তারা যে মিথ্যা রচনা করেছিল, তা তাদের থেকে নিরুদ্ধেশ হয়ে যাবে। ২০

তাফসীরঃ

১৯. অর্থাৎ তারা তো এই মিথ্যা বিশ্বাস তৈরি করে নিয়েছিল যে, দেব-দেবীরা তাদের পক্ষে সুপারিশ করবে, তাই পূজা-অর্চনা করে তাদের খুশি রাখা চাই, কিন্তু কিয়ামতের দিন সুপারিশের জন্য তাদের কোন পাত্তাই পাবে না। তারা তাদের থেকে সম্পূর্ণ নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে। তখন তারা বুঝতে পারবে দেব-দেবীর পূজা কারাটা কেমন নিরর্থক ও নির্বুদ্ধিতার কাজ ছিল। -অনুবাদক
৩১

قُلۡ مَنۡ یَّرۡزُقُکُمۡ مِّنَ السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ اَمَّنۡ یَّمۡلِکُ السَّمۡعَ وَالۡاَبۡصَارَ وَمَنۡ یُّخۡرِجُ الۡحَیَّ مِنَ الۡمَیِّتِ وَیُخۡرِجُ الۡمَیِّتَ مِنَ الۡحَیِّ وَمَنۡ یُّدَبِّرُ الۡاَمۡرَ ؕ فَسَیَقُوۡلُوۡنَ اللّٰہُ ۚ فَقُلۡ اَفَلَا تَتَّقُوۡنَ ٣١

কুলমাইঁ ইয়ারঝুকুকুম মিনাছছামাই ওয়াল আরদি আম্মাইঁ ইয়ামলিকুছছাম‘আ ওয়াল আবসা-রা ওয়া মাইঁ ইউখরিজুল হাইইয়া মিনাল মাইয়িতি ওয়া ইউখরিজুল মাইয়িতা মিনাল হাইয়ি ওয়ামাইঁ ইউদাব্বিরুল আমরা ফাছাইয়াকূলূনাল্লা-হু ফাকুল আফালাতাত্তাকূন।

(হে নবী! মুশরিকদেরকে) বলে দাও, কে তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে রিযক সরবরাহ করেন? অথবা কে শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির মালিক? এবং কে মৃত হতে জীবিতকে এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন? এবং কে যাবতীয় বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন? তারা বলবে, আল্লাহ! ২১ বল, তবুও কি তোমরা আল্লাহকে ভয় করবে না?

তাফসীরঃ

২১. আরব মুশরিকগণ স্বীকার করত যে, সমগ্র সৃষ্টি জগতের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলাই। কিন্তু সেই সঙ্গে তাদের বিশ্বাস ছিল, আল্লাহ তাআলা তার অধিকাংশ এখতিয়ার তাদের দেব-দেবীদের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। কাজেই তাদের দেব-দেবীগণ আল্লাহ তাআলার শরীক। তাদেরকে খুশী রাখতে হলে তাদের পূজা-অর্চনা করতে হবে। এ আয়াত বলছে, তোমরা নিজেরাই যখন স্বীকার করছ আল্লাহ তাআলাই এসব কাজ করেন, তখন অন্য কারও ইবাদত করা কেমন বুদ্ধির কাজ হল?
৩২

فَذٰلِکُمُ اللّٰہُ رَبُّکُمُ الۡحَقُّ ۚ فَمَاذَا بَعۡدَ الۡحَقِّ اِلَّا الضَّلٰلُ ۚۖ فَاَنّٰی تُصۡرَفُوۡنَ ٣٢

ফাযা-লিকুমুল্লা-হু রাব্বুকুমুল হাক্কু ফামা-যা-বা‘দাল হাক্কিইল্লাদ্দালা-লু ফাআন্না-তুসরাফূন।

হে মানুষ! তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের সত্যিকারের মালিক। সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর বিভ্রান্তি ছাড়া আর কী অবশিষ্ট থাকে? এতদসত্ত্বেও তোমাদেরকে উল্টো কে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? ২২

তাফসীরঃ

২২. কুরআন মাজীদে যে কর্মবাচ্য ক্রিয়াপদ (مجهول) ব্যবহার করা হয়েছে ৩২ ও ৩৪ নং আয়াতের তরজমায় ‘কে’ শব্দ যোগ করে তার মর্ম স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। এটাই পরিষ্কার যে, কুরআন মাজীদে কর্মবাচ্য ক্রিয়াপদ ব্যবহার করে ইশারা করা হয়েছে, তাদের খেয়াল-খুশী ও কুপ্রবৃত্তিই সেই জিনিস, যা তাদেরকে উল্টো দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
৩৩

کَذٰلِکَ حَقَّتۡ کَلِمَتُ رَبِّکَ عَلَی الَّذِیۡنَ فَسَقُوۡۤا اَنَّہُمۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ٣٣

কাযা-লিকা হাক্কাত কালিমাতুরাব্বিকা ‘আলাল্লাযীনা ফাছাকূআন্নাহুম লা-ইউ’মিনূন।

এভাবেই যারা অবাধ্যতার নীতি অবলম্বন করেছে, তাদের সম্পর্কে আল্লাহর এ বাণী সত্যে পরিণত হয়েছে যে, তারা ঈমান আনবে না। ২৩

তাফসীরঃ

২৩. অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা তাদের তাকদীরে লিখে রেখেছিলেন যে, অহমিকা বশে তারা নিজেদের বিবেক-বুদ্ধির সঠিক ব্যবহার করবে না এবং ঈমান আনবে না। আল্লাহর সে বাণীই এখন বাস্তবায়িত হয়েছে।
৩৪

قُلۡ ہَلۡ مِنۡ شُرَکَآئِکُمۡ مَّنۡ یَّبۡدَؤُا الۡخَلۡقَ ثُمَّ یُعِیۡدُہٗ ؕ قُلِ اللّٰہُ یَبۡدَؤُا الۡخَلۡقَ ثُمَّ یُعِیۡدُہٗ فَاَنّٰی تُؤۡفَکُوۡنَ ٣٤

কুল হাল মিন শুরাকাইকুম মাইঁ ইয়াবদাউল খালকা ছুম্মা ইউ‘ঈদুহূ কুল্লিলা-হু ইয়াবদাউল খালকা ছুম্মা ইউ‘ঈদুহূফাআন্না-তু’ফাকূন।

বল, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত কর, তাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে সৃষ্টিরাজিকে প্রথমবার অস্তিত্ব দান করে, অতঃপর (তাদের মৃত্যুর পর) তাদেরকে পুনরায় অস্তিত্ব দান করে? বল, আল্লাহই সৃষ্টিরাজিকে প্রথমবার অস্তিত্ব দান করেন অতঃপর (তাদের মৃত্যুর পর) তাদেরকে পুনরায় অস্তিত্ব দান করবেন। এতদসত্ত্বেও তোমাদেরকে উল্টো কে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?
৩৫

قُلۡ ہَلۡ مِنۡ شُرَکَآئِکُمۡ مَّنۡ یَّہۡدِیۡۤ اِلَی الۡحَقِّ ؕ قُلِ اللّٰہُ یَہۡدِیۡ لِلۡحَقِّ ؕ اَفَمَنۡ یَّہۡدِیۡۤ اِلَی الۡحَقِّ اَحَقُّ اَنۡ یُّتَّبَعَ اَمَّنۡ لَّا یَہِدِّیۡۤ اِلَّاۤ اَنۡ یُّہۡدٰی ۚ فَمَا لَکُمۡ ۟ کَیۡفَ تَحۡکُمُوۡنَ ٣٥

কুল হাল মিন শুরাকাইকুম মাইঁ ইয়াহদী ইলাল হাক্কি কুল্লিলা-হু ইয়াহদী লিলহাক্কি আফামাইঁ ইয়াহদী ইলাল হাক্কিআহাক্কুআইঁ ইউত্তাবা‘আ আম্মাল লাইয়াহিদ্দীইল্লাআইঁ ইউহদা- ফামা-লাকুম কাইফা তাহকুমূন।

বল, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত কর, তাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছে, যে সত্যের পথ দেখায়? বল, আল্লাহই সত্যের পথ দেখান। বল, যিনি সত্যের পথ দেখান তিনিই কি এর বেশি হকদার যে, তাঁর আনুগত্য করা হবে, না সেই (বেশি হকদার) যে নিজে পথ পায় না, যতক্ষণ না অন্য কেউ তাকে পথ দেখায়? ২৪ তা তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা কি রকমের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর?

তাফসীরঃ

২৪. অর্থাৎ মানুষের দোজাহানের মুক্তির সত্যিকারের পথ কেবল আল্লাহ তাআলাই দেখাতে পারেন। তাঁর পথ-নির্দেশ ছাড়া কোন মানুষের পক্ষে নিজ জ্ঞান-বুদ্ধি দ্বারা সত্যের পথ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। কাজেই মুক্তির জন্য দেব-দেবীর তো নয়ই, এমন কি কোন মানুষেরও অনুসরণ-আনুগত্য করার কোন অবকাশ নেই, তাতে সে মানুষ যত বড় বিদ্বান বা দার্শনিকই হোক না কেন। বরং আনুগত্য করতে হবে কেবল পরম দিশারী আল্লাহর এবং তাঁর নির্দেশে নবী-রাসূলগণের বা যারা নবীর শিক্ষানুসারে মানুষের পথ-প্রদর্শন করেন তাদের। তাদের পথ-প্রদর্শন যেহেতু আল্লাহ তা‘আলার হুকুম মোতাবেক হয়, তাই তাদের আনুগত্য প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তা‘আলারই আনুগত্য। -অনুবাদক
৩৬

وَمَا یَتَّبِعُ اَکۡثَرُہُمۡ اِلَّا ظَنًّا ؕ اِنَّ الظَّنَّ لَا یُغۡنِیۡ مِنَ الۡحَقِّ شَیۡئًا ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلِیۡمٌۢ بِمَا یَفۡعَلُوۡنَ ٣٦

ওয়ামা-ইয়াত্তাবি‘উ আকছারুহুম ইল্লা-জান্নান ইন্নাজ্জান্না লা-ইউগনী মিনাল হাক্কিশাইআন ইন্নাল্লা-হা ‘আলীমুম বিমা-ইয়াফ‘আলূন।

এবং (প্রকৃতপক্ষে) তাদের (অর্থাৎ মুশরিকদের) মধ্যে অধিকাংশ কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে থাকে, আর এটা তো নিশ্চিত যে, সত্যের বিপরীতে অনুমান কোনও কাজে আসে না। নিশ্চয়ই তারা যা-কিছু করে আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন।
৩৭

وَمَا کَانَ ہٰذَا الۡقُرۡاٰنُ اَنۡ یُّفۡتَرٰی مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ وَلٰکِنۡ تَصۡدِیۡقَ الَّذِیۡ بَیۡنَ یَدَیۡہِ وَتَفۡصِیۡلَ الۡکِتٰبِ لَا رَیۡبَ فِیۡہِ مِنۡ رَّبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۟ ٣٧

ওয়া মা-কা-না হা-যাল কুরআ-নু আইঁ ইউফতারা-মিন দূনিল্লা-হি ওয়ালা-কিন তাসদীকাল্লাযী বাইনা ইয়াদাইহি ওয়া তাফসীলাল কিতা-বি লা-রাইবা ফীহি মির রাব্বিল ‘আ-লামীন।

এ কুরআন এমন নয় যে, এটা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ হতে রচনা করা হবে বরং এটা (ওহীর) সেই সব বিষয়ের সমর্থন করে, যা এর পূর্বে নাযিল হয়েছে এবং আল্লাহ (লাওহে মাহফূজে) যেসব বিষয় লিখে রেখেছেন এটা তার ব্যাখ্যা করে। ২৫ এতে কোনও সন্দেহ নেই যে, এটা জগতসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ হতে।

তাফসীরঃ

২৫. বাক্যটিতে এই সত্য স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, কুরআন মাজীদ কোনও মানব-মস্তিষ্ক থেকে উদ্ভুত নয়; বরং এর উৎস হচ্ছে লাওহে মাহফূজ। আল্লাহ তাআলা লাওহে মাহফূজে সৃজন ও বিধানগত যাবতীয় বিষয় সেই অনাদি কালে লিখে রেখেছেন। তার মধ্যে মানুষের যা প্রয়োজন, কুরআন মাজীদ তার বিশদ ব্যাখ্যা দান করে।
৩৮

اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ افۡتَرٰىہُ ؕ قُلۡ فَاۡتُوۡا بِسُوۡرَۃٍ مِّثۡلِہٖ وَادۡعُوۡا مَنِ اسۡتَطَعۡتُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ٣٨

আম ইয়াকূলূনাফ তারা-হু কুল ফা’তূবিছূরাতিম মিছলিহী ওয়াদ‘ঊ মানিছতাতা‘আতুম মিন দূ নিল্লা-হি ইন কুনতুম সা-দিকীন।

তারপরও কি তারা বলে, রাসূল নিজের পক্ষ হতে এটা রচনা করেছে? বল, তবে তোমরা এর মত একটি সূরাই (রচনা করে) নিয়ে এসো এবং (এ কাজে সাহায্য গ্রহণের জন্য) আল্লাহ ছাড়া অন্য যাকে পার ডেকে নাও- যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
৩৯

بَلۡ کَذَّبُوۡا بِمَا لَمۡ یُحِیۡطُوۡا بِعِلۡمِہٖ وَلَمَّا یَاۡتِہِمۡ تَاۡوِیۡلُہٗ ؕ کَذٰلِکَ کَذَّبَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ فَانۡظُرۡ کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الظّٰلِمِیۡنَ ٣٩

বাল কাযযাবূবিমা-লাম ইউহীতুবি‘ইলমিহী ওয়ালাম্মা-ইয়া’তিহিম তা’বীলুহূ কাযা-লিকা কাযযাবাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম ফানজুর কাইফা কা-না ‘আকিবাতুজ্জা-লিমীন।

আসল কথা হচ্ছে, তারা মিথ্যা সাব্যস্ত করছে সেই বিষয়কে যার জ্ঞান তারা আয়ত্ত করতে পারেনি, এবং এখনও তার পরিণাম তাদের সামনে আসেনি। ২৬ তাদের পূর্বে যারা ছিল তারাও এভাবেই (তাদের নবীগণকে) অস্বীকার করেছিল। সুতরাং দেখ সে জালেমদের পরিণাম কী হয়েছে।

তাফসীরঃ

২৬. অর্থাৎ, তারা যে কুরআনকে অস্বীকার করছে-এর পরিণাম আল্লাহর আযাবরূপে একদিন অবশ্যই প্রকাশ পাবে। এখনও পর্যন্ত তা তাদের সামনে আসেনি বলে নিশ্চিন্ত হয়ে যাওয়া ঠিক নয়; বরং অতীত জাতিসমূহের পরিণাম থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।
৪০

وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ یُّؤۡمِنُ بِہٖ وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ لَّا یُؤۡمِنُ بِہٖ ؕ  وَرَبُّکَ اَعۡلَمُ بِالۡمُفۡسِدِیۡنَ ٪ ٤۰

ওয়া মিনহুম মাইঁ ইউ’মিনুবিহী ওয়া মিনহুম মাল লা-ইউ’মিনুবিহী ওয়া রাব্বুকা আ‘লামু বিল মুফছিদীন।

তাদের মধ্যে কতক তো এমন, যারা এর (অর্থাৎ কুরআনের) প্রতি ঈমান আনবে এবং কতক এমন, যারা এর প্রতি ঈমান আনবে না। তোমার প্রতিপালক অশান্তি বিস্তারকারীদেরকে ভালো করেই জানেন।
৪১

وَاِنۡ کَذَّبُوۡکَ فَقُلۡ لِّیۡ عَمَلِیۡ وَلَکُمۡ عَمَلُکُمۡ ۚ اَنۡتُمۡ بَرِیۡٓـــُٔوۡنَ مِمَّاۤ اَعۡمَلُ وَاَنَا بَرِیۡٓءٌ مِّمَّا تَعۡمَلُوۡنَ ٤١

ওয়া ইন কাযযাবূকা ফাকুল লী আমালী ওয়া লাকুম ‘আমালুকুম আনতুম বারীউনা মিম্মা আ‘মালূওয়া আনা-বারীউম মিম্মা-তা‘মালূন।

(হে নবী!) তারা যদি তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে (তাদেরকে) বলে দাও আমার কর্ম আমার জন্য এবং তোমাদের কর্ম তোমাদের জন্য। আমি যে কাজ করছি তার দায় থেকে তোমরা মুক্ত এবং তোমরা যা করছ, তার দায় থেকেও আমি মুক্ত।
৪২

وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ یَّسۡتَمِعُوۡنَ اِلَیۡکَ ؕ اَفَاَنۡتَ تُسۡمِعُ الصُّمَّ وَلَوۡ کَانُوۡا لَا یَعۡقِلُوۡنَ ٤٢

ওয়া মিনহুম মাইঁ ইয়াছতামি‘ঊনা ইলাইকা আফাআনতা তুছমিউস সুম্মা ওয়া লাও কা-নূ লা-ইয়া‘কিলূন।

তাদের মধ্যে কতিপয় এমনও আছে, যারা তোমার কথা (প্রকাশ্যে) কান পেতে শোনে, (কিন্তু অন্তরে সত্যের কোনও অনুসন্ধিৎসা নেই। সে কারণে প্রকৃতপক্ষে তারা বধির) তবে কি তুমি বধিরকে শোনাবে, যদিও তারা না বোঝে?
৪৩

وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ یَّنۡظُرُ اِلَیۡکَ ؕ اَفَاَنۡتَ تَہۡدِی الۡعُمۡیَ وَلَوۡ کَانُوۡا لَا یُبۡصِرُوۡنَ ٤٣

ওয়া মিনহুম মাইঁ ইয়ানজু রু ইলাইকা আফাআনতা তাহদিল ‘উমইয়া ওয়ালাও কা-নূলাইউবসিরূন।

তাদের মধ্যে কতক এমন, যারা তোমার দিকে তাকিয়ে থাকে (কিন্তু অন্তরে ন্যায়নিষ্ঠতা না থাকার কারণে তারা অন্ধতুল্য)। তুমি কি অন্ধকে পথ দেখাবে যদিও তারা কিছুই উপলব্ধি করে না? ২৭

তাফসীরঃ

২৭. উম্মতের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মমতা ছিল অসাধারণ, যে কারণে কাফেরগণ ঈমান না আনায় তিনি অধিকাংশ সময় দুঃখ ভারাক্রান্ত থাকতেন। এ আয়াত তাঁকে সান্তনা দিচ্ছে, আপনি তো সঠিক পথে আনতে পারবেন কেবল তাকেই, যার অন্তরে সত্য জানার আগ্রহ আছে। যাদের অন্তরে এ আগ্রহই নেই, তারা তো অন্ধ ও বধিরতুল্য। আপনি যতই চেষ্টা করুন না কেন তাদেরকে কোন কথা শোনাতে পারবেন না এবং কোনও পথও দেখাতে পারবেন না। তাদের কোনও দায়-দায়িত্ব আপনার উপর নয়। তারা নিজেরাই নিজেদের জিম্মাদার এবং আল্লাহ তাআলা তাদের উপর কোনও জুলুম করেননি; বরং তারা জাহান্নামের পথ অবলম্বন করে নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে।
৪৪

اِنَّ اللّٰہَ لَا یَظۡلِمُ النَّاسَ شَیۡئًا وَّلٰکِنَّ النَّاسَ اَنۡفُسَہُمۡ یَظۡلِمُوۡنَ ٤٤

ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াজলিমুন্না-ছা শাইয়াওঁ ওয়ালা-কিন্নান্না-ছা আনফুছাহুম ইয়াজলিমূন।

প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ মানুষের প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করেন না। কিন্তু মানুষ নিজেই নিজের প্রতি জুলুম করে।
৪৫

وَیَوۡمَ یَحۡشُرُہُمۡ کَاَنۡ لَّمۡ یَلۡبَثُوۡۤا اِلَّا سَاعَۃً مِّنَ النَّہَارِ یَتَعَارَفُوۡنَ بَیۡنَہُمۡ ؕ قَدۡ خَسِرَ الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِلِقَآءِ اللّٰہِ وَمَا کَانُوۡا مُہۡتَدِیۡنَ ٤٥

ওয়া ইয়াওমা ইয়াহশুরুহুম কাআল্লাম ইয়ালবাছূ ইল্লা-ছা-‘আতাম মিনান্নাহা-রি ইয়াতা‘আরাফূনা বাইনাহুম কাদ খাছিরাল লাযীনা কাযযাবূবিলিকাইল্লা-হি ওয়ামা-কা-নূ মুহতাদীন।

যে দিন আল্লাহ তাদেরকে (হাশরের মাঠে) একত্র করবেন, সে দিন তাদের মনে হবে যে, যেন তারা (দুনিয়ায় বা কবরে) দিনের এক মুহূর্তের বেশি অবস্থান করেনি। (এ কারণেই) তারা পরস্পরে একে অন্যকে চিনতে পারবে। ২৮ বস্তুত যারা (আখেরাতে) আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হওয়াকে অস্বীকার করেছে এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়নি, তারা অবশ্যই লোকসানগ্রস্ত হয়েছে।

তাফসীরঃ

২৮. অর্থাৎ, দুনিয়ার জীবন তাদের এতই কাছের মনে হবে যে, তাদের একজনকে অন্যজনের চিনতে কোনও কষ্ট হবে না, যেমনটা দীর্ঘদিন ব্যবধানে দেখার ক্ষেত্রে সাধারণত হয়ে থাকে।
৪৬

وَاِمَّا نُرِیَنَّکَ بَعۡضَ الَّذِیۡ نَعِدُہُمۡ اَوۡ نَتَوَفَّیَنَّکَ فَاِلَیۡنَا مَرۡجِعُہُمۡ ثُمَّ اللّٰہُ شَہِیۡدٌ عَلٰی مَا یَفۡعَلُوۡنَ ٤٦

ওয়া ইম্মা-নুরিইয়ান্নাকা বা‘দাল্লাযীনা‘ইদুহুম আও নাতাওয়াফফাইয়ান্নাকা ফাইলাইনামারজি‘উহুম ছু ম্মাল্লা-হু শাহীদুন ‘আলা-মা-ইয়াফ‘আলূন।

(হে নবী!) আমি তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) যেসব বিষয়ে ভীতি প্রদর্শন করেছি, তার কোনও বিষয় আমি তোমাকে (তোমার জীবদ্দশায়) দেখিয়ে দেই অথবা (তার আগে) তোমার রূহ কবয করে নেই, সর্বাবস্থায়ই তো তাদেরকে শেষ পর্যন্ত আমার কাছেই ফিরতে হবে। ২৯ অতঃপর (এটা তো সুস্পষ্ট যে,) তারা যা-কিছু করছে, আল্লাহ তা সম্যক প্রত্যক্ষ করছেন (সুতরাং তখন তিনি এর শাস্তি দেবেন)।

তাফসীরঃ

২৯. এটা এই খটকার জবাব যে, আল্লাহ তাআলা কাফেরদেরকে শাস্তি দানের ধমকি তো দিয়ে রেখেছেন, অথচ তাদের পক্ষ থেকে এতসব অবাধ্যতা ও মুসলিমদের সাথে তাদের ক্রমবর্ধমান শত্রুতা সত্ত্বেও তাদের উপর তো কোনও আযাব আসতে দেখা যাচ্ছে না! এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলছেন, আল্লাহ তাআলার হিকমত অনুযায়ী সময় মতই তাদের উপর শাস্তি আসবে। সে আযাব এমনও হতে পারে যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় দুনিয়াতেই তারা পেয়ে যাবে আবার এমনও হতে পারে যে, দুনিয়ায় তাঁর জীবদ্দশায় তাদের উপর কোনও আযাব আসবে না, কিন্তু আখেরাতের শাস্তি তো অবধারিত। তারা যখন আল্লাহ তাআলার কাছে ফিরে যাবে তখন অনন্তকালীন শাস্তি ভোগ করতেই হবে।
৪৭

وَلِکُلِّ اُمَّۃٍ رَّسُوۡلٌ ۚ فَاِذَا جَآءَ رَسُوۡلُہُمۡ قُضِیَ بَیۡنَہُمۡ بِالۡقِسۡطِ وَہُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ ٤٧

ওয়া লিকুল্লি উম্মাতির রাছূলুন ফাইযা-জাআ রাছূলুহুম কুদিয়া বাইনাহুম বিলকিছতি ওয়াহুম লা-ইউজলামূন।

প্রত্যেক উম্মতের জন্য একজন রাসূল পাঠানো হয়েছে। যখন তাদের রাসূল এসে গেছে তখন ন্যায়বিচারের সাথে তাদের মীমাংসা করা হয়েছে। তাদের উপর কোনও জুলুম করা হয়নি।
৪৮

وَیَقُوۡلُوۡنَ مَتٰی ہٰذَا الۡوَعۡدُ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ٤٨

ওয়া ইয়াকূলূনা মাতা-হা-যাল ওয়া‘দুইন কুনতুম সা-দিকীন।

তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ মুসলিমদেরকে উপহাস করার জন্য) বলে, তোমরা সত্যবাদী হলে (বল আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তিদানের) প্রতিশ্রুতি কবে পূরণ করা হবে?
৪৯

قُلۡ لَّاۤ اَمۡلِکُ لِنَفۡسِیۡ ضَرًّا وَّلَا نَفۡعًا اِلَّا مَا شَآءَ اللّٰہُ ؕ لِکُلِّ اُمَّۃٍ اَجَلٌ ؕ اِذَا جَآءَ اَجَلُہُمۡ فَلَا یَسۡتَاۡخِرُوۡنَ سَاعَۃً وَّلَا یَسۡتَقۡدِمُوۡنَ ٤٩

কুল লাআমলিকুলিনাফছী দাররাওঁ ওয়ালা-নাফ‘আন ইল্লা-মাশা-আল্লা-হু লিকুল্লি উম্মাতিন আজালুন ইযা-জাআ আজালুহুম ফালা-ইয়াছতা’খিরূনা ছা-‘আতাওঁ ওয়ালাইয়াছতাকদিমূন।

(হে নবী! তাদেরকে) বলে দাও, আমি তো আমার নিজেরও কোনও উপকার করার এখতিয়ার রাখি না এবং কোনও অপকার করারও না, তবে আল্লাহ যতটুকু চান তা ভিন্ন। প্রত্যেক উম্মতের এক নির্দিষ্ট সময় আছে, যখন তাদের সে সময় আসে, তখন তারা তা থেকে এক মুহূর্ত পেছনেও যেতে পারে না এবং এক মুহূর্ত আগেও না।
৫০

قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ اَتٰىکُمۡ عَذَابُہٗ بَیَاتًا اَوۡ نَہَارًا مَّاذَا یَسۡتَعۡجِلُ مِنۡہُ الۡمُجۡرِمُوۡنَ ٥۰

কুল আরাআইতুমইন আতা-কুম‘আযা-বুহূ বায়া-তান আও নাহা-রাম মা-যাইয়াছতা‘জিলুমিনহুল মুজরিমূন।

তাদেরকে বল, তোমরা আমাকে বল তো, আল্লাহর আযাব যদি তোমাদের উপর রাতের বেলা এসে পড়ে কিংবা দিনের বেলা, তবে অপরাধীরা তার মধ্যে এমন কী (আকাঙ্ক্ষাযোগ্য বস্তু আছে, যাকে) ত্বরান্বিত করতে চায়? ৩০

তাফসীরঃ

৩০. অর্থাৎ সে শাস্তির মধ্যে এমন কোন আনন্দের বিষয় তো নেই, যা পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করা যায়। তা সত্ত্বেও তারা সেজন্য তাড়াহুড়া করছে কেন? সন্দেহ নেই যে, তারা তা করছে উপহাস করে, যেহেতু তাদের তাতে বিশ্বাসই নেই। কিন্তু তারা যতই অবিশ্বাস করুক, একদিন তার সম্মুখীন তাদেরকে হতেই হবে এবং সে শাস্তি এমনই বিভীষিকাময় যে, তা নিয়ে উপহাস করা বা তার জন্য ব্যস্ততা দেখানো চরম অর্বাচীনতা। যেদিন সে শাস্তি এসে পড়বে, তখন তো বিশ্বাস করবে, কিন্তু অসময়ের সেই বিশ্বাস কোন কাজে আসবে না। -অনুবাদক
৫১

اَثُمَّ اِذَا مَا وَقَعَ اٰمَنۡتُمۡ بِہٖ ؕ آٰلۡـٰٔنَ وَقَدۡ کُنۡتُمۡ بِہٖ تَسۡتَعۡجِلُوۡنَ ٥١

আছুম্মা ইযা-মা-ওয়াকা‘আ আ-মানতুম বিহী আলআ-না ওয়া কাদ কুনতুম বিহী তাছতা‘জিলূন।

যখন সে শাস্তি এসেই পড়বে তখন কি তোমরা তা বিশ্বাস করবে? (তখন তো তোমাদেরকে বলা হবে যে,) এখন বিশ্বাস করছ? অথচ তোমরাই এটা (অবিশ্বাস করে) তাড়াতাড়ি চাচ্ছিলে।
৫২

ثُمَّ قِیۡلَ لِلَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا ذُوۡقُوۡا عَذَابَ الۡخُلۡدِ ۚ ہَلۡ تُجۡزَوۡنَ اِلَّا بِمَا کُنۡتُمۡ تَکۡسِبُوۡنَ ٥٢

ছু ম্মা কীলা লিল্লাযীনা জালামূযূকূ‘আযা-বাল খুলদি হাল তুজঝাওনা ইল্লা-বিমাকুনতুম তাকছিবূন।

অতঃপর জালেমদেরকে বলা হবে, এবার স্থায়ী শাস্তির মজা ভোগ কর। তোমাদেরকে অন্য কিছুর নয়; বরং তোমরা যা-কিছু (পাপাচার) করতে তারই প্রতিফল দেওয়া হচ্ছে।
৫৩

وَیَسۡتَنۡۢبِئُوۡنَکَ اَحَقٌّ ہُوَ ؕؔ  قُلۡ اِیۡ وَرَبِّیۡۤ اِنَّہٗ لَحَقٌّ ۚؕؔ  وَمَاۤ اَنۡتُمۡ بِمُعۡجِزِیۡنَ ٪ ٥٣

ওয়া ইয়াছতামবিঊনাকা আহাক্কুন হুওয়া কুল ঈ ওয়ারাববী ইন্নাহূলাহাক্কুওঁ ওয়া মাআনতুম বিমু‘জিঝীন।

তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে, এটা (অর্থাৎ আখেরাতের আযাব) কি বাস্তবিক সত্য? বলে দাও, আমার প্রতিপালকের শপথ! এটা বিলকুল সত্য এবং তোমরা (আল্লাহকে) অক্ষম করতে পারবে না।
৫৪

وَلَوۡ اَنَّ لِکُلِّ نَفۡسٍ ظَلَمَتۡ مَا فِی الۡاَرۡضِ لَافۡتَدَتۡ بِہٖ ؕ وَاَسَرُّوا النَّدَامَۃَ لَمَّا رَاَوُا الۡعَذَابَ ۚ وَقُضِیَ بَیۡنَہُمۡ بِالۡقِسۡطِ وَہُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ ٥٤

ওয়া লাও আন্না লিকুল্লি নাফছিন জালামাত মা-ফিল আরদিলাফতাদাত বিহী ওয়া আছাররুন নাদা-মাতা লাম্মা-রাআউল ‘আযা-বা ওয়া কুদিয়া বাইনাহুম বিলকিছতি ওয়া হুম লা-ইউজলামূন।

যে ব্যক্তিই জুলুমে লিপ্ত হয়েছে, তার যদি পৃথিবীতে যা-কিছু আছে সবই হয়ে যায়, তবে সে নিজ মুক্তির বিনিময়ে তা দিয়ে দেবে এবং তারা যখন শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন নিজ অনুতাপ লুকাতে চাবে। ৩১ ন্যায়বিচারের সাথে তাদের মীমাংসা হবে এবং তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।

তাফসীরঃ

৩১. অর্থাৎ তাদের ধারণা ও কল্পনার বাইরে যখন বিভীষিকাময় শাস্তি চাক্ষুস দেখতে পাবে, তখন এমনই ভীত-বিহ্বল হয়ে পড়বে যে, তারা এমনকি কান্নার কথাও ভুলে যাবে, চিৎকার পর্যন্ত করতে পারবে না। বিলকুল নির্বাক-নিথর হয়ে যাবে। একেই ‘অনুতাপ লুকানো’ শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। অথবা এর অর্থ, অনুসারীরা দোষারোপ করবে এই ভয়ে কাফিরদের নেতৃবর্গ তাদের সামনে নিজেদের অনুতাপ-আক্ষেপের কথা প্রকাশ করবে না। কিন্তু এটা তাদের স্থায়ী অবস্থা নয়। এক সময় টিকতে না পেরে বলে উঠবে, ‘হায়, আল্লাহর প্রতি আমার কর্তব্যে যে অবহেলা আমি করেছি, সেজন্য আফসোস! (যুমার ৩৯ : ৫৬) এবং বলবে, ‘হায় দুর্ভোগ আমি এ ব্যাপারে বড় উদাসীন ছিলাম’ (সূরা আম্বিয়া ২১ : ৯৭)। -অনুবাদক
৫৫

اَلَاۤ اِنَّ لِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ اَلَاۤ اِنَّ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقٌّ وَّلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٥٥

আলাইন্না লিল্লা-হি মা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি আলাইন্না ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুওঁ ওয়া লা-কিন্না আকছারাহুম লা-ইয়া‘লামূন।

স্মরণ রেখ, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে, তা আল্লাহরই। স্মরণ রেখ, আল্লাহর ওয়াদা সত্য, কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না।
৫৬

ہُوَ یُحۡیٖ وَیُمِیۡتُ وَاِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ ٥٦

হুওয়া ইউহয়ী ওয়া ইউমীতুওয়া ইলাইহি তুরজা‘ঊন।

তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু ঘটান। তাঁরই কাছে তোমাদের সকলকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
৫৭

یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ قَدۡ جَآءَتۡکُمۡ مَّوۡعِظَۃٌ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ وَشِفَآءٌ لِّمَا فِی الصُّدُوۡرِ ۬ۙ وَہُدًی وَّرَحۡمَۃٌ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ ٥٧

ইয়া আইয়ূহান্না-ছুকাদ জাআতকুম মাও‘ইজাতুম মির রাব্বিকুম ওয়া শিফাউল লিমাফিসসুদূ রি ওয়াহুদাওঁ ওয়া রাহমাতুল লিলমু’মিনীন।

হে মানুষ! তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এসেছে এক উপদেশ, অন্তরের রোগ-ব্যাধির উপশম এবং মুমিনদের পক্ষে হিদায়াত ও রহমত।
৫৮

قُلۡ بِفَضۡلِ اللّٰہِ وَبِرَحۡمَتِہٖ فَبِذٰلِکَ فَلۡیَفۡرَحُوۡا ؕ ہُوَ خَیۡرٌ مِّمَّا یَجۡمَعُوۡنَ ٥٨

কুল বিফাদলিল্লা-হি ওয়া বিরাহমাতিহী ফাবিযা-লিকা ফালইয়াফরাহূ হুওয়া খাইরুম নমিম্মা-ইয়াজমা‘ঊন।

(হে নবী!) বল, এসব আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর রহমতেই হয়েছে। সুতরাং এতে তাদের আনন্দিত হওয়া উচিত। তারা যা-কিছু পুঞ্জীভূত করে, তা অপেক্ষা এটা শ্রেয়!
৫৯

قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ مَّاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ لَکُمۡ مِّنۡ رِّزۡقٍ فَجَعَلۡتُمۡ مِّنۡہُ حَرَامًا وَّحَلٰلًا ؕ قُلۡ آٰللّٰہُ اَذِنَ لَکُمۡ اَمۡ عَلَی اللّٰہِ تَفۡتَرُوۡنَ ٥٩

কুল আরাআইতুম মাআনঝালাল্লা-হু লাকুম মির রিঝকিন ফাজা‘আলতুম মিনহু হারা-মাওঁ ওয়া হালা-লান কুল আল্লা-হু আযিনা লাকুম আম ‘আলাল্লা-হি তাফতারূন।

বল, চিন্তা করে দেখ তো, আল্লাহ তোমাদের জন্য যে রিযক নাযিল করেছিলেন, তারপর তোমরা নিজেদের পক্ষ থেকে তার কিছু হালাল ও কিছু হারাম সাব্যস্ত করেছ! ৩২ জিজ্ঞেস কর, আল্লাহই কি তোমাদেরকে এর অনুমতি দিয়েছিলেন, না তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছ?

তাফসীরঃ

৩২. আরবের মুশরিকগণ বিভিন্ন পশুকে তাদের মূর্তির নামে উৎসর্গ করে সেগুলোকে অহেতুক হারাম সাব্যস্ত করেছিল। সূরা আনআমে (৫ : ১৩৮, ১৩৯) বিস্তারিত গত হয়েছে। এ আয়াতে তাদের সেই দুষ্কর্মের প্রতিই ইশারা করা হয়েছে।
৬০

وَمَا ظَنُّ الَّذِیۡنَ یَفۡتَرُوۡنَ عَلَی اللّٰہِ الۡکَذِبَ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ لَذُوۡ فَضۡلٍ عَلَی النَّاسِ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ لَا یَشۡکُرُوۡنَ ٪ ٦۰

ওয়া মা-জান্নুল্লাযীনা ইয়াফতারূনা ‘আলাল্লা-হিল কাযিবা ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ইন্নাল্লা-হা লাযূফাদলিন ‘আলান্না-ছি ওয়ালা-কিন্না আকছারাহুম লা-ইয়াশকুরূন।

যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেয় কিয়ামত দিবস সম্পর্কে তাদের ধারণা কী? নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের সঙ্গে সদয় আচরণকারী। কিন্তু তাদের অধিকাংশেই কৃতজ্ঞতা আদায় করে না।
৬১

وَمَا تَکُوۡنُ فِیۡ شَاۡنٍ وَّمَا تَتۡلُوۡا مِنۡہُ مِنۡ قُرۡاٰنٍ وَّلَا تَعۡمَلُوۡنَ مِنۡ عَمَلٍ اِلَّا کُنَّا عَلَیۡکُمۡ شُہُوۡدًا اِذۡ تُفِیۡضُوۡنَ فِیۡہِ ؕ وَمَا یَعۡزُبُ عَنۡ رَّبِّکَ مِنۡ مِّثۡقَالِ ذَرَّۃٍ فِی الۡاَرۡضِ وَلَا فِی السَّمَآءِ وَلَاۤ اَصۡغَرَ مِنۡ ذٰلِکَ وَلَاۤ اَکۡبَرَ اِلَّا فِیۡ کِتٰبٍ مُّبِیۡنٍ ٦١

ওয়া মা-তাকূনুফী শা’নিওঁ ওয়া মা-তাতলূমিনহু মিন কু রআ-নিওঁ ওয়ালা-তা‘মালূনা মিন ‘আমালিন ইল্লা-কুন্না-‘আলাইকুম শুহূদান ইয তুফীদূ না ফীহি ওয়া মা-ইয়া‘ঝুবু‘আর রাব্বিকা মিম মিছকা-লি যাররাতিন ফিল আরদিওয়ালা-ফিছছামাই ওয়ালাআসগারা মিন যা-লিকা ওয়ালাআকবারা ইল্লা-ফী কিতা-বিম মুবীন।

(হে নবী!) তুমি যে-অবস্থায়ই থাক এবং কুরআনের যে-অংশই তিলাওয়াত কর এবং (হে মানুষ!) তোমরা যে-কাজই কর, তোমরা যখন তাতে লিপ্ত থাক, তখন আমি তোমাদের দেখতে থাকি। তোমার প্রতিপালকের কাছে অণু-পরিমাণ জিনিসও গোপন থাকে না না পৃথিবীতে, না আকাশে এবং তার চেয়ে ছোট এবং তার চেয়ে বড় এমন কিছু নেই, যা এক স্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই। ৩৩

তাফসীরঃ

৩৩. আরবের মুশরিকগণ কিয়ামতে মানুষের পুনরুজ্জীবিত হওয়ার বিষয়কে অসম্ভব মনে করত। তাদের কথা ছিল, কোটি কোটি মানুষ মৃত্যুর পর যখন মাটিতে মিশে একাকার হয়ে যায়, তখন তাদের সেই ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র অংশসমূহকে একত্র করে পুনরায় তাতে জীবন দান করা কি করে সম্ভব? মাটির কোন্ কণা কোন্ ব্যক্তির দেহাংশ তা কিভাবে জানা যাবে? এ আয়াতে বলা হয়েছে, তোমরা আল্লাহ তাআলার শক্তি ও জ্ঞানকে নিজেদের সঙ্গে তুলনা করো না। আল্লাহ তাআলার জ্ঞান এত ব্যাপক যে, কোনও জিনিসই তার অগোচরে নয়।
৬২

اَلَاۤ اِنَّ اَوۡلِیَآءَ اللّٰہِ لَا خَوۡفٌ عَلَیۡہِمۡ وَلَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ ۚۖ ٦٢

আলাইন্না আওলিয়াআল্লা-হি লা-খাওফুন ‘আলাইহিম ওয়ালা-হুম ইয়াহঝানূন।

স্মরণ রেখ, যারা আল্লাহর বন্ধু তাদের কোনও ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না। ৩৪

তাফসীরঃ

৩৪. কারা আল্লাহ তাআলার বন্ধু পরের আয়াতে তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, যারা ঈমান ও তাকওয়ার গুণে গুণান্বিত, তারাই আল্লাহ তাআলার বন্ধু। তাদের সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, ভবিষ্যতের ব্যাপারে তাদের কোনও ভয় থাকবে না এবং অতীতের কোনও বিষয়ে কোন দুঃখও থাকবে না। কথাটি বলতে তো খুব সংক্ষিপ্ত, কিন্তু লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, এটা কত বড় নি‘আমত, দুনিয়ায় তা পরিমাপ করা সম্ভব নয়। কেননা এখানে যে যত বড় সুখীই হোক না কেন ভবিষ্যতের কোনও না কোনও ভয় এবং অতীতের কোনও না কোনও দুঃখ সর্বদাই তাকে পেরেশান রাখছে। সব রকমের ভয় ও দুঃখমুক্ত শান্তিময় জীবন কেবল জান্নাতেই লাভ হবে।
৬৩

الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَکَانُوۡا یَتَّقُوۡنَ ؕ ٦٣

আলাইন্না আওলিয়াআল্লা-হি লা-খাওফুন ‘আলাইহিম ওয়ালা-হুম ইয়াহঝানূন।

তারা সেই সব লোক, যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে।
৬৪

لَہُمُ الۡبُشۡرٰی فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَفِی الۡاٰخِرَۃِ ؕ  لَا تَبۡدِیۡلَ لِکَلِمٰتِ اللّٰہِ ؕ  ذٰلِکَ ہُوَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ ؕ ٦٤

লাহুমুল বুশরা-ফিল হায়া-তিদ দুনইয়া-ওয়াফিল আ-খিরাতি লা-তাবদীলা লিকালিমাতিল্লা-হি যা-লিকা হুওয়াল ফাওঝুল ‘আজীম।

তাদের দুনিয়ার জীবনেও সুসংবাদ আছে ৩৫ এবং আখেরাতেও। আল্লাহর কথায় কোনও পরিবর্তন হয় না। এটাই মহাসাফল্য।

তাফসীরঃ

৩৫. দুনিয়ার জীবনে তাদের সুসংবাদলাভ হয় বিভিন্নভাবে, যেমন নবীগণের মাধ্যমে শোনানো হয়েছে যে, আখিরাতে তাদের কোন ভয় থাকবে না, মৃত্যুকালে ফিরিশতাগণ তাদেরকে বলে, তোমরা জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর ... (হা-মীম-সাজদার ৩০-৩১), তাদেরকে অথবা তাদের সম্পর্কে অন্যকে ভালো-ভালো স্বপ্ন দেখানো হয়, তাদের বিভিন্ন বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে বিশেষ সাহায্য করা হয়, মানুষের মাঝে তাদেরকে সমাদৃত করা হয় এবং তাদের সুখ্যাতি ছড়িয়ে দেওয়া হয় ইত্যাদি (-অনুবাদক, তাফসীরে উছমানী থেকে সংক্ষেপিত)।
৬৫

وَلَا یَحۡزُنۡکَ قَوۡلُہُمۡ ۘ اِنَّ الۡعِزَّۃَ لِلّٰہِ جَمِیۡعًا ؕ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ ٦٥

ওয়ালা-ইয়াহঝুনকা কাওলুহুম । ইন্নাল ‘ইঝঝাতা লিল্লা-হি জামী‘আন হুওয়াছ ছামী‘উল ‘আলীম।

(হে নবী!) তাদের কথা যেন তোমাকে দুঃখ না দেয়। নিশ্চয়ই সমস্ত শক্তিই আল্লাহর। তিনি সব কথার শ্রোতা সব কিছুর জ্ঞাতা।
৬৬

اَلَاۤ اِنَّ لِلّٰہِ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَمَنۡ فِی الۡاَرۡضِ ؕ وَمَا یَتَّبِعُ الَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ شُرَکَآءَ ؕ اِنۡ یَّـتَّبِعُوۡنَ اِلَّا الظَّنَّ وَاِنۡ ہُمۡ اِلَّا یَخۡرُصُوۡنَ ٦٦

আলাইন্না লিল্লা-হি মান ফিছ ছামা-ওয়া তি ওয়া মান ফিল আরদি ওয়া মাইয়াত্তাবি‘উল্লাযীনা ইয়াদ‘ঊনা মিন দূ নিল্লা-হি শুরাকাআ ইয়ঁইয়াত্তাবি‘ঊনা ইল্লাজ্জান্না ওয়াইন হুম ইল্লা-ইয়াখরুসূন।

স্মরণ রেখ, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যত প্রাণী আছে, সব আল্লাহরই মালিকানাধীন। যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে ডাকে, তারা আল্লাহর (প্রকৃত) কোনও শরীকের অনুসরণ করে না। তারা কেবল ধারণারই অনুসরণ করে। আর তাদের কাজ কেবল আনুমানিক কথা বলা।
৬৭

ہُوَ الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ الَّیۡلَ لِتَسۡکُنُوۡا فِیۡہِ وَالنَّہَارَ مُبۡصِرًا ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّسۡمَعُوۡنَ ٦٧

হুওয়াল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল লাইলা লিতাছকুনূফীহি ওয়ান্নাহা-রা মুবসিরান ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইয়াছমা‘ঊন।

তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের জন্য রাত সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম গ্রহণ করতে পার। আর দিনকে তোমাদের দেখার উপযোগী করে বানিয়েছেন। নিশ্চয়ই এতে সেই সব লোকের জন্য বহু নিদর্শন আছে, যারা লক্ষ্য করে শোনে।
৬৮

قَالُوا اتَّخَذَ اللّٰہُ وَلَدًا سُبۡحٰنَہٗ ؕ ہُوَ الۡغَنِیُّ ؕ لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ اِنۡ عِنۡدَکُمۡ مِّنۡ سُلۡطٰنٍۭ بِہٰذَا ؕ اَتَقُوۡلُوۡنَ عَلَی اللّٰہِ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ ٦٨

কা-লুত্তাখাযাল্লা-হু ওয়ালাদান ছুবহা-নাহূ হুওয়াল গানিইইয়ু লাহূমা-ফিছ ছামাওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি ইন ‘ইনদাকুম মিন ছুলতা-নিম বিহা-যা- আতাকূলূনা ‘আলাল্লা-হি মা-লা তা‘লামূন।

(কিছু লোকে) বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তাঁর সত্তা পবিত্র! তিনি কোনও কিছুর মুখাপেক্ষী নন। ৩৬ আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে, তা তাঁরই। তোমাদের কাছে এর সপক্ষে কোনও প্রমাণ নেই। তোমরা কি আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কথা বলছ, যার কোনও জ্ঞান তোমাদের নেই?

তাফসীরঃ

৩৬. অর্থাৎ সন্তানের প্রয়োজন হয় কোনও না কোনও মুখাপেক্ষিতার কারণে। অর্থাৎ, সন্তান দুনিয়ার কাজ-কর্মে পিতার সাহায্য করবে কিংবা অন্ততপক্ষে তার দ্বারা পিতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে। আল্লাহ তাআলার এ দু’টো বিষয়ের কোনওটিরই প্রয়োজন নেই। কাজেই তিনি সন্তান দিয়ে কী করবেন?
৬৯

قُلۡ اِنَّ الَّذِیۡنَ یَفۡتَرُوۡنَ عَلَی اللّٰہِ الۡکَذِبَ لَا یُفۡلِحُوۡنَ ؕ ٦٩

কুল ইন্নাল্লাযীনা ইয়াফতারূনা ‘আলাল্লা-হিল কাযিবা লা-ইউফলিহূন।

বলে দাও, যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে, তারা কৃতকার্য হবে না।
৭০

مَتَاعٌ فِی الدُّنۡیَا ثُمَّ اِلَیۡنَا مَرۡجِعُہُمۡ ثُمَّ نُذِیۡقُہُمُ الۡعَذَابَ الشَّدِیۡدَ بِمَا کَانُوۡا یَکۡفُرُوۡنَ ٪ ٧۰

মাতা-‘উন ফিদদুনইয়া-ছু ম্মা ইলাইনা-মারজি‘উহুম ছু ম্মা নুযীকুহুমুল‘আযা-বাশশাদীদা বিমা-কা-নূইয়াকফুরূন।

(তাদের জন্য) দুনিয়ায় সামান্য কিছু আনন্দ-উপভোগ আছে। তারপর আমারই কাছে তাদেরকে ফিরে আসতে হবে। তারপর তারা যে কুফুরী কর্মপন্থা অবলম্বন করেছিল, তার বিনিময়ে আমি তাদেরকে কঠিন শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাব।
৭১

وَاتۡلُ عَلَیۡہِمۡ نَبَاَ نُوۡحٍ ۘ اِذۡ قَالَ لِقَوۡمِہٖ یٰقَوۡمِ اِنۡ کَانَ کَبُرَ عَلَیۡکُمۡ مَّقَامِیۡ وَتَذۡکِیۡرِیۡ بِاٰیٰتِ اللّٰہِ فَعَلَی اللّٰہِ تَوَکَّلۡتُ فَاَجۡمِعُوۡۤا اَمۡرَکُمۡ وَشُرَکَآءَکُمۡ ثُمَّ لَا یَکُنۡ اَمۡرُکُمۡ عَلَیۡکُمۡ غُمَّۃً ثُمَّ اقۡضُوۡۤا اِلَیَّ وَلَا تُنۡظِرُوۡنِ ٧١

ওয়াতলু‘আলাইহিম নাবাআ নূহ । ইযকা-লা লিকাওমিহী ইয়া-কাওমি ইন কা-না কাবুরা ‘আলাইকুম মাকা-মী ওয়া তাযকীরী বিআ-য়া-তিল্লা-হি ফা‘আলাল্লা-হি তাওয়াক্কালতু ফাআজমি‘ঊ আমরাকুম ওয়া শুরাকাআকুম ছুম্মা লা-ইয়াকুন আমরুকুম ‘আলাইকুম গুম্মাতান ছু ম্মাকদূ ইলাইইয়া ওয়ালা-তুনজিরূন।

(হে নবী!) তাদের সামনে নূহের ঘটনা পড়ে শোনাও, যখন সে নিজ কওমকে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে আমার অবস্থান এবং আল্লাহর আয়াতসমূহের মাধ্যমে তোমাদেরকে সতর্ক করাটা যদি তোমাদের পক্ষে দুঃসহ হয়, তবে আমি তো আল্লাহরই উপর ভরসা করেছি। ৩৭ সুতরাং তোমরা তোমাদের শরীকদেরকে সঙ্গে নিয়ে (আমার বিরুদ্ধে) তোমাদের কৌশল পাকাপোক্ত করে নাও, তারপর তোমরা যে কৌশল অবলম্বন করবে তা যেন তোমাদের অন্তরে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কারণ না হয়; বরং আমার বিরুদ্ধে তোমাদের সিদ্ধান্ত (আনন্দচিত্তে) কার্যকর করে ফেল এবং আমাকে একদম সময় দিও না।

তাফসীরঃ

৩৭. যারা খেয়াল-খুশিমতই চলতে চায়, উপদেশদাতার উপদেশ তাদের কাছে অসহ্য বোধ হয়, ক্ষেত্রবিশেষে তাদের অস্তিত্বটাই তাদের দুঃসহ লাগে। তাই তারা তাদের কণ্ঠরোধ করেই ক্ষান্ত হয় না, তাদের জীবন নাশেরও চেষ্টা করে। হযরত নূহ ‘আলাইহিস সালামের প্রতি তাঁর সম্প্রদায় এ রকম আচরণই করেছিল। কিন্তু নিজ মিশনে নবীগণের অবিচলতা এবং আল্লাহর প্রতি তাদের আস্থা থাকে চরম পর্যায়ে। হযরত নূহ ‘আলাইহিস সালাম নিজ বক্তব্য দ্বারা তাদেরকে সে কথারই জানান দিচ্ছেন। -অনুবাদক
৭২

فَاِنۡ تَوَلَّیۡتُمۡ فَمَا سَاَلۡتُکُمۡ مِّنۡ اَجۡرٍ ؕ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلَی اللّٰہِ ۙ وَ اُمِرۡتُ اَنۡ اَکُوۡنَ مِنَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ٧٢

ফাইন তাওয়াল্লাইতুম ফামা-ছাআলতুকুম মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা-‘আলাল্লা-হি ওয়া উমিরতুআন আকূনা মিনাল মুছলিমীন।

তথাপি তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে এর (অর্থাৎ এই প্রচার কার্যের) বিনিময়ে আমি তো তোমাদের কাছে কোনও পারিশ্রমিক চাইনি। ৩৮ আমার পারিশ্রমিক অন্য কেউ নয়; কেবল আল্লাহই নিজ দায়িত্বে রেখেছেন। আর আমাকে হুকুম দেওয়া হয়েছে, আমি যেন অনুগত লোকদের মধ্যে শামিল থাকি।

তাফসীরঃ

৩৮. অর্থাৎ, তাবলীগের বিনিময়ে যদি তোমাদের থেকে কোনও পারিশ্রমিক নিতে হত, তবে তোমাদের প্রত্যাখ্যান দ্বারা আমার ক্ষতি হতে পারত। অর্থাৎ, আশঙ্কা থাকত যে, আমার পারিশ্রমিক আটকে দেওয়া হবে। কিন্তু আমি তো পারিশ্রমিক চাইই না। কাজেই তোমরা প্রত্যাখ্যান করলে তাতে আমার ব্যক্তিগত কোনও ক্ষতি নেই।
৭৩

فَکَذَّبُوۡہُ فَنَجَّیۡنٰہُ وَمَنۡ مَّعَہٗ فِی الۡفُلۡکِ وَجَعَلۡنٰہُمۡ خَلٰٓئِفَ وَاَغۡرَقۡنَا الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا ۚ فَانۡظُرۡ کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُنۡذَرِیۡنَ ٧٣

ফাকাযযাবূহু ফানাজ্জাইনা-হু ওয়ামাম মা‘আহূফিল ফুলকি ওয়া জা‘আলনা-হুম খালাইফা ওয়া আগরাকনাল্লাযীনা কাযযাবূবিআ-য়া-তিনা- ফানজু র কাইফা কা-না ‘আকিবাতুল মুনযারীন।

কিন্তু তারা নূহকে মিথ্যাবাদী বলল এবং পরিণামে আমি নূহকে ও যারা নৌকায় তার সঙ্গে ছিল তাদেরকে রক্ষা করলাম এবং তাদেরকে কাফেরদের স্থলাভিষিক্ত করলাম। আর যারা আমার নিদর্শনসমূহকে প্রত্যাখ্যান করেছিল তাদেরকে (প্লাবনের ভেতর) নিমজ্জিত করলাম। সুতরাং দেখ, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল তাদের পরিণাম কী হয়েছে। ৩৯

তাফসীরঃ

৩৯. হযরত নূহ আলাইহিস সালামের ঘটনা আরও বিস্তারিতভাবে সামনে সূরা হুদে (১১ : ২৫-৪৯) আসছে।
৭৪

ثُمَّ بَعَثۡنَا مِنۡۢ بَعۡدِہٖ رُسُلًا اِلٰی قَوۡمِہِمۡ فَجَآءُوۡہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ فَمَا کَانُوۡا لِیُؤۡمِنُوۡا بِمَا کَذَّبُوۡا بِہٖ مِنۡ قَبۡلُ ؕ کَذٰلِکَ نَطۡبَعُ عَلٰی قُلُوۡبِ الۡمُعۡتَدِیۡنَ ٧٤

ছু ম্মা বা‘আছনা-মিম বা‘দিহী রুছুলান ইলা-কাওমিহিম ফাজাঊহুম বিলবাইয়িনা-তি ফামা-কা-নূলিইউ’মিনূবিমা-কাযযাবূবিহী মিন কাবলু কাযা-লিকা নাতবা‘উ ‘আলাকুলূবিল মু‘তাদীন।

তারপরে আমি বিভিন্ন নবীকে তাদের স্ব-স্ব জাতির কাছে প্রেরণ করেছি। তারা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে এসেছিল, কিন্তু তারা প্রথমবার যা প্রত্যাখ্যান করেছিল তা আর মানতেই প্রস্তুত হল না। যারা সীমালংঘন করে তাদের অন্তরে আমি এভাবে মোহর করে দেই।
৭৫

ثُمَّ بَعَثۡنَا مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ مُّوۡسٰی وَہٰرُوۡنَ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ وَمَلَا۠ئِہٖ بِاٰیٰتِنَا فَاسۡتَکۡبَرُوۡا وَکَانُوۡا قَوۡمًا مُّجۡرِمِیۡنَ ٧٥

ছু ম্মা বা‘আছনা-মিম বা‘দিহিম মূছা-ওয়া হা-রূনা ইলা-ফির‘আওনা ওয়া মালাইহী বিআয়া-তিনা-ফাছতাকবারূওয়া কা-নূকাওমাম মুজরিমীন।

অতঃপর আমি তাদের পর মূসা ও হারূনকে ফির‘আউন ও তার অমাত্যদের কাছে আমার নিদর্শনাবলীসহ প্রেরণ করি। কিন্তু তারা অহমিকা প্রদর্শন করল এবং তারা ছিল অপরাধী সম্প্রদায়।
৭৬

فَلَمَّا جَآءَہُمُ الۡحَقُّ مِنۡ عِنۡدِنَا قَالُوۡۤا اِنَّ ہٰذَا لَسِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ ٧٦

ফালাম্মা-জাআহুমুল হাক্কুমিন ‘ইনদিনা-কা-লূইন্না হা-যা-লাছিহরুম মুবীন।

যখন তাদের কাছে আমার পক্ষ হতে সত্য আসল, তখন তারা বলতে লাগল, নিশ্চয়ই এটা সুস্পষ্ট যাদু। ৪০

তাফসীরঃ

৪০. অর্থাৎ নবুওয়াতের প্রমাণ স্বরূপ তাকে যে লাঠি ও শুভ্রৌজ্জ্বল হাতের অলৌকিকত্ব দেওয়া হয়েছিল, তারা নিজেদের অবাধ্যতা ও হঠকারিতাবশত তাকে যাদু ঠাওরাল। -অনুবাদক
৭৭

قَالَ مُوۡسٰۤی اَتَقُوۡلُوۡنَ لِلۡحَقِّ لَمَّا جَآءَکُمۡ ؕ اَسِحۡرٌ ہٰذَا ؕ وَلَا یُفۡلِحُ السّٰحِرُوۡنَ ٧٧

কা-লা মূছা-আতাকূলূনা লিলহাক্কিলাম্মা-জাআকুম আছিহরুন হা-যা- ওয়ালা-ইউফলিহুছছা-হিরুন।

মূসা বলল, সত্য যখন তোমাদের কাছে আসল তখন তোমরা তার সম্পর্কে এরূপ কথা বলছ? এটা কি যাদু? যাদুকরগণ তো কখনও সফলকাম হয় না!
৭৮

قَالُوۡۤا اَجِئۡتَنَا لِتَلۡفِتَنَا عَمَّا وَجَدۡنَا عَلَیۡہِ اٰبَآءَنَا وَتَکُوۡنَ لَکُمَا الۡکِبۡرِیَآءُ فِی الۡاَرۡضِ ؕ وَمَا نَحۡنُ لَکُمَا بِمُؤۡمِنِیۡنَ ٧٨

কা-লূআজি‘তানা-লিতালফিতানা-‘আম্মা-ওয়াজাদনা-‘আলাইহি আ-বাআনা-ওয়াতাকূনা লাকুমাল কিবরিয়াউ ফিল আরদি ওয়া মা-নাহনুলাকুমা-বিমু’মিনীন।

তারা বলল, তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যই এসেছ যে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে যে রীতি-নীতির উপর পেয়েছি, তুমি আমাদেরকে তা থেকে বিচ্যুত করবে এবং যাতে এ দেশে তোমাদের দু’জনের প্রতিপত্তি কায়েম হয়ে যায় সে জন্য? আমরা তো তোমাদের কথা মানবার নই! ৪১

তাফসীরঃ

৪১. অর্থাৎ, রাজনৈতিক দূরভিসন্ধি চরিতার্থ করার জন্য তোমরা নবুওয়াতকে বাহানা হিসেবে গ্রহণ করেছ (নাউযুবিল্লাহ)। আমরা তোমাদের চাল ধরে ফেলেছি। কাজেই তোমাদের কথায় আমরা বিভ্রান্ত হবার নই। এভাবেই ক্ষমতাদর্পীরা সর্বদা সত্যের কণ্ঠরোধ করার জন্য তার উপর নানা রকম মিথ্যা অভিযোগ ও অপবাদ ছুঁড়ে দেয়। কিন্তু আল্লাহ সত্যকে তার আপন আলোয় উদ্ভাসিত করে অপবাদের অসত্যতা পরিষ্কার করে দেন। -অনুবাদক
৭৯

وَقَالَ فِرۡعَوۡنُ ائۡتُوۡنِیۡ بِکُلِّ سٰحِرٍ عَلِیۡمٍ ٧٩

ওয়া কা-লা ফির‘আওনু’তূনী বিকুল্লি ছা-হিরিন ‘আলীম।

ফিরাউন (তার কর্মচারীদেরকে) বলল, যত দক্ষ যাদুকর আছে, তাদের সকলকে আমার কাছে নিয়ে এসো।
৮০

فَلَمَّا جَآءَ السَّحَرَۃُ قَالَ لَہُمۡ مُّوۡسٰۤی اَلۡقُوۡا مَاۤ اَنۡتُمۡ مُّلۡقُوۡنَ ٨۰

ফালাম্মা-জাআ ছছাহারাতুকা-লা লাহুম মূছাআলকূমাআনতুম মুলকূন।

সুতরাং যখন যাদুকরগণ এসে গেল। মূসা তাদেরকে বলল, তোমাদের যা-কিছু নিক্ষেপ করবার তা নিক্ষেপ কর। ৪২

তাফসীরঃ

৪২. এমনিতে যাদু তো বিভিন্ন রকমের আছে, কিন্তু হযরত মূসা আলাইহিস সালাম যে মুজিযা দেখিয়েছিলেন তাতে তিনি নিজ লাঠি মাটিতে নিক্ষেপ করেছিলেন এবং তা সাপ হয়ে গিয়েছিল। এ হিসেবে তাকে মুকাবিলা করার জন্য যে যাদুকরদেরকে ডাকা হয়েছিল তাদের ব্যাপারে দৃশ্যত ধারণা ছিল যে, তারা এর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ কোনও যাদু দেখাবে। অর্থাৎ, তারা কোনও জিনিস নিক্ষেপ করে সাপ বানিয়ে দেবে, যাতে মানুষকে বোঝানো যায় যে, হযরত মূসা আলাইহিস সালামের মুজিযাও এ রকমই কোন যাদু।
৮১

فَلَمَّاۤ اَلۡقَوۡا قَالَ مُوۡسٰی مَا جِئۡتُمۡ بِہِ ۙ السِّحۡرُ ؕ اِنَّ اللّٰہَ سَیُبۡطِلُہٗ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یُصۡلِحُ عَمَلَ الۡمُفۡسِدِیۡنَ ٨١

ফালাম্মাআলকাও কা-লা মূছা- মা-জি’তুম বিহিছছিহরু ইন্নাল্লা-হা ছাইউবতিলুহূ ইন্নাল্লা-হা লা-ইউসলিহু‘আমালাল মুফছিদীন।

তারপর তারা যখন (তাদের লাঠি ও রশি) নিক্ষেপ করল (এবং সেগুলোকে সাপের মত ছোটাছুটি করতে দেখা গেল) তখন মূসা বলল, তোমরা এই যা-কিছু প্রদর্শন করলে তা যাদু। আল্লাহ এখনই তা নিষ্ক্রিয় করে দিচ্ছেন। আল্লাহ ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের কাজ সফল হতে দেন না।
৮২

وَیُحِقُّ اللّٰہُ الۡحَقَّ بِکَلِمٰتِہٖ وَلَوۡ کَرِہَ الۡمُجۡرِمُوۡنَ ٪ ٨٢

ওয়া ইউহিক্কুল্লা-হুল হাক্কা বিকালিমা-তিহী ওয়ালাও কারিহাল মুজরিমূন।

আল্লাহ নিজ হুকুমে সত্যকে সত্য করে দেখান, যদিও অপরাধীগণ তা অপছন্দ করে।
৮৩

فَمَاۤ اٰمَنَ لِمُوۡسٰۤی اِلَّا ذُرِّیَّۃٌ مِّنۡ قَوۡمِہٖ عَلٰی خَوۡفٍ مِّنۡ فِرۡعَوۡنَ وَمَلَا۠ئِہِمۡ اَنۡ یَّفۡتِنَہُمۡ ؕ وَاِنَّ فِرۡعَوۡنَ لَعَالٍ فِی الۡاَرۡضِ ۚ وَاِنَّہٗ لَمِنَ الۡمُسۡرِفِیۡنَ ٨٣

ফামা আ-মানা লিমূছাইল্লা-যুররিইয়াতুম মিন কাওমিহী ‘আলা-খাওফিম মিন ফির‘আওনা ওয়া মালাইহিম আইঁ ইয়াফতিনাহুম ওয়াইন্না ফির‘আওনা লা‘আ-লিন ফিল আরদি ওয়া ইন্নাহূলামিনাল মুছরিফীন।

অতঃপর এই ঘটল যে, মূসার প্রতি অন্য কেউ তো নয়, তার সম্প্রদায়েরই কতিপয় যুবক ফির‘আউন ও তাদের নেতৃবর্গ নির্যাতন করতে পারে এ আশঙ্কা সত্ত্বেও ঈমান আনল। ৪৩ নিশ্চয়ই দেশে ফির‘আউন অতি পরাক্রমশালী ছিল এবং সে ছিল সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

তাফসীরঃ

৪৩. হযরত মূসা আলাইহিস সালামের প্রতি সর্বপ্রথম বনী ইসরাঈলেরই কতিপয় যুবক ঈমান এনেছিল এবং তাও ফির‘আউন ও তার অমাত্যদের ভয়ে-ভয়ে। ফির‘আউনের অমাত্যগণকে সে যুবকদের নেতা বলা হয়েছে এ কারণে যে, কার্যত তারা তাদের শাসক ছিল। বনী ইসরাঈল তাদের অধীনস্থ প্রজারূপেই জীবন যাপন করত।
৮৪

وَقَالَ مُوۡسٰی یٰقَوۡمِ اِنۡ کُنۡتُمۡ اٰمَنۡتُمۡ بِاللّٰہِ فَعَلَیۡہِ تَوَکَّلُوۡۤا اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّسۡلِمِیۡنَ ٨٤

ওয়া কা-লা মূছা-ইয়া কাওমি ইন কুনতুমআ-মানতুমবিল্লা-হি ফা‘আলাইহি তাওয়াক্কালূইন কুনতুম মুছলিমীন।

মূসা বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা সত্যিই আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে থাকলে, কেবল তাঁরই উপর নির্ভর কর, যদি তোমরা আত্মসমর্পণকারী হয়ে থাক।
৮৫

فَقَالُوۡا عَلَی اللّٰہِ تَوَکَّلۡنَا ۚ  رَبَّنَا لَا تَجۡعَلۡنَا فِتۡنَۃً لِّلۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ ۙ ٨٥

ফাকা-লূ‘আলাল্লা-হি তাওয়াক্কালনা- রাব্বানা-লা-তাজ‘আলনা-ফিতনাতাল লিলকাওমিজ্জা-লিমীন।

তারা বলল, আমরা আল্লাহরই উপর নির্ভর করলাম। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ওই জালেম সম্প্রদায়ের পরীক্ষার পাত্র বানিও না।
৮৬

وَنَجِّنَا بِرَحۡمَتِکَ مِنَ الۡقَوۡمِ الۡکٰفِرِیۡنَ ٨٦

ওয়া নাজজিনা-বিরাহমাতিকা মিনাল কাওমিল কা-ফিরীন।

এবং নিজ রহমতে আমাদেরকে কাফের সম্প্রদায় হতে নাজাত দাও।
৮৭

وَاَوۡحَیۡنَاۤ اِلٰی مُوۡسٰی وَاَخِیۡہِ اَنۡ تَبَوَّاٰ لِقَوۡمِکُمَا بِمِصۡرَ بُیُوۡتًا وَّاجۡعَلُوۡا بُیُوۡتَکُمۡ قِبۡلَۃً وَّاَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ ؕ وَبَشِّرِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ٨٧

ওয়া আওহাইনা ইলা-মূছা-ওয়া আখীহি আন তাবাওওয়াআ-লিকাওমিকুমা-বিমিসরা বুইঊতাওঁ ওয়াজ‘আলূবুইঊতাকুম কিবলাতাওঁ ওয়াআকীমুসসালা-তা ওয়া বাশশিরিল মু’মিনীন।

আমি মূসা ও তার ভাইয়ের প্রতি ওহী পাঠালাম যে, তোমরা তোমাদের সম্প্রদায়কে মিসরের ঘর-বাড়িতেই থাকতে দাও ৪৪ এবং তোমাদের ঘরসমূহকে নামাযের স্থান বানাও ৪৫ এবং (এভাবে) নামায কায়েম কর ও ঈমান আনয়নকারীদেরকে সুসংবাদ দাও।

তাফসীরঃ

৪৪. এ আয়াতে বনী ইসরাঈলকে হুকুম দেওয়া হয়েছে, তারা যেন এখনই হিজরত না করে; বরং নিজেদের বাড়িতেই বাস করে। অন্য দিকে বনী ইসরাঈলের জন্য মসজিদে নামায পড়াই ছিল মূল বিধান। সাধারণ অবস্থায় ঘরে নামায পড়া তাদের জন্য জায়েয ছিল না, কিন্তু সে সময় যেহেতু ফির‘আউনের পক্ষ হতে তাদের ব্যাপক ধরপাকড় চলছিল তাই এই বিশেষ অপারগ অবস্থায় তাদেরকে ঘরে নামায আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়।
৮৮

وَقَالَ مُوۡسٰی رَبَّنَاۤ اِنَّکَ اٰتَیۡتَ فِرۡعَوۡنَ وَمَلَاَہٗ زِیۡنَۃً وَّاَمۡوَالًا فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۙ رَبَّنَا لِیُضِلُّوۡا عَنۡ سَبِیۡلِکَ ۚ رَبَّنَا اطۡمِسۡ عَلٰۤی اَمۡوَالِہِمۡ وَاشۡدُدۡ عَلٰی قُلُوۡبِہِمۡ فَلَا یُؤۡمِنُوۡا حَتّٰی یَرَوُا الۡعَذَابَ الۡاَلِیۡمَ ٨٨

ওয়া কা-লা মূছা-রাব্বানাইন্নাকা আ-তাইতা ফির‘আওনা ওয়া মালাআহূঝীনাতাওঁ ওয়া আমওয়া-লান ফিল হায়া-তিদদুনইয়া- রাব্বানা-লিইউদিললূ‘আন ছাবীলিকা রাব্বানাতমিছ ‘আলাআমওয়া-লিহিম ওয়াশদুদ ‘আলা-কূলূবিহিম ফালা-ইউ’মিনূহাত্তাইয়ারাউল ‘আযা-বাল ‘আলীম।

মূসা বলল, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি ফির‘আউন ও তার অমাত্যদেরকে পার্থিব জীবনে বিপুল শোভা ও ধন-দৌলত দান করেছেন। হে আমাদের প্রতিপালক! তার ফল হচ্ছে এই যে, তারা মানুষকে আপনার পথ থেকে বিচ্যুত করছে। হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের ধন-দৌলত ধ্বংস করে দিন এবং তাদের অন্তর এমন শক্ত করে দিন, যাতে মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত তারা ঈমান না আনে। ৪৬

তাফসীরঃ

৪৬. হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ফির‘আউনী সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘকাল দাওয়াতী কার্যক্রম চালাতে থাকেন। কিন্তু তাদের উপর্যুপরি অস্বীকৃতি ও ক্রমবর্ধমান শত্রুতার কারণে এক সময় তাদের ঈমান আনা সম্পর্কে তিনি আশাহত হয়ে পড়েন। ফির‘আউন ঈমান না এনেই তো ক্ষান্ত থাকেনি; বরং সে এমন পাশবিক জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছিল যে, তাকে বিনা শাস্তিতে ছেড়ে দেওয়া হোক, এটা কোনও ন্যায়নিষ্ঠ লোকের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না। সম্ভবত তিনি ওহী মারফতও জানতে পেরেছিলেন যে, ফির‘আউনের ভাগ্যে ঈমান নেই। তাই শেষ পর্যন্ত তিনি এই বদদু‘আ করেন।
৮৯

قَالَ قَدۡ اُجِیۡبَتۡ دَّعۡوَتُکُمَا فَاسۡتَقِیۡمَا وَلَا تَتَّبِعٰٓنِّ سَبِیۡلَ الَّذِیۡنَ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٨٩

কা-লা কাদ উজীবাদ দা‘ওয়াতুকুমা-ফাছতাকীমা-ওয়ালা-তাত্তাবি‘আন্নি ছাবীলাল্লাযীনা লা-ইয়া‘লামূন।

আল্লাহ বললেন, তোমাদের দুআ কবুল করা হল। সুতরাং তোমরা দৃঢ়পদ থাক এবং যারা সত্য সম্পর্কে অজ্ঞ কিছুতেই তাদের অনুসরণ করো না।
৯০

وَجٰوَزۡنَا بِبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ الۡبَحۡرَ فَاَتۡبَعَہُمۡ فِرۡعَوۡنُ وَجُنُوۡدُہٗ بَغۡیًا وَّعَدۡوًا ؕ حَتّٰۤی اِذَاۤ اَدۡرَکَہُ الۡغَرَقُ ۙ قَالَ اٰمَنۡتُ اَنَّہٗ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا الَّذِیۡۤ اٰمَنَتۡ بِہٖ بَنُوۡۤا اِسۡرَآءِیۡلَ وَاَنَا مِنَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ٩۰

ওয়া জাওয়াঝনা-ব্বিানীইছরাঈলাল বাহরা ফাআতবা‘আহুম ফির‘আওনুওয়াজুনূদুহূ বাগইয়াওঁ ওয়া ‘আদওয়ান হাত্তা ইযা-আদরাকাহুল গারাকু কা-লা আ-মানতু আন্নাহূলাইলা-হা ইল্লাল্লাযী আ-মানত বিহী বানূ ইছরাঈলা ওয়া আনা-মিনাল মুছলিমীন।

আমি বনী ইসরাঈলকে সাগর পার করিয়ে দিলাম। তখন ফির‘আউন ও তার বাহিনী জুলুম ও সীমালংঘনের উদ্দেশ্যে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল। পরিশেষে যখন সে ডুবে মারা যাচ্ছিল, তখন বলতে লাগল, আমি স্বীকার করলাম, বনী ইসরাঈল যেই আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে তিনি ছাড়া কোনও মাবুদ নেই এবং আমিও আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
৯১

آٰلۡـٰٔنَ وَقَدۡ عَصَیۡتَ قَبۡلُ وَکُنۡتَ مِنَ الۡمُفۡسِدِیۡنَ ٩١

আলআ-না ওয়া কাদ ‘আসাইতা কাবলুওয়া কুনতা মিনাল মুফছিদীন।

(উত্তর দেওয়া হল) এখন (ঈমান আনছ)? অথচ এর আগে অবাধ্যতা করেছ এবং ক্রমাগত অশান্তি সৃষ্টি করতে থেকেছ।
৯২

فَالۡیَوۡمَ نُنَجِّیۡکَ بِبَدَنِکَ لِتَکُوۡنَ لِمَنۡ خَلۡفَکَ اٰیَۃً ؕ  وَاِنَّ کَثِیۡرًا مِّنَ النَّاسِ عَنۡ اٰیٰتِنَا لَغٰفِلُوۡنَ ٪ ٩٢

ফালইয়াওমা নুনাজজীকা ব্বিাদানিকা লিতাকূনা লিমান খালফাকা আ-য়াতাওঁ ওয়া ইন্না কাছীরাম মিনান না-ছি ‘আন আ-য়া-তিনা-লাগা-ফিলূন।

সুতরাং আজ আমি তোমার (কেবল) দেহটি বাঁচাব, যাতে তুমি তোমার পরবর্তী কালের মানুষের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক। ৪৭ (কেননা) আমার নিদর্শন সম্পর্কে বহু লোক গাফেল হয়ে আছে।

তাফসীরঃ

৪৭. আল্লাহ তাআলার নীতি হল, যখন তাঁর আযাব কারও মাথার উপর এসে যায় এবং সে তা নিজ চোখে দেখতে পায় কিংবা কারও যখন মৃত্যু যন্ত্রণা শুরু হয়ে যায়, তখন তাওবার দুয়ার বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে সময় ঈমান আনলে তা গৃহীত হয় না। কাজেই ফির‘আউনের জন্য এখন আর শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনও উপায় ছিল না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তার লাশটি রক্ষা করলেন। তার লাশ সাগরের তলদেশে না গিয়ে পানির উপর ভাসতে থাকল, যাতে সকলে তাকে দেখতে পায়। এতটুকু বিষয় তো এ আয়াতে পরিষ্কার। আধুনিক কালের ঐতিহাসিকদের অনুসন্ধান ও গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, হযরত মূসা আলাইহিস সালামের আমলে যে ফির‘আউন ছিল তার নাম ছিল মিনিফতাহ এবং তার লাশটিও নিখুঁতভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। কায়রোর যাদুঘরে এখনও পর্যন্ত সে লাশ সংরক্ষিত আছে এবং তা মানুষের শিক্ষা গ্রহণের জন্য এক বিরাট নিদর্শন হয়ে আছে। এ গবেষণা সঠিক হলে এটা কুরআন মাজীদের সত্যতার যেন এক সবাক প্রমাণ। কেননা এ আয়াত যখন নাযিল হয়েছে তখন কারও জানা ছিল না যে, ফির‘আউনের লাশ এখনও সংরক্ষিত আছে। বৈজ্ঞানিকভাবে এটা উদঘাটিত হয়েছে তার বহুকাল পরে।
৯৩

وَلَقَدۡ بَوَّاۡنَا بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ مُبَوَّاَ صِدۡقٍ وَّرَزَقۡنٰہُمۡ مِّنَ الطَّیِّبٰتِ ۚ فَمَا اخۡتَلَفُوۡا حَتّٰی جَآءَہُمُ الۡعِلۡمُ ؕ اِنَّ رَبَّکَ یَقۡضِیۡ بَیۡنَہُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ فِیۡمَا کَانُوۡا فِیۡہِ یَخۡتَلِفُوۡنَ ٩٣

ওয়া লাকাদ বাওওয়া’না-বানীইছরাঈলা মুবাওওয়াআ সিদকিওঁ ওয়া-রাঝাকনা-হুম মিনাততাইয়িবা-তি ফামাখ তালাফূহাত্তা-জাআহুমুল ‘ইলমু ইন্না রাব্বাকা ইয়াকদী বাইনাহুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ফীমা-কা-নূফীহি ইয়াখতালিফূন।

আমি বনী ইসরাঈলকে যথার্থভাবে বসবাসের উপযুক্ত এক স্থানে বসবাস করালাম এবং তাদেরকে উত্তম রিযক দান করলাম। অতঃপর তারা (সত্য দীন সম্পর্কে) ততক্ষণ পর্যন্ত মতভেদ সৃষ্টি করেনি, যতক্ষণ না তাদের কাছে জ্ঞান এসে পৌঁছেছে। ৪৮ নিশ্চয়ই তারা যেসব বিষয়ে মতভেদ করত কিয়ামতের দিন তোমার প্রতিপালক তাদের মধ্যে তার মীমাংসা করে দিবেন।

তাফসীরঃ

৪৮. অর্থাৎ বনী ইসরাঈলের আকীদা-বিশ্বাস একটা কাল পর্যন্ত সত্য দীন মোতাবেকই ছিল। তাওরাত ও ইনজীলে শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাব সম্পর্কে যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, সে অনুযায়ী তাঁরাও তার আগমনে বিশ্বাসী ছিল। কিন্তু আসমানী কিতাবসমূহে বর্ণিত নিদর্শনাবলী দ্বারা যখন জানা গেল হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই সেই নবী, তখন তারা বিদ্বেষবশত সত্য দীনের বিরোধিতা শুরু করে দিল।
৯৪

فَاِنۡ کُنۡتَ فِیۡ شَکٍّ مِّمَّاۤ اَنۡزَلۡنَاۤ اِلَیۡکَ فَسۡـَٔلِ الَّذِیۡنَ یَقۡرَءُوۡنَ الۡکِتٰبَ مِنۡ قَبۡلِکَ ۚ  لَقَدۡ جَآءَکَ الۡحَقُّ مِنۡ رَّبِّکَ فَلَا تَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡمُمۡتَرِیۡنَ ۙ ٩٤

ফাইন কুনতা ফী শাক্কিম মিম্মা আনঝালনা ইলাইকা ফাছআলিল্লাযীনা ইয়াকরাঊনাল কিতাবা মিন কাবলিকা লাকাদ জাআকাল হাক্কুমির রাব্বিকা ফালা-তাকূনান্না মিনাল মুমতারীন।

(হে নবী!) আমি তোমার প্রতি যে বাণী নাযিল করেছি সে সম্বন্ধে তোমার যদি বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে (যদিও তা থাকা কখনও সম্ভব নয়), তবে তোমার পূর্বের (আসমানী) কিতাব যারা পাঠ করে তাদেরকে জিজ্ঞেস কর। নিশ্চয়ই তোমার কাছে তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে সত্যই এসেছে। সুতরাং তুমি কখনও সন্দেহ পোষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। ৪৯

তাফসীরঃ

৪৯. এ আয়াতে বাহ্যত যদিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে কথা বলা হয়েছে, কিন্তু এটা তো সুস্পষ্ট যে, কুরআন মাজীদের সত্যতা সম্পর্কে তাঁর কোনও সন্দেহ থাকতে পারে না। সুতরাং প্রকৃতপক্ষে এর দ্বারা অন্যদেরকে বলা উদ্দেশ্য যে, তাঁকেই যখন সতর্ক করা হচ্ছে, তখন অন্যদের তো অনেক বেশি সতর্ক হওয়া উচিত।
৯৫

وَلَا تَکُوۡنَنَّ مِنَ الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِ اللّٰہِ فَتَکُوۡنَ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ ٩٥

ওয়ালা-তাকূনান্না মিনাল্লাযীনা কাযযাবূবিআ-য়া-তিল্লা-হি ফাতাকূনা মিনাল খা-ছিরীন।

এবং তুমি সেই সকল লোকেরও অন্তর্ভুক্ত হয়ো না, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে, অন্যথায় তুমি লোকসানগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
৯৬

اِنَّ الَّذِیۡنَ حَقَّتۡ عَلَیۡہِمۡ کَلِمَتُ رَبِّکَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ۙ ٩٦

ইন্নাল্লাযীনা হাক্কাত ‘আলাইহিম কালিমাতুরাব্বিকা লা-ইউ’মিনূন।

নিশ্চয়ই যাদের সম্পর্কে তোমার প্রতিপালকের বাণী সাব্যস্ত হয়ে গেছে। তারা ঈমান আনবে না।
৯৭

وَلَوۡ جَآءَتۡہُمۡ کُلُّ اٰیَۃٍ حَتّٰی یَرَوُا الۡعَذَابَ الۡاَلِیۡمَ ٩٧

ওয়ালাও জাআতহুম কুল্লুআ-য়াতিন হাত্তা-ইয়ারাউল ‘আযা-বাল আলীম।

যদিও তাদের সামনে সর্ব প্রকার নিদর্শন এসে যায়, যাবৎ না তারা যন্ত্রণাময় শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে।
৯৮

فَلَوۡلَا کَانَتۡ قَرۡیَۃٌ اٰمَنَتۡ فَنَفَعَہَاۤ اِیۡمَانُہَاۤ اِلَّا قَوۡمَ یُوۡنُسَ ؕ لَمَّاۤ اٰمَنُوۡا کَشَفۡنَا عَنۡہُمۡ عَذَابَ الۡخِزۡیِ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَمَتَّعۡنٰہُمۡ اِلٰی حِیۡنٍ ٩٨

ফালাওলা-কা-নাত কারইয়াতুন আ-মানাত ফানাফ‘আহাঈমা-নুহা ইল্লা-কাওমা ইঊনুছা লাম্মা আ-মানূকাশাফনা-‘আনহুম ‘আযা-বাল খিঝয়ি ফিল হায়া-তিদদুনইয়াওয়ামাত্তা‘না-হুম ইলা-হীন।

তবে কোন জনপদ এমন কেন হল না যে, তারা এমন এক সময় ঈমান আনত, যখন ঈমান তাদের উপকার করতে পারত? অবশ্য ইউনুসের কওম এ রকম ছিল। ৫০ তারা যখন ঈমান আনল তখন পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনাকর শাস্তি তাদের থেকে তুলে নিলাম এবং তাদেরকে কিছুকাল পর্যন্ত জীবন ভোগ করতে দিলাম।

তাফসীরঃ

৫০. পূর্বের আয়াতসমূহে বলা হয়েছিল যে, কারও ঈমান কেবল তখনই উপকারে আসে, যখন সে মৃত্যুর আগে আল্লাহর আযাব প্রত্যক্ষ করার পূর্বেই ঈমান আনে। আযাব এসে যাওয়ার পর ঈমান আনলে তা কাজে আসে না। এ মূলনীতি অনুসারে আল্লাহ তাআলা বলছেন, পূর্বে যত জাতির উপর আযাব এসেছে, তারা কেউ আযাব আসার আগে ঈমান আনেনি, যে কারণে তারা আযাবের শিকার হয়েছে। অবশ্য ইউনুস আলাইহিস সালামের কওম ছিল এর ব্যতিক্রম। তারা আযাব নাযিল হওয়ার পূর্বক্ষণে ঈমান এনেছিল। তাই তাদের ঈমান কবুল হয় এবং সে কারণে আসন্ন শাস্তি তাদের থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের ঘটনা ছিল এ রকম যে, তিনি নিজ সম্প্রদায়কে শাস্তির ভবিষ্যদ্বাণী শুনিয়ে জনপদ থেকে চলে গিয়েছিলেন। তাঁর চলে যাওয়ার পর সম্প্রদায়ের লোক এমন কিছু আলামত দেখতে পেল যদ্দরুণ তাদের বিশ্বাস হয়ে যায় যে, হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম যে ব্যাপারে সাবধান করেছিলেন তা সত্য। সুতরাং আযাব আসার আগেই তারা সকলেই ঈমান এনে ফেলে। ইনশাআল্লাহ তাআলা হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের ঘটনা বিস্তারিতভাবে সূরা সাফফাতে আসবে (৩৭ : ১৩৯)। তাছাড়া সূরা আম্বিয়া (২১ : ৮৭) ও সূরা কলামে (৬৮ : ৪৮) তাঁর ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণিত হবে।
৯৯

وَلَوۡ شَآءَ رَبُّکَ لَاٰمَنَ مَنۡ فِی الۡاَرۡضِ کُلُّہُمۡ جَمِیۡعًا ؕ اَفَاَنۡتَ تُکۡرِہُ النَّاسَ حَتّٰی یَکُوۡنُوۡا مُؤۡمِنِیۡنَ ٩٩

ওয়ালাও শাআ রাব্বুকা লাআ-মানা মান ফিল আরদিকুল্লুহুম জামী‘আন আফাআনতা তুকরিহুন্না-ছা হাত্তা-ইয়াকূনূমু’মিনীন।

আল্লাহ ইচ্ছা করলে ভূ-পৃষ্ঠে বসবাসকারী সকলেই ঈমান আনত। ৫১ তবে কি তুমি মানুষের উপর চাপ প্রয়োগ করবে, যাতে তারা সকলে মুমিন হয়ে যায়?

তাফসীরঃ

৫১. অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা জবরদস্তিমূলক সকলকে মুমিন বানাতে পারতেন। কিন্তু দুনিয়া যেহেতু পরীক্ষার স্থান এবং সে হিসেবে প্রত্যেকের ব্যাপারে কাম্য সে স্বেচ্ছায়, স্বাধীনভাবে ঈমান আনয়ন করুক, তাই কাউকে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মুসলিম বানানো আল্লাহ তাআলার নীতি নয় এবং অন্য কারও জন্যও এটা জায়েয নয়।
১০০

وَمَا کَانَ لِنَفۡسٍ اَنۡ تُؤۡمِنَ اِلَّا بِاِذۡنِ اللّٰہِ ؕ وَیَجۡعَلُ الرِّجۡسَ عَلَی الَّذِیۡنَ لَا یَعۡقِلُوۡنَ ١۰۰

ওয়া মা-কা-না লিনাফছিন আন তু’মিনা ইল্লা-বিইযনিল্লা-হি ওয়া ইয়াজ‘আলুর রিজছা ‘আলাল্লাযীনা লা-ইয়া‘কিলূন।

এটা কারও পক্ষেই সম্ভব নয় যে, আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিরেকে মুমিন হয়ে যাবে। যারা তাদের বুদ্ধি কাজে লাগায় না আল্লাহ তাদের উপর কলুষ চাপিয়ে দেন। ৫২

তাফসীরঃ

৫২. আল্লাহ তাআলার হুকুম ছাড়া বিশ্ব জগতের কোথাও কিছু হতে পারে না। সুতরাং তার হুকুম ছাড়া কারও পক্ষে ঈমান আনাও সম্ভব নয়। তবে আল্লাহ তাআলা ঈমান আনার তাওফীক তাকেই দেন, যে নিজ বুদ্ধি-বিবেচনাকে কাজে লাগিয়ে ঈমান আনতে চেষ্টা করে। যে ব্যক্তি বুদ্ধি-বিবেচনাকে কাজে লাগায় না তার উপর কুফুরের কলুষ চাপিয়ে দেওয়া হয়।
১০১

قُلِ انۡظُرُوۡا مَاذَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ وَمَا تُغۡنِی الۡاٰیٰتُ وَالنُّذُرُ عَنۡ قَوۡمٍ لَّا یُؤۡمِنُوۡنَ ١۰١

কুলিনজু রূ মা-যা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়া মা-তুগনিল আ-য়া-তু ওয়াননুযুরু ‘আন কাওমিল লা-ইউ’মিনূন।

(হে নবী!) তাদেরকে বল, লক্ষ করে দেখ আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে কি কি জিনিস আছে? ৫৩ কিন্তু যে সব লোক ঈমান আনার নয়, (আসমান ও যমীনে বিরাজমান) নিদর্শনাবলী ও সতর্ককারী (নবী)গণ তাদের কোনও কাজে আসে না।

তাফসীরঃ

৫৩. সৃষ্টি জগতের যে-কোনও বস্তুর উপর ন্যায়নিষ্ঠতার সাথে দৃষ্টিপাত করলে তার ভেতর আল্লাহ তাআলার কুদরত ও হিকমতের পরিচয় পাওয়া যাবে। তা সাক্ষ্য দেবে, এই মহা বিস্ময়কর কারখানা আপনা-আপনি অস্তিত্ব লাভ করেনি; বরং আল্লাহ তাআলাই তাকে সৃষ্টি করেছেন। কেবল কি এতটুকু? বরং এর দ্বারা আরও বুঝে আসে যে, যেই সত্তা এত বড় জগত সৃষ্টি করতে সক্ষম তাঁর কোনও রকম শরীক ও সাহায্যকারীর কোনও প্রয়োজন নেই। সুতরাং আল্লাহ আছেন এবং তিনি এক তাঁর কোনও শরীক নেই। اس آئنه خانے ميں سبھى عكس هے تيرے اس آئنه خانے ميں تو يكتا هى رهےگا ‘এই আয়নাঘরে সবই তোমার প্রতিচ্ছবি। এ আয়নাঘরে তুমি একাকই থাকবে চিরকাল।’
১০২

فَہَلۡ یَنۡتَظِرُوۡنَ اِلَّا مِثۡلَ اَیَّامِ الَّذِیۡنَ خَلَوۡا مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ؕ قُلۡ فَانۡتَظِرُوۡۤا اِنِّیۡ مَعَکُمۡ مِّنَ الۡمُنۡتَظِرِیۡنَ ١۰٢

ফাহাল ইয়ানতাজিরূনা ইল্লা-মিছলা আইইয়া-মিল্লাযীনা খালাও মিন কাবলিহিম কুল ফানতাজিরূ ইন্নী মা‘আকুম মিনাল মুনতাজিরীন।

তবে কি (ঈমান আনার জন্য) তারা তাদের পূর্বের লোকে যে রকম দিন প্রত্যক্ষ করেছিল, সে রকম দিনের অপেক্ষা করছে? বলে দাও, তাহলে তোমরা অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সঙ্গে অপেক্ষারত আছি।
১০৩

ثُمَّ نُنَجِّیۡ رُسُلَنَا وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا کَذٰلِکَ ۚ  حَقًّا عَلَیۡنَا نُنۡجِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ٪ ١۰٣

ছুম্মা নুনাজ্জী রুছুলানা-ওয়াল্লাযীনা আ-মানূ কাযা-লিকা হাক্কান ‘আলাইনা-নুনজিল মু’মিনীন।

অতঃপর (যখন আযাব আসে) আমি আমার রাসূলগণকে এবং যারা ঈমান আনে তাদেরকে রক্ষা করি। এভাবেই আমি আমার দায়িত্বে রেখেছি যে, আমি (অপরাপর) মুমিনগণকে রক্ষা করব।
১০৪

قُلۡ یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اِنۡ کُنۡتُمۡ فِیۡ شَکٍّ مِّنۡ دِیۡنِیۡ فَلَاۤ اَعۡبُدُ الَّذِیۡنَ تَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ وَلٰکِنۡ اَعۡبُدُ اللّٰہَ الَّذِیۡ یَتَوَفّٰىکُمۡ ۚۖ  وَاُمِرۡتُ اَنۡ اَکُوۡنَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۙ ١۰٤

কুল ইয়া আইয়ুহান্না-ছুইন কুনতুম ফী শাক্কিম মিন দীনী ফালা-আ‘বুদুল্লাযীনা তা‘বুদূ না মিন দূ নিল্লা-হি ওয়ালা-কিন আ‘বুদুল্লা-হা ল্লাযী ইয়াতাওয়াফফা-কুম ওয়া উমিরতুআন আকূনা মিনাল মু’মিনীন।

(হে নবী!) তাদেরকে বল, হে মানুষ! তোমরা যদি আমার দীন সম্পর্কে কোনও সন্দেহে থাক, তবে (শুনে রাখ) তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদত কর আমি তাদের ইবাদত করি না; বরং আমি আল্লাহর ইবাদত করি, যিনি তোমাদের প্রাণ সংহার করেন। ৫৪ আর আমাকে হুকুম দেওয়া হয়েছে, আমি যেন মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত থাকি।

তাফসীরঃ

৫৪. অর্থাৎ আমি আল্লাহর ইবাদত এজন্য করি যে, প্রাণ সংহারসহ সব রকম উপকার ও অপকার করার ক্ষমতা কেবল তাঁরই আছে। কাজেই যে দীন সেই আল্লাহর ইবাদত করতে শেখায় তার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সন্দেহ করা উচিত নয়। বরং তোমাদের নিজেদের সম্পর্কেই তোমাদের সন্দিহান থাকা উচিত, যেহেতু তা তোমাদেরকে এমন দেব-দেবীর পূজা-অর্চনায় লিপ্ত করছে, যাদের কোনো উপকার-অপকার করার ক্ষমতা নেই। আর তা নেই বলেই আমি তাদের ইবাদত করি না। -অনুবাদক
১০৫

وَاَنۡ اَقِمۡ وَجۡہَکَ لِلدِّیۡنِ حَنِیۡفًا ۚ وَلَا تَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ ١۰٥

ওয়া আন আকিম ওয়াজহাকা লিদ্দীনি হানীফাওঁ ওয়ালা-তাকূনান্না মিনাল মুশরিকীন।

এবং (আমাকে) এই (বলা হয়েছে) যে, তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজ চেহারাকে এই দীনের দিকেই কায়েম রাখবে এবং কিছুতেই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
১০৬

وَلَا تَدۡعُ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَا لَا یَنۡفَعُکَ وَلَا یَضُرُّکَ ۚ فَاِنۡ فَعَلۡتَ فَاِنَّکَ اِذًا مِّنَ الظّٰلِمِیۡنَ ١۰٦

ওয়ালা-তাদ‘উ মিন দূ নিল্লা-হি মা-লা-ইয়ানফা‘উকা ওয়ালা-ইয়াদুররুকা ফাইন ফা‘আলতা ফাইন্নাকা ইযাম মিনাজ্জা-লিমীন।

আল্লাহ তাআলাকে ছেড়ে এমন কাউকে (অর্থাৎ মনগড়া মাবুদকে) ডাকবে না, যা তোমার কোনও উপকারও করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারে না। তারপরও যদি তুমি এরূপ কর (যদিও তোমার পক্ষে তা করা অসম্ভব), তবে তুমি জালেমদের মধ্যে গণ্য হবে।
১০৭

وَاِنۡ یَّمۡسَسۡکَ اللّٰہُ بِضُرٍّ فَلَا کَاشِفَ لَہٗۤ اِلَّا ہُوَ ۚ وَاِنۡ یُّرِدۡکَ بِخَیۡرٍ فَلَا رَآدَّ لِفَضۡلِہٖ ؕ یُصِیۡبُ بِہٖ مَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِہٖ ؕ وَہُوَ الۡغَفُوۡرُ الرَّحِیۡمُ ١۰٧

ওয়াইয়ঁইয়ামছাছকাল্লা-হু বিদুররিন ফালা-কা-শিফা লাহূ ইল্লা-হুওয়া ওয়া ইয়ঁ ইউরিদকা বিখাইরিন ফালা-রাদ্দা লিফাদলিহী ইউসীবুবিহী মাইঁ ইয়াশাউ মিন ‘ইবাদিহী ওয়া হুওয়াল গাফূরুর রাহীম।

আল্লাহ যদি তোমাকে কোনও কষ্ট দান করেন, তবে তিনি ছাড়া এমন কেউ নেই, যে তা দূর করবে এবং তিনি যদি তোমার কোনও মঙ্গল করার ইচ্ছা করেন, তবে এমন কেউ নেই, যে তার অনুগ্রহ রদ করবে। তিনি নিজ বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ দান করেন। তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
১০৮

قُلۡ یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ قَدۡ جَآءَکُمُ الۡحَقُّ مِنۡ رَّبِّکُمۡ ۚ  فَمَنِ اہۡتَدٰی فَاِنَّمَا یَہۡتَدِیۡ لِنَفۡسِہٖ ۚ  وَمَنۡ ضَلَّ فَاِنَّمَا یَضِلُّ عَلَیۡہَا ۚ  وَمَاۤ اَنَا عَلَیۡکُمۡ بِوَکِیۡلٍ ؕ ١۰٨

কুল ইয়াআইয়ুহান্না-ছুকাদ জাআকুমুল হাক্কুমির রাব্বিকুম ফামানিহতাদাফাইন্নামা-ইয়াহতাদী লিনাফছিহী ওয়া মান দাল্লা ফাইন্নামা-ইয়াদিল্লু‘আলাইহা- ওয়ামাআনা-‘আলাইকুম বিওয়াকীল।

(হে নবী!) বলে দাও, হে লোক সকল! তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্য এসে গেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি হিদায়াতের পথ অবলম্বন করবে, সে তা অবলম্বন করবে নিজেরই মঙ্গলের জন্য আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্টতা অবলম্বন করবে, তার পথভ্রষ্টতার ক্ষতি তার নিজেরই ভোগ করতে হবে। আমি তোমাদের কার্যাবলীর যিম্মাদার নই। ৫৫

তাফসীরঃ

৫৫. অর্থাৎ, আমার কাজ দাওয়াত ও প্রচারকার্য। মানা-না মানা তোমাদের কাজ। তোমাদের কুফর ও দুষ্কর্মের জন্য আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না।
১০৯

وَاتَّبِعۡ مَا یُوۡحٰۤی اِلَیۡکَ وَاصۡبِرۡ حَتّٰی یَحۡکُمَ اللّٰہُ ۚۖ  وَہُوَ خَیۡرُ الۡحٰکِمِیۡنَ ٪ ١۰٩

ওয়াত্তাবি‘ মা ইঊহাইলাইকা ওয়াসবির হাত্তা-ইয়াহকুমাল্লা-হু ওয়া হুওয়া খাইরুল হা-কিমীন।

তোমার কাছে যে ওহী পাঠানো হচ্ছে, তুমি তার অনুসরণ করো এবং ধৈর্যধারণ করো, যে পর্যন্ত না আল্লাহ মীমাংসা করে দেন ৫৬ এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ মীমাংসাকারী।

তাফসীরঃ

৫৬. মক্কী জীবনে নির্দেশ ছিল কাফেরদের পক্ষ হতে যতই কষ্ট দেওয়া হোক তাতে সবর করতে হবে। তখন প্রতিশোধ নেওয়ার অনুমতি ছিল না। এ আয়াতে সেই হুকুমই দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে যে,কাফেরদের ফায়সালা আল্লাহ তাআলার উপর ছেড়ে দাও। তিনি তাদের ব্যাপারে উপযুক্ত ফায়সালা করবেন। চাইলে তিনি দুনিয়ায়ই তাদেরকে শাস্তি দিবেন এবং চাইলে আখেরাতে শাস্তি দেবেন। এমনও হতে পারে যে, তিনি জিহাদের অনুমতি দিয়ে দিবেন, যাতে মুসলিমগণ নিজ হাতে তাদের জুলুমের প্রতিশোধ নিতে পারে।
সূরা ইউনুস | মুসলিম বাংলা