মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

২. ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা

হাদীস নং: ৭১
আন্তর্জাতিক নং: ৮২০৩
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
(১০) পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি ঈমান আনা এবং যে ব্যক্তি তাঁকে না দেখে ঈমান আনে তাঁর ফযীলত প্রসঙ্গে
(৭১) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, মুহাম্মাদের জীবন যে সত্তার হাতে, সেই সত্তার শপথ! এই উম্মতের কোন ইয়াহুদী অথবা নাসারা (খ্রিস্টান) আমার সম্পর্কে শোনার পর আমি (আল্লাহ্ পক্ষ থেকে) যা কিছু নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে অবশ্যই দোযখবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। [মুসলিম]
كتاب الإيمان والإسلام
(10) باب في الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم وفضل من آمن به ولم يره
(71) عن أبي هريرة رضي الله قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: والذي نفس محمد بيده لا يسمع بي أحد من هذه الأمة يهودي ولا نصراني 3
ومات ولم يؤمن بالذي أرسلت به إلا كان من أصحاب النار

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আলোচ্য হাদীসে শুধুমাত্র উদাহরণ হিসেবেই ইয়াহুদী এবং খৃস্টানদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যদি ইয়াহুদী এবং খৃস্টানদের মত স্বীকৃত আহলে কিতাব ও খাতিমুল আম্বিয়া (আ)-এর উপর বিশ্বাস স্থাপন এবং তাঁর শরীয়ত কবুল না করে নাযাত লাভ না করতে পারে তাহলে অন্যান্য কাফের মুশরিকদের পরিণতি কিরূপ হবে তা সহজে অনুমান করা যায়।

আলোচ্য হাদীসের বিষয়বস্তু সাধারণের জন্য প্রযোজ্য। আখেরী নবী (ﷺ)-এর যুগে (অর্থাৎ তাঁর আবির্ভাবের সময় থেকে কিয়ামত পর্যন্ত) যার নিকটই তাঁর নবুয়ত এবং রিসালতের দাওয়াত পৌঁছেছে সে যদি তার উপর বিশ্বাস স্থাপন না করে এবং তার প্রচারিত দীনকে নিজের দিন হিসেবে গ্রহণ না করে মৃত্যুবরণ করে তাহলে সে অবশ্যই জাহান্নামী হবে। এমনকি সে যদি পূর্ববর্তী নবীদের দীন এবং তাদের কিতাব এবং শরীয়তে বিশ্বাসী ইয়াহুদী এবং খৃস্টান হোক না কেন।

আখেরী নবী (ﷺ)-এর আবির্ভাবের পর তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন এবং তাঁর শরীয়ত কবুল না করে পরিত্রাণ লাভ করা সম্ভব নয়। যার নিকট তার নবুয়তের সংবাদ এবং ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেনি তার বিষয়টি অক্ষমতার পর্যায়ভুক্ত। এ বিষয়টি দীন ইসলাম তার তা'আলীম ও হেদায়েতের অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নবুয়ত ও রিসালাতের সঠিক মর্যাদা অনুধাবনে ব্যর্থ ব্যক্তির মনেই সন্দেহের উদ্রেক হতে পারে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান