মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৬২
নামাযের অধ্যায়
(২৩) বিভিন্ন সালাতে কিরাআত পাঠ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৫৫৮) সুলাইমান ইবন্ ইয়াসার (র) থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, আবু হুরায়রা (রা) বলেছেন, মদীনার ইমাম অমুক ব্যক্তি*-এর তুলনায় অন্য কারও সালাত রাসূল (ﷺ)-এর সালাতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ দেখি নি অন্য এক বর্ণনায় আমি রাসূল (ﷺ)-এর ওফাতের পর অন্য কারও পেছনে রাসূল (ﷺ)-এর সালাত সাদৃশ্য সালাত আদায় করি নি)।
সুলাইমান ইব্‌ন ইয়াসার (রা) বলেন (এতদশ্রবণে) আমি তখন তার পেছনে সালাত আদায় করেছি। (লক্ষ্য করলাম যে,) তিনি জোহরের সালাতে প্রথম দু'রাকা'আতে কিরাআত দীর্ঘায়িত করেছেন এবং পরবর্তী দু'রাকা'আতে কিরা'আত-সংক্ষিপ্ত করেছেন, আর আসরের-সালাতকে সর্বসাকুল্যে সংক্ষিপ্ত করেছেন। এবং মাগরিবের প্রথম দু'রাকা'আতে কিসারে মুফাসসাল*, ইশার প্রথম দু'রাকা'আতে আওসাত-ই মুফাসসাল* ও ফজরের সালাতে 'তিওয়াল-ই-মুফাসসাল' তিলাওয়াত করতেন।
*(উক্ত ব্যক্তি ছিলেন, উমর ইবন আব্দুল আযীয (র) যার বর্ণনা অত্র হাদীসের শেষে রয়েছে।)
*(কিছারে মুফাসসাল বলতে মালেকীদের নিকট সূরা দুহা থেকে নাস পর্যন্ত, হানাফী ও শাফেয়ীদের নিকট দুহার পর থেকে নাস পর্যন্ত।)
*(আওসাতে মুফাসাল বলতে মালেকীদের নিকট 'আস থেকে লাইল পর্যন্ত এবং হানাফী ও শাফেয়ীদের নিকট নাবার পর থেকে দুহা পর্যন্ত।)
*(তিওয়ালে মুফাস্সাল বলতে মালেকীদের নিকট হুজুরাত থেকে নাযিআত এবং হানাফীদের নিকট কাফ থেকে নাবা ও শাফেয়ীদের নিকট হুজুরাত থেকে নাবা পর্যন্ত।
(অন্য এক বর্ণনায় ফজর বুঝানোর জন্য 'আন নাবা'-এর পরিবর্তে 'আসসুবহু' বলা হয়েছে)
দাহ্হাক (রা) বলেন আনাস ইবন্ মালিকের মুখে শুনে জনৈক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন আমি এ যুবক অর্থাৎ উমর ইবন্ আব্দুল 'আযীয (র)-এর সালাতের ন্যায় অন্য কারও সালাত রাসূল (ﷺ)-এর সালাতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ দেখি নি। দাহহাক (র) বলেন: আমি 'উমর ইবন আব্দুল 'আযীয (রা)-এর পেছনে সালাত আদায় করলাম এবং সুলাইমান ইবন্ ইয়াসার (র) যেমনটি বলেছিলেন তাঁর সালাত তেমনই পেয়েছি।
(নাসাঈ (র)-সহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন। হাফিয (র) বলেন, ইবন্ খুযাইমা (র) হাদীসখানাকে সহীহ্ বলেছেন। 'বুলুগুল মারাম' গ্রন্থে হাদীসের সনদকে সহীহ্ বলা হয়েছে।)
كتاب الصلاة
(23) باب جامع القراءة فى الصلوات
(562) عن سليمان بن يسارٍ عن أبى هريرة رضى الله عنه قال ما رأيت رجلًا (وفى روايةٍ ما صلَّيت وراء أحدٍ بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم) أشبه صلاةٍ برسول الله صلى الله عليه وسلم من فلانٍ لإمامٍ كان بالمدينة (1) قال سليمان بن يسارٍ فصلَّيت خلفه فكان يطيل الأوليين (وفى روايةٍ الرَّكعتين الأوليين) من الظُّهر ويخفِّف الأخريين، ويخفِّف العصر، ويقرأ في الأوليين من المغرب بقصار المفصَّل، ويقرأ فى الأوليين من العشاء من وسط المفصَّل، ويقرأ فى الغداة (وفي روايةٍ فى الصُّبح) بطوال المفصَّل، قال الضَّحَّاك وحدَّثنى من سمع أنس بن مالكٍ (1) يقول ما رأيت أحدًا أشبه صلاةٍ بصلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم من هذا الفتى يعنى عمر بن عبد العزيز، قال الضَّحَّاك فصلَّيت خلف عمر بن عبد العزيز وكان يصنع مثل ما قال سليمان بن يسارٍ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

"মুফাস্সাল"-কুরআন মাজীদের শেষ মনযিল তথা 'সূরা হুজুরাত' থেকে শেষ পর্যন্ত সূরাসমূহকে মুফাস্সাল বলা হয়। এতে আবার তিনটি ভাগ রয়েছে। যথা- সূরা 'হুজুরাত' থেকে 'বুরূজ' পর্যন্ত সূরাসমূহকে তিওয়ালে মুফাস্সাল, সূরা 'বুরূজ' থেকে সূরা 'বায়্যিনাহ' পর্যন্ত সূরাসমূহকে আওসাতে মুফাস্সাল এবং সূরা 'বায়্যিনাহ' থেকে সূরা 'নাস' পর্যন্ত সূরাসমূহকে কিসারে মুফাস্সাল বলা হয়।

হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বর্ণিত হাদীসে যে ব্যক্তির সালাতকে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সালাতের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে তার নাম অজ্ঞাত। বর্ণনাটি এরূপ-রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সালাতের সাথে তাঁর সালাতের রয়েছে অপূর্ব মিল এবং তাঁর সালাতের সাথে তুলনীয় হতে পারে এমন কোন ব্যক্তির পেছনে আমি আর কখনো সালাত আদায় করিনি। হযরত আবূ হুরায়রা ও সুলায়মান ইবনে ইয়াসার কেউই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন নি। কিন্তু ভাষ্যকারগণ অনুমান করে উক্ত ব্যক্তির নাম চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু তারা গ্রহণযোগ্য কোন তথ্য উপহার দিতে পারেন নি। হাদীসের বিষয়বস্তু যেহেতু পরিষ্কার তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম অজ্ঞাত থাকায় আসল উদ্দেশ্য যেমন ব্যাহত হবে না। তেমনি এই মাস'আলার উপর কোন প্রভাবও পড়বে না।

হযরত সুলায়মান ইবনে ইয়াসার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সালাতের যে সবিস্তার বিবরণ দিয়েছেন সে মতে হযরত আবু হুরায়রা (রা) বর্ণিত হাদীস থেকে জানা যায় যে, সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রা) অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির আমলের যে বিবরণ পেশ করেছেন রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বিভিন্ন সালাতের কিরা'আত ঠিক ঐরূই ছিল। অর্থাৎ যুহরে দীর্ঘ ও আসরে হালকা কিরা'আত, মাগরিবে কিসারে মুফাস্সাল, এশায় আওসাতে মুফাসসাল এবং ফজরে তিওয়ালে মুফাস্সাল পাঠ করতেন।

হযরত উমার (রা)-এ পর্যায়ে হযরত আবূ মূসা আশ'আরী (রা)-এর উদ্দেশ্য যে পত্র প্রেরণ করেছিলেন তাতেও বিভিন্ন সময়ের সালাতের কিরা'আত সম্পর্কে একই নির্দেশনা প্রকাশ পেয়েছে। মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক গ্রন্থে নিম্নবর্ণিত শব্দযোগে হযরত উমর (রা)-এর পত্রের বিষয় উল্লেখিত হয়েছে: كَتَبَ عُمَرُ إِلَى أَبِي مُوسَى أَنِ اقْرَأْ فِي الْمَغْرِبِ ........ بطوال المفصل হযরত উমর (রা), হযরত আবূ মূসা আশ'আরী (রা)-এর উদ্দেশ্য একপত্রে লেখেন, "তুমি মাগরিবের সালাতে কিসারে মুফাস্সাল, এশায় আওসাতে মুফাস্সাল এবং ফজরে তিওয়ালে মুফাস্সাল পাঠ করবে।"

ইমাম তিরমিযী (র) এই পত্রের বরাত দিয়ে যুহরে আওসাতে মুফাস্সাল পাঠ করার বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। (তিরমিযীর যুহর ও আসরের কিরা'আত অনুচ্ছেদ)
হযরত উমর (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বাণী এবং আমল অনুধাবন করেই আবূ মূসা আশ'আরীর কাছে পত্র প্রেরণ করেছিলেন। এই পত্রের উপর ভিত্তি করে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ ইমাম বিভিন্ন সময়ের সালাতে হযরত উমর (রা)-এর পত্রকে দিক নির্দেশনারূপে স্বীকৃতি দিয়ে তা কার্যে পরিণত করাকে সর্বোৎকৃষ্ট আমল বলে অভিহিত করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ - হাদীস নং ৫৬২ | মুসলিম বাংলা