ওয়াসওয়াসা রোগ থেকে মুক্তি
প্রশ্নঃ ১৩২৬৬৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, হুজুর আমার বয়স ১৮। আমি ইন্টারমিডিয়েট পাস ছাত্র। আমার সমস্যা হলো আমার সবসময় নামাজ পড়তে গেলে বারবার ওযু চলে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। সারাদিন নরমাল কিন্তু নামাজ পড়ার সময় অত্যাধিক গ্যাস ও প্রস্রাব করার পর প্রস্রাব বের হয়। নামাজের নিয়ত করলে ওই নামাজ সময়মতো ও ওযুর সাথে প্রথমবারে কখনোই আদায় করতে পারিনা। আমি নিজের জন্য একটু দরকারি কোনো কাজ করতে গেলে হঠাৎ মাথায় অজানা টেনশান চলে আসে ও মাথা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তখন যেটা করতে গেছি তার বদলে অন্য কোনো অহেতুক কাজ করে চলে আসি। মাথা ভার লাগা শুরু করে। আমি দোয়া কলমা পড়ে বের হলেও কেন জানি সব গুলিয়ে যায়। আমি দুই ব্যাপারের জন্যই ডাক্তার দেখিয়েছি পরীক্ষা করিয়েছি। কিন্তু সব পরীক্ষাতেই আমার একদম সুস্থ রিপোর্ট এসেছে। রোগ ধরা পড়েনি। আমি দিনদিন আগে থেকে বিষন্ন হচ্ছি। চলাফেরা ও কাজ কর্মে গতি পাইনা। ঘর থেকে সহজে বের হতে পারিনা। বিশেষ কাজের নিয়ত করলে তা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়না। সবার চোখে আমি নাকি দিনদিন বাচ্চা মানুষের মতো হয়ে যাচ্ছি।মানসিক রোগীর মতো মনে হচ্ছে নিজেকে। খাবার খাওয়ার পর সবসময় অস্বস্তি কাজ করে। এগুলা আমার প্রায় ৫ বছর ধরে ঘটছে কিন্তু এখন অতিরিক্ত। এজন্য কী করতে পারি সাহায্য করুন।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আপনি প্রতিদিন এই দোয়াগুলো এবং ইস্তিগফার বেশি বেশি পড়া সবার জন্যই উপকারী হবে ইনশাআল্লাহ।
এক. أَعُوذُ بِاللّهِ السَّمِيْعِ الْعَلِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ مِنْ هَمْزِه وَنَفْخِه وَنَفْثِه
দুই. أُعِيْذُكُمْ بِكَلِمَاتِ اللّهِ التَّامَّةِ، مِنْ غَضَبِه وَعِقَابِه وَشَرِّ عِبَادِه وَمِنْ همَزَاتِ الشَّيَاطِيْنِ وَأَنْ يَّحْضُرُوْنِ
তিন. اَلْلّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ، وَقَهْرِ الرِّجَالِ
আরও কিছু কাজ ফলো করুন।
ইনশাআল্লাহ ফল পাবেন।
১. প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাজ শেষে বুকে হাত রেখে তা’আউয (মানে আউযুবিল্লাহ-জাতীয় কিছু) ৩বার পড়ুন, এরপর সুরা নাস পড়ড়ুন।
২. ঈমান নিয়ে সংশয় উদিত হলে “আমানতু বিল্লাহ বলা” এছাড়া “সুরা ইখলাস পড়ার” কথাও বর্ণিত হয়েছে।
৩. নামাজে ওয়াসওয়াসা হলে বামে হালকা করে ৩বার থুতু ফালানো। মাসায়েলঃ রাকাত ভুলে গেলে- কম সংখ্যাটা ধরে, এরপর প্রতি রাকাতে আত্তাহিয়্যাতু পড়া, আর শেষে সাহু সাজদা দেয়া।
৪. ওযুর গোসলের মাঝে ওয়াসওয়াসা হলেও এক অঙ্গ ৩বারের বেশি না ধোয়া। আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা রাখা।
৫. ওযু ভাঙার ওয়াসওয়াসার ক্ষেত্রে ১০০% নিশ্চিত না হলে পাত্তা না দেয়া। (আল্লাহর নামে কসম করে বলতে পারবেন, এরকম নিশ্চিত হলে বুঝবেন ওযু ভেঙ্গেছে।)
৬. নাপাক থেকে বেচে থাকা উচিত, বিশেষত প্রসাবের ছিটা থেকে বাচা। যথাসম্ভব সর্বদা ওযু অবস্থায় থাকা। ওযু গোসলের যায়গায় প্রসাব না করা।
৭. পুরুষ হলে জামাআতের সাথে নামাজ পড়া, মুত্তাকী লোকদের সাথে উঠাবসা করা। বেদ্বীন সার্কেল ত্যাগ করা।
৮. সকাল-সন্ধ্যায় ও ঘুমের আগের মাসনুন আমলগুলো গুরুত্বের সাথে করা। টয়লেটে প্রবেশের দোয়া পড়া।
৯. আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকা। যথাসম্ভবত ওয়াসওয়াসা পাত্তা না দেয়া; ইগনোর করা, এমনকি মুখে বিরক্তির ভাবও প্রকাশ না করা। বরং আনন্দিত হওয়া এই কারণে, আপনার ঈমান আছে দেখেই শয়তান আপনার পেছনে লেগেছে, এদিকে আপনি এই সুযোগে আরও বেশি ইবাদাত করতে পারছেন।
আল্লাহ আমাদেরকে মানুষ এবং জ্বিন শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে হিফাজতে রাখুক। সব ধরনের শারীরিক, মানসিক এবং আত্মিক রোগ-ব্যাধি থেকে আরোগ্য দান করুক। আমিন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন