আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

৬- মুসাফিরের নামায - কসর নামায

হাদীস নং: ১৬৬১
আন্তর্জাতিক নং: ৭৬৩-১
- মুসাফিরের নামায - কসর নামায
২০. রাতের বেলা নবী (ﷺ) এর নামায ও দুআ
১৬৬১। আব্দুল্লাহ ইবনে হাশিম হায়্যান আন-আব্দী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মুনার ঘরে রাত্রি যাপন করলাম। রাতের বেলা এক সময় নবী (ﷺ) উঠে নিজের প্রয়োজন সমাধা করলেন। তারপর নিজের হাত-মুখ ধুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। পরে (পানির) মশকের কাছে গিয়ে বন্ধন খুললেন। তারপর দুই ওযুর মাঝামাঝি ওযু করলেন। অতিরিক্ত পানি খরচ করলেন না। তবে পূর্ণাঙ্গ ওযু করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে নামায আদায় করলেন। আমি জেগে মোড়ামুড়ি দিলাম। আমার পছন্দ ছিল না যে, আমি জেগে জেগে তাঁকে লক্ষ্য করছিলাম, তা তিনি বুঝে ফেলেন। এরপর আমি ওযু করলাম। তিনি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করেছিলেন। আমি তাঁর বামপাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে হাতে ধরে ঘুরিয়ে তাঁর ডান দিকে আনলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর রাতের নামায (তাহাজ্জুদ) তেরো রাকআত হল।

তারপর তিনি শুয়ে পড়লেন এবং ঘুমিয়ে নাক ডাকতে লাগলেন। তিনি ঘুমালে তাঁর নাক ডাকত। তখন বিলাল (রাযিঃ) এসে তাঁকে নামাযের সময় হওয়ার খবর দিলেন। তিনি উঠে নামায আদায় করলেন এবং ওযু করলেন না। (এ রাতে) তাঁর দুআর মধ্যে ছিলঃ

হে আল্লাহ! আমার কলবে নূর দান করুন, আমার দৃষ্টিতে নূর দান করুন, আমার শ্রবণশক্তিতে নুর দান করুন, আমার ডানদিকে নূর, আমার বামদিকে নূর, আমার উপরে নূর, আমার নীচে নূর, আমার সামনে নূর, আমার পিছনে নূর এবং বিরাট নূর দান করুন।

রাবী কুরায়ব (রাহঃ) বলেন, আরও সাতটি বিষয় যা আমার অন্তরে রয়েছে। সালামা ইবনে কুহায়ল বলেন, এরপর আমি আব্বাস পরিবারের কোন একজনের সঙ্গে সাক্ষাত করলে তিনি ঐ বিষয়গুলো আমাকে বর্ণনা করলেন। আমার শিরায়, আমার গোশতে, আমার রক্তে, আমার পশমে এবং আমার ত্বকে... আরও দু’টি বিষয় বললেন।
كتاب صلاة المسافرين وقصرها
حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ هَاشِمِ بْنِ حَيَّانَ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ مَهْدِيٍّ - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بِتُّ لَيْلَةً عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنَ اللَّيْلِ فَأَتَى حَاجَتَهُ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ ثُمَّ نَامَ ثُمَّ قَامَ فَأَتَى الْقِرْبَةَ فَأَطْلَقَ شِنَاقَهَا ثُمَّ تَوَضَّأَ وُضُوءًا بَيْنَ الْوُضُوءَيْنِ وَلَمْ يُكْثِرْ وَقَدْ أَبْلَغَ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى فَقُمْتُ فَتَمَطَّيْتُ كَرَاهِيَةَ أَنْ يَرَى أَنِّي كُنْتُ أَنْتَبِهُ لَهُ فَتَوَضَّأْتُ فَقَامَ فَصَلَّى فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ فَأَخَذَ بِيَدِي فَأَدَارَنِي عَنْ يَمِينِهِ فَتَتَامَّتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ اللَّيْلِ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً ثُمَّ اضْطَجَعَ فَنَامَ حَتَّى نَفَخَ وَكَانَ إِذَا نَامَ نَفَخَ فَأَتَاهُ بِلاَلٌ فَآذَنَهُ بِالصَّلاَةِ فَقَامَ فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ وَكَانَ فِي دُعَائِهِ " اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا وَفِي بَصَرِي نُورًا وَفِي سَمْعِي نُورًا وَعَنْ يَمِينِي نُورًا وَعَنْ يَسَارِي نُورًا وَفَوْقِي نُورًا وَتَحْتِي نُورًا وَأَمَامِي نُورًا وَخَلْفِي نُورًا وَعَظِّمْ لِي نُورًا " . قَالَ كُرَيْبٌ وَسَبْعًا فِي التَّابُوتِ فَلَقِيتُ بَعْضَ وَلَدِ الْعَبَّاسِ فَحَدَّثَنِي بِهِنَّ فَذَكَرَ عَصَبِي وَلَحْمِي وَدَمِي وَشَعَرِي وَبَشَرِي وَذَكَرَ خَصْلَتَيْنِ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আলোচ্য হাদীসে দু'আ নূরী সন্নিবেশিত হয়েছে। এটি অত্যন্ত বরকতময় নূরানী দু'আ। এই দু'আর মূল কথা হল এই যে, হে আল্লাহ্! আমার অন্তর, আত্মা, আমার শরীর, শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শিরা উপশিরায় নূর সৃষ্টি কর এবং আমাকে জ্যোতির্ময় করে দাও। আমার চারিপাশ ও উপর নিচ নূর দ্বারা পূর্ণ কর। কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে: اَللهُ نُوْرُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ এই আয়াতকে সামনে রেখে এই দু'আর মূল উদ্দেশ্য দাঁড়ায় এই যে, আমার অস্তিত্ব, আশপাশ তোমার জ্যোতি দ্বারা জ্যোতির্ময় করে দাও। আমার অন্তর-বাহির ও পরিবেশ তোমার রঙ্গে রঙ্গীন করে দাও। কেননা আল্লাহর বাণী- صِبْغَةَ اللَّهِ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ صِبْغَةً "আমরা আল্লাহর রঙ গ্রহণ করলাম রঙ্গে আল্লাহ্ অপেক্ষা কে অধিকতর সুন্দর"? (১, সূরা বাকারা: ১৩৮)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)