সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল আছর (الـعصر) | সময়

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৩

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

وَالۡعَصۡرِ ۙ ١

ওয়াল ‘আসর।

কালের শপথ!

তাফসীরঃ

১. অর্থাৎ কালের ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যারা ঈমান ও সৎকর্ম থেকে বঞ্চিত থাকে, তারা মহা ক্ষতিগ্রস্ত। কেননা এ রকম বহু জাতিকে দুনিয়াতেই আসমানী আযাবের সম্মুখীন হতে হয়েছে। তাছাড়া প্রত্যেক যুগে আল্লাহ তাআলার নাযিলকৃত কিতাব ও তাঁর প্রেরিত নবীগণ মানুষকে সতর্ক করেছেন যে, যদি ঈমান ও সৎকর্ম অবলম্বন না করা হয়, তবে আখেরাতের কঠিন শাস্তি মানুষের জন্য অপেক্ষা করছে।

اِنَّ الۡاِنۡسَانَ لَفِیۡ خُسۡرٍ ۙ ٢

ইন্নাল ইনছা-না লাফী খুছর।

বস্তুত মানুষ অতি ক্ষতির মধ্যে আছে।

তাফসীরঃ

২. এ আয়াত শিক্ষা দিচ্ছে আখেরাতের মুক্তির জন্য কেবল নিজেকে শোধরানোই যথেষ্ট নয়। বরং নিজ-নিজ প্রভাব বলয়ের ভেতর অন্যদেরকে সত্য-সঠিক বিষয়ে তাগিদ করা ও সবর অবলম্বন করতে উপদেশ দেওয়াও জরুরি। পূর্বেও কয়েক জায়গায় বলা হয়েছে যে, ‘সবর’ কুরআন মাজীদের একটি পরিভাষা। এর অর্থ হল, যখন মানুষের মনের চাহিদা ও কামনা-বাসনা তাকে কোন ফরয কাজ আদায় থেকে বিরত রাখতে চায়, কিংবা কোন গুনাহের কাজে লিপ্ত হতে উৎসাহ যোগায়, তখন মনের সে ইচ্ছাকে দমন করা আর যখন কোন অনাকাঙ্খিত বিষয় সামনে এসে যায়, তখন আল্লাহ তাআলার ফায়সালায় খুশী থাকা ও সে সম্পর্কে কোন রকম অভিযোগ তোলা হতে নিজেকে বিরত রাখা। অবশ্য তাকদীর সম্পর্কে অভিযোগ না তুলে সেই অনাকাঙ্খিত বিষয় থেকে মুক্তি লাভের চেষ্টা করা এবং বৈধতার সীমার ভেতর থেকে সেজন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা সবরের পরিপন্থী নয়। এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার জন্য সূরা আলে-ইমরানের শেষ আয়াতের টীকা দেখুন। করাচি। ১২ই রমযানুল মোবারক ১৪২৯ হিজরী (অনুবাদ শেষ হল আজ ২৮ শে মহররম ১৪৩২ হিজরী মোতাবেক ৪ঠা জানুয়ারি ২০১১ খ্রি.)।

اِلَّا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَتَوَاصَوۡا بِالۡحَقِّ ۬ۙ  وَتَوَاصَوۡا بِالصَّبۡرِ ٪ ٣

ইল্লাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ওয়া তাওয়া-সাওবিল হাক্কি ওয়া তাওয়া-সাও বিসসাবরি।

তারা ব্যতীত, যারা ঈমান আনে, সৎকর্ম করে এবং একে অন্যকে সত্যের উপদেশ দেয় ও একে অন্যকে সবরের উপদেশ দেয়।