আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
১৪- রোযার অধ্যায়
হাদীস নং: ২৫৪২
আন্তর্জাতিক নং: ১১৩৭
- রোযার অধ্যায়
২০. দু’ ঈদের দিনে রোযা পালন করা হারাম
২৫৪২। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... ইবনে আযহারের গোলাম আবু উবাইদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈদের দিন আমি উমর ইবনুল খাত্তাবের সঙ্গে উপস্থিত ছিলাম। তিনি ঈদগাহে এসে নামায আদায় করলেন এবং লোকদের দিকে মুখ করে ভাষণ দিলেন। তাতে বললেন, এ দু’টি এমন দিন যে দু’দিনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রোযা পালন করতে নিষেধ করেছেন। এক হল, ঈদুল ফিতরের দিন, আর দ্বিতীয় হল ঐ দিন, যে দিন তোমরা কুরবানীর গোশত খেয়ে থাক।
كتاب الصيام
باب تحريم صوم يومى العيدين
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ مَوْلَى ابْنِ أَزْهَرَ أَنَّهُ قَالَ: شَهِدْتُ الْعِيدَ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَجَاءَ فَصَلَّى ثُمَّ انْصَرَفَ فَخَطَبَ النَّاسَ فَقَالَ إِنَّ هَذَيْنِ يَوْمَانِ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صِيَامِهِمَا يَوْمُ فِطْرِكُمْ مِنْ صِيَامِكُمْ وَالْآخَرُ يَوْمٌ تَأْكُلُونَ فِيهِ مِنْ نُسُكِكُمْ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী, হযরত আবু হুরায়রা ও হযরত উমর রাযি.-এর হাদীসগুলোতে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিনে রোযা রাখতে স্পষ্ট নিষেধ করা হয়েছে। হযরত উমর রাযি.-এর বক্তব্যে এদিকেও ইঙ্গিত রয়েছে যে, ঈদুল ফিতরের দিন রোযা রাখা এজন্য নিষেধ যে, আল্লাহ তা'আলা এ দিনটিকে রমযানের পর 'ইফতারের দিন' অর্থাৎ, রোযা না রেখে পানাহার করার দিন বানিয়েছেন। এই কারণে এ দিন রোযা রাখাতে আল্লাহর অভিপ্রায়ের বিরুদ্ধাচরণ করা হয়। আর কুরবানীর দিন রোযা রাখা এজন্য নিষেধ যে, এটা হচ্ছে কুরবানীর গোশত খাওয়ার দিন। আল্লাহর অভিপ্রায় যেন এই যে, এ দিন আল্লাহর নামে যেসব কুরবানী করা হয়, আল্লাহর বান্দারা যেন এগুলোর গোশত আল্লাহর মেহমানী মনে করে এবং তার দুয়ারের ভিখারী সেজে শুকরিয়ার সাথে খেয়ে নেয়। নিঃসন্দেহে ঐ বান্দা খুবই অহংকারী ও অকৃতজ্ঞ বিবেচিত হবে, যে আল্লাহর এই আম মেহমানীর দিন জেনে শুনে রোযা রাখে। তথা পানাহার বর্জন করে আর যিলহজ্বের ১১ ও ১২ তারিখও যেহেতু কুরবানীর দিন, সুতরাং এগুলোর বিধানও তাই হবে। অর্থাৎ, এ দু'দিনও রোযা রাখা যাবে না। নুবাইশা হুযালীর হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, হুযুর (ﷺ) আইয়ামে তাশরীকের সবকটি দিনকেই পানাহার অর্থাৎ, আল্লাহর মেহমানীর দিন বলেছেন, যার মধ্যে ১৩ই যিলহজ্বও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই ১০ ই যিলহজ্ব থেকে ১৩ ই যিলহজ্ব পর্যন্ত ৪ দিনই রোযা রাখা নিষিদ্ধ সাব্যস্ত করা হয়েছে। অতএব, এ দিনগুলোতে রোযা রাখা আর ইবাদত হবে না; বরং গুনাহর কাজ হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)