মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৫০৮
নামাযের অধ্যায়
(৪) অধ্যায়: মাসবুক ব্যক্তির করণীয়
(১৫০৪) উরওয়া ইবন মুগিরা থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা মুগিরা ইবন শু'বা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তাবুক যুদ্ধের সময় আমি রাসূল (ﷺ)-এর সাথে পিছনে রয়ে গেলাম। রাসূল (ﷺ) (প্রয়োজন পূরণার্থে) একটু দূরে গেলেন, অতঃপর তিনি আমার নিকটে ফিরে এলেন। যেহেতু পানির পাত্রটি আমার কাছেই ছিল। রাবী বলেন, অতঃপর আমি রাসূল (ﷺ)-এর দুই হাতেই পানি ঢেলে নিলাম। অতঃপর তিনি নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করলেন, অতঃপর তিনি তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করলেন। এরপর তিনি জুব্বার হাতা না খুলেই হস্তদ্বয় ধৌত করতে চাইলেন কিন্তু তাঁর জুব্বার হাতাদ্বয় বেশ সংকীর্ণ ছিল, সেজন্য তিনি জুব্বা থেকে হাত বের করলেন, অতঃপর তিনি তাঁর ডান হাত তিনবার ধৌত করলেন এবং এরপর তাঁর বামহাত তিনবার ধৌত করলেন এবং তাঁর মোজাদ্বয়ের উপর মাসহ করলেন, কিন্তু সে দু'টো খুলেন নি। এরপর তিনি মানুষদের দিকে গেলেন। দেখতে পেলেন তারা আব্দুর রহমান ইবন আওফকে ইমামতির জন্য সামনে পাঠিয়েছে। এক্ষণে রাসূল (ﷺ) দুই রাকা'আতের এক রাকা'আত পেলেন। তখন তিনি মানুষদের সাথে শেষের রাকা'আত সালাত আব্দুর রহমান ইবন আওফের ইমামতিতে আদায় করলেন। আব্দুর রাহমান যখন সালাম ফিরালেন রাসূল (ﷺ) দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বাকী সালাত পূর্ণ করলেন। (এ অবস্থা। মুসলমানদের ভীত করে। ফলে তাঁরা বেশী বেশী তাসবীহ পাঠ করতে থাকে। অতঃপর রাসূল (ﷺ) যখন (সালাত) শেষ করলেন তখন তাঁদের দিকে ফিরে তাঁদেরকে বললেন, তোমরা ঠিক করেছ এবং যথার্থ করেছ এবং তাঁদের থেকে এ আশাবাদ ব্যক্ত করলেন যে, তাঁরা সর্বদাই যথাসময়ে সালাত আদায় করবে।
(দ্বিতীয় সূত্রে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তাতে মুগিরা বলেন,) অতঃপর আমরা মানুষদের সাথে মিলিত হলাম, ততোক্ষণে সালাতের ইকামাত বলা হয়েছে, আব্দুর রাহমান ইবন 'আওফ ইমামতি করছেন এবং এক রাকা'আত সালাত হয়েও গেছে। আমি তাঁকে (রাসূল (ﷺ)-এর আগমন) সংবাদ দিতে যাচ্ছিলাম, রাসূল (ﷺ) আমাকে থামিয়ে দিলেন। অতঃপর আমরা সালাত যতটুকু পেলাম আদায় করে নিলাম। বাকিটুকু পরে পুরো করলাম।
(তৃতীয় একটি সূত্রেও অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তাতে মুগিরা বলেন) অতঃপর আমরা লোকজনের নিকট পৌছে গেলাম, তাঁরা আব্দুর রাহমান ইবন আওফের ইমামতিতে এক রাকা'আত সালাত আদায় করেছে। অতঃপর সে যখন নবী (ﷺ)-এর আগমন বুঝতে পারল সে পিছনে সরে আসতে চাইলো। নবী (ﷺ) তাঁকে সালাত পূর্ণ করার ইঙ্গিত দিলেন। অতঃপর (সালাত শেষে) তিনি বললেন, তুমি উত্তম কাজ করেছ। এমনই করবে।
(হাদীসটি বুখারী, মুসলিম ও বায়হাকীতে বর্ণিত হয়েছে। তাহাভী ও অন্যান্য সুনানের গ্রন্থসমূহে সংক্ষিপ্ত ও বিস্তৃত বিভিন্নভাবে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما يفعل المسبوق
(1508) عن عروة بن المغيرة عن أبيه المغيرة بن شعبة رضي الله
عنه أنَّه قال تخلَّفت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فى غزوة تبوك فتبرَّز رسول الله صلى الله عليه وسلم ثمَّ رجع إلىَّ ومعى الإدارة قال فصببت على يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم ثمَّ استنثر قال يعقوب ثمَّ تمضمض ثمَّ غسل وجهه ثلاث مرَّاتٍ ثمَّ أراد أن يغسل يديه قبل أن يخرجهما من كمَّى جبَّته فضاق عنه كماَّ ها فأخرج يده من الجبَّة فغسل يده اليمنى ثلاث مرَّاتٍ، ويده اليسرى ثلاث مرَّاتٍ، ومسح بخفَّية ولم ينزعها، ثمَّ عمد إلى النَّاس فوجدهم قد قدَّموا عبد الرَّحمن بن عوفٍ يصلِّى بهم، فأدرك رسول الله صلى الله عليه وسلم إحدى الرَّكعتين فصلَّى النَّاس الرَّكعة الآخرة بصلاة عبد الرَّحمن، فلمَّا سلَّم عبد الرَّحمن قام رسول الله صلى الله عليه وسلم يتمُّ صلاته فأفزع المسلمين فأكثروا التسبيح، فلمَّا قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم أقبل عليهم فقال أحسنتم وأصبتم ينبطهم أن صلَّوا الصَّلاة لوقتها
(ومن طريقٍ ثانٍ بنحوه وفيه قال المغيرة) ثمَّ لحقنا النَّاس وقد أقيمت الصلَّاة وعبد الرَّحمن بن عوفٍ يؤمُّهم وقد صلى ركعةً فذهبت لأوذنه فنهانى (يعنى النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم) التَّى أدركنا وقضينا الَّتى سبقنا بها (وفى لفظٍ) فصلَّينا الرَّكعة الَّتى أدركنا وقضينا الرَّكعة الَّتى سبقتنا (ومن طريقٍ ثالثٍ بنحوه أيضًا وفيه قال المغيرة) فانتهينا إلى القومٍ وقد صلَّى بهم عبد الرَّحمن ابن عوفٍ ركعةً، فلمَّا أحسَّ بالنَّبيَّ صلى الله عليه وسلم ذهب يتأخَّر فأومأ إليه أن يتمَّ الصلَّاة وقال قد أحسنت كذلك فافعل
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান