আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

১৩- যাকাতের অধ্যায়

হাদীস নং: ২৩৬২
আন্তর্জাতিক নং: ১০৭৭
- যাকাতের অধ্যায়
৩৮. নবী (ﷺ), বনী হাশিম এবং বনী মুত্তালিবের জন্য হাদিয়া গ্রহণ করা বৈধ, যদিও হাদিয়াদাতা তার মালিক হয়েছে সাদ্‌কা হিসেবে
২৩৬২। আব্দুর রহমান ইবনে সাল্লাম জুমাহী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এর নিকট কোন খাদ্যদ্রব্য আসলে তিনি সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। যদি বলা হত, হাদিয়া, তবে তা খেতেন। আর যদি বলা হত সাদ্‌কা, তবে তা খেতেন না।
كتاب الزكاة
باب إِبَاحَةِ الْهَدِيَّةِ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلِبَنِي هَاشِمٍ وَبَنِي الْمُطَّلِبِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَلاَّمٍ الْجُمَحِيُّ، حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ، - يَعْنِي ابْنَ مُسْلِمٍ - عَنْ مُحَمَّدٍ، - وَهُوَ ابْنُ زِيَادٍ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، . أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أُتِيَ بِطَعَامٍ سَأَلَ عَنْهُ فَإِنْ قِيلَ هَدِيَّةٌ أَكَلَ مِنْهَا وَإِنْ قِيلَ صَدَقَةٌ لَمْ يَأْكُلْ مِنْهَا .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

কোন ব্যক্তিকে গরীব ও অভাবী মনে করে তার সাহায্য-সহযোগিতা হিসাবে সওয়াবের নিয়্যতে যাকিছু দান করা হয়, এটাকে শরী‘আতের পরিভাষায় সদাকা বলা হয়। চাই এটা ফরয-ওয়াজিব হোক- যেমন, যাকাত অথবা ফিতরা কিংবা নফল হোক- যাকে সাধারণত আমরা সাহায্য ও খয়রাত বলে থাকি। তবে হাদিয়া বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্নরকম। ভক্তি ভালবাসা ও সম্পর্কের কারণে নিজের কোন শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় ব্যক্তির সামনে কোন কিছু পেশ করাকে হাদিয়া বলে।

সদাকাদাতার অবস্থান উপরে থাকে, আর গ্রহীতার নীচে। এ জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন প্রকার সদাকা গ্রহণ করতেন না। আর হাদিয়াদাতা যেহেতু এর মাধ্যমে ভক্তি-শ্রদ্ধা, সম্পর্ক ও ভালবাসার প্রকাশ ঘটায় এবং এটাকে নিজের আনন্দ ও সৌভাগ্যের বিষয় মনে করে, এ জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটা খুশী মনে গ্রহণ করতেন। হাদিয়া দাতাকে দু‘আ দিতেন এবং অনেক সময় নিজের পক্ষ থেকে তাকে হাদিয়া দিয়ে এর বদলা দিতেন। কিন্তু কেউ যদি সদাকা হিসাবে কিছু নিয়ে আসত, তাহলে তিনি এটা এর হকদারদের মধ্যে বন্টন করে দিতেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)