আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৭২- কাফের ও ধর্মত্যাগী বিদ্রোহীদের বিবরণ
হাদীস নং: ৬৩৮০
আন্তর্জাতিক নং: ৬৮৪৪
- কাফের ও ধর্মত্যাগী বিদ্রোহীদের বিবরণ
২৮৫৯. প্রশাসক ছাড়া অন্য কেউ যদি নিজ পরিবার কিংবা অন্য কাউকে শাসন করে।
আবু সাঈদ (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, কেউ নামায আদায় করে, আর কোন ব্যক্তি তার সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করার চেষ্টা করে, তাহলে সে যেন তাকে বাঁধা দেয়। যদি সে বাধা না মানে, তাহলে যেন তার সাথে লড়াই করে। আবু সাঈদ (রাযিঃ) এরূপ করেছেন।
আবু সাঈদ (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, কেউ নামায আদায় করে, আর কোন ব্যক্তি তার সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করার চেষ্টা করে, তাহলে সে যেন তাকে বাঁধা দেয়। যদি সে বাধা না মানে, তাহলে যেন তার সাথে লড়াই করে। আবু সাঈদ (রাযিঃ) এরূপ করেছেন।
৬৩৮০। ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আবু বকর (রাযিঃ) এলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় মাথা মুবারক আমার উরূর ওপর রেখেছিলেন। তখন তিনি বললেন, তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও লোকদেরকে আটকে রেখেছ, এদিকে তাদের পানির কোন ব্যবস্থা নেই। তিনি আমাকে তিরস্কার করলেন ও স্বীয় হাত দিয়ে আমার কোমরে আঘাত করতে লাগলেন। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অবস্থানই আমাকে নড়াচড়া থেকে বিরত রাখছিল। তখন আল্লাহ তাআলা তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করেন।
كتاب المحاربين من اهل الكفر والردة
بَابُ مَنْ أَدَّبَ أَهْلَهُ أَوْ غَيْرَهُ دُونَ السُّلْطَانِ وَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ: عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا صَلَّى، فَأَرَادَ أَحَدٌ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ فَلْيَدْفَعْهُ، فَإِنْ أَبَى فَلْيُقَاتِلْهُ» وَفَعَلَهُ أَبُو سَعِيدٍ
6844 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ القَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: جَاءَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «وَاضِعٌ رَأْسَهُ عَلَى فَخِذِي» فَقَالَ: حَبَسْتِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسَ، وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ، فَعَاتَبَنِي وَجَعَلَ يَطْعُنُ بِيَدِهِ فِي خَاصِرَتِي «وَلاَ يَمْنَعُنِي مِنَ التَّحَرُّكِ إِلَّا مَكَانُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ آيَةَ التَّيَمُّمِ»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত আয়েশা (রা) বর্ণিত হাদীসে যে তায়াম্মুমের আয়াত সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে তা সম্ভবত সূরা নিসার নিম্নোক্ত আয়াত:
وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا
"তোমরা যদি পীড়িত হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ শৌচস্থান থেকে আসে অথবা তোমরা নারী-সম্ভোগ কর এবং পানি না পাও তবে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করবে এবং তা মুখ ও হাতে মাসেহ করবে। আল্লাহ্ পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল।" (৪, সূরা নিসাঃ ৪৩)
সামান্য শাব্দিক পার্থক্যসহ সূরা মায়িদার দ্বিতীয় রুকুতেও অনুরূপ আয়াত রয়েছে। কিছু সংখ্যক বর্ণনাকারীদের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, পূর্বোক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সূরা মায়িদার আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ তাফসীরকারদের মতে সূরা নিসায় বর্ণিত আয়াতই প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে। তারপর সূরা মায়িদার আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা সর্বজ্ঞ।
وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا
"তোমরা যদি পীড়িত হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ শৌচস্থান থেকে আসে অথবা তোমরা নারী-সম্ভোগ কর এবং পানি না পাও তবে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করবে এবং তা মুখ ও হাতে মাসেহ করবে। আল্লাহ্ পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল।" (৪, সূরা নিসাঃ ৪৩)
সামান্য শাব্দিক পার্থক্যসহ সূরা মায়িদার দ্বিতীয় রুকুতেও অনুরূপ আয়াত রয়েছে। কিছু সংখ্যক বর্ণনাকারীদের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, পূর্বোক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সূরা মায়িদার আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ তাফসীরকারদের মতে সূরা নিসায় বর্ণিত আয়াতই প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে। তারপর সূরা মায়িদার আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা সর্বজ্ঞ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)