যাকাতের মাসাইল
প্রশ্নঃ ৩৩১১১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার প্রায় ৯ ভরির মত গোল্ড আছে যা আমি বিয়ের সময় পেয়েছি। ২০২১সাল থেকে আমার উপর যাকাত ফরজ। আমি বর্তমানে কোনো চাকরি করছি না( চাকরির পড়ালেখা করছি,আমি একজন ডাক্তার)। আমার হাজবেন্ড এর ইনকাম ও লিমিটেড যা দিয়ে সংসার চালাতেই কিছুটা হিমশিম খেতে হয়।এমতাবস্থায় আমি প্রতি বছর পুরোপুরি যাকাত এর টাকা দিতে পারছি না।মাঝে মাঝে ১/২ হাজার করে কিছুটা দেই পরিচিত গরীব মানুষকে।সব হিসাবই আমি লিখে রেখেছি।গোল্ড কিছু যে বিক্রি করে যাকাত পরিশোধ করবো তা পারছি না কারন এগুলো আমার মা,বোন আর শাশুড়ীর দেয়া, তারাও শখ করেই আমাকে দিয়েছেন যা আমার কাছে অনেক মূল্যবান এবং স্মৃতি বিজরিতও বটে। এদিকে যাকাতের টাকা দিতে পারছি না বলেও আমি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মানসিক কষ্ট পাচ্ছি। আমার মনে হচ্ছে এর জন্যই আামার সংসারে আল্লাহর বরকত নাই,ভালো চাকরি পাচ্ছি না। আমার ইচ্ছা ছিলো চাকরি পেলেই যত দ্রুত সম্ভব আগে যাকাত পরিশোধ করবো।বাচ্চা ছোটো বলে হুটহাট চাকরি ও করতে পারছি না।এমতাবস্থায় আমি কি করতে পারি জানালে উপকৃত হতাম। দুঃখিত প্রশ্নটি অনেক বড় হওয়ার জন্য।আশা করবো কোনো রেফারেন্স উত্তর না দিয়ে আমার পরিস্থিতি বুঝে আমাকে একটি সমাধান দিবেন। ধন্যবাদ।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ হচ্ছে যাকাত। সঠিকভাবে যাকাত প্রদান করলে সম্পদ পবিত্র হয়। এটি বিত্তবানদের পরিশুদ্ধ করে, দারিদ্র্য মোচন করে। শরীয়ত অনুমোদিত কোনো কারণ ব্যতীত যাকাত আদায় বিলম্ব করা অন্যায়। আর আপনার এক হাজার দুই হাজার করে যাকাত আদায় করার দ্বারা পূর্ণ যাকাত কখনোই আদায় হবে না। পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব করে যাকাত দেওয়া আবশ্যক।
আর আপনার এই কথা 'গোল্ড কিছু যে বিক্রি করে যাকাত পরিশোধ করবো তা পারছি না কারন এগুলো আমার মা-বোন আর শাশুড়ীর দেয়া, তারাও শখ করেই আমাকে দিয়েছেন যা আমার কাছে অনেক মূল্যবান এবং স্মৃতি বিজরিতও বটে।' আপনার এই ধারণাটাই ঠিক নয়। শখের জিনিস বিক্রি করা যাবে না, এমন ধারনা পরিহারযোগ্য। তাই আপনার যদি অন্য কোনোভাবে যদি যাকাত আদায় করতে না পারেন, তাহলে এখান থেকে কিছু অংশ বিক্রি হলেও যাকাত আদায় করে দেওয়া। যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পর তা আদায়ে বিলম্ব করাও অন্যায়।
হাদিসের বর্ণনায় জাকাত আদায় না করার পরিণতি, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন, কিন্তু সে এর যাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে টাক (বিষের তীব্রতার কারণে) মাথাবিশিষ্ট বিষধর সাপের আকৃতি দিয়ে তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। সাপটি তার মুখের দুই পাশ কামড়ে ধরে বলবে, আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার জমাকৃত সম্পদ।’ (বুখারি, হাদিস : ১৪০৩)
وفي الفتاوى الهندية : وَتَجِبُ عَلَى الْفَوْرِ عِنْدَ تَمَامِ الْحَوْلِ حَتَّى يَأْثَمَ بِتَأْخِيرِهِ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ ، وَفِي رِوَايَةِ الرَّازِيّ عَلَى التَّرَاخِي حَتَّى يَأْثَمَ عِنْدَ الْمَوْتِ ، وَالْأَوَّلُ أَصَحُّ كَذَا فِي التَّهْذِيبِ. (الفتاوى الهندية :5/14)
أَيْ سَبَبُ افْتِرَاضِهَا (مِلْكُ نِصَابٍ حَوْلِيٍّ) (رد المحتار، كتاب الزكاة-3/174، زكريا)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন