মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৬১
নামাযের অধ্যায়
(৭) পরিচ্ছেদ : ফজর ও আসরের নামাযের ফযীলত
(৬১) জারীর ইবন্ আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক পূর্ণিমার রাতে রাসূল (ﷺ)-এর কাছে ছিলাম। তখন তিনি বলেন, তোমরা যেরূপ চাঁদ দেখতে পাচ্ছ সেরূপ তোমাদের প্রভুকে দেখতে পাবে। তাঁকে দেখার ক্ষেত্রে তোমরা ভীড় বোধ করবে না। তোমরা যদি এ দু'নামায (অর্থাৎ সূর্য ওঠার আগের এবং অস্ত যাওয়ার পূর্বের নামায দু'টির ব্যাপারে পরাজিত না হয়ে পার তাহলে তাই করো।) অতঃপর তিনি (فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوْعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا) তোমার প্রভুর প্রশংসা বিজড়িত পবিত্রতা বর্ণনা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে।) আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন।
শু'বা (একজন রাবী) বলেন, আমি জানি না (রাসূল (ﷺ) “যদি পার” কথাটি বলেছিলেন কি না।
(বুখারী ইত্যাদি কর্তৃক বর্ণিত।)
كتاب الصلاة
(7) باب فى فضل صلاتى الصبح والعصر
(61) عن جرير بن عبد الله رضى الله عنه قال كنَّا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة البدر، فقال إنَّكم سترون ربَّكم عزَّ وجلَّ كما ترون القمر، لا تضامون فى رؤيته، فإن استطمتم أن لا تغلبوا على هاتين الصلاتين
قبل طلوع الشَّمس وقبل الغروب، ثمَّ تلا هذه الآية (فسبِّح بحمد ربِّك قبل طلوع الشَّمس وقبل غروبها) قال شعبة (أحد الرُّواة) لا أدري قال فإن استطعتم أو لم يقل

হাদীসের ব্যাখ্যা:

পৃথিবীতে যখন কোন সুন্দর জিনিস দেখার জন্য লক্ষ-কোটি মানুষ আগ্রহ প্রকাশ করে, এবং ভীড়ের সৃষ্টি করে তখন সাধারণত কষ্ট এবং সঙ্কটের সূত্রপাত হয়। দর্শনীয় বস্তুকে সঠিকভাবে দেখা সম্ভব হয় না। কিন্তু চাঁদের ব্যাপার স্বতন্ত্র। পূর্ব ও পশ্চিমের সকল লোক কোনরূপ সঙ্কট বা কষ্ট ছাড়াই পূর্ণ সন্তুষ্টির সাথে একযোগে চাঁদ দেখতে পারে। তাই রাসূলে আকরাম (ﷺ) চাঁদের উপমার দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন যে জান্নাতের বেশুমার খোশনসীব বান্দাহ একসঙ্গে আল্লাহকে দেখার সৌভাগ্য হাসিল করবে। কারও কোনরূপ কষ্ট হবে না, কোন সংঘর্ষ করতে হবে না বরং পরম শান্তি ও তৃপ্তিসহকারে আল্লাহ্ তা'আলার সৌন্দর্য অবলোকন করবেন।

উপসংহারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন এক আমলের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যার দ্বারা আল্লাহর বান্দাগণ এই নি'আমতের সৌভাগ্য লাভ করতে পারেন। অর্থাৎ বিশেষ যত্নসহকারে ফজর ও আসরের নামায আদায় করা যাতে অন্য কোন আকর্ষণ বান্দাকে নামায থেকে গাফেল না করতে পারে। যদিও ফরয নামাযের সংখ্যা পাঁচ কিন্তু এই দুই নামাযের বিশেষ গুরুত্ব ও ফযীলত রয়েছে। তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করে এই দুই নামাযের ফযীলত ও বৈশিষ্ট্যের প্রতি ইশারা করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান