সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল কাফিরুন (الـكافرون) | অবিশ্বাসী গোষ্ঠী

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৬

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

قُلۡ یٰۤاَیُّہَا الۡکٰفِرُوۡنَ ۙ ١

কুল ইয়াআইয়ুহাল কা-ফিরূন।

বলে দাও, হে সত্য-অস্বীকারকারীগণ!

لَاۤ اَعۡبُدُ مَا تَعۡبُدُوۡنَ ۙ ٢

লাআ‘বুদুমা-তা‘বুদূন।

আমি সেই সব বস্তুর ইবাদত করি না, যাদের ইবাদত তোমরা কর,

وَلَاۤ اَنۡتُمۡ عٰبِدُوۡنَ مَاۤ اَعۡبُدُ ۚ ٣

ওয়ালাআনতুম ‘আ-বিদূনা মাআ‘বুদ।

এবং তোমরা তাঁর ইবাদত কর না যার ইবাদত আমি করি।

وَلَاۤ اَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدۡتُّمۡ ۙ ٤

ওয়ালাআনা ‘আ-বিদুম মা-‘আবাত্তুম,

এবং আমি (ভবিষ্যতে) তার ইবাদতকারী নই, যার ইবাদত তোমরা কর।

وَلَاۤ اَنۡتُمۡ عٰبِدُوۡنَ مَاۤ اَعۡبُدُ ؕ ٥

ওয়ালাআনতুম ‘আ-বিদূনা মাআ‘বুদ।

এবং তোমরাও তার ইবাদতকারী নও, যার ইবাদত আমি করি।

لَکُمۡ دِیۡنُکُمۡ وَلِیَ دِیۡنِ ٪ ٦

লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়া দীন।

তোমাদের জন্য তোমাদের দীন এবং আমার জন্য আমার দীন।

তাফসীরঃ

১. এ সূরাটি নাযিল হওয়ার পটভূমি এই যে, ওয়ালীদ ইবনে মুগীরা, আস ইবনে ওয়াইল প্রমূখ মক্কার কাফের নেতৃবৃন্দ একবার মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এই সমঝোতা প্রস্তাব পেশ করল যে, এক বছর আপনি আমাদের উপাস্যদের ইবাদত করুন, পরের বছর আমরা আপনার মাবুদের ইবাদত করব। অন্য কিছু লোকও এ জাতীয় আরও কিছু প্রস্তাব রেখেছিল, সবগুলো প্রস্তাবের সারকথা ছিল এটাই যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে-কোনভাবে কাফেরদের রীতি অনুযায়ী ইবাদত করতে রাজি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ সূরাটি নাযিল হয় এবং এতে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলে দেওয়া হয় যে, কুফর ও ঈমান সম্পূর্ণ আলাদা দুটো জিনিস। তার মধ্যে এ রকম কোন মীমাংসা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়, যা দ্বারা সত্য-মিথ্যার প্রভেদ ঘুচে যাবে এবং সত্য দীনের সাথে কুফর ও শিরকের মিশ্রণ ঘটে যাবে। হ্যাঁ, তোমরা যদি সত্য কবুল করতে প্রস্তুত না হও, তবে ঠিক আছে, নিজেদের ভ্রান্ত ধর্ম মতে কাজ করতে থাক। যার পরিণাম একদিন তোমাদেরকে ভোগ করতে হবে। আর আমিও আমার নিজ দীনের অনুসরণ করে যাব, যার দায়-দায়িত্ব আমার নিজের। এর দ্বারা বোঝা গেল, অমুসলিমদের সাথে এমন কোন চুক্তি জায়েয নয়, যার ফলে তাদের ধর্মীয় কোন রীতি-রেওয়াজ গ্রহণ করতে হয়। হ্যাঁ নিজ দীনের উপর পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত থেকে তাদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি হতে পারে, যেমন সূরা আনফালে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে (৮ : ৬১)। [‘তোমাদের জন্য তোমাদের দীন এবং আমার জন্য আমার দীন’ একথার দ্বারা কুফরের অনুমোদন দেওয়া হয়নি এবং দাওয়াত ও জিহাদকেও নিষিদ্ধ করা হয়নি; বরং তারা যে সমঝোতার প্রস্তাব করেছিল সেটাকেই সম্পূর্ণরূপে নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, তোমাদের দীন কুফর ও শিরকের আর আমার দীন তাওহীদের। এ দুয়ের মধ্যে সমঝোতা সম্ভব নয়। বরং তোমাদের কর্তব্য ওই ভ্রান্ত ধর্ম ত্যাগ করে সত্যের ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করা। তা করতে যদি প্রস্তুত না হও, তবে থাক তোমাদের ধর্ম নিয়ে, কিন্তু মনে রেখ সেজন্য তোমাদেরকে খেসারতও দিতে হবে। কেননা আমি তো আমার সত্য ধর্ম নিয়েই থাকব। আর এটা যেহেতু সার্বজনীন দীন, তাই আমার ও এর অনুসারীদের কর্তব্য বিশ্বব্যাপী এর প্রচার করা এবং যারা তাতে বাধা দেবে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা। তাতে আল্লাহ তাঁর দীনকে জয়যুক্ত করবেন এবং বিরুদ্ধবাদীদেরকে করবেন পর্যুদস্ত। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাওয়াত ও জিহাদী কার্যক্রম চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত মক্কা বিজয় হয় এবং যারা বিরুদ্ধাচরণে জিদ ধরে থাকে তারা ধ্বংস হয়। পরবর্তীকালে সাহাবায়ে কিরামও বিশ্বব্যাপী এ দীনের দাওয়াত ও জিহাদী কার্যক্রম পরিচালনা করেন। আয়াতের আরেক অর্থ হতে পারে তোমাদের কর্মফল তোমাদের ভোগ করতে হবে এবং আমার কর্মফল আমি ভোগ করব। কাজেই যদি আমার দাওয়াতে ইসলাম গ্রহণ না কর তবে তার অশুভ পরিণামের জন্য তোমরা প্রস্তুত থাক। তা দুনিয়ায়ও ভোগ করতে হতে পারে আর আখিরাতে তো অবশ্যই। সুতরাং ‘যার ধর্ম তার’ বা ‘ধর্ম প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ব্যাপার, এ নিয়ে দাওয়াতদাতা, আলেম-উলামা বা রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই’ এ জাতীয় বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য প্রসঙ্গে এ আয়াতকে টেনে আনলে নিঃসন্দেহে তা হবে আয়াতটির স্স্পুষ্ট অপব্যাখ্যা ও অপপ্রয়োগ। আল্লাহ তাআলা হেফাজত করুন। -অনুবাদক]
সূরা আল কাফিরুন | মুসলিম বাংলা