মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৬. পবিত্রতা অর্জন

হাদীস নং: ৩১৫
পবিত্রতা অর্জন
(১৮) প্রত্যেক নামাযের জন্য ওযু করা এবং একই ওযু দ্বারা একাধিক নামায আদায় করা বৈধ হওয়া প্রসঙ্গে।
(৩১৫) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর মনে না করলে আমি প্রতি নামাযের সময় তাদেরকে ওযু করতে বলতাম, আর প্রতি ওযুর সময় মিসওয়াক করতে আদেশ করতাম। আর শেষ এশার (অর্থাৎ এশার) নামায রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্ব করতাম।
[আল মুনতাকা গ্রন্থে বলা হয়েছে, এ হাদীসটি ইমাম আহমদ সহীহ্ সনদে বর্ণনা করেছেন।]
كتاب الطهارة
(18) باب فى الوضوء لكل صلاة وجواز الصلوات بوضوء واحد
(315) عن أبى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لولا أن أشقَّ على أمتى لأمرتهم عند كلِّ صلاة بوضوء ومع كلِّ وضوٍء بسواك ولأخَّرت عشاء الآخرة إلى ثلث اللَّيل

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীস থেকে একথা পরিষ্কার জানা গেল যে, ইশার সালাত রাতের এক তৃতীয়াংশের পর আদায় করা উত্তম। কিন্তু সাধারণ মুসল্লীদের এতক্ষণ জেগে থেকে সালাত আদায় করা সত্যি কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এ কষ্টের দিকে লক্ষ্য করেই রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর উম্মাতের সুবিধার্থে তাড়াতাড়ি করে সালাত আদায় করে নিতেন। হযরত জাবির (রা) সূত্রে এ মর্মে একটি হাদীস পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে যে, ইশার সালাতে যদি তাড়াতাড়ি লোক সমাগম হতো তাহলে তাড়াতাড়ি, আর বিলম্বে লোক সমাগম হলে বিলম্বে নবী কারীম ﷺ সালাত আদায় করে নিতেন। নবী কারীম ﷺ এর কথা ও কাজ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি জানা যায় যে, কোন সামষ্টিক আমল সম্পাদন করতে যেয়ে উত্তম সময় পেতে যদি সাধারণ মানুষের কষ্ট হয়, তবে তা বর্জন করাই উত্তম। আল্লাহ্ চাহেত সাধারণ মানুষের কষ্ট বিবেচনা করে উত্তম সময় বর্জন করায় হয়ত বা আরো অধিক সাওয়াব হবে। অন্যকথায় বলা যায়, সামষ্টিক কাজে সময়ের মর্যাদার তুলনায় সাধারণের অবস্থার দিকে লক্ষ্য রাখা সাওয়াব অর্জনের ক্ষেত্রে অগ্রগামী হওয়ার দাবি রাখে। হাদীস থেকে এও জানা যায় যে, ইশার সালাত কেবল এই উম্মাতের উপরই ফরয। অন্য কোন উম্মাতের উপর এই সালাত ফরয ছিল না। এই কথা বিভিন্ন হাদীসে সবিস্তার বর্ণনা করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান