আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

৪- নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৮২৯
আন্তর্জাতিক নং: ৪১৯-২
- নামাযের অধ্যায়
২১. ইমাম কর্তৃক রোগ, সফর ইত্যাদি ওযরের কারণে নামায আদায়ে স্বীয় প্রতিনিধি নিযুক্তকরণ; ইমাম যদি কোন ওযরে বসে নামায আদায় করেন এবং মুক্তাদী দাঁড়াতে সক্ষম হয়, তবে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবে; কেননা দণ্ডায়মানাক্ষম মুক্তাদীর বসে নামায আদায় করার হুকুম রহিত হয়ে গেছে
৮২৯। আমর আন নাকিদ (রাহঃ), হাসান আল হুলওয়ানী (রাহঃ) ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মৃত্যুরোগ শয্যায় শায়িতাবস্থায় আবু বকর (রাযিঃ) তাদের নামাযে ইমামতি করতে থাকেন। এভাবে যখন সোমবার দিন সকলে সারিবদ্ধ হয়ে নামায আদায় করছিলেন তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় কক্ষের পর্দা উত্তোলন করে দাঁড়ানো অবস্থায় আমাদের দিকে তাকালেন। (উজ্জ্বলতায়) তাঁর পবিত্র মুখমণ্ডল যেন কুরআনের পৃষ্ঠা। তিনি ঈষৎ হাসলেন। এদিকে আমরাও নামাযের মধ্যেই তাঁর আগমনের খুশিতে অভিভুত হয়ে উঠলাম।

আবু বকর (রাযিঃ) মনে করলেন যে, তিনি নামাযের জন্য বের হচ্ছেন। তাই পিছনে সরে আসতে উদ্যত হলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশারা করে বললেন যে, তোমরা তোমাদের নামায সম্পন্ন কর। অতঃপর তিনি তাঁর কক্ষে প্রবেশ করে দরজার পর্দা ফেলে দিলেন। এবং ঐ দিনই তিনি ইন্‌তিকাল করেন। আমর আন-নাকিদ (রাহঃ) ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে শেষ বারের মত দেখেছিলাম যখন তিনি সোমবার দিন হুজরার পর্দা উত্তোলন করেছিলেন। এবং এ প্রসঙ্গে রাবী সালিহ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি অধিক পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ।
كتاب الصلاة
باب اسْتِخْلاَفِ الإِمَامِ إِذَا عَرَضَ لَهُ عُذْرٌ مِنْ مَرَضٍ وَسَفَرٍ وَغَيْرِهِمَا مَنْ يُصَلِّي بِالنَّاسِ وَأَنَّ مَنْ صَلَّى خَلْفَ إِمَامٍ جَالِسٍ لِعَجْزِهِ عَنِ الْقِيَامِ لَزِمَهُ الْقِيَامُ إِذَا قَدَرَ عَلَيْهِ وَنَسْخِ الْقُعُودِ خَلْفَ الْقَاعِدِ فِي حَقِّ مَنْ قَدَرَ عَلَى الْقِيَامِ
حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَحَسَنٌ الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، - قَالَ عَبْدٌ أَخْبَرَنِي وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - وَهُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ - وَحَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ، كَانَ يُصَلِّي لَهُمْ فِي وَجَعِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ حَتَّى إِذَا كَانَ يَوْمُ الاِثْنَيْنِ - وَهُمْ صُفُوفٌ فِي الصَّلاَةِ - كَشَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سِتْرَ الْحُجْرَةِ فَنَظَرَ إِلَيْنَا وَهُوَ قَائِمٌ كَأَنَّ وَجْهَهُ وَرَقَةُ مُصْحَفٍ . ثُمَّ تَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ضَاحِكًا - قَالَ - فَبُهِتْنَا وَنَحْنُ فِي الصَّلاَةِ مِنْ فَرَحٍ بِخُرُوجِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَكَصَ أَبُو بَكْرٍ عَلَى عَقِبَيْهِ لِيَصِلَ الصَّفَّ وَظَنَّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَارِجٌ لِلصَّلاَةِ فَأَشَارَ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ أَنْ أَتِمُّوا صَلاَتَكُمْ - قَالَ - ثُمَّ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَرْخَى السِّتْرَ - قَالَ - فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ يَوْمِهِ ذَلِكَ .
وَحَدَّثَنِيهِ عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ آخِرُ نَظْرَةٍ نَظَرْتُهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَشَفَ السِّتَارَةَ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ بِهَذِهِ الْقِصَّةِ وَحَدِيثُ صَالِحٍ أَتَمُّ وَأَشْبَعُ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

যে দিন হুযূর (ﷺ)-এর ওফাত হয়েছে, সেদিন সকালে তাঁর অবস্থা বাহ্যত খুবই ভাল ও উদ্বেগমুক্ত হয়ে গিয়েছিল। হযরত আনাস রাযি.-এর এ হাদীস থেকে এর পূর্ণ সমর্থন পাওয়া যায় যে, তিনি নিজে নিজে উঠেই হুজরার দরজার নিকট আসলেন। তারপর পর্দা উঠিয়ে দেখলেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে কাতারবন্দী হয়ে নামায আদায় করতে দেখে তিনি অত্যন্ত খুশী হলেন, তাঁর চেহারায় আনন্দের দীপ্তি ফুঠে উঠল। আবূ বকর সিদ্দীক রাযি. যখন পেছনে সরে আসতে চাইলেন এবং আশংকা দেখা দিল যে, লোকেরা খুশীর আতিশয্যে নামাযের নিয়্যত ছেড়ে দেয় কি না, তখন তিনি হাত দ্বারা ইশারা করে বললেন যে, তোমরা যেভাবে নামায পড়ছ, সেভাবেই আবূ বকর রাযি.-এর মুক্তাদী হয়ে নামায শেষ করে নাও। এ দিন সকালে হুযুর (ﷺ)-এর শারীরিক অবস্থা বাহ্যত এতটুকু ভাল হয়ে গিয়েছিল যে, হযরত আবূ বকর রাযি. নিশ্চিন্ত হয়ে নিজের বাড়ী 'সুনহ'-এ তাশরীফ নিয়ে গেলেন- যা মসজিদে নববী থেকে বেশ দূরে ছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)
সহীহ মুসলিম - হাদীস নং ৮২৯ | মুসলিম বাংলা