আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
১- ঈমানের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৮১
আন্তর্জাতিক নং: ৯৭
৪১. যে কাফির ব্যক্তি ’لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ’ বলল, তাকে হত্যা করা হারাম
১৮১। আহমাদ ইবনে হাসান ইবনে খিরাশ (রাহঃ) ......... জুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরের ফিতনার যুগে আস’আস ইবনে সালামাকে বলে পাঠালেন যে, তুমি তোমার কিছু বন্ধু আমার জন্য একত্র করবে, আমি তাদের সাথে কথা বলব। আসআস তাদের কাছে লোক পাঠালেন। তারা যখন সমবেত হল, জুনদুব তখন হলুদ বর্ণের বুরনূস (এক ধরনের টূপি) পরে উপস্থিত হলেন এবং বললেন, তোমরা আগের মত কথাবার্তা বলতে থাক। সুতরাং তারা চক্রাকারে কথা বলতে থাকল। অবশেষে যখন তার পালা আসল তিনি তাঁর মাথার বুরনূস নামিয়ে ফেললেন। বললেন, আমি তোমাদের কাছে যখন এসেছি তখন আমি তোমাদের কাছে নবী (ﷺ) -এর হাদীস বর্ণনা করতে চাইনি, কিন্তু এখন শোনঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুসলমানদের একটি বাহিনী মুশরিক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পাঠালেন। উভয় দল পরস্পর সম্মুর্খীন হল। মুশরিক বাহিনীতে এক ব্যক্তি ছিল। সে যখনই কোন মুসলিমকে হামলা করতে ইচ্ছা করত, সে তাকে লক্ষ করে ঝাপিয়ে পড়ত এবং শহীদ করে ফেলত। একজন মুসলিম তার অসতর্ক মূহৃর্তের অপেক্ষা করতে লাগলেন। জুনদুব বললেন, আমাদের বলা হলো যে, সে ব্যক্তি ছিল উসামা ইবনে যায়দ। তিনি যখনঁ তার উপর তলোয়ার উত্তোলন করলেন তখন সে বলল, لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ তবুও উসামা (রাযিঃ) তাকে হত্যা করলেন।
দূত যুদ্ধে জয়লাভের সুসংবাদ নিয়ে নবী (ﷺ) এর খেদমতে হাযির হল। তিনি তার কাছে যুদ্ধের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। সে সব ঘটনাই বর্ণনা করল, এমন কি সে ব্যক্তির ঘটনাটিও বলল যে, তিনি কি করেছিলেন। নবী (ﷺ) উসামাকে ডেকে পাঠালেন এবং প্রশ্ন করলেন, তুমি সে ব্যক্তিকে হত্যা করলে কেন? উসামা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! সে অনেক মুসলিমকে ঘায়েল করেছে এবং অমুক অমুককে শহীদ করে দিয়েছে। এ বলে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করলেন।
আমি যখন তাকে আক্রমণ করলাম এবং সে তলোয়ার দেখল অমনি সে لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ বলে উঠল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি তাকে মেরে ফেললে? তিনি বললেন, জি হ্যাঁ। রাসুল (ﷺ) বললেনঃ কিয়ামত দিবসে যখন সে لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ (কালিমা) নিয়ে আসবে, তখন তুমি কি করবে? তিনি আরয করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার মাগফিরাতের জন্য দুআ করুন। রাসুল বললেনঃ কিয়ামত দিবসে যখন সে لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ (কালিমা) নিয়ে আসবে তখন তুমি কি করবে? তারপর তিনি কেবল এ কথাই বলছিলেনঃ কিয়ামতের দিন যখন সে لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ (কালিমা) নিয়ে আসবে, তখন তুমি কি করবে? তিনি এর অতিরিক্ত কিছু বলেন নি।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুসলমানদের একটি বাহিনী মুশরিক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পাঠালেন। উভয় দল পরস্পর সম্মুর্খীন হল। মুশরিক বাহিনীতে এক ব্যক্তি ছিল। সে যখনই কোন মুসলিমকে হামলা করতে ইচ্ছা করত, সে তাকে লক্ষ করে ঝাপিয়ে পড়ত এবং শহীদ করে ফেলত। একজন মুসলিম তার অসতর্ক মূহৃর্তের অপেক্ষা করতে লাগলেন। জুনদুব বললেন, আমাদের বলা হলো যে, সে ব্যক্তি ছিল উসামা ইবনে যায়দ। তিনি যখনঁ তার উপর তলোয়ার উত্তোলন করলেন তখন সে বলল, لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ তবুও উসামা (রাযিঃ) তাকে হত্যা করলেন।
দূত যুদ্ধে জয়লাভের সুসংবাদ নিয়ে নবী (ﷺ) এর খেদমতে হাযির হল। তিনি তার কাছে যুদ্ধের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। সে সব ঘটনাই বর্ণনা করল, এমন কি সে ব্যক্তির ঘটনাটিও বলল যে, তিনি কি করেছিলেন। নবী (ﷺ) উসামাকে ডেকে পাঠালেন এবং প্রশ্ন করলেন, তুমি সে ব্যক্তিকে হত্যা করলে কেন? উসামা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! সে অনেক মুসলিমকে ঘায়েল করেছে এবং অমুক অমুককে শহীদ করে দিয়েছে। এ বলে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করলেন।
আমি যখন তাকে আক্রমণ করলাম এবং সে তলোয়ার দেখল অমনি সে لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ বলে উঠল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি তাকে মেরে ফেললে? তিনি বললেন, জি হ্যাঁ। রাসুল (ﷺ) বললেনঃ কিয়ামত দিবসে যখন সে لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ (কালিমা) নিয়ে আসবে, তখন তুমি কি করবে? তিনি আরয করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার মাগফিরাতের জন্য দুআ করুন। রাসুল বললেনঃ কিয়ামত দিবসে যখন সে لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ (কালিমা) নিয়ে আসবে তখন তুমি কি করবে? তারপর তিনি কেবল এ কথাই বলছিলেনঃ কিয়ামতের দিন যখন সে لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ (কালিমা) নিয়ে আসবে, তখন তুমি কি করবে? তিনি এর অতিরিক্ত কিছু বলেন নি।
باب تَحْرِيمِ قَتْلِ الْكَافِرِ بَعْدَ أَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ خِرَاشٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، أَنَّ خَالِدًا الأَثْبَجَ ابْنَ أَخِي، صَفْوَانَ بْنِ مُحْرِزٍ حَدَّثَ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ مُحْرِزٍ، أَنَّهُ حَدَّثَ أَنَّ جُنْدَبَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيَّ بَعَثَ إِلَى عَسْعَسِ بْنِ سَلاَمَةَ زَمَنَ فِتْنَةِ ابْنِ الزُّبَيْرِ فَقَالَ اجْمَعْ لِي نَفَرًا مِنْ إِخْوَانِكَ حَتَّى أُحَدِّثَهُمْ . فَبَعَثَ رَسُولاً إِلَيْهِمْ فَلَمَّا اجْتَمَعُوا جَاءَ جُنْدَبٌ وَعَلَيْهِ بُرْنُسٌ أَصْفَرُ فَقَالَ تَحَدَّثُوا بِمَا كُنْتُمْ تَحَدَّثُونَ بِهِ . حَتَّى دَارَ الْحَدِيثُ فَلَمَّا دَارَ الْحَدِيثُ إِلَيْهِ حَسَرَ الْبُرْنُسَ عَنْ رَأْسِهِ فَقَالَ إِنِّي أَتَيْتُكُمْ وَلاَ أُرِيدُ أَنْ أُخْبِرَكُمْ عَنْ نَبِيِّكُمْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ بَعْثًا مِنَ الْمُسْلِمِينَ إِلَى قَوْمٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَإِنَّهُمُ الْتَقَوْا فَكَانَ رَجُلٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِذَا شَاءَ أَنْ يَقْصِدَ إِلَى رَجُلٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ قَصَدَ لَهُ فَقَتَلَهُ وَإِنَّ رَجُلاً مِنَ الْمُسْلِمِينَ قَصَدَ غَفْلَتَهُ قَالَ وَكُنَّا نُحَدَّثُ أَنَّهُ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ فَلَمَّا رَفَعَ عَلَيْهِ السَّيْفَ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ . فَقَتَلَهُ فَجَاءَ الْبَشِيرُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ فَأَخْبَرَهُ حَتَّى أَخْبَرَهُ خَبَرَ الرَّجُلِ كَيْفَ صَنَعَ فَدَعَاهُ فَسَأَلَهُ فَقَالَ " لِمَ قَتَلْتَهُ " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهَ أَوْجَعَ فِي الْمُسْلِمِينَ وَقَتَلَ فُلاَنًا وَفُلاَنًا - وَسَمَّى لَهُ نَفَرًا - وَإِنِّي حَمَلْتُ عَلَيْهِ فَلَمَّا رَأَى السَّيْفَ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَقَتَلْتَهُ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " فَكَيْفَ تَصْنَعُ بِلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ إِذَا جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ اسْتَغْفِرْ لِي . قَالَ " وَكَيْفَ تَصْنَعُ بِلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ إِذَا جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . قَالَ فَجَعَلَ لاَ يَزِيدُهُ عَلَى أَنْ يَقُولَ " كَيْفَ تَصْنَعُ بِلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ إِذَا جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১৭৯ নং হাদীসের ব্যাখ্যা দেখুন।
