আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

৭- কুরআনে কারীমের ফাযায়েল ও আদাব-মাসাঈল

হাদীস নং: ১৭৮৪
আন্তর্জাতিক নং: ৮২২-৪
১৫. ধীরস্থিরতার সাথে কিরা’আত পড়া। অতিদ্রুত পাঠ বর্জন করা এবং একরাক’আতে দুই ও ততোধিক সূরা পড়ার বৈধতা
১৭৮৪। শায়বান ইবনে ফাররুখ (রাহঃ) ......... আবু ওয়াইল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। বলেন, একদিন সকালে (ফজরের) নামায আদায়ের পরে আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। আমরা দরজায় দাঁড়িয়ে সালাম করলে তিনি আমাদের অনুমতি দিলেন। রাবী আবু ওয়াইল (রাহঃ) বলেন, আমরা কিছুক্ষণ দরজায় অবস্থান করলাম। রাবী বলেন, তখন বেরিয়ে এসে বলল, আপনারা প্রবেশ করছেন না কেন? আমরা তখন প্রবেশ করলাম। তিনি (আব্দুল্লাহ) বসে বসে তাসবীহ পড়ছেন। তিনি বললেন, তোমাদের অনুমতি দেওয়া সত্ত্বেও কিসে তোমাদের প্রবেশে বাধা দিয়েছিল? তখন আমরা বললাম, না (তেমন কিছু নয়) তবে কিনা আমরা ধারণা করেছিলাম যে, ঘরের কেউ হয়ত ঘুমিয়ে রয়েছে।

তিনি বললেন, ইবনে উম্মু আব্দ এর পরিবারে তোমরা আলসেমী ও উদাসীনতার ধারণা করলে? রাবী (ওয়াইল) বলেন, তারপর তিনি তাসবীহ পাঠ শুরু করলেন। পরে যখন ধারণা করলেন যে সূর্য উদিত হয়েছে, তখন বললেন, হে দাসী! দেখ তো সূর্য উঠেছে কি না? রাবী বলেন, সে নযর করে দেখল যে, তখনও সূর্য উঠেনি। তিনি আবার তাসবীহ পাঠ শুরু করলেন। অবশেষে যখন তাঁর ধারণা হল যে সূর্য উদিত হয়েছে, তখন বললেন, হে দাসী! দেখ তো সূর্য উঠেছে কি? তখন সে নযর করে দেখতে পেল যে, তা উদিত হয়েছে। তখন তিনি বললেন, সমস্ত প্রশংসা সেই সত্তার যিনি আমাদের এ দিনটি ফিরিয়ে দিয়েছেন।

[মাহদী (রাহঃ) বলেন, আমার ধারণা যে, আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) আরও বলেছেন] এবং তিনি আমাদের পাপের কারণে আমাদের ধ্বংস করে দেননি। রাবী বলেন, তখন (উপস্থিত) দলের একজন বলল, গতরাতে আমি (নামাযে) মূফাসসাল সম্পূর্ণটা পাঠ করেছি। রাবী বলেন, তখন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, কবিতার মত দ্রুত? আমর তো সেই জোড়া জোড়া সূরাগুলো আছে যেগুলো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঠ করতেন। মুফাসসালের আঠারটি সূরা এবং হা-মীম শ্রেণীর দু’টি সূরা।
باب تَرْتِيلِ الْقِرَاءَةِ وَاجْتِنَابِ الْهَذِّ وَهُوَ الإِفْرَاطُ فِي السُّرْعَةِ وَإِبَاحَةِ سُورَتَيْنِ فَأَكْثَرَ فِي الرَّكْعَةِ
حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا وَاصِلٌ الأَحْدَبُ، عَنْ أَبِي، وَائِلٍ قَالَ غَدَوْنَا عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ يَوْمًا بَعْدَ مَا صَلَّيْنَا الْغَدَاةَ فَسَلَّمْنَا بِالْبَابِ فَأَذِنَ لَنَا - قَالَ - فَمَكَثْنَا بِالْبَابِ هُنَيَّةً - قَالَ - فَخَرَجَتِ الْجَارِيَةُ فَقَالَتْ أَلاَ تَدْخُلُونَ فَدَخَلْنَا فَإِذَا هُوَ جَالِسٌ يُسَبِّحُ فَقَالَ مَا مَنَعَكُمْ أَنْ تَدْخُلُوا وَقَدْ أُذِنَ لَكُمْ فَقُلْنَا لاَ إِلاَّ أَنَّا ظَنَنَّا أَنَّ بَعْضَ أَهْلِ الْبَيْتِ نَائِمٌ . قَالَ ظَنَنْتُمْ بِآلِ ابْنِ أُمِّ عَبْدٍ غَفْلَةً قَالَ ثُمَّ أَقْبَلَ يُسَبِّحُ حَتَّى ظَنَّ أَنَّ الشَّمْسَ قَدْ طَلَعَتْ فَقَالَ يَا جَارِيَةُ انْظُرِي هَلْ طَلَعَتْ قَالَ فَنَظَرَتْ فَإِذَا هِيَ لَمْ تَطْلُعْ فَأَقْبَلَ يُسَبِّحُ حَتَّى إِذَا ظَنَّ أَنَّ الشَّمْسَ قَدْ طَلَعَتْ قَالَ يَا جَارِيَةُ انْظُرِي هَلْ طَلَعَتْ فَنَظَرَتْ فَإِذَا هِيَ قَدْ طَلَعَتْ . فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَقَالَنَا يَوْمَنَا هَذَا - فَقَالَ مَهْدِيٌّ وَأَحْسِبُهُ قَالَ - وَلَمْ يُهْلِكْنَا بِذُنُوبِنَا - قَالَ - فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ قَرَأْتُ الْمُفَصَّلَ الْبَارِحَةَ كُلَّهُ - قَالَ - فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ هَذًّا كَهَذِّ الشِّعْرِ إِنَّا لَقَدْ سَمِعْنَا الْقَرَائِنَ وَإِنِّي لأَحْفَظُ الْقَرَائِنَ الَّتِي كَانَ يَقْرَؤُهُنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَمَانِيَةَ عَشَرَ مِنَ الْمُفَصَّلِ وَسُورَتَيْنِ مِنْ آلِ حم.

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, রসূলুল্লাহ স. এক রাকাতে একাধিক সুরা পাঠ করতেন। অবশ্য এ হাদীসে ফরয বা নফল কোন কথা উল্লেখ না থাকায় নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না যে, এটা ফরযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না। তবে সাহাবায়ে কিরাম ফরয নামাযের একই রাকাতে একাধিক সুরা পড়ার আমল করতেন। তা থেকে অনুমিত হয় যে, এক রাকাতে একাধিক সুরা পড়ার আমলটি হয়তো রসূলুল্লাহ স.-এর ফরয নামাযেও ছিলো। আর সাহাবায়ে কিরাম তাঁর থেকেই এ আমল গ্রহণ করেছেন।
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)
সহীহ মুসলিম - হাদীস নং ১৭৮৪ | মুসলিম বাংলা