আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
১৩- যাকাতের অধ্যায়
হাদীস নং: ২১৩৫
আন্তর্জাতিক নং: ৯৭৯-১
- যাকাতের অধ্যায়
শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ
২১৩৫। আমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে বুকায়র আন-নাকিদ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পাঁচ ওয়াসাকের* কম পরিমাণ মালে যাকাত নেই, পাঁচ উটের কম সংখ্যায় যাকাত নেই এবং পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণে (রৌপ্যে) যাকাত নেই।
*এক ওয়াসাক ষাট সা'। ইমাম আযম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর মতে এক সা' আট রতল, বর্তমান প্রচলিত হিসাব অনুসারে এক সা=৩ সের ৯ ছটাক। সুতরাং পাঁচ ওয়াসাকে ২৬ মণ ২৮ সের ৯ ছটাক।
এক উকিয়া-৪০ দিরহাম। পাঁচ উকিয়া আমাদের প্রচলিত হিসাব অনুসারে ‘সাড়ে বায়ান্ন' তোলার সমান। ইমাম শাফিঈ, আবৃ ইউসুফ, মুহাম্মাদ ও জমহূরের মতে উৎপাদিত ফল ও ফসলে যাকাত ধার্য হওয়ার নিম্নতম পরিমাণ হচ্ছে পাঁচ ওয়াসাক। এর কম পরিমাণের উপর যাকাত ধার্য হবে না। কিন্তু ইমাম আযম আবু হানীফা ও উমর ইবন আব্দুল আযীয (রাহঃ)-এর মতে উৎপাদিত ফল ও ফসলের উপর যাকাত ধার্য হবে না; বরং উশ্ন (উৎপাদনের এক-দশমাংশ) বা অর্ধ উশ্বর ধার্য হবে। উৎপন্ন দ্রব্যের পরিমাণ পাঁচ ওয়াসাকের কম হলেও তার উপর উশর ধার্য হবে। ইমাম আযম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর মতে স্বল্পস্থায়ী শস্য যেমন শাকসবজি ইত্যাদির উপরও উশর ধার্য হবে। কিন্তু অন্যান্য ইমামদের মতে এই সমস্ত বস্তুর উপর উশর ধার্য হবে না।
*এক ওয়াসাক ষাট সা'। ইমাম আযম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর মতে এক সা' আট রতল, বর্তমান প্রচলিত হিসাব অনুসারে এক সা=৩ সের ৯ ছটাক। সুতরাং পাঁচ ওয়াসাকে ২৬ মণ ২৮ সের ৯ ছটাক।
এক উকিয়া-৪০ দিরহাম। পাঁচ উকিয়া আমাদের প্রচলিত হিসাব অনুসারে ‘সাড়ে বায়ান্ন' তোলার সমান। ইমাম শাফিঈ, আবৃ ইউসুফ, মুহাম্মাদ ও জমহূরের মতে উৎপাদিত ফল ও ফসলে যাকাত ধার্য হওয়ার নিম্নতম পরিমাণ হচ্ছে পাঁচ ওয়াসাক। এর কম পরিমাণের উপর যাকাত ধার্য হবে না। কিন্তু ইমাম আযম আবু হানীফা ও উমর ইবন আব্দুল আযীয (রাহঃ)-এর মতে উৎপাদিত ফল ও ফসলের উপর যাকাত ধার্য হবে না; বরং উশ্ন (উৎপাদনের এক-দশমাংশ) বা অর্ধ উশ্বর ধার্য হবে। উৎপন্ন দ্রব্যের পরিমাণ পাঁচ ওয়াসাকের কম হলেও তার উপর উশর ধার্য হবে। ইমাম আযম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর মতে স্বল্পস্থায়ী শস্য যেমন শাকসবজি ইত্যাদির উপরও উশর ধার্য হবে। কিন্তু অন্যান্য ইমামদের মতে এই সমস্ত বস্তুর উপর উশর ধার্য হবে না।
كتاب الزكاة
وَحَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بُكَيْرٍ النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ سَأَلْتُ عَمْرَو بْنَ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ فَأَخْبَرَنِي عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ وَلاَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ وَلاَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
নববী যুগে বিশেষ করে মদীনার আশেপাশে যারা ধনী ও অবস্থাসম্পন্ন ছিল, তাদের কাছে সম্পদ সাধারণতঃ তিন প্রকারের যে কোন এক প্রকার থাকত। হয়তো তাদের বাগানের উৎপাদিত ফসল খেজুরের আকারে, অথবা রূপার আকারে কিংবা উটের আকারে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ হাদীসে এ তিন প্রকার সম্পদেরই যাকাতের নেসাব বলে দিয়েছেন, অর্থাৎ, এসব জিনিসের কমপক্ষে কি পরিমাণে যাকাত ওয়াজিব হবে। খেজুরের বেলায় তিনি বলে দিয়েছেন যে, পাঁচ ওয়াসাকের কম হলে এতে যাকাত ওয়াজিব হবে না। এক ওয়াসাক প্রায় ৬ মণের সমান হয়। এ হিসাবে ৫ ওয়াসাক খেজুর প্রায় ৩০ মণ হবে। রূপার ব্যাপারে তিনি বলেছেন যে, ৫ উকিয়্যার কম হলে এতে যাকাত ওয়াজিব হবে না। এক উকিয়্যা রূপা ৪০ দেরহামের সমান হয়। এ হিসাবে ৫ উকিয়্যা ২০০ দেরহামের সমান হবে- যার ওজন প্রসিদ্ধ মত হিসাবে সাড়ে বায়ান্ন তোলা হয়। উটের ব্যাপারে তিনি বলে দিয়েছেন যে, সংখ্যায় পাঁচের কম হলে এতে যাকাত আসবে না। এ হাদীসে কেবল এ তিনটি জিনিসে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার ন্যূনতম পরিমাণ বলে দেওয়া হয়েছে।
হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ (রহঃ) লিখেছেন যে, ৫ ওয়াসাক (৩০ মণ) খেজুর একটি ছোট পরিবারের সারা বছরের সংসার চলার জন্য যথেষ্ট হয়ে যেত। তদ্রপভাবে ২০০ দেরহামে সারা বছরের খরচ চলতে পারত, আর মূল্যমান বিবেচনায় ৫টি উট প্রায় এরই সমান হত। এ জন্য এ পরিমাণ সম্পদের মালিককে অবস্থাসম্পন্ন ও সম্পদশালী ধরে নিয়ে তার উপর যাকাত ওয়াজিব করে দেওয়া হয়েছে।
হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ (রহঃ) লিখেছেন যে, ৫ ওয়াসাক (৩০ মণ) খেজুর একটি ছোট পরিবারের সারা বছরের সংসার চলার জন্য যথেষ্ট হয়ে যেত। তদ্রপভাবে ২০০ দেরহামে সারা বছরের খরচ চলতে পারত, আর মূল্যমান বিবেচনায় ৫টি উট প্রায় এরই সমান হত। এ জন্য এ পরিমাণ সম্পদের মালিককে অবস্থাসম্পন্ন ও সম্পদশালী ধরে নিয়ে তার উপর যাকাত ওয়াজিব করে দেওয়া হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: