মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
৪. ইলমের অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৩
আন্তর্জাতিক নং: ২১৫৯০
ইলমের অধ্যায়
(৭) পরিচ্ছেদঃ রাসূল (ﷺ)-এর হাদীসের প্রচার-প্রসার ও তা যথাযথভাবে বর্ণনার ফযীলত প্রসঙ্গে
(৪৩) আব্দুর রহমান বিন ইব্বান বিন উসমান তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, যায়েদ বিন ছাবিত (রা) (একদা) প্রায় মধ্যাহ্নের সময় মারওয়ানের দরবার থেকে বের হন। তখন আমরা বলাবলি করলাম, এই সময়ে তিনি এসেছিলেন (নিশ্চয়) ইল্ম বিষয়ে কোন প্রশ্নের সমাধান করতে। তাই আমি তাঁর কাছে গেলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম (অর্থাৎ এই অসময়ে তাঁর আগমনের হেতু জানতে চাইলাম)। তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি আমার কাছে কিছু বিষয় প্রশ্ন করেছেন যা আমি রাসূল (ﷺ)-এর কাছ থেকে শুনেছি। আমি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা'আলা ঐ ব্যক্তির মুখমণ্ডল উজ্জ্বল করুন, যিনি আমার কাছ থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন এবং তা অন্যের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেছেন। কারণ (এটা সত্য বটে) অনেক ফিকহ বহনকারী নিজে ফকীহ হয় না এবং অনেক ফিকহ বহনকারীর চেয়ে যার কাছে পৌঁছানো হয় সে অধিক জ্ঞানী হয়ে থাকে। (তাই হাদীস শোনার পর তা যথাযথভাবে অন্যের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে শ্রোতার অবশ্য কর্তব্য)। তিনটি বিষয়ে মু'মিনের অন্তর কখনও খেয়ানত বা বিশ্বাসঘাতকতা করে না। (এক) আল্লাহর তরে (ওয়াস্তে) তার কর্মের একনিষ্ঠতা, (দুই) পদস্থ ব্যক্তিবর্গের জন্য তার সদুপোদেশ, এবং (তিন) সর্বক্ষণ জামা'আতের সাথে থাকা। কারণ তাঁদের দাওয়াত অনুসারীদের ঘেরাও করে রাখে। (অর্থাৎ সত্যনিষ্ঠ এ ধরনের দা'ঈগণের অসংখ্য শ্রোতা ও ভক্ত অনুসারীর দল উল্লেখিত তিনটি বিষয় থেকে তাদেরকে বিচ্যুতির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। তিনি আরও বলেন, যিনি সর্বদা আখিরাতের চিন্তায় মগ্ন থাকেন, আল্লাহ তাঁর সাহায্যে এগিয়ে আসেন এবং তাঁর অন্তরে অমুখাপেক্ষীতা প্রদান করেন, আর দুনিয়া তাঁর সম্মুখে মলিন ও নিরানন্দ হয়ে দেখা দেয়। আর যে ব্যক্তির নিয়্যত হয় দুনিয়া প্রাপ্তি, আল্লাহ তা'আলা সেই ব্যক্তি জীবিকার উপকরণ বিস্তৃত করে দেন (বটে), কিন্তু তার দুই চোখের সম্মুখে সর্বদা দারিদ্র বিরাজ করতে থাকে। বস্তুত দুনিয়ার প্রাপ্তি যা তার ভাগে লিপিবদ্ধ আছে, তার বাইরে সে কিছু লাভ করতে পারে না। এছাড়া তিনি (মারওয়ান) আমাকে ‘সালাতুল উস্তা' বা মধ্যবর্তী সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন, সেই সালাত হচ্ছে জোহরের সালাত।
كتاب العلم
(7) باب فى فضل تبليغ الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم نذر كما سمع
(43) عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ رضى الله عنه خَرَجَ مِنْ عِنْدِ مَرْوَانَ نَحْوًا مِنْ نِصْفِ النَّهَارِ فَقُلْنَا مَا بَعَثَ إِلَيْهِ السَّاعَةَ إِلَّا لِشَيْءٍ سَأَلَهُ عَنْهُ فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ أَجَلْ سَأَلَنَا عَنْ أَشْيَاءَ سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ نَضَّرَ اللَّهُ (2) امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَحَفِظَهُ حَتَّى يُبَلِّغَهُ غَيْرَهُ فَإِنَّهُ رُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لَيْسَ بِفَقِيهٍ وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ ثَلَاثُ خِصَالٍ لَا يَغِلُّ (3) عَلَيْهِنَّ قَلْبُ مُسْلِمٍ أَبَدًا
-[فضل تبليغ الحديث عن النبى صلى الله عليه وسلم]-
إِخْلَاصُ الْعَمَلِ لِلَّهِ وَمُنَاصَحَةُ وُلَاةِ الْأَمْرِ وَلُزُومُ الْجَمَاعَةِ فَإِنَّ دَعْوَتَهُمْ تُحِيطُ مِنْ وَرَائِهِمْ وَقَالَ مَنْ كَانَ هَمُّهُ الْآخِرَةَ جَمَعَ اللَّهُ شَمْلَهُ وَجَعَلَ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا وَهِيَ رَاغِمَةٌ (1) وَمَنْ كَانَتْ نِيَّتُهُ الدُّنْيَا فَرَّقَ اللَّهُ عَلَيْهِ ضَيْعَتَهُ وَجَعَلَ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ وَلَمْ يَأْتِهِ مِنْ الدُّنْيَا إِلَّا مَا كُتِبَ لَهُ وَسَأَلَنَا عَنْ الصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَهِيَ الظُّهْرُ
-[فضل تبليغ الحديث عن النبى صلى الله عليه وسلم]-
إِخْلَاصُ الْعَمَلِ لِلَّهِ وَمُنَاصَحَةُ وُلَاةِ الْأَمْرِ وَلُزُومُ الْجَمَاعَةِ فَإِنَّ دَعْوَتَهُمْ تُحِيطُ مِنْ وَرَائِهِمْ وَقَالَ مَنْ كَانَ هَمُّهُ الْآخِرَةَ جَمَعَ اللَّهُ شَمْلَهُ وَجَعَلَ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا وَهِيَ رَاغِمَةٌ (1) وَمَنْ كَانَتْ نِيَّتُهُ الدُّنْيَا فَرَّقَ اللَّهُ عَلَيْهِ ضَيْعَتَهُ وَجَعَلَ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ وَلَمْ يَأْتِهِ مِنْ الدُّنْيَا إِلَّا مَا كُتِبَ لَهُ وَسَأَلَنَا عَنْ الصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَهِيَ الظُّهْرُ
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
{تخريجه} (د جه والدارى والترمذى) وقال حديث زيد بن ثابت حديث حسن (قلت) لم يذكر الترمذى وابو داود فى حديثهما ثلاث لا يغل الخ الحديث ورواه ايضا الترمذى من حديث ابن مسعود (نضر الله امرأ سمع منا شيئا فبلغه كما سمعه قرب مبلغ اوعى من سامع) وقال حسن صحيح والله اعلم.
(আবূ দাউদ, ইবন্ মাজাহ্, দারেমী ও তিরমিযী, তিনি হাদীসটি হাসান বলে মন্তব্য করেছেন।).......
(আবূ দাউদ, ইবন্ মাজাহ্, দারেমী ও তিরমিযী, তিনি হাদীসটি হাসান বলে মন্তব্য করেছেন।).......
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহ তাআলা আখিরাত লাভের প্রার্থীদের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ প্রদর্শন করেন। সম্পদের প্রাচুর্যের চেয়ে অন্তরের প্রশান্তি সুমহান। আল্লাহ আখিরাত অন্বেষণকারীদের অন্তরে প্রাচুর্য বা প্রশান্তি দান করার কারণে তারা নিজেদের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী হন না। তারা অন্যের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন না। আল্লাহ তাদের যা দান করেন তারা তাতে সন্তুষ্ট থাকেন। ফলে কোনরূপ দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন তাদের হতে হয় না। আখিরাতের চিন্তায় যারা দিনরাত মশগুল, তাদের পার্থিব সমস্যা কোনদিন অমীমাংসিত থাকে না। আল্লাহ তা'আলা দয়া পরবশ হয়ে তাঁর প্রিয় বান্দাদের অবস্থা সংশোধন করেন, সমস্যার সমাধান করে দেন এবং তাদের যে সব বিষয় বিক্ষিপ্ত ও অগোছালো ছিল এবং সম্ভবত নিজে তারা যেগুলো গোছাতে পারত না, সেগুলো সুন্দর ও সঠিকভাবে গুছিয়ে দেন। আল্লাহর এ ধরনের বান্দারা কখনো দুনিয়ার উপায়-উপকরণ থেকে বঞ্চিত থাকেন না। কোন না-কোনভাবে আল্লাহ তাদের হিসসা পূরণ করে দেন। আখিরাতের জন্য যারা চেষ্টা করেন, আল্লাহ তাদের আখিরাতের অনন্ত জীবনকে সমুজ্জ্বল করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে দুনিয়ার জীবনেও তাদেরকে শান্তি ও সম্মান দান করেন। বস্তুত, এ ধরনের মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে কামিয়াব।
দুনিয়া প্রার্থীগণ সর্বদা ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। আখিরাতের সুখ-শান্তির পরিবর্তে তারা দুনিয়ার আরাম-আয়েশ হাসিলের জন্য দিনরাত ব্যাকুল থাকে। ফলে তাদের আখিরাত চিরদিনের জন্য বিনষ্ট হয়ে যায় এবং যে দুনিয়ার জন্য আখিরাত বিসর্জন দেয়, সে দুনিয়া ততটুকু পায় যতটুকু আল্লাহ তাদের জন্য লিখে রেখেছেন। দুনিয়া ও আখিরাতের একমাত্র মালিক-মুখতার আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। দুনিয়া ও আসমানের সবকিছু তাঁর ব্যবস্থাধীন। দুনিয়ার তামাম মাখলুকের রোযগার ও কিসমতের বিলি-বণ্টন তাঁর হুকুমে হয়ে থাকে। তিনি মানুষের জন্য যা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন সে তাই লাভ করবে। শত চেষ্টা করেও মানুষ তার ভাগ্যের নির্ধারিত জিনিস থেকে একবিন্দু বেশি লাভ করতে পারবে না। দুনিয়াপ্রার্থীরা এ সত্য উপলব্ধি না করার কারণে দুনিয়ার প্রভাব-প্রতিপত্তি হাসিলের জন্য সর্বদা নিজেকে ব্যস্ত রাখে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হুকুম মোতাবিক পার্থিব প্রয়োজন পূরণ না করার কারণে তাদের অন্তরে কোনরূপ তৃপ্তির সৃষ্টি হয় না। এ ধরনের দুনিয়াপ্রার্থীদের প্রয়োজন বহুমুখী। এক প্রয়োজন পূরণ না হতেই নতুন প্রয়োজন সৃষ্টি হয়। সম্পদের এক পাহাড় লাভ করার পর দ্বিতীয় পাহাড় লাভ করার চিন্তা-ভাবনায় ব্যাকুল থাকে। সম্পদ ও প্রাচুর্যের মধ্যে থাকলেও এ ধরনের মানুষকে আরও সম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তি হাসিলের জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হয়। বলা বাহুল্য, আল্লাহ এ ধরনের বান্দাদের উপর অসন্তুষ্ট থাকার কারণে তাদের দুনিয়ার জীবন কখনো সুখ-শান্তিপূর্ণ হয় না। তারা দুনিয়ার জীবনে বিভিন্ন বিড়ম্বনা ও অশান্তির শিকার হয়। শুধু তাই নয়, অশান্তির অনলভরা আখিরাতের অনন্ত জীবন তাদের জন্য অধীর প্রতীক্ষায় রয়েছে।
দুনিয়া প্রার্থীগণ সর্বদা ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। আখিরাতের সুখ-শান্তির পরিবর্তে তারা দুনিয়ার আরাম-আয়েশ হাসিলের জন্য দিনরাত ব্যাকুল থাকে। ফলে তাদের আখিরাত চিরদিনের জন্য বিনষ্ট হয়ে যায় এবং যে দুনিয়ার জন্য আখিরাত বিসর্জন দেয়, সে দুনিয়া ততটুকু পায় যতটুকু আল্লাহ তাদের জন্য লিখে রেখেছেন। দুনিয়া ও আখিরাতের একমাত্র মালিক-মুখতার আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। দুনিয়া ও আসমানের সবকিছু তাঁর ব্যবস্থাধীন। দুনিয়ার তামাম মাখলুকের রোযগার ও কিসমতের বিলি-বণ্টন তাঁর হুকুমে হয়ে থাকে। তিনি মানুষের জন্য যা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন সে তাই লাভ করবে। শত চেষ্টা করেও মানুষ তার ভাগ্যের নির্ধারিত জিনিস থেকে একবিন্দু বেশি লাভ করতে পারবে না। দুনিয়াপ্রার্থীরা এ সত্য উপলব্ধি না করার কারণে দুনিয়ার প্রভাব-প্রতিপত্তি হাসিলের জন্য সর্বদা নিজেকে ব্যস্ত রাখে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হুকুম মোতাবিক পার্থিব প্রয়োজন পূরণ না করার কারণে তাদের অন্তরে কোনরূপ তৃপ্তির সৃষ্টি হয় না। এ ধরনের দুনিয়াপ্রার্থীদের প্রয়োজন বহুমুখী। এক প্রয়োজন পূরণ না হতেই নতুন প্রয়োজন সৃষ্টি হয়। সম্পদের এক পাহাড় লাভ করার পর দ্বিতীয় পাহাড় লাভ করার চিন্তা-ভাবনায় ব্যাকুল থাকে। সম্পদ ও প্রাচুর্যের মধ্যে থাকলেও এ ধরনের মানুষকে আরও সম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তি হাসিলের জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হয়। বলা বাহুল্য, আল্লাহ এ ধরনের বান্দাদের উপর অসন্তুষ্ট থাকার কারণে তাদের দুনিয়ার জীবন কখনো সুখ-শান্তিপূর্ণ হয় না। তারা দুনিয়ার জীবনে বিভিন্ন বিড়ম্বনা ও অশান্তির শিকার হয়। শুধু তাই নয়, অশান্তির অনলভরা আখিরাতের অনন্ত জীবন তাদের জন্য অধীর প্রতীক্ষায় রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)