আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৮৩- তাওহীদ অধ্যায় ও জাহমিয়্যাসহ ভ্রান্ত দলগুলোর অপনোদন
হাদীস নং: ৬৮৮৩
আন্তর্জাতিক নং: ৭৩৮৬
- তাওহীদ অধ্যায় ও জাহমিয়্যাসহ ভ্রান্ত দলগুলোর অপনোদন
৩১১১. আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা (৫৮ঃ ১)।
আ'মাশ..........আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর, যার শ্রবনশক্তি শব্দরাজিকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। এরই পরে আল্লাহ তাআলা নবী (ﷺ) এর উপর নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন: হে রাসূল! আল্লাহ শুনেছেন সেই নারীর কথা, যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছে। (৫৮ঃ ১)।
আ'মাশ..........আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর, যার শ্রবনশক্তি শব্দরাজিকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। এরই পরে আল্লাহ তাআলা নবী (ﷺ) এর উপর নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন: হে রাসূল! আল্লাহ শুনেছেন সেই নারীর কথা, যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছে। (৫৮ঃ ১)।
৬৮৮৩। সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা কোন এক সফরে নবী (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা উঁচু স্থানে উঠার সময় তাকবীর বলতাম। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা তোমাদের নফসের উপর একটু সদয় হও। কেননা, তোমরা ডাকছ না বধির কিংবা অনুপস্থিত কাউকে। বরং তোমরা ডাকছ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা এবং ঘনিষ্টতম সত্ত্বাকে। এরপর তিনি আমার কাছে আসলেন। তখন আমি মনে মনে لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ পড়ছিলাম। তিনি আমাকে বললেনঃ হে আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স! পড় لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ কেননা এটি জান্নাতের খাযানাসমূহের একটি। অথবা তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাকে সেই বাক্যটির দিকে পথ প্রদর্শন করব না (যা হচ্ছে জান্নাতের খাযানাসমূহের একটি)?
كتاب الرد على الجهمية و غيرهم و التوحيد
بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَكَانَ اللَّهُ سَمِيعًا بَصِيرًا} [النساء: 134]وَقَالَ الأَعْمَشُ، عَنْ تَمِيمٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَسِعَ سَمْعُهُ الأَصْوَاتَ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: {قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا} [المجادلة: 1]
7386 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ، فَكُنَّا إِذَا عَلَوْنَا كَبَّرْنَا، فَقَالَ: «ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ، فَإِنَّكُمْ لاَ تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلاَ غَائِبًا، تَدْعُونَ سَمِيعًا بَصِيرًا قَرِيبًا» ، ثُمَّ أَتَى عَلَيَّ وَأَنَا أَقُولُ فِي نَفْسِي: لاَ حَوْلَ [ص:118] وَلاَ قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، فَقَالَ لِي: «يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ، قُلْ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، فَإِنَّهَا كَنْزٌ مِنْ كُنُوزِ الجَنَّةِ، - أَوْ قَالَ أَلاَ أَدُلُّكَ بِهِ -»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ কালিমার জান্নাতের সম্পদভাণ্ডারের সম্পদস্বরূপ হওয়ার মর্ম এ হতে পারে যে, যে ব্যক্তি খালিস অন্তরে এ কালিমা পাঠ করবে, তার জন্যে এ কালিমার বিনিময়ে জান্নাতে অনন্ত ভাণ্ডার সঞ্চিত রাখা হবে, যদ্বারা সে পরকালে ঠিক তেমনিভাবে উপকৃত হতে পারবে, যেমনটি এ পৃথিবীতে মানুষ তার সম্পদ ভাণ্ডার থেকে উপকৃত হয়ে থাকে।
এও বলা যায় যে, হুযুর ﷺ এ শব্দটির দ্বারা এ কালিমার মাহাত্ম্য বুঝাতে চেয়েছেন। অর্থাৎ এটা হচ্ছে জান্নাতের রত্নভাণ্ডারের এক অমূল্য রত্ন। কোন বস্তুর অধিক মূল্য বুঝাবার জন্যে এ শব্দচয়ন হতে পারে।
লা-হাওলা ওলা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ-এর অর্থ হচ্ছে এই যে, কোন কাজের জন্যে সাধ্য-সাধনা করা ও প্রচেষ্টা চালানোর শক্তি আল্লাহই দান করেন, বান্দা নিজে কিছুই করতে পারে না।
এ অর্থের কাছাকাছি দ্বিতীয় আরেকটি অর্থ এও বলা হয়ে থাকে যে, গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহর আদেশ পালন করা তাঁর দেয়া তাওফীক ছাড়া বান্দার সাধ্যের অতীত।
এও বলা যায় যে, হুযুর ﷺ এ শব্দটির দ্বারা এ কালিমার মাহাত্ম্য বুঝাতে চেয়েছেন। অর্থাৎ এটা হচ্ছে জান্নাতের রত্নভাণ্ডারের এক অমূল্য রত্ন। কোন বস্তুর অধিক মূল্য বুঝাবার জন্যে এ শব্দচয়ন হতে পারে।
লা-হাওলা ওলা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ-এর অর্থ হচ্ছে এই যে, কোন কাজের জন্যে সাধ্য-সাধনা করা ও প্রচেষ্টা চালানোর শক্তি আল্লাহই দান করেন, বান্দা নিজে কিছুই করতে পারে না।
এ অর্থের কাছাকাছি দ্বিতীয় আরেকটি অর্থ এও বলা হয়ে থাকে যে, গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহর আদেশ পালন করা তাঁর দেয়া তাওফীক ছাড়া বান্দার সাধ্যের অতীত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: