আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
১৬- হজ্ব - উমরার অধ্যায়
হাদীস নং: ২৬৮৮
আন্তর্জাতিক নং: ১১৮৬-২
- হজ্ব - উমরার অধ্যায়
৪. মদীনাবাসীদেরকে যুল হুলাইফার মসজিদের নিকট ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
২৬৮৮। কুতাইবা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... সালিম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) কে যখন বলা হল, বায়দা নামক স্থানে ইহরাম বাঁধতে হবে তখন তিনি বললেন, এই বায়দাকে কেন্দ্র করেই তোমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দিকে সম্পৃক্ত করে ভূল বর্ণনা করে থাক। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেই গাছের নিকট ইহরাম বেঁধে লাব্বাইকা ধ্বনি উচ্চারণ করতেন- যেখান থেকে তার উট তাকে নিয়ে রওয়ানা হতো।
كتاب الحج
باب أَمْرِ أَهْلِ الْمَدِينَةِ بِالإِحْرَامِ مِنْ عِنْدِ مَسْجِدِ ذِي الْحُلَيْفَةِ
وَحَدَّثَنَاهُ قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْمَاعِيلَ - عَنْ مُوسَى بْنِ، عُقْبَةَ عَنْ سَالِمٍ، قَالَ كَانَ ابْنُ عُمَرَ - رضى الله عنهما - إِذَا قِيلَ لَهُ الإِحْرَامُ مِنَ الْبَيْدَاءِ قَالَ الْبَيْدَاءُ الَّتِي تَكْذِبُونَ فِيهَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا أَهَلَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ مِنْ عِنْدِ الشَّجَرَةِ حِينَ قَامَ بِهِ بَعِيرُهُ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
সাহাবায়ে কেরামের বর্ণনা ও তাদের বক্তব্য এ ব্যাপারে বিভিন্ন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিদায় হজ্বে ইহরামের প্রথম তালবিয়া কোন সময় ও কোন্ স্থানে পড়েছিলেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি.-এর বর্ণনা এই যে, যুল হুলায়ফার মসজিদে দু'রাকআত নামায পড়ার পর সেখানেই তিনি নিজ উটনীর উপর সওয়ার হলেন এবং উটনী যখন তাঁকে নিয়ে সোজা দাঁড়িয়ে গেল, তখন তিনি ইহরামের প্রথম তালবিয়া পাঠ করলেন এবং এ সময় থেকেই তিনি যেন মুহরিম হয়ে গেলেন। অপরদিকে অন্য কোন সাহাবীর বর্ণনা এই যে, যখন তিনি উটনীর উপর সওয়ার হয়ে কিছু সামনে অগ্রসর হলেন এবং 'বায়দা' নামক স্থানে পৌছলেন (যা যুল হুলায়ফার একেবারে নিকটে কিছুটা উচু স্থান ছিল।) তখন তিনি ইহরামের প্রথম তালবিয়া পাঠ করলেন। আর কোন কোন রেওয়ায়াত দ্বারা জানা যায় যে, যখন তিনি যুল হুলায়ফার মসজিদে ইহরামের দু'রাকআত নামায পড়লেন, তখন ঐ সময়েই উটনীর উপর সওয়ার হওয়ার আগেই ইহরামের প্রথম তালবিয়া পাঠ করে নিলেন।
আবূ দাউদ শরীফ ও মুস্তাদরকে হাকেম ইত্যাদি হাদীসগ্রন্থে প্রসিদ্ধ তাবেয়ী হযরত সাঈদ ইবনে যুবায়েরের একটি বর্ণনা রয়েছে যে, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-এর কাছে সাহাবায়ে কেরামের এই ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি উত্তরে বলেছিলেন: "আসল ঘটনা হচ্ছে এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুল হুলায়ফার মসজিদে ইহরামের দু'রাকআত নামায পড়ার পর সাথে সাথেই প্রথম তালবিয়া পাঠ করেছিলেন। কিন্তু এ বিষয়টি কেবল ঐ কয়েকজন জানতে পারলেন, যারা তখন তাঁর নিকটে উপস্থিত ছিলেন। এরপর যখন তিনি সেখানে উটনীর উপর সওয়ার হলেন এবং উটনী তাঁকে নিয়ে সোজা দাঁড়িয়ে গেল, তখন তিনি আবার তালবিয়া পাঠ করলেন এবং উটনীর উপর সওয়ার হওয়ার পর এটা ছিল তাঁর প্রথম তালবিয়া। তাই যেসব লোক তাঁর এ তালবিয়া শুনেছিল এবং প্রথমটি শুনে নাই তারা মনে করল যে, প্রথম তালবিয়া তিনি উটনীর উপর সওয়ার হয়েই পাঠ করেছেন। তারপর যখন উটনী চলতে শুরু করল এবং বায়দা নামক স্থানে পৌঁছে গেল, তখন তিনি আবার তালবিয়া পাঠ করলেন। তাই যারা তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় তালবিয়া শুনে নাই, তারা মনে করল যে, তিনি প্রথম তালবিয়া সে সময়ই পড়েছেন, যখন বায়দা নামক স্থানে তিনি পৌঁছলেন।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. এর এ বর্ণনা দ্বারা প্রকৃত ঘটনা সম্পূর্ণ পরিষ্কার ও স্পষ্ট হয়ে যায়।
আবূ দাউদ শরীফ ও মুস্তাদরকে হাকেম ইত্যাদি হাদীসগ্রন্থে প্রসিদ্ধ তাবেয়ী হযরত সাঈদ ইবনে যুবায়েরের একটি বর্ণনা রয়েছে যে, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-এর কাছে সাহাবায়ে কেরামের এই ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি উত্তরে বলেছিলেন: "আসল ঘটনা হচ্ছে এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুল হুলায়ফার মসজিদে ইহরামের দু'রাকআত নামায পড়ার পর সাথে সাথেই প্রথম তালবিয়া পাঠ করেছিলেন। কিন্তু এ বিষয়টি কেবল ঐ কয়েকজন জানতে পারলেন, যারা তখন তাঁর নিকটে উপস্থিত ছিলেন। এরপর যখন তিনি সেখানে উটনীর উপর সওয়ার হলেন এবং উটনী তাঁকে নিয়ে সোজা দাঁড়িয়ে গেল, তখন তিনি আবার তালবিয়া পাঠ করলেন এবং উটনীর উপর সওয়ার হওয়ার পর এটা ছিল তাঁর প্রথম তালবিয়া। তাই যেসব লোক তাঁর এ তালবিয়া শুনেছিল এবং প্রথমটি শুনে নাই তারা মনে করল যে, প্রথম তালবিয়া তিনি উটনীর উপর সওয়ার হয়েই পাঠ করেছেন। তারপর যখন উটনী চলতে শুরু করল এবং বায়দা নামক স্থানে পৌঁছে গেল, তখন তিনি আবার তালবিয়া পাঠ করলেন। তাই যারা তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় তালবিয়া শুনে নাই, তারা মনে করল যে, তিনি প্রথম তালবিয়া সে সময়ই পড়েছেন, যখন বায়দা নামক স্থানে তিনি পৌঁছলেন।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. এর এ বর্ণনা দ্বারা প্রকৃত ঘটনা সম্পূর্ণ পরিষ্কার ও স্পষ্ট হয়ে যায়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)