আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৮০- ভালো-মন্দ আকাঙ্ক্ষার অধ্যায়
হাদীস নং: ৬৭৩৭
আন্তর্জাতিক নং: ৭২৩১
- ভালো-মন্দ আকাঙ্ক্ষার অধ্যায়
৩০৬২. নবী (ﷺ) এর বাণীঃ যদি এরূপ এরূপ হত
৬৭৩৭। খালিদ ইবনে মাখলাদ (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে নবী (ﷺ) জাগ্রত রইলেন। পরে তিনি বললেনঃ যদি আমার সাহাবীদের কোন এক নেক ব্যক্তি আজ রাত আমার পাহারাদারী করত! হঠাৎ আমরা অস্ত্রের আওয়াজ শুনতে পেলাম। তখন তিনি বললেনঃ এ কে? সা’দ বললেন, এ হচ্ছে সা’দ, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার পাহারাদারীর জন্য এসেছি। তখন নবী (ﷺ) ঘুমালেন, এমনকি আমরা তার নাক ডাকার আওয়াজ শুনতে পেলাম।
আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, বিলাল (রাযিঃ) আবৃতি করেছিল, হায়! আমার উপলব্ধি, আমি কি উপত্যকায় রাত যাপন করতে পারব, যখন আমার পাশে হবে জালীল ও ইযখির ঘাস। পরে আমি নবী (ﷺ) কে এ খবর পৌছিয়েছিলাম।
আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, বিলাল (রাযিঃ) আবৃতি করেছিল, হায়! আমার উপলব্ধি, আমি কি উপত্যকায় রাত যাপন করতে পারব, যখন আমার পাশে হবে জালীল ও ইযখির ঘাস। পরে আমি নবী (ﷺ) কে এ খবর পৌছিয়েছিলাম।
كتاب التمنى
باب قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم لَيْتَ كَذَا وَكَذَا
7231 - حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ: أَرِقَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ، فَقَالَ: «لَيْتَ رَجُلًا صَالِحًا مِنْ أَصْحَابِي يَحْرُسُنِي اللَّيْلَةَ» إِذْ سَمِعْنَا صَوْتَ السِّلاَحِ، قَالَ: «مَنْ هَذَا؟» ، قَالَ سَعْدٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، جِئْتُ أَحْرُسُكَ، فَنَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى سَمِعْنَا غَطِيطَهُ، قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: وَقَالَتْ عَائِشَةُ: قَالَ بِلاَلٌ:
[البحر الطويل]
[ص:84]
«أَلاَ لَيْتَ شِعْرِي هَلْ أَبِيتَنَّ لَيْلَةً ... بِوَادٍ وَحَوْلِي إِذْخِرٌ وَجَلِيلُ»
، فَأَخْبَرْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
[البحر الطويل]
[ص:84]
«أَلاَ لَيْتَ شِعْرِي هَلْ أَبِيتَنَّ لَيْلَةً ... بِوَادٍ وَحَوْلِي إِذْخِرٌ وَجَلِيلُ»
، فَأَخْبَرْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
যখন কোন বান্দার অন্তরে আল্লাহর কোন খাছ বান্দার প্রতি ঐ খাঁটি ভালবাসা সৃষ্টি হয়ে যায়- যাকে এশক ও প্রেম বলা হয়, তখন অনেক সময় এমন হয় যে, প্রেমাস্পদের অন্তরে যে অবস্থা ও ভাব সৃষ্টি হয়, প্রেমিকের অন্তরে এর প্রভাব পড়ে। হযরত আয়েশা রাযি. যে ঘটনা বর্ণনা করেছেন, এটা ঐ বাস্তবতারই একটি দৃষ্টান্ত। হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি.- যিনি প্রথম যুগের মুসলমান, তাঁর মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি এ পর্যায়ের এশকের সম্পর্ক ছিল। এর ফল এই ছিল যে, কোন সাময়িক আশংকার কারণে ঘুম না আসার যেভাব ও আকাঙ্খা হুযুর (ﷺ)-এর অন্তরে জাগ্রত হল যে, কোন পুণ্যবান ব্যক্তি যদি এ সময় এসে যেত, আর আমার পাহারাদারী করত, তাহলে আমি নিশ্চিন্তে ঘুম যেতে পারতাম। এর প্রভাব হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি.-এর অন্তরে পড়ল এবং তিনি তীর, ধনুক, বল্লম ইত্যাদিতে সজ্জিত হয়ে হুযুর (ﷺ)-এর নিরাপত্তা বিধানের উদ্দেশ্যে এসে গেলেন, নিঃসন্দেহে হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাসের অন্তরে হুযূর (ﷺ)-এর প্রতি এ পর্যায়ের এশক আল্লাহ তা'আলার এক বিরাট নেয়ামত এবং তাঁর বিশেষ মর্যাদার প্রতীক।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)