আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
১- ঈমানের অধ্যায়
হাদীস নং: ৫
আন্তর্জাতিক নং: ৯-১
- ঈমানের অধ্যায়
১. ঈমানের অধ্যায়ঃ ঈমান, ইসলাম ও ইহসান প্রসঙ্গ, তাকদীরে বিশ্বাসের আবশ্যিকতা। এবং যে ব্যক্তি তাকদীর অবিশ্বাস করে, তাঁর সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ অপরিহার্য হওয়ার দলীল ও তাঁর সম্পর্কে কঠোর ভাষা ব্যবহার।
৫। আবু বকর ইবনে আবু শাঈবা (রাহঃ) ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকসম্মুখে ছিলেন, এমতাবস্থায় তাঁর কাছে একজন লোক হাযির হলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ঈমান কী? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ঈমান হল, আল্লাহ তাআলা, তার ফিরিশতাকূল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর মুলাকাত, তাঁর প্রেরিত রাসূলদের প্রতি ঈমান আনা এবং পুনরুত্থান দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।
তারপর আগন্তুক প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইসলাম কী? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইসলাম হল, আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরীক না করা, ফরয নামায যথাযথ করা, নির্ধারিত পরিমাণ যাকাত আদায় করা এবং রমযানের রোযা পালন করা।
আগন্তুক পুনরায় প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইহসান কী? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইহসান হল, তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগী করবে, যেন তাঁকে দেখছ; আর যদি তুমি তাকে নাও দেখ, তাহলে একীন রাখবে যে, তিনি অবশ্যই তোমাকে দেখছেন।
এরপর আগন্তুক প্রশ্ন করলেন, কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ বিষয়ে প্রশ্নকারীর চাইতে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, তিনি অধিক অবহিত নন। তবে হ্যাঁ, কিয়ামতের কিছু আলামত বর্ণনা করছি, দাসী তার প্রভূকে জন্ম দেবে, এটি কিয়ামতের আলামতের একটি। বিবস্ত্রদেহ, নগ্নপদ লোক হবে জনগণের নেতা; এটা কিয়ামতের আলামতের একটি। আর রাখালদের বিরাট বিরাট অট্টালিকার প্রতিযোগিতায় মত্ত দেখতে পাবে, এটিও কিয়ামতের একটি আলামত।
(কিয়ামত সংঘটিত হবার বিষয়টি ঐ) পাঁচ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানেনা। এ বলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (এ আয়াতটি) তিলাওয়াত করেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁরই নিকট রয়েছে কিয়ামতের জ্ঞান। তিনি নাযিল করেন বৃষ্টি এবং তিনি জানেন, যা রয়েছে মাতৃগর্ভে। আর কেউ জানে না, কী উপার্জন করবে সে আগামীকাল এবং জানে না কেউ, কোন মাটিতে সে মারা যাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু জানেন, সব খবর রাখেন (সূরা লুকমানঃ ৩৪)।
রাবী বলেন, তারপর লোকটি চলে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ লোকটিকে আমার কাছে ফিরিয়ে আন। তাঁরা তাকে আনার জন্য গেলেন। কিন্তু কাউকেই পেলেন না। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইনি জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)। লোকদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য এসেছিলেন।
তারপর আগন্তুক প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইসলাম কী? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইসলাম হল, আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরীক না করা, ফরয নামায যথাযথ করা, নির্ধারিত পরিমাণ যাকাত আদায় করা এবং রমযানের রোযা পালন করা।
আগন্তুক পুনরায় প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইহসান কী? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইহসান হল, তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগী করবে, যেন তাঁকে দেখছ; আর যদি তুমি তাকে নাও দেখ, তাহলে একীন রাখবে যে, তিনি অবশ্যই তোমাকে দেখছেন।
এরপর আগন্তুক প্রশ্ন করলেন, কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ বিষয়ে প্রশ্নকারীর চাইতে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, তিনি অধিক অবহিত নন। তবে হ্যাঁ, কিয়ামতের কিছু আলামত বর্ণনা করছি, দাসী তার প্রভূকে জন্ম দেবে, এটি কিয়ামতের আলামতের একটি। বিবস্ত্রদেহ, নগ্নপদ লোক হবে জনগণের নেতা; এটা কিয়ামতের আলামতের একটি। আর রাখালদের বিরাট বিরাট অট্টালিকার প্রতিযোগিতায় মত্ত দেখতে পাবে, এটিও কিয়ামতের একটি আলামত।
(কিয়ামত সংঘটিত হবার বিষয়টি ঐ) পাঁচ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানেনা। এ বলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (এ আয়াতটি) তিলাওয়াত করেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁরই নিকট রয়েছে কিয়ামতের জ্ঞান। তিনি নাযিল করেন বৃষ্টি এবং তিনি জানেন, যা রয়েছে মাতৃগর্ভে। আর কেউ জানে না, কী উপার্জন করবে সে আগামীকাল এবং জানে না কেউ, কোন মাটিতে সে মারা যাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু জানেন, সব খবর রাখেন (সূরা লুকমানঃ ৩৪)।
রাবী বলেন, তারপর লোকটি চলে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ লোকটিকে আমার কাছে ফিরিয়ে আন। তাঁরা তাকে আনার জন্য গেলেন। কিন্তু কাউকেই পেলেন না। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইনি জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)। লোকদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য এসেছিলেন।
كتاب الإيمان
كِتَابُ الْإِيمَانَ بَابُ بَيَانِ الْإِيمَانِ وَالْإِسْلَامِ وَالْإِحْسَانِ وَوُجُوبِ الْإِيمَانِ بِإِثْبَاتِ قَدَرِ اللَّهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى وَبَيَانُ الدَّلِيلِ عَلَى التَّبَرِّي مِمَّنْ لَا يُؤْمِنُ بِالْقَدْرِ وَإِغْلَاظِ الْقَوْلِ فِي حَقِّهِ
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ، قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا بَارِزًا لِلنَّاسِ فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الإِيمَانُ قَالَ " أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلاَئِكَتِهِ وَكِتَابِهِ وَلِقَائِهِ وَرُسُلِهِ وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ الآخِرِ " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الإِسْلاَمُ قَالَ " الإِسْلاَمُ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ وَلاَ تُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمَ الصَّلاَةَ الْمَكْتُوبَةَ وَتُؤَدِّيَ الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ وَتَصُومَ رَمَضَانَ " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الإِحْسَانُ قَالَ " أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنَّكَ إِنْ لاَ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَتَى السَّاعَةُ قَالَ " مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ وَلَكِنْ سَأُحَدِّثُكَ عَنْ أَشْرَاطِهَا إِذَا وَلَدَتِ الأَمَةُ رَبَّهَا فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا وَإِذَا كَانَتِ الْعُرَاةُ الْحُفَاةُ رُءُوسَ النَّاسِ فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا وَإِذَا تَطَاوَلَ رِعَاءُ الْبَهْمِ فِي الْبُنْيَانِ فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا فِي خَمْسٍ لاَ يَعْلَمُهُنَّ إِلاَّ اللَّهُ " . ثُمَّ تَلاَ صلى الله عليه وسلم ( إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَىِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ) " . قَالَ ثُمَّ أَدْبَرَ الرَّجُلُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " رُدُّوا عَلَىَّ الرَّجُلَ " . فَأَخَذُوا لِيَرُدُّوهُ فَلَمْ يَرَوْا شَيْئًا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَذَا جِبْرِيلُ جَاءَ لِيُعَلِّمَ النَّاسَ دِينَهُمْ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
অনুসন্ধান ব্যতীত শোনা কথা অন্যের কাছে বলা বিপজ্জনক। মিথ্যা, গীবত, অপবাদ বা শত্রুর উদ্দেশ্য প্রণোদিত প্রচার-প্রোপাগান্ডা শোনা কথার অন্তর্ভুক্ত হলে তা কোনভাবেই অন্যের কাছে বলা যাবে না। যে এ ধরনের কথাবার্তা অন্যের কাছে পৌঁছায়, সে মিথ্যাবাদী, গীবতকারী এবং অপবাদকারীর সমপর্যায়ভুক্ত। কারণ মিথ্যার প্রচার মিথ্যা, গীবতের প্রচার গীবত এবং অপবাদের প্রচার অপবাদ ছাড়া কিছু নয়। সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে শোনা কথা অন্যের কাছে পৌছান মিথ্যার অন্তর্ভুক্ত এবং গুনাহের কাজ। অবশ্য শিক্ষামূলক, আদর্শমূলক বা উৎকৃষ্ট শোনা কথা অপরের কাছে বলা পাপ নয় এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সওয়াবও বটে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)