আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

৫- মসজিদ ও নামাযের স্থান সমূহের বর্ণনা

হাদীস নং: ১৩১০
আন্তর্জাতিক নং: ৬৩৩-২
- মসজিদ ও নামাযের স্থান সমূহের বর্ণনা
৩৮. সূর্য ডুবে যাওয়ার পর মুহূর্তেই মাগরীবের প্রথম ওয়াক্ত
১৩১০। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর, আবু উসামা ও ওয়াকী (রাহঃ) আমার কাছে এই সনদে রিওয়ায়াত বর্ণনায় বলেনঃ জেনে রেখ, অচিরেই তোমাদেরকে স্বীয় প্রতিপালকের কাছে পেশ করা হবে, তোমরা তাঁকে দেখতে পাবে; যেমন দেখতে পাচ্ছ এ চাঁদকে। বর্ণনাকারী বলেন- এরপর পাঠ করেন। তিনি জারীরের নাম উল্লেখ করেননি।
كتاب المساجد ومواضع الصلاة
باب بَيَانِ أَنَّ أَوَّلَ وَقْتِ الْمَغْرِبِ عِنْدَ غُرُوبِ الشَّمْسِ
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو أُسَامَةَ وَوَكِيعٌ بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ " أَمَا إِنَّكُمْ سَتُعْرَضُونَ عَلَى رَبِّكُمْ فَتَرَوْنَهُ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ " . وَقَالَ ثُمَّ قَرَأَ . وَلَمْ يَقُلْ جَرِيرٌ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

পৃথিবীতে যখন কোন সুন্দর জিনিস দেখার জন্য লক্ষ-কোটি মানুষ আগ্রহ প্রকাশ করে, এবং ভীড়ের সৃষ্টি করে তখন সাধারণত কষ্ট এবং সঙ্কটের সূত্রপাত হয়। দর্শনীয় বস্তুকে সঠিকভাবে দেখা সম্ভব হয় না। কিন্তু চাঁদের ব্যাপার স্বতন্ত্র। পূর্ব ও পশ্চিমের সকল লোক কোনরূপ সঙ্কট বা কষ্ট ছাড়াই পূর্ণ সন্তুষ্টির সাথে একযোগে চাঁদ দেখতে পারে। তাই রাসূলে আকরাম (ﷺ) চাঁদের উপমার দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন যে জান্নাতের বেশুমার খোশনসীব বান্দাহ একসঙ্গে আল্লাহকে দেখার সৌভাগ্য হাসিল করবে। কারও কোনরূপ কষ্ট হবে না, কোন সংঘর্ষ করতে হবে না বরং পরম শান্তি ও তৃপ্তিসহকারে আল্লাহ্ তা'আলার সৌন্দর্য অবলোকন করবেন।

উপসংহারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন এক আমলের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যার দ্বারা আল্লাহর বান্দাগণ এই নি'আমতের সৌভাগ্য লাভ করতে পারেন। অর্থাৎ বিশেষ যত্নসহকারে ফজর ও আসরের নামায আদায় করা যাতে অন্য কোন আকর্ষণ বান্দাকে নামায থেকে গাফেল না করতে পারে। যদিও ফরয নামাযের সংখ্যা পাঁচ কিন্তু এই দুই নামাযের বিশেষ গুরুত্ব ও ফযীলত রয়েছে। তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করে এই দুই নামাযের ফযীলত ও বৈশিষ্ট্যের প্রতি ইশারা করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)