মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৬৭
নামাযের অধ্যায়
(৯) নামাযের ব্যাপারে শৈথিল্য প্রদর্শনকারী ও সময়ের পরে আদায়কারীকে ভীতি প্রদর্শন প্রসঙ্গে
(৬৭) যিয়াদ ইবন্ আবূ যিয়াদ ইবন্ আব্বাস (রা) আযাদকৃত গোলাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হিশাম ইবন ইসমাঈল যখন মদীনার প্রশাসক ছিলেন তখন (একদিন) আমি এবং উমর তাঁর পিছনে জোহরের নামায আদায় করে আমর ইবন্ আবদুল্লাহ ইবন্ আবু তালহার কাছে গেলাম তাঁর অসুস্থাবস্থায় তাঁকে দেখতে। তিনি বলেন, গিয়ে আমরা বসি নি, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বলেন, তারপর আমরা গিয়ে আনাস ইবন মালিকের বাড়িতে প্রবেশ করলাম। বাড়িটি ছিল আবূ তালহার বাড়ির পাশে। তিনি বলেন, আমরা যখন বসলাম তখন তাঁর কাছে দাসী আসল এবং বললো, আবু হামযা নামাযের সময় হয়েছে? আমরা বললাম, কোন্ নামাযের কথা বলছেন, আল্লাহ আপনাকে দয়া করুন। তিনি বললেন, আসরের নামায। তিনি বলেন, তখন আমরা বললাম, আমরা তো জোহরের নামায এখনই পড়লাম। তিনি বললেন, তখন তিনি বলেন, তোমরা নামায ছেড়ে দিয়েছ, এমন কি নামাযের কথা ভুলেই গেছ। অথবা বললেন, তোমরা নামাযের কথা ভুলে গিয়ে ছেড়েই দিয়েছো। (উমাইয়া যুগে নামায শেষ ওয়াক্তে পড়া হতো, যা সাহাবীগণ কঠিনভাবে আপত্তি করতেন।) আমি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি। আমি ও কিয়ামত এতদুভয়ের মত প্রেরিত হয়েছি। তারপর তার হাতের তর্জনী ও মধ্যাঙ্গুলী সম্প্রসারিত করলেন।
(বুখারী, মুসলিম সংক্ষিপ্তাকারে।)
كتاب الصلاة
(9) باب فى وعيد من تهاون بأمر الصلاة أو أخرها عن وقتها
(67) عن زياد بن أبي زياد مولى ابن عبَّاسٍ (رضى الله عنهما) قال انصرفت من الظُّهر أنا وعمر حين صلاَّها هشام بن إسماعيل بالنَّاس إذ كان على المدينة إلى عمرو بن عبد الله بن أبي طلحة نعوده في شكوى له، قال فما قعدنا، ما سألنا عنه إلاَّ قيامًا، قال ثمَّ انصرفنا فدخلنا على أنس بن مالكٍ فى داره وهى إلى جنب دار أبى طلحة، قال فلمَّا قعدنا أتته الجارية فقالت الصَّلاة يا أبا حمزة، قال قلنا أىُّ الصَّلاة رحمك الله، قال العصر، قال فقلنا إنَّما صلَّينا الظُّهر الآن، قال فقال إنَّكم تركتم الصَّلاة حتَّى نسيتموها، أو قال نسيتموها حتى تركتموها) إنِّي سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول بعثت أنا والسَّاعة كهاتين ومدَّ إصبعه السبَّابة والوسطى

হাদীসের ব্যাখ্যা:

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ইরশাদ করেন-
بعثت أنا والسَّاعَةُ كَهَائين،
“তিনি বলতেন, আমি এবং কিয়ামত এভাবে প্রেরিত হয়েছি।”

হাদীসে আছে, কিয়ামতের নৈকট্য বোঝানোর জন্য নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে বলেছেন যে, আমি ও কিয়ামত এভাবে প্রেরিত হয়েছি। এর দ্বারা এক তো বোঝা যাচ্ছে কিয়ামত খুব কাছে। তর্জনীর পরপরই যেমন মধ্যমা আঙ্গুল, ঠিক তেমনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের পরপরই কিয়ামত। দ্বিতীয়ত বোঝা যাচ্ছে তিনিই সর্বশেষ নবী। তাঁর ও কিয়ামতের মাঝখানে আর কোনও নবী নেই, যেমন তর্জনী ও মধ্যমার মাঝখানে আর কোনও আঙ্গুল নেই।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

ক. কিয়ামত অবশ্য ঘটবে। তা অতি বিভীষিকাময় এবং দূর অতীত হিসেবে অতি কাছেও বটে। তার বিভীষিকা জীবিত ও মৃত সকলকেই স্পর্শ করবে। তাই অন্তরে তার ভয় রাখা চাই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান