নারী নেতৃত্ব
প্রশ্নঃ ১৩৩৯৬০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ইসলামে নারী নেতৃত্ব নিয়ে জানতে চাই
২০ জানুয়ারী, ২০২৬
Dhaka
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ইসলামে পুরুষদেরকে নারীদের উপর কতৃত্বশীল বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তাই ইসলামে নারী নেতৃত্ব জায়েজ নেই।
ইসলামে নারীর নেতৃত্ব; যেমন: শাসক, খলীফা, মন্ত্রী, বিচারক, নামাজে পুরুষদের ইমাম ইত্যাদি নারী নিজে এ-জাতীয় পদ গ্রহন করা কিংবা তাদেরকে এ-জাতীয় নির্বাচিত করা জায়েজ নেই, যদি কোন নারী নেতৃত্বের আসনে বসেন কিংবা কোন ব্যাক্তি বা গোষ্ঠী যদি নারীকে নেতৃত্বের আসনে বসাতে সহায়তা করে তাহলে তারাও গুনাহের অংশীদার হবে। আর নারীর নেতৃত্ব নিষিদ্ধ এই (নিষেধাজ্ঞা) হলো মূলত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব ও নেতৃত্ব এবং বিচারকার্যের সাথে সম্পৃক্ত যা কুরআন সুন্নাহ এবং বহু সালাফদের ইজমা দ্বারা প্রমানিত।যেমন: ইবনু হাযম আন্দালুসী (রাহিমাহুল্লাহ) ইজমা নকল করে বলেন,و اتفقوا ان الامامة لا تجوز لامراة –”সকল ওলামায়ে কেরাম এব্যপারে একমত যে, কোনো নারীর জন্য ‘রাষ্ট্র প্রধান’ হওয়া জায়েয নয়”(মারাতিবুল ইজমা, ইবনে হাযাম পৃষ্ঠা: ১২৬)
.
নারীর নেতৃত্ব নিষিদ্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো এটি শরীয়তের পূর্ণতা, মাহাত্ম্য, শরিয়ত কর্তৃক নারীর ইজ্জতের সুরক্ষা দেয়া, নারীকে সম্মান দেয়া, নারীর প্রতি গুরুত্বারোপ করা, নারীকে সুরক্ষিত রাখা এবং ফিতনা ও স্খলনের পথগুলো থেকে আগলে রাখার জন্য শরীয়তের সচেতনতার অন্তর্ভুক্ত; হোক সেই ফিতনা নারীর পক্ষ থেকে কিংবা অন্যদের পক্ষ থেকে এটি এমন একটি বিষয় যা তাকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।নারীর নেতৃত্ব হারাম এই মর্মে দলিল হচ্ছে, মহান আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা কুরআনে বলেন- الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ “পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং এ জন্য যে,তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে”।(সূরা নিসা: ৪/৩৪) এই আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা পুরুষকে নারীর ‘‘ক্বাওওয়াম’’ বলেছেন। ক্বাওওয়াম অর্থ হলো: অভিভাবক, তত্তাবধায়ক, ব্যবস্থাপক, পরিচালক ইত্যাদি।
আল-কুরআনে সুরা আন-নিসায় বলা হয়েছে,
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ ۚ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ ۚ وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ ۖ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا [٤:٣٤]
পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ। (সূরা আন-নিসা, আয়াত নং-৩৪)
عن أبي بكرة قال : عصمني الله بشيء سمعته من رسول الله صلى الله عليه و سلم لما هلك كسرى قال من استخلفوا ؟ قالوا ابنته فقال النبي صلى الله عليه و سلم لن يفلح قوم ولو أمرهم امرأة (سنن الترمذى-كتاب الفتن، باب من باب ما جاء في لانهي عن سب الرياح، رقم الحديث-2262)
হযরত আবু বাকরা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন-যখন কিসরা পদানত হল তখন তাকে বলতে শুনেছি-কে তার পরবর্তী খলীফা? বলা হল-তার মেয়ে। তখন রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন-সে জাতি সফলকাম হয় না, যাদের প্রধান হল নারী। {সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-২২৬২, সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৬৬৮৬, সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-৫৯৩৭, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৪৯০৭}
عن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم وإذا كان أمراؤكم شراركم وأغنياؤكم بخلاءكم وأموركم إلى نسائكم فبطن الأرض خير لكم من ظهرها (سنن الترمذى-كتاب الفتن عن رسول الله صلى الله عليه و سلم، باب من باب ما جاء في لانهي عن سب الرياح، رقم الحديث-2266)
হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-যখন তোমাদের নেতারা তোমাদের মাঝের বদলোক হয়। আর তোমাদের ধনীরা হয় কৃপণ, আর তোমাদের কর্মকর্তা হয় মহিলা। তাহলে জমিনের পেট তার পিঠের তুলনায় তোমাদের জন্য উত্তম। [অর্থাৎ মৃত্যু তোমাদের জন্য উত্তম জমিনের উপরে বেঁচে থাকার চেয়ে।] {সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-২২৬৬}
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শফিকুল ইসলাম হাটহাজারী
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৪
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১