আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৮৩- তাওহীদ অধ্যায় ও জাহমিয়্যাসহ ভ্রান্ত দলগুলোর অপনোদন
হাদীস নং: ৬৯০৬
আন্তর্জাতিক নং: ৭৪১০
- তাওহীদ অধ্যায় ও জাহমিয়্যাসহ ভ্রান্ত দলগুলোর অপনোদন
৩১২১. আল্লাহর বাণীঃ যাকে আমি নিজ হাতে সৃষ্টি করেছি।
৬৯০৬। মু’আয ইবনে ফাযালা (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ ঈমানদারদেরকে সমবেত করবেন তখন তারা উক্তি করবে, আমরা আমাদের প্রতিপালকের কাছে কোন সুপারিশ যদি নিয়ে যেতাম; তাহলে তিনি আমাদেরকে এই স্থানটি থেকে বের করে শান্তি প্রদান করতেন। এরপর তারা আদম (আলাইহিস সালাম) এর কাছে গিয়ে বলবে, হে আদম (আলাইহিস সালাম)! আপনি কি মানুষের অবস্থা দেখছেন না? অথচ আল্লাহ আপনাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। আপনাকে তিনি তাঁর ফিরিশতাগণ দিয়ে সিজদা করিয়েছেন। আর আপনাকে সব জিনিসের নাম শিক্ষা দিয়েছেন। সুতরাং আপনি আমাদের প্রতিপালকের কাছে সুপারিশ করুন, যেন এই স্থানটি থেকে আমাদেরকে তিনি স্বস্তি প্রদান করেন। আদম (আলাইহিস সালাম) তখন বলবেন, এই কাজের জন্য আমি যোগ্য নই। এবং আদম (আলাইহিস সালাম) তাদের কাছে স্বীয় ভুলের কথা স্মরণ করবেন এবং বলবেন, তোমরা বরং নূহ (আলাইহিস সালাম) এর কাছে যাও। যেহেতু তিনিই আল্লাহর প্রথম রাসুল। যাকে তিনি যমীনবাসীর কাছে প্রেরণ করেছিলেন। (এ কথা শুনে) তারা নূহ (আলাইহিস সালাম) এর কাছে আসবে। তিনিও বলবেন, আমি তোমাদের এই কাজের জন্য যোগ্য নই। তিনি তাঁর কৃত ত্রুটির কথা স্মরণ করে বলবেন, তোমরা বরং আল্লাহর খলীল (বন্ধু) ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর কাছে যাও। তখন তারা ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর কাছে আসবে। তিনিও তাদের কাছে স্বীয় কৃত ত্রুটিসমূহের কথা উল্লেখপূর্বক বলবেন, আমি তোমাদের এই কাজের জন্য যোগ্য নই। তোমরা বরং মুসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে যাও। তিনি এমন একজন বান্দা, যাকে আল্লাহ তাওরাত প্রদান করেছিলেন এবং তাঁর সাথে তিনি প্রত্যক্ষ বাক্যালাপ করেছিলেন। তারা তখন মুসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে আসবে। মুসা (আলাইহিস সালাম)-ও বলবেন, আমি তোমাদের এই কাজের জন্য যোগ্য নই। তাদের কাছে তিনি স্বীয় কৃত ক্রটির কথা উল্লেখপূর্বক বলবেন, তোমরা বরং ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে যাও। যিনি আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল, কালেমা ও রুহ। তখন তারা ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে আসবে। তখন ঈসা (আলাইহিস সালাম) বলবেন, আমি তোমাদের এই কাজের যোগ্য নই। তোমরা বরং মুহাম্মাদ (ﷺ) এর কাছে যাও। তিনি এমন একজন বান্দা, যার আগের ও পরের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই আমার কাছে আসবে। আমি তখন আমার প্রতিপালকের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করবো, আমাকে এর অনুমতি দেওয়া হবে। আমি আমার প্রতিপালককে যখন দেখতে পাব, তখনই আমি তাঁর সামনে সিজদায় পড়বো। আল্লাহ তার মর্জি অনুসারে যতক্ষণ আমাকে সেভাবে রাখার রেখে দেবেন। তারপর আমাকে বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠান। (যা বলার) বলুন। শোনা হবে। (যা চাওয়ার) চান, দেয়া হবে। (যা সুপারিশ করার) করুন, গ্রহণ করা হবে। তখন আমার প্রতিপালকের শিখিয়ে দেয়া প্রশংসারাজির দ্বারা আমি তাঁর প্রশংসা করব। তারপর আমি শাফাআত করব। আমার জন্য একটা সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। এরপর আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেব। তারপর আমি ফিরে আসব। যখন আমি আমার প্রতিপালককে দেখতে পাব, তখন তাঁর জন্য সিজদায় পড়বো। আল্লাহর মর্জি অনুসারে যতক্ষণ আমাকে এভাবে রাখতে চাইবেন রেখে দিবেন। তারপর আমাকে বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠান। বলুন, শোনা হবে। চান, দেওয়া হবে। সুপারিশ করুন, গ্রহণ করা হবে। তখন আমার প্রতিপালকের শিখিয়ে দেয়া প্রশংসারাজি দিয়ে আমি তার প্রশংসা করব এবং সুপারিশ করব। তখনো আমার জন্য একটা সীমা নির্ধারণ করা হবে। আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেব। তারপর আমি আবার ফিরে আসব। আমি এবারও আমার প্রতিপালককে দেখামাত্র সিজদায় পড়বো। আল্লাহ তাআলা তাঁর মর্জি অনুসারে যতক্ষণ ইচ্ছা আমাকে সেই অবস্থায় রেখে দিবেন। তারপর বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠান। বলুন, শোনা হবে। চান, দেয়া হবে। সুপারিশ করুন, কবুল করা হবে। তখন আমার রবের আমাকে শিখিয়ে দেয়া প্রশংসারাজি দ্বারা প্রশংসা করে শাফাআত করব। তখনও একটা সীমা বাতলানো থাকবে। আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেব। এরপর আমি তার কাছে ফিরে গিয়ে বলব, হে প্রতিপালক! এখন একমাত্র তারাই জাহান্নামে অবশিষ্ট রয়েছে, যাদেরকে কুরআন আটক করে রেখে দিয়েছে এবং যাদের উপর স্থায়ীভাবে জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গিয়েছে।
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়েছে, অথচ তার হৃদয়ে একটি যবের ওজন পরিমাণ কল্যাণ (ঈমান) আছে, তাকেও জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। তারপর বের করা হবে জাহান্নাম থেকে তাদেরকেও, যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়েছে এবং তার হৃদয়ে একটি গমের ওজন পরিমাণ কল্যাণ (ঈমান) আছে। (সর্বশেষে) জাহান্নাম থেকে তাকে বের করা হবে, যে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়েছে এবং তার হৃদয়ে অণু পরিমাণ মাত্র কল্যাণ (ঈমান) আছে।
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়েছে, অথচ তার হৃদয়ে একটি যবের ওজন পরিমাণ কল্যাণ (ঈমান) আছে, তাকেও জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। তারপর বের করা হবে জাহান্নাম থেকে তাদেরকেও, যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়েছে এবং তার হৃদয়ে একটি গমের ওজন পরিমাণ কল্যাণ (ঈমান) আছে। (সর্বশেষে) জাহান্নাম থেকে তাকে বের করা হবে, যে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়েছে এবং তার হৃদয়ে অণু পরিমাণ মাত্র কল্যাণ (ঈমান) আছে।
كتاب الرد على الجهمية و غيرهم و التوحيد
باب قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى {لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَىَّ}
7410 - حَدَّثَنِي مُعَاذُ بْنُ فَضَالَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " يَجْمَعُ اللَّهُ المُؤْمِنِينَ يَوْمَ القِيَامَةِ كَذَلِكَ، فَيَقُولُونَ: لَوِ اسْتَشْفَعْنَا إِلَى رَبِّنَا [ص:122] حَتَّى يُرِيحَنَا مِنْ مَكَانِنَا هَذَا، فَيَأْتُونَ آدَمَ، فَيَقُولُونَ: يَا آدَمُ، أَمَا تَرَى النَّاسَ خَلَقَكَ اللَّهُ بِيَدِهِ، وَأَسْجَدَ لَكَ مَلاَئِكَتَهُ، وَعَلَّمَكَ أَسْمَاءَ كُلِّ شَيْءٍ، اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّنَا حَتَّى يُرِيحَنَا مِنْ مَكَانِنَا هَذَا، فَيَقُولُ: لَسْتُ هُنَاكَ، وَيَذْكُرُ لَهُمْ خَطِيئَتَهُ الَّتِي أَصَابَهَا، وَلَكِنِ ائْتُوا نُوحًا، فَإِنَّهُ أَوَّلُ رَسُولٍ بَعَثَهُ اللَّهُ إِلَى أَهْلِ الأَرْضِ، فَيَأْتُونَ نُوحًا، فَيَقُولُ: لَسْتُ هُنَاكُمْ، وَيَذْكُرُ خَطِيئَتَهُ الَّتِي أَصَابَ، وَلَكِنِ ائْتُوا إِبْرَاهِيمَ خَلِيلَ الرَّحْمَنِ، فَيَأْتُونَ إِبْرَاهِيمَ فَيَقُولُ: لَسْتُ هُنَاكُمْ، وَيَذْكُرُ لَهُمْ خَطَايَاهُ الَّتِي أَصَابَهَا، وَلَكِنِ ائْتُوا مُوسَى، عَبْدًا آتَاهُ اللَّهُ التَّوْرَاةَ، وَكَلَّمَهُ تَكْلِيمًا، فَيَأْتُونَ مُوسَى فَيَقُولُ: لَسْتُ هُنَاكُمْ، وَيَذْكُرُ لَهُمْ خَطِيئَتَهُ الَّتِي أَصَابَ، وَلَكِنِ ائْتُوا عِيسَى عَبْدَ اللَّهِ وَرَسُولَهُ، وَكَلِمَتَهُ وَرُوحَهُ، فَيَأْتُونَ عِيسَى، فَيَقُولُ: لَسْتُ هُنَاكُمْ، وَلَكِنِ ائْتُوا مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَبْدًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبهِ وَمَا تَأَخَّرَ، فَيَأْتُونِي، فَأَنْطَلِقُ، فَأَسْتَأْذِنُ عَلَى رَبِّي، فَيُؤْذَنُ لِي عَلَيْهِ، فَإِذَا رَأَيْتُ رَبِّي وَقَعْتُ لَهُ سَاجِدًا، فَيَدَعُنِي مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَدَعَنِي، ثُمَّ يُقَالُ لِي: ارْفَعْ مُحَمَّدُ وَقُلْ يُسْمَعْ، وَسَلْ تُعْطَهْ، وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ، فَأَحْمَدُ رَبِّي بِمَحَامِدَ عَلَّمَنِيهَا، ثُمَّ أَشْفَعُ فَيَحُدُّ لِي حَدًّا، فَأُدْخِلُهُمُ الجَنَّةَ، ثُمَّ أَرْجِعُ، فَإِذَا رَأَيْتُ رَبِّي وَقَعْتُ سَاجِدًا، فَيَدَعُنِي مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَدَعَنِي، ثُمَّ يُقَالُ: ارْفَعْ مُحَمَّدُ وَقُلْ يُسْمَعْ، وَسَلْ تُعْطَهْ، وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ، فَأَحْمَدُ رَبِّي بِمَحَامِدَ عَلَّمَنِيهَا رَبِّي، ثُمَّ أَشْفَعُ فَيَحُدُّ لِي حَدًّا، فَأُدْخِلُهُمُ الجَنَّةَ، ثُمَّ أَرْجِعُ، فَإِذَا رَأَيْتُ رَبِّي وَقَعْتُ سَاجِدًا، فَيَدَعُنِي مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَدَعَنِي، ثُمَّ يُقَالُ: ارْفَعْ مُحَمَّدُ، قُلْ يُسْمَعْ، وَسَلْ تُعْطَهْ، وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ، فَأَحْمَدُ رَبِّي بِمَحَامِدَ عَلَّمَنِيهَا، ثُمَّ أَشْفَعْ، فَيَحُدُّ لِي حَدًّا فَأُدْخِلُهُمُ الجَنَّةَ، ثُمَّ أَرْجِعُ فَأَقُولُ: يَا رَبِّ مَا بَقِيَ فِي النَّارِ إِلَّا مَنْ حَبَسَهُ القُرْآنُ، وَوَجَبَ عَلَيْهِ الخُلُودُ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ: لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَكَانَ فِي قَلْبِهِ مِنَ الخَيْرِ مَا يَزِنُ شَعِيرَةً، ثُمَّ يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ: لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَكَانَ فِي قَلْبِهِ مِنَ الخَيْرِ مَا يَزِنُ بُرَّةً، ثُمَّ يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ: لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَكَانَ فِي قَلْبِهِ مَا يَزِنُ مِنَ الخَيْرِ ذَرَّةً "
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসে উল্লেখিত "خبر" শব্দের তরজমা করা হয়েছে 'ভাল'। এর অর্থ হল ঈমানের জ্যোতি। হযরত আনাস (রা)-এর এই হাদীসটির অন্য বর্ণনায় (যা ইমাম বুখারী (র)ও উল্লেখ করেছেন। " خير " এর পরিবর্তে "ایمان" শব্দ উল্লেখ আছে। এ হাদীস থেকে দু'টি জিনিস স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
(এক) আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই -- কলেমা পড়া সত্ত্বেও অসং কর্মের জন্য আল্লাহর বান্দাদের দোযখে নিক্ষেপ করা হবে। তাই যারা রাসূল (ﷺ)--এর বেহেশতের সুসংবাদ সম্পর্কিত হাদীস পাঠ করে মনে করেন যে, কলেমা পাঠকারী বান্দাকে দোযখে নিক্ষেপ করা হবে না তারা ভুল করেন।)
(দুই) বিশ্বাসী ব্যক্তির ঈমান যত অল্পই হোক না কেন, এবং তার আমল যতই অল্প হোক না কেন তার আখিরাতের জিন্দিগীতে এমন এক সময় আসবে যখন আল্লাহ তা'আলা দয়াপরবশ হয়ে তাকে দোযখ থেকে উদ্ধার করে বেহেশতে স্থান দিবেন।
বুখারী ও মুসলিমে এ সম্পর্কে হযরত আনাস (ﷺ) ছাড়াও হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা), হযরত জারিব (রা) ও হযরত আবূ হুরায়রা (রা)-এর সূত্রে আরো হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসের অন্যান্য কিতাবেও উপরোক্ত সাহাবীগণ ছাড়াও হযরত আবু বকর (রা), হযরত আবূ মূসা (রা) সহ বিভিন্ন সাহাবীর সূত্রে একই বিষয় সম্পর্কিত হাদীস বর্ণিত আছে। সহীহাইনে আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, যে হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে, তাতেও এ সম্পর্কে আরও আলোকপাত করা হয়েছে। দোযখে নিক্ষিপ্ত গুনাহগার মুসলমানদের মুক্তির জন্য বেহেশতবাসীগণ খুব কাকুতি মিনতি করে আল্লাহর কাছে দু‘আ করতে থাকবেন। আল্লাহ্ তা'আলা তাদের দরখাস্ত মঞ্জুর করবেন এবং দিনার পরিমাণ 'ভাল' যার মধ্যে রয়েছে তাদেরকে দোযখ থেকে বের করার অনুমতি দিবেন। এভাবে বহুলোককে দোযখ থেকে বের করা হবে। অতঃপর অর্ধদিনার পরিমাণ 'ভাল' যার মধ্যে রয়েছে তাকে দোযখ থেকে বের করার অনুমতি দেয়া হবে। তাতে আরো বিরাট সংখ্যক লোককে বের করা হবে। অতঃপর বলা হবে, সামান্য পরিমাণ 'ভাল' যাদের মধ্যে রয়েছে তাদেরকেও দোযখ থেকে বের কর। তাতে আরো বিরাট সংখ্যক লোককে দোযখ থেকে বের করা হবে। অতঃপর সুপারিশকারী মু'মিনগণ বলবেন, হে আল্লাহ! সামান্যতম ভালও যাদের মধ্যে রয়েছে তাদেরকেও আমরা ছেড়ে আসিনি। আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, ফিরিশতাদের সুপারিশ ককূল করা হয়েছে, নবীদের সুপারিশ কবুল করা হয়েছে, মু'মিনদের সুপারিশও কবুল করা হয়েছে। এখন বাকী রইল শুধু রাহমানুর রাহীমের পালা। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাঁর রহমত ও মাগফিরাতের হাত দ্বারা এমন লোককেও বের করবেন যারা কখনও কোন নেক আমল করেনি। অতঃপর হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) হাদীসের শেষাংশে সে সব লোক সম্পর্কে বলেন যে, "তারাই আল্লাহর উদ্ধারকৃত বান্দা যাদেরকে আল্লাহ্ তা'আলা কোন আমল ছাড়া বা পূর্বে পাঠানো কোন কল্যাণ ছাড়াই বেহেশতে দাখিল করবেন।
বস্তুতঃ তারা দুর্বল এবং হালকা ঈমানের অধিকারী বান্দা, তাই আল্লাহ্ তার রহমত করমের দ্বারা তাদেরকে নাজাত দিবেন।
(এক) আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই -- কলেমা পড়া সত্ত্বেও অসং কর্মের জন্য আল্লাহর বান্দাদের দোযখে নিক্ষেপ করা হবে। তাই যারা রাসূল (ﷺ)--এর বেহেশতের সুসংবাদ সম্পর্কিত হাদীস পাঠ করে মনে করেন যে, কলেমা পাঠকারী বান্দাকে দোযখে নিক্ষেপ করা হবে না তারা ভুল করেন।)
(দুই) বিশ্বাসী ব্যক্তির ঈমান যত অল্পই হোক না কেন, এবং তার আমল যতই অল্প হোক না কেন তার আখিরাতের জিন্দিগীতে এমন এক সময় আসবে যখন আল্লাহ তা'আলা দয়াপরবশ হয়ে তাকে দোযখ থেকে উদ্ধার করে বেহেশতে স্থান দিবেন।
বুখারী ও মুসলিমে এ সম্পর্কে হযরত আনাস (ﷺ) ছাড়াও হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা), হযরত জারিব (রা) ও হযরত আবূ হুরায়রা (রা)-এর সূত্রে আরো হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসের অন্যান্য কিতাবেও উপরোক্ত সাহাবীগণ ছাড়াও হযরত আবু বকর (রা), হযরত আবূ মূসা (রা) সহ বিভিন্ন সাহাবীর সূত্রে একই বিষয় সম্পর্কিত হাদীস বর্ণিত আছে। সহীহাইনে আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, যে হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে, তাতেও এ সম্পর্কে আরও আলোকপাত করা হয়েছে। দোযখে নিক্ষিপ্ত গুনাহগার মুসলমানদের মুক্তির জন্য বেহেশতবাসীগণ খুব কাকুতি মিনতি করে আল্লাহর কাছে দু‘আ করতে থাকবেন। আল্লাহ্ তা'আলা তাদের দরখাস্ত মঞ্জুর করবেন এবং দিনার পরিমাণ 'ভাল' যার মধ্যে রয়েছে তাদেরকে দোযখ থেকে বের করার অনুমতি দিবেন। এভাবে বহুলোককে দোযখ থেকে বের করা হবে। অতঃপর অর্ধদিনার পরিমাণ 'ভাল' যার মধ্যে রয়েছে তাকে দোযখ থেকে বের করার অনুমতি দেয়া হবে। তাতে আরো বিরাট সংখ্যক লোককে বের করা হবে। অতঃপর বলা হবে, সামান্য পরিমাণ 'ভাল' যাদের মধ্যে রয়েছে তাদেরকেও দোযখ থেকে বের কর। তাতে আরো বিরাট সংখ্যক লোককে দোযখ থেকে বের করা হবে। অতঃপর সুপারিশকারী মু'মিনগণ বলবেন, হে আল্লাহ! সামান্যতম ভালও যাদের মধ্যে রয়েছে তাদেরকেও আমরা ছেড়ে আসিনি। আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, ফিরিশতাদের সুপারিশ ককূল করা হয়েছে, নবীদের সুপারিশ কবুল করা হয়েছে, মু'মিনদের সুপারিশও কবুল করা হয়েছে। এখন বাকী রইল শুধু রাহমানুর রাহীমের পালা। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাঁর রহমত ও মাগফিরাতের হাত দ্বারা এমন লোককেও বের করবেন যারা কখনও কোন নেক আমল করেনি। অতঃপর হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) হাদীসের শেষাংশে সে সব লোক সম্পর্কে বলেন যে, "তারাই আল্লাহর উদ্ধারকৃত বান্দা যাদেরকে আল্লাহ্ তা'আলা কোন আমল ছাড়া বা পূর্বে পাঠানো কোন কল্যাণ ছাড়াই বেহেশতে দাখিল করবেন।
বস্তুতঃ তারা দুর্বল এবং হালকা ঈমানের অধিকারী বান্দা, তাই আল্লাহ্ তার রহমত করমের দ্বারা তাদেরকে নাজাত দিবেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)