আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

১৪- রোযার অধ্যায়

হাদীস নং: ২৪৭৯
আন্তর্জাতিক নং: ১১১৩-৫
- রোযার অধ্যায়
১৫. অবৈধ নয় এমন কাজে রমযান মাসে সফরকারী ব্যক্তির জন্য রোযা পালন করা এবং ইফতার করা উভয়ই জায়েয যদি দুই বা ততোধিক মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সফর করা হয়; অবশ্য সক্ষম ব্যক্তির জন্য রোযা পালন করা উত্তম এবং অক্ষম ব্যক্তির জন্য রোযা হতে বিরত থাকা উত্তম
২৪৭৯। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় রমযান মাসে রোযারত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফরে বের হলেন। যখন তিনি উসফান নামক স্থানে পৌছলেন তখন তিনি পানি ভর্তি একটি পাত্র আনার জন্য বললেন এবং লোকদেরকে দেখাবার জন্য দিনেই তা পান করে রোযা ভেঙ্গে ফেললেন এবং এ অবস্থায় তিনি মক্কা প্রবেশ করলেন।

ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন যেহেতু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (সফরে কখনো) রোযা পালন করেছেন আবার কখনো ইফতার করেছেন তাই কেউ ইচ্ছা করলে রোযা পালন করতে পারে আবার কেউ ইচ্ছা করলে রোযা পালন ছেড়েও দিতে পারে।
كتاب الصيام
باب جواز الصوم والفطر في شهر رمضان للمسافر في غير معصية إذا كان سفره مرحلتين فأكثر وأن الأفضل لمن أطاقه بلا ضرر أن يصوم ولمن يشق عليه أن يفطر
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، - رضى الله عنهما - قَالَ سَافَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ عُسْفَانَ ثُمَّ دَعَا بِإِنَاءٍ فِيهِ شَرَابٌ فَشَرِبَهُ نَهَارًا لِيَرَاهُ النَّاسُ ثُمَّ أَفْطَرَ حَتَّى دَخَلَ مَكَّةَ . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ - رضى الله عنهما - فَصَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَفْطَرَ فَمَنْ شَاءَ صَامَ وَمَنْ شَاءَ أَفْطَرَ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে মক্কার যে সফরের উল্লেখ রয়েছে এটা মক্কা বিজয়ের সময়কার সফর ছিল- যা অষ্টম হিজরীর রমযান মাসে হয়েছিল। এতে তিনি প্রথমে রোযা রাখতে থাকলেন, কিন্তু যখন উসফান নামক স্থানে পৌছলেন, (যা মক্কা মুকাররমা থেকে ৩৫/৩৬ মাইল সম্মুখে একটি ঝর্ণা ছিল।) এবং সেখান থেকে মক্কা কেবল দুই মনযিলের দূরত্ব রয়ে গেল, আর এ আশংকা দেখা দিল যে, নিকটবর্তী সময়েই কোন প্রতিরোধ অথবা যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। তাই তিনি তখন রোযা রাখা উপযোগী মনে করলেন না এবং নিজেই রোযা ছেড়ে দিলেন এবং অন্যদেরকে দেখিয়ে পানি পান করে নিলেন- যাতে কারো জন্য রোযা ছেড়ে দেওয়া কঠিন মনে না হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ বাস্তব কর্ম দ্বারা জানা গেল যে, যে পর্যন্ত রোযা ছেড়ে দেওয়ার তেমন কোন কারণ ও যুক্তিসিদ্ধতা না থাকে, সে পর্যন্ত রোযা রেখে যাওয়াই উত্তম। এ জন্যই তিনি 'উসফান' পর্যন্ত রোযা রেখে গিয়েছেন। কোন বিশেষ কারণ ও যুক্তিসিদ্ধতা ছাড়াও যদি সফরে রোযা ছেড়ে দেওয়া উত্তম হত, তাহলে তিনি সফরের শুরু থেকেই রোযা ছেড়ে দিতেন।

এ ঘটনা সম্পর্কেই হযরত জাবের রাযি. থেকেও একটি বর্ণনা মুসলিম শরীফে এসেছে। সেখানে এ অতিরিক্ত সংযোজনও রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এভাবে ঘোষণা দিয়ে রোযা ছেড়ে দেওয়ার পর এবং সবাইকে দেখিয়ে পানি পান করার পরও কিছু লোক রোযা অব্যাহত রাখল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বিষয়টি জানতে পারলেন, তখন বললেন: 'এরা হচ্ছে অবাধ্য ও গুনাহগার'। কেননা, তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় প্রকাশ পাওয়ার পরও এর বিপরীত কাজ করেছে- যদিও না জেনে অথবা ভুল বুঝাবুঝির কারণে করেছে। কেননা, নৈকট্যশীলদের সামান্য ভুলও অপরাধ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)