মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১০২৭
নামাযের অধ্যায়
(৩) অনুচ্ছেদ: রাসুলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন (নফল) নামাযের বিবরণ সম্পর্কে ইবন আব্বাস (রা) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে
(১০২৩) ইকরামা ইবন্ খালিদ আল-মাখযুমী থেকে বর্ণিত, তিনি সাঈদ ইবন যুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন। তিনি ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, আমি আমার খালা মায়মূনা বিনতে হারিছ (রা)-এর নিকট এসেছিলাম এবং তাঁর নিকট রাত্রি যাপন করেছিলাম। আমি তাঁকে এমন রাত্রিতে পেলাম, যে রাত্রে রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর ঘরে থাকার কথা, রাসূল (সা) ইশার নামায আদায় করলেন তারপর তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন এবং দাবাগাত করা চামড়ার তৈরী বালিশে মাথা রাখলেন (শুয়ে পড়লেন) যা ছিল তন্তু দিয়ে ভরানো। আমিও আসলাম এবং তার এক পাশে মাথা রেখে (শুয়ে) পড়লাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা) ঘুম থেকে জেগে উঠলেন এবং দেখলেন যে, রাত্রির অনেক বাকি আছে, তারপর সুবহানাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলে আবার ঘুমিয়ে পড়লেন। তারপর আবার তিনি ঘুম থেকে জাগলেন ততক্ষণে রাত্রি অর্ধাংশ কিংবা তিনি বলেন, এক তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁর বৈষয়িক প্রয়োজন মেটালেন। তারপর তিনি লটকানো এক মশকের নিকট আসলেন যাতে পানি ছিল। তিনি তিন বার (গড়গড়া) কুলি করলেন, তিনবার নাকে পানি দিলেন, তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করলেন ও তিনবার হাত কুনই পর্যন্ত ধৌত করলেন এবং তিনি তাঁর মাথা ও কানদ্বয় মাস্হ করলেন। তারপর তিনি তাঁর পা দু'টি ধৌত করলেন। ইয়াযীদ বলেন: আমার মনে হয় তিনি তিন বার তিন বার কথাটি বলেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর নামাযের জায়গায় আসলেন। আমিও উঠলাম এবং তিনি যা যা করেছিলেন আমিও তা-ই করলাম। তারপর আমি এসে তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম। আমার ইচ্ছা যে, আমিও তাঁর সাথে নামায আদায় করব। রাসূলুল্লাহ (সা) আমাকে সুযোগ দিলেন তবে তিনি যখন বুঝতে পারলেন যে, আমি তাঁর সাথে নামায আদায় করতে চাই তখন তিনি তাঁর ডান হাত বাড়ালেন এবং আমার কান ধরে ঘুরিয়ে এনে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন, তারপর রাসূল (সা) যখন মনে করলেন যে, রাত্রি বাকি আছে তখন তিনি দু' রাকা'আত দু' রাকা'আত করে নামায আদায় করে চললেন। তারপর যখন ধারণা করলেন যে, ফজরের সময় ঘনিয়ে আসছে তখন তিনি আরও ছয় রাকা'আত নামায আদায় করলেন, এবং সপ্তম রাকা'আত দিয়ে বিতর আদায় করলেন। তারপর যখন ফজরের (আলো) আলোকিত হলো তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং দু' রাকা'আত নামায আদায় করে নিলেন। এরপর তিনি (বিছানায়) পাশ রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি আমি তাঁর ঘুমের মধ্যকার নাক ডাকার শব্দ শুনছিলাম। তারপর বিলাল (রা) আসলেন এবং (ফজর) নামাযের জন্য তাঁকে ডাকলেন, তখন তিনি (ঘর থেকে) বের হয়ে নামায আদায় করলেন অথচ তিনি পানি স্পর্শও করলেন না। আমি সাঈদ ইবন যুবায়র (রা)-কে বললাম, এটা বেশ তো চমৎকার। সাঈদ ইবন যুবায়র (রা) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি যখন এ কথা ইবন আব্বাস (রা)-কে বললাম, তখন তিনি আমাকে (ধমক দিয়ে) বললেন, রাখ। ওটা তোমার কিংবা তোমার বন্ধুদের জন্য নয়। ওটা একমাত্র রাসূলুল্লাহ (সা)-এর জন্য। কেননা (ঘুমের মাঝেও) তাঁর ওযু সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
كتاب الصلاة
(3) باب ما روى عن ابن عباس رضى الله عنهما
في صفة صلاة رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم من الليل
(1027) عن عكرمة بن خالد المخزومي عن سعيد بن جبير عن ابن عباس رضى الله عنهما قال أتيت خالتي ميمونة بنت الحارث فبت عندها فوجدت ليلتها تلك من رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم العشاء ثم دخل بيته فوضع رأسه على وسادة من أدم (1) حشوها ليف، فجئت فوضعت رأسي على ناحية منها، فاستيقظ رسول الله صلى الله عليه وسلم فنظر فإذا عليه ليل (2) فسبح وكبر حتى نام ثم استيقظ وقد ذهب شطر الليل أو قال ثلثاه، فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فقضى حاجته ثم جاء إلى قربة على شجب (3) فيها ماء فمضمض ثلاثا واستنشق ثلاثا وغسل وجهه ثلاثا، وذراعيه ثلاثا ثلاثا، ومسح برأسه وأذنيه، ثم غسل قدميه، قال يزيد حسبته قال ثلاثا ثلاثا، ثم أتى مصلاة فقمت وصنعت كما صنع، ثم جئت فقمت عن يساره وأنا أريد أن أصلي بصلاه، فأمهل رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى إذا عرف أني أريد أن أصلي بصلاته لفت يمينه فأخذ بأذني فأدارني حتى أقامني عن يمينه، فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ما رأى أن عليه ليلا (1) ركعتين، فلما ظن أن الفجر قد دنا قام فصلى ست ركعات أوتر بالسابعة، حتى إذا ضاء الفجر قام فصلى ركعتين، ثم وضع جنبه فنام حتى سمعت فخيخه (2) ثم جاءه بلال فآذنه بالصلاة فخرج فصلى وما مس ماء، فقلت لسعيد بن جبير ما أحسن هذا (3) فقال سعيد بن جبير أما والله لقد قلت ذاك لابن عباس فقال مه (4) إنها ليست لك ولا لأصحابك، إنها لرسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم، إنه كان يحفظ
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান