মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৩
আন্তর্জাতিক নং: ২১৩০৮ -
নামাযের অধ্যায়
(৬) নামাযের কিয়াম দীর্ঘ করা এবং রুকু সিজদা বেশী বেশী করার ফযীলত
(৫৩) আবূ ইসহাক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি মুখারিক (রা) থেকে বর্ণনা করে বলেন, আমরা একবার হজ্জ করতে বের হলাম। যখন “রাবযা” নামক স্থানে পৌঁছলাম তখন আমি আমার সাথীদের বললাম, তোমরা এগিয়ে চলো, আর আমি পিছনে রয়ে গেলাম। অতঃপর আবূ যার (রা)-এর কাছে আসলাম। তখন তিনি নামায পড়ছিলেন । আমি দেখলাম যে, তিনি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছেন আর রুকু সিজদা বেশী বেশী করছেন। অতঃপর আমি ব্যাপারটি তাঁকে বললাম । তখন তিনি বললেন, আমি উত্তম কাজ করতে কসূর করি নি। আমি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি একটি রুকু করলো বা একটা সিজদা দিল তার দ্বারা তার একটা মরতাবা বৃদ্ধি করা হবে। আর এ কারণে তার একটা গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
(অপর এক সূত্রে বর্ণিত আছে) আলী ইবন্ যায়েদ থেকে তিনি মুতাররফ থেকে বর্ণনা করে বলেন, আমি কোরাইশের কতিপয় লোকের সাথে বসা ছিলাম, তখন সেখানে এক লোক এসে নামায পড়তে আরম্ভ করলেন, রুকু সিজদা দিতে থাকলেন। তারপর দাঁড়িয়ে আবার রুকু সিজদা করতে থাকলেন (মধ্যে) বসলেন না । তখন আমি বললাম, আল্লাহর কসম আমার মনে হয় ইনি জানেন না যে, জোড় বা বেজোড় রাকা'আতের পর (নামায শেষ করতে হয়। তখন তারা বললেন, আপনি তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে বলেন। তিনি বলেন, তখন আমি তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর বান্দা, আমি আপনাকে জোড় বা বেজোড় রাকা'আতের পর নামায শেষ করতে হয় তা জানেন বলে মনে করতে পারছি না। তিনি উত্তরে বললেন, তবে আল্লাহ পাক জানেন। আমি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটা সিজদা করলো আল্লাহ তা'আলা সে কারণে তার জন্য একটা সাওয়াব লিপিবদ্ধ করে দিবেন। আর তার একটা গুনাহ মাফ করে দিবেন এবং তার একটা মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন। তখন আমি তাঁকে বললাম, আপনি কে? তখন তিনি উত্তরে বললেন, আবূ যার। অতঃপর আমি আমার সাথীদের কাছে ফিরে আসলাম। তারপর বললাম, আল্লাহ আপনাদেরকে মন্দ সাথীর প্রতিদান দিন । আপনারা আমাকে রাসূলুল্লাহর এক সাহাবীকে (দ্বীন) শিক্ষা দেয়ার জন্য আদেশ করলেন?
(তৃতীয় এক সূত্রে) আহনাফ ইবন্ কাইস হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন আমি বাইতুল মুকাদ্দাসে গেলাম, তখন সেখানে এক লোক পেলাম যিনি বেশী বেশী সিজদা করছেন। তা দেখে আমার মনে বিরক্তিবোধ করলাম। যখন লোকটি নামায শেষ করলেন তখন আমি তাঁকে বললাম, আপনি জানেন কি আপনি জোড় রাকা'আত না বেজোড় রাকা'আত পড়ে নামায শেষ করেছেন? তিনি উত্তরে বললেন, আমি না জানলেও তা আল্লাহ পাক অবশ্যই জানেন । তারপর বললেন আমাকে আমার প্রিয়তম আবুল কাসেম জানিয়েছেন তারপর কাঁদতে লাগলেন। তারপর বললেন, আমাকে আমার প্রিয়তম আবুল কাসিম জানিয়েছেন তারপর আবার কাঁদতে লাগলেন। তারপর আবার বললেন, আমাকে আমার প্রিয়তম আবুল কাসিম জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন যে, যে বান্দা আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটা সিজদা করবে আল্লাহ সেজন্য তার একটা মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন। আর তার একটা গুনাহ মাফ করে দিবেন এবং তার জন্য একটা সাওয়াব লিপিবদ্ধ করে দিবেন। তিনি (রাবী) বলেন, আমি বললাম, আমাকে বলুন আপনি কে? আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন। তিনি উত্তরে বললেন আমি আবূ যার, রাসূলুল্লাহ্ সাহাবী। একথা শুনে আমি মনে মনে লজ্জিত হলাম।
كتاب الصلاة
(6) باب في فضل طول القيام وكثرة الركوع والسجود
(53) عن أبى إسحاق عن المخارق قال خرجنا حجَّاجًا فلمَّا بلغنا الرَّبذة قلت لأصحابى تقدَّموا وتخلَّفت فأتيت أبا ذرٍ رضى الله عنه وهو يصلِّى فرأيته يطيل القيام ويكثر الرُّكوع والسُّجود فذكرت ذلك له، فقال ما ألوت أن أحسن إنِّى سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من ركع ركعة أو سجد سجدة رفع بها درجةً وحطَّت عنه بها خطيئةٌ
(ومن طريقٍ ثانٍ) عن علىِّ بن زيدٍ عن مطرِّفٍ قال قعدت إلى نفرٍ من قريشٍ، فجاء رجلٌ فجعل يصلَّى يركع ويسجد ثمَّ يقوم ثمَّ يركع ويسجد لا يقعد، فقلت والله ما أرى هذا يدري
ينصرف على شفعٍ أو وترٍ، فقالوا ألا تقوم إليه فتقول له، قال فقلت يا عبد الله ما أراك تدري تنصرف على شفعٍ أو وترٍ، قال ولكنَّ الله يدرى، سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من سجد لله سجدةً كتب الله بها حسنةً وحطَّ بها عنه خطيئةً ورفع له بها درجةً، فقلت من أنت؟ فقال أبو ذرٍّ، فرجعت إلى أصحابى فقلت جزاكم الله من جلساء شرًّا، أمرتمونى أن أعلم رجلًا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم
(ومن طريقٍ ثالثٍ) عن الأحنف بن قيسٍ قال دخلت بيت المقدس فوجدت فيه رجلًا يكثر السُّجود فوجدت فى نفسى من ذلك فلمَّا انصرف قلت أتدري على شفعٍ أم على وترٍ؟ قال إن أك أدري فإنَّ الله عزَّ وجلَّ يدري، ثمَّ قال أخبرنى حبِّي أبو القاسم صلى الله عليه وسلم ثمَّ بكى، ثمَّ قال أخبرنى حبِّي أبو القاسم صلى الله عليه وسلم ثمَّ بكى، ثمَّ قال أخبرنى حبِّي أبو القاسم صلى الله عليه وسلم أنَّه قال ما من عبدٍ يسجد لله سجدةً إلاَّ رفعه الله بها درجةً وحطَّ عنه بها خطيئةً وكتب له بها حسنةً، قال قلت أخبرنى من أنت يرحمك الله؟ قال أنا أبو ذرٍ صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم فتقاصرت إلىَّ نفسى

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

[মুনযিরী হাদীসটি উল্লেখ করে বলেন, এ হাদীসটি আহমদ ও বাযযার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এর সবগুলো সনদ মিলে হাদীসটি হাসান বা সহী পর্যায়ে উপনীত হয় ।]
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান