মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

২. ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা

হাদীস নং: ৯৩
আন্তর্জাতিক নং: ৯১৫৬ -
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
(১১) পরিচ্ছেদঃ মু'মিনের মর্যাদা, তাঁর গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে
(৯৩) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, একদা জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে আর করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ), আমি মনে মনে এমন কিছু কথা চিন্তা করি (অর্থাৎ তাকদীর সংক্রান্ত কিছু জটিল ও ভ্রান্ত চিন্তা), যা মুখে উচ্চারণ করার চেয়ে আমি আকাশ থেকে পতিত হওয়াকেই বেশী পছন্দ করি (অর্থাৎ ঐ ধরনের বিশ্বাস তো আমার নেই, উপরন্তু সেটা মুখে উচ্চারণ করতেও সাহস পাই না।) রাসূল (ﷺ) বলেছেন, এই হচ্ছে ঈমানের স্পষ্টতা, (অর্থাৎ তুমি স্পষ্টতই মু'মিন।)
(অন্য কথায় এভাবে এসেছে) লোকজন বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ), আমরা আমাদের হৃদয়ে এমন কিছু বিষয় পাই, যা আমাদের মুখে বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু তা কখনই সূর্যের মুখ দেখে নি (অর্থাৎ আমরা তা মুখে উচ্চারণ করি না।) রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমরা কি সত্যি এরকম কিছু পেয়ে থাক? তারা বলল, হ্যাঁ। রাসূল (ﷺ) বললেন, এটিই হচ্ছে সুস্পষ্ট ঈমান। (মুসলিম ও নাসাঈ)
كتاب الإيمان والإسلام
(11) باب في فضل المؤمن وصفته ومثله
(93) وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله إني أحدث نفسي بالحديث لأن أخر من السماء أحب إلي من أن أتكلم به قال ذلك صريح الإيمان 1
(وعنه بلفظ آخر) 2 قال قالوا يا رسول الله إنا نجد في أنفسنا ما يسرنا نتكلم به وإن لنا ما طلعت عليه الشمس قال أوجدتم ذلك قالوا نعم قال ذاك صريح الإيمان

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ওয়াসওয়াসা মুমিন ব্যক্তিকে বিচলিত করে। সে তার ঈমান এবং আমলের যাচাই করা শুরু করে। মন্দ চিন্তাকে তার অন্তর থেকে মুছে ফেলে দেয়ার জন্য সে আপ্রাণ চেষ্টা করে। মনের কলুষতার জন্য ওয়াসওয়াসার সৃষ্টি হয় না, বরং ওয়াসওয়াসার উদ্ভব হওয়ার কারণে মুমিন ব্যক্তির অন্তরে মন্দকে প্রতিরোধ করার এক দুর্বার শক্তি সৃষ্টি হয়। এ কারণেই নবী করীম (ﷺ) মুমিনের অন্তরের সংগ্রাম ও সংঘর্ষকে খালেস ঈমান হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান