আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৭৪- আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তওবার প্রতি আহবান ও তাদের সাথে যুদ্ধ
হাদীস নং: ৬৪৭০
আন্তর্জাতিক নং: ৬৯৩৯
- আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তওবার প্রতি আহবান ও তাদের সাথে যুদ্ধ
২৯০৬. ব্যাখ্যা প্রদানকারীদের সম্পর্কে যা বর্ণনা করা হয়েছে।
৬৪৭০। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... জনৈক রাবী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক কারণে আবু আব্দুর রহমান ও হিব্বান ইবনে আতিয়্যার মাঝে ঝগড়া বাঁধে। আবু আব্দুর রহমান হিব্বান কে বললেন, আমি অবশ্যই জানি যে, কোন বিষয়টি আপনার সাথীকে রক্তপাতে দুঃসাহসী করে তুলেছে। –সাথী অর্থাৎ আলী (রাযিঃ)– সে বলল, সেটা কি! তোমার পিতা জীবিত না থাকুক। আবু আব্দুর রহমান বলল, তা আলী (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি। হিব্বান বলল, সেটা কি? আবু আব্দুর রহমান বলল, (আলী রাযিঃ র বর্ণনাঃ) যুবাইর, আবু মারছাদ এবং আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঠালেন। আমরা সকলেই অশ্বারোহী ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা রওযায়ে হাজ (‘খাখ' বিশুদ্ধতম) পর্যন্ত যাবে। –আবু সালামা (রাহঃ) বলেন, আবু আওয়ানা (রাহঃ) ‘হাজ’ অনুরূপই বলেছেন– তথায় একজন মহিলা রয়েছে, যার কাছে হাতিব ইবনে আবু বালতাআর তরফ থেকে (মক্কার) মুশরিকদের কাছে প্রেরিত একখানা চিঠি আছে, তোমরা তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে।
আমরা আমাদের ঘোড়ায় চড়ে রওয়ানা দিলাম। অবশেষে আমরা তাকে ঐ স্থানেই পেলাম, যে স্থানের কথা আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন। সে তার উটে চলছিল। হাতিব ইবনে আবু বালতাআ (রাযিঃ) মক্কাবাসীদের কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের দিকে রওয়ানা হওয়া সম্পর্কিত সংবাদ জানিয়ে পত্র লিখেছিলেন। আমরা বললাম, তোমার সাথে যে পত্র রয়েছে, তা কোথায়? সে বলল, আমার সাথে কোন পত্র নেই। আমরা তার উটকে বসালাম এবং তার হাওদায় খোঁজাখুজি করলাম। কিন্তু কিছুই পেলাম না। তখন আমার সঙ্গী দু’জন বললেন, তার সাথে তো আমরা কোন পত্র দেখছি না। আমি বললাম, আমরা অবশ্যই জানি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অসত্য বলেননি।
তারপর আলী (রাযিঃ) কসম করে বললেনঃ ঐ সত্তার কসম! যার নামে কসম করা হয়, অবশ্যই তোমাকে চিঠি বের করে দিতে হবে, নতুবা তোমাকে উলঙ্গ করে ছাড়ব। তখন সে তার চাদরে বাঁধা কোমরের প্রতি নিবিষ্ট হল এবং (সেখান থেকে) পত্রটি বের করে দিল। তাঁরা পত্রটি নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলেন। তখন উমর (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের সাথে খিয়ানত করেছে। আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে হাতিব! এ কাজে তোমাকে কিসে প্রবৃত্ত করেছে? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কেন আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ঈমান রাখব না! আসল কথা হচ্ছে, আমি চাচ্ছিলাম যে, কওমের (মক্কাবাসী) প্রতি আমার কিছুটা অনুগ্রহসূচক কাজ হোক, যার বদৌলতে আমার পরিবারবর্গ ও মাল সম্পদ রক্ষা পায়। আপনার সাথীদের প্রত্যেকেরই সেখানে স্বগোত্রীয় এমন লোক রয়েছে, যাদের মাধ্যমে আল্লাহ তার পরিবারবর্গ ও মাল সম্পদ রক্ষার ব্যবস্থা করবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সে ঠিকই বলেছে। সুতরাং তোমরা তার সম্পর্কে ভালো ছাড়া মন্দ কোন মন্তব্য করো না।
বর্ণনাকারী বলেন, উমর (রাযিঃ) পূনরায় বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে আল্লাহ, তার রাসূল ও মুমিনদের সাথে খিয়ানত করেছে। আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। তিনি বললেনঃ সে কি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী নয়? তোমার কি জানা নেই? আল্লাহ তাদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেছেনঃ "তোমরা যা ইচ্ছা তা কর। তোমাদের জন্য জান্নাত নির্ধারিত করে ফেলেছি।" এ কথা শুনে উমর (রাযিঃ)-এর চক্ষুযুগল অশ্রুসিক্ত হয়ে গেল এবং তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সর্বাধিক জ্ঞাত।
আবু আব্দুল্লাহ [বুখারী (রাহঃ)] বলেন, خاخ ‘খাখ' বিশুদ্ধতম। তবে আবু আওয়ানা (রাহঃ) حاج অনুরূপ বলেছেন। আর حاج বিকৃতি। আর এটি একটি স্থানের নাম। হুশায়ম (রাহঃ) خاخ বলেছেন।
আমরা আমাদের ঘোড়ায় চড়ে রওয়ানা দিলাম। অবশেষে আমরা তাকে ঐ স্থানেই পেলাম, যে স্থানের কথা আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন। সে তার উটে চলছিল। হাতিব ইবনে আবু বালতাআ (রাযিঃ) মক্কাবাসীদের কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের দিকে রওয়ানা হওয়া সম্পর্কিত সংবাদ জানিয়ে পত্র লিখেছিলেন। আমরা বললাম, তোমার সাথে যে পত্র রয়েছে, তা কোথায়? সে বলল, আমার সাথে কোন পত্র নেই। আমরা তার উটকে বসালাম এবং তার হাওদায় খোঁজাখুজি করলাম। কিন্তু কিছুই পেলাম না। তখন আমার সঙ্গী দু’জন বললেন, তার সাথে তো আমরা কোন পত্র দেখছি না। আমি বললাম, আমরা অবশ্যই জানি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অসত্য বলেননি।
তারপর আলী (রাযিঃ) কসম করে বললেনঃ ঐ সত্তার কসম! যার নামে কসম করা হয়, অবশ্যই তোমাকে চিঠি বের করে দিতে হবে, নতুবা তোমাকে উলঙ্গ করে ছাড়ব। তখন সে তার চাদরে বাঁধা কোমরের প্রতি নিবিষ্ট হল এবং (সেখান থেকে) পত্রটি বের করে দিল। তাঁরা পত্রটি নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলেন। তখন উমর (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের সাথে খিয়ানত করেছে। আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে হাতিব! এ কাজে তোমাকে কিসে প্রবৃত্ত করেছে? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কেন আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ঈমান রাখব না! আসল কথা হচ্ছে, আমি চাচ্ছিলাম যে, কওমের (মক্কাবাসী) প্রতি আমার কিছুটা অনুগ্রহসূচক কাজ হোক, যার বদৌলতে আমার পরিবারবর্গ ও মাল সম্পদ রক্ষা পায়। আপনার সাথীদের প্রত্যেকেরই সেখানে স্বগোত্রীয় এমন লোক রয়েছে, যাদের মাধ্যমে আল্লাহ তার পরিবারবর্গ ও মাল সম্পদ রক্ষার ব্যবস্থা করবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সে ঠিকই বলেছে। সুতরাং তোমরা তার সম্পর্কে ভালো ছাড়া মন্দ কোন মন্তব্য করো না।
বর্ণনাকারী বলেন, উমর (রাযিঃ) পূনরায় বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে আল্লাহ, তার রাসূল ও মুমিনদের সাথে খিয়ানত করেছে। আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। তিনি বললেনঃ সে কি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী নয়? তোমার কি জানা নেই? আল্লাহ তাদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেছেনঃ "তোমরা যা ইচ্ছা তা কর। তোমাদের জন্য জান্নাত নির্ধারিত করে ফেলেছি।" এ কথা শুনে উমর (রাযিঃ)-এর চক্ষুযুগল অশ্রুসিক্ত হয়ে গেল এবং তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সর্বাধিক জ্ঞাত।
আবু আব্দুল্লাহ [বুখারী (রাহঃ)] বলেন, خاخ ‘খাখ' বিশুদ্ধতম। তবে আবু আওয়ানা (রাহঃ) حاج অনুরূপ বলেছেন। আর حاج বিকৃতি। আর এটি একটি স্থানের নাম। হুশায়ম (রাহঃ) خاخ বলেছেন।
كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم
باب مَا جَاءَ فِي الْمُتَأَوِّلِينَ
6939 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ فُلَانٍ، قَالَ: تَنَازَعَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَحِبَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، فَقَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، لِحِبَّانَ: لَقَدْ عَلِمْتُ مَا الَّذِي جَرَّأَ صَاحِبَكَ عَلَى الدِّمَاءِ، يَعْنِي عَلِيًّا، قَالَ: مَا هُوَ لَا أَبَا لَكَ؟ قَالَ: شَيْءٌ سَمِعْتُهُ يَقُولُهُ، قَالَ: مَا هُوَ؟ قَالَ: بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالزُّبَيْرَ وَأَبَا مَرْثَدٍ، وَكُلُّنَا فَارِسٌ، قَالَ: " انْطَلِقُوا حَتَّى تَأْتُوا رَوْضَةَ حَاجٍ - قَالَ أَبُو سَلَمَةَ: هَكَذَا قَالَ أَبُو عَوَانَةَ: حَاجٍ - فَإِنَّ فِيهَا امْرَأَةً مَعَهَا صَحِيفَةٌ مِنْ حَاطِبِ بْنِ أَبِي بَلْتَعَةَ إِلَى المُشْرِكِينَ، فَأْتُونِي بِهَا " فَانْطَلَقْنَا عَلَى أَفْرَاسِنَا حَتَّى أَدْرَكْنَاهَا حَيْثُ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، تَسِيرُ عَلَى بَعِيرٍ لَهَا، وَقَدْ كَانَ كَتَبَ إِلَى أَهْلِ مَكَّةَ بِمَسِيرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهِمْ، فَقُلْنَا: أَيْنَ الكِتَابُ الَّذِي مَعَكِ؟ قَالَتْ: مَا مَعِي كِتَابٌ، فَأَنَخْنَا بِهَا بَعِيرَهَا، فَابْتَغَيْنَا فِي رَحْلِهَا فَمَا وَجَدْنَا [ص:19] شَيْئًا، فَقَالَ صَاحِبَايَ: مَا نَرَى مَعَهَا كِتَابًا، قَالَ: فَقُلْتُ: لَقَدْ عَلِمْنَا مَا كَذَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ حَلَفَ عَلِيٌّ: وَالَّذِي يُحْلَفُ بِهِ، لَتُخْرِجِنَّ الكِتَابَ أَوْ لَأُجَرِّدَنَّكِ، فَأَهْوَتِ الى حُجْزَتِهَا، وَهِيَ مُحْتَجِزَةٌ بِكِسَاءٍ، فَأَخْرَجَتِ الصَّحِيفَةَ، فَأَتَوْا بِهَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَدْ خَانَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالمُؤْمِنِينَ، دَعْنِي فَأَضْرِبَ عُنُقَهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا حَاطِبُ، مَا حَمَلكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ» قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا لِي أَنْ لَا أَكُونَ مُؤْمِنًا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ؟ وَلَكِنِّي أَرَدْتُ أَنْ يَكُونَ لِي عِنْدَ القَوْمِ يَدٌ يُدْفَعُ بِهَا عَنْ أَهْلِي وَمَالِي، وَلَيْسَ مِنْ أَصْحَابِكَ أَحَدٌ إِلَّا لَهُ هُنَالِكَ مِنْ قَوْمِهِ مَنْ يَدْفَعُ اللَّهُ بِهِ عَنْ أَهْلِهِ وَمَالِهِ، قَالَ: «صَدَقَ، لَا تَقُولُوا لَهُ إِلَّا خَيْرًا» قَالَ: فَعَادَ عُمَرُ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَدْ خَانَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالمُؤْمِنِينَ، دَعْنِي فَلِأَضْرِبْ عُنُقَهُ، قَالَ: " أَوَلَيْسَ مِنْ أَهْلِ بَدْرٍ، وَمَا يُدْرِيكَ، لَعَلَّ اللَّهَ اطَّلَعَ عَلَيْهِمْ فَقَالَ: اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ، فَقَدْ أَوْجَبْتُ لَكُمُ الجَنَّةَ " فَاغْرَوْرَقَتْ عَيْنَاهُ، فَقَالَ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: " خَاخٍ أَصَحُّ، وَلَكِنْ كَذَا قَالَ أَبُو عَوَانَةَ: حَاجٍ، وَحَاجٍ تَصْحِيفٌ، وَهُوَ مَوْضِعٌ، وَهُشَيْمٌ يَقُولُ: خَاخٍ "